সাপ্তাহিক আমেরিকা বাংলা ই-পেপার

ফ্লাইট

সৌদি আরবগামী ৮৯ ফ্লাইটে বিঘ্ন
সৌদি আরবগামী ৮৯ ফ্লাইটে বিঘ্ন, ভোগান্তিতে পড়েছেন বাংলাদেশি প্রবাসীসহ ১৪ হাজার যাত্রী

সৌদি আরবের বিমানবন্দরগুলোতে কার্যক্রম সীমিত হওয়ায় ঢাকা থেকে পরিচালিত সরাসরি ও ট্রানজিট ফ্লাইটে বিঘ্ন ঘটেছে। বাংলাদেশের বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, ১৪ অক্টোবর পর্যন্ত মোট ৮৯টি ফ্লাইটের যাত্রা ব্যাহত হয়েছে। এতে অন্তত ১৪ হাজার ৬৫৫ জন যাত্রী প্রভাবিত হয়েছেন। বুধবার প্রকাশিত দ্য ডেইলি স্টার-এর প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়েছে।    প্রতিবেদন অনুযায়ী, ক্ষতিগ্রস্ত ফ্লাইটের মধ্যে বাংলাদেশ ও সৌদি আরবের মধ্যে সরাসরি চলাচলকারী ৩৯টি এবং বিভিন্ন দেশের বিমানবন্দর হয়ে পরিচালিত ৫০টি ট্রানজিট ফ্লাইট রয়েছে। সরাসরি ফ্লাইটের মধ্যে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের ১৭টি, ইউএস-বাংলা এয়ারলাইনসের ১০টি, রিয়াদ এয়ারের সাতটি এবং সৌদিয়ার পাঁচটি ফ্লাইট প্রভাবিত হয়েছে।   ট্রানজিট ফ্লাইটের ক্ষেত্রে ইন্ডিগোর ২২টি, এমিরেটসের ১১টি, কাতার এয়ারওয়েজ ও ফ্লাইদুবাইয়ের ছয়টি করে, সালামএয়ারের চারটি এবং ইজিপ্টএয়ারের একটি ফ্লাইটের কার্যক্রম ব্যাহত হয়েছে।   প্রতিবেদনটিতে সৌদি আরবে ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহীদের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার কারণে নিরাপত্তা পরিস্থিতির অবনতির কথা উল্লেখ করা হয়েছে। রিয়াদে বিস্ফোরণের খবর এবং সৌদি বিমান প্রতিরক্ষাব্যবস্থার তৎপরতার কথাও প্রতিবেদনে এসেছে। এসব ঘটনার মধ্যে কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কার্যক্রম বন্ধ থাকার কথা জানানো হয়েছে।   বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস ১৭ অক্টোবর পর্যন্ত ঢাকা–রিয়াদ ও ঢাকা–দাম্মাম ফ্লাইট স্থগিত রাখার কথা জানিয়েছে। জরুরি ভ্রমণপ্রয়োজন রয়েছে এমন যাত্রীদের জন্য জেদ্দা ও মদিনা বিমানবন্দর ব্যবহারের বিষয়টি বিবেচনা করতে বলেছে সংস্থাটি। ইউএস-বাংলা এয়ারলাইনসের ঢাকা–রিয়াদ–ঢাকা ফ্লাইট ২১ অক্টোবর পর্যন্ত স্থগিত রাখার তথ্যও প্রতিবেদনে রয়েছে।   এই পরিস্থিতিতে সৌদি আরবে কর্মরত বাংলাদেশি শ্রমিক, ছুটিতে দেশে আসা প্রবাসী এবং ওমরাহযাত্রীদের ভ্রমণ পরিকল্পনা অনিশ্চয়তায় পড়তে পারে। যাঁদের ফ্লাইটের তারিখ কাছাকাছি, তাঁদের টিকিটের অবস্থা, নতুন সময়সূচি এবং বিকল্প যাত্রাপথ সম্পর্কে সংশ্লিষ্ট বিমান সংস্থার সঙ্গে যোগাযোগ করা জরুরি।   তবে সব সৌদিগামী ফ্লাইট বাতিল হয়েছে—এমনটি বলা যাবে না। প্রতিবেদনটি নির্দিষ্টসংখ্যক সরাসরি ও ট্রানজিট ফ্লাইটে বিঘ্নের তথ্য দিয়েছে। পরিস্থিতি পরিবর্তিত হলে সময়সূচিও বদলাতে পারে।

বায়জিদ হাসান অক্টোবর ১৩, ২০২৬ ১৪:০
mother-and-child-watching-airplanes-at-airport-win
যুক্তরাষ্ট্রে ফ্লাইট বিলম্বে খাবার-হোটেল সুবিধা কমতে পারে ১৯ অক্টোবর থেকে

যুক্তরাষ্ট্রে ১৯ অক্টোবর থেকে ফ্লাইট বিলম্ব ও বাতিলের কারণ নথিভুক্ত করার নিয়ম বদলাচ্ছে। নতুন নিয়মে ১০ ধরনের ঘটনাকে এয়ারলাইনসের নিয়ন্ত্রণে থাকা কারণের তালিকা থেকে সরিয়ে আলাদা শ্রেণিতে রাখা হবে। এতে ওই সব কারণে ফ্লাইটে বিঘ্ন ঘটলে যাত্রীদের খাবার, হোটেল বা অন্য সুবিধা পাওয়ার সুযোগ কমতে পারে বলে জানিয়েছে মার্কিন পরিবহন বিভাগ।   এত দিন এয়ারলাইনসের নিয়ন্ত্রণে থাকা কারণে দীর্ঘ বিলম্ব বা ফ্লাইট বাতিল হলে কোম্পানিগুলোর নিজস্ব অঙ্গীকার অনুযায়ী যাত্রীরা বিভিন্ন সুবিধা পেতেন। নতুন নিয়মে নির্দিষ্ট ১০টি কারণ সেই শ্রেণিতে গণনা করা হবে না। পরিবহন বিভাগ বলছে, এর ফলে সুবিধা বা ক্ষতিপূরণ দেওয়া হয় এমন ঘটনার সংখ্যা কমতে পারে। তবে কতজন যাত্রী প্রভাবিত হবেন বা সুবিধার পরিমাণ কতটা কমবে, সে হিসাব তাদের কাছে নেই।   নতুন শ্রেণিতে থাকছে যাত্রীর মৃত্যুর পর উড়োজাহাজ পরিষ্কারের প্রয়োজন, চরম আবহাওয়া বা বাইরের কোনো বস্তুর আঘাতে উড়োজাহাজের ক্ষতি, এয়ারলাইনস বা তার ঠিকাদারের নিয়ন্ত্রণে নেই এমন ব্যাগেজ ব্যবস্থার ত্রুটি এবং নির্দিষ্ট শর্তে সাইবার হামলা। সরকারি ব্যবস্থার অপ্রত্যাশিত ত্রুটি সরাসরি নিরাপদে ফ্লাইট পরিচালনায় বাধা দিলেও সেটি এই শ্রেণিতে পড়বে।   এ ছাড়া জরুরি নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়ার কারণে ব্রেক অতিরিক্ত গরম হওয়া, ফ্লাইটের আগে সমাধান করতেই হবে এমন অনির্ধারিত রক্ষণাবেক্ষণ, এয়ারলাইনসের দায় ছাড়া চিকিৎসাজনিত জরুরি অবস্থা, বিশৃঙ্খল যাত্রীকে নামিয়ে দেওয়া এবং আগ্নেয়গিরির ছাই বা ঝোড়ো হাওয়ার কারণে বিমানবন্দর বন্ধ হওয়াও তালিকায় রয়েছে। সব ধরনের যান্ত্রিক ত্রুটি বা রক্ষণাবেক্ষণ এই ছাড়ের আওতায় পড়বে না; নিয়মে নির্দিষ্ট পরিস্থিতির কথা বলা হয়েছে।   যাত্রীদের জন্য খাবার ও হোটেলের ব্যবস্থা আর টিকিটের মূল্য ফেরত পাওয়া দুটি আলাদা বিষয়। এয়ারলাইনস ফ্লাইট বাতিল করলে বা সময়সূচিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন আনলে যাত্রী বিকল্প ফ্লাইট কিংবা ভাউচার গ্রহণ না করে রিফান্ড নিতে পারেন। ফ্লাইট বাতিলের কারণ এয়ারলাইনসের নিয়ন্ত্রণে ছিল কি না, তার ওপর এই রিফান্ডের অধিকার নির্ভর করে না।   পরিবহন বিভাগের বর্তমান নির্দেশনা অনুযায়ী, অভ্যন্তরীণ যাত্রায় নির্ধারিত সময়ের অন্তত তিন ঘণ্টা এবং আন্তর্জাতিক যাত্রায় অন্তত ছয় ঘণ্টা পরে গন্তব্যে পৌঁছানোর মতো পরিবর্তন উল্লেখযোগ্য বিলম্বের মধ্যে পড়ে। তবে পরিবর্তিত বা বিকল্প ফ্লাইটে ভ্রমণ করলে সাধারণত পুরো টিকিটের মূল্য ফেরত পাওয়ার নিয়ম প্রযোজ্য হয় না।   ২০২৪ সালে পাস হওয়া আইনের নির্দেশনা কার্যকর করতেই পরিবহন বিভাগ এই শ্রেণিবিন্যাস বদলাচ্ছে। ফ্লাইটে বিঘ্ন ঘটলে যাত্রীরা এয়ারলাইনসের কাছে বিলম্বের কারণ জানতে এবং কোম্পানির কাস্টমার সার্ভিস নীতিতে খাবার, হোটেল বা অন্য সুবিধার কী অঙ্গীকার রয়েছে, তা দেখতে পারেন।

বায়জিদ হাসান অক্টোবর ১০, ২০২৬ ১৪:০
১৩ বছরে বাবা-মাকে হারানো নাজমুস সোহান এখন অস্ট্রেলিয়ার বিমানবাহিনীর ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট
১৩ বছরে বাবা-মাকে হারানো নাজমুস সোহান এখন অস্ট্রেলিয়ার বিমানবাহিনীর ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট

মাত্র ১৩ বছর বয়সে সড়ক দুর্ঘটনায় বাবা-মা দুজনকেই হারিয়েছিলেন খুলনার ডুমুরিয়ার নাজমুস সোহান। সেই কঠিন শৈশব পেরিয়ে আজ তিনি অস্ট্রেলিয়ার রয়্যাল এয়ার ফোর্সের ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট। বর্তমানে দেশটির অ্যাডিলেডে অবস্থিত এডিনবরা বিমানঘাঁটির একটি গুরুত্বপূর্ণ ইউনিটের অফিসার ইনচার্জ হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন তিনি। পাশাপাশি অস্ট্রেলিয়া ও বাংলাদেশে একাধিক ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের সঙ্গেও যুক্ত রয়েছেন এই বাংলাদেশি তরুণ।   খুলনার ডুমুরিয়ায় বেড়ে ওঠা নাজমুস সোহানের শিক্ষাজীবন শুরু হয় ডুমুরিয়া হাইস্কুলে। পরে পড়াশোনা করেন ডুমুরিয়া কলেজে। তবে কৈশোরেই তাঁর জীবনে নেমে আসে বড় বিপর্যয়। সড়ক দুর্ঘটনায় বাবা-মাকে হারানোর পর পরিবারের অন্য সদস্যদের সহযোগিতায় বড় হতে থাকেন তিনি। এর প্রায় তিন বছর পর বড় ভাই অস্ট্রেলিয়ায় চলে গেলে ফুফুর বাড়িতে থাকতে শুরু করেন সোহান।   জীবনের নানা প্রতিকূলতার মধ্যেও নিজের ভবিষ্যৎ গড়ার চেষ্টা চালিয়ে যান তিনি। ২০১৫ সালে উচ্চশিক্ষার উদ্দেশ্যে পাড়ি জমান অস্ট্রেলিয়ায়। ভর্তি হন মেলবোর্নের মোনাশ বিশ্ববিদ্যালয়ে। নতুন দেশ ও ভিন্ন পরিবেশে শুরু হয় তাঁর জীবনের আরেক অধ্যায়।   অস্ট্রেলিয়ায় অবস্থানকালে ডুমুরিয়ার জমাদ্দার পরিবারের মেয়ে সুরাইয়া মান্নানের সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক গড়ে ওঠে। ব্যক্তিগত জীবনের পাশাপাশি নিজের কর্মজীবন নিয়েও নতুন পরিকল্পনা করতে থাকেন সোহান। বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনার একপর্যায়ে ব্যবসায় যুক্ত হওয়ার সিদ্ধান্ত নেন তিনি।   শুরুতে একটি ভাষা শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলেন। এরপর ব্যবসার প্রয়োজনে মেলবোর্ন থেকে ব্রিসবেন, সেখান থেকে সিডনি এবং পরে অ্যাডিলেডে চলে যান। ব্যবসার শুরুতে নানা চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হলেও উদ্যোগ নেওয়া বন্ধ করেননি। এ সময় বড় ভাইয়ের উৎসাহ ও দিকনির্দেশনা তাঁর এগিয়ে যাওয়ার অন্যতম সহায়তা ছিল।   বর্তমানে বাংলাদেশের পোশাক ব্র্যান্ড ‘হেভি মেটাল টি-শার্ট’-এর সহমালিক নাজমুস সোহান। পাশাপাশি অস্ট্রেলিয়ায় একটি কলেজের সহমালিক এবং একটি ভাষা স্কুলের সহপ্রতিষ্ঠাতা হিসেবেও যুক্ত রয়েছেন তিনি।   ব্যবসায় নিজের অবস্থান তৈরি করার পর সম্পূর্ণ ভিন্ন পেশায় ক্যারিয়ার গড়ার সিদ্ধান্ত নেন সোহান। যোগ দিতে চান রয়্যাল অস্ট্রেলিয়ান এয়ার ফোর্সে। তবে সামরিক বাহিনীতে প্রবেশের পথ সহজ ছিল না। প্রায় তিন বছর ধরে নিয়োগপ্রক্রিয়ার বিভিন্ন ধাপ অতিক্রম করার পর ফ্লাইং অফিসার হিসেবে বিমানবাহিনীতে যোগ দেন তিনি।   সামরিক বাহিনীর কঠোর প্রশিক্ষণ, নিয়মশৃঙ্খলা ও দায়িত্ব পালনের সঙ্গে নিজেকে মানিয়ে নিতে হয়েছে তাঁকে। ব্যবসা পরিচালনার অভিজ্ঞতা থাকলেও সামরিক পরিবেশ ছিল সম্পূর্ণ আলাদা। প্রশিক্ষণের প্রতিটি পর্যায়ে শারীরিক সক্ষমতা, মানসিক দৃঢ়তা ও দায়িত্ববোধের পরীক্ষা দিতে হয়েছে।   পরবর্তী সময়ে কর্মদক্ষতা ও দায়িত্ব পালনের ধারাবাহিকতায় ফ্লাইং অফিসার থেকে ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট পদে উন্নীত হন নাজমুস সোহান। বর্তমানে অ্যাডিলেডের এডিনবরা বিমানঘাঁটির একটি বড় ইউনিটের অফিসার ইনচার্জ হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন তিনি।   অস্ট্রেলিয়ার বিমানবাহিনীর তথ্য অনুযায়ী, এডিনবরা বিমানঘাঁটি দেশটির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সামরিক বিমানঘাঁটি। দক্ষিণ অস্ট্রেলিয়ায় অবস্থিত এই ঘাঁটি নজরদারি, গোয়েন্দা কার্যক্রম ও সামরিক বিমান পরিচালনাসহ বিভিন্ন প্রতিরক্ষা কার্যক্রমের গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র। ১৯৫৪ সালে আনুষ্ঠানিকভাবে চালু হওয়া ঘাঁটিটি বর্তমানে অস্ট্রেলিয়ার প্রতিরক্ষা ব্যবস্থায় বিশেষ ভূমিকা পালন করছে।   পেশাগত দায়িত্বের পাশাপাশি ব্যক্তিগত জীবনেও পরিবারকে গুরুত্ব দেন সোহান। স্ত্রী সুরাইয়া মান্নান ও এক বছর বয়সী মেয়ে সিজদাকে নিয়ে তাঁর সংসার। কর্মব্যস্ততার বাইরে মেয়ের সঙ্গে সময় কাটাতে ভালোবাসেন তিনি। অবসরে বন্ধুদের সঙ্গে টেনিস খেলাও তাঁর অন্যতম পছন্দ।   ব্যবসা ও সামরিক বাহিনীর দায়িত্বের পাশাপাশি সামাজিক কর্মকাণ্ডেও যুক্ত রয়েছেন নাজমুস সোহান। অসচ্ছল মানুষের জন্য ঘর নির্মাণে সহযোগিতা, শীতবস্ত্র বিতরণ, মসজিদ নির্মাণ এবং প্রয়োজনীয় খাবার ও ওষুধ পৌঁছে দেওয়ার মতো বিভিন্ন উদ্যোগে অংশ নেন তিনি।   নিজের এসব সামাজিক উদ্যোগ নিয়ে প্রচারের চেয়ে নীরবে কাজ করতেই বেশি স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন সোহান। ব্যক্তিগত ও পেশাগত জীবনের ব্যস্ততার মধ্যেও অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা অব্যাহত রেখেছেন।   ডুমুরিয়ার একটি সাধারণ পরিবার থেকে উঠে এসে অস্ট্রেলিয়ার সামরিক বাহিনীতে দায়িত্বপূর্ণ পদে পৌঁছানোর এই যাত্রায় নানা প্রতিকূলতা মোকাবিলা করতে হয়েছে নাজমুস সোহানকে। কৈশোরে বাবা-মাকে হারানো, আত্মীয়ের বাড়িতে বেড়ে ওঠা, বিদেশে নতুন জীবন শুরু করা, ব্যবসায় ঝুঁকি নেওয়া এবং পরে সামরিক বাহিনীতে যোগ দেওয়া, প্রতিটি পর্যায়ে নতুন পরিস্থিতির সঙ্গে নিজেকে মানিয়ে নিতে হয়েছে তাঁকে।   মাত্র ১৩ বছর বয়সে যে কিশোর বাবা-মাকে হারিয়ে অনিশ্চিত ভবিষ্যতের মুখোমুখি হয়েছিলেন, সেই নাজমুস সোহান আজ অস্ট্রেলিয়ার বিমানবাহিনীর ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট। ব্যক্তিগত জীবনের কঠিন অভিজ্ঞতা পেরিয়ে ব্যবসা ও সামরিক বাহিনীতে তাঁর এই পথচলা অধ্যবসায়, পরিশ্রম ও নতুন করে শুরু করার একটি উল্লেখযোগ্য উদাহরণ।

নীলুফা নিশাত অক্টোবর ৯, ২০২৬ ১৪:০
জেট ফুয়েলের দাম বাড়ায় ফ্লাইট সূচিতে পরিবর্তন আনছে বড় মার্কিন এয়ারলাইনগুলো
জ্বালানি তেলের দাম বাড়ায় ফ্লাইট কমাচ্ছে বড় এয়ারলাইনগুলো, বাড়তে পারে ভাড়া

জেট ফুয়েলের দাম দ্রুত বেড়ে যাওয়ায় যুক্তরাষ্ট্রের বড় কয়েকটি এয়ারলাইন ফ্লাইটের সংখ্যা ও সক্ষমতা কমানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে। আমেরিকান এয়ারলাইনস, ইউনাইটেড এয়ারলাইনস ও সাউথওয়েস্ট এয়ারলাইনসের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, বাড়তি জ্বালানি খরচ সামাল দিতে তারা ফ্লাইট সূচি নিয়মিত পর্যালোচনা করছেন এবং প্রয়োজন অনুযায়ী পরিবর্তন আনছেন।   ইন্টারন্যাশনাল এয়ার ট্রান্সপোর্ট অ্যাসোসিয়েশনের তথ্য অনুযায়ী, গত সপ্তাহে বিশ্ববাজারে জেট ফুয়েলের গড় দাম আগের সপ্তাহের তুলনায় ৬ দশমিক ১ শতাংশ বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ১৮১ দশমিক ৪৬ ডলারে পৌঁছেছে। জ্বালানির এই মূল্যবৃদ্ধি এয়ারলাইনগুলোর পরিচালন ব্যয়ে বড় চাপ তৈরি করছে।   আমেরিকান এয়ারলাইনসের প্রধান আর্থিক কর্মকর্তা ডেভন মে জানিয়েছেন, চতুর্থ প্রান্তিকে জেট ফুয়েলের দাম জুলাইয়ে করা পূর্বাভাসের তুলনায় গ্যালনপ্রতি প্রায় ১ ডলার বেশি হতে পারে। এতে শুধু আমেরিকান এয়ারলাইনসের জ্বালানি ব্যয় প্রায় ১০০ কোটি ডলার বাড়তে পারে বলে তিনি জানান।   মে বলেন, বাড়তি জ্বালানি খরচের সঙ্গে সামঞ্জস্য রাখতে বছরের শেষ প্রান্তিকে এয়ারলাইনটির ফ্লাইট সক্ষমতায় আরও কিছু পরিবর্তন আনা হবে। তবে তিনি জানান, চলতি তৃতীয় প্রান্তিকে কোম্পানির ব্যবসায়িক কার্যক্রম নিয়ে তারা সন্তুষ্ট।   আমেরিকান এয়ারলাইনসের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা রবার্ট আইসমের মতে, জ্বালানির বাড়তি খরচের একটি বড় অংশ যাত্রীদের কাছ থেকে পাওয়া বাড়তি আয় দিয়ে সামাল দেওয়া সম্ভব হয়েছে। তিনি আরও জানান, তৃতীয় প্রান্তিকে গত বছরের একই সময়ের তুলনায় এয়ারলাইনটির আয় ১৬ থেকে ১৯ শতাংশ বাড়তে পারে বলে তারা আশা করছেন।   এদিকে ইউনাইটেড এয়ারলাইনসের প্রধান আর্থিক কর্মকর্তা মাইকেল লেস্কিনেন জানিয়েছেন, জ্বালানির দাম বেশি থাকায় ডিসেম্বরে নির্ধারিত কিছু ফ্লাইট পরিচালনা করা হবে না। পরিস্থিতি অপরিবর্তিত থাকলে আগামী বছরের প্রথম প্রান্তিক এবং পরবর্তী সময়েও ফ্লাইট সূচিতে আরও পরিবর্তন আনা হতে পারে।   তবে ইউনাইটেডের কর্মকর্তার বক্তব্য অনুযায়ী, জ্বালানির দাম বাড়লেও তাদের ফ্লাইট বুকিংয়ে এখনো বড় ধরনের নেতিবাচক প্রভাব দেখা যাচ্ছে না। প্রিমিয়াম যাত্রী, করপোরেট ভ্রমণ এবং সাধারণ শ্রেণির বুকিং—সব ক্ষেত্রেই চাহিদা তুলনামূলকভাবে শক্তিশালী রয়েছে।   সাউথওয়েস্ট এয়ারলাইনসও জ্বালানি খরচের চাপ সামাল দিতে ফ্লাইট সক্ষমতা নিয়ে পরিবর্তনের কথা জানিয়েছে। কোম্পানির প্রধান আর্থিক কর্মকর্তা টম ডক্সি বলেন, ২০২৬ সালের শুরুতে যে পরিমাণ সক্ষমতা বৃদ্ধির পরিকল্পনা করা হয়েছিল, তার প্রায় অর্ধেক ইতোমধ্যে বাদ দেওয়া হয়েছে।   ডক্সি বলেন, জ্বালানির দাম দীর্ঘ সময় বেশি থাকলে ফ্লাইট সক্ষমতা কমানো স্বাভাবিক পদক্ষেপ হতে পারে। তবে সাউথওয়েস্টের এক মুখপাত্র পরে জানান, এখন পর্যন্ত সূচিতে যে পরিবর্তন করা হয়েছে তা খুবই সীমিত। ডক্সির বক্তব্যটি মূলত পরিস্থিতি বোঝানোর উদাহরণ ছিল, ইতোমধ্যে নেওয়া কোনো বড় পদক্ষেপের ঘোষণা নয়।   সাউথওয়েস্ট জানিয়েছে, শরৎকালের প্রত্যাশার চেয়ে ভালো বুকিং বাড়তি জ্বালানি খরচের প্রভাব কিছুটা সামাল দিতে সাহায্য করছে। এ কারণে চলতি তৃতীয় প্রান্তিকের আয়সংক্রান্ত পূর্বাভাসও তারা বজায় রেখেছে।   এয়ারলাইনগুলো বলছে, যাত্রী চাহিদা এখনো তুলনামূলকভাবে শক্তিশালী থাকলেও জেট ফুয়েলের দাম কতদিন উচ্চ থাকবে, তার ওপর পরবর্তী সিদ্ধান্ত অনেকটাই নির্ভর করছে। জ্বালানি খরচ দীর্ঘ সময় বেশি থাকলে ফ্লাইট সংখ্যা কমানোর পাশাপাশি যাত্রীদের টিকিটের দামেও এর প্রভাব পড়তে পারে।    

অলি উল্লাহ আল মাসুদ সেপ্টেম্বর ২৬, ২০২৬ ১৪:০
শত শত ফ্লাইট বাতিলের পর স্বাভাবিক হচ্ছে চলাচল
নিউইয়র্কের তিন বড় বিমানবন্দরে ভয়াবহ প্রযুক্তিগত বিভ্রাট, শত শত ফ্লাইট বাতিলের পর স্বাভাবিক হচ্ছে চলাচল

যুক্তরাষ্ট্রের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের আকাশপথে বড় ধরনের প্রযুক্তিগত বিপর্যয়ের পর নিউইয়র্ক এলাকার তিন প্রধান বিমানবন্দর—নিউয়ার্ক লিবার্টি, জন এফ কেনেডি (জেএফকে) ও লাগার্ডিয়ায় আবার ফ্লাইট চলাচল শুরু হয়েছে। তবে মঙ্গলবারও কিছু ফ্লাইটে বিলম্ব ও বাতিলের প্রভাব রয়ে গেছে।   সোমবার সমস্যার সূত্রপাত হয় ফিলাডেলফিয়ায় অবস্থিত ফেডারেল এভিয়েশন অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের (এফএএ) একটি গুরুত্বপূর্ণ এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোল স্থাপনায়। সেখানে প্রধান যোগাযোগ লাইন বিকল হয়ে যায়। একই সময়ে ব্যাকআপ ফাইবার অপটিক লাইনও কেটে যাওয়ায় পরিস্থিতি আরও গুরুতর হয়ে ওঠে। এতে নিয়ন্ত্রকেরা কয়েক ঘণ্টার জন্য প্রয়োজনীয় রাডার ও যোগাযোগব্যবস্থা ব্যবহারে সমস্যায় পড়েন।    সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয় নিউয়ার্ক লিবার্টি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর। এপি জানিয়েছে, সেখানে সোমবার সকাল প্রায় ৯টা ৪০ মিনিট থেকে বিকেল ৫টা ২০ মিনিট পর্যন্ত বাণিজ্যিক বিমান চলাচল কার্যত বন্ধ ছিল। শত শত ফ্লাইট বাতিল হয়। একই সমস্যার প্রভাব জেএফকে, লাগার্ডিয়া ও ফিলাডেলফিয়াসহ উত্তর-পূর্বাঞ্চলের অন্যান্য বিমানবন্দরেও ছড়িয়ে পড়ে।    মার্কিন পরিবহনমন্ত্রী শন ডাফি জানিয়েছেন, প্রধান যোগাযোগ লাইনে সমস্যা হওয়ার পাশাপাশি নিউ জার্সিতে নির্মাণকাজের সময় একটি ব্যাকআপ ফাইবার লাইন কেটে যায়। পরে ক্ষতিগ্রস্ত লাইন মেরামত করা হয় এবং সোমবার রাত থেকে বিমান চলাচল পুনরায় শুরু হয়।    এফএএর নথিতেও দেখা যাচ্ছে, জেএফকে, লাগার্ডিয়া ও নিউয়ার্কের জন্য চালু করা বিলম্ব নিয়ন্ত্রণ কর্মসূচি পরে বাতিল করা হয়েছে।    ঘটনাটি এমন সময়ে ঘটেছে যখন জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশন ঘিরে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্র ও সরকারপ্রধান নিউইয়র্কে অবস্থান করছেন। ফলে বিমান চলাচলের এই বিপর্যয় আন্তর্জাতিক প্রতিনিধিদের যাতায়াতেও প্রভাব ফেলেছে।

বায়জিদ হাসান সেপ্টেম্বর ২১, ২০২৬ ১৪:০
আকাশপথে কানাডায় ঢুকেই অ্যাসাইলাম চাইলেন মার্কিন নারী
আকাশপথে কানাডায় ঢুকেই অ্যাসাইলাম চাইলেন মার্কিন নারী, হাতে ছিল চিরকুট

যুক্তরাষ্ট্রের অ্যারিজোনা অঙ্গরাজ্যের ফিনিক্স থেকে কানাডার মন্ট্রিয়লগামী এয়ার কানাডার একটি ফ্লাইটে মাঝ আকাশে অ্যাসাইলাম চাওয়ার ঘটনা ঘটেছে। ২০ সেপ্টেম্বরের AC1730 ফ্লাইটে থাকা এক মার্কিন নারী হাতে লেখা নোটের মাধ্যমে কেবিন ক্রুদের কাছে কানাডায় আশ্রয় চাওয়ার কথা জানান। ফ্লাইটটি নির্ধারিত সময়েই মন্ট্রিয়লে পৌঁছায় এবং অবতরণের পর ওই যাত্রীকে নিয়ে কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয় বলে একাধিক প্রতিবেদনে জানা গেছে।   প্রতিবেদন অনুযায়ী, ফিনিক্স স্কাই হারবার আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে মন্ট্রিয়ল ট্রুডো আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের উদ্দেশে উড্ডয়নের পর ওই নারী কেবিন ক্রুদের নজরে আসেন। তিনি ১৪ নম্বর সারিতে বসেছিলেন। তার আচরণ নিয়ে ক্রুদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হলে তিনি জানান, তিনি মানসিক স্বাস্থ্যের জন্য ওষুধ সেবন করছেন। এরপর তিনি ফ্লাইট অ্যাটেনডেন্টদের হাতে হাতে লেখা কয়েকটি নোট দেন, যেখানে কানাডায় অ্যাসাইলাম চাওয়ার কথা উল্লেখ ছিল।   ঘটনার পর পাইলট ও ফ্লাইট অপারেশনের মধ্যে যোগাযোগ হয়। সংশ্লিষ্ট প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ককপিট থেকে জানানো হয় যে ওই যাত্রী শান্ত ছিলেন এবং বিমানের জন্য কোনো হুমকি তৈরি করছেন না। এ কারণে ফ্লাইটটি অন্য কোনো বিমানবন্দরে ঘুরিয়ে না নিয়ে নির্ধারিত গন্তব্য মন্ট্রিয়লের দিকেই এগিয়ে যায়।   প্রায় চার ঘণ্টা পর বিমানটি নিরাপদে মন্ট্রিয়লে অবতরণ করে। অবতরণের পর স্থানীয় কর্তৃপক্ষ ও সীমান্ত নিরাপত্তা কর্মকর্তারা ওই যাত্রীর সঙ্গে যোগাযোগ করেন এবং তার অ্যাসাইলাম আবেদনের বিষয়টি প্রক্রিয়াগতভাবে দেখার উদ্যোগ নেওয়া হয় বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে ওই নারীর নাম, তার অ্যাসাইলাম চাওয়ার নির্দিষ্ট কারণ বা কানাডার কর্তৃপক্ষ তার দাবির বিষয়ে কী সিদ্ধান্ত নিয়েছে, তা প্রকাশ্যে জানা যায়নি।   কানাডার নিয়ম অনুযায়ী, বিমানবন্দরসহ দেশটির যেকোনো বৈধ প্রবেশপথে পৌঁছানোর পর কেউ অ্যাসাইলাম বা রিফিউজি প্রোটেকশনের দাবি করতে পারেন। তবে আবেদন করলেই তা গ্রহণযোগ্য বা অনুমোদিত হয় না। কানাডা বর্ডার সার্ভিসেস এজেন্সি বা সিবিএসএ প্রথমে আবেদনটি নির্ধারিত শর্ত পূরণ করে কি না তা যাচাই করে। যোগ্য হলে আবেদনটি ইমিগ্রেশন অ্যান্ড রিফিউজি বোর্ড অব কানাডার কাছে পাঠানো হয়, যেখানে আবেদনকারীর রিফিউজি হিসেবে সুরক্ষা পাওয়ার যোগ্যতা নির্ধারণ করা হয়।   কানাডা সরকারের তথ্য অনুযায়ী, অ্যাসাইলাম পাওয়ার জন্য আবেদনকারীকে দেখাতে হয় যে নিজ দেশে ফিরে গেলে নির্দিষ্ট ধরনের নিপীড়ন, নির্যাতন বা গুরুতর ক্ষতির ঝুঁকি রয়েছে। শুধু উন্নত জীবন, চাকরি, শিক্ষা বা কানাডায় দীর্ঘদিন থাকার ইচ্ছা অ্যাসাইলামের ভিত্তি নয়। আবেদনকারীর পরিচয়, ভ্রমণের ইতিহাস এবং দাবির পক্ষে থাকা তথ্যও যাচাই করা হয়।   এ ঘটনার ক্ষেত্রে যেহেতু যাত্রী একজন মার্কিন নাগরিক এবং তিনি যুক্তরাষ্ট্র থেকে সরাসরি বিমানে কানাডায় পৌঁছেছেন, তাই কানাডা ও যুক্তরাষ্ট্রের স্থলসীমান্তে প্রযোজ্য সেফ থার্ড কান্ট্রি এগ্রিমেন্টের নিয়মটি একইভাবে প্রযোজ্য নয়। কানাডা সরকারের বর্তমান নির্দেশনায়ও বলা হয়েছে, এই চুক্তির নির্দিষ্ট বিধিনিষেধ মার্কিন নাগরিকদের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয়।   মাঝ আকাশে একজন যাত্রীর হাতে লেখা নোট দিয়ে অ্যাসাইলাম চাওয়ার ঘটনাটি তাই ব্যতিক্রমী হলেও, কানাডায় অ্যাসাইলাম দাবি করার পরবর্তী প্রক্রিয়া নির্ধারিত ইমিগ্রেশন ও রিফিউজি আইনের অধীনেই পরিচালিত হবে। এখন ওই নারীর দাবির বিষয়ে কানাডার সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কী সিদ্ধান্ত নেয়, সেটিই পরবর্তী গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।

নীলুফা নিশাত সেপ্টেম্বর ২১, ২০২৬ ১৪:০
শিশুকে কোলে নিয়ে ফ্লাইট অ্যাটেনডেন্ট মনিক হ্যারিস
ক্লান্তিতে শিশুকে ধরে ঘুমিয়ে পড়ছিলেন মা, কোলে তুলে নিলেন ফ্লাইট অ্যাটেনডেন্ট

যুক্তরাষ্ট্রের নিউ জার্সির নিউয়ার্ক থেকে মিশিগানের গ্র্যান্ড র‍্যাপিডসগামী একটি ফ্লাইটে ক্লান্ত এক মায়ের শিশুকে কোলে তুলে নিয়ে তাকে বিশ্রামের সুযোগ করে দিয়ে প্রশংসায় ভাসছেন ফ্লাইট অ্যাটেনডেন্ট মনিক হ্যারিস। ঘটনাটি ঘটে ২ সেপ্টেম্বরের একটি ইউনাইটেড এয়ারলাইন্সের ফ্লাইটে, যা পরিচালনা করছিল রিপাবলিক এয়ারওয়েজ।   ফ্লাইট চলাকালে হ্যারিস লক্ষ্য করেন, এক মা শিশুকে কোলে নিয়ে ঘুমিয়ে পড়ছেন। একপর্যায়ে শিশুটি মায়ের কোলে থেকে পিছলে পড়তে শুরু করলে হ্যারিস দ্রুত এগিয়ে গিয়ে শিশুটিকে ধরে ফেলেন। পরে তিনি শিশুটিকে নিজের কোলে রেখে মাকে কিছুক্ষণ ঘুমিয়ে নেওয়ার সুযোগ দেন।   ঘটনাটি প্রত্যক্ষ করছিলেন যাত্রী জন ফ্রেসে। তিনি মুহূর্তটির একটি ছবি তোলেন এবং পরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সেটি প্রকাশ করেন। ছবিটি দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। ৯ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত পোস্টটিতে ২ লাখের বেশি লাইক পড়ে এবং হাজারো মানুষ মন্তব্য ও শেয়ার করেন।   ফ্রেসের বর্ণনা অনুযায়ী, মা ছিলেন নতুন মা এবং ভীষণ ক্লান্ত। শিশুটি নড়াচড়া শুরু করলে হ্যারিস দ্রুত তাকে ধরে ফেলেন এবং মাকে আশ্বস্ত করে বিশ্রাম নিতে বলেন। হ্যারিসের এই আচরণকে যাত্রীরা তার দায়িত্বের বাইরে গিয়ে মানবিক সহায়তা হিসেবে প্রশংসা করেন।   হ্যারিস পরে জানান, তিনি কোনো স্বীকৃতি পাওয়ার জন্য কাজটি করেননি। তার ভাষায়, মানুষের জন্য এমন ছোট ছোট কিছু কাজ করা যায়, যা হয়তো কেউ কখনো দেখবে না; কিন্তু তা কারও জীবনে বড় প্রভাব ফেলতে পারে। এই ঘটনাটি এবার একজন যাত্রী দেখেছেন এবং সেই মুহূর্তই তাকে হাজারো মানুষের কাছে পরিচিত করে তুলেছে।    রিপাবলিক এয়ারওয়েজও হ্যারিসের প্রশংসা করেছে এবং তাকে নিজেদের দলের একজন অসাধারণ সহকর্মী ও ফ্লাইট অ্যাটেনডেন্ট হিসেবে উল্লেখ করেছে। ইউনাইটেড এয়ারলাইন্সও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ঘটনাটির প্রতি ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে।    হ্যারিসের এই মানবিক আচরণ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক প্রশংসা পেয়েছে। বিশেষ করে ক্লান্ত নতুন মায়ের পাশে একজন অপরিচিত মানুষের এমন তাৎক্ষণিক সহায়তা অনেকের কাছে সহমর্মিতা ও মানবিকতার একটি সুন্দর উদাহরণ হয়ে উঠেছে।

বায়জিদ হাসান সেপ্টেম্বর ১৪, ২০২৬ ১৪:০
জানুয়ারি থেকে ঢাকা-নিউইয়র্ক সরাসরি ফ্লাইট!
জানুয়ারি থেকে ঢাকা-নিউইয়র্ক সরাসরি ফ্লাইট!

ঢাকা থেকে নিউইয়র্কে সরাসরি ফ্লাইট চালুর সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। আন্তর্জাতিক বেসামরিক বিমান চলাচল সংস্থার (আইকাও) অডিটে বাংলাদেশ প্রয়োজনীয় গ্রেড অর্জন করতে পারলে আগামী বছরের জানুয়ারি থেকেই এই রুটে ফ্লাইট চালু করা সম্ভব হবে বলে জানিয়েছেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত। ২৩ আগস্ট সচিবালয়ে দায়িত্ব নেওয়ার পর প্রথম কার্যদিবসে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ কথা বলেন।    মন্ত্রী জানান, নিউইয়র্কের পাশাপাশি সিডনিতেও সরাসরি ফ্লাইট চালুর পরিকল্পনা রয়েছে। তবে এসব উদ্যোগ বাস্তবায়নে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের উড়োজাহাজ সংকট। বহরে পর্যাপ্ত উড়োজাহাজ না থাকায় মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন রুটে বিদ্যমান ফ্লাইটের ফ্রিকোয়েন্সিও বাড়ানো যাচ্ছে না।   এই সংকট কাটাতে পর্যায়ক্রমে অন্তত ১০টি উড়োজাহাজ লিজ নেওয়ার পরিকল্পনা করছে সরকার। চলতি বছরের ডিসেম্বরের মধ্যে এ বিষয়ে চুক্তি সই করে আগামী বছর থেকে নতুন উড়োজাহাজ বহরে যুক্ত করার লক্ষ্য রয়েছে। একই সঙ্গে উড়োজাহাজ লিজ নেওয়ার বিষয়ে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের পক্ষ থেকে দরপত্র প্রক্রিয়াও শুরু হয়েছে বলে জানান মন্ত্রী।   তিনি বলেন, মধ্যপ্রাচ্যের প্রায় পাঁচটি গন্তব্যে বর্তমানে প্রতিদিন একাধিক ফ্লাইট পরিচালনা করছে বিমান। পর্যাপ্ত উড়োজাহাজ পাওয়া গেলে এসব রুটে ফ্লাইটের সংখ্যা দ্বিগুণ বা তিন গুণ করার সুযোগ রয়েছে।   নতুন উড়োজাহাজের দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার অংশ হিসেবে বোয়িংয়ের সঙ্গে করা চুক্তির আওতায় ২০৩১ সাল থেকে উড়োজাহাজ দেশে আসার কথা রয়েছে। তার আগ পর্যন্ত যাত্রীসেবা সচল রাখা এবং নতুন রুটে ফ্লাইট বাড়াতে লিজে উড়োজাহাজ আনার ওপর জোর দিচ্ছে সরকার।   শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনাল নিয়েও নতুন পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন মন্ত্রী। আগামী ১৬ ডিসেম্বর টার্মিনালটির সফট ওপেনিং করার লক্ষ্য নিয়ে সরকার এগোচ্ছে। এর আগে জাপানি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কাজ ও চুক্তি সম্পন্ন করার পরিকল্পনা রয়েছে।    বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের যাত্রী হয়রানি কমাতেও পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে জানান রশিদুজ্জামান মিল্লাত। তার ভাষ্য, কিছু ক্ষেত্রে অগ্রগতি হলেও সমস্যার পুরোপুরি সমাধান হয়নি। বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও অন্যান্য কর্মকর্তা এবং বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের সংশ্লিষ্টদের নিয়ে সমন্বিতভাবে কাজ করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।   বিমান ও বিমানবন্দরের পরিচ্ছন্নতা এবং যাত্রীসেবার মান উন্নয়নেও গুরুত্ব দেওয়ার কথা জানান তিনি। বিমানবন্দর থেকে শুরু করে উড়োজাহাজ পর্যন্ত সব জায়গায় পরিচ্ছন্ন ও যাত্রীবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করার উদ্যোগ নেওয়া হবে বলে জানান মন্ত্রী।   ঈশ্বরদী বিমানবন্দর নিয়েও সরকারের পরিকল্পনার কথা তুলে ধরেন তিনি। রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট পরিবহন ব্যবস্থার প্রয়োজন বিবেচনায় বিমানবন্দরটি সম্প্রসারণ করে অভ্যন্তরীণ ফ্লাইট চালুর উদ্যোগ নেওয়া হবে বলে জানান তিনি। বর্তমানে বিমানবন্দরটি সেনাবাহিনীর নিয়ন্ত্রণে রয়েছে বলেও উল্লেখ করেন মন্ত্রী।   সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী ঈশ্বরদী বিমানবন্দরে ফ্লাইট চালু হলে সেখানে কর্মরত বিদেশি নাগরিকদের যাতায়াত সহজ হওয়ার পাশাপাশি পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রয়োজনীয় পরিবহন ব্যবস্থাতেও বিমানবন্দরটি ভূমিকা রাখতে পারবে বলে জানান তিনি।   নিউইয়র্কের সরাসরি ফ্লাইট চালুর পরিকল্পনা বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে অবশ্য আইকাও অডিটের ফলই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা ও কারিগরি মানের গ্রেড অর্জন করা গেলে আগামী জানুয়ারি থেকে দীর্ঘদিনের প্রত্যাশিত ঢাকা-নিউইয়র্ক সরাসরি যোগাযোগ চালুর সুযোগ তৈরি হবে বলে জানিয়েছেন বিমানমন্ত্রী।

নীলুফা নিশাত আগস্ট ২৩, ২০২৬ ১৪:০
ডালাসগামী আমেরিকান এয়ারলাইন্সের ফ্লাইটে আগুন, দগ্ধ ৪ যাত্রী
ডালাসগামী আমেরিকান এয়ারলাইন্সের ফ্লাইটে আগুন, দগ্ধ ৪ যাত্রী

আটলান্টা থেকে ডালাসগামী আমেরিকান এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইট অবতরণের সময় যাত্রীর ল্যাপটপে আগুন ধরে কেবিন ধোঁয়ায় ভরে যায়। শুক্রবারের এ ঘটনায় কয়েকজন যাত্রী পুড়ে যেতে পারেন বলে পাইলট কন্ট্রোল টাওয়ারকে জানান। পরে বিমানটি নিরাপদে ডালাস-ফোর্ট ওয়ার্থ ইন্টারন্যাশনাল এয়ারপোর্টে অবতরণ করে।    ঘটনাটি ঘটে আমেরিকান এয়ারলাইন্সের ফ্লাইট ২৩৯৮-এ। বিমানটিতে ১৩৩ জন যাত্রী ও ক্রু ছিলেন। অবতরণের সময় পাইলট কন্ট্রোল টাওয়ারকে বিমানের পেছনের দিকে কেবিন ফায়ারের কথা জানান এবং যাত্রীদের মধ্যে চার থেকে পাঁচজন পুড়ে থাকতে পারেন বলে উল্লেখ করেন।    ফ্লাইট অ্যাটেনডেন্টরা দ্রুত আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন এবং জ্বলন্ত ডিভাইসটি একটি থার্মাল কনটেইনমেন্ট ব্যাগে নিরাপদে রাখেন। ফেডারেল এভিয়েশন অ্যাডমিনিস্ট্রেশন জানিয়েছে, আগুনটি ল্যাপটপের ব্যাটারির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ছিল।    ডালাস-ফোর্ট ওয়ার্থ বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, অবতরণের পর একজন যাত্রীকে ঘটনাস্থলেই চিকিৎসা দেওয়া হয়। পরে তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। আমেরিকান এয়ারলাইন্সও জানিয়েছে, ফ্লাইটটি নিরাপদে অবতরণ করে এবং জরুরি কর্মীরা বিমানটিকে গেটে পৌঁছানোর পর ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন।    বিমানটি শুক্রবার সন্ধ্যায় আটলান্টার হার্টসফিল্ড-জ্যাকসন আটলান্টা ইন্টারন্যাশনাল এয়ারপোর্ট থেকে ডালাসের উদ্দেশে ছেড়ে যায়। অবতরণের সময় কেবিনে ধোঁয়া দেখা দেওয়ার পর পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে দ্রুত ব্যবস্থা নেন ফ্লাইট ক্রুরা।    লিথিয়াম-আয়ন ব্যাটারি অতিরিক্ত গরম হয়ে আগুন বা ধোঁয়া তৈরি করতে পারে। ব্যাটারি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া, অতিরিক্ত গরম, পানির সংস্পর্শ, অতিরিক্ত চার্জ বা উৎপাদনগত ত্রুটির মতো বিভিন্ন কারণে এ ধরনের ঝুঁকি তৈরি হতে পারে বলে FAA সতর্ক করেছে। ঘটনাটি নিয়ে তদন্ত চলছে।

নীলুফা নিশাত আগস্ট ২২, ২০২৬ ১৪:০
মাদক পরীক্ষায় একের পর এক ধরা পড়ছেন ভারতীয় পাইলট
মাদক পরীক্ষায় একের পর এক ধরা পড়ছেন ভারতীয় পাইলট

ফুকেট থেকে দিল্লিগামী এয়ার ইন্ডিয়ার একটি ফ্লাইট মাঝ আকাশে হঠাৎ প্রায় ৩০০ ফুট নিচে নেমে যাওয়ার ঘটনার পর সংস্থাটির পাইলটদের নিয়ে শুরু হওয়া মাদক পরীক্ষায় আরও দুই পাইলটের প্রাথমিক ফল ‘নন-নেগেটিভ’ এসেছে। চূড়ান্ত পরীক্ষার ফল না পাওয়া পর্যন্ত তাদের ফ্লাইট পরিচালনার দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে।   ভারতীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ওই দুই পাইলটের নমুনা এখন নিশ্চিতকরণ পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়েছে। প্রাথমিক পরীক্ষায় ‘নন-নেগেটিভ’ ফল পাওয়ার অর্থ চূড়ান্তভাবে মাদক গ্রহণ প্রমাণিত হওয়া নয়। দ্বিতীয় ধাপের পরীক্ষার ফল পাওয়ার পরই তাদের ক্ষেত্রে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।   এয়ার ইন্ডিয়া সম্প্রতি নিজেদের পাইলটদের জন্য এককালীন বাধ্যতামূলক মাদক পরীক্ষা শুরু করেছে। এয়ার ইন্ডিয়া ও এয়ার ইন্ডিয়া এক্সপ্রেসের প্রায় পাঁচ হাজার পাইলটকে এই পরীক্ষার আওতায় আনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। নতুন কর্মসূচির অধীনে ইতোমধ্যে তিন শতাধিক পাইলটের নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে।   এই ব্যাপক পরীক্ষার সিদ্ধান্তের পেছনে রয়েছে গত ৪ আগস্ট ফুকেট থেকে দিল্লিগামী এয়ার ইন্ডিয়ার ফ্লাইট এআই২৩৭৯-এর গুরুতর ঘটনা। এয়ারবাস এ৩২০নিও উড়োজাহাজটি মাঝ আকাশে হঠাৎ প্রায় ৩০০ ফুট নিচে নেমে যায়। এতে যাত্রী ও ক্রু মিলিয়ে ২৪ জন আহত হন। পরে উড়োজাহাজটি নিরাপদে দিল্লিতে অবতরণ করে।   ঘটনার পর ফ্লাইটটির পাইলটদের মাদক পরীক্ষা করা হয়। ফ্লাইটের ক্যাপ্টেনের প্রাথমিক পরীক্ষায় সন্দেহজনক ফল আসার পর নমুনা নিশ্চিতকরণ পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়। পরবর্তী পরীক্ষায় তার শরীরে গাঁজার উপস্থিতি শনাক্ত হয়েছে বলে একাধিক ভারতীয় ও আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম সংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাতে জানিয়েছে।   তবে কোনো ব্যক্তির শরীরে গাঁজার উপাদান শনাক্ত হওয়া এবং ফ্লাইট পরিচালনার সময় তিনি মাদকের প্রভাবে ছিলেন, এই দুটি বিষয় এক নয়। তদন্তকারীরা এখন মাদক পরীক্ষার ফলের পাশাপাশি পাইলটদের আচরণ, ফ্লাইট ডেটা, উড়োজাহাজের কারিগরি অবস্থা এবং ঘটনার সময় ককপিটে কী ঘটেছিল, সেসব বিষয়ও খতিয়ে দেখছেন।   ঘটনাটিতে কারিগরি ত্রুটির গুরুত্বপূর্ণ তথ্যও সামনে এসেছে। এয়ারবাসের প্রাথমিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, উড়োজাহাজটির তিনটি স্বতন্ত্র হাইড্রোলিক ব্যবস্থাতেই সাময়িকভাবে চাপ কমে যায়। এর ফলে প্রায় চার সেকেন্ডের জন্য এলিভেটর ও আইলারনের মতো গুরুত্বপূর্ণ ফ্লাইট কন্ট্রোল স্বাভাবিকভাবে সাড়া দেয়নি। হাইড্রোলিক চাপ ফিরে আসার পর নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা আবার কার্যকর হয়। এই তথ্যের কারণে ঘটনাটিকে শুধু পাইলটের মাদক পরীক্ষার ফলের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত করা হচ্ছে না। উড়োজাহাজের হাইড্রোলিক ব্যবস্থা কেন একই সময়ে সমস্যায় পড়েছিল, সেটিও তদন্তের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে উঠেছে।   ভারতের এয়ারক্রাফট অ্যাক্সিডেন্ট ইনভেস্টিগেশন ব্যুরো ঘটনাটিকে ‘গুরুতর ঘটনা’ হিসেবে তদন্ত করছে। এয়ারবাস এবং ফ্রান্সের বিমান দুর্ঘটনা তদন্ত সংস্থার বিশেষজ্ঞরাও কারিগরি তদন্তে সহায়তা করছেন।   এয়ার ইন্ডিয়া জানিয়েছে, পাইলটদের মাদক পরীক্ষা নির্ধারিত নিরাপত্তা প্রক্রিয়া ও বেসামরিক বিমান চলাচলের বিধি অনুসরণ করে করা হচ্ছে। নতুন পরীক্ষায় যাদের প্রাথমিক ফল ‘নন-নেগেটিভ’ আসছে, নিশ্চিতকরণ পরীক্ষার ফল না পাওয়া পর্যন্ত তাদের ফ্লাইট ডিউটি থেকে সরিয়ে রাখা হচ্ছে।   ফুকেট-দিল্লি ফ্লাইটের ঘটনার পর এখন তদন্তের দুটি দিক বিশেষ গুরুত্ব পাচ্ছে। একদিকে পাইলটের নিশ্চিত মাদক পরীক্ষার ফল ও ক্রুদের ফিটনেস, অন্যদিকে একই সময়ে উড়োজাহাজের তিনটি হাইড্রোলিক ব্যবস্থায় দেখা দেওয়া বিরল কারিগরি ত্রুটি। পূর্ণাঙ্গ তদন্ত শেষ হলেই ৩০০ ফুট আকস্মিক পতনের পেছনে ঠিক কোন কোন কারণ ভূমিকা রেখেছিল, সে বিষয়ে স্পষ্ট সিদ্ধান্তে পৌঁছানো সম্ভব হবে।

নীলুফা নিশাত আগস্ট ১৬, ২০২৬ ১৪:০
টেক্সাসে অ্যাপাচি হেলিকপ্টার দুর্ঘটনায় দুই সেনা নিহত, প্রশিক্ষণ ফ্লাইট সাময়িক বন্ধ

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে সামরিক প্রশিক্ষণ ফ্লাইট চলাকালে অ্যাপাচি হেলিকপ্টার বিধ্বস্ত হয়ে দুই মার্কিন সেনা নিহত হয়েছেন। দুর্ঘটনার পর নিরাপত্তাজনিত কারণে দেশজুড়ে অ্যাপাচি হেলিকপ্টারের প্রশিক্ষণ ফ্লাইট সাময়িকভাবে বন্ধ রাখার নির্দেশ দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের সেনাবাহিনী।   ১২ আগস্ট টেক্সাসের সালাডোর কাছে একটি এএইচ-৬৪ অ্যাপাচি হেলিকপ্টার দুর্ঘটনার কবলে পড়ে। হেলিকপ্টারটি ফোর্ট হুড থেকে পরিচালিত হচ্ছিল। দুর্ঘটনার সময় এটি রক্ষণাবেক্ষণ-পরবর্তী পরীক্ষামূলক উড্ডয়নে ছিল বলে সেনাবাহিনী জানিয়েছে। হেলিকপ্টারটি একটি মাঠে বিধ্বস্ত হয়ে আগুন ধরে যায়।   নিহত দুই সেনাকে শনাক্ত করেছে মার্কিন সেনাবাহিনী। তারা হলেন ৩৪ বছর বয়সী চিফ ওয়ারেন্ট অফিসার-২ ডিওন্ট্রে টি. হিউই এবং ২৫ বছর বয়সী ওয়ারেন্ট অফিসার শেথ এল. ওলমস্টেড। দুজনই টেক্সাসের বাসিন্দা ছিলেন এবং দুর্ঘটনার সময় হেলিকপ্টারে তারাই ছিলেন।   দুর্ঘটনার কারণ এখনো নিশ্চিতভাবে জানা যায়নি। যুক্তরাষ্ট্রের আর্মি কমব্যাট রেডিনেস সেন্টারের একটি নিরাপত্তা তদন্তকারী দল ঘটনাটি তদন্ত করছে।   তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত অ্যাপাচি হেলিকপ্টারের প্রশিক্ষণ কার্যক্রম বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সেনাবাহিনী জানিয়েছে, দুর্ঘটনার মূল কারণ সম্পর্কে আরও পরিষ্কার ধারণা পাওয়া না পর্যন্ত এই সাময়িক স্থগিতাদেশ বহাল থাকবে।   তবে এই সিদ্ধান্তের অর্থ অ্যাপাচি হেলিকপ্টারের সব ধরনের উড্ডয়ন বন্ধ হয়ে যাওয়া নয়। সেনাবাহিনীর ঘোষণাটি মূলত প্রশিক্ষণ কার্যক্রমের ওপর প্রযোজ্য।   দুই সেনার মৃত্যুতে ফোর্ট হুডের সামরিক সম্প্রদায়ে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। সেনাবাহিনী নিহতদের পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানিয়েছে এবং দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ উদঘাটনে তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে।

Unknown আগস্ট ১৪, ২০২৬ ১৪:০
ফ্লাইটে চার বছরের মেয়ের চোখের সামনেই মায়ের ওপর যৌন নির্যাতন
ফ্লাইটে চার বছরের মেয়ের চোখের সামনেই মায়ের ওপর যৌন নির্যাতন, ঘুম ভাঙার পর আতঙ্কে কেঁপে ওঠেন নারী

থাইল্যান্ডের নাগরিক বিউট পিম্পাপর্ন (৩৩) ইতালির মিলান থেকে ব্যাংককে ফিরছিলেন । ডাবাইয়ে সংযোগকারী ফ্লাইটে ওঠার পর সেখান থেকে ব্যাংককের উদ্দেশে ছয় ঘণ্টার যাত্রা শুরু হয়। মা ও তার মেয়ে ফ্লাইটে ঘুমিয়ে পড়েন।   ঘুম থেকে জেগে তিনি দেখেন পাশের আসনে বসা পুরুষ যাত্রী তার নিতম্ব চেপে ধরেছেন এবং অশ্লীল কাজ করছেন। অভিযুক্ত যাত্রী পরে বিনোদনের স্ক্রিন সামঞ্জস্য করার ভান করতে থাকেন এবং বারবার তার দিকে তাকাতে থাকেন ।   মা বিউট পিম্পাপর্ন ফ্লাইটে হৈ চৈ সৃষ্টি না করে ব্যাংকের ডন মুয়াং আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে নামার পর কেবিন ক্রুদের বিষয়টি জানান । ফ্লাইট অ্যাটেনডেন্টরা অভিযুক্তকে জিজ্ঞাসাবাদ করেন। প্রথমে তিনি অভিযোগ অস্বীকার করলেও পরে তিনি ঘটনার সত্যতা স্বীকার করেন ।   অভিযুক্ত যাত্রী এবং তার সঙ্গে থাকা পাকিস্তানি ট্যুর গ্রুপের সদস্যরা ক্ষমা চান। অভিযুক্ত যাত্রী কেঁদে তার কাছে ক্ষমা চান এবং তার পায়ে হাত দিয়ে অনুরোধ করেন । কিন্তু কেবিন ক্রুরা বিষয়টি গুরুতর বলে পুলিশকে জানান এবং বিমান থেকে মেয়েটিকে সরিয়ে নেন যেন তিনি ঘটনা দেখতে না পান ।   বিমান নামার পর ট্যুরিস্ট পুলিশ ও ইমিগ্রেশন কর্মকর্তারা অভিযুক্ত রজা আলীকে বিমান থেকে নামিয়ে পুলিশ স্টেশনে নিয়ে যান । ডন মুয়াং জেলা পুলিশ স্টেশনের পুলিশ লেফটেন্যান্ট কর্নেল চামন্যান্ট কঙ্কং জানিয়েছেন, অভিযুক্তকে থাইল্যান্ডে প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে । পুলিশ জানিয়েছে, অভিযুক্তকে এখনও জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়নি এবং প্রাথমিকভাবে উভয় পক্ষের মধ্যে মধ্যস্থতার চেষ্টা করা হবে ।   ভুক্তভোগী মা তার পরনের কাপড় জমা দিয়েছেন এবং ডিএনএ পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়েছে । তিনি জানিয়েছেন, তিনি মামলা করতে চান এবং ক্ষতিপূরণ দাবি করবেন । তিনি তার পরিচয় প্রকাশ করে অন্যান্য নারীদের সতর্ক করেছেন যে একা ভ্রমণের সময় সাবধান থাকতে হবে এবং কোনও অস্বস্তি বোধ করলে সাহসের সাথে প্রতিবাদ করতে হবে ।   ফ্লাইটটি পরিচালনাকারী সংস্থা ফ্লাইদুবাইয়ের একজন মুখপাত্র বলেছেন, যাত্রী ও ক্রুদের নিরাপত্তা তাদের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার এবং চলমান তদন্তের বিষয়ে তারা কোনো মন্তব্য করছেন না ।

নীলুফা নিশাত আগস্ট ৪, ২০২৬ ১৪:০
বিমানবন্দরেই আইসিইর হাতে গ্রেপ্তার এয়ারলাইন্সের ফ্লাইট অ্যাটেনডেন্ট
বিমানবন্দরেই আইসিইর হাতে গ্রেপ্তার এয়ারলাইন্সের ফ্লাইট অ্যাটেনডেন্ট, বিমানবন্দরে চাঞ্চল্য

যুক্তরাষ্ট্রের টেনেসি অঙ্গরাজ্যের ন্যাশভিল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে কর্মরত অবস্থায় সাউথওয়েস্ট এয়ারলাইন্সের এক ফ্লাইট অ্যাটেনডেন্টকে আটক করেছে মার্কিন অভিবাসন ও শুল্ক প্রয়োগকারী সংস্থা (আইসিই)। আটক ব্যক্তি জামাইকার নাগরিক লরেঞ্জো থম্পসন। যুক্তরাষ্ট্রের স্বরাষ্ট্র নিরাপত্তা বিভাগের (ডিএইচএস) দাবি, তিনি ২০২১ সালে বৈধ ভিসায় যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করলেও নির্ধারিত সময় শেষে দেশ ছাড়েননি এবং এরপরও যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করছিলেন।   কর্তৃপক্ষ জানায়, ১৪ জুলাই ন্যাশভিল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে দায়িত্ব পালনের সময় আইসিই কর্মকর্তারা তাকে আটক করেন। ডিএইচএসের ভাষ্য অনুযায়ী, থম্পসন ২০২১ সালের এপ্রিল মাসে ছয় মাসের ভিসায় যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করেন। তার ভিসার মেয়াদ ২০২১ সালের অক্টোবরে শেষ হলেও তিনি দেশ ত্যাগ করেননি। বর্তমানে অভিবাসন-সংক্রান্ত আইনি কার্যক্রম শেষ না হওয়া পর্যন্ত তিনি আইসিইর হেফাজতেই থাকবেন।    তবে ঘটনাটি নিয়ে ভিন্ন দাবি করেছে সাউথওয়েস্ট এয়ারলাইন্সের ফ্লাইট অ্যাটেনডেন্টদের ইউনিয়ন টিডব্লিউইউ লোকাল ৫৫৬ এবং থম্পসনের ঘনিষ্ঠরা। তাদের বক্তব্য, থম্পসনের একটি চলমান আশ্রয় (অ্যাসাইলাম) আবেদন রয়েছে এবং তিনি বৈধ কর্ম-অনুমতি নিয়ে কাজ করছিলেন। এছাড়া তার বিরুদ্ধে কোনো ফৌজদারি অপরাধের রেকর্ড নেই বলেও তারা দাবি করেছেন।    ইউনিয়ন এক বিবৃতিতে জানায়, তারা থম্পসন ও তার পরিবারের পাশে রয়েছে এবং আইনি সহায়তার বিষয়টি সমন্বয় করছে। একই সঙ্গে ঘটনাটির অগ্রগতি পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।    অন্যদিকে, সাউথওয়েস্ট এয়ারলাইন্স এ ঘটনায় প্রকাশ্যে কোনো বিস্তারিত মন্তব্য করেনি। যুক্তরাষ্ট্রে চলমান কঠোর অভিবাসন আইন প্রয়োগের প্রেক্ষাপটে কর্মস্থল থেকে একজন বিমানকর্মীকে আটক করার এই ঘটনা ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। থম্পসনের প্রকৃত অভিবাসন-অবস্থা এবং আশ্রয় আবেদনের আইনি অবস্থান এখন অভিবাসন আদালতের কার্যক্রমে নির্ধারিত হবে।

নীলুফা নিশাত জুলাই ২৫, ২০২৬ ১৪:০
সাড়ে ৭ ঘণ্টা বিলম্ব, এসি ছাড়াই ঢাকা-চেন্নাই ফ্লাইট
সাড়ে ৭ ঘণ্টা বিলম্ব, এসি ছাড়াই ঢাকা-চেন্নাই ফ্লাইট—চরম ভোগান্তির অভিযোগ যাত্রীদের

ঢাকা থেকে চেন্নাইগামী ইউএস-বাংলা এয়ারলাইনসের একটি ফ্লাইটে দীর্ঘ বিলম্ব ও শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা অকার্যকর থাকার অভিযোগে যাত্রীদের দুর্ভোগের খবর পাওয়া গেছে। নির্ধারিত সময়ের প্রায় সাড়ে সাত ঘণ্টা পর ফ্লাইট ছাড়ার পাশাপাশি পুরো যাত্রাপথে কেবিনে পর্যাপ্ত ঠান্ডা বাতাস না থাকায় যাত্রীরা মারাত্মক ভোগান্তির শিকার হয়েছেন বলে অভিযোগ করেছেন তারা।   জানা গেছে, ইউএস-বাংলার ফ্লাইট বিএস২০৫ রোববার সকাল ১০টা ৪৫ মিনিটে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে চেন্নাইয়ের উদ্দেশ্যে ছেড়ে যাওয়ার কথা ছিল। তবে বিভিন্ন কারণ দেখিয়ে ফ্লাইটটি বিলম্বিত হতে থাকে এবং শেষ পর্যন্ত সন্ধ্যা ৬টা ১৬ মিনিটে উড্ডয়ন করে। রাত সাড়ে ৮টার দিকে এটি চেন্নাই পৌঁছায়।   ফ্লাইটের যাত্রীদের অভিযোগ, বিলম্বের কারণ হিসেবে শুরুতে প্রতিকূল আবহাওয়ার কথা জানানো হলেও পরে কারিগরি ত্রুটি এবং জ্বালানিসংক্রান্ত সমস্যার কথা বলা হয়। এতে যাত্রীদের মধ্যে বিভ্রান্তি তৈরি হয়।   ফ্লাইটের এক যাত্রী সামিয়া শতাব্দী সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিজের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে জানান, বিকেল ৪টা ৪০ মিনিটের দিকে যাত্রীদের বিমানে ওঠানো হয়। কিন্তু উড্ডয়নের আগ পর্যন্ত কেবিনে শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা চালু ছিল না। এমনকি পুরো যাত্রাপথেও এসি কার্যকরভাবে চালু হয়নি, ফলে গরমে যাত্রীদের চরম দুর্ভোগ পোহাতে হয়।   তিনি আরও উল্লেখ করেন, ফ্লাইটের উল্লেখযোগ্য সংখ্যক যাত্রী চিকিৎসার উদ্দেশ্যে চেন্নাই যাচ্ছিলেন। তাদের মধ্যে বয়স্ক ব্যক্তি ও শিশুও ছিলেন, যারা এই পরিস্থিতিতে সবচেয়ে বেশি কষ্ট ভোগ করেন। কেবিন ক্রুরা বারবার এসি চালু হবে বলে আশ্বাস দিলেও শেষ পর্যন্ত তা কার্যকর হয়নি।   সামিয়ার দাবি, পরে ক্রু সদস্যরা জানান যে উড্ডয়নের আগেই এসির সমস্যার বিষয়টি জানা ছিল এবং যাত্রীদের বিমানে রেখেই তা ঠিক করার চেষ্টা করা হয়। কিন্তু সমস্যা পুরোপুরি সমাধান না করেই ফ্লাইট পরিচালনা করা হয়। পরিকল্পনা ছিল, চেন্নাই থেকে ফিরে এসে ত্রুটি মেরামত করা হবে।   তবে এ বিষয়ে ইউএস-বাংলা এয়ারলাইনসের ভিন্ন বক্তব্য রয়েছে। প্রতিষ্ঠানটির মুখপাত্র মো. কামরুল ইসলাম দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ডকে বলেন, বিভিন্ন কারণে ফ্লাইটটি বিলম্বে ছেড়েছে। তবে বিমানের শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা পুরোপুরি অচল ছিল না; এটি আংশিকভাবে সচল ছিল, যদিও শতভাগ সক্ষমতায় কাজ করছিল না।   অন্যদিকে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের নির্বাহী পরিচালক গ্রুপ ক্যাপ্টেন এস এম রাগিব সামাদ জানান, ইউএস-বাংলা কর্তৃপক্ষ তাদের জানিয়েছে যে বিমানের দুটি এয়ার কন্ডিশনিং প্যাকের একটি কারিগরি ত্রুটির কারণে বিকল ছিল, অন্যটি সচল ছিল। সংশ্লিষ্ট কারিগরি নির্দেশনা অনুযায়ী এই অবস্থায় ফ্লাইট পরিচালনা করা অনুমোদিত থাকলেও এতে যাত্রীরা যে ভোগান্তির শিকার হয়েছেন, তা অস্বীকার করা যাচ্ছে না। বিষয়টি নিয়ে এয়ারলাইনসকে আনুষ্ঠানিক ব্যাখ্যা দিতে বলা হয়েছে বলেও জানান তিনি।   ঘটনাটি নিয়ে যাত্রীদের মধ্যে ক্ষোভ তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে চিকিৎসার জন্য ভ্রমণ করা যাত্রীদের দুর্ভোগ প্রশ্ন তুলেছে ফ্লাইট পরিচালনার মান ও যাত্রীসেবার বিষয়ে। বিমান চলাচলে নিরাপত্তার পাশাপাশি যাত্রীস্বাচ্ছন্দ্য নিশ্চিত করা নিয়েও নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।

নীলুফা নিশাত জুলাই ১৩, ২০২৬ ১৪:০
তেহরান বিমানবন্দরে ফ্লাইট চলাচল শুরু
তেহরান বিমানবন্দরে ফ্লাইট চলাচল শুরু, হজযাত্রীদের নিয়ে অবতরণ

আঞ্চলিক উত্তেজনার কারণে সাময়িকভাবে বন্ধ থাকার পর ইরানের রাজধানী তেহরানের আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে আবারও বিমান চলাচল শুরু হয়েছে। সৌদি আরব থেকে ফিরে আসা হজযাত্রীদের বহনকারী ফ্লাইট অবতরণের মধ্য দিয়ে কার্যক্রম পুনরায় চালু হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত হয়েছে।   বার্তা সংস্থা এএফপির এক প্রতিবেদনে মঙ্গলবার (৯ জুন) ভোরে এ তথ্য জানানো হয়। তেহরানের ইমাম খোমেনি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর কোম্পানির অপারেশন বিভাগের উপপ্রধান গণমাধ্যমকে জানান, পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়ায় ধীরে ধীরে ফ্লাইট পরিচালনা পুনরায় শুরু করা হচ্ছে।   সাম্প্রতিক সময়ে মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা বৃদ্ধি পাওয়ায় বিমান চলাচল বন্ধ থাকায় যাত্রীদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছিল। বিশেষ করে বিদেশে অবস্থানরত ইরানি নাগরিক এবং হজ পালন শেষে দেশে ফেরার অপেক্ষায় থাকা যাত্রীদের মধ্যে অনিশ্চয়তা দেখা দেয়।   এর আগে, রোববার ইসরায়েলে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলার পর নিরাপত্তাজনিত কারণে তেহরানের আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরমুখী সব ধরনের ফ্লাইট স্থগিত করা হয়। পরিস্থিতি কিছুটা স্থিতিশীল হওয়ায় এখন ধাপে ধাপে বিমান চলাচল স্বাভাবিক করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।   বিশ্লেষকদের মতে, আঞ্চলিক উত্তেজনার প্রভাব সরাসরি বিমান চলাচলের ওপর পড়ায় যাত্রী ও আন্তর্জাতিক যোগাযোগে বড় ধরনের প্রভাব পড়ে। তাই পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়ায় বিমান চলাচল পুনরায় চালু হওয়াকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা।

নীলুফা নিশাত জুন ৮, ২০২৬ ১৪:০
বাহরাইন থেকে বাংলাদেশিদের ফেরানোর জন্য দুটি বিশেষ ফ্লাইট
বাহরাইন থেকে বাংলাদেশিদের ফেরানোর জন্য দুটি বিশেষ ফ্লাইট

বাহরাইনে থাকা প্রবাসী বাংলাদেশিদের সুবিধার্থে দুটি বিশেষ রিটার্ন ফ্লাইটের ব্যবস্থা করা হয়েছে। স্থানীয় সময় সোমবার (২৪ মার্চ) মানামার বাংলাদেশ দূতাবাস এক বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য জানায়।   দূতাবাসের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, গালফ এয়ারের মাধ্যমে বাহরাইন থেকে বাংলাদেশে যাওয়া এবং বাংলাদেশ থেকে বাহরাইন ফেরার জন্য বিশেষ দুটি ফ্লাইট পরিচালনা করা হবে। প্রথম ফ্লাইটটি ২৭ মার্চ বাহরাইন থেকে দাম্মাম হয়ে ঢাকা পৌঁছাবে এবং একই দিনে ঢাকা থেকে দাম্মাম ফেরার ব্যবস্থা থাকবে। দ্বিতীয় ফ্লাইট ৩ এপ্রিল একই রুটে পরিচালিত হবে।   ফ্লাইটের সুবিধা নিতে আগ্রহীরা গুগল ফর্মে নিবন্ধন করার জন্য অনুরোধ করা হয়েছে। যাত্রী সংখ্যা পূর্ণ হলে পরবর্তী নির্দেশনা জানানো হবে।

নীলুফা নিশাত মার্চ ২৩, ২০২৬ ১৪:০
জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

Top week

২০২৭ সালের ডাইভারসিটি ভিসা লটারি চালুর নির্দেশ দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল আদালত। গ্রাফিক্স: আমেরিকা বাংলা

যুক্তরাষ্ট্রের ২০২৭ সালের ডিভি লটারি চালুর নির্দেশ, ১ নভেম্বরের মধ্যে নিবন্ধন শুরু

অক্টোবর ১৯, ২০২৬ ১৪:০