দুই দশকে ৭ লাখ কম জন্ম: যুক্তরাষ্ট্রে জনসংখ্যা সংকটের নীরব সতর্কবার্তা
যুদ্ধ, মূল্যস্ফীতি ও অভিবাসন সংকটের আলোচনার আড়ালে যুক্তরাষ্ট্রে ধীরে ধীরে গড়ে উঠছে আরেকটি বড় সংকট—জন্মহার কমে যাওয়া। সাম্প্রতিক পরিসংখ্যান বলছে, এই পরিবর্তন দীর্ঘমেয়াদে দেশটির অর্থনীতি ও জনসংখ্যা কাঠামোর ওপর বড় প্রভাব ফেলতে পারে।
মার্কিন রোগ নিয়ন্ত্রণ ও প্রতিরোধ সংস্থার সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, গত বছর দেশে ৩৬ লাখ ৬ হাজার শিশুর জন্ম হয়েছে। অথচ ২০০৭ সালে এই সংখ্যা ছিল ৪৩ লাখের বেশি। অর্থাৎ দুই দশকেরও কম সময়ে জন্মের সংখ্যা কমেছে প্রায় ৭ লাখ ১০ হাজার। একই সময়ে দেশের মোট জনসংখ্যা বেড়েছে, যা এই প্রবণতাকে আরও উদ্বেগজনক করে তুলেছে।
তথ্যে দেখা গেছে, ২০০৭ সালের পর থেকে জন্মহার ধারাবাহিকভাবে কমছে। বর্তমানে তা প্রায় ২৩ শতাংশ কমে গেছে। সাম্প্রতিক এক বছরেই জন্মহার আরও ১ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে, যা এই প্রবণতার ধারাবাহিকতা নির্দেশ করে।
জন্মহার কমার পেছনে একাধিক কারণ কাজ করছে। অর্থনৈতিক চাপ, যেমন—বাসস্থান ব্যয় বৃদ্ধি, সন্তান লালনপালনের উচ্চ খরচ ও পেশাগত অনিশ্চয়তা একটি বড় কারণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। পাশাপাশি সামাজিক পরিবর্তনও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। নতুন প্রজন্মের অনেকেই বিয়ে ও সন্তান নেওয়ার সিদ্ধান্ত দেরিতে নিচ্ছেন বা এড়িয়ে যাচ্ছেন।
তথ্য অনুযায়ী, কম বয়সী নারীদের মধ্যে জন্মহার দ্রুত কমছে। যদিও ৩০ থেকে ৪০ বছর বয়সী নারীদের মধ্যে জন্ম কিছুটা বাড়ছে, তবে তা সামগ্রিক পতন পূরণ করার মতো নয়।
এই প্রবণতা শুধু সামাজিক নয়, অর্থনৈতিক দিক থেকেও গুরুত্বপূর্ণ। সাম্প্রতিক এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, জন্মহার হ্রাস এবং অভিবাসন কমে যাওয়ার ফলে আগামী কয়েক দশকে যুক্তরাষ্ট্রের জনসংখ্যা প্রত্যাশার তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে কম হতে পারে। তরুণ জনগোষ্ঠী কমে গেলে শ্রমবাজারে চাপ বাড়বে এবং বয়স্ক জনগোষ্ঠীর বোঝা বহন করা কঠিন হয়ে উঠবে।
অভিবাসন নীতির কড়াকড়িও পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। আগে জন্মহার কমলেও অভিবাসনের মাধ্যমে সেই ঘাটতি কিছুটা পূরণ হতো। এখন সেই সুযোগ সীমিত হয়ে যাওয়ায় জনসংখ্যার ভারসাম্য দ্রুত বদলাচ্ছে। তবে একটি ইতিবাচক দিকও রয়েছে। কিশোরী মায়েদের সংখ্যা সাম্প্রতিক সময়ে কমেছে, যা জনস্বাস্থ্যের ক্ষেত্রে অগ্রগতি হিসেবে দেখা হচ্ছে। কিন্তু সামগ্রিক জন্মহার পতনের প্রেক্ষাপটে এই অর্জন বড় সংকট মোকাবিলায় যথেষ্ট নয়।
পরিবার গঠন সহজ করতে নীতিগত উদ্যোগ নিয়ে আলোচনা থাকলেও, ব্যক্তিগত সিদ্ধান্তের স্বাধীনতা বজায় রাখার বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। বর্তমান পরিস্থিতিতে যুক্তরাষ্ট্র এমন এক বাস্তবতার মুখোমুখি, যেখানে ধীরে ধীরে পরিবর্তিত জনসংখ্যা কাঠামো ভবিষ্যতের অর্থনীতি ও সমাজে গভীর প্রভাব ফেলতে পারে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
আমেরিকা
View moreযুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কের ব্রঙ্কসে ১৫ বছর বয়সী কিশোর রাইলি বিলিংসলিকে গুলি করে হত্যার পর পুলিশের কাছে আত্মসমর্পণ করেছে কালভিন ভেলোজ নামের ১৬ বছর বয়সী আরেক কিশোর। মর্মান্তিক এই খুনের ঘটনায় মঙ্গলবার কালভিনের বিরুদ্ধে হত্যার অভিযোগ গঠন করেছে পুলিশ। গত ১২ আগস্ট বিকেল ৫টা ২০ মিনিটের দিকে কিংসব্রিজ হাইটসের ওয়েস্ট ১৯৭ স্ট্রিটের কাছে ক্ল্যাফলিন অ্যাভিনিউয়ের একটি অ্যাপার্টমেন্টের পঞ্চম তলায় এই গোলাগুলির ঘটনা ঘটে। পুলিশ জানিয়েছে, কালভিন তার ব্যাকপ্যাক থেকে একটি .৪৫ ক্যালিবারের আগ্নেয়াস্ত্র বের করে এবং "আমি কিছু ব্যথা দিতে যাচ্ছি" (I'm going to throw some pain) বলে হুংকার দিয়ে রাইলিকে মাথায় গুলি করে। নিউইয়র্ক পুলিশ ডিপার্টমেন্টের (এনওয়াইপিডি) চিফ অব ডিটেকটিভস জোসেফ কেনি জানান, ওই সময় রাইলিসহ একদল কিশোর একটি বেডরুমে আড্ডা দিচ্ছিল। হঠাৎ কালভিন তার বন্দুক বের করে ম্যাগাজিন লোড করে সরাসরি রাইলির মাথায় গুলি চালালে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। রাইলির কোনো অপরাধমূলক রেকর্ড ছিল না বলেও নিশ্চিত করেছে পুলিশ। এই ঘটনায় ওই অ্যাপার্টমেন্টে থাকা ১৩ বছর বয়সী অপর এক কিশোরও আহত হয়। গুলি প্রথমে দেয়ালে লেগে ছিটকে তার বুকে আঘাত করে। বর্তমানে সে হাসপাতালে স্থিতিশীল অবস্থায় চিকিৎসাধীন রয়েছে বলে জানা গেছে। তদন্তকারী কর্মকর্তাদের মতে, এটি কোনো দুর্ঘটনা ছিল না, বরং কালভিনের উদ্দেশ্যই ছিল কাউকে গুলি করা। এদিকে, নিহত রাইলির শোকার্ত দাদি এলেইন রজার্স কালভিনের আত্মসমর্পণের খবর শুনে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন। তিনি বলেন, ওই তরুণ যে কারণেই আত্মসমর্পণ করুক না কেন, এটি অন্তত কিছুটা স্বস্তিদায়ক; তবে তিনি জানতে চান কেন তার নাতিকে এভাবে হত্যা করা হলো। পুলিশ কালভিনকে 'বুলিং' প্রবণ ও বদমেজাজি হিসেবে উল্লেখ করে জানিয়েছে, সে এর আগেও এক কিশোরকে পুড়িয়ে আহত করেছিল, যদিও ওই ঘটনাটি আনুষ্ঠানিকভাবে পুলিশকে জানানো হয়নি। কালভিনের বিরুদ্ধে হত্যা, হত্যাচেষ্টা, অনিচ্ছাকৃত নরহত্যা এবং বেআইনি অস্ত্র রাখার অভিযোগ আনা হয়েছে। নিহত রাইলির দাদি এখন তার নাতির হত্যার ন্যায়বিচার দাবি করেছেন।
মার্কিন কর্মীদের চাকরি রক্ষায় এইচ-১বি ভিসা বাতিলের জোরালো দাবি তুললেন রিপাবলিকান কংগ্রেসম্যান
দুই সপ্তাহ আইসিই হেফাজতে থাকার পর অবশেষে বাড়ি ফিরছেন ভারতীয় বংশোদ্ভূত শিক্ষিকা
অটিস্টিক সন্তানকে হাড়কাঁপানো শীতে গ্যারেজে আটকে হ ত্যার দায়ে সাবেক পুলিশ কর্মকর্তার যাবজ্জীবন
যুক্তরাষ্ট্রের প্রথম পূর্ণাঙ্গ হাইস্পিড রেল প্রকল্প ক্যালিফোর্নিয়া হাইস্পিড রেল এখন বড় ধরনের অর্থসংকটে পড়েছে। নতুন অর্থায়ন না হলে প্রকল্পটির বর্তমান অর্থ ২০২৭ সালের ডিসেম্বরের মধ্যেই শেষ হয়ে যেতে পারে বলে সতর্ক করেছেন প্রকল্পটির ইন্সপেক্টর জেনারেল বেঞ্জামিন বেলন্যাপ। ৩১ জুলাই গভর্নর গ্যাভিন নিউজম এবং ক্যালিফোর্নিয়া স্টেট আইনসভার নেতাদের কাছে পাঠানো এক পর্যালোচনা প্রতিবেদনে বেলন্যাপ প্রকল্পটির অর্থায়ন ও ব্যবস্থাপনা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তার প্রতিবেদনে বলা হয়, চলমান নির্মাণকাজ চালিয়ে যেতে আগামী কয়েক বছরে বড় ধরনের অর্থের ঘাটতি তৈরি হতে পারে। শুধু ২০২৭-২৮ অর্থবছরেই মার্সেড থেকে বেকার্সফিল্ড অংশের নির্মাণকাজ চালিয়ে যেতে অতিরিক্ত প্রায় ২.২ বিলিয়ন ডলার প্রয়োজন হতে পারে। ক্যালিফোর্নিয়া হাইস্পিড রেল অথরিটি জানিয়েছে, প্রকল্পটির প্রথম ধাপে সান ফ্রান্সিসকো থেকে লস অ্যাঞ্জেলেস ও আনাহেইম পর্যন্ত সংযোগ গড়ে তোলার লক্ষ্য রয়েছে। তবে বর্তমানে নির্মাণের মূল কাজ চলছে সেন্ট্রাল ভ্যালির মার্সেড থেকে বেকার্সফিল্ড অংশে। অথরিটির ২০২৬ সালের বিজনেস প্ল্যানে প্রকল্পের এই অংশকে অগ্রাধিকার দিয়ে দ্রুত সেবা চালুর পরিকল্পনা তুলে ধরা হয়েছে। প্রকল্পটির ব্যয়ও বছরের পর বছর বেড়েছে। বিভিন্ন হিসাব অনুযায়ী পুরো প্রথম ধাপের সম্ভাব্য ব্যয় ১২৬ বিলিয়ন ডলার থেকে সর্বোচ্চ ২৩১ বিলিয়ন ডলার পর্যন্ত হতে পারে। পুরো প্রকল্পের কার্যক্রম চালুর সময়সীমাও অনেক পিছিয়েছে, যা এখন প্রায় ২০৩৯ বা ২০৪০ সালের দিকে গিয়ে ঠেকেছে। অর্থসংকটের পাশাপাশি প্রকল্পটির বিলম্ব ও নির্মাণ ব্যয় নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। ইন্সপেক্টর জেনারেলের পর্যালোচনায় প্রকল্পের ব্যয়, সময়সূচি এবং অর্থায়নের ঝুঁকি নিয়ে আইনপ্রণেতাদের আরও স্বচ্ছ তথ্য দেওয়ার প্রয়োজনীয়তার কথা বলা হয়েছে। বেলন্যাপ অভিযোগ করেছেন, প্রকল্পের কিছু মৌলিক তথ্য যথেষ্ট স্পষ্টভাবে উপস্থাপন করা হয়নি, যা আইনপ্রণেতাদের কার্যকর নজরদারিকে বাধাগ্রস্ত করছে। তবে প্রকল্পটি এখনো বন্ধ হয়ে যায়নি। ক্যালিফোর্নিয়া হাইস্পিড রেল অথরিটি ২০২৬ সালের বিজনেস প্ল্যানে নতুন অর্থায়ন, সম্ভাব্য বেসরকারি বিনিয়োগ এবং ভবিষ্যৎ রাজস্বের বিভিন্ন উৎস ব্যবহার করে প্রকল্প এগিয়ে নেওয়ার পরিকল্পনা জানিয়েছে। একই সঙ্গে সেন্ট্রাল ভ্যালিতে নির্মাণকাজও অব্যাহত রয়েছে। ক্যালিফোর্নিয়ার এই প্রকল্পকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রথম ‘true high-speed rail system’ হিসেবে তুলে ধরছে হাইস্পিড রেল অথরিটি। পরিকল্পনা অনুযায়ী ট্রেনগুলো ঘণ্টায় সর্বোচ্চ প্রায় ২২০ মাইল গতিতে চলতে পারবে। জুন ২০২৬-এ কর্তৃপক্ষ দেশের প্রথম হাইস্পিড রেল ট্র্যাক ও সিস্টেম নির্মাণের জন্য একটি টিম অনুমোদনের কথাও জানিয়েছে। অর্থাৎ প্রকল্পটি এখনো নির্মাণাধীন এবং পুরোপুরি থেমে যায়নি। তবে নতুন অর্থের ব্যবস্থা না হলে ২০২৭ সালের শেষ নাগাদ বর্তমান অর্থ শেষ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। ফলে যুক্তরাষ্ট্রের বহু প্রতীক্ষিত এই হাইস্পিড ‘বুলেট ট্রেন’ প্রকল্পের ভবিষ্যৎ এখন অনেকটাই নির্ভর করছে নতুন অর্থায়ন নিশ্চিত করার ওপর।
ইজারা ইসলামিক ফাইন্যান্স কীভাবে কাজ করে, প্রচলিত মর্টগেজের সঙ্গে পার্থক্য কোথায়
জন্মের আগে গর্ভপাত চেয়েছিলেন ক্যালিফোর্নিয়ার দম্পতি, জন্মের পর সেই শিশুরই অভিভাবকত্ব দাবি
‘আর কাউকে চুমু দিতে দেব না’ বলেই প্রেমিকার ঠোঁট কামড়ে ছিঁ ড়ে ফেললেন প্রেমিক
১৯৯৪ সালে যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্লেবয় মডেল ও অভিনেত্রী আনা নিকোল স্মিথ বিয়ে করেছিলেন ৮৯ বছর বয়সী তেল ব্যবসায়ী জে. হাওয়ার্ড মার্শালকে। বিয়ের মাত্র ১৪ মাস পর মার্শালের মৃত্যু হলে তার বিপুল সম্পত্তির উত্তরাধিকার নিয়ে শুরু হয় দীর্ঘ আইনি লড়াই। প্রায় দুই দশক ধরে চলা সেই মামলা দুইবার যুক্তরাষ্ট্রের সর্বোচ্চ আদালত পর্যন্ত গড়ায়। শেষ পর্যন্ত বিতর্কিত ওই সম্পত্তি থেকে কোনো অর্থই পাননি স্মিথ বা তার উত্তরাধিকারী সম্পত্তি। স্মিথের আসল নাম ছিল ভিকি লিন হোগান। বিয়ের সময় তার বয়স ছিল ২৬ বছর। ১৯৯৫ সালের আগস্টে মার্শাল মারা যাওয়ার পর তার উইল ও জীবিত অবস্থায় করা সম্পত্তির অছি চুক্তিতে ছেলে ই. পিয়ার্স মার্শালকে প্রধান উত্তরাধিকারী করা হয়। সেখানে স্মিথের জন্য কোনো অংশ রাখা হয়নি। তবে স্মিথ দাবি করেন, মার্শাল তাকে মৌখিকভাবে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন যে বিয়ের সময় তার সম্পদের অর্ধেকের জন্য একটি আলাদা অছি তহবিল তৈরি করা হবে। এই দাবির ভিত্তিতে তিনি মার্শালের ছেলে পিয়ার্সের বিরুদ্ধে সম্পত্তির উত্তরাধিকার নিয়ে আইনি লড়াই শুরু করেন। প্রথমে টেক্সাসের আদালতে বিষয়টি ওঠে। সেখানে স্মিথের দাবি প্রত্যাখ্যাত হয়। পরে ক্যালিফোর্নিয়ার ফেডারেল আদালতে একই বিরোধ নতুন মোড় নেয়। একপর্যায়ে স্মিথের পক্ষে প্রায় ৪৭৫ মিলিয়ন ডলারের একটি রায় দেওয়া হয়। পরে সেই অর্থ কমিয়ে প্রায় ৮৯ মিলিয়ন ডলার করা হয়। তবে এসব রায় শেষ পর্যন্ত কার্যকর হয়নি। মামলাটি ২০০৬ সালে যুক্তরাষ্ট্রের সর্বোচ্চ আদালতে পৌঁছে যায়। মার্শাল বনাম মার্শাল মামলায় আদালত রায় দেয়, টেক্সাসের সম্পত্তি সংক্রান্ত মামলার কারণে স্মিথের ফেডারেল দাবি শোনার পথ পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায়নি। এই রায়ে স্মিথকে কোনো অর্থ দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়নি, তবে তার ফেডারেল আইনি দাবি নিয়ে পরবর্তী কার্যক্রম চালানোর সুযোগ তৈরি হয়। এরপর ২০১১ সালে মামলাটি আবারও সর্বোচ্চ আদালতে যায়। এবার মূল প্রশ্ন ছিল, ক্যালিফোর্নিয়ার দেউলিয়া আদালত স্মিথের পক্ষে যে চূড়ান্ত রায় দিয়েছিল, সেটি দেওয়ার সাংবিধানিক ক্ষমতা ওই আদালতের ছিল কি না। সর্বোচ্চ আদালত জানায়, ওই ধরনের চূড়ান্ত রায় দেওয়ার সাংবিধানিক ক্ষমতা দেউলিয়া আদালতের ছিল না। ফলে স্মিথের পক্ষে দেওয়া আগের বড় অঙ্কের ক্ষতিপূরণের রায় আর বহাল থাকেনি। এর মধ্যে মামলার দুই প্রধান ব্যক্তিই মারা যান। ই. পিয়ার্স মার্শাল ২০০৬ সালে মারা যান। পরের বছর ২০০৭ সালে ৩৯ বছর বয়সে মারা যান আনা নিকোল স্মিথ। তবে তাদের মৃত্যুর পরও দুই পক্ষের সম্পত্তির উত্তরাধিকারীরা আইনি লড়াই চালিয়ে যান। স্মিথের মৃত্যুর পর তার সম্পত্তির পক্ষে মামলাটি চালিয়ে যাওয়া হয়। তার কন্যা ড্যানিলিন মার্শাল-বির্কহেডের স্বার্থও এই বিরোধের সঙ্গে যুক্ত ছিল। কিন্তু শেষ পর্যন্ত সর্বোচ্চ আদালতের রায়ের পর মার্শাল পরিবারের বিতর্কিত সম্পত্তি থেকে স্মিথের সম্পত্তির উত্তরাধিকারীরা কোনো অর্থ পাননি। প্রায় দুই দশকের এই মামলা শুধু একজন তারকার উত্তরাধিকার দাবি নিয়ে আলোচিত হয়নি। এটি যুক্তরাষ্ট্রে সম্পত্তির উত্তরাধিকার, দেউলিয়া আদালতের ক্ষমতা এবং অঙ্গরাজ্য ও ফেডারেল আদালতের এখতিয়ার নিয়েও গুরুত্বপূর্ণ আইনি নজির তৈরি করে। অর্থাৎ, ১ দশমিক ৬ বিলিয়ন ডলারের বিশাল সম্পত্তির দাবিতে শুরু হওয়া এই দীর্ঘ আইনি লড়াইয়ে আনা নিকোল স্মিথ বিভিন্ন পর্যায়ে আদালতে বড় ধরনের সাফল্য পেলেও শেষ পর্যন্ত সেই বিপুল সম্পদের কোনো অংশ তার নিজের বা তার উত্তরাধিকারীদের হাতে পৌঁছায়নি।
পরিবারের সম্পর্ক যাচাইয়ে দ্রুত ডিএনএ পরীক্ষা বাড়াচ্ছে আইসিই
শিক্ষার্থী ও পেশাজীবীদের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের ৭ এক্সচেঞ্জ প্রোগ্রাম