সাপ্তাহিক আমেরিকা বাংলা ই-পেপার
আমেরিকা

লস অ্যাঞ্জেলেসে ৪০তম ফোবানার আয়োজন নিয়ে এক নজরে বিস্তারিত সব তথ্য

বিশেষ প্রতিবেদন প্রকাশ: মে ২৫, ২০২৬ ১৬:১৮
ছবি: সংগৃহীত
ছবি: সংগৃহীত

 উত্তর আমেরিকায় বসবাসরত প্রবাসী বাংলাদেশিদের অন্যতম বৃহৎ সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন ফোবানা (ফেডারেশন ওফ বাংলাদেশি অ্যাসোসিয়েশনস ইন নর্থ আমেরিকা) এর ৪০তম কনভেনশন এ বছর যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ার লস অ্যাঞ্জেলেসে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে।

 

চার দশকের যাত্রাকে সামনে রেখে এবারের কনভেনশনকে আরও বৃহৎ, আধুনিক ও আন্তর্জাতিক মানে আয়োজনের প্রস্তুতি চলছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। ইতোমধ্যে অনলাইন নিবন্ধন, হোটেল বুকিং এবং বিভিন্ন কার্যক্রমের প্রস্তুতিও শুরু হয়েছে।

 

ফোবানা কী? ফোবানা বা “ফেডারেশন অব বাংলাদেশি অ্যাসোসিয়েশনস ইন নর্থ আমেরিকা” উত্তর আমেরিকায় বসবাসরত বাংলাদেশিদের অন্যতম বৃহৎ ছাতাসংগঠন। যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডার বিভিন্ন বাংলাদেশি সংগঠনকে এক প্ল্যাটফর্মে নিয়ে সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও কমিউনিটি কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে সংগঠনটি।

 

দীর্ঘদিন ধরে ফোবানা প্রবাসী বাংলাদেশিদের মধ্যে সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য সংরক্ষণ, সামাজিক বন্ধন শক্তিশালী করা, নতুন প্রজন্মের কাছে বাংলা ভাষা ও সংস্কৃতি তুলে ধরা এবং কমিউনিটি উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে।

 

কোথায় অনুষ্ঠিত হবে ফোবানা ২০২৬? ফোবানার ৪০তম কনভেনশনের ভেন্যু হিসেবে নির্ধারণ করা হয়েছে ক্যালিফোর্নিয়ার ইউনিভার্সাল সিটিতে অবস্থিত “হিলটন লস অ্যাঞ্জেলেস/ইউনিভার্সাল সিটি” হোটেলকে। বিশ্বখ্যাত ইউনিভার্সাল স্টুডিও হলিউডের পাশেই অবস্থিত এই হোটেলে তিন দিনের পুরো অনুষ্ঠান আয়োজন করা হবে। অংশগ্রহণকারীদের জন্য বিশেষ মূল্যে হোটেল বুকিংয়ের ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে।

 

কবে অনুষ্ঠিত হবে? ফোবানা ২০২৬ অনুষ্ঠিত হবে: ৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬ (শুক্রবার) ৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬ (শনিবার) ৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬ (রোববার) তিন দিনব্যাপী এই কনভেনশনে থাকবে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, সেমিনার, ব্যবসায়িক নেটওয়ার্কিং, সাহিত্য আড্ডা, ইয়ুথ ফোরাম এবং কমিউনিটি সংযোগমূলক নানা আয়োজন।

 

এবারের প্রতিপাদ্য কী? এবারের ফোবানা কনভেনশনের প্রতিপাদ্য নির্ধারণ করা হয়েছে:

 

“উত্তরণের পথে আগামীর প্রত্যয়ে প্রবাস বাংলাদেশ”

 

আয়োজকদের মতে, প্রবাসী বাংলাদেশিদের ঐক্য, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের নেতৃত্ব বিকাশ এবং বিশ্বপরিসরে বাংলাদেশি কমিউনিটির ইতিবাচক পরিচয় তুলে ধরাই এবারের মূল লক্ষ্য।

 

আয়োজক সংগঠন কোনটি? ২০২৬ সালের ফোবানা কনভেনশনের হোস্ট সংগঠন হিসেবে দায়িত্ব পালন করছে “বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব ক্যালিফোর্নিয়া (বিএসি)”। সংগঠনটির নেতারা জানিয়েছেন, উত্তর আমেরিকার বিভিন্ন স্টেট, কানাডা এবং বিশ্বের নানা দেশ থেকে হাজারো প্রবাসী বাংলাদেশির অংশগ্রহণে এবারের কনভেনশনকে স্মরণীয় করে তোলার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।

 

ফোবানার হোস্ট কমিটিতে কারা আছেন? এবারের ফোবানার হোস্ট কমিটিতে আছেন: চেয়ারম্যান: রবিউল করিম বেলাল (পেনসিলভানিয়া), কনভেনর: ড. জয়নুল আবেদিন (ক্যালিফোর্নিয়া), এক্সিকিউটিভ সেক্রেটারি: খালেদ রউফ (ইলিনয়), সদস্য সচিব, ফোবানা ফাউন্ডেশন ক্যালিফোর্নিয়া: ইঞ্জিনিয়ার মো. ইকবাল এছাড়া বিভিন্ন উপকমিটি ও সমন্বয় টিম কনভেনশনের নানা কার্যক্রম নিয়ে কাজ করছে।

 

স্কলারশিপ কার্যক্রম নিয়ে কী জানা গেছে? ফোবানা ২০২৬ উপলক্ষে “ফোবানা স্কলারশিপ অ্যাপ্লিকেশন” কার্যক্রমও শুরু হয়েছে। যেহেতু এবারের ফোবানা অনুষ্ঠিত হচ্ছে ক্যালিফোর্নিয়াতে তাই এ অঙ্গরাজ্যে বসবাসরত বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য আবেদন গ্রহণ করা হচ্ছে। আবেদন জমা দেওয়ার শেষ সময় নির্ধারণ করা হয়েছে ১০ আগস্ট ২০২৬।

 

ফোবানা ২০২৬ ওয়েবসাইট অনুযায়ী, আবেদনকারীদের ক্যালিফোর্নিয়া স্টেটের বাসিন্দা হতে হবে এবং ২০২৬ সালে হাইস্কুল গ্র্যাজুয়েশন সম্পন্ন করতে হবে। আবেদনকারীদের নিজেদের সম্পর্কে সর্বোচ্চ ৫০০ শব্দের একটি প্রবন্ধ জমা দিতে বলা হয়েছে। সেখানে বাংলাদেশি-আমেরিকান কমিউনিটিতে তাদের অবদান, স্বেচ্ছাসেবী কার্যক্রম, বাংলা স্কুলে অংশগ্রহণ, বাংলাদেশ বিষয়ক গবেষণা বা কোর্স এবং ভবিষ্যৎ শিক্ষাগত লক্ষ্য তুলে ধরতে বলা হয়েছে।

 

যেসব আবেদনকারীর এ ধরনের অভিজ্ঞতা নেই, তাদের জন্য বিকল্প ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে। সেক্ষেত্রে আবেদনকারী ১০ আগস্ট ২০২৬-এর আগে ফোবানা ২০২৬ হোস্ট কমিটির জন্য অন্তত ২০ ঘণ্টা স্বেচ্ছাসেবী কাজ করে এই শর্ত পূরণ করতে পারবেন। এ ছাড়া অফিসিয়াল ট্রান্সক্রিপ্ট, জিপিএ ও ক্লাস র‌্যাংক, কমুনিটি সম্পৃক্ততার সনদপত্র এবং একটি রঙিন ছবি জমা দিতে হবে।

 

স্কলারশিপ কমিটিতে কারা আছেন? ফোবানা স্কলারশিপ কমিটির চেয়ারম্যান হিসেবে রয়েছেন এম মওলা দিলু এবং সহ-চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন ড. ইউনুস রাহি।

 

ফোবানায় কী কী আয়োজন থাকবে? আয়োজকদের তথ্য অনুযায়ী, এবারের কনভেনশনে থাকছে, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, ব্যবসায়িক নেটওয়ার্কিং, সেমিনার, সাহিত্য ও কবিতার আসর, ইয়ুথ ফোরাম, মুক্তিযুদ্ধ ও বাংলাদেশ বিষয়ক আলোচনা. ট্যালেন্ট শো, ফোবানা স্কলারশিপ কার্যক্রম, দেশীয় খাবার ও কারুশিল্প প্রদর্শনী এছাড়া বিভিন্ন সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও কমিউনিটি কার্যক্রমও অনুষ্ঠিত হবে।

 

সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে কারা অংশ নেবেন? ফোবানার ওয়েবসাইট অনুযায়ী, বাংলাদেশ ও উত্তর আমেরিকার বিভিন্ন শিল্পী, সাংস্কৃতিক সংগঠন ও পারফর্মাররা এবারের অনুষ্ঠানে অংশ নেবেন। তবে এখনো পূর্ণাঙ্গ শিল্পী তালিকা প্রকাশ করা হয়নি। আয়োজকরা জানিয়েছেন, পর্যায়ক্রমে  অতিথি ও সাংস্কৃতিক পরিবেশনার বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হবে।

 

রেজিস্ট্রেশন ও হোটেল বুকিং কীভাবে করা যাবে? ফোবানার অফিসিয়াল ওয়েবসাইটে অনলাইন রেজিস্ট্রেশন সুবিধা চালু রয়েছে। এছাড়া অংশগ্রহণকারীদের জন্য বিশেষ মূল্যে হোটেল বুকিংয়ের ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে বুকিং সম্পন্ন করলে ডিসকাউন্ট সুবিধা পাওয়া যাবে বলে জানানো হয়েছে।

 

কেন গুরুত্বপূর্ণ ফোবানা? প্রবাসী বাংলাদেশিদের কাছে ফোবানা শুধু একটি বার্ষিক কনভেনশন নয়; এটি আবেগ, সংস্কৃতি, পরিচয় ও প্রজন্মের সংযোগের একটি বড় প্ল্যাটফর্ম। চার দশক ধরে এই সংগঠনটি উত্তর আমেরিকায় বাংলাদেশি কমিউনিটির ঐক্য গড়ে তোলা, বাংলা সংস্কৃতির চর্চা ধরে রাখা এবং আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে প্রবাসী বাংলাদেশিদের প্রতিনিধিত্ব করে আসছে।

 

কী আশা করছেন আয়োজকরা? আয়োজকদের আশা, যুক্তরাষ্ট্র, কানাডাসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে হাজারো প্রবাসী বাংলাদেশি এবারের কনভেনশনে অংশ নেবেন। তাদের মতে, ৪০তম ফোবানা কনভেনশন শুধু একটি অনুষ্ঠান নয়; এটি হবে উত্তর আমেরিকায় বাংলাদেশি কমিউনিটির ঐক্য, সংস্কৃতি, ভবিষ্যৎ প্রজন্ম এবং বৈশ্বিক পরিচয়ের এক বড় আন্তর্জাতিক মিলনমেলা। 

 


© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।

জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

আমেরিকা

View more
যুক্তরাষ্ট্রে ফার্মাসিউটিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে প্রথম পিএইচডি অর্জন করলেন ঢাবির নাদিয়া তাসনিম
যুক্তরাষ্ট্রে ফার্মাসিউটিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে প্রথম পিএইচডি অর্জন করলেন ঢাবির নাদিয়া তাসনিম

যুক্তরাষ্ট্রে ফার্মাসিউটিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিষয়ে প্রথম পিএইচডি ডিগ্রি অর্জন করে ইতিহাস গড়েছেন বাংলাদেশি গবেষক নাদিয়া তাসনিম আহমেদ। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে উচ্চশিক্ষা শুরু করা এই গবেষক ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে ভার্জিনিয়া কমনওয়েলথ ইউনিভার্সিটি (ভিসিইউ) থেকে ডক্টরেট ডিগ্রি অর্জন করেন। যুক্তরাষ্ট্রে এ বিষয়ে চালু হওয়া প্রথম পিএইচডি প্রোগ্রামের প্রথম গ্র্যাজুয়েট হিসেবে স্বীকৃতি পান তিনি। তাঁর গবেষণার মূল বিষয় ছিল ফুসফুসের দীর্ঘমেয়াদি রোগের সঙ্গে সম্পর্কিত জটিল আণবিক প্রক্রিয়া, যা ভবিষ্যতে রোগ শনাক্তকরণ ও নতুন চিকিৎসাপদ্ধতি উদ্ভাবনে সহায়ক হতে পারে।   ভার্জিনিয়া কমনওয়েলথ ইউনিভার্সিটির ২০২৪ সালের ১৩ ডিসেম্বর প্রকাশিত প্রতিবেদনে নাদিয়া তাসনিমের এই অর্জনের তথ্য তুলে ধরা হয়। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ জানায়, যুক্তরাষ্ট্রে ফার্মাসিউটিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের প্রথম পিএইচডি ডিগ্রিধারী হওয়ার মধ্য দিয়ে নাদিয়া শুধু নিজের শিক্ষাজীবনেই নতুন অধ্যায় যোগ করেননি, বিশ্ববিদ্যালয়ের নতুন একটি একাডেমিক প্রোগ্রামের ইতিহাসেও জায়গা করে নিয়েছেন।   নাদিয়ার উচ্চশিক্ষার যাত্রা শুরু বাংলাদেশে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফার্মেসি বিভাগে পড়াশোনার পর তিনি ফার্মাসিউটিক্যাল কেমিস্ট্রিতে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। শুরুতে ফার্মাসিস্ট হিসেবে ক্যারিয়ার গড়ার পরিকল্পনা থাকলেও ধীরে ধীরে গবেষণার প্রতি তাঁর আগ্রহ বাড়তে থাকে। বিশেষ করে নতুন ওষুধ উদ্ভাবন এবং চিকিৎসাবিজ্ঞানের জটিল সমস্যা সমাধানে গবেষণার ভূমিকা তাঁকে আকৃষ্ট করে। সেই আগ্রহ থেকেই উচ্চতর গবেষণার জন্য যুক্তরাষ্ট্রে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন।   যুক্তরাষ্ট্রে এসে নাদিয়া ইউনিভার্সিটি অব সাউথ ফ্লোরিডায় ফার্মাসিউটিক্যাল ন্যানোটেকনোলজি বিষয়ে আরেকটি মাস্টার্স প্রোগ্রামে ভর্তি হন। সেখানেও তিনি প্রোগ্রামটির প্রথম দিকের শিক্ষার্থীদের একজন ছিলেন। এই পড়াশোনার মাধ্যমে ওষুধ তৈরিতে ন্যানোটেকনোলজির ব্যবহার, নতুন ধরনের ড্রাগ ডেলিভারি পদ্ধতি এবং আধুনিক গবেষণার বিভিন্ন কৌশল সম্পর্কে দক্ষতা অর্জন করেন।   এরপর ২০২০ সালে ভার্জিনিয়া কমনওয়েলথ ইউনিভার্সিটির স্কুল অব ফার্মেসিতে ফার্মাসিউটিক্যাল সায়েন্সেস বিষয়ে পিএইচডি শুরু করার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন নাদিয়া। ঠিক সেই সময় বিশ্ববিদ্যালয়টিতে চালু হয় যুক্তরাষ্ট্রের প্রথম ফার্মাসিউটিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং পিএইচডি প্রোগ্রাম। নতুন এই প্রোগ্রামে যোগ দেওয়ার প্রস্তাব পান তিনি। বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক সান্দ্রো দা রোচার সঙ্গে আলোচনার পর প্রোগ্রামটির প্রথম ব্যাচে ভর্তি হওয়ার সিদ্ধান্ত নেন।   ভিসিইউর এই পিএইচডি প্রোগ্রামটি স্কুল অব ফার্মেসি এবং কলেজ অব ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের যৌথ উদ্যোগে পরিচালিত হয়। এর লক্ষ্য ওষুধ উৎপাদন, নতুন ওষুধের উপাদান তৈরি, ড্রাগ ডেলিভারি, ন্যানোম্যাটেরিয়ালস এবং আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর ফার্মাসিউটিক্যাল গবেষণায় বিশেষজ্ঞ তৈরি করা। প্রচলিত ফার্মাসিউটিক্যাল সায়েন্সের সঙ্গে ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের বিভিন্ন শাখাকে যুক্ত করাই প্রোগ্রামটির অন্যতম বৈশিষ্ট্য।   গবেষণাকালে নাদিয়া মূলত ক্রনিক অবস্ট্রাকটিভ পালমোনারি ডিজিজ বা সিওপিডির সঙ্গে সম্পর্কিত আণবিক পরিবর্তন নিয়ে কাজ করেন। সিওপিডি ফুসফুসের একটি দীর্ঘমেয়াদি রোগ, যার কারণে শ্বাসপ্রশ্বাসে সমস্যা দেখা দেয় এবং ফুসফুসের স্বাভাবিক কার্যক্ষমতা ধীরে ধীরে কমতে থাকে। রোগটির সঙ্গে ফুসফুসে প্রদাহ এবং টিস্যুর ক্ষতির সম্পর্ক রয়েছে।   নাদিয়া তাঁর গবেষণায় মাস স্পেকট্রোমেট্রি নামের একটি উন্নত বিশ্লেষণ পদ্ধতি ব্যবহার করেন। এর মাধ্যমে আণবিক পর্যায়ে বিভিন্ন প্রোটিনের পারস্পরিক সম্পর্ক এবং রোগের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট পরিবর্তনগুলো বিশ্লেষণ করা সম্ভব হয়। বিশেষভাবে তিনি নিউট্রোফিল ইলাস্টেজ নামের একটি এনজাইমের কার্যক্রম নিয়ে কাজ করেন। এই এনজাইম শরীরের রোগপ্রতিরোধ ব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত এবং নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে ফুসফুসের প্রদাহ ও টিস্যুর ক্ষতিতে ভূমিকা রাখতে পারে।   গবেষণায় তিনি ম্যাক্রোফেজ নামের রোগপ্রতিরোধী কোষের ওপর নিউট্রোফিল ইলাস্টেজের প্রভাব বোঝার চেষ্টা করেন। ম্যাক্রোফেজ শরীরের রোগপ্রতিরোধ ব্যবস্থার গুরুত্বপূর্ণ অংশ, যা ক্ষতিকর উপাদান অপসারণ এবং প্রদাহ নিয়ন্ত্রণে ভূমিকা রাখে। নাদিয়ার গবেষণায় এই কোষগুলোর কার্যক্রমে পরিবর্তন এবং ফুসফুসের রোগের সঙ্গে তার সম্ভাব্য সম্পর্ক বিশ্লেষণ করা হয়।   বিশ্ববিদ্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, এ ধরনের গবেষণা ভবিষ্যতে সিওপিডির সঙ্গে সম্পর্কিত নতুন বায়োমার্কার শনাক্ত এবং চিকিৎসাপদ্ধতি উন্নয়নের ক্ষেত্রে কাজে আসতে পারে। তবে এটি মূলত রোগের আণবিক প্রক্রিয়া বোঝার গবেষণা। এর মাধ্যমে নতুন কোনো চিকিৎসাপদ্ধতি ইতোমধ্যে উদ্ভাবিত হয়েছে বা রোগটির নিরাময় সম্ভব হয়েছে, এমন দাবি বিশ্ববিদ্যালয় করেনি।   পিএইচডি গবেষণার পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক ও সাংগঠনিক কার্যক্রমেও সক্রিয় ছিলেন নাদিয়া। তিনি ফার্মাসিউটিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং গ্র্যাজুয়েট স্টুডেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। নতুন প্রোগ্রামের শিক্ষার্থীদের মধ্যে যোগাযোগ, গবেষণায় সহযোগিতা এবং একাডেমিক কার্যক্রম এগিয়ে নিতে এই সংগঠনের ভূমিকা ছিল গুরুত্বপূর্ণ।   গবেষণা ও একাডেমিক অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ নাদিয়া প্রোগ্রামটির প্রথম এক্সিলেন্স ইন ফার্মাসিউটিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যাওয়ার্ড অর্জন করেন। তাঁর পিএইচডি গবেষণার তত্ত্বাবধায়ক ছিলেন ভিসিইউর স্কুল অব ফার্মেসির অধ্যাপক অ্যাডাম হকরিজ। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রকাশিত প্রতিবেদনে তিনি নাদিয়ার গবেষণার প্রতি আগ্রহ, অধ্যবসায়, স্বাধীনভাবে কাজ করার দক্ষতা এবং নতুন চ্যালেঞ্জ গ্রহণের মানসিকতার প্রশংসা করেন।   নাদিয়া নিজের পিএইচডি সম্পন্ন করার অভিজ্ঞতা সম্পর্কে বিশ্ববিদ্যালয়কে জানান, গবেষণাপত্রের চূড়ান্ত প্রতিরক্ষা পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়ার পর প্রথমবার তাঁকে ডক্টর আহমেদ বলে সম্বোধন করার মুহূর্তটি ছিল বিশেষভাবে স্মরণীয়। দীর্ঘ গবেষণার বিভিন্ন চ্যালেঞ্জ অতিক্রম করে এই অর্জনে পৌঁছানো তাঁর কাছে গুরুত্বপূর্ণ অভিজ্ঞতা।   পিএইচডি শেষ করার পর যুক্তরাষ্ট্রের ফুড অ্যান্ড ড্রাগ অ্যাডমিনিস্ট্রেশন বা এফডিএতে গবেষণার সুযোগ পান নাদিয়া। তিনি ওক রিজ ইনস্টিটিউট ফর সায়েন্স অ্যান্ড এডুকেশন বা ওরাইসের ফেলো হিসেবে এফডিএর গবেষণা কার্যক্রমে যুক্ত হন। ভিসিইউর প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, সেখানে তিনি চিকিৎসায় ব্যবহৃত এসআইআরএনএ অলিগোনিউক্লিওটাইডভিত্তিক ওষুধের উপাদানের বিশুদ্ধতা ও কাঠামোগত পরিবর্তন বিশ্লেষণের পদ্ধতি উন্নয়নে কাজ করেন।   এই গবেষণায়ও তিনি মাস স্পেকট্রোমেট্রি প্রযুক্তি ব্যবহার করেন। ওষুধের উপাদানে অনাকাঙ্ক্ষিত পরিবর্তন বা অমিশ্রণ শনাক্ত করা ফার্মাসিউটিক্যাল গবেষণার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। বিশেষ করে নতুন ধরনের ওষুধের গুণগত মান ও নিরাপত্তা মূল্যায়নের জন্য এসব বিশ্লেষণ প্রয়োজন হয়।   ভিসিইউর অ্যালামনাই তালিকাতেও নাদিয়া তাসনিম আহমেদকে ২০২৪ সালের ফার্মাসিউটিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং পিএইচডি গ্র্যাজুয়েট হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। সেখানে এফডিএতে ওরাইস ফেলো হিসেবে তাঁর প্রথম কর্মজীবনের তথ্যও রয়েছে। ভবিষ্যতে ফার্মাসিউটিক্যাল শিল্পে অ্যানালিটিক্যাল সায়েন্টিস্ট হিসেবে কাজ করার আগ্রহ প্রকাশ করেছিলেন তিনি।   ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ফার্মাসিউটিক্যাল কেমিস্ট্রিতে উচ্চশিক্ষা, যুক্তরাষ্ট্রে ন্যানোটেকনোলজিতে দ্বিতীয় মাস্টার্স, এরপর দেশটির প্রথম ফার্মাসিউটিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং পিএইচডি প্রোগ্রামের প্রথম গ্র্যাজুয়েট হওয়ার মধ্য দিয়ে নাদিয়া তাসনিম আহমেদের শিক্ষাজীবনে যুক্ত হয়েছে একাধিক উল্লেখযোগ্য অর্জন। তাঁর এই সাফল্য আন্তর্জাতিক পর্যায়ে বাংলাদেশি গবেষকদের অংশগ্রহণের আরেকটি উদাহরণ হয়ে রয়েছে। সূত্র: পাবলিকিয়ান

প্রকাশ: অক্টোবর ৯, ২০২৬ ১০:৩
টেক্সাসে মেয়রের স্বামীকে গ্রেপ্তার করল আইসিই, মেয়রকেও জিজ্ঞাসাবাদ

টেক্সাসে মেয়রের স্বামীকে গ্রেপ্তার করল আইসিই, মেয়রকেও জিজ্ঞাসাবাদ

নিউইয়র্কে ফেরি ভাড়া বাড়ছে

নিউইয়র্কে ফেরি ভাড়া বাড়ছে ১৯ অক্টোবর, এক যাত্রায় খরচ হবে ৫ ডলার

কুইন্সে পার্কিং টিকিট এড়ানোর উপায়, জ্যাকসন হাইটস থেকে জ্যামাইকার ড্রাইভারদের জরুরি গাইড

কুইন্সে পার্কিং টিকিট এড়ানোর উপায়, জ্যাকসন হাইটস থেকে জ্যামাইকার ড্রাইভারদের জরুরি গাইড

যুক্তরাষ্ট্রে হামাসে অর্থায়ন ও মেডিকেইড জালিয়াতির অভিযোগে একই পরিবারের গ্রেফতার ৫
যুক্তরাষ্ট্রে হামাসে অর্থায়ন ও মেডিকেইড জালিয়াতির অভিযোগে একই পরিবারের গ্রেফতার ৫

যুক্তরাষ্ট্রের লুইজিয়ানা অঙ্গরাজ্যে হামাসের জন্য অর্থ সংগ্রহে সহায়তা এবং সরকারি স্বাস্থ্যবিমা কর্মসূচি মেডিকেইডে দুই লাখ ২৪ হাজার ডলারের বেশি জালিয়াতির অভিযোগে একই পরিবারের পাঁচ সদস্যকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাঁদের মধ্যে দুই ভাইয়ের বিরুদ্ধে হামাসের অর্থায়নে জড়িত একটি নেটওয়ার্কে এক লাখ ডলারের বেশি অর্থ দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। গত ১৫ সেপ্টেম্বর লুইজিয়ানার সেন্ট ট্যামানি প্যারিশ এলাকায় তাঁদের গ্রেপ্তার করা হয়। বুধবার (৭ অক্টোবর) বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করেছে স্টেটের অ্যাটর্নি জেনারেল লিজ মুরিলের কার্যালয়।   লুইজিয়ানা অ্যাটর্নি জেনারেলের কার্যালয়ের বিবৃতি অনুযায়ী, গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন ৩৫ বছর বয়সী আবদেল আদহামি, তাঁর স্ত্রী ২৯ বছর বয়সী ইমান এইচ ডি স্রুর, ৩৩ বছর বয়সী ওমর আদহামি, তাঁর স্ত্রী ২৮ বছর বয়সী আমানি আবু জেনাহ এবং দুই ভাইয়ের ছোট ভাই ৩২ বছর বয়সী মোহাম্মদ আই আদহামি। তাঁরা লুইজিয়ানার কভিংটন এলাকার বাসিন্দা। গ্রেপ্তারের পর পাঁচজনকেই সেন্ট ট্যামানি প্যারিশ জেলে নেওয়া হয়।   কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এফবিআইয়ের নেতৃত্বে ফেডারেল ও স্টেট পর্যায়ের যৌথ তদন্তে দুই ভাই আবদেল ও ওমরের বিরুদ্ধে হামাসের জন্য অর্থ সংগ্রহের একটি নেটওয়ার্কে অংশ নেওয়ার তথ্য পাওয়া যায়। তদন্তকারীদের দাবি, নেটওয়ার্কটি হামাসের সহায়তায় ১৭ লাখ ডলারের বেশি অর্থ সংগ্রহ ও স্থানান্তর করেছে। এর মধ্যে ওই দুই ভাই এক লাখ ডলারের বেশি অর্থ দেওয়ার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে।   হামাসকে যুক্তরাষ্ট্র সরকার বিদেশি সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে তালিকাভুক্ত করেছে। ফলে সংগঠনটির জন্য জেনেশুনে অর্থ বা অন্যান্য বস্তুগত সহায়তা প্রদান যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল আইনে গুরুতর অপরাধ। দুই ভাইয়ের বিরুদ্ধে এই অর্থায়নসংক্রান্ত অভিযোগ ফেডারেল পর্যায়ে আনা হয়েছে। তবে অভিযোগগুলো এখনো আদালতে প্রমাণিত হয়নি।   অর্থায়নের অভিযোগ তদন্ত করতে গিয়ে অভিযুক্ত ব্যক্তিদের পরিবারের মেডিকেইড সুবিধা গ্রহণের বিষয়টিও খতিয়ে দেখতে শুরু করে কর্তৃপক্ষ। লুইজিয়ানা ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন এবং লুইজিয়ানা ডিপার্টমেন্ট অব হেলথ যৌথভাবে তাঁদের আয় ও সরকারি স্বাস্থ্যসুবিধা গ্রহণের তথ্য পর্যালোচনা করে।   তদন্তকারীদের অভিযোগ, ২০২১ থেকে ২০২৫ সালের মধ্যে পরিবারের সদস্যরা নিজেদের প্রকৃত আয় কম দেখিয়ে মেডিকেইডের সুবিধা নিয়েছেন। এভাবে সরকারি কর্মসূচি থেকে মোট দুই লাখ ২৪ হাজার ৬৪০ ডলারের সুবিধা অনিয়মের মাধ্যমে নেওয়া হয়েছে বলে হিসাব করেছে কর্তৃপক্ষ। অভিযোগ অনুযায়ী, প্রকৃত আয় সঠিকভাবে জানানো হলে তাঁরা এসব সুবিধার সবটুকু পাওয়ার যোগ্য হতেন না।   মেডিকেইড যুক্তরাষ্ট্রের একটি সরকারি হেলথ ইন্স্যুরেন্স কর্মসূচি, যার মাধ্যমে নির্দিষ্ট আয়ের সীমার মধ্যে থাকা ব্যক্তি ও পরিবারসহ যোগ্য ব্যক্তিরা চিকিৎসাসেবা পাওয়ার সুযোগ পান। এই কর্মসূচিতে আবেদন ও যোগ্যতা নির্ধারণের ক্ষেত্রে পরিবারের আয় এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় তথ্য সঠিকভাবে জানানো বাধ্যতামূলক। ইচ্ছাকৃতভাবে ভুল তথ্য দিয়ে সুবিধা নেওয়া হলে তা সরকারি বেনিফিট জালিয়াতির আওতায় পড়তে পারে।   অ্যাটর্নি জেনারেলের কার্যালয় জানিয়েছে, অভিযুক্ত আবদেল আদহামি ও তাঁর স্ত্রী ইমান স্রুরের বিরুদ্ধে সরকারি বেনিফিট জালিয়াতির পাঁচটি এবং ২৫ হাজার ডলারের বেশি অর্থ চুরির একটি অভিযোগ আনা হয়েছে। তাঁদের বিরুদ্ধে মেডিকেইড কর্মসূচির আনুমানিক এক লাখ ১৩ হাজার ৩৪৪ ডলারের ক্ষতির অভিযোগ রয়েছে।   অন্যদিকে ওমর আদহামি ও তাঁর স্ত্রী আমানি আবু জেনাহর বিরুদ্ধে সরকারি বেনিফিট জালিয়াতির তিনটি এবং ২৫ হাজার ডলারের বেশি অর্থ চুরির একটি অভিযোগ আনা হয়েছে। তদন্তকারীদের হিসাবে তাঁদের ক্ষেত্রে সরকারি কর্মসূচির ক্ষতির পরিমাণ ৮১ হাজার ৯৯ ডলার।   পরিবারের আরেক সদস্য মোহাম্মদ আই আদহামির বিরুদ্ধেও একই ধরনের অভিযোগ আনা হয়েছে। তাঁর বিরুদ্ধে সরকারি বেনিফিট জালিয়াতির তিনটি এবং ২৫ হাজার ডলারের বেশি অর্থ চুরির একটি অভিযোগ রয়েছে। কর্তৃপক্ষের হিসাবে তাঁর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট অনিয়মের ফলে মেডিকেইড কর্মসূচির ক্ষতির পরিমাণ ৩০ হাজার ১৯৭ ডলার।   অন্যদিকে ফেডারেল বিচার বিভাগের প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, হামাসে অর্থায়নের অভিযোগে আবদেল আদহামির বিরুদ্ধে প্রায় ৯৪ হাজার ডলার এবং ওমর আদহামির বিরুদ্ধে প্রায় ১১ হাজার ডলার দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ অনুযায়ী, ২০২১ সালের ফেব্রুয়ারি থেকে ২০২৬ সালের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত বিভিন্ন সময়ে এসব অর্থ পাঠানো হয়। তদন্তকারীদের দাবি, ব্যাংক ট্রান্সফার এবং মধ্যস্থতাকারী ব্যক্তিদের ব্যবহার করে অর্থ পাঠানোর বিষয়টি আড়াল করার চেষ্টা করা হয়েছিল।   যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, অর্থ সংগ্রহের নেটওয়ার্কটির কেন্দ্রীয় ব্যক্তি হিসেবে সালিম আলজাক নামের একজনকে শনাক্ত করা হয়েছে। তদন্তকারীদের অভিযোগ, তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গাজার মানুষের জন্য মানবিক সহায়তা সংগ্রহের নামে অর্থ তুলতেন। তবে সংগৃহীত অর্থের একটি অংশ হামাসের কাছে পৌঁছে দেওয়া হতো বলে দাবি করেছে কর্তৃপক্ষ।   ২০২০ সালের জানুয়ারি থেকে ওই নেটওয়ার্কের মাধ্যমে ১৭ লাখ ডলারের বেশি অর্থ সংগ্রহের অভিযোগ রয়েছে। এ ঘটনায় যুক্তরাষ্ট্রের পাশাপাশি ফ্রান্সেও তদন্ত ও গ্রেপ্তার অভিযান পরিচালিত হয়েছে। ফেডারেল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, অর্থ সংগ্রহ এবং বিভিন্ন দেশে স্থানান্তরের সঙ্গে যুক্ত একাধিক ব্যক্তির বিরুদ্ধে পৃথক অভিযোগ আনা হয়েছে।   এদিকে লুইজিয়ানার অ্যাটর্নি জেনারেল লিজ মুরিল সরকারি বেনিফিট জালিয়াতির অভিযোগকে গুরুতর অপরাধ হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, লুইজিয়ানার করদাতাদের অর্থ থেকে পরিচালিত কর্মসূচিতে জালিয়াতির ঘটনা ঘটলে দায়ীদের আইনের আওতায় আনা হবে। তিনি জানান, তাঁর কার্যালয় দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে বিভিন্ন উদ্যোগে স্টেটের করদাতাদের জন্য আট কোটি ডলারের বেশি অর্থ উদ্ধার করেছে।   তবে এ মামলায় দুটি পৃথক অভিযোগের বিষয় স্পষ্ট করা গুরুত্বপূর্ণ। হামাসের জন্য অর্থায়নের অভিযোগ মূলত দুই ভাইয়ের বিরুদ্ধে ফেডারেল পর্যায়ে তদন্ত ও বিচারের বিষয়। অন্যদিকে মেডিকেইডে আয়সংক্রান্ত ভুল তথ্য দিয়ে সরকারি সুবিধা নেওয়ার অভিযোগ একই পরিবারের পাঁচ সদস্যের বিরুদ্ধে স্টেট পর্যায়ের মামলা। মেডিকেইডের অর্থ সরাসরি হামাসের কাছে পাঠানো হয়েছে, এমন কোনো নির্দিষ্ট প্রমাণ বা আর্থিক যোগসূত্র কর্তৃপক্ষের প্রকাশিত তথ্যে উল্লেখ করা হয়নি।   পাঁচজনকে গ্রেপ্তারের ঘটনায় লুইজিয়ানা ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন, এফবিআই, সেন্ট ট্যামানি প্যারিশ শেরিফ অফিস, হ্যামন্ড পুলিশ ডিপার্টমেন্ট, ম্যান্ডেভিল পুলিশ ডিপার্টমেন্ট এবং লুইজিয়ানা স্টেট পুলিশের সদস্যরা যৌথভাবে কাজ করেছেন। মেডিকেইড জালিয়াতির অভিযোগসংক্রান্ত মামলায় স্টেটের পক্ষে আইনি কার্যক্রম পরিচালনা করবেন সেন্ট ট্যামানি প্যারিশের ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নি কলিন সিমস।   ফেডারেল পর্যায়ে দুই ভাইয়ের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসী সংগঠনকে সহায়তা দেওয়া, এ ধরনের সহায়তার ষড়যন্ত্র, ওয়্যার ফ্রড এবং অর্থ পাচারের ষড়যন্ত্রের অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্ট ধারায় সর্বোচ্চ ২০ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ডের বিধান রয়েছে। তবে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান থাকলেই অভিযুক্তদের সেই সাজা হবে, এমন নয়। আদালতে অভিযোগ প্রমাণ, সংশ্লিষ্ট আইনের প্রয়োগ এবং বিচারিক সিদ্ধান্তের ওপর শাস্তি নির্ভর করবে।   লুইজিয়ানার এই ঘটনায় সরকারি স্বাস্থ্যবিমা কর্মসূচিতে জালিয়াতির অভিযোগের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক অর্থায়ন নেটওয়ার্কে যুক্তরাষ্ট্র থেকে অর্থ পাঠানোর বিষয়টিও সামনে এসেছে। তবে অভিযুক্ত পাঁচ সদস্যের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের চূড়ান্ত নিষ্পত্তি এখনো হয়নি। মার্কিন আইন অনুযায়ী, আদালতে দোষী প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত প্রত্যেক অভিযুক্ত নির্দোষ হিসেবে বিবেচিত হবেন।   সূত্র: বাফলো প্রতিদিন

প্রকাশ: অক্টোবর ৯, ২০২৬ ৯:২৩
ফ্লোরিডার সুইমিং পুলে সাত বছরের শিশুর মৃ ত্যু

চোখের সামনে শিশুকে ডুবে যেতে দেখেও উদ্ধার করেননি চিকিৎসক, সাহায্যে পাঠান অন্য শিশুদের

ফ্লোরিডায় মাটির নিচ থেকে দুটি বিড়াল উদ্ধার

বিড়ালদের ‘অশুভ আত্মা’ ভেবে জীবন্ত পুঁতে রাখার অভিযোগে গ্রে প্তা র এক নারী

যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসী শিশুদের গ্রিন কার্ডের যোগ্যতা

যুক্তরাষ্ট্রে বিশেষ গ্রিন কার্ডের আবেদন করতে অভিবাসী শিশুদের পূরণ করতে হবে ছয়টি শর্ত

যুক্তরাষ্ট্রের কর্মভিসার আবেদনে নতুন ফি
এইচ-১বি ও এল-১ ভিসায় নতুন নিয়ম, নির্দিষ্ট মার্কিন প্রতিষ্ঠানকে দিতে হবে বায়োমেট্রিক ফি

যুক্তরাষ্ট্রে এইচ-১বি ও এল-১ ভিসার আবেদনে বায়োমেট্রিক ফি আদায়ের নিয়ম সম্প্রসারণ করেছে দেশটির হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগ। নতুন নিয়ম অনুযায়ী, নির্দিষ্ট শর্ত পূরণকারী নিয়োগকর্তাদের কর্মীদের ভিসার মেয়াদ বাড়ানোর আবেদনেও এই ফি দিতে হবে। আগে একই নিয়োগকর্তার অধীনে কর্মরত ব্যক্তির ভিসার মেয়াদ বাড়ানোর ক্ষেত্রে কিছু আবেদন এই ফি থেকে অব্যাহতি পেত। এখন থেকে নিয়োগকর্তা নির্ধারিত শর্তের আওতায় পড়লে, কর্মীর চাকরিদাতা প্রতিষ্ঠান অপরিবর্তিত থাকলেও মেয়াদ বাড়ানোর আবেদনে ফি প্রযোজ্য হবে।   ২০২৬ সালের ১০ আগস্ট চূড়ান্ত নিয়মটি প্রকাশ করা হয়। এটি কার্যকর হয়েছে ৯ সেপ্টেম্বর থেকে। ফলে ওই দিন বা তার পরে জমা দেওয়া সংশ্লিষ্ট আবেদনের ক্ষেত্রে নতুন নিয়ম অনুসরণ করতে হবে। তবে সব এইচ-১বি ও এল-১ আবেদনকারীর ওপর নতুন করে এই ফি আরোপ করা হয়নি। নিয়মটি মূলত নির্দিষ্ট শর্ত পূরণকারী নিয়োগকর্তাদের ক্ষেত্রে ফি আদায়ের পরিধি বাড়িয়েছে।   এইচ-১বি আবেদনের ক্ষেত্রে বায়োমেট্রিক ফি ৪ হাজার ডলার এবং এল-১ আবেদনের ক্ষেত্রে ৪ হাজার ৫০০ ডলার। এই অর্থ পরিশোধের দায়িত্ব সংশ্লিষ্ট নিয়োগকর্তার। যুক্তরাষ্ট্রে বিদেশি কর্মীদের নিয়োগ এবং তাঁদের কাজের অনুমতির মেয়াদ বাড়ানোর আবেদন করতে গিয়ে প্রতিষ্ঠানগুলোকে এখন থেকে ফি প্রযোজ্য কি না, তা যাচাই করতে হবে। নতুন নিয়মের ফলে শর্ত পূরণকারী প্রতিষ্ঠানের কর্মীদের ভিসার মেয়াদ বাড়ানোর খরচ বৃদ্ধি পেতে পারে।   কোন প্রতিষ্ঠানকে ফি দিতে হবে   নতুন নিয়ম অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রে অন্তত ৫০ জন কর্মী রয়েছে—এমন কোনো প্রতিষ্ঠান নির্দিষ্ট শর্ত পূরণ করলে ‘আওতাভুক্ত নিয়োগকর্তা’ হিসেবে বিবেচিত হবে। শর্তটি হলো, প্রতিষ্ঠানটির যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক মোট কর্মীর ৫০ শতাংশের বেশি এইচ-১বি, এল-১এ অথবা এল-১বি নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসার আওতায় থাকতে হবে।   এইচ-১বি ভিসা সাধারণত বিশেষায়িত পেশায় বিদেশি কর্মী নিয়োগের জন্য ব্যবহৃত হয়। অন্যদিকে, এল-১ ভিসার মাধ্যমে কোনো বহুজাতিক প্রতিষ্ঠান তার বিদেশি কার্যালয়ের নির্দিষ্ট কর্মীকে যুক্তরাষ্ট্রের কার্যালয়ে স্থানান্তর করতে পারে। এল-১এ ভিসা মূলত ব্যবস্থাপক ও নির্বাহী পর্যায়ের কর্মীদের জন্য। এল-১বি ভিসা বিশেষায়িত জ্ঞানসম্পন্ন কর্মীদের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য।   উদাহরণ হিসেবে, যুক্তরাষ্ট্রে কোনো প্রতিষ্ঠানের ১০০ জন কর্মী থাকলে এবং তাঁদের ৫১ জন বা তার বেশি এইচ-১বি, এল-১এ কিংবা এল-১বি ভিসার আওতায় থাকলে প্রতিষ্ঠানটি ফি দেওয়ার শর্তের মধ্যে পড়তে পারে। তবে শুধু কর্মীর সংখ্যা বেশি হলেই হবে না; ভিসার ধরন ও কর্মীদের অনুপাতও নির্ধারিত সীমা পূরণ করতে হবে।   যেসব প্রতিষ্ঠান এই শর্ত পূরণ করবে না, তাদের ক্ষেত্রে শুধু এই নিয়মের কারণে অতিরিক্ত ফি দেওয়ার বাধ্যবাধকতা তৈরি হবে না। তাই নতুন আবেদন জমা দেওয়ার আগে প্রতিষ্ঠানগুলোর কর্মীসংখ্যা এবং কর্মীদের ভিসার ধরন পর্যালোচনা করা গুরুত্বপূর্ণ।   কোন আবেদনে ফি দিতে হবে না   চূড়ান্ত নিয়মে একটি গুরুত্বপূর্ণ ব্যতিক্রম রাখা হয়েছে। কোনো নিয়োগকর্তা যদি কর্মীর বিদ্যমান এইচ-১বি বা এল-১ স্ট্যাটাসের মেয়াদ বাড়ানোর আবেদন না করে শুধু সংশোধিত পিটিশন জমা দেন, তাহলে সেই আবেদনের জন্য এই বায়োমেট্রিক ফি দিতে হবে না।   সাধারণত কর্মীর চাকরির শর্ত, দায়িত্ব বা অনুমোদিত আবেদনের সঙ্গে সম্পর্কিত কোনো পরিবর্তন জানাতে সংশোধিত পিটিশন জমা দেওয়া হয়। তবে সংশোধিত আবেদনের সঙ্গে যদি কর্মীর অবস্থানের মেয়াদ বাড়ানোর অনুরোধও থাকে, তাহলে শর্ত পূরণকারী নিয়োগকর্তার ক্ষেত্রে ফি প্রযোজ্য হতে পারে।   নতুন নিয়ম কার্যকর হওয়ার আগে জমা দেওয়া আবেদনগুলোর ওপর এটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে পেছনের তারিখ থেকে কার্যকর হবে না। তবে ৯ সেপ্টেম্বর বা তার পরে জমা দেওয়া সংশ্লিষ্ট আবেদনের ক্ষেত্রে নতুন বিধান অনুসরণ করতে হবে।   কেন এই ফি নেওয়া হচ্ছে   ৯-১১ রেসপন্স অ্যান্ড বায়োমেট্রিক এন্ট্রি-এক্সিট ফি যুক্তরাষ্ট্রের প্রবেশ ও প্রস্থানব্যবস্থায় বায়োমেট্রিক প্রযুক্তি ব্যবহারের অর্থায়নের সঙ্গে সম্পর্কিত। সীমান্তে ভ্রমণকারীর পরিচয় যাচাই, ভ্রমণসংক্রান্ত নথির জালিয়াতি প্রতিরোধ এবং প্রবেশ-প্রস্থানের তথ্য ব্যবস্থাপনায় এ ধরনের প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়।   ২০১৫ সালে যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেস এই ফি চালুর ব্যবস্থা করে। পরবর্তী সময়ে ফি-সংক্রান্ত বিধান পরিবর্তন ও সম্প্রসারণ করা হয়। আগে একই নিয়োগকর্তার অধীনে কর্মীর মেয়াদ বাড়ানোর কিছু আবেদন এই ফি থেকে অব্যাহতি পেত। নতুন চূড়ান্ত নিয়মে সেই ব্যতিক্রমের পরিধি কমিয়ে আওতাভুক্ত নিয়োগকর্তাদের প্রাসঙ্গিক মেয়াদ বাড়ানোর আবেদনেও ফি নেওয়ার ব্যবস্থা করা হয়েছে।   নতুন নিয়মের ফলে বিশেষ করে প্রযুক্তি, পরামর্শক ও আউটসোর্সিং খাতের এমন প্রতিষ্ঠানগুলোর ব্যয় বাড়তে পারে, যাদের কর্মীদের বড় অংশ এইচ-১বি বা এল-১ ভিসায় কাজ করেন। এসব প্রতিষ্ঠানকে প্রতিটি আবেদন জমা দেওয়ার আগে ফি প্রযোজ্য কি না, তা যাচাই করতে হবে। প্রয়োজনীয় ফি জমা না দিলে আবেদন গ্রহণ বা প্রক্রিয়াকরণে সমস্যা হতে পারে।   নিয়োগকর্তারা ফি-সংক্রান্ত বিস্তারিত তথ্য যুক্তরাষ্ট্রের সংশ্লিষ্ট অভিবাসন ফি তালিকা থেকে যাচাই করতে পারবেন। কোনো প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে নতুন নিয়ম প্রযোজ্য কি না, তা নির্ধারণে প্রতিষ্ঠানের কর্মীসংখ্যা, কর্মীদের ভিসার ধরন এবং আবেদনের উদ্দেশ্য—সবকিছু বিবেচনা করা জরুরি।

প্রকাশ: অক্টোবর ৯, ২০২৬ ৭:১৮
যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় ঋণ ও বাজেট ঘাটতি নিয়ে উদ্বেগের প্রতীকী ছবি

যুক্তরাষ্ট্রের ৪০ ট্রিলিয়ন ডলারের ঋণসংকট ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে বিপদে ফেলছে, এখনই পদক্ষেপের আহ্বান

লস অ্যাঞ্জেলেসের সরকারি স্কুলগুলোতে এক শিক্ষাবর্ষেই ছয় হাজারের বেশি মারামারির ঘটনা ঘটেছে। ছবি: সংগৃহীত

লস অ্যাঞ্জেলেসের স্কুলে ৬ হাজারের বেশি মারামারি, নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কায় অভিভাবকেরা

প্রেমিককে কামড়ে ও আঁচড়ে আহত করার অভিযোগে গ্রেপ্তার নারী পুলিশ কর্মকর্তা মার্সিয়া স্যাংগ্রোনিস। ছবি: সংগৃহীত

সম্পর্ক ভাঙতে চাওয়ায় প্রেমিককে কামড়ে আহত করার অভিযোগে ফ্লোরিডার নারী পুলিশ গ্রেপ্তার

0 Comments