বিশ্ব

ইরান যুদ্ধ: স্পেন ও ইতালির পর এবারব যুক্তরাষ্ট্রের অনুরোধ প্রত্যাখ্যান অস্ট্রিয়ার

তাবাস্সুম মোহাম্মদ প্রকাশ: এপ্রিল ১, ২০২৬ ২৩:২৭
ছবি: সংগৃহীত।
ছবি: সংগৃহীত।

ইরানের বিরুদ্ধে সম্ভাব্য সামরিক অভিযানের জন্য নিজেদের আকাশপথ ব্যবহারের অনুমতি দেয়নি অস্ট্রিয়া। দেশটির প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, নিজস্ব 'নিরপেক্ষতা নীতি' বজায় রাখতেই ওয়াশিংটনের এমন অনুরোধ প্রত্যাখ্যান করা হয়েছে।


অস্ট্রিয়ার রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম ওআরএফ (ORF)-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের একজন মুখপাত্র নিশ্চিত করেছেন যে ওয়াশিংটন থেকে এ বিষয়ে 'একাধিক' অনুরোধ এসেছে। তবে ঠিক কতবার এমন আবেদন করা হয়েছে, তা সুনির্দিষ্টভাবে জানানো হয়নি।


মন্ত্রণালয় আরও জানিয়েছে, প্রতিটি আবেদন অস্ট্রিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে সমন্বয় করে পৃথকভাবে পর্যালোচনা করা হবে। দীর্ঘদিনের সামরিক নিরপেক্ষতার নীতি মেনে চলা অস্ট্রিয়া মার্কিন বিমানের ওপর ঢালাও কোনো নিষেধাজ্ঞা না দিলেও, প্রতিটি ফ্লাইটের অনুমতি দেওয়ার আগে গভীরভাবে যাচাই-বাছাই করছে।


উল্লেখ্য যে, ইরানের সাথে এই উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে স্পেনও কড়া অবস্থান নিয়েছে। স্পেনের সরকার সরাসরি ঘোষণা করেছে যে, এই সংঘাতের সাথে সংশ্লিষ্ট কোনো মার্কিন সামরিক বিমান তাদের আকাশপথ ব্যবহার করতে পারবে না। এছাড়া গত সপ্তাহে ইতালিও তাদের সিসিলি সামরিক ঘাঁটি থেকে মার্কিন বোমারু বিমান পরিচালনার অনুমতি প্রত্যাখ্যান করেছে।

জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

দেশের প্রথম ৪০ তলা ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর সম্পন্ন

বাংলাদেশের আবাসন শিল্পে এক নতুন ইতিহাস রচিত হলো। রাজধানীর তেজগাঁও শিল্প এলাকায় নির্মিত দেশের প্রথম ৪০ তলা বিশিষ্ট আকাশচুম্বী বাণিজ্যিক ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করেছে শান্তা হোল্ডিংস। ৫০০ ফুট উচ্চতার এই আইকনিক ভবনটি এখন দেশের সর্বোচ্চ সম্পন্ন হওয়া ইমারত। গত শনিবার (১৮ এপ্রিল) ভবনের ৪০তম তলায় আয়োজিত এক আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এটি হস্তান্তর করা হয়। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের চেয়ারম্যান খন্দকার মনির উদ্দিন, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, স্থপতি এহসান খানসহ প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, ভূমি মালিক এবং গ্রাহকরা উপস্থিত ছিলেন। স্থাপত্যশৈলী ও আধুনিক প্রযুক্তি:‘শান্তা পিনাকল’ শুধুমাত্র উচ্চতার কারণেই অনন্য নয়, বরং এটি আধুনিক নির্মাণশৈলী ও প্রযুক্তির এক অনন্য সমন্বয়। এটি বাংলাদেশের প্রথম ভবন যা পরিবেশবান্ধব স্থাপত্যের জন্য আন্তর্জাতিক ‘লিড প্ল্যাটিনাম’ (LEED Platinum) স্বীকৃতি পেয়েছে। সিঙ্গাপুরভিত্তিক বিখ্যাত ইঞ্জিনিয়ারিং প্রতিষ্ঠান ‘মেইনহার্ট’ (Meinhardt) এর সহায়তায় ভবনটির স্ট্রাকচারাল ডিজাইন এবং ভূমিকম্প প্রতিরোধক ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে। বিশেষ বৈশিষ্ট্যসমূহ: উন্নত লিফট ব্যবস্থা: ভবনটিতে রয়েছে ৮টি দ্রুতগামী লিফট, যা প্রতি সেকেন্ডে ৪ মিটার উচ্চতায় উঠতে সক্ষম। এটি দেশের দ্রুততম ভার্টিক্যাল ট্রান্সপোর্ট ব্যবস্থা। পরিবেশ ও সুরক্ষা: ভবনে ব্যবহৃত হয়েছে ৩৬ মিমি পুরুত্বের ডাবল গ্লেজড গ্লাস, যা তাপ ও শব্দ নিরোধক। এছাড়া এটি দেশের প্রথম ‘উইন্ড টানেল টেস্ট’ করা ভবন, যা প্রতিকূল আবহাওয়ায় এর স্থায়িত্ব নিশ্চিত করে। আইবিএমএস প্রযুক্তি: পুরো ভবনটি একটি ইন্টেলিজেন্ট বিল্ডিং ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (iBMS) দ্বারা পরিচালিত, যা সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা ও জ্বালানি সাশ্রয় নিশ্চিত করবে। অগ্নি নিরাপত্তা: আন্তর্জাতিক এনএফপিএ (NFPA) স্ট্যান্ডার্ড অনুসরণ করে এখানে অত্যাধুনিক অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা স্থাপন করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর দেশের রিয়েল এস্টেট খাতের সক্ষমতার এক বড় প্রমাণ। এটি শুধুমাত্র তেজগাঁও নয়, বরং পুরো ঢাকার বাণিজ্যিক পরিবেশকে বিশ্বমানের স্তরে নিয়ে যাবে। দেশের ইতিহাসে প্রথমবার অ্যালুমিনিয়াম ফর্মওয়ার্ক ব্যবহারের মাধ্যমে মাত্র সাত দিনে এক একটি তলার ছাদ ঢালাইয়ের রেকর্ড গড়ে এই প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। ঢাকার আকাশসীমায় নতুন এই ল্যান্ডমার্ক দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং আধুনিক নগরায়নের এক শক্তিশালী প্রতীক হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে।

Advertisement

বিশ্ব

View more
ভিসা ব্যবস্থায় বড় পরিবর্তন আনল আমিরাত
ভিসা ব্যবস্থায় বড় পরিবর্তন আনল আমিরাত, সুবিধা বাড়ল প্রবাসী ও পর্যটকদের

সংযুক্ত আরব আমিরাতে প্রবেশ ও বসবাসের প্রক্রিয়াকে আরও সহজ, দ্রুত এবং সুশৃঙ্খল করতে ২০২৬ সালে ভিসা নীতিতে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন আনা হয়েছে। অন-অ্যারাইভাল ভিসা, পর্যটন ভিসা, আবাসন সুবিধা থেকে শুরু করে জনস্বাস্থ্য সুরক্ষা—সব ক্ষেত্রেই নতুন এই নিয়মগুলো কার্যকর করা হয়েছে। ফলে প্রবাসী, পর্যটক ও বিনিয়োগকারীদের জন্য বিষয়গুলো জানা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।   দেশটির ফেডারেল অথরিটি ফর আইডেন্টিটি, সিটিজেনশিপ, কাস্টমস অ্যান্ড পোর্ট সিকিউরিটি (আইসিপি) এবং দুবাইয়ের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, চলতি বছর এ পর্যন্ত অন্তত ছয়টি বড় পরিবর্তন বাস্তবায়ন করা হয়েছে বলে জানিয়েছে খালিজ টাইমস।   সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে অন-অ্যারাইভাল ভিসা ব্যবস্থায়। ১৪ দিন ও ৬০ দিনের এন্ট্রি ভিসার সুযোগ এখন আরও বিস্তৃত করা হয়েছে। আগে নির্দিষ্ট শর্তে এই সুবিধা প্রধানত ভারতীয় নাগরিকদের জন্য সীমাবদ্ধ ছিল। নতুন নিয়মে ইন্দোনেশিয়া, ভিয়েতনাম, থাইল্যান্ড, ফিলিপাইন, কেনিয়া এবং দক্ষিণ আফ্রিকার নাগরিকদেরও এই সুবিধার আওতায় আনা হয়েছে।   এছাড়া আবেদনকারীদের বসবাসের দেশের তালিকাও সম্প্রসারণ করা হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের পাশাপাশি এখন সিঙ্গাপুর, জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া, অস্ট্রেলিয়া, নিউজিল্যান্ড ও কানাডার বাসিন্দারাও এ সুবিধা পাবেন।     পর্যটকদের জন্যও প্রক্রিয়া আরও সহজ করা হয়েছে। দুবাই ভ্রমণ করতে ইচ্ছুকরা অনুমোদিত পর্যটন সংস্থার মাধ্যমে আবেদন করলে এখন মাত্র ৪৮ ঘণ্টার মধ্যেই একবার প্রবেশের অনুমতিসহ পর্যটন ভিসা পেয়ে যাচ্ছেন। এই ভিসার মেয়াদ ৩০ থেকে ৬০ দিন পর্যন্ত হতে পারে।   আবাসন খাতে বিনিয়োগকারীদের জন্যও নিয়মে এসেছে বড় পরিবর্তন। দুবাই কর্তৃপক্ষ সম্পত্তির সঙ্গে যুক্ত দুই বছরের রেসিডেন্সি পারমিটের শর্ত শিথিল করেছে। একক মালিকানার ক্ষেত্রে আগে নির্ধারিত ন্যূনতম ৭ লাখ ৫০ হাজার দিরহাম মূল্যের বাধ্যবাধকতা তুলে নেওয়া হয়েছে। তবে আবেদনকারীকে সম্পত্তির একক মালিক হতে হবে। অন্যদিকে যৌথ মালিকানার ক্ষেত্রে প্রতিটি অংশীদারের শেয়ারের মূল্য কমপক্ষে ৪ লাখ দিরহাম হতে হবে।   এদিকে, ভিসার মেয়াদ শেষ হওয়ার পর অতিরিক্ত অবস্থানের (ওভারস্টে) জরিমানার ক্ষেত্রে দেওয়া সাময়িক ছাড়ও শেষ হতে যাচ্ছে। আঞ্চলিক আকাশসীমা বন্ধ ও ফ্লাইট জটিলতার কারণে যাদের এই সুবিধা দেওয়া হয়েছিল, তাদের জন্য আইসিপি ৩০ দিনের বিশেষ সময়সীমা নির্ধারণ করেছে। আগামী ৯ জুলাইয়ের মধ্যে তাদের ভিসা নবায়ন বা বৈধ করতে হবে, নতুবা দেশ ত্যাগ করতে হবে।   স্বাস্থ্যখাতেও নতুন উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। দুবাইয়ে চিকিৎসা নিতে আসা বিদেশি রোগীদের জন্য চালু করা হচ্ছে ‘স্মার্ট মেডিকেল ভিসা’। জেনারেল ডিরেক্টরেট অব আইডেন্টিটি অ্যান্ড ফরেনার্স অ্যাফেয়ার্স এবং দুবাই হেলথ অথরিটির যৌথ উদ্যোগে এই ব্যবস্থায় রোগীদের ভিসা প্রক্রিয়া, চিকিৎসা এবং পরবর্তী সেবাকে একক ও সমন্বিত ব্যবস্থার আওতায় আনা হবে। এতে চিকিৎসা পর্যটন আরও সহজ ও কার্যকর হবে বলে মনে করা হচ্ছে।   সর্বশেষ, জনস্বাস্থ্য সুরক্ষার অংশ হিসেবে ইবোলা ভাইরাসের ঝুঁকি বিবেচনায় কয়েকটি দেশের নাগরিকদের জন্য নতুন ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে। ন্যাশনাল ইমার্জেন্সি ক্রাইসিস অ্যান্ড ডিজাস্টার ম্যানেজমেন্ট অথরিটি এবং আইসিপির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ডেমোক্রেটিক রিপাবলিক অব কঙ্গো, উগান্ডা এবং দক্ষিণ সুদানের নাগরিকদের ক্ষেত্রে এই নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হয়েছে। পরিস্থিতি বিবেচনায় এই সিদ্ধান্ত ভবিষ্যতে আরও বাড়ানো হতে পারে।   বিশ্লেষকদের মতে, এসব পরিবর্তনের মাধ্যমে একদিকে যেমন বিদেশি বিনিয়োগ ও পর্যটনকে উৎসাহিত করা হচ্ছে, অন্যদিকে জনস্বাস্থ্য ও অভিবাসন ব্যবস্থাপনাকেও আরও কার্যকর করার চেষ্টা করছে সংযুক্ত আরব আমিরাত।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: জুলাই ৪, ২০২৬ ৮:৪৭
ঘানায় ভয়াবহ বন্যা: মৃত বেড়ে ৩৪, বাস্তুচ্যুত প্রায় ৯০ হাজার মানুষ

ঘানায় ভয়াবহ বন্যা: মৃত বেড়ে ৩৪, বাস্তুচ্যুত প্রায় ৯০ হাজার মানুষ

দোনেৎস্কে কৌশলগত শহর দখলের দাবি রাশিয়ার

দোনেৎস্কে কৌশলগত শহর দখলের দাবি রাশিয়ার

ছবি: সংগৃহীত

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ফাঁদ পেতে থাই বিমানকর্মীদের দিয়ে মাদক পাচার, উদ্বেগ বাড়াচ্ছে আন্তর্জাতিক চক্র

সংযুক্ত আরব আমিরাত ছবি: কোলাজ আমেরিকা বাংলা
যুদ্ধের উত্তেজনা কমতেই উপসাগরীয় অঞ্চলের তেল রপ্তানিতে বড় উল্লম্ফন, রেকর্ড গড়ল আমিরাত

মধ্যপ্রাচ্যের সাম্প্রতিক উত্তেজনা কিছুটা প্রশমিত হওয়ার পর জুন মাসে উপসাগরীয় অঞ্চলের তেল রপ্তানিতে উল্লেখযোগ্য প্রবৃদ্ধি দেখা গেছে। বিশেষ করে সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইউএই) ইতিহাসের সর্বোচ্চ পরিমাণ অপরিশোধিত তেল রপ্তানি করে নতুন রেকর্ড গড়েছে। এর প্রভাব পড়তে শুরু করেছে আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারেও।   জুনজুড়ে উপসাগরীয় দেশগুলোর সম্মিলিত অপরিশোধিত তেল ও কনডেনসেট রপ্তানি দৈনিক ১ কোটি ব্যারেলের সীমা অতিক্রম করেছে। আগের মাসের তুলনায় কয়েক মিলিয়ন ব্যারেল বেশি তেল বিশ্ববাজারে সরবরাহ হয়েছে, যার বড় অংশ এসেছে ইউএই থেকে।   তথ্য অনুযায়ী, জুনে দেশটির দৈনিক তেল রপ্তানি প্রায় ৩ দশমিক ৮ মিলিয়ন ব্যারেলে পৌঁছেছে, যা এখন পর্যন্ত সর্বোচ্চ। একই সময়ে সৌদি আরব দৈনিক প্রায় ৪ দশমিক ৫২ মিলিয়ন ব্যারেল তেল রপ্তানি করেছে। ইরানের রপ্তানিও আগের মাসের তুলনায় উল্লেখযোগ্য হারে বেড়ে প্রায় ৬ লাখ ৪০ হাজার ব্যারেলে পৌঁছেছে।   বিশ্লেষকদের মতে, হরমুজ প্রণালী দিয়ে তেলবাহী জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক হওয়ায় আগে আটকে থাকা বিপুল পরিমাণ তেল দ্রুত আন্তর্জাতিক বাজারে পৌঁছাতে শুরু করেছে। এই প্রণালী বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি নৌপথ, যার মাধ্যমে বৈশ্বিক তেল সরবরাহের বড় একটি অংশ পরিবহন করা হয়।   রপ্তানি বৃদ্ধি পাওয়ায় বিশ্ববাজারে তেলের সরবরাহও বেড়েছে। এতে সাম্প্রতিক সংঘাতের কারণে যে মূল্যচাপ তৈরি হয়েছিল, তা কিছুটা কমেছে। তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতি এখনও সংবেদনশীল। নতুন করে কোনো উত্তেজনা তৈরি হলে তেলের বাজার আবারও অস্থির হয়ে উঠতে পারে।   আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারের পরবর্তী গতিপথ এখন অনেকটাই নির্ভর করবে উপসাগরীয় দেশগুলোর উৎপাদন, রপ্তানির ধারা এবং মধ্যপ্রাচ্যের সামগ্রিক ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতির ওপর।

বায়জিদ হাসান প্রকাশ: জুলাই ৪, ২০২৬ ৩:৩
চার মাস পর খামেনির দাফন ৯ জুলাই

চার মাস পর খামেনির দাফন ৯ জুলাই, মরদেহ সংরক্ষণ নিয়ে প্রশ্ন

জুনের তাপপ্রবাহে ইউরোপের তিন দেশে ৩৭০০ অতিরিক্ত মৃত্যু

জুনের তাপপ্রবাহে ইউরোপের তিন দেশে ৩৭০০ অতিরিক্ত মৃত্যু

ইরানি শোকানুষ্ঠানে আবেগঘন মুহূর্ত, কাঁদলেন স্পিকার ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী

ইরানি শোকানুষ্ঠানে আবেগঘন মুহূর্ত, কাঁদলেন স্পিকার ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী

আজ থেকে সর্বসাধারণের জন্য উন্মুক্ত গ্র্যান্ড মোসাল্লা
আজ থেকে সর্বসাধারণের জন্য উন্মুক্ত গ্র্যান্ড মোসাল্লা, খামেনিকে শ্রদ্ধা জানাতে মানুষের ঢল

ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির মরদেহ রাজধানী তেহরানের গ্র্যান্ড মোসাল্লা মসজিদে রাখা হয়েছে। আজ শনিবার (৪ জুলাই) থেকে সাধারণ মানুষের জন্য মসজিদ প্রাঙ্গণ উন্মুক্ত করে দেওয়া হবে, যাতে তারা শেষবারের মতো শ্রদ্ধা জানাতে পারেন। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম বিবিসি এ তথ্য জানিয়েছে।   খামেনির প্রতি শেষ শ্রদ্ধা জানাতে রাজধানী তেহরানে নজিরবিহীন জনসমাগমের আশঙ্কা করা হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর ধারণা, এই সময়ে এক কোটিরও বেশি মানুষ তেহরানে উপস্থিত হতে পারেন। পাশাপাশি বিশ্বের অন্তত ১০০টি দেশের প্রতিনিধি ও উচ্চপর্যায়ের কর্মকর্তারা ইতোমধ্যে তেহরানে অবস্থান করছেন।   শুধু রাজধানী নয়, তেহরানসহ আরও পাঁচটি শহরে আয়োজন করা হয়েছে বিদায় অনুষ্ঠান। এসব অনুষ্ঠানে মোট অংশগ্রহণকারীর সংখ্যা প্রায় ২ কোটিতে পৌঁছাতে পারে বলে মনে করছেন আয়োজকরা। ফলে নিরাপত্তা ও জনসমাগম নিয়ন্ত্রণে ব্যাপক প্রস্তুতি নিয়েছে ইরান সরকার।   এর আগে বৃহস্পতিবার রাজধানীর ইমাম খোমেনি হুসেইনিয়ায় প্রথমবারের মতো জনসাধারণের সামনে আনা হয় খামেনির কফিন। ওই সময় একই সঙ্গে প্রকাশ্যে আনা হয় তার পরিবারের আরও কয়েকজন সদস্যের মরদেহ—যাদের মধ্যে রয়েছেন তার পুত্রবধূ, ১৪ মাস বয়সী নাতনি, কন্যা এবং জামাতা। ইরানি কর্তৃপক্ষের দাবি, তারা যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলায় নিহত হয়েছেন।   শুক্রবার বিভিন্ন দেশের প্রতিনিধি দল, কূটনীতিক এবং ইরানের শীর্ষ রাজনৈতিক ও সামরিক কর্মকর্তারা খামেনির প্রতি শেষ শ্রদ্ধা জানান। বাংলাদেশের পক্ষ থেকেও জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ এবং বিরোধী দলের প্রতিনিধিরা অনুষ্ঠানে অংশ নেন।   খামেনির জানাজা ঘিরে আন্তর্জাতিক ও ধর্মীয় গুরুত্ব বিবেচনায় তেহরান ছাড়াও কোম শহরে বিশেষ আয়োজন রাখা হয়েছে। এছাড়া ইরাকের কারবালা ও নাজাফেও তার জানাজা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে, যা শিয়া মুসলিম বিশ্বের গুরুত্বপূর্ণ ধর্মীয় কেন্দ্র হিসেবে বিবেচিত।   পরিকল্পনা অনুযায়ী, আগামী ৯ জুলাই খামেনিকে তার জন্মস্থান মাশহাদে দাফন করা হবে। ইরানের ধর্মীয় ও রাজনৈতিক ইতিহাসে গুরুত্বপূর্ণ এই ব্যক্তিত্বের বিদায় উপলক্ষে দেশজুড়ে শোকের আবহ বিরাজ করছে।   বিশ্লেষকরা বলছেন, খামেনির মৃত্যু ইরানের অভ্যন্তরীণ রাজনীতি এবং মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনীতিতে বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে। একই সঙ্গে তার শেষ বিদায় অনুষ্ঠান ঘিরে যে বিপুল জনসমাগমের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে, তা দেশটির রাজনৈতিক ও ধর্মীয় ঐক্যের একটি বড় প্রদর্শন হিসেবেও দেখা হচ্ছে।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: জুলাই ৪, ২০২৬ ০:১৬
রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। ছবি: সংগৃহীত

ইউক্রেনের গুরুত্বপূর্ণ শহর কোস্তিয়ানতিনিভকা দখল করলো রাশিয়া, নিরাপত্তা বলয় বাড়ানোর ইঙ্গিত পুতিনের

ছবি: নৃত্যশিক্ষক লরা পিনহো এবং সালেম আবু আমরা (সংগৃহীত)

ফিলিস্তিনিদের প্রতি সংহতি জানাতে গাজার ব্যক্তিকে বিয়ে করে যুক্তরাষ্ট্রে আনার পরিকল্পনার কথা জানালেন মার্কিনশিক্ষিকা

দুর্ঘটনায় আহত একজনকে বাঁচাতে ছুটে গিয়েছিলেন। ছবি: সংগৃহীত

তুরস্কে দুর্ঘটনায় আহতকে বাঁচাতে গিয়ে নিহত নববিবাহিত যুবক

0 Comments