- প্রচ্ছদ
- Topic
জন্মহার
যুক্তরাষ্ট্রের জনসংখ্যায় বড় ধরনের পরিবর্তনের আভাস দিয়েছে দেশটির কংগ্রেসনাল বাজেট অফিস (সিবিও)। সংস্থাটির সর্বশেষ জনসংখ্যা পূর্বাভাস অনুযায়ী, ২০৩০ সাল থেকে যুক্তরাষ্ট্রে প্রতি বছর জন্ম নেওয়া শিশুর সংখ্যার চেয়ে মৃত্যুর সংখ্যা বেশি হয়ে যাবে। এরপর দেশটির জনসংখ্যা বৃদ্ধির প্রধান উৎস হয়ে উঠবে অভিবাসন। ২০২৬ সালের জানুয়ারিতে প্রকাশিত ‘দ্য ডেমোগ্রাফিক আউটলুক: ২০২৬ টু ২০৫৬’ প্রতিবেদনে সিবিও যুক্তরাষ্ট্রের আগামী ৩০ বছরের জনসংখ্যাগত পরিস্থিতির পূর্বাভাস দিয়েছে। সংস্থাটি বলছে, জন্মহার কমে যাওয়া এবং জনসংখ্যার গড় বয়স বেড়ে যাওয়ার কারণে আগামী কয়েক দশকে স্বাভাবিক জনসংখ্যা বৃদ্ধি ক্রমেই দুর্বল হবে। সিবিওর হিসাবে, ২০২৬ সালে যুক্তরাষ্ট্রের জনসংখ্যা প্রায় ৩৪৯ মিলিয়ন বা ৩৪ কোটি ৯০ লাখ। ২০৫৬ সালে তা বেড়ে প্রায় ৩৬৪ মিলিয়নে পৌঁছাতে পারে। তবে এই বৃদ্ধি হবে অত্যন্ত ধীরগতির। ২০২৬ থেকে পরবর্তী এক দশকে জনসংখ্যা বৃদ্ধির গড় হার বছরে প্রায় ০.৩ শতাংশ হতে পারে। ২০৩৭ থেকে ২০৫৬ সালের মধ্যে তা আরও কমে গড়ে ০.১ শতাংশে নেমে আসবে। ২০৫৬ সালে জনসংখ্যা বৃদ্ধি কার্যত শূন্যে নেমে যাওয়ার পর পরবর্তী সময়ে জনসংখ্যা কমতে শুরু করবে বলে পূর্বাভাস দিয়েছে সিবিও। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তনটি ঘটবে জন্ম ও মৃত্যুর হিসাবের ক্ষেত্রে। সিবিও বলছে, ২০২৯ সাল পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রে প্রতিবছর মৃত্যুর তুলনায় জন্মের সংখ্যা বেশি থাকবে। কিন্তু ২০৩০ সাল থেকে জন্মের সংখ্যা মৃত্যুর চেয়ে কমে যাবে। অভিবাসন না থাকলে ওই সময় থেকেই দেশটির মোট জনসংখ্যা কমতে শুরু করত। এই পরিবর্তনের পেছনে সবচেয়ে বড় কারণগুলোর একটি হলো যুক্তরাষ্ট্রের কমে যাওয়া জন্মহার। সিবিওর তথ্য অনুযায়ী, ২০০৭ সালে দেশটির মোট প্রজনন হার ছিল ২.১২ সন্তান প্রতি নারী যা পরবর্তী সময়ে ধারাবাহিকভাবে কমেছে। ২০২০ সালে এই হার ১.৬৪ এবং ২০২৪ সালে ১.৬০-এ নেমে আসে। সিবিওর পূর্বাভাস অনুযায়ী, ২০২৬ সালে তা আরও কমে ১.৫৮ হবে এবং ২০৩৬ সালে ১.৫৩-এ নেমে গিয়ে এরপর প্রায় একই পর্যায়ে থাকবে। জনসংখ্যাকে দীর্ঘমেয়াদে একই আকারে ধরে রাখতে সাধারণভাবে প্রায় ২.১ সন্তান প্রতি নারীর প্রজনন হার প্রয়োজন হয়, যদি অভিবাসনকে হিসাবের বাইরে রাখা হয়। যুক্তরাষ্ট্রের বর্তমান ও পূর্বাভাসকৃত হার সেই মাত্রার অনেক নিচে। শুধু জন্মহার কমছে তা নয়, সন্তান নেওয়ার সময়ও পিছিয়ে যাচ্ছে। সিবিওর পূর্বাভাস অনুযায়ী, ৩০ বছরের কম বয়সী নারীদের প্রজনন হার আগামী কয়েক দশকে আরও কমবে। বিপরীতে, ৩০ বছর বা তার বেশি বয়সী নারীদের প্রজনন হার কিছুটা বাড়তে পারে। সংস্থাটি এর অন্যতম কারণ হিসেবে অপেক্ষাকৃত বেশি বয়সে সন্তান নেওয়ার প্রবণতার কথা উল্লেখ করেছে। এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের জনসংখ্যা দ্রুত বয়স্ক হয়ে উঠছে। ৬৫ বছর বা তার বেশি বয়সী মানুষের সংখ্যা আগামী কয়েক দশকে তরুণ বয়সী জনগোষ্ঠীর তুলনায় দ্রুত বাড়বে বলে পূর্বাভাস দিয়েছে সিবিও। একই সময়ে ২৪ বছর বা তার কম বয়সী জনগোষ্ঠীর সংখ্যা আগামী ৩০ বছর ধরে কমতে পারে। এই পরিবর্তনের সরাসরি প্রভাব পড়তে পারে দেশটির কর্মবাজার ও সামাজিক নিরাপত্তা ব্যবস্থায়। সিবিও বলছে, বর্তমানে ২৫ থেকে ৬৪ বছর বয়সী প্রতি একজনের বিপরীতে ৬৫ বছর বা তার বেশি বয়সী মানুষের অনুপাত তুলনামূলকভাবে কম। কিন্তু আগামী তিন দশকে এই অনুপাত আরও সংকুচিত হবে। ২০২৬ সালে ৬৫ বছর বা তার বেশি বয়সী একজন মানুষের বিপরীতে ২৫ থেকে ৬৪ বছর বয়সী প্রায় ২.৭ জন থাকলেও ২০৫৬ সালে তা কমে প্রায় ২.২ জনে দাঁড়াতে পারে। এর অর্থ হলো, অবসরপ্রাপ্ত মানুষের সংখ্যা বাড়ার সঙ্গে তাদের সামাজিক নিরাপত্তা ও স্বাস্থ্যসেবা ব্যয়ের চাপও বাড়তে পারে। অন্যদিকে এসব কর্মসূচিতে অর্থ জোগান দেওয়া কর্মক্ষম মানুষের তুলনামূলক অংশ কমে যেতে পারে। ফলে সামাজিক নিরাপত্তা, মেডিকেয়ার, শ্রমবাজার এবং সরকারি বাজেটের ওপর দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। এ অবস্থায় অভিবাসন যুক্তরাষ্ট্রের জনসংখ্যা বৃদ্ধির জন্য আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে। সিবিওর পূর্বাভাস অনুযায়ী, ২০৩০ সাল থেকে জন্ম ও মৃত্যুর পার্থক্য জনসংখ্যা বৃদ্ধিতে নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে। সেই ঘাটতি পূরণ করবে মূলত নিট অভিবাসন অর্থাৎ যুক্তরাষ্ট্রে যত মানুষ প্রবেশ করবে, তার তুলনায় যত মানুষ দেশ ছাড়বে, সেই পার্থক্য। তবে অভিবাসনের ক্ষেত্রেও পূর্বাভাস আগের তুলনায় কমেছে। সিবিও জানিয়েছে, ২০২৫ থেকে ২০২৯ সালের জন্য তাদের নিট অভিবাসনের পূর্বাভাস কমানোর পেছনে বর্তমান প্রশাসনের বিভিন্ন প্রশাসনিক পদক্ষেপ, ২০২৫ সালের একটি ব্যয়সংক্রান্ত আইনের অভিবাসন-সম্পর্কিত বিধান এবং আগের জনসংখ্যার তথ্যের সংশোধন ভূমিকা রেখেছে। সিবিওর হিসাবে, অভিবাসন অব্যাহত থাকায় ২০৫৬ সাল পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রের মোট জনসংখ্যা কিছুটা বাড়তে পারে। কিন্তু জনসংখ্যা বৃদ্ধির গতি এতটাই কমে যাবে যে ওই বছর তা প্রায় স্থির হয়ে যাবে। এরপর জনসংখ্যা কমার পথে যেতে পারে। তবে সংস্থাটি সতর্ক করেছে, এগুলো নিশ্চিত ভবিষ্যৎ নয়; বরং বর্তমান আইন, নীতি ও জনসংখ্যাগত প্রবণতার ভিত্তিতে তৈরি পূর্বাভাস। জন্মহার, মৃত্যুহার বা অভিবাসনের প্রকৃত হার পূর্বাভাসের চেয়ে সামান্য ভিন্ন হলেও দীর্ঘ সময়ে তার প্রভাব অনেক বড় হতে পারে। বিশেষ করে ২০৫৬ সালের কাছাকাছি সময়ের হিসাবগুলোতে অনিশ্চয়তা বেশি। তারপরও ২০৩০ সালের সম্ভাব্য পরিবর্তনটি যুক্তরাষ্ট্রের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ জনসংখ্যাগত মাইলফলক। কারণ ওই সময় থেকে দেশের জনসংখ্যা আর স্বাভাবিকভাবে অর্থাৎ জন্ম ও মৃত্যুর ব্যবধানের মাধ্যমে বাড়বে না। বরং জনসংখ্যার আকার ধরে রাখা ও অর্থনীতিতে কর্মক্ষম মানুষের সংখ্যা বজায় রাখার ক্ষেত্রে অভিবাসন নীতির ভূমিকা আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে।
যুদ্ধ, মূল্যস্ফীতি ও অভিবাসন সংকটের আলোচনার আড়ালে যুক্তরাষ্ট্রে ধীরে ধীরে গড়ে উঠছে আরেকটি বড় সংকট—জন্মহার কমে যাওয়া। সাম্প্রতিক পরিসংখ্যান বলছে, এই পরিবর্তন দীর্ঘমেয়াদে দেশটির অর্থনীতি ও জনসংখ্যা কাঠামোর ওপর বড় প্রভাব ফেলতে পারে। মার্কিন রোগ নিয়ন্ত্রণ ও প্রতিরোধ সংস্থার সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, গত বছর দেশে ৩৬ লাখ ৬ হাজার শিশুর জন্ম হয়েছে। অথচ ২০০৭ সালে এই সংখ্যা ছিল ৪৩ লাখের বেশি। অর্থাৎ দুই দশকেরও কম সময়ে জন্মের সংখ্যা কমেছে প্রায় ৭ লাখ ১০ হাজার। একই সময়ে দেশের মোট জনসংখ্যা বেড়েছে, যা এই প্রবণতাকে আরও উদ্বেগজনক করে তুলেছে। তথ্যে দেখা গেছে, ২০০৭ সালের পর থেকে জন্মহার ধারাবাহিকভাবে কমছে। বর্তমানে তা প্রায় ২৩ শতাংশ কমে গেছে। সাম্প্রতিক এক বছরেই জন্মহার আরও ১ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে, যা এই প্রবণতার ধারাবাহিকতা নির্দেশ করে। জন্মহার কমার পেছনে একাধিক কারণ কাজ করছে। অর্থনৈতিক চাপ, যেমন—বাসস্থান ব্যয় বৃদ্ধি, সন্তান লালনপালনের উচ্চ খরচ ও পেশাগত অনিশ্চয়তা একটি বড় কারণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। পাশাপাশি সামাজিক পরিবর্তনও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। নতুন প্রজন্মের অনেকেই বিয়ে ও সন্তান নেওয়ার সিদ্ধান্ত দেরিতে নিচ্ছেন বা এড়িয়ে যাচ্ছেন। তথ্য অনুযায়ী, কম বয়সী নারীদের মধ্যে জন্মহার দ্রুত কমছে। যদিও ৩০ থেকে ৪০ বছর বয়সী নারীদের মধ্যে জন্ম কিছুটা বাড়ছে, তবে তা সামগ্রিক পতন পূরণ করার মতো নয়। এই প্রবণতা শুধু সামাজিক নয়, অর্থনৈতিক দিক থেকেও গুরুত্বপূর্ণ। সাম্প্রতিক এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, জন্মহার হ্রাস এবং অভিবাসন কমে যাওয়ার ফলে আগামী কয়েক দশকে যুক্তরাষ্ট্রের জনসংখ্যা প্রত্যাশার তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে কম হতে পারে। তরুণ জনগোষ্ঠী কমে গেলে শ্রমবাজারে চাপ বাড়বে এবং বয়স্ক জনগোষ্ঠীর বোঝা বহন করা কঠিন হয়ে উঠবে। অভিবাসন নীতির কড়াকড়িও পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। আগে জন্মহার কমলেও অভিবাসনের মাধ্যমে সেই ঘাটতি কিছুটা পূরণ হতো। এখন সেই সুযোগ সীমিত হয়ে যাওয়ায় জনসংখ্যার ভারসাম্য দ্রুত বদলাচ্ছে। তবে একটি ইতিবাচক দিকও রয়েছে। কিশোরী মায়েদের সংখ্যা সাম্প্রতিক সময়ে কমেছে, যা জনস্বাস্থ্যের ক্ষেত্রে অগ্রগতি হিসেবে দেখা হচ্ছে। কিন্তু সামগ্রিক জন্মহার পতনের প্রেক্ষাপটে এই অর্জন বড় সংকট মোকাবিলায় যথেষ্ট নয়। পরিবার গঠন সহজ করতে নীতিগত উদ্যোগ নিয়ে আলোচনা থাকলেও, ব্যক্তিগত সিদ্ধান্তের স্বাধীনতা বজায় রাখার বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। বর্তমান পরিস্থিতিতে যুক্তরাষ্ট্র এমন এক বাস্তবতার মুখোমুখি, যেখানে ধীরে ধীরে পরিবর্তিত জনসংখ্যা কাঠামো ভবিষ্যতের অর্থনীতি ও সমাজে গভীর প্রভাব ফেলতে পারে।
আশঙ্কাজনকভাবে কমে ইতিহাসের সর্বনিম্ন পর্যায়ে পৌঁছেছে। দেশটির জাতীয় স্বাস্থ্য পরিসংখ্যান কেন্দ্রের (NCHS) সর্বশেষ তথ্যানুযায়ী, ২০২৫ সালে জন্মহার রেকর্ড পরিমাণ হ্রাস পেয়েছে এবং ২০২৬ সালেও এই নিম্নমুখী প্রবণতা অব্যাহত রয়েছে। শুক্রবার রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৫ সালে যুক্তরাষ্ট্রে জন্মহার আগের বছরের তুলনায় উল্লেখযোগ্য হারে কমেছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি, আবাসন সংকট এবং ক্যারিয়ার নিয়ে তরুণ প্রজন্মের অতিরিক্ত সচেতনতাই এই পরিস্থিতির প্রধান কারণ। নথিপত্র অনুযায়ী, ২০২৫ সালে যুক্তরাষ্ট্রে প্রতি ১,০০০ জন প্রজননক্ষম নারীর বিপরীতে জন্মহার ছিল ইতিহাসের সর্বনিম্ন। এই হার ২০০৭ সালের তুলনায় প্রায় ২০ শতাংশের বেশি কম। বিশেষ করে ২০ থেকে ২৯ বছর বয়সী নারীদের মধ্যে মা হওয়ার প্রবণতা সবচেয়ে বেশি কমেছে। অর্থনীতিবিদ ও সমাজবিজ্ঞানীদের মতে, যুক্তরাষ্ট্রে বর্তমানে সন্তান লালন-পালনের খরচ সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে চলে যাচ্ছে। এছাড়াও, দেরিতে বিয়ে করা এবং ব্যক্তিগত স্বাধীনতার গুরুত্ব বেড়ে যাওয়াও জন্মহার কমার অন্যতম কারণ। যুক্তরাষ্ট্রের স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, যদি এই ধারা চলতে থাকে তবে ভবিষ্যতে দেশটিতে শ্রমশক্তির চরম সংকট দেখা দিতে পারে। জনসংখ্যা বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলেছেন, জন্মহার এভাবে কমতে থাকলে প্রবীণ জনসংখ্যার ভার বহন করা তরুণ প্রজন্মের জন্য কঠিন হয়ে পড়বে। এটি দীর্ঘমেয়াদে মার্কিন অর্থনীতিতে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। ২০২৬ সালের প্রথম কয়েক মাসের তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, জন্মহার বাড়ার কোনো লক্ষণ নেই, বরং তা আরও সংকুচিত হচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্রের সরকার এই সংকট মোকাবিলায় বিভিন্ন ধরণের পারিবারিক সুবিধা ও ভর্তুকি দেওয়ার কথা চিন্তা করলেও, বাস্তবে এর প্রতিফলন এখনো দৃশ্যমান নয়। উল্লেখ্য, শুধু যুক্তরাষ্ট্র নয়, একই ধরণের নিম্নমুখী জন্মহার দেখা যাচ্ছে পূর্ব এশিয়া এবং ইউরোপের অনেক উন্নত দেশগুলোতেও। তবে বিশ্বের বৃহত্তম অর্থনীতির দেশ হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রের এই পতন বৈশ্বিক অর্থনীতিতে উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।