নেত্রকোনার একজন ছাত্রলীগ নেতা তার বাবার মাধ্যমে আইনি প্রক্রিয়ায় ত্যাজ্য ঘোষণার শিকার হয়েছেন। জেলা ছাত্রলীগের সহসভাপতি মীর মো. সাজিদুর রহমান ছোটনের সঙ্গে তার বাবা মীর মো. আব্দুল মালেকের দীর্ঘদিনের পারিবারিক ও রাজনৈতিক মতবিরোধ এই সিদ্ধান্তের মূল কারণ। মঙ্গলবার (১০ মার্চ) স্থানীয় আদালতে নোটারি পাবলিকের মাধ্যমে ছোটনকে ত্যাজ্য ঘোষণা করেন তার বাবা। ঘটনার পর বুধবার ছোটন নিজের ফেসবুক আইডিতে সেই নোটারির ছবি শেয়ার করে বিস্তারিত পোস্ট করেন, যা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়। ত্যাজ্য ঘোষণায় আব্দুল মালেক উল্লেখ করেছেন, পরিবারের বেশিরভাগ সদস্যই বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) প্রবীণ সমর্থক। কিন্তু ছোটন তার কৈশোর থেকেই পরিবারের রাজনীতির আদর্শ থেকে সরে এসে বাংলাদেশ ছাত্রলীগের সক্রিয় সদস্য হিসেবে পরিচিত হন। এ রাজনৈতিক ভিন্নতার কারণে পারিবারিক সম্পর্ক দীর্ঘ সময় ধরে তিক্ত হয়ে ওঠে। বাবার অভিযোগ অনুযায়ী, ছোটনের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড ও পারিবারিক দাবিদাওয়ার বিষয়ে অসদাচরণই এই চরম পদক্ষেপের মূল কারণ। ঘোষণায় আরও বলা হয়েছে, প্রাপ্তবয়স্ক নাগরিক হিসেবে ছোটনের নিজস্ব মতাদর্শে চলার অধিকার থাকলেও তার কোনো কর্মকাণ্ডের দায়ভার এখন থেকে পরিবার বহন করবে না। ছোটন তার ফেসবুক পোস্টে উল্লেখ করেছেন, দীর্ঘ বছর পরিবারের ভেতরে ঘটে যাওয়া নানা ঘটনা তিনি গোপন রাখার চেষ্টা করেছিলেন, তবে অবশেষে তা প্রকাশের মুখে এসেছে। ক্লান্তির প্রকাশ থাকলেও, ছাত্রলীগের একনিষ্ঠ সদস্য হিসেবে তার রাজনৈতিক পথচলা চলবে বলে তিনি দৃঢ় প্রতিজ্ঞা করেন। পোস্টে তিনি জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের বিদ্রোহী কবিতার কয়েকটি লাইন উদ্ধৃত করে নিজের লড়াকু মানসিকতার প্রতিফলন ঘটান। এই ঘটনা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে রাজনৈতিক সহকর্মী ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের মধ্যে সহমর্মিতা সৃষ্টি করেছে। অনেকেই তার পদক্ষেপকে সাহসী ও ন্যায্য বলে অভিহিত করছেন এবং কঠিন সময়ে তাকে মানসিক সহায়তা দিচ্ছেন। নেত্রকোনার রাজনৈতিক মহলেও এ ঘটনা এখন প্রধান আলোচনার বিষয়। দলের কেন্দ্রীয় নেতাদের দৃষ্টি আকর্ষণ করে ছোটনের পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানানো হয়েছে।
ঐতিহাসিক ৭ মার্চ উপলক্ষে চট্টগ্রাম নগরে নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন বাংলাদেশ ছাত্রলীগের কিছু নেতা–কর্মী মোটরসাইকেল শোভাযাত্রা করেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিও ঘিরে আলোচনা তৈরি হয়েছে। শনিবার (৭ মার্চ) ভোরে নগরের ২ নম্বর গেট এলাকায় উড়ালসড়কের নিচে কয়েকজন যুবক মোটরসাইকেল নিয়ে শোভাযাত্রা করেন। পরে এর একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। প্রায় ৫৬ সেকেন্ডের ওই ভিডিওতে দেখা যায়, ৭ থেকে ৮টি মোটরসাইকেলে কয়েকজন ব্যক্তি স্লোগান দিচ্ছেন। সেখানে ‘আজকের এই দিনে, মুজিব তোমায় মনে পড়ে’ এবং ‘জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু’সহ বিভিন্ন স্লোগান দিতে শোনা যায়। ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়ার পর বিষয়টি নিয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নজরে আসে। এ বিষয়ে জানতে চাইলে চট্টগ্রাম নগর পুলিশের সহকারী কমিশনার (গণমাধ্যম) আমিনুর রশিদ জানান, ঘটনার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্তের চেষ্টা চলছে। তিনি বলেন, “ভিডিওটি আমরা দেখেছি। এতে জড়িতদের শনাক্ত করে গ্রেপ্তারের জন্য পুলিশ কাজ করছে।” পুলিশ সূত্র জানিয়েছে, ঘটনার সত্যতা যাচাই করে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
রাজধানীর শাহবাগ থানার সামনে বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের ভাষণ বাজানোকে কেন্দ্র করে শনিবার রাতে শিক্ষার্থীদের দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। এ সময় পাল্টাপাল্টি স্লোগান ও ধাক্কাধাক্কির ঘটনাও ঘটে। এর আগে দুপুরে রাজধানীর চানখাঁরপুল মোড়ে সাউন্ড বক্সে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ঐতিহাসিক ৭ মার্চের ভাষণ বাজানোর অভিযোগে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদুল্লাহ হল শাখা ছাত্রলীগের (বর্তমানে নিষিদ্ধ) কর্মসংস্থান সম্পাদক আসিফ আহমেদসহ দুজনকে আটক করে পুলিশ। পরে তাঁদের শাহবাগ থানায় নিয়ে যাওয়া হয় এবং ঘটনাস্থল থেকে ব্যবহৃত সাউন্ড বক্সটিও জব্দ করা হয়। আটকের প্রতিবাদে শনিবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে শাহবাগ থানার সামনে আবার ভাষণ বাজানোর কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষার্থী শেখ তাসনিম আফরোজ ইমির নেতৃত্বে জাতীয় জাদুঘরের ফটকের সামনে একটি রিকশায় স্থাপিত সাউন্ড বক্সে বঙ্গবন্ধুর ভাষণ বাজানো শুরু হয়। সেখানে কয়েকজন শিক্ষার্থী উপস্থিত ছিলেন। কর্মসূচিতে অংশগ্রহণকারীরা জানান, আটক শিক্ষার্থীকে মুক্তি না দেওয়া পর্যন্ত তারা ভাষণ বাজানোর কর্মসূচি চালিয়ে যাবেন। এদিকে কর্মসূচির প্রতিবাদে ডাকসু ও জাতীয় ছাত্রশক্তির নেতাকর্মীরা শাহবাগ থানার সামনে পাল্টা অবস্থান নেন। এতে দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা তৈরি হয় এবং পাল্টাপাল্টি স্লোগান দিতে দেখা যায়। একপর্যায়ে ডাকসুর কয়েকজন নেতা ঘটনাস্থলে এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করেন। পরে ভাষণ বাজানো রিকশাসহ ইমিকে শাহবাগ থানার ভেতরে নিয়ে যাওয়া হয়। এ সময় উত্তেজনার মধ্যে ইমির সঙ্গে থাকা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ সার্জেন্ট জহুরুল হক হল শাখা ছাত্রলীগের সহসম্পাদক আবদুল্লাহ আল মামুনকে মারধরের অভিযোগ ওঠে। ডাকসু নেতা এ বি জুবায়ের বলেন, সাতই মার্চের ভাষণকে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করে মুক্তিযুদ্ধের নাম নিয়ে আওয়ামী লীগকে পুনর্বাসনের চেষ্টা করা হচ্ছে। যাকে আটক করা হয়েছে, সে আওয়ামী লীগের চিহ্নিত কর্মী এবং জুলাইয়ের আন্দোলনে হামলার সঙ্গে জড়িত ছিল। ঘটনার বিষয়ে শাহবাগ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. মনিরুজ্জামানের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন ধরেননি। রাত একটার দিকে এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত আবদুল্লাহ আল মামুন থানায় আটক ছিলেন। আগে থেকে আটক রয়েছেন আসিফ আহমেদ। কর্মসূচিতে অংশ নিতে আসা অন্যরা পরে সেখান থেকে চলে যান এবং ডাকসুর নেতারাও ক্যাম্পাসে ফিরে যান।
রাজধানীর শাহবাগ এলাকায় ৭ মার্চের ভাষণ বাজানোকে কেন্দ্র করে শিক্ষার্থীদের মধ্যে উত্তেজনা ও বাকবিতণ্ডার ঘটনা ঘটেছে। এ সময় পুলিশ দুজনকে আটক করে থানায় নিয়ে গেছে বলে জানা গেছে। শনিবার (৭ মার্চ) রাত সাড়ে ৯টার দিকে শাহবাগ থানার বিপরীতে জাতীয় জাদুঘরের ফটকের সামনে সাউন্ডবক্সে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ঐতিহাসিক ৭ মার্চের ভাষণ বাজানোর একটি কর্মসূচি শুরু হয়। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) নির্বাচনে প্রতিরোধ পর্ষদের ভিপি প্রার্থী শেখ তাসনিম আফরোজ ইমির নেতৃত্বে এই কর্মসূচি পালন করা হয়। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, একটি রিকশায় স্থাপন করা সাউন্ডবক্সে ভাষণ বাজানো হচ্ছিল। সেখানে ইমিসহ বামপন্থি কয়েকটি ছাত্রসংগঠনের নেতাকর্মী উপস্থিত ছিলেন। ঘটনাস্থলের আশপাশে পুলিশ থাকলেও শুরুতে কর্মসূচিতে বাধা দিতে দেখা যায়নি। সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে শেখ তাসনিম আফরোজ ইমি বলেন, বাংলাদেশ যতদিন থাকবে, ততদিন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের অস্তিত্ব মুছে ফেলা যাবে না। আটক হওয়া সৈকতের প্রতিবাদেই তারা এই কর্মসূচি পালন করছেন বলে জানান তিনি। তবে কিছু সময় পর একদল শিক্ষার্থী সেখানে এসে কর্মসূচিতে অংশগ্রহণকারীদের সঙ্গে বাকবিতণ্ডায় জড়িয়ে পড়ে। একপর্যায়ে উত্তেজনা বাড়লে বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা মাইক বহনকারী রিকশাটি সরিয়ে দেয় এবং সাউন্ড সিস্টেম খুলে ফেলার চেষ্টা করে। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং সংশ্লিষ্ট কয়েকজনকে শাহবাগ থানায় নিয়ে যায়। পরে বাংলাদেশ গণতান্ত্রিক ছাত্রশক্তির নেতাকর্মীরা শাহবাগ থানার সামনে অবস্থান নেন। এ সময় তারা বিভিন্ন স্লোগান দিতে থাকেন। এ সময় সংগঠনটির ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সভাপতি তাহমিদ আল মুদ্দাসসির চৌধুরী বলেন, আটক হওয়া আসিফ আহমেদ সৈকত নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত। তিনি দাবি করেন, গত ১৫ জুলাই সাধারণ শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার ঘটনায়ও সৈকতের সংশ্লিষ্টতা ছিল এবং তার বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির অভিযোগ রয়েছে। তিনি আরও অভিযোগ করেন, ৭ মার্চের ভাষণের আড়ালে ক্যাম্পাসে আবার ছাত্রলীগের রাজনীতি প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করা হচ্ছে। এর আগে শনিবার দুপুরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের ২০১৮–১৯ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী এবং শহিদুল্লাহ হল শাখা ছাত্রলীগের কর্মসংস্থানবিষয়ক সম্পাদক আসিফ আহমেদ সৈকতকে রাজধানীর চানখাঁরপুল এলাকা থেকে সাউন্ডবক্সসহ আটক করে শাহবাগ থানায় নিয়ে যায় পুলিশ।
পটুয়াখালীর দুমকী উপজেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি মো. শফিকুল ইসলাম খান কারাবন্দি অবস্থায় মারা গেছেন। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন পটুয়াখালী কারাগারের জেলা কর্মকর্তা মো. আব্দুর রব মিয়া। শফিকুল ইসলাম খান উপজেলার শ্রীরামপুর ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের মৃত হাবিবুর রহমান খানের ছেলে। তিনি ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের রাজনৈতিক ঘটনার পর ২০২৫ সালের ১১ আগস্ট নিজ বাড়ি থেকে আটক হয়ে পটুয়াখালী জেলা কারাগারে হাজতি ছিলেন। কারা কর্তৃপক্ষ জানায়, শুক্রবার বিকেলে তিনি হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়লে প্রথমে পটুয়াখালী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। পরে অবস্থার অবনতি হলে বরিশাল শেরেবাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তরিত করা হয়। সেখানে সন্ধ্যা সাড়ে সাতটার দিকে তার মৃত্যু হয়। পরিবার সূত্র জানায়, তিনি হৃদরোগে আক্রান্ত ছিলেন। বর্তমানে মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য শেবাচিম মর্গে রাখা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছেন, ময়নাতদন্তের রিপোর্ট হাতে পেলেই মৃত্যুর সঠিক কারণ নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।
প্রায় পাঁচ বছর আগে প্রেম করে বিয়ে করেন কানিজ সুবর্ণা স্বর্ণালী ও নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের বাগেরহাট সদর উপজেলা সভাপতি জুয়েল হাসান সাদ্দাম। তাঁদের দাম্পত্য জীবনে জন্ম নেয় সেহজাদ হোসেন নাজিফ নামে একটি পুত্রসন্তান। তবে সংসারের সুখ দীর্ঘস্থায়ী হয়নি। গত বছরের ৫ আগস্ট ছাত্র–জনতার অভ্যুত্থানের পর গ্রেপ্তার হয়ে কারাগারে যান জুয়েল হাসান সাদ্দাম। এর মধ্যেই নয় মাস আগে জন্ম হয় তাঁদের একমাত্র সন্তান নাজিফের। জন্মের পর বাবার আদর থেকে বঞ্চিত হয় শিশুটি। এমনকি সন্তানকে একবার কোলে নেওয়ার তীব্র আকাঙ্ক্ষাও অপূর্ণই থেকে যায় সাদ্দামের। কারাগার থেকে স্ত্রীকে লেখা একটি চিঠিতে সন্তানকে কোলে নিতে না পারার গভীর বেদনার কথা উল্লেখ করেছিলেন সাদ্দাম। কিন্তু সেই আশা আর পূরণ হলো না। স্বামীকে কারাগার থেকে মুক্ত করতে না পারার হতাশা শেষ পর্যন্ত কেড়ে নেয় কানিজ সুবর্ণা স্বর্ণালী ও তাঁর শিশুসন্তানের জীবন। শনিবার (২৪ জানুয়ারি) বিকেলে শেষবারের মতো স্ত্রী ও সন্তানের মরদেহ নিয়ে যাওয়া হয় যশোর কারাগারের জেলগেটে, যাতে বন্দি স্বামী এক নজর দেখতে পারেন। তবে স্থানীয় এলাকাবাসী এই মৃত্যুকে রহস্যজনক বলে দাবি করেছেন এবং ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের দাবি জানিয়েছেন। স্থানীয় বাসিন্দা রিবা বেগমসহ অনেকে জানান, হাসি–খুশির একটি পরিবার মুহূর্তেই শেষ হয়ে গেছে। তাঁদের ভাষ্য, এটি হত্যা নাকি আত্মহত্যা—তা নিয়ে স্পষ্টতা নেই। প্রকৃত দোষীদের শনাক্ত করে বিচারের আওতায় আনার দাবি জানান তাঁরা। নিহত কানিজ সুবর্ণা স্বর্ণালীর ভাই শুভ হাওলাদার বলেন, “আমরা সাদ্দামের প্যারোলে মুক্তির বিষয়ে মৌখিকভাবে বাগেরহাট জেলা প্রশাসনকে জানিয়েছিলাম। জেলা প্রশাসন জানায়, যেহেতু তিনি যশোর কারাগারে বন্দি, বিষয়টি যশোর জেলা প্রশাসন দেখবে। সময় স্বল্পতার কারণে পারিবারিকভাবে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়, জেলগেটে মরদেহ দেখানো হবে।” বাগেরহাট জেলা প্রশাসক গোলাম মো. বাতেন বলেন, যেহেতু সাদ্দাম যশোর কারাগারে রয়েছেন, প্যারোলে মুক্তির বিষয়টি যশোর জেলা প্রশাসনের এখতিয়ার। এ বিষয়ে তাঁদের করার কিছু নেই। বাগেরহাট সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মাসুম খান জানান, সাদ্দামের স্ত্রী ও সন্তানের মৃত্যুর ঘটনায় বাগেরহাট সদর মডেল থানায় একটি হত্যা মামলা ও একটি অপমৃত্যুর মামলা রেকর্ড করা হয়েছে। নিহতের বাবা রুহুল আমিন হাওলাদার অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা দায়ের করেছেন। পাশাপাশি পুলিশ বাদী হয়ে একটি অপমৃত্যুর মামলা করেছে। ময়নাতদন্ত শেষে মরদেহ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। উল্লেখ্য, শুক্রবার বাগেরহাটে নয় মাসের শিশু সন্তান নাজিফ হোসেনকে পানিতে চুবিয়ে হত্যার পর ঝুলন্ত অবস্থায় মা কানিজ সুবর্ণা স্বর্ণালীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। ঘটনার প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটনে পুলিশ তদন্ত চালাচ্ছে।
মধ্যপ্রাচ্যের ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মধ্যেই একটি চাঞ্চল্যকর দাবি ভূ-রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে বিতর্কের ঝড় তুলেছে। গত ৪৮ থেকে ৫৬ ঘণ্টার মধ্যে ১৬টি চীনা 'ওয়াই-২০' (Y-20) সামরিক কার্গো বিমান তাদের ট্রান্সপন্ডার বা সিগন্যাল বন্ধ রেখে ইরানের আকাশে প্রবেশ করেছে বলে খবর ছড়িয়েছে। কোনো আনুষ্ঠানিক নিশ্চিতকরণ ছাড়াই এই তথ্যটি প্রতিরক্ষা বিশ্লেষক ও সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারকারীদের মধ্যে তীব্র উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। দাবি করা হচ্ছে, এই বিমানগুলো বেসামরিক রাডার থেকে আড়াল থাকতে বিশেষ কৌশল অবলম্বন করেছিল। নেটিজেন ও সামরিক বিশ্লেষকদের একটি অংশের ধারণা, চীন হয়তো ইরানকে অত্যাধুনিক ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার সিস্টেম বা জ্যামিং প্রযুক্তি সরবরাহ করছে। যদি এটি সত্যি হয়, তবে মার্কিন এফ-৩৫ (F-35) যুদ্ধবিমান বা নৌ-অভিযানের জন্য এটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে। অনেকে একে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি বেইজিংয়ের সরাসরি ‘সতর্কবার্তা’ হিসেবেও দেখছেন। তবে এই উত্তেজনার মুদ্রার উল্টো পিঠও রয়েছে। ফ্লাইটরাডার২৪-এর মতো আন্তর্জাতিক ফ্লাইট ট্র্যাকিং প্ল্যাটফর্মে এ ধরনের কোনো অস্বাভাবিক ফ্লাইটের রেকর্ড পাওয়া যায়নি। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ১৬টি ভারী সামরিক কার্গো বিমানের মতো বিশাল বহরকে রাডার বা স্যাটেলাইট নজরদারি থেকে সম্পূর্ণ লুকিয়ে রাখা প্রায় অসম্ভব। বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে চীন-ইরান সম্পর্ক গভীর হলেও, সুনির্দিষ্ট প্রমাণের অভাবে বিশ্লেষকরা একে আপাতত ‘সুপরিকল্পিত গুজব’ বা মিসইনফরমেশন হিসেবেই দেখছেন। তেহরান বা বেইজিং—কোনো পক্ষ থেকেই এখন পর্যন্ত এ নিয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া মেলেনি।
এপস্টেইন ফাইল: দাবি, বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করে ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে জেফরি এপস্টেইনের ফাইল ট্রান্সপারেন্সি অ্যাক্টের সাথে যুক্ত সম্প্রতি প্রকাশিত একটি নথি ত্রাঞ্চে অভিযোগ করা হয়েছে যে, প্রাক্তন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একটি ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। এই নথিগুলি, যা আনক্লাসিফায়েড ডিপার্টমেন্ট অব জাস্টিস (DOJ) রেকর্ডের একটি বিশাল ডেটা রিলিজের অংশ, “চার্লস” নামে একজনের ক্ষুব্ধ ইমেইল অন্তর্ভুক্ত করেছে এবং অন্তর্বর্তী ফাইলিং কোড EFTA00173266 থেকে EFTA00173273 পর্যন্ত চিহ্নিত। এই ইমেইলগুলো তৃতীয় পক্ষের যোগাযোগের মধ্যে পাওয়া গেছে, যা জেফরি এপস্টেইনের নেটওয়ার্ক সংক্রান্ত বিস্তৃত ফেডারেল তদন্তের সময় সংগ্রহ করা হয়েছিল। এপস্টেইন সম্পর্কিত অন্যান্য প্রকাশনার মতো এখানে রাজনৈতিক ও ব্যবসায়িক ব্যক্তিদের সঙ্গে সম্পর্কের তথ্য নয়, বরং চরম ও ষড়যন্ত্রমূলক দাবিগুলো রয়েছে। ক্লোন তত্ত্বের উল্লেখ “চার্লস” ইমেইলগুলো এপ্রিল ২০২১-এ একজন এফবিআই এজেন্টকে ফরোয়ার্ড করা হয়েছিল, যাকে লাল করা প্রেরক হিসেবে দেখানো হয়েছে। প্রেরক দাবি করেছিলেন যে এটি একটি প্রযুক্তি সংস্থার এক ক্ষুব্ধ প্রাক্তন কর্মচারী বা সহযোগীর মেসেজ। ইমেইলগুলিতে গালাগালি ভাষা ব্যবহৃত হয়েছে এবং এখানে “কোয়ান্টাম” প্রযুক্তি, গোপন সামরিক ট্রাইব্যুনাল, এবং “বাইডেন আপনার বর্তমান প্রেসিডেন্ট নন” এমন দাবির উল্লেখ রয়েছে। একটি অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে নির্বিচারে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একজন অভিনেতা বা ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে, যেখানে প্রমাণ হিসেবে “মাস্কের ত্রুটি” দেখানো হয়েছে। তবে এই দাবিগুলোর সঙ্গে কোনো শারীরিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি বা সঙ্গত সাক্ষ্য নেই। “বাইডেন ক্লোন” দাবি অনলাইনে ষড়যন্ত্র তত্ত্বের একটি পরিচিত অংশ। তত্ত্বটি সাধারণত ধরে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে গোপনে জনমঞ্চ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে, প্রায়শই ২০১৯ বা ২০২০ সালে, এবং তাকে চেহারা মিলানো লোক বা ক্লোন দিয়ে প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। অনুগামীরা প্রায়শই নিম্নমানের ভিডিও এবং ফটোগ্রাফ বিশ্লেষণ করে, চেহারার পরিবর্তন যেমন আলোর পরিবর্তন, বয়সের প্রভাব বা ক্যামেরার ত্রুটিকে কৃত্রিমভাবে আড়াল করার প্রমাণ হিসেবে দেখান। এ পর্যন্ত কোনো যাচাইযোগ্য প্রমাণ নেই যে প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন কখনো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন বা প্রতিস্থাপিত হয়েছেন। এই দাবিগুলি সম্পূর্ণভাবে একটি ষড়যন্ত্র তত্ত্ব হিসেবে রয়ে গেছে। সূত্র: Royanews
দাম বাড়ানোর ১২ ঘণ্টারও কম সময়ের ব্যবধানে দেশের বাজারে আবারও স্বর্ণের দাম কমিয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। ভরিতে এক লাফে ৩ হাজার ২৬৬ টাকা কমিয়ে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ৫৮ হাজার ৮২৪ টাকা। শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) রাতে বাজুসের এক বিজ্ঞপ্তিতে দাম কমানোর বিষয়টি জানানো হয়েছে। নতুন দাম রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) থেকেই কার্যকর হবে। এর আগে একই দিন সকালে দেশের বাজারে স্বর্ণের দাম বাড়ানো হয়। ওই সময় ভরিপ্রতি এক লাফে ৭ হাজার ৬৪০ টাকা বাড়িয়ে ২২ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণের দাম নির্ধারণ করা হয়েছিল ২ লাখ ৬২ হাজার ৯০ টাকা। নতুন দাম অনুযায়ী, বর্তমানে দেশের বাজারে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) স্বর্ণের দাম পড়বে ২ লাখ ৫৮ হাজার ৮২৪ টাকা। পাশাপাশি ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ৪৭ হাজার ৪৪ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ১১ হাজার ৭৬০ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম পড়বে ১ লাখ ৭৩ হাজার ৩২৭ টাকা। এ নিয়ে চলতি বছর দেশের বাজারে মোট ২৭ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করলো বাজুস। এরমধ্যে ১৭ বারই দাম বাড়ানো হয়েছে। আর দাম কমেছে মাত্র ১০ বার। অন্যদিকে গতবছর দেশের বাজারে মোট ৯৩ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করা হয়েছিল। যেখানে ৬৪ বারই দাম বাড়ানো হয়েছিল। এছাড়া ২০২৫ সালে ২৯ বার কমানো হয়েছিল স্বর্ণের দাম।
যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসন নীতিতে কঠোরতা আরও স্পষ্ট হচ্ছে। সর্বশেষ মেইন (Maine) অঙ্গরাজ্যে ফেডারেল ইমিগ্রেশন অভিযান শুরুর ঘোষণা দিয়েছে Department of Homeland Security (ডিএইচএস)। ডিএইচএসের এক মুখপাত্রের বরাতে জানা গেছে, “Operation Catch of the Day” নামে এই বিশেষ অভিযানের মাধ্যমে রাজ্যটিতে অবস্থানরত অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত অবৈধ অভিবাসীদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তার করা হবে। অভিযানটি পরিচালনায় ফেডারেল ইমিগ্রেশন কর্মকর্তাদের পাশাপাশি স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সমন্বয় রয়েছে। কর্তৃপক্ষ বলছে, এই উদ্যোগের প্রধান লক্ষ্য জননিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং সহিংস বা গুরুতর অপরাধে যুক্ত ব্যক্তিদের আইনের আওতায় আনা। ডিএইচএস আরও জানায়, আইন মেনে বসবাসকারী বা অপরাধে জড়িত নন—এমন অভিবাসীদের লক্ষ্যবস্তু করা হবে না। তবে মানবাধিকার ও অভিবাসী অধিকার সংগঠনগুলোর আশঙ্কা, এ ধরনের অভিযানে ভয় ও অনিশ্চয়তা তৈরি হতে পারে এবং নিরপরাধ মানুষও হয়রানির শিকার হতে পারেন। এ নিয়ে তারা স্বচ্ছতা ও যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণের আহ্বান জানিয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, মেইনে এই অভিযান শুরুর মাধ্যমে ফেডারেল সরকারের অভিবাসন আইন প্রয়োগ আরও বিস্তৃত পরিসরে জোরদার হলো। এর প্রভাব স্থানীয় অভিবাসী কমিউনিটির পাশাপাশি রাজ্যের রাজনৈতিক ও সামাজিক পরিমণ্ডলেও পড়তে পারে। সূত্র: ABC News
যুক্তরাষ্ট্রের শ্রমবাজারে তীব্র কর্মী সংকট মোকাবিলায় ২০২৬ অর্থবছরে বড় ধরনের পদক্ষেপ নিয়েছে ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন। নিয়মিত কোটার বাইরে অতিরিক্ত প্রায় ৬৪ হাজার ৭১৬টি এইচ-২বি মৌসুমি অতিথি শ্রমিক ভিসা দেওয়ার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। রয়টার্সের বরাতে জানা গেছে, স্থানীয় সময় শুক্রবার (৩০ জানুয়ারি) প্রকাশিত ফেডারেল রেজিস্টার নোটিশে বলা হয়, দেশীয় শ্রমিকের ঘাটতির কারণে যেসব মার্কিন নিয়োগকর্তা বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ছেন, মূলত তাদের স্বার্থ বিবেচনায় নিয়েই এই অতিরিক্ত ভিসার অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। ফলে বছরে নির্ধারিত ৬৬ হাজার এইচ-২বি ভিসার সংখ্যা প্রায় দ্বিগুণে পৌঁছাতে যাচ্ছে। নতুন এই সিদ্ধান্তে নির্মাণ শিল্প, হোটেল ও রেস্তোরাঁ, ল্যান্ডস্কেপিং এবং সি-ফুড প্রক্রিয়াজাতকরণ খাতের মতো শ্রমনির্ভর মৌসুমি শিল্পগুলো সবচেয়ে বেশি উপকৃত হবে বলে মনে করা হচ্ছে। এসব খাতে দীর্ঘদিন ধরেই দক্ষ স্থানীয় কর্মীর অভাবে বিদেশি শ্রমিক আনার দাবি জানিয়ে আসছিলেন নিয়োগকর্তারা। ক্ষমতায় আসার পর ট্রাম্প প্রশাসন অবৈধ অভিবাসনের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিলেও, বৈধ পথে কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়িয়ে অর্থনীতিকে সচল রাখতে এই নমনীয় সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এর আগেও সাবেক প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন প্রশাসনের সময় শ্রমঘাটতি মোকাবিলায় এইচ-২বি ভিসার সংখ্যা বাড়ানো হয়েছিল। তবে সরকারের এই সিদ্ধান্তের বিরোধিতাও রয়েছে। অভিবাসন কমানোর পক্ষে থাকা বিভিন্ন গোষ্ঠীর আশঙ্কা, বিপুল সংখ্যক বিদেশি শ্রমিক প্রবেশ করলে মার্কিন নাগরিকদের মজুরি কমে যেতে পারে। এ বিষয়ে পেন্টাগন ও শ্রম মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, দেশের উন্নয়ন প্রকল্প এবং পর্যটন খাত সচল রাখতে এই মুহূর্তে বিদেশি শ্রমিকের বিকল্প নেই। ফেডারেল রেজিস্টারের তথ্যানুযায়ী, অতিরিক্ত এইচ-২বি ভিসা কার্যকরের বিশেষ বিধিমালা আগামী মঙ্গলবার আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হবে এবং এরপরই আবেদন প্রক্রিয়া শুরু হবে। সূত্র: দ্য ফিন্যান্সিয়াল এক্সপ্রেস