বিমানবন্দরেই আইসিইর হাতে গ্রেপ্তার এয়ারলাইন্সের ফ্লাইট অ্যাটেনডেন্ট, বিমানবন্দরে চাঞ্চল্য
যুক্তরাষ্ট্রের টেনেসি অঙ্গরাজ্যের ন্যাশভিল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে কর্মরত অবস্থায় সাউথওয়েস্ট এয়ারলাইন্সের এক ফ্লাইট অ্যাটেনডেন্টকে আটক করেছে মার্কিন অভিবাসন ও শুল্ক প্রয়োগকারী সংস্থা (আইসিই)। আটক ব্যক্তি জামাইকার নাগরিক লরেঞ্জো থম্পসন। যুক্তরাষ্ট্রের স্বরাষ্ট্র নিরাপত্তা বিভাগের (ডিএইচএস) দাবি, তিনি ২০২১ সালে বৈধ ভিসায় যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করলেও নির্ধারিত সময় শেষে দেশ ছাড়েননি এবং এরপরও যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করছিলেন।
কর্তৃপক্ষ জানায়, ১৪ জুলাই ন্যাশভিল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে দায়িত্ব পালনের সময় আইসিই কর্মকর্তারা তাকে আটক করেন। ডিএইচএসের ভাষ্য অনুযায়ী, থম্পসন ২০২১ সালের এপ্রিল মাসে ছয় মাসের ভিসায় যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করেন। তার ভিসার মেয়াদ ২০২১ সালের অক্টোবরে শেষ হলেও তিনি দেশ ত্যাগ করেননি। বর্তমানে অভিবাসন-সংক্রান্ত আইনি কার্যক্রম শেষ না হওয়া পর্যন্ত তিনি আইসিইর হেফাজতেই থাকবেন।
তবে ঘটনাটি নিয়ে ভিন্ন দাবি করেছে সাউথওয়েস্ট এয়ারলাইন্সের ফ্লাইট অ্যাটেনডেন্টদের ইউনিয়ন টিডব্লিউইউ লোকাল ৫৫৬ এবং থম্পসনের ঘনিষ্ঠরা। তাদের বক্তব্য, থম্পসনের একটি চলমান আশ্রয় (অ্যাসাইলাম) আবেদন রয়েছে এবং তিনি বৈধ কর্ম-অনুমতি নিয়ে কাজ করছিলেন। এছাড়া তার বিরুদ্ধে কোনো ফৌজদারি অপরাধের রেকর্ড নেই বলেও তারা দাবি করেছেন।
ইউনিয়ন এক বিবৃতিতে জানায়, তারা থম্পসন ও তার পরিবারের পাশে রয়েছে এবং আইনি সহায়তার বিষয়টি সমন্বয় করছে। একই সঙ্গে ঘটনাটির অগ্রগতি পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।
অন্যদিকে, সাউথওয়েস্ট এয়ারলাইন্স এ ঘটনায় প্রকাশ্যে কোনো বিস্তারিত মন্তব্য করেনি। যুক্তরাষ্ট্রে চলমান কঠোর অভিবাসন আইন প্রয়োগের প্রেক্ষাপটে কর্মস্থল থেকে একজন বিমানকর্মীকে আটক করার এই ঘটনা ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। থম্পসনের প্রকৃত অভিবাসন-অবস্থা এবং আশ্রয় আবেদনের আইনি অবস্থান এখন অভিবাসন আদালতের কার্যক্রমে নির্ধারিত হবে।
© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
আমেরিকা
View moreযুক্তরাষ্ট্রের আবাসন বাজারে এখন বাড়ি বিক্রি করতে আগের চেয়ে বেশি ছাড় দিতে হচ্ছে অনেক মালিককে। অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বন্ধকী ঋণের উচ্চ সুদ, দীর্ঘদিন ধরে বাড়ির দাম বেড়ে যাওয়া এবং মূল্যস্ফীতির কারণে ক্রেতাদের সামর্থ্য কমেছে। ফলে বিক্রেতাদের কেউ কেউ দাম কমাচ্ছেন, আবার কেউ ক্রেতার মেরামত বা বাড়ি কেনার সমাপনী খরচের অংশও বহন করছেন। প্রতিবেদন অনুযায়ী, সেপ্টেম্বর মাসে যুক্তরাষ্ট্রে বাড়ির বিজ্ঞাপিত মধ্যম দাম আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ১ দশমিক ২ শতাংশ কমে ৪ লাখ ১৯ হাজার ২৫০ ডলারে দাঁড়িয়েছে। একই সময়ে প্রায় ২১ শতাংশ বাড়ির বিজ্ঞাপিত দাম কমানো হয়, যা চার বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়। টেক্সাসের এক বাড়ির মালিক লিজ সুদার ২০২৫ সালের এপ্রিলে তাঁর বাড়ির দাম ৭ লাখ ৫০ হাজার ডলার নির্ধারণ করেছিলেন। একাধিকবার দাম কমানোর পরও দীর্ঘদিন ক্রেতা না পাওয়ায় তাঁকে বাড়িটি বাজার থেকে সরিয়ে নিতে হয়। পরে আবার বিক্রির জন্য তুলে শেষ পর্যন্ত ৬ লাখ ৫০ হাজার ডলারে বিক্রি করতে রাজি হন। চুক্তি সম্পন্ন করতে মেরামতের জন্য আরও ৯ হাজার ডলার দিতে সম্মত হন তিনি। অন্যদিকে, ওয়াশিংটন অঙ্গরাজ্যের এক বাড়ির মালিকের ক্ষেত্রেও দীর্ঘদিন ধরে ক্রেতা না পাওয়ার ঘটনা উঠে এসেছে। বাড়ি বিক্রি না হওয়ায় তাঁর অন্য অঙ্গরাজ্যে চাকরির কারণে স্থানান্তরের পরিকল্পনাও আটকে রয়েছে। এমন ঘটনা দেখাচ্ছে, আবাসন বাজারের ধীরগতি শুধু আর্থিক হিসাবেই নয়, মানুষের পারিবারিক সিদ্ধান্ত ও জীবনের পরিকল্পনাতেও প্রভাব ফেলছে। রিয়েলটর ডটকমের তথ্য উদ্ধৃত করে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বাড়ির ক্রেতা কমে যাওয়ায় বিক্রেতাদের দর-কষাকষিতে আগের মতো সুবিধা থাকছে না। অন্যদিকে, বাড়ি কেনার পরিকল্পনা করা পরিবারের জন্য দাম কমার সুযোগ তৈরি হলেও উচ্চ বন্ধকী সুদ এবং অন্যান্য ব্যয় অনেকের জন্য বাড়ি কেনাকে এখনও কঠিন করে রেখেছে। যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত বাংলাদেশি পরিবারগুলোর জন্যও এ পরিস্থিতি গুরুত্বপূর্ণ। যাঁরা প্রথম বাড়ি কেনার পরিকল্পনা করছেন, তাঁদের শুধু বাড়ির বিজ্ঞাপিত দাম নয়, বন্ধকী ঋণের সুদ, সম্পত্তি কর, বাড়ির বীমা, মেরামত ও অন্যান্য খরচ হিসাব করা জরুরি। আবার যাঁরা বাড়ি বিক্রি করে অন্য শহরে যেতে বা বড় বাড়ি কিনতে চান, তাঁদেরও বিক্রি হতে কত সময় লাগতে পারে তা বিবেচনায় রাখা দরকার।
শিশুদের ডে-কেয়ারের খরচে দিশেহারা মার্কিন পরিবার, কাজ করেও সঞ্চয় থাকছে না
যুক্তরাষ্ট্রের নির্বাচনের আগে ২০ হাজার ভোটারকে ঘিরে নতুন বিতর্ক, ক্যালিফোর্নিয়ায় বাড়ছে আইনি চাপ
চিকিৎসার খরচে চাপে মার্কিন পরিবার, অর্থ বাঁচাতে ডাক্তার দেখানোও পিছিয়ে দিচ্ছেন অনেকে
যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডায় বসবাসরত ১৮ বছর বয়সী ওয়েন্ডি ডোমিঙ্গোর জীবন বদলে যায় গত ৯ আগস্ট। ছোট ভাইবোনদের নিয়ে জুতা কিনতে যাওয়ার পথে তাঁর গাড়ি থামায় সীমান্ত টহল কর্মকর্তারা। গাড়িতে থাকা ওয়েন্ডি ও তাঁর ভাইবোনেরা যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক হলেও তাঁদের মা-বাবার অভিবাসনগত অবস্থান নিয়ে জটিলতা ছিল। পরে কর্মকর্তারা তাঁর মা-বাবাকে আটক করেন। ঘটনাটির ভিডিওতে ছোট ভাইবোনদের কান্না এবং বাবাকে জড়িয়ে ধরে ওয়েন্ডির কষ্ট প্রকাশ পায়। মা-বাবাকে আটকের পর পরিবারটির জীবনযাত্রা কঠিন হয়ে পড়ে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তাঁদের মা-বাবাকে পরে গুয়াতেমালায় ফেরত পাঠানো হয়। ওয়েন্ডিকে ছোট ভাইবোনদের দেখাশোনার দায়িত্ব সামলাতে হচ্ছে। পড়াশোনা, কাজ এবং পরিবারের দৈনন্দিন প্রয়োজন মেটানোর মতো বিষয়গুলো এখন তাঁর জীবনের বড় চ্যালেঞ্জ। এত অল্প বয়সে পরিবারের দায়িত্ব নেওয়া তাঁর জন্য মানসিক চাপও তৈরি করেছে। ওয়েন্ডির ঘটনা যুক্তরাষ্ট্রে এমন পরিবারগুলোর বাস্তবতা সামনে এনেছে, যেখানে সন্তানরা মার্কিন নাগরিক হলেও মা-বাবার অভিবাসনগত অবস্থান অনিশ্চিত। এবিসি নিউজের প্রতিবেদনে অভিবাসন অধিকার নিয়ে কাজ করা ব্যক্তিদের বক্তব্য অনুযায়ী, মা-বাবাকে আটক বা দেশ থেকে ফেরত পাঠানোর পর অনেক বড় সন্তানকে ছোট ভাইবোনদের দেখাশোনা করতে হচ্ছে। কিছু ক্ষেত্রে তাঁদের পড়াশোনা বা কাজের পরিকল্পনাও পরিবর্তন করতে হচ্ছে। এ ধরনের পরিস্থিতিতে পরিবারের জন্য সবচেয়ে কঠিন বিষয় শুধু আর্থিক চাপ নয়; সন্তানদের মানসিক নিরাপত্তা, পড়াশোনার ধারাবাহিকতা এবং মা-বাবার সঙ্গে যোগাযোগ বজায় রাখাও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে। তবে প্রতিটি পরিবারের পরিস্থিতি আলাদা, এবং কোনো একটি ঘটনার ভিত্তিতে সব অভিবাসী পরিবারের ভবিষ্যৎ সম্পর্কে একই সিদ্ধান্তে পৌঁছানো যায় না। যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত বাংলাদেশি পরিবারগুলোর জন্যও এ ঘটনা একটি গুরুত্বপূর্ণ স্মরণবার্তা। পরিবারের সবার পরিচয়পত্র ও জরুরি যোগাযোগের তথ্য গুছিয়ে রাখা, শিশুদের দেখাশোনার বিকল্প ব্যবস্থা নিয়ে আলোচনা করা এবং অভিবাসনসংক্রান্ত জটিলতা দেখা দিলে যোগ্য আইনজীবীর পরামর্শ নেওয়া উপকারী হতে পারে। শিশুদের নাগরিকত্ব থাকলেই মা-বাবার অভিবাসনসংক্রান্ত সমস্যা স্বয়ংক্রিয়ভাবে সমাধান হয়ে যায় না। ওয়েন্ডির গল্পের কেন্দ্রে রয়েছে একজন তরুণীর পারিবারিক দায়িত্ববোধ—যিনি কঠিন পরিস্থিতিতেও ছোট ভাইবোনদের পাশে থাকার চেষ্টা করছেন। একই সঙ্গে ঘটনাটি দেখায়, অভিবাসনসংক্রান্ত সিদ্ধান্তের প্রভাব কখনো কখনো কেবল সংশ্লিষ্ট প্রাপ্তবয়স্কদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকে না; তা শিশু ও তরুণদের জীবনেও গভীর পরিবর্তন আনতে পারে।
নিউ জার্সিতে ক্যাসিনো হোটেলে ব্যক্তিকে বিবস্ত্র করে অর্থ ছিনতাইয়ের অভিযোগ, গ্রেপ্তার শিক্ষিকা
এইচ-১বি ভিসা নিয়ে নতুন আইনি ঝামেলায় ইনফোসিস, তদন্ত করছে মার্কিন বিচার বিভাগ
নিউইয়র্কে বাংলাদেশিদের জন্য বড় প্রতিশ্রুতি, চাকরি ও প্রবীণদের সেবায় আসছে নতুন উদ্যোগ!
যুক্তরাষ্ট্রে সরকারি স্বাস্থ্যসেবা সহায়তার নিয়মে পরিবর্তনের ফলে কিছু বৈধ অভিবাসীর চিকিৎসা ব্যয় নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। নতুন বিধিনিষেধের আওতায় নির্দিষ্ট কিছু শ্রেণির অভিবাসী ১ অক্টোবর থেকে সরকারি স্বাস্থ্যবিমা সহায়তা হারিয়েছেন। এর ফলে যেসব পরিবার নিয়মিত চিকিৎসা, ওষুধ কিংবা দীর্ঘমেয়াদি স্বাস্থ্যসেবার ওপর নির্ভরশীল, তাদের আর্থিক চাপ বাড়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। ১০ অক্টোবর প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সরকারি স্বাস্থ্যবিমা সহায়তার নিয়ম পরিবর্তনের কারণে যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যে বহু বৈধ অভিবাসী ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার ঝুঁকিতে রয়েছেন। স্বাস্থ্যনীতি নিয়ে গবেষণাকারী প্রতিষ্ঠান কেএফএফের হিসাব অনুযায়ী, নয়টি অঙ্গরাজ্য ও ওয়াশিংটন ডিসিতে ২ লাখ ৮১ হাজারের বেশি অভিবাসী এই পরিবর্তনের প্রভাবে সহায়তা হারিয়েছেন বা হারানোর ঝুঁকিতে পড়েছেন। তবে সবার ক্ষেত্রে একই নিয়ম প্রযোজ্য নয়; ব্যক্তির অভিবাসন-অবস্থা ও সংশ্লিষ্ট অঙ্গরাজ্যের বিধানের ওপর বিষয়টি নির্ভর করে। প্রতিবেদনে অ্যারিজোনায় প্রায় ২৯ হাজার এবং ফ্লোরিডায় প্রায় ১ লাখ ৭৭ হাজার বৈধ অভিবাসীর স্বাস্থ্যবিমা সহায়তা হারানোর হিসাব উল্লেখ করা হয়েছে। এসব পরিসংখ্যান থেকে বোঝা যায়, সরকারি নীতির পরিবর্তন অনেক পরিবারের চিকিৎসার পরিকল্পনা ও দৈনন্দিন ব্যয়ের ওপর প্রভাব ফেলতে পারে। স্বাস্থ্যবিমার সুবিধা হারালে চিকিৎসকের পরামর্শ, পরীক্ষা-নিরীক্ষা, হাসপাতালে ভর্তি এবং ওষুধ কেনার খরচ নিজের পকেট থেকে বহন করতে হতে পারে। বিশেষ করে যেসব পরিবারে শিশু, বয়স্ক মানুষ কিংবা দীর্ঘদিন ধরে চিকিৎসা নেওয়া সদস্য রয়েছেন, তাদের জন্য পরিস্থিতি কঠিন হয়ে উঠতে পারে। সীমিত আয়ের পরিবারগুলোর ক্ষেত্রে চিকিৎসার ব্যয় মেটাতে সঞ্চয় খরচ করা বা অন্যান্য প্রয়োজনীয় ব্যয় কমানোর পরিস্থিতিও তৈরি হতে পারে। যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত বাংলাদেশি পরিবারগুলোর জন্যও বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ। তবে সব বাংলাদেশি অভিবাসী বা সব বৈধ অভিবাসীর স্বাস্থ্যবিমা বন্ধ হয়ে গেছে—এমন ধারণা সঠিক নয়। সরকারি স্বাস্থ্যসেবা সহায়তার যোগ্যতা ব্যক্তির অভিবাসন-অবস্থা, বয়স, আয়, পারিবারিক পরিস্থিতি এবং অঙ্গরাজ্যের নিয়ম অনুযায়ী নির্ধারিত হয়। যাঁরা স্বাস্থ্যবিমা বন্ধ হওয়ার নোটিশ পেয়েছেন, তাঁদের প্রথমে নোটিশটি ভালোভাবে পড়ে কারণ ও পরবর্তী পদক্ষেপ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া উচিত। সিদ্ধান্তটি ভুল বলে মনে হলে নোটিশে উল্লেখ করা নিয়ম অনুযায়ী পুনর্বিবেচনা বা আপিলের সুযোগ আছে কি না, তা যাচাই করা প্রয়োজন। প্রয়োজনে সংশ্লিষ্ট অঙ্গরাজ্যের স্বাস্থ্যসেবা দপ্তর কিংবা যোগ্য পরামর্শকের সহায়তা নেওয়া যেতে পারে। এই পরিবর্তন যুক্তরাষ্ট্রে সরকারি ব্যয়, অভিবাসননীতি এবং নাগরিকদের স্বাস্থ্যসেবা পাওয়ার সুযোগ নিয়ে চলমান বিতর্কের অংশ। সরকারের ব্যয় নিয়ন্ত্রণের উদ্যোগের পাশাপাশি অসুস্থ ও স্বল্প আয়ের মানুষের চিকিৎসা পাওয়ার সুযোগ কীভাবে নিশ্চিত করা হবে, তা নিয়েও প্রশ্ন উঠছে। প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারিত অসম্পূর্ণ তথ্যের ওপর নির্ভর না করে নিজেদের যোগ্যতা সরকারি দপ্তরের মাধ্যমে যাচাই করা। স্বাস্থ্যবিমা সংক্রান্ত কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া উচিত।
যুক্তরাষ্ট্রে ভোটার নিবন্ধন নিয়ে কড়াকড়ি, নাগরিকত্বপ্রত্যাশীদের জানা জরুরি যেসব নিয়ম
প্রবাসী বাংলাদেশিদের বৈশ্বিক মিলনমেলা: ২৮–২৯ ডিসেম্বর ঢাকায় ‘এনআরবি ওয়ার্ল্ড সামিট ২০২৬’