আমেরিকা

আমেরিকায় তীব্র দাবদাহে ২৫ জনের মৃত্যু, পূর্ব উপকূলে বন্যার পূর্বাভাস

নিউ ইয়র্ক প্রতিনিধি প্রকাশ: জুলাই ৬, ২০২৬ ১০:২৪
নিউ জার্সিসহ একাধিক রাজ্যে তাপপ্রবাহে মৃত্যুর মিছিল; এনডব্লিউএস-এর সতর্কতায় সোমবার বন্যার ঝুঁকিতে নিউইয়র্ক সিটি | ছবি: সংগৃহীত
নিউ জার্সিসহ একাধিক রাজ্যে তাপপ্রবাহে মৃত্যুর মিছিল; এনডব্লিউএস-এর সতর্কতায় সোমবার বন্যার ঝুঁকিতে নিউইয়র্ক সিটি | ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রে গত এক সপ্তাহ ধরে চলা তীব্র দাবদাহে অন্তত ২৫ জনের মৃত্যু হয়েছে। দেশটির পূর্ব উপকূল, দক্ষিণ-পূর্ব এবং দক্ষিণ-পশ্চিম অঞ্চলের প্রায় ৪ কোটি মানুষ বর্তমানে তীব্র গরমের সতর্কতার মধ্যে রয়েছেন। স্থানীয় কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে মার্কিন সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, নিউ জার্সিতে গরমে ২২ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। এছাড়া ইলিনয় অঙ্গরাজ্যে একজন এবং মিসিসিপিতে দুইজনের মৃত্যু হয়েছে।

 

তীব্র এই গরমের মধ্যেই দেশটির জাতীয় আবহাওয়া দপ্তর (এনডব্লিউএস) জানিয়েছে, বজ্রঝড় ও দমকা হাওয়ার কারণে সোমবারের মধ্যে পূর্ব উপকূলের বিভিন্ন এলাকায় আকস্মিক বন্যা দেখা দিতে পারে। নিউইয়র্ক সিটিসহ ডেলাওয়্যার থেকে কানেকটিকাট পর্যন্ত অঞ্চলের প্রায় ৩ কোটি ৪০ লাখ মানুষের জন্য বন্যার সতর্কতা জারি করা হয়েছে। এসব এলাকায় প্রায় ৩ ইঞ্চি পর্যন্ত বৃষ্টিপাত হতে পারে বলে পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে। ইতিমধ্যে তীব্র ঝড়ের কারণে পূর্বের বেশ কয়েকটি অঙ্গরাজ্যে লাখ লাখ মানুষ বিদ্যুৎহীন অবস্থায় রয়েছেন।

 

আবহাওয়া অফিস আরও জানায়, ফিলাডেলফিয়া, ওয়াশিংটন ডিসি, বাল্টিমোর এবং ফ্লোরিডার মতো শহরগুলোতে আর্দ্রতা ও বাতাসের তাপমাত্রার কারণে গরমের অনুভূতি ১০০ থেকে ১০৫ ডিগ্রি ফারেনহাইট (প্রায় ৩৮ থেকে ৪১ ডিগ্রি সেলসিয়াস) পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে। অতিরিক্ত গরমের কারণে কেবল নিউইয়র্ক সিটির হাসপাতালগুলোর জরুরি বিভাগেই ৩ ৭৮ জনেরও বেশি মানুষ চিকিৎসা নিয়েছেন।

 

চলতি সপ্তাহে পূর্ব উপকূলে তাপমাত্রা কিছুটা কমলেও ক্যালিফোর্নিয়া এবং অ্যারিজোনাসহ দেশের কিছু অংশে গরমের তীব্রতা বজায় থাকবে। অ্যারিজোনার ফিনিক্স ও টুসন শহরে তাপমাত্রা ১১৪ ডিগ্রি ফারেনহাইট (সাড়ে ৪৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস) পর্যন্ত উঠতে পারে বলে বিশেষ সতর্কতা জারি করা হয়েছে।

জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

আমেরিকা

View more
বাংলা, স্প্যানিশ ও ম্যান্ডারিনে কথা বলে নেটদুনিয়ায় প্রশংসায় ভাসছেন নিউইয়র্কের মেয়র
বাংলা, স্প্যানিশ ও ম্যান্ডারিনে কথা বলে নেটদুনিয়ায় প্রশংসায় ভাসছেন নিউইয়র্কের মেয়র

যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক শহরের উচ্চবিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের জন্য বিনামূল্যে ব্রডওয়ে থিয়েটারের টিকিট দেওয়ার একটি নতুন উদ্যোগের প্রচারণায় ইংরেজি ছাড়াও বাংলা, ম্যান্ডারিন এবং স্প্যানিশ ভাষায় কথা বলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক প্রশংসা কুড়াচ্ছেন শহরের মেয়র জোহরান মামদানি।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে পোস্ট করা ওই ভিডিওগুলোতে মেয়র মামদানি তিন ভাষায় সাবলীলভাবে কথা বলে এই বিশেষ কর্মসূচির কথা তুলে ধরেন। নিউইয়র্ক সিটি এবং থিয়েটার ডেভেলপমেন্ট ফান্ডের (টিডিএফ) যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত এই কর্মসূচির আওতায় একটি উন্মুক্ত লটারির মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের দুই হাজারেরও বেশি ফ্রি ব্রডওয়ে টিকিট দেওয়া হবে।   মেয়রের এমন ভিন্ন ভিন্ন ভাষায় সাবলীলভাবে কথা বলার দক্ষতা দেখে অবাক হয়েছেন সাধারণ নেটিজেনরা। সামাজিক মাধ্যমে তাঁর নিখুঁত উচ্চারণ এবং বাচনভঙ্গির ভূয়সী প্রশংসা করছেন অনেকেই। বাংলা ভিডিওটির নিচে একজন ব্যবহারকারী মন্তব্য করেন, "মাতৃভাষা বাংলা এমন একজন মানুষ হিসেবে বলছি, এই ব্যক্তি বাংলাদেশের বর্তমান জেন-জি প্রজন্মের চেয়েও ভালো বাংলা বলছেন।"   আরেকজন ব্যবহারকারী বাংলার শিল্প, সাহিত্য ও সংস্কৃতির ঐতিহ্যের কথা উল্লেখ করে তাঁর রাজনৈতিক প্রতিভাকে 'অতুলনীয়' বলে আখ্যা দিয়েছেন। একইভাবে, ম্যান্ডারিন ভাষায় তাঁর সতর্ক ও নিখুঁত উচ্চারণের প্রশংসাও করেছেন অনেকে, যেখানে একজন মন্তব্য করেছেন যে মেয়রের ম্যান্ডারিন তাঁর নিজের চেয়েও ভালো।   অবশ্য রাজনৈতিক প্রচারণায় মামদানির এই বহুমাত্রিক ভাষার ব্যবহার নতুন কোনো বিষয় নয়। আন্তর্জাতিক পরিসরেও মেয়রের এই দক্ষতার কথা বেশ আলোচিত। নিজের নির্বাচনী প্রচারণার সময়ও তিনি নিউইয়র্কের বৈচিত্র্যময় অভিবাসী সম্প্রদায়ের সঙ্গে সংযোগ স্থাপনে বাংলা, স্প্যানিশ ও উর্দু ভাষার ব্যবহার করেছিলেন।   মেয়র নির্বাচিত হওয়ার পরও তিনি ইংরেজি ছাড়াও অন্যান্য ভাষা ব্যবহার করে বিভিন্ন সম্প্রদায়ের মানুষের কাছে শহরের নানা উদ্যোগ পৌঁছে দেওয়ার সেই ধারা অব্যাহত রেখেছেন। ব্রডওয়ে টিকিট কর্মসূচির সর্বশেষ এই ভিডিওগুলো তাই কেবল লটারির খবরই দিচ্ছে না, বরং শহরের বৈচিত্র্যময় জনগোষ্ঠীর সাথে সম্পৃক্ত হওয়ার ক্ষেত্রে তাঁর অনন্য যোগাযোগ সক্ষমতাকেও নতুন করে সামনে এনেছে।

নিউ ইয়র্ক প্রতিনিধি প্রকাশ: আগস্ট ২০, ২০২৬ ১৯:২০
নিউইয়র্কে ডাকযোগে পাঠানো প্রায় ৫ লাখ ডলারের চেক চুরি, যুবক গ্রেপ্তার I ছবি: সংগৃহীত

নিউইয়র্কে ডাকযোগে পাঠানো প্রায় ৫ লাখ ডলারের চেক চুরি, যুবক গ্রেপ্তার

যুক্তরাষ্ট্রের সেরা পাবলিক স্কুলের তালিকায় শীর্ষ ১২-তে মিশিগানের ইন্টারন্যাশনাল একাডেমি

যুক্তরাষ্ট্রের সেরা পাবলিক স্কুলের তালিকায় শীর্ষ ১২-তে মিশিগানের ইন্টারন্যাশনাল একাডেমি

ক্যালিফোর্নিয়ায় ৭৩ বছরের বৃদ্ধাকে প্রকাশ্যে কু পিয়ে খু ন, গ্রেপ্তার ১৯ বছরের তরুণ

ক্যালিফোর্নিয়ায় ৭৩ বছরের বৃদ্ধাকে প্রকাশ্যে কু পিয়ে খু ন, গ্রেপ্তার ১৯ বছরের তরুণ

গ্রেপ্তারি পরোয়ানা নিয়ে বাড়িতে ঢোকার মুহূর্তে ধসে পড়ল বারান্দা, আহত ৭ কর্মকর্তা I ছবি: সংগৃহীত
গ্রেপ্তারি পরোয়ানা নিয়ে বাড়িতে ঢোকার মুহূর্তে ধসে পড়ল বারান্দা, আহত ৭ কর্মকর্তা

যুক্তরাষ্ট্রের মিসৌরি অঙ্গরাজ্যে এক যৌন অপরাধীর বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা কার্যকর করতে গিয়ে ভয়াবহ দুর্ঘটনার শিকার হয়েছেন মার্কিন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা। অভিযানের সময় দ্বিতীয় তলার কাঠের বারান্দা হঠাৎ ধসে পড়লে সেখানে থাকা নয়জন কর্মকর্তা কয়েক সেকেন্ডের মধ্যে নিচে পড়ে যান। পুরো ঘটনাটি সদস্যদের শরীরে থাকা ক্যামেরায় ধরা পড়ে। ঘটনাটি ঘটে ২১ জুলাই মিসৌরির হান্টসভিল শহরে। যুক্তরাষ্ট্রের মার্শাল সার্ভিসের সমন্বয়ে র‍্যান্ডলফ কাউন্টি শেরিফের কার্যালয়, মবারলি পুলিশ বিভাগ এবং নর্থ মিসৌরি ড্রাগ টাস্ক ফোর্সের সদস্যরা একটি গ্রেপ্তারি পরোয়ানা কার্যকর করতে ওই অ্যাপার্টমেন্টে যান। লক্ষ্য ছিল ২৬ বছর বয়সী এক ব্যক্তিকে আটক করা, যিনি যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধনের শর্ত মানছিলেন না বলে কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   প্রকাশিত শরীরের ক্যামেরার ভিডিওতে দেখা যায়, কয়েকজন কর্মকর্তা অস্ত্র হাতে নিয়ে দ্বিতীয় তলার দরজার ঠিক বাইরে সারিবদ্ধভাবে দাঁড়িয়ে ছিলেন। তারা দরজার দিকে এগিয়ে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। হঠাৎ তাদের পায়ের নিচের কাঠের কাঠামো ভেঙে নিচের দিকে ধসে পড়ে। মুহূর্তের মধ্যে একসঙ্গে কয়েকজন কর্মকর্তা নিচে পড়ে যান।   কর্তৃপক্ষের ভাষ্য অনুযায়ী, বারান্দাটি পাশের দিকে ভেঙে না গিয়ে অনেকটা সরাসরি নিচের দিকে ধসে পড়ে। ফলে কর্মকর্তাদের প্রতিক্রিয়া জানানোর বা নিজেদের সামলে নেওয়ার সময় প্রায় ছিল না। ঘটনাটিকে মিসৌরির পূর্বাঞ্চলের মার্কিন মার্শাল স্টিভেন লুইস অত্যন্ত গুরুতর পতন হিসেবে বর্ণনা করেছেন। দুর্ঘটনায় সাতজন কর্মকর্তা আহত হন। আহতদের মধ্যে চারজন ডেপুটি মার্কিন মার্শাল, নর্থ মিসৌরি ড্রাগ টাস্ক ফোর্সের দুই সদস্য এবং র‍্যান্ডলফ কাউন্টির একজন ডেপুটি ছিলেন। তাদের মধ্যে কয়েকজনের হাড় ভেঙেছে বলে কর্মকর্তারা জানিয়েছেন। আহত সবাইকে হাসপাতালে নেওয়া হলেও তাদের আঘাত প্রাণঘাতী ছিল না এবং পরে চিকিৎসা শেষে তাদের ছেড়ে দেওয়া হয়।   অভিযানের সময় কয়েকজন কর্মকর্তার হাতে আগ্নেয়াস্ত্র থাকলেও পড়ে যাওয়ার সময় কোনো অস্ত্র থেকে গুলি ছোড়া হয়নি। ভিডিওতে দুর্ঘটনার পর অন্য কর্মকর্তাদের দ্রুত আহত সহকর্মীদের সহায়তায় এগিয়ে আসতেও দেখা যায়।   যে ব্যক্তিকে আটক করতে অভিযানটি চালানো হয়েছিল, তিনি তখন অ্যাপার্টমেন্টে ছিলেন না। তবে কর্মকর্তাদের তথ্য অনুযায়ী, ওই দিনই তাকে পরে আটক করা হয়। তার বিরুদ্ধে যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধনের শর্ত না মানার অভিযোগে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি হয়েছিল।   প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, ওই ব্যক্তি আগে শিশু পর্নোগ্রাফি রাখার অপরাধে দণ্ডিত হয়েছিলেন এবং কারাগার থেকে মুক্তির পর মিসৌরি যৌন অপরাধী নিবন্ধনে তার নাম অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছিল। পরে তিনি তার তত্ত্বাবধানকারী কর্মকর্তার কাছে নিয়মিত রিপোর্ট না করায় তাকে গ্রেপ্তারের জন্য পরোয়ানা জারি করা হয়।   দুর্ঘটনার পর ভবনের দ্বিতীয় তলার কয়েকজন বাসিন্দাও সমস্যায় পড়েন। বারান্দার কাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় তারা নিজেদের বাসায় স্বাভাবিকভাবে যাতায়াত করতে পারছিলেন না। ভবনের মালিক তাদের অস্থায়ী থাকার ব্যবস্থা করতে সহায়তা করেছেন বলে স্থানীয় প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।   ঘটনার ভিডিও প্রকাশের পর এটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ে। কয়েক সেকেন্ডের ফুটেজেই দেখা যায়, একটি স্বাভাবিক গ্রেপ্তারি অভিযান কীভাবে হঠাৎ ভয়াবহ দুর্ঘটনায় পরিণত হয়। তবে কর্তৃপক্ষের প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, ঘটনায় কোনো কর্মকর্তা প্রাণ হারাননি এবং অভিযানের লক্ষ্য ব্যক্তিকেও পরে আটক করা হয়েছে।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: আগস্ট ২০, ২০২৬ ১৮:২৩
ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ সহযোগী নাটালিকে নিয়ে রোজি ও’ডনেলের মন্তব্যে তুমুল আলোচনা

ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ সহযোগী নাটালিকে নিয়ে রোজি ও’ডনেলের মন্তব্যে তুমুল আলোচনা

নিউইয়র্কের স্ট্যাচু অব লিবার্টির কাছে নৌকাডুবিতে মা ও পাঁচ মাসের শিশুর মৃ ত্যুর ঘটনায় চালক গ্রেপ্তার

নিউইয়র্কের স্ট্যাচু অব লিবার্টির কাছে নৌকাডুবিতে মা ও পাঁচ মাসের শিশুর মৃ ত্যুর ঘটনায় চালক গ্রেপ্তার

চাকরির প্রথম দিনেই আবর্জনার ট্রাক থেকে পড়ে মৃ ত্যু, চালকের আসনে ছিলেন বাবা

চাকরির প্রথম দিনেই আবর্জনার ট্রাক থেকে পড়ে মৃ ত্যু, চালকের আসনে ছিলেন বাবা

ভুক্তভোগী ড. হুদা শালাশ I কোলাজ: আমেরিকা বাংলা
যুক্তরাষ্ট্রে হিজাব পরা মুসলিম নারীকে পথ আটকে থুতু ও হ ত্যার হুমকি, ‘হেইট ক্রাইম’ তদন্তের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের কেন্টাকি ইউনিভার্সিটির (ইউকে) এক মুসলিম নারী কর্মকর্তাকে হেনস্তা, মুখে থুতু নিক্ষেপ এবং হত্যার হুমকির ঘটনায় তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। গত ১১ আগস্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের চিলড্রেনস হাসপাতাল থেকে কাজ শেষে ফেরার পথে ড. হুদা শালাশ নামের ওই নারী এই বিদ্বেষমূলক হামলার শিকার হন।   তিনি বিশ্ববিদ্যালয়টিতে সোশ্যাল ওয়ার্ক বা সমাজকর্ম বিভাগের একজন প্রিন্সিপাল হিসেবে কর্মরত। এই ন্যাক্কারজনক ঘটনার পর মুসলিমদের নাগরিক অধিকার রক্ষায় কাজ করা সংগঠন কাউন্সিল অন আমেরিকান-ইসলামিক রিলেশনস (কেয়ার) বুধবার এক বিবৃতিতে ঘটনাটিকে 'হেইট ক্রাইম' বা বিদ্বেষমূলক অপরাধ হিসেবে আমলে নিয়ে দ্রুত ও সুষ্ঠু তদন্তের জোর দাবি জানিয়েছে।   ভুক্তভোগী ড. হুদা শালাশ জানান, মাথায় হিজাব পরিহিত অবস্থায় তিনি যখন নিজের গাড়ির দিকে যাচ্ছিলেন, তখন হঠাৎ এক ব্যক্তি তার পথ আটকে দাঁড়ায়। কোনো কিছু বুঝে ওঠার আগেই ওই ব্যক্তি তার মুখে থুতু ছিটিয়ে দেয় এবং তাদের মতো মানুষদের প্রতি সে কেমন ধারণা পোষণ করে, তা নিয়ে বর্ণবাদী মন্তব্য করতে থাকে।   একপর্যায়ে ওই ব্যক্তি তাকে হত্যার হুমকি দেয়। ড. শালাশ সেখান থেকে দ্রুত সরে যাওয়ার চেষ্টা করলেও বুঝতে পারেন লোকটি তাকে অনুসরণ করছে। এ সময় কাছাকাছি থাকা একজন নির্মাণশ্রমিক নিজের জীবনের ঝুঁকি নিয়ে এগিয়ে আসেন এবং ড. শালাশকে ওই আক্রমণকারীর হাত থেকে নিরাপদে উদ্ধার করেন।   এই ঘটনার পর ড. শালাশ কেন্টাকি ইউনিভার্সিটি পুলিশ ডিপার্টমেন্ট (ইউকেপিডি) এবং লেক্সিংটন পুলিশের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে অভিযোগ দায়ের করেছেন। ইউকেপিডি এক ভয়েসমেইলের মাধ্যমে তাকে জানিয়েছে যে, তারা ইতোমধ্যে ওই আক্রমণকারীর পরিচয় নিশ্চিত করতে পেরেছে।   সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, অভিযুক্ত ব্যক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের 'মুভ-ইন টিম'-এর টি-শার্ট পরা থাকলেও পুলিশ নিশ্চিত করেছে যে সে ওই বিশ্ববিদ্যালয়ের কোনো কর্মী নয়। ড. শালাশ তার এই ভয়াবহ অভিজ্ঞতার কথা ফেসবুকে শেয়ার করার পর সারা দেশ থেকে অনেক মুসলিম নারী নিজেদের একই ধরনের তিক্ত অভিজ্ঞতার কথা জানিয়েছেন।   তবে এই কঠিন সময়ে স্থানীয় লেক্সিংটন কমিউনিটির মানুষ তাকে ব্যাপক মানসিক সমর্থন ও নিরাপত্তা জুগিয়েছে। বর্তমানে ড. শালাশ সেই সহৃদয়বান নির্মাণশ্রমিককে খুঁজছেন, যেন তাকে সামনাসামনি ব্যক্তিগতভাবে ধন্যবাদ জানাতে পারেন।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: আগস্ট ২০, ২০২৬ ১৫:৪২
স্মার্টফোন ছেড়ে বাস্তব জীবনে ফিরছেন নিউইয়র্কের তরুণরা

স্মার্টফোন ছেড়ে বাস্তব জীবনে ফিরছেন নিউইয়র্কের তরুণরা, ‘লুডাইট ক্লাব’-এ বাড়ছে সদস্য

৭৭ বছর বয়সী মাউঙ্ক বারাজোনের স্ত্রী ৪৬ বছর বয়সী কলম্বিয়ান নাগরিক গ্লোরিয়া বারাজোন

গ্রিন কার্ডের আবেদন চলার মধ্যেই স্ত্রী আইসের হাতে বন্দি, তবু ট্রাম্পের ৮০ শতাংশ কাজের প্রতি সমর্থন স্বামীর

নাটালির সঙ্গে ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠতা নিয়ে গুঞ্জন, মেলানিয়ার নীরবতায় জল্পনা

নাটালির সঙ্গে ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠতা নিয়ে গুঞ্জন, মেলানিয়ার নীরবতায় জল্পনা আরও তীব্র

0 Comments