- প্রচ্ছদ
- Topic
টাইমস স্কয়ার
নিউইয়র্কের টাইমস স্কয়ারে ছুরিকাঘাতে নিহত ৩২ বছর বয়সী এরিন পিয়াচেন্তি ছিলেন ব্যাংক অব আমেরিকার ভাইস প্রেসিডেন্ট এবং পাঁচ মাসের এক কন্যাশিশুর মা। সোমবার বিকেলে কর্মস্থল থেকে বাড়ি ফেরার পথে কোনো পূর্বপরিচয় ছাড়াই এক নারী তাকে ছুরিকাঘাত করেন। পিয়াচেন্তির মৃত্যুর ঘটনাটি আরও মর্মান্তিক হয়ে উঠেছে, কারণ মাতৃত্বকালীন পাঁচ মাসের ছুটি শেষে সেটিই ছিল কাজে ফেরার প্রথম দিন। নিউইয়র্ক পুলিশ বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, ৩১ আগস্ট বিকেল সোয়া ৪টার দিকে ম্যানহাটনের ব্যস্ত টাইমস স্কয়ার এলাকায় ছুরিকাঘাতের খবর পায় পুলিশ। প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাতে পুলিশ জানায়, ৪৯ বছর বয়সী পামেলা সিসনেরাস প্রথমে ৬৮ বছর বয়সী এক ব্যক্তিকে ছুরিকাঘাত করেন। মাত্র ২০ সেকেন্ডের ব্যবধানে তিনি পিয়াচেন্তিকেও ছুরিকাঘাত করেন। পুলিশ ঘটনাটিকে প্রাথমিকভাবে এলোমেলো ও উসকানিবিহীন হামলা হিসেবে বর্ণনা করেছে। গুরুতর আহত পিয়াচেন্তিকে হাসপাতালে নেওয়া হলেও তাকে বাঁচানো যায়নি। অন্য আহত ব্যক্তি তাক কামকে বেলভিউ হাসপাতালে ভর্তি করা হয় এবং তার অবস্থা স্থিতিশীল বলে জানানো হয়েছে। হামলার পর সিসনেরাস দুই হাতে ছুরি নিয়ে পুলিশের দিকে এগিয়ে যান। পুলিশ তাকে অস্ত্র ফেলে দিতে বললেও তিনি তা করতে অস্বীকৃতি জানান। পরে দুইবার টেজার ব্যবহার করা হলেও তিনি পুলিশের দিকে এগিয়ে যেতে থাকেন। একপর্যায়ে পুলিশ গুলি চালালে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। পিয়াচেন্তি নিউ জার্সির চেস্টারে স্বামী ফ্র্যাঙ্কের সঙ্গে বসবাস করতেন। তাদের পাঁচ মাসের একটি কন্যাসন্তান রয়েছে। মৃত্যুর কয়েক দিন আগেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মেয়েকে নিয়ে ছবি প্রকাশ করেছিলেন তিনি। মাতৃত্বকালীন ছুটি শেষ হওয়ার আগে মেয়ের সঙ্গে কাটানো পাঁচ মাসের জন্য কৃতজ্ঞতার কথাও জানিয়েছিলেন। শিক্ষাজীবনেও পিয়াচেন্তির ছিল শক্তিশালী একাডেমিক ব্যাকগ্রাউন্ড। ২০১৬ সালে ইউনিভার্সিটি অব পেনসিলভানিয়া থেকে পলিটিক্যাল সায়েন্সে স্নাতক হওয়ার পর ২০২১ সালে ফোর্ডহ্যাম ল স্কুল থেকে আইন বিষয়ে ডিগ্রি নেন। সেখানেই তার স্বামী ফ্র্যাঙ্কের সঙ্গে পড়াশোনা করেছেন তিনি। পরে ব্যাংক অব আমেরিকায় গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে যোগ দেন। ফোর্ডহ্যাম ল স্কুল পিয়াচেন্তির মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করেছে। ব্যাংক অব আমেরিকাও এক বিবৃতিতে তার মৃত্যুতে গভীর শোক জানিয়ে পরিবার ও স্বজনদের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছে। এদিকে হামলার উদ্দেশ্য নিয়ে তদন্ত চলছে। পুলিশ জানিয়েছে, সিসনেরাস এর আগে পুলিশের নজরেও ছিলেন এবং তার দীর্ঘদিনের মানসিক স্বাস্থ্যসংক্রান্ত সমস্যার ইতিহাস ছিল বলে তার ভাই জানিয়েছেন। তবে হামলার সুনির্দিষ্ট কারণ এখনও নিশ্চিত হয়নি।
নিউইয়র্কের অন্যতম ব্যস্ত ও পরিচিত পর্যটনকেন্দ্র টাইমস স্কয়ার। প্রতিদিন হাজারো মানুষ এখানে আসেন। চারপাশে থাকে পুলিশের টহল, নজরদারি ক্যামেরা ও নানা ধরনের নিরাপত্তাব্যবস্থা। তারপরও গত তিন বছরের কম সময়ে টাইমস স্কয়ার ও আশপাশের এলাকায় একের পর এক প্রাণঘাতী ঘটনার খবর সামনে এসেছে। প্রকাশ্যে যাচাই করা ঘটনাগুলোর হিসাবে এ সময়ে অন্তত আটজনের মৃত্যু হয়েছে। ২০২৪ সালে প্রাণঘাতী তিনটি ঘটনা ঘটে। পশ্চিম ৪৩তম সড়কের কাছাকাছি একটি আবাসিক ভবনে ছুরিকাঘাতে ৫৫ বছর বয়সী এক ব্যক্তি নিহত হন। একই বছর টাইমস স্কয়ারের কাছাকাছি এক সহকর্মীর ঘুষিতে পড়ে মাথায় গুরুতর আঘাত পান ট্যাক্সি বিভাগের কর্মী এফরেইন পাতিনো গুয়েরা। হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। পরে টাইমস স্কয়ারের একটি হোটেলের সামনে হামলার শিকার ২৩ বছর বয়সী লেসলি টোরেসও মারা যান। ২০২৫ সালে ৪৫ টাইমস স্কয়ার হোটেল থেকে পড়ে ৩৯ বছর বয়সী এমানুয়েল ভেলেজের মৃত্যু হয়। পুলিশ ঘটনাটিকে দুর্ঘটনা হিসেবে বিবেচনা করেছিল। একই বছরের নভেম্বরে পশ্চিম ৪৯তম সড়ক ও সপ্তম অ্যাভিনিউয়ের কাছে ২৩ বছর বয়সী ডেভন সিলভাকে মারধর ও ছুরিকাঘাত করা হলে হাসপাতালে তার মৃত্যু হয়। ওই বছর টাইমস স্কয়ারে গুলির ঘটনায় আরও তিনজন আহত হয়েছিলেন, তবে তারা প্রাণে বেঁচে যান। ২০২৬ সালের মে মাসে টাইমস স্কয়ারের ৪৩তম সড়কে ছুরিকাঘাতে মারা যান ৩৯ বছর বয়সী লিওনিদাস বায়েজ। আর সর্বশেষ ৩১ আগস্টের ঘটনায় প্রাণ হারান ৩২ বছর বয়সী ব্যাংক অব আমেরিকার সহসভাপতি এরিন পিয়াচেন্তি। একই ঘটনায় একজন ৬৮ বছর বয়সী ব্যক্তি আহত হন। পরে ছুরি হাতে পুলিশের দিকে এগিয়ে গেলে পুলিশের গুলিতে সন্দেহভাজন পামেলা সিসনেরোসও নিহত হন। ফলে ২০২৪ সালের শুরু থেকে ২০২৬ সালের ২ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত যাচাই করা এসব প্রাণঘাতী ঘটনায় মোট আটজনের মৃত্যু হয়েছে। এই হিসাবে হামলার শিকার ব্যক্তি, দুর্ঘটনায় নিহত ব্যক্তি এবং পুলিশের গুলিতে নিহত সন্দেহভাজন সবাই অন্তর্ভুক্ত। তবে এটি টাইমস স্কয়ারের জন্য পুলিশের আলাদা কোনো সরকারি মোট হিসাব নয়। নিউইয়র্ক পুলিশ বিভাগ সাধারণত বৃহত্তর এলাকার ভিত্তিতে অপরাধের পরিসংখ্যান প্রকাশ করে। তাই এই সংখ্যা প্রকাশ্যে যাচাই করা টাইমস স্কয়ার ও সংলগ্ন এলাকার প্রাণঘাতী ঘটনাগুলোর সমন্বিত হিসাব। বিশ্বের আলো ঝলমলে এই পর্যটনকেন্দ্রে মানুষের ভিড়, পুলিশি উপস্থিতি ও ব্যাপক নজরদারির মধ্যেও বারবার প্রাণঘাতী ঘটনা নতুন করে প্রশ্ন তুলছে, টাইমস স্কয়ার আসলে কতটা নিরাপদ?
নিউইয়র্কের ব্যস্ত টাইমস স্কয়ারে সোমবার ছুরিকাঘাতে নিহত ৩২ বছর বয়সী এরিন পিয়াচেন্টি ছিলেন ব্যাংক অব আমেরিকার একজন ভাইস প্রেসিডেন্ট। পাঁচ মাসের মাতৃত্বকালীন ছুটি শেষে কাজে ফেরার প্রথম দিনেই ঘটে যায় মর্মান্তিক এই ঘটনা। পাঁচ মাসের শিশুকন্যাকে রেখে অফিসে যাওয়া এরিন আর বাড়ি ফিরতে পারেননি। চেস্টার, নিউ জার্সির বাসিন্দা এরিনকে সোমবার বিকেলে ওয়েস্ট ৪১তম স্ট্রিট ও সেভেনথ অ্যাভিনিউ এলাকায় ছুরিকাঘাত করা হয়। নিউইয়র্ক পুলিশ বিভাগের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ঘটনাটি ছিল আকস্মিক এবং দৃশ্যত কোনো পূর্বপরিচয় বা উসকানি ছাড়াই ঘটেছে। পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, এরিনের ওপর হামলার কিছুক্ষণ আগে একই এলাকায় ৬৮ বছর বয়সী এক ব্যক্তিকেও ছুরিকাঘাত করা হয়। দুটি হামলার ঘটনা ঘটে মাত্র প্রায় ২০ সেকেন্ডের ব্যবধানে। আহত ওই ব্যক্তিকে হাসপাতালে নেওয়া হলে তার অবস্থা স্থিতিশীল বলে জানানো হয়। গুরুতর আহত এরিনকে হাসপাতালে নেওয়া হলেও চিকিৎসকরা তাকে বাঁচাতে পারেননি। এরিনের মৃত্যুর ঘটনাটি আরও হৃদয়বিদারক হয়ে উঠেছে তার পারিবারিক পরিস্থিতির কারণে। প্রায় পাঁচ মাস আগে স্বামী ফ্র্যাঙ্ক পিয়াচেন্টির সঙ্গে তাদের প্রথম সন্তান, একটি কন্যাশিশুর জন্ম হয়। সন্তান জন্মের পর পাঁচ মাস মাতৃত্বকালীন ছুটিতে ছিলেন এরিন। সেই সময়টা তিনি স্বামী ও শিশুকন্যার সঙ্গে কাটিয়েছেন। সোমবার ছিল কর্মস্থলে তার ফিরে আসার প্রথম দিন। অর্থাৎ দীর্ঘ পাঁচ মাস পর নতুন মা হিসেবে কর্মজীবনে ফেরার দিনটিই হয়ে গেল তার জীবনের শেষ কর্মদিবস। মৃত্যুর মাত্র কয়েক দিন আগে এরিন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে স্বামী ও ছোট মেয়ের সঙ্গে একটি পারিবারিক ছবি শেয়ার করেছিলেন বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। ওই সময় পরিবারে ছিল আনন্দের আবহ। সম্প্রতি তারা শিশুকন্যার বাপ্তিস্মও উদযাপন করেছিলেন এবং নিজেদের দ্বিতীয় বিবাহবার্ষিকীও পালন করেছিলেন। পেশাগত জীবনেও সফল ছিলেন এরিন। তিনি আইন নিয়ে পড়াশোনা করেন এবং ২০২১ সালে ফোর্ডহ্যাম ল স্কুল থেকে স্নাতক হন। সেখানেই তার সঙ্গে পরিচয় হয় ভবিষ্যৎ স্বামী ফ্র্যাঙ্কের। পরে তিনি আইন পেশায় কাজ করেন এবং ২০২৫ সালে ব্যাংক অব আমেরিকায় যোগ দেন। সেখানে ব্যবসায়িক নির্বাচন ও স্বার্থসংঘাতবিষয়ক ইউনিটে ভাইস প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন তিনি। ব্যাংক অব আমেরিকা এক বিবৃতিতে এরিনের মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছে। প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে, তারা এই মর্মান্তিক ঘটনায় হতবাক এবং তাদের সহকর্মীর এমন মৃত্যুতে গভীরভাবে শোকাহত। এদিকে, এরিনকে ছুরিকাঘাতের অভিযোগে অভিযুক্ত ৪৯ বছর বয়সী পামেলা সিসনের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষের ঘটনাও তদন্ত করা হচ্ছে। পুলিশ জানায়, দুই হাতে ছুরি থাকা অবস্থায় ওই নারীকে অস্ত্র ফেলে দিতে একাধিকবার নির্দেশ দেওয়া হলেও তিনি তা মানেননি। পরে পুলিশ তাকে থামাতে বৈদ্যুতিক শক দেওয়ার যন্ত্র ব্যবহার করে। এরপর তিনি কর্মকর্তাদের দিকে এগিয়ে গেলে দুই পুলিশ কর্মকর্তা গুলি চালান। ঘটনাস্থলেই তাকে গুলিবিদ্ধ করা হয় এবং পরে তার মৃত্যু হয়। নিউইয়র্ক পুলিশ বিভাগের বাহিনীর গুলিবর্ষণ তদন্ত বিভাগ পুলিশি গুলির ঘটনাটি তদন্ত করছে। তবে এরিনের পরিবারের কাছে তদন্তের ফলাফল যাই হোক, সবচেয়ে বড় বাস্তবতা বদলাবে না। পাঁচ মাস পর যে মা তার ছোট্ট মেয়ের কাছ থেকে বিদায় নিয়ে নতুন করে কর্মজীবনে ফিরেছিলেন, সেই মা আর কখনো বাড়ির দরজা দিয়ে ফিরে আসবেন না। মাত্র পাঁচ মাসের শিশুটির জীবনে মায়ের সঙ্গে কাটানোর অসংখ্য মুহূর্তের জায়গায় এখন থেকে থাকবে এক অপূরণীয় শূন্যতা।
নিউইয়র্কের ব্যস্ত টাইমস স্কয়ারে সোমবার বিকেলে আকস্মিক ছুরিকাঘাতে নিহত হয়েছেন ৩২ বছর বয়সী এরিন পিয়াচেন্তি, ব্যাংক অব আমেরিকার একজন ভাইস প্রেসিডেন্ট। নিউ জার্সির চেস্টারে বসবাসকারী পিয়াচেন্তি ম্যানহাটনে ব্যাংক অব আমেরিকার অফিসে কাজ করতেন। হামলার স্থানটি তার কর্মস্থল ওয়ান ব্রায়ান্ট পার্ক থেকে মাত্র এক ব্লকের মতো দূরে ছিল। ৩১ আগস্ট বিকেল সাড়ে ৪টার কিছু আগে ওয়েস্ট ৪২তম স্ট্রিট ও সেভেন্থ অ্যাভিনিউ এলাকায় এই হামলা ঘটে। নিউইয়র্ক পুলিশ বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, ৪৯ বছর বয়সী পামেলা সিসনেরোস প্রথমে সাবওয়ে থেকে বের হওয়া ৬৮ বছর বয়সী এক ব্যক্তিকে ছুরিকাঘাত করেন। এর প্রায় ২০ সেকেন্ড পর তিনি সেভেন্থ অ্যাভিনিউ ধরে এগিয়ে পিয়াচেন্তিকে পেটে ছুরিকাঘাত করেন। গুরুতর আহত পিয়াচেন্তিকে হাসপাতালে নেওয়া হলেও পরে তার মৃত্যু হয়। ৬৮ বছর বয়সী ওই ব্যক্তিও আহত হন এবং তার অবস্থা স্থিতিশীল বলে জানিয়েছে পুলিশ। পুলিশ কমিশনার জেসিকা টিশ বলেছেন, প্রাথমিক তদন্তে দুই হামলাই এলোমেলো ও উসকানিবিহীন বলে মনে হচ্ছে। পিয়াচেন্তিকে ব্যক্তিগতভাবে লক্ষ্য করে হামলা করা হয়েছিল, এমন কোনো প্রমাণ এখন পর্যন্ত পাওয়া যায়নি। ঘটনাটিকে সন্ত্রাসী হামলা হিসেবে দেখারও কোনো কারণ পাওয়া যায়নি বলে পুলিশ জানিয়েছে। পিয়াচেন্তি ব্যাংক অব আমেরিকার ব্যবসা নির্বাচন ও স্বার্থসংঘাত বিভাগে ভাইস প্রেসিডেন্ট হিসেবে কাজ করতেন। তার পেশাগত পরিচয়ের পাশাপাশি আইন বিষয়েও তার শক্তিশালী শিক্ষাগত পটভূমি ছিল। তিনি ২০১৬ সালে ইউনিভার্সিটি অব পেনসিলভানিয়া থেকে স্নাতক এবং ২০২১ সালে ফোর্ডহ্যাম ল স্কুল থেকে আইন বিষয়ে ডিগ্রি অর্জন করেন। ব্যাংক অব আমেরিকা এক বিবৃতিতে পিয়াচেন্তির মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছে। প্রতিষ্ঠানটি তাকে একজন মূল্যবান সহকর্মী হিসেবে উল্লেখ করে জানিয়েছে, তার মৃত্যুতে সহকর্মীরা গভীরভাবে শোকাহত এবং তার পরিবার ও প্রিয়জনদের প্রতি তাদের সমবেদনা রয়েছে। হামলার পর সিসনেরোসকে কাছাকাছি এলাকায় পুলিশ আটকানোর চেষ্টা করে। পুলিশ কর্মকর্তারা প্রায় চার মিনিট ধরে তাকে ছুরি ফেলে দিতে বলেন। কিন্তু তিনি তা প্রত্যাখ্যান করে ছুরি হাতে পুলিশের দিকে এগিয়ে যান। তাকে থামাতে টেজার ব্যবহার করা হলেও তা কার্যকর হয়নি। পরে দুই পুলিশ অফিসার গুলি চালালে সিসনেরোস গুরুতর আহত হন এবং হাসপাতালে নেওয়ার পর তার মৃত্যু হয়। পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, সিসনেরোসের আগে মানসিক স্বাস্থ্যসংক্রান্ত দুটি ঘটনা পুলিশের নথিতে ছিল। তবে তার নিউইয়র্কে আগের কোনো গ্রেপ্তারের রেকর্ড ছিল না। হামলার উদ্দেশ্য কী ছিল, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। ঘটনাটি নিয়ে নিউইয়র্ক পুলিশ বিভাগের ফোর্স ইনভেস্টিগেশন ডিভিশনের তদন্ত চলছে। ব্যস্ত কর্মদিবসে নিজের কর্মস্থলের মাত্র এক ব্লকের মতো দূরে এমন আকস্মিক হামলায় পিয়াচেন্তির মৃত্যু ব্যাংক অব আমেরিকার সহকর্মীদের মধ্যে শোকের সৃষ্টি করেছে। একই সঙ্গে ঘটনাটি আবারও নিউইয়র্কের অন্যতম ব্যস্ত জনসমাগমপূর্ণ এলাকায় আকস্মিক সহিংসতার ঝুঁকি নিয়ে উদ্বেগ তৈরি করেছে।
নিউইয়র্কের ব্যস্ত টাইমস স্কয়ারে ছুরিকাঘাতের ঘটনায় এক নারী নিহত হয়েছেন। হামলার পর ছুরি হাতে পুলিশের দিকে এগিয়ে যাওয়ার অভিযোগে পুলিশের গুলিতে হামলাকারী আরেক নারীও নিহত হয়েছেন। সোমবার ৩১ আগস্ট বিকেলে ম্যানহাটনের ওয়েস্ট ৪১ থেকে ৪৩ স্ট্রিট ও সেভেন্থ অ্যাভিনিউ এলাকার কাছে এ ঘটনা ঘটে। নিউইয়র্ক পুলিশ বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, হামলাকারী ৪৯ বছর বয়সী কুইন্সের বাসিন্দা পামেলা সিসনেরোস। পুলিশ জানিয়েছে, তিনি দুটি রান্নাঘরের ছুরি নিয়ে হঠাৎ পথচারীদের ওপর হামলা চালান। প্রথমে তিনি সাবওয়ে থেকে বের হওয়া ৬৮ বছর বয়সী এক ব্যক্তির পেটে ছুরিকাঘাত করেন। এরপর অল্প সময়ের মধ্যেই ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে পেটে ছুরিকাঘাত করা হয়। দুই আহত ব্যক্তিকেই হাসপাতালে নেওয়া হয়। ৩২ বছর বয়সী নারী পরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। ৬৮ বছর বয়সী পুরুষের অবস্থা স্থিতিশীল বলে পুলিশ জানিয়েছে। নিহত নারী ও আহত পুরুষের পরিচয় তাৎক্ষণিকভাবে প্রকাশ করা হয়নি। ছুরিকাঘাতের পর সিসনেরোস উত্তর দিকে গিয়ে টাইমস স্কয়ারের কাছে থাকা নিউইয়র্ক পুলিশ বিভাগের একটি সাবস্টেশনের দিকে এগিয়ে যান। সেখানে পুলিশ সদস্যরা তাকে ছুরি ফেলে দিতে বারবার নির্দেশ দেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ টেজারও ব্যবহার করে। তবে এতে তিনি থামেননি এবং ছুরি হাতে পুলিশ সদস্যদের দিকে এগিয়ে যেতে থাকেন। পরে দুই পুলিশ সদস্য গুলি চালান বলে কর্মকর্তারা জানিয়েছেন। গুলিতে গুরুতর আহত সিসনেরোসকে হাসপাতালে নেওয়া হলে পরে তার মৃত্যু হয়। পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনাটি প্রাথমিকভাবে এলোমেলো বা উদ্দেশ্যহীন হামলা বলে মনে হচ্ছে এবং এর সঙ্গে সন্ত্রাসবাদের কোনো যোগসূত্রের প্রমাণ পাওয়া যায়নি। নিউইয়র্ক পুলিশ কমিশনার জেসিকা টিশ জানিয়েছেন, হামলাকারীর মানসিক স্বাস্থ্যসংক্রান্ত পূর্ববর্তী রেকর্ড ছিল। তবে তার বিরুদ্ধে আগে কোনো গ্রেপ্তারের তথ্য পাওয়া যায়নি। হামলার সুনির্দিষ্ট কারণ এবং ঘটনার পুরো পরিস্থিতি নিয়ে তদন্ত চলছে। ঘটনার পর তদন্তের জন্য টাইমস স্কয়ারের গুরুত্বপূর্ণ অংশে পুলিশ ব্যারিকেড বসানো হয় এবং সেভেন্থ অ্যাভিনিউর কয়েকটি অংশে যান চলাচল বন্ধ রাখা হয়। নিউইয়র্ক পুলিশ সাধারণ মানুষকে ওই এলাকা এড়িয়ে চলার পরামর্শ দেয়। টাইমস স্কয়ার নিউইয়র্কের অন্যতম ব্যস্ত পর্যটন এলাকা এবং ওয়ান টাইমস স্কয়ারের পাশেই ঘটনাটি ঘটে। সেখানে প্রতিদিন বিপুলসংখ্যক স্থানীয় বাসিন্দা ও পর্যটকের সমাগম হয়। ফলে ব্যস্ত এই এলাকায় এমন সহিংস ঘটনায় ব্যাপক আতঙ্ক তৈরি হয়।
বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্বে প্রতিদিন ছয়টি করে ম্যাচ চলছে। টানা এতগুলো ম্যাচ দেখা অনেকের কাছেই ক্লান্তিকর মনে হতে পারে। কিন্তু কেভিন আকোতো ও অস্টিন ফ্রাঙ্কলিনের জন্য সেটিই এখন পূর্ণকালীন চাকরি। বিশ্বকাপের ১০৪টি ম্যাচ দেখার বিনিময়ে তারা পাচ্ছেন ৫০ হাজার ডলার করে। মার্কিন সম্প্রচারমাধ্যম ফক্স ওয়ানের ‘চিফ ওয়ার্ল্ড কাপ ওয়াচারস’ (প্রধান বিশ্বকাপ দর্শক) হিসেবে এক সপ্তাহেরও বেশি সময় ধরে দায়িত্ব পালন করছেন এই দুই ফুটবলপ্রেমী। নিজেদের এই ব্যতিক্রমী অভিজ্ঞতা নিয়ে তারা কথা বলেছেন বিবিসির সঙ্গে। নিউইয়র্কের বিখ্যাত টাইমস স্কয়ারে তাদের জন্য তৈরি করা হয়েছে কাচে ঘেরা একটি বিশেষ কিউবিক্যাল। পথচারীরা বাইরে থেকে তাদের দেখতে পারেন, আর ভেতরে বসেই তারা দেখছেন বিশ্বকাপের ম্যাচ। কাচঘেরা ওই ঘরে রয়েছে রিক্লাইনার চেয়ার, বাদামি চামড়ার সোফা, বড় পর্দার দুটি টেলিভিশন এবং একটি ফুসবল টেবিল। পাশাপাশি ফুটবলপ্রেমীদের পছন্দের নানা মার্চেন্ডাইজ ও বিভিন্ন ধরনের খাবারও রাখা হয়েছে। কেভিন বলেন, “বিশ বছর বয়সী একজন তরুণ যেমন স্বপ্নের ঘরের কথা কল্পনা করে, এটি ঠিক তেমনই। একজন ফুটবল ভক্ত হিসেবে আপনি যা যা চাইবেন, প্রায় সবই এখানে আছে।” ফ্লোরিডায় বাবুর্চি হিসেবে কাজ করতেন কেভিন। অন্যদিকে অস্টিন ফিলাডেলফিয়ার একজন কনটেন্ট নির্মাতা ও ইনফ্লুয়েন্সার। হাজারো আবেদনকারীর মধ্যে থেকে নির্বাচিত হয়ে তারা এই দায়িত্ব পেয়েছেন। তাদের কাজ শুধু ম্যাচ দেখা নয়, বিশ্বকাপ ঘিরে ভক্তদের জন্য বিভিন্ন ধরনের কনটেন্টও তৈরি করা। বিশ্বকাপের পুরো আসরজুড়ে কাজ চালিয়ে যেতে হওয়ায় শারীরিক ও মানসিকভাবে নিজেদের প্রস্তুত রাখার চেষ্টা করছেন তারা। কেভিন বলেন, “আমি কিছুটা ক্লান্ত হয়ে পড়েছি, অস্টিনও ক্লান্ত। তাই এই জীবনযাত্রার সঙ্গে মানিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করছি।” অস্টিনের মতে, অভিজ্ঞতাটি অনেকটা সামার ক্যাম্পের মতো। একেকটি দিন যেন অন্য দিনের সঙ্গে মিশে যায়। তিনি বলেন, “এটা একটা বিশাল ম্যারাথন। কাজটা শুনতে সহজ—সোফায় বসে ফুটবল দেখা। কিন্তু বাস্তবে এটি বেশ ক্লান্তিকর।”তবে তাদের জন্য একটি স্বস্তির বিষয়ও আছে। শিফট শেষ হওয়ার পর টাইমস স্কয়ারের কাচঘেরা ঘরে থাকতে হয় না। তারা নিজেদের আবাসস্থলে ফিরে গিয়ে বিশ্রাম নিতে পারেন। এই দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে ইতোমধ্যে বেশ কিছু স্মরণীয় মুহূর্তের সাক্ষী হয়েছেন কেভিন ও অস্টিন। একদিন আর্জেন্টাইন বারবিকিউ উপভোগ করার সময়ই তারা দেখেছেন লিওনেল মেসির একটি ঐতিহাসিক গোল, যা তাকে বিশ্বকাপের রেকর্ড বইয়ে নতুন উচ্চতায় পৌঁছে দেয়। তাদের কাজের আরেকটি আকর্ষণ হলো, যেসব দেশের ম্যাচ চলছে, সেসব দেশের ঐতিহ্যবাহী খাবার পরিবেশন করা হয় তাদের জন্য। ম্যাচের ফাঁকে বিভিন্ন দেশের সমর্থকদের সঙ্গেও সময় কাটানোর সুযোগ পাচ্ছেন তারা। টাইমস স্কয়ারে জড়ো হওয়া হাজারো ব্রাজিলিয়ান সমর্থকের সঙ্গে কথা বলেছেন। নরওয়ের ভক্তদের বিখ্যাত ‘ভাইকিং রোয়িং’ উদযাপনও কাছ থেকে দেখেছেন। অস্টিন বলেন, বিশ্বের নানা প্রান্ত থেকে আসা ফুটবল সমর্থকদের সঙ্গে পরিচিত হওয়া, তাদের সংস্কৃতি ও অভিজ্ঞতার গল্প শোনাই এই কাজের সবচেয়ে আনন্দের অংশ। তার ভাষায়, “অনেক সময় আমি ভুলেই যাই যে আমি টাইমস স্কয়ারে বসে আছি এবং মানুষ আমাকে দেখছে। ম্যাচে এতটাই ডুবে থাকি যে হঠাৎ চারপাশে তাকিয়ে অবাক হয়ে যাই।” বিশ্বকাপের সম্ভাব্য চ্যাম্পিয়ন নিয়ে দুইজনের মত কিছুটা আলাদা। কেভিনের পছন্দ স্পেন। যদিও ব্যক্তিগতভাবে তিনি যুক্তরাষ্ট্র ও ঘানাকেও সমর্থন করছেন। অস্টিন নরওয়ের সমর্থক। তার মতে, আর্লিং হলান্ডের নেতৃত্বে দলটি শিরোপা জয়ের সামর্থ্য রাখে। তিনি বলেন, “স্পেন বা ফ্রান্সের নাম বলা সহজ। কিন্তু আমার বিশ্বাস, ভাগ্য সহায় হলে নরওয়েও বিশ্বকাপ জিততে পারে।” এই ব্যতিক্রমী চাকরি নিয়ে দর্শকদের প্রতিক্রিয়াও ভিন্ন ভিন্ন।নরওয়ের সমর্থক ইমুন্ড লিল্যান্ড ও তার মেয়ে ক্যামিলের মতে, কোনো ব্যক্তিগত গোপনীয়তা ছাড়া ১০৪টি ম্যাচ টানা দেখা কিছুটা বাড়াবাড়ি। অন্যদিকে ১৮ বছর বয়সী ম্যাথিউ মেন্ডেজ মনে করেন, পরিবার ও বন্ধুদের সঙ্গে বসে বিশ্বকাপ উপভোগ করাই সবচেয়ে ভালো উপায়। তবে ২০ বছর বয়সী মিগুয়েল সানচেজের চোখে এটি স্বপ্নের চাকরি। তার মন্তব্য, “বিশ্বকাপ দেখার জন্য টাকা পাওয়া? এটা তো মাঠে গিয়ে খেলা দেখার চেয়েও ভালো। সত্যিই অবিশ্বাস্য!”
ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬-এর নিজেদের উদ্বোধনী ম্যাচের মাত্র কয়েক ঘণ্টা আগে নিউইয়র্কের ঐতিহাসিক টাইমস স্কয়ারে এক ভয়াবহ সহিংস সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েছেন আর্জেন্টিনা ও আলজেরিয়ার ফুটবল সমর্থকরা। সোমবার (১৫ জুন) দিবাগত রাতে বিশ্বের অন্যতম ব্যস্ত এবং জনপ্রিয় এই পর্যটন কেন্দ্রে দুই পক্ষের সমর্থকদের মধ্যে তুমুল কিল-ঘুষি, লাথি এবং একে অপরের ওপর বস্তু ছোঁড়াছুঁড়ির ঘটনা ঘটে। বিশ্বকাপের আমেজে জড়ো হওয়া হাজারো মানুষের মাঝে হঠাৎ এই উন্মুক্ত মারামারি শুরু হলে মুহূর্তের মধ্যে পুরো এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে এবং সাধারণ পর্যটকরা প্রাণভয়ে দিগ্বিদিক ছুটে পালাতে শুরু করেন। জানা গেছে, গ্রুপ ‘জে’-এর উদ্বোধনী ম্যাচের আগে আর্জেন্টিনার সমর্থকরা তাদের ঐতিহ্যবাহী ‘বান্দেরাজো’ (পতাকা উড়িয়ে বিশাল গণজমায়েত) করার জন্য টাইমস স্কয়ারে জড়ো হয়েছিলেন। ফলে পুরো এলাকা নীল-সাদা পতাকায় ছেয়ে যায়। একই সময়ে সেখানে উল্লেখযোগ্য সংখ্যায় আলজেরিয়ার সমর্থকরাও উপস্থিত ছিলেন, যাদের সাথে ফ্রান্স এবং সেনেগালের কিছু সমর্থকও যোগ দেন। একপর্যায়ে উৎসবমুখর এই পরিবেশ রূপ নেয় চরম উত্তেজনায়। ফরাসি সংবাদমাধ্যম ‘ল্য পারিসিয়ান’-এর বরাত দিয়ে আর্জেন্টাইন গণমাধ্যম ‘ইনফোবাই’ জানিয়েছে, দুই দেশের সমর্থকরা প্রথমে একে অপরকে লক্ষ্য করে অশ্লীল অঙ্গভঙ্গি এবং আপত্তিকর স্লোগান দিতে শুরু করেন। মৌখিক এই বাগবিতণ্ডা দ্রুতই শারীরিক সংঘর্ষে রূপ নেয়। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ফুটেজে দেখা যায়, অপ্রাপ্তবয়স্ক এবং সাধারণ পথচারীরা ওপর থেকে ছুড়ে মারা বিভিন্ন বস্তু থেকে বাঁচতে দৌড়াদৌড়ি করছেন। ৩ লাখ ৯৩ হাজার ফলোয়ারের জনপ্রিয় এক্স (টুইটার) অ্যাকাউন্ট ‘ফুটবল অ্যাওয়ে ডেইজ’-এ এই সংঘর্ষের একটি ভিডিও পোস্ট করা হয় যা ইতোমধ্যেই দ্রুত ভাইরাল হয়ে গেছে। স্প্যানিশ সংবাদমাধ্যম ‘দিয়ারিও এএস’ এই দৃশ্যকে একটি ‘উন্মুক্ত যুদ্ধক্ষেত্র’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছে এবং এটিকে ‘বিশ্বকাপের প্রথম কুৎসিত ছবি’ বলে মন্তব্য করেছে। ভারতের শীর্ষস্থানীয় গণমাধ্যম ‘টাইমস অব ইন্ডিয়া’ তাদের শিরোনামে লিখেছে, ‘ফিফার জন্য কী এক লজ্জাজনক বিষয়!’ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায় নিউইয়র্ক পুলিশ (এনওয়াইপিডি)। ফরাসি সংবাদমাধ্যম ‘ল্য ফিগারো’ জানায়, সংঘর্ষ থামাতে পুলিশ দ্রুত লাঠিচার্জ ও অ্যাকশনে যায় এবং বেশ কয়েকজন সমর্থককে গ্রেফতার করে। নিউইয়র্কের সবচেয়ে ব্যস্ততম স্থানে এই প্রকাশ্য মারামারির ঘটনাটি ঘটলেও, এখন পর্যন্ত পুলিশের পক্ষ থেকে কতজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে বা কতজন আহত হয়েছেন, তার কোনো আনুষ্ঠানিক পরিসংখ্যান প্রকাশ করা হয়নি। ইনফোবাই তাদের প্রতিবেদনে স্পষ্ট করে উল্লেখ করেছে, এই সংঘর্ষের আসল কারণ সম্পর্কে এখনো কোনো অফিশিয়াল বিবৃতি বা তদন্ত প্রতিবেদন পাওয়া যায়নি। এর আগে আন্তর্জাতিক সংবাদসংস্থা রয়টার্স জানিয়েছিল, বিশ্বকাপের শুরুর দিনগুলোতে টাইমস স্কয়ারে বিভিন্ন দেশের সমর্থকরা অত্যন্ত বন্ধুত্বপূর্ণ পরিবেশে স্লোগান দিচ্ছিল। কিন্তু সেখানে কোনো আনুষ্ঠানিক ফ্যান-জোনের ব্যবস্থা না থাকায় এবং সমর্থকদের আলাদা করার কোনো গাইডলাইন না থাকায়, এই ঘনবসতিপূর্ণ শহুরে এলাকায় দুই পক্ষের মেলবন্ধন শেষ পর্যন্ত হিংসাত্মক রূপ নেয়। তা ছাড়া, আর্জেন্টিনা বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হিসেবে এই টুর্নামেন্টে অংশ নেওয়ায় সমর্থকদের আবেগ ও মানসিক চাপ বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে। আজ কানসাস সিটির অ্যারোহেড স্টেডিয়ামে গ্রুপ জে-এর বহুল প্রতীক্ষিত ম্যাচে মুখোমুখি হতে যাচ্ছে আর্জেন্টিনা ও আলজেরিয়া। এই অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার পর এখন স্টেডিয়াম ও ম্যাচকে ঘিরে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।
২০২৬ ফুটবল বিশ্বকাপে নিজেদের প্রথম ম্যাচের আগে যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কের বিখ্যাত টাইমস স্কয়ারকে পুরোপুরি নিজেদের রঙে রাঙিয়ে তুলেছেন হাজারো ব্রাজিল সমর্থক। ব্রাজিল ও মরক্কোর মধ্যকার বহুল প্রতীক্ষিত ‘সি’ গ্রুপের এই ম্যাচটিকে সামনে রেখে সবুজ-হলুদ জার্সি পরা সমর্থকদের বাঁধভাঙা উল্লাসে পুরো এলাকায় এক অভাবনীয় উৎসবমুখর পরিবেশের সৃষ্টি হয়েছে। বিপুলসংখ্যক মানুষের উপস্থিতি নির্বিঘ্ন করতে এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে এলাকার কিছু অংশ সাময়িকভাবে বন্ধ করে দিতে বাধ্য হয় স্থানীয় পুলিশ। ম্যাচের আগের দিন থেকেই টাইমস স্কয়ারে জড়ো হতে থাকা এই সমর্থকদের ঢাক-ঢোল, গান আর স্লোগানে মুখর হয়ে ওঠে নিউইয়র্কের প্রাণকেন্দ্রটি। ব্রাজিলের অতীত গৌরবের পাঁচটি বিশ্বকাপ জয়ের স্মৃতি তুলে ধরে নানা গান ও স্লোগানে মেতে ওঠেন তারা। সেইসঙ্গে সমর্থকদের মেলে ধরা বিশাল আকৃতির জাতীয় পতাকায় পুরো চত্বর যেন সবুজ-হলুদের সমুদ্রে পরিণত হয়। পিছিয়ে ছিলেন না মরক্কোর সমর্থকেরাও; জাতীয় পতাকা হাতে তারাও নিজেদের সরব উপস্থিতি জানান দেন। দুই দলের সমর্থকদের মধ্যে প্রাণবন্ত স্লোগান বিনিময় ও খুনসুটি চললেও পুরো পরিবেশ ছিল অত্যন্ত শান্তিপূর্ণ ও সৌহার্দ্যপূর্ণ। গ্রুপ পর্বের হাইভোল্টেজ এই ম্যাচটি যুক্তরাষ্ট্রের নিউ জার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত হবে। তবে মাঠের লড়াইয়ে নামার আগেই বড় এক দুঃসংবাদ পেয়েছে ব্রাজিল শিবির। পায়ের পেশির চোটের কারণে দলের অন্যতম প্রধান তারকা নেইমারকে এই উদ্বোধনী ম্যাচে পাচ্ছে না সেলেসাওরা। দলটির প্রধান কোচ কার্লো আনচেলত্তি নিশ্চিত করেছেন যে মরক্কোর বিপক্ষে এই ফরোয়ার্ড মাঠে নামতে পারবেন না। অন্যদিকে, আফ্রিকা কাপ অব নেশনস জয়ী এবং সবশেষ বিশ্বকাপের সেমিফাইনালিস্ট মরক্কোও বেশ আত্মবিশ্বাসী অবস্থায় রয়েছে। ফলে নেইমারবিহীন ব্রাজিলের সঙ্গে মরক্কোর এই লড়াইয়ে শুরু থেকেই তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতা দেখা যাবে বলে ফুটবল বিশ্লেষকদের ধারণা। মাঠের খেলা শুরুর আগেই নিউইয়র্কে সমর্থকদের এই উৎসবমুখর উপস্থিতি প্রমাণ করছে, বিশ্বকাপের উত্তাপ এখন তুঙ্গে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।