ইউক্রেনের পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোর জন্য সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম সরবরাহে যুক্তরাজ্যের নতুন পরিকল্পনাকে সন্দেহজনক এবং রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত পদক্ষেপ বলে তীব্র সমালোচনা করেছে রাশিয়া। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মারিয়া জাখারোভা বলেছেন, এই সিদ্ধান্তের পেছনে কোনো বাণিজ্যিক স্বার্থ নেই। কিয়েভ সরকারকে অন্ধ সমর্থন দেওয়ার জন্য এই রাজনৈতিক বার্তা দেওয়া হচ্ছে বলে মস্কো মনে করে। রাশিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নিজস্ব ওয়েবসাইটে প্রকাশিত এক বিশেষ বিবৃতিতে মারিয়া জাখারোভা এই মন্তব্য করেন। রাশিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র জানান, এই পরিকল্পনাটি সম্ভবত ইউক্রেনের পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের জন্য পারমাণবিক জ্বালানি তৈরিতে ব্যবহৃত নিম্ন-সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম সরবরাহের সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত. বর্তমানে ব্রিটিশ প্রতিষ্ঠান ইউরেনকো এ ধরনের পণ্যের অন্যতম প্রধান বৈশ্বিক সরবরাহকারী হিসেবে কাজ করছে। তবে ইউক্রেনের নিজস্বভাবে পারমাণবিক জ্বালানি উৎপাদনের কোনো শিল্প সক্ষমতা রয়েছে বলে রাশিয়ার জানা নেই। তাই সরবরাহ করা ইউরেনিয়াম সরাসরি ইউক্রেনে নয়, বরং তৃতীয় কোনো দেশের পারমাণবিক জ্বালানি উৎপাদনকারী কারখানায় পাঠানো হবে। রাশিয়ার ধারণা, এই ইউরেনিয়াম সম্ভবত ওয়েস্টিংহাউস নামের একটি কারখানায় পাঠানো হবে। জাখারোভা বলেন, লন্ডনের বক্তব্য অনুযায়ী এই চুক্তির সঙ্গে ডার্টি বোমা বা তেজস্ক্রিয় পদার্থ ছড়িয়ে দেওয়ার মতো বিপজ্জনক অস্ত্র তৈরির কোনো সম্পর্ক নেই। তবে রপ্তানিকারক দেশ হিসেবে যুক্তরাজ্যকে অবশ্যই নিশ্চিত করতে হবে যে ইউক্রেন পারমাণবিক অস্ত্র বিস্তার রোধ চুক্তি বা এনপিটি অনুযায়ী তাদের আন্তর্জাতিক দায়বদ্ধতা কঠোরভাবে পালন করবে। একই সাথে সরবরাহ করা উপাদান নির্ধারিত উদ্দেশ্যেই ব্যবহার করবে। বিবৃতিতে বলা হয়, এসব শর্ত পূরণ হলে এই সরবরাহ আন্তর্জাতিক পারমাণবিক অস্ত্র বিস্তার রোধ ব্যবস্থাকে দুর্বল করবে না। পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট পারমাণবিক উপাদানকে অবশ্যই আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থা বা আইএইএ-এর পূর্ণ তত্ত্বাবধানে রাখতে হবে। তবে জাখারোভার মূল দাবি, যুক্তরাজ্যের এই সিদ্ধান্তের প্রধান উদ্দেশ্য বাণিজ্যিক সুবিধা লাভ করা নয়। বরং প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির সরকারকে সব পরিস্থিতিতে সমর্থন অব্যাহত রাখার প্রতিশ্রুতি দিয়ে একটি রাজনৈতিক সুবিধা অর্জন করা। তিনি অভিযোগ করে বলেন, ব্রিটিশ সরকারের এই অবস্থান এমন সময় এসেছে, যখন ইউক্রেনীয় বাহিনী জাপোরিঝঝিয়া পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র এবং এর কর্মীদের আবাসস্থল এনারহোদার শহরে সরাসরি হামলা চালিয়ে যাচ্ছে বলে রাশিয়ার কাছে তথ্য রয়েছে। এই চরম উসকানিমূলক বিষয়ে লন্ডনের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত কোনো নিন্দা বা উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়নি। এই নীরবতাই পারমাণবিক নিরাপত্তা নিয়ে যুক্তরাজ্যের আসল অবস্থানকে বিশ্বের কাছে স্পষ্ট করে দেয়। তাই ইউক্রেনকে দেওয়া ব্রিটিশ সহায়তার প্রকৃত উদ্দেশ্য সম্পর্কে রাশিয়ার কোনো বিভ্রম নেই।
সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে নিজেদের উচ্চমাত্রায় সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুত সুরক্ষিত রাখতে নজিরবিহীন কঠোর ব্যবস্থা নিয়েছে ইরান। যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দা তথ্য সম্পর্কে অবগত একাধিক সূত্রের বরাত দিয়ে মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএন জানিয়েছে, সম্ভাব্য হামলা বা জোরপূর্বক দখল ঠেকাতে ইরান ভূগর্ভস্থ স্থাপনাগুলোর প্রবেশপথ ধ্বংস এবং কিছু জায়গায় বিস্ফোরক মাইন বসানোর মতো পদক্ষেপ নিয়েছে। সূত্রগুলোর দাবি, এসব পদক্ষেপের ফলে ইরানের সংরক্ষিত সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের কাছে পৌঁছানো এখন অনেক বেশি কঠিন হয়ে পড়েছে। এই ইউরেনিয়ামের মান এমন পর্যায়ে রয়েছে, যা তাত্ত্বিকভাবে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির সক্ষমতার কাছাকাছি বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করেন। এক মাস আগেও পরিস্থিতি তুলনামূলকভাবে কম জটিল ছিল। সে সময় যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইঙ্গিত দিয়েছিলেন, প্রয়োজনে ইরানের ভেতরে সামরিক অভিযান চালিয়ে এই ইউরেনিয়াম জব্দ করা হতে পারে। তবে পরে সে পরিকল্পনা ঝুঁকিপূর্ণ বিবেচনায় বাতিল করা হয় বলে সিএনএনের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে যে কূটনৈতিক আলোচনা চলছে, তাতে এই ইউরেনিয়াম ইস্যু বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। মার্কিন এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, সম্ভাব্য চুক্তির আওতায় ইরান তাদের উচ্চমাত্রায় সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম যুক্তরাষ্ট্রের কাছে হস্তান্তর করতে পারে, যা পরে ধ্বংস করে দেশটির বাইরে সরিয়ে নেওয়া হবে। তবে এই প্রক্রিয়া বাস্তবায়ন কীভাবে হবে এবং এর দায়িত্ব কে নেবে—তা নিয়ে এখনো দুই পক্ষের অবস্থান স্পষ্ট নয়। এদিকে, একটি খসড়া চুক্তির বিষয়বস্তু ফাঁস হওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। তিনি জোর দিয়ে বলেছেন, ইরানের হাতে থাকা ইউরেনিয়াম নিয়ন্ত্রণে নেওয়াটাই এখন যুক্তরাষ্ট্রের প্রধান অগ্রাধিকার। একই সঙ্গে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি পুনরায় চালু করার বিষয়টিও আলোচনায় রয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ইরানের নতুন নিরাপত্তা ব্যবস্থা পুরো পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। কারণ, এখন এই ইউরেনিয়াম সরিয়ে নেওয়ার কাজ শুধু রাজনৈতিকভাবে নয়, প্রযুক্তিগতভাবেও অত্যন্ত কঠিন হয়ে উঠেছে। ভারী খননযন্ত্র ব্যবহার, মাইন অপসারণ এবং নিরাপদ পরিবহনের মতো জটিল ধাপ পার হতে হবে—যা সময়সাপেক্ষ ও ঝুঁকিপূর্ণ। পারমাণবিক নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞ স্কট রোয়েকার সিএনএনকে বলেন, যদি এসব তথ্য সত্য হয়, তাহলে উচ্চমাত্রায় সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম উদ্ধার করা আগের চেয়ে অনেক বেশি কঠিন হয়ে পড়বে। তিনি ২০১৭ থেকে ২০২১ সাল পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল নিউক্লিয়ার সিকিউরিটি অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের একটি গুরুত্বপূর্ণ দপ্তরের দায়িত্বে ছিলেন। বিশেষজ্ঞদের ধারণা, ইরানের ইস্পাহান অঞ্চলের একটি পারমাণবিক স্থাপনার ক্ষতিগ্রস্ত টানেলের ভেতর এই ইউরেনিয়ামের বড় অংশ রাখা হয়েছে। এছাড়া কিছু অংশ অন্যত্র সরিয়ে রাখা হয়েছে বলেও ধারণা করা হচ্ছে। ফলে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের জন্য পুরো মজুতের অবস্থান নিশ্চিত করা কঠিন হয়ে উঠতে পারে। এ বিষয়ে জাতিসংঘে ইরানের প্রতিনিধিদলের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাৎক্ষণিক কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। একইভাবে হোয়াইট হাউসও আনুষ্ঠানিকভাবে মন্তব্য করতে রাজি হয়নি। এর আগে মে মাসে ফক্স নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প দাবি করেছিলেন, যুক্তরাষ্ট্র গোয়েন্দা তথ্যের মাধ্যমে ইরানের এসব কার্যক্রম সম্পর্কে অবগত রয়েছে। তবে ইরান কখনো নজর এড়িয়ে এসব উপাদান সরিয়ে নিতে পারবে কি না—তা নিয়ে তিনি সন্দেহ প্রকাশ করেন। এখনকার বাস্তবতায় বিশ্লেষকরা বলছেন, দ্রুত কোনো চুক্তি হলেও ইউরেনিয়াম অপসারণ ও ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচির ভবিষ্যৎ নিয়ে দীর্ঘমেয়াদি আলোচনা অব্যাহত থাকবে। বিশেষ করে, এই উপাদান সরাতে যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষায়িত মোবাইল পারমাণবিক ইউনিটের প্রয়োজন হতে পারে, যা টেনেসির ওক রিজ ন্যাশনাল ল্যাবরেটরির তত্ত্বাবধানে পরিচালিত হয়। বিভিন্ন প্রতিবেদনে আরও জানা গেছে, যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষ আলোচক জ্যারেড কুশনার ও স্টিভ উইটকফ সম্প্রতি ওই গবেষণাগার পরিদর্শন করেছেন, যা এই প্রক্রিয়ার প্রস্তুতির ইঙ্গিত হিসেবেই দেখছেন অনেকে। সব মিলিয়ে, ইরানের ইউরেনিয়াম মজুত ঘিরে নতুন নিরাপত্তা ব্যবস্থা শুধু সামরিক ঝুঁকিই বাড়ায়নি, বরং যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চলমান আলোচনাকেও আরও জটিল করে তুলেছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ইস্যুর সমাধান সহজ হবে না এবং এর প্রভাব দীর্ঘদিন আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে অনুভূত হবে।
পারমাণবিক কর্মসূচি ঘিরে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সম্ভাব্য সমঝোতা আলোচনার মধ্যেই নতুন একটি জটিলতার খবর সামনে এসেছে। মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএনের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত কয়েক সপ্তাহে ইরান তাদের উচ্চমাত্রায় সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের গোপন মজুতাগারগুলো আরও সুরক্ষিত করার পদক্ষেপ নিয়েছে। মার্কিন গোয়েন্দা তথ্য সম্পর্কে অবগত একাধিক সূত্রের বরাতে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, কিছু ভূগর্ভস্থ সুড়ঙ্গ বন্ধ করে দেওয়া হচ্ছে এবং প্রবেশপথগুলোকে এমনভাবে সুরক্ষিত করা হচ্ছে, যাতে সেখানে পৌঁছানো আরও কঠিন হয়ে পড়ে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইরানের কাছে বর্তমানে যে উচ্চমাত্রায় সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম রয়েছে, তার একটি বড় অংশ পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির উপযোগী পর্যায়ের কাছাকাছি বলে পশ্চিমা দেশগুলোর ধারণা। এই মজুতের পরিমাণ প্রায় আধা টন বলে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে ইরান বরাবরই দাবি করে আসছে, তাদের পারমাণবিক কর্মসূচি সম্পূর্ণ শান্তিপূর্ণ এবং বেসামরিক উদ্দেশ্যে পরিচালিত। সিএনএনের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কয়েক সপ্তাহ আগেও এই ভান্ডারগুলোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা বর্তমান অবস্থার মতো ছিল না। তবে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রকাশ্যে ইঙ্গিত দেওয়ার পর পরিস্থিতি বদলাতে শুরু করে। সে সময় ট্রাম্প বলেছিলেন, প্রয়োজন হলে যুক্তরাষ্ট্র সামরিক উপায়ে ওই ইউরেনিয়াম জব্দ করার বিষয় বিবেচনা করতে পারে। বিশ্লেষকদের মতে, ইরানের সর্বশেষ পদক্ষেপ সম্ভাব্য যুক্তরাষ্ট্র-ইরান চুক্তি বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি করতে পারে। কারণ আলোচনায় থাকা প্রস্তাবগুলোর অন্যতম লক্ষ্য হচ্ছে সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম সরিয়ে নেওয়া, ধ্বংস করা অথবা আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষণের আওতায় আনা। এদিকে জাতিসংঘে ইরানের স্থায়ী মিশন এ বিষয়ে তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য করেনি। একইভাবে হোয়াইট হাউসও প্রকাশ্যে এ বিষয়ে কোনো প্রতিক্রিয়া জানায়নি। চলমান কূটনৈতিক আলোচনায় পারমাণবিক কর্মসূচি অন্যতম প্রধান ইস্যু হয়ে উঠেছে। হরমুজ প্রণালি পুনরায় উন্মুক্ত করা এবং আঞ্চলিক উত্তেজনা কমানোর প্রচেষ্টার পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্র বারবার ইরানের সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম মজুতকে আলোচনার কেন্দ্রীয় বিষয় হিসেবে উল্লেখ করেছে। শুক্রবার মার্কিন প্রশাসনের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা সাংবাদিকদের জানান, দুই দেশ একটি সম্ভাব্য চুক্তির খুব কাছাকাছি অবস্থান করছে। তার দাবি, চুক্তি সম্পন্ন হলে ইরানকে তাদের সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম আন্তর্জাতিকভাবে গ্রহণযোগ্য ব্যবস্থার আওতায় আনতে হবে এবং তা অপসারণ বা নিষ্ক্রিয় করার প্রক্রিয়াও শুরু হবে। তবে সম্ভাব্য চুক্তির শর্ত নিয়ে এখনো স্পষ্টতা নেই। যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের কর্মকর্তাদের বক্তব্যেও দেখা যাচ্ছে ভিন্নতা। এর মধ্যেই ইরানের একটি আধা-সরকারি সংবাদমাধ্যমে কথিত চুক্তির একটি খসড়া প্রকাশিত হওয়ার পর নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। পারমাণবিক নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞদের মতে, যদি প্রতিবেদনে বর্ণিত নিরাপত্তা ব্যবস্থা সত্যি হয়ে থাকে, তাহলে ওই ইউরেনিয়াম উদ্ধার বা স্থানান্তর করা আরও জটিল হয়ে উঠবে। যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল নিউক্লিয়ার সিকিউরিটি অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের সাবেক কর্মকর্তা স্কট রোকার সিএনএনকে বলেন, এমন পরিস্থিতি বাস্তব হলে মজুত উপাদান যাচাই ও অপসারণের কাজ আগের তুলনায় অনেক বেশি কঠিন হবে। তিনি সতর্ক করে বলেন, ভবিষ্যতে কোনো চুক্তির অংশ হিসেবে যদি ইরানকে পুরো মজুতের হিসাব দিতে হয়, তাহলে সব উপাদান উদ্ধার করা সম্ভব কি না, সেটি বড় প্রশ্ন হয়ে দাঁড়াতে পারে। তার মতে, কোনো অংশ যদি অপ্রাপ্য বলে দাবি করা হয়, তাহলে তা নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে সন্দেহ থেকেই যাবে। আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের ধারণা, সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের বড় অংশ মধ্য ইরানের Isfahan Nuclear Technology Center এলাকায় সংরক্ষিত থাকতে পারে। যদিও এ বিষয়ে স্বাধীনভাবে যাচাই করা তথ্য প্রকাশ করা হয়নি। প্রতিবেদন অনুযায়ী, মে মাসে যুক্তরাষ্ট্র বিশেষ সামরিক অভিযানের মাধ্যমে এই উপাদান জব্দ করার একটি পরিকল্পনা বিবেচনা করেছিল। তবে সম্ভাব্য ঝুঁকি অত্যন্ত বেশি হওয়ায় সেই পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা হয়নি। বিশেষজ্ঞদের মতে, ভবিষ্যতে যদি কোনো সমঝোতা চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়, তাহলেও বাস্তবায়নের পর্যায়ে দীর্ঘ কারিগরি আলোচনা প্রয়োজন হবে। সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম শনাক্ত, যাচাই, অপসারণ এবং নিরাপদভাবে স্থানান্তরের মতো কাজ সম্পন্ন করতে আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষক, প্রযুক্তিগত বিশেষজ্ঞ এবং সংশ্লিষ্ট রাষ্ট্রগুলোর মধ্যে ঘনিষ্ঠ সমন্বয় প্রয়োজন হবে। এ কারণে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে রাজনৈতিক সমঝোতা হলেও পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে চূড়ান্ত সমাধানে পৌঁছাতে আরও সময় লাগতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে একটি ঐতিহাসিক শান্তি চুক্তির খসড়া প্রস্তুত বলে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করলেও ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ এবং হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখার বিষয়ে অনড় অবস্থান জানিয়েছে ইরান। মার্কিন মিত্র ইসরায়েল দাবি করেছে, ট্রাম্প তাদের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন যে চুক্তির আওতায় ইরানের সমস্ত সমৃদ্ধ পারমাণবিক উপাদান জব্দ বা সরিয়ে নেওয়া হবে। তবে ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদসংস্থা 'ইরনা' (IRNA) সাফ জানিয়ে দিয়েছে, এই বিষয়টি তাদের আলোচনার টেবিলেই নেই। মূলত গত ২৮ ফেব্রুয়ারি মার্কিন-ইসরায়েলি হামলার পর দুই দেশের মধ্যে যে যুদ্ধ শুরু হয়েছিল, তা অবসানে গত এপ্রিল থেকে একটি ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতি চলছে। তবে স্থায়ী সমঝোতার ক্ষেত্রে এই দুটি প্রধান শর্ত এখন বড় অন্তরায় হয়ে দাঁড়িয়েছে। ইরানের সংবাদমাধ্যম 'মেহর নিউজ'-এর মাধ্যমে ফাঁস হওয়া খসড়া চুক্তির তথ্য অনুযায়ী, প্রস্তাবিত এই চুক্তিতে লেবাননসহ সমস্ত ফ্রন্টে যুদ্ধাবসান, ইরানের অবরুদ্ধ ২৪ বিলিয়ন ডলারের সম্পদ খালাস, তেল বিক্রির ওপর নিষেধাজ্ঞা স্থগিত এবং ইরানি বন্দরের ওপর থেকে মার্কিন নৌ অবরোধ প্রত্যাহারের কথা বলা হয়েছে। এছাড়া যুদ্ধবিধ্বস্ত ইরানের পুনর্গঠনের জন্য অন্তত ৩০০ বিলিয়ন ডলার ক্ষতিপূরণ দাবি করেছে তেহরান। তবে ইরান স্পষ্ট করে জানিয়েছে, তাদের অবরুদ্ধ তহবিলের অর্ধেক মুক্তি এবং তেল নিষেধাজ্ঞা স্থগিত না হওয়া পর্যন্ত চূড়ান্ত আলোচনা শুরু হবে না। একই সাথে বিশ্ব জ্বালানি সরবরাহের প্রধান রুট হরমুজ প্রণালিতে নিজেদের সামরিক নিয়ন্ত্রণ ও একচ্ছত্র আধিপত্য বজায় রাখার বিষয়েও জোর দিয়েছে তেহরান, যার অধীনে আন্তর্জাতিক নৌযানগুলোকে এই পথ দিয়ে পারাপারের জন্য ইরানি সশস্ত্র বাহিনীর অনুমতি নিতে হবে। ইরানের এই অনমনীয় মনোভাব সত্ত্বেও মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প চুক্তিটি নিয়ে অত্যন্ত আশাবাদী এবং তিনি ইঙ্গিত দিয়েছেন যে, ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি ইতিমধ্যেই এই খসড়া অনুমোদন করেছেন। খসড়া চূড়ান্ত হওয়ার খবর আসার পর ট্রাম্প ইরানে পূর্বনির্ধারিত একটি বড় বিমান হামলা বাতিল করেন এবং শীঘ্রই চুক্তির সময় ও স্থান ঘোষণা করা হবে বলে জানান। অন্যদিকে, ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু মার্কিন প্রেসিডেন্টের সাথে ফোনালাপের পর পুনর্ব্যক্ত করেছেন যে, যেকোনো চুক্তিতে অবশ্যই তেহরানের পারমাণবিক উপাদান অপসারণ এবং ক্ষেপণাস্ত্র অবকাঠামো ধ্বংসের কঠোর শর্ত থাকতে হবে। তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, তার প্রধানমন্ত্রিত্ব থাকাকালীন ইরানকে কোনোভাবেই পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন করতে দেওয়া হবে না।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন, ইরানের ক্ষতিগ্রস্ত পারমাণবিক কেন্দ্রগুলো থেকে উচ্চমাত্রায় সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম যৌথভাবে উদ্ধার করবে ওয়াশিংটন ও তেহরান। বার্তা সংস্থা রয়টার্স-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান একসঙ্গে ধীরেসুস্থে এসব স্থানে প্রবেশ করবে এবং বড় যন্ত্রপাতি ব্যবহার করে ইউরেনিয়াম সংগ্রহ করা হবে। পরে তা যুক্তরাষ্ট্রে নিয়ে যাওয়া হবে বলেও উল্লেখ করেন তিনি। তবে সম্ভাব্য এ ধরনের কোনো চুক্তির বিষয়ে এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানায়নি ইরান। বরং তেহরান আগেই স্পষ্ট করেছে, তারা ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণের অধিকার ছাড়বে না। এর আগে ট্রাম্প এই সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামকে ‘পারমাণবিক ধূলা’ বলে উল্লেখ করে দাবি করেছিলেন, যুক্তরাষ্ট্র শেষ পর্যন্ত ইরানের সব সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নেবে। আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুযায়ী, আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থা জানিয়েছে, ইরানের কাছে ৬০ শতাংশ পর্যন্ত সমৃদ্ধ ৪০০ কেজির বেশি ইউরেনিয়াম মজুত রয়েছে। সাধারণভাবে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির জন্য প্রায় ৯০ শতাংশ পর্যন্ত সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম প্রয়োজন হয়। বিশ্লেষকদের মতে, ট্রাম্পের এই বক্তব্য বাস্তবায়িত হলে তা আন্তর্জাতিক কূটনীতিতে বড় ধরনের পরিবর্তন আনতে পারে। তবে ইরানের আনুষ্ঠানিক অবস্থান এবং পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে চলমান মতবিরোধের কারণে এ ধরনের উদ্যোগ বাস্তবে কতটা সম্ভব, তা নিয়ে সংশয় রয়ে গেছে। সূত্র: আল জাজিরা
ইরানের পরমাণু শক্তি সংস্থার প্রধান মোহাম্মদ এসলামি স্পষ্ট জানিয়েছেন যে, দেশটির ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ কর্মসূচি কোনোভাবেই সীমিত বা সংকুচিত করা হবে না। উল্লেখ্য, পারমাণবিক বোমা তৈরির আগের ধাপই হচ্ছে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ। ইরানি স্টুডেন্টস নিউজ এজেন্সির (ISNA) প্রতিবেদন অনুযায়ী, এসলামি আত্মবিশ্বাসের সাথে ঘোষণা করেছেন যে শত্রুপক্ষ ইরানের এই পারমাণবিক অগ্রযাত্রাকে থামিয়ে দিতে পারবে না। তিনি আরও জোর দিয়ে বলেন, ইরানের প্রযুক্তিগত সক্ষমতা এবং লক্ষ্য অর্জনে বাইরের কোনো শক্তি বাধা হয়ে দাঁড়াতে সফল হবে না। মূলত পশ্চিমাদের অব্যাহত চাপের মুখে নিজেদের কঠোর অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করতেই এসলামি এই মন্তব্য করেছেন। উল্লেখ্য, ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে দীর্ঘ দিন ধরেই পশ্চিমা বিশ্বের সঙ্গে দেশটির উত্তেজনা বিরাজ করছে। বিশেষ করে সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মাত্রা নিয়ে আন্তর্জাতিক আণবিক শক্তি সংস্থা (IAEA) এবং বিশ্বশক্তিগুলো উদ্বেগ প্রকাশ করে আসছে। তবে ইরান বরাবরই দাবি করে আসছে যে, তাদের এই কর্মসূচি সম্পূর্ণ শান্তিপূর্ণ এবং বেসামরিক উদ্দেশ্যে পরিচালিত।
ভূপাতিত মার্কিন যুদ্ধবিমানের ক্রু উদ্ধারের অভিযানের পেছনে ভিন্ন উদ্দেশ্য থাকতে পারে বলে অভিযোগ তুলেছে ইরান। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই বলেছেন, এই অভিযানের আড়ালে সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম চুরির চেষ্টা থাকতে পারে। সোমবার এক বক্তব্যে তিনি জানান, পুরো ঘটনাটি ঘিরে নানা প্রশ্ন ও অস্পষ্টতা রয়েছে। তার দাবি, কোহগিলুয়েহ ও বোয়ের-আহমাদ প্রদেশে মার্কিন পাইলট আশ্রয় নিয়েছিলেন বলে বলা হলেও, মার্কিন বাহিনী মধ্য ইরানের আরও দূরবর্তী এলাকায় অবতরণের চেষ্টা করেছে, যা সন্দেহের জন্ম দিচ্ছে। ইসমাইল বাঘাই বলেন, ‘এই অভিযানটি প্রতারণামূলক হতে পারে এবং সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম সংগ্রহের প্রচেষ্টা ছিল—এ সম্ভাবনাকে উড়িয়ে দেওয়া যায় না।’ গত শুক্রবার যুক্তরাষ্ট্র-এর একটি এফ-১৫ই যুদ্ধবিমান ভূপাতিত করার দাবি করে ইরান। এতে থাকা দুই পাইলট নিখোঁজ হন। তাদের উদ্ধারে কয়েক ঘণ্টাব্যাপী অভিযান চালায় মার্কিন বাহিনী। একই সময়ে ইরানও ক্রুদের খোঁজে তল্লাশি চালায়। রোববার মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানান, একটি ‘সাহসী অভিযানের’ মাধ্যমে দ্বিতীয় পাইলটকেও উদ্ধার করা হয়েছে। তবে ইরানের পক্ষ থেকে উত্থাপিত অভিযোগ নিয়ে এখনো আনুষ্ঠানিক কোনো প্রতিক্রিয়া জানায়নি যুক্তরাষ্ট্র। বিশ্লেষকদের মতে, এ ধরনের অভিযোগ দুই দেশের মধ্যে চলমান উত্তেজনাকে আরও বাড়িয়ে তুলতে পারে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
বাংলাদেশের আবাসন শিল্পে এক নতুন ইতিহাস রচিত হলো। রাজধানীর তেজগাঁও শিল্প এলাকায় নির্মিত দেশের প্রথম ৪০ তলা বিশিষ্ট আকাশচুম্বী বাণিজ্যিক ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করেছে শান্তা হোল্ডিংস। ৫০০ ফুট উচ্চতার এই আইকনিক ভবনটি এখন দেশের সর্বোচ্চ সম্পন্ন হওয়া ইমারত। গত শনিবার (১৮ এপ্রিল) ভবনের ৪০তম তলায় আয়োজিত এক আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এটি হস্তান্তর করা হয়। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের চেয়ারম্যান খন্দকার মনির উদ্দিন, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, স্থপতি এহসান খানসহ প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, ভূমি মালিক এবং গ্রাহকরা উপস্থিত ছিলেন। স্থাপত্যশৈলী ও আধুনিক প্রযুক্তি:‘শান্তা পিনাকল’ শুধুমাত্র উচ্চতার কারণেই অনন্য নয়, বরং এটি আধুনিক নির্মাণশৈলী ও প্রযুক্তির এক অনন্য সমন্বয়। এটি বাংলাদেশের প্রথম ভবন যা পরিবেশবান্ধব স্থাপত্যের জন্য আন্তর্জাতিক ‘লিড প্ল্যাটিনাম’ (LEED Platinum) স্বীকৃতি পেয়েছে। সিঙ্গাপুরভিত্তিক বিখ্যাত ইঞ্জিনিয়ারিং প্রতিষ্ঠান ‘মেইনহার্ট’ (Meinhardt) এর সহায়তায় ভবনটির স্ট্রাকচারাল ডিজাইন এবং ভূমিকম্প প্রতিরোধক ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে। বিশেষ বৈশিষ্ট্যসমূহ: উন্নত লিফট ব্যবস্থা: ভবনটিতে রয়েছে ৮টি দ্রুতগামী লিফট, যা প্রতি সেকেন্ডে ৪ মিটার উচ্চতায় উঠতে সক্ষম। এটি দেশের দ্রুততম ভার্টিক্যাল ট্রান্সপোর্ট ব্যবস্থা। পরিবেশ ও সুরক্ষা: ভবনে ব্যবহৃত হয়েছে ৩৬ মিমি পুরুত্বের ডাবল গ্লেজড গ্লাস, যা তাপ ও শব্দ নিরোধক। এছাড়া এটি দেশের প্রথম ‘উইন্ড টানেল টেস্ট’ করা ভবন, যা প্রতিকূল আবহাওয়ায় এর স্থায়িত্ব নিশ্চিত করে। আইবিএমএস প্রযুক্তি: পুরো ভবনটি একটি ইন্টেলিজেন্ট বিল্ডিং ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (iBMS) দ্বারা পরিচালিত, যা সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা ও জ্বালানি সাশ্রয় নিশ্চিত করবে। অগ্নি নিরাপত্তা: আন্তর্জাতিক এনএফপিএ (NFPA) স্ট্যান্ডার্ড অনুসরণ করে এখানে অত্যাধুনিক অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা স্থাপন করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর দেশের রিয়েল এস্টেট খাতের সক্ষমতার এক বড় প্রমাণ। এটি শুধুমাত্র তেজগাঁও নয়, বরং পুরো ঢাকার বাণিজ্যিক পরিবেশকে বিশ্বমানের স্তরে নিয়ে যাবে। দেশের ইতিহাসে প্রথমবার অ্যালুমিনিয়াম ফর্মওয়ার্ক ব্যবহারের মাধ্যমে মাত্র সাত দিনে এক একটি তলার ছাদ ঢালাইয়ের রেকর্ড গড়ে এই প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। ঢাকার আকাশসীমায় নতুন এই ল্যান্ডমার্ক দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং আধুনিক নগরায়নের এক শক্তিশালী প্রতীক হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে।