বিশ্ববিদ্যালয়

লুইজিয়ানার নিউ অরলিন্সের ডেনিস মালিক বার্নস
১৬ বছর বয়সে ১৭০ বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি, ৯ মিলিয়ন ডলারের বেশি বৃত্তির প্রস্তাব

মাত্র ১৬ বছর বয়সেই যুক্তরাষ্ট্রের লুইজিয়ানার নিউ অরলিন্সের ডেনিস মালিক বার্নস এমন এক একাডেমিক সাফল্য অর্জন করেছেন, যা দেশজুড়ে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। হাইস্কুল নির্ধারিত সময়ের দুই বছর আগেই শেষ করে তিনি ১৭০টির বেশি কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির প্রস্তাব পেয়েছেন। একই সঙ্গে এসব প্রতিষ্ঠান থেকে পাওয়া বৃত্তির প্রস্তাবের মোট মূল্য ছাড়িয়েছে ৯ মিলিয়ন ডলার।   ইন্টারন্যাশনাল হাই স্কুল অব নিউ অরলিন্সের এই শিক্ষার্থী ৪.৯৮ জিপিএ নিয়ে পড়াশোনা শেষ করেন। ২০২২ সালের আগস্ট থেকে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের প্রায় ২০০টি কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ে আবেদন শুরু করেন। শুরুতে কোনো রেকর্ড গড়ার লক্ষ্য নিয়ে এতগুলো প্রতিষ্ঠানে আবেদন করেননি। তবে একের পর এক ভর্তি ও বৃত্তির প্রস্তাব আসতে থাকায় বিষয়টি তার কাছেও ব্যতিক্রমী হয়ে ওঠে।   বার্নসের এই সাফল্যের পেছনে রয়েছে তার অসাধারণ একাডেমিক ফলাফল, নেতৃত্বের অভিজ্ঞতা এবং উচ্চশিক্ষার প্রতি আগ্রহ। তিনি ন্যাশনাল অনার সোসাইটির নেতৃত্বেও ছিলেন। পাশাপাশি স্প্যানিশ ভাষায় দক্ষতা অর্জন করেছেন এবং উচ্চবিদ্যালয়ে পড়ার সময়ই সাউদার্ন ইউনিভার্সিটি অব নিউ অরলিন্সে দ্বৈতভাবে পড়াশোনা করে কলেজ পর্যায়ের ক্রেডিট অর্জন করেছেন।   বার্নসের ক্ষেত্রে শুধু বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির সংখ্যাই নজরকাড়া নয়। বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান তাকে বড় অঙ্কের বৃত্তির প্রস্তাব দিয়েছে। ২০২৩ সালের এপ্রিলের শেষ দিকে পাওয়া হিসাব অনুযায়ী, ১৭০টির বেশি ভর্তি প্রস্তাবের সঙ্গে বৃত্তির মোট মূল্য ৯ মিলিয়ন ডলার ছাড়িয়ে যায়। পরে আরও কিছু প্রতিষ্ঠানের সিদ্ধান্ত আসার অপেক্ষায় ছিলেন তিনি এবং মোট বৃত্তির পরিমাণ ১০ মিলিয়ন ডলারে নেওয়ার লক্ষ্যও জানিয়েছিলেন।   এই অর্জনের ফলে আগের মার্কিন রেকর্ডও ছাড়িয়ে যান বার্নস। এর আগে ২০১৯ সালে লুইজিয়ানার আরেক শিক্ষার্থী নরম্যান্ডি করমিয়ের বিভিন্ন কলেজ থেকে প্রায় ৮ দশমিক ৭ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তির প্রস্তাব পেয়েছিলেন বলে সে সময়ের বিভিন্ন প্রতিবেদনে জানানো হয়।   তবে বার্নসের অর্জনকে গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডসের আনুষ্ঠানিক বিশ্বরেকর্ড হিসেবে উল্লেখ করার ক্ষেত্রে সতর্কতা রয়েছে। তার স্কুল কর্তৃপক্ষ গিনেস কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করে স্বীকৃতি পাওয়ার চেষ্টা করেছিল। কিন্তু সে সময় গিনেসের পক্ষ থেকে এমন কোনো রেকর্ড আনুষ্ঠানিকভাবে তালিকাভুক্ত থাকার বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়নি। ফলে তাকে যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে কলেজে ভর্তিচ্ছু শিক্ষার্থীদের মধ্যে সর্বোচ্চ বৃত্তির প্রস্তাব পাওয়া শিক্ষার্থীদের একজন হিসেবে উল্লেখ করাই বেশি নির্ভুল।   বার্নস ভবিষ্যতে কম্পিউটার সায়েন্স ও ক্রিমিনাল জাস্টিস নিয়ে পড়াশোনা করার পরিকল্পনা করেছিলেন। এরপর আইন বিষয়ে উচ্চশিক্ষা নেওয়ার ইচ্ছার কথাও জানিয়েছিলেন।   নিজের সাফল্যের জন্য পরিবার, শিক্ষক ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সহায়তার কথা তুলে ধরেছেন বার্নস। তার এই অর্জন যুক্তরাষ্ট্রের কলেজ ভর্তি প্রক্রিয়ায় একাডেমিক প্রস্তুতি, আগেভাগে আবেদন এবং বিভিন্ন বৃত্তির সুযোগ খোঁজার গুরুত্বও সামনে এনেছে।

বায়জিদ হাসান আগস্ট ১০, ২০২৬ ১৪:০
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের শিক্ষার্থী মারুফ হাসান
ইসলামের ইতিহাস থেকে যুক্তরাষ্ট্রে ফুল ফান্ডেড মাস্টার্স! ১৩ বিশ্ববিদ্যালয়ের অফার পেলেন মারুফ

মানবিক বিভাগে পড়াশোনা করেও আন্তর্জাতিক উচ্চশিক্ষার পথে বড় সাফল্য অর্জন করেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের শিক্ষার্থী মারুফ হাসান। ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষের এই শিক্ষার্থী যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অব নেব্রাস্কা অ্যাট ওমাহাতে ইতিহাস বিষয়ে ফুল ফান্ডেড মাস্টার্স প্রোগ্রামে ভর্তির সুযোগ পেয়েছেন।   শুধু একটি বিশ্ববিদ্যালয় নয়, উচ্চশিক্ষার জন্য আবেদন করে বিশ্বের ১৩টি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অফার পেয়েছেন মারুফ। নিজের একাডেমিক আগ্রহ, গবেষণার সুযোগ এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা বিবেচনা করে শেষ পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অব নেব্রাস্কা অ্যাট ওমাহাকে বেছে নেন তিনি।   ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ সার্জেন্ট জহুরুল হক হলের আবাসিক শিক্ষার্থী মারুফের এই অর্জন বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য মানবিক বিভাগের শিক্ষার্থীদের জন্য। কারণ প্রচলিত ধারণার বিপরীতে মানবিক বিষয়ে পড়াশোনা করেও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে উচ্চশিক্ষা ও গবেষণার বিস্তর সুযোগ রয়েছে।   স্নাতক পর্যায়ে ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি নিয়ে পড়াশোনার পর আরও বিস্তৃত পরিসরে ইতিহাস নিয়ে গবেষণা করার লক্ষ্য থেকেই মাস্টার্সে বিষয়টি বেছে নিয়েছেন মারুফ। ইতিহাস, সংস্কৃতি ও সমাজের বিভিন্ন দিক নিয়ে ভবিষ্যতে গবেষণার মাধ্যমে জ্ঞানচর্চায় অবদান রাখার পরিকল্পনা রয়েছে তাঁর।   মারুফের মতে, বিদেশে উচ্চশিক্ষার জন্য শুধু ভালো ফলাফল যথেষ্ট নয়। নিজের একাডেমিক আগ্রহ স্পষ্ট করা, গবেষণার সক্ষমতা তৈরি করা, দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা করা এবং শক্তিশালী আবেদনপত্র প্রস্তুত করাও সমান গুরুত্বপূর্ণ।   ১৩টি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অফার পাওয়ার পর নিজের লক্ষ্য অনুযায়ী একটি বিশ্ববিদ্যালয় বেছে নেওয়ার এই অভিজ্ঞতা বাংলাদেশের শিক্ষার্থীদের জন্যও গুরুত্বপূর্ণ বার্তা দিচ্ছে। বিশেষ করে মানবিক বিভাগের শিক্ষার্থীরা চাইলে সঠিক প্রস্তুতি, গবেষণামুখী মানসিকতা এবং ধারাবাহিক প্রচেষ্টার মাধ্যমে বিশ্বের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে উচ্চশিক্ষার সুযোগ তৈরি করতে পারেন।   মারুফ হাসানের সাফল্য তাই শুধু ব্যক্তিগত অর্জন নয়, বাংলাদেশের মানবিক বিভাগের শিক্ষার্থীদের জন্যও একটি অনুপ্রেরণার উদাহরণ।

বায়জিদ হাসান আগস্ট ১০, ২০২৬ ১৪:০
মিশিগানে শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য রক্ষায় প্রথম সেমিস্টারের ফলাফল প্রকাশ করবে না বিশ্ববিদ্যালয়
মিশিগানে শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য রক্ষায় প্রথম সেমিস্টারের ফলাফল প্রকাশ করবে না বিশ্ববিদ্যালয়

মিশিগান বিশ্ববিদ্যালয়ের (University of Michigan) কলেজ অফ লিটারেচার, সায়েন্স অ্যান্ড দ্য আর্টস (এলএসএ) শিক্ষার্থীদের ক্রমবর্ধমান 'মানসিক স্বাস্থ্য সংকট' মোকাবিলার লক্ষ্যে এক অভিনব সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এই ফল সেমিস্টার থেকে ভর্তি হওয়া নতুন শিক্ষার্থীদের প্রথম সেমিস্টারের ফলাফল ট্রান্সক্রিপ্টে গোপন রাখা হবে। প্রচলিত লেটার গ্রেডের পরিবর্তে তাদের শুধুমাত্র 'পাস/নো ক্রেডিট' ভিত্তিতে মূল্যায়ন করার ঘোষণা দিয়েছে এই পাবলিক রিসার্চ বিশ্ববিদ্যালয়টি।   বিশ্ববিদ্যালয়ের ১৯টি কলেজের মধ্যে সবচেয়ে বড় এই এলএসএ কলেজ জানিয়েছে, শিক্ষার্থীরা তাদের প্রাপ্ত গ্রেড ব্যক্তিগতভাবে জানতে পারবেন এবং অধ্যাপকদের কাছ থেকে প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনাও পাবেন। তবে এই ফলাফল কোনোভাবেই তাদের সিজিপিএ-তে (CGPA) যুক্ত হবে না। ট্রান্সক্রিপ্টে কেবল উল্লেখ থাকবে যে, প্রথম সেমিস্টারের সব কোর্স স্বয়ংক্রিয়ভাবে 'পাস' বা 'নো ক্রেডিট' হিসেবে গণ্য হয়েছে। তবে একাডেমিক পুরস্কার, বৃত্তি, ইন্টার্নশিপ এবং অন্যান্য পেশাগত সুযোগের জন্য অভ্যন্তরীণভাবে তাদের প্রকৃত গ্রেড সংরক্ষণ করা হবে। দ্বিতীয় সেমিস্টার থেকে শিক্ষার্থীদের গ্রেড যথারীতি তাদের ট্রান্সক্রিপ্ট এবং জিপিএ-তে যুক্ত হওয়া শুরু করবে।   প্রায় ২০ হাজার শিক্ষার্থীর এই কলেজের কর্তৃপক্ষের মতে, গ্রেড গোপন রাখার এই উদ্যোগ শিক্ষার্থীদের মানসিক সুস্থতা বজায় রাখতে এবং প্রতিযোগিতার বদলে নিজেদের মধ্যে সহযোগিতাপূর্ণ মনোভাব গড়ে তুলতে সাহায্য করবে। শিক্ষার্থীদের ওপর থেকে শুরুর দিকের চাপ কমাতেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। উল্লেখ্য, ম্যাসাচুসেটস ইনস্টিটিউট অফ টেকনোলজি (এমআইটি), ক্যালিফোর্নিয়া ইনস্টিটিউট অফ টেকনোলজি, সোয়ার্থমোর কলেজ এবং ওয়েলেসলি কলেজের মতো স্বনামধন্য প্রতিষ্ঠানগুলোতেও আগে থেকেই অনুরূপ নীতি চালু রয়েছে।   তবে এই নীতির কঠোর সমালোচনা করেছেন অনেক বিশেষজ্ঞ। তাদের মতে, এর ফলে শিক্ষার্থীদের মাত্রাতিরিক্ত প্রশ্রয় দেওয়া হচ্ছে। 'থেরাপি নেশন'-এর লেখক ও সাইকোথেরাপিস্ট জোনাথন আলপার্ট দ্য পোস্ট-কে বলেন, "আমরা এমন এক পর্যায়ে পৌঁছেছি যেখানে সাধারণ মানসিক চাপকেও একটি বড় ধরনের মানসিক স্বাস্থ্য সমস্যা হিসেবে দেখা হচ্ছে। খারাপ গ্রেড পাওয়া হতাশাজনক বা বিব্রতকর হতে পারে, কিন্তু এটি কোনোভাবেই মানসিকভাবে ক্ষতিকর নয়।" তিনি আরও বলেন, "কলেজের উচিত শিক্ষার্থীদের বাস্তব জীবনের জন্য প্রস্তুত করা। কর্মক্ষেত্রে কোনো বস্ আপনার খারাপ পারফরম্যান্স গোপন রাখবেন না। তরুণদের বুঝতে হবে যে খারাপ লাগা মানেই ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া নয়।"

ইসতিয়াক আহমেদ আগস্ট ৭, ২০২৬ ১৪:০
সৌদির মদিনা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সুযোগ
সৌদির মদিনা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সুযোগ, ঈদের চেয়েও বড় আনন্দ খুলনার আলিমুলের

খুলনার ২১ বছর বয়সী আলিমুল ইসলাম সৌদি আরবের মদিনা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সুযোগ পাওয়ার খবরটি প্রথমে বিশ্বাসই করতে পারছিলেন না। দীর্ঘদিনের স্বপ্নের বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়ার সুযোগ পেয়ে গত মাসে সুখবরটি পাওয়ার পর থেকেই আনন্দে সময় কাটছে তার।   আলিমুল বলেন, “এটা আমার কাছে ঈদের আনন্দের চেয়েও বড়। আমি আনন্দে অভিভূত। এই খুশি ভাষায় প্রকাশ করার মতো নয়।”   তার এই অর্জনে বন্ধুরাও বেশ উচ্ছ্বসিত। কেউ কেউ তার চেয়েও বেশি আনন্দিত হয়েছেন বলে জানান আলিমুল। বিশেষ করে মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর স্মৃতিবিজড়িত ভূমিতে পড়াশোনার সুযোগ পাওয়াকে তিনি জীবনের বিশেষ অর্জন হিসেবে দেখছেন।   আলিমুল সৌদি সরকারের বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য চালু করা পূর্ণ অর্থায়নের বৃত্তি কর্মসূচির আওতায় নির্বাচিত হয়েছেন। ২০২২ সালে ঘোষিত এই কর্মসূচিতে বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের স্নাতক ও স্নাতকোত্তর পর্যায়ে পড়াশোনার জন্য ২৬৫টি পূর্ণ বৃত্তির সুযোগ রাখা হয়েছিল। বিজ্ঞান, প্রকৌশল, ইসলামিক স্টাডিজ, আরবি ভাষা ও সাহিত্যসহ বিভিন্ন বিষয়ে পড়াশোনার সুযোগ রয়েছে।   সৌদি সরকারের এই বৃত্তির আওতায় শিক্ষার্থীদের টিউশন ফি, আবাসন ও খাবারের খরচ বহন করা হয়। পাশাপাশি যাতায়াতের বিমানভাড়া, বই কেনার জন্য বার্ষিক ভাতা এবং জীবনযাপনের খরচের জন্য মাসিক স্টাইপেন্ডও দেওয়া হয়।   বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য বৃত্তির সংখ্যা বাড়ানোর পরিকল্পনাও জানিয়েছে সৌদি আরব। গত মাসে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে বৈঠকের পর সৌদি রাষ্ট্রদূত আবদুল্লাহ বিন আবিয়াহ জানান, এই বৃত্তির সংখ্যা বাড়িয়ে ৫০০ করা হবে।   এদিকে একই বৃত্তি কর্মসূচির আওতায় এবার সৌদি আরবে পড়াশোনা শুরু করতে যাচ্ছেন চাঁপাইনবাবগঞ্জের মোহাম্মদ হাসিব। তিনি কাসিম বিশ্ববিদ্যালয়ে চার বছরের ব্যাচেলর ডিগ্রিতে আরবি সাহিত্য নিয়ে পড়াশোনা করবেন।   সৌদি আরবকে উচ্চশিক্ষার জন্য বেছে নেওয়ার কারণ হিসেবে হাসিব বলেন, দেশটির বিশ্ববিদ্যালয়গুলো থেকে পড়াশোনা করে দেশে ফিরে অনেকেই সম্মানজনক অবস্থানে কাজ করছেন। তার মাদ্রাসার সিনিয়র ভাই ও শিক্ষকদের অনেকেই সৌদি আরবে পড়াশোনা করেছেন। তাদের দেখে তিনিও সৌদি আরবে উচ্চশিক্ষার প্রতি আগ্রহী হন।   সৌদি আরবে গিয়ে আরবি ভাষায় দক্ষতা অর্জনের পাশাপাশি দেশটির সংস্কৃতির সঙ্গেও পরিচিত হতে চান হাসিব। পড়াশোনা শেষে দেশে ফিরে বাবা-মায়ের স্বপ্ন পূরণ করতে চান তিনি। ভবিষ্যতে মাদ্রাসার শিক্ষক হয়ে অর্জিত জ্ঞান অন্যদের মধ্যে ছড়িয়ে দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে তার।   সাম্প্রতিক বছরগুলোতে সৌদি আরবে উচ্চশিক্ষার জন্য বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের আগ্রহ বাড়ছে। বৃত্তির সুযোগের পাশাপাশি বিভিন্ন বিষয়ে পড়াশোনা এবং কিছু প্রোগ্রামে ইংরেজি মাধ্যমে শিক্ষার সুযোগও এ আগ্রহ বাড়ার অন্যতম কারণ।   অ্যাসোসিয়েশন অব সৌদি ইউনিভার্সিটি গ্র্যাজুয়েটস ইন বাংলাদেশের কোষাধ্যক্ষ ড. মোহাম্মদ রফিকুল ইসলাম আল-মাদানি আরব নিউজকে বলেন, কিছু বিষয়ে পড়াশোনার ক্ষেত্রে এখন আরবি ভাষায় দক্ষতা বাধ্যতামূলক নয়। আইইএলটিএস থাকলে শিক্ষার্থীরা ইংরেজি মাধ্যমেও পড়াশোনার সুযোগ পাচ্ছেন। এতে সৌদি আরবের উচ্চশিক্ষা আরও আকর্ষণীয় হয়ে উঠেছে।   সৌদি আরবের সঙ্গে বাংলাদেশের মানুষের দীর্ঘদিনের সামাজিক ও ধর্মীয় সম্পর্কও শিক্ষার্থীদের আগ্রহের বড় কারণ। দেশটিতে বিপুলসংখ্যক বাংলাদেশি প্রবাসী বসবাস করেন। পাশাপাশি মক্কা ও মদিনার প্রতি বাংলাদেশিদের গভীর ধর্মীয় ও আবেগের সম্পর্ক রয়েছে।   আল-মাদানির মতে, এই ধর্মীয় ও আবেগের সম্পর্কও সৌদি আরবে পড়াশোনার প্রতি বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের আগ্রহ বাড়ায়। সেখানে পড়াশোনার পাশাপাশি হজ ও ওমরাহ পালনের সুযোগও শিক্ষার্থীদের কাছে বাড়তি আকর্ষণ তৈরি করে।   আলিমুল ও হাসিবের মতো শিক্ষার্থীদের জন্য এই বৃত্তি শুধু বিদেশে উচ্চশিক্ষার সুযোগ নয়, বরং আর্থিক সীমাবদ্ধতা ছাড়াই নিজেদের স্বপ্ন পূরণের একটি বড় পথ। পড়াশোনা শেষে দেশে ফিরে অর্জিত শিক্ষা ও দক্ষতা সমাজ ও দেশের কাজে লাগাতে চান তারা।

নীলুফা নিশাত আগস্ট ৬, ২০২৬ ১৪:০
বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট) এর সাবেক দুই শিক্ষার্থী ইরফান আল-হুসাইনি ও ফাবিয়া ফারলিন অ্যাথেনা
দুজনেই বুয়েটের শিক্ষার্থী, তবু ছিলেন অপরিচিত; যুক্তরাষ্ট্রে পিএইচডি করতে গিয়ে পরিচয়, প্রেম, তারপর বিয়ে

একই বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা করেছেন, একই ক্যাম্পাসে হেঁটেছেন, একই সময়ে প্রকৌশলী হওয়ার স্বপ্ন দেখেছেন। অথচ কখনও দেখা হয়নি, পরিচয়ও নয়। ভাগ্যের অদ্ভুত এক পরিক্রমায় হাজার হাজার মাইল দূরে যুক্তরাষ্ট্রে পিএইচডি করতে গিয়ে প্রথম দেখা। সেখান থেকেই শুরু বন্ধুত্ব, তারপর প্রেম, বিয়ে এবং শেষ পর্যন্ত একই বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পিএইচডি অর্জন। বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট) এর সাবেক দুই শিক্ষার্থী ইরফান আল-হুসাইনি ও ফাবিয়া ফারলিন অ্যাথেনার গল্প যেন বাস্তবের এক অনুপ্রেরণার কাহিনি।   বাংলাদেশে বুয়েটে পড়ার সময় দুজনই ছিলেন একই বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী। তবে তাদের কখনও পরিচয় হয়নি। উচ্চশিক্ষার জন্য আলাদাভাবে যুক্তরাষ্ট্রে পাড়ি জমান তারা। কাকতালীয়ভাবে দুজনেরই গন্তব্য হয় যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম শীর্ষ গবেষণাভিত্তিক বিশ্ববিদ্যালয় জর্জিয়া ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজি (জর্জিয়া টেক)।   জর্জিয়া টেকের ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড কম্পিউটার ইঞ্জিনিয়ারিং স্কুলের প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, সেখানেই প্রথম পরিচয় হয় ইরফান ও ফাবিয়ার। গবেষণাগারের ব্যস্ততা, ক্লাস, গবেষণা এবং নতুন দেশে নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করার পথচলায় ধীরে ধীরে গড়ে ওঠে তাদের বন্ধুত্ব। সময়ের সঙ্গে সেই সম্পর্ক রূপ নেয় ভালোবাসায়।   সম্পর্কের পরিণতিতে ২০২২ সালে যুক্তরাষ্ট্রের জর্জিয়ার আটলান্টায় বিয়ে করেন তারা। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রকাশিত তথ্যে উল্লেখ করা হয়েছে, বিয়ের অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্র দুই দেশের পরিবার, আত্মীয়স্বজন এবং বন্ধুদের উপস্থিতিতে নতুন জীবনের সূচনা করেন এই বাংলাদেশি দম্পতি।   বিয়ের পরও থেমে থাকেনি তাদের একাডেমিক যাত্রা। নিজ নিজ গবেষণা সফলভাবে সম্পন্ন করে জর্জিয়া টেক থেকেই পিএইচডি ডিগ্রি অর্জন করেন দুজন। একই সমাবর্তনে ডক্টরেট ডিগ্রি গ্রহণের সেই মুহূর্তটি পরে বিশ্ববিদ্যালয়ও তুলে ধরে, যা অনেকের কাছে উচ্চশিক্ষা ও ব্যক্তিগত জীবনের সুন্দর সমন্বয়ের এক অনন্য উদাহরণ হয়ে ওঠে।   বর্তমানে ইরফান আল-হুসাইনি বিশ্বের শীর্ষ কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও সেমিকন্ডাক্টর প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান এনভিডিয়ায় সিনিয়র ডেটা সায়েন্টিস্ট হিসেবে কর্মরত। অন্যদিকে ফাবিয়া ফারলিন অ্যাথেনা যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ার স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে স্ট্যানফোর্ড এনার্জি পোস্টডক্টরাল ফেলো হিসেবে গবেষণা করছেন। উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন সেমিকন্ডাক্টর ও জ্বালানি প্রযুক্তি নিয়ে তাঁর গবেষণা ইতোমধ্যে একাডেমিক অঙ্গনে পরিচিতি পেয়েছে।   প্রতি বছর বাংলাদেশ থেকে অসংখ্য শিক্ষার্থী উচ্চশিক্ষার জন্য বিশ্বের বিভিন্ন দেশে পাড়ি জমান। তাদের অনেকের গল্প জনসমক্ষে আসে না। তবে ইরফান ও ফাবিয়ার যাত্রা মনে করিয়ে দেয়, উচ্চশিক্ষা শুধু একটি ডিগ্রি বা পেশাগত সাফল্যের পথ নয়; কখনও কখনও এটি জীবনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সম্পর্ক, নতুন স্বপ্ন এবং নতুন ভবিষ্যতেরও সূচনা হতে পারে।   একই বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়েও যাদের কখনও পরিচয় হয়নি, তারা পৃথিবীর অন্য প্রান্তে এসে একে অপরকে খুঁজে পেয়েছেন। গবেষণার দীর্ঘ ও কঠিন পথ একসঙ্গে অতিক্রম করে আজ দুজনই বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠানে নিজেদের জায়গা করে নিয়েছেন। তাদের এই গল্প শুধু একটি ভালোবাসার গল্প নয়; এটি বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য অধ্যবসায়, মেধা, সম্ভাবনা এবং জীবনের অপ্রত্যাশিত সৌন্দর্যের এক অনুপ্রেরণামূলক উদাহরণ।   আপডেট: এই প্রতিবেদনটি প্রকাশের পর ড. ইরফান আল-হুসাইনির মৃত্যুর খবর নিশ্চিত হয়েছে। তিনি যুক্তরাষ্ট্রের একটি হাসপাতালে নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) চিকিৎসাধীন অবস্থায় ইন্তেকাল করেছেন। তাঁর অকাল প্রয়াণে বুয়েট, জর্জিয়া ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজি (জর্জিয়া টেক), এনভিডিয়া এবং দেশ-বিদেশের প্রযুক্তি ও গবেষণা অঙ্গনে গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে। আমরা তাঁর বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা করছি এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানাচ্ছি।

নুরুল্লাহ সাইদ আগস্ট ১, ২০২৬ ১৪:০
নিউইয়র্কে কম্পিউটার সায়েন্স স্নাতকের বছরে ৯৮ হাজার ডলার আয়
নিউইয়র্কে কম্পিউটার সায়েন্স স্নাতকের বছরে ৯৮ হাজার ডলার আয়, কিন্তু বাসাভাড়াতেই যাবে ৩৮%

যুক্তরাষ্ট্রে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সদ্য পাস করা তরুণদের জন্য নিউইয়র্কে চাকরি পাওয়া যেমন বড় সুযোগ, তেমনি বাসা ভাড়া নেওয়া হয়ে উঠেছে বড় চ্যালেঞ্জ। নতুন এক প্রতিবেদনে দেখা গেছে, ২০২৬ সালে নিউইয়র্ক সিটির ভাড়া বাজার এখন পর্যন্ত সবচেয়ে ব্যয়বহুল অবস্থায় পৌঁছেছে, ফলে কর্মজীবন শুরু করা অনেক স্নাতকের আয়ের বড় অংশই চলে যাচ্ছে ভাড়ার পেছনে।   রিয়েলটর ডটকমের ২০২৬ সালের দ্বিতীয় প্রান্তিকের (এপ্রিল-জুন) নিউইয়র্ক সিটি রেন্টাল রিপোর্ট অনুযায়ী, শহরটিতে মধ্যম (মিডিয়ান) মাসিক চাওয়া ভাড়া বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩ হাজার ৭০৭ ডলারে। এটি এক বছরের ব্যবধানে ১৬৪ ডলার বা ৪ দশমিক ৬ শতাংশ বেশি এবং ২০১৯ সালে তথ্য সংগ্রহ শুরু হওয়ার পর সর্বোচ্চ।    প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কম্পিউটার সায়েন্সে সদ্য স্নাতক একজন কর্মীর নিউইয়র্কের প্রারম্ভিক বেতনের প্রায় ৩৮ দশমিক ২ শতাংশ শুধু একটি স্টুডিও অ্যাপার্টমেন্টের ভাড়ায় ব্যয় হতে পারে। ব্যবসায় শিক্ষা (বিজনেস) বিভাগের স্নাতকদের ক্ষেত্রে এই হার আরও বেশি, প্রায় ৪৫ দশমিক ২ শতাংশ।    বিশ্লেষকদের মতে, জাতীয় পর্যায়ের তুলনায় নিউইয়র্কের পরিস্থিতি অনেক বেশি কঠিন। যুক্তরাষ্ট্রের ৫০টি বৃহত্তম মহানগরে একজন নতুন কম্পিউটার সায়েন্স স্নাতকের আয়ের গড়ে ২০ দশমিক ৯ শতাংশ এবং বিজনেস স্নাতকের ২৪ দশমিক ৮ শতাংশ স্টুডিও অ্যাপার্টমেন্টের ভাড়ায় ব্যয় হয়। অর্থাৎ, নিউইয়র্কে একই ধরনের বাসা ভাড়া নিতে আয়ের প্রায় দ্বিগুণ অংশ খরচ করতে হচ্ছে।    প্রতিবেদন অনুযায়ী, নিউইয়র্কের চারটি বরোতেই ভাড়া বেড়েছে। এর মধ্যে ম্যানহাটনে ভাড়া বৃদ্ধির হার সবচেয়ে বেশি, যা শহরের সামগ্রিক আবাসন ব্যয়কে আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।    আবাসন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, নিউইয়র্কে নতুন আবাসন নির্মাণের গতি চাহিদার তুলনায় কম থাকায় ভাড়ার ওপর চাপ অব্যাহত রয়েছে। একই সঙ্গে কর্মসংস্থানের সুযোগ ও উচ্চ বেতনের কারণে দেশ-বিদেশের বহু তরুণ এই শহরে আসায় ভাড়া বাজারে প্রতিযোগিতাও বেড়েছে।    ফলে, ২০২৬ সালে কর্মজীবন শুরু করতে নিউইয়র্কে আসা নতুন স্নাতকদের জন্য সবচেয়ে বড় আর্থিক চ্যালেঞ্জগুলোর একটি হয়ে উঠেছে সাশ্রয়ী ভাড়ার বাসা খুঁজে পাওয়া।

নীলুফা নিশাত জুলাই ৩১, ২০২৬ ১৪:০
জনস হপকিন্সের গবেষককে বিমানবন্দরে আটক করল আইস
জনস হপকিন্সের গবেষককে বিমানবন্দরে আটক করল আইস, বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্তৃপক্ষের ক্ষোভ

যুক্তরাষ্ট্রের মেরিল্যান্ড অঙ্গরাজ্যের একটি বিমানবন্দরে অভিবাসন কর্তৃপক্ষ জনস হপকিন্স বিশ্ববিদ্যালয়ের এক গবেষককে আটক করেছে। ঘটনাটি এমন সময় ঘটল, যখন সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে দেশের বিভিন্ন বিমানবন্দরে অভিবাসন-সংক্রান্ত অভিযানে গ্রেপ্তারের সংখ্যা বেড়েছে। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ এ ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করে গবেষকের দ্রুত মুক্তির দাবি জানিয়েছে।    বিশ্ববিদ্যালয় ও গবেষকের আইনজীবীদের বরাত দিয়ে মার্কিন সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, গবেষক একটি অভ্যন্তরীণ ফ্লাইটে ভ্রমণের উদ্দেশ্যে বিমানবন্দরে পৌঁছালে আইস কর্মকর্তারা তাকে আটক করেন। পরে তাকে অভিবাসন হেফাজতে নেওয়া হয়। তবে তাকে আটকের নির্দিষ্ট কারণ সম্পর্কে কর্তৃপক্ষ প্রকাশ্যে বিস্তারিত জানায়নি।    জনস হপকিন্স বিশ্ববিদ্যালয় এক বিবৃতিতে জানায়, গবেষক বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণা কার্যক্রমের গুরুত্বপূর্ণ সদস্য। প্রতিষ্ঠানটি তার আইনজীবী ও পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ রেখে আইনি সহায়তা দিচ্ছে এবং বিষয়টি দ্রুত সমাধানের জন্য সংশ্লিষ্ট ফেডারেল কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কাজ করছে।    সাম্প্রতিক সময়ে ট্রাম্প প্রশাসনের কঠোর অভিবাসন প্রয়োগের অংশ হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন বিমানবন্দর, কর্মস্থল ও অন্যান্য স্থানে আইসের অভিযান বেড়েছে। মানবাধিকার সংগঠন ও অভিবাসন আইনজীবীরা বলছেন, এসব অভিযানে বৈধ কাগজপত্রধারী ব্যক্তি, শিক্ষার্থী ও গবেষকদেরও আটকের ঘটনা উদ্বেগ তৈরি করছে।    অভিবাসন বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ধরনের ঘটনা আন্তর্জাতিক গবেষক ও শিক্ষাবিদদের মধ্যে অনিশ্চয়তা বাড়াতে পারে। যুক্তরাষ্ট্রের উচ্চশিক্ষা ও গবেষণা খাতে বিদেশি গবেষকদের গুরুত্বপূর্ণ অবদান থাকায় এ ধরনের গ্রেপ্তার বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর জন্যও উদ্বেগের কারণ হয়ে উঠছে।

নীলুফা নিশাত জুলাই ৩১, ২০২৬ ১৪:০
ল্যাপটপ নিয়ে কাজ করা এক রহস্যময় হ্যাকার। ছবি:সংগৃহীত
ভর্তির সুযোগ না পেয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়েবসাইট হ্যাক!

ভারতের অন্যতম শীর্ষ প্রযুক্তি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান আইআইটি কানপুর ও আইআইটি মাদ্রাজের ওয়েবসাইটে অননুমোদিতভাবে প্রবেশ করে আলোচনায় আসা এক তরুণের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা না নিয়ে তার প্রযুক্তিগত দক্ষতা মূল্যায়নের সিদ্ধান্ত নিয়েছে আইআইটি কানপুর। প্রতিষ্ঠানের ভাষ্য, পরীক্ষায় যোগ্যতা প্রমাণ করতে পারলে আগামী শিক্ষাবর্ষে ভর্তির বিষয়টি বিবেচনা করা হবে।   ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, আইআইটি কানপুরের নতুন চালু হওয়া ব্যাচেলর অব সায়েন্স ইন সাইবার সিকিউরিটি প্রোগ্রামে আবেদন করেছিলেন ওই তরুণ। তার অভিযোগ, প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা দেওয়ার পরও ভর্তি প্রক্রিয়ার হ্যাকাথন ধাপে অংশ নেওয়ার সুযোগ পাননি।   প্রাথমিক বাছাইয়ে বাদ পড়ার পর তিনি আইআইটি কানপুর ও আইআইটি মাদ্রাজের ওয়েবসাইটে অননুমোদিতভাবে প্রবেশ করে একটি বার্তা রেখে যান। সেখানে লেখা ছিল, “এই সাইট হ্যাক করা হয়েছে। আমার শুধু একটি ন্যায্য সুযোগ প্রয়োজন।”   পরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ওয়েবসাইটে প্রবেশের স্ক্রিনশট প্রকাশ করে তিনি দাবি করেন, কারও ক্ষতি করার উদ্দেশ্যে নয়; বরং নিজের প্রযুক্তিগত সক্ষমতা প্রদর্শন করতেই তিনি এ কাজ করেছেন।   আইআইটি কানপুরের পরিচালক মণীন্দ্র আগরওয়াল জানিয়েছেন, আবেদনকারীর পূর্ব অভিজ্ঞতা ভর্তি নীতিমালায় নির্ধারিত মানদণ্ড পূরণ না করায় তাকে নির্বাচিত করা সম্ভব হয়নি। এছাড়া চলতি শিক্ষাবর্ষের ভর্তি কার্যক্রমও ইতোমধ্যে শেষ হয়েছে।   তবে ঘটনাটিকে শুধুমাত্র আইনশৃঙ্খলার বিষয় হিসেবে না দেখে সম্ভাবনাময় প্রতিভা মূল্যায়নের সুযোগ হিসেবে বিবেচনা করছে প্রতিষ্ঠানটি। এজন্য ওই তরুণকে ক্যাম্পাসে ডেকে একটি বিশেষ দক্ষতা মূল্যায়ন পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার সুযোগ দেওয়া হবে। সেখানে তিনি প্রয়োজনীয় সক্ষমতা দেখাতে পারলে আগামী শিক্ষাবর্ষে ভর্তির আবেদন ইতিবাচকভাবে বিবেচনা করা হবে।   আইআইটি কানপুর আরও জানিয়েছে, পরীক্ষার পাশাপাশি প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক ও সাইবার নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞরা ওই তরুণকে বোঝাবেন যে, প্রযুক্তিগত দক্ষতা থাকলেও অনুমতি ছাড়া কোনো কম্পিউটার সিস্টেমে প্রবেশ করা আইন ও পেশাগত নৈতিকতার দৃষ্টিতে গ্রহণযোগ্য নয়।   সাইবার নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞদের মতে, কোনো প্রতিষ্ঠানের নেটওয়ার্ক বা ওয়েবসাইটে মালিকের অনুমতি ছাড়া প্রবেশ করা অধিকাংশ দেশেই আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ। নিরাপত্তা ত্রুটি শনাক্ত করলেও দায়িত্বশীলভাবে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানানোই আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত নৈতিক চর্চা বা ‘রেসপনসিবল ডিসক্লোজার’। আইআইটি কানপুরের এই সিদ্ধান্ত তাই একদিকে সম্ভাবনাময় মেধাকে মূল্যায়নের সুযোগ তৈরি করছে, অন্যদিকে সাইবার নৈতিকতা সম্পর্কেও গুরুত্বপূর্ণ বার্তা দিচ্ছে।

সিদ্দিকুর রহমান জুলাই ২৯, ২০২৬ ১৪:০
সামরিক প্রশিক্ষণে ঝুঁকছেন ব্রিটিশ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী
বিশ্বজুড়ে যুদ্ধের শঙ্কা, সামরিক প্রশিক্ষণে ঝুঁকছেন ব্রিটিশ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা

বিশ্বজুড়ে চলমান ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনা, বিশেষ করে ইউক্রেন ও মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাতের আবহে নিজেদের সামরিক শক্তি জোরদারে বিকল্প পথে হাঁটছে যুক্তরাজ্য। দেশটির বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা যেখানে গভীর রাত পর্যন্ত পার্টি বা পড়াশোনায় অভ্যস্ত, সেখানে একদল শিক্ষার্থী ভোরে উঠেই অংশ নিচ্ছেন ব্রিটিশ সেনাবাহিনীর খণ্ডকালীন প্রশিক্ষণে।   ইউনিভার্সিটি অফিসার ট্রেনিং কর্পস (ইউওটিসি) নামের এই প্রকল্পের আওতায় প্রতি বছর প্রায় ১ হাজার ৪০০ তরুণ-তরুণী সামরিক প্রশিক্ষণে যুক্ত হচ্ছেন। যুক্তরাজ্যের ৫০টিরও বেশি বিশ্ববিদ্যালয়ে চলমান এই কর্মসূচিতে স্নাতক পড়ুয়া শিক্ষার্থীরা পড়াশোনার পাশাপাশি বছরে ৩৮ দিন সেনাবাহিনীর প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেন। বিনিময়ে তারা বার্ষিক ১ হাজার ৬০০ পাউণ্ড সম্মানী, নতুন দক্ষতা এবং ভবিষ্যতে সামরিক বাহিনীতে ক্যারিয়ার গড়ার সুযোগ পান। মূলত যুদ্ধ শুরু হলে দেশে যেন যোগ্য সেনা কর্মকর্তাদের একটি প্রস্তুত দল থাকে, সেই লক্ষ্যেই এই উদ্যোগ পরিচালিত হচ্ছে।   প্রশিক্ষণরত শিক্ষার্থীদের অভিজ্ঞতা ও দৃষ্টিভঙ্গিতেও ব্যাপক পরিবর্তন আনছে এই কর্মসূচি। ২১ বছর বয়সী ইংরেজি সাহিত্যের শিক্ষার্থী এসমে বেকলি জানান, বিশ্ববিদ্যালয়ে আসার আগে তিনি সেনাবাহিনীতে যোগ দেওয়ার ঘোর বিরোধী ছিলেন, কিন্তু এই প্রশিক্ষণ তাকে ভবিষ্যতের জন্য নতুন করে ভাবতে শিখিয়েছে। অফিসার ক্যাডেটরা সপ্তাহে একদিন বিকেল এবং বছরে পাঁচটি সাপ্তাহিক ছুটি ও দুই সপ্তাহের বিশেষ অনুশীলনে অংশ নেন, যেখানে তাদের রাইফেল চালানো থেকে শুরু করে যুদ্ধক্ষেত্রে প্রাথমিক চিকিৎসা এবং টিকে থাকার কৌশল শেখানো হয়।   এই কর্মসূচিতে নারীদের অংশগ্রহণ প্রায় ৩০ শতাংশ, যা মূল সামরিক বাহিনীর (১২ শতাংশ) চেয়ে দ্বিগুণেরও বেশি। এছাড়া কৃষ্ণাঙ্গ ও সংখ্যালঘু জাতিসত্তার শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণের হারও মূল বাহিনীর সমান। ১৯ বছর বয়সী আন্তর্জাতিক সম্পর্কের শিক্ষার্থী ডিলান ক্রোমার্টি এবং ২৪ বছর বয়সী কম্পিউটার বিজ্ঞানের শিক্ষার্থী ডিলান বেঙ্গির মতো তরুণরা এই প্রশিক্ষণ থেকে কেবল সামরিক জ্ঞানই নয়, বরং আত্মবিশ্বাস, নেতৃত্ব দেওয়ার ক্ষমতা এবং সিদ্ধান্ত নেওয়ার দারুণ দক্ষতা অর্জন করছেন।   কর্মসূচিটি শিক্ষার্থীদের মধ্যে ব্যাপক সাড়া ফেললেও এর ভবিষ্যৎ নিয়ে কিছু বিতর্ক রয়েছে। প্রশিক্ষণ শেষে প্রায় ৪০ শতাংশ ক্যাডেট নিয়মিত বা সংরক্ষিত বাহিনীতে যোগ দিলেও, এর পেছনে ব্যয় হওয়া বিপুল অর্থ নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন অনেকেই। তাছাড়া দীর্ঘদিনের নিয়ম অনুযায়ী, ক্যাডেটরা নিজেরা সংরক্ষিত বা নিয়মিত বাহিনীতে যোগ না দিলে তাদের জোরপূর্বক যুদ্ধে পাঠানো যায় না, ফলে জাতীয় নিরাপত্তায় এর সরাসরি অবদান পরিমাপ করা কঠিন। তবে সাবেক মন্ত্রী স্যার জুলিয়ান ব্রেজিয়ারের মতো বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, দীর্ঘমেয়াদী যুদ্ধের ক্ষেত্রে যুক্তরাজ্যের সক্ষমতা ধরে রাখতে এই প্রকল্প অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।   ইয়র্ক ইউনিভার্সিটির শিক্ষার্থী মন্টি ওয়াকার বা অলিভিয়া হাচিনসনের মতো অনেকেই সামরিক পরিবারের সন্তান হয়েও শুরুতে অনাগ্রহী ছিলেন, কিন্তু এখন তারা কর্পোরেট জীবনের পাশাপাশি সামরিক রণকৌশল ও 'সফট স্কিল' শেখার এই দুর্দান্ত সুযোগটি দারুণভাবে উপভোগ করছেন।

ইসতিয়াক আহমেদ জুলাই ২৯, ২০২৬ ১৪:০
বিশ্ববিদ্যালয়ের টিউশন ফি জোগাতে নির্মাণস্থলে ইট বহন করছে ইউয়ানইউয়ান। ছবি: সংগৃহীত
বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির খরচ জোটাতে মায়ের সাথে কড়া রোদে ইট টানছেন চিনা তরুণ

চীনের অধিকাংশ শিক্ষার্থী যেখানে বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি পরীক্ষার পর ভ্রমণ কিংবা অবকাশযাপনে সময় কাটান, সেখানে এক কিশোরী সম্পূর্ণ ভিন্ন পথ বেছে নিয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের টিউশন ফি জোগাড় করতে সে যোগ দিয়েছে নির্মাণকাজে শ্রমিক হিসেবে কর্মরত মায়ের সঙ্গে। পিঠে ইট বহন করে উপার্জনের সেই গল্প সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর অনেকের প্রশংসা কুড়িয়েছে।   সাউথ চায়না মর্নিং পোস্ট এবং শিয়াওশিয়াং মর্নিং হেরাল্ড-এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, 'ইউয়ানইউয়ান' নামে পরিচিত ওই কিশোরী সম্প্রতি চীনের জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি পরীক্ষা গাওকাও সম্পন্ন করেছে। পরীক্ষা শেষ হওয়ার পর গত জুনের শেষ দিক থেকে দক্ষিণ চীনের গুয়াংডং প্রদেশে মায়ের কর্মস্থল নির্মাণ সাইটে কাজ শুরু করে সে।   ইউয়ানইউয়ানের মা ওয়েই ইউনগুই গত ১৬ বছর ধরে নির্মাণশ্রমিক হিসেবে কাজ করছেন। ৪০ বছর বয়সী ওয়েই একজন একক মা। হুনান প্রদেশের কিদং কাউন্টিতে থাকা ছেলে ও মেয়ের ভরণপোষণের সম্পূর্ণ দায়িত্ব তার কাঁধে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হওয়া একটি ভিডিওতে দেখা যায়, মা ও মেয়ে পিঠে করে একের পর এক ইট বহন করে ভবনের ওপরের তলায় নিয়ে যাচ্ছেন। প্রচণ্ড গরমে ঘাম ঝরিয়ে দুজনের নিরলস পরিশ্রম অনেকের দৃষ্টি কেড়েছে।   ভিডিওতে ওয়েই মেয়েকে বলেন, "তুমি একবারে ১০টি ইট বহন করে ৪ ইউয়ান আয় করেছ। আমি চার গুণ বেশি ইট বহন করে ১৬ ইউয়ান পেয়েছি। সব মিলিয়ে আজ ২০ ইউয়ান আয় হলো। এভাবেই ধীরে ধীরে তোমার বিশ্ববিদ্যালয়ের টিউশন ফি জোগাড় হবে।" ইউয়ানইউয়ান পরে স্বীকার করে, এই কাজ অত্যন্ত কষ্টসাধ্য। তার ভাষায়, "আমি যতটা পারি, ততটাই করছি। আমি চাই মায়ের কষ্ট কিছুটা হলেও কমাতে।" মা ওয়েই জানান, শুরুতে মেয়েকে এত কঠিন শারীরিক শ্রমের কাজে আনতে তিনি রাজি ছিলেন না। কিন্তু মেয়ের অনুরোধ ও দৃঢ় ইচ্ছার কাছে শেষ পর্যন্ত সম্মতি দেন।   তিনি বলেন, "আগে আমার মেয়ে শুধু আমাকে সারাদিন পরিশ্রম করতে দেখত, কিন্তু সেই কষ্টটা অনুভব করতে পারত না। এখন নিজে কাজ করার পর সে আমার জীবনের সংগ্রাম আরও ভালোভাবে বুঝতে শিখেছে এবং আমার প্রতি তার সহমর্মিতা বেড়েছে।"   প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইউয়ানইউয়ান গাওকাও পরীক্ষায় ঠিক কত নম্বর পেয়েছে বা কোন বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়ার সুযোগ পেয়েছে, তা প্রকাশ করতে চাননি তার মা। তবে তিনি জানিয়েছেন, মেয়ের ফলাফলে তিনি সন্তুষ্ট এবং সে একটি মাঝারি মানের বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়ার যোগ্যতা অর্জন করেছে। ইউয়ানইউয়ান ভবিষ্যতে মনোবিজ্ঞানে পড়াশোনা করতে আগ্রহী।   তাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের খরচের জন্য ঠিক কত অর্থ প্রয়োজন, সেটিও প্রকাশ করা হয়নি। তবে চীনে সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে বছরে গড়ে প্রায় ৫ হাজার ইউয়ান টিউশন ফি দিতে হয়। চীনে গাওকাও পরীক্ষা অত্যন্ত প্রতিযোগিতাপূর্ণ হিসেবে পরিচিত। দীর্ঘ প্রস্তুতি ও কঠোর পরীক্ষার পর অনেক শিক্ষার্থী পরিবার নিয়ে ভ্রমণে যান অথবা নিজেদের জন্য দামি প্রযুক্তিপণ্য কেনেন। বিশেষ করে আইফোন, আইপ্যাড ও ম্যাকবুক কেনার প্রবণতা অনেক শিক্ষার্থীর মধ্যে দেখা যায়।   সে তুলনায় ইউয়ানইউয়ানের সিদ্ধান্ত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। অনেকেই মা-মেয়ের সংগ্রাম ও পারস্পরিক দায়িত্ববোধের প্রশংসা করেছেন। একজন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারকারী লিখেছেন, "মা ও মেয়ের এই গল্প সত্যিই হৃদয় ছুঁয়ে গেছে। তাদের জন্য শুভকামনা।" আরেকজন মন্তব্য করেন, "এত অল্প বয়সে কঠোর পরিশ্রম করতে রাজি হওয়া আজকের দিনে বিরল। এমন মানসিকতা ভবিষ্যতে তাকে আরও শক্ত মানুষ হিসেবে গড়ে তুলবে।"   তবে সবাই একই মত পোষণ করেননি। কেউ কেউ বলেছেন, নির্মাণশ্রমের মতো কঠিন কাজের পরিবর্তে তিনি চাইলে রেস্তোরাঁ বা অন্য কোনো খণ্ডকালীন চাকরি করেও বিশ্ববিদ্যালয়ের খরচের জন্য অর্থ উপার্জন করতে পারতেন।

মোহাম্মদ ইব্রাহিম জুলাই ২৬, ২০২৬ ১৪:০
আমেরিকায় উচ্চশিক্ষার জন্য যেতে চান?
আমেরিকায় উচ্চশিক্ষার জন্য যেতে চান? যেভাবে প্রস্তুতি নেবেন

যুক্তরাষ্ট্রে উচ্চশিক্ষা এখনো বিশ্বের লাখো শিক্ষার্থীর কাছে সবচেয়ে আকর্ষণীয় স্বপ্নগুলোর একটি। বিশ্বমানের বিশ্ববিদ্যালয়, আধুনিক গবেষণার সুযোগ, আন্তর্জাতিক মানের শিক্ষক, উন্নত প্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষা এবং পড়াশোনা শেষে বৈশ্বিক চাকরির বাজারে প্রতিযোগিতা করার সুযোগ—সব মিলিয়ে প্রতিবছর হাজারো বাংলাদেশি শিক্ষার্থী যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়ার চেষ্টা করেন। তবে এই যাত্রা মোটেও সহজ নয়। সঠিক পরিকল্পনা, সময়মতো প্রস্তুতি এবং প্রতিটি ধাপ সম্পর্কে পরিষ্কার ধারণা থাকলে সফল হওয়ার সম্ভাবনা অনেক বেড়ে যায়।   উচ্চশিক্ষার প্রস্তুতি শুরু করার সবচেয়ে ভালো সময় হলো আবেদন করার অন্তত এক থেকে দুই বছর আগে। প্রথমেই নিজের লক্ষ্য নির্ধারণ করুন। আপনি স্নাতক, মাস্টার্স নাকি পিএইচডি করতে চান, কোন বিষয়ে পড়তে চান এবং ভবিষ্যতে কী ধরনের ক্যারিয়ার গড়তে চান—এসব বিষয় পরিষ্কার থাকলে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া সহজ হবে।   প্রথম ও সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো একাডেমিক ফলাফল। যুক্তরাষ্ট্রের বিশ্ববিদ্যালয়গুলো আবেদনকারীর জিপিএ বা সিজিপিএকে অত্যন্ত গুরুত্ব দেয়। তাই শুরু থেকেই পড়াশোনায় মনোযোগী হওয়া জরুরি। শুধু ভালো ফলাফলই নয়, বিষয়ভিত্তিক দক্ষতা, গবেষণার অভিজ্ঞতা, প্রজেক্ট এবং একাডেমিক অর্জনও আবেদনকে শক্তিশালী করে। বিশেষ করে যারা মাস্টার্স বা পিএইচডি করতে চান, তাদের জন্য গবেষণার অভিজ্ঞতা একটি বড় সুবিধা হিসেবে কাজ করে।   একাডেমিক ফলাফলের পাশাপাশি সহশিক্ষা কার্যক্রমও গুরুত্বপূর্ণ। বিতর্ক, বিজ্ঞান ক্লাব, স্বেচ্ছাসেবামূলক কাজ, নেতৃত্বমূলক কার্যক্রম, খেলাধুলা বা সামাজিক উদ্যোগে অংশগ্রহণ একজন শিক্ষার্থীর ব্যক্তিত্ব ও নেতৃত্বের গুণাবলি তুলে ধরে। যুক্তরাষ্ট্রের অনেক বিশ্ববিদ্যালয় আবেদনকারীর সামগ্রিক দক্ষতা মূল্যায়ন করে। তাই শুধু পরীক্ষার ফল নয়, পড়াশোনার বাইরেও নিজের দক্ষতা প্রমাণ করার চেষ্টা করুন।   ইংরেজি ভাষায় দক্ষতা অর্জন উচ্চশিক্ষার প্রস্তুতির অন্যতম প্রধান ধাপ। আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের সাধারণত IELTS, TOEFL অথবা বিশ্ববিদ্যালয় স্বীকৃত অন্য কোনো ইংরেজি দক্ষতা পরীক্ষার স্কোর জমা দিতে হয়। তবে কোন পরীক্ষা গ্রহণ করা হবে এবং কত স্কোর লাগবে, তা বিশ্ববিদ্যালয়ভেদে ভিন্ন হতে পারে। এজন্য আবেদন করার আগে সংশ্লিষ্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়েবসাইট থেকে সর্বশেষ তথ্য জেনে নেওয়া উচিত। পাশাপাশি নিয়মিত ইংরেজি বই পড়া, একাডেমিক লেখা অনুশীলন এবং ইংরেজিতে কথা বলার অভ্যাস ভবিষ্যতে বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লাসে মানিয়ে নিতে সাহায্য করবে।   ভর্তি পরীক্ষার বিষয়টিও আগে থেকেই জেনে রাখা জরুরি। স্নাতক পর্যায়ে অনেক বিশ্ববিদ্যালয় SAT বা ACT স্কোর গ্রহণ করলেও বর্তমানে অনেক প্রতিষ্ঠান টেস্ট-অপশনাল নীতি অনুসরণ করছে। আবার মাস্টার্স বা পিএইচডির ক্ষেত্রে কিছু প্রোগ্রামে GRE প্রয়োজন হয়, তবে সব বিশ্ববিদ্যালয়ে এটি বাধ্যতামূলক নয়। একইভাবে ব্যবসায় শিক্ষা বা MBA-এর জন্য অনেক ক্ষেত্রে GMAT চাওয়া হয়। তাই কোনো পরীক্ষার প্রস্তুতি নেওয়ার আগে অবশ্যই লক্ষ্যভুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি নীতিমালা যাচাই করে নেওয়া উচিত।   এরপর আসে বিশ্ববিদ্যালয় নির্বাচন। শুধু বিশ্ব র‍্যাঙ্কিং দেখে বিশ্ববিদ্যালয় বেছে নেওয়া উচিত নয়। বরং নিজের বিষয়, গবেষণার সুযোগ, শিক্ষকদের দক্ষতা, টিউশন ফি, জীবনযাত্রার খরচ, বৃত্তির সুযোগ এবং ক্যারিয়ারের সম্ভাবনা বিবেচনা করে বিশ্ববিদ্যালয়ের তালিকা তৈরি করতে হবে। সাধারণত ৮ থেকে ১২টি বিশ্ববিদ্যালয়ে আবেদন করলে ভালো ফল পাওয়ার সম্ভাবনা বাড়ে। তালিকায় উচ্চ প্রতিযোগিতার বিশ্ববিদ্যালয়ের পাশাপাশি তুলনামূলক নিরাপদ কিছু বিশ্ববিদ্যালয়ও রাখা উচিত।   আবেদনপত্র তৈরির সময় সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ নথিগুলোর মধ্যে রয়েছে Statement of Purpose (SOP), Letter of Recommendation (LOR), জীবনবৃত্তান্ত (CV/Resume) এবং একাডেমিক ট্রান্সক্রিপ্ট। SOP-তে নিজের একাডেমিক পটভূমি, গবেষণার আগ্রহ, কেন ওই বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়তে চান এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা স্পষ্টভাবে তুলে ধরতে হবে। অন্যদিকে LOR এমন শিক্ষকের কাছ থেকে নেওয়া উচিত, যিনি আপনার দক্ষতা ও যোগ্যতা সম্পর্কে বিস্তারিত লিখতে পারবেন। একটি সুন্দরভাবে সাজানো CV-তেও আপনার একাডেমিক অর্জন, গবেষণা, প্রজেক্ট, ইন্টার্নশিপ, প্রকাশনা ও সহশিক্ষা কার্যক্রম উল্লেখ করা উচিত।   অর্থনৈতিক পরিকল্পনা ছাড়া যুক্তরাষ্ট্রে উচ্চশিক্ষার পরিকল্পনা অসম্পূর্ণ। টিউশন ফি, বাসস্থান, স্বাস্থ্যবিমা, বইপত্র এবং দৈনন্দিন খরচ মিলিয়ে বছরে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ অর্থের প্রয়োজন হতে পারে। তাই আবেদন করার আগেই বিশ্ববিদ্যালয়ের স্কলারশিপ, ফেলোশিপ, টিচিং অ্যাসিস্ট্যান্ট (TA), রিসার্চ অ্যাসিস্ট্যান্ট (RA) এবং অন্যান্য আর্থিক সহায়তার সুযোগ সম্পর্কে খোঁজ নেওয়া উচিত। অনেক বিশ্ববিদ্যালয় আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের জন্য আংশিক বা পূর্ণ অর্থায়নের সুযোগ দেয়।   বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ভর্তি নিশ্চিত হওয়ার পর শুরু হয় স্টুডেন্ট ভিসার প্রক্রিয়া। বিশ্ববিদ্যালয় থেকে I-20 ফর্ম পাওয়ার পর SEVIS ফি পরিশোধ করতে হয় এবং DS-160 অনলাইন ফর্ম পূরণ করে যুক্তরাষ্ট্রের দূতাবাসে F-1 স্টুডেন্ট ভিসার জন্য আবেদন করতে হয়। ভিসা সাক্ষাৎকারে সাধারণত পড়াশোনার উদ্দেশ্য, বিশ্ববিদ্যালয় নির্বাচন, অর্থায়নের উৎস এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা সম্পর্কে প্রশ্ন করা হয়। আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে সৎ ও স্পষ্ট উত্তর দেওয়াই সফল হওয়ার অন্যতম চাবিকাঠি।   সবশেষে, ভিসা পাওয়ার পর আবাসনের ব্যবস্থা, বিমান টিকিট, স্বাস্থ্যবিমা, প্রয়োজনীয় টিকা এবং নতুন পরিবেশ সম্পর্কে আগাম ধারণা নিয়ে যাত্রার প্রস্তুতি সম্পন্ন করা উচিত। যুক্তরাষ্ট্রে উচ্চশিক্ষার পথ দীর্ঘ ও প্রতিযোগিতাপূর্ণ হলেও সঠিক পরিকল্পনা, নিয়মিত প্রস্তুতি এবং অধ্যবসায় থাকলে এই স্বপ্ন বাস্তবে রূপ দেওয়া সম্ভব। সময়মতো প্রস্তুতি শুরু করুন, তথ্য যাচাই করে সিদ্ধান্ত নিন এবং প্রতিটি ধাপ সতর্কতার সঙ্গে সম্পন্ন করুন। তাহলেই আমেরিকায় উচ্চশিক্ষার স্বপ্ন পূরণের পথ অনেকটাই সহজ হয়ে উঠবে।

নীলুফা নিশাত জুলাই ২৫, ২০২৬ ১৪:০
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী নীলাওয়ান রাখাইন। ছবি:সংগৃহীত
যুক্তরাষ্ট্রের তিন বিশ্ববিদ্যালয়ে গবেষণার উচ্চতর ডিগ্রিতে ভর্তির সুযোগ পেলেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী নীলাওয়ান রাখাইন

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের পালি বিভাগের সাবেক শিক্ষার্থী নীলাওয়ান রাখাইন (নীলা) যুক্তরাষ্ট্রের তিনটি স্বনামধন্য বিশ্ববিদ্যালয়ে গবেষণার উচ্চতর ডিগ্রি (পিএইচডি) অর্জনের জন্য ভর্তির সুযোগ পেয়েছেন। এর মধ্যে দুটি বিশ্ববিদ্যালয়ে তিনি সম্পূর্ণ বৃত্তি লাভ করেছেন। তার এই সাফল্যে শিক্ষক, সহপাঠী, শুভানুধ্যায়ী এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অসংখ্য মানুষ অভিনন্দন জানিয়েছেন।   জানা গেছে, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০১৬–১৭ শিক্ষাবর্ষের এই মেধাবী শিক্ষার্থী যুক্তরাষ্ট্রের ক্লেমসন বিশ্ববিদ্যালয়, ইন্ডিয়ানা বিশ্ববিদ্যালয় ব্লুমিংটন এবং কেন্ট স্টেট বিশ্ববিদ্যালয়ে গবেষণার উচ্চতর ডিগ্রিতে ভর্তির সুযোগ অর্জন করেছেন। এর মধ্যে দুটি বিশ্ববিদ্যালয় তাকে সম্পূর্ণ অর্থায়নে বৃত্তি প্রদান করেছে।   তবে এই সাফল্য হঠাৎ করে আসেনি। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতক সম্পন্ন করার পর নীলাওয়ান রাখাইন সুপরিকল্পিতভাবে নিজেকে উচ্চশিক্ষার জন্য প্রস্তুত করেছেন। নির্দিষ্ট লক্ষ্য স্থির করে দীর্ঘদিনের কঠোর পরিশ্রম, অধ্যবসায় ও একাগ্রতার মাধ্যমে তিনি নিজের যোগ্যতা গড়ে তুলেছেন।   পরে তিনি এশিয়ান ইউনিভার্সিটি ফর উইমেন থেকে শিক্ষা বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। পাশাপাশি তিনি ইংরেজি ভাষার শিক্ষক হিসেবে কাজ করেছেন। অনলাইন শিক্ষামাধ্যম ‘টেন মিনিট স্কুল’-এ শিক্ষাসামগ্রী প্রস্তুতকারক, শিক্ষাসহকারী এবং জাতিসংঘের শিশু তহবিল ও এশিয়ান ইউনিভার্সিটি ফর উইমেনের বিভিন্ন শিক্ষক প্রশিক্ষণ কর্মসূচিতে প্রশিক্ষক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন।   নিজের পেশাগত কাজের পাশাপাশি কক্সবাজারে নিজ সম্প্রদায়ের শিশুদের শিক্ষার সুযোগ বাড়াতে তিনি প্রতিষ্ঠা করেন ‘চালুং একাডেমি’। সেখানে প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর শিশুদের নিয়ে শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। শিক্ষা, ভাষা, সংস্কৃতি এবং সমাজ উন্নয়নের বিভিন্ন কর্মকাণ্ডে সক্রিয় অংশগ্রহণের মাধ্যমে তিনি একটি শক্তিশালী শিক্ষাগত ও সামাজিক পরিচিতি গড়ে তুলেছেন। সেই ধারাবাহিক প্রচেষ্টার ফল হিসেবে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের তিনটি বিশ্ববিদ্যালয়ে গবেষণার উচ্চতর ডিগ্রিতে ভর্তির সুযোগ এবং দুটি বিশ্ববিদ্যালয়ে সম্পূর্ণ বৃত্তি অর্জন করেছেন।   নীলাওয়ান রাখাইনের এই অর্জন শুধু চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় বা কক্সবাজারের জন্য নয়, দেশের প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর শিক্ষার্থীদের জন্যও অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত। তিনি প্রমাণ করেছেন, দৃঢ় ইচ্ছাশক্তি, কঠোর পরিশ্রম, অধ্যবসায় এবং সঠিক পরিকল্পনা থাকলে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে উচ্চশিক্ষার সুযোগ অর্জন করা সম্ভব।   নীলাওয়ান রাখাইনের এই অসাধারণ সাফল্যে শিক্ষা অঙ্গনের বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান তাকে অভিনন্দন জানিয়েছেন। একই সঙ্গে তার ভবিষ্যৎ গবেষণা, শিক্ষা ও কর্মজীবনের সর্বাঙ্গীণ সাফল্য কামনা করেছেন।

সিদ্দিকুর রহমান জুলাই ২৪, ২০২৬ ১৪:০
যুক্তরাষ্ট্রের যে ৪০ টি  বিশ্ববিদ্যালয় দিচ্ছে ফ্রীতে  আবেদন করার সুযোগ!
যুক্তরাষ্ট্রের যে ৪০ টি বিশ্ববিদ্যালয় দিচ্ছে ফ্রীতে আবেদন করার সুযোগ!

উচ্চশিক্ষার জন্য যুক্তরাষ্ট্রে আবেদন করতে গিয়ে অনেক শিক্ষার্থীকেই শুধু আবেদন ফি বাবদ উল্লেখযোগ্য পরিমাণ অর্থ ব্যয় করতে হয়। সাধারণভাবে একটি বিশ্ববিদ্যালয়ে আবেদন করতে ৫০ থেকে ১০০ ডলার বা তারও বেশি ফি লাগতে পারে।   সে হিসেবে পাঁচটি বিশ্ববিদ্যালয়ে আবেদন করতেই প্রায় ৩০০ থেকে ৫০০ ডলার পর্যন্ত খরচ হয়ে যায়। তবে অনেক মার্কিন বিশ্ববিদ্যালয় নির্দিষ্ট শর্ত পূরণ সাপেক্ষে আবেদন ফি মওকুফ বা ‘অ্যাপ্লিকেশন ফি ওয়েভার’ সুবিধা দিয়ে থাকে, যা আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের জন্য ব্যয় কমানোর একটি কার্যকর সুযোগ।   বিশ্ববিদ্যালয়গুলো সাধারণত ভার্চুয়াল ওপেন হাউজ, গ্র্যাজুয়েট রিক্রুটমেন্ট ইভেন্টে অংশগ্রহণ, সংশ্লিষ্ট বিভাগের গ্র্যাজুয়েট কোঅর্ডিনেটরের অনুমোদন অথবা নির্দিষ্ট প্রোগ্রামের আওতায় আবেদন ফি মওকুফের সুযোগ দেয়। তবে এই সুবিধা বিশ্ববিদ্যালয়, বিভাগ, ডিগ্রি প্রোগ্রাম, ভর্তি সেশন ও সময়সীমা অনুযায়ী ভিন্ন হতে পারে।   যেসব বিশ্ববিদ্যালয়ে বিভিন্ন সময় ফি ওয়েভারের সুযোগ দেওয়া হয়েছে, সেগুলোর মধ্যে রয়েছে ইউনিভার্সিটি অব ডেলাওয়্যার, ইউনিভার্সিটি অব টেক্সাস অ্যাট ডালাস, সিরাকিউজ ইউনিভার্সিটি, লিহাই ইউনিভার্সিটি, ইউনিভার্সিটি অব ক্যালিফোর্নিয়া রিভারসাইড, ইউনিভার্সিটি অব উইসকনসিন ম্যাডিসন, টেক্সাস এঅ্যান্ডএম ইউনিভার্সিটি, ইউনিভার্সিটি অব মেরিল্যান্ড, রচেস্টার ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজি, ইউনিভার্সিটি অব তুলসা, বিংহ্যামটন ইউনিভার্সিটি, ইউনিভার্সিটি অব রচেস্টার, ওয়েইন স্টেট ইউনিভার্সিটি, ইউনিভার্সিটি অব নিউ হ্যাম্পশায়ার, ক্লার্কসন ইউনিভার্সিটি, ইউনিভার্সিটি অব মন্টানা, ইউনিভার্সিটি অব নর্থ ক্যারোলাইনা গ্রিনসবোরো, ইউনিভার্সিটি অব মেইন, কেস ওয়েস্টার্ন রিজার্ভ ইউনিভার্সিটি, রকফেলার ইউনিভার্সিটি, বেইলর কলেজ অব মেডিসিন, ইউটি সাউথওয়েস্টার্ন মেডিকেল সেন্টার, কোল্ড স্প্রিং হারবার ল্যাবরেটরি, মায়ো ক্লিনিক গ্র্যাজুয়েট স্কুল, অ্যারিজোনা স্টেট ইউনিভার্সিটি, আইওয়া স্টেট ইউনিভার্সিটি, মিশিগান টেকনোলজিক্যাল ইউনিভার্সিটি, পেন স্টেট ইউনিভার্সিটি, টুলেন ইউনিভার্সিটি, ইউনিভার্সিটি অব নিউ মেক্সিকো, ইউনিভার্সিটি অব ওয়াইওমিং, ইলিনয় ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজি, জনস হপকিন্স ইউনিভার্সিটি, সাউদার্ন ইলিনয় ইউনিভার্সিটি, ব্রাউন ইউনিভার্সিটি, কর্নেল ইউনিভার্সিটি, ইয়েল ইউনিভার্সিটি এবং ইউনিভার্সিটি অব শিকাগো।   তবে শিক্ষার্থীদের মনে রাখতে হবে, কোনো বিশ্ববিদ্যালয়ের নাম এই তালিকায় থাকলেই সব প্রোগ্রামে বা সব সময় আবেদন ফি মওকুফ পাওয়া যাবে এমন নিশ্চয়তা নেই। অনেক ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট প্রোগ্রাম বা বিশেষ প্রচারণার সময়েই এ সুবিধা দেওয়া হয়। তাই আবেদন করার আগে সংশ্লিষ্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের অফিসিয়াল ওয়েবসাইট অথবা গ্র্যাজুয়েট অ্যাডমিশন অফিস ও গ্র্যাজুয়েট কোঅর্ডিনেটরের কাছ থেকে সর্বশেষ তথ্য যাচাই করা জরুরি।   উচ্চশিক্ষা–সংশ্লিষ্ট পরামর্শদাতারা বলছেন, বিদেশে ভর্তি প্রক্রিয়ায় শুধু আবেদন করাই সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ নয়; বরং পূর্ণ বা আংশিক স্কলারশিপ এবং ফান্ডিং নিশ্চিত করাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। একটি শক্তিশালী স্টেটমেন্ট অব পারপাস (এসওপি), গবেষণা বা একাডেমিক অভিজ্ঞতা এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের চাহিদার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ আবেদন শিক্ষার্থীর ফান্ডিং পাওয়ার সম্ভাবনা উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়িয়ে দিতে পারে।   শিক্ষার্থীদের পরামর্শ হচ্ছে, কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের সহায়তা নেওয়ার আগে তাদের অভিজ্ঞতা, সেবার ধরন ও নির্ভরযোগ্যতা যাচাই করা এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের অফিসিয়াল নির্দেশনাকেই চূড়ান্ত হিসেবে অনুসরণ করা। এতে ভুল তথ্যের ঝুঁকি কমবে এবং আবেদন প্রক্রিয়াও হবে আরও নিরাপদ ও কার্যকর।

বায়জিদ হাসান জুলাই ২২, ২০২৬ ১৪:০
ছবি: যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি নেতৃত্বের আরেক সাফল্য, লস অ্যাঞ্জেলেসে WUSTএর দ্বিতীয় ক্যাম্পাস হচ্ছে
যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের নতুন মাইলফলক, লস অ্যাঞ্জেলেসে চালু হচ্ছে দ্বিতীয় স্থায়ী ক্যাম্পাস

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি-আমেরিকানদের প্রতিষ্ঠিত ও পরিচালিত ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি (WUST) আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক স্পর্শ করেছে। ভার্জিনিয়ায় নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস চালুর পর এবার ক্যালিফোর্নিয়ার লস অ্যাঞ্জেলেসে বিশ্ববিদ্যালয়টির দ্বিতীয় স্থায়ী ক্যাম্পাস চালুর ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। প্রবাসী বাংলাদেশির উদ্যোগে প্রতিষ্ঠিত একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের এই সম্প্রসারণকে যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি কমিউনিটির জন্য একটি উল্লেখযোগ্য অর্জন হিসেবে দেখা হচ্ছে।   লস অ্যাঞ্জেলেসের অর্কিড মিলনায়তনে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও চ্যান্সেলর বাংলাদেশি-আমেরিকান প্রকৌশলী আবুবকর হানিফ আনুষ্ঠানিকভাবে নতুন ক্যাম্পাসের ঘোষণা দেন। অনুষ্ঠানে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস চ্যান্সেলর ফারহানা হানিফসহ বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মকর্তা, শিক্ষক, শিক্ষার্থী, অ্যালামনাই এবং প্রবাসী বাংলাদেশি কমিউনিটির সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।   আবুবকর হানিফ বলেন, “ভার্জিনিয়ায় আমাদের নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস প্রতিষ্ঠার পর এবার লস অ্যাঞ্জেলেসে দ্বিতীয় স্থায়ী ক্যাম্পাস চালুর মাধ্যমে আমরা যুক্তরাষ্ট্রের পশ্চিম উপকূলে উচ্চশিক্ষার নতুন দিগন্ত উন্মোচন করতে যাচ্ছি। এটি শুধু একটি নতুন ক্যাম্পাস নয়, বরং বাংলাদেশি-আমেরিকানদের শিক্ষা উদ্যোগকে আরও বিস্তৃত করার একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ।”   তিনি বলেন, “আমাদের লক্ষ্য এমন একটি বিশ্ববিদ্যালয় গড়ে তোলা, যেখানে শিক্ষার্থীরা শুধু ডিগ্রি অর্জন করবে না, বরং দক্ষতা ও নেতৃত্বের গুণাবলি নিয়ে কর্মজীবনে প্রবেশ করবে।”   অনুষ্ঠানে বক্তব্য দিতে গিয়ে আবুবকর হানিফ জানান, WUST এবং তাঁর প্রতিষ্ঠিত প্রযুক্তি প্রশিক্ষণ ও জনশক্তি উন্নয়ন প্রতিষ্ঠান পিপলএনটেক (PeopleNTech) এর মাধ্যমে এ পর্যন্ত ১২ হাজারের বেশি মানুষের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে। তিনি বলেন, দক্ষ জনশক্তি তৈরি এবং শিক্ষার্থীদের সফল কর্মজীবনের জন্য প্রস্তুত করাই এই দুই প্রতিষ্ঠানের মূল লক্ষ্য।   বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, লস অ্যাঞ্জেলেস ক্যাম্পাস চালুর প্রশাসনিক কার্যক্রম শিগগিরই শুরু হবে। নতুন ক্যাম্পাসে প্রযুক্তিনির্ভর ও কর্মমুখী উচ্চশিক্ষার পাশাপাশি গবেষণা, উদ্ভাবন এবং শিল্পপ্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সমন্বিত শিক্ষা কার্যক্রমের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হবে। তথ্যপ্রযুক্তি, ব্যবসায় প্রশাসন, সাইবার সিকিউরিটি, ডেটা সায়েন্স এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাসহ আধুনিক সময়ের চাহিদাসম্পন্ন বিভিন্ন বিষয়ে শিক্ষা কার্যক্রম সম্প্রসারণের পরিকল্পনা রয়েছে।   ইউনিভার্সিটির চিফ ফিনান্সিয়াল অফিসার ফারাহানা হানিফ বলেন, “শিক্ষা মানুষের জীবন পরিবর্তনের সবচেয়ে শক্তিশালী মাধ্যম। লস অ্যাঞ্জেলেস ক্যাম্পাসের মাধ্যমে আরও বেশি শিক্ষার্থী আন্তর্জাতিক মানের শিক্ষা, আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর প্রশিক্ষণ এবং কর্মজীবনের নতুন সুযোগ লাভ করবে।”   তিনি বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়টি একাডেমিক উৎকর্ষের পাশাপাশি মানবিক মূল্যবোধ, নেতৃত্বের বিকাশ এবং বাস্তবমুখী দক্ষতা অর্জনের ওপরও সমান গুরুত্ব দিয়ে কাজ করে যাচ্ছে।   ২০০৮ সালে প্রতিষ্ঠিত ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রে বিভিন্ন স্নাতক ও স্নাতকোত্তর শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনা করছে। সম্প্রতি ভার্জিনিয়ার আলেকজান্দ্রিয়ায় বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রথম নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন করা হয়। সেই ধারাবাহিকতায় লস অ্যাঞ্জেলেসে দ্বিতীয় স্থায়ী ক্যাম্পাস চালুর ঘোষণা প্রতিষ্ঠানটির জাতীয় পর্যায়ে সম্প্রসারণের নতুন অধ্যায়ের সূচনা করল।   বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের আশা, নতুন ক্যাম্পাস চালু হলে যুক্তরাষ্ট্রের পশ্চিমাঞ্চলের শিক্ষার্থীদের জন্য আন্তর্জাতিক মানের উচ্চশিক্ষা আরও সহজলভ্য হবে এবং বাংলাদেশি-আমেরিকানদের প্রতিষ্ঠিত এই বিশ্ববিদ্যালয় দেশটির উচ্চশিক্ষা খাতে আরও শক্ত অবস্থান তৈরি করতে সক্ষম হবে।

নুরুল্লাহ সাইদ জুলাই ১৮, ২০২৬ ১৪:০
বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে ইসরায়েলি সেনাদের প্রবেশ
বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে ইসরায়েলি সেনাদের প্রবেশ, ভাঙচুর ও হামলার অভিযোগ

অধিকৃত পশ্চিম তীরের রামাল্লার কাছে অবস্থিত বীরজিট বিশ্ববিদ্যালয়ে হঠাৎ করে অভিযান চালিয়েছে ইসরায়েলি বাহিনী। অভিযানের সময় ক্যাম্পাসে ভাঙচুর, এক নিরাপত্তাকর্মীকে মারধর এবং বিভিন্ন অবকাঠামোর ক্ষতিসাধনের অভিযোগ উঠেছে।   তুরস্কভিত্তিক বার্তা সংস্থা আনাদোলু এজেন্সির এক প্রতিবেদনে সোমবার (২৮ জুন) এসব তথ্য জানানো হয়।   স্থানীয় সূত্রের বরাত দিয়ে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইসরায়েলি সেনারা জোরপূর্বক বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে প্রবেশ করে। তারা পূর্ব দিক দিয়ে শারীরিক শিক্ষা অনুষদের ভবনে ঢুকে ভেতরের আসবাবপত্র ও সরঞ্জাম ভাঙচুর করে। এ সময় ক্যাম্পাসে দায়িত্বে থাকা এক নিরাপত্তাকর্মীকে মারধর করা হয় বলেও অভিযোগ রয়েছে।   ঘটনার পর বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ তাদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুক পেজে একটি বিবৃতি প্রকাশ করে। সেখানে জানানো হয়, সাম্প্রতিক এই অভিযানের কারণে শিক্ষার্থীদের চলমান পরীক্ষার সূচিতে কোনো পরিবর্তন আসবে না। পূর্বনির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী সব পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। পাশাপাশি ভাঙচুরের কিছু ছবিও প্রকাশ করা হয়।   বীরজিট বিশ্ববিদ্যালয়ে এ ধরনের অভিযান নতুন নয়। এর আগেও একাধিকবার ইসরায়েলি বাহিনী সেখানে প্রবেশ করে শিক্ষার্থীদের গ্রেপ্তার, শিক্ষক-কর্মকর্তাদের হয়রানি এবং ছাত্র সংগঠনগুলোর নথিপত্র জব্দ করেছে বলে অভিযোগ রয়েছে। এসব ঘটনায় আন্তর্জাতিক মহলেও উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে বিভিন্ন সময়।   পশ্চিম তীরজুড়ে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে সহিংসতা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। বিশেষ করে ২০২৩ সালের ৮ অক্টোবরের পর থেকে ইসরায়েলি সেনা ও বসতি স্থাপনকারীদের হামলায় অন্তত ১ হাজার ১৭৩ জন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন বলে স্থানীয় সরকারি পরিসংখ্যানে উল্লেখ করা হয়েছে। একই সময়ে আহত হয়েছেন ১২ হাজার ৬৬৬ জন এবং প্রায় ২৩ হাজার মানুষকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।   ফিলিস্তিনি বিশ্লেষক ও অধিকারকর্মীদের আশঙ্কা, এ ধরনের ধারাবাহিক অভিযান ও দমনমূলক তৎপরতার মাধ্যমে পশ্চিম তীরের ওপর পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার পথ তৈরি করা হচ্ছে। এতে করে জাতিসংঘের প্রস্তাব অনুযায়ী স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্র গঠনের সম্ভাবনা আরও অনিশ্চিত হয়ে পড়তে পারে।   এদিকে বিশ্ববিদ্যালয়ে সামরিক অভিযানের ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ ও ক্ষোভ বাড়ছে। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে এমন অভিযান শিক্ষার পরিবেশ ও শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে।

নীলুফা নিশাত জুন ২৮, ২০২৬ ১৪:০
এআই যুগের সঙ্গে তাল মেলাতে ১২ হাজার কলা ও মানবিক বিভাগের ডিগ্রি বাতিল করেছে চীন
এআই যুগের সঙ্গে তাল মেলাতে ১২ হাজার কলা ও মানবিক বিভাগের ডিগ্রি বাতিল করেছে চীন

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) নির্ভর অর্থনীতি গড়ে তোলার লক্ষ্যে উচ্চশিক্ষা ব্যবস্থায় বড় ধরনের পরিবর্তন এনেছে চীন। দেশটির বিশ্ববিদ্যালয়গুলো গত কয়েক বছরে কলা, মানবিক ও ভাষাবিষয়ক প্রায় ১২ হাজার ডিগ্রি কর্মসূচি বাতিল করেছে। একই সময়ে প্রযুক্তি ও এআই-সংশ্লিষ্ট হাজার হাজার নতুন ডিগ্রি চালু করা হয়েছে।   চীনের স্থানীয় গণমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ের শিক্ষা কার্যক্রমকে নতুন অর্থনৈতিক বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ করতেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের তথ্য বলছে, দেশটির বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর প্রায় এক-তৃতীয়াংশ শিক্ষা কার্যক্রম এই পুনর্গঠনের আওতায় এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বিপুলসংখ্যক শিক্ষার্থীর ওপর।   প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২১ থেকে ২০২৫ সালের মধ্যে চীনের বিভিন্ন উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ১০ হাজার ২০০টি নতুন স্নাতক ডিগ্রি কর্মসূচি চালু করা হয়েছে। এসব নতুন কোর্সের বড় অংশই কৃত্রিম  বুদ্ধিমত্তা, তথ্যপ্রযুক্তি, উন্নত প্রকৌশল, রোবোটিকস এবং উদীয়মান প্রযুক্তি খাতের সঙ্গে সম্পর্কিত।   সাউথ চায়না মর্নিং পোস্টের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসকদের কাছে কলা ও মানবিক বিষয়ের অনেক ডিগ্রি এখন ক্রমেই কর্মসংস্থানের দিক থেকে কম কার্যকর এবং অতিরিক্ত শিক্ষার্থীপূর্ণ ক্ষেত্র হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। বিপরীতে ‘এমবডিড ইন্টেলিজেন্স’সহ নতুন প্রযুক্তিভিত্তিক ডিগ্রিগুলোকে চীনের দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক পরিকল্পনার সঙ্গে বেশি সামঞ্জস্যপূর্ণ মনে করা হচ্ছে।   সাংহাই বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিক্ষার্থী সংবাদমাধ্যমটিকে জানান, দুর্বল চাকরির বাজারের কারণে তাদের বিশ্ববিদ্যালয় কিছু প্রচলিত ডিগ্রি কর্মসূচি বন্ধ করে দিয়েছে।   নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ওই শিক্ষার্থীর ভাষ্য, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার দ্রুত অগ্রগতি পণ্য নকশা বা প্রোডাক্ট ডিজাইন খাতে বড় ধরনের পরিবর্তন এনেছে। আগে যেসব কাজের জন্য মানুষের দক্ষতা অপরিহার্য ছিল, এখন তার অনেকটাই এআই দিয়ে করা সম্ভব হচ্ছে।   তিনি বলেন, “মডেল তৈরি, নকশার প্রাথমিক খসড়া এবং দৃশ্যায়নের মতো অনেক গুরুত্বপূর্ণ কাজ এখন কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার মাধ্যমে সম্পন্ন করা যাচ্ছে।”   বিশ্লেষকেরা বলছেন, চীনের এই উদ্যোগ বৈশ্বিক একটি প্রবণতারই অংশ। বিশ্বের বিভিন্ন দেশ তাদের জাতীয় শিক্ষাব্যবস্থা পুনর্গঠন করে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও ডিজিটাল দক্ষতাকে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে।   ভারত ইতোমধ্যে জাতীয় বিদ্যালয় শিক্ষা কার্যক্রমে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাবিষয়ক পাঠ অন্তর্ভুক্ত করেছে। সংযুক্ত আরব আমিরাতও জাতীয় পর্যায়ে এআই শিক্ষা উদ্যোগ চালু করেছে। একইভাবে কাজাখস্তান কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাকে জাতীয় প্রতিযোগিতা সক্ষমতার গুরুত্বপূর্ণ উপাদান হিসেবে বিবেচনা করে নতুন শিক্ষা কৌশল বাস্তবায়ন করছে।   ইউরোপেও এ ধরনের পরিবর্তন দেখা যাচ্ছে। স্পেন তার ‘ডিজিটাল স্পেন’ কৌশলের অংশ হিসেবে শিক্ষাক্রমে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বিষয়ে সচেতনতা বৃদ্ধির ওপর জোর দিয়েছে।   অন্যদিকে যুক্তরাজ্যেও শিক্ষা ব্যবস্থায় প্রযুক্তিনির্ভর পরিবর্তনের আলোচনা চলছে। দেশটির শিক্ষামন্ত্রী ব্রিজেট ফিলিপসন গত বছর জানিয়েছিলেন, মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক পর্যায়ে তথ্যবিজ্ঞান ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাবিষয়ক নতুন শিক্ষাগত যোগ্যতা চালুর সম্ভাবনা নিয়ে কাজ করছে সরকার।   যুক্তরাজ্যের জাতীয় শিক্ষাক্রমের গত এক দশকের সবচেয়ে বড় পর্যালোচনার ফল আগামী বছর প্রকাশ হওয়ার কথা রয়েছে। নতুন কাঠামো বাস্তবায়ন শুরু হবে ২০২৮ সালের সেপ্টেম্বর থেকে। ব্রিজেট ফিলিপসন সে সময় বলেছিলেন, “জাতীয় শিক্ষাক্রম সর্বশেষ হালনাগাদের পর এক দশকের বেশি সময় পেরিয়ে গেছে। বর্তমান বিশ্বের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় তরুণদের প্রস্তুত করা এখন আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ।”   তিনি আরও বলেন, “শিক্ষার্থীদের এমন দক্ষতা দিতে হবে, যাতে তারা ভবিষ্যতের সুযোগগুলো কাজে লাগাতে পারে এবং দ্রুত পরিবর্তনশীল বিশ্বের সঙ্গে নিজেদের খাপ খাইয়ে নিতে সক্ষম হয়।”

নীলুফা নিশাত জুন ১৫, ২০২৬ ১৪:০
ছবি: সংগৃহীত
যুক্তরাষ্ট্রে দুই বাংলাদেশি পিএইচডি শিক্ষার্থী নিখোঁজ: রহস্য ঘনীভূত, উঠছে নতুন প্রশ্ন

যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অব সাউথ ফ্লোরিডার দুই বাংলাদেশি ডক্টরাল শিক্ষার্থী জামিল লিমন ও নাহিদা সুলতানা বৃষ্টির নিখোঁজের ঘটনা দিন যত গড়াচ্ছে, ততই গভীর রহস্যের জন্ম দিচ্ছে। কয়েক দিন পেরিয়ে গেলেও তাদের কোনো সন্ধান না মেলায় পরিবার, সহপাঠী ও প্রবাসী বাংলাদেশিদের মধ্যে উদ্বেগ ক্রমেই বাড়ছে।   পরিবারের সদস্যরা জানিয়েছেন, জামিল ও বৃষ্টি স্বেচ্ছায় কোথাও চলে যাওয়ার মানুষ নন। জামিলের ভাই জুবায়ের আহমেদ বলেন, “পাঁচ দিন হয়ে গেছে। আমরা চরম উৎকণ্ঠায় আছি। সে কাউকে কিছু না বলে চলে যাবে—এটা কল্পনাও করতে পারি না।” একইভাবে বৃষ্টির ভাই জাহেদ হাসান প্রান্ত বোনের নিরাপদ ফিরে আসার আহ্বান জানিয়েছেন।   নিখোঁজের দিনের ঘটনাপ্রবাহ বিশ্লেষণে উঠে এসেছে কিছু অস্বাভাবিক তথ্য। জানা যায়, বৃহস্পতিবার সকাল ৯টার দিকে জামিল তার বাসা থেকে ফোন ও মানিব্যাগ নিয়ে বের হন, কিন্তু পাসপোর্ট রেখে যান। সকাল ১১টার দিকে তার ফোন সর্বশেষ বাসার আশপাশেই শনাক্ত হয়। অন্যদিকে, একই দিন সকাল ১০টার দিকে বৃষ্টি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাকৃতিক ও পরিবেশগত বিজ্ঞান ভবনে ছিলেন। তিনি ল্যাপটপ, ট্যাবলেট কম্পিউটার ও খাবারের বাক্স রেখে বের হন—সঙ্গে ছিল কেবল ফোন ও পার্স। বিকেল ৫টার দিকে তার ফোনের সর্বশেষ অবস্থান ক্যাম্পাস এলাকায় পাওয়া যায়।   পুলিশ জানিয়েছে, এখন পর্যন্ত সিসিটিভি ফুটেজে সন্দেহজনক কিছু পাওয়া যায়নি। প্রাথমিকভাবে অপহরণের সম্ভাবনা বিবেচনায় নিয়ে পরিবারকে গণমাধ্যমে কথা বলতে নিরুৎসাহিত করা হয়েছিল। পরে কোনো অগ্রগতি না হওয়ায় বিষয়টি প্রকাশ্যে আসে। বাংলাদেশ দূতাবাস ইতোমধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় তদন্ত সংস্থাকে মামলায় সম্পৃক্ত করার অনুরোধ জানিয়েছে এবং নিশ্চিত করেছে, নিখোঁজ দুই শিক্ষার্থী কেউই অভিবাসন হেফাজতে নেই।   এই ঘটনার সঙ্গে সাম্প্রতিক সময়ের আরেকটি বিষয়ও আলোচনায় এসেছে। যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন সংবেদনশীল গবেষণা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যুক্ত কয়েকজন বিজ্ঞানী ও কর্মকর্তার রহস্যজনক মৃত্যু বা নিখোঁজের ঘটনাও নতুন করে প্রশ্ন তুলছে। বিষয়টি নিয়ে সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প মন্তব্য করেছেন বলেও বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে।   তবে বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলছেন, এ ধরনের ঘটনাকে সরাসরি কোনো ষড়যন্ত্রের সঙ্গে যুক্ত করা এখনই যৌক্তিক নয়। বিচ্ছিন্ন ঘটনা হিসেবেও এগুলো ঘটতে পারে। তবুও একাধিক মিল—যেমন হঠাৎ যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়া, পাসপোর্ট রেখে যাওয়া—তদন্তকে আরও জটিল করে তুলেছে।   এদিকে যুক্তরাষ্ট্রসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে বসবাসরত বাংলাদেশি সম্প্রদায়ের মধ্যে উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিখোঁজ দুই শিক্ষার্থীর খোঁজে ব্যাপক প্রচারণা চলছে। অনেকেই প্রশ্ন তুলছেন—কেন তদন্তে অগ্রগতি নেই এবং ঘটনার পেছনে অন্য কোনো কারণ রয়েছে কি না।   তদন্ত সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এখনো কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো সম্ভব হয়নি। তবে পরিবার ও স্বজনদের দাবি, এটি কোনো স্বাভাবিক নিখোঁজের ঘটনা নয় এবং দ্রুত উদ্ধারই এখন সবচেয়ে জরুরি। যে কেউ জামিল লিমন বা নাহিদা সুলতানা বৃষ্টির বিষয়ে তথ্য জানলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানাতে অনুরোধ করা হয়েছে।

Unknown এপ্রিল ২২, ২০২৬ ১৪:০
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী
ইসরায়েল আমাদের জ্ঞানশূন্য করতে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে হামলা করছে: ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী

ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি দেশটির শিক্ষা ও একাডেমিক কেন্দ্রগুলোতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সাম্প্রতিক হামলার তীব্র সমালোচনা করেছেন। তিনি অভিযোগ করেছেন যে, এই হামলার মূল লক্ষ্য কেবল সামরিক স্থাপনা নয়, বরং ইরানের মেধা ও জ্ঞানভিত্তিক সমাজকে ধ্বংস করা। আরাঘচির মতে, ইরানের শীর্ষস্থানীয় বিশ্ববিদ্যালয় ও গবেষণা কেন্দ্রগুলোকে টার্গেট করার মাধ্যমে ইসরায়েল মূলত ইরানকে ‘জ্ঞানশূন্য’ (brain-drain) করার একটি সুদূরপ্রসারী ষড়যন্ত্র লিপ্ত হয়েছে। তিনি একে আন্তর্জাতিক আইন ও মানবিক মূল্যবোধের চরম লঙ্ঘন হিসেবে অভিহিত করেছেন।   পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরও উল্লেখ করেন যে, ইরানের তরুণ প্রজন্ম ও শিক্ষার্থীদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে দিয়ে তাদের শিক্ষা কার্যক্রম ব্যাহত করাই এই হামলার প্রধান উদ্দেশ্য। তবে তিনি দৃঢ়তার সাথে জানিয়েছেন যে, এ ধরণের হামলা চালিয়ে ইরানের বৈজ্ঞানিক ও প্রযুক্তিগত অগ্রগতি থামানো সম্ভব হবে না। ইতিমধ্যে ইরানের বেশ কয়েকটি বিশ্ববিদ্যালয়ে বোমা ও ড্রোন হামলার খবর পাওয়া গেছে, যা নিয়ে বিশ্বজুড়ে নিন্দার ঝড় উঠেছে। আরাঘচি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে এই ‘সাংস্কৃতিক ও শিক্ষাগত আগ্রাসনের’ বিরুদ্ধে সোচ্চার হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।   বিশ্লেষকদের মতে, যুদ্ধের ময়দান যখন সাধারণ অবকাঠামো থেকে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের দিকে মোড় নেয়, তখন তা দীর্ঘমেয়াদী মনস্তাত্ত্বিক যুদ্ধের রূপ ধারণ করে। ইরানের উচ্চশিক্ষা ও গবেষণা খাতের ওপর এই আঘাত দেশটির ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব ও উদ্ভাবনী শক্তিকে দুর্বল করার একটি কৌশল হতে পারে। তবে তেহরান জানিয়েছে, তারা ক্ষতিগ্রস্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো দ্রুত সংস্কার করবে এবং শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে অতিরিক্ত ব্যবস্থা গ্রহণ করবে। এই হামলার প্রতিবাদে ইরানের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে ছাত্র বিক্ষোভের খবরও পাওয়া গেছে।

Unknown মার্চ ২৯, ২০২৬ ১৪:০
জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

Top week

ছোট ভাইকে বুকে জড়িয়ে নিরাপদ রাখার চেষ্টা করছিল শিশুকন্যা, পরে তাদের উদ্ধার করে পুলিশ। ছবি: সংগৃহীত

জঙ্গলে ফেলে যাওয়া দুই ভাইবোনকে উদ্ধার, ছোট ভাইকে বাঁচাতে সারা রাত বুকে আগলে রাখল বোন

মোহাম্মদ ইব্রাহিম আগস্ট ১০, ২০২৬ ১৪:০