মান্দা উপজেলার নুরুল্যাবাদ ইউনিয়নের কালীগ্রামে চাঁদা না দেওয়ায় এক ব্যক্তিকে হাতুড়ি দিয়ে পিটিয়ে গুরুতর জখম করার অভিযোগ উঠেছে। রোববার (২২ মার্চ) দুপুরে এ ঘটনা ঘটে। আহত সারওয়ার জাহান (৪৫) স্থানীয় বাসিন্দা। গুরুতর অবস্থায় তাকে প্রথমে মান্দা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল-এ ভর্তি করা হয়েছে। পরিবারের অভিযোগ, প্রায় এক বছর আগে বসতবাড়ি কেনার পর থেকেই অভিযুক্ত রাজু আহমেদ ও তার সহযোগীরা এক লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে আসছিল। ঈদের আগেও তাদের বাড়ি ঘেরাও করা হয়েছিল বলে জানান ভুক্তভোগীর স্ত্রী। রোববার দুপুরে একই দাবিতে অভিযুক্তরা সারওয়ার জাহানকে কালীগ্রাম উপস্বাস্থ্য কেন্দ্রের পেছনে নিয়ে গিয়ে হাতুড়ি দিয়ে মাথাসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত করে গুরুতর আহত করে। স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠান। এ ঘটনায় অভিযুক্ত রাজু আহমেদের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া গেছে। মান্দা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা কে এম মাসুদ রানা জানান, এখনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি। অভিযোগ পেলে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণের জন্য মাঠ পর্যায়ের পুলিশ কর্মকর্তাদের কড়া বার্তা দিয়েছেন নবনিযুক্ত পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) মো. আলী হোসেন ফকির। তিনি বলেন, ছিনতাই, চাঁদাবাজি ও মাদক বন্ধে কঠোর পদক্ষেপ নিতে হবে এবং কোনো ধরনের শৈথিল্য বরদাশত করা হবে না। সোমবার (২ মার্চ) সকালে পুলিশ সদরদপ্তর থেকে অনলাইন প্ল্যাটফর্মে দেশের সব জেলার পুলিশ সুপারদের সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে মতবিনিময়কালে এসব নির্দেশনা দেন আইজিপি। এ সময় তিনি মহাসড়কে চাঁদাবাজি, ছিনতাই ও ডাকাতি বন্ধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেন এবং হাইওয়ে পুলিশের পাশাপাশি জেলা পুলিশকেও মহাসড়কে তৎপরতা বাড়ানোর আহ্বান জানান। আসন্ন ঈদে ঘরমুখো মানুষের যাতায়াত নিরাপদ ও নির্বিঘ্ন করতে নির্দেশনা দিয়ে তিনি বলেন, যানজট নিরসনে আগাম প্রস্তুতি নিতে হবে এবং যাত্রীদের নিরাপদে গন্তব্যে পৌঁছানো ও ফিরে আসা নিশ্চিত করতে হবে। আইজিপি আরও বলেন, থানায় সেবা নিতে আসা মানুষের সঙ্গে ভালো আচরণ করতে হবে, যাতে তারা সন্তুষ্ট হয়ে ফিরে যেতে পারেন। মানুষের সঙ্গে সদাচরণ করে আস্থা অর্জনের মাধ্যমে বাংলাদেশ পুলিশের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করার ওপর জোর দেন তিনি। একই সঙ্গে নিরপরাধ মানুষকে কোনোভাবেই হয়রানি না করার নির্দেশ দেন। ঐক্যবদ্ধভাবে দায়িত্ব পালনের মাধ্যমে নিরাপদ বাংলাদেশ গড়ে তোলার জন্য জেলা পুলিশ সুপারদের প্রতি আহ্বান জানান আইজিপি। এ সময় পুলিশ সদরদপ্তরের সংশ্লিষ্ট অতিরিক্ত আইজিসহ অন্যান্য কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
চট্টগ্রাম নগরের চন্দনপুরা এলাকায় স্মার্ট গ্রুপের চেয়ারম্যান মোস্তাফিজুর রহমানের বাসভবন লক্ষ্য করে আবারও গুলিবর্ষণের ঘটনা ঘটেছে। শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) সকাল সাড়ে ৬টার দিকে চার অস্ত্রধারী মুখোশধারী ব্যক্তি বাসার পেছন দিক থেকে গুলি ছোড়ে। এতে দ্বিতীয় তলার জানালার কাচ ভেঙে যায়। তবে কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি। ভুক্তভোগী মোস্তাফিজুর রহমানের দাবি, কোটি টাকা চাঁদা না পেয়ে বিদেশে পলাতক সন্ত্রাসী সাজ্জাদ আলীর অনুসারীরা এ হামলা চালিয়েছে। তিনি জানান, এর আগে ২ জানুয়ারিও একই বাসায় গুলি করা হয়। সে সময়ও জানালার কাচ ও দরজায় গুলি লাগে। ঘটনার পর থেকে বাসাটি পুলিশের পাহারায় ছিল। মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, প্রথমে ১০ কোটি, পরে ৫ কোটি টাকা চাঁদা দাবি করা হয়। সম্প্রতি হোয়াটসঅ্যাপে ‘ওয়েট অ্যান্ড সি’ বার্তাও পাঠানো হয়। ঘটনার সময় বাসায় থাকা নিরাপত্তাকর্মীরা পুলিশের সদস্যদের অবহিত করলে তারা প্রস্তুতি নেন, তবে এর আগেই হামলাকারীরা পালিয়ে যায়। ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে নগর পুলিশের উপকমিশনার (দক্ষিণ) হোসাইন কবির ভূঁইয়া জানান, হামলাকারীরা একটি প্রাইভেট কার ও মোটরসাইকেলে এসে গুলি করে দ্রুত সরে পড়ে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, চাঁদাবাজির জেরে এ ঘটনা ঘটেছে। সংশ্লিষ্টদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে। অভিযুক্ত সাজ্জাদ আলী গণমাধ্যমে গুলির অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। উল্লেখ্য, স্মার্ট গ্রুপ একটি বৃহৎ শিল্পগোষ্ঠী এবং মোস্তাফিজুর রহমানের ভাই মুজিবুর রহমান ২০২৪ সালের নির্বাচনে বাঁশখালী আসন থেকে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন।
আসন্ন ঈদুল ফিতরে ঘরমুখো মানুষের যাত্রা নির্বিঘ্ন করতে কঠোর অবস্থানে যাচ্ছে নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়। আজ বৃহস্পতিবার মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে আয়োজিত এক বিশেষ প্রস্তুতি সভা শেষে নৌপরিবহন মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, পরিবহনে কোনো ধরনের অবৈধ চাঁদাবাজি বরদাশত করা হবে না। সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে মন্ত্রী চাঁদা ও চাঁদাবাজির মধ্যকার পার্থক্য স্পষ্ট করেন। তিনি বলেন, “বাস মালিক বা সমিতি যদি নিজেদের সংগঠনের স্বার্থে সমঝোতার ভিত্তিতে কোনো নির্দিষ্ট চাঁদা গ্রহণ করে, তবে সেটি আইনি প্রক্রিয়ায় বৈধ। কিন্তু সাধারণ যাত্রী বা চালকদের জিম্মি করে যদি কেউ অবৈধ উপায়ে চাঁদাবাজি করে, তবে তা কোনোভাবেই গ্রহণ করা হবে না। আমরা এটা হতে দেব না।” বিগত বছরের ঈদযাত্রার অভিজ্ঞতা তুলে ধরে শেখ রবিউল আলম আরও জানান, গতবার নৌ ও সড়কপথের ব্যবস্থাপনা সন্তোষজনক ছিল। এবার সেই সেবার মান আরও উন্নত করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। ঈদযাত্রায় যাত্রী সাধারণের চলাচল স্বাভাবিক রাখতে ঈদের আগে ও পরে মোট ১০ দিন (৫ দিন করে) বিশেষ নজরদারির ব্যবস্থা থাকবে বলেও নিশ্চিত করেন তিনি।
রাজধানীর ফার্মগেট এলাকায় চাঁদাবাজির অভিযোগ এবং এ ঘটনার জেরে হামলায় আহতদের প্রতি সংহতি জানিয়ে বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করেছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। বুধবার (আজ) বেলা সাড়ে তিনটার দিকে তেজগাঁও কলেজের সামনে এ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। এনসিপির নেতাদের অভিযোগ, মঙ্গলবার রাতে ফার্মগেটের ইন্দিরা রোড এলাকায় চাঁদাবাজির প্রতিবাদ করায় তাঁদের নেতা–কর্মীদের ওপর হামলা চালানো হয়। এতে কয়েকজন আহত হন। হামলার সঙ্গে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল-এর তেজগাঁও কলেজ শাখার নেতা–কর্মীরা জড়িত বলে দাবি করেন তাঁরা। বিক্ষোভে ২৭ নম্বর ওয়ার্ড এনসিপির সদস্যসচিব আওলাদ হোসেন জানান, হামলায় তাঁর চোখসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত লেগেছে। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, তারাবিহ নামাজের পর ইন্দিরা রোড এলাকায় কয়েকজন চাঁদা তোলার চেষ্টা করেন। প্রতিবাদ করলে ৬০ থেকে ৭০ জনের একটি দল অতর্কিত হামলা চালায় এবং দেশীয় ধারালো অস্ত্র ব্যবহার করে আঘাত করে। বর্তমানে তিনি নিজের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগে আছেন বলেও জানান। কর্মসূচিতে বক্তারা সাম্প্রতিক হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়ে বলেন, অন্যায়ের প্রতিবাদ করায় নিরীহ ব্যক্তি ও রাজনৈতিক কর্মীদের ওপর হামলা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। তাঁদের অভিযোগ, পরিকল্পিতভাবে হামলা চালিয়ে কয়েকজনকে গুরুতর আহত করা হয়েছে। আহত ব্যক্তিরাও এ সময় নিজেদের অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরেন। এনসিপির শিল্পাঞ্চল থানার প্রধান সমন্বয়কারী মো. হারুন বলেন, চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নিলে এ ধরনের পরিস্থিতি সৃষ্টি হতো না। তিনি এলাকা থেকে চাঁদাবাজি নির্মূলের ঘোষণা দেন। কর্মসূচিতে ১১–দলীয় জোটের শরিক দলগুলোর নেতারাও সংহতি জানান। তাঁরা সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি ও সহিংসতার বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ প্রতিরোধ গড়ে তোলার অঙ্গীকার করেন এবং জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানান। এ সময় এনসিপির ঢাকা মহানগর উত্তরের সহসাংগঠনিক সম্পাদক মো. নুর আমিন খান, তেজগাঁও থানা এনসিপির নেতারা এবং শেরেবাংলা নগর থানার প্রধান সমন্বয়কারী হামিদুর রহমান উপস্থিত ছিলেন। নেতারা জানান, জনগণের অধিকার রক্ষায় ভবিষ্যতেও তাঁদের কর্মসূচি অব্যাহত থাকবে।
জামায়াতের ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান দেশের চাঁদাবাজির বিস্তৃত সংস্কৃতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে দেওয়া এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, অনেক ক্ষেত্রে এমন পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে যে চাঁদা না দেওয়াকেই অপরাধ হিসেবে গণ্য করা হচ্ছে। ডা. শফিকুর রহমান আরও বলেন, সমাজে প্রভাবশালী ব্যক্তিরা যখন চাঁদাবাজির মতো অনিয়মের প্রতি নীরবতা বা পরোক্ষ বৈধতা প্রদর্শন করেন, তখন এর দায় সংশ্লিষ্ট সকলের ওপর বর্তায়। এর ফলে সাধারণ ও নিরীহ মানুষ সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। তিনি উল্লেখ করেন, এই পরিস্থিতি কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। জনগণের জীবন ও সম্পদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে সামাজিকভাবে প্রতিরোধ গড়ে তোলা জরুরি। দেশের নাগরিকদের তিনি আহ্বান জানান, সম্মিলিতভাবে অন্যায়ের বিরুদ্ধে সোচ্চার হওয়া প্রয়োজন। ডা. শফিকুর রহমানের মতে, আইনশৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠা এবং ন্যায়ভিত্তিক সমাজ গড়তে চাঁদাবাজির মতো অপরাধের বিরুদ্ধে সর্বস্তরের মানুষকে ঐক্যবদ্ধভাবে অবস্থান নিতে হবে।
দেশের পরিবহণ সেক্টরে চাঁদাবাজির এক ভয়াবহ চিত্র ফুটে উঠেছে। রাজধানীসহ সারা দেশের প্রায় ৩ হাজার স্পট থেকে প্রতিদিন গড়ে প্রায় ১০০ কোটি টাকা চাঁদা আদায় করা হচ্ছে। এই বিশাল অর্থের সিংহভাগই ভয়ভীতি দেখিয়ে চালক ও মালিকদের ইচ্ছার বিরুদ্ধে আদায় করা হয়। অনুসন্ধানে জানা গেছে, সড়ক পরিবহণ মালিক সমিতি, শ্রমিক সংগঠন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর একশ্রেণির সদস্য এবং রাজনৈতিক নেতাকর্মীদের সমন্বয়ে গঠিত একটি প্রভাবশালী সিন্ডিকেট এই অবৈধ অর্থ আদায়ের নেপথ্যে কাজ করছে। সম্প্রতি সড়ক পরিবহণ ও সেতুমন্ত্রী শেখ রবিউল আলমের একটি বক্তব্যকে কেন্দ্র করে দেশজুড়ে আলোচনা ও সমালোচনার ঝড় বইছে। মন্ত্রী স্বেচ্ছায় দেওয়া ‘চাঁদা’ এবং জোরপূর্বক নেওয়া ‘চাঁদাবাজিকে’ আলাদাভাবে সংজ্ঞায়িত করে বলেছেন, তিনি চাঁদাবাজিকে সমর্থন করেন না। তবে তিনি টার্মিনাল বা সমিতির নামে নেওয়া অর্থকে ‘অলিখিত বিধির’ মতো হিসেবে উল্লেখ করেছেন। মন্ত্রীর এই অবস্থানের বিপরীতে যাত্রীকল্যাণ সমিতি ও সাধারণ মালিক-শ্রমিকরা বলছেন, কল্যাণের নামে যা নেওয়া হচ্ছে তার ৯০ শতাংশই মূলত চাঁদাবাজি। এই অর্থের কারণে সাধারণ মানুষের ওপর ভাড়ার চাপ বাড়ছে এবং নিত্যপণ্যের দাম আকাশচুম্বী হচ্ছে। পরিসংখ্যান অনুযায়ী, সবচেয়ে বেশি চাঁদাবাজি হয় ব্যাটারিচালিত রিকশা এবং পণ্যবাহী ট্রাক থেকে। সারা দেশে প্রায় ৬০ লাখ ব্যাটারিচালিত রিকশা থেকে দৈনিক প্রায় ৫৫ কোটি টাকা এবং ৪ লাখ ট্রাক থেকে দৈনিক প্রায় ৪০ কোটি টাকা চাঁদা তোলা হয়। এছাড়া সিটি বাস, দূরপাল্লার বাস এবং সিএনজি অটোরিকশা থেকেও বিপুল পরিমাণ অর্থ আদায় করা হচ্ছে। বছরের পর বছর ধরে চলা এই ‘সমঝোতা সিস্টেমের’ কারণে একশ্রেণির শ্রমিক ও মালিক নেতা বিপুল সম্পদের মালিক হলেও সাধারণ শ্রমিকদের জীবনযাত্রার মান এখনো শোচনীয়। পরিবহণ খাতের বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, ডিজিটাল ভাড়া পরিশোধ এবং আধুনিক ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা চালু না হলে এই অন্ধকার সিন্ডিকেট ভাঙা সম্ভব নয়। যদিও হাইওয়ে পুলিশ দাবি করছে মহাসড়কে চাঁদাবাজি কমেছে, তবে মাঠপর্যায়ের চিত্র বলছে ভিন্ন কথা। রাজনৈতিক পটপরিবর্তন হলেও এই সেক্টরের প্রভাবশালীরা নিজেদের মধ্যে আপস করে চাঁদাবাজি অব্যাহত রাখেন, যার খেসারত দিতে হয় মধ্যবিত্ত ও সাধারণ জনগণকে। এই অশুভ চক্র থেকে মুক্তি পেতে তদন্ত কমিটি গঠন এবং কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি এখন জনদাবিতে পরিণত হয়েছে।
নতুন সড়ক পরিবহন, রেল ও নৌপরিবহন মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম পরিবহন খাতে মালিক-শ্রমিক সংগঠনগুলোর নামে তোলা চাঁদাবাজিকে ‘সমঝোতার ভিত্তিতে তোলা অর্থ’ হিসেবে দেখার মনোভাব প্রকাশ করেছেন। মন্ত্রী জানিয়েছেন, এটি জোরপূর্বক আদায় করা হয় না, তাই সাধারণ চাঁদা হিসেবে গণ্য করা যায় না। গত বৃহস্পতিবার নিজের দপ্তরে সাংবাদিকদের সঙ্গে প্রথম আনুষ্ঠানিক বৈঠকে মন্ত্রী রবিউল আলম বলেন, মালিক সমিতি ও শ্রমিক ইউনিয়ন এই অর্থ তাদের কল্যাণে ব্যয় করে। এখানে বিতর্কের বিষয় হতে পারে, কিন্তু তারা সমঝোতার ভিত্তিতে এটি করছে। মন্ত্রী আরও বলেন, সরকার ভবিষ্যতে পর্যবেক্ষণ করবে যে, এই সমঝোতার ভিত্তিতে তোলা অর্থের ব্যবহার স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ হচ্ছে কি না। তিনি স্পষ্ট করেছেন, জনস্বার্থে কোনো সংগঠন বা গোষ্ঠীকে প্রাধান্য দেওয়া হবে না। সংবাদ সম্মেলনে সরকারের অগ্রাধিকার ও পরিকল্পনা নিয়ে বলা হয়— রেল সম্প্রসারণ, সড়কে শৃঙ্খলা পুনঃপ্রতিষ্ঠা, খাল পুনঃখনন ও সমন্বিত পরিবহন ব্যবস্থাপনা। ঢাকা শহরে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার নিয়ন্ত্রণ ও যানজট কমানোর পদক্ষেপ। ভারত-বাংলাদেশ রেল যোগাযোগ পুনরায় চালুর বিষয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষা। বিমানবন্দর থেকে গাজীপুর পর্যন্ত বাস বিশেষ লেন (বিআরটি) প্রকল্প পুনঃপর্যালোচনা। পরিবহন খাতের বিশেষজ্ঞরা এই মনোভাবের সঙ্গে দ্বিমত পোষণ করছেন। বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক সামছুল হক বলেন, পরিবহন খাতে যেকোনো ছায়া খরচ বা চাঁদা অপ্রকাশ্য চাপ তৈরি করে। শ্রমিকদের কল্যাণ নিশ্চিত করতে শুধু নিয়োগপত্র ও বেতন যথেষ্ট। ২০২৪ সালের ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের প্রতিবেদনে দেখা গেছে, দেশে মালিকানাধীন বাস ও মিনিবাস থেকে বছরে প্রায় ১,০৫৯ কোটি টাকা চাঁদাবাজি হয়, যা বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সরকারি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সংযুক্ত।
চাঁদাবাজি ও সন্ত্রাস দমনে কঠোর অবস্থান নিয়েছেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)–এর দুই নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য। ময়মনসিংহে মাইকিংয়ের মাধ্যমে সতর্কবার্তা দেওয়া হয়েছে, আর কুমিল্লায় চালু হয়েছে ‘অভিযোগ বাক্স’ কার্যক্রম। ময়মনসিংহ–১০ (গফরগাঁও) আসনের নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য মোহাম্মদ আক্তারুজ্জামান–এর পক্ষ থেকে সোমবার (১৬ ফেব্রুয়ারি) উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় মাইকিং করা হয়। এতে বলা হয়, এলাকায় কেউ চাঁদাবাজি বা সন্ত্রাসী কার্যক্রমের চেষ্টা করলে তাকে ধরে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে তুলে দিতে হবে। গফরগাঁও বাজারের ব্যবসায়ী ও পৌরবাসীকে দ্রুত পুলিশকে জানাতে অনুরোধ জানানো হয়। প্রয়োজনে সরাসরি সংসদ সদস্যকেও অবহিত করার আহ্বান জানানো হয়েছে। মাইকিংয়ে আরও বলা হয়, বেআইনি কর্মকাণ্ডে জড়িতদের কোনো ছাড় দেওয়া হবে না। শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখা ও জনগণের কাঙ্ক্ষিত উন্নয়ন নিশ্চিত করাই প্রধান লক্ষ্য—বিভেদ নয়, ঐক্যই শান্তি, ঐক্যই মুক্তি। গফরগাঁও পৌর এলাকার বাসিন্দা আবদুল আউয়াল বলেন, এমপি নির্বাচিত হয়েই চাঁদাবাজি বন্ধে এমন উদ্যোগ এলাকাবাসীর মধ্যে আশার সঞ্চার করেছে। শান্তি প্রতিষ্ঠায় সকল শ্রেণি–পেশার মানুষের সহযোগিতাও জরুরি বলে তিনি মত দেন। এর আগে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে মোহাম্মদ আক্তারুজ্জামান লেখেন, বেআইনি কর্মকাণ্ডে জড়িতরা দলের কেউ হতে পারে না; অপরাধীর একমাত্র পরিচয় অপরাধী। শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখা, মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও উন্নয়নই তাদের লক্ষ্য। “সংঘাত নয়—সমাধান, ভয় নয়—ভরসা, হিংসা নয়—উন্নয়ন; দেশ আগে, দল পরে—জনগণই আমাদের শক্তি,” উল্লেখ করেন তিনি। নাঙ্গলকোটে ‘অভিযোগ বাক্স’ অন্যদিকে কুমিল্লা–১০ (নাঙ্গলকোট ও লালমাই) আসনের নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য মোবাশ্বের আলম ভূঁইয়া চাঁদাবাজি ও অনৈতিক কর্মকাণ্ড প্রতিরোধে নির্বাচনী এলাকায় ‘অভিযোগ বাক্স’ স্থাপনের কার্যক্রম শুরু করেছেন। এর অংশ হিসেবে সোমবার সন্ধ্যায় নাঙ্গলকোট বাজারের বটতলা এলাকায় একটি অভিযোগ বাক্স স্থাপন করা হয়। সেখানে লেখা রয়েছে—বিএনপির কোনো নেতা-কর্মী চাঁদাবাজি বা অনৈতিক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকলে নির্দ্বিধায় লিখিত অভিযোগ জমা দেওয়ার আহ্বান। পর্যায়ক্রমে উপজেলার দুটি উপজেলা পরিষদ, দুটি থানা ও গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় একইভাবে অভিযোগ বাক্স স্থাপন করা হবে বলে জানান তিনি। শিগগিরই স্টিলের তৈরি তালাবদ্ধ অভিযোগ বাক্স বসানো হবে, যার চাবি শুধু সংসদ সদস্যের কাছে থাকবে এবং তিনি নিজেই অভিযোগগুলো পর্যালোচনা করবেন। মোবাশ্বের আলম ভূঁইয়া বলেন, সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি ও মাদকের বিরুদ্ধে তাদের ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি। যে কেউ নাম গোপন রেখে অভিযোগ জানাতে পারবেন এবং প্রাপ্ত অভিযোগের ভিত্তিতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে সমন্বয় করে অপরাধীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। অপরাধী দলীয় কেউ হলেও ছাড় দেওয়া হবে না। তিনি আরও বলেন, জনগণ তাকে তাদের ‘পাহারাদার’ হিসেবে নির্বাচিত করেছে—এলাকায় ইতিবাচক পরিবর্তন আনাই তার লক্ষ্য।
মধ্যপ্রাচ্যের ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মধ্যেই একটি চাঞ্চল্যকর দাবি ভূ-রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে বিতর্কের ঝড় তুলেছে। গত ৪৮ থেকে ৫৬ ঘণ্টার মধ্যে ১৬টি চীনা 'ওয়াই-২০' (Y-20) সামরিক কার্গো বিমান তাদের ট্রান্সপন্ডার বা সিগন্যাল বন্ধ রেখে ইরানের আকাশে প্রবেশ করেছে বলে খবর ছড়িয়েছে। কোনো আনুষ্ঠানিক নিশ্চিতকরণ ছাড়াই এই তথ্যটি প্রতিরক্ষা বিশ্লেষক ও সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারকারীদের মধ্যে তীব্র উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। দাবি করা হচ্ছে, এই বিমানগুলো বেসামরিক রাডার থেকে আড়াল থাকতে বিশেষ কৌশল অবলম্বন করেছিল। নেটিজেন ও সামরিক বিশ্লেষকদের একটি অংশের ধারণা, চীন হয়তো ইরানকে অত্যাধুনিক ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার সিস্টেম বা জ্যামিং প্রযুক্তি সরবরাহ করছে। যদি এটি সত্যি হয়, তবে মার্কিন এফ-৩৫ (F-35) যুদ্ধবিমান বা নৌ-অভিযানের জন্য এটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে। অনেকে একে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি বেইজিংয়ের সরাসরি ‘সতর্কবার্তা’ হিসেবেও দেখছেন। তবে এই উত্তেজনার মুদ্রার উল্টো পিঠও রয়েছে। ফ্লাইটরাডার২৪-এর মতো আন্তর্জাতিক ফ্লাইট ট্র্যাকিং প্ল্যাটফর্মে এ ধরনের কোনো অস্বাভাবিক ফ্লাইটের রেকর্ড পাওয়া যায়নি। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ১৬টি ভারী সামরিক কার্গো বিমানের মতো বিশাল বহরকে রাডার বা স্যাটেলাইট নজরদারি থেকে সম্পূর্ণ লুকিয়ে রাখা প্রায় অসম্ভব। বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে চীন-ইরান সম্পর্ক গভীর হলেও, সুনির্দিষ্ট প্রমাণের অভাবে বিশ্লেষকরা একে আপাতত ‘সুপরিকল্পিত গুজব’ বা মিসইনফরমেশন হিসেবেই দেখছেন। তেহরান বা বেইজিং—কোনো পক্ষ থেকেই এখন পর্যন্ত এ নিয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া মেলেনি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা প্রত্যাশীদের জন্য কঠোর হচ্ছে নিয়মাবলী। আগামী ৩০ মার্চ থেকে কার্যকর হতে যাচ্ছে নতুন ভিসা রুলস, যেখানে আবেদনকারীদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের প্রোফাইল পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই বা স্ক্রিনিং করা হবে। মার্কিন প্রশাসনের এই নতুন পদক্ষেপে বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ভিসা প্রত্যাশীদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। নতুন এই নিয়ম মূলত অ-অভিবাসী (Non-immigrant) এবং অভিবাসী (Immigrant) উভয় ধরণের ভিসার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হতে পারে। বিশেষ করে যারা ট্যুরিস্ট ভিসা, স্টুডেন্ট ভিসা এবং কাজের সন্ধানে এইচ-১বি (H-1B) ভিসার জন্য আবেদন করবেন, তাদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের তথ্য প্রদান বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে। আবেদনকারীদের গত পাঁচ বছরের ব্যবহৃত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোর ইউজার আইডি বা হ্যান্ডেল নাম ফর্মে উল্লেখ করতে হবে। ফেসবুক, টুইটার (বর্তমানে এক্স), ইনস্টাগ্রাম এবং ইউটিউবের মতো জনপ্রিয় প্ল্যাটফর্মগুলো এই স্ক্রিনিংয়ের আওতায় থাকবে। তবে পাসওয়ার্ড দেওয়ার প্রয়োজন হবে না। মূলত আবেদনকারীর নিরাপত্তা ঝুঁকি এবং পূর্ববর্তী কোনো উসকানিমূলক বা সন্দেহজনক কর্মকাণ্ড আছে কি না, তা যাচাই করতেই এই পদক্ষেপ। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং জননিরাপত্তার স্বার্থেই এই স্ক্রিনিং প্রক্রিয়া জোরদার করা হয়েছে। কোনো ব্যক্তি যদি অতীতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে উগ্রবাদ বা আইনবিরোধী কোনো কাজে লিপ্ত থেকে থাকেন, তবে তার ভিসা আবেদন বাতিল হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হবে। ভিসা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ৩০ মার্চের পর যারা আবেদন করবেন, তাদের অবশ্যই গত ৫ বছরের ডিজিটাল ফুটপ্রিন্ট সম্পর্কে সতর্ক থাকতে হবে। কোনো ভুল তথ্য দিলে বা তথ্য গোপন করলে তা স্থায়ীভাবে ভিসা প্রত্যাখ্যাত হওয়ার কারণ হতে পারে। এছাড়া ইমেইল অ্যাড্রেস এবং ফোন নম্বর প্রদানের ক্ষেত্রেও অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এই নতুন নিয়ম চালুর ফলে ভিসা প্রক্রিয়াকরণে কিছুটা অতিরিক্ত সময় লাগতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তাই প্রয়োজনীয় কাগজপত্র এবং অনলাইন প্রোফাইল গুছিয়ে আবেদন করার পরামর্শ দিচ্ছে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো।
এপস্টেইন ফাইল: দাবি, বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করে ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে জেফরি এপস্টেইনের ফাইল ট্রান্সপারেন্সি অ্যাক্টের সাথে যুক্ত সম্প্রতি প্রকাশিত একটি নথি ত্রাঞ্চে অভিযোগ করা হয়েছে যে, প্রাক্তন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একটি ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। এই নথিগুলি, যা আনক্লাসিফায়েড ডিপার্টমেন্ট অব জাস্টিস (DOJ) রেকর্ডের একটি বিশাল ডেটা রিলিজের অংশ, “চার্লস” নামে একজনের ক্ষুব্ধ ইমেইল অন্তর্ভুক্ত করেছে এবং অন্তর্বর্তী ফাইলিং কোড EFTA00173266 থেকে EFTA00173273 পর্যন্ত চিহ্নিত। এই ইমেইলগুলো তৃতীয় পক্ষের যোগাযোগের মধ্যে পাওয়া গেছে, যা জেফরি এপস্টেইনের নেটওয়ার্ক সংক্রান্ত বিস্তৃত ফেডারেল তদন্তের সময় সংগ্রহ করা হয়েছিল। এপস্টেইন সম্পর্কিত অন্যান্য প্রকাশনার মতো এখানে রাজনৈতিক ও ব্যবসায়িক ব্যক্তিদের সঙ্গে সম্পর্কের তথ্য নয়, বরং চরম ও ষড়যন্ত্রমূলক দাবিগুলো রয়েছে। ক্লোন তত্ত্বের উল্লেখ “চার্লস” ইমেইলগুলো এপ্রিল ২০২১-এ একজন এফবিআই এজেন্টকে ফরোয়ার্ড করা হয়েছিল, যাকে লাল করা প্রেরক হিসেবে দেখানো হয়েছে। প্রেরক দাবি করেছিলেন যে এটি একটি প্রযুক্তি সংস্থার এক ক্ষুব্ধ প্রাক্তন কর্মচারী বা সহযোগীর মেসেজ। ইমেইলগুলিতে গালাগালি ভাষা ব্যবহৃত হয়েছে এবং এখানে “কোয়ান্টাম” প্রযুক্তি, গোপন সামরিক ট্রাইব্যুনাল, এবং “বাইডেন আপনার বর্তমান প্রেসিডেন্ট নন” এমন দাবির উল্লেখ রয়েছে। একটি অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে নির্বিচারে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একজন অভিনেতা বা ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে, যেখানে প্রমাণ হিসেবে “মাস্কের ত্রুটি” দেখানো হয়েছে। তবে এই দাবিগুলোর সঙ্গে কোনো শারীরিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি বা সঙ্গত সাক্ষ্য নেই। “বাইডেন ক্লোন” দাবি অনলাইনে ষড়যন্ত্র তত্ত্বের একটি পরিচিত অংশ। তত্ত্বটি সাধারণত ধরে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে গোপনে জনমঞ্চ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে, প্রায়শই ২০১৯ বা ২০২০ সালে, এবং তাকে চেহারা মিলানো লোক বা ক্লোন দিয়ে প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। অনুগামীরা প্রায়শই নিম্নমানের ভিডিও এবং ফটোগ্রাফ বিশ্লেষণ করে, চেহারার পরিবর্তন যেমন আলোর পরিবর্তন, বয়সের প্রভাব বা ক্যামেরার ত্রুটিকে কৃত্রিমভাবে আড়াল করার প্রমাণ হিসেবে দেখান। এ পর্যন্ত কোনো যাচাইযোগ্য প্রমাণ নেই যে প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন কখনো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন বা প্রতিস্থাপিত হয়েছেন। এই দাবিগুলি সম্পূর্ণভাবে একটি ষড়যন্ত্র তত্ত্ব হিসেবে রয়ে গেছে। সূত্র: Royanews