আমেরিকা

পেন্টাগনে তোলপাড়: দুই কৃষ্ণাঙ্গ ও দুই নারী জেনারেলের পদোন্নতি আটকে দিলেন হেগসেথ

ইসমাইল হোসাইন প্রকাশ: মার্চ ২৬, ২০২৬ ২৩:১৭
মার্কিন প্রতিরক্ষা সচিব পিট হেগসেথ
মার্কিন প্রতিরক্ষা সচিব পিট হেগসেথ

মার্কিন প্রতিরক্ষা সচিব পিট হেগসেথের এক বিতর্কিত পদক্ষেপে তোলপাড় শুরু হয়েছে পেন্টাগনসহ পুরো ওয়াশিংটনে। অত্যন্ত যোগ্য হিসেবে বিবেচিত চারজন উচ্চপদস্থ সেনা কর্মকর্তার পদোন্নতি তালিকা থেকে নাম বাদ দিয়েছেন তিনি, যাদের মধ্যে দুইজন কৃষ্ণাঙ্গ এবং দুইজন নারী কর্মকর্তা রয়েছেন। নিউ ইয়র্ক টাইমসের এক চাঞ্চল্যকর প্রতিবেদনে এই তথ্য উঠে এসেছে।


বর্তমানে ওয়ান-স্টার জেনারেল হিসেবে কর্মরত এই কর্মকর্তাদের পদোন্নতি আটকে দেওয়ার বিষয়টিকে হেগসেথের ‘উওক কালচার’ বা অতি-উদারপন্থী প্রভাবমুক্ত সামরিক বাহিনী গড়ার লড়াই হিসেবে দেখা হচ্ছে।


পিট হেগসেথ দীর্ঘদিন ধরেই মার্কিন সেনাবাহিনীতে প্রচলিত ডাইভারসিটি, ইক্যুইটি এবং ইনক্লুশন (DEI) নীতির কড়া সমালোচনা করে আসছেন। প্রতিবেদন অনুযায়ী, তিনি এই কর্মকর্তাদের নাম তালিকা থেকে বাদ দিতে সেনাসচিব ড্যান ড্রিসকলকে চাপ দিয়েছিলেন। তবে ড্রিসকল এই অনুরোধ প্রত্যাখ্যান করে জানান, ওই কর্মকর্তারা কয়েক দশকের উজ্জ্বল ক্যারিয়ার এবং যোগ্যতার প্রমাণ দিয়েই তালিকায় স্থান পেয়েছেন। শেষ পর্যন্ত সেনাসচিবের আপত্তি তোয়াক্কা না করেই হেগসেথ ব্যক্তিগত হস্তক্ষেপে তাদের নাম সরিয়ে দেন।


হেগসেথের এই সিদ্ধান্তে মার্কিন সামরিক বাহিনীর ভেতরে চরম অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। অনেক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা মনে করছেন, মেধার পরিবর্তে রাজনৈতিক আদর্শ এবং গায়ের রঙ বা লিঙ্গকে ভিত্তি করে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, যা বাহিনীর মনোবলে আঘাত হানতে পারে। বর্তমানে সংশোধিত এই তালিকাটি হোয়াইট হাউসে পাঠানো হয়েছে, যা চূড়ান্ত অনুমোদনের জন্য সিনেটে পেশ করা হবে।


ট্রাম্প প্রশাসনের এই মেয়াদে প্রতিরক্ষা বিভাগের নেতৃত্বে আসা হেগসেথের এমন একের পর এক বিতর্কিত সিদ্ধান্তে মার্কিন সামরিক বাহিনীর ভবিষ্যৎ পুনর্গঠন প্রক্রিয়া নিয়ে বড় ধরনের আইনি ও নৈতিক প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।

জনপ্রিয় সংবাদ
যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

দেশের প্রথম ৪০ তলা ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর সম্পন্ন

বাংলাদেশের আবাসন শিল্পে এক নতুন ইতিহাস রচিত হলো। রাজধানীর তেজগাঁও শিল্প এলাকায় নির্মিত দেশের প্রথম ৪০ তলা বিশিষ্ট আকাশচুম্বী বাণিজ্যিক ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করেছে শান্তা হোল্ডিংস। ৫০০ ফুট উচ্চতার এই আইকনিক ভবনটি এখন দেশের সর্বোচ্চ সম্পন্ন হওয়া ইমারত। গত শনিবার (১৮ এপ্রিল) ভবনের ৪০তম তলায় আয়োজিত এক আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এটি হস্তান্তর করা হয়। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের চেয়ারম্যান খন্দকার মনির উদ্দিন, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, স্থপতি এহসান খানসহ প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, ভূমি মালিক এবং গ্রাহকরা উপস্থিত ছিলেন। স্থাপত্যশৈলী ও আধুনিক প্রযুক্তি:‘শান্তা পিনাকল’ শুধুমাত্র উচ্চতার কারণেই অনন্য নয়, বরং এটি আধুনিক নির্মাণশৈলী ও প্রযুক্তির এক অনন্য সমন্বয়। এটি বাংলাদেশের প্রথম ভবন যা পরিবেশবান্ধব স্থাপত্যের জন্য আন্তর্জাতিক ‘লিড প্ল্যাটিনাম’ (LEED Platinum) স্বীকৃতি পেয়েছে। সিঙ্গাপুরভিত্তিক বিখ্যাত ইঞ্জিনিয়ারিং প্রতিষ্ঠান ‘মেইনহার্ট’ (Meinhardt) এর সহায়তায় ভবনটির স্ট্রাকচারাল ডিজাইন এবং ভূমিকম্প প্রতিরোধক ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে। বিশেষ বৈশিষ্ট্যসমূহ: উন্নত লিফট ব্যবস্থা: ভবনটিতে রয়েছে ৮টি দ্রুতগামী লিফট, যা প্রতি সেকেন্ডে ৪ মিটার উচ্চতায় উঠতে সক্ষম। এটি দেশের দ্রুততম ভার্টিক্যাল ট্রান্সপোর্ট ব্যবস্থা। পরিবেশ ও সুরক্ষা: ভবনে ব্যবহৃত হয়েছে ৩৬ মিমি পুরুত্বের ডাবল গ্লেজড গ্লাস, যা তাপ ও শব্দ নিরোধক। এছাড়া এটি দেশের প্রথম ‘উইন্ড টানেল টেস্ট’ করা ভবন, যা প্রতিকূল আবহাওয়ায় এর স্থায়িত্ব নিশ্চিত করে। আইবিএমএস প্রযুক্তি: পুরো ভবনটি একটি ইন্টেলিজেন্ট বিল্ডিং ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (iBMS) দ্বারা পরিচালিত, যা সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা ও জ্বালানি সাশ্রয় নিশ্চিত করবে। অগ্নি নিরাপত্তা: আন্তর্জাতিক এনএফপিএ (NFPA) স্ট্যান্ডার্ড অনুসরণ করে এখানে অত্যাধুনিক অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা স্থাপন করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর দেশের রিয়েল এস্টেট খাতের সক্ষমতার এক বড় প্রমাণ। এটি শুধুমাত্র তেজগাঁও নয়, বরং পুরো ঢাকার বাণিজ্যিক পরিবেশকে বিশ্বমানের স্তরে নিয়ে যাবে। দেশের ইতিহাসে প্রথমবার অ্যালুমিনিয়াম ফর্মওয়ার্ক ব্যবহারের মাধ্যমে মাত্র সাত দিনে এক একটি তলার ছাদ ঢালাইয়ের রেকর্ড গড়ে এই প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। ঢাকার আকাশসীমায় নতুন এই ল্যান্ডমার্ক দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং আধুনিক নগরায়নের এক শক্তিশালী প্রতীক হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে।

ছয় বছরের মেয়ের মৃত্যুর পর বাবারও মরদেহ উদ্ধার , একসঙ্গে দাফন করা হবে বাবা-মেয়েকে

অস্ট্রেলিয়ার সিডনিতে ছয় বছরের এক শিশুকন্যা ও তার বাবার মৃত্যুকে ঘিরে শোকের ছায়া নেমে এসেছে স্থানীয় সম্প্রদায়ের মধ্যে। পুলিশ জানিয়েছে, পারামাট্টা নদীতে ঘটে যাওয়া এই মর্মান্তিক ঘটনায় ৪৭ বছর বয়সী মওলিক ধান্ধুকিয়া এবং তার ছয় বছরের মেয়ের মৃত্যু হয়েছে। ঘটনার পর তাদের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।   স্থানীয় গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত শনিবার সিডনির কনকর্ড এলাকার কাছে একটি নৌকা ভাড়া করেছিলেন মওলিক ধান্ধুকিয়া। তার সঙ্গে ছিলেন ছয় বছর বয়সী কন্যা। কিছু সময় পর নদীতে জরুরি পরিস্থিতির খবর পেয়ে উদ্ধার অভিযান শুরু করে পুলিশ ও জরুরি সেবা সংস্থাগুলো।   আরও পড়ুন...টেক্সাসে স্বামীর গুলিতে স্ত্রী নিহত, পরে পুলিশের গুলিতে স্বামী নিহত; দুই শিশুকে   পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, দুপুরের কিছু আগে মওলিক ধান্ধুকিয়ার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এরপর প্রায় সাত ঘণ্টা ধরে শিশুটির সন্ধানে ব্যাপক অনুসন্ধান চালানো হয়। উদ্ধারকারীরা শেষ পর্যন্ত বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে শিশুকন্যার মরদেহ নদী থেকে উদ্ধার করেন। ঘটনার তদন্তে সহায়তার জন্য আশপাশের বিভিন্ন সূত্র থেকে তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে। স্থানীয় একটি স্থাপনার সিসিটিভি ফুটেজও তদন্তকারীদের হাতে এসেছে। পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনাটির প্রকৃত কারণ অনুসন্ধানে সব দিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে।   এদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত এক শোকবার্তায় জানানো হয়েছে, আগামী শুক্রবার রাউস হিলের ক্যাসেলব্রুক ক্রেমেটোরিয়ামে বাবা ও মেয়ের যৌথ শেষকৃত্য অনুষ্ঠিত হবে। শোকবার্তায় লেখা হয়েছে, “দুই কোমল ও সদয় আত্মা, যারা চিরকাল আমাদের হৃদয়ে বেঁচে থাকবে। তাদের আত্মার শান্তি কামনা করছি।” তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ঘটনার আগে কয়েক দফা নৌকা ভাড়া করেছিলেন মওলিক ধান্ধুকিয়া। একবার তার স্ত্রী প্রীতিবেন ধান্ধুকিয়াও তার সঙ্গে ছিলেন বলে জানা গেছে।   আরও পড়ুন...টেক্সাসে বিস্ফোরণের আগুনে পুড়েও বাড়ি ও নাতি-নাতনিদের বাঁচালেন এক সাহসী দাদা   পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে একটি চিরকুট উদ্ধার করেছে, যা তদন্তের অংশ হিসেবে পরীক্ষা করা হচ্ছে। তবে এখন পর্যন্ত এর বিষয়বস্তু প্রকাশ করা হয়নি। কেন এমন ঘটনা ঘটল, সে বিষয়ে নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। তবে মৃত্যুর প্রায় দুই সপ্তাহ আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দীর্ঘ একটি পোস্ট করেছিলেন মওলিক ধান্ধুকিয়া। সেখানে তিনি ২০০৫ সালে জিমে ব্যায়াম করার সময় ঘাড়ে পাওয়া আঘাতের কারণে দীর্ঘদিন ধরে ভোগা শারীরিক সমস্যার কথা উল্লেখ করেছিলেন।   ওই পোস্টে তিনি লিখেছিলেন, ঘাড়ের দীর্ঘস্থায়ী ব্যথা তার জীবনের অনেক সমস্যার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছিল। এমআরআই পরীক্ষায় তার মেরুদণ্ডের ঘাড়ের অংশে স্নায়ুর ওপর চাপের বিষয়টি ধরা পড়ে বলেও তিনি উল্লেখ করেন। মওলিক ধান্ধুকিয়া পেশাগত জীবনে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে কাজ করতেন। ২০২২ সাল থেকে তিনি সাউথ ইস্টার্ন সিডনি লোকাল হেলথ ডিস্ট্রিক্টে অ্যাপ্লিকেশন সাপোর্ট বিশ্লেষক হিসেবে কর্মরত ছিলেন। এর আগে অস্ট্রেলিয়া ও ভারতে বিভিন্ন সফটওয়্যার প্রতিষ্ঠানে কাজ করেছেন।   এই ঘটনার পর পরিবারটির জন্য সহায়তা তহবিলও গঠন করেছেন স্বজন ও পারিবারিক বন্ধুরা। তহবিল সংগ্রহের আহ্বানে বলা হয়েছে, প্রীতিবেন ধান্ধুকিয়া একসঙ্গে তার স্বামী ও একমাত্র কন্যাকে হারিয়েছেন। এই কঠিন সময়ে তাকে আর্থিক ও মানসিক সহায়তা দেওয়ার জন্য সবাইকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানানো হয়েছে।   ▶️ ট্রাম্পের লাখ ডলারের এইচ-১বি ভিসা ফি অবৈধ ঘোষণা মার্কিন আদালতের   তহবিলের অর্থ শেষকৃত্যের ব্যয়, ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতা এবং নিকট আত্মীয়দের যাতায়াত ও আবাসন খাতে ব্যবহার করা হবে বলে জানানো হয়েছে। নিউ সাউথ ওয়েলস পুলিশের সুপারিনটেনডেন্ট ক্রিস্টিন ম্যাকডোনাল্ড ঘটনাটিকে “পরিবার ও সমাজের জন্য এক গভীর ট্র্যাজেডি” হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তিনি বলেন, “এটি অত্যন্ত হৃদয়বিদারক একটি ঘটনা। আমরা সব দিক থেকে তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছি এবং কোনো সম্ভাবনাই উপেক্ষা করা হবে না।” পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার পেছনে পারিবারিক সহিংসতার কোনো উপাদান ছিল কি না, সেটিও তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। তবে এখন পর্যন্ত কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো হয়নি।   ঘটনার পর পুরো এলাকায় শোকের আবহ বিরাজ করছে। বাবা ও মেয়ের একসঙ্গে শেষকৃত্যের খবর আরও আবেগঘন পরিবেশ তৈরি করেছে। স্বজন ও পরিচিতজনরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাদের স্মরণ করে শোক প্রকাশ করছেন।

৩০ মার্চ থেকে কার্যকর হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন ভিসা নিয়ম: যা জানা প্রয়োজন

যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা প্রত্যাশীদের জন্য কঠোর হচ্ছে নিয়মাবলী। আগামী ৩০ মার্চ থেকে কার্যকর হতে যাচ্ছে নতুন ভিসা রুলস, যেখানে আবেদনকারীদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের প্রোফাইল পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই বা স্ক্রিনিং করা হবে। মার্কিন প্রশাসনের এই নতুন পদক্ষেপে বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ভিসা প্রত্যাশীদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। নতুন এই নিয়ম মূলত অ-অভিবাসী (Non-immigrant) এবং অভিবাসী (Immigrant) উভয় ধরণের ভিসার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হতে পারে। বিশেষ করে যারা ট্যুরিস্ট ভিসা, স্টুডেন্ট ভিসা এবং কাজের সন্ধানে এইচ-১বি (H-1B) ভিসার জন্য আবেদন করবেন, তাদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের তথ্য প্রদান বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে। আবেদনকারীদের গত পাঁচ বছরের ব্যবহৃত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোর ইউজার আইডি বা হ্যান্ডেল নাম ফর্মে উল্লেখ করতে হবে। ফেসবুক, টুইটার (বর্তমানে এক্স), ইনস্টাগ্রাম এবং ইউটিউবের মতো জনপ্রিয় প্ল্যাটফর্মগুলো এই স্ক্রিনিংয়ের আওতায় থাকবে। তবে পাসওয়ার্ড দেওয়ার প্রয়োজন হবে না। মূলত আবেদনকারীর নিরাপত্তা ঝুঁকি এবং পূর্ববর্তী কোনো উসকানিমূলক বা সন্দেহজনক কর্মকাণ্ড আছে কি না, তা যাচাই করতেই এই পদক্ষেপ। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং জননিরাপত্তার স্বার্থেই এই স্ক্রিনিং প্রক্রিয়া জোরদার করা হয়েছে। কোনো ব্যক্তি যদি অতীতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে উগ্রবাদ বা আইনবিরোধী কোনো কাজে লিপ্ত থেকে থাকেন, তবে তার ভিসা আবেদন বাতিল হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হবে। ভিসা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ৩০ মার্চের পর যারা আবেদন করবেন, তাদের অবশ্যই গত ৫ বছরের ডিজিটাল ফুটপ্রিন্ট সম্পর্কে সতর্ক থাকতে হবে। কোনো ভুল তথ্য দিলে বা তথ্য গোপন করলে তা স্থায়ীভাবে ভিসা প্রত্যাখ্যাত হওয়ার কারণ হতে পারে। এছাড়া ইমেইল অ্যাড্রেস এবং ফোন নম্বর প্রদানের ক্ষেত্রেও অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এই নতুন নিয়ম চালুর ফলে ভিসা প্রক্রিয়াকরণে কিছুটা অতিরিক্ত সময় লাগতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তাই প্রয়োজনীয় কাগজপত্র এবং অনলাইন প্রোফাইল গুছিয়ে আবেদন করার পরামর্শ দিচ্ছে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো।

Advertisement

আমেরিকা

View more
সাঁজোয়া যানের নিচে চাপা পড়ে আদ্রিয়ান বনসে নামের এক মার্কিন সেনার মৃত্যু l ছবি: সংগৃহীত
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় সামরিক মহড়ায় ট্যাংকের নিচে চাপা পড়ে মার্কিন সেনার মৃত্যু

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় একটি প্রশিক্ষণ মাঠে ২৭ টন ওজনের একটি সাঁজোয়া যানের (ট্যাংক) নিচে চাপা পড়ে এক মার্কিন সেনার মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। মার্কিন সেনাবাহিনী জানিয়েছে, গত ১০ জুন ভোরে সামরিক মহড়া চলাকালীন 'এম২ ব্র্যাডলি' নামের একটি ফাইটিং ভেহিকল বা সাঁজোয়া যানের নিচে চাপা পড়েন ২৯ বছর বয়সী আদ্রিয়ান বনসে। জানা গেছে, ওই মহড়া চলাকালীন সময়ে সাঁজোয়া যানটি থেকে চালকের দৃষ্টিসীমা বা ভিজিবিলিটি বেশ সীমিত ছিল, যার ফলে এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনাটি ঘটে।   নিহত আদ্রিয়ান বনসে মূলত জর্জিয়ার ফোর্ট স্টুয়ার্টে মোতায়েন থাকা মার্কিন সেনাবাহিনীর থার্ড ইনফ্যান্ট্রি ডিভিশনের একজন কমব্যাট ইঞ্জিনিয়ার ছিলেন। তার মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করে থার্ড ইনফ্যান্ট্রি ডিভিশনের কমান্ডার মেজর জেনারেল জন লুবাস এক বিবৃতিতে বলেন, "এটি আমাদের পুরো ডিভিশনের জন্য একটি বিধ্বংসী ক্ষতি।   আদ্রিয়ান ছিলেন একজন অসাধারণ সেনা, যিনি আমাদের মিশন এবং গর্বের সাথে দেশের সেবা করার প্রতি সম্পূর্ণরূপে নিবেদিত ছিলেন। আমরা গভীরভাবে শোকাহত এবং এই কঠিন সময়ে তার পরিবার, প্রিয়জন ও সহকর্মীদের পাশে আছি।" নিউইয়র্কের বাসিন্দা স্পেশালিস্ট আদ্রিয়ান ২০২৩ সালে মার্কিন সেনাবাহিনীতে যোগ দিয়েছিলেন।   জানা গেছে, মোহাভি মরুভূমির ন্যাশনাল ট্রেনিং সেন্টারে আদ্রিয়ান সাঁজোয়া যানগুলোর সাথে প্রশিক্ষণ নিচ্ছিলেন। বিদেশে মোতায়েনের জন্য সম্পূর্ণ প্রস্তুত ঘোষণার আগে সেনা ইউনিটগুলো সাধারণত এক মাস ধরে এই প্রশিক্ষণ মাঠে বড় পরিসরে মহড়া পরিচালনা করে থাকে। থার্ড ইনফ্যান্ট্রি ডিভিশন তাদের ফেসবুক পোস্টে জানিয়েছে, ফোর্ট স্টুয়ার্টে নতুন যোগ দিলেও আদ্রিয়ান ইতিমধ্যেই তার সহকর্মীদের মাঝে ব্যাপক ইতিবাচক প্রভাব ফেলেছিলেন।   উল্লেখ্য, গত বছর মার্কিন সেনাবাহিনীতে প্রশিক্ষণ চলাকালীন দুর্ঘটনা বা বিমান বিধ্বস্ত হয়ে অন্তত ৩১ জন সেনার মৃত্যু হয়েছিল, যার বেশিরভাগই ছিল সামরিক যান উল্টে যাওয়ার মতো গ্রাউন্ড দুর্ঘটনা।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: জুন ২৬, ২০২৬ ১৯:২৯
নেপারভিল পুলিশের কমান্ডার উইলিয়ামস l ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রের ইলিনয়ে ২৮ বছরের সেবা শেষে অবসরে নেপারভিল পুলিশের কমান্ডার উইলিয়ামস।

ছবি: নিউইয়র্ক পোস্ট

লস অ্যাঞ্জেলেসে সবচেয়ে দামি ভাড়াবাড়ির তালিকায় কেটি পেরির বিলাসবহুল বাড়ি

জামিন ছাড়া আটকে রাখার নীতি পুনর্বহাল করতে সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন l ছবি: সংগৃহীত

অভিবাসীদের জামিন ছাড়াই আটক রাখতে সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ ট্রাম্প প্রশাসন

শুল্ক আরোপের কড়া হুমকি দিয়েছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প l ছবি: সংগৃহীত
মার্কিন কোম্পানির ওপর ডিজিটাল কর বসালে পাল্টা ১০০% শুল্কের হুমকি ট্রাম্পের

ডোনাল্ড ট্রাম্প আবারও আগ্রাসী শুল্ক আরোপের কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন। মার্কিন কোম্পানিগুলোর ওপর কোনো দেশ 'ডিজিটাল সার্ভিসেস ট্যাক্স' বা ডিজিটাল সেবা কর বসালে, সেই দেশ থেকে যুক্তরাষ্ট্রে আসা সব পণ্যের ওপর ১০০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করা হবে বলে তিনি সতর্ক করেছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প স্পষ্ট জানিয়েছেন, প্রয়োজনে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে হওয়া যেকোনো বাণিজ্য চুক্তি বাতিল করে হলেও এই নতুন শুল্ক নীতি কার্যকর করা হবে।   নিজের পোস্টে ডোনাল্ড ট্রাম্প উল্লেখ করেন, ইউরোপের বেশ কয়েকটি দেশ মার্কিন কোম্পানিগুলোর ওপর অবিলম্বে ডিজিটাল সেবা কর বাস্তবায়নের আলোচনা করছে এবং কিছু দেশ ইতোমধ্যে এটি কার্যকর করার দ্বারপ্রান্তে রয়েছে। তিনি বলেন, "আমার এই বিবৃতিটি একটি সতর্কবার্তা।   যে দেশই এমন কর বসাবে, যুক্তরাষ্ট্রে পাঠানো তাদের যেকোনো ও সমস্ত পণ্যের ওপর অবিলম্বে ১০০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করা হবে।" তিনি আরও যোগ করেন, কোনো দেশের সঙ্গে বাণিজ্য চুক্তি স্বাক্ষরিত বা বাস্তবায়িত অবস্থায় থাকলেও এই শুল্ক নীতি তার ঊর্ধ্বে থাকবে। দেশগুলো কর বসানোর পথে এগোলে তাৎক্ষণিকভাবে এই ১০০ শতাংশ শুল্ক কার্যকর হবে বলে তিনি সাফ জানিয়ে দিয়েছেন।   উল্লেখ্য, গত মাসে যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য আদালত ট্রাম্পের প্রস্তাবিত ১০ শতাংশ বৈশ্বিক শুল্ক আরোপের একটি প্রচেষ্টার বিরুদ্ধে রায় দিয়েছিল। আদালত জানিয়েছিল, ১৯৭০-এর দশকের বাণিজ্য আইন অনুযায়ী এ ধরনের একচেটিয়া শুল্ক আরোপ সমর্থনযোগ্য নয়। তবে আদালতের এসব রায় তাকে শুল্ক আরোপের হুমকি থেকে মোটেও বিরত রাখতে পারেনি। চলতি মাসের শুরুতেও জোরপূর্বক শ্রম ব্যবহারের অভিযোগ এনে যুক্তরাজ্য, ইউরোপীয় ইউনিয়ন এবং অস্ট্রেলিয়াসহ ৬০টি বাণিজ্যিক অংশীদারের ওপর ১০ থেকে ১২ দশমিক ৫ শতাংশ শুল্ক আরোপের হুমকি দিয়েছিলেন ডোনাল্ড ট্রাম্প।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: জুন ২৬, ২০২৬ ১৬:১০
ছবি: এআই-নির্মিত প্রতীকী ছবি

মেডিকেয়ার–মেডিকেইডে অপ্রয়োজনীয় চিকিৎসা ও বিলিং: বাংলাদেশি কমিউনিটির জন্য যা জানা জরুরি

ছবি: কোলাজ । আমেরিকা বাংলা

যুক্তরাষ্ট্রে লাখো অভিবাসীর অনিশ্চয়তা, ট্রাম্পকে টিপিএস বাতিলের ক্ষমতা দিল সুপ্রিম কোর্ট

নিউইয়র্কের জ্যামাইকায় ‘ভালো’ আয়োজিত মেলায় দর্শনার্থীদের উপচে পড়া ভিড় ও মেলা’য় চটপটি খাওয়া প্রতিযোগিতার একটি দৃশ্য । ছবি: সংগৃহীত

জ্যামাইকায় ‘ভালো’ মেলা: নিউইয়র্ক একদিনের জন্য যেন ফিরে এলো বাংলাদেশ!

কোলাজ: আমেরিকা বাংলা
প্রবাসে বাংলাদেশের মুখ উজ্জ্বল, আটলান্টিক সিটি হাইস্কুলে মেধা তালিকায় ৪ বাংলাদেশি শিক্ষার্থী

যুক্তরাষ্ট্রের নিউ জার্সি অঙ্গরাজ্যের আটলান্টিক সিটি হাইস্কুলের গ্র্যাজুয়েশন অনুষ্ঠানে অসাধারণ সাফল্যের স্বাক্ষর রেখেছেন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত শিক্ষার্থীরা। চার শতাধিক শিক্ষার্থীর মধ্যে মেধা তালিকার সেরা দশে স্থান করে নিয়েছেন চারজন বাংলাদেশি-আমেরিকান শিক্ষার্থী। তাদের এ কৃতিত্বে প্রবাসী বাংলাদেশি কমিউনিটিতে আনন্দ ও গর্বের আবহ সৃষ্টি হয়েছে।   ঐতিহাসিক জিম হুইলান বোর্ডওয়াক হলে বর্ণাঢ্য আয়োজনের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠিত হয় আটলান্টিক সিটি হাইস্কুলের গ্র্যাজুয়েশন (সমাবর্তন) অনুষ্ঠান। চার বছরের কঠোর পরিশ্রম ও অধ্যবসায়ের সফল সমাপ্তি উদযাপনে শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও অতিথিদের উপস্থিতিতে মিলনায়তন মুখর হয়ে ওঠে।   গাউন পরিহিত শিক্ষার্থীরা দুপুর থেকেই পরিবার-পরিজন নিয়ে অনুষ্ঠানস্থলে জড়ো হতে শুরু করেন। অনুষ্ঠান শুরর পর মেধাবী শিক্ষার্থীদের নাম ঘোষণা করা হলে করতালিতে মুখরিত হয়ে ওঠে পুরো মিলনায়তন।   এবারের মেধা তালিকার শীর্ষ দশে স্থান পাওয়া চার বাংলাদেশি-আমেরিকান শিক্ষার্থী হলেন— আলফি নাশিয়া (দ্বিতীয়), সুমাইয়া তাবাসুম (চতুর্থ), শ্রেয়ন চৌধুরী (সপ্তম) এবং রাহাত রহমান (নবম)।   প্রবাসে বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের ধারাবাহিক সাফল্যের অংশ হিসেবে এই অর্জনকে বিশেষভাবে দেখছেন কমিউনিটির নেতারা। তারা মনে করেন, নতুন প্রজন্মের এ ধরনের কৃতিত্ব বাংলাদেশি-আমেরিকানদের ইতিবাচক ভাবমূর্তি আরও উজ্জ্বল করবে।   আটলান্টিক সিটি হাইস্কুলের অধ্যক্ষ ড. কনস্ট্যান্স ডেইস চ্যাপম্যানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে সম্মানিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন আটলান্টিক সিটির মেয়র মার্টি স্মল সিনিয়র, স্কুল ডিস্ট্রিক্টের সুপারিনটেনডেন্ট ড. লা কোয়েটা স্মল এবং সিটি কাউন্সিলের সদস্যরা। এ ছাড়া বাংলাদেশি কমিউনিটির পক্ষ থেকে স্কুল বোর্ডের সদস্য সুব্রত চৌধুরী ও ফরহাদ সিদ্দিকসহ বিশিষ্ট ব্যক্তিরা অনুষ্ঠানে উপস্থিত থেকে শিক্ষার্থীদের অভিনন্দন ও উৎসাহ প্রদান করেন।   যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় সংগীত পরিবেশনের মধ্য দিয়ে মূল অনুষ্ঠান শুরু হয়। পরে শিক্ষার্থীরা বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রার মাধ্যমে নিজ নিজ আসনে বসেন। অনুষ্ঠানের একপর্যায়ে তারা মঞ্চে উঠে ডিপ্লোমার প্রতীকী কপি গ্রহণ করেন এবং জীবনের নতুন অধ্যায়ে পদার্পণের আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি লাভ করেন। বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত শিক্ষার্থীদের এই উল্লেখযোগ্য সাফল্য প্রমাণ করে যে, শিক্ষা ও মেধার প্রতিযোগিতায় তারা ধারাবাহিকভাবে নিজেদের সক্ষমতার স্বাক্ষর রেখে চলেছেন।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: জুন ২৬, ২০২৬ ৫:১৬
নিউইয়র্কে জামালপুর জেলা সোসাইটির নবনির্বাচিত কমিটির অভিষেক অনুষ্ঠানে অতিথি ও নেতৃবৃন্দ। ছবি: সংগৃহীত

নিউইয়র্কে জামালপুর জেলা সোসাইটির অভিষেক, সম্প্রীতি ও উন্নয়নে একসঙ্গে কাজের অঙ্গীকার

ছবি: সংগৃহীত

নিউইয়র্কে আহমদ সোহান মেমোরিয়াল স্কলারশিপ পেলেন সামিরাতু বারা

ছবি: গেটি ইমেজেস

চিপের দাম বাড়ায় ল্যাপটপ, আইপ্যাড ও এক্সবক্সের দাম বাড়াচ্ছে অ্যাপল ও মাইক্রোসফট

0 Comments