যুক্তরাষ্ট্রের কলোরাডোর ট্রাফিক ক্যামেরার ফাঁদে পড়ে হাজারো চালকের লাখ লাখ ডলার জরিমানা পরিশোধ
যুক্তরাষ্ট্রের কলোরাডো অঙ্গরাজ্যের লংমন্ট শহরের একটি ব্যস্ত মোড়ের ট্রাফিক ক্যামেরায় গত কয়েক মাসে প্রায় ছয় হাজার চালক গতির নিয়ম লঙ্ঘনের দায়ে জরিমানা গুনেছেন। এর মধ্যে প্রায় ৯৫ শতাংশ চালকই পূর্বমুখী লেনে গাড়ি চালানোর সময় ক্যামেরার ফাঁদে পড়ে স্পিড টিকিট বা জরিমানা পেয়েছেন। স্থানীয় চালক ও বাসিন্দাদের মধ্যে বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক অসন্তোষ ও কৌতূহল তৈরি হয়েছে।
কেন প্র্যাট বুলেভার্ড এবং মেইন স্ট্রিটের ওই সংযোগস্থলটিতে প্রতিদিন লাখ লাখ গাড়ি যাতায়াত করলেও শুধু নির্দিষ্ট একটি দিকেই এত বিপুল পরিমাণ জরিমানা হওয়ার কারণ নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। স্থানীয় চালক গ্রেগ ব্রন নিজেও ৩৫ মাইলের জায়গায় ৪৮ মাইল গতিতে গাড়ি চালানোর অভিযোগে ৪০ ডলারের জরিমানা পাওয়ার পর বিষয়টি নিয়ে অনুসন্ধান করেন। তাঁর মতে, অল্প দূরত্বের ব্যবধানে রাস্তার গতিসীমা হঠাৎ করে পরিবর্তন হওয়াই এত বেশি চালক ট্রাফিক আইনের শিকার হওয়ার প্রধান কারণ।
মূলত ওই মোড়টি পার হওয়ার ঠিক পূর্ব দিকেই রাস্তার পোস্ট করা গতিসীমা ঘণ্টায় ৩৫ মাইল থেকে বাড়িয়ে সরাসরি ৫৫ মাইল করে দেওয়া হয়েছে। চালকদের অভিযোগ, ৫৫ মাইলের সাইনটি কাছেই থাকায় চালকরা অনেক সময় নির্ধারিত সীমার আগেই গতি বাড়িয়ে ফেলেন, যা ক্যামেরার নজরে পড়ে যায়। লংমন্ট শহরের ট্রাফিক ডেটা পর্যালোচনা করে দেখা গেছে, বেশিরভাগ চালকই এই দুই গতির মধ্যবর্তী একটি গতিতে গাড়ি চালানোর সময় ক্যামেরার ফ্ল্যাশে ধরা পড়েছেন।
এই সমস্যার সমাধান নিয়ে কলোরাডো ডিপার্টমেন্ট অফ ট্রান্সপোর্টেশন বা সিডিওটি এবং লংমন্ট শহরের কর্তৃপক্ষের বক্তব্যে কিছুটা মতপার্থক্য দেখা গেছে। সিডিওটি জানিয়েছে যে স্পিড ক্যামেরা ও চালকদের ঝামেলা এড়াতে গতিসীমার সাইনটি আরও প্রায় ৫০০ ফুট পূর্বে সরিয়ে নেওয়ার বিষয়ে লংমন্ট শহরের সঙ্গে তাদের কথা হয়েছে এবং এতে তাদের কোনো আপত্তি নেই। তবে লংমন্ট সিটি কর্তৃপক্ষ দাবি করেছে যে তারা এ বিষয়ে কোনো সাম্প্রতিক আনুষ্ঠানিক অনুরোধ জানায়নি।
কর্তৃপক্ষের এমন টানাপোড়েনের মাঝেও চলতি বছর লংমন্টের ট্রাফিক এনফোর্সমেন্ট ক্যামেরাগুলোর মাধ্যমে ইতোমধ্যে দুই লাখ ডলারের বেশি রাজস্ব আদায় হয়েছে। ক্ষুব্ধ চালকরা এই অসংগতি দূর করতে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন। সিডিওটি এবং লংমন্ট সিটি জানিয়েছে যে স্থানীয় সড়কে ট্রাফিক নিরাপত্তা আরও উন্নত করতে তারা একসঙ্গে কাজ চালিয়ে যাচ্ছে।
© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।
বিষয়
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
আমেরিকা
View moreনিউইয়র্কের মেয়র জোহরান মামদানি ৯/১১ হামলার ২৫তম বার্ষিকীর স্মরণানুষ্ঠানে যোগ দিয়ে প্রায় ৩ হাজার নিহতের নাম পাঠ শেষ হওয়া পর্যন্ত গ্রাউন্ড জিরোতে অবস্থান করেছেন। অনুষ্ঠানটিতে তার উপস্থিতি ঠেকাতে ১ লাখের বেশি স্বাক্ষরসংবলিত একটি পিটিশন এবং সাবেক মেয়র রুডি জুলিয়ানিসহ কয়েকজন রিপাবলিকান নেতার আপত্তি সত্ত্বেও তিনি অনুষ্ঠানে অংশ নেন। ১১ সেপ্টেম্বর নিউইয়র্কের ন্যাশনাল ৯/১১ মেমোরিয়ালে আয়োজিত অনুষ্ঠানে পরিবারের সদস্যরা ২০০১ সালের হামলায় নিহতদের নাম পাঠ করেন। মামদানির উপস্থিতি নিয়ে কয়েক সপ্তাহ ধরে রাজনৈতিক বিতর্ক চললেও, তার কার্যালয় আগেই জানিয়েছিল যে তিনি নাম পাঠ শেষ হওয়া পর্যন্ত অনুষ্ঠানে থাকবেন। পরে তিনি সেই পরিকল্পনা অনুযায়ী পুরো নাম পাঠের পরও সেখানে অবস্থান করেন। অনুষ্ঠানের আগে মামদানিকে গ্রাউন্ড জিরোতে না যাওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছিল। ৮ সেপ্টেম্বর একটি অনলাইন পিটিশনে ১ লাখের বেশি স্বাক্ষর জমা পড়ে। পিটিশনটি ৯/১১ হামলায় স্বজন হারানো কয়েকজনের পক্ষ থেকে শুরু করা হয়েছিল। সাবেক নিউইয়র্ক মেয়র রুডি জুলিয়ানি এবং সাবেক গভর্নর জর্জ পাটাকিও মামদানির অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়া নিয়ে আপত্তি জানিয়েছিলেন। এর মধ্যেই অনুষ্ঠানে মামদানি ও কংগ্রেসওম্যান আলেকজান্দ্রিয়া ওকাসিও-কর্টেজকে কয়েক সেকেন্ডের একটি ভিডিওতে হাসতে দেখা যায়। ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর তাদের বিরুদ্ধে ৯/১১-এর স্মরণানুষ্ঠানে অসম্মানজনক আচরণের অভিযোগ ওঠে। তবে ওই মুহূর্তের ব্যাখ্যা নিয়ে পরে ভিন্ন তথ্য সামনে আসে। সাবেক মেয়র রুডি জুলিয়ানির সাবেক নিরাপত্তা সহযোগী মাইকেল রাগুসা জানান, তিনি মামদানি ও ওকাসিও-কর্টেজের কাছেই ছিলেন। তার দাবি, ক্যামেরায় ধরা পড়া মুহূর্তটি আসলে ওকাসিও-কর্টেজের মামদানিকে অভিবাদন জানানোর সময়ের দৃশ্য। রাগুসা বলেন, অনুষ্ঠানে রিপাবলিকান ও ডেমোক্র্যাট উভয় দলের আরও অনেক রাজনীতিককে হাসতে ও কথা বলতে দেখা যাচ্ছিল। মামদানির পুরো অনুষ্ঠানজুড়ে অবস্থান করাও বিতর্কটির আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হয়ে ওঠে। কংগ্রেসওম্যান ওকাসিও-কর্টেজও অনুষ্ঠান শেষ পর্যন্ত ছিলেন বলে প্রত্যক্ষদর্শীদের একজন জানিয়েছেন। মামদানি পরে ৯/১১-এর নিহতদের পরিবার ও ফার্স্ট রেসপন্ডারদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে বলেন, স্মরণানুষ্ঠানের মূল লক্ষ্য হওয়া উচিত তাদের প্রতি সম্মান জানানো। অন্যদিকে, গভর্নর ক্যাথি হকুল নাম পাঠ শেষ হওয়ার আগেই অনুষ্ঠানস্থল ত্যাগ করেন এবং পরে সিএনএনের উলফ ব্লিটজারের সঙ্গে সাক্ষাৎকারে অংশ নেন। তার কার্যালয় জানায়, তার অনুষ্ঠানসূচি অন্য কয়েকজন গুরুত্বপূর্ণ অতিথির সময়সূচির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ ছিল। ৯/১১-এর ২৫তম বার্ষিকীর এই স্মরণানুষ্ঠানে প্রায় ৩ হাজার নিহতের নাম পাঠ করা হয়। এ বছর প্রথমবারের মতো ৯/১১-পরবর্তী বিষাক্ত ধুলার সংস্পর্শে এসে মারা যাওয়া ব্যক্তিদের স্মরণেও আলাদা এক মুহূর্তের নীরবতা পালন করা হয়। অনুষ্ঠানের আগে মামদানি ৯/১১ নিয়ে একাধিক সরকারি কার্যক্রমেও অংশ নেন। ৪ সেপ্টেম্বর তিনি ১১ সেপ্টেম্বরকে নিউইয়র্ক সিটিতে বার্ষিক স্মরণ ও সেবার দিন হিসেবে প্রতিষ্ঠার জন্য একটি এক্সিকিউটিভ অর্ডারে স্বাক্ষর করেন। ৯ সেপ্টেম্বর তিনি এনওয়াইপিডির ৯/১১ স্মারক দেয়াল উদ্বোধনেও অংশ নেন এবং হামলার পর উদ্ধার ও পুনর্গঠন কাজে প্রাণ হারানো পুলিশ সদস্যদের স্মরণ করেন। স্মরণানুষ্ঠানে মামদানি ও জুলিয়ানিরও মুখোমুখি সাক্ষাৎ হয়। দুই মেয়র করমর্দন করেন এবং সংক্ষিপ্তভাবে কথা বলেন। পরে মামদানি বলেন, ওই দিনের মূল বিষয় ছিল ৯/১১-এর পরিবার, ফার্স্ট রেসপন্ডার এবং নিহতদের স্মরণ করা।
পেন স্টেটের ফ্র্যাট হাউসে কোকেন ভাগ করে করা হচ্ছে প্যাকেট, ক্যাম্পাসে বাড়ছে মাদকঝুঁকি
আইসিইর আটক নিয়ে প্রশ্ন তোলার ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে বরখাস্ত, ট্রাম্প প্রশাসনের বিরুদ্ধে সাবেক বিচারকের মামলা
ফ্লোরিডায় পুলিশের তাড়া খেয়ে দুই শিশুকে নিয়ে কুমিরভর্তি জলাভূমিতে পালালেন বাবা
যুক্তরাষ্ট্রের নিউ জার্সির ১৩ বছর বয়সী নেহা ব্লান্ট প্রযুক্তিকে কাজে লাগিয়ে পানি অপচয় কমানোর উদ্যোগ নিয়ে ইতোমধ্যে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে। তার তৈরি ‘ওয়াটার সেভার’ নামের ওয়েব অ্যাপ্লিকেশনটি পরিবারগুলোকে নিজেদের পানি ব্যবহারের হিসাব রাখতে এবং দৈনন্দিন জীবনে পানি সাশ্রয়ের অভ্যাস গড়ে তুলতে সহায়তা করছে। নেহার নেতৃত্বে পরিচালিত ‘ওয়াটার সেভার্স’ প্রচারণা এখন পর্যন্ত বিশ্বজুড়ে ১০ লাখের বেশি মানুষের কাছে পৌঁছেছে। পাশাপাশি ১ লাখের বেশি মানুষকে দৈনন্দিন ব্যবহারে পরিবর্তন আনতে উৎসাহিত করেছে এই উদ্যোগ। এর মাধ্যমে আনুমানিক ২ কোটি গ্যালন পানি সাশ্রয় হয়েছে বলে জানিয়েছে পরিবেশবিষয়ক সংগঠন অ্যাকশন ফর নেচার। এই কাজের স্বীকৃতি হিসেবে ২০২৬ সালের আন্তর্জাতিক ইয়াং ইকো-হিরো অ্যাওয়ার্ডে প্রযুক্তি ও উদ্ভাবন এবং কমিউনিটি এনগেজমেন্ট বিভাগে তৃতীয় স্থান পেয়েছে নেহা। ৮ থেকে ১৪ বছর বয়সী প্রতিযোগীদের বিভাগে তাকে এই স্বীকৃতি দেওয়া হয়। নেহার এই উদ্যোগের শুরু একটি সাধারণ তথ্য থেকে। ইভেশাম টাউনশিপ মিউনিসিপ্যাল ইউটিলিটিজ অথরিটির একটি ক্যালেন্ডারে তিনি দেখেন, একটি মাত্র পানির কল থেকে লিকেজের কারণে প্রতি মাসে ২ হাজার গ্যালনের বেশি বিশুদ্ধ পানি নষ্ট হতে পারে। বিষয়টি তাকে দৈনন্দিন জীবনে পানির অপচয় নিয়ে ভাবতে বাধ্য করে। নিউ জার্সি তুলনামূলকভাবে বৃষ্টিপ্রবণ এলাকা হলেও জনসংখ্যা ও পানির চাহিদা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে এর জলসম্পদের ওপরও চাপ তৈরি হচ্ছে। ২০২৩ সালের বসন্তে নেহা পানি সংরক্ষণে ‘ওয়াটার সেভার্স’ প্রচারণা শুরু করেন। নিজের শেখা প্রোগ্রামিং দক্ষতার সঙ্গে স্থানীয় পর্যায়ে জনসচেতনতামূলক কার্যক্রম যুক্ত করেন তিনি। এরপর প্রায় সাত মাস সময় নিয়ে তৈরি করেন ‘ওয়াটার সেভার’ ওয়েব অ্যাপ্লিকেশন। এর উদ্দেশ্য ছিল শুধু মানুষকে পানি কম ব্যবহারের পরামর্শ দেওয়া নয়, বরং পানি ব্যবহারের পরিমাণ সম্পর্কে তাদের সচেতন করা এবং ছোট ছোট পরিবর্তনের মাধ্যমে সাশ্রয়ের সুযোগ তৈরি করা। অ্যাপটি তৈরির সময় নেহাকে বেশ কিছু নতুন প্রযুক্তিগত বিষয়ও শিখতে হয়েছে। ব্যবহারকারীর তথ্য ও লগইন ব্যবস্থাপনার জন্য তিনি নিজে মাইএসকিউএল শিখেছেন এবং অ্যাপটির পেছনের কাঠামোও তৈরি করেছেন। সফটওয়্যার ডাউনলোডের প্রয়োজন না রেখে ওয়েবভিত্তিক ব্যবস্থা বেছে নেওয়ার ফলে বিভিন্ন যন্ত্র থেকে এটি ব্যবহার করা সম্ভব হয়েছে। ‘ওয়াটার সেভার’-এ বৃষ্টির পানি সংরক্ষণের পাত্র ও বৃষ্টির বাগান তৈরির মতো বিষয়ে ব্যবহারিক নির্দেশনাও রয়েছে। পাশাপাশি বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলে পানির সংকট নিয়ে তথ্য দেওয়া হয়েছে। অর্থাৎ পানি সংরক্ষণকে শুধু স্থানীয় সমস্যা হিসেবে নয়, বৈশ্বিক বিষয় হিসেবেও তুলে ধরেছে উদ্যোগটি। নেহার কাজ দ্রুত স্থানীয় পর্যায়ের গণ্ডি ছাড়িয়ে যায়। ২০২৩ সালের কংগ্রেশনাল অ্যাপ চ্যালেঞ্জে ‘ওয়াটার সেভার’ তৃতীয় স্থান অর্জন করে। অ্যাকশন ফর নেচারের তথ্য অনুযায়ী, ওই প্রতিযোগিতায় পুরস্কার পাওয়া সবচেয়ে কম বয়সী প্রতিযোগী ছিলেন নেহা। পরে তাকে ইভেশাম এনভায়রনমেন্টাল কমিশনের পানি সংরক্ষণবিষয়ক দূত হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। স্থানীয় অর্থনৈতিক পরামর্শক পরিষদেও শিক্ষার্থী প্রতিনিধি হিসেবে কাজ করেছেন তিনি। নিউ জার্সি জেনারেল অ্যাসেম্বলিও তার উদ্যোগকে আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকৃতি দিয়েছে। তবে পানি সংরক্ষণই নেহার একমাত্র উদ্যোগ নয়। মাত্র তিন বছর বয়স থেকেই তিনি প্রোগ্রামিং করছেন। ১৩ বছর বয়সেই ২২টি কলেজ ক্রেডিট অর্জন করেছেন বলে অ্যাকশন ফর নেচারের তথ্য থেকে জানা যায়। ষষ্ঠ শ্রেণিতে থাকাকালে নিজের কাউন্টির সবচেয়ে কম বয়সী শিক্ষার্থী হিসেবে এপি ক্যালকুলাস বিসি কোর্সেও অংশ নেন তিনি। বোনের সঙ্গে মিলে নেহা ঘরের ভেতরের বায়ুর মান পর্যবেক্ষণের একটি ব্যবস্থাও তৈরি করেছেন। পাশাপাশি ‘প্রজেক্ট রিফিট’-এ শিক্ষানবিশ হিসেবে কাজ করে সাবেক সেনাসদস্যদের পারস্পরিক সহায়তার জন্য একটি অ্যাপ তৈরিতে যুক্ত আছেন। পরিবারের এক সদস্য প্রতারণার শিকার হওয়ার পর স্টকটন ইউনিভার্সিটির সঙ্গে মিলে বয়স্কদের প্রতারণা সম্পর্কে সচেতন করার একটি কর্মসূচিতেও কাজ করেছেন। প্রযুক্তি শিক্ষাকে আরও মানুষের কাছে পৌঁছে দিতে স্থানীয় গ্রন্থাগারে সুবিধাবঞ্চিত কিশোরীদের বিনামূল্যে কোডিং শেখাতেও ২০০ ঘণ্টার বেশি সময় দিয়েছেন নেহা। যুব পরামর্শক কমিটির কোষাধ্যক্ষ হিসেবেও কাজ করছেন তিনি। সেখানে ‘পাই ডে’ উপলক্ষে একটি তহবিল সংগ্রহ কর্মসূচির নেতৃত্ব দিয়ে তিনজন স্নাতক শিক্ষার্থীর জন্য ৫০০ ডলার করে তিনটি বৃত্তির অর্থ সংগ্রহ করেন। এখন নেহা ইভেশাম মিউনিসিপ্যাল ইউটিলিটিজ অথরিটির সঙ্গে ‘ওয়াটার সেভার ২.০’ নিয়ে কাজ করছেন। নতুন সংস্করণে নিরাপদ তথ্য আদান-প্রদানের ব্যবস্থা তৈরি করে পরিবারের পানি ব্যবহারের তাৎক্ষণিক তথ্যকে ইন্টার্যাকটিভ চার্টে দেখানোর পরিকল্পনা রয়েছে। এতে ব্যবহারকারীরা কোন সময়ে কত পানি ব্যবহার করছেন, তা আরও সহজে বুঝতে পারবেন। পাশাপাশি নেহা একটি ‘চ্যারিটি: ওয়াটার’ কূপ প্রকল্পের জন্য অর্থ সংগ্রহ করতে চান, যার লক্ষ্য একটি পুরো শহরের মানুষের জন্য বিশুদ্ধ পানির ব্যবস্থা করা। ভবিষ্যতে কম্পিউটার বিজ্ঞান নিয়ে পড়াশোনা করে সাইবার নিরাপত্তায় বিশেষায়িত হওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে নেহার। দীর্ঘমেয়াদে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় নিরাপত্তা সংস্থায় কাজ করে গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোর সাইবার নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে চান। নেহার কাজের মূল বার্তা শুধু পানি বাঁচানো নয়। তার মতে, কোনো সম্পদ সহজলভ্য মনে হলে মানুষ অনেক সময় অজান্তেই অপচয়ের অভ্যাসে চলে যায়। তাই পরিবেশ রক্ষার পাশাপাশি সবার জন্য নিরাপদ পানি ও স্বাস্থ্যকর পরিবেশ নিশ্চিত করাও জরুরি। মাত্র একটি পানির কল থেকে পানি অপচয়ের তথ্য দেখে শুরু করা নেহার উদ্যোগ এখন লাখো মানুষের কাছে পৌঁছেছে। প্রযুক্তি, পরিবেশ সচেতনতা ও স্থানীয় মানুষের অংশগ্রহণকে একসঙ্গে কাজে লাগিয়ে ১৩ বছর বয়সেই তিনি দেখিয়েছেন, বড় কোনো পরিবর্তনের সূচনা কখনও কখনও খুব ছোট একটি সমস্যাকে গুরুত্ব দেওয়ার মধ্য থেকেই হতে পারে। সূত্র: অ্যাকশন ফর নেচার ও সাউথ জার্সি মিডিয়া
সারোগেট মা হয়ে জানলেন অনাগত সন্তানের বাবার আরও ৩০০ সন্তান রয়েছে
ইরানে যুদ্ধবিমান ভূপাতিত হওয়ার পর ৫০ ঘণ্টা আত্মগোপনে মার্কিন সেনা, জানালেন বেঁচে ফেরার অভিজ্ঞতা
যুক্তরাষ্ট্রে পড়াশোনা শেষে কাজ করতে গুনতে হতে পারে ১ লাখ ডলার, ওপিটি ফি বাড়ানোর পথে ট্রাম্প প্রশাসন
যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল রিজার্ভের (ফেড) গুরুত্বপূর্ণ নীতিনির্ধারণী বৈঠকের কয়েকদিন আগে দেশটির সুদের হার বিশ্বের মধ্যে সর্বনিম্ন হওয়া উচিত বলে মন্তব্য করেছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। রবিবার আইরিশ ওপেন গলফ টুর্নামেন্টে সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে তিনি জানান, ফেডের নীতিনির্ধারকরা চলতি সপ্তাহের বৈঠকে সুদের হার বাড়াবেন কিনা, সে বিষয়ে তিনি অবগত নন। তবে মূল্যস্ফীতি ও অর্থনীতির বিষয়ে ফেডের পরিসংখ্যান যাই বলুক না কেন, যুক্তরাষ্ট্রের সুদের হার বিশ্বের যেকোনো দেশের তুলনায় সর্বনিম্ন হওয়া উচিত বলে জোরালো দাবি জানান তিনি। গত শুক্রবার মার্কিন শ্রম দপ্তরের প্রকাশিত ভোক্তা মূল্য সূচকে দেখা যায়, চার মাসের মধ্যে দেশটির মূল্যস্ফীতি সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে। এই পরিসংখ্যানের ওপর ভিত্তি করে ধারণা করা হচ্ছে যে, বুধবারের বৈঠকে ফেড তাদের সুদের হারের লক্ষ্যমাত্রা ৩.৫% থেকে ৩.৭৫%-এ উন্নীত করার ঘোষণা দিতে পারে। ট্রাম্পের আমদানি শুল্ক বৃদ্ধি এবং ইরান-যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধের কারণে বিশ্বজুড়ে জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির ফলে মার্কিন অর্থনীতিতে ব্যাপক চাপ সৃষ্টি হয়েছে। ফেড কর্মকর্তারা মনে করেন, মূল্যস্ফীতি যত বেশি সময় ধরে চড়া থাকবে, অর্থনীতিকে স্থিতিশীল অবস্থায় ফিরিয়ে আনা তত বেশি কঠিন ও ব্যয়বহুল হবে। এদিকে আসন্ন মধ্যবর্তী নির্বাচনের ঠিক আগে সুদের হার বাড়ানো হলে সাধারণ ভোটারদের জীবনযাত্রার ব্যয় আরও বাড়বে, যা কংগ্রেসের উভয় কক্ষে রিপাবলিকানদের সংখ্যাগরিষ্ঠতা ধরে রাখার ক্ষেত্রে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে। টানা মূল্যস্ফীতির কারণে ট্রাম্পের জনপ্রিয়তায় কিছুটা ভাটা পড়লেও তিনি দাবি করেছেন যে, যুক্তরাষ্ট্রের বর্তমান সুদের হারের কারণে মূলত অন্য দেশগুলো লাভবান হচ্ছে। তিনি বলেন, “আমি যেকোনো কারও চেয়ে ফর্মুলা বেশি ভালো বুঝি এবং বিশ্বের সেরা ক্রেডিটের অধিকারী হয়েও আমরা অন্য দেশগুলোকে ধনী করছি।” নিজের মনোনীত ফেড চেয়ারম্যান কেভিন ওয়ার্শের প্রতি ট্রাম্পের সমর্থন থাকলেও, সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তিনি কড়া হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, সুদের হার কমানো না হলে যেসব দেশের সাথে যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য ঘাটতি রয়েছে, তাদের সাথে বাণিজ্য বন্ধ করে দেওয়া হবে। তবে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের পরিচালক কেভিন হ্যাসেট নিশ্চিত করেছেন যে, ফেড সুদের হার নিয়ে যে সিদ্ধান্তই নিক না কেন, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প কেভিন ওয়ার্শের কাজের স্বাধীনতাকে সম্মান জানাবেন।
নিউইয়র্কে ৯/১১ হামলার পর টানা ৪০ দিন বিনা ভাড়ায় ট্যাক্সি চালিয়েছিলেন ভারতীয় বংশোদ্ভূত গুরবিন্দর
মিনেসোটায় কোভিড তহবিল জালিয়াতির অভিযোগে পলাতক ফাহাদ, ধরিয়ে দিলে দেড় লাখ ডলার পুরস্কার