পছন্দের নারীকে জড়িয়ে ধরায় সহকর্মীকে গাড়ির ধাক্কায় হত্যা করলেন কস্টকো কর্মী
যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটন অঙ্গরাজ্যে কস্টকোর এক কর্মীর বিরুদ্ধে ঈর্ষা থেকে সহকর্মীকে মোটরসাইকেলসহ গাড়ির ধাক্কা দিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। ঘটনাটির একটি নজরদারি ক্যামেরার ভিডিও প্রকাশ্যে আসার পর তা নতুন করে আলোচনায় এসেছে। ভিডিওতে দেখা যায়, একটি ধূসর রঙের সেডান গাড়ি মোটরসাইকেলের পেছনে ধাক্কা দিলে চালক ছিটকে পাশের একটি ধাতব সাইনপোস্টে আঘাত করেন।
মার্কিন সংবাদমাধ্যম নিউইয়র্ক পোস্ট ও দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্টের প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, অভিযুক্ত ২২ বছর বয়সী টাইলার সোরেনসেন ও নিহত ২০ বছর বয়সী জনাথন ল্যাংডন দুজনেই ওয়াশিংটনের ইসাকুয়ায় অবস্থিত কস্টকোতে কর্মরত ছিলেন।
প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, ঘটনার আগে সোরেনসেন তার সহকর্মী সামান্থা পিটারসনকে ল্যাংডনের সঙ্গে আলিঙ্গন করতে দেখেন। সামান্থার প্রতি তার একতরফা আকর্ষণ ছিল বলে তদন্তে উঠে এসেছে। ওই দৃশ্য দেখার পর তিনি ক্ষুব্ধ হয়ে পড়েন এবং পার্কিং এলাকা থেকে ল্যাংডন মোটরসাইকেলে বের হলে নিজের গাড়ি নিয়ে তার পিছু নেন।
তদন্তসংশ্লিষ্ট নথি অনুযায়ী, পার্কিং লটেই প্রথমে গাড়ি দিয়ে তাদের দিকে এগিয়ে যান সোরেনসেন। পরে প্রায় ১০ মিনিট অপেক্ষা করে ল্যাংডন বের হলে তিনি মোটরসাইকেলের পেছনে ধাক্কা দেন। এতে ল্যাংডন ছিটকে গিয়ে একটি সড়কচিহ্নের খুঁটিতে সজোরে আঘাত করেন। মোটরসাইকেলটি চালক ছাড়াই সামনের দিকে কিছু দূর এগিয়ে যায়।
আদালতে জমা দেওয়া নথিতে বলা হয়েছে, আঘাতের তীব্রতায় ল্যাংডনের শরীর ধাতব খুঁটির সঙ্গে আছড়ে পড়ে। ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধারকারীরা তাকে উপুড় অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখেন। তার পরা হেলমেটের সামনের অংশও আঘাতে খুলে গিয়েছিল। শরীরে থাকা আঘাতের চিহ্ন সাইনপোস্টের সঙ্গে মিলে যায় বলেও তদন্তকারীরা উল্লেখ করেছেন।
তদন্তকারীদের ভাষ্য, দুর্ঘটনার পর সোরেনসেন থেমে আহত সহকর্মীকে সাহায্য করেননি কিংবা জরুরি সেবায় ফোনও করেননি। বরং তিনি কিছু দূরে গিয়ে নিজের গাড়ির ক্ষয়ক্ষতি পরীক্ষা করে সেখান থেকে চলে যান। পরে বাড়ি ফেরার পথে অতিরিক্ত গতিতে গাড়ি চালানোর কারণে এক পুলিশ কর্মকর্তা তাকে থামিয়ে জরিমানা করেন। তখন ওই কর্মকর্তা জানতেন না, কয়েক মাইল দূরেই একটি প্রাণঘাতী সংঘর্ষ ঘটেছে।
পরে সোরেনসেনের বাবা ঘটনাটি জানতে পেরে তাকে আবার ঘটনাস্থলে নিয়ে আসেন। এরপর তিনি পুলিশের কাছে আত্মসমর্পণ করেন।
গ্রেপ্তারের পর সোরেনসেন তদন্তকারীদের কাছে বলেন, "এটি বোকামি ছিল, কিন্তু আমি ইচ্ছা করেই করেছি।" তিনি আরও বলেন, সহকর্মীদের আলিঙ্গন করতে দেখে তিনি আতঙ্কিত ও প্রচণ্ড উত্তেজিত হয়ে পড়েছিলেন।
তবে সামান্থা পিটারসন তদন্তকারীদের জানান, তার সঙ্গে সোরেনসেনের কখনো প্রেমের সম্পর্ক ছিল না। বরং তিনি একাধিকবার সোরেনসেনকে জানিয়েছিলেন যে তিনি ব্যক্তিগত সীমা অতিক্রম করছেন এবং তার থেকে দূরে থাকতে হবে।
এদিকে সোরেনসেনের বিরুদ্ধে দ্বিতীয় ডিগ্রির হত্যা মামলা দায়ের করা হয়েছে। আদালতে হাজির হয়ে তিনি নিজেকে নির্দোষ দাবি করেছেন। বিচারক তার জামিন ২০ লাখ ডলার নির্ধারণ করেছেন এবং বিচার শেষ না হওয়া পর্যন্ত তাকে হেফাজতেই রাখার নির্দেশ দিয়েছেন। আগামী ২৭ আগস্ট মামলার প্রাক-বিচার শুনানির জন্য আবারও আদালতে হাজির হওয়ার কথা রয়েছে তার।
প্রকাশিত ভিডিওটি তদন্তে গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। মামলাটি বর্তমানে বিচারাধীন থাকায় অভিযোগগুলোর বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আদালতের রায়ের ওপর নির্ভর করবে।
© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
আমেরিকা
View moreযুক্তরাষ্ট্রের ইলিনয় অঙ্গরাজ্যের বার্টলেট পুলিশ ডিপার্টমেন্টে যোগ দেওয়ার পর মাহা আয়েশ শুধু একজন পুলিশ অফিসার হিসেবেই দায়িত্ব নেননি, নিজের ধর্মীয় পরিচয় বজায় রেখেও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীতে কাজ করার একটি দৃষ্টান্ত তৈরি করেছেন। ২০২০ সালের ৮ অক্টোবর তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে পুলিশ অফিসার হিসেবে শপথ নেন। দায়িত্ব পালনের সময় হিজাব পরার ইচ্ছা থাকায় পুলিশ বিভাগের ইউনিফর্ম নীতিতেও আনা হয় প্রয়োজনীয় পরিবর্তন। এর মাধ্যমে তিনি ইলিনয়ে দায়িত্ব পালনকারী প্রথম মুসলিম নারী পুলিশ অফিসার হিসেবে হিজাব পরার নজির তৈরি করেন বলে বার্টলেট ভিলেজ ও স্থানীয় সংবাদমাধ্যমে উল্লেখ করা হয়েছে। পুলিশে যোগ দেওয়ার আগে মাহা আয়েশের আইন ও বিচারব্যবস্থার সঙ্গে কাজের অভিজ্ঞতা ছিল। তিনি কেন কাউন্টি শেরিফের ডিপার্টমেন্টে ফরেনসিক থেরাপিস্ট হিসেবে কাজ করেছেন এবং কারাগারে থাকা ব্যক্তিদের মূল্যায়নের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। একই সঙ্গে তিনি কেন কাউন্টিতে জুভেনাইল জাস্টিস লিয়াজোঁ হিসেবেও কাজ করেন। ফলে পুলিশ বাহিনীতে যোগ দেওয়ার আগেই বিচারব্যবস্থা, কারাগার এবং তরুণদের নিয়ে কাজ করার অভিজ্ঞতা অর্জন করেছিলেন তিনি। তবে পুলিশ অফিসার হওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়ার পর তার সামনে একটি ভিন্ন ধরনের প্রশ্ন আসে। দায়িত্ব পালনের সময় তিনি হিজাব পরতে চেয়েছিলেন। তখন বার্টলেট পুলিশ ডিপার্টমেন্টের প্রচলিত ইউনিফর্ম নীতিতে হিজাবের বিষয়টি নির্দিষ্টভাবে অন্তর্ভুক্ত ছিল না। মাহাকে হিজাব খুলে দায়িত্ব পালনের জন্য বলা হয়নি। বরং বিভাগটি নিজেদের স্ট্যান্ডার্ডস অব অ্যাপিয়ারেন্স বা পোশাক সংক্রান্ত নীতিতে পরিবর্তন আনে এবং হিজাবকে পুলিশ ইউনিফর্মের অংশ হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করে। বার্টলেট ভিলেজের প্রকাশিত তথ্যেও বলা হয়েছে, ২০২০ সালের অক্টোবরে মাহা বাহিনীতে যোগ দেওয়ার সময় হিজাবকে ইউনিফর্মের অংশ হিসেবে অনুমোদন দেওয়া হয়। মাহার জন্য বিষয়টি শুধু পোশাকের স্বাধীনতার মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল না। ২০২১ সালে ডেইলি হেরাল্ডকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেছিলেন, সাংস্কৃতিক বাধা ভাঙার ইচ্ছাই ছিল তার অন্যতম বড় অনুপ্রেরণা। পুলিশি দায়িত্ব পালনের সময় হিজাব পরা তাকে আলাদা করে তুলে ধরলেও তিনি জানান, সাধারণ মানুষের সঙ্গে তার বেশিরভাগ যোগাযোগই ইতিবাচক ছিল। তার মতে, পুলিশ বাহিনীতে বিভিন্ন সাংস্কৃতিক ও সামাজিক পটভূমির মানুষের উপস্থিতি গুরুত্বপূর্ণ, কারণ এতে কমিউনিটির এমন মানুষের সঙ্গেও যোগাযোগ তৈরি করা সম্ভব হয় যারা হয়তো আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে নিজেদের সংস্কৃতির মিল খুঁজে পান না। বিশেষ করে মুসলিম নারীদের জন্য একটি দৃশ্যমান উদাহরণ তৈরি করাও মাহার লক্ষ্য ছিল। তিনি চেয়েছিলেন, মুসলিম তরুণীরা যেন মনে না করেন যে ধর্মীয় পরিচয় বজায় রেখে পুলিশ বা অন্য কোনো আইনশৃঙ্খলা পেশায় যাওয়া তাদের জন্য অসম্ভব। তার বক্তব্য অনুযায়ী, মুসলিম নারীরাও এসব পেশায় যেতে পারেন এবং নিজেদের সাংস্কৃতিক ও ধর্মীয় পরিচয় বজায় রেখেই দায়িত্ব পালন করতে পারেন। একই সঙ্গে বার্টলেটের মতো বহুজাতিক ও অভিবাসী অধ্যুষিত এলাকায় সাংস্কৃতিকভাবে সংবেদনশীল পুলিশি সেবা দিতে নিজের অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগাতে চেয়েছেন তিনি। মাহা আয়েশের পেশাগত যাত্রাও থেমে থাকেনি পুলিশ অফিসার হিসেবে যোগ দেওয়ার পর। বার্টলেট পুলিশ ডিপার্টমেন্টের ২০২৪ সালের বার্ষিক প্রতিবেদনে তাকে ডিটেকটিভদের তালিকায় উল্লেখ করা হয়েছে। ২০২৬ সালেও কুক কাউন্টি ট্রেজারারের প্রকাশিত এক তালিকায় তাকে বার্টলেট পুলিশ ডিপার্টমেন্টের ডিটেকটিভ হিসেবে উল্লেখ করা হয়। অর্থাৎ ২০২০ সালে হিজাব পরে পুলিশ বাহিনীতে যোগ দেওয়ার যে যাত্রা শুরু হয়েছিল, তা পরবর্তী বছরগুলোতে আরও দায়িত্বশীল অবস্থানে পৌঁছেছে। তার পথচলা যুক্তরাষ্ট্রে মুসলিম নারীদের আইনশৃঙ্খলা বাহিনীতে অংশগ্রহণ, ধর্মীয় পরিচয় ও পেশাগত দায়িত্ব একসঙ্গে পালনের সম্ভাবনা এবং স্থানীয় কমিউনিটির সঙ্গে পুলিশের সম্পর্ক নিয়ে নতুন করে আলোচনার সুযোগ তৈরি করেছে।
গ্রিনল্যান্ডে আরও দুই সামরিক ঘাঁটি চালু ঘুরতে যাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র
মামদানির ‘ভিশন জিরো’ পরিকল্পনায় নিউইয়র্কে আসছে গাড়িমুক্ত পথচারী এলাকা, কমবে ট্রাফিক মৃত্যু
নিউইয়র্কে বাংলাদেশি চিকিৎসক সায়েরা হক, রংপুর মেডিকেল থেকে ব্রুকলিনের চিকিৎসাসেবা
টেক্সাসের অস্টিনে আইসিই কর্মকর্তাদের গুলিতে আহত ভেনেজুয়েলার নাগরিক উইলবার রাফায়েল গার্সেস পেরেজ দাবি করেছেন, গুলি চালানোর আগে কর্মকর্তারা নিজেদের পরিচয় দেননি। তার ভাষ্য অনুযায়ী, উত্তর অস্টিনে ডোরড্যাশের খাবার ডেলিভারি দেওয়ার সময় একটি চিহ্নবিহীন গাড়ি তার গাড়িতে ধাক্কা দেয় এবং পরে আইসিই কর্মকর্তারা তাকে লক্ষ্য করে গুলি চালান। ২০ সেপ্টেম্বরের ওই ঘটনায় গুরুতর আহত পেরেজকে হাসপাতালে নেওয়ার পর আইসিই হেফাজতে নেওয়া হয়। পেরেজের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি প্রথমে বুঝতে পারেননি যে চিহ্নবিহীন গাড়িটি আইসিই কর্মকর্তাদের। তার দাবি, গাড়িটি তার গাড়ির পাশে দুইবার ধাক্কা দেয়। এরপর তিনি ইউটার্ন করে গাড়ি থামানোর চেষ্টা করেন। একটি ফ্রিওয়ের নিচে গাড়ি থামানোর পর তিনি বুঝতে পারেন, পেছনে থাকা গাড়িটি তাকে থামানোর চেষ্টা করছে। তখন গাড়িটির নীল ও লাল আলো এবং সাইরেন চালু করা হয় বলে তিনি জানান। পেরেজ বলেন, তিনি কর্মকর্তাদের কাছে যানজটের মধ্যে না থেমে অপেক্ষাকৃত নিরাপদ জায়গায় গাড়ি থামানোর সুযোগ চেয়েছিলেন। তার ভাষ্য অনুযায়ী, একজন কর্মকর্তা তাকে সেখানে থামতে নিষেধ করার পরই তিনি পিঠে গুলির আঘাত অনুভব করেন। এরপর তাকে হাসপাতালে নেওয়া হয়। চিকিৎসকেরা মেরুদণ্ডের খুব কাছে থাকা বুলেটটি অপসারণ করেননি বলে পেরেজ জানিয়েছেন। ঘটনার সময় ২৮ বছর বয়সী পেরেজ ডোরড্যাশের হয়ে খাবার ডেলিভারি করছিলেন। তার আইনজীবী কেট লিংকন-গোল্ডফিঞ্চ এবং ডোরড্যাশ বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। ২০ সেপ্টেম্বর দুপুরের কিছু আগে উত্তর অস্টিনে যুক্তরাষ্ট্রের ১৮৩ নম্বর হাইওয়ে ও অ্যান্ডারসন স্কয়ার এলাকার কাছে গুলির ঘটনা ঘটে। অস্টিন ট্রাভিস কাউন্টি জরুরি চিকিৎসা বিভাগের কর্মকর্তারা জানান, পেরেজকে গুরুতর কিন্তু স্থিতিশীল অবস্থায় হাসপাতালে নেওয়া হয়েছিল। পেরেজের আইনজীবীদের ভাষ্য অনুযায়ী, হাসপাতাল থেকে ছাড়ার পর তাকে দক্ষিণ টেক্সাসের পিয়ারসালে অবস্থিত আইসিই ডিটেনশন সেন্টারে নেওয়া হয়। সেখানে তিনি শরীরে বুলেট থাকা অবস্থায় পর্যাপ্ত চিকিৎসা ও ব্যথানাশক না পাওয়ার অভিযোগ করেছেন। পরে একজন নার্স তাকে একটি ওষুধ দেন বলে তিনি জানান। তবে ঘটনার বিষয়ে আইসিই ও হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগের বক্তব্য পেরেজের বর্ণনা থেকে ভিন্ন। হোমল্যান্ড সিকিউরিটি জানিয়েছে, পেরেজের বিরুদ্ধে চূড়ান্ত অপসারণের আদেশ ছিল এবং গুলিবর্ষণের ঘটনাটি হোমল্যান্ড সিকিউরিটি ইনভেস্টিগেশনস এফবিআইয়ের সহায়তায় তদন্ত করছে। পেরেজের আইনজীবীরা বলেছেন, তিনি ২০২৪ সালে সিবিপি ওয়ান ব্যবস্থার মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করে অ্যাসাইলামের আবেদন করেছিলেন এবং তার বৈধ ওয়ার্ক পারমিট ছিল। তার ইমিগ্রেশন স্ট্যাটাস নিয়ে দুই পক্ষের বক্তব্যের মধ্যে পার্থক্য রয়েছে। অস্টিন পুলিশ জানিয়েছে, স্থানীয় পুলিশ কর্মকর্তারা ওই অভিযানে বা গুলিবর্ষণে জড়িত ছিলেন না। ঘটনার তদন্তে স্থানীয় পুলিশ ও টেক্সাস রেঞ্জার্সের ভূমিকা রাখার আহ্বান জানিয়েছেন অস্টিনের মেয়র কির্ক ওয়াটসন। তিনি আইসিইর অভ্যন্তরীণ তদন্তের পাশাপাশি স্বাধীনভাবে ঘটনাটি পর্যালোচনার প্রয়োজনীয়তার কথা বলেছেন। পেরেজের বক্তব্য এখন তদন্তের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হলেও গুলি চালানোর ঠিক আগে কী ঘটেছিল, কর্মকর্তারা কখন নিজেদের পরিচয় দিয়েছিলেন, গাড়িতে ধাক্কা দেওয়ার পরিস্থিতি কী ছিল এবং কেন গুলি চালানো হয়েছিল, এসব প্রশ্নের চূড়ান্ত উত্তর এখনো পাওয়া যায়নি। ফেডারেল তদন্তের পাশাপাশি স্থানীয় পর্যায়েও ঘটনাটি নিয়ে তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে।
যুক্তরাষ্ট্রে তিন ফিলিস্তিনি শিক্ষার্থীকে গুলির ঘটনায় দোষী সাব্যস্ত মার্কিন নাগরিক
ট্রাম্প ও আইসিই কর্মকর্তাদের হত্যার হুমকি নিউইয়র্কের যুবকের, আদালতে দোষ স্বীকার
জোহরান মামদানি সঙ্গে হঠাৎ গ্রেসি ম্যানশনে গোপন বৈঠকে ট্রাম্প, আলোচনার বিষয়বস্তু নিয়ে ধোঁয়াশা
টেক্সাসের অস্টিনে আইসিইর এক কর্মকর্তার গুলিতে আহত ভেনেজুয়েলার নাগরিক উইলবার রাফায়েল গার্সেস পেরেজ জানিয়েছেন, তার শরীরে এখনো একটি বুলেট আটকে আছে এবং তিনি তীব্র ব্যথায় ভুগছেন। ২০ সেপ্টেম্বর রোববারের ওই ঘটনার পর তাকে হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরে তাকে আইসিই হেফাজতে নেওয়া হয়। সোমবার ফেডারেল ডিটেনশন সেন্টার থেকে আইনজীবীদের মাধ্যমে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন ২৮ বছর বয়সী পেরেজ। পরে কংগ্রেসম্যান গ্রেগ ক্যাসার জানান, তাকে চিকিৎসার জন্য একটি চিকিৎসাকেন্দ্রে স্থানান্তর করা হয়েছে। সোমবার কথা বলার সময় পেরেজ স্প্যানিশ ভাষায় জানান, গুলিবিদ্ধ হওয়ার পর তার শারীরিক অবস্থা ভালো নয় এবং তিনি প্রয়োজনীয় চিকিৎসা পাচ্ছেন না। তার আইনজীবীদের ভাষ্য অনুযায়ী, গুলিটি মেরুদণ্ডের খুব কাছাকাছি আটকে থাকায় চিকিৎসকেরা সেটি অপসারণ করেননি। ঘটনার সময় পেরেজ ডোরড্যাশের হয়ে খাবার ডেলিভারি করছিলেন বলে তার আইনজীবী এবং ডোরড্যাশ কর্তৃপক্ষ নিশ্চিত করেছে। অস্টিনের উত্তরাঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের ১৮৩ নম্বর হাইওয়ে ও অ্যান্ডারসন স্কয়ার এলাকার কাছে রোববার দুপুরের আগে ঘটনাটি ঘটে। গুলিবিদ্ধ হওয়ার পর তাকে ডেল সিটন মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। পরে হাসপাতাল থেকে তাকে আইসিই হেফাজতে নেওয়া হয়। পেরেজের বর্ণনা অনুযায়ী, একটি চিহ্নবিহীন এসইউভি তার গাড়ির পাশে ধাক্কা দেওয়ার পর তিনি বুঝতে পারেন, সেটি আইসিই কর্মকর্তাদের গাড়ি। তিনি গাড়ি থামানোর চেষ্টা করেন এবং নিরাপদ জায়গায় থামার সুযোগ চান বলে দাবি করেন। তার ভাষ্য অনুযায়ী, এরপর একজন আইসিই কর্মকর্তা তাকে গুলি করেন। তবে গুলি চালানোর ঠিক আগে কী ঘটেছিল এবং আইসিই কর্মকর্তারা কী পরিস্থিতির মুখোমুখি হয়েছিলেন, তা এখনো তদন্তাধীন। হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগ জানিয়েছে, হোমল্যান্ড সিকিউরিটি ইনভেস্টিগেশনস এফবিআইয়ের সহায়তায় ওই কর্মকর্তার গুলিবর্ষণের ঘটনা তদন্ত করছে। বিভাগের বক্তব্যে বলা হয়েছে, পেরেজ ভেনেজুয়েলার নাগরিক এবং তার বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র থেকে অপসারণের চূড়ান্ত আদেশ ছিল। তবে পেরেজের আইনজীবীরা সরকারি এই বর্ণনার সঙ্গে দ্বিমত জানিয়েছেন। পেরেজের আইনজীবীদের দাবি, তিনি ২০২৪ সালে সিবিপি ওয়ান অ্যাপের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করেন এবং অ্যাসাইলামের জন্য আবেদন করেন। তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, পরে ইমিগ্রেশন কোর্টের শুনানির নোটিশ পুরোনো ঠিকানায় যাওয়ায় তিনি ওই শুনানিতে উপস্থিত হতে পারেননি। আইনজীবীরা আরও বলেছেন, পেরেজের বৈধ ওয়ার্ক পারমিট ছিল। তার ইমিগ্রেশন স্ট্যাটাস এবং অপসারণের আদেশের বিষয়ে সরকারি নথিতে কী রয়েছে, সেটিও তদন্তের অংশ হিসেবে খতিয়ে দেখা হচ্ছে। আইনজীবীদের অভিযোগ, হাসপাতাল থেকে ছাড়ার পর পেরেজকে প্রায় দুই ঘণ্টা দূরের পিয়ারসালের সাউথ টেক্সাস আইসিই প্রসেসিং সেন্টারে নেওয়া হয়। সেখানে তিনি পর্যাপ্ত ব্যথানাশক ও চিকিৎসা পাননি বলে অভিযোগ করেছেন। পেরেজের ভাষ্য অনুযায়ী, ডিটেনশন সেন্টারে তিনি একটি ঠান্ডা কক্ষে মেঝেতে রাত কাটান। পরে একজন নার্স তাকে একটি ওষুধ দেন। ঘটনার পর কংগ্রেসম্যান গ্রেগ ক্যাসার স্বাধীন ও পূর্ণাঙ্গ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন। তিনি ঘটনার সঙ্গে সম্পর্কিত ভিডিও ও প্রমাণ সংরক্ষণ এবং আইসিইর অভিযানে নির্ধারিত নিয়ম ও প্রোটোকল অনুসরণ করা হয়েছিল কি না, তা খতিয়ে দেখার আহ্বান জানিয়েছেন। তার কার্যালয় জানিয়েছে, তিনি হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগ ও আইসিইর কাছে ঘটনাটি নিয়ে বিস্তারিত তথ্য চেয়েছেন। এদিকে অস্টিন পুলিশও ঘটনাটি নিয়ে তথ্য সংগ্রহ করছে। তবে গুলিবর্ষণের সময় অস্টিন পুলিশের কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে ছিলেন না। ফলে পেরেজের গাড়ির সঙ্গে ফেডারেল কর্মকর্তাদের গাড়ির সংঘর্ষ কীভাবে হয়েছিল, গুলি চালানোর আগে কী নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল এবং ঠিক কোন পরিস্থিতিতে আইসিই কর্মকর্তা গুলি চালান, এসব প্রশ্নের উত্তর তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত পুরোপুরি পরিষ্কার নয়। সোমবার সন্ধ্যায় কংগ্রেসম্যান গ্রেগ ক্যাসার জানান, পেরেজকে গুলিবিদ্ধ হওয়ার চিকিৎসার জন্য একটি চিকিৎসাকেন্দ্রে স্থানান্তর করা হয়েছে। তবে তার শরীরে থাকা বুলেট অপসারণ করা হয়েছে কি না, সে বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়নি। ঘটনার ফেডারেল তদন্তের পাশাপাশি পেরেজের চিকিৎসা এবং আইসিই হেফাজতে তার অবস্থার বিষয়টিও এখন আলোচনায় রয়েছে।
প্রায় ৪ ঘণ্টা বিমান চালিয়ে আকাশে মোনালিসার ছবি আঁকলেন মার্কিন পাইলট
চুল প্রতিস্থাপনের পর অদ্ভুত পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া, ডিমের মতো ফুলে গেল যুবকের মাথা