২০৩০ সালেই যুক্তরাষ্ট্রে জন্মের চেয়ে মৃত্যু বেশি হবে, জনসংখ্যা বৃদ্ধির ভরসা হবে অভিবাসন
যুক্তরাষ্ট্রের জনসংখ্যায় বড় ধরনের পরিবর্তনের আভাস দিয়েছে দেশটির কংগ্রেসনাল বাজেট অফিস (সিবিও)। সংস্থাটির সর্বশেষ জনসংখ্যা পূর্বাভাস অনুযায়ী, ২০৩০ সাল থেকে যুক্তরাষ্ট্রে প্রতি বছর জন্ম নেওয়া শিশুর সংখ্যার চেয়ে মৃত্যুর সংখ্যা বেশি হয়ে যাবে। এরপর দেশটির জনসংখ্যা বৃদ্ধির প্রধান উৎস হয়ে উঠবে অভিবাসন।
২০২৬ সালের জানুয়ারিতে প্রকাশিত ‘দ্য ডেমোগ্রাফিক আউটলুক: ২০২৬ টু ২০৫৬’ প্রতিবেদনে সিবিও যুক্তরাষ্ট্রের আগামী ৩০ বছরের জনসংখ্যাগত পরিস্থিতির পূর্বাভাস দিয়েছে। সংস্থাটি বলছে, জন্মহার কমে যাওয়া এবং জনসংখ্যার গড় বয়স বেড়ে যাওয়ার কারণে আগামী কয়েক দশকে স্বাভাবিক জনসংখ্যা বৃদ্ধি ক্রমেই দুর্বল হবে।
সিবিওর হিসাবে, ২০২৬ সালে যুক্তরাষ্ট্রের জনসংখ্যা প্রায় ৩৪৯ মিলিয়ন বা ৩৪ কোটি ৯০ লাখ। ২০৫৬ সালে তা বেড়ে প্রায় ৩৬৪ মিলিয়নে পৌঁছাতে পারে। তবে এই বৃদ্ধি হবে অত্যন্ত ধীরগতির। ২০২৬ থেকে পরবর্তী এক দশকে জনসংখ্যা বৃদ্ধির গড় হার বছরে প্রায় ০.৩ শতাংশ হতে পারে। ২০৩৭ থেকে ২০৫৬ সালের মধ্যে তা আরও কমে গড়ে ০.১ শতাংশে নেমে আসবে। ২০৫৬ সালে জনসংখ্যা বৃদ্ধি কার্যত শূন্যে নেমে যাওয়ার পর পরবর্তী সময়ে জনসংখ্যা কমতে শুরু করবে বলে পূর্বাভাস দিয়েছে সিবিও।
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তনটি ঘটবে জন্ম ও মৃত্যুর হিসাবের ক্ষেত্রে। সিবিও বলছে, ২০২৯ সাল পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রে প্রতিবছর মৃত্যুর তুলনায় জন্মের সংখ্যা বেশি থাকবে। কিন্তু ২০৩০ সাল থেকে জন্মের সংখ্যা মৃত্যুর চেয়ে কমে যাবে। অভিবাসন না থাকলে ওই সময় থেকেই দেশটির মোট জনসংখ্যা কমতে শুরু করত।
এই পরিবর্তনের পেছনে সবচেয়ে বড় কারণগুলোর একটি হলো যুক্তরাষ্ট্রের কমে যাওয়া জন্মহার। সিবিওর তথ্য অনুযায়ী, ২০০৭ সালে দেশটির মোট প্রজনন হার ছিল ২.১২ সন্তান প্রতি নারী যা পরবর্তী সময়ে ধারাবাহিকভাবে কমেছে। ২০২০ সালে এই হার ১.৬৪ এবং ২০২৪ সালে ১.৬০-এ নেমে আসে। সিবিওর পূর্বাভাস অনুযায়ী, ২০২৬ সালে তা আরও কমে ১.৫৮ হবে এবং ২০৩৬ সালে ১.৫৩-এ নেমে গিয়ে এরপর প্রায় একই পর্যায়ে থাকবে।
জনসংখ্যাকে দীর্ঘমেয়াদে একই আকারে ধরে রাখতে সাধারণভাবে প্রায় ২.১ সন্তান প্রতি নারীর প্রজনন হার প্রয়োজন হয়, যদি অভিবাসনকে হিসাবের বাইরে রাখা হয়। যুক্তরাষ্ট্রের বর্তমান ও পূর্বাভাসকৃত হার সেই মাত্রার অনেক নিচে।
শুধু জন্মহার কমছে তা নয়, সন্তান নেওয়ার সময়ও পিছিয়ে যাচ্ছে। সিবিওর পূর্বাভাস অনুযায়ী, ৩০ বছরের কম বয়সী নারীদের প্রজনন হার আগামী কয়েক দশকে আরও কমবে। বিপরীতে, ৩০ বছর বা তার বেশি বয়সী নারীদের প্রজনন হার কিছুটা বাড়তে পারে। সংস্থাটি এর অন্যতম কারণ হিসেবে অপেক্ষাকৃত বেশি বয়সে সন্তান নেওয়ার প্রবণতার কথা উল্লেখ করেছে।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের জনসংখ্যা দ্রুত বয়স্ক হয়ে উঠছে। ৬৫ বছর বা তার বেশি বয়সী মানুষের সংখ্যা আগামী কয়েক দশকে তরুণ বয়সী জনগোষ্ঠীর তুলনায় দ্রুত বাড়বে বলে পূর্বাভাস দিয়েছে সিবিও। একই সময়ে ২৪ বছর বা তার কম বয়সী জনগোষ্ঠীর সংখ্যা আগামী ৩০ বছর ধরে কমতে পারে।
এই পরিবর্তনের সরাসরি প্রভাব পড়তে পারে দেশটির কর্মবাজার ও সামাজিক নিরাপত্তা ব্যবস্থায়। সিবিও বলছে, বর্তমানে ২৫ থেকে ৬৪ বছর বয়সী প্রতি একজনের বিপরীতে ৬৫ বছর বা তার বেশি বয়সী মানুষের অনুপাত তুলনামূলকভাবে কম। কিন্তু আগামী তিন দশকে এই অনুপাত আরও সংকুচিত হবে। ২০২৬ সালে ৬৫ বছর বা তার বেশি বয়সী একজন মানুষের বিপরীতে ২৫ থেকে ৬৪ বছর বয়সী প্রায় ২.৭ জন থাকলেও ২০৫৬ সালে তা কমে প্রায় ২.২ জনে দাঁড়াতে পারে।
এর অর্থ হলো, অবসরপ্রাপ্ত মানুষের সংখ্যা বাড়ার সঙ্গে তাদের সামাজিক নিরাপত্তা ও স্বাস্থ্যসেবা ব্যয়ের চাপও বাড়তে পারে। অন্যদিকে এসব কর্মসূচিতে অর্থ জোগান দেওয়া কর্মক্ষম মানুষের তুলনামূলক অংশ কমে যেতে পারে। ফলে সামাজিক নিরাপত্তা, মেডিকেয়ার, শ্রমবাজার এবং সরকারি বাজেটের ওপর দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।
এ অবস্থায় অভিবাসন যুক্তরাষ্ট্রের জনসংখ্যা বৃদ্ধির জন্য আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে। সিবিওর পূর্বাভাস অনুযায়ী, ২০৩০ সাল থেকে জন্ম ও মৃত্যুর পার্থক্য জনসংখ্যা বৃদ্ধিতে নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে। সেই ঘাটতি পূরণ করবে মূলত নিট অভিবাসন অর্থাৎ যুক্তরাষ্ট্রে যত মানুষ প্রবেশ করবে, তার তুলনায় যত মানুষ দেশ ছাড়বে, সেই পার্থক্য।
তবে অভিবাসনের ক্ষেত্রেও পূর্বাভাস আগের তুলনায় কমেছে। সিবিও জানিয়েছে, ২০২৫ থেকে ২০২৯ সালের জন্য তাদের নিট অভিবাসনের পূর্বাভাস কমানোর পেছনে বর্তমান প্রশাসনের বিভিন্ন প্রশাসনিক পদক্ষেপ, ২০২৫ সালের একটি ব্যয়সংক্রান্ত আইনের অভিবাসন-সম্পর্কিত বিধান এবং আগের জনসংখ্যার তথ্যের সংশোধন ভূমিকা রেখেছে।
সিবিওর হিসাবে, অভিবাসন অব্যাহত থাকায় ২০৫৬ সাল পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রের মোট জনসংখ্যা কিছুটা বাড়তে পারে। কিন্তু জনসংখ্যা বৃদ্ধির গতি এতটাই কমে যাবে যে ওই বছর তা প্রায় স্থির হয়ে যাবে। এরপর জনসংখ্যা কমার পথে যেতে পারে।
তবে সংস্থাটি সতর্ক করেছে, এগুলো নিশ্চিত ভবিষ্যৎ নয়; বরং বর্তমান আইন, নীতি ও জনসংখ্যাগত প্রবণতার ভিত্তিতে তৈরি পূর্বাভাস। জন্মহার, মৃত্যুহার বা অভিবাসনের প্রকৃত হার পূর্বাভাসের চেয়ে সামান্য ভিন্ন হলেও দীর্ঘ সময়ে তার প্রভাব অনেক বড় হতে পারে। বিশেষ করে ২০৫৬ সালের কাছাকাছি সময়ের হিসাবগুলোতে অনিশ্চয়তা বেশি।
তারপরও ২০৩০ সালের সম্ভাব্য পরিবর্তনটি যুক্তরাষ্ট্রের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ জনসংখ্যাগত মাইলফলক। কারণ ওই সময় থেকে দেশের জনসংখ্যা আর স্বাভাবিকভাবে অর্থাৎ জন্ম ও মৃত্যুর ব্যবধানের মাধ্যমে বাড়বে না। বরং জনসংখ্যার আকার ধরে রাখা ও অর্থনীতিতে কর্মক্ষম মানুষের সংখ্যা বজায় রাখার ক্ষেত্রে অভিবাসন নীতির ভূমিকা আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
আমেরিকা
View moreযুক্তরাষ্ট্রের ২৫০তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপনে আতশবাজি কিংবা শোভাযাত্রার বদলে পরিবেশের জন্য দীর্ঘমেয়াদি উদ্যোগ নিয়েছে ফ্লোরিডার টাম্পার ইসমাইলি মুসলিম সম্প্রদায়। শহরের রওলেট পার্কে ২৫০টি গাছ লাগিয়ে ‘আমেরিকা ২৫০ স্মারক বৃক্ষবাগান’ প্রতিষ্ঠা করেছে তারা। শনিবার সকালে আয়োজিত এই কর্মসূচিতে ইসমাইলি মুসলিম সম্প্রদায়ের সদস্যদের সঙ্গে টাম্পার মেয়র জেন ক্যাস্টরও অংশ নেন। প্রায় ৫০ জন কমিউনিটি সদস্য সেখানে উপস্থিত ছিলেন। টাম্পা শহরের তথ্য ও ইসমাইলি কাউন্সিল ফর ফ্লোরিডার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে স্থানীয় সংবাদমাধ্যম ফক্স ১৩ নিউজ এ খবর জানিয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের ২৫০তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে দেশজুড়ে ৪ জুলাই বিভিন্ন অনুষ্ঠান, আতশবাজি ও শোভাযাত্রার আয়োজন করা হয়েছিল। তবে টাম্পার ইসমাইলি মুসলিম সম্প্রদায় সেই উদযাপনকে একটু ভিন্নভাবে স্মরণীয় করে রাখতে চেয়েছে। তাদের লক্ষ্য ছিল এমন একটি উদ্যোগ নেওয়া, যার সুফল শুধু বর্তমান প্রজন্ম নয়, ভবিষ্যতের টাম্পাবাসীরাও ভোগ করতে পারবেন। রওলেট পার্কে নতুন করে লাগানো ২৫০টি গাছকে ঘিরে তৈরি করা হয়েছে এই স্মারক বৃক্ষবাগান। পার্কটি বুশ গার্ডেনসের ঠিক দক্ষিণে অবস্থিত। ইসমাইলি কাউন্সিল ফর ফ্লোরিডার যোগাযোগ ও জনসম্পৃক্ততা বিভাগের প্রতিনিধি ফাহিম হেমানি বলেন, তাদের সম্প্রদায়ের কাছে সেবা ও স্বেচ্ছাসেবামূলক কাজ গুরুত্বপূর্ণ মূল্যবোধ। একই সঙ্গে পরিবেশের যত্ন নেওয়াকেও তারা গুরুত্ব দেন। তাদের বিশ্বাস, মানুষ যে পৃথিবী পেয়েছে, তার চেয়ে আরও ভালো অবস্থায় ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে সেটি রেখে যাওয়া উচিত। তিনি বলেন, টাম্পায় এই বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি স্থানীয় সম্প্রদায়ের ভবিষ্যতের প্রতি তাদের অঙ্গীকারের প্রতীক। অনুষ্ঠানে স্মারক ফলক উন্মোচন করা হয়। সেখানে উপস্থিত কমিউনিটির সদস্যরা শুধু যুক্তরাষ্ট্রের ২৫০ বছর পূর্তিই উদযাপন করেননি, বরং স্থানীয় পরিবেশ ও নগর জীবনের ভবিষ্যৎ নিয়েও নিজেদের অঙ্গীকার তুলে ধরেন। আয়োজকদের মতে, এখন গাছগুলোর অনেকগুলোই ছোট। ফলে তাৎক্ষণিকভাবে বড় ধরনের পরিবর্তন চোখে পড়বে না। কিন্তু সময়ের সঙ্গে গাছগুলো বড় হলে পার্কের পরিবেশে এর ইতিবাচক প্রভাব পড়বে। হেমানি বলেন, ভবিষ্যতে এসব গাছ স্থানীয় বাসিন্দাদের ছায়া দেবে, পরিবেশকে আরও পরিচ্ছন্ন রাখতে সহায়তা করবে এবং পানির মান উন্নত রাখতেও ভূমিকা রাখবে। একই সঙ্গে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের শিশুদের জন্য খেলাধুলা ও সময় কাটানোর আরও সুন্দর পরিবেশ তৈরি হবে। ইসমাইলি মুসলিম সম্প্রদায়ের এই উদ্যোগে জাতীয় দিবস উদযাপনের পাশাপাশি স্থানীয় পর্যায়ে পরিবেশ সংরক্ষণ ও নাগরিক দায়িত্বের বিষয়টিও সামনে এসেছে। একটি জাতীয় মাইলফলককে কেন্দ্র করে এমন দীর্ঘমেয়াদি উদ্যোগ নেওয়ার মধ্য দিয়ে তারা টাম্পা শহরের সঙ্গে নিজেদের সম্পর্ক ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মের প্রতি দায়বদ্ধতার কথাও তুলে ধরেছে। টাম্পা শহরে বিভিন্ন ধর্ম ও সংস্কৃতির মানুষের বসবাস রয়েছে। শহরটির সরকারি নথিতেও মুসলিম সম্প্রদায়ের অবদান ও বৈচিত্র্যকে স্বীকৃতি দেওয়ার নজির রয়েছে। ২০২৫ সালে টাম্পা সিটি কাউন্সিল মুসলিম হেরিটেজ মাস পালনের বিষয়ে একটি প্রস্তাব অনুমোদন করেছিল, যেখানে শহরের সামাজিক ও সাংস্কৃতিক জীবনে মুসলিম-আমেরিকানদের অবদানের কথা উল্লেখ করা হয়। ‘আমেরিকা ২৫০ স্মারক বৃক্ষবাগান’ সেই বৃহত্তর স্থানীয় অংশগ্রহণের ধারাবাহিকতায় নতুন একটি উদ্যোগ হিসেবে দেখা হচ্ছে। আতশবাজি বা একদিনের আয়োজনের পরিবর্তে এমন একটি সম্পদ তৈরি করা হয়েছে, যা বছরের পর বছর ধরে টাম্পার বাসিন্দাদের কাজে আসবে।
২০৩০ সালেই যুক্তরাষ্ট্রে জন্মের চেয়ে মৃত্যু বেশি হবে, জনসংখ্যা বৃদ্ধির ভরসা হবে অভিবাসন
যুক্তরাষ্ট্রে সন্তান জন্ম দিয়ে নাগরিকত্ব নেওয়ার চেষ্টা, প্রায় ৯০০ ভিসা বাতিল করল ট্রাম্প প্রশাসন
প্রতিষ্ঠিত ৪ সন্তান থাকা সত্ত্বেও ২০ বছর ধরে যুক্তরাষ্ট্রের রাস্তায় বসবাস, গুগল ম্যাপে উঠে এল গণিত শিক্ষক বাবার জীবন
ইউএস স্টেট ডিপার্টমেন্ট ২০২৬ সালের সেপ্টেম্বরের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। সেপ্টেম্বর যুক্তরাষ্ট্রের অর্থবছরের শেষ মাস হওয়ায়, পরিবারভিত্তিক ও কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ডের বেশ কয়েকটি ক্যাটাগরিতে ভিসা নম্বর দ্রুত শেষ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে ইবি-১ ইন্ডিয়া, ইবি-২ এবং আনরিজার্ভড ইবি-৫ ক্যাটাগরির আবেদনকারীদের চরম সতর্কতার সঙ্গে সেপ্টেম্বরের শেষ সপ্তাহ পর্যন্ত নিয়মিত আপডেট নজরে রাখার পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। গ্রিন কার্ড পাওয়ার ক্ষেত্রে মূলত দুটি চার্টের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এর মধ্যে 'ফাইনাল অ্যাকশন ডেটস'-এর ভিত্তিতে ভিসা নম্বর ইস্যু ও গ্রিন কার্ড চূড়ান্ত অনুমোদন করা হয়। অন্যদিকে, ইউএসসিআইএস (USCIS) যদি 'ডেটস ফর ফাইলিং' চার্ট ব্যবহারের অনুমতি দেয়, তবে আবেদনকারীরা আগেভাগেই তাদের প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা দেওয়ার সুযোগ পান। যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থানরত যারা স্ট্যাটাস পরিবর্তনের (অ্যাডজাস্টমেন্ট অব স্ট্যাটাস) আবেদন করতে ইচ্ছুক, তাদের জন্য ইউএসসিআইএস সেপ্টেম্বরে কোন চার্টটি অনুসরণ করতে বলবে, সেটিই চূড়ান্ত হিসেবে গণ্য হবে। তবে ২২ আগস্ট পর্যন্ত এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক কোনো সিদ্ধান্ত প্রকাশ করেনি সংস্থাটি। পরিবারভিত্তিক অভিবাসনের ক্ষেত্রে এফ-২এ ক্যাটাগরি বর্তমানে বেশ সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে। গ্রিন কার্ডধারী ব্যক্তির স্বামী বা স্ত্রী এবং অবিবাহিত সন্তানদের জন্য এই ক্যাটাগরিতে বিশ্বের অধিকাংশ দেশের 'ফাইনাল অ্যাকশন ডেট' ২২ আগস্ট ২০২৬ নির্ধারণ করা হয়েছে। তবে মেক্সিকোর নাগরিকদের জন্য এই তারিখ ২২ আগস্ট ২০২৫। ডেটস ফর ফাইলিং চার্টে এফ-২এ ক্যাটাগরি বিশ্বব্যাপী 'কারেন্ট' বা উন্মুক্ত রয়েছে। অর্থাৎ, ইউএসসিআইএস অনুমতি দিলে যোগ্য আবেদনকারীরা খুব দ্রুতই তাদের আবেদন জমা দিতে পারবেন। কর্মসংস্থানভিত্তিক ক্যাটাগরিতে ইবি-১ বিশ্বের অধিকাংশ দেশের জন্য 'কারেন্ট' থাকলেও, ভারতের ক্ষেত্রে ফাইনাল অ্যাকশন ডেট ১৫ অক্টোবর ২০২২ পর্যন্ত পিছিয়ে আছে। স্টেট ডিপার্টমেন্ট সতর্ক করেছে যে, উচ্চ চাহিদার কারণে সেপ্টেম্বর শেষ হওয়ার আগেই ইবি-১ ইন্ডিয়া ক্যাটাগরি সাময়িকভাবে 'আনঅ্যাভেইলেবল' বা বন্ধ হয়ে যেতে পারে। এদিকে, ইবি-২ এবং আনরিজার্ভড ইবি-৫ বিনিয়োগকারী ক্যাটাগরিতে ভারতের জন্য ভিসা নম্বর এরই মধ্যে আনঅ্যাভেইলেবল হয়ে গেছে। তবে গ্রামীণ এলাকা, উচ্চ বেকারত্বের এলাকা ও অবকাঠামো প্রকল্পে বিনিয়োগের ইবি-৫ সেট অ্যাসাইড ক্যাটাগরিগুলো এখনো সব দেশের জন্যই উন্মুক্ত রয়েছে। এছাড়া, ইবি-৩ ক্যাটাগরিতে অধিকাংশ দেশ ও মেক্সিকোর জন্য তারিখ ১ সেপ্টেম্বর ২০২৪, চীনের জন্য ১ জানুয়ারি ২০২২, ভারতের জন্য ১ জানুয়ারি ২০১৪ এবং ফিলিপাইনের জন্য ১ আগস্ট ২০২৩ নির্ধারণ করা হয়েছে। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে আবেদনকারীদের ভিসা বুলেটিনের কাটঅফ ডেটের সঙ্গে নিজেদের প্রাইওরিটি ডেট মিলিয়ে দেখার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। ইউএসসিআইএস-এর সেপ্টেম্বর মাসের চার্ট প্রকাশের পরপরই স্ট্যাটাস পরিবর্তনের আবেদন জমা দেওয়া বুদ্ধিমানের কাজ হবে। বিশেষ করে ইবি-১ ইন্ডিয়া, ইবি-২ এবং আনরিজার্ভড ইবি-৫ ক্যাটাগরির আবেদনকারীদের সব ধরনের কাগজপত্র, মেডিকেল রিপোর্ট ও আইনি প্রস্তুতি আগে থেকেই সম্পন্ন রাখতে হবে। মাসের মাঝামাঝি বা শেষভাগে ভিসা নম্বর শেষ হয়ে গেলে তারিখ পিছিয়ে যাওয়ার বা সাময়িকভাবে ক্যাটাগরি বন্ধ হওয়ার ঝুঁকি থাকে। বিশ্লেষকদের মতে, সেপ্টেম্বরের এই সুযোগ কাজে লাগাতে ব্যর্থ হলে আবেদনকারীদের নতুন অর্থবছর শুরু হওয়ার পর অক্টোবরে নতুন ভিসা নম্বর বরাদ্দের জন্য দীর্ঘ অপেক্ষায় থাকতে হতে পারে।
ক্যালিফোর্নিয়ায় সৈকতে হাঁটতে গিয়ে দানবীয় ঢেউয়ের কবলে নারী, প্রাণে বাঁচালেন লাইফগার্ডরা
নিউইয়র্কে ভিড় জমিয়ে বিশাল নিষিদ্ধ অজগর প্রদর্শন, মালিকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা
নিউ জার্সির অ্যালায়না দুবার ক্যানসারকে হারিয়ে এবার ক্যানসার রোগীদের সেবায় নার্স হচ্ছেন
যুক্তরাষ্ট্রের কানসাস অঙ্গরাজ্যের সাবেক সিনেটর এবং মার্কিন রাজনীতির অন্যতম পরিচিত মুখ ন্যান্সি কাসেবাম বেকার ৯৪ বছর বয়সে মারা গেছেন। গত শুক্রবার তিনি শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন বলে শনিবার সিবিএস নিউজকে নিশ্চিত করেছেন তার ছেলে বিল কাসেবাম। যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে স্বামীর উত্তরাধিকার বা কোনো রাজনৈতিক ছায়া ছাড়াই সম্পূর্ণ নিজ যোগ্যতায় সরাসরি সিনেটে নির্বাচিত হওয়া প্রথম নারী ছিলেন তিনি। ১৯৭৮ সালে প্রথমবারের মতো মার্কিন সিনেটে নির্বাচিত হয়ে টানা তিন মেয়াদে দায়িত্ব পালন করেন ন্যান্সি। তিনি ছিলেন কানসাসের সাবেক গভর্নর এবং ১৯৩৬ সালে রিপাবলিকান দলের প্রেসিডেন্ট পদপ্রার্থী আলফ ল্যান্ডনের মেয়ে। বাবার মতোই তিনি ছিলেন একজন মডারেট বা মধ্যপন্থি রিপাবলিকান। নিজ দলের কট্টরপন্থিদের মতের বাইরে গিয়েও তিনি কানসাস এবং পুরো দেশের জন্য সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে কখনোই পিছপা হননি। নব্বইয়ের দশকে ডেমোক্র্যাট প্রেসিডেন্ট বিল ক্লিনটনের আমলে 'অ্যাসল্ট ওয়েপন' বা প্রাণঘাতী অস্ত্র নিষেধাজ্ঞার পক্ষে ভোট দিয়ে তিনি ব্যাপক সাহসিকতার পরিচয় দিয়েছিলেন, যদিও এর জন্য তাকে কট্টরপন্থিদের তীব্র সমালোচনার মুখে পড়তে হয়েছিল। এছাড়া ১৯৯৬ সালে ম্যাসাচুসেটসের উদারপন্থি ডেমোক্র্যাট সিনেটর টেড কেনেডির সঙ্গে যৌথভাবে একটি গুরুত্বপূর্ণ স্বাস্থ্যবিমা আইনও প্রণয়ন করেছিলেন তিনি। ১৯৯৬ সালে সিনেট থেকে অবসরের ঘোষণা দেওয়ার পর তিনি টেনেসি অঙ্গরাজ্যের সাবেক রিপাবলিকান সিনেটর হাওয়ার্ড বেকারকে বিয়ে করেন। মার্কিন সিনেটের ইতিহাসে দুজন সাবেক সিনেটরের মধ্যে বিয়ের ঘটনা সেটাই ছিল প্রথম। ২০০১ সালে স্বামী হাওয়ার্ড বেকার জাপানে যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত হিসেবে নিয়োগ পেলে ন্যান্সিও তার সঙ্গে চার বছর টোকিওতে কাটান। রাজনৈতিক জীবনের শেষ দিকে এসে রিপাবলিকান দল ধীরে ধীরে অতি-রক্ষণশীল হয়ে উঠলে তিনি দলের অনেক নীতির সঙ্গে প্রকাশ্যে দ্বিমত পোষণ করেন। নিজের নীতিতে অটল থেকে তিনি কানসাসের গভর্নর নির্বাচনে ডেমোক্র্যাট প্রার্থীদের সমর্থন দেন। এমনকি ২০২১ সালের ৬ জানুয়ারি মার্কিন ক্যাপিটল হিলে হামলার ঘটনার পর তিনি তৎকালীন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে অভিশংসন করারও জোর দাবি জানিয়েছিলেন। ক্ষমতা বা আড়ম্বরের পেছনে না ছুটে সাধারণ জীবনযাপনে অভ্যস্ত ন্যান্সি কাসেবাম যুক্তরাষ্ট্রের রাজনীতিতে এক অনন্য দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবেন।
যুক্তরাষ্ট্রের পেনসিলভানিয়ায় বয়ফ্রেন্ডের হাতে খু ন ১৮ বছরের নারী ফুটবলার, লা শ গুমে মায়ের সহায়তা
শিকাগোতে ওয়েন্ডিসের বার্গার খেয়ে ব্যাকটেরিয়া সংক্রমণ, ৯৩ হাজার ডলারের চিকিৎসা বিল নিয়ে মামলা