- প্রচ্ছদ
- Topic
আশ্রয়প্রার্থী
আয়ারল্যান্ডে নিজ বাসভবনে নৃশংসভাবে খুন হয়েছেন জেমি কার্নি (৪৩) নামের নিউইয়র্কের এক নারী। এই হত্যাকাণ্ডের প্রধান সন্দেহভাজন হিসেবে পুলিশ তার প্রেমিক ও আশ্রয়প্রার্থী আহমাদ আলসাকেরকে (২৮) খুঁজছে, যিনি ঘটনার পরপরই দেশ ছেড়ে পালিয়েছেন। মর্মান্তিক এই ঘটনার মাত্র তিন দিন আগে যুক্তরাষ্ট্রের স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে এই প্রেমিকের সঙ্গেই একটি হাস্যোজ্জ্বল ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পোস্ট করেছিলেন জেমি। আয়ারল্যান্ডের কিলার্নি শহরের একটি ভাড়াবাড়িতে বসবাস করতেন জেমি। গত মঙ্গলবার তার ১৩ বছর বয়সি মেয়ে মায়ের ক্ষতবিক্ষত মরদেহ উদ্ধার করে। আইরিশ পুলিশের সূত্রমতে, জেমিকে পিটিয়ে হত্যার পর মঙ্গলবার ভোরে কিলার্নি থেকে বাসে করে ডাবলিনে পৌঁছান আলসাকের। সেখান থেকে তড়িঘড়ি করে একটি শেষ মুহূর্তের ফ্লাইটে তুরস্কের ইস্তাম্বুলে পালিয়ে যান তিনি। পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, সোমবার সন্ধ্যায় জেমি কার্নির বাড়িতে কোনো বিষয় নিয়ে কলহের সৃষ্টি হয়েছিল, যার কয়েক ঘণ্টা পরই তার ওপর এই মারাত্মক হামলা চালানো হয়। স্বাস্থ্যসেবা খাতে কর্মরত জেমি কার্নির সঙ্গে প্রায় দেড় বছর আগে আলসাকেরের পরিচয় হয়। জানা যায়, আলসাকের ২০২৪ সালে আশ্রয়প্রার্থী হিসেবে আয়ারল্যান্ডে পাড়ি জমিয়েছিলেন। এর আগে তিনি যুক্তরাজ্য ও ফ্রান্সেও বসবাস করেছেন। নিহত জেমি ফিলিস্তিনের কড়া সমর্থক ছিলেন এবং আয়ারল্যান্ডে একটি ফিলিস্তিনপন্থি সমাবেশে প্রেমিকের সঙ্গে অংশ নেওয়ার ভিডিও তিনি শেয়ার করেছিলেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও তাদের প্রেমের বিভিন্ন মুহূর্তের ছবি ও রোমান্টিক ক্যাপশন নিয়মিত পোস্ট করতেন তিনি। শেষ পোস্টে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা দিয়ে তৈরি নিউইয়র্কের টাইমস স্কয়ারের ব্যাকগ্রাউন্ডে তোলা দুজনের একটি ছবি শেয়ার করে স্বাধীনতা দিবসের শুভেচ্ছা জানিয়েছিলেন জেমি। আইরিশ পুলিশ আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করেছে যে, সন্দেহভাজন আলসাকের ইতোমধ্যে আয়ারল্যান্ড ত্যাগ করেছেন। সংবাদমাধ্যম আইরিশ এক্সামিনার জানিয়েছে, তুরস্ক থেকে তিনি এখন জর্ডান বা সিরিয়ায় পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করতে পারেন। পলাতক এই অভিযুক্তের অবস্থান শনাক্ত করতে বর্তমানে তুরস্ক ও ফ্রান্সে তার সম্ভাব্য পরিচিতদের বিষয়ে নিবিড় তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে পুলিশ।
যুক্তরাজ্যে আশ্রয়প্রার্থীদের জন্য এবার চরম দুঃসংবাদ নিয়ে আসছে ব্রিটিশ সরকার। প্রস্তাবিত নতুন ও কঠোর অভিবাসন আইন অনুযায়ী, যুক্তরাজ্যে আশ্রয়প্রার্থী হিসেবে স্বীকৃতি পাওয়া ব্যক্তিদের রাষ্ট্র পরিচালিত আবাসন ও থাকা-খাওয়ার খরচের অংশ হিসেবে প্রায় ১০ হাজার পাউন্ড বা ১৬ লাখ ৩০ হাজার টাকা পরিশোধ করতে হবে। এই বিপুল পরিমাণ অর্থ পরিশোধ না করলে তারা দেশটিতে স্থায়ীভাবে বসবাসের (সেটেলমেন্ট) অনুমতির জন্য আবেদন করতে পারবেন না। মঙ্গলবার ব্রিটিশ পার্লামেন্টে এ-সংক্রান্ত নতুন ‘ইমিগ্রেশন অ্যান্ড অ্যাসাইলাম বিল’ উত্থাপনের কথা রয়েছে। সরকারি কর্মকর্তারা নতুন এই আয়ভিত্তিক পরিশোধ ব্যবস্থাকে অনেকটা শিক্ষা ঋণ ব্যবস্থার সঙ্গে তুলনা করেছেন। তবে মানবাধিকার ও শরণার্থী সহায়তা সংস্থাগুলো এর তীব্র সমালোচনা করেছে। তাদের মতে, যুদ্ধ, নির্যাতন বা দুর্ভিক্ষ থেকে পালিয়ে আসা অসহায় মানুষদের ওপর এটি কার্যত এক ধরনের অতিরিক্ত কর বা বোঝা চাপানোর শামিল। ব্রিটিশ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী শাবানা মাহমুদ এই পরিকল্পনার ঘোষণা দিয়ে জানিয়েছেন, বর্তমানে আশ্রয়প্রার্থীদের আবাসন ও সহায়তার পেছনে সরকারের বছরে প্রায় ৪০০ কোটি পাউন্ড ব্যয় হচ্ছে। তিনি বলেন, আশ্রয় পাওয়া যেমন একটি অধিকার, তেমনি এটি একটি দায়িত্বও। মানুষ যখন আয় করতে সক্ষম হবে, তখন ব্রিটিশ জনগণের উদারতার প্রতিদান হিসেবে তাদের কাছ থেকে সরকার এই আর্থিক অবদান প্রত্যাশা করে। তবে অভিবাসন বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, সরকারের এই উদ্যোগ আর্থিকভাবে খুব একটা ফলপ্রসূ হবে না। অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের মাইগ্রেশন অবজারভেটরির পরিচালক ম্যাডেলিন সাম্পশন জানান, তথ্য-উপাত্ত অনুযায়ী পাঁচ বছর আগে শরণার্থী মর্যাদা পাওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে মাত্র ১৩ শতাংশের বার্ষিক আয় ২০ হাজার পাউন্ড বা তার বেশি। তাই খুব অল্পসংখ্যক মানুষই এই অর্থ পরিশোধের মতো আয়ের স্তরে পৌঁছাতে পারবেন। উল্টো এই নিয়মের কারণে অনেকেই সরকারি আশ্রয়কেন্দ্রে না থেকে বিকল্প বাসস্থানের পথ খুঁজতে পারেন এবং বেশি কর দেওয়ার ভয়ে বৈধভাবে কাজ করার প্রতি নিরুৎসাহিত হতে পারেন। হোম অফিস জানিয়েছে, আয়সীমাসহ বিস্তারিত বিষয়গুলো দ্বিতীয় পর্যায়ের বিধিমালায় চূড়ান্ত করা হবে। প্রস্তাবিত এই বিলে শুধু অর্থ পরিশোধের নিয়মই নয়, বরং অভিবাসন নিয়ন্ত্রণের আরও কিছু কঠোর পদক্ষেপ যুক্ত করা হয়েছে। ইউরোপীয় মানবাধিকার সনদের অনুচ্ছেদ ৮-এর প্রয়োগ, অভিবাসীদের বয়স নির্ধারণ প্রক্রিয়া আরও কঠোর করা এবং ‘আধুনিক দাসত্ব’ বা মডার্ন স্লেভারি-সংক্রান্ত আইনি কাঠামো সংশোধনের পরিকল্পনাও এই বিলে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। সব মিলিয়ে যুক্তরাজ্যের অভিবাসন নীতি যে আগামীতে নজিরবিহীন কঠোর হতে যাচ্ছে, তা এই নতুন বিল থেকেই স্পষ্ট।
যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্ট এক যুগান্তকারী রায়ে মার্কিন-মেক্সিকো সীমান্তে আশ্রয়প্রার্থীদের আটকে দেওয়ার বিষয়ে ট্রাম্প প্রশাসনকে সবুজ সংকেত দিয়েছে। এই সিদ্ধান্তের ফলে যুক্তরাষ্ট্রের বিদ্যমান আশ্রয়প্রার্থী নীতিমালায় একটি মৌলিক পরিবর্তন আসতে যাচ্ছে। ৬-৩ ভোটের এই রায়ের মাধ্যমে ট্রাম্প প্রশাসনের বহুল আলোচিত 'টার্ন-ব্যাক' বা 'মিটারিং' নীতি পুনরায় চালুর পথ সুগম হলো। এর ফলে মার্কিন কেন্দ্রীয় এজেন্টরা অভিবাসীদের যুক্তরাষ্ট্রের মাটিতে পা রাখার আগেই সীমান্ত থেকে ফিরিয়ে দেওয়ার আইনি বৈধতা পেলেন। ফেডারেল আইন অনুযায়ী মার্কিন ভূখণ্ডে পা রাখলে নিপীড়নের হাত থেকে বাঁচতে আশ্রয়ের আবেদন করার আইনি অধিকার পেতেন এই অভিবাসীরা। রক্ষণশীল ও উদারপন্থি বিচারপতিদের মধ্যে বিভক্ত এই রায়ে বিচারপতি স্যামুয়েল অ্যালিটোর লেখা সংখ্যাগরিষ্ঠ মতামতে বলা হয়, সাধারণ অর্থে কোনো স্থানে প্রবেশ না করা পর্যন্ত সেখানে 'উপস্থিত হওয়া' বা 'অ্যারাইভ ইন' বলা যায় না। অন্যদিকে, এই রায়ের তীব্র বিরোধিতা করে ৩৫ পৃষ্ঠার ভিন্নমত প্রকাশ করেন বিচারপতি সোনিয়া সোতোমায়র, যা সংখ্যাগরিষ্ঠ মতামতের প্রায় দ্বিগুণ দীর্ঘ। তিনি যুক্তি দেন, আদালত কেবল 'ইন' বা 'ভিতরে' শব্দটিকে আঁকড়ে ধরে একটি অযৌক্তিক ব্যাখ্যা দাঁড় করিয়েছে, যা আইনের সামগ্রিক প্রেক্ষাপটকে এড়িয়ে যায়। তিনি সতর্ক করে বলেন, এই সিদ্ধান্তের ভয়াবহ পরিণতি হতে পারে; এমনকি কোনো আশ্রয়প্রার্থীর প্রাণনাশের সুনির্দিষ্ট ঝুঁকি থাকলেও প্রবেশদ্বারের দ্বারপ্রান্ত থেকে তাকে ফিরিয়ে দেওয়ার ক্ষমতা পাবে সরকার। মানবাধিকার কর্মীরা বলছেন, আদালতের এই রায় যুক্তরাষ্ট্র ও আন্তর্জাতিক আশ্রয় আইনকে কার্যত অকার্যকর করে দেবে, যেখানে বলা আছে সরকারি কর্মকর্তারা বন্দরে পৌঁছানো মানুষদের যাচাই করবেন এবং বিপজ্জনক পরিস্থিতিতে তাদের ফেরত পাঠাবেন না। তিন প্রেসিডেন্টের মেয়াদকাল জুড়ে চলা দীর্ঘ আইনি লড়াইয়ের চূড়ান্ত পরিণতি হলো সুপ্রিম কোর্টের এই সিদ্ধান্ত। ২০১৭ সালে প্রথম ট্রাম্প প্রশাসনের আমলে ক্যালিফোর্নিয়া ও মেক্সিকো ভিত্তিক আইনি ও মানবিক সহায়তা প্রদানকারী সংস্থা 'আল ওট্রো লাডো' এবং কয়েকজন আশ্রয়প্রার্থী এই নীতির বিরুদ্ধে প্রথম মামলা করেছিলেন। সেসময় এই নীতির কারণে হাজার হাজার অভিবাসীকে মেক্সিকোর বিপজ্জনক অস্থায়ী ক্যাম্পে বা অস্থায়ী বাসস্থানে মানবেতর জীবনযাপন করতে হয়েছিল। অনেকেই তখন নিরুপায় হয়ে রিও গ্র্যান্ডে বা সোনোরা মরুভূমির মতো বিপজ্জনক পথ পাড়ি দেওয়ার চেষ্টা করেছিলেন। ২০২১ সালে প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন এই নীতি বাতিল করলেও ডোনাল্ড ট্রাম্প পুনরায় নির্বাচিত হওয়ার পর তার প্রশাসন নিম্ন আদালতের নিষেধাজ্ঞার বিষয়টি পর্যালোচনার জন্য সুপ্রিম কোর্টে আপিল করে। আল ওট্রো লাডোর নির্বাহী পরিচালক এরিকা পিনহেইরো বৃহস্পতিবারের এই রায়ের বিষয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে জানিয়েছেন, বিশ্বজুড়ে ক্রমবর্ধমান সংঘাত ও জলবায়ু বিপর্যয়ের এই সময়ে সীমান্ত কঠোর করার এমন নীতি আরও অসংখ্য মানুষের প্রাণহানির কারণ হবে। বর্তমানে সীমান্তে এই 'মিটারিং' নীতি কার্যকর না থাকলেও, এটি পুনরায় চালু হলে নতুন করে এক বিশাল মানবিক সংকটের আশঙ্কা করছেন বিশ্লেষকরা।
কানাডার বর্তমান সরকারের কঠোর অভিবাসন নীতির কারণে সে দেশে রাজনৈতিক আশ্রয়প্রার্থনাকারীদের জোরপূর্বক মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে ফেরত পাঠানো হচ্ছে, যার ফলে সেখানে গিয়ে তারা চূড়ান্তভাবে নিজ দেশে ডিপোর্টেশন বা বহিষ্কারের মুখোমুখি হচ্ছেন। আন্তর্জাতিক মানবাধিকার কর্মী, বিভিন্ন আইনজীবী এবং শরণার্থী অধিকার বিষয়ক সংগঠনগুলো কানাডা সরকারের এই বিতর্কিত পদক্ষেপের তীব্র সমালোচনা করেছেন। রোববার (২১ জুন) ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ানের এক বিশেষ অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কানাডা এবং আমেরিকার মধ্যে সম্পাদিত ‘নিরাপদ তৃতীয় দেশ চুক্তি’ বা সেফ থার্ড কান্ট্রি অ্যাগ্রিমেন্ট (এসটিসিএ) মূলত অসহায় অভিবাসীদের একটি অনিরাপদ দেশে ফিরে যেতে বাধ্য করছে। মানবাধিকার সংগঠনগুলোর মতে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র বর্তমান পরিস্থিতিতে রাজনৈতিক আশ্রয়প্রার্থীদের জন্য কোনোভাবেই নিরাপদ দেশ হতে পারে না। সেখানে শরণার্থীদের দীর্ঘমেয়াদী আটক রাখা এবং এমন সব দেশে জোরপূর্বক ফেরত পাঠানোর রেকর্ড রয়েছে যেখানে গেলে তাদের জীবননাশের সুনির্দিষ্ট আশঙ্কা থাকে। এই বাস্তবতায় কানাডিয়ান কাউন্সিল ফর রিফিউজিস এবং অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল কানাডা যৌথভাবে একটি আইনি চ্যালেঞ্জের মাধ্যমে কানাডা সরকারের এই নীতির বিরুদ্ধে সরব হয়েছে। তাদের দাবি, কানাডার সীমান্ত কর্মকর্তারা আদালত কর্তৃক নির্ধারিত মানবিক সুরক্ষাকবচগুলো তোয়াক্কা না করেই আশ্রয়প্রার্থীদের মার্কিন ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট বা আইসিই (ICE)-এর হাতে তুলে দিচ্ছেন। হন্ডুরাসের এক দম্পতি কার্লোস ও আন্তোনিয়ার বাস্তব জীবনের এক মর্মান্তিক ঘটনা এই আইনি লড়াইয়ের কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এসেছে। ২০২১ সালে হন্ডুরাসের একটি অপরাধী চক্রের প্রাণনাশের হুমকি থেকে বাঁচতে নিজেদের ছোট সন্তানকে নিয়ে তারা যুক্তরাষ্ট্রে পাড়ি জমান। কিন্তু তৎকালীন ট্রাম্প প্রশাসনের অভিবাসন বিরোধী কঠোর অভিযানের কারণে সেখানে তারা আশ্রয় দাবি করতে ব্যর্থ হন। যেহেতু কার্লোসের কিছু আত্মীয় কানাডায় বসবাস করেন, তাই তারা প্রাণ বাঁচাতে আরও উত্তরে কানাডার ফোর্ট ইরি সীমান্ত ক্রসিংয়ে পৌঁছান। তবে কানাডা সীমান্ত কর্মকর্তা তাদের সাফ জানিয়ে দেন যে, শুধু কার্লোস ও তার সন্তান কানাডায় ঢুকতে পারবে, কিন্তু আন্তোনিয়ার কোনো আত্মীয় না থাকায় তাকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে ফেরত পাঠানো হবে। সন্তান ও পরিবার থেকে বিচ্ছিন্ন হওয়ার ভয়ে এই পরিবারটি একসঙ্গে থাকার সিদ্ধান্ত নেয় এবং কানাডা সীমান্ত কর্তৃপক্ষ তাদের মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে ফেরত পাঠিয়ে দেয়। পরবর্তীতে সেখান থেকে তাদের সরাসরি নিজ দেশ হন্ডুরাসে ডিপোর্ট বা বহিষ্কার করা হয়। বর্তমানে ৬ বছর বয়সী সন্তানসহ ওই পরিবারটি অপরাধী চক্রের প্রতিশোধের ভয়ে হন্ডুরাসে সম্পূর্ণ আত্মগোপনে জীবন কাটাচ্ছে। আইনজীবীদের অভিযোগ, কানাডা সীমান্ত কর্তৃপক্ষ আশ্রয়প্রার্থীদের কোনো ধরণের আইনি সহায়তা বা মানবিক ছাড় পাওয়ার সুযোগ না দিয়ে মাত্র ২০ মিনিটের মধ্যে অত্যন্ত দ্রুত ও জীবন ধ্বংসকারী সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য করে, যা সম্পূর্ণ অমানবিক। বিগত ২০০৪ সাল পর্যন্ত কানাডার যেকোনো আইনি সীমান্ত পয়েন্টে গিয়ে সরাসরি রাজনৈতিক আশ্রয়ের আবেদন করার নিয়ম ছিল। কিন্তু পরবর্তীতে কানাডা সরকারের বিশেষ লবিংয়ের মাধ্যমে কার্যকর হওয়া সেফ থার্ড কান্ট্রি অ্যাগ্রিমেন্ট অনুযায়ী, একজন অভিবাসী প্রথম যে দেশে পৌঁছাবেন, তাকে সেখানেই আশ্রয়ের আবেদন করতে হবে। ২০২৩ সালে কানাডার সর্বোচ্চ আদালত এই চুক্তিটিকে সাংবিধানিক বলে রায় দিলেও স্পষ্ট জানিয়েছিল যে, মানবিক দিক বিবেচনা করে সীমান্ত কর্মকর্তাদের বিশেষ ক্ষেত্রে ছাড় দেওয়ার সুযোগ বা 'সেফটি ভালভ' রাখতে হবে। তবে মানবাধিকার কর্মীরা বলছেন, বাস্তবে এই মানবিক ছাড়ের কোনো অস্তিত্ব নেই এবং শরণার্থীদের আকুতি সম্পূর্ণ উপেক্ষা করা হচ্ছে। একই সময়ে কানাডার বর্তমান প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নির সরকার নিজেদের শরণার্থী ব্যবস্থাকে আরও সংকুচিত ও কঠোর করতে নতুন আইন প্রণয়ন করেছে। এই নতুন আইনের ফলে শরণার্থী হিসেবে আবেদনের যোগ্যতা অর্জনের নিয়মাবলী আরও কঠিন হয়ে পড়েছে, যাকে সমালোচকেরা ট্রাম্পের স্টাইলের অভিবাসন নীতির সাথে তুলনা করছেন। যদিও কানাডার ফেডারেল সরকার এই নীতির পক্ষে সাফাই গেয়ে বলেছে যে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র একটি নিরাপদ দেশ এবং চুক্তি অনুযায়ী সকল আইনি শর্ত পূরণ করেই এই কার্যক্রম চালানো হচ্ছে। তবে মামলাটি আদালতে ওঠার পর একজন বিচারক চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবেন যে এই আইনি চ্যালেঞ্জটি পরবর্তী শুনানির জন্য গ্রহণ করা হবে কি না।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।