- প্রচ্ছদ
- Topic
ফ্লাইট
ঢাকা থেকে নিউইয়র্কে সরাসরি ফ্লাইট চালুর সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। আন্তর্জাতিক বেসামরিক বিমান চলাচল সংস্থার (আইকাও) অডিটে বাংলাদেশ প্রয়োজনীয় গ্রেড অর্জন করতে পারলে আগামী বছরের জানুয়ারি থেকেই এই রুটে ফ্লাইট চালু করা সম্ভব হবে বলে জানিয়েছেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত। ২৩ আগস্ট সচিবালয়ে দায়িত্ব নেওয়ার পর প্রথম কার্যদিবসে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ কথা বলেন। মন্ত্রী জানান, নিউইয়র্কের পাশাপাশি সিডনিতেও সরাসরি ফ্লাইট চালুর পরিকল্পনা রয়েছে। তবে এসব উদ্যোগ বাস্তবায়নে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের উড়োজাহাজ সংকট। বহরে পর্যাপ্ত উড়োজাহাজ না থাকায় মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন রুটে বিদ্যমান ফ্লাইটের ফ্রিকোয়েন্সিও বাড়ানো যাচ্ছে না। এই সংকট কাটাতে পর্যায়ক্রমে অন্তত ১০টি উড়োজাহাজ লিজ নেওয়ার পরিকল্পনা করছে সরকার। চলতি বছরের ডিসেম্বরের মধ্যে এ বিষয়ে চুক্তি সই করে আগামী বছর থেকে নতুন উড়োজাহাজ বহরে যুক্ত করার লক্ষ্য রয়েছে। একই সঙ্গে উড়োজাহাজ লিজ নেওয়ার বিষয়ে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের পক্ষ থেকে দরপত্র প্রক্রিয়াও শুরু হয়েছে বলে জানান মন্ত্রী। তিনি বলেন, মধ্যপ্রাচ্যের প্রায় পাঁচটি গন্তব্যে বর্তমানে প্রতিদিন একাধিক ফ্লাইট পরিচালনা করছে বিমান। পর্যাপ্ত উড়োজাহাজ পাওয়া গেলে এসব রুটে ফ্লাইটের সংখ্যা দ্বিগুণ বা তিন গুণ করার সুযোগ রয়েছে। নতুন উড়োজাহাজের দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার অংশ হিসেবে বোয়িংয়ের সঙ্গে করা চুক্তির আওতায় ২০৩১ সাল থেকে উড়োজাহাজ দেশে আসার কথা রয়েছে। তার আগ পর্যন্ত যাত্রীসেবা সচল রাখা এবং নতুন রুটে ফ্লাইট বাড়াতে লিজে উড়োজাহাজ আনার ওপর জোর দিচ্ছে সরকার। শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনাল নিয়েও নতুন পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন মন্ত্রী। আগামী ১৬ ডিসেম্বর টার্মিনালটির সফট ওপেনিং করার লক্ষ্য নিয়ে সরকার এগোচ্ছে। এর আগে জাপানি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কাজ ও চুক্তি সম্পন্ন করার পরিকল্পনা রয়েছে। বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের যাত্রী হয়রানি কমাতেও পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে জানান রশিদুজ্জামান মিল্লাত। তার ভাষ্য, কিছু ক্ষেত্রে অগ্রগতি হলেও সমস্যার পুরোপুরি সমাধান হয়নি। বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও অন্যান্য কর্মকর্তা এবং বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের সংশ্লিষ্টদের নিয়ে সমন্বিতভাবে কাজ করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। বিমান ও বিমানবন্দরের পরিচ্ছন্নতা এবং যাত্রীসেবার মান উন্নয়নেও গুরুত্ব দেওয়ার কথা জানান তিনি। বিমানবন্দর থেকে শুরু করে উড়োজাহাজ পর্যন্ত সব জায়গায় পরিচ্ছন্ন ও যাত্রীবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করার উদ্যোগ নেওয়া হবে বলে জানান মন্ত্রী। ঈশ্বরদী বিমানবন্দর নিয়েও সরকারের পরিকল্পনার কথা তুলে ধরেন তিনি। রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট পরিবহন ব্যবস্থার প্রয়োজন বিবেচনায় বিমানবন্দরটি সম্প্রসারণ করে অভ্যন্তরীণ ফ্লাইট চালুর উদ্যোগ নেওয়া হবে বলে জানান তিনি। বর্তমানে বিমানবন্দরটি সেনাবাহিনীর নিয়ন্ত্রণে রয়েছে বলেও উল্লেখ করেন মন্ত্রী। সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী ঈশ্বরদী বিমানবন্দরে ফ্লাইট চালু হলে সেখানে কর্মরত বিদেশি নাগরিকদের যাতায়াত সহজ হওয়ার পাশাপাশি পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রয়োজনীয় পরিবহন ব্যবস্থাতেও বিমানবন্দরটি ভূমিকা রাখতে পারবে বলে জানান তিনি। নিউইয়র্কের সরাসরি ফ্লাইট চালুর পরিকল্পনা বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে অবশ্য আইকাও অডিটের ফলই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা ও কারিগরি মানের গ্রেড অর্জন করা গেলে আগামী জানুয়ারি থেকে দীর্ঘদিনের প্রত্যাশিত ঢাকা-নিউইয়র্ক সরাসরি যোগাযোগ চালুর সুযোগ তৈরি হবে বলে জানিয়েছেন বিমানমন্ত্রী।
আটলান্টা থেকে ডালাসগামী আমেরিকান এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইট অবতরণের সময় যাত্রীর ল্যাপটপে আগুন ধরে কেবিন ধোঁয়ায় ভরে যায়। শুক্রবারের এ ঘটনায় কয়েকজন যাত্রী পুড়ে যেতে পারেন বলে পাইলট কন্ট্রোল টাওয়ারকে জানান। পরে বিমানটি নিরাপদে ডালাস-ফোর্ট ওয়ার্থ ইন্টারন্যাশনাল এয়ারপোর্টে অবতরণ করে। ঘটনাটি ঘটে আমেরিকান এয়ারলাইন্সের ফ্লাইট ২৩৯৮-এ। বিমানটিতে ১৩৩ জন যাত্রী ও ক্রু ছিলেন। অবতরণের সময় পাইলট কন্ট্রোল টাওয়ারকে বিমানের পেছনের দিকে কেবিন ফায়ারের কথা জানান এবং যাত্রীদের মধ্যে চার থেকে পাঁচজন পুড়ে থাকতে পারেন বলে উল্লেখ করেন। ফ্লাইট অ্যাটেনডেন্টরা দ্রুত আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন এবং জ্বলন্ত ডিভাইসটি একটি থার্মাল কনটেইনমেন্ট ব্যাগে নিরাপদে রাখেন। ফেডারেল এভিয়েশন অ্যাডমিনিস্ট্রেশন জানিয়েছে, আগুনটি ল্যাপটপের ব্যাটারির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ছিল। ডালাস-ফোর্ট ওয়ার্থ বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, অবতরণের পর একজন যাত্রীকে ঘটনাস্থলেই চিকিৎসা দেওয়া হয়। পরে তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। আমেরিকান এয়ারলাইন্সও জানিয়েছে, ফ্লাইটটি নিরাপদে অবতরণ করে এবং জরুরি কর্মীরা বিমানটিকে গেটে পৌঁছানোর পর ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন। বিমানটি শুক্রবার সন্ধ্যায় আটলান্টার হার্টসফিল্ড-জ্যাকসন আটলান্টা ইন্টারন্যাশনাল এয়ারপোর্ট থেকে ডালাসের উদ্দেশে ছেড়ে যায়। অবতরণের সময় কেবিনে ধোঁয়া দেখা দেওয়ার পর পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে দ্রুত ব্যবস্থা নেন ফ্লাইট ক্রুরা। লিথিয়াম-আয়ন ব্যাটারি অতিরিক্ত গরম হয়ে আগুন বা ধোঁয়া তৈরি করতে পারে। ব্যাটারি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া, অতিরিক্ত গরম, পানির সংস্পর্শ, অতিরিক্ত চার্জ বা উৎপাদনগত ত্রুটির মতো বিভিন্ন কারণে এ ধরনের ঝুঁকি তৈরি হতে পারে বলে FAA সতর্ক করেছে। ঘটনাটি নিয়ে তদন্ত চলছে।
ফুকেট থেকে দিল্লিগামী এয়ার ইন্ডিয়ার একটি ফ্লাইট মাঝ আকাশে হঠাৎ প্রায় ৩০০ ফুট নিচে নেমে যাওয়ার ঘটনার পর সংস্থাটির পাইলটদের নিয়ে শুরু হওয়া মাদক পরীক্ষায় আরও দুই পাইলটের প্রাথমিক ফল ‘নন-নেগেটিভ’ এসেছে। চূড়ান্ত পরীক্ষার ফল না পাওয়া পর্যন্ত তাদের ফ্লাইট পরিচালনার দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। ভারতীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ওই দুই পাইলটের নমুনা এখন নিশ্চিতকরণ পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়েছে। প্রাথমিক পরীক্ষায় ‘নন-নেগেটিভ’ ফল পাওয়ার অর্থ চূড়ান্তভাবে মাদক গ্রহণ প্রমাণিত হওয়া নয়। দ্বিতীয় ধাপের পরীক্ষার ফল পাওয়ার পরই তাদের ক্ষেত্রে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এয়ার ইন্ডিয়া সম্প্রতি নিজেদের পাইলটদের জন্য এককালীন বাধ্যতামূলক মাদক পরীক্ষা শুরু করেছে। এয়ার ইন্ডিয়া ও এয়ার ইন্ডিয়া এক্সপ্রেসের প্রায় পাঁচ হাজার পাইলটকে এই পরীক্ষার আওতায় আনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। নতুন কর্মসূচির অধীনে ইতোমধ্যে তিন শতাধিক পাইলটের নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে। এই ব্যাপক পরীক্ষার সিদ্ধান্তের পেছনে রয়েছে গত ৪ আগস্ট ফুকেট থেকে দিল্লিগামী এয়ার ইন্ডিয়ার ফ্লাইট এআই২৩৭৯-এর গুরুতর ঘটনা। এয়ারবাস এ৩২০নিও উড়োজাহাজটি মাঝ আকাশে হঠাৎ প্রায় ৩০০ ফুট নিচে নেমে যায়। এতে যাত্রী ও ক্রু মিলিয়ে ২৪ জন আহত হন। পরে উড়োজাহাজটি নিরাপদে দিল্লিতে অবতরণ করে। ঘটনার পর ফ্লাইটটির পাইলটদের মাদক পরীক্ষা করা হয়। ফ্লাইটের ক্যাপ্টেনের প্রাথমিক পরীক্ষায় সন্দেহজনক ফল আসার পর নমুনা নিশ্চিতকরণ পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়। পরবর্তী পরীক্ষায় তার শরীরে গাঁজার উপস্থিতি শনাক্ত হয়েছে বলে একাধিক ভারতীয় ও আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম সংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাতে জানিয়েছে। তবে কোনো ব্যক্তির শরীরে গাঁজার উপাদান শনাক্ত হওয়া এবং ফ্লাইট পরিচালনার সময় তিনি মাদকের প্রভাবে ছিলেন, এই দুটি বিষয় এক নয়। তদন্তকারীরা এখন মাদক পরীক্ষার ফলের পাশাপাশি পাইলটদের আচরণ, ফ্লাইট ডেটা, উড়োজাহাজের কারিগরি অবস্থা এবং ঘটনার সময় ককপিটে কী ঘটেছিল, সেসব বিষয়ও খতিয়ে দেখছেন। ঘটনাটিতে কারিগরি ত্রুটির গুরুত্বপূর্ণ তথ্যও সামনে এসেছে। এয়ারবাসের প্রাথমিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, উড়োজাহাজটির তিনটি স্বতন্ত্র হাইড্রোলিক ব্যবস্থাতেই সাময়িকভাবে চাপ কমে যায়। এর ফলে প্রায় চার সেকেন্ডের জন্য এলিভেটর ও আইলারনের মতো গুরুত্বপূর্ণ ফ্লাইট কন্ট্রোল স্বাভাবিকভাবে সাড়া দেয়নি। হাইড্রোলিক চাপ ফিরে আসার পর নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা আবার কার্যকর হয়। এই তথ্যের কারণে ঘটনাটিকে শুধু পাইলটের মাদক পরীক্ষার ফলের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত করা হচ্ছে না। উড়োজাহাজের হাইড্রোলিক ব্যবস্থা কেন একই সময়ে সমস্যায় পড়েছিল, সেটিও তদন্তের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে উঠেছে। ভারতের এয়ারক্রাফট অ্যাক্সিডেন্ট ইনভেস্টিগেশন ব্যুরো ঘটনাটিকে ‘গুরুতর ঘটনা’ হিসেবে তদন্ত করছে। এয়ারবাস এবং ফ্রান্সের বিমান দুর্ঘটনা তদন্ত সংস্থার বিশেষজ্ঞরাও কারিগরি তদন্তে সহায়তা করছেন। এয়ার ইন্ডিয়া জানিয়েছে, পাইলটদের মাদক পরীক্ষা নির্ধারিত নিরাপত্তা প্রক্রিয়া ও বেসামরিক বিমান চলাচলের বিধি অনুসরণ করে করা হচ্ছে। নতুন পরীক্ষায় যাদের প্রাথমিক ফল ‘নন-নেগেটিভ’ আসছে, নিশ্চিতকরণ পরীক্ষার ফল না পাওয়া পর্যন্ত তাদের ফ্লাইট ডিউটি থেকে সরিয়ে রাখা হচ্ছে। ফুকেট-দিল্লি ফ্লাইটের ঘটনার পর এখন তদন্তের দুটি দিক বিশেষ গুরুত্ব পাচ্ছে। একদিকে পাইলটের নিশ্চিত মাদক পরীক্ষার ফল ও ক্রুদের ফিটনেস, অন্যদিকে একই সময়ে উড়োজাহাজের তিনটি হাইড্রোলিক ব্যবস্থায় দেখা দেওয়া বিরল কারিগরি ত্রুটি। পূর্ণাঙ্গ তদন্ত শেষ হলেই ৩০০ ফুট আকস্মিক পতনের পেছনে ঠিক কোন কোন কারণ ভূমিকা রেখেছিল, সে বিষয়ে স্পষ্ট সিদ্ধান্তে পৌঁছানো সম্ভব হবে।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে সামরিক প্রশিক্ষণ ফ্লাইট চলাকালে অ্যাপাচি হেলিকপ্টার বিধ্বস্ত হয়ে দুই মার্কিন সেনা নিহত হয়েছেন। দুর্ঘটনার পর নিরাপত্তাজনিত কারণে দেশজুড়ে অ্যাপাচি হেলিকপ্টারের প্রশিক্ষণ ফ্লাইট সাময়িকভাবে বন্ধ রাখার নির্দেশ দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের সেনাবাহিনী। ১২ আগস্ট টেক্সাসের সালাডোর কাছে একটি এএইচ-৬৪ অ্যাপাচি হেলিকপ্টার দুর্ঘটনার কবলে পড়ে। হেলিকপ্টারটি ফোর্ট হুড থেকে পরিচালিত হচ্ছিল। দুর্ঘটনার সময় এটি রক্ষণাবেক্ষণ-পরবর্তী পরীক্ষামূলক উড্ডয়নে ছিল বলে সেনাবাহিনী জানিয়েছে। হেলিকপ্টারটি একটি মাঠে বিধ্বস্ত হয়ে আগুন ধরে যায়। নিহত দুই সেনাকে শনাক্ত করেছে মার্কিন সেনাবাহিনী। তারা হলেন ৩৪ বছর বয়সী চিফ ওয়ারেন্ট অফিসার-২ ডিওন্ট্রে টি. হিউই এবং ২৫ বছর বয়সী ওয়ারেন্ট অফিসার শেথ এল. ওলমস্টেড। দুজনই টেক্সাসের বাসিন্দা ছিলেন এবং দুর্ঘটনার সময় হেলিকপ্টারে তারাই ছিলেন। দুর্ঘটনার কারণ এখনো নিশ্চিতভাবে জানা যায়নি। যুক্তরাষ্ট্রের আর্মি কমব্যাট রেডিনেস সেন্টারের একটি নিরাপত্তা তদন্তকারী দল ঘটনাটি তদন্ত করছে। তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত অ্যাপাচি হেলিকপ্টারের প্রশিক্ষণ কার্যক্রম বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সেনাবাহিনী জানিয়েছে, দুর্ঘটনার মূল কারণ সম্পর্কে আরও পরিষ্কার ধারণা পাওয়া না পর্যন্ত এই সাময়িক স্থগিতাদেশ বহাল থাকবে। তবে এই সিদ্ধান্তের অর্থ অ্যাপাচি হেলিকপ্টারের সব ধরনের উড্ডয়ন বন্ধ হয়ে যাওয়া নয়। সেনাবাহিনীর ঘোষণাটি মূলত প্রশিক্ষণ কার্যক্রমের ওপর প্রযোজ্য। দুই সেনার মৃত্যুতে ফোর্ট হুডের সামরিক সম্প্রদায়ে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। সেনাবাহিনী নিহতদের পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানিয়েছে এবং দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ উদঘাটনে তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে।
থাইল্যান্ডের নাগরিক বিউট পিম্পাপর্ন (৩৩) ইতালির মিলান থেকে ব্যাংককে ফিরছিলেন । ডাবাইয়ে সংযোগকারী ফ্লাইটে ওঠার পর সেখান থেকে ব্যাংককের উদ্দেশে ছয় ঘণ্টার যাত্রা শুরু হয়। মা ও তার মেয়ে ফ্লাইটে ঘুমিয়ে পড়েন। ঘুম থেকে জেগে তিনি দেখেন পাশের আসনে বসা পুরুষ যাত্রী তার নিতম্ব চেপে ধরেছেন এবং অশ্লীল কাজ করছেন। অভিযুক্ত যাত্রী পরে বিনোদনের স্ক্রিন সামঞ্জস্য করার ভান করতে থাকেন এবং বারবার তার দিকে তাকাতে থাকেন । মা বিউট পিম্পাপর্ন ফ্লাইটে হৈ চৈ সৃষ্টি না করে ব্যাংকের ডন মুয়াং আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে নামার পর কেবিন ক্রুদের বিষয়টি জানান । ফ্লাইট অ্যাটেনডেন্টরা অভিযুক্তকে জিজ্ঞাসাবাদ করেন। প্রথমে তিনি অভিযোগ অস্বীকার করলেও পরে তিনি ঘটনার সত্যতা স্বীকার করেন । অভিযুক্ত যাত্রী এবং তার সঙ্গে থাকা পাকিস্তানি ট্যুর গ্রুপের সদস্যরা ক্ষমা চান। অভিযুক্ত যাত্রী কেঁদে তার কাছে ক্ষমা চান এবং তার পায়ে হাত দিয়ে অনুরোধ করেন । কিন্তু কেবিন ক্রুরা বিষয়টি গুরুতর বলে পুলিশকে জানান এবং বিমান থেকে মেয়েটিকে সরিয়ে নেন যেন তিনি ঘটনা দেখতে না পান । বিমান নামার পর ট্যুরিস্ট পুলিশ ও ইমিগ্রেশন কর্মকর্তারা অভিযুক্ত রজা আলীকে বিমান থেকে নামিয়ে পুলিশ স্টেশনে নিয়ে যান । ডন মুয়াং জেলা পুলিশ স্টেশনের পুলিশ লেফটেন্যান্ট কর্নেল চামন্যান্ট কঙ্কং জানিয়েছেন, অভিযুক্তকে থাইল্যান্ডে প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে । পুলিশ জানিয়েছে, অভিযুক্তকে এখনও জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়নি এবং প্রাথমিকভাবে উভয় পক্ষের মধ্যে মধ্যস্থতার চেষ্টা করা হবে । ভুক্তভোগী মা তার পরনের কাপড় জমা দিয়েছেন এবং ডিএনএ পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়েছে । তিনি জানিয়েছেন, তিনি মামলা করতে চান এবং ক্ষতিপূরণ দাবি করবেন । তিনি তার পরিচয় প্রকাশ করে অন্যান্য নারীদের সতর্ক করেছেন যে একা ভ্রমণের সময় সাবধান থাকতে হবে এবং কোনও অস্বস্তি বোধ করলে সাহসের সাথে প্রতিবাদ করতে হবে । ফ্লাইটটি পরিচালনাকারী সংস্থা ফ্লাইদুবাইয়ের একজন মুখপাত্র বলেছেন, যাত্রী ও ক্রুদের নিরাপত্তা তাদের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার এবং চলমান তদন্তের বিষয়ে তারা কোনো মন্তব্য করছেন না ।
যুক্তরাষ্ট্রের টেনেসি অঙ্গরাজ্যের ন্যাশভিল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে কর্মরত অবস্থায় সাউথওয়েস্ট এয়ারলাইন্সের এক ফ্লাইট অ্যাটেনডেন্টকে আটক করেছে মার্কিন অভিবাসন ও শুল্ক প্রয়োগকারী সংস্থা (আইসিই)। আটক ব্যক্তি জামাইকার নাগরিক লরেঞ্জো থম্পসন। যুক্তরাষ্ট্রের স্বরাষ্ট্র নিরাপত্তা বিভাগের (ডিএইচএস) দাবি, তিনি ২০২১ সালে বৈধ ভিসায় যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করলেও নির্ধারিত সময় শেষে দেশ ছাড়েননি এবং এরপরও যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করছিলেন। কর্তৃপক্ষ জানায়, ১৪ জুলাই ন্যাশভিল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে দায়িত্ব পালনের সময় আইসিই কর্মকর্তারা তাকে আটক করেন। ডিএইচএসের ভাষ্য অনুযায়ী, থম্পসন ২০২১ সালের এপ্রিল মাসে ছয় মাসের ভিসায় যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করেন। তার ভিসার মেয়াদ ২০২১ সালের অক্টোবরে শেষ হলেও তিনি দেশ ত্যাগ করেননি। বর্তমানে অভিবাসন-সংক্রান্ত আইনি কার্যক্রম শেষ না হওয়া পর্যন্ত তিনি আইসিইর হেফাজতেই থাকবেন। তবে ঘটনাটি নিয়ে ভিন্ন দাবি করেছে সাউথওয়েস্ট এয়ারলাইন্সের ফ্লাইট অ্যাটেনডেন্টদের ইউনিয়ন টিডব্লিউইউ লোকাল ৫৫৬ এবং থম্পসনের ঘনিষ্ঠরা। তাদের বক্তব্য, থম্পসনের একটি চলমান আশ্রয় (অ্যাসাইলাম) আবেদন রয়েছে এবং তিনি বৈধ কর্ম-অনুমতি নিয়ে কাজ করছিলেন। এছাড়া তার বিরুদ্ধে কোনো ফৌজদারি অপরাধের রেকর্ড নেই বলেও তারা দাবি করেছেন। ইউনিয়ন এক বিবৃতিতে জানায়, তারা থম্পসন ও তার পরিবারের পাশে রয়েছে এবং আইনি সহায়তার বিষয়টি সমন্বয় করছে। একই সঙ্গে ঘটনাটির অগ্রগতি পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। অন্যদিকে, সাউথওয়েস্ট এয়ারলাইন্স এ ঘটনায় প্রকাশ্যে কোনো বিস্তারিত মন্তব্য করেনি। যুক্তরাষ্ট্রে চলমান কঠোর অভিবাসন আইন প্রয়োগের প্রেক্ষাপটে কর্মস্থল থেকে একজন বিমানকর্মীকে আটক করার এই ঘটনা ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। থম্পসনের প্রকৃত অভিবাসন-অবস্থা এবং আশ্রয় আবেদনের আইনি অবস্থান এখন অভিবাসন আদালতের কার্যক্রমে নির্ধারিত হবে।
ঢাকা থেকে চেন্নাইগামী ইউএস-বাংলা এয়ারলাইনসের একটি ফ্লাইটে দীর্ঘ বিলম্ব ও শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা অকার্যকর থাকার অভিযোগে যাত্রীদের দুর্ভোগের খবর পাওয়া গেছে। নির্ধারিত সময়ের প্রায় সাড়ে সাত ঘণ্টা পর ফ্লাইট ছাড়ার পাশাপাশি পুরো যাত্রাপথে কেবিনে পর্যাপ্ত ঠান্ডা বাতাস না থাকায় যাত্রীরা মারাত্মক ভোগান্তির শিকার হয়েছেন বলে অভিযোগ করেছেন তারা। জানা গেছে, ইউএস-বাংলার ফ্লাইট বিএস২০৫ রোববার সকাল ১০টা ৪৫ মিনিটে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে চেন্নাইয়ের উদ্দেশ্যে ছেড়ে যাওয়ার কথা ছিল। তবে বিভিন্ন কারণ দেখিয়ে ফ্লাইটটি বিলম্বিত হতে থাকে এবং শেষ পর্যন্ত সন্ধ্যা ৬টা ১৬ মিনিটে উড্ডয়ন করে। রাত সাড়ে ৮টার দিকে এটি চেন্নাই পৌঁছায়। ফ্লাইটের যাত্রীদের অভিযোগ, বিলম্বের কারণ হিসেবে শুরুতে প্রতিকূল আবহাওয়ার কথা জানানো হলেও পরে কারিগরি ত্রুটি এবং জ্বালানিসংক্রান্ত সমস্যার কথা বলা হয়। এতে যাত্রীদের মধ্যে বিভ্রান্তি তৈরি হয়। ফ্লাইটের এক যাত্রী সামিয়া শতাব্দী সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিজের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে জানান, বিকেল ৪টা ৪০ মিনিটের দিকে যাত্রীদের বিমানে ওঠানো হয়। কিন্তু উড্ডয়নের আগ পর্যন্ত কেবিনে শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা চালু ছিল না। এমনকি পুরো যাত্রাপথেও এসি কার্যকরভাবে চালু হয়নি, ফলে গরমে যাত্রীদের চরম দুর্ভোগ পোহাতে হয়। তিনি আরও উল্লেখ করেন, ফ্লাইটের উল্লেখযোগ্য সংখ্যক যাত্রী চিকিৎসার উদ্দেশ্যে চেন্নাই যাচ্ছিলেন। তাদের মধ্যে বয়স্ক ব্যক্তি ও শিশুও ছিলেন, যারা এই পরিস্থিতিতে সবচেয়ে বেশি কষ্ট ভোগ করেন। কেবিন ক্রুরা বারবার এসি চালু হবে বলে আশ্বাস দিলেও শেষ পর্যন্ত তা কার্যকর হয়নি। সামিয়ার দাবি, পরে ক্রু সদস্যরা জানান যে উড্ডয়নের আগেই এসির সমস্যার বিষয়টি জানা ছিল এবং যাত্রীদের বিমানে রেখেই তা ঠিক করার চেষ্টা করা হয়। কিন্তু সমস্যা পুরোপুরি সমাধান না করেই ফ্লাইট পরিচালনা করা হয়। পরিকল্পনা ছিল, চেন্নাই থেকে ফিরে এসে ত্রুটি মেরামত করা হবে। তবে এ বিষয়ে ইউএস-বাংলা এয়ারলাইনসের ভিন্ন বক্তব্য রয়েছে। প্রতিষ্ঠানটির মুখপাত্র মো. কামরুল ইসলাম দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ডকে বলেন, বিভিন্ন কারণে ফ্লাইটটি বিলম্বে ছেড়েছে। তবে বিমানের শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা পুরোপুরি অচল ছিল না; এটি আংশিকভাবে সচল ছিল, যদিও শতভাগ সক্ষমতায় কাজ করছিল না। অন্যদিকে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের নির্বাহী পরিচালক গ্রুপ ক্যাপ্টেন এস এম রাগিব সামাদ জানান, ইউএস-বাংলা কর্তৃপক্ষ তাদের জানিয়েছে যে বিমানের দুটি এয়ার কন্ডিশনিং প্যাকের একটি কারিগরি ত্রুটির কারণে বিকল ছিল, অন্যটি সচল ছিল। সংশ্লিষ্ট কারিগরি নির্দেশনা অনুযায়ী এই অবস্থায় ফ্লাইট পরিচালনা করা অনুমোদিত থাকলেও এতে যাত্রীরা যে ভোগান্তির শিকার হয়েছেন, তা অস্বীকার করা যাচ্ছে না। বিষয়টি নিয়ে এয়ারলাইনসকে আনুষ্ঠানিক ব্যাখ্যা দিতে বলা হয়েছে বলেও জানান তিনি। ঘটনাটি নিয়ে যাত্রীদের মধ্যে ক্ষোভ তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে চিকিৎসার জন্য ভ্রমণ করা যাত্রীদের দুর্ভোগ প্রশ্ন তুলেছে ফ্লাইট পরিচালনার মান ও যাত্রীসেবার বিষয়ে। বিমান চলাচলে নিরাপত্তার পাশাপাশি যাত্রীস্বাচ্ছন্দ্য নিশ্চিত করা নিয়েও নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।
আঞ্চলিক উত্তেজনার কারণে সাময়িকভাবে বন্ধ থাকার পর ইরানের রাজধানী তেহরানের আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে আবারও বিমান চলাচল শুরু হয়েছে। সৌদি আরব থেকে ফিরে আসা হজযাত্রীদের বহনকারী ফ্লাইট অবতরণের মধ্য দিয়ে কার্যক্রম পুনরায় চালু হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত হয়েছে। বার্তা সংস্থা এএফপির এক প্রতিবেদনে মঙ্গলবার (৯ জুন) ভোরে এ তথ্য জানানো হয়। তেহরানের ইমাম খোমেনি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর কোম্পানির অপারেশন বিভাগের উপপ্রধান গণমাধ্যমকে জানান, পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়ায় ধীরে ধীরে ফ্লাইট পরিচালনা পুনরায় শুরু করা হচ্ছে। সাম্প্রতিক সময়ে মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা বৃদ্ধি পাওয়ায় বিমান চলাচল বন্ধ থাকায় যাত্রীদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছিল। বিশেষ করে বিদেশে অবস্থানরত ইরানি নাগরিক এবং হজ পালন শেষে দেশে ফেরার অপেক্ষায় থাকা যাত্রীদের মধ্যে অনিশ্চয়তা দেখা দেয়। এর আগে, রোববার ইসরায়েলে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলার পর নিরাপত্তাজনিত কারণে তেহরানের আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরমুখী সব ধরনের ফ্লাইট স্থগিত করা হয়। পরিস্থিতি কিছুটা স্থিতিশীল হওয়ায় এখন ধাপে ধাপে বিমান চলাচল স্বাভাবিক করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, আঞ্চলিক উত্তেজনার প্রভাব সরাসরি বিমান চলাচলের ওপর পড়ায় যাত্রী ও আন্তর্জাতিক যোগাযোগে বড় ধরনের প্রভাব পড়ে। তাই পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়ায় বিমান চলাচল পুনরায় চালু হওয়াকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা।
বাহরাইনে থাকা প্রবাসী বাংলাদেশিদের সুবিধার্থে দুটি বিশেষ রিটার্ন ফ্লাইটের ব্যবস্থা করা হয়েছে। স্থানীয় সময় সোমবার (২৪ মার্চ) মানামার বাংলাদেশ দূতাবাস এক বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য জানায়। দূতাবাসের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, গালফ এয়ারের মাধ্যমে বাহরাইন থেকে বাংলাদেশে যাওয়া এবং বাংলাদেশ থেকে বাহরাইন ফেরার জন্য বিশেষ দুটি ফ্লাইট পরিচালনা করা হবে। প্রথম ফ্লাইটটি ২৭ মার্চ বাহরাইন থেকে দাম্মাম হয়ে ঢাকা পৌঁছাবে এবং একই দিনে ঢাকা থেকে দাম্মাম ফেরার ব্যবস্থা থাকবে। দ্বিতীয় ফ্লাইট ৩ এপ্রিল একই রুটে পরিচালিত হবে। ফ্লাইটের সুবিধা নিতে আগ্রহীরা গুগল ফর্মে নিবন্ধন করার জন্য অনুরোধ করা হয়েছে। যাত্রী সংখ্যা পূর্ণ হলে পরবর্তী নির্দেশনা জানানো হবে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।