- প্রচ্ছদ
- Topic
নার্স
যুক্তরাষ্ট্রের আলাবামা বোর্ড অব নার্সিংয়ে র্যানসমওয়্যার হামলার ঘটনায় নার্স ও লাইসেন্স আবেদনকারীদের সংবেদনশীল ব্যক্তিগত তথ্য ফাঁস হয়ে থাকতে পারে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ। ঝুঁকিতে থাকা তথ্যের মধ্যে সোশ্যাল সিকিউরিটি নম্বর, ড্রাইভার লাইসেন্স নম্বর ও চিকিৎসাসংক্রান্ত তথ্যও রয়েছে। ২ অক্টোবর প্রকাশিত বিজ্ঞপ্তিতে বোর্ড জানিয়েছে, হামলাকারীরা কিছু তথ্য সংগ্রহ ও ডাউনলোড করেছে বলে তদন্তে নিশ্চিত হওয়া গেছে। তবে সবার তথ্য আক্রান্ত হয়েছে কি না, তা নির্ধারণ করা যায়নি। বোর্ডের তথ্য অনুযায়ী, তদন্তে গত আগস্টে তাদের প্রযুক্তিব্যবস্থায় সন্দেহজনক কার্যক্রমের সন্ধান পাওয়া যায়। ১ সেপ্টেম্বরের মধ্যে ব্যবস্থার কিছু অংশে ক্ষতিকর কার্যক্রমের উপস্থিতি নিশ্চিত হয়। ওই দিন থেকে বোর্ডের সেবা ব্যাহত হতে শুরু করে। ঘটনার পর আলাবামা অফিস অব ইনফরমেশন টেকনোলজি ও বাইরের সাইবার নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে কাজ শুরু করে বোর্ড। তদন্তে এফবিআই এবং আলাবামা ল এনফোর্সমেন্ট এজেন্সিকেও সহযোগিতা করছে কর্তৃপক্ষ। বোর্ড জানিয়েছে, দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ায় হামলার বিস্তার ঠেকানো সম্ভব হয়েছে। আক্রান্ত সিস্টেমগুলো অফলাইনে নিয়ে ধাপে ধাপে নিরাপদ সেবা চালুর কাজ চলছে। তবে র্যানসমওয়্যার হামলার কারণে তদন্তে কিছু সীমাবদ্ধতা থাকায় ঠিক কার কোন তথ্য দেখা বা নেওয়া হয়েছে, তা পুরোপুরি নিশ্চিত করা যায়নি। সম্ভাব্য ঝুঁকিতে থাকা তথ্যের মধ্যে নাম, জন্মতারিখ এবং পেশাগত লাইসেন্সের তথ্যও রয়েছে। নার্স ও আবেদনকারীদের অপ্রত্যাশিত ইমেইল, টেক্সট মেসেজ এবং ফোনকলের বিষয়ে সতর্ক থাকতে বলেছে বোর্ড। লাইসেন্স নবায়ন, ফি, তদন্ত বা অ্যাকাউন্ট যাচাইয়ের কথা বলে কেউ যোগাযোগ করলে যাচাই ছাড়া ব্যক্তিগত তথ্য দেওয়া কিংবা পাঠানো লিংকে প্রবেশ না করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। বোর্ডের পোর্টালে ব্যবহৃত একই বা কাছাকাছি পাসওয়ার্ড অন্য অ্যাকাউন্টে ব্যবহার করে থাকলে তা পরিবর্তন করতে বলা হয়েছে। পাশাপাশি একাধিক ধাপে পরিচয় যাচাই চালু রাখা এবং ব্যাংক স্টেটমেন্ট, ক্রেডিট রিপোর্ট ও হেলথ ইন্স্যুরেন্সের হিসাব নিয়মিত পর্যবেক্ষণের পরামর্শ দিয়েছে কর্তৃপক্ষ। পরিচয় চুরির ঝুঁকি কমাতে ক্রেডিট ফ্রিজ বা ফ্রড অ্যালার্ট বিবেচনা করতেও বলা হয়েছে। বোর্ড স্পষ্ট করেছে, তারা নিজে থেকে ইমেইল, টেক্সট মেসেজ বা অপ্রত্যাশিত ফোনকলের মাধ্যমে কারও পাসওয়ার্ড চাইবে না। সেবা পুনরুদ্ধারের মধ্যেই বোর্ডের ওয়েবসাইটে জানানো হয়েছে, বর্তমানে রেজিস্টার্ড নার্সদের লাইসেন্স নবায়নের কাগজের আবেদন গ্রহণ করা হচ্ছে না। ২০২৬ সালের নবায়ন প্রক্রিয়া নিয়ে পরবর্তী নির্দেশনা দেওয়া হবে। সংশ্লিষ্ট নার্সদের বোর্ডের আনুষ্ঠানিক বিজ্ঞপ্তি অনুসরণ করতে বলা হয়েছে। সূত্র: আলাবামা বোর্ড অব নার্সিংয়ের আনুষ্ঠানিক বিজ্ঞপ্তি ও সেবাসংক্রান্ত হালনাগাদ।
যুক্তরাষ্ট্রে দুই দশক ধরে বসবাসকারী এক নার্সকে স্টুডেন্ট ভিসার মেয়াদ শেষ হওয়ার পরও অবস্থান করার অভিযোগে কেনিয়ায় বিতাড়িত করেছে দেশটির ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট (আইসিই)। মৌরিন ওয়াঞ্জিরু ন্গুরে নামের এই নারী ২০০৬ সালের নভেম্বরে বৈধভাবে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করেছিলেন। গত আগস্ট মাসে সান ফ্রান্সিসকোতে আইসিই কার্যালয়ে একটি অ্যাপয়েন্টমেন্টে গেলে তাকে গ্রেপ্তার করা হয় এবং প্রায় এক মাসের বেশি সময় বন্দি রাখার পর ২২ সেপ্টেম্বর তাকে পূর্ব আফ্রিকার দেশ কেনিয়ায় নিজ ভূমিতে ফেরত পাঠানো হয়। এই ঘটনাটি এমন এক সময়ে ঘটল যখন এই নার্স সপরিবারে কানাডায় পাড়ি জমানোর চূড়ান্ত প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। কানাডার ব্রিটিশ কলাম্বিয়ায় স্বাস্থ্যসেবা খাতে তার একটি চাকরির প্রস্তাবও ছিল। গ্রেপ্তারের পর মৌরিনকে ক্যালিফোর্নিয়া, অ্যারিজোনা, লুইজিয়ানা এবং নিউজার্সির বিভিন্ন বন্দিশিবিরে কয়েক সপ্তাহ কাটাতে হয়েছে। পরিবারের সদস্যদের দাবি, বন্দিদশায় মেঝেতে ঘুমাতে বাধ্য হয়েছেন তিনি এবং একপর্যায়ে তার ফোন ও পরিচয়পত্রও হারিয়ে যায়। যুক্তরাষ্ট্রের হোমল্যান্ড সিকিউরিটি (ডিএইচএস) বিভাগের একজন মুখপাত্র জানিয়েছেন, দেশের আইন লঙ্ঘন করে অবৈধভাবে অবস্থান করার কারণেই তাকে ফেরত পাঠানো হয়েছে। তাকে অন্যায়ভাবে আটকে রাখার অভিযোগকে মিথ্যা বলে উড়িয়ে দিয়েছে ডিএইচএস। তবে মৌরিনের মুক্তির জন্য চালু করা একটি ওয়েবসাইটে জানানো হয়, তিনি কন্টিনেন্টাল কোভিড টিমের একজন স্বেচ্ছাসেবী ছিলেন এবং যুক্তরাষ্ট্রে ২০ বছরের জীবনে কখনোই ডিএইচএস-এর কোনো অ্যাপয়েন্টমেন্ট মিস করেননি। ডিএইচএস কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, একজন ইমিগ্রেশন বিচারক ২০১২ সালের ফেব্রুয়ারি মাসেই মৌরিনকে যুক্তরাষ্ট্র ছাড়ার চূড়ান্ত নির্দেশ দিয়েছিলেন। অন্যদিকে, আইসিই বর্তমানে তাদের নিয়ম অনুযায়ী অবৈধ অভিবাসীদের নিজ উদ্যোগে দেশ ছাড়ার জন্য তিন হাজার ডলার ও বিনা মূল্যে ফ্লাইটের প্রস্তাব দিচ্ছে। তবে মৌরিনের আইনি সহায়তা ও যাতায়াত খরচ জোগাতে একটি 'গোফান্ডমি' পেজ খোলা হয়েছিল, যেখানে ২৬ হাজার ডলারেরও বেশি অনুদান জমা পড়েছে। তার সহকর্মী ও শুভাকাঙ্ক্ষীরা এই ঘটনাকে অমানবিক আখ্যা দিয়েছেন এবং ক্যালিফোর্নিয়ার কনকর্ডে তাকে সমর্থন জানিয়ে একটি সমাবেশও অনুষ্ঠিত হয়েছিল। মৌরিনের আইনজীবী রেজিন ডুপুই নিশ্চিত করেছেন যে, তার স্বামী পিটার মাঙ্গারা মুচেন্দু এবং তাদের দুই ছোট সন্তান শুক্রবার সান ফ্রান্সিসকো থেকে কেনিয়ার উদ্দেশ্যে রওনা হয়েছেন। সন্তানদের মানসিক নিরাপত্তার কথা ভেবে দ্রুত স্ত্রীর কাছে ফিরে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন পিটার। তিনি জানিয়েছেন, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের চলমান অভিবাসন নীতির কারণেই তারা কানাডায় চলে যাওয়ার পরিকল্পনা করেছিলেন, কিন্তু তার আগেই এমন অপ্রত্যাশিত ঘটনা ঘটে যায়। বর্তমানে এই পরিবারটি কেনিয়াতে পুনরায় একত্রিত হয়েছে এবং সেখান থেকেই পরবর্তী পদক্ষেপ হিসেবে কানাডায় যাওয়ার পরিকল্পনা যাচাই করে দেখছে।
ম্যাসাচুসেটসে সন্তান জন্মের পর নতুন মা-বাবার বাড়িতে নার্স পাঠিয়ে স্বাস্থ্য ও মানসিক অবস্থার স্ক্রিনিং করার কর্মসূচি আরও বিস্তৃত করার উদ্যোগ নিয়েছে রাজ্য সরকার। গভর্নর মাউরা হিলি ১৫ সেপ্টেম্বর এ কর্মসূচি সম্প্রসারণে ২০ লাখ ডলার এবং প্রসব-পরবর্তী মানসিক স্বাস্থ্যসেবা জোরদারে আরও ২ লাখ ৫০ হাজার ডলার বরাদ্দের প্রস্তাব দিয়েছেন। তবে কর্মসূচিটি স্বেচ্ছামূলক হওয়া সত্ত্বেও সরকারি হস্তক্ষেপ, ব্যক্তিগত গোপনীয়তা ও পরিবারের স্বাধীনতা নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। রাজ্যের স্বাস্থ্য দপ্তরের অধীনে থাকা ‘ওয়েলকাম ফ্যামিলি’ কর্মসূচির মাধ্যমে সন্তান জন্মের পর প্রশিক্ষিত মাতৃ ও শিশুস্বাস্থ্য নার্স পরিবারের বাড়িতে গিয়ে মা ও নবজাতকের স্বাস্থ্য সম্পর্কে খোঁজ নেন। নার্সরা নবজাতকের যত্ন, বুকের দুধ খাওয়ানো, মানসিক স্বাস্থ্য এবং পরিবারের প্রয়োজনীয় বিভিন্ন সহায়তা নিয়ে পরামর্শ দেন। প্রয়োজন হলে পরিবারকে চিকিৎসা ও সামাজিক সেবার সঙ্গে যুক্ত করার ব্যবস্থাও করা হয়। গভর্নর হিলির প্রস্তাবের লক্ষ্য হলো এই সেবা পুরো ম্যাসাচুসেটসে আরও সহজলভ্য করা। রাজ্য সরকারের হিসাবে, বর্তমানে ‘ওয়েলকাম ফ্যামিলি’ বছরে প্রায় ৩ হাজার পরিবারকে সেবা দেয়। অতিরিক্ত অর্থায়নের ফলে বছরে প্রায় ৬৮ হাজার সন্তান জন্ম দেওয়া পরিবারকে এই বাড়ি পরিদর্শনের সুযোগ দেওয়ার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে। তবে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, এটি বাধ্যতামূলক কর্মসূচি নয়। রাজ্য সরকারের ঘোষণায় এটিকে বিনামূল্যের স্বেচ্ছামূলক সেবা হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। বাড়িতে গিয়ে নার্সরা শুধু শিশুর স্বাস্থ্য নয়, মায়ের প্রসব-পরবর্তী মানসিক অবস্থাও মূল্যায়ন করতে পারেন। বিষণ্নতা, উদ্বেগ, মাদক ব্যবহারের মতো উদ্বেগের লক্ষণ শনাক্ত হলে প্রয়োজন অনুযায়ী চিকিৎসা বা অন্যান্য সহায়তার সঙ্গে পরিবারকে যুক্ত করা হয়। ২০২৫ সালে কর্মসূচির আওতায় ১ হাজার ৬২০টি প্রসব-পরবর্তী বিষণ্নতার স্ক্রিনিং করা হয়েছিল। এর মধ্যে ২০৮ জনের স্ক্রিনিংয়ে উদ্বেগের লক্ষণ পাওয়া যায় এবং প্রত্যেককে প্রয়োজনীয় সেবার জন্য রেফার করা হয় বলে রাজ্য সরকার জানিয়েছে। ম্যাসাচুসেটসে প্রসব-পরবর্তী মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে সাম্প্রতিক সময়ে নতুন করে আলোচনা তৈরি হয়েছে লিন্ডসে ক্ল্যান্সির মামলাকে ঘিরে। সাবেক এই নার্সের বিরুদ্ধে ২০২৩ সালে তাঁর তিন সন্তানকে হত্যার অভিযোগ ওঠে। মামলায় তাঁর আইনজীবীরা যুক্তি দিয়েছিলেন যে তিনি গুরুতর প্রসব-পরবর্তী মানসিক অসুস্থতায় ভুগছিলেন। পরে জুরি ঐকমত্যে পৌঁছাতে না পারায় মামলাটিতে মিস্ট্রায়াল ঘোষণা করা হয়। হিলির নতুন উদ্যোগ ঘোষণার সময় এই মামলাটি আবারও আলোচনায় আসে। তবে কর্মসূচিটি নিয়ে সমালোচনাও দেখা গেছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে কয়েকজন ব্যবহারকারী বাড়িতে সরকারি স্বাস্থ্যকর্মী পাঠানোর পরিকল্পনা নিয়ে আপত্তি জানিয়েছেন। কেউ এটিকে অপ্রয়োজনীয় সরকারি হস্তক্ষেপ হিসেবে দেখেছেন, আবার কেউ অভিভাবকদের বাড়িতে এ ধরনের পরিদর্শন গ্রহণ না করার আহ্বান জানিয়েছেন। এসব প্রতিক্রিয়া মূলত পরিবারের ব্যক্তিগত পরিসর, সরকারি অর্থের ব্যবহার এবং স্বাস্থ্যসেবায় সরকারের ভূমিকা নিয়ে উদ্বেগকে সামনে এনেছে। অন্যদিকে ম্যাসাচুসেটস সরকার বলছে, কর্মসূচির উদ্দেশ্য পরিবারকে নজরদারি করা নয়, বরং সন্তান জন্মের পরের গুরুত্বপূর্ণ সময়ে প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্যসেবা ও সহায়তার সঙ্গে দ্রুত যুক্ত করা। রাজ্যের আইনে ইতোমধ্যে প্রসব-পরবর্তী বাড়ি পরিদর্শন সেবা স্বেচ্ছামূলক ও প্রমাণভিত্তিক সেবা হিসেবে নির্ধারিত হয়েছে। আইনে অন্তত একটি পরিদর্শন সন্তান জন্মের পর আট সপ্তাহের মধ্যে বাড়িতে অথবা পরিবার ও সেবাদাতার সম্মত অন্য কোনো স্থানে করার কথা বলা হয়েছে। ফলে নতুন উদ্যোগটি ম্যাসাচুসেটসে মাতৃস্বাস্থ্য ও প্রসব-পরবর্তী মানসিক সহায়তা আরও সহজে পৌঁছে দেওয়ার পাশাপাশি পরিবার কতটা ব্যক্তিগত স্বাধীনতা রাখবে এবং সরকারি স্বাস্থ্যসেবা কোথায় পর্যন্ত পৌঁছানো উচিত, সেই প্রশ্নও সামনে এনেছে। রাজ্য সরকার এখন অর্থায়ন ও কর্মসূচি সম্প্রসারণের মাধ্যমে এই সেবা আরও বেশি পরিবারের কাছে পৌঁছানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে।
ব্রাজিলে সাবেক সঙ্গীর হাতে অপহৃত এক তরুণী নার্সকে টানা পাঁচ দিন পর হাত-পা বাঁধা ও শেকলবদ্ধ অবস্থায় উদ্ধার করেছে পুলিশ। দেশটির আগুয়াস লিন্ডাস দে গোয়াস এলাকার একটি পরিত্যক্ত ও নোংরা বাড়ি থেকে ২৪ বছর বয়সী এমিলিয়ানে তামারা নুনেস কারভালহো নামের ওই নারীকে উদ্ধার করা হয়। সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে পুলিশের এই শ্বাসরুদ্ধকর উদ্ধার অভিযানের দৃশ্যটি উঠে এসেছে, যেখানে ওই নারীকে চরম আতঙ্কিত অবস্থায় দেখা যায়। সংবাদমাধ্যম 'ও গ্লোবো'-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত ১৭ আগস্ট সন্তানদের বিষয়ে কথা বলার জন্য সাবেক সঙ্গী আইলটন রদ্রিগেজ ডি সুজার সঙ্গে দেখা করতে গিয়ে নিখোঁজ হন পেশায় নার্সিং টেকনিশিয়ান কারভালহো। কিন্তু আলোচনার বদলে সুজা তাঁর ওপর হামলা চালিয়ে তাঁকে একটি গোপন আস্তানায় নিয়ে যায়। কর্তৃপক্ষের তথ্যমতে, সেখানে আটকে রেখে টানা পাঁচ দিন ধরে তাঁকে ধর্ষণ, নির্যাতন ও মাত্রাতিরিক্ত মাদক দেওয়া হয়। অবশেষে ২১ আগস্ট, শুক্রবার পুলিশ তাঁকে উদ্ধার করতে সক্ষম হয়। প্রকাশিত ভিডিওতে দেখা যায়, এক নারীর আর্তচিৎকার শুনে পুলিশ একটি বেডরুমের দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে। সেখানে কারভালহোকে মুখে গ্যাস মাস্ক পরা এবং ভয়ে কাঁপতে দেখা যায়। মিলিটারি পুলিশের বিবৃতিতে বলা হয়, "ভুক্তভোগী নারীকে মুখে কাপড় গোঁজা অবস্থায় পাওয়া যায়। তাঁর হাত, পা এবং গলায় দড়ি, হাতকড়া ও শেকল পরানো ছিল। তাঁর শ্বাসকষ্ট হচ্ছিল এবং শরীরে অক্সিজেনের অভাবের লক্ষণ স্পষ্ট ছিল।" ঘরে মজুত করা খাবার ও অন্যান্য আলামত দেখে পুলিশের ধারণা, সুজা তাঁকে আরও বেশ কয়েকদিন সেখানে আটকে রাখার পরিকল্পনা করেছিল। এই ঘটনায় গত শুক্রবার সুজাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং তাঁর বিরুদ্ধে অপহরণ, ধর্ষণ ও অবৈধভাবে আটকে রাখার অভিযোগ আনা হয়েছে। এদিকে, চিকিৎসা শেষে হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পেলেও কারভালহো এখনো শারীরিক ব্যথা ও মাথা ঘোরার সমস্যায় ভুগছেন। গার্হস্থ্য সহিংসতা সম্পর্কে সচেতনতা বাড়াতে তিনি তাঁর এই ভয়াবহ অভিজ্ঞতার কথা জনসমক্ষে তুলে ধরেছেন। ১৮ বছর বয়সে বিয়ে করা সুজার সঙ্গে দীর্ঘ পাঁচ বছরের সম্পর্ক তিনি ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে ভেঙে দেন। তিনি জানান, অল্প বয়সে বিয়ের কারণে তিনি সম্পর্কের অনেক সতর্কবার্তাই এড়িয়ে গিয়েছিলেন। কারভালহো বলেন, "আমি জানি না ওটা ভালোবাসা ছিল নাকি নেশা… ওটা ছিল একধরনের মানসিক নির্ভরশীলতা। ভালোবাসা অন্ধ হয়, আমরা তখন কিছুই দেখতে পাই না।"
যুক্তরাষ্ট্রের ম্যাসাচুসেটস অঙ্গরাজ্যের বোস্টন চিলড্রেন’স হাসপাতালে কর্মরত এক সাবেক নার্সের বিরুদ্ধে দুই কিশোর রোগীকে যৌন নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে। অভিযুক্ত নার্স জন ট্যামকে (৩৩) গ্রেপ্তার করে একাধিক অভিযোগে মামলা করা হয়েছে। তদন্তকারীরা আশঙ্কা করছেন, তার বিরুদ্ধে আরও ভুক্তভোগী থাকতে পারেন। সাফোক কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানিয়েছে, হোপডেলের বাসিন্দা জন ট্যামের বিরুদ্ধে ১৪ বছর বা তার বেশি বয়সী ব্যক্তির ওপর অশালীন হামলা এবং স্বাস্থ্যসেবা প্রদানকারী হিসেবে রোগীর ওপর অশালীন আচরণের অভিযোগ আনা হয়েছে। তিনি শিগগিরই সাফোক সুপিরিয়র কোর্টে হাজির হবেন। অভিযোগ অনুযায়ী, ঘটনাগুলো ঘটে ২০২২ ও ২০২৫ সালে। প্রথম ঘটনায় ২০২২ সালের সেপ্টেম্বরে বোস্টন চিলড্রেন’স হাসপাতালে বুকে অস্ত্রোপচার করা ১৫ বছর বয়সী এক কিশোরের সঙ্গে অনৈতিক আচরণের অভিযোগ ওঠে। প্রসিকিউটরদের দাবি, অস্ত্রোপচারের সময় অ্যানেস্থেশিয়া নেওয়ার পর জ্ঞান ফেরার সময় ওই কিশোর নার্স ট্যামকে তার শরীরে অনুপযুক্তভাবে স্পর্শ করতে দেখে। দ্বিতীয় অভিযোগটি ২০২৫ সালের জানুয়ারির। তদন্তকারীদের ভাষ্য অনুযায়ী, অস্ত্রোপচারের পর পর্যবেক্ষণের দায়িত্বে থাকা অবস্থায় ১৬ বছর বয়সী আরেক রোগীর সঙ্গে একই ধরনের অপরাধের অভিযোগ ওঠে। প্রসিকিউটররা জানিয়েছেন, ওই ঘটনায় পুলিশকে হাসপাতালে ডাকা হয়েছিল এবং নজরদারি ক্যামেরার ফুটেজও তদন্তের অংশ হিসেবে পর্যালোচনা করা হয়েছে। সাফোক কাউন্টির ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নি কেভিন হেইডেন সতর্ক করে বলেছেন, ঘটনাগুলো বিচ্ছিন্ন নাও হতে পারে। তিনি অভিভাবকদের আহ্বান জানিয়েছেন, তাদের সন্তানরা যদি জন ট্যামের সংস্পর্শে এসে থাকে এবং কোনো সন্দেহ থাকে, তাহলে যেন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। জন ট্যাম এর আগে ম্যাসাচুসেটসের আরও কয়েকটি স্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠানে কাজ করেছেন, যার মধ্যে রয়েছে বেথ ইসরায়েল ডিকনেস মেডিকেল সেন্টার এবং ইউম্যাস মেমোরিয়াল মেডিকেল সেন্টারের বিভিন্ন ক্যাম্পাস। এসব প্রতিষ্ঠানে তার কর্মকালীন সময়েও কোনো রোগী ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। বোস্টন চিলড্রেন’স হাসপাতালের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো বিস্তারিত মন্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, সম্ভাব্য সব অভিযোগ গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হবে এবং ভুক্তভোগীদের নিরাপত্তা ও সহায়তাকে অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে।
যুক্তরাষ্ট্রের মিশিগানে এক নার্সের বাড়িতে তল্লাশি চালিয়ে গা শিউরে ওঠা এক বীভৎস দৃশ্য আবিষ্কার করেছে পুলিশ। এমিলি কারোলস্কি নামের ওই নার্সের বাড়ি থেকে প্রায় ৮০টি মৃত এবং ১০০টিরও বেশি জীবিত বিড়াল উদ্ধার করা হয়েছে। তিনি পেশায় কোরওয়েল হেলথের একজন নার্স প্র্যাকটিশনার, যিনি হাসপাতালে সদ্য জন্ম নেওয়া নবজাতকদের নিবিড় পরিচর্যার দায়িত্বে ছিলেন। এমন একটি সংবেদনশীল পেশায় নিযুক্ত ব্যক্তির বাড়িতে চরম অবহেলা ও অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে প্রাণীদের আটকে রাখার এই ঘটনা স্থানীয় কমিউনিটিতে তীব্র চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে। উদ্ধারকারী দল ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর পর সেখানকার ভয়াবহ দুর্গন্ধের কারণে রীতিমতো অসুস্থ হয়ে পড়েন। বমি ভাব ও মাথা ঘোরার মতো পরিস্থিতি তৈরি হওয়ায় বাধ্য হয়ে তাদের রেসপিরেটর বা বিশেষ শ্বাসযন্ত্র ব্যবহার করে বাড়ির ভেতরে প্রবেশ করতে হয়। পুলিশ জানিয়েছে, পুরো বাড়িটি ছিল চরম নোংরা ও আবর্জনায় পূর্ণ। রান্নাঘরের বিভিন্ন স্থানে এবং এমনকি রেফ্রিজারেটরের ভেতরেও মৃত বিড়াল স্তূপ করে রাখা ছিল, যা দেখে উদ্ধারকর্মীরাও হতবাক হয়ে যান। এই অমানবিক ও মর্মান্তিক ঘটনার পর এমিলি কারোলস্কির বিরুদ্ধে প্রাণী নিষ্ঠুরতা এবং মৃত প্রাণী যথাযথভাবে সৎকার না করার অভিযোগে ফেলোনি বা গুরুতর অপরাধের মামলা দায়ের করা হয়েছে। তবে এত ভয়াবহ অভিযোগ থাকা সত্ত্বেও তাকে মাত্র আড়াই হাজার ডলারের বন্ডে জামিন দেওয়া হয়েছে। যে ব্যক্তির ওপর হাসপাতালে নবজাতক শিশুদের জীবনের ভার তুলে দেওয়া হয়েছিল, তার এমন ভয়াবহ মানসিকতা ও অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড নিয়ে এখন সচেতন মহলে তীব্র সমালোচনার ঝড় বইছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।