চলতি বিশ্বকাপ ফুটবলের উদ্বোধনী ম্যাচেই বড় ধরনের ধাক্কা খেল দক্ষিণ আফ্রিকা দল। মেক্সিকোর বিপক্ষে প্রথম ম্যাচে মাঠে নেমেই তিন ম্যাচের জন্য নিষিদ্ধ হয়েছেন দলের অভিজ্ঞ ফুটবলার থেম্বা জোয়ানে। তার এই আকস্মিক নিষেধাজ্ঞার কারণে গ্রুপ পর্বের বাকি ম্যাচগুলো নিয়ে বেশ বিপাকে পড়েছে দক্ষিণ আফ্রিকা ফুটবল দল। ঐতিহাসিক আজতেকা স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত বিশ্বকাপের উদ্বোধনী ম্যাচটিতে শুরু থেকেই টানটান উত্তেজনা বিরাজ করছিল। ম্যাচটিতে রেফারির দায়িত্বে ছিলেন ব্রাজিলের উইলটন সাম্পাই। পুরো ম্যাচ জুড়ে রেফারি কঠোর অবস্থানে ছিলেন এবং ম্যাচটিতে মোট তিনটি লাল কার্ড দেখান। এর মধ্যে মেক্সিকোর একজন এবং দক্ষিণ আফ্রিকার দুইজন খেলোয়াড় লাল কার্ডের মুখে পড়েন। ম্যাচের ৮৫ মিনিটে প্রতিপক্ষ খেলোয়াড়কে হিংসাত্মক আক্রমণের (ভায়োলেন্ট কন্ডাক্ট) দায়ে দক্ষিণ আফ্রিকার থেম্বা জোয়ানেকে সরাসরি লাল কার্ড দেখান রেফারি। ম্যাচ শেষে ফিফার ডিসিপ্লিনারি বা শৃঙ্খলা কমিটি ঘটনাটি পর্যালোচনা করে তাকে তিন ম্যাচের জন্য নিষিদ্ধ করার ঘোষণা দেয়। ফিফা তাদের এক বিবৃতিতে জানায়, ‘ফিফার শৃঙ্খলাজনিত কমিটি মেক্সিকো-দক্ষিণ আফ্রিকা ম্যাচে সরাসরি লাল কার্ড দেখা ফুটবলার থেম্বা জোয়ানেকে ফিফার ডিসিপ্লিনারি কোডের ১৪ নং অনুচ্ছেদের ১(ই) প্যারাগ্রাফ অনুযায়ী তিন ম্যাচের নিষেধাজ্ঞা দিচ্ছে। তবে এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে ফিফার আপিল কমিটিতে আপিল করার সুযোগ পাবেন এই ফুটবলার।’ এই নিষেধাজ্ঞার ফলে দক্ষিণ আফ্রিকার হয়ে গ্রুপ পর্বের বাকি দুটি ম্যাচ এবং দল যদি নক-আউট পর্ব বা 'রাউন্ড অব ৩২'-তে উঠতে পারে, তবে সেই ম্যাচটিতেও মাঠে নামতে পারবেন না জোয়ানে। গ্রুপ পর্বে দক্ষিণ আফ্রিকা তাদের পরবর্তী ম্যাচটি খেলবে চেক প্রজাতন্ত্রের বিপক্ষে এবং শেষ ম্যাচে মুখোমুখি হবে দক্ষিণ কোরিয়ার। গুরুত্বপূর্ণ এই ম্যাচগুলোর আগে জোয়ানের মতো খেলোয়াড়কে হারানো দক্ষিণ আফ্রিকার জন্য অনেক বড় ক্ষতি হিসেবে দেখা হচ্ছে।
উত্তর আমেরিকায় ফুটবলে প্রথম লাথি পড়ার আগেই সারা বিশ্বের কোটি কোটি ভক্তের চোখ নিবদ্ধ ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের দিকে। গতকাল বৃহস্পতিবার, ১১ জুন মেক্সিকো সিটিতে আনুষ্ঠানিকভাবে পর্দা উঠেছে ফুটবলের এই বিশ্ব আসরের। যারা একইসাথে ফুটবল এবং পপ কালচার ভালোবাসেন, তাদের কাছে বিশ্বকাপের উদ্বোধনী ম্যাচটির মতোই কাঙ্ক্ষিত এই আয়োজনের পারফরম্যান্সগুলো। এবারের বিশ্বকাপ বেশ কয়েকটি কারণে ইতিহাস গড়তে যাচ্ছে। ফিফার ইতিহাসে এবারই প্রথম তিনটি আয়োজক দেশ—মেক্সিকো, কানাডা এবং যুক্তরাষ্ট্রে আলাদাভাবে উদ্বোধনী উৎসবের আয়োজন করা হয়েছে। এই তিন দেশে ভিন্ন ভিন্ন সংস্কৃতি ও সংগীতের মেলবন্ধন ঘটাতে একমঞ্চে জড়ো হচ্ছেন আন্তর্জাতিক অঙ্গনের খ্যাতনামা সব তারকারা। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের সবচেয়ে বড় আকর্ষণ হিসেবে নিঃসন্দেহে সবার নজর থাকছে পপ সম্রাজ্ঞী শাকিরার দিকে। ফিফা বিশ্বকাপে তার এই প্রত্যাবর্তন বিশ্বজুড়ে অগণিত ভক্তের মনে নস্টালজিয়া তৈরি করেছে। মেক্সিকো সিটির অনুষ্ঠানে নাইজেরিয়ান আফ্রোবিটস তারকা বার্না বয়কে সঙ্গে নিয়ে বিশ্বকাপের অফিশিয়াল থিম সং "দাই দাই" পরিবেশন করবেন তিনি। ধারণা করা হচ্ছে, শাকিরার এই পারফরম্যান্স এবারের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের অন্যতম সেরা ও আইকনিক একটি মুহূর্ত হতে যাচ্ছে। অন্যদিকে, বাংলাদেশি কে-পপ ভক্তদের জন্য দারুণ এক চমক নিয়ে আসছেন বিখ্যাত গ্রুপ ব্ল্যাকপিংক-এর তারকা লিসা। যুক্তরাষ্ট্রের লস অ্যাঞ্জেলেসে অনুষ্ঠিতব্য উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে পারফর্ম করতে যাচ্ছেন তিনি, যা ইতোমধ্যেই বিশ্বজুড়ে তার ভক্তদের মাঝে বিপুল উন্মাদনার সৃষ্টি করেছে। লিসার পাশাপাশি একই মঞ্চে পারফর্ম করার কথা রয়েছে জনপ্রিয় মার্কিন পপ তারকা কেটি পেরিরও। কানাডার টরন্টোতে অনুষ্ঠিতব্য উদ্বোধনী আয়োজনটিও বাংলাদেশিদের জন্য বাড়তি আগ্রহের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে। জানা গেছে, কানাডার লাইনআপে জনপ্রিয় তারকা নোরা ফাতেহির পাশাপাশি পারফর্ম করবেন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত প্রডিউসার ও ডিজে সঞ্জয়। এমন একটি বিশাল বৈশ্বিক মঞ্চে দক্ষিণ এশীয় বংশোদ্ভূত কাউকে পারফর্ম করতে দেখাটা নিঃসন্দেহে আমাদের জন্য অত্যন্ত গর্বের বিষয়। এবারের উদ্বোধনী উৎসবকে সবচেয়ে বেশি স্পেশাল করে তুলেছে এর সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্য। কেউ ল্যাটিন পপ, আফ্রোবিটস, ওয়েস্টার্ন পপ কিংবা কে-পপ—যে ঘরানার গান শুনেই বড় হোক না কেন, এই তারকাবহুল লাইনআপে সবার জন্যই পরিচিত কোনো না কোনো সুর থাকছে। বিশ্বকাপের এই রোমাঞ্চ প্রমাণ করে যে, এই টুর্নামেন্ট মানে কেবল গোল আর ম্যাচের হিসাব-নিকাশ নয়; বরং এটি সীমানা পেরিয়ে আইকনিক পারফরম্যান্স ও বিশ্ববাসীর একতাবদ্ধ হওয়ার এক অভাবনীয় উদযাপন।
২০২৬ ফুটবল বিশ্বকাপ শুরুর আগে টিকিটের আকাশছোঁয়া দাম নিয়ে তুমুল সমালোচনা চললেও মেক্সিকোর ১৪ হাজার দর্শক একেবারে বিনামূল্যে উদ্বোধনী ম্যাচ দেখার সুযোগ পাচ্ছেন। দীর্ঘ আইনি লড়াই শেষে আদালতের রায়ে তারা নিজেদের ঐতিহাসিক অধিকার ধরে রাখতে সক্ষম হয়েছেন। আগামী ১২ জুন মেক্সিকো সিটির আজটেকা স্টেডিয়ামে স্বাগতিক মেক্সিকো ও দক্ষিণ আফ্রিকার ম্যাচ দিয়ে এই বিশ্বকাপের পর্দা উঠবে। এই ঘটনার সূত্রপাত প্রায় ৬০ বছর আগে। ১৯৬০-এর দশকে আজটেকা স্টেডিয়ামটি নির্মাণের সময় অর্থসংকটে পড়ে কর্তৃপক্ষ ৬০০টি বক্স ও প্রায় ৮ হাজার গ্যালারি আসন আগাম বিক্রি করে। তখন ক্রেতাদের শর্ত দেওয়া হয়েছিল যে, ২০৬৫ সাল পর্যন্ত এই স্টেডিয়ামে আয়োজিত যেকোনো ইভেন্ট তারা অতিরিক্ত কোনো টিকিট ছাড়াই দেখতে পারবেন। বর্তমানে এই সুবিধাভোগীদের মোট আসনসংখ্যা প্রায় ১৪ হাজার। এর আগে ১৯৮৬ বিশ্বকাপেও ফুটবলের সর্বোচ্চ নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফা এই আসনগুলোর ওপর পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ নিতে চেয়ে ব্যর্থ হয়েছিল। ২০২৬ বিশ্বকাপের আগে আবারও ফিফা ও স্টেডিয়াম পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠান আসনগুলো নিজেদের টিকিট বিক্রির আওতায় আনার চেষ্টা করলে আসন মালিকদের সংগঠন আদালতের দ্বারস্থ হয়। শেষ পর্যন্ত আদালত আসন মালিকদের পক্ষেই রায় দেয় এবং এই আসনগুলো বিক্রি করতে না পারায় স্টেডিয়াম কর্তৃপক্ষকে প্রায় ৫৪ মিলিয়ন ইউরো ক্ষতিপূরণও দিতে হয়েছে। আসন মালিকদের সংগঠনের মহাসচিব রবার্তো রুয়ানো ওর্তেগা আদালতের এই স্বীকৃতিতে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন। তবে বিশ্বকাপের এক সপ্তাহ আগে পর্যন্ত ইলেকট্রনিক টিকিট হাতে না পৌঁছানোয় তিনি সতর্ক করে বলেছেন, স্টেডিয়ামে প্রবেশ করতে দেওয়া না হলে তারা আবারও বলপ্রয়োগের আইনি ব্যবস্থা চাইবেন। সমস্ত নাটকীয়তার মধ্যেও ১৪ হাজার আসনের মালিকরা ফ্রিতে এই বিশ্বমঞ্চের উদ্বোধনী ম্যাচ উপভোগ করবেন বলে দৃঢ় বিশ্বাস রাখছেন।
২০২৬ সালের ফিফা ফুটবল বিশ্বকাপের উন্মাদনা এখনই চরমে। তবে ফুটবল প্রেমীদের জন্য এবার এক চমকে দেওয়ার মতো খবর সামনে এসেছে। বিশ্বকাপের ফাইনাল ম্যাচের একটি টিকিটের দাম হাঁকানো হচ্ছে অবিশ্বাস্য ২০ লাখ মার্কিন ডলার, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ২৩ কোটি টাকারও বেশি! সম্প্রতি টিকিট পুনঃবিক্রয়কারী একটি প্ল্যাটফর্মে এই চড়া দাম লক্ষ্য করা গেছে। সাধারণত ফিফা কর্তৃক নির্ধারিত দামের চেয়ে কয়েক গুণ বেশি দামে টিকিট রিসেল বা পুনঃবিক্রয় করার ঘটনা নতুন নয়, তবে ২০ লাখ ডলারের এই অঙ্ক সব রেকর্ড ছাড়িয়ে গেছে। যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা এবং মেক্সিকোর যৌথ আয়োজনে হতে যাওয়া এই বিশ্বকাপের ফাইনাল অনুষ্ঠিত হবে নিউ জার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামে। যদিও ফিফা এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে সাধারণ জনগণের জন্য টিকিটের মূল্য তালিকা প্রকাশ করেনি, তবে রিসেলারদের এমন কর্মকাণ্ডে ফুটবল ভক্তদের মাঝে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, চাহিদার তুলনায় টিকিটের সংখ্যা কম হওয়ায় কালোবাজারি এবং বিভিন্ন থার্ড পার্টি ওয়েবসাইটগুলো এই সুযোগ নিচ্ছে। ফিফা বরাবরই দর্শকদের সতর্ক করে আসছে যেন তারা কেবল অফিসিয়াল প্ল্যাটফর্ম থেকেই টিকিট সংগ্রহ করেন। ২০২৬ বিশ্বকাপে ৪৮টি দল অংশ নেবে, ফলে ম্যাচ এবং টিকিটের সংখ্যা বাড়লেও ফাইনালের মতো হাই-ভোল্টেজ ম্যাচের টিকিটের জন্য দর্শকদের বড় অঙ্কের অর্থই গুণতে হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
২০২৬ ফুটবল বিশ্বকাপ থেকে ইরানকে সরিয়ে চারবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ইতালিকে অন্তর্ভুক্ত করার এক বিতর্কিত প্রস্তাব দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিশেষ দূত পাওলো জাম্পোলি। ফিফা প্রেসিডেন্ট জান্নি ইনফান্তিনোর কাছে পাঠানো এই প্রস্তাবে দাবি করা হয়েছে, ফুটবলের ঐতিহ্যের খাতিরেই ইতালির বিশ্বকাপে থাকা জরুরি। উল্লেখ্য, বাছাইপর্বে বসনিয়া ও হার্জেগোভিনার কাছে হেরে ইতালি এবারের বিশ্বকাপে জায়গা করতে ব্যর্থ হয়েছে। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এই প্রস্তাবটি মূলত ইতালি ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার সাম্প্রতিক কূটনৈতিক টানাপোড়েন কমানোর একটি রাজনৈতিক কৌশল। পোপ লিও চতুর্দশকে নিয়ে ট্রাম্পের করা কিছু মন্তব্যে ইতালীয় প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনি ক্ষুব্ধ হওয়ায় এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। তবে ফিফার অভ্যন্তরে এই প্রস্তাব নিয়ে তীব্র বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে এবং অনেক ফুটবল বিশেষজ্ঞ একে ‘নগ্ন রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ’ বলে অভিহিত করেছেন। ইরান এই ঘটনার তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে বলেছে, তারা মাঠের লড়াইয়ে যোগ্যতা অর্জন করেই বিশ্বকাপে জায়গা পেয়েছে। ইরান ফুটবল ফেডারেশন তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি নির্দিষ্ট কিছু ম্যাচ মেক্সিকোতে আয়োজনের অনুরোধ জানিয়েছে। ফিফার ওপর রাজনৈতিক চাপ সৃষ্টির এমন চেষ্টার বিরুদ্ধে সরব হয়েছে মুসলিম বিশ্বের দেশগুলোও। ফিফা প্রেসিডেন্ট জান্নি ইনফান্তিনো অবশ্য এই প্রস্তাবে সায় দেননি। তিনি স্পষ্ট জানিয়েছেন, ইরান বাছাইপর্ব পেরিয়েই বিশ্বকাপে এসেছে এবং কোনো দেশের রাজনৈতিক চাপের মুখে তাদের বাদ দেওয়ার সুযোগ নেই। তবে টুর্নামেন্ট শুরুর আগমুহূর্তে ট্রাম্প প্রশাসনের এমন প্রস্তাব ফুটবল বিশ্বে অস্থিরতা ও চাঞ্চল্য তৈরি করেছে।
২০২৬ বিশ্বকাপ ফুটবল শুরুর প্রহর যত ঘনিয়ে আসছে, দর্শকদের মাঝে টিকিটের চাহিদাও আকাশচুম্বী হচ্ছে। এই উন্মাদনার মাঝেই ফুটবল ভক্তদের জন্য নতুন খবর জানাল বিশ্ব ফুটবলের সর্বোচ্চ নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফা। আল জাজিরার প্রতিবেদন অনুযায়ী, ফিফা বিশ্বকাপের ১০৪টি ম্যাচের জন্য নতুন করে আরও কিছু টিকিট ছাড়ার ঘোষণা দিয়েছে। তবে এবার টিকিটের তালিকায় যুক্ত হয়েছে নতুন এবং আগের চেয়ে বেশ ব্যয়বহুল কিছু ক্যাটাগরি। নতুন ‘ফ্রন্ট ক্যাটাগরি’ এবং দামের ঊর্ধ্বগতি ফিফা জানিয়েছে, বুধবার থেকে তাদের অফিশিয়াল পোর্টালে ১, ২ এবং ৩ নম্বর ক্যাটাগরির পাশাপাশি নতুন একটি ‘ফ্রন্ট ক্যাটাগরি’র টিকিট পাওয়া যাবে। মূলত স্টেডিয়ামের সবচেয়ে আকর্ষণীয় স্থানগুলো থেকে খেলা দেখার সুযোগ দিতেই এই প্রিমিয়াম স্তরটি চালু করা হয়েছে। তবে এই নতুন স্তরের টিকিটের দাম সাধারণ ফুটবল প্রেমীদের পকেটে বেশ চাপ ফেলবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। টিকিটের এই নতুন মূল্যতালিকা এবং বণ্টন প্রক্রিয়া নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ইতিমধ্যেই মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। অনেক ভক্ত অভিযোগ করেছেন, তারা আগে যখন টিকিট কিনেছিলেন, তখন সেরা সিটগুলো হয়তো সাধারণ ক্যাটাগরিতে রাখা হয়নি। এখন সেই ভালো সিটগুলোকেই ‘ফ্রন্ট ক্যাটাগরি’ বা দামি ক্যাটাগরিতে অন্তর্ভুক্ত করে বেশি মূল্যে বিক্রি করা হচ্ছে। উল্লেখ্য যে, গত ডিসেম্বরে যখন প্রথম দফায় টিকিট বিক্রি শুরু হয়, তখন সর্বনিম্ন ক্যাটাগরি-৩ এর টিকিটের দাম ছিল ১৪০ ডলার। আর ফাইনাল ম্যাচের টিকিটের সর্বোচ্চ দাম ধরা হয়েছিল ৮,৬৮০ ডলার। তবে এপ্রিলের শুরুতে টিকিট পোর্টাল পুনরায় চালু হলে দেখা যায় কিছু ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ দাম ১০,৯৯০ ডলার ছাড়িয়ে গেছে। যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা এবং মেক্সিকো—এই তিন দেশে যৌথভাবে আয়োজিত হতে যাওয়া ইতিহাসে সর্ববৃহৎ (৪৮ দলের) এই বিশ্বকাপকে ঘিরে টিকিটের চাহিদা যেমন তুঙ্গে, তেমনি যাতায়াত এবং সিটের উচ্চমূল্য সাধারণ সমর্থকদের জন্য এক বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
আসন্ন ২০২৬ বিশ্বকাপ ফুটবলকে সামনে রেখে আয়োজক দেশ যুক্তরাষ্ট্রের নিউ জার্সি ও নিউ ইয়র্ক এলাকায় জনপরিবহন বা যাতায়াত খরচ অস্বাভাবিক হারে বৃদ্ধির ঘোষণায় ব্যাপক তোলপাড় শুরু হয়েছে। সাধারণ যাত্রী ও ফুটবল প্রেমীদের ওপর এই অতিরিক্ত খরচের বোঝা চাপিয়ে দেওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন মার্কিন শীর্ষ রাজনীতিবিদরা। তবে এই ঘটনায় উল্টো ‘বিস্ময়’ প্রকাশ করেছে ফুটবলের সর্বোচ্চ নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফা। সম্প্রতি এক প্রতিবেদনে জানা গেছে, বিশ্বকাপের ম্যাচ চলাকালীন নিউ ইয়র্কের পেন স্টেশন থেকে নিউ জার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়াম পর্যন্ত ট্রেনের টিকিট ভাড়া ১০০ ডলার ছাড়িয়ে যেতে পারে। স্বাভাবিক সময়ে এই রুটের ভাড়া মাত্র ১২.৯০ ডলার। অর্থাৎ যাতায়াত খরচ বাড়ছে প্রায় ১০ গুণ! একইভাবে বোস্টন থেকে ফক্সবরো পর্যন্ত বাস ভাড়া ৯৫ ডলার পর্যন্ত হতে পারে বলে আভাস পাওয়া গেছে। নিউ জার্সির গভর্নর মিকি শেরিল এই সিদ্ধান্তের কড়া সমালোচনা করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ‘এক্স’-এ (সাবেক টুইটার) লিখেছেন, "ফিফা এই বিশ্বকাপ থেকে ১১ বিলিয়ন ডলার আয় করবে, অথচ নিউ জার্সির সাধারণ মানুষকে যাতায়াতের জন্য কোটি কোটি ডলারের বোঝা বইতে হবে—এটা হতে দেওয়া যায় না। ফিফাকেই এই খরচ বহন করতে হবে।" সিনেটের প্রভাবশালী ডেমোক্র্যাট নেতা চাক শুমারও সুর মিলিয়েছেন। তিনি বলেন, "ফিফাকে অবশ্যই এগিয়ে আসতে হবে এবং আয়োজক শহরগুলোর পরিবহন খরচ ভর্তুকি দিতে হবে। সাধারণ মানুষকে এভাবে শোষিত হতে দেওয়া যাবে না।" এই সমালোচনার জবাবে ফিফা জানিয়েছে, তারা মার্কিন কর্মকর্তাদের এমন আচরণে অত্যন্ত বিস্মিত। ফিফার একজন মুখপাত্র জানান, ২০১৮ সালের প্রাথমিক চুক্তিতে ভক্তদের জন্য যাতায়াত ফ্রি রাখার কথা থাকলেও ২০২৩ সালে আয়োজক শহরগুলোর আর্থিক চাপের কথা বিবেচনা করে ফিফা নিয়মে পরিবর্তন আনে। নতুন নিয়ম অনুযায়ী, দর্শকদের 'মূল্য পরিশোধ' করেই যাতায়াত করতে হবে। ফিফার দাবি, তারা এর আগে ফেডারেল ফান্ডিংয়ের জন্য লবিং করে আয়োজকদের সহায়তা করেছে। এছাড়া আগে নিউ জার্সিতে হওয়া কোনো কনসার্ট বা ক্রীড়া ইভেন্টে আয়োজকদের পরিবহন খরচ দেওয়ার নজির নেই বলেও তারা দাবি করে। উল্লেখ্য, ২০২৬ সালের জুন-জুলাই মাসে যুক্তরাষ্ট্র, মেক্সিকো ও কানাডায় যৌথভাবে অনুষ্ঠিত হবে ফিফা বিশ্বকাপ। নিউ জার্সি ও নিউ ইয়র্ক এলাকায় ফাইনালসহ মোট ৮টি ম্যাচ অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। কিন্তু যাতায়াত খরচের এই বিতর্ক বিশ্বকাপের আনন্দকে কিছুটা হলেও ম্লান করে দিচ্ছে সাধারণ দর্শকদের কাছে।এখন দেখার বিষয়, ফুটবল প্রেমীদের কথা বিবেচনা করে ফিফা শেষ পর্যন্ত কোনো ছাড় দেয় কি না।
২০২৬ বিশ্বকাপ ফুটবল শুরুর প্রহর যখন ঘনিয়ে আসছে, ঠিক তখনই এক নাটকীয় মোড় নিতে পারে বিশ্বমঞ্চের সমীকরণ। রাজনৈতিক অস্থিরতা ও সামরিক উত্তেজনার কারণে ২০২৬ বিশ্বকাপে ইরানের অংশগ্রহণ এখন অনিশ্চয়তার মুখে। আর এই সুযোগে কপাল খুলতে পারে চারবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ইতালির। টানা দুইবার বিশ্বকাপে সুযোগ না পাওয়া আজ্জুরিদের জন্য এটি হতে পারে এক অভাবনীয় প্রত্যাবর্তন। মূলত মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সাথে ইরানের চলমান সংঘাতের কারণে ফিফার ওপর চাপ বাড়ছে ইরানকে এই আসর থেকে সরিয়ে দেওয়ার জন্য। যদিও ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো জানিয়েছেন, তারা ইরানকে খেলায় দেখতে চান, তবুও পর্দার আড়ালে বিকল্প পরিকল্পনা নিয়ে গুঞ্জন থামছে না। ইতালীয় ক্রীড়ামন্ত্রী আন্দ্রেয়া আবোদি বিষয়টিকে 'খুবই ক্ষীণ সম্ভাবনা' বলে অভিহিত করলেও ফুটবল বিশ্বে গুঞ্জন রয়েছে যে, ইরান বাদ পড়লে ফিফা র্যাঙ্কিংয়ে শীর্ষে থাকা ইতালিকেই মূল আসরে জায়গা দেওয়া হতে পারে। তবে এশিয়ান ফুটবল কনফেডারেশনের (এএফসি) পক্ষ থেকে দাবি করা হচ্ছে, ইরান বাদ পড়লে সেই জায়গায় এশিয়ার অন্য কোনো দল—যেমন ইরাক বা সংযুক্ত আরব আমিরাতের সুযোগ পাওয়ার কথা। ইতালির সমর্থকরা যেখানে টানা ১২ বছর বিশ্বকাপের স্বাদ না পেয়ে হতাশায় ডুবে আছে, সেখানে এই খবরটি তাদের মনে নতুন আশার আলো দেখাচ্ছে। শেষ পর্যন্ত ফিফা কি নিয়মের বেড়াজালে এশিয়ার কোনো দেশকেই বেছে নেবে, নাকি বানিজ্যিক ও ফুটবলীয় গুরুত্ব বিবেচনায় ইতালিকে ফেরানো হবে বিশ্বমঞ্চে—তা দেখার জন্য অপেক্ষা করতে হবে আরও কিছুদিন।
আসন্ন ফিফা বিশ্বকাপ ঘিরে ইরান জাতীয় দলের অংশগ্রহণ নিয়ে তৈরি হয়েছে অনিশ্চয়তা। নিজেদের ম্যাচগুলো যুক্তরাষ্ট্র থেকে মেক্সিকোতে স্থানান্তরের দাবি জানিয়েছে দেশটির ফুটবল ফেডারেশন। ইরান ফুটবল ফেডারেশন (আইএফএফ) ইতোমধ্যে এ বিষয়ে ফিফার কাছে আনুষ্ঠানিক আবেদন করেছে। তবে এখন পর্যন্ত এ বিষয়ে কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানায়নি বিশ্ব ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থাটি। রোববার তুরস্কের সংবাদ সংস্থা আনাদোলুকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ইরানের ক্রীড়ামন্ত্রী আহমাদ দোনিয়ামালি বলেন, ফিফা যদি এই অনুরোধ গ্রহণ না করে, তাহলে বিশ্বকাপে ইরানের অংশগ্রহণ অনিশ্চিত হয়ে পড়তে পারে। তিনি আরও জানান, দলকে বিশ্বকাপের জন্য প্রস্তুত রাখতে সব ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে ম্যাচ খেলার বিষয়ে সরকারের অবস্থান কঠোর। পর্যাপ্ত নিরাপত্তা নিশ্চয়তা পাওয়া গেলে তবেই এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। ফিফার নির্ধারিত সূচি অনুযায়ী, আগামী ১১ জুন বিশ্বকাপের পর্দা উঠবে। ইরানের প্রথম ম্যাচ ১৬ জুন লস অ্যাঞ্জেলেসে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে হওয়ার কথা রয়েছে। এরপর ২২ জুন একই ভেন্যুতে বেলজিয়ামের মুখোমুখি হবে তারা। আর ২৬ জুন সিয়াটলে নিজেদের শেষ গ্রুপ ম্যাচ খেলবে দলটি। ফিফার সিদ্ধান্ত এখন ইরানের বিশ্বকাপ ভাগ্য নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
ফুটবল ভক্তদের উন্মাদনায় পানি ঢেলে দিল ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের টিকিটের অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি। বিশেষ করে ফাইনাল ম্যাচের টিকিটের দাম ১১ হাজার ডলার স্পর্শ করায় বিশ্বজুড়ে শুরু হয়েছে তীব্র সমালোচনা। সাধারণ দর্শকদের ধরাছোঁয়ার বাইরে চলে যাওয়া এই মূল্যবৃদ্ধিকে কেন্দ্র করে ফিফার ওপর ক্ষোভ উগরে দিচ্ছেন ফুটবলপ্রেমীরা। টিকিট বিক্রির চূড়ান্ত পর্বে দেখা গেছে, ফাইনালের সর্বোচ্চ ক্যাটাগরির টিকিটের দাম বর্তমানে ১০,৯৯০ ডলারে পৌঁছেছে, যা গত সেপ্টেম্বরের তুলনায় প্রায় ৩৮ শতাংশ বেশি। কাতার বিশ্বকাপের ফাইনালের সর্বোচ্চ মূল্যের টিকিটের (১,৬০৪ ডলার) তুলনায় এবারের দাম প্রায় সাত গুণ বেশি। কেবল এক নম্বর ক্যাটাগরিই নয়, ক্যাটাগরি-২ এবং ক্যাটাগরি-৩ টিকিটের দামও পাল্লা দিয়ে বেড়েছে ৩০ থেকে ৩২ শতাংশ পর্যন্ত। টিকিট বিক্রির এই 'লাস্ট-মিনিট সেল' প্রক্রিয়ায় প্রযুক্তিগত বিভ্রাট পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। অনেক দর্শক টিকিট কাটার সময় গোলযোগের মুখে পড়েছেন, যা তাদের অসন্তোষকে আরও উসকে দিয়েছে। তবে এই সমালোচনাকে খুব একটা পাত্তা দিচ্ছেন না ফিফা প্রেসিডেন্ট জিয়ান্নি ইনফান্তিনো। তার মতে, টিকিটের এই আকাশছোঁয়া দাম মূলত 'বিপুল চাহিদার' প্রতিফলন। উল্লেখ্য, আমেরিকা, কানাডা এবং মেক্সিকোর যৌথ আয়োজনে ২০২৬ বিশ্বকাপেই প্রথমবারের মতো ৪৮টি দেশ অংশগ্রহণ করতে যাচ্ছে। ১২ জুন থেকে শুরু হতে যাওয়া এই ফুটবল মহাযজ্ঞের প্রায় ৭০ লক্ষ টিকিটের মধ্যে ইতিমধ্যে ৩০ লক্ষেরও বেশি বিক্রি হয়ে গেছে।
বিশ্বজুড়ে ফুটবল উন্মাদনার পারদ চড়তে শুরু করেছে ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপকে কেন্দ্র করে। আর এই উন্মাদনায় বাড়তি মাত্রা যোগ করতে ফুটবলপ্রেমীদের জন্য দারুণ এক সুখবর নিয়ে এসেছে বিশ্ব ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফা এবং মার্কিন প্রশাসন। যারা গ্যালারিতে বসে সরাসরি খেলা দেখার স্বপ্ন দেখছেন, তাদের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা প্রক্রিয়া আরও সহজ ও গতিশীল করতে চালু করা হয়েছে বিশেষ পদ্ধতি ‘ফিফা পাস’। ‘ফিফা পাস’ বা ‘ফিফা প্রায়োরিটি অ্যাপয়েন্টমেন্ট শিডিউলিং সিস্টেম’ হলো এমন এক বিশেষ ব্যবস্থা, যার মাধ্যমে বিশ্বকাপের টিকিটধারীরা মার্কিন দূতাবাসে সাধারণ আবেদনকারীদের তুলনায় দ্রুত ইন্টারভিউ বা সাক্ষাৎকারের সময় পাবেন। বিশেষ করে বাংলাদেশের মতো যেসব দেশে বর্তমানে মার্কিন ভিসার জন্য দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হচ্ছে, সেই সব দেশের সমর্থকদের জন্য এটি একটি গেম-চেঞ্জার হতে যাচ্ছে। প্রক্রিয়াটি অত্যন্ত সহজ ও সুশৃঙ্খল। টিকিটধারীরা ফিফার অফিসিয়াল ওয়েবসাইট (FIFA.com) থেকে তাদের ব্যক্তিগত অ্যাকাউন্টে লগ-ইন করে ‘FIFA PASS’ অপশনটি বেছে নিতে পারবেন। এরপর মার্কিন ভিসার আবেদনপত্র (DS-160 ফর্ম) পূরণ করার সময় নিজেকে ‘ফিফা টিকিট হোল্ডার’ হিসেবে চিহ্নিত করতে হবে। তথ্য যাচাই সম্পন্ন হলেই আবেদনকারীকে দ্রুততম সময়ের মধ্যে সাক্ষাৎকারের তারিখ প্রদান করা হবে। সুবিধা পাবেন যারা: সরাসরি ফিফা থেকে বিশ্বকাপের বৈধ টিকিট ক্রয়কারীগণ। টিকিটধারীর সাথে থাকা স্বামী/স্ত্রী এবং অপ্রাপ্তবয়স্ক সন্তানরাও এই অগ্রাধিকার সুবিধার আওতায় থাকবেন। আবেদনকারীর তথ্যের সাথে টিকিট ক্রয়ের তথ্যের শতভাগ মিল থাকতে হবে। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর স্পষ্ট করে জানিয়েছে, ‘ফিফা পাস’ কেবল ইন্টারভিউয়ের দীর্ঘ লাইন এড়িয়ে দ্রুত সময়ে সাক্ষাৎকার দেওয়ার সুযোগ করে দেবে। এটি কোনোভাবেই ভিসা পাওয়ার শতভাগ নিশ্চয়তা নয়। সাধারণ আবেদনকারীদের মতো টিকিটধারীদেরও কঠোর নিরাপত্তা যাচাই এবং যোগ্যতার প্রমাণ দিয়েই ভিসা অর্জন করতে হবে। উল্লেখ্য, ২০২৬ বিশ্বকাপ যৌথভাবে আয়োজন করছে যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা এবং মেক্সিকো। প্রথমবারের মতো ৪৮টি দলের এই বিশাল আসরের অধিকাংশ ম্যাচ অনুষ্ঠিত হবে যুক্তরাষ্ট্রে। বিপুল সংখ্যক দর্শকের চাপ সামলাতে এবং ভিসা প্রক্রিয়া নিরবচ্ছিন্ন রাখতে মার্কিন প্রশাসন ইতোমধ্যে অতিরিক্ত প্রায় ৫০০ কনস্যুলার অফিসার নিয়োগ দিয়েছে। ভিড় এড়াতে কর্তৃপক্ষ এখনই আবেদন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার পরামর্শ দিয়েছে।
ফিফা র্যাংকিংয়ে আবারও পেছাল বাংলাদেশ। সদ্য সমাপ্ত ফিফার মার্চ উইন্ডোর আন্তর্জাতিক ম্যাচগুলোতে কাঙ্ক্ষিত ফলাফল না আসায় এক ধাপ অবনতি হয়েছে লাল-সবুজ প্রতিনিধিদের। আজ প্রকাশিত ফিফা র্যাংকিংয়ে ১৮০ থেকে ১৮১তম অবস্থানে নেমে গেছে বাংলাদেশ। এশিয়ান কাপ বাছাই ও প্রস্তুতিমূলক প্রীতি ম্যাচে টানা দুই পরাজয়ে বড় মাসুল দিতে হলো জামাল ভূঁইয়াদের। গত ২৬ মার্চ নিজেদের চেয়ে ৭৮ ধাপ এগিয়ে থাকা ভিয়েতনামের বিপক্ষে ৩-০ গোলে হারের পর, গতকাল সিঙ্গাপুরের কাছেও ১-০ ব্যবধানে পরাজিত হয় বাংলাদেশ। এই দুই হারের ফলে বাংলাদেশের রেটিং পয়েন্ট কমেছে ৯.১৮। সিঙ্গাপুরের বিপক্ষে ম্যাচ শেষ করে আজ বুধবার বিকেলে ঢাকায় ফিরেছে জাতীয় ফুটবল দল। ফুটবলাররা এখন ঘরোয়া লিগের খেলায় মনোযোগ দেবেন। এদিকে, সিঙ্গাপুর থেকেই সরাসরি ইংল্যান্ডের উদ্দেশ্যে রওনা হয়েছেন হামজা চৌধুরী। এছাড়া সামিত, তারিক কাজী ও জায়ান আহমেদ যথাক্রমে কানাডা, ফিনল্যান্ড ও দুবাইয়ের পথে ঢাকা ছেড়েছেন। দলের স্প্যানিশ প্রধান কোচ হ্যাভিয়ের ক্যাবরেরা ঢাকায় ফিরলেও তার ভবিষ্যৎ এবং পুনরায় স্পেনে ফিরে যাওয়া নিয়ে ফুটবল অঙ্গনে শুরু হয়েছে নানা গুঞ্জন।
২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপে ইরানের অংশগ্রহণ নিয়ে তৈরি হওয়া দীর্ঘ জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটালেন ফিফা সভাপতি জিয়ানি ইনফান্তিনো। উদ্ভূত রাজনৈতিক জটিলতা এবং নিরাপত্তার অজুহাতে যুক্তরাষ্ট্রের মাটিতে খেলতে যাওয়ার ব্যাপারে যে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছিল, তা উড়িয়ে দিয়ে ইনফান্তিনো স্পষ্ট জানিয়েছেন—ইরান বিশ্বকাপে খেলবে এবং নির্ধারিত সূচি অনুযায়ীই খেলবে। সম্প্রতি এক সংবাদ সম্মেলনে ফিফা প্রধান বলেন, “ইরান বিশ্বকাপে থাকছে। আমাদের কাছে অন্য কোনো ‘প্ল্যান বি’ নেই।” গ্রুপ পর্বে ইরানের অধিকাংশ ম্যাচ যুক্তরাষ্ট্রে হওয়ার কথা থাকলেও দুই দেশের উত্তপ্ত রাজনৈতিক সম্পর্কের কারণে তেহরান তাদের ম্যাচগুলো মেক্সিকোতে সরিয়ে নেওয়ার অনুরোধ জানিয়েছিল। তবে ইনফান্তিনো জানিয়েছেন, হোয়াইট হাউস থেকে ইরানের প্রতিনিধিদের নিরাপত্তার ব্যাপারে ব্যক্তিগত নিশ্চয়তা পাওয়া গেছে। উল্লেখ্য, এই মাসের শুরুর দিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের নিরাপত্তা ও জীবনের ঝুঁকি বিবেচনা করে দেশটিকে বিশ্বকাপে অংশ না নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছিলেন। এর পরপরই ইরানের ক্রীড়া মন্ত্রণালয় ‘শত্রু দেশ’ হিসেবে চিহ্নিত দেশগুলোতে জাতীয় দলের ভ্রমণে নিষেধাজ্ঞা জারি করে, যা বিশ্বকাপের আসরে ইরানের উপস্থিতি নিয়ে বিশ্বব্যাপী ধোঁয়াশা সৃষ্টি করে। ফিফার এই অনড় অবস্থানের পর এখন দেখার বিষয়, তেহরান তাদের ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞার ব্যাপারে কী সিদ্ধান্ত নেয়।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান যুদ্ধাবস্থা ও তীব্র কূটনৈতিক উত্তেজনার মাঝেই ২০২৬ সালের ফুটবল বিশ্বকাপে ইরানের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করেছেন ফিফা প্রেসিডেন্ট জিয়ান্নি ইনফান্তিনো। আজ মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) তুরস্কে অনুষ্ঠিত ইরান ও কোস্টারিকার প্রীতি ম্যাচ চলাকালে তিনি এই ঘোষণা দেন। এর আগে নিরাপত্তার অজুহাতে বিশ্বকাপ থেকে ইরানের নাম প্রত্যাহারের গুঞ্জন উঠলেও ইনফান্তিনো যাবতীয় শঙ্কা উড়িয়ে দিয়ে জানান, পূর্বনির্ধারিত সূচি অনুযায়ী ইরান যুক্তরাষ্ট্রেই তাদের ম্যাচগুলো খেলবে। ফিফা প্রেসিডেন্ট উল্লেখ করেন, এই বিষয়ে তিনি মার্কিন প্রশাসনের সঙ্গে ব্যক্তিগতভাবে আলোচনা করেছেন এবং হোয়াইট হাউস থেকে ইরানি খেলোয়াড় ও প্রতিনিধি দলের নিরাপত্তা ও অবাধ প্রবেশের নিশ্চয়তা দেওয়া হয়েছে। এর আগে ইরান তাদের ম্যাচগুলো যুক্তরাষ্ট্র থেকে মেক্সিকোতে সরিয়ে নেওয়ার আবেদন করলেও ফিফা তা নাকচ করে দিয়েছিল। ইনফান্তিনো স্পষ্ট জানিয়েছিলেন যে, এই বিষয়ে ফিফার কাছে কোনো বিকল্প পরিকল্পনা বা ‘প্ল্যান বি’ নেই। কয়েকদিন আগে রাজনৈতিক ইস্যুতে ইরানের ক্রীড়ামন্ত্রী বিশ্বকাপে অংশ না নেওয়ার ইঙ্গিত দিলেও ফিফা প্রেসিডেন্টের সরাসরি হস্তক্ষেপে পরিস্থিতির আমূল পরিবর্তন ঘটেছে। ইনফান্তিনো জানান, ফুটবলের শক্তির মাধ্যমে তারা রাজনৈতিক বাধাগুলো অতিক্রম করতে চান। ফিফা প্রেসিডেন্ট এবং ইরানি দলের খেলোয়াড় ও কোচের মধ্যে আলোচনার পর এখন টুর্নামেন্টে দলটির অংশগ্রহণ নিয়ে সব অনিশ্চয়তা কেটে গেছে। সূত্র: আলজাজিরা
২০২৬ সালের ফুটবল বিশ্বকাপের ‘জি’ গ্রুপে ইরান, বেলজিয়াম, মিসর ও নিউজিল্যান্ডের মুখোমুখি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। গ্রুপের প্রথম ম্যাচে আগামী ১৫ জুন লস অ্যাঞ্জেলেসের সোফি স্টেডিয়ামে নিউজিল্যান্ড ইরানের মুখোমুখি হবে। নিউজিল্যান্ডের ফুটবলাররা জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্রের বাইরে ইরানের বিপক্ষে ম্যাচ খেললেও তাদের কোনো আপত্তি নেই। মধ্যপ্রাচ্যে গত ফেব্রুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার পর ইরান বিশ্বকাপে অংশগ্রহণ নিয়ে সংশয় তৈরি হয়েছিল। ইরান ফুটবল ফেডারেশন ইতিমধ্যেই ফিফার সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের বাইরে ম্যাচ সরানোর বিষয়ে আলোচনা শুরু করার কথা জানিয়েছিল। তবে ফিফা আনুষ্ঠানিকভাবে এ প্রস্তাব বিবেচনা করবে না বলে জানিয়েছে। ইরান ফুটবল ফেডারেশনের প্রধান মেহদী তাজ স্পষ্ট করে বলেছেন, “আমরা আমেরিকাকে বয়কট করব, কিন্তু বিশ্বকাপকে নয়।” তুরস্কে অনুশীলন ক্যাম্পের মাধ্যমে বিশ্বকাপের প্রস্তুতি অব্যাহত রেখেছে ইরান। দুইটি প্রীতি ম্যাচও তারা খেলবে। নিউজিল্যান্ডের মিডফিল্ডার রায়ান টমাস বলেন, “আমাদের যদি মেক্সিকো বা কানাডায় গিয়ে ইরানের বিপক্ষে খেলতে হয়, আমরা সেখানেই খেলব। এটি আমাদের জন্য বড় কোনো সমস্যা নয়।” ২০২৬ বিশ্বকাপের আয়োজক দেশ যুক্তরাষ্ট্র, মেক্সিকো ও কানাডা। নিউজিল্যান্ডের মূল বেস ক্যাম্প দক্ষিণ ক্যালিফোর্নিয়ার সান ডিয়েগো শহরে হবে। মেক্সিকোর প্রেসিডেন্ট ক্লদিয়া শেনবাউম জানিয়েছেন, দেশটি ইরানের বিশ্বকাপ ম্যাচ আয়োজনের জন্য প্রস্তুত। তবে চূড়ান্ত ভেন্যু পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত সম্পূর্ণ ফিফার ওপর নির্ভর করছে। তথ্যসূত্র: রয়টার্স
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
বাংলাদেশের আবাসন শিল্পে এক নতুন ইতিহাস রচিত হলো। রাজধানীর তেজগাঁও শিল্প এলাকায় নির্মিত দেশের প্রথম ৪০ তলা বিশিষ্ট আকাশচুম্বী বাণিজ্যিক ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করেছে শান্তা হোল্ডিংস। ৫০০ ফুট উচ্চতার এই আইকনিক ভবনটি এখন দেশের সর্বোচ্চ সম্পন্ন হওয়া ইমারত। গত শনিবার (১৮ এপ্রিল) ভবনের ৪০তম তলায় আয়োজিত এক আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এটি হস্তান্তর করা হয়। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের চেয়ারম্যান খন্দকার মনির উদ্দিন, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, স্থপতি এহসান খানসহ প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, ভূমি মালিক এবং গ্রাহকরা উপস্থিত ছিলেন। স্থাপত্যশৈলী ও আধুনিক প্রযুক্তি:‘শান্তা পিনাকল’ শুধুমাত্র উচ্চতার কারণেই অনন্য নয়, বরং এটি আধুনিক নির্মাণশৈলী ও প্রযুক্তির এক অনন্য সমন্বয়। এটি বাংলাদেশের প্রথম ভবন যা পরিবেশবান্ধব স্থাপত্যের জন্য আন্তর্জাতিক ‘লিড প্ল্যাটিনাম’ (LEED Platinum) স্বীকৃতি পেয়েছে। সিঙ্গাপুরভিত্তিক বিখ্যাত ইঞ্জিনিয়ারিং প্রতিষ্ঠান ‘মেইনহার্ট’ (Meinhardt) এর সহায়তায় ভবনটির স্ট্রাকচারাল ডিজাইন এবং ভূমিকম্প প্রতিরোধক ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে। বিশেষ বৈশিষ্ট্যসমূহ: উন্নত লিফট ব্যবস্থা: ভবনটিতে রয়েছে ৮টি দ্রুতগামী লিফট, যা প্রতি সেকেন্ডে ৪ মিটার উচ্চতায় উঠতে সক্ষম। এটি দেশের দ্রুততম ভার্টিক্যাল ট্রান্সপোর্ট ব্যবস্থা। পরিবেশ ও সুরক্ষা: ভবনে ব্যবহৃত হয়েছে ৩৬ মিমি পুরুত্বের ডাবল গ্লেজড গ্লাস, যা তাপ ও শব্দ নিরোধক। এছাড়া এটি দেশের প্রথম ‘উইন্ড টানেল টেস্ট’ করা ভবন, যা প্রতিকূল আবহাওয়ায় এর স্থায়িত্ব নিশ্চিত করে। আইবিএমএস প্রযুক্তি: পুরো ভবনটি একটি ইন্টেলিজেন্ট বিল্ডিং ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (iBMS) দ্বারা পরিচালিত, যা সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা ও জ্বালানি সাশ্রয় নিশ্চিত করবে। অগ্নি নিরাপত্তা: আন্তর্জাতিক এনএফপিএ (NFPA) স্ট্যান্ডার্ড অনুসরণ করে এখানে অত্যাধুনিক অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা স্থাপন করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর দেশের রিয়েল এস্টেট খাতের সক্ষমতার এক বড় প্রমাণ। এটি শুধুমাত্র তেজগাঁও নয়, বরং পুরো ঢাকার বাণিজ্যিক পরিবেশকে বিশ্বমানের স্তরে নিয়ে যাবে। দেশের ইতিহাসে প্রথমবার অ্যালুমিনিয়াম ফর্মওয়ার্ক ব্যবহারের মাধ্যমে মাত্র সাত দিনে এক একটি তলার ছাদ ঢালাইয়ের রেকর্ড গড়ে এই প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। ঢাকার আকাশসীমায় নতুন এই ল্যান্ডমার্ক দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং আধুনিক নগরায়নের এক শক্তিশালী প্রতীক হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে।
অস্ট্রেলিয়ার সিডনিতে ছয় বছরের এক শিশুকন্যা ও তার বাবার মৃত্যুকে ঘিরে শোকের ছায়া নেমে এসেছে স্থানীয় সম্প্রদায়ের মধ্যে। পুলিশ জানিয়েছে, পারামাট্টা নদীতে ঘটে যাওয়া এই মর্মান্তিক ঘটনায় ৪৭ বছর বয়সী মওলিক ধান্ধুকিয়া এবং তার ছয় বছরের মেয়ের মৃত্যু হয়েছে। ঘটনার পর তাদের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। স্থানীয় গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত শনিবার সিডনির কনকর্ড এলাকার কাছে একটি নৌকা ভাড়া করেছিলেন মওলিক ধান্ধুকিয়া। তার সঙ্গে ছিলেন ছয় বছর বয়সী কন্যা। কিছু সময় পর নদীতে জরুরি পরিস্থিতির খবর পেয়ে উদ্ধার অভিযান শুরু করে পুলিশ ও জরুরি সেবা সংস্থাগুলো। আরও পড়ুন...টেক্সাসে স্বামীর গুলিতে স্ত্রী নিহত, পরে পুলিশের গুলিতে স্বামী নিহত; দুই শিশুকে পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, দুপুরের কিছু আগে মওলিক ধান্ধুকিয়ার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এরপর প্রায় সাত ঘণ্টা ধরে শিশুটির সন্ধানে ব্যাপক অনুসন্ধান চালানো হয়। উদ্ধারকারীরা শেষ পর্যন্ত বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে শিশুকন্যার মরদেহ নদী থেকে উদ্ধার করেন। ঘটনার তদন্তে সহায়তার জন্য আশপাশের বিভিন্ন সূত্র থেকে তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে। স্থানীয় একটি স্থাপনার সিসিটিভি ফুটেজও তদন্তকারীদের হাতে এসেছে। পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনাটির প্রকৃত কারণ অনুসন্ধানে সব দিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত এক শোকবার্তায় জানানো হয়েছে, আগামী শুক্রবার রাউস হিলের ক্যাসেলব্রুক ক্রেমেটোরিয়ামে বাবা ও মেয়ের যৌথ শেষকৃত্য অনুষ্ঠিত হবে। শোকবার্তায় লেখা হয়েছে, “দুই কোমল ও সদয় আত্মা, যারা চিরকাল আমাদের হৃদয়ে বেঁচে থাকবে। তাদের আত্মার শান্তি কামনা করছি।” তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ঘটনার আগে কয়েক দফা নৌকা ভাড়া করেছিলেন মওলিক ধান্ধুকিয়া। একবার তার স্ত্রী প্রীতিবেন ধান্ধুকিয়াও তার সঙ্গে ছিলেন বলে জানা গেছে। আরও পড়ুন...টেক্সাসে বিস্ফোরণের আগুনে পুড়েও বাড়ি ও নাতি-নাতনিদের বাঁচালেন এক সাহসী দাদা পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে একটি চিরকুট উদ্ধার করেছে, যা তদন্তের অংশ হিসেবে পরীক্ষা করা হচ্ছে। তবে এখন পর্যন্ত এর বিষয়বস্তু প্রকাশ করা হয়নি। কেন এমন ঘটনা ঘটল, সে বিষয়ে নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। তবে মৃত্যুর প্রায় দুই সপ্তাহ আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দীর্ঘ একটি পোস্ট করেছিলেন মওলিক ধান্ধুকিয়া। সেখানে তিনি ২০০৫ সালে জিমে ব্যায়াম করার সময় ঘাড়ে পাওয়া আঘাতের কারণে দীর্ঘদিন ধরে ভোগা শারীরিক সমস্যার কথা উল্লেখ করেছিলেন। ওই পোস্টে তিনি লিখেছিলেন, ঘাড়ের দীর্ঘস্থায়ী ব্যথা তার জীবনের অনেক সমস্যার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছিল। এমআরআই পরীক্ষায় তার মেরুদণ্ডের ঘাড়ের অংশে স্নায়ুর ওপর চাপের বিষয়টি ধরা পড়ে বলেও তিনি উল্লেখ করেন। মওলিক ধান্ধুকিয়া পেশাগত জীবনে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে কাজ করতেন। ২০২২ সাল থেকে তিনি সাউথ ইস্টার্ন সিডনি লোকাল হেলথ ডিস্ট্রিক্টে অ্যাপ্লিকেশন সাপোর্ট বিশ্লেষক হিসেবে কর্মরত ছিলেন। এর আগে অস্ট্রেলিয়া ও ভারতে বিভিন্ন সফটওয়্যার প্রতিষ্ঠানে কাজ করেছেন। এই ঘটনার পর পরিবারটির জন্য সহায়তা তহবিলও গঠন করেছেন স্বজন ও পারিবারিক বন্ধুরা। তহবিল সংগ্রহের আহ্বানে বলা হয়েছে, প্রীতিবেন ধান্ধুকিয়া একসঙ্গে তার স্বামী ও একমাত্র কন্যাকে হারিয়েছেন। এই কঠিন সময়ে তাকে আর্থিক ও মানসিক সহায়তা দেওয়ার জন্য সবাইকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানানো হয়েছে। ▶️ ট্রাম্পের লাখ ডলারের এইচ-১বি ভিসা ফি অবৈধ ঘোষণা মার্কিন আদালতের তহবিলের অর্থ শেষকৃত্যের ব্যয়, ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতা এবং নিকট আত্মীয়দের যাতায়াত ও আবাসন খাতে ব্যবহার করা হবে বলে জানানো হয়েছে। নিউ সাউথ ওয়েলস পুলিশের সুপারিনটেনডেন্ট ক্রিস্টিন ম্যাকডোনাল্ড ঘটনাটিকে “পরিবার ও সমাজের জন্য এক গভীর ট্র্যাজেডি” হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তিনি বলেন, “এটি অত্যন্ত হৃদয়বিদারক একটি ঘটনা। আমরা সব দিক থেকে তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছি এবং কোনো সম্ভাবনাই উপেক্ষা করা হবে না।” পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার পেছনে পারিবারিক সহিংসতার কোনো উপাদান ছিল কি না, সেটিও তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। তবে এখন পর্যন্ত কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো হয়নি। ঘটনার পর পুরো এলাকায় শোকের আবহ বিরাজ করছে। বাবা ও মেয়ের একসঙ্গে শেষকৃত্যের খবর আরও আবেগঘন পরিবেশ তৈরি করেছে। স্বজন ও পরিচিতজনরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাদের স্মরণ করে শোক প্রকাশ করছেন।
যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা প্রত্যাশীদের জন্য কঠোর হচ্ছে নিয়মাবলী। আগামী ৩০ মার্চ থেকে কার্যকর হতে যাচ্ছে নতুন ভিসা রুলস, যেখানে আবেদনকারীদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের প্রোফাইল পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই বা স্ক্রিনিং করা হবে। মার্কিন প্রশাসনের এই নতুন পদক্ষেপে বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ভিসা প্রত্যাশীদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। নতুন এই নিয়ম মূলত অ-অভিবাসী (Non-immigrant) এবং অভিবাসী (Immigrant) উভয় ধরণের ভিসার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হতে পারে। বিশেষ করে যারা ট্যুরিস্ট ভিসা, স্টুডেন্ট ভিসা এবং কাজের সন্ধানে এইচ-১বি (H-1B) ভিসার জন্য আবেদন করবেন, তাদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের তথ্য প্রদান বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে। আবেদনকারীদের গত পাঁচ বছরের ব্যবহৃত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোর ইউজার আইডি বা হ্যান্ডেল নাম ফর্মে উল্লেখ করতে হবে। ফেসবুক, টুইটার (বর্তমানে এক্স), ইনস্টাগ্রাম এবং ইউটিউবের মতো জনপ্রিয় প্ল্যাটফর্মগুলো এই স্ক্রিনিংয়ের আওতায় থাকবে। তবে পাসওয়ার্ড দেওয়ার প্রয়োজন হবে না। মূলত আবেদনকারীর নিরাপত্তা ঝুঁকি এবং পূর্ববর্তী কোনো উসকানিমূলক বা সন্দেহজনক কর্মকাণ্ড আছে কি না, তা যাচাই করতেই এই পদক্ষেপ। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং জননিরাপত্তার স্বার্থেই এই স্ক্রিনিং প্রক্রিয়া জোরদার করা হয়েছে। কোনো ব্যক্তি যদি অতীতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে উগ্রবাদ বা আইনবিরোধী কোনো কাজে লিপ্ত থেকে থাকেন, তবে তার ভিসা আবেদন বাতিল হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হবে। ভিসা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ৩০ মার্চের পর যারা আবেদন করবেন, তাদের অবশ্যই গত ৫ বছরের ডিজিটাল ফুটপ্রিন্ট সম্পর্কে সতর্ক থাকতে হবে। কোনো ভুল তথ্য দিলে বা তথ্য গোপন করলে তা স্থায়ীভাবে ভিসা প্রত্যাখ্যাত হওয়ার কারণ হতে পারে। এছাড়া ইমেইল অ্যাড্রেস এবং ফোন নম্বর প্রদানের ক্ষেত্রেও অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এই নতুন নিয়ম চালুর ফলে ভিসা প্রক্রিয়াকরণে কিছুটা অতিরিক্ত সময় লাগতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তাই প্রয়োজনীয় কাগজপত্র এবং অনলাইন প্রোফাইল গুছিয়ে আবেদন করার পরামর্শ দিচ্ছে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো।