ব্রেক্সিট

ব্রেক্সিটের এক দশক পরও বাণিজ্য, মূল্যস্ফীতি ও প্রবৃদ্ধির চাপে রয়েছে যুক্তরাজ্যের অর্থনীতি | ছবি: সংগৃহীত
ব্রেক্সিটের ধাক্কায় এক দশক পরও কেনো ভুগছে যুক্তরাজ্যের অর্থনীতি?

ব্রেক্সিটের গণভোটের এক দশক পূর্ণ হলেও এর অর্থনৈতিক অভিঘাত এখনো কাটিয়ে উঠতে পারেনি যুক্তরাজ্য। ২০১৬ সালের ২৩ জুন ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) ছাড়ার পক্ষে গণভোটের ফল প্রকাশের পর যে রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তার শুরু হয়েছিল, তার প্রভাব এখনো দেশটির প্রবৃদ্ধি, বাণিজ্য, মূল্যস্ফীতি ও জনসেবায় স্পষ্টভাবে দেখা যাচ্ছে। অর্থনীতিবিদদের মতে, ব্রেক্সিটের কারণে যুক্তরাজ্যের অর্থনীতি উল্লেখযোগ্যভাবে সংকুচিত হয়েছে এবং এর প্রভাব আগামী বছরগুলোতেও বহাল থাকতে পারে।   ব্রেক্সিটের ১০ বছর পূর্তিতে জনমতেও পরিবর্তন এসেছে। বিভিন্ন জরিপে দেখা গেছে, ইইউ ছাড়ার পক্ষে ভোট দেওয়া প্রায় ২৩ শতাংশ ভোটার এখন সেই সিদ্ধান্তের জন্য অনুতপ্ত। কেউ ইউরোপ সম্পর্কে নিজের দৃষ্টিভঙ্গি বদলেছেন, আবার কেউ মনে করেন, ব্রেক্সিট বাস্তবায়নের পুরো প্রক্রিয়া সঠিকভাবে পরিচালিত হয়নি।   অর্থনীতিবিদদের বিশ্লেষণ বলছে, ব্রেক্সিটের ফলে যুক্তরাজ্যের মোট দেশজ উৎপাদন (জিডিপি) প্রায় ৮ শতাংশ পর্যন্ত কমে গেছে। অর্থাৎ, ব্রেক্সিট না হলে দেশটির অর্থনীতি বর্তমানের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে বড় হতে পারত। এর ফলে সরকারের কর আদায়ও কমেছে, যার প্রভাব পড়েছে স্বাস্থ্যসেবা, শিক্ষা ও অন্যান্য জনসেবার বাজেটে।   লন্ডনের কিংস কলেজের অর্থনীতি ও জননীতি বিভাগের অধ্যাপক জোনাথন পোর্টেস বলেন, অর্থনীতিবিদদের মধ্যে এখন প্রায় স্পষ্ট ঐকমত্য রয়েছে যে ব্রেক্সিট যুক্তরাজ্যের অর্থনীতির উল্লেখযোগ্য ক্ষতি করেছে।   স্ট্যানফোর্ড ইউনিভার্সিটির ইনস্টিটিউট ফর ইকোনমিক পলিসি রিসার্চের গবেষকেরা দুটি পৃথক পদ্ধতিতে ব্রেক্সিটের অর্থনৈতিক প্রভাব বিশ্লেষণ করেছেন। প্রথম বিশ্লেষণে গত ১০ বছরের প্রবৃদ্ধিকে অন্যান্য উন্নত দেশের সঙ্গে তুলনা করা হয়। সেখানে কোভিড-১৯, ইউক্রেন যুদ্ধ ও মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতের মতো বৈশ্বিক ঘটনাগুলোর প্রভাবও বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে। গবেষকদের মতে, ব্রেক্সিট না হলে যুক্তরাজ্যের অর্থনীতি বর্তমানের তুলনায় প্রায় ৮ শতাংশ বড় হতে পারত। দ্বিতীয় বিশ্লেষণে ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে ব্যবসা করা ব্রিটিশ কোম্পানিগুলোর কার্যক্রম মূল্যায়ন করা হয়। দেখা যায়, এসব প্রতিষ্ঠানের ব্যবসায়িক পারফরম্যান্স উল্লেখযোগ্যভাবে খারাপ হয়েছে। এই বিশ্লেষণেও অর্থনীতি প্রায় ৬ শতাংশ ছোট হয়ে যাওয়ার প্রমাণ পাওয়া গেছে।   বিশেষজ্ঞদের মতে, ব্রেক্সিটের সবচেয়ে বড় আঘাত লেগেছে বাণিজ্যে। ইউরোপীয় ইউনিয়ন ছাড়ার পর সীমান্তে নতুন কাস্টমস বিধি, অতিরিক্ত কাগজপত্র ও প্রশাসনিক জটিলতায় ব্যবসার ব্যয় এবং সময় দুটিই বেড়েছে। বিশেষ করে গাড়ি শিল্প, কৃষি ও খাদ্যপণ্য রপ্তানি সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।   চলতি বছরের শুরুতে যুক্তরাজ্যের পার্লামেন্টের এক শুনানিতে এক লজিস্টিকস ব্যবসায়ী জানান, ব্রেক্সিটের আগে ইউরোপে মাংস রপ্তানিতে একটি কাগজই যথেষ্ট ছিল, অথচ এখন একই পণ্য পাঠাতে প্রয়োজন হয় ২৬টি সরকারি অনুমোদনপত্র।   যদিও যুক্তরাজ্য ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের মধ্যে নতুন একটি বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে আলোচনা চলছে, যা কার্যকর হলে দুগ্ধজাত পণ্য, ডিম, মাছ ও তাজা মাংস রপ্তানি সহজ হতে পারে। তবে সেটি কার্যকর হওয়ার সম্ভাব্য সময় ২০২৭ সালের গ্রীষ্ম। এরই মধ্যে অতিরিক্ত ব্যয় ও জটিলতায় অনেক প্রতিষ্ঠান ব্যবসা গুটিয়ে নিয়েছে।   ব্রিটেনের ফুড অ্যান্ড ড্রিংক ফেডারেশনের তথ্য অনুযায়ী, ব্রেক্সিট কার্যকর হওয়ার পর ইউরোপীয় ইউনিয়নে দেশটির খাদ্যপণ্য রপ্তানি প্রায় ২৫ শতাংশ কমে গেছে।   ব্রেক্সিটের প্রভাব সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয়েও স্পষ্ট। গবেষণায় দেখা গেছে, খাদ্যপণ্যের মূল্যস্ফীতিতে এর উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রয়েছে। কমলার রসের মতো কিছু নিত্যপণ্যের দাম ১৩৪ শতাংশ পর্যন্ত বেড়েছে। অর্থনীতিবিদ গ্রেগরি থওয়েটস বলেন, এই মূল্যবৃদ্ধির সবচেয়ে বড় চাপ পড়েছে নিম্ন আয়ের মানুষের ওপর। তবে তিনি সতর্ক করে বলেন, দারিদ্র্য বা খাদ্য ব্যাংকের ব্যবহার বৃদ্ধির মতো বিষয়গুলোকে শুধু ব্রেক্সিটের ফল হিসেবে দেখা ঠিক হবে না; এর পেছনে আরও নানা সামাজিক ও অর্থনৈতিক কারণ রয়েছে।   অর্থনীতিবিদদের মতে, ব্রেক্সিট যুক্তরাজ্যের একমাত্র অর্থনৈতিক সমস্যা নয়। বিনিয়োগের ঘাটতি, ধীর প্রবৃদ্ধি ও উৎপাদনশীলতার সংকট আগে থেকেই ছিল। তবে ব্রেক্সিট এসব সমস্যাকে আরও তীব্র করেছে। জিডিপি কমে যাওয়ার ফলে সরকারের কর রাজস্বও কমেছে। এর প্রভাব পড়েছে স্বাস্থ্যসেবা, শিক্ষা, অবকাঠামো ও অন্যান্য জনসেবায়। একই সঙ্গে কারাগার ব্যবস্থা, সড়ক অবকাঠামো ও প্রতিরক্ষা খাতেও আর্থিক চাপ বেড়েছে।   বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এই ক্ষতি পুরোপুরি পুষিয়ে নেওয়া সম্ভব না হলেও ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে আরও ঘনিষ্ঠ অর্থনৈতিক সম্পর্ক এবং অভ্যন্তরীণ নীতি সংস্কারের মাধ্যমে এর প্রভাব কিছুটা কমানো যেতে পারে। অর্থনীতিবিদ গ্রেগরি থওয়েটসের ভাষায়, বর্তমান ক্ষতির বড় অংশ স্থায়ী হয়ে যেতে পারে এবং ভবিষ্যতেও যুক্তরাজ্যের অর্থনীতি একই ধরনের চাপে থাকতে পারে।

তাবাস্সুম জুন ২৭, ২০২৬ ১৪:০
ছবি: সিএনএন
দশ বছর পরও ব্রেক্সিটের প্রভাব কাটেনি, এখনো অর্থনীতি ও বাণিজ্য চাপে যুক্তরাজ্য

ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) ত্যাগের পক্ষে অনুষ্ঠিত ঐতিহাসিক গণভোটের ১০ বছর পূর্ণ হয়েছে। ২০১৬ সালের ২৩ জুন অনুষ্ঠিত ওই গণভোটে ৫১ দশমিক ৯ শতাংশ ভোটার ইইউ ছাড়ার পক্ষে এবং ৪৮ দশমিক ১ শতাংশ ভোটার বিপক্ষে অবস্থান নেন। এক দশক পরও সেই সিদ্ধান্ত যুক্তরাজ্যের অর্থনীতি, বাণিজ্য ও রাজনীতিতে দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব ফেলছে বলে মনে করছেন অর্থনীতিবিদ ও ব্যবসায়িক নেতারা।   বিশ্বের বৃহত্তম একক বাজার থেকে বেরিয়ে যাওয়ার পর যুক্তরাজ্যের অর্থনৈতিক সক্ষমতা ও প্রবৃদ্ধি সম্ভাবনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে বিভিন্ন গবেষণা ও বিশ্লেষণে উঠে এসেছে। অর্থনীতিবিদদের হিসাব অনুযায়ী, ব্রেক্সিটের কারণে দেশটির সম্ভাব্য অর্থনৈতিক উৎপাদন ২ শতাংশ থেকে ৮ শতাংশ পর্যন্ত কমে থাকতে পারে। তবে কোভিড-১৯ মহামারি এবং ইউক্রেন যুদ্ধজনিত জ্বালানি সংকটের মতো বৈশ্বিক ঘটনাগুলোর কারণে ব্রেক্সিটের পৃথক প্রভাব নির্দিষ্টভাবে পরিমাপ করা কঠিন হয়ে পড়েছে।   অক্সফোর্ড ইকোনমিকসের জ্যেষ্ঠ উপদেষ্টা এবং ব্যাংক অব ইংল্যান্ডের সাবেক কর্মকর্তা মাইকেল সন্ডার্স বলেন, ব্রেক্সিট এখনো যুক্তরাজ্যের অর্থনীতির ওপর ধারাবাহিক চাপ তৈরি করছে। তার মতে, এর ফলে মোট দেশজ উৎপাদন সম্ভাব্য স্তরের তুলনায় কম রয়েছে, যা সরকারি রাজস্বে ঘাটতি সৃষ্টি করছে এবং কর বৃদ্ধি ও ব্যয় সংকোচনের চাপ তৈরি করছে।   তবে ব্রেক্সিট সমর্থনকারী স্বতন্ত্র অর্থনীতিবিদ জুলিয়ান জেসপ বলেন, ইইউ ত্যাগের প্রাথমিক প্রভাব নেতিবাচক হলেও ক্ষতির মাত্রা আশঙ্কার তুলনায় কম ছিল এবং সময়ের সঙ্গে এর প্রভাব আরও কমে আসতে পারে।   ব্রেক্সিট প্রচারের সময় কম অভিবাসন, কম নিয়ন্ত্রণ, উন্নত সরকারি সেবা এবং নতুন বাণিজ্যিক সুযোগের যে প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল, তার অনেকগুলো এখনো পূর্ণভাবে বাস্তবায়িত হয়নি বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। অস্ট্রেলিয়া, নিউজিল্যান্ড, ভারত ও জাপানের সঙ্গে নতুন বাণিজ্য চুক্তি স্বাক্ষরিত হলেও সেগুলোর অর্থনৈতিক গুরুত্ব ইউরোপীয় ইউনিয়নের বাজারের তুলনায় সীমিত। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে যুক্তরাজ্য ও ইইউর মধ্যে বাণিজ্যের পরিমাণ ছিল ৮৫৬ বিলিয়ন পাউন্ড।   অভিবাসন নিয়ন্ত্রণের ক্ষেত্রেও প্রত্যাশিত পরিবর্তন দেখা যায়নি। অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের মাইগ্রেশন অবজারভেটরির তথ্য অনুযায়ী, ২০২১ সালে নতুন অভিবাসন ব্যবস্থার পর থেকে যুক্তরাজ্যে নিট অভিবাসন গড়ে বছরে ৫ লাখ ৫০ হাজারে পৌঁছেছে। ২০১০-এর দশকে এই সংখ্যা ছিল প্রায় ২ লাখ ৫০ হাজার। ২০২৩ সালে এটি প্রায় ৯ লাখ ৫০ হাজারে পৌঁছে রেকর্ড উচ্চতায় ওঠে।   চলতি মাসে প্রকাশিত ইউগভ জরিপে দেখা গেছে, প্রতি ১০ জন ব্রিটিশের মধ্যে ৬ জন মনে করেন ব্রেক্সিট প্রত্যাশিত ফল দিতে ব্যর্থ হয়েছে।   ২০১৬ সালের গণভোটে ব্রেক্সিটের পক্ষে ভোট দেওয়া ওয়েস্ট মিডল্যান্ডসের সফটওয়্যার ডেভেলপার জেরেইন্ট বলেন, তখন অভিবাসন বৃদ্ধির কারণে স্বাস্থ্যসেবা ও সরকারি সেবার ওপর চাপ নিয়ে উদ্বেগ ছিল। তবে বর্তমানে সুযোগ পেলে তিনি ইউরোপীয় ইউনিয়নে থাকার পক্ষেই ভোট দিতেন বলে মন্তব্য করেন।   ব্যবসায়িক খাতেও ব্রেক্সিটের প্রভাব স্পষ্ট। ২০২০ সালে যুক্তরাজ্য আনুষ্ঠানিকভাবে ইইউ ত্যাগের পর নতুন বাণিজ্য সম্পর্ক কার্যকর হয়, যার ফলে কাস্টমস পরীক্ষা, সীমান্ত নিয়ন্ত্রণ এবং অতিরিক্ত প্রশাসনিক প্রক্রিয়া চালু হয়।   ব্রেক্সিটের আগে যুক্তরাজ্য ইইউর একক বাজার ও কাস্টমস ইউনিয়নের অংশ থাকায় পণ্য, মানুষ ও মূলধনের অবাধ চলাচল নিশ্চিত ছিল। বর্তমানে ইউরোপে রপ্তানির ক্ষেত্রে অতিরিক্ত কাগজপত্র ও পরীক্ষার কারণে সময় ও খরচ দুইই বেড়েছে।   লজিস্টিকস ইউকের প্রধান নির্বাহী বেন ফ্লেচার বলেন, ব্যবসায়ীরা নতুন ব্যবস্থার সঙ্গে খাপ খাইয়ে নিলেও খরচ বৃদ্ধি এবং প্রধান বাজারে প্রবেশে জটিলতা রয়ে গেছে।   জার্মান প্রকৌশল প্রতিষ্ঠান বোশ জানিয়েছে, ব্রেক্সিটের আগে তাদের ব্রিটিশ শাখা বছরে প্রায় ৪০টি আমদানি লেনদেন পরিচালনা করত, যা বর্তমানে বেড়ে বছরে প্রায় ১০ হাজারে দাঁড়িয়েছে। এই পরিস্থিতিতে প্রতিষ্ঠানটি আলাদা প্রশাসনিক কাঠামো গঠন করেছে।   ছোট ও মাঝারি ব্যবসার জন্য পরিস্থিতি আরও কঠিন হয়েছে বলে ব্যবসায়িক সংগঠনগুলো জানিয়েছে। অনেক প্রতিষ্ঠান ইউরোপীয় বাজার থেকে সরে এসেছে এবং অনেকে এখনো নতুন সিদ্ধান্ত বিবেচনা করছে।   ব্রিটিশ চেম্বার্স অব কমার্সের বাণিজ্যনীতি প্রধান উইলিয়াম বেইন বলেন, ইইউর সঙ্গে বর্তমান বাণিজ্য কাঠামো অধিকাংশ প্রতিষ্ঠানের বিক্রি বাড়াতে কার্যকর হয়নি এবং এটি এখনো বাণিজ্যের পথে একটি স্থায়ী বাধা হিসেবে রয়ে গেছে।   তথ্য অনুযায়ী, ২০১৬ সালের পর থেকে অন্যান্য উন্নত অর্থনীতির তুলনায় যুক্তরাজ্যের পণ্য রপ্তানি প্রবৃদ্ধি কমেছে। অর্থনীতিবিদ পল ডেলসের মতে, এই প্রবণতা ইঙ্গিত দেয় যে ব্রেক্সিট সামগ্রিকভাবে পণ্য বাণিজ্যকে নিরুৎসাহিত করেছে।   তবে সেবা খাত তুলনামূলকভাবে শক্তিশালী অবস্থানে রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের পর যুক্তরাজ্য বর্তমানে বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম সেবা রপ্তানিকারক দেশ এবং আর্থিক সেবা রপ্তানিতে শীর্ষ অবস্থানে রয়েছে। গত বছর দেশটির অর্থনৈতিক উৎপাদনের ১১ শতাংশ এসেছে আর্থিক ও সংশ্লিষ্ট পেশাগত সেবা খাত থেকে।   লন্ডন বৈশ্বিক আর্থিক কেন্দ্র হিসেবে অবস্থান বজায় রেখেছে। ইওয়াইয়ের তথ্য অনুযায়ী, ২০১৫ থেকে ২০২৫ সালের মধ্যে যুক্তরাজ্যে আর্থিক সেবা খাতে ৯৪৯টি বিদেশি বিনিয়োগ প্রকল্প এসেছে, যা ফ্রান্স ও জার্মানির সম্মিলিত সংখ্যার চেয়েও বেশি।   অর্থনৈতিক প্রভাব সত্ত্বেও ব্রেক্সিট বাতিল করে পুনরায় ইইউতে যোগদানের পক্ষে প্রকাশ্যে অবস্থান নেওয়া রাজনৈতিকভাবে এখনো সীমিত। বিষয়টি ব্রিটিশ রাজনীতিতে গভীর বিভাজনের কারণ হয়ে আছে।   ২০২৪ সালে ক্ষমতায় আসা প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমারের নেতৃত্বাধীন লেবার সরকার ইইউর সঙ্গে সম্পর্ক পুনর্গঠনের উদ্যোগ নিয়েছে। নিরাপত্তা ও প্রতিরক্ষা সহযোগিতা বাড়ানোর পাশাপাশি খাদ্যসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে নতুন চুক্তির সম্ভাবনাও আলোচনা পর্যায়ে রয়েছে।   তবে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিতে এসব উদ্যোগের প্রভাব কতটা পড়বে, তা এখনো অনিশ্চিত। একই সঙ্গে ইউরোপীয় বাজারে আগের মতো প্রবেশাধিকার পেতে হলে যুক্তরাজ্যকে কিছু নীতিগত স্বায়ত্তশাসন ছাড়তে হতে পারে, যা ব্রেক্সিট বিতর্কের কেন্দ্রীয় বিষয়গুলোর একটি ছিল।   কনফেডারেশন অব ব্রিটিশ ইন্ডাস্ট্রির পরিচালক শন ম্যাকগুইর বলেন, বর্তমান বৈশ্বিক বাণিজ্য পরিস্থিতিতে যুক্তরাজ্যের সবচেয়ে বড় বাণিজ্য অংশীদার ইইউর সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়ন অর্থনৈতিকভাবে যুক্তিসঙ্গত পদক্ষেপ।

Unknown জুন ২১, ২০২৬ ১৪:০
জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

Top week

২০২৬ সালের তালিকায় এগিয়ে যে ৫ স্টেট

যুক্তরাষ্ট্রের কোন স্টেট এ বাংলাদেশিদের জীবন সবচেয়ে স্বস্তির? ২০২৬ সালের তালিকায় এগিয়ে যে ৫ স্টেট

নীলুফা নিশাত আগস্ট ১, ২০২৬ ১৪:০