সাপ্তাহিক আমেরিকা বাংলা ই-পেপার
আন্তর্জাতিক

নেপালে বন্যার ধ্বংসস্তূপ থেকে ১০ দিন পর জীবিত উদ্ধার ৬৪ বছরের নারী

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: সেপ্টেম্বর ৫, ২০২৬ ১১:১১
নেপালে ভয়াবহ বন্যায় ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়া ভবন থেকে ১০ দিন পর এক নারীকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে। ছবি: সংগৃহীত
নেপালে ভয়াবহ বন্যায় ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়া ভবন থেকে ১০ দিন পর এক নারীকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে। ছবি: সংগৃহীত

নেপালে ভয়াবহ বন্যায় ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়া চারতলা একটি ভবন থেকে ১০ দিন পর ৬৪ বছর বয়সী এক নারীকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে। শনিবার নুওয়াকোট জেলার বিদুর পৌরসভার বেত্রাবতী এলাকায় তাকে উদ্ধার করে সশস্ত্র পুলিশ বাহিনী।

 

উদ্ধার হওয়া নারীর নাম চান্দিকা কুমারী শ্রেষ্ঠ। সশস্ত্র পুলিশ বাহিনী জানিয়েছে, চারতলা ভবনের ওপরের তলায় আটকে ছিলেন তিনি। নয় সদস্যের একটি উদ্ধারকারী দল পরিদর্শক সুমন কুমার বিকের নেতৃত্বে অভিযান চালিয়ে তাকে উদ্ধার করে।

 

উদ্ধারের সময় চান্দিকা অচেতন অবস্থায় ছিলেন। পরে হেলিকপ্টারে করে তাকে ত্রিশুলিতে নেপালি সেনাবাহিনীর মৈথিলি ব্যারাকে নেওয়া হয়। সেখানে তাকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। প্রয়োজন হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে কাঠমান্ডুতে নেওয়া হবে বলে জানিয়েছে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়।

 

ভোটেকোশি নদীর ভয়াবহ বন্যার পর ১১তম দিনে এই উদ্ধার অভিযান চালানো হয়। বন্যায় নেপালের বিভিন্ন এলাকায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে এবং বহু মানুষ এখনো নিখোঁজ রয়েছেন। একই দিনে নেপালের আপার ত্রিশূলী-১ জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের একটি টানেল থেকেও ১০ দিন পর এক চীনা নাগরিককে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে। 

 

চান্দিকা কুমারী শ্রেষ্ঠকে উদ্ধারের খবরটি প্রথম প্রকাশ করে কাডমান্ডু পোস্ট, যা পরে আরটিভি অনলাইনও প্রকাশ করে।


© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।

বিষয়

জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

আন্তর্জাতিক

View more
তীব্র ঠান্ডায় জমে যাওয়া পা কেটে ৪৯১ দিন যু দ্ধক্ষেত্রে লড়াই, অবশেষে ড্রোনে উদ্ধার ইউক্রেনীয় সেনা
তীব্র ঠান্ডায় জমে যাওয়া পা কেটে ৪৯১ দিন যু দ্ধক্ষেত্রে লড়াই, অবশেষে ড্রোনে উদ্ধার ইউক্রেনীয় সেনা

ভয়াবহ যুদ্ধক্ষেত্রে বেঁচে থাকার অদম্য এক অবিশ্বাস্য গল্পের জন্ম দিয়েছেন ৪৯ বছর বয়সী ইউক্রেনীয় সেনা কনস্টান্টিন ভ্লাসেনকো। খারকিভ অঞ্চলের কুপিয়ানস্ক ফ্রন্টলাইনে রুশ বাহিনীর তীব্র হামলার মুখে টানা ৪৯১ দিন অবরুদ্ধ ছিলেন তিনি। এই দীর্ঘ সময়ে তীব্র ঠান্ডায় ফ্রস্টবাইটে তার বাঁ পা পচে খসে যায় এবং ডান পা মারাত্মক ক্ষতিগ্রস্ত হলে নিজেই একটি সাধারণ ছুরি দিয়ে সেটি কেটে ফেলতে বাধ্য হন এই লড়াকু সেনা।   ভ্লাসেনকো ইউক্রেনের ৩০তম সেপারেট মেকানাইজড ব্রিগেডে কর্মরত ছিলেন। গত বছরের জুনে ‘বাস্কি’ নামের আরেক সহযোদ্ধাকে নিয়ে একটি পরিত্যক্ত স্কুলে আশ্রয় নিয়েছিলেন তিনি। কিন্তু ১৬ ফেব্রুয়ারি এক রুশ ড্রোন হামলায় বাস্কি তার ৫০তম জন্মদিনে নিহত হন এবং ভ্লাসেনকোর পা মারাত্মক জখম হয়।   এরপর থেকে রুশ ড্রোন হামলা থেকে বাঁচতে তিনি একটি পুরোনো ঢালাই লোহার চুল্লির ভেতরে টানা আট মাস একাকী লুকিয়ে ছিলেন। এই দীর্ঘ সময়ে ইউক্রেনীয় ড্রোনের মাধ্যমে ওপর থেকে ফেলা খাবার, পানি ও চিকিৎসাসামগ্রী দিয়ে তিনি বেঁচে ছিলেন। এমনকি ড্রোনের মাধ্যমে তার স্ত্রী সারভাইভাল প্যাকেজের সঙ্গে স্টিফেন কিংয়ের একটি উপন্যাসও পাঠিয়েছিলেন।   রুশ বাহিনী স্পিকারের মাধ্যমে তাকে আত্মসমর্পণের প্রস্তাব দিলেও তিনি তা বীরদর্পে প্রত্যাখ্যান করেন। অবশেষে গত ৪ অক্টোবর একটি পরিবর্তিত ভারী হেক্সাকপ্টার ড্রোনের সাহায্যে তাকে উদ্ধার করা হয়। ড্রোনটি তাকে নিরাপদ আশ্রয়ে ১১ মাইল (১৮ কিলোমিটার) দূরে উড়িয়ে নিয়ে যায়। গ্যাংগ্রিন ও ফ্রস্টবাইটে আক্রান্ত হওয়া সত্ত্বেও ভ্লাসেনকো সফলভাবে নিজেকে ড্রোনের সঙ্গে যুক্ত করতে সক্ষম হন। বর্তমানে তিনি খারকিভের একটি সামরিক হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন এবং তার কৃত্রিম পা সংযোজনের প্রস্তুতি চলছে।

প্রকাশ: অক্টোবর ২১, ২০২৬ ১৩:২০
৫৩ বছর বয়সী দর্জি কামতা প্রসাদ

ভোটার তালিকায় জীবিত মানুষ ‘মৃত’, ভোটাধিকার ফিরে পেতে দপ্তরে দপ্তরে ঘুরছেন দর্জি

আর্থিক সংকট দূর করার আশায় রাশিয়ায় গিয়েছিলেন নজরুল ইসলাম।

যৌথ পরিবারের জমি বন্ধক রেখে রাশিয়ায়, যুদ্ধক্ষেত্রে মর্মান্তিক মৃত্যু বাংলাদেশী নজরুলের

মার্কিন ডাক বিভাগে জাল শিপিং লেবেল জালিয়াতির অভিযোগে অভিযুক্ত ফাহিম আকরামকে গ্রেপ্তার করেছে পাকিস্তানের সাইবার ক্রাইম সংস্থা। ছবি: সংগৃহীত

ভুয়া শিপিং লেবেল ব্যবহার করে ১২ কোটি ৬০ লাখ ডলারের বেশি ক্ষতি, ফাহিম আকরাম আটক

কেমব্রিজের লাইব্রেরি নির্মাণ নিয়ে আইনি বিরোধে অধ্যাপক সুচিত্রা সেবাস্টিয়ান। ছবি: সংগৃহীত
কেমব্রিজে নতুন লাইব্রেরির পরিকল্পনা নিয়ে আইনি লড়াইয়ে নামলেন অধ্যাপক সুচিত্রা

যুক্তরাজ্যের কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্রাইস্টস কলেজে নতুন লাইব্রেরি নির্মাণের পরিকল্পনা নিয়ে আইনি বিরোধে জড়িয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়টির পদার্থবিজ্ঞানের অধ্যাপক সুচিত্রা সেবাস্টিয়ান। তাঁর সংশ্লিষ্ট নাগরিক সংগঠন ক্রাইস্টস লেন অ্যাকশন গ্রুপের আপত্তি, প্রস্তাবিত ভবনটি ঐতিহাসিক এলাকার তুলনায় অতিরিক্ত বড়। অন্যদিকে কলেজ কর্তৃপক্ষ বলছে, শিক্ষার্থীদের জন্য আধুনিক ও সবার ব্যবহার উপযোগী লাইব্রেরি গড়ে তুলতেই প্রকল্পটি প্রয়োজন।    বিরোধের কেন্দ্রে রয়েছে কলেজের ‘লাইব্রেরি প্লাস’ প্রকল্প। এর আওতায় পুরোনো লাইব্রেরির জায়গায় নতুন ভবন, বাড়তি পড়ার জায়গা এবং সামাজিক পরিসর তৈরির পরিকল্পনা রয়েছে। পাশাপাশি রান্নাঘর ও সংলগ্ন স্থাপনায় সংস্কার এবং প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীদের চলাচলের সুবিধা বাড়ানোর উদ্যোগও অন্তর্ভুক্ত। নকশা করেছে ডাবলিনভিত্তিক গ্রাফটন আর্কিটেক্টস।    কলেজের ব্যাখ্যা অনুযায়ী, ১৯৭০-এর দশকে নির্মিত পুরোনো লাইব্রেরি বর্তমান প্রয়োজন মেটাতে পারছে না। সেখানে প্রবেশগম্যতার সীমাবদ্ধতা রয়েছে এবং শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন ধরনের পড়াশোনার জন্য পর্যাপ্ত জায়গাও নেই। নতুন ভবনে ৩০ হাজারের বেশি বই রাখার পাশাপাশি একা ও দলগতভাবে পড়ার ব্যবস্থা রাখার কথা জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।    তবে বিরোধী সংগঠনটি জানিয়েছে, তারা নতুন লাইব্রেরি নির্মাণের বিপক্ষে নয়। তাদের আপত্তি এই নির্দিষ্ট নকশার আকার ও অবস্থান নিয়ে। ৭ অক্টোবর কাউন্সিলের বৈঠকে সুচিত্রা অভিযোগ করেন, তাঁদের উত্থাপিত বিষয়গুলোর যথাযথ সমাধান ছাড়াই সিদ্ধান্ত নেওয়া হচ্ছে। কাউন্সিলের নথিতেও প্রস্তাবিত ভবনের আকার এবং ঐতিহাসিক বোডলি লাইব্রেরির পরিবেশে এর প্রভাব নিয়ে আপত্তির উল্লেখ রয়েছে।    প্রকল্পটি প্রথমবার অনুমোদনের সিদ্ধান্ত নেয় কেমব্রিজ সিটি কাউন্সিলের পরিকল্পনা কমিটি, ২০২৫ সালের অক্টোবরে। সেই সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়া চ্যালেঞ্জ করে বিচারিক পর্যালোচনার আবেদন করে ক্রাইস্টস লেন অ্যাকশন গ্রুপ। কলেজ কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের এপ্রিলে কাউন্সিল ও কলেজ প্রথম অনুমতি বাতিলের বিষয়ে সম্মত হয়। এরপর জুনে একই নকশায় দ্বিতীয় আবেদন জমা দেয় কলেজ।    দ্বিতীয় আবেদনটি ৭ অক্টোবর ছয় ভোটে এক ভোটের ব্যবধানে অনুমোদনের পক্ষে সিদ্ধান্ত পায়। কলেজ জানিয়েছে, নতুন আবেদনের ক্ষেত্রে আগের সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়া নিয়ে ওঠা প্রশ্নগুলো বিবেচনার সুযোগ পেয়েছে কাউন্সিল। তবে ১৩ অক্টোবর কেন্দ্রীয় সরকারের নির্দেশে চূড়ান্ত অনুমতিপত্র জারি আটকে যায়। প্রকল্পটির সিদ্ধান্ত স্থানীয় কাউন্সিল নেবে, নাকি মন্ত্রী পর্যায়ে পর্যালোচনা করা হবে, তা বিবেচনার জন্য এই পদক্ষেপ নেওয়া হয় বলে জানিয়েছে কেমব্রিজের সংবাদমাধ্যম ভার্সিটি।    সর্বশেষ ২০ অক্টোবরের বিবৃতিতে ক্রাইস্টস কলেজ জানিয়েছে, সেদিন হাইকোর্টের প্রক্রিয়াগত শুনানিতে প্রথম অনুমতিটি আনুষ্ঠানিকভাবে বাতিল হয়েছে। কলেজের ভাষ্য, বিষয়টি নিয়ে পূর্ণাঙ্গ শুনানির জন্য গুরুত্বপূর্ণ জনস্বার্থ বা জাতীয় স্বার্থের প্রশ্ন রয়েছে বলে সংগঠনটির দাবি আদালত গ্রহণ করেননি। কর্তৃপক্ষ প্রকল্পটি বাস্তবায়নে অঙ্গীকারবদ্ধ থাকার কথা জানিয়েছে এবং দ্বিতীয় আবেদনের চূড়ান্ত অনুমতিপত্র জারিতে সরকারের ছাড়পত্রের অপেক্ষায় রয়েছে।

প্রকাশ: অক্টোবর ২১, ২০২৬ ৯:৫১
ইরানের নতুন প্রতিরক্ষামন্ত্রীর

‘প্রয়োজনে ধুলো খাব, এক ইঞ্চি জমিও ছাড়ব না’, ইরানের নতুন প্রতিরক্ষামন্ত্রীর ঘোষণা

২০১১ সালের ভয়াবহ সুনামিতে স্ত্রীকে হারানোর ১৫ বছর পরও সাগরে নেমে তাঁর দেহাবশেষের সন্ধান চালিয়ে যাচ্ছেন জাপানের ইয়াসুও তাকামাৎসু। ছবি: সংগৃহীত

সুনামিতে সাগরে ভেসে যাওয়া স্ত্রীর খোঁজে ১৪ বছর ধরে ডুব দিয়ে যাচ্ছেন স্বামী, পেতে চান শেষবারের মতো

স্লোগান সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে

ফ্রান্সের ছাত্রবিক্ষোভে ফরাসি-আরবি মিশ্র স্লোগান ‘বিসমিল্লাহ, এটাই অন্ধকার’

যুক্তরাজ্যে পেনশন বাড়ছে প্রায় ৫০০ পাউন্ড
ট্রিপল লক নীতিতে ২০২৭ সালে বাড়ছে যুক্তরাজ্যের পেনশন, বার্ষিক আয় ছাড়াবে ১৩ হাজার পাউন্ড

যুক্তরাজ্যে রাষ্ট্রীয় পেনশনভোগীদের জন্য সুখবর এসেছে। ২০২৭ সালের এপ্রিল থেকে দেশটির পূর্ণ নতুন রাষ্ট্রীয় পেনশনের বার্ষিক পরিমাণ প্রায় ৪৮৯ পাউন্ড বাড়তে যাচ্ছে। এতে পূর্ণ পেনশন পাওয়া ব্যক্তিদের বার্ষিক আয় বেড়ে দাঁড়াবে প্রায় ১৩ হাজার ৩৬ পাউন্ডে। মূল্যস্ফীতির চেয়ে মজুরি বৃদ্ধির হার বেশি হওয়ায় ‘ট্রিপল লক’ নীতির আওতায় এই বৃদ্ধি নির্ধারিত হয়েছে। তবে পেনশনের অঙ্ক বাড়লেও আয়কর নিয়ে নতুন উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।   বুধবার, ২১ অক্টোবর যুক্তরাজ্যের জাতীয় পরিসংখ্যান দপ্তর নতুন মূল্যস্ফীতির পরিসংখ্যান প্রকাশের পর পেনশন বৃদ্ধির হিসাবটি স্পষ্ট হয়। সেপ্টেম্বরে মূল্যস্ফীতির হার ছিল ৩ দশমিক ৫ শতাংশ। অন্যদিকে, ২০২৬ সালের মে থেকে জুলাই পর্যন্ত সময়ে মজুরি বৃদ্ধির হার ছিল ৩ দশমিক ৯ শতাংশ। পেনশন বাড়ানোর ক্ষেত্রে এই দুই হারের পাশাপাশি ন্যূনতম ২ দশমিক ৫ শতাংশ বৃদ্ধির নিয়মও বিবেচনায় নেওয়া হয়। তিনটি সূচকের মধ্যে সর্বোচ্চ হার অনুসরণ করায় ২০২৭ সালের পেনশন বৃদ্ধির ভিত্তি হচ্ছে ৩ দশমিক ৯ শতাংশ মজুরি বৃদ্ধি। বর্তমান হিসাবে, পূর্ণ নতুন রাষ্ট্রীয় পেনশন পাওয়া ব্যক্তিরা সপ্তাহে ২৪১ পাউন্ড ৩০ পেন্স পান। ২০২৭ সালের এপ্রিল থেকে তা বেড়ে সপ্তাহে প্রায় ২৫০ পাউন্ড ৭০ পেন্স হতে পারে। বছরে এই বৃদ্ধি প্রায় ৪৮৮ পাউন্ড ৮০ পেন্স, অর্থাৎ প্রায় ৪৮৯ পাউন্ড। এর ফলে পূর্ণ নতুন রাষ্ট্রীয় পেনশনের বার্ষিক পরিমাণ বর্তমান প্রায় ১২ হাজার ৫৪৮ পাউন্ড থেকে বেড়ে ১৩ হাজার ৩৬ পাউন্ডে পৌঁছাবে। পেনশন বৃদ্ধির এই খবর অবসরপ্রাপ্তদের জন্য স্বস্তির হলেও নতুন করে আলোচনায় এসেছে আয়করের বিষয়টি। যুক্তরাজ্যে বর্তমানে ব্যক্তিগত আয়ের করমুক্ত সীমা বছরে ১২ হাজার ৫৭০ পাউন্ড। ২০২৭ সালে পূর্ণ নতুন রাষ্ট্রীয় পেনশনের পরিমাণ এই সীমা ছাড়িয়ে যাবে। ফলে করমুক্ত সীমা ও বর্তমান নিয়ম অপরিবর্তিত থাকলে শুধু রাষ্ট্রীয় পেনশন থেকে আয় করা কিছু ব্যক্তিরও করের দায় তৈরি হতে পারে। তবে শুধু রাষ্ট্রীয় পেনশন পাওয়া ব্যক্তিদের কর দিতে হবে কি না, তা নিয়ে এখনো অনিশ্চয়তা রয়েছে। সরকার আগে ইঙ্গিত দিয়েছে, যাঁদের একমাত্র আয় রাষ্ট্রীয় পেনশন, তাঁদের ওপর করের বোঝা চাপানোর কথা নয়। সে কারণে করমুক্ত সীমা বা সংশ্লিষ্ট নিয়মে পরিবর্তন আনা হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে কীভাবে এই সমস্যা সমাধান করা হবে, তা এখনো নিশ্চিত নয়। সেন্ট জেমসেস প্লেসের পরামর্শ বিভাগের প্রধান ক্লেয়ার ট্রট বলেছেন, পেনশনের পরিমাণ বাড়ায় অনেক অবসরপ্রাপ্ত ব্যক্তি উপকৃত হবেন। তবে পূর্ণ নতুন রাষ্ট্রীয় পেনশন প্রথমবারের মতো ১২ হাজার ৫৭০ পাউন্ডের ব্যক্তিগত করমুক্ত সীমা ছাড়িয়ে যাওয়াও গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। তাঁর মতে, যাঁদের রাষ্ট্রীয় পেনশনের পাশাপাশি কর্মক্ষেত্রের পেনশন, ব্যক্তিগত পেনশন, সঞ্চয় থেকে আয় কিংবা চাকরি করে পাওয়া অর্থ রয়েছে, তাঁদের করের পরিমাণ বেড়ে যেতে পারে। তিনি অবসরপ্রাপ্তদের আগামী এপ্রিলের আগে নিজেদের মোট অবসরকালীন আয় পর্যালোচনা করার পরামর্শ দিয়েছেন। এতে নতুন পরিবর্তন তাঁদের আর্থিক অবস্থায় কী প্রভাব ফেলতে পারে, তা আগে থেকেই বোঝা সম্ভব হবে। হারগ্রিভস ল্যান্সডাউনের অবসরকালীন বিশ্লেষণ বিভাগের প্রধান হেলেন মরিসিও বলেছেন, রাষ্ট্রীয় পেনশন অবসরকালীন আয়ের একটি গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি হলেও এটি দিয়ে সাধারণত মৌলিক প্রয়োজনগুলোই মেটানো সম্ভব। কর্মজীবনে যে জীবনযাত্রার মান ছিল, অবসরের পরও তা ধরে রাখতে চাইলে অতিরিক্ত পেনশন সঞ্চয়ের প্রয়োজন হতে পারে। বেতন বৃদ্ধি বা পদোন্নতির পর ব্যক্তিগত পেনশনে জমার পরিমাণ বাড়ানো এবং নিয়োগকর্তা অতিরিক্ত অর্থ দিলে সেই সুবিধা কাজে লাগানোর মতো পদক্ষেপ দীর্ঘমেয়াদে সহায়ক হতে পারে। অন্যদিকে, যাঁরা এখনো অবসর নেওয়ার বয়স থেকে কয়েক বছর দূরে রয়েছেন, তাঁদের জন্য ভবিষ্যতে রাষ্ট্রীয় পেনশন পাওয়ার বয়সও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। এজে বেলের জননীতি বিভাগের প্রধান র‍্যাচেল ভেহি বলেছেন, রাষ্ট্রীয় পেনশনের বয়স ৬৭ থেকে বাড়িয়ে ৬৮ করার সিদ্ধান্ত কবে কার্যকর হবে, তা নিয়ে সরকারের সামনে এখনো কঠিন প্রশ্ন রয়েছে। প্রচলিত রীতি অনুযায়ী, এমন পরিবর্তনের ক্ষেত্রে মানুষকে অন্তত ১০ বছর আগে জানানো প্রয়োজন। তাই পরিবর্তনটি ২০৩০-এর দশকের শেষভাগে কার্যকর করতে চাইলে সরকারকে শিগগিরই সিদ্ধান্ত নিতে হবে। যুক্তরাজ্য সরকার ২০৩০ সালের এপ্রিল থেকে ট্রিপল লক ব্যবস্থায় পরিবর্তন আনার পরিকল্পনার কথা জানিয়েছে। তবে ২০২৭ সালের পেনশন বৃদ্ধির ক্ষেত্রে বর্তমান নিয়মই প্রযোজ্য থাকবে। নতুন বৃদ্ধি অবসরপ্রাপ্তদের আয় বাড়ালেও করমুক্ত সীমা, ভবিষ্যতে পেনশন পাওয়ার বয়স এবং এই ব্যবস্থার ব্যয় নিয়ে বিতর্ক অব্যাহত থাকার সম্ভাবনা রয়েছে।

প্রকাশ: অক্টোবর ২১, ২০২৬ ৭:২৯
এমপি হেলেন হেইন্সের দ্বিতীয় পা-ও অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে কেটে ফেলতে হয়েছে

অস্ট্রেলিয়ার নারী এমপির এক পায়ের পর কাটতে হলো দ্বিতীয়টিও

কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে পিএইচডি করা জ্যাক ওয়েইস

নোবেল কমিটির গবেষণার সহলেখক প্রিন্সটনের পিএইচডিধারী, ২৩০০ আবেদনেও মেলেনি স্থায়ী চাকরি

পার্কে রুশ ড্রোন হামলায় দুই শিশুসহ ছয়জন নিহত হয়েছেন

ইউক্রেনের পার্কে হাঁটার সময় রুশ ড্রোন হামলায় মা ও স্ট্রলারে থাকা শিশুকন্যা নিহত

0 Comments