ওয়াশিংটন

বন্দুক হামলায় আহত নারী জানালেন ভয়াবহ অভিজ্ঞতা
সিয়াটল বন্দুক হামলায় আহত নারী জানালেন ভয়াবহ অভিজ্ঞতা, ৪০ মিনিট পড়ে ছিলেন রক্তাক্ত অবস্থায়

যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটন অঙ্গরাজ্যের সিয়াটলে ভয়াবহ বন্দুক হামলায় আহত একমাত্র নারী ভুক্তভোগী নিজের বেঁচে ফেরার অভিজ্ঞতা জানিয়েছেন। তিনি বলেছেন, সাধারণ একটি মুহূর্ত কয়েক সেকেন্ডের মধ্যেই পরিণত হয়েছিল ভয়াবহ আতঙ্কে।   কেআইআরও ৭-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ওই নারী জানান, তিনি খাবার নেওয়ার জন্য লাইনে দাঁড়িয়ে ছিলেন। হঠাৎ করেই গুলির শব্দ শুনতে পান এবং কিছুক্ষণের মধ্যেই বুঝতে পারেন তিনি গুলিবিদ্ধ হয়েছেন।   তিনি বলেন, গুলিবিদ্ধ হওয়ার পর তিনি মাটিতে পড়ে যান। উদ্ধারকারী চিকিৎসাকর্মীরা তাকে খুঁজে পাওয়ার আগে প্রায় ৪০ মিনিট তিনি সেখানেই পড়ে ছিলেন।   হামলার সেই মুহূর্তের কথা স্মরণ করে তিনি জানান, চারপাশে তখন আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। মানুষ নিরাপদ আশ্রয়ের জন্য ছোটাছুটি করছিল। কী ঘটছে তা বোঝার আগেই পুরো পরিস্থিতি ভয়াবহ রূপ নেয়।   পরে জরুরি চিকিৎসাকর্মীরা তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যান। বর্তমানে তিনি চিকিৎসা শেষে সুস্থ হওয়ার পথে থাকলেও ওই ঘটনার মানসিক প্রভাব এখনো কাটিয়ে উঠতে পারেননি বলে জানান।   সিয়াটল বন্দুক হামলায় একাধিক মানুষ হতাহত হন। ঘটনার পর পুলিশ অভিযান চালিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং হামলার কারণ ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিষয়ে তদন্ত শুরু করে।   যুক্তরাষ্ট্রে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বন্দুক সহিংসতার ঘটনা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। বিশেষ করে জনসমাগমপূর্ণ স্থানে এ ধরনের হামলা সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে।

নীলুফা নিশাত জুলাই ২৮, ২০২৬ ১৪:০
হঠাৎ গুলির শব্দে আতঙ্ক! উৎসবস্থলে ছুটোছুটি
হঠাৎ গুলির শব্দে আতঙ্ক! উৎসবস্থলে ছুটোছুটি, সিয়াটেলে বন্দুক হামলায় হতাহত একাধিক

যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটন অঙ্গরাজ্যের সিয়াটেল শহরে একটি উৎসব চলাকালে হঠাৎ গুলির শব্দে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। মুহূর্তের মধ্যে উৎসবে থাকা মানুষজন নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে ছোটাছুটি শুরু করেন। এ ঘটনায় একাধিক ব্যক্তি গুলিবিদ্ধ হয়েছেন বলে জানিয়েছে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ।   সিয়াটেল সেন্টারে আয়োজিত একটি জনপ্রিয় খাদ্য উৎসব চলার সময় এই ঘটনা ঘটে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, কোনো কিছু বুঝে ওঠার আগেই তারা একের পর এক গুলির শব্দ শুনতে পান। এরপর উৎসবস্থলে থাকা মানুষজন আতঙ্কিত হয়ে দৌড়াতে শুরু করেন।   ঘটনার পরপরই আইনশৃঙ্খলা বাহিনী পুরো এলাকা ঘিরে ফেলে এবং উদ্ধার কার্যক্রম শুরু করে। আহতদের চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে। তবে হামলার উদ্দেশ্য, হামলাকারীর পরিচয় এবং ঘটনার বিস্তারিত কারণ জানতে তদন্ত চালাচ্ছে পুলিশ।   উৎসবের মতো জনসমাগমপূর্ণ স্থানে এমন বন্দুক হামলার ঘটনায় স্থানীয় বাসিন্দা ও দর্শনার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। সিয়াটেল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করতে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।

নীলুফা নিশাত জুলাই ২৬, ২০২৬ ১৪:০
ওয়াশিংটন পোস্টের জরিপ অনুযায়ী মার্কিন সুপ্রিম কোর্টের ওপর আমেরিকানদের আস্থা সর্বনিম্ন পর্যায়ে। ছবি: আনাদোলু এজেন্সি
‘আইন নয়, ট্রাম্পের নীতিতেই চলে আদালত’, মার্কিন সুপ্রিম কোর্টের ওপর আস্থা হারিয়েছেন অর্ধেকের বেশি মানুষ

একটি সাম্প্রতিক জরিপ অনুসারে, মার্কিন সুপ্রিম কোর্টের ওপর আস্থা নড়বড়ে রয়ে গেছে। অর্ধেকেরও বেশি আমেরিকান আদালতের প্রতি প্রতিকূল দৃষ্টিভঙ্গি পোষণ করে এবং ৪৬% বিশ্বাস করে যে এর সিদ্ধান্তগুলো আইনের চেয়ে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নীতি এবং মতাদর্শ দ্বারা বেশি আকৃতি পাচ্ছে।   শনিবার প্রকাশিত ওয়াশিংটন পোস্টের একটি জরিপ অনুসারে, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে আদালতের সর্বনিম্ন অনুমোদনের রেটিংগুলোর মধ্যে এটি অন্যতম, যা আমেরিকানদের এর সিদ্ধান্তগুলোকে রাজনৈতিকভাবে অনুপ্রাণিত হিসেবে দেখার একটি বিস্তৃত প্রবণতাকে তুলে ধরে।   জুন মাসে শেষ হওয়া মেয়াদে, আদালত রাষ্ট্রপতির ক্ষমতা সম্প্রসারণ করে এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে আইনগতভাবে বসবাসকারী শত হাজার অভিবাসীকে নির্বাসন করার অনুমতি দিয়ে ট্রাম্প প্রশাসনের এজেন্ডাকে শক্তিশালী করেছিল।   যাইহোক, এটি অন্যান্য মূল নীতিগুলোতে প্রশাসনের বিরুদ্ধেও রায় দিয়েছে, যার মধ্যে জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব শেষ করার এবং ব্যাপক শুল্ক আরোপ করার প্রচেষ্টাগুলোকে অবরুদ্ধ করা অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।   নতুন জরিপে আরও দেখা গেছে যে প্রায় ৬৭% রিপাবলিকান আদালতকে অনুমোদন করে, যেখানে প্রায় ৭৫% ডেমোক্র্যাট অননুমোদন করে।   যে ৪৬% উত্তরদাতা বিশ্বাস করেন যে বিচারপতিরা তাদের রায় রাজনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গির ওপর ভিত্তি করে দেন, তাদের মধ্যে ৬৬% বলেছেন যে বিচারপতিরা প্রাথমিকভাবে ট্রাম্প প্রশাসনের মতাদর্শের সাথে সারিবদ্ধ হন।   এই ফলাফলগুলো পূর্ববর্তী জরিপগুলোর সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ যা আদালতের প্রতি হ্রাসমান আস্থা এবং এর রায়গুলো রাজনৈতিকভাবে অনুপ্রাণিত হওয়ার একটি ক্রমবর্ধমান ধারণাকে দেখায়।   ২০২৪ সালের একটি ফক্স নিউজ জরিপে দেখা গেছে যে ১০ জনের মধ্যে আটজনেরও বেশি ভোটার বিশ্বাস করেন যে বিচারপতিদের সিদ্ধান্তগুলোতে পক্ষপাতিত্ব অন্তত কিছু ভূমিকা পালন করেছে, যা ডেমোক্র্যাট এবং রিপাবলিকান উভয়ই ভাগ করেছে।   সূত্র: আনাদোলু এজেন্সি

তাবাস্সুম জুলাই ১৮, ২০২৬ ১৪:০
Gov. Bob Ferguson ছবি: সংগৃহীত
গভর্নরের বেতন প্রস্তাবকে ‘অপমানজনক’ আখ্যা দিয়ে ক্ষোভে কর্মবিরতির ডাক ৫০ হাজার সরকারি কর্মচারীর

যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটন অঙ্গরাজ্যে বেতন বৃদ্ধি নিয়ে সরকার ও সরকারি কর্মচারীদের মধ্যে বিরোধ তীব্র আকার ধারণ করেছে। গভর্নর বব ফার্গুসনের প্রশাসনের বেতন প্রস্তাবকে ‘অপমানজনক’ আখ্যা দিয়ে আগামী ৩১ আগস্ট কর্মবিরতির ঘোষণা দিয়েছে ওয়াশিংটন ফেডারেশন অব স্টেট এমপ্লয়িজ ।   ৫০ হাজারের বেশি সরকারি ও পাবলিক সেক্টরের কর্মচারীর প্রতিনিধিত্বকারী এই ইউনিয়ন বর্তমানে ২০২৭-২০২৯ মেয়াদের নতুন চুক্তি নিয়ে সরকারের সঙ্গে আলোচনা করছে। তবে ইউনিয়নের অভিযোগ, রাজ্যের বাজেট সংকটের অজুহাত দেখিয়ে গভর্নরের আলোচক দল কার্যত বেতন বৃদ্ধি না দেওয়ার অবস্থান নিয়েছে।   ইউনিয়নের এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, তারা কঠিন আলোচনা আশা করেছিল, কিন্তু সরকারের প্রস্তাব ছিল ‘অপমানজনক’ এবং কর্মীদের প্রতি নিরুৎসাহজনক। তাদের দাবি, নতুন চুক্তিতে কর্মীদের পারিশ্রমিক বাড়ানোর জন্য কোনো অর্থ বরাদ্দ রাখার ইঙ্গিতও দেওয়া হয়নি।   ইউনিয়নের সভাপতি মাইক ইয়েসট্রামস্কি বলেন, জীবনযাত্রার ব্যয় ও মূল্যস্ফীতি দ্রুত বাড়লেও সরকারি কর্মীদের ক্রয়ক্ষমতা কমে যাচ্ছে। এছাড়া চুক্তির অন্যান্য বিষয়েও সরকারের পক্ষ থেকে দীর্ঘসূত্রিতা ও বিকল্প প্রস্তাব না দেওয়ায় কর্মীদের মধ্যে অসন্তোষ বেড়েছে।   অন্যদিকে, ওয়াশিংটন অঙ্গরাজ্যের অফিস অব ফিন্যান্সিয়াল ম্যানেজমেন্ট জানিয়েছে, চলমান আলোচনার নির্দিষ্ট বিষয় প্রকাশ করা সম্ভব নয়। তবে নির্ধারিত ১ অক্টোবরের মধ্যে সমঝোতায় পৌঁছাতে তারা ইউনিয়নের সঙ্গে কাজ করে যাচ্ছে।   উল্লেখ্য, ২০২৫-২০২৭ মেয়াদের আগের চুক্তিতে সরকারি কর্মীরা দুই বছরে ৫ শতাংশ জীবনযাত্রার ব্যয়ভিত্তিক বেতন বৃদ্ধি পেয়েছিলেন। তবে ইউনিয়নের দাবি, বর্তমান উচ্চ মূল্যস্ফীতির কারণে সেই বৃদ্ধি কর্মীদের প্রকৃত আয় ধরে রাখতে যথেষ্ট নয়।   সমঝোতা না হলে ৩১ আগস্টের কর্মবিরতি রাজ্যের বিভিন্ন সরকারি সেবা ও প্রশাসনিক কার্যক্রমে প্রভাব ফেলতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

বায়জিদ হাসান জুলাই ১৭, ২০২৬ ১৪:০
মুসলিম ভোটারদের নিয়ে আশঙ্কার কথা সাক্ষাৎকারে স্বীকার করলেন মার্কিন কংগ্রেস প্রার্থী মেলিসা চৌধুরী। ছবি: সংগৃহীত
মুসলিম ভোটাররা অসন্তুষ্ট হতে পারেন এই ভয়ে সমকামীদের পক্ষে মুখ খুলছেন না মার্কিন ডেমোক্র্যাট প্রার্থী!

যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটন অঙ্গরাজ্যের কংগ্রেস নির্বাচনে অংশ নেওয়া ডেমোক্র্যাট প্রার্থী মেলিসা চৌধুরী এক সাক্ষাৎকারে স্বীকার করেছেন যে, মুসলিম ভোটাররা অসন্তুষ্ট হতে পারেন এই ভয়ে তিনি সমকামী (এলজিবিটিকিউ+) অধিকারের পক্ষে প্রকাশ্যে কোনো কথা বলছেন না। অথচ তার নির্বাচনী এলাকায় মুসলিম ভোটারদের সংখ্যা একেবারেই কম।   ৩৪ বছর বয়সী মেলিসা চৌধুরী ২০২৪ সালের নির্বাচনে হেরে যাওয়ার পর ওয়াশিংটনের নবম নির্বাচনী এলাকা থেকে দ্বিতীয়বারের মতো কংগ্রেস প্রার্থী হয়েছেন। তিনি হিজাব পরিধান করেন এবং তার স্বামী মোহাম্মদ জাহিদ চৌধুরী একজন মুসলিম সেনা সদস্য।   সম্প্রতি সিয়াটলভিত্তিক স্থানীয় সংবাদপত্র 'দ্য স্ট্রেঞ্জার'-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে মেলিসাকে জিজ্ঞেস করা হয়েছিল, তিনি নিজেকে সমকামী অধিকারের সমর্থক দাবি করলেও তার নির্বাচনী ওয়েবসাইটে এই বিষয়ে কেন কোনো কিছু উল্লেখ করেননি? জবাবে মেলিসা বলেন, "কারণ দুর্ভাগ্যবশত অনেক মুসলিম এই বিষয়টি ওভাবে (ইতিবাচকভাবে) দেখেন না।"   ২০২৫ সালের পিউ রিসার্চ সেন্টারের এক প্রতিবেদন অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের ৪১ শতাংশ মুসলিম মনে করেন সমকামিতা সমাজে গ্রহণযোগ্য হওয়া উচিত। এদিকে মেলিসার নির্বাচনী এলাকার বেশিরভাগ অংশ যে সিয়াটলে অবস্থিত, সেখানকার মোট জনসংখ্যার মাত্র ২ শতাংশ মুসলিম। বিপরীতে সিয়াটলে প্রাপ্তবয়স্কদের প্রায় ১৭ শতাংশ মানুষ নিজেদের সমকামী বা রূপান্তরকামী হিসেবে পরিচয় দেন।   এই সাক্ষাৎকারের পর সমকামী অধিকার কর্মীদের তীব্র সমালোচনার মুখে পড়েছেন মেলিসা। ওয়াশিংটন স্টোনওয়াল ডেমোক্র্যাটসের সভাপতি অ্যান্ড্রু আশিওফু ফেসবুকে লেখেন, "আমাদের সম্প্রদায় ফেলে দেওয়ার মতো নয় এবং সমকামী অধিকার ঐচ্ছিক কিছু নয়। ডেমোক্র্যাট দলের সমর্থন পেতে চাওয়া যেকোনো প্রার্থীর জন্য এটি মৌলিক বিষয়।"   এর জবাবে মেলিসা ফেসবুকে দাবি করেন, সমকামীরা তার কাছে নিরাপদ। তিনি আরও জানান যে তার নিজের বোনও সমকামী সম্পর্কে আছেন এবং তার একজন প্রতিবন্ধী লেসবিয়ান বন্ধুও রয়েছে।   তবে এই জবাবের প্রতিক্রিয়া জানিয়ে অ্যান্ড্রু আশিওফু বলেন, "তিনি অন্যদের ওপর দোষ চাপাচ্ছেন এবং বলছেন তার সমকামী বন্ধু আছে। এটা কোনো বর্ণবাদীর ‘আমার কৃষ্ণাঙ্গ বন্ধু আছে’ বলার মতোই বিষয়।"

তাবাস্সুম জুলাই ১৪, ২০২৬ ১৪:০
ছেলের মৃত্যুতে ভেঙে পড়া পরিবার
ছেলের মৃত্যুতে ভেঙে পড়া পরিবার, শেষ বিদায়ের সব খরচ বহন করলেন অজ্ঞাত দাতা

ওয়াশিংটন অঙ্গরাজ্যের বেলিংহামের ছয় বছর বয়সী কিলিয়ান গনজালেসের মৃত্যুতে শোকাহত পরিবারের পাশে দাঁড়িয়েছেন এক অজ্ঞাত দাতা। সমুদ্রসৈকতে ড্রিফটউডের ভারী গুঁড়ির আঘাতে প্রাণ হারানো শিশুটির শেষকৃত্যের সম্পূর্ণ ব্যয় বহনের ঘোষণা দিয়েছেন তিনি।    কিলিয়ানের মা সোনজা ম্যাককার্টনি জানান, অজ্ঞাত এই সহায়তা তাদের জন্য গভীর স্বস্তির। তিনি বলেন, “কিলিয়ান সবাইকে জড়িয়ে ধরতে ভালোবাসত, সবার মুখে হাসি ফোটাত। সে ছিল ভীষণ মেধাবী এবং সবকিছু শিখতে আগ্রহী একটি শিশু।”    গত ৮ জুলাই বেলিংহামের লিটল স্কোয়ালিকাম বিচে বন্ধুদের তৈরি একটি ড্রিফটউডের কাঠামোর পাশে খেলছিল কিলিয়ান। এ সময় একটি বড় কাঠের গুঁড়ি ভেঙে তার মাথায় পড়ে। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে প্রথমে স্থানীয় হাসপাতালে এবং পরে এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে সিয়াটলের হারবারভিউ মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। অস্ত্রোপচারের পর কয়েক দিন নিবিড় পরিচর্যায় থাকার পর রোববার তার মৃত্যু হয়।    কিলিয়ান সম্প্রতি অ্যাল্ডারউড এলিমেন্টারি স্কুলে কিন্ডারগার্টেন শেষ করেছিল। দুর্ঘটনার সময় তার বড় বোন ঘটনাস্থলে ছিল। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, এই মর্মান্তিক ঘটনার মানসিক অভিঘাত কাটিয়ে উঠতে তাকে কাউন্সেলিং সেবা দেওয়া হবে।    পরিবারের এক বন্ধুর উদ্যোগে প্রথমে চিকিৎসা ব্যয় মেটাতে একটি তহবিল সংগ্রহ অভিযান শুরু হয়েছিল। এখন কিলিয়ানের মৃত্যুর পর সেই অর্থ চিকিৎসা-সংক্রান্ত বকেয়া বিল এবং পরিবারের অন্যান্য জরুরি প্রয়োজনে ব্যয় করা হবে। কারণ শেষকৃত্যের পুরো ব্যয় বহনের দায়িত্ব নিয়েছেন অজ্ঞাত সেই দাতা।    কিলিয়ানের বাবা মার্কোস গনজালেস বলেন, তারা এখনও জানেন না কে এই সহায়তা করেছেন। তবে তিনি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে বলেন, “এটি আমাদের কাছে অনেক বড় সহায়তা। যিনি পরিচয় গোপন রেখে এই কাজ করেছেন, তাকে আন্তরিক ধন্যবাদ।”    ঘটনাটি বেলিংহামজুড়ে গভীর শোকের সৃষ্টি করেছে। স্থানীয় স্কুল কর্তৃপক্ষ শিক্ষার্থী ও পরিবারের জন্য মানসিক সহায়তার ব্যবস্থা করেছে। একই সঙ্গে সমুদ্রসৈকতে ড্রিফটউড দিয়ে তৈরি অস্থায়ী কাঠামোর নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।

নীলুফা নিশাত জুলাই ১৩, ২০২৬ ১৪:০
সোমবার মার্কিন সফরে যাচ্ছেন ইরাকের প্রধানমন্ত্রী আলি আল-জাইদি; জ্বালানি খাতে একাধিক সমঝোতা স্মারক সইয়ের সম্ভাবনা। ছবি: সংগৃহীত
ওয়াশিংটনে যাচ্ছেন ইরাকের প্রধানমন্ত্রী, তেল-গ্যাস খাতে বড় চুক্তির সম্ভাবনা

ইরাকের প্রধানমন্ত্রী আলি আল-জাইদি সোমবার যুক্তরাষ্ট্র সফরে যাচ্ছেন। সফরে তেল ও গ্যাস খাতে একাধিক সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) সই হওয়ার পাশাপাশি অর্থনীতি, বাণিজ্য, বিনিয়োগ এবং নিরাপত্তা সহযোগিতা জোরদারের বিষয়ে আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে।   ইরাক সরকারের মুখপাত্র হায়দার আল-আবুদি জানিয়েছেন, তেল ও গ্যাস খাতে যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন কোম্পানিকে ইরাকে বিনিয়োগের সুযোগ করে দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। এর মাধ্যমে দেশটির তেল উৎপাদন সক্ষমতা বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হবে।   তিনি আরও বলেন, সম্ভাব্য চুক্তিগুলোর একটি গুরুত্বপূর্ণ লক্ষ্য হলো হরমুজ প্রণালির ওপর ইরাকের নির্ভরতা কমিয়ে বিকল্প জ্বালানি রপ্তানি পথ তৈরি করা। সাম্প্রতিক যুক্তরাষ্ট্র–ইরান সংঘাতের সময় হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল ব্যাহত হওয়ায় ইরাকসহ উপসাগরীয় তেল রপ্তানিকারক দেশগুলোর রাজস্বে নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে।   সফরে ইরাকের সশস্ত্র বাহিনীর সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং দুই দেশের নিরাপত্তা সহযোগিতাও আলোচ্যসূচিতে থাকবে বলে জানিয়েছে বাগদাদ। ইরাক দীর্ঘদিন ধরেই প্রতিবেশী ইরান এবং যুক্তরাষ্ট্র—দুই দেশের সঙ্গে ভারসাম্যপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রাখার চেষ্টা করছে। তবে ইরাকে মার্কিন সেনা উপস্থিতি, ইরান-সমর্থিত সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর প্রভাব এবং বাগদাদের তেহরানের সঙ্গে সম্পর্ক নিয়ে দুই দেশের মধ্যে বিভিন্ন সময়ে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে।   এপ্রিল মাসে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে মনোনয়নের পর আলি আল-জাইদিকে অভিনন্দন জানিয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দুই দেশের মধ্যে আরও ঘনিষ্ঠ সহযোগিতার আশা প্রকাশ করেছিলেন।

তাবাস্সুম জুলাই ১১, ২০২৬ ১৪:০
হাইওয়ের ওয়ার্ক জোনে গতি শনাক্তকরণ থ্রিডি লেজার ক্যামেরা প্রদর্শন করছেন শন কলিন্স | ছবি: দ্য সিয়াটল টাইমস
আমেরিকায় হাইওয়েতে গতি কমানোর সতর্কবার্তা শেষ, এবার জরিমানা ১২৫ ডলার

যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটন অঙ্গরাজ্যের হাইওয়েগুলোর নির্মাণাধীন এলাকায় অতিরিক্ত গতিতে গাড়ি চালানোর দিন শেষ হতে চলেছে। গত এক বছর ধরে চালকদের কেবল সতর্কবার্তা দেওয়া হলেও, এখন থেকে নিয়ম ভাঙলেই গুণতে হবে মোটা অঙ্কের জরিমানা। ১ জুলাই থেকে এই নতুন নিয়ম কার্যকর করা হয়েছে বলে জানিয়েছে রাজ্য পরিবহন বিভাগ।   পরিবহন বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, গত বছরের এপ্রিল মাস থেকে এ পর্যন্ত হাইওয়েগুলোতে নতুন প্রযুক্তির গতি মাপার ক্যামেরার মাধ্যমে ৮৫ হাজারেরও বেশি নিয়ম লঙ্ঘনের ঘটনা শনাক্ত করা হয়েছে। এর মধ্যে প্রায় ৭৭ হাজার চালককে প্রথমবার নিয়ম ভাঙার কারণে কোনো জরিমানা ছাড়াই কেবল সতর্কবার্তা দিয়ে ছেড়ে দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু এখন থেকে প্রথমবার নিয়ম ভাঙলেই ১২৫ ডলার জরিমানা করা হবে এবং পরবর্তী প্রতিবারের জন্য চালকদের ২৪৮ ডলার করে গুণতে হবে।   হাইওয়ের এই ক্যামেরাগুলো মূলত বিশেষ ট্রেলারে বসানো ত্রিমাত্রিক লেজার ক্যামেরা, যা নির্মাণাধীন এলাকায় গাড়ির গতিসীমা পর্যবেক্ষণ করে। গাড়ি নির্দিষ্ট সীমার চেয়ে বেশি গতিতে চললে এই ক্যামেরাগুলো স্বয়ংক্রিয়ভাবে গাড়ির এবং লাইসেন্স প্লেটের ছবি তুলে নেয়। তবে সুরক্ষার স্বার্থে চালকের মুখমণ্ডলের কোনো ছবি এটি ধারণ করে না।   ছবি সংগ্রহের পর সেগুলো পুলিশ কর্মকর্তাদের কাছে পাঠানো হয়। তারা ছবিগুলো পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে পর্যালোচনা করে ৩০ দিনের মধ্যে চালকের ঠিকানায় জরিমানার নোটিশ পাঠিয়ে দেন। এই ক্যামেরাগুলো কেবল তখনই চালু রাখা হয় যখন রাস্তায় শ্রমিকরা কাজ করেন। চালকদের সতর্ক করার জন্য নির্দিষ্ট দূরত্বে সাইনবোর্ডও লাগানো থাকে।   কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য হলো হাইওয়ের ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় শ্রমিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা। বিগত বছরগুলোতে এই নির্মাণাধীন এলাকাগুলোতে অসতর্ক ড্রাইভিংয়ের কারণে বহু প্রাণঘাতী দুর্ঘটনা ঘটেছে। তথ্য অনুযায়ী, গত বছরও এমন এলাকায় ১ হাজার ৫০০টিরও বেশি দুর্ঘটনা রেকর্ড করা হয়েছে। নতুন এই ক্যামেরা ব্যবহারের ফলে গুরুত্বপূর্ণ হাইওয়েগুলোতে গতিসীমা লঙ্ঘনের হার ৬০ শতাংশ থেকে কমে ৩০ শতাংশে নেমে এসেছে।   রাজ্য সরকার এই ক্যামেরা কার্যক্রম আরও বাড়ানোর পরিকল্পনা করছে এবং আগামী বছর নাগাদ অন্তত ১৫টি ক্যামেরা বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে সচল করা হবে। এই কার্যক্রম থেকে আগামী ছয় বছরে ১৩৮ মিলিয়ন ডলার রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে, যা মূলত সড়ক নিরাপত্তা ও টহল কার্যক্রমে ব্যয় করা হবে। ২০৩০ সাল পর্যন্ত এই প্রকল্প চালু রাখার আইনি অনুমোদন রয়েছে।

তাবাস্সুম জুলাই ৪, ২০২৬ ১৪:০
যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে স্বাধীনতা দিবসের নানা আয়োজন বাতিল I ছবি: সংগৃহীত
তীব্র গরমে থমকে গেল উদযাপন, যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে স্বাধীনতা দিবসের নানা আয়োজন বাতিল

যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে চলমান ভয়ংকর তাপপ্রবাহের কারণে দেশটির ২৫০তম স্বাধীনতা দিবস (৪ জুলাই) উপলক্ষে আয়োজিত বেশ কয়েকটি মেগা অনুষ্ঠান বাতিল বা স্থগিত করতে বাধ্য হয়েছে কর্তৃপক্ষ। রাজধানী ওয়াশিংটন ডিসি থেকে শুরু করে ফিলাডেলফিয়া, নিউ জার্সি, মেরিল্যান্ড, পেনসিলভানিয়া এবং কলোরাডোর মতো একাধিক অঙ্গরাজ্যে জনসমাগমপূর্ণ এসব উৎসব প্রচণ্ড গরমের কারণে বাতিল করা হয়েছে।   ওয়াশিংটন ডিসিতে যুক্তরাষ্ট্রের ২৫০ বছর পূর্তি উপলক্ষে আয়োজিত 'গ্রেট আমেরিকান স্টেট ফেয়ার' তীব্র গরমের কারণে কয়েক ঘণ্টার জন্য বন্ধ রাখতে হয়েছিল। ডিসি ফায়ার অ্যান্ড ইএমএস বিভাগ জানিয়েছে, রেকর্ড তাপমাত্রায় মেলায় আসা দর্শনার্থীদের অনেকেই গরমজনিত অসুস্থতায় ভোগেন, যাদের মধ্যে অন্তত ১১ জনকে অ্যাম্বুলেন্সে করে হাসপাতালে নেওয়া হয়।   পরে পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হলে বিকেল ৫টায় মেলাটি পুনরায় খুলে দেওয়া হয়। একই কারণে ডিসিতে স্বাধীনতা দিবসের একটি সকালের প্যারেড বাতিল করা হয় এবং ক্যাপিটল ফোর্থ কনসার্টে দর্শকদের প্রবেশের সময় কয়েক ঘণ্টা পিছিয়ে দেওয়া হয়। অন্যদিকে, ফিলাডেলফিয়ায় স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে আয়োজিত বহুল প্রতীক্ষিত 'স্যালুট টু ইন্ডিপেনডেন্স সেমিকুইনসেন্টেনিয়াল প্যারেড' পুরোপুরি বাতিল করা হয়েছে। আয়োজক প্রতিষ্ঠান 'ওয়াওয়া ওয়েলকাম আমেরিকা'র প্রধান নির্বাহী মাইকেল ডেলবেনে জানান, এমন বিপজ্জনক আবহাওয়ায় এত বড় আয়োজন করা অসম্ভব, কারণ তাঁদের কাছে অংশগ্রহণকারী ও দর্শকদের নিরাপত্তাই সবার আগে।   আবহাওয়াবিদদের মতে, যুক্তরাষ্ট্রের পূর্বাঞ্চল ও মধ্য-পশ্চিমাঞ্চলে প্রায় ১৬ কোটি ৫০ লাখ মানুষ চরম তাপমাত্রার মধ্যে দিন পার করছেন। ফিলাডেলফিয়া ও ওয়াশিংটন ডিসিতে তাপমাত্রা প্রায় ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াস ছুঁয়েছে, যা বাতাসে আর্দ্রতার কারণে প্রায় ৪৪ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মতো অনুভূত হচ্ছে। নিউইয়র্ক সিটিতেও তাপমাত্রা ৩৮ ডিগ্রি সেলসিয়াসে পৌঁছেছে, যা ২০১২ সালের পর শহরটির সর্বোচ্চ তাপমাত্রা।   নিউইয়র্কের মেয়র জোহরান মামদানি বর্তমান আবহাওয়াকে সাধারণ মানুষের জন্য অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ বলে সতর্ক করেছেন। তবে এমন চরম বৈরী আবহাওয়ার মধ্যেও প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প শনিবার ওয়াশিংটন ডিসিতে খোলা আকাশের নিচে দীর্ঘ ভাষণ দেওয়ার সিদ্ধান্তে অটল রয়েছেন।   আবহাওয়া দপ্তরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, সাপ্তাহিক ছুটির দিনগুলোতেও যুক্তরাষ্ট্রের পূর্বাঞ্চলে এই তীব্র গরম অব্যাহত থাকবে। সেই সঙ্গে উত্তরাঞ্চল, মধ্য-পশ্চিম ও গ্রেট লেকস এলাকায় বজ্রঝড়, শিলাবৃষ্টি, আকস্মিক বন্যা এমনকি টর্নেডোরও আশঙ্কা রয়েছে। জলবায়ু বিশেষজ্ঞদের মতে, মানবসৃষ্ট জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবেই বিশ্বজুড়ে তাপপ্রবাহ আগের তুলনায় অনেক বেশি ঘন ঘন, তীব্র এবং দীর্ঘস্থায়ী হচ্ছে।   শিল্পবিপ্লবের পর থেকে পৃথিবীর গড় তাপমাত্রা ইতোমধ্যেই প্রায় ১ দশমিক ১ ডিগ্রি সেলসিয়াস বেড়েছে। গ্রিনহাউস গ্যাসের নিঃসরণ জরুরি ভিত্তিতে কমানো না গেলে ভবিষ্যতে এমন বিপজ্জনক তাপপ্রবাহ আরও বৃদ্ধি পাবে বলে সতর্ক করেছেন তাঁরা।

ইসতিয়াক আহমেদ জুলাই ৪, ২০২৬ ১৪:০
তীব্র তাপপ্রবাহের কারণে ওয়াশিংটনের ন্যাশনাল মলে সাময়িকভাবে বন্ধ করা হয় ‘গ্রেট আমেরিকান স্টেট ফেয়ার’। ছবি: সংগৃহীত
তীব্র তাপপ্রবাহে সাময়িক বন্ধ ওয়াশিংটনের ন্যাশনাল মলের স্টেট ফেয়ার

যুক্তরাষ্ট্রের রাজধানী ওয়াশিংটনে তীব্র তাপপ্রবাহ ও অস্বাভাবিক আর্দ্রতার কারণে স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে ন্যাশনাল মলে আয়োজিত গ্রেট আমেরিকান স্টেট ফেয়ার শুক্রবার কয়েক ঘণ্টার জন্য সাময়িকভাবে বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। তবে প্রতিকূল আবহাওয়ার মধ্যেও স্বাধীনতা দিবসের ঐতিহ্যবাহী ‘এ ক্যাপিটল ফোর্থ’ কনসার্ট এবং অন্যান্য প্রধান আয়োজন নির্ধারিত সময়েই অনুষ্ঠিত হবে বলে জানিয়েছেন আয়োজকরা।   শুক্রবার স্থানীয় সময় দুপুর ১টার কিছু পর মেলায় উপস্থিত দর্শনার্থীদের নিরাপত্তার স্বার্থে নিকটস্থ নির্গমনপথ দিয়ে বেরিয়ে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়। আয়োজকদের এক বিবৃতিতে বলা হয়, অতিথি, স্বেচ্ছাসেবক, শিল্পী, বিক্রেতা ও কর্মীদের নিরাপত্তাই তাদের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার। আবহাওয়ার উন্নতি হলে বিকেল ৫টায় পুনরায় মেলা খুলে দেওয়ার পরিকল্পনা করা হয়।   যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল ওয়েদার সার্ভিস (NWS) ওয়াশিংটন মহানগর এলাকায় শুক্রবার ও শনিবার সকাল ১০টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত চরম তাপপ্রবাহের সতর্কতা জারি করেছে। সংস্থাটির পূর্বাভাস অনুযায়ী, তাপমাত্রা ও আর্দ্রতার কারণে অনুভূত তাপমাত্রা সর্বোচ্চ ১১৫ ডিগ্রি ফারেনহাইট পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে, যা স্বাস্থ্যের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ।   প্রতিকূল আবহাওয়া মোকাবিলায় মেলা প্রাঙ্গণে অতিরিক্ত পানির স্টেশন, বরফ এবং শীতলীকরণের ব্যবস্থা করা হয়েছে। দর্শনার্থীদের পর্যাপ্ত পানি পান, হালকা রঙের পোশাক পরা এবং প্রয়োজনে ছায়াযুক্ত বা শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত স্থানে বিশ্রাম নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে শিশু, প্রবীণ, গর্ভবতী নারী এবং দীর্ঘমেয়াদি অসুস্থ ব্যক্তিদের বাড়তি সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে।   তীব্র গরমের মধ্যেও যুক্তরাষ্ট্রের স্বাধীনতা দিবসের অন্যতম ঐতিহ্যবাহী অনুষ্ঠান ‘এ ক্যাপিটল ফোর্থ’ নির্ধারিত সময়ে অনুষ্ঠিত হবে। স্থানীয় সময় রাত ৮টায় যুক্তরাষ্ট্রের ক্যাপিটল ভবনের পশ্চিম প্রাঙ্গণে কনসার্ট শুরু হবে। দর্শনার্থীদের দীর্ঘ সময় রোদের মধ্যে অপেক্ষা করতে না হয়, সে জন্য প্রবেশপথ সন্ধ্যা ৭টায় খোলা হবে।   ইউএস ক্যাপিটল পুলিশ সবাইকে পর্যাপ্ত পানি সঙ্গে আনার আহ্বান জানিয়েছে। পাশাপাশি নিরাপত্তা তল্লাশি দ্রুত শেষ করতে অপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্র না আনারও অনুরোধ করা হয়েছে।   ১৯৮০ সাল থেকে প্রতিবছর আয়োজিত হয়ে আসছে ‘এ ক্যাপিটল ফোর্থ’। কেবল ২০২০ ও ২০২১ সালে কোভিড-১৯ মহামারির কারণে অনুষ্ঠানটি আগাম ধারণ করে সম্প্রচার করা হয়েছিল। এবারও অনুষ্ঠানটি পিবিএস টেলিভিশন এবং অনলাইনে সরাসরি সম্প্রচার করা হবে। যারা সরাসরি উপস্থিত হতে পারবেন না, তারা ঘরে বসেই অনুষ্ঠানটি দেখতে পারবেন বলে জানিয়েছেন আয়োজকরা।   শনিবারের ‘ফ্রিডম ২৫০’ উদযাপনেও আবহাওয়ার প্রভাব পড়তে পারে। আবহাওয়াবিদদের মতে, অতিরিক্ত তাপ ও আর্দ্রতার কারণে বিকেল ও সন্ধ্যায় বিচ্ছিন্নভাবে শক্তিশালী বজ্রঝড়ের সম্ভাবনা রয়েছে। তবে আয়োজকদের দাবি, নিরাপত্তা ও জরুরি সেবার সঙ্গে সমন্বয় করে সব ধরনের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে, যাতে যুক্তরাষ্ট্রের স্বাধীনতার ২৫০ বছর পূর্তির অনুষ্ঠান নিরাপদভাবে সম্পন্ন করা যায়।   তাপপ্রবাহের কারণে ওয়াশিংটন মনুমেন্ট গ্রাউন্ডস-এর প্রবেশপথও নির্ধারিত সময়ের পরিবর্তে বিকেল ৫টায় খোলা হবে। অনুষ্ঠানের পুরো এলাকায় অতিরিক্ত পানির স্টেশন, শীতলীকরণ কেন্দ্র, কৃত্রিম জলকণা ছিটানোর ব্যবস্থা, ছায়াযুক্ত বিশ্রামস্থল এবং চিকিৎসা সহায়তা কেন্দ্র রাখা হয়েছে। স্বাধীনতা দিবসের সবচেয়ে আকর্ষণীয় আয়োজনগুলোর একটি, রাত ১০টা ৩০ মিনিটের আতশবাজি প্রদর্শনীও পরিকল্পনা অনুযায়ী অনুষ্ঠিত হবে। লিংকন মেমোরিয়াল রিফ্লেক্টিং পুল, পোটোম্যাক নদীর আটটি ভাসমান প্ল্যাটফর্ম এবং ওয়েস্ট পোটোম্যাক পার্ক থেকে প্রায় ৮ লাখ ৫০ হাজার আতশবাজি প্রদর্শন করা হবে।   এদিকে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প রাত ৯টা ৪৫ মিনিটে ভাষণ দেবেন বলে জানানো হয়েছে। এর আগে তিনি রসিকতা করে বলেছিলেন, প্রচণ্ড গরমের মধ্যেও তিনি দীর্ঘ সময় বক্তব্য দেবেন, যাতে তার শারীরিক সক্ষমতা নিয়ে সমালোচনাকারীদের জবাব দেওয়া যায়।   আয়োজকরা জানিয়েছেন, আবহাওয়া পরিস্থিতি সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। প্রয়োজন হলে দর্শনার্থীদের নিরাপত্তাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে তাৎক্ষণিক সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।   সূত্র: National Weather Service, US Capitol Police, Freedom 250, New York Post

মোহাম্মদ ইব্রাহিম জুলাই ৩, ২০২৬ ১৪:০
আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প | ছবি: সংগৃহীত
হাউজিং বিলে সই করলেন না ট্রাম্প, নতুন শর্ত দেওয়ায় মার্কিন রাজনীতিতে তোলপাড়

আমেরিকার সাধারণ মানুষের নাগালের মধ্যে আবাসন খরচ নামিয়ে আনার লক্ষ্যে আনা একটি যুগান্তকারী 'হাউজিং বিল' বা আবাসন বিলে শেষ মুহূর্তে সই করা বাতিল করেছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। কংগ্রেসের উভয় কক্ষে বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠতায় পাস হওয়া সত্ত্বেও এই দ্বিপক্ষীয় (বাইপার্টিসান) বিলটির চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠান ট্রাম্প স্থগিত করেছেন নিজের একটি নতুন রাজনৈতিক দাবির কারণে। তিনি সাফ জানিয়েছেন, আইনপ্রণেতারা যতক্ষণ না 'সেভ আমেরিকা অ্যাক্ট' (SAVE America Act) নামের একটি নতুন নির্বাচনী সংস্কার বিল পাস করছেন, ততক্ষণ তিনি এই আবাসন আইনে সই করবেন না।   ক্যাপিটল হিলে '২১স্ট সেঞ্চুরি রোড টু হাউজিং অ্যাক্ট' নামের এই ঐতিহাসিক বিলটির স্বাক্ষর অনুষ্ঠান হওয়ার কথা ছিল। গত কয়েক দশকের মধ্যে এটিকে সবচেয়ে বড় ও বিস্তৃত আবাসন আইন হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে, যার মূল লক্ষ্য ছিল ঘরবাড়ির সরবরাহ বাড়িয়ে সাধারণ মানুষের জন্য আবাসন খরচ কমিয়ে আনা। বিশেষ করে বড় বড় প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীরা যাতে ঢালাওভাবে একক পরিবারের জন্য তৈরি বাড়িগুলো (সিঙ্গেল ফ্যামিলি হোম) কিনে কৃত্রিম সংকট তৈরি করতে না পারে, সেই লাগাম টানার কথা বলা হয়েছে এই আইনে। তবে ট্রাম্প সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লেখেন, "সেভ আমেরিকা অ্যাক্ট পাস না হওয়া পর্যন্ত আজকের হাউজিং বিল স্বাক্ষর অনুষ্ঠান বাতিল করা হলো, যাকে আমি জাতীয় জরুরি অবস্থা মনে করি।"   মার্কিন সংবিধান অনুযায়ী, কংগ্রেসের উভয় কক্ষে কোনো বিল পাস হওয়ার পর প্রেসিডেন্ট যদি ১০ দিনের মধ্যে (রবিবার বাদে) তাতে সই বা ভেটো না দেন, তবে সেটি স্বয়ংক্রিয়ভাবেই আইনে পরিণত হয়। হাউস স্পিকার মাইক জনসন সাংবাদিকদের জানিয়েছেন, ট্রাম্প মূলত এই ১০ দিনের সময়সীমাকে কাজে লাগিয়ে 'সেভ আমেরিকা অ্যাক্ট' পাসের জন্য চাপ সৃষ্টি করছেন এবং ওই সময়ের শেষ দিকে গিয়েই তিনি আবাসন বিলে সই করবেন। আসন্ন মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে এই আবাসন বিলটিকে রিপাবলিকান ও ডেমোক্র্যাট উভয় পক্ষই এক বড় সাফল্য হিসেবে ভোটারদের সামনে তুলে ধরতে চেয়েছিল, কারণ সাধারণ মানুষের কাছে এখন আবাসন খরচ এক বড় উদ্বেগের নাম।   এদিকে ট্রাম্প এবং তাঁর ঘনিষ্ঠ সহযোগীরা সিনেটে যে 'সেভ আমেরিকা অ্যাক্ট' পাসের দাবি জানাচ্ছেন, তার উদ্দেশ্য হলো ভোটার নিবন্ধনে কঠোর কড়াকড়ি আরোপ করা। তবে সিনেটের রিপাবলিকান নেতারাই বারবার বলছেন যে, এই নির্বাচনী বিলটি পাস করার মতো পর্যাপ্ত ভোট তাঁদের হাতে নেই। অন্যদিক ডেমোক্র্যাট নেতা ও সিনেট মাইনরিটি লিডার চাক শুমার ট্রাম্পের এই সিদ্ধান্তের তীব্র সমালোচনা করে বলেছেন, "আমেরিকার সাধারণ মানুষের উপকারে আসতে পারে এমন একটি বিরল দ্বিপক্ষীয় অর্জন থেকে ট্রাম্প এভাবে সই না করে পালিয়ে যাচ্ছেন। স্বাক্ষর অনুষ্ঠানের মাত্র দুই ঘণ্টা আগে এটি বাতিল করা সম্পূর্ণ হাস্যকর।"   প্রস্তাবিত আবাসন বিলে যা যা রয়েছে: বিনিয়োগকারীদের ওপর নিষেধাজ্ঞা: বড় প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের (যাদের ১,০০০-এর বেশি বাড়ি আছে) একক পরিবারের জন্য তৈরি বাড়ি কেনায় কড়া সীমাবদ্ধতা আনা। বাণিজ্যিক ভবন রূপান্তর: পরিত্যক্ত বা খালি বাণিজ্যিক ভবনগুলোকে সাধারণ মানুষের সাশ্রয়ী আবাসন উপযোগী করে গড়ে তুলতে স্থানীয় সরকারকে বিশেষ তহবিল দেওয়া। regulatory সহজীকরণ: আবাসন নির্মাণ শিল্পকে গতিশীল করতে পরিবেশগত ছাড়পত্র ও অন্যান্য আইনি জটিলতা বা আমলাতান্ত্রিক বাধা দূর করা। ফ্যাক্টরি-বিল্ট হোম: কারখানায় তৈরি আধুনিক বাড়ি (ফ্যাক্টরি-বিল্ট হোম) নির্মাণের জন্য আরও বেশি সরকারি অনুদান উন্মুক্ত করা।   জ্যাক্সনভিল, ডালাস কিংবা ফিনিক্সের মতো আমেরিকার বড় বড় শহরগুলোতে বর্তমানে ২০ শতাংশেরও বেশি একক পরিবারের বাড়ি জায়ান্ট ইনভেস্টর বা প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের দখলে চলে গেছে। এর ফলে সাধারণ মার্কিন নাগরিকেরা বাড়ি কিনতে গিয়ে অসম প্রতিযোগিতার মুখে পড়ছেন এবং প্রোপার্টির দাম আকাশচুম্বী হচ্ছে। এই লাগামহীন আবাসন সংকট থেকে সাধারণ মধ্যবিত্তদের বাঁচাতে এই বিলটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ছিল, যা এখন ট্রাম্পের নতুন রাজনৈতিক শর্তের বেড়াজালে আটকে গেল।

তাবাস্সুম জুন ২৩, ২০২৬ ১৪:০
ছবিঃ এ এফ পি
ট্রাম্পের শান্তি চুক্তির পথে বড় বাধা, ইউরেনিয়াম ও হরমুজ ইস্যুতে অনড় ইরান

ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে একটি ঐতিহাসিক শান্তি চুক্তির খসড়া প্রস্তুত বলে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করলেও ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ এবং হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখার বিষয়ে অনড় অবস্থান জানিয়েছে ইরান। মার্কিন মিত্র ইসরায়েল দাবি করেছে, ট্রাম্প তাদের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন যে চুক্তির আওতায় ইরানের সমস্ত সমৃদ্ধ পারমাণবিক উপাদান জব্দ বা সরিয়ে নেওয়া হবে।   তবে ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদসংস্থা 'ইরনা' (IRNA) সাফ জানিয়ে দিয়েছে, এই বিষয়টি তাদের আলোচনার টেবিলেই নেই। মূলত গত ২৮ ফেব্রুয়ারি মার্কিন-ইসরায়েলি হামলার পর দুই দেশের মধ্যে যে যুদ্ধ শুরু হয়েছিল, তা অবসানে গত এপ্রিল থেকে একটি ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতি চলছে। তবে স্থায়ী সমঝোতার ক্ষেত্রে এই দুটি প্রধান শর্ত এখন বড় অন্তরায় হয়ে দাঁড়িয়েছে।   ইরানের সংবাদমাধ্যম 'মেহর নিউজ'-এর মাধ্যমে ফাঁস হওয়া খসড়া চুক্তির তথ্য অনুযায়ী, প্রস্তাবিত এই চুক্তিতে লেবাননসহ সমস্ত ফ্রন্টে যুদ্ধাবসান, ইরানের অবরুদ্ধ ২৪ বিলিয়ন ডলারের সম্পদ খালাস, তেল বিক্রির ওপর নিষেধাজ্ঞা স্থগিত এবং ইরানি বন্দরের ওপর থেকে মার্কিন নৌ অবরোধ প্রত্যাহারের কথা বলা হয়েছে। এছাড়া যুদ্ধবিধ্বস্ত ইরানের পুনর্গঠনের জন্য অন্তত ৩০০ বিলিয়ন ডলার ক্ষতিপূরণ দাবি করেছে তেহরান।   তবে ইরান স্পষ্ট করে জানিয়েছে, তাদের অবরুদ্ধ তহবিলের অর্ধেক মুক্তি এবং তেল নিষেধাজ্ঞা স্থগিত না হওয়া পর্যন্ত চূড়ান্ত আলোচনা শুরু হবে না। একই সাথে বিশ্ব জ্বালানি সরবরাহের প্রধান রুট হরমুজ প্রণালিতে নিজেদের সামরিক নিয়ন্ত্রণ ও একচ্ছত্র আধিপত্য বজায় রাখার বিষয়েও জোর দিয়েছে তেহরান, যার অধীনে আন্তর্জাতিক নৌযানগুলোকে এই পথ দিয়ে পারাপারের জন্য ইরানি সশস্ত্র বাহিনীর অনুমতি নিতে হবে।   ইরানের এই অনমনীয় মনোভাব সত্ত্বেও মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প চুক্তিটি নিয়ে অত্যন্ত আশাবাদী এবং তিনি ইঙ্গিত দিয়েছেন যে, ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি ইতিমধ্যেই এই খসড়া অনুমোদন করেছেন। খসড়া চূড়ান্ত হওয়ার খবর আসার পর ট্রাম্প ইরানে পূর্বনির্ধারিত একটি বড় বিমান হামলা বাতিল করেন এবং শীঘ্রই চুক্তির সময় ও স্থান ঘোষণা করা হবে বলে জানান।   অন্যদিকে, ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু মার্কিন প্রেসিডেন্টের সাথে ফোনালাপের পর পুনর্ব্যক্ত করেছেন যে, যেকোনো চুক্তিতে অবশ্যই তেহরানের পারমাণবিক উপাদান অপসারণ এবং ক্ষেপণাস্ত্র অবকাঠামো ধ্বংসের কঠোর শর্ত থাকতে হবে। তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, তার প্রধানমন্ত্রিত্ব থাকাকালীন ইরানকে কোনোভাবেই পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন করতে দেওয়া হবে না।

ইসতিয়াক আহমেদ জুন ১২, ২০২৬ ১৪:০
জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

Top week

ছবি: নিউইয়র্ক পোস্ট

নিজ মায়ের হাতে তিন সন্তান হত্যার ভয়াবহ বর্ণনা শুনে কেঁদে ফেললেন আদালতে উপস্থিত সদস্যরা

ইসতিয়াক আহমেদ জুলাই ২৩, ২০২৬ ১৪:০