- প্রচ্ছদ
- Topic
চিকিৎসকের সহায়তায় জীবনাবসান
কানাডায় চিকিৎসকের সহায়তায় জীবনাবসানের ব্যবস্থা চালুর এক দশক পূর্ণ হওয়ার সময়ে এ ব্যবস্থার আওতায় মৃত্যুর সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। দেশটির সরকারি তথ্য অনুযায়ী, ২০১৬ সালে চালু হওয়া ‘মেডিকেল অ্যাসিস্ট্যান্স ইন ডায়িং’ বা এমএআইডির আওতায় ২০২৪ সাল পর্যন্ত ৭৬ হাজার ৪৭৫ জনের মৃত্যু হয়েছে। শুধু ২০২৪ সালেই এ ব্যবস্থার মাধ্যমে মারা গেছেন ১৬ হাজার ৪৯৯ জন। কানাডার বিভিন্ন অঞ্চলে এমএআইডির আওতায় মৃত্যুর হার আরও বেশি। বিশেষ করে কুইবেক প্রদেশের লানদিয়ের অঞ্চলে ২০২৪-২৫ অর্থবছরে মোট মৃত্যুর ১৩ দশমিক ৪ শতাংশ এমএআইডির আওতায় হয়েছে বলে কুইবেকের জীবনাবসান-সংক্রান্ত কমিশনের প্রতিবেদনের তথ্য উদ্ধৃত করে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে। একই সময়ে পুরো কুইবেকে ৬ হাজার ২৬৮ জন এমএআইডির মাধ্যমে মারা যান, যা আগের সময়ের তুলনায় প্রায় ৯ শতাংশ বেশি। তবে কানাডার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় স্পষ্ট করেছে। এমএআইডিকে দেশটির সরকারি পরিসংখ্যানে মৃত্যুর একটি ‘কারণ’ হিসেবে গণ্য করা হয় না। যেমন, কোনো ক্যানসার আক্রান্ত ব্যক্তি এমএআইডি গ্রহণ করে মারা গেলে মৃত্যুসনদে সাধারণত ক্যানসারকেই মৃত্যুর কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়। তাই এমএআইডির সংখ্যা সরাসরি অন্যান্য রোগ বা মৃত্যুর কারণের সঙ্গে তুলনা করা উচিত নয়। ২০২৪ সালের সরকারি প্রতিবেদনে দেখা যায়, ওই বছর এমএআইডির আওতায় মৃত্যুর ৯৫ দশমিক ৬ শতাংশ ছিল ‘ট্র্যাক-১’ শ্রেণির। অর্থাৎ এসব ব্যক্তির স্বাভাবিক মৃত্যু যুক্তিসংগতভাবে অদূর ভবিষ্যতে প্রত্যাশিত ছিল। বাকি ৪ দশমিক ৪ শতাংশ ছিল ‘ট্র্যাক-২’, যেখানে স্বাভাবিক মৃত্যু অদূর ভবিষ্যতে প্রত্যাশিত ছিল না। ২০১৯ সালে কানাডায় এমএআইডির আওতায় ৫ হাজার ৪৬১ জনের মৃত্যু হয়েছিল। ২০২০ সালে তা বেড়ে ৭ হাজার ৪৬৯, ২০২১ সালে ১০ হাজার ৬৬, ২০২২ সালে ১৩ হাজার ১৯৯ এবং ২০২৩ সালে ১৫ হাজার ৪২৭ জনে দাঁড়ায়। ২০২৪ সালে সংখ্যা বেড়ে হয় ১৬ হাজার ৪৯৯। যদিও সংখ্যা বাড়ছে, বৃদ্ধির হার আগের তুলনায় কমেছে। ২০২৩ থেকে ২০২৪ সালে বৃদ্ধির হার ছিল ৬ দশমিক ৯ শতাংশ। ২০২৪ সালে এমএআইডির জন্য মোট ২২ হাজার ৫৩৫টি অনুরোধের তথ্য স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের কাছে জমা পড়ে। এর মধ্যে ১৬ হাজার ৪৯৯ জন শেষ পর্যন্ত এমএআইডি পান। আরও ৪ হাজার ১৭ জন আবেদনকারী অন্য কোনো কারণে মারা যান, ১ হাজার ৩২৭ জনকে যোগ্য হিসেবে বিবেচনা করা হয়নি এবং ৬৯২ জন নিজেদের আবেদন প্রত্যাহার করেন। কানাডায় এমএআইডি চালুর পেছনে ২০১৫ সালের সুপ্রিম কোর্টের একটি গুরুত্বপূর্ণ রায় ছিল। এরপর ২০১৬ সালে পার্লামেন্ট আইন প্রণয়ন করে নির্দিষ্ট শর্ত ও সুরক্ষা ব্যবস্থার অধীনে যোগ্য প্রাপ্তবয়স্কদের চিকিৎসকের সহায়তায় জীবনাবসানের সুযোগ দেয়। বর্তমানে মানসিক অসুস্থতাকে একমাত্র ভিত্তি হিসেবে এমএআইডির যোগ্যতার ক্ষেত্রে অন্তর্ভুক্ত করার বিষয়টি ১৭ মার্চ ২০২৭ পর্যন্ত স্থগিত রয়েছে। এদিকে কানাডার স্বাস্থ্যব্যবস্থায় চিকিৎসার জন্য দীর্ঘ অপেক্ষার বিষয়টিও আলোচনায় রয়েছে। ফ্রেজার ইনস্টিটিউটের ২০২৫ সালের চিকিৎসা-অপেক্ষা সংক্রান্ত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পারিবারিক চিকিৎসকের কাছ থেকে বিশেষজ্ঞের কাছে পাঠানোর পর চিকিৎসা পাওয়া পর্যন্ত কানাডায় মধ্যমা অপেক্ষার সময় ছিল ২৮ দশমিক ৬ সপ্তাহ। অস্থি-সংক্রান্ত অস্ত্রোপচারের ক্ষেত্রে তা ছিল ৪৮ দশমিক ৬ সপ্তাহ। তবে এটি একটি স্বাধীন গবেষণা প্রতিষ্ঠানের চিকিৎসকদের ওপর পরিচালিত জরিপভিত্তিক হিসাব, সরকারি স্বাস্থ্য পরিসংখ্যান নয়। এমএআইডি নিয়ে বিতর্কের একটি বড় অংশ হলো, এটি রোগীর নিজের সিদ্ধান্ত ও কষ্ট থেকে মুক্তির অধিকারকে গুরুত্ব দেয়, নাকি গুরুতর অসুস্থ ও ঝুঁকিপূর্ণ মানুষের ক্ষেত্রে পর্যাপ্ত সুরক্ষা নিশ্চিত করা কঠিন করে তুলতে পারে। কানাডার সরকার বলছে, এমএআইডির জন্য কঠোর যোগ্যতার শর্ত ও সুরক্ষা ব্যবস্থা রয়েছে। অন্যদিকে কিছু চিকিৎসক, অধিকারকর্মী ও সংগঠন এসব সুরক্ষা কতটা কার্যকরভাবে প্রয়োগ হচ্ছে তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। সাম্প্রতিক সময়ে কয়েকটি ব্যক্তিগত ঘটনাও এ বিতর্ককে নতুন করে সামনে এনেছে। ৮৩ বছর বয়সী ব্রিজিট স্টেগেমানের মৃত্যুকে ঘিরে তার নাতনি অভিযোগ করেছেন, এমএআইডি গ্রহণের আগে তার দাদি সিদ্ধান্তটি নিয়ে দ্বিধায় ছিলেন এবং শেষ মুহূর্তে বলেছিলেন, ‘আমি ভুল করেছি’। পরিবারটি ঘটনাটি তদন্তের দাবি জানিয়েছে। তবে এসব অভিযোগের সত্যতা ও এমএআইডির সব নিয়ম যথাযথভাবে অনুসরণ করা হয়েছিল কি না, তা স্বাধীন তদন্ত বা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্তের বিষয়। আরেকটি আলোচিত ঘটনা ২৬ বছর বয়সী কিয়ানো ভাফাইয়ানের। তিনি ২০২৫ সালের ৩০ ডিসেম্বর এমএআইডির মাধ্যমে মারা যান। তার মা দাবি করেছেন, ছেলের শারীরিক সমস্যা ও মানসিক অবস্থার কারণে তিনি ওই সিদ্ধান্ত নেওয়ার উপযুক্ত অবস্থায় ছিলেন না। তবে এমএআইডি প্রদানকারী চিকিৎসক এলেন ভিয়েবে বলেছেন, তিনি কাউকে কেবল মানসিক অসুস্থতার ভিত্তিতে এমএআইডি দেননি। কানাডায় শুধু মানসিক অসুস্থতাকে ভিত্তি করে এমএআইডি দেওয়ার সুযোগ এখনও স্থগিত রয়েছে। অন্যদিকে এমএআইডির সমর্থকেরা বলেন, গুরুতর ও অসহনীয় কষ্টে থাকা যোগ্য রোগীদের নিজেদের জীবনের শেষ পর্যায় সম্পর্কে সিদ্ধান্ত নেওয়ার অধিকার থাকা উচিত। কানাডার সরকারি প্রতিবেদনও এমএআইডিকে নির্দিষ্ট যোগ্যতা ও আইনি সুরক্ষার অধীনে দেওয়া একটি স্বাস্থ্যসেবা হিসেবে বর্ণনা করেছে। কানাডায় এমএআইডি চালুর ১০ বছর পূর্তির সময়ে তাই এ ব্যবস্থা নিয়ে বিতর্ক কেবল মৃত্যুর সংখ্যা বৃদ্ধিকে ঘিরে নয়। রোগীর স্বায়ত্তশাসন, চিকিৎসকের ভূমিকা, প্যালিয়েটিভ বা জীবনাবসানকালীন সেবা, চিকিৎসা পাওয়ার অপেক্ষার সময় এবং ঝুঁকিপূর্ণ রোগীদের সুরক্ষা, সবকিছুই এখন আলোচনার কেন্দ্রে রয়েছে। সূত্র: কানাডার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়, কুইবেক কমিশন অন এনড-অব-লাইফ কেয়ার, ফ্রেজার ইনস্টিটিউট, নিউইয়র্ক পোস্ট
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।