দখলকৃত পশ্চিম তীরের হেব্রনে এক মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় তিন ফিলিস্তিনি নারী নিহত হয়েছেন। বুধবার রাতে ইরান থেকে ছোড়া একটি ক্ষেপণাস্ত্রের ধ্বংসাবশেষ সরাসরি হেব্রনের একটি বিউটি স্যালনের ওপর এসে পড়লে এই হতাহতের ঘটনা ঘটে।
ফিলিস্তিনি সংবাদ সংস্থা 'ওয়াফা'র তথ্যমতে, নিহতরা হলেন ১৭ বছর বয়সী কিশোরী মাইস গাজী মুসালামেহ, ৫০ বছর বয়সী সাহেরা রিজক মুসালামেহ এবং ৩৬ বছর বয়সী আমাল সুবহি আবদেল করিম মুতাওয়া। ক্ষেপণাস্ত্রটি একটি ধাতব ক্যারাভানে নির্মিত স্যালনের ওপর পড়লে ভেতরে থাকা আরও ১৩ জন নারী গুরুতর আহত হন।
ইসরায়েলের উন্নত আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এবং সুরক্ষিত শেল্টার বা বাঙ্কার থাকলেও, পশ্চিম তীরের ফিলিস্তিনিদের জন্য এমন কোনো সুরক্ষা ব্যবস্থা নেই। ঘিঞ্জি পরিবেশ এবং অস্থায়ী বসতিতে বসবাসের কারণে আকাশপথের যেকোনো হামলায় চরম ঝুঁকিতে থাকেন এই অঞ্চলের সাধারণ মানুষ।
এই বিয়োগান্তক ঘটনাটি যুদ্ধের ডামাডোলে ফিলিস্তিনি বেসামরিক নাগরিকদের চরম নিরাপত্তাহীনতাকে আবারও সামনে নিয়ে এসেছে।
মধ্যপ্রাচ্যের ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মধ্যেই একটি চাঞ্চল্যকর দাবি ভূ-রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে বিতর্কের ঝড় তুলেছে। গত ৪৮ থেকে ৫৬ ঘণ্টার মধ্যে ১৬টি চীনা 'ওয়াই-২০' (Y-20) সামরিক কার্গো বিমান তাদের ট্রান্সপন্ডার বা সিগন্যাল বন্ধ রেখে ইরানের আকাশে প্রবেশ করেছে বলে খবর ছড়িয়েছে। কোনো আনুষ্ঠানিক নিশ্চিতকরণ ছাড়াই এই তথ্যটি প্রতিরক্ষা বিশ্লেষক ও সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারকারীদের মধ্যে তীব্র উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। দাবি করা হচ্ছে, এই বিমানগুলো বেসামরিক রাডার থেকে আড়াল থাকতে বিশেষ কৌশল অবলম্বন করেছিল। নেটিজেন ও সামরিক বিশ্লেষকদের একটি অংশের ধারণা, চীন হয়তো ইরানকে অত্যাধুনিক ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার সিস্টেম বা জ্যামিং প্রযুক্তি সরবরাহ করছে। যদি এটি সত্যি হয়, তবে মার্কিন এফ-৩৫ (F-35) যুদ্ধবিমান বা নৌ-অভিযানের জন্য এটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে। অনেকে একে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি বেইজিংয়ের সরাসরি ‘সতর্কবার্তা’ হিসেবেও দেখছেন। তবে এই উত্তেজনার মুদ্রার উল্টো পিঠও রয়েছে। ফ্লাইটরাডার২৪-এর মতো আন্তর্জাতিক ফ্লাইট ট্র্যাকিং প্ল্যাটফর্মে এ ধরনের কোনো অস্বাভাবিক ফ্লাইটের রেকর্ড পাওয়া যায়নি। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ১৬টি ভারী সামরিক কার্গো বিমানের মতো বিশাল বহরকে রাডার বা স্যাটেলাইট নজরদারি থেকে সম্পূর্ণ লুকিয়ে রাখা প্রায় অসম্ভব। বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে চীন-ইরান সম্পর্ক গভীর হলেও, সুনির্দিষ্ট প্রমাণের অভাবে বিশ্লেষকরা একে আপাতত ‘সুপরিকল্পিত গুজব’ বা মিসইনফরমেশন হিসেবেই দেখছেন। তেহরান বা বেইজিং—কোনো পক্ষ থেকেই এখন পর্যন্ত এ নিয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া মেলেনি।
এপস্টেইন ফাইল: দাবি, বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করে ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে জেফরি এপস্টেইনের ফাইল ট্রান্সপারেন্সি অ্যাক্টের সাথে যুক্ত সম্প্রতি প্রকাশিত একটি নথি ত্রাঞ্চে অভিযোগ করা হয়েছে যে, প্রাক্তন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একটি ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। এই নথিগুলি, যা আনক্লাসিফায়েড ডিপার্টমেন্ট অব জাস্টিস (DOJ) রেকর্ডের একটি বিশাল ডেটা রিলিজের অংশ, “চার্লস” নামে একজনের ক্ষুব্ধ ইমেইল অন্তর্ভুক্ত করেছে এবং অন্তর্বর্তী ফাইলিং কোড EFTA00173266 থেকে EFTA00173273 পর্যন্ত চিহ্নিত। এই ইমেইলগুলো তৃতীয় পক্ষের যোগাযোগের মধ্যে পাওয়া গেছে, যা জেফরি এপস্টেইনের নেটওয়ার্ক সংক্রান্ত বিস্তৃত ফেডারেল তদন্তের সময় সংগ্রহ করা হয়েছিল। এপস্টেইন সম্পর্কিত অন্যান্য প্রকাশনার মতো এখানে রাজনৈতিক ও ব্যবসায়িক ব্যক্তিদের সঙ্গে সম্পর্কের তথ্য নয়, বরং চরম ও ষড়যন্ত্রমূলক দাবিগুলো রয়েছে। ক্লোন তত্ত্বের উল্লেখ “চার্লস” ইমেইলগুলো এপ্রিল ২০২১-এ একজন এফবিআই এজেন্টকে ফরোয়ার্ড করা হয়েছিল, যাকে লাল করা প্রেরক হিসেবে দেখানো হয়েছে। প্রেরক দাবি করেছিলেন যে এটি একটি প্রযুক্তি সংস্থার এক ক্ষুব্ধ প্রাক্তন কর্মচারী বা সহযোগীর মেসেজ। ইমেইলগুলিতে গালাগালি ভাষা ব্যবহৃত হয়েছে এবং এখানে “কোয়ান্টাম” প্রযুক্তি, গোপন সামরিক ট্রাইব্যুনাল, এবং “বাইডেন আপনার বর্তমান প্রেসিডেন্ট নন” এমন দাবির উল্লেখ রয়েছে। একটি অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে নির্বিচারে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একজন অভিনেতা বা ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে, যেখানে প্রমাণ হিসেবে “মাস্কের ত্রুটি” দেখানো হয়েছে। তবে এই দাবিগুলোর সঙ্গে কোনো শারীরিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি বা সঙ্গত সাক্ষ্য নেই। “বাইডেন ক্লোন” দাবি অনলাইনে ষড়যন্ত্র তত্ত্বের একটি পরিচিত অংশ। তত্ত্বটি সাধারণত ধরে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে গোপনে জনমঞ্চ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে, প্রায়শই ২০১৯ বা ২০২০ সালে, এবং তাকে চেহারা মিলানো লোক বা ক্লোন দিয়ে প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। অনুগামীরা প্রায়শই নিম্নমানের ভিডিও এবং ফটোগ্রাফ বিশ্লেষণ করে, চেহারার পরিবর্তন যেমন আলোর পরিবর্তন, বয়সের প্রভাব বা ক্যামেরার ত্রুটিকে কৃত্রিমভাবে আড়াল করার প্রমাণ হিসেবে দেখান। এ পর্যন্ত কোনো যাচাইযোগ্য প্রমাণ নেই যে প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন কখনো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন বা প্রতিস্থাপিত হয়েছেন। এই দাবিগুলি সম্পূর্ণভাবে একটি ষড়যন্ত্র তত্ত্ব হিসেবে রয়ে গেছে। সূত্র: Royanews
দাম বাড়ানোর ১২ ঘণ্টারও কম সময়ের ব্যবধানে দেশের বাজারে আবারও স্বর্ণের দাম কমিয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। ভরিতে এক লাফে ৩ হাজার ২৬৬ টাকা কমিয়ে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ৫৮ হাজার ৮২৪ টাকা। শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) রাতে বাজুসের এক বিজ্ঞপ্তিতে দাম কমানোর বিষয়টি জানানো হয়েছে। নতুন দাম রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) থেকেই কার্যকর হবে। এর আগে একই দিন সকালে দেশের বাজারে স্বর্ণের দাম বাড়ানো হয়। ওই সময় ভরিপ্রতি এক লাফে ৭ হাজার ৬৪০ টাকা বাড়িয়ে ২২ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণের দাম নির্ধারণ করা হয়েছিল ২ লাখ ৬২ হাজার ৯০ টাকা। নতুন দাম অনুযায়ী, বর্তমানে দেশের বাজারে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) স্বর্ণের দাম পড়বে ২ লাখ ৫৮ হাজার ৮২৪ টাকা। পাশাপাশি ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ৪৭ হাজার ৪৪ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ১১ হাজার ৭৬০ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম পড়বে ১ লাখ ৭৩ হাজার ৩২৭ টাকা। এ নিয়ে চলতি বছর দেশের বাজারে মোট ২৭ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করলো বাজুস। এরমধ্যে ১৭ বারই দাম বাড়ানো হয়েছে। আর দাম কমেছে মাত্র ১০ বার। অন্যদিকে গতবছর দেশের বাজারে মোট ৯৩ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করা হয়েছিল। যেখানে ৬৪ বারই দাম বাড়ানো হয়েছিল। এছাড়া ২০২৫ সালে ২৯ বার কমানো হয়েছিল স্বর্ণের দাম।
যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসন নীতিতে কঠোরতা আরও স্পষ্ট হচ্ছে। সর্বশেষ মেইন (Maine) অঙ্গরাজ্যে ফেডারেল ইমিগ্রেশন অভিযান শুরুর ঘোষণা দিয়েছে Department of Homeland Security (ডিএইচএস)। ডিএইচএসের এক মুখপাত্রের বরাতে জানা গেছে, “Operation Catch of the Day” নামে এই বিশেষ অভিযানের মাধ্যমে রাজ্যটিতে অবস্থানরত অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত অবৈধ অভিবাসীদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তার করা হবে। অভিযানটি পরিচালনায় ফেডারেল ইমিগ্রেশন কর্মকর্তাদের পাশাপাশি স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সমন্বয় রয়েছে। কর্তৃপক্ষ বলছে, এই উদ্যোগের প্রধান লক্ষ্য জননিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং সহিংস বা গুরুতর অপরাধে যুক্ত ব্যক্তিদের আইনের আওতায় আনা। ডিএইচএস আরও জানায়, আইন মেনে বসবাসকারী বা অপরাধে জড়িত নন—এমন অভিবাসীদের লক্ষ্যবস্তু করা হবে না। তবে মানবাধিকার ও অভিবাসী অধিকার সংগঠনগুলোর আশঙ্কা, এ ধরনের অভিযানে ভয় ও অনিশ্চয়তা তৈরি হতে পারে এবং নিরপরাধ মানুষও হয়রানির শিকার হতে পারেন। এ নিয়ে তারা স্বচ্ছতা ও যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণের আহ্বান জানিয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, মেইনে এই অভিযান শুরুর মাধ্যমে ফেডারেল সরকারের অভিবাসন আইন প্রয়োগ আরও বিস্তৃত পরিসরে জোরদার হলো। এর প্রভাব স্থানীয় অভিবাসী কমিউনিটির পাশাপাশি রাজ্যের রাজনৈতিক ও সামাজিক পরিমণ্ডলেও পড়তে পারে। সূত্র: ABC News
যুক্তরাষ্ট্রের শ্রমবাজারে তীব্র কর্মী সংকট মোকাবিলায় ২০২৬ অর্থবছরে বড় ধরনের পদক্ষেপ নিয়েছে ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন। নিয়মিত কোটার বাইরে অতিরিক্ত প্রায় ৬৪ হাজার ৭১৬টি এইচ-২বি মৌসুমি অতিথি শ্রমিক ভিসা দেওয়ার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। রয়টার্সের বরাতে জানা গেছে, স্থানীয় সময় শুক্রবার (৩০ জানুয়ারি) প্রকাশিত ফেডারেল রেজিস্টার নোটিশে বলা হয়, দেশীয় শ্রমিকের ঘাটতির কারণে যেসব মার্কিন নিয়োগকর্তা বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ছেন, মূলত তাদের স্বার্থ বিবেচনায় নিয়েই এই অতিরিক্ত ভিসার অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। ফলে বছরে নির্ধারিত ৬৬ হাজার এইচ-২বি ভিসার সংখ্যা প্রায় দ্বিগুণে পৌঁছাতে যাচ্ছে। নতুন এই সিদ্ধান্তে নির্মাণ শিল্প, হোটেল ও রেস্তোরাঁ, ল্যান্ডস্কেপিং এবং সি-ফুড প্রক্রিয়াজাতকরণ খাতের মতো শ্রমনির্ভর মৌসুমি শিল্পগুলো সবচেয়ে বেশি উপকৃত হবে বলে মনে করা হচ্ছে। এসব খাতে দীর্ঘদিন ধরেই দক্ষ স্থানীয় কর্মীর অভাবে বিদেশি শ্রমিক আনার দাবি জানিয়ে আসছিলেন নিয়োগকর্তারা। ক্ষমতায় আসার পর ট্রাম্প প্রশাসন অবৈধ অভিবাসনের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিলেও, বৈধ পথে কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়িয়ে অর্থনীতিকে সচল রাখতে এই নমনীয় সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এর আগেও সাবেক প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন প্রশাসনের সময় শ্রমঘাটতি মোকাবিলায় এইচ-২বি ভিসার সংখ্যা বাড়ানো হয়েছিল। তবে সরকারের এই সিদ্ধান্তের বিরোধিতাও রয়েছে। অভিবাসন কমানোর পক্ষে থাকা বিভিন্ন গোষ্ঠীর আশঙ্কা, বিপুল সংখ্যক বিদেশি শ্রমিক প্রবেশ করলে মার্কিন নাগরিকদের মজুরি কমে যেতে পারে। এ বিষয়ে পেন্টাগন ও শ্রম মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, দেশের উন্নয়ন প্রকল্প এবং পর্যটন খাত সচল রাখতে এই মুহূর্তে বিদেশি শ্রমিকের বিকল্প নেই। ফেডারেল রেজিস্টারের তথ্যানুযায়ী, অতিরিক্ত এইচ-২বি ভিসা কার্যকরের বিশেষ বিধিমালা আগামী মঙ্গলবার আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হবে এবং এরপরই আবেদন প্রক্রিয়া শুরু হবে। সূত্র: দ্য ফিন্যান্সিয়াল এক্সপ্রেস
নাইজেরিয়ার উত্তর-পূর্বাঞ্চলে সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে বড়সড় সাফল্য দাবি করেছে দেশটির সেনাবাহিনী। বুধবার এক রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে অন্তত ৮০ জন জঙ্গি নিহত হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছে প্রশাসন। গত কয়েক মাস ধরে সাধারণ মানুষের ওপর বোকো হারাম ও আইএস-এর মতো গোষ্ঠীগুলোর নৃশংস হামলার প্রেক্ষাপটে এই অভিযানকে একটি শক্ত জবাব হিসেবে দেখা হচ্ছে। সম্প্রতি নাইজেরিয়ার উত্তর-পূর্বাঞ্চলে নিরাপত্তা পরিস্থিতির চরম অবনতি ঘটে। বাজার, হাসপাতাল ও পোস্ট অফিসের মতো জনবহুল স্থানে নিয়মিত আত্মঘাতী হামলা চালিয়ে আসছিল সন্ত্রাসীরা। চলতি সপ্তাহের শুরুতে এমনই এক ভয়াবহ আত্মঘাতী হামলায় ২৩ জন নিহত ও শতাধিক মানুষ আহত হন। এই ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই নাইজার সীমান্তের কাছে একটি সেনাঘাঁটির পাশে জঙ্গিদের অবস্থানের খবর পায় নিরাপত্তা বাহিনী। সঙ্গে সঙ্গেই সেখানে বিশেষ অভিযান শুরু করা হয়। এই অভিযানে পদাতিক বাহিনীর পাশাপাশি বিমান বাহিনীও সক্রিয়ভাবে অংশ নেয়। আকাশপথ ও স্থলপথের সম্মিলিত আক্রমণে কার্যত বিধ্বস্ত হয়ে পড়ে জঙ্গি ঘাঁটিটি। দীর্ঘদিন ধরেই নাইজেরিয়ার এই অঞ্চলে বোকো হারাম এবং আইএস-এর অনুসারী গোষ্ঠীগুলো শক্তিশালী অবস্থানে রয়েছে। সাম্প্রতিক আত্মঘাতী হামলার দায় কোনো গোষ্ঠী সরাসরি স্বীকার না করলেও, সেনাবাহিনী এই রক্তক্ষয়ী অভিযানের মাধ্যমে স্পষ্ট বার্তা দিয়েছে যে তারা সন্ত্রাসবাদ দমনে কঠোর অবস্থানে রয়েছে।
জাতিসংঘের পৃষ্ঠপোষকতায় প্রকাশিত 'ওয়ার্ল্ড হ্যাপিনেস রিপোর্ট' বা 'বিশ্ব সুখ প্রতিবেদন ২০২৬'-এ টানা নবমবারের মতো বিশ্বের সবচেয়ে সুখী দেশের মুকুট ধরে রেখেছে ফিনল্যান্ড। অন্যদিকে, পার্শ্ববর্তী দেশ ভারত তাদের অবস্থানের কিছুটা উন্নতি ঘটালেও দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে সুখের সূচকে বেশ নিচের দিকেই অবস্থান করছে বাংলাদেশ। এই বছরের তালিকায় সবচেয়ে বড় চমক হিসেবে উঠে এসেছে লাতিন আমেরিকার দেশ কোস্টারিকা। শীর্ষ দশে যারা: প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, ফিনল্যান্ডের পর তালিকার দ্বিতীয় ও তৃতীয় স্থানে রয়েছে আইসল্যান্ড এবং ডেনমার্ক। চতুর্থ স্থানে জায়গা করে নিয়ে বিশ্বকে চমকে দিয়েছে কোস্টারিকা, যা গত বছর ২৩তম অবস্থানে ছিল। তালিকার শীর্ষ ১০-এর বাকি দেশগুলো হলো যথাক্রমে সুইডেন, নরওয়ে, নেদারল্যান্ডস, ইসরায়েল, লুক্সেমবার্গ এবং সুইজারল্যান্ড। বরাবরের মতোই সুখী দেশের তালিকায় আধিপত্য বিস্তার করে আছে নর্ডিক অঞ্চলের দেশগুলো। বাংলাদেশ ও দক্ষিণ এশিয়ার চিত্র: দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে নেপাল (৯২তম) সবচেয়ে ভালো অবস্থানে রয়েছে। এরপরই রয়েছে পাকিস্তান (১০৯তম)। গত বছরের ১১৮তম অবস্থান থেকে সামান্য উন্নতি করে ভারত এবার ১১৬তম স্থানে উঠে এসেছে। তবে বাংলাদেশের জন্য এই প্রতিবেদন সুখবর বয়ে আনেনি। এবারের সূচকে বাংলাদেশের অবস্থান ১৩৪তম। গত বছর এই অবস্থান ছিল ১২৯তম। অর্থাৎ, সুখের সূচকে বাংলাদেশ আরও পাঁচ ধাপ নিচে নেমে গেছে। দক্ষিণ এশিয়ায় একমাত্র যুদ্ধবিধ্বস্ত আফগানিস্তান (১৪৭তম) বাংলাদেশের নিচে অবস্থান করছে। সুখ পরিমাপের মাপকাঠি: জাতিসংঘের পৃষ্ঠপোষকতায় অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়েলবিয়িং রিসার্চ সেন্টার এই প্রতিবেদনটি তৈরি করেছে। মূলত মাথাপিছু মোট দেশজ উৎপাদন (জিডিপি), সামাজিক নিরাপত্তা, গড় আয়ু, ব্যক্তিগত স্বাধীনতা, পরোপকার এবং দুর্নীতির হারের মতো ছয়টি মূল বিষয়ের ওপর ভিত্তি করে এই সূচক নির্ধারণ করা হয়। ১৪০টিরও বেশি দেশের মানুষের জীবনযাত্রার সন্তুষ্টির ওপর জরিপ চালিয়ে এই ফলাফল প্রকাশ করা হয়েছে। তরুণ প্রজন্মের সুখ ও সোশ্যাল মিডিয়া: এবারের প্রতিবেদনে একটি উদ্বেগের বিষয় উঠে এসেছে। ইংরেজিভাষী এবং পশ্চিম ইউরোপের দেশগুলোতে তরুণ প্রজন্মের মধ্যে সুখের মাত্রা আশঙ্কাজনকভাবে কমেছে। গবেষকদের মতে, অতিরিক্ত সোশ্যাল মিডিয়া বা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের ব্যবহার তরুণ-তরুণীদের মানসিক স্বাস্থ্যের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে, যা তাদের জীবন সম্পর্কে অতৃপ্তি বাড়িয়ে দিচ্ছে। বিশেষ করে কানাডা, যুক্তরাষ্ট্র ও ব্রিটেনের মতো দেশগুলোতে তরুণদের মধ্যে এই প্রবণতা বেশি দেখা গেছে। অসুখী দেশের তালিকায় তলানিতে যারা: তালিকার বিপরীত দিকে অর্থাৎ বিশ্বের সবচেয়ে কম সুখী বা ‘অসুখী’ দেশের তকমা পেয়েছে যুদ্ধবিধ্বস্ত আফগানিস্তান। তালিকার একেবারে তলানিতে থাকা অন্য দেশগুলোর মধ্যে রয়েছে সিয়েরা লিওন ও মালাউই। বিশেষজ্ঞদের মতে, ফিনল্যান্ড বা নর্ডিক দেশগুলোর এই সাফল্যের মূলে রয়েছে সেখানকার শক্তিশালী সামাজিক সুরক্ষা ব্যবস্থা, নাগরিকদের একে অপরের প্রতি অগাধ বিশ্বাস এবং সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোর স্বচ্ছতা। অন্যদিকে, কোস্টারিকার চতুর্থ স্থানে উঠে আসা প্রমাণ করে যে, পারিবারিক বন্ধন ও সামাজিক সম্পর্কের গভীরতা একটি জাতির সামগ্রিক সুখে বিশাল ভূমিকা পালন করতে পারে।
"জন্ম থেকেই কিউবার নাম শুনে আসছি, এবার কোনো না কোনোভাবে আমরা কিউবা নিয়ে নেব।"— মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের এই একটি বাক্যেই নতুন করে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে আন্তর্জাতিক রাজনীতির ময়দান। গত মঙ্গলবার হোয়াইট হাউসের ওভাল অফিস থেকে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে কিউবা দখলের এক প্রকার প্রকাশ্য ঘোষণা দিলেন তিনি। সংকটে কিউবা: অন্ধকারে ডুবছে দ্বীপরাষ্ট্র বর্তমানে কিউবা ইতিহাসের অন্যতম ভয়াবহ জ্বালানি সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। বিদ্যুৎহীনতায় কিউবার বিস্তীর্ণ অঞ্চল এখন অন্ধকারে নিমজ্জিত। দেশটির প্রেসিডেন্ট মিগুয়েল দিয়াজ-ক্যানেল জানিয়েছেন, গত তিন মাসে কোনো জ্বালানি তেল কিউবায় প্রবেশ করতে পারেনি। ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোর পতনের পর সেখান থেকে তেল আমদানিতে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা জারি হওয়ায় কিউবার পাওয়ার গ্রিডগুলো অচল হয়ে পড়েছে। সুর নরম থেকে চরম: ট্রাম্পের ৮ দিনের পরিবর্তন মাত্র আট দিন আগে গত ৯ই মার্চ ট্রাম্প কিউবার সংকট নিরসনে 'বন্ধুত্বপূর্ণ অধিগ্রহণে'র (Friendly Acquisition) প্রস্তাব দিয়েছিলেন। কিন্তু ১৭ই মার্চ তার সুর সম্পূর্ণ বদলে যায়। তিনি স্পষ্টভাবে বলেন, "আমরা কিউবাকে স্বাধীন করতে পারি, অধিগ্রহণ করতে পারি বা যা খুশি করতে পারি। সত্যি বলতে, ওরা এখন অত্যন্ত দুর্বল একটি রাষ্ট্র।" ইতিহাসের প্রেক্ষাপট: ২০০ বছরের আধিপত্যের লড়াই বিশেষজ্ঞদের মতে, কিউবার প্রতি ট্রাম্পের এই মনোভাব কেবল ব্যক্তিগত নয়, বরং এটি আমেরিকার দীর্ঘদিনের ভূ-রাজনৈতিক উচ্চাকাঙ্ক্ষারই প্রতিফলন। ১৯০২ সালে কিউবা নামমাত্র স্বাধীনতা পেলেও মার্কিন 'প্ল্যাট সংশোধনী'র মাধ্যমে দেশটির অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ বজায় রাখে ওয়াশিংটন। পরবর্তীতে ফিদেল কাস্ত্রোর বিপ্লব এবং চে গেভারার গেরিলা যুদ্ধের মাধ্যমে কিউবা আমেরিকার প্রভাবমুক্ত হওয়ার চেষ্টা করলেও তা চিরস্থায়ী শত্রুতার জন্ম দেয়। ১৯৬১ সালের ব্যর্থ 'বে অফ পিগস' অভিযান থেকে শুরু করে বর্তমানের অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা—আমেরিকা সবসময়ই কিউবাকে একটি 'কমিউনিস্ট হুমকি' হিসেবে দেখে এসেছে। আদর্শগত যুদ্ধ ও মারকো রুবিও ফ্যাক্টর ট্রাম্পের বর্তমান প্রশাসনে পররাষ্ট্রমন্ত্রী মারকো রুবিও, যিনি নিজে একজন কিউবান শরণার্থীর সন্তান, কিউবায় সরকার পরিবর্তনের কট্টর সমর্থক। ট্রাম্প এমনকি রুবিওকে কিউবার ভবিষ্যৎ প্রেসিডেন্ট হিসেবে দেখার ইচ্ছাও প্রকাশ করেছেন। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, কিউবা এখন ট্রাম্পের কাছে একটি 'আদর্শগত যুদ্ধ' বা 'আইডিওলজিক্যাল ব্যাটল' হয়ে দাঁড়িয়েছে। ভেনেজুয়েলার পর কিউবা কি তবে আমেরিকার পরবর্তী লক্ষ্য? ট্রাম্পের এই 'অধিগ্রহণ' বার্তার পর লাতিন আমেরিকার রাজনীতি কোন দিকে মোড় নেয়, এখন সেটাই দেখার বিষয়। সূত্র: বিবিসি।