বিশ্ব

ইউরেনিয়াম মজুত ঘিরে ইরানের কড়া নিরাপত্তা, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনায় নতুন জটিলতা

বিশেষ প্রতিবেদন প্রকাশ: জুন ১৪, ২০২৬ ০:২৬
ইউরেনিয়াম মজুত ঘিরে ইরানের কড়া নিরাপত্তা, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনায় নতুন জটিলতা
ইউরেনিয়াম মজুত ঘিরে ইরানের কড়া নিরাপত্তা, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনায় নতুন জটিলতা

সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে নিজেদের উচ্চমাত্রায় সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুত সুরক্ষিত রাখতে নজিরবিহীন কঠোর ব্যবস্থা নিয়েছে ইরান। যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দা তথ্য সম্পর্কে অবগত একাধিক সূত্রের বরাত দিয়ে মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএন জানিয়েছে, সম্ভাব্য হামলা বা জোরপূর্বক দখল ঠেকাতে ইরান ভূগর্ভস্থ স্থাপনাগুলোর প্রবেশপথ ধ্বংস এবং কিছু জায়গায় বিস্ফোরক মাইন বসানোর মতো পদক্ষেপ নিয়েছে।

 

সূত্রগুলোর দাবি, এসব পদক্ষেপের ফলে ইরানের সংরক্ষিত সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের কাছে পৌঁছানো এখন অনেক বেশি কঠিন হয়ে পড়েছে। এই ইউরেনিয়ামের মান এমন পর্যায়ে রয়েছে, যা তাত্ত্বিকভাবে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির সক্ষমতার কাছাকাছি বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করেন।

 

এক মাস আগেও পরিস্থিতি তুলনামূলকভাবে কম জটিল ছিল। সে সময় যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইঙ্গিত দিয়েছিলেন, প্রয়োজনে ইরানের ভেতরে সামরিক অভিযান চালিয়ে এই ইউরেনিয়াম জব্দ করা হতে পারে। তবে পরে সে পরিকল্পনা ঝুঁকিপূর্ণ বিবেচনায় বাতিল করা হয় বলে সিএনএনের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

 

বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে যে কূটনৈতিক আলোচনা চলছে, তাতে এই ইউরেনিয়াম ইস্যু বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। মার্কিন এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, সম্ভাব্য চুক্তির আওতায় ইরান তাদের উচ্চমাত্রায় সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম যুক্তরাষ্ট্রের কাছে হস্তান্তর করতে পারে, যা পরে ধ্বংস করে দেশটির বাইরে সরিয়ে নেওয়া হবে। তবে এই প্রক্রিয়া বাস্তবায়ন কীভাবে হবে এবং এর দায়িত্ব কে নেবে—তা নিয়ে এখনো দুই পক্ষের অবস্থান স্পষ্ট নয়।

 

এদিকে, একটি খসড়া চুক্তির বিষয়বস্তু ফাঁস হওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। তিনি জোর দিয়ে বলেছেন, ইরানের হাতে থাকা ইউরেনিয়াম নিয়ন্ত্রণে নেওয়াটাই এখন যুক্তরাষ্ট্রের প্রধান অগ্রাধিকার। একই সঙ্গে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি পুনরায় চালু করার বিষয়টিও আলোচনায় রয়েছে।

 

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ইরানের নতুন নিরাপত্তা ব্যবস্থা পুরো পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। কারণ, এখন এই ইউরেনিয়াম সরিয়ে নেওয়ার কাজ শুধু রাজনৈতিকভাবে নয়, প্রযুক্তিগতভাবেও অত্যন্ত কঠিন হয়ে উঠেছে। ভারী খননযন্ত্র ব্যবহার, মাইন অপসারণ এবং নিরাপদ পরিবহনের মতো জটিল ধাপ পার হতে হবে—যা সময়সাপেক্ষ ও ঝুঁকিপূর্ণ।

 

পারমাণবিক নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞ স্কট রোয়েকার সিএনএনকে বলেন, যদি এসব তথ্য সত্য হয়, তাহলে উচ্চমাত্রায় সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম উদ্ধার করা আগের চেয়ে অনেক বেশি কঠিন হয়ে পড়বে। তিনি ২০১৭ থেকে ২০২১ সাল পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল নিউক্লিয়ার সিকিউরিটি অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের একটি গুরুত্বপূর্ণ দপ্তরের দায়িত্বে ছিলেন।

 

বিশেষজ্ঞদের ধারণা, ইরানের ইস্পাহান অঞ্চলের একটি পারমাণবিক স্থাপনার ক্ষতিগ্রস্ত টানেলের ভেতর এই ইউরেনিয়ামের বড় অংশ রাখা হয়েছে। এছাড়া কিছু অংশ অন্যত্র সরিয়ে রাখা হয়েছে বলেও ধারণা করা হচ্ছে। ফলে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের জন্য পুরো মজুতের অবস্থান নিশ্চিত করা কঠিন হয়ে উঠতে পারে।

 

এ বিষয়ে জাতিসংঘে ইরানের প্রতিনিধিদলের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাৎক্ষণিক কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। একইভাবে হোয়াইট হাউসও আনুষ্ঠানিকভাবে মন্তব্য করতে রাজি হয়নি।

 

এর আগে মে মাসে ফক্স নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প দাবি করেছিলেন, যুক্তরাষ্ট্র গোয়েন্দা তথ্যের মাধ্যমে ইরানের এসব কার্যক্রম সম্পর্কে অবগত রয়েছে। তবে ইরান কখনো নজর এড়িয়ে এসব উপাদান সরিয়ে নিতে পারবে কি না—তা নিয়ে তিনি সন্দেহ প্রকাশ করেন।

 

এখনকার বাস্তবতায় বিশ্লেষকরা বলছেন, দ্রুত কোনো চুক্তি হলেও ইউরেনিয়াম অপসারণ ও ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচির ভবিষ্যৎ নিয়ে দীর্ঘমেয়াদি আলোচনা অব্যাহত থাকবে। বিশেষ করে, এই উপাদান সরাতে যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষায়িত মোবাইল পারমাণবিক ইউনিটের প্রয়োজন হতে পারে, যা টেনেসির ওক রিজ ন্যাশনাল ল্যাবরেটরির তত্ত্বাবধানে পরিচালিত হয়।

 

বিভিন্ন প্রতিবেদনে আরও জানা গেছে, যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষ আলোচক জ্যারেড কুশনার ও স্টিভ উইটকফ সম্প্রতি ওই গবেষণাগার পরিদর্শন করেছেন, যা এই প্রক্রিয়ার প্রস্তুতির ইঙ্গিত হিসেবেই দেখছেন অনেকে।

 

সব মিলিয়ে, ইরানের ইউরেনিয়াম মজুত ঘিরে নতুন নিরাপত্তা ব্যবস্থা শুধু সামরিক ঝুঁকিই বাড়ায়নি, বরং যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চলমান আলোচনাকেও আরও জটিল করে তুলেছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ইস্যুর সমাধান সহজ হবে না এবং এর প্রভাব দীর্ঘদিন আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে অনুভূত হবে।

জনপ্রিয় সংবাদ
যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

দেশের প্রথম ৪০ তলা ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর সম্পন্ন

বাংলাদেশের আবাসন শিল্পে এক নতুন ইতিহাস রচিত হলো। রাজধানীর তেজগাঁও শিল্প এলাকায় নির্মিত দেশের প্রথম ৪০ তলা বিশিষ্ট আকাশচুম্বী বাণিজ্যিক ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করেছে শান্তা হোল্ডিংস। ৫০০ ফুট উচ্চতার এই আইকনিক ভবনটি এখন দেশের সর্বোচ্চ সম্পন্ন হওয়া ইমারত। গত শনিবার (১৮ এপ্রিল) ভবনের ৪০তম তলায় আয়োজিত এক আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এটি হস্তান্তর করা হয়। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের চেয়ারম্যান খন্দকার মনির উদ্দিন, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, স্থপতি এহসান খানসহ প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, ভূমি মালিক এবং গ্রাহকরা উপস্থিত ছিলেন। স্থাপত্যশৈলী ও আধুনিক প্রযুক্তি:‘শান্তা পিনাকল’ শুধুমাত্র উচ্চতার কারণেই অনন্য নয়, বরং এটি আধুনিক নির্মাণশৈলী ও প্রযুক্তির এক অনন্য সমন্বয়। এটি বাংলাদেশের প্রথম ভবন যা পরিবেশবান্ধব স্থাপত্যের জন্য আন্তর্জাতিক ‘লিড প্ল্যাটিনাম’ (LEED Platinum) স্বীকৃতি পেয়েছে। সিঙ্গাপুরভিত্তিক বিখ্যাত ইঞ্জিনিয়ারিং প্রতিষ্ঠান ‘মেইনহার্ট’ (Meinhardt) এর সহায়তায় ভবনটির স্ট্রাকচারাল ডিজাইন এবং ভূমিকম্প প্রতিরোধক ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে। বিশেষ বৈশিষ্ট্যসমূহ: উন্নত লিফট ব্যবস্থা: ভবনটিতে রয়েছে ৮টি দ্রুতগামী লিফট, যা প্রতি সেকেন্ডে ৪ মিটার উচ্চতায় উঠতে সক্ষম। এটি দেশের দ্রুততম ভার্টিক্যাল ট্রান্সপোর্ট ব্যবস্থা। পরিবেশ ও সুরক্ষা: ভবনে ব্যবহৃত হয়েছে ৩৬ মিমি পুরুত্বের ডাবল গ্লেজড গ্লাস, যা তাপ ও শব্দ নিরোধক। এছাড়া এটি দেশের প্রথম ‘উইন্ড টানেল টেস্ট’ করা ভবন, যা প্রতিকূল আবহাওয়ায় এর স্থায়িত্ব নিশ্চিত করে। আইবিএমএস প্রযুক্তি: পুরো ভবনটি একটি ইন্টেলিজেন্ট বিল্ডিং ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (iBMS) দ্বারা পরিচালিত, যা সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা ও জ্বালানি সাশ্রয় নিশ্চিত করবে। অগ্নি নিরাপত্তা: আন্তর্জাতিক এনএফপিএ (NFPA) স্ট্যান্ডার্ড অনুসরণ করে এখানে অত্যাধুনিক অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা স্থাপন করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর দেশের রিয়েল এস্টেট খাতের সক্ষমতার এক বড় প্রমাণ। এটি শুধুমাত্র তেজগাঁও নয়, বরং পুরো ঢাকার বাণিজ্যিক পরিবেশকে বিশ্বমানের স্তরে নিয়ে যাবে। দেশের ইতিহাসে প্রথমবার অ্যালুমিনিয়াম ফর্মওয়ার্ক ব্যবহারের মাধ্যমে মাত্র সাত দিনে এক একটি তলার ছাদ ঢালাইয়ের রেকর্ড গড়ে এই প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। ঢাকার আকাশসীমায় নতুন এই ল্যান্ডমার্ক দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং আধুনিক নগরায়নের এক শক্তিশালী প্রতীক হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে।

৩০ মার্চ থেকে কার্যকর হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন ভিসা নিয়ম: যা জানা প্রয়োজন

যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা প্রত্যাশীদের জন্য কঠোর হচ্ছে নিয়মাবলী। আগামী ৩০ মার্চ থেকে কার্যকর হতে যাচ্ছে নতুন ভিসা রুলস, যেখানে আবেদনকারীদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের প্রোফাইল পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই বা স্ক্রিনিং করা হবে। মার্কিন প্রশাসনের এই নতুন পদক্ষেপে বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ভিসা প্রত্যাশীদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। নতুন এই নিয়ম মূলত অ-অভিবাসী (Non-immigrant) এবং অভিবাসী (Immigrant) উভয় ধরণের ভিসার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হতে পারে। বিশেষ করে যারা ট্যুরিস্ট ভিসা, স্টুডেন্ট ভিসা এবং কাজের সন্ধানে এইচ-১বি (H-1B) ভিসার জন্য আবেদন করবেন, তাদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের তথ্য প্রদান বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে। আবেদনকারীদের গত পাঁচ বছরের ব্যবহৃত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোর ইউজার আইডি বা হ্যান্ডেল নাম ফর্মে উল্লেখ করতে হবে। ফেসবুক, টুইটার (বর্তমানে এক্স), ইনস্টাগ্রাম এবং ইউটিউবের মতো জনপ্রিয় প্ল্যাটফর্মগুলো এই স্ক্রিনিংয়ের আওতায় থাকবে। তবে পাসওয়ার্ড দেওয়ার প্রয়োজন হবে না। মূলত আবেদনকারীর নিরাপত্তা ঝুঁকি এবং পূর্ববর্তী কোনো উসকানিমূলক বা সন্দেহজনক কর্মকাণ্ড আছে কি না, তা যাচাই করতেই এই পদক্ষেপ। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং জননিরাপত্তার স্বার্থেই এই স্ক্রিনিং প্রক্রিয়া জোরদার করা হয়েছে। কোনো ব্যক্তি যদি অতীতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে উগ্রবাদ বা আইনবিরোধী কোনো কাজে লিপ্ত থেকে থাকেন, তবে তার ভিসা আবেদন বাতিল হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হবে। ভিসা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ৩০ মার্চের পর যারা আবেদন করবেন, তাদের অবশ্যই গত ৫ বছরের ডিজিটাল ফুটপ্রিন্ট সম্পর্কে সতর্ক থাকতে হবে। কোনো ভুল তথ্য দিলে বা তথ্য গোপন করলে তা স্থায়ীভাবে ভিসা প্রত্যাখ্যাত হওয়ার কারণ হতে পারে। এছাড়া ইমেইল অ্যাড্রেস এবং ফোন নম্বর প্রদানের ক্ষেত্রেও অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এই নতুন নিয়ম চালুর ফলে ভিসা প্রক্রিয়াকরণে কিছুটা অতিরিক্ত সময় লাগতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তাই প্রয়োজনীয় কাগজপত্র এবং অনলাইন প্রোফাইল গুছিয়ে আবেদন করার পরামর্শ দিচ্ছে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো।

নাহিদা বৃষ্টির লাশ পাওয়া নিয়ে শঙ্কা কেন? দুই কারণ জানাল পুলিশ

যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডায় দক্ষিণ ফ্লোরিডা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইউএসএফ) নিখোঁজ দুই বাংলাদেশি শিক্ষার্থীর মর্মান্তিক পরিণতির খবর পাওয়া গেছে। নিখোঁজ জামিল লিমনের (২৭) মরদেহ উদ্ধার করা হলেও, পুলিশ ধারণা করছে নাহিদা বৃষ্টিকেও (২৭) নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়েছে। অভিযুক্ত ঘাতক ও লিমনের রুমমেট হিশাম আবুগারবিয়ার ফ্ল্যাটে ‘প্রচুর রক্ত’ পাওয়ার পর পুলিশ জানিয়েছে, বৃষ্টির মরদেহ উদ্ধার করা সম্ভবত আর কখনোই সম্ভব হবে না।   নিহত বৃষ্টির বড় ভাই জাহিদ হাসান প্রান্ত মার্কিন সংবাদমাধ্যম ‘১০ টাম্পা বে নিউজ’-কে জানান, শুক্রবার গভীর রাতে যুক্তরাষ্ট্রের তদন্তকারীরা বাংলাদেশে তাদের পরিবারের সাথে যোগাযোগ করেছেন। পুলিশ জানিয়েছে, লিমন ও হিশামের শেয়ার করা ফ্ল্যাটে যে পরিমাণ রক্ত পাওয়া গেছে, তা থেকে নিশ্চিত হওয়া গেছে যে বৃষ্টি আর বেঁচে নেই। পুলিশের আশঙ্কা, হত্যার পর মরদেহটি সম্ভবত ছিন্নবিচ্ছিন্ন বা টুকরো টুকরো করে ফেলা হয়েছে, যার ফলে এটি খুঁজে পাওয়া অত্যন্ত কঠিন। গত শুক্রবার সকাল সোয়া ৬টার দিকে হাওয়ার্ড ফ্র্যাঙ্কল্যান্ড ব্রিজের পাশ থেকে লিমনের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এর কয়েক ঘণ্টা পরেই সকাল ৯টার দিকে ইউএসএফ ক্যাম্পাসের কাছে লেক ফরেস্ট এলাকায় অভিযুক্ত হিশাম আবুগারবিয়ার বাড়িতে অভিযান চালায় হিলসবোরো কাউন্টি শেরিফ কার্যালয়। পুলিশ হিশামের বাড়িতে পৌঁছালে তিনি নিজেকে ঘরের ভেতর তালাবদ্ধ করে রাখেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশের বিশেষায়িত ইউনিট ‘সোয়াট’ (SWAT) তলব করা হয়। প্রায় ২০ মিনিটের রুদ্ধশ্বাস পরিস্থিতির পর হিশাম আত্মসমর্পণ করেন। তার বিরুদ্ধে পারিবারিক সহিংসতা, তথ্যপ্রমাণ নষ্ট করা এবং অবৈধভাবে মরদেহ সরানোর মতো ছয়টি গুরুতর অভিযোগ আনা হয়েছে।   বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, হিশাম ফিলিস্তিনি বংশোদ্ভূত মার্কিন নাগরিক। তিনি লিমনের রুমমেট হিসেবে একই ফ্ল্যাটে থাকতেন। অন্যদিকে, কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে পিএইচডি গবেষণারত নাহিদা বৃষ্টি গত ১৬ এপ্রিল থেকে নিখোঁজ ছিলেন। লিমনের সাথে তার আগে প্রেমের সম্পর্ক থাকলেও বর্তমানে ছিল না বলে জানিয়েছেন বৃষ্টির পরিবার।   তদন্তকারীরা লিমনের মৃত্যু নিশ্চিত করলেও বৃষ্টির নিখোঁজ রহস্য ও তাকে হত্যার নৃশংসতা এখন পুরো ফ্লোরিডা ও বাংলাদেশি কমিউনিটিতে শোকের ছায়া ফেলেছে।

Advertisement

বিশ্ব

View more
ইউরেনিয়াম মজুত ঘিরে ইরানের কড়া নিরাপত্তা, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনায় নতুন জটিলতা
ইউরেনিয়াম মজুত ঘিরে ইরানের কড়া নিরাপত্তা, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনায় নতুন জটিলতা

সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে নিজেদের উচ্চমাত্রায় সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুত সুরক্ষিত রাখতে নজিরবিহীন কঠোর ব্যবস্থা নিয়েছে ইরান। যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দা তথ্য সম্পর্কে অবগত একাধিক সূত্রের বরাত দিয়ে মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএন জানিয়েছে, সম্ভাব্য হামলা বা জোরপূর্বক দখল ঠেকাতে ইরান ভূগর্ভস্থ স্থাপনাগুলোর প্রবেশপথ ধ্বংস এবং কিছু জায়গায় বিস্ফোরক মাইন বসানোর মতো পদক্ষেপ নিয়েছে।   সূত্রগুলোর দাবি, এসব পদক্ষেপের ফলে ইরানের সংরক্ষিত সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের কাছে পৌঁছানো এখন অনেক বেশি কঠিন হয়ে পড়েছে। এই ইউরেনিয়ামের মান এমন পর্যায়ে রয়েছে, যা তাত্ত্বিকভাবে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির সক্ষমতার কাছাকাছি বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করেন।   এক মাস আগেও পরিস্থিতি তুলনামূলকভাবে কম জটিল ছিল। সে সময় যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইঙ্গিত দিয়েছিলেন, প্রয়োজনে ইরানের ভেতরে সামরিক অভিযান চালিয়ে এই ইউরেনিয়াম জব্দ করা হতে পারে। তবে পরে সে পরিকল্পনা ঝুঁকিপূর্ণ বিবেচনায় বাতিল করা হয় বলে সিএনএনের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।   বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে যে কূটনৈতিক আলোচনা চলছে, তাতে এই ইউরেনিয়াম ইস্যু বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। মার্কিন এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, সম্ভাব্য চুক্তির আওতায় ইরান তাদের উচ্চমাত্রায় সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম যুক্তরাষ্ট্রের কাছে হস্তান্তর করতে পারে, যা পরে ধ্বংস করে দেশটির বাইরে সরিয়ে নেওয়া হবে। তবে এই প্রক্রিয়া বাস্তবায়ন কীভাবে হবে এবং এর দায়িত্ব কে নেবে—তা নিয়ে এখনো দুই পক্ষের অবস্থান স্পষ্ট নয়।   এদিকে, একটি খসড়া চুক্তির বিষয়বস্তু ফাঁস হওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। তিনি জোর দিয়ে বলেছেন, ইরানের হাতে থাকা ইউরেনিয়াম নিয়ন্ত্রণে নেওয়াটাই এখন যুক্তরাষ্ট্রের প্রধান অগ্রাধিকার। একই সঙ্গে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি পুনরায় চালু করার বিষয়টিও আলোচনায় রয়েছে।   বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ইরানের নতুন নিরাপত্তা ব্যবস্থা পুরো পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। কারণ, এখন এই ইউরেনিয়াম সরিয়ে নেওয়ার কাজ শুধু রাজনৈতিকভাবে নয়, প্রযুক্তিগতভাবেও অত্যন্ত কঠিন হয়ে উঠেছে। ভারী খননযন্ত্র ব্যবহার, মাইন অপসারণ এবং নিরাপদ পরিবহনের মতো জটিল ধাপ পার হতে হবে—যা সময়সাপেক্ষ ও ঝুঁকিপূর্ণ।   পারমাণবিক নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞ স্কট রোয়েকার সিএনএনকে বলেন, যদি এসব তথ্য সত্য হয়, তাহলে উচ্চমাত্রায় সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম উদ্ধার করা আগের চেয়ে অনেক বেশি কঠিন হয়ে পড়বে। তিনি ২০১৭ থেকে ২০২১ সাল পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল নিউক্লিয়ার সিকিউরিটি অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের একটি গুরুত্বপূর্ণ দপ্তরের দায়িত্বে ছিলেন।   বিশেষজ্ঞদের ধারণা, ইরানের ইস্পাহান অঞ্চলের একটি পারমাণবিক স্থাপনার ক্ষতিগ্রস্ত টানেলের ভেতর এই ইউরেনিয়ামের বড় অংশ রাখা হয়েছে। এছাড়া কিছু অংশ অন্যত্র সরিয়ে রাখা হয়েছে বলেও ধারণা করা হচ্ছে। ফলে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের জন্য পুরো মজুতের অবস্থান নিশ্চিত করা কঠিন হয়ে উঠতে পারে।   এ বিষয়ে জাতিসংঘে ইরানের প্রতিনিধিদলের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাৎক্ষণিক কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। একইভাবে হোয়াইট হাউসও আনুষ্ঠানিকভাবে মন্তব্য করতে রাজি হয়নি।   এর আগে মে মাসে ফক্স নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প দাবি করেছিলেন, যুক্তরাষ্ট্র গোয়েন্দা তথ্যের মাধ্যমে ইরানের এসব কার্যক্রম সম্পর্কে অবগত রয়েছে। তবে ইরান কখনো নজর এড়িয়ে এসব উপাদান সরিয়ে নিতে পারবে কি না—তা নিয়ে তিনি সন্দেহ প্রকাশ করেন।   এখনকার বাস্তবতায় বিশ্লেষকরা বলছেন, দ্রুত কোনো চুক্তি হলেও ইউরেনিয়াম অপসারণ ও ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচির ভবিষ্যৎ নিয়ে দীর্ঘমেয়াদি আলোচনা অব্যাহত থাকবে। বিশেষ করে, এই উপাদান সরাতে যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষায়িত মোবাইল পারমাণবিক ইউনিটের প্রয়োজন হতে পারে, যা টেনেসির ওক রিজ ন্যাশনাল ল্যাবরেটরির তত্ত্বাবধানে পরিচালিত হয়।   বিভিন্ন প্রতিবেদনে আরও জানা গেছে, যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষ আলোচক জ্যারেড কুশনার ও স্টিভ উইটকফ সম্প্রতি ওই গবেষণাগার পরিদর্শন করেছেন, যা এই প্রক্রিয়ার প্রস্তুতির ইঙ্গিত হিসেবেই দেখছেন অনেকে।   সব মিলিয়ে, ইরানের ইউরেনিয়াম মজুত ঘিরে নতুন নিরাপত্তা ব্যবস্থা শুধু সামরিক ঝুঁকিই বাড়ায়নি, বরং যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চলমান আলোচনাকেও আরও জটিল করে তুলেছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ইস্যুর সমাধান সহজ হবে না এবং এর প্রভাব দীর্ঘদিন আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে অনুভূত হবে।

বিশেষ প্রতিবেদন প্রকাশ: জুন ১৪, ২০২৬ ০:২৬
ছবি: সংগৃহীত

‘গোয়েন্দা কচ্ছপ’ ও সেন্সরযুক্ত মাছ দিয়ে সমুদ্রপথে গুপ্তচরবৃত্তি, নতুন সতর্কতা চীনের

ছবি: সংগৃহীত

ক্যালিফোর্নিয়ার পানি সরবরাহ ব্যবস্থা হ্যাকের দাবি ইরানি হ্যাকারদের

ছবি: সংগৃহীত

ফিলিস্তিনিদের জন্য আরও ১০০ মিলিয়ন ডলারের মানবিক সহায়তা ঘোষণা কানাডার

মোজতবা খামেনি। ছবি: সংগৃহীত
ইরানে একসঙ্গে ১৩৯ মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামির সাজা মওকুফ করলেন মোজতবা খামেনি

ইরানের ইসলামি বিপ্লবের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ মোজতবা খামেনি দেশটির বিভিন্ন আদালতে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত ১৩৯ জন বন্দির সাজা হ্রাস ও মওকুফের একটি প্রস্তাবে আনুষ্ঠানিক অনুমোদন দিয়েছেন। ইরানের বিচার বিভাগের মুখপাত্র আসগর জাহাঙ্গীর সর্বোচ্চ নেতার এই যুগান্তকারী ক্ষমার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, সমকালীন ইরানের ইতিহাসে এই প্রথম একসঙ্গে এত বিপুল সংখ্যক মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামির ফাঁসির সাজা মওকুফ করে এমন সাধারণ ক্ষমা প্রদর্শন করা হলো।   বিচার বিভাগের মুখপাত্র এই ক্ষমার পেছনের প্রেক্ষাপট ব্যাখ্যা করে জানান, যেসব বন্দির সাজা মওকুফ করা হয়েছে তাদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যক্তিগত বাদী বা অভিযোগকারী ছিল না। একইসঙ্গে অতীতে দেশের জাতীয় নিরাপত্তা বিঘ্নিত করার মতো কোনো গুরুতর অপরাধের ইতিহাসও তাদের নেই।   মূলত কারাগারে বন্দি থাকা অবস্থায় এই আসামিদের উন্নত আচরণ, অতীত অপরাধের জন্য গভীর অনুশোচনা প্রকাশ এবং নিজেদের সংশোধনের ইতিবাচক প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যাওয়ার বিষয়টি পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে বিবেচনা করেই তাদের এই রাজক্ষমার যোগ্য বলে বিবেচনা করা হয়েছে।   ইরানের বিচারিক ব্যবস্থা ও সংবিধানের ১১০ নম্বর অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, বিচার বিভাগের প্রধানের সুপারিশ বা প্রস্তাবের ভিত্তিতে দেশটির সর্বোচ্চ নেতার যেকোনো সাজাপ্রাপ্ত আসামির সাজা সম্পূর্ণ মওকুফ বা হ্রাস করার বিশেষ সাংবিধানিক অধিকার রয়েছে। তবে দেশটির বিদ্যমান আইন অনুযায়ী, এই সাধারণ ক্ষমা নির্দিষ্ট কিছু গুরুতর অপরাধের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হয় না। বিশেষ করে রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে সশস্ত্র সংগ্রাম, সুসংগঠিত বা সশস্ত্র মাদক চোরাচালান, সশস্ত্র ডাকাতি, অস্ত্র পাচার, অপহরণ, ঘুষ এবং রাষ্ট্রীয় অর্থ আত্মসাতের মতো জঘন্য অপরাধে দণ্ডিত আসামিরা কোনোভাবেই এই ক্ষমার আওতায় আসেন না।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: জুন ১৩, ২০২৬ ১৫:৩
আমেরিকা বাংলা কোলাজ

ভারতে মুসলিম ফেরিওয়ালা ‘জয় শ্রীরাম’ না বলায় কুড়াল দিয়ে কুপিয়ে হত্যা

লেবাননের টাইর শহরে ইসরায়েলি হামলার পর ক্ষতিগ্রস্ত একটি ভবন পরিদর্শন করছেন এক ব্যক্তি। ছবি: EPA

দক্ষিণ লেবাননের ২০টি শহর ও গ্রামে বাসিন্দাদের সরিয়ে নিতে ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর নির্দেশ

ছবি: সংগৃহীত

উত্তর ওয়াজিরিস্তানে অভিযানে ২১ সশস্ত্র ব্যক্তি নিহতের দাবি পাকিস্তানের

ছবি: সংগৃহীত
সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম ভান্ডার আরও সুরক্ষিত করছে ইরান

পারমাণবিক কর্মসূচি ঘিরে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সম্ভাব্য সমঝোতা আলোচনার মধ্যেই নতুন একটি জটিলতার খবর সামনে এসেছে। মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএনের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত কয়েক সপ্তাহে ইরান তাদের উচ্চমাত্রায় সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের গোপন মজুতাগারগুলো আরও সুরক্ষিত করার পদক্ষেপ নিয়েছে। মার্কিন গোয়েন্দা তথ্য সম্পর্কে অবগত একাধিক সূত্রের বরাতে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, কিছু ভূগর্ভস্থ সুড়ঙ্গ বন্ধ করে দেওয়া হচ্ছে এবং প্রবেশপথগুলোকে এমনভাবে সুরক্ষিত করা হচ্ছে, যাতে সেখানে পৌঁছানো আরও কঠিন হয়ে পড়ে।   প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইরানের কাছে বর্তমানে যে উচ্চমাত্রায় সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম রয়েছে, তার একটি বড় অংশ পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির উপযোগী পর্যায়ের কাছাকাছি বলে পশ্চিমা দেশগুলোর ধারণা। এই মজুতের পরিমাণ প্রায় আধা টন বলে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে ইরান বরাবরই দাবি করে আসছে, তাদের পারমাণবিক কর্মসূচি সম্পূর্ণ শান্তিপূর্ণ এবং বেসামরিক উদ্দেশ্যে পরিচালিত।   সিএনএনের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কয়েক সপ্তাহ আগেও এই ভান্ডারগুলোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা বর্তমান অবস্থার মতো ছিল না। তবে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রকাশ্যে ইঙ্গিত দেওয়ার পর পরিস্থিতি বদলাতে শুরু করে। সে সময় ট্রাম্প বলেছিলেন, প্রয়োজন হলে যুক্তরাষ্ট্র সামরিক উপায়ে ওই ইউরেনিয়াম জব্দ করার বিষয় বিবেচনা করতে পারে।   বিশ্লেষকদের মতে, ইরানের সর্বশেষ পদক্ষেপ সম্ভাব্য যুক্তরাষ্ট্র-ইরান চুক্তি বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি করতে পারে। কারণ আলোচনায় থাকা প্রস্তাবগুলোর অন্যতম লক্ষ্য হচ্ছে সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম সরিয়ে নেওয়া, ধ্বংস করা অথবা আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষণের আওতায় আনা। এদিকে জাতিসংঘে ইরানের স্থায়ী মিশন এ বিষয়ে তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য করেনি। একইভাবে হোয়াইট হাউসও প্রকাশ্যে এ বিষয়ে কোনো প্রতিক্রিয়া জানায়নি।   চলমান কূটনৈতিক আলোচনায় পারমাণবিক কর্মসূচি অন্যতম প্রধান ইস্যু হয়ে উঠেছে। হরমুজ প্রণালি পুনরায় উন্মুক্ত করা এবং আঞ্চলিক উত্তেজনা কমানোর প্রচেষ্টার পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্র বারবার ইরানের সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম মজুতকে আলোচনার কেন্দ্রীয় বিষয় হিসেবে উল্লেখ করেছে। শুক্রবার মার্কিন প্রশাসনের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা সাংবাদিকদের জানান, দুই দেশ একটি সম্ভাব্য চুক্তির খুব কাছাকাছি অবস্থান করছে। তার দাবি, চুক্তি সম্পন্ন হলে ইরানকে তাদের সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম আন্তর্জাতিকভাবে গ্রহণযোগ্য ব্যবস্থার আওতায় আনতে হবে এবং তা অপসারণ বা নিষ্ক্রিয় করার প্রক্রিয়াও শুরু হবে।   তবে সম্ভাব্য চুক্তির শর্ত নিয়ে এখনো স্পষ্টতা নেই। যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের কর্মকর্তাদের বক্তব্যেও দেখা যাচ্ছে ভিন্নতা। এর মধ্যেই ইরানের একটি আধা-সরকারি সংবাদমাধ্যমে কথিত চুক্তির একটি খসড়া প্রকাশিত হওয়ার পর নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। পারমাণবিক নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞদের মতে, যদি প্রতিবেদনে বর্ণিত নিরাপত্তা ব্যবস্থা সত্যি হয়ে থাকে, তাহলে ওই ইউরেনিয়াম উদ্ধার বা স্থানান্তর করা আরও জটিল হয়ে উঠবে। যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল নিউক্লিয়ার সিকিউরিটি অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের সাবেক কর্মকর্তা স্কট রোকার সিএনএনকে বলেন, এমন পরিস্থিতি বাস্তব হলে মজুত উপাদান যাচাই ও অপসারণের কাজ আগের তুলনায় অনেক বেশি কঠিন হবে।   তিনি সতর্ক করে বলেন, ভবিষ্যতে কোনো চুক্তির অংশ হিসেবে যদি ইরানকে পুরো মজুতের হিসাব দিতে হয়, তাহলে সব উপাদান উদ্ধার করা সম্ভব কি না, সেটি বড় প্রশ্ন হয়ে দাঁড়াতে পারে। তার মতে, কোনো অংশ যদি অপ্রাপ্য বলে দাবি করা হয়, তাহলে তা নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে সন্দেহ থেকেই যাবে। আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের ধারণা, সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের বড় অংশ মধ্য ইরানের Isfahan Nuclear Technology Center এলাকায় সংরক্ষিত থাকতে পারে। যদিও এ বিষয়ে স্বাধীনভাবে যাচাই করা তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।   প্রতিবেদন অনুযায়ী, মে মাসে যুক্তরাষ্ট্র বিশেষ সামরিক অভিযানের মাধ্যমে এই উপাদান জব্দ করার একটি পরিকল্পনা বিবেচনা করেছিল। তবে সম্ভাব্য ঝুঁকি অত্যন্ত বেশি হওয়ায় সেই পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা হয়নি। বিশেষজ্ঞদের মতে, ভবিষ্যতে যদি কোনো সমঝোতা চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়, তাহলেও বাস্তবায়নের পর্যায়ে দীর্ঘ কারিগরি আলোচনা প্রয়োজন হবে। সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম শনাক্ত, যাচাই, অপসারণ এবং নিরাপদভাবে স্থানান্তরের মতো কাজ সম্পন্ন করতে আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষক, প্রযুক্তিগত বিশেষজ্ঞ এবং সংশ্লিষ্ট রাষ্ট্রগুলোর মধ্যে ঘনিষ্ঠ সমন্বয় প্রয়োজন হবে।   এ কারণে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে রাজনৈতিক সমঝোতা হলেও পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে চূড়ান্ত সমাধানে পৌঁছাতে আরও সময় লাগতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।  

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: জুন ১৩, ২০২৬ ৪:৫৪
ছবি: বিবিসি বাংলা

বিশ্বকাপের মঞ্চে তিন প্রতিবেশী, ফুটবলের উৎসবের আড়ালে যুক্তরাষ্ট্র-কানাডা-মেক্সিকোর টানাপোড়েন

ছবি: সংগৃহীত

প্রতিরক্ষা সম্পর্ক জোরদারে যৌথ যুদ্ধবিমান প্রশিক্ষণ শুরু করেছে মিশর ও তুরস্ক

ছবি: সংগৃহীত

ওমান উপসাগরে ভারতীয় নাবিকদের জাহাজে হামলার খবর ‘ভুয়া’, সব ক্রু নিরাপদ: ভারত

0 Comments