ফিলিস্তিনের অবরুদ্ধ গাজা উপত্যকায় তথাকথিত 'যুদ্ধবিরতি' চলাকালীন সময়েও ইসরায়েলি বাহিনীর হামলায় প্রাণ হারিয়েছেন অন্তত ৬৮৯ জন ফিলিস্তিনি।
গত অক্টোবর থেকে শুরু হওয়া এই যুদ্ধবিরতির মেয়াদে গাজার স্বাস্থ্য কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে মাঠ পর্যায়ের সংবাদকর্মীরা এই ভয়াবহ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, এই সময়ের মধ্যে কেবল প্রাণহানিই ঘটেনি, বরং ইসরায়েলি বাহিনীর নির্বিচার হামলায় আহত হয়েছেন আরও ১ হাজার ৮৬০ জন ফিলিস্তিনি।
যুদ্ধবিরতির ঘোষণা থাকা সত্ত্বেও গাজার সাধারণ মানুষের ওপর এই নিরবচ্ছিন্ন হামলা আন্তর্জাতিক মহলে নতুন করে উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে। মানবিক পরিস্থিতির চরম অবনতি হওয়ায় গাজার চিকিৎসা ব্যবস্থা এখন ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে।
মধ্যপ্রাচ্যের ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মধ্যেই একটি চাঞ্চল্যকর দাবি ভূ-রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে বিতর্কের ঝড় তুলেছে। গত ৪৮ থেকে ৫৬ ঘণ্টার মধ্যে ১৬টি চীনা 'ওয়াই-২০' (Y-20) সামরিক কার্গো বিমান তাদের ট্রান্সপন্ডার বা সিগন্যাল বন্ধ রেখে ইরানের আকাশে প্রবেশ করেছে বলে খবর ছড়িয়েছে। কোনো আনুষ্ঠানিক নিশ্চিতকরণ ছাড়াই এই তথ্যটি প্রতিরক্ষা বিশ্লেষক ও সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারকারীদের মধ্যে তীব্র উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। দাবি করা হচ্ছে, এই বিমানগুলো বেসামরিক রাডার থেকে আড়াল থাকতে বিশেষ কৌশল অবলম্বন করেছিল। নেটিজেন ও সামরিক বিশ্লেষকদের একটি অংশের ধারণা, চীন হয়তো ইরানকে অত্যাধুনিক ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার সিস্টেম বা জ্যামিং প্রযুক্তি সরবরাহ করছে। যদি এটি সত্যি হয়, তবে মার্কিন এফ-৩৫ (F-35) যুদ্ধবিমান বা নৌ-অভিযানের জন্য এটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে। অনেকে একে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি বেইজিংয়ের সরাসরি ‘সতর্কবার্তা’ হিসেবেও দেখছেন। তবে এই উত্তেজনার মুদ্রার উল্টো পিঠও রয়েছে। ফ্লাইটরাডার২৪-এর মতো আন্তর্জাতিক ফ্লাইট ট্র্যাকিং প্ল্যাটফর্মে এ ধরনের কোনো অস্বাভাবিক ফ্লাইটের রেকর্ড পাওয়া যায়নি। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ১৬টি ভারী সামরিক কার্গো বিমানের মতো বিশাল বহরকে রাডার বা স্যাটেলাইট নজরদারি থেকে সম্পূর্ণ লুকিয়ে রাখা প্রায় অসম্ভব। বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে চীন-ইরান সম্পর্ক গভীর হলেও, সুনির্দিষ্ট প্রমাণের অভাবে বিশ্লেষকরা একে আপাতত ‘সুপরিকল্পিত গুজব’ বা মিসইনফরমেশন হিসেবেই দেখছেন। তেহরান বা বেইজিং—কোনো পক্ষ থেকেই এখন পর্যন্ত এ নিয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া মেলেনি।
এপস্টেইন ফাইল: দাবি, বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করে ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে জেফরি এপস্টেইনের ফাইল ট্রান্সপারেন্সি অ্যাক্টের সাথে যুক্ত সম্প্রতি প্রকাশিত একটি নথি ত্রাঞ্চে অভিযোগ করা হয়েছে যে, প্রাক্তন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একটি ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। এই নথিগুলি, যা আনক্লাসিফায়েড ডিপার্টমেন্ট অব জাস্টিস (DOJ) রেকর্ডের একটি বিশাল ডেটা রিলিজের অংশ, “চার্লস” নামে একজনের ক্ষুব্ধ ইমেইল অন্তর্ভুক্ত করেছে এবং অন্তর্বর্তী ফাইলিং কোড EFTA00173266 থেকে EFTA00173273 পর্যন্ত চিহ্নিত। এই ইমেইলগুলো তৃতীয় পক্ষের যোগাযোগের মধ্যে পাওয়া গেছে, যা জেফরি এপস্টেইনের নেটওয়ার্ক সংক্রান্ত বিস্তৃত ফেডারেল তদন্তের সময় সংগ্রহ করা হয়েছিল। এপস্টেইন সম্পর্কিত অন্যান্য প্রকাশনার মতো এখানে রাজনৈতিক ও ব্যবসায়িক ব্যক্তিদের সঙ্গে সম্পর্কের তথ্য নয়, বরং চরম ও ষড়যন্ত্রমূলক দাবিগুলো রয়েছে। ক্লোন তত্ত্বের উল্লেখ “চার্লস” ইমেইলগুলো এপ্রিল ২০২১-এ একজন এফবিআই এজেন্টকে ফরোয়ার্ড করা হয়েছিল, যাকে লাল করা প্রেরক হিসেবে দেখানো হয়েছে। প্রেরক দাবি করেছিলেন যে এটি একটি প্রযুক্তি সংস্থার এক ক্ষুব্ধ প্রাক্তন কর্মচারী বা সহযোগীর মেসেজ। ইমেইলগুলিতে গালাগালি ভাষা ব্যবহৃত হয়েছে এবং এখানে “কোয়ান্টাম” প্রযুক্তি, গোপন সামরিক ট্রাইব্যুনাল, এবং “বাইডেন আপনার বর্তমান প্রেসিডেন্ট নন” এমন দাবির উল্লেখ রয়েছে। একটি অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে নির্বিচারে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একজন অভিনেতা বা ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে, যেখানে প্রমাণ হিসেবে “মাস্কের ত্রুটি” দেখানো হয়েছে। তবে এই দাবিগুলোর সঙ্গে কোনো শারীরিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি বা সঙ্গত সাক্ষ্য নেই। “বাইডেন ক্লোন” দাবি অনলাইনে ষড়যন্ত্র তত্ত্বের একটি পরিচিত অংশ। তত্ত্বটি সাধারণত ধরে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে গোপনে জনমঞ্চ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে, প্রায়শই ২০১৯ বা ২০২০ সালে, এবং তাকে চেহারা মিলানো লোক বা ক্লোন দিয়ে প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। অনুগামীরা প্রায়শই নিম্নমানের ভিডিও এবং ফটোগ্রাফ বিশ্লেষণ করে, চেহারার পরিবর্তন যেমন আলোর পরিবর্তন, বয়সের প্রভাব বা ক্যামেরার ত্রুটিকে কৃত্রিমভাবে আড়াল করার প্রমাণ হিসেবে দেখান। এ পর্যন্ত কোনো যাচাইযোগ্য প্রমাণ নেই যে প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন কখনো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন বা প্রতিস্থাপিত হয়েছেন। এই দাবিগুলি সম্পূর্ণভাবে একটি ষড়যন্ত্র তত্ত্ব হিসেবে রয়ে গেছে। সূত্র: Royanews
দাম বাড়ানোর ১২ ঘণ্টারও কম সময়ের ব্যবধানে দেশের বাজারে আবারও স্বর্ণের দাম কমিয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। ভরিতে এক লাফে ৩ হাজার ২৬৬ টাকা কমিয়ে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ৫৮ হাজার ৮২৪ টাকা। শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) রাতে বাজুসের এক বিজ্ঞপ্তিতে দাম কমানোর বিষয়টি জানানো হয়েছে। নতুন দাম রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) থেকেই কার্যকর হবে। এর আগে একই দিন সকালে দেশের বাজারে স্বর্ণের দাম বাড়ানো হয়। ওই সময় ভরিপ্রতি এক লাফে ৭ হাজার ৬৪০ টাকা বাড়িয়ে ২২ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণের দাম নির্ধারণ করা হয়েছিল ২ লাখ ৬২ হাজার ৯০ টাকা। নতুন দাম অনুযায়ী, বর্তমানে দেশের বাজারে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) স্বর্ণের দাম পড়বে ২ লাখ ৫৮ হাজার ৮২৪ টাকা। পাশাপাশি ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ৪৭ হাজার ৪৪ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ১১ হাজার ৭৬০ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম পড়বে ১ লাখ ৭৩ হাজার ৩২৭ টাকা। এ নিয়ে চলতি বছর দেশের বাজারে মোট ২৭ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করলো বাজুস। এরমধ্যে ১৭ বারই দাম বাড়ানো হয়েছে। আর দাম কমেছে মাত্র ১০ বার। অন্যদিকে গতবছর দেশের বাজারে মোট ৯৩ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করা হয়েছিল। যেখানে ৬৪ বারই দাম বাড়ানো হয়েছিল। এছাড়া ২০২৫ সালে ২৯ বার কমানো হয়েছিল স্বর্ণের দাম।
যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসন নীতিতে কঠোরতা আরও স্পষ্ট হচ্ছে। সর্বশেষ মেইন (Maine) অঙ্গরাজ্যে ফেডারেল ইমিগ্রেশন অভিযান শুরুর ঘোষণা দিয়েছে Department of Homeland Security (ডিএইচএস)। ডিএইচএসের এক মুখপাত্রের বরাতে জানা গেছে, “Operation Catch of the Day” নামে এই বিশেষ অভিযানের মাধ্যমে রাজ্যটিতে অবস্থানরত অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত অবৈধ অভিবাসীদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তার করা হবে। অভিযানটি পরিচালনায় ফেডারেল ইমিগ্রেশন কর্মকর্তাদের পাশাপাশি স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সমন্বয় রয়েছে। কর্তৃপক্ষ বলছে, এই উদ্যোগের প্রধান লক্ষ্য জননিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং সহিংস বা গুরুতর অপরাধে যুক্ত ব্যক্তিদের আইনের আওতায় আনা। ডিএইচএস আরও জানায়, আইন মেনে বসবাসকারী বা অপরাধে জড়িত নন—এমন অভিবাসীদের লক্ষ্যবস্তু করা হবে না। তবে মানবাধিকার ও অভিবাসী অধিকার সংগঠনগুলোর আশঙ্কা, এ ধরনের অভিযানে ভয় ও অনিশ্চয়তা তৈরি হতে পারে এবং নিরপরাধ মানুষও হয়রানির শিকার হতে পারেন। এ নিয়ে তারা স্বচ্ছতা ও যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণের আহ্বান জানিয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, মেইনে এই অভিযান শুরুর মাধ্যমে ফেডারেল সরকারের অভিবাসন আইন প্রয়োগ আরও বিস্তৃত পরিসরে জোরদার হলো। এর প্রভাব স্থানীয় অভিবাসী কমিউনিটির পাশাপাশি রাজ্যের রাজনৈতিক ও সামাজিক পরিমণ্ডলেও পড়তে পারে। সূত্র: ABC News
যুক্তরাষ্ট্রের শ্রমবাজারে তীব্র কর্মী সংকট মোকাবিলায় ২০২৬ অর্থবছরে বড় ধরনের পদক্ষেপ নিয়েছে ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন। নিয়মিত কোটার বাইরে অতিরিক্ত প্রায় ৬৪ হাজার ৭১৬টি এইচ-২বি মৌসুমি অতিথি শ্রমিক ভিসা দেওয়ার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। রয়টার্সের বরাতে জানা গেছে, স্থানীয় সময় শুক্রবার (৩০ জানুয়ারি) প্রকাশিত ফেডারেল রেজিস্টার নোটিশে বলা হয়, দেশীয় শ্রমিকের ঘাটতির কারণে যেসব মার্কিন নিয়োগকর্তা বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ছেন, মূলত তাদের স্বার্থ বিবেচনায় নিয়েই এই অতিরিক্ত ভিসার অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। ফলে বছরে নির্ধারিত ৬৬ হাজার এইচ-২বি ভিসার সংখ্যা প্রায় দ্বিগুণে পৌঁছাতে যাচ্ছে। নতুন এই সিদ্ধান্তে নির্মাণ শিল্প, হোটেল ও রেস্তোরাঁ, ল্যান্ডস্কেপিং এবং সি-ফুড প্রক্রিয়াজাতকরণ খাতের মতো শ্রমনির্ভর মৌসুমি শিল্পগুলো সবচেয়ে বেশি উপকৃত হবে বলে মনে করা হচ্ছে। এসব খাতে দীর্ঘদিন ধরেই দক্ষ স্থানীয় কর্মীর অভাবে বিদেশি শ্রমিক আনার দাবি জানিয়ে আসছিলেন নিয়োগকর্তারা। ক্ষমতায় আসার পর ট্রাম্প প্রশাসন অবৈধ অভিবাসনের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিলেও, বৈধ পথে কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়িয়ে অর্থনীতিকে সচল রাখতে এই নমনীয় সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এর আগেও সাবেক প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন প্রশাসনের সময় শ্রমঘাটতি মোকাবিলায় এইচ-২বি ভিসার সংখ্যা বাড়ানো হয়েছিল। তবে সরকারের এই সিদ্ধান্তের বিরোধিতাও রয়েছে। অভিবাসন কমানোর পক্ষে থাকা বিভিন্ন গোষ্ঠীর আশঙ্কা, বিপুল সংখ্যক বিদেশি শ্রমিক প্রবেশ করলে মার্কিন নাগরিকদের মজুরি কমে যেতে পারে। এ বিষয়ে পেন্টাগন ও শ্রম মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, দেশের উন্নয়ন প্রকল্প এবং পর্যটন খাত সচল রাখতে এই মুহূর্তে বিদেশি শ্রমিকের বিকল্প নেই। ফেডারেল রেজিস্টারের তথ্যানুযায়ী, অতিরিক্ত এইচ-২বি ভিসা কার্যকরের বিশেষ বিধিমালা আগামী মঙ্গলবার আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হবে এবং এরপরই আবেদন প্রক্রিয়া শুরু হবে। সূত্র: দ্য ফিন্যান্সিয়াল এক্সপ্রেস
ইরানের সঙ্গে সংঘাত নিরসনে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের আকস্মিক শান্তি আলোচনার প্রস্তাবে তেল আবিবের নীতিনির্ধারকদের মধ্যে গভীর উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। যদিও প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু জনসমক্ষে ট্রাম্পের ওপর আস্থা রাখার কথা বলছেন, তবে পর্দার আড়ালে সম্ভাব্য চুক্তির শর্তাবলি নিয়ে ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা ও রাজনৈতিক মহলে দুশ্চিন্তা বাড়ছে। কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার প্রতিনিধি নিদা ইব্রাহিম জানিয়েছেন, ট্রাম্প একটি চুক্তিতে পৌঁছাতে কতটা ‘আপস’ করবেন, সেটিই এখন ইসরায়েলের প্রধান ভয়ের কারণ। ইসরায়েলের মূল দুশ্চিন্তা ইরানের পারমাণবিক সক্ষমতা নিয়ে। বর্তমানে তেহরানের হাতে থাকা ৬০ শতাংশ সমৃদ্ধ ৪৫০ কেজি ইউরেনিয়ামের ভবিষ্যৎ কী হবে—সেটি কি আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার (IAEA) কাছে যাবে নাকি কোনো তৃতীয় দেশের হাতে তুলে দেওয়া হবে, তা নিয়ে ধোঁয়াশা কাটছে না। এছাড়া ইরানের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি পুরোপুরি বন্ধ হবে কি না, তা নিয়েও সন্দিহান ইসরায়েল। তাদের আশঙ্কা, ১৫ দফার এই পরিকল্পনা কার্যকর হলে ইরান পুনরায় ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণের সুযোগ পেতে পারে, যা দীর্ঘমেয়াদে ইসরায়েলের অস্তিত্বের জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়াবে। নিদা ইব্রাহিমের মতে, ইসরায়েল এখন চাইছে যেকোনো আনুষ্ঠানিক চুক্তিতে পৌঁছানোর আগে ইরানের গুরুত্বপূর্ণ সামরিক লক্ষ্যবস্তুগুলোতে আরও কিছু বড় ধরনের আঘাত হানতে। এর মাধ্যমে তারা আলোচনার টেবিলে তেহরানকে আরও দুর্বল অবস্থায় দেখতে চায়। তবে ট্রাম্পের মাসব্যাপী সম্ভাব্য যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব কার্যকর হলে ইসরায়েলের সেই সামরিক পরিকল্পনা বাধাগ্রস্ত হতে পারে। সব মিলিয়ে, বন্ধুর পাঠানো শান্তি প্রস্তাব এখন তেল আবিবের জন্য ‘উভয় সংকট’ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
ইরানের বিরুদ্ধে চলমান সামরিক অভিযান আরও জোরদার করতে এবং দেশটিতে সরাসরি মার্কিন স্থলসেনা মোতায়েনের জন্য প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে উৎসাহিত করছেন সৌদি আরবের প্রভাবশালী যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান। প্রভাবশালী মার্কিন সংবাদমাধ্যম ‘দ্য নিউ ইয়র্ক টাইমস’-এর এক প্রতিবেদনে চাঞ্চল্যকর এই তথ্য উঠে এসেছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত এক সপ্তাহে ট্রাম্পের সঙ্গে একাধিকবার ফোনালাপে সালমান বর্তমান ইরানি শাসনব্যবস্থার পতন না হওয়া পর্যন্ত সামরিক তৎপরতা চালিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। সৌদি যুবরাজের আশঙ্কা, ইরানের বর্তমান সরকার ক্ষমতায় থাকলে মধ্যপ্রাচ্য দীর্ঘমেয়াদে নিরাপত্তা ঝুঁকিতে থাকবে। এমনকি বর্তমান সংঘাত থেমে গেলেও ইরান ভবিষ্যতে সৌদি আরবের জ্বালানি অবকাঠামো ও নৌপথে হুমকি অব্যাহত রাখতে পারে। জনসম্মুখে রিয়াদ কূটনৈতিক সমাধানের কথা বললেও পর্দার আড়ালে সালমানের অবস্থান বেশ কঠোর। তিনি চান, মার্কিন বাহিনী ইরানের জ্বালানি কেন্দ্রগুলো দখল করে এবং সরাসরি স্থল অভিযানের মাধ্যমে বর্তমান সরকারকে ক্ষমতাচ্যুত করে তাদের শক্তি চিরতরে নিঃশেষ করে দিক। নিউ ইয়র্ক টাইমসের সূত্রমতে, ট্রাম্প প্রশাসনের ওপর এই চাপ ওয়াশিংটনের নীতি-নির্ধারকদের মধ্যে নতুন করে বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। একদিকে যখন ট্রাম্প ইরানের ওপর হামলা পাঁচ দিনের জন্য স্থগিত রাখার ঘোষণা দিয়েছেন, অন্যদিকে সৌদি আরবের এই কঠোর অবস্থান পরিস্থিতিকে আবারও অনিশ্চয়তার দিকে ঠেলে দিচ্ছে। মধ্যপ্রাচ্যের এই দীর্ঘস্থায়ী শত্রুতা নিরসনে ট্রাম্প শেষ পর্যন্ত সালমানের পরিকল্পনায় সাড়া দেন কি না, সেটিই এখন বিশ্ব রাজনীতির বড় প্রশ্ন।
ফিলিস্তিনের গাজায় চলমান মানবিক বিপর্যয় কাটাতে এবং ফিলিস্তিনিদের অস্তিত্ব রক্ষায় বিশ্ব সম্প্রদায়কে ইসরায়েলের সঙ্গে সব ধরনের অর্থনৈতিক, সামরিক ও আর্থিক সম্পর্ক ছিন্ন করার আহ্বান জানিয়েছেন জাতিসংঘের বিশেষ দূত ফ্রান্সেস্কা আলবানিজ। মঙ্গলবার জেনেভায় এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি সতর্ক করে বলেন, ইসরায়েলি পদক্ষেপ রুখতে 'তীব্র হস্তক্ষেপ' (massive intervention) ছাড়া গাজার মানুষকে বাঁচানো সম্ভব নয়। অধিকৃত ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডের মানবাধিকার বিষয়ক এই বিশেষ দূত প্রশ্ন তোলেন, "কীভাবে সদস্য রাষ্ট্রগুলো এখনো ইসরায়েলের সঙ্গে সম্পর্ক বজায় রাখছে?" তিনি মনে করিয়ে দেন যে, যুদ্ধাপরাধে লিপ্ত কোনো রাষ্ট্রের কাছে অস্ত্র হস্তান্তর না করা প্রতিটি দেশের আন্তর্জাতিক বাধ্যবাধকতা। আলবানিজ উল্লেখ করেন, গাজায় কথিত যুদ্ধবিরতি চললেও পরিস্থিতির কোনো উন্নতি হয়নি, বরং আরও অবনতি হয়েছে। যুদ্ধবিরতি শুরুর পর থেকে ইসরায়েলি হামলায় আরও অন্তত ৬৫০ জন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। তাঁবুতে আশ্রয় নেওয়া অসহায় মানুষদের ওপরও ক্রমাগত হামলা চালানো হচ্ছে। তিনি বলেন, গাজায় ফিলিস্তিনিদের মুছে ফেলার যে প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে, তার প্রভাব লেবানন ও ইরানেও ছড়িয়ে পড়ছে। জেনেভায় জাতিসংঘ মানবাধিকার কাউন্সিলে উপস্থাপিত সর্বশেষ প্রতিবেদনে ফ্রান্সেস্কা আলবানিজ ইসরায়েলি বাহিনীর হাতে আটক ফিলিস্তিনিদের ওপর ভয়াবহ নির্যাতনের বর্ণনা দেন। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বন্দিদের প্রচণ্ড মারধর, হাড় ভেঙে দেওয়া, দীর্ঘক্ষণ চোখ বেঁধে রাখা, ঘুম ও খাবার থেকে বঞ্চিত করা এবং এমনকি যৌন নির্যাতনের মতো ঘটনা ঘটছে। প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে ২০২৬ সালের জানুয়ারি পর্যন্ত সাড়ে ১৮ হাজারেরও বেশি ফিলিস্তিনিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে, যার মধ্যে শিশুরাও রয়েছে। বন্দি অবস্থায় প্রায় ১০০ জনের মৃত্যু হয়েছে এবং ৪ হাজারেরও বেশি মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন। ইসরায়েলি সমালোচনার জবাবে আলবানিজ সপাটে বলেন, "ইসরায়েল যা খুশি বলতে পারে, কিন্তু তাদের অবশ্যই জবাবদিহিতার আওতায় আসতে হবে। তাদের নেতাদের বিচার হেগের আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতে হওয়া উচিত।" তিনি বিশ্ব নেতাদের সমালোচনা করে বলেন, অনেক দেশের সরকার ও মন্ত্রীরা নীরব থেকে কার্যত ইসরায়েলকে ফিলিস্তিনিদের ওপর নির্যাতনের 'লাইসেন্স' দিয়ে রেখেছে। গাজায় বর্তমান পরিস্থিতিকে তিনি 'পরিকল্পিত এবং ইচ্ছাকৃত গণহত্যা' হিসেবে অভিহিত করেন। সূত্র: টিআরটি ওয়ার্ল্ড, আনাদোলু এজেন্সি।