একসময় গৃহহীন হয়ে ডেট্রয়েটের রাস্তায় দিন কাটিয়েছিলেন। আসক্তির সঙ্গে দীর্ঘ লড়াই করে ঘুরে দাঁড়িয়েছিলেন। সেই সংগ্রামী জীবনকে সম্মান জানিয়ে এবার যুক্তরাষ্ট্রের ডেট্রয়েট শহরে আরঅ্যান্ডবি সংগীতশিল্পী কেমের (KEM) নামে একটি সড়কের নামকরণ করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার ডেট্রয়েটের মার্টিন লুথার কিং জুনিয়র বুলেভার্ড ও থার্ড স্ট্রিটের মোড়ে আনুষ্ঠানিকভাবে ‘কেম’–এর নামে সম্মানসূচক সড়কচিহ্ন উন্মোচন করা হয়। স্থানটি শিল্পীর জীবনের সঙ্গে গভীরভাবে জড়িত। একসময় এই এলাকাতেই অবস্থিত ডেট্রয়েট রেসকিউ মিশনে আশ্রয় নিয়েছিলেন তিনি। সেখানেই তাঁর জীবনের মোড় ঘুরতে শুরু করে এবং পরবর্তীতে তাঁর প্রথম অ্যালবাম ‘KEMISTRY’-এর কিছু গানও তিনি এই সময় লিখেছিলেন। অনুষ্ঠানে ডেট্রয়েটের মেয়র মেরি শেফিল্ড বলেন, কেম শুধু একজন সফল সংগীতশিল্পী নন, তিনি মানবিক কাজ এবং সমাজসেবার জন্যও পরিচিত। কঠিন অতীতকে শক্তিতে পরিণত করে তিনি অসংখ্য মানুষকে অনুপ্রাণিত করেছেন। তাঁর এই সম্মান প্রমাণ করে যে প্রতিকূলতা পেরিয়েও সাফল্যের শিখরে পৌঁছানো সম্ভব। ডেট্রয়েট সিটি কাউন্সিলের সদস্য মেরি ওয়াটার্স বলেন, এই সড়কচিহ্ন শুধু একজন শিল্পীকে সম্মান জানানো নয়, বরং এমন একটি জায়গাকে স্মরণীয় করে রাখা, যেখান থেকে কেমের নতুন জীবনের সূচনা হয়েছিল। তাঁর জীবনগাথা ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য অনুপ্রেরণা হয়ে থাকবে। কেমের জন্মদিন, ‘কেম ডে’ এবং তাঁর দীর্ঘদিনের মাদকমুক্ত জীবনের বার্ষিকী উপলক্ষে একই দিনে এই সম্মাননা দেওয়া হয়। অনুষ্ঠানে ডেট্রয়েট রেসকিউ মিশনের কর্মকর্তারাও উপস্থিত ছিলেন। গ্র্যামি মনোনীত এই আরঅ্যান্ডবি শিল্পী একসময় গৃহহীনতা ও মাদকাসক্তির কারণে জীবনের কঠিন সময় পার করলেও পরে নিজের প্রতিভা, অধ্যবসায় এবং পুনর্বাসনের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক খ্যাতি অর্জন করেন। বর্তমানে তিনি সংগীতের পাশাপাশি গৃহহীন ও আসক্ত মানুষের সহায়তায় বিভিন্ন সমাজসেবামূলক কর্মকাণ্ডেও যুক্ত রয়েছেন।
যুক্তরাষ্ট্রের মিশিগান অঙ্গরাজ্যের ডেট্রয়েটের ১৮ বছর বয়সী দুই যমজ বোন অ্যাঞ্জেলি জেরেজ-মেদিনা ও অ্যালেক্সকা জেরেজ-মেদিনাকে আটক করে দুটি ভিন্ন অঙ্গরাজ্যের অভিবাসন আটককেন্দ্রে পাঠিয়েছে মার্কিন ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট (আইসিই)। যুক্তরাষ্ট্রে আশ্রয়ের (Asylum) আবেদন প্রক্রিয়ায় থাকা এই দুই মেধাবী শিক্ষার্থীর আকস্মিক আটকের ঘটনায় তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে। কংগ্রেস সদস্য, অঙ্গরাজ্য ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, শিক্ষক থেকে শুরু করে ধর্মীয় নেতারা একযোগে তাদের অবিলম্বে মুক্তির দাবিতে সরব হয়েছেন। গত ২৪ জুন নিউইয়র্ক অঙ্গরাজ্যের বাফেলো এলাকায় একটি গ্রীষ্মকালীন পরিচ্ছন্নতা কর্মসূচিতে অংশ নেওয়ার সময় আইসিই কর্মকর্তারা এই দুই বোনকে আটক করেন। ডেট্রয়েট ফ্রি প্রেসের প্রতিবেদন অনুযায়ী, আটকের পর তাদের একজনকে টেক্সাসের এল পাসো এবং অন্যজনকে লুইজিয়ানার একটি ডিটেনশন সেন্টারে স্থানান্তর করা হয়। ডেট্রয়েটের ওয়েস্টার্ন ইন্টারন্যাশনাল হাই স্কুলের এই দুই শিক্ষার্থী অত্যন্ত মেধাবী ও পরিশ্রমী হিসেবে পরিচিত। তাদের একজন স্কুলের জেআরওটিসি (JROTC) কর্মসূচির সক্রিয় সদস্য এবং অপরজন বিজ্ঞান নিয়ে উচ্চশিক্ষা গ্রহণের স্বপ্ন দেখছেন। স্থানীয় শিক্ষক ও কমিউনিটি সদস্যদের মতে, তাদের বিরুদ্ধে কোনো ধরনের অপরাধমূলক অভিযোগ নেই এবং তারা স্থানীয় গির্জার বিভিন্ন সমাজসেবামূলক কাজেও নিয়মিত অংশ নিতেন। এই দুই শিক্ষার্থীর মুক্তির দাবিতে মার্কিন কংগ্রেস সদস্য রাশিদা তালিব আইসিইর কাছে বিশেষভাবে আবেদন জানিয়েছেন। এছাড়া মিশিগানের একাধিক অঙ্গরাজ্য সিনেটর, প্রতিনিধি, ডেট্রয়েট সিটি কাউন্সিলের সদস্য এবং স্থানীয় এক যাজক যৌথভাবে হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগের (ডিএইচএস) সচিব ও আইসিইর সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের কাছে একটি জরুরি চিঠি পাঠিয়েছেন। চিঠিতে অ্যাঞ্জেলি ও অ্যালেক্সকাকে মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে মুক্তি দিয়ে তাদের পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এবং কমিউনিটিতে ফিরে যাওয়ার সুযোগ দেওয়ার জোরালো আহ্বান জানানো হয়েছে। এদিকে, জননিরাপত্তার জন্য কোনো হুমকি না হওয়া সত্ত্বেও সাধারণ শিক্ষার্থী ও আশ্রয়প্রার্থীদের ওপর এমন কঠোর অভিবাসন অভিযানের প্রতিবাদে ডেট্রয়েট ও বাফেলোতে বিক্ষোভ সমাবেশ করেছেন মানবাধিকারকর্মীরা। তবে আইসিই কর্তৃপক্ষ এখন পর্যন্ত এ বিষয়ে প্রকাশ্যে কোনো বিস্তারিত মন্তব্য করেনি।
যুক্তরাষ্ট্রের মিশিগান অঙ্গরাজ্যের ডেট্রয়েট শহরে খাবারের অর্ডারে ভুলের জেরে এক রেস্তোরাঁ কর্মীর ওপর ভয়াবহ হামলার ঘটনা ঘটেছে। এই ঘটনায় ব্রায়ানা এবং কিয়েরিআনা লং নামের দুই বোনকে হত্যাচেষ্টাসহ একাধিক গুরুতর অভিযোগে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গত ৩০ মে ডেট্রয়েটের একটি চিকেন রেস্তোরাঁয় ঘটে যাওয়া এই চাঞ্চল্যকর হামলার বিস্তারিত তথ্য সম্প্রতি প্রকাশ্যে এসেছে। স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২৩ বছর বয়সী এক নারী কর্মীর কাছ থেকে ভুল খাবার পাওয়ার পর ওই দুই বোন তাঁর সঙ্গে তর্কে জড়িয়ে পড়েন। একপর্যায়ে তাঁরা জোরপূর্বক কাউন্টারের ভেতরে ঢুকে ওই কর্মীর ওপর বর্বরোচিত আক্রমণ চালান। প্রসিকিউটররা জানিয়েছেন, ক্ষুব্ধ দুই বোন রেস্তোরাঁর ভেতরে ওই কর্মীকে ধাওয়া করে বিভিন্ন হাঁড়ি-পাতিল দিয়ে আঘাত করতে থাকেন। এমনকি তাঁরা ওই কর্মীর মাথার দিকে ফুটন্ত গরম তেল ছুড়ে মারারও চেষ্টা করেন। আত্মরক্ষার্থে ওই কর্মী পাল্টা কিছু জিনিসপত্র ছুড়ে মারলে, দুই বোন একটি ছুড়ি তুলে নিয়ে ওই কর্মীর পেটে আঘাত করেন। হামলার সময় এক বোন ওই কর্মীকে হত্যার হুমকিও দেন বলে অভিযোগ রয়েছে। গুরুতর আহত অবস্থায় ওই কর্মীকে উদ্ধার করে স্থানীয় একটি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে, যেখানে তাঁকে অস্ত্রোপচারের মধ্য দিয়ে যেতে হয়েছে। হামলার পরপরই ঘটনাস্থল থেকে পালানোর চেষ্টা করলেও পরবর্তীতে পুলিশ ওই দুই বোনকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়। সবচেয়ে বিস্ময়কর বিষয় হলো, অভিযুক্তদের একজন ব্রায়ানা ঘটনার সময় নয় মাসের গর্ভবতী ছিলেন এবং আদালতে হাজিরা দেওয়ার মাত্র চার দিন আগে তিনি এক সন্তানের জন্ম দেন। শুনানিতে ব্রায়ানার আইনজীবী দাবি করেন, ভুল অর্ডারের পর ওই কর্মী দুর্ব্যবহার করায় এবং প্রথমে জিনিসপত্র ছুড়ে মারায় এই অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। নিজেকে নির্দোষ দাবি করে ৪ দিন বয়সী নবজাতক সন্তানের দোহাই দিয়ে বিচারকের কাছে মুক্তির আকুতি জানান সদ্য মা হওয়া ব্রায়ানা। তবে বিচারক এই বর্বরোচিত হামলায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে ব্রায়ানাকে ২৫ হাজার ডলার এবং কিয়েরিআনাকে ১ লাখ ডলারের নগদ জামিনের নির্দেশ দিয়ে কারাগারে পাঠিয়েছেন।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।