- প্রচ্ছদ
- Topic
নেটফ্লিক্স
যুক্তরাষ্ট্রে অনলাইন স্ট্রিমিং সেবার সাবস্ক্রিপশন ফি বাড়তে থাকায় খরচ কমানোর দিকে ঝুঁকছেন অনেক গ্রাহক। নেটফ্লিক্স, ডিজনি প্লাসসহ বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মে নিয়মিত অর্থ খরচের চাপ সামলাতে কেউ সাবস্ক্রিপশন বাতিল করছেন, কেউ কম দামের বিজ্ঞাপনযুক্ত প্যাকেজ বেছে নিচ্ছেন, আবার কেউ বিনা মূল্যের স্ট্রিমিং সেবায় চলে যাচ্ছেন। যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন জরিপেও বিনোদন খাতে বাড়তি ব্যয় নিয়ে গ্রাহকদের অসন্তোষের চিত্র উঠে এসেছে। নিউ জার্সিভিত্তিক সংবাদমাধ্যম এনজে ডটকমের ২৮ অক্টোবর প্রকাশিত প্রতিবেদনে স্ট্রিমিং সেবার বাড়তি খরচের কারণে গ্রাহকদের সাবস্ক্রিপশন ছেড়ে দেওয়ার প্রবণতা তুলে ধরা হয়েছে। রিভিউজ ডটঅর্গের ২০২৬ সালের জুনে প্রকাশিত এক জরিপে দেখা গেছে, গত ১২ মাসে স্ট্রিমিং সেবার দাম বাড়ার কারণে ৫২ শতাংশ উত্তরদাতা কোনো একটি সেবার সাবস্ক্রিপশন বাতিল করেছেন অথবা কম খরচের প্যাকেজে পরিবর্তন করেছেন। একই জরিপে ৪৩ শতাংশ জানিয়েছেন, আগামী তিন মাসের মধ্যে অন্তত একটি স্ট্রিমিং সেবার সাবস্ক্রিপশন বাতিল করার সম্ভাবনা রয়েছে। এক হাজার মার্কিন নাগরিকের ওপর পরিচালিত ওই জরিপে আরও দেখা যায়, একজন মার্কিন গ্রাহক গড়ে প্রায় তিনটি পেইড স্ট্রিমিং সেবা ব্যবহার করেন। ফলে একাধিক প্ল্যাটফর্মের মাসিক বিল একসঙ্গে যোগ হয়ে অনেক পরিবারের বিনোদন ব্যয় বাড়িয়ে দিচ্ছে। সাবস্ক্রিপশন বাতিল করলেও অনেক গ্রাহক স্থায়ীভাবে কোনো প্ল্যাটফর্ম ছেড়ে যাচ্ছেন না। জরিপে ৫৫ শতাংশ উত্তরদাতা জানিয়েছেন, আগে বাতিল করা কোনো স্ট্রিমিং সেবায় পরে আবার সাবস্ক্রাইব করেছেন। অন্যদিকে, ৪৮ শতাংশ বলেছেন, নির্দিষ্ট কোনো অনুষ্ঠান বা খেলা দেখার জন্য সাবস্ক্রিপশন নিয়ে পরে তা বাতিল করেছেন। খরচ কমানোর আরেকটি উপায় হিসেবে বিজ্ঞাপনযুক্ত প্যাকেজ জনপ্রিয় হচ্ছে। জরিপে ৩৮ শতাংশ উত্তরদাতা গত এক বছরে বিজ্ঞাপনবিহীন পেইড প্যাকেজ থেকে কম দামের বিজ্ঞাপনযুক্ত প্যাকেজে যাওয়ার কথা জানিয়েছেন। পাশাপাশি ৫৫ শতাংশ বলেছেন, বাড়তি সাবস্ক্রিপশনের খরচ বহন করা কঠিন হওয়ায় তাঁরা বিনা মূল্যের বিজ্ঞাপননির্ভর স্ট্রিমিং সেবা ব্যবহার করেন। ইউটিউবের বিনা মূল্যের ভিডিও, টিউবি, দ্য রোকু চ্যানেল ও প্লুটো টিভির মতো প্ল্যাটফর্মগুলো এ ক্ষেত্রে বিকল্প হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে। প্রচলিত টিভি চ্যানেল দেখার জন্যও কেউ কেউ ওভার দ্য এয়ার অ্যান্টেনা ব্যবহার করছেন। স্ট্রিমিং সেবার দাম নিয়ে অসন্তোষ নতুন নয়। ইউগভের ২০২৫ সালের এক জরিপে দেখা গেছে, গত ছয় মাসে ৪৯ শতাংশ মার্কিন নাগরিক তাঁদের স্ট্রিমিং সাবস্ক্রিপশনে পরিবর্তন এনেছেন। যাঁরা অন্তত একটি সাবস্ক্রিপশন বাতিল করেছিলেন, তাঁদের মধ্যে ৬৬ শতাংশ দামকে বাতিলের অন্যতম কারণ হিসেবে উল্লেখ করেন। গ্রাহকদের এই প্রবণতা স্ট্রিমিং কোম্পানিগুলোর জন্যও গুরুত্বপূর্ণ। একদিকে দর্শকেরা পছন্দের সিনেমা, সিরিজ ও খেলাধুলা দেখতে চান, অন্যদিকে একাধিক সেবার মাসিক খরচ তাঁদের বাজেটের ওপর চাপ সৃষ্টি করছে। ফলে কোন প্ল্যাটফর্মে কতটা সময় কাটাচ্ছেন এবং কোন সাবস্ক্রিপশন থেকে বাস্তবে কতটা সুবিধা পাচ্ছেন, তা বিবেচনা করে সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন অনেকে। বিশ্লেষকদের মতে, গ্রাহকদের ধরে রাখতে স্ট্রিমিং কোম্পানিগুলোকে মূল্য নির্ধারণ, প্যাকেজের সুবিধা এবং কনটেন্টের মানের মধ্যে ভারসাম্য বজায় রাখতে হবে। অন্যথায়, গ্রাহকেরা প্রয়োজন অনুযায়ী এক প্ল্যাটফর্ম থেকে অন্য প্ল্যাটফর্মে চলে যাওয়ার প্রবণতা আরও বাড়াতে পারেন।
ভিডিও স্ট্রিমিং প্রতিষ্ঠান নেটফ্লিক্স বিশ্বজুড়ে প্রায় এক হাজার কর্মীর পদ ছাঁটাই করছে, যা মোট কর্মীর প্রায় ৬ শতাংশ। বুধবার, ১৪ অক্টোবর কর্মীদের পাঠানো ইমেইলের বরাতে ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল এ তথ্য জানিয়েছে। ২০২২ সালের পর প্রতিষ্ঠানটির সবচেয়ে বড় এই ছাঁটাই এমন সময়ে হচ্ছে, যখন দর্শকদের সময় ও মনোযোগ ধরে রাখার প্রতিযোগিতা বাড়ছে। রয়টার্সের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ছাঁটাইয়ের বড় অংশ হবে পণ্য উন্নয়ন, প্রযুক্তি, আইন ও মানবসম্পদ বিভাগে। নেটফ্লিক্সের যৌথ প্রধান নির্বাহী গ্রেগ পিটার্স ও টেড সারান্ডোস বুধবার সকালে কর্মীদের বিষয়টি জানান। রয়টার্সের মন্তব্যের অনুরোধে প্রতিষ্ঠানটি তাৎক্ষণিকভাবে সাড়া দেয়নি। বিজনেস ইনসাইডারও পরিকল্পনা সম্পর্কে অবগত একজনের সঙ্গে কথা বলে প্রায় এক হাজার কর্মী ছাঁটাইয়ের তথ্য নিশ্চিত করেছে। সংবাদমাধ্যমটি জানিয়েছে, দর্শকদের কনটেন্ট দেখার প্রবৃদ্ধি ধীর হওয়া এবং শেয়ারের দুর্বল অবস্থানের মধ্যে এই সিদ্ধান্ত এসেছে। গত এক বছরে প্রতিষ্ঠানটির শেয়ারের দাম ৪০ শতাংশের বেশি কমেছে। ২০ অক্টোবর তৃতীয় প্রান্তিকের আর্থিক ফল প্রকাশের কথা রয়েছে নেটফ্লিক্সের। তার আগে এই ছাঁটাইয়ের খবর সামনে এল। প্রতিষ্ঠানটির আগের বড় ছাঁটাই হয়েছিল ২০২২ সালে, এক দশকের বেশি সময়ের মধ্যে প্রথমবার ত্রৈমাসিক হিসাবে গ্রাহক কমার পর।
বিশ্বের অন্যতম জনপ্রিয় স্ট্রিমিং প্রতিষ্ঠান নেটফ্লিক্স প্রায় ৫ শতাংশ কর্মী ছাঁটাইয়ের পরিকল্পনা করছে বলে খবর প্রকাশিত হয়েছে। গত বছরের শেষের কর্মীসংখ্যা ধরে এই হার কার্যকর হলে প্রায় ৮০০ জন চাকরি হারাতে পারেন। তবে প্রতিষ্ঠানটি এখনো ছাঁটাইয়ের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেয়নি। পরিকল্পনা সম্পর্কে অবগত ব্যক্তিদের বরাতে শুক্রবার (৯ অক্টোবর) মার্কিন সংবাদমাধ্যম পাক নিউজ জানায়, পুনর্গঠনের অংশ হিসেবে এই ছাঁটাই হতে পারে। ওই প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল, পরের সপ্তাহেই ঘোষণা আসতে পারে। অর্থাৎ সম্ভাব্য ঘোষণার সময় চলতি সপ্তাহ। নেটফ্লিক্স এ বিষয়ে মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে বলে রয়টার্স জানিয়েছে। ভ্যারাইটির প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৫ সালের শেষ নাগাদ নেটফ্লিক্সের পূর্ণকালীন কর্মী ছিলেন প্রায় ১৬ হাজার। সেই সংখ্যার ৫ শতাংশ হিসাবে সম্ভাব্য ছাঁটাইয়ের পরিমাণ প্রায় ৮০০। এটি চূড়ান্ত তালিকা নয়। কোন বিভাগ বা দেশের কর্মীরা বেশি প্রভাবিত হবেন, সে বিষয়েও বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হয়নি। প্রতিষ্ঠানটির মোট কর্মীর প্রায় ৬৮ শতাংশ, অর্থাৎ প্রায় ১০ হাজার ৯০০ জন যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডায় কর্মরত ছিলেন। তবে সম্ভাব্য ছাঁটাইয়ের কত অংশ এই দুই দেশে হবে, তা এখনো স্পষ্ট নয়। এর আগে ২০২২ সালে বড় পরিসরে কর্মী ছাঁটাই করেছিল নেটফ্লিক্স। সে সময় প্রায় ৪৫০ জনকে বাদ দেওয়া হয়। ওই বছরের প্রথম প্রান্তিকে এক দশকের বেশি সময়ের মধ্যে প্রথমবার প্রতিষ্ঠানটির গ্রাহকসংখ্যা কমেছিল। চলতি বছরের শুরুতেও পুনর্গঠনের অংশ হিসেবে বৈশ্বিক পণ্য উন্নয়ন দলের কয়েক ডজন কর্মীকে ছাঁটাই করা হয়েছে। নতুন ছাঁটাইয়ের খবর এমন সময়ে এসেছে, যখন নেটফ্লিক্সের ব্যবস্থাপনা আরও দ্রুত ব্যবসা বাড়ানোর লক্ষ্য জানাচ্ছে। ভ্যারাইটির প্রতিবেদন অনুযায়ী, সহপ্রধান নির্বাহী টেড সারানডোস সম্প্রতি বলেছেন, দ্বিতীয় প্রান্তিকে সব ভৌগোলিক অঞ্চলে রাজস্বে দুই অঙ্কের প্রবৃদ্ধি হলেও প্রতিষ্ঠানটি আরও দ্রুত এগোতে চায়। তবে এই বক্তব্যের সঙ্গে সম্ভাব্য ছাঁটাইয়ের সরাসরি সম্পর্ক নিশ্চিত করেনি নেটফ্লিক্স। নেটফ্লিক্সের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা অনুযায়ী, আগামী ২০ অক্টোবর প্রতিষ্ঠানটির ২০২৬ সালের তৃতীয় প্রান্তিকের আর্থিক ফল ও ব্যবসার পূর্বাভাস প্রকাশ করা হবে। একই দিনে ব্যবস্থাপনা বিশ্লেষকদের প্রশ্নের উত্তর দেবে। কর্মী ছাঁটাইয়ের বিষয়ে আলাদা ঘোষণা আসবে কি না, সে সম্পর্কে প্রতিষ্ঠানটি এখনো কিছু জানায়নি।
স্ট্রিমিং প্ল্যাটফর্ম নেটফ্লিক্স ও ইউটিউবে প্রচারিত জনপ্রিয় কমেডি শো ‘ইন্ডিয়াস গট ল্যাটেন্ট’-এর দ্বিতীয় মৌসুমের প্রথম পর্বে বলিউড অভিনেত্রী আলিয়া ভাটকে ঘিরে একাধিক রোস্ট ও কৌতুকের ঘটনায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে। পর্বটিতে একজন প্রতিযোগী মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ছদ্মবেশে মঞ্চে উঠে আলিয়াকে লক্ষ্য করে বিভিন্ন মন্তব্য করেন, যা নিয়ে দর্শকদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। শোটি সঞ্চালনা করেন স্ট্যান্ড-আপ কমেডিয়ান সময় রায়না। প্রথম পর্বে অতিথি বিচারক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মুক্তির অপেক্ষায় থাকা সিনেমা ‘আলফা’র দুই অভিনেত্রী আলিয়া ভাট ও শর্বরী বাগ। পুরো পর্ব জুড়েই আলিয়াকে কেন্দ্র করে একাধিক রোস্ট পরিবেশিত হয়। মঞ্চে থাকা প্রতিযোগী ট্রাম্পের ছদ্মবেশে আলিয়ার অভিনয় ও ‘স্ক্রিপ্ট’ নিয়ে কৌতুক করেন। ফর্ম পূরণের সময় আলিয়া কিছুটা হোঁচট খেলে তিনি মন্তব্য করেন, “ওকে কেউ একটা স্ক্রিপ্ট আর একজন পরিচালক দাও।” এই মন্তব্যে দর্শকদের একাংশ হাসলেও আলিয়া পুরো সময় তুলনামূলকভাবে নীরব ও সংযত থাকেন। পরবর্তী পর্যায়ে প্রতিযোগী আরেকটি মন্তব্যে বলেন, “ঈশ্বরকে ধন্যবাদ, তোমার আরেকজন রণবীর এখানে নেই।” পরে ব্যাখ্যা করে তিনি জানান, এখানে তিনি আলিয়ার স্বামী রণবীর কাপুরকে নয়, ইউটিউবার রণবীর আল্লাহবাদিয়াকে ইঙ্গিত করেছিলেন। এই প্রসঙ্গে শোয়ের প্রথম মৌসুমে তৈরি হওয়া বিতর্কও আলোচনায় আসে। এক পর্যায়ে সঞ্চালক সময় রায়না আলিয়াকে তার প্রতিক্রিয়া জানতে চাইলে তিনি বলেন, প্রতিযোগীর পারফরম্যান্স তাকে অবাক করেছে এবং পরিস্থিতিতে তিনি কিছুটা অস্বস্তি ও চাপ অনুভব করেছেন। পরে নম্বর দেওয়ার সময় তিনি প্রতিযোগীকে ১০-এর মধ্যে ১০ প্রদান করেন। পর্বটি প্রকাশের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দর্শকদের মধ্যে বিভক্ত প্রতিক্রিয়া দেখা যায়। একাংশের মতে, আলিয়াকে প্রয়োজনের তুলনায় বেশি রোস্ট করা হয়েছে। অন্যদিকে অনেকে মনে করছেন, এই ধরনের অনুষ্ঠানের কাঠামো সম্পর্কে আগেই ধারণা থাকা প্রয়োজন ছিল। কিছু দর্শক আবার আলিয়ার জনসংযোগ (পিআর) টিমের সিদ্ধান্ত নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন, এমন অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়া ঠিক ছিল কি না তা নিয়ে আলোচনা করছেন তারা। তবে অন্য একটি অংশের মতে, এই ঘটনা এবং আলোচনাই আলিয়ার আসন্ন সিনেমা ‘আলফা’ ঘিরে বাড়তি প্রচারণা তৈরি করেছে। বিনোদন বিশ্লেষকদের মতে, শো-এর নতুন মৌসুমও আগের মতোই বিতর্ক ও আলোচিত মুহূর্তে ভরপুর থাকছে, যা এর জনপ্রিয়তা আরও বাড়াতে ভূমিকা রাখছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডা অঙ্গরাজ্যে প্রাণীর সঙ্গে যৌন কর্মকাণ্ডের ছবি বা ভিডিও ধারণ, বিতরণ ও সংরক্ষণের অভিযোগে গ্রেপ্তার হয়েছেন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত রায়ান আবদুল বাতেন। তিনি বাংলাদেশের বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) তড়িৎ ও ইলেকট্রনিক প্রকৌশল বিভাগের সাবেক শিক্ষার্থী এবং যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অব সাউথ ফ্লোরিডার সহকারী অধ্যাপক। হিলসবরো কাউন্টি শেরিফের কার্যালয়ের সরকারি ওয়েবসাইটে প্রকাশিত গ্রেপ্তারসংক্রান্ত তথ্য অনুযায়ী, গত ২৮ অক্টোবর ২০২৬ তারিখে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়। প্রকাশিত রেকর্ডে তাঁর বিরুদ্ধে ‘Film, Distribute, or Possess Image or Video of Sexual Activity with an Animal’ শীর্ষক অভিযোগ উল্লেখ করা হয়েছে। অর্থাৎ, প্রাণীর সঙ্গে যৌন কর্মকাণ্ডের ছবি বা ভিডিও ধারণ, বিতরণ কিংবা নিজের কাছে রাখার অভিযোগে তাঁকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। গ্রেপ্তারসংক্রান্ত সরকারি রেকর্ড প্রকাশের পর বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। বিশেষ করে বুয়েটের সাবেক শিক্ষার্থী এবং যুক্তরাষ্ট্রের একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী অধ্যাপক হিসেবে তাঁর পরিচয়ের কারণে ঘটনাটি নিয়ে প্রবাসী বাংলাদেশিদের মধ্যেও আলোচনা তৈরি হয়েছে। এদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রাণীটির পরিচয় সম্পর্কে বিভিন্ন দাবি ছড়িয়ে পড়লেও হিলসবরো কাউন্টি শেরিফের কার্যালয়ের প্রকাশিত গ্রেপ্তারসংক্রান্ত তথ্যে নির্দিষ্ট কোনো প্রাণীর নাম উল্লেখ করা হয়নি। ফলে ছাগলের সঙ্গে যৌন কর্মকাণ্ডের যে দাবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে করা হচ্ছে, তা স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তথ্যসূত্র: হিলসবরো কাউন্টি শেরিফের কার্যালয় (Hillsborough County Sheriff’s Office), ফ্লোরিডা।