- প্রচ্ছদ
- Topic
বিশ্ববিদ্যালয়
ভারতের ব্যবসায়ী মুকেশ আম্বানির ছেলে অনন্ত আম্বানিকে টেকসই উন্নয়ন বিষয়ে ‘প্রফেসর অব প্র্যাকটিস’ মর্যাদা দিয়েছে যুক্তরাজ্যের নিউক্যাসল বিশ্ববিদ্যালয়। ১৪ সেপ্টেম্বর বিশ্ববিদ্যালয়টি এ ঘোষণা দেওয়ার পর পরিবেশ সংরক্ষণ নিয়ে কাজ করা ব্যক্তি ও কয়েকজন শিক্ষাবিদ সিদ্ধান্তটির সমালোচনা করেছেন। অনন্তের প্রতিষ্ঠিত বন্য প্রাণী কেন্দ্র ভানতারার কার্যক্রম এবং তাঁর পরিবারের তেল ও গ্যাস ব্যবসার সঙ্গে টেকসই উন্নয়নের এই স্বীকৃতি কতটা সামঞ্জস্যপূর্ণ, সেই প্রশ্ন তুলেছেন তাঁরা। বিশ্ববিদ্যালয়ের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, প্রাণীকল্যাণ, জীববৈচিত্র্য রক্ষা ও পরিবেশবিষয়ক কাজে অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে অনন্তকে এই মর্যাদা দেওয়া হয়েছে। গুজরাটের জামনগরে তাঁর প্রতিষ্ঠিত ভানতারাকে আহত ও বিপন্ন প্রাণী উদ্ধার এবং পুনর্বাসনের উদ্যোগ হিসেবে বর্ণনা করেছে বিশ্ববিদ্যালয়। রিলায়েন্স ইন্ডাস্ট্রিজের নির্বাহী পরিচালক হিসেবে পরিচ্ছন্ন জ্বালানিসংক্রান্ত উদ্যোগেও তাঁর ভূমিকার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের ঘোষণায় এটি একটি ‘প্রফেসরশিপ অব প্র্যাকটিস’ স্বীকৃতি; তাঁকে নিয়মিত শিক্ষক পদে চাকরি দেওয়া হয়েছে বলে সেখানে বলা হয়নি। সিদ্ধান্তটির সমালোচনা করে ভারতীয় ইতিহাসবিদ রামচন্দ্র গুহ বলেছেন, ভারতে পরিবেশ ও টেকসই উন্নয়ন নিয়ে দীর্ঘদিন কাজ করা আরও অনেক যোগ্য ব্যক্তি রয়েছেন। নিউক্যাসল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-কর্মীদের ইউনিয়ন শাখার সভাপতি অধ্যাপক ম্যাট পেরির ভাষ্য অনুযায়ী, পরিবেশগত উদ্বেগের কারণে কর্মীদের মধ্যেও এই সিদ্ধান্ত নিয়ে আপত্তি ছিল। এসব প্রতিক্রিয়ার কথা জানিয়েছে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ান। ভানতারায় প্রাণী সংগ্রহের প্রক্রিয়া নিয়েও আগে পরিবেশবাদীরা প্রশ্ন তুলেছেন। তবে সমালোচনা বা তদন্তে ওঠা প্রশ্নকে প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে অপরাধ প্রমাণিত হওয়ার সঙ্গে এক করে দেখার সুযোগ নেই। দ্য গার্ডিয়ানের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ভারতীয় সুপ্রিম কোর্টের একটি তদন্তে ভানতারার পরিচালকদের বিরুদ্ধে অনিয়ম পাওয়া যায়নি। অনন্তের পরিবার ও ভানতারাও প্রাণী পাচারের অভিযোগ অস্বীকার করেছে। সমালোচনার মধ্যেও সিদ্ধান্তের পক্ষে রয়েছে নিউক্যাসল বিশ্ববিদ্যালয়। তাদের বক্তব্য, ভানতারার কাজ এবং রিলায়েন্সের জ্বালানি রূপান্তর উদ্যোগে অনন্তের ভূমিকা বিবেচনা করেই তাঁকে এই মর্যাদা দেওয়া হয়েছে। ফলে বিতর্কটি এখন কেবল একজনকে অধ্যাপকের পদবি দেওয়া নিয়ে নয়; পরিবেশবিষয়ক কাজের স্বীকৃতি দেওয়ার ক্ষেত্রে বিশ্ববিদ্যালয় কী মানদণ্ড অনুসরণ করেছে, সেই প্রশ্নেও গড়িয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়া স্টেট ইউনিভার্সিটি সান মার্কোসে (সিএসইউএসএম) চলতি শরৎ সেমিস্টার শুরুর পর তিন সপ্তাহের মধ্যে ধর্ষণের চারটি অভিযোগের খবর পাওয়া গেছে। ঘটনাগুলো নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে ক্যাম্পাসে নিরাপত্তা জোরদারের দাবি জানিয়েছেন শিক্ষার্থীরা। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষও ঘটনার তদন্তের পাশাপাশি ক্যাম্পাসে টহল ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা বাড়ানোর কথা জানিয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের মুখপাত্র জেরি ম্যাককরমিকের তথ্য অনুযায়ী, চারটি ঘটনা ঘটেছে ৫, ৬, ১৩ ও ১৮ সেপ্টেম্বর। ঘটনাগুলো বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসিক ভবন দ্য কোয়াড, ইউনিভার্সিটি ভিলেজ অ্যাপার্টমেন্টস এবং ব্ল্যাক ওক হলে ঘটেছে বলে জানানো হয়েছে। চারটি ঘটনাই আলাদা এবং তদন্তাধীন রয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, প্রতিটি ঘটনায় ভুক্তভোগী ও অভিযুক্ত ব্যক্তি একে অপরকে চিনতেন বা তাদের মধ্যে পরিচয় ছিল। ঘটনাগুলো পরস্পরের সঙ্গে সম্পর্কিত বলে মনে করছে না বিশ্ববিদ্যালয়। গোপনীয়তার কারণে তদন্ত চলাকালে এ বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হচ্ছে না। ঘটনাগুলোর পর ক্যাম্পাসে নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ আরও বেড়েছে। ২১ সেপ্টেম্বর এক শিক্ষার্থী চেঞ্জ ডট অর্গে একটি আবেদন শুরু করেন। এতে ক্যাম্পাসের পার্কিং এলাকা, দ্য কোয়াড এবং পর্যাপ্ত আলো নেই এমন জায়গায় নিরাপত্তা বাড়ানোর দাবি জানানো হয়েছে। পাশাপাশি পরিস্থিতি মোকাবিলায় বিশ্ববিদ্যালয় কী পদক্ষেপ নিচ্ছে, সে বিষয়ে আরও স্বচ্ছ তথ্য প্রকাশেরও দাবি জানানো হয়েছে। আবেদনে ওই শিক্ষার্থী বলেন, নারী শিক্ষার্থীদের নিরাপদ পরিবেশে পড়াশোনার অধিকার রয়েছে। তার ভাষ্য অনুযায়ী, কয়েকজন শিক্ষার্থী ক্যাম্পাস নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করলেও তারা যথেষ্ট সাড়া পাননি। তবে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ এ দাবির বিষয়ে আলাদাভাবে বিস্তারিত মন্তব্য করেছে কি না, তা প্রকাশিত প্রতিবেদনে স্পষ্ট নয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে অবশ্য নিরাপত্তা ব্যবস্থা বাড়ানোর কথা জানানো হয়েছে। ক্যাম্পাসে পুলিশের টহল বাড়ানোর পাশাপাশি আবাসিক এলাকার কর্মীদের সঙ্গে সমন্বয় করে নিরাপত্তা জোরদার করা হচ্ছে। বিশ্ববিদ্যালয় প্রেসিডেন্ট এলেন নিউফেল্টও শিক্ষার্থী ও ক্যাম্পাস কমিউনিটির উদ্দেশে দেওয়া এক বার্তায় নিরাপত্তা জোরদার করার পাশাপাশি যৌন সহিংসতা প্রতিরোধে শিক্ষা ও সচেতনতা কার্যক্রম বাড়ানোর কথা বলেছেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের মুখপাত্র জেরি ম্যাককরমিক বলেন, যৌন সহিংসতা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয় এবং এ ধরনের ঘটনার জন্য ভুক্তভোগীকে দায়ী করা উচিত নয়। তার বক্তব্য অনুযায়ী, সম্মতি হতে হবে স্পষ্ট, স্বেচ্ছায় দেওয়া এবং চলমান। শুধু পরিচিতি বা সম্পর্ক থাকার কারণে কারও সম্মতি ধরে নেওয়া যায় না। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নিয়মিত প্রতিরোধমূলক শিক্ষা ও সম্মতি বিষয়ক কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়। পাশাপাশি সংকটে থাকা শিক্ষার্থীদের জন্য সহায়তা ও গোপনীয় পরামর্শের ব্যবস্থাও রয়েছে। সেমিস্টারের শুরুতে কলেজ ক্যাম্পাসে যৌন সহিংসতার ঝুঁকি তুলনামূলকভাবে বাড়তে পারে বলে যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রথম কয়েক সপ্তাহকে অনেক সময় ‘রেড জোন’ বলা হয়। সিএসইউএসএমও জানিয়েছে, শরৎ সেমিস্টারের প্রথম ছয় সপ্তাহকে এ ধরনের ঝুঁকির সময় হিসেবে বিবেচনা করা হয়। তবে এর অর্থ এই নয় যে ওই সময়ের প্রতিটি ঘটনায় একই কারণ বা প্যাটার্ন রয়েছে। চারটি ঘটনার বিষয়ে তদন্ত এখনো চলছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে শিক্ষার্থীদের তথ্য জানানো, নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা এবং যৌন সহিংসতার শিকার ব্যক্তিদের সহায়তা দেওয়ার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। সিএসইউএসএমের পুলিশ বিভাগও ২৪ ঘণ্টা, সপ্তাহে সাত দিন ক্যাম্পাসে দায়িত্ব পালন করে এবং জরুরি পরিস্থিতিতে শিক্ষার্থীদের ৯১১ নম্বরে যোগাযোগের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। সূত্র: এনবিসি ৭ সান দিয়েগো
যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০২৭ সালের র্যাংকিং প্রকাশ করেছে ইউএস নিউজ অ্যান্ড ওয়ার্ল্ড রিপোর্ট। এবারের তালিকায় বড় পরিবর্তন এসেছে শীর্ষস্থান নিয়ে। দীর্ঘ সময় ধরে প্রথম অবস্থানে থাকা প্রিন্সটন বিশ্ববিদ্যালয়কে সরিয়ে ১ নম্বরে উঠে এসেছে এমআইটি। প্রিন্সটন এবার দ্বিতীয় এবং হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয় তৃতীয় অবস্থানে রয়েছে। ন্যাশনাল লিবারেল আর্টস কলেজগুলোর মধ্যে আবারও শীর্ষস্থান ধরে রেখেছে উইলিয়ামস কলেজ। ২০২৭ সালের এই র্যাংকিংয়ের ৪২তম সংস্করণে যুক্তরাষ্ট্রের প্রায় ১ হাজার ৭০০ কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয় মূল্যায়ন করা হয়েছে। শিক্ষার মান ও শিক্ষার্থীদের সাফল্য বিবেচনায় নিয়ে সর্বোচ্চ ১৭টি সূচকের ভিত্তিতে প্রতিষ্ঠানগুলোর অবস্থান নির্ধারণ করা হয়েছে। র্যাংকিং তৈরিতে শিক্ষার্থীদের স্নাতক হওয়ার হার, পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়ার হার, নিম্ন আয়ের পরিবারের শিক্ষার্থীদের সামাজিক ও অর্থনৈতিক অগ্রগতি এবং পড়াশোনা শেষে আয়সহ বিভিন্ন বিষয়কে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি একাডেমিক পর্যায়ে সহকর্মীদের মূল্যায়ন এবং শিক্ষকদের সুযোগ-সুবিধা ও অন্যান্য সম্পদও বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে। ইউএস নিউজ জানিয়েছে, প্রতিটি ক্যাটাগরির শীর্ষ ৯০ শতাংশ প্রতিষ্ঠানের পৃথক অবস্থান প্রকাশ করা হয়েছে। বাকি প্রতিষ্ঠানগুলোর ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট অবস্থানের পরিবর্তে র্যাংকের একটি পরিসীমা দেওয়া হয়েছে। তবে শুধু র্যাংকিং দেখে কলেজ বা বিশ্ববিদ্যালয় বেছে না নিয়ে শিক্ষার্থী ও পরিবারগুলোকে অবস্থান, মোট খরচ, আর্থিক সহায়তা, ক্যাম্পাস জীবন এবং পছন্দের একাডেমিক প্রোগ্রামের মতো বিষয়ও বিবেচনা করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। কলেজের খরচ ও শিক্ষাঋণের চাপ যুক্তরাষ্ট্রে উচ্চশিক্ষার খরচের পাশাপাশি শিক্ষাঋণও বড় উদ্বেগের বিষয় হয়ে উঠেছে। অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের এক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, ২০২৫ সালের এপ্রিল থেকে ২০২৬ সালের মার্চ পর্যন্ত খেলাপি শিক্ষাঋণগ্রহীতার সংখ্যা ৪২ লাখের বেশি বেড়েছে। মহামারির সময় স্থগিত থাকা ঋণের কিস্তি ২০২৪ সালে আবার চালু হওয়ার পর অনেক ঋণগ্রহীতা আর নিয়মিত পরিশোধ করতে পারেননি। এদিকে আরও কয়েক লাখ ঋণগ্রহীতা কয়েক মাস ধরে কিস্তি পরিশোধে পিছিয়ে রয়েছেন। সরকারের তুলনামূলক কম খরচের আয়ভিত্তিক ঋণ পরিশোধ ব্যবস্থা ‘সেভ প্ল্যান’ বাতিলের প্রক্রিয়ায় থাকায় অনেকের মাসিক কিস্তিও বাড়তে পারে। ঋণের কিস্তি টানা নয় মাস পরিশোধ না করলে একজন ঋণগ্রহীতা খেলাপি হিসেবে বিবেচিত হতে পারেন। খেলাপি শিক্ষাঋণের কারণে ঋণগ্রহীতার ক্রেডিট স্কোর ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে এবং ঋণ আদায়ের জন্য তা কালেকশন সংস্থার কাছে পাঠানো হতে পারে। কিছু ক্ষেত্রে ফেডারেল সরকার খেলাপি ঋণগ্রহীতার বেতন ও সোশ্যাল সিকিউরিটি পেমেন্ট থেকেও অর্থ কেটে নিতে পারে। ফলে বিশ্ববিদ্যালয় বেছে নেওয়ার সময় শুধু র্যাংকিং নয়, শিক্ষার মোট খরচ ও ভবিষ্যতের ঋণের বোঝাও বিবেচনা করা গুরুত্বপূর্ণ।
বাংলাদেশের অধিকাংশ শিক্ষার্থী যখন এইচএসসি পরীক্ষার প্রস্তুতি নিচ্ছিল, তখন নটর ডেম কলেজের শিক্ষার্থী ফায়েজ আহমাদ প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম শীর্ষ বিশ্ববিদ্যালয় ম্যাসাচুসেটস ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজি বা এমআইটিতে পড়াশোনা শুরুর জন্য। ২০২৬ সালের এইচএসসি ব্যাচের এই শিক্ষার্থী এইচএসসি শেষ করার আগেই এমআইটিতে ভর্তি হওয়ার নিশ্চয়তা পান। সেপ্টেম্বর থেকে তার এমআইটির ক্লাস শুরু হওয়ার কথা ছিল। তবে ফায়েজের এই সাফল্য হঠাৎ করে আসেনি। রাজশাহীতে ২০০৮ সালে জন্ম নেওয়া ফায়েজ ছোটবেলা থেকেই পড়াশোনার পাশাপাশি দাবা, অলিম্পিয়াড, বিতর্ক ও গবেষণায় যুক্ত ছিলেন। চার বছর বয়সে বড় ভাইবোনদের কাছ থেকে দাবা শেখার মাধ্যমে তার আগ্রহের শুরু। প্রথম শ্রেণিতে জাতীয় পর্যায়ের দাবা প্রতিযোগিতায় অংশ নেন এবং তৃতীয় শ্রেণিতে অলিম্পিয়াডে অংশ নিয়ে আঞ্চলিক পর্যায়ে চ্যাম্পিয়ন হন। ষষ্ঠ শ্রেণি থেকে বিতর্কেও যুক্ত হন। ২০২১ সালে অষ্টম শ্রেণিতে পড়ার সময় ফায়েজের শিক্ষাজীবনে বড় পরিবর্তন আসে। তিনি বাংলাদেশ বায়োলজি ও ফিজিক্স অলিম্পিয়াডের জাতীয় ক্যাম্প এবং জুনিয়র সায়েন্স অলিম্পিয়াডে অংশ নিতে শুরু করেন। ২০২৩ সালে আন্তর্জাতিক জুনিয়র সায়েন্স অলিম্পিয়াডে বাংলাদেশের হয়ে রৌপ্যপদক অর্জন করেন। একই বছর আন্তর্জাতিক বায়োলজি অলিম্পিয়াডেও ব্রোঞ্জপদক পান। ২০২৪ সালেও আন্তর্জাতিক বায়োলজি অলিম্পিয়াডে ব্রোঞ্জপদক অর্জনের তথ্য ফায়েজের নিজের প্রকাশিত প্রোফাইল এবং সংশ্লিষ্ট সংগঠনের তথ্যেও রয়েছে। শুধু প্রতিযোগিতার সাফল্যেই থেমে থাকেননি ফায়েজ। ২০২৫ সালে তিনি OlyPara নামে একটি অলাভজনক প্ল্যাটফর্ম প্রতিষ্ঠা করেন। ১৩টি দেশের সদস্য নিয়ে তৈরি এই প্ল্যাটফর্মের লক্ষ্য ছিল অলিম্পিয়াড প্রস্তুতির জন্য প্রয়োজনীয় মানসম্মত রিসোর্স শিক্ষার্থীদের জন্য আরও সহজলভ্য করা। সেখানে বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন, পূর্ণাঙ্গ পরীক্ষা, কাস্টমাইজড পরীক্ষা এবং সাবেক অলিম্পিয়াড পদকজয়ীদের লেখা বিভিন্ন শিক্ষামূলক কনটেন্ট দেওয়ার ব্যবস্থা রয়েছে বলে তিনি জানিয়েছেন। গবেষণাতেও তার আগ্রহ ছিল। তিনি GSA Bioinformatics Internship-এ একমাত্র হাইস্কুল ইন্টার্ন হিসেবে নির্বাচিত হন এবং ২০২৫ সালের BSM International Conference-এ নিজের গবেষণা উপস্থাপন করেন। পাশাপাশি নটর ডেম কলেজে বাংলা ও ইংরেজি বিতর্কের সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন। এসব একাডেমিক ও সহশিক্ষা কার্যক্রমই পরে তার এমআইটি অ্যাপ্লিকেশনের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে ওঠে। এমআইটিতে পড়ার স্বপ্ন ফায়েজের অনেক দিনের হলেও ২০২৩ সালের আন্তর্জাতিক বায়োলজি অলিম্পিয়াডে ব্রোঞ্জপদক পাওয়ার পর তিনি এটিকে নির্দিষ্ট লক্ষ্য হিসেবে নেন। এরপর কোচিংয়ের ওপর নির্ভর না করে নিজেই SAT ও Duolingo English Test-এর প্রস্তুতি নেন। SAT-এ ১৫৫০ নম্বর এবং Duolingo English Test-এ ১৪০ নম্বর অর্জন করেন। ২০২৫ সালের অক্টোবরের শেষ দিকে তিনি এমআইটির অ্যাপ্লিকেশন প্রস্তুত করা শুরু করেন। নিজের অর্জনগুলো সাজানো, শিক্ষকদের কাছ থেকে সুপারিশপত্র নেওয়া এবং অ্যাপ্লিকেশনের বিভিন্ন অংশ প্রস্তুত করতে সময় দেন। পরে এমআইটির ইন্টারভিউতেও অংশ নেন। তার ভাষ্য অনুযায়ী, ইন্টারভিউটি ছিল অনেকটা কথোপকথনের মতো, যেখানে তিনি নিজের গবেষণা, অলাভজনক উদ্যোগ ও অন্যান্য সহশিক্ষা কার্যক্রম নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন। এমআইটির ভর্তি প্রক্রিয়ায় একাডেমিক ফলাফলের পাশাপাশি শিক্ষার্থীর উদ্যোগ, কৌতূহল, সৃজনশীলতা, সমস্যা সমাধানের সক্ষমতা ও প্রতিষ্ঠানটির সঙ্গে তার সামঞ্জস্যও বিবেচনা করা হয়। এমআইটির প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ফলাফলভিত্তিক শ্রেণিতে প্রথম বর্ষে ভর্তির জন্য ২৯ হাজার ২৮১টি আবেদন পড়েছিল এবং ১ হাজার ৩৩৪টি ভর্তি প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল। এইচএসসি শেষ করার আগেই এমআইটিতে ভর্তি হওয়ার বিষয়টি নিয়ে ফায়েজের ক্ষেত্রে অনেকের মধ্যে প্রশ্ন তৈরি হয়েছিল। তিনি জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্রের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর ভর্তি প্রক্রিয়ায় সিদ্ধান্ত সাধারণত শিক্ষার্থীদের হাইস্কুলের চূড়ান্ত পরীক্ষা শেষ হওয়ার আগেই আসে। এমআইটির বর্তমান ভর্তি তথ্যেও দেখা যায়, প্রতিষ্ঠানটি উচ্চমাধ্যমিক পর্যায়ে বিস্তৃত ও কঠিন একাডেমিক প্রস্তুতিকে গুরুত্ব দেয়। ফায়েজের নিজের ভাষায়, তার যাত্রার মূল বিষয় ছিল দীর্ঘ সময় ধরে ধারাবাহিকভাবে নিজের আগ্রহের জায়গাগুলোতে কাজ করা। দাবা দিয়ে শুরু হওয়া সেই পথ তাকে অলিম্পিয়াড, গবেষণা, বিতর্ক, শিক্ষার্থীদের জন্য অলাভজনক উদ্যোগ এবং শেষ পর্যন্ত এমআইটির ক্লাসরুমে নিয়ে গেছে। ২০২৬ সালের শরতে সেই নতুন অধ্যায় শুরু হয়েছে, যেখানে বাংলাদেশের একজন শিক্ষার্থী এখন বিশ্বের অন্যতম পরিচিত গবেষণা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী হিসেবে নিজের পরবর্তী পথ তৈরি করছেন। সূত্র: দ্যা বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড
ছোটবেলা থেকেই বিদেশের নামী বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার স্বপ্ন দেখতেন সামিয়া ইসলাম আনিকা। সেই স্বপ্ন পূরণের পথে প্রচলিত ধারার বাইরে গিয়ে সিদ্ধান্ত নিয়েছেন একাধিকবার। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগে ভর্তি হওয়ার পরও অর্থনীতি পড়ার আগ্রহ থেকে এক বছর পর বিশ্ববিদ্যালয় বদলে ভর্তি হন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগে। সেখানকার পড়াশোনা, গবেষণা ও সহশিক্ষা কার্যক্রমের অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে শেষ পর্যন্ত যুক্তরাজ্যের অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতিতে এমফিল ও ডিফিল প্রোগ্রামে জায়গা করে নিয়েছেন তিনি। পেয়েছেন মর্যাদাপূর্ণ ক্ল্যারেনডন ফান্ড স্কলারশিপের পূর্ণ অর্থায়ন। জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের ৪৮তম ব্যাচের শিক্ষার্থী ছিলেন সামিয়া। স্নাতকে ৩.৯২ সিজিপিএ নিয়ে বিভাগ ও সমাজবিজ্ঞান অনুষদে প্রথম হন তিনি। পরে স্নাতকোত্তরে অর্জন করেন ৩.৯১ সিজিপিএ। তাঁর একাডেমিক ফলাফলের পাশাপাশি গবেষণার অভিজ্ঞতাও ছিল বিদেশে উচ্চশিক্ষার আবেদনের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। একটি গবেষণাপত্র জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি জার্নালে প্রকাশিত হয়। আরেকটি গবেষণাপত্র দক্ষিণ এশীয় অর্থনৈতিক মডেলিং নেটওয়ার্কের একটি সম্মেলনে উপস্থাপন করেন তিনি। সামিয়ার অর্থনীতি বেছে নেওয়ার পেছনে ছিল নিজের আগ্রহ। বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী হিসেবে গণিতের প্রতি তাঁর আগ্রহ ছিল। একই সঙ্গে সমাজ ও মানুষের বিভিন্ন বিষয় নিয়েও কৌতূহল ছিল। সেই দুই আগ্রহকে একসঙ্গে কাজে লাগানোর সুযোগ হিসেবে অর্থনীতিকে বেছে নেন তিনি। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগে ভর্তি হওয়ার পরও নিজের পছন্দের বিষয়ে পড়ার সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসেননি। এক বছর পর জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগে ভর্তি হয়ে শুরু করেন নতুন একাডেমিক যাত্রা। বিশ্ববিদ্যালয়জীবনে শুধু পরীক্ষার ফলাফলের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকেননি সামিয়া। বিভিন্ন গবেষণা প্রকল্পে গবেষণা সহকারী হিসেবে কাজ করেছেন। এসব কাজের মধ্যে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের একটি গবেষণা, আইসিটি বিভাগের হের পাওয়ার প্রকল্প এবং সমবায় অধিদপ্তরের নারীদের জীবিকা সংশ্লিষ্ট গবেষণার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। দক্ষিণ এশীয় অর্থনৈতিক মডেলিং নেটওয়ার্কের বিভিন্ন গবেষণাতেও তাঁর সম্পৃক্ততা ছিল। এসব অভিজ্ঞতা তাঁকে গবেষণামুখী একাডেমিক প্রোফাইল গড়ে তুলতে সহায়তা করে। একই সময়ে বিতর্ক ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডেও সক্রিয় ছিলেন তিনি। জাহাঙ্গীরনগর ইউনিভার্সিটি ডিবেট অর্গানাইজেশনে সহসাধারণ সম্পাদক এবং অর্থনীতি বিভাগের শিক্ষার্থীদের সংগঠনে শিক্ষা ও গবেষণা সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংস্কৃতিক জোটের কমিটিতেও সদস্য ছিলেন। ফলে তাঁর বিশ্ববিদ্যালয়জীবন একাডেমিক ফলাফল, গবেষণা, বিতর্ক ও অন্যান্য সহশিক্ষা কার্যক্রমের সমন্বয়ে এগিয়েছে। বিদেশে উচ্চশিক্ষার প্রস্তুতিতে সামিয়ার আরেকটি বড় অর্জন ছিল জিআরই ও আইইএলটিএসের ফল। জিআরইতে ৩৩১ স্কোর করেন তিনি, যার মধ্যে কোয়ান্টিটেটিভ অংশে ছিল পূর্ণ ১৭০। আইইএলটিএসে তাঁর স্কোর ৮.৫। জিআরইয়ের ফল পাওয়ার পর শিক্ষকেরা তাঁকে পিএইচডি পর্যায়ের প্রোগ্রামে আবেদন করতে উৎসাহ দেন। নিজের স্কোর অক্সফোর্ডের নির্ধারিত মানদণ্ডের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ দেখে তিনি আবেদন করার সিদ্ধান্ত নেন। অক্সফোর্ডে আবেদন করার প্রস্তুতিও ছিল তুলনামূলকভাবে দ্রুত। দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ডের ২০২৬ সালের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সামিয়া মাত্র দুই দিনে তাঁর স্টেটমেন্ট অব পারপাস তৈরি করেছিলেন। তিনি একসঙ্গে চারটি বিশ্ববিদ্যালয়ে আবেদন করেন এবং অক্সফোর্ডের পাশাপাশি ইয়েল, ওয়ারউইক ও ভ্যান্ডারবিল্ট থেকেও সুযোগ পান। শেষ পর্যন্ত তাত্ত্বিক অর্থনীতির প্রতি আগ্রহ এবং গবেষণার পরিবেশ বিবেচনায় অক্সফোর্ডকে বেছে নেন। অক্সফোর্ডের এমফিল ও ডিফিল প্রোগ্রামটি সাধারণ অর্থে শুধু একটি মাস্টার্স প্রোগ্রাম নয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, এটি একটি সমন্বিত গবেষণাভিত্তিক প্রোগ্রাম, যেখানে প্রথমে দুই বছরের এমফিল সম্পন্ন করতে হয়। এরপর সন্তোষজনক ফলাফল থাকলে শিক্ষার্থীরা পুনরায় আবেদন ছাড়াই তিন থেকে চার বছরের ডিফিল পর্যায়ে অগ্রসর হতে পারেন। অক্সফোর্ডের ডিফিল অন্যান্য অনেক বিশ্ববিদ্যালয়ের পিএইচডির সমতুল্য। পুরো প্রোগ্রামটি মূলত প্রায় পাঁচ বছরের সমন্বিত ডক্টরাল শিক্ষার পথ হিসেবে তৈরি। এই প্রোগ্রামেই সামিয়ার জন্য রয়েছে ক্ল্যারেনডন ফান্ড স্কলারশিপ। প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, পাঁচ বছরের জন্য তাঁর টিউশন ফি ও জীবনযাপনের খরচের অর্থায়ন নিশ্চিত হয়েছে। ২০২৫ সালের প্রতিবেদনে এই অর্থায়নের পরিমাণ বছরে প্রায় ৫১ হাজার ৮০০ পাউন্ড বলে উল্লেখ করা হয়েছিল। অক্সফোর্ডের ক্ল্যারেনডন স্কলার তালিকাতেও বাংলাদেশ থেকে সামিয়া ইসলামের নাম এমফিল ইন ইকোনমিকসের সঙ্গে রয়েছে। তবে সামিয়ার এই পথচলার পেছনে শুধু পরীক্ষার ভালো ফল বা একটি স্কলারশিপ নয়, ছিল নিজের সিদ্ধান্ত নেওয়ার সুযোগও। মধ্যবিত্ত পরিবারের সন্তান হিসেবে ছোটবেলায় কোচিং বা প্রাইভেটের ওপর নির্ভর না করে বাবার কাছেই পড়াশোনার ভিত্তি তৈরি করেছিলেন তিনি। বিশ্ববিদ্যালয় বদলানো থেকে শুরু করে উচ্চশিক্ষার বিষয় বেছে নেওয়া পর্যন্ত পরিবার তাঁর পছন্দকে গুরুত্ব দিয়েছে। দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ডকে দেওয়া বক্তব্যে সামিয়া পরিবারের সমর্থনকে তাঁর পথচলার গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে উল্লেখ করেছেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে আসার সিদ্ধান্ত, অর্থনীতিতে নিজের জায়গা তৈরি করা, স্নাতক ও স্নাতকোত্তরে ভালো ফল, গবেষণায় সম্পৃক্ততা, জিআরই ও আইইএলটিএসে সাফল্য এবং শেষ পর্যন্ত অক্সফোর্ডের সমন্বিত এমফিল-ডিফিল প্রোগ্রামে সুযোগ পাওয়া, সব মিলিয়ে সামিয়া ইসলাম আনিকার শিক্ষাজীবন একটি ধারাবাহিক পরিবর্তনের গল্প। এখন তাঁর সামনে অর্থনীতিতে উচ্চতর গবেষণা এবং একাডেমিয়ায় নিজের অবস্থান তৈরি করার নতুন অধ্যায়। সূত্র: প্রথম আলো
১৯৮১ সালে শিকাগোর সাউথ সাইডের এক মেধাবী তরুণী স্বপ্ন দেখেছিলেন প্রিন্সটন বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার। ভালো ফলাফল, মেধার স্বীকৃতি এবং সিনিয়র ক্লাসের কোষাধ্যক্ষ হিসেবে দায়িত্ব পালন করা সেই শিক্ষার্থী ছিলেন মিশেল রবিনসন। পরবর্তী সময়ে তিনিই বিশ্বজুড়ে পরিচিত হন মিশেল ওবামা নামে। তবে বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির বিষয়ে পরামর্শ নিতে গিয়ে এক শিক্ষকের কাছ থেকে এমন মন্তব্য শুনেছিলেন, যা তাঁর আত্মবিশ্বাস ভেঙে দিতে পারত। মিশেল তখন শিকাগোর হুইটনি এম. ইয়ং ম্যাগনেট উচ্চবিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী। তাঁর বড় ভাই ক্রেইগ রবিনসন তখন প্রিন্সটন বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ছিলেন। ভাইয়ের পথ অনুসরণ করে মিশেলও প্রিন্সটনে পড়ার স্বপ্ন দেখেন। মিশেল পরে জানিয়েছেন, পরিবারের কেউ তাঁকে বিশেষভাবে প্রিন্সটনে আবেদন করতে বলেননি। তবে ভাই সেখানে পড়ছেন, এটিই তাঁকে বিশ্বাস করতে সাহায্য করেছিল যে বিশ্ববিদ্যালয়টি তাঁর জন্যও সম্ভব। হাইস্কুলের এক পরামর্শদাতার সঙ্গে দেখা করে মিশেল যখন প্রিন্সটনে পড়ার ইচ্ছার কথা জানান, তখন তিনি উৎসাহের বদলে সংশয় শুনেছিলেন। মিশেলের স্মৃতিকথা অনুযায়ী, পরামর্শদাতা তাঁর প্রিন্সটনে পড়ার যোগ্যতা নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেছিলেন। এমন মন্তব্য একজন শিক্ষার্থীর আত্মবিশ্বাসে বড় ধাক্কা দিতে পারত। কিন্তু মিশেল সেই মন্তব্যকে নিজের স্বপ্নের পথে বাধা হতে দেননি। প্রিন্সটনে ভর্তি হওয়ার পথটিও তাঁর জন্য সহজ ছিল না। নিজের অভিজ্ঞতা থেকে মিশেল জানিয়েছেন, তাঁর স্কুলে শিক্ষার্থীর তুলনায় কলেজ পরামর্শদাতার সংখ্যা ছিল কম। কলেজে ভর্তির প্রস্তুতির জন্য ব্যক্তিগত সহায়তাও সবার জন্য সহজলভ্য ছিল না। পরিবারের আর্থিক সামর্থ্যও সীমিত ছিল। তবু তিনি নিজের লক্ষ্য থেকে সরে দাঁড়াননি এবং প্রিন্সটনে ভর্তির জন্য আবেদন করেন। শেষ পর্যন্ত ১৯৮১ সালে মিশেল রবিনসন প্রিন্সটন বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়ার সুযোগ পান। সেখানে তিনি সমাজবিজ্ঞান নিয়ে পড়াশোনা করেন এবং আফ্রিকান আমেরিকান শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন কার্যক্রমের সঙ্গে যুক্ত হন। চার বছরের পড়াশোনা শেষে ১৯৮৫ সালে তিনি প্রিন্সটন থেকে স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেন। প্রিন্সটনের পর তাঁর শিক্ষাজীবন আরও এগিয়ে যায়। মিশেল হার্ভার্ড আইন স্কুল থেকে আইন বিষয়ে ডিগ্রি অর্জন করেন। এরপর তিনি আইনজীবী হিসেবে কাজ করার পাশাপাশি বিভিন্ন জনকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ডে যুক্ত হন। তাঁর পেশাগত জীবন তাঁকে ধীরে ধীরে জাতীয় পর্যায়ের পরিচিতির দিকে নিয়ে যায়। ২০০৯ সালে তাঁর স্বামী বারাক ওবামা যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর মিশেল ওবামা দেশটির ফার্স্ট লেডি হন। তিনি যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে প্রথম আফ্রিকান আমেরিকান ফার্স্ট লেডি। হোয়াইট হাউসে থাকাকালে শিশুদের স্বাস্থ্য, শিক্ষা এবং তরুণদের বিভিন্ন বিষয়ে তিনি সক্রিয়ভাবে কাজ করেন। যে তরুণীকে একসময় প্রিন্সটনের জন্য যথেষ্ট যোগ্য কি না, তা নিয়ে প্রশ্নের মুখে পড়তে হয়েছিল, শেষ পর্যন্ত তিনিই সেই বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী হয়ে স্নাতক হন। তাঁর গল্পটি দেখায়, একজন শিক্ষার্থীর ভবিষ্যৎ সম্পর্কে অন্য কারও সন্দেহই শেষ কথা নয়। মিশেল ওবামার নিজের জীবনেই সেই সন্দেহকে অতিক্রম করে নিজের লক্ষ্যে পৌঁছানোর একটি উল্লেখযোগ্য উদাহরণ তৈরি হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের অন্তত ৫০০টি কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের ফেডারেল স্টুডেন্ট লোন পরিশোধে না থাকার হার ৪০ শতাংশ বা তার বেশি। নতুন এক বিশ্লেষণে এমন তথ্য উঠে এসেছে। এর মধ্যে কিছু প্রতিষ্ঠানে এই হার ৭০ থেকে ৮০ শতাংশ পর্যন্ত। যুক্তরাষ্ট্রের শিক্ষা বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, প্রতিষ্ঠানভিত্তিক ‘ননপেমেন্ট রেট’ বলতে এমন ঋণগ্রহীতাদের বোঝানো হচ্ছে, যাঁদের ফেডারেল শিক্ষাঋণ ৯০ দিনের বেশি সময় ধরে বকেয়া রয়েছে। এটি আনুষ্ঠানিক ‘ডিফল্ট রেট’-এর সঙ্গে এক নয়। এনপিআরের নতুন বিশ্লেষণ অনুযায়ী, সবচেয়ে বেশি ননপেমেন্ট হারের প্রতিষ্ঠানগুলোর বড় অংশই বেসরকারি ও মুনাফাভিত্তিক কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। দক্ষিণ ক্যারোলাইনার কনস্ট্রাকশন ট্রেনিং সেন্টার এবং টেক্সাসের লেজেন্ডস বারবার কলেজের মতো কিছু প্রতিষ্ঠানে শিক্ষাঋণ পরিশোধে না থাকার হার ৭০ থেকে ৮০ শতাংশের মধ্যে। লস অ্যাঞ্জেলেসের ডাইভারসিফায়েড ভোকেশনাল কলেজের ক্ষেত্রেও হারটি বেশ বেশি। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষে ফেডারেল ঋণ নেওয়া শিক্ষার্থীদের ৭৩ শতাংশের ঋণ পরিশোধ ৯০ দিনের বেশি সময় ধরে বকেয়া ছিল। ওই বছর শিক্ষার্থীদের নেওয়া প্রায় ৩৫ লাখ ডলারের ফেডারেল ঋণ প্রতিষ্ঠানটির মোট আয়ের প্রায় ৯০ শতাংশের সমান ছিল। প্রতিবেদন অনুযায়ী, ৪০ শতাংশ বা তার বেশি ননপেমেন্ট হারের ৫০০ প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ৪২৪টিই বেসরকারি মুনাফাভিত্তিক প্রতিষ্ঠান। তালিকায় সরকারি প্রতিষ্ঠান ছিল মাত্র ১৫টি এবং বেসরকারি অলাভজনক প্রতিষ্ঠান ৬১টি। অন্যদিকে, দেশজুড়ে সব প্রতিষ্ঠানের গড় ননপেমেন্ট হার ছিল প্রায় ১৫ শতাংশ। যুক্তরাষ্ট্রের শিক্ষা বিভাগের সর্বশেষ তথ্যেও শিক্ষাঋণ পরিশোধে সমস্যার ব্যাপকতা দেখা যাচ্ছে। মার্চ ২০২৬ পর্যন্ত প্রায় ২ হাজার প্রতিষ্ঠানে ননপেমেন্ট হার ২৫ শতাংশ বা তার বেশি ছিল। একই সময়ে প্রায় ৯০ লাখ ঋণগ্রহীতা মোট ২২০ বিলিয়ন ডলারের ফেডারেল শিক্ষাঋণ নিয়ে ডিফল্ট অবস্থায় ছিলেন। বিশ্লেষণে দেখা গেছে, উচ্চ ননপেমেন্ট হারের প্রতিষ্ঠানগুলোর বড় অংশই বারবার, হেয়ারস্টাইলিং, নির্মাণ ও স্বাস্থ্যসেবা সহায়তার মতো পেশাভিত্তিক প্রশিক্ষণ দেয়। এসব প্রতিষ্ঠানের অনেক শিক্ষার্থী তুলনামূলক কম আয়ের পরিবারের এবং পড়াশোনা শেষে অপেক্ষাকৃত কম বেতনের পেশায় প্রবেশ করেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। শিক্ষাঋণ নিয়ে কাজ করা বিশেষজ্ঞদের কেউ কেউ প্রশ্ন তুলেছেন, যেসব প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের বড় অংশ ঋণ পরিশোধে ব্যর্থ হচ্ছে, সেসব প্রতিষ্ঠানে ফেডারেল ঋণ অব্যাহত রাখার নীতি কতটা কার্যকর। তবে ননপেমেন্টের পেছনে শিক্ষার্থীদের আয়, ঋণ ব্যবস্থাপনা, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ধরনসহ একাধিক কারণ থাকতে পারে। এদিকে শিক্ষাঋণ পরিশোধের হার বাড়াতে যুক্তরাষ্ট্রের শিক্ষা বিভাগ প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপর আরও জবাবদিহি বাড়ানোর উদ্যোগ নিয়েছে। বিভাগটি প্রতিষ্ঠানগুলোকে বকেয়া বা ডিফল্টে থাকা সাবেক শিক্ষার্থীদের সঙ্গে যোগাযোগ করে ঋণ পরিশোধে সহায়তা করার পরামর্শ দিয়েছে। ২০২৬ সালের জুনে শিক্ষা বিভাগ নতুন একটি জবাবদিহি কাঠামোও চূড়ান্ত করেছে। এর আওতায় যেসব উচ্চশিক্ষা কর্মসূচির শিক্ষার্থীরা ধারাবাহিকভাবে পর্যাপ্ত আয় করতে পারছেন না, সেসব কর্মসূচি নির্দিষ্ট শর্ত পূরণ করতে ব্যর্থ হলে ফেডারেল ডাইরেক্ট লোন কর্মসূচিতে অংশ নেওয়ার যোগ্যতা হারাতে পারে।
যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে শিক্ষার্থী ঋণের পরিমাণ এক ট্রিলিয়ন ডলারেরও বেশি। এর মধ্যেও ক্যালিফোর্নিয়ার শিক্ষার্থীদের ঋণের বোঝা তুলনামূলকভাবে কম। নতুন এক বিশ্লেষণে দেখা গেছে, শিক্ষার্থী ঋণের দিক থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ৫০টি রাজ্য ও ওয়াশিংটন ডিসির মধ্যে ক্যালিফোর্নিয়ার অবস্থান ৪৯তম, অর্থাৎ মাত্র একটি রাজ্যের ঋণের বোঝা ক্যালিফোর্নিয়ার চেয়ে কম। ওয়ালেটহাবের করা এই বিশ্লেষণে বিভিন্ন রাজ্যের শিক্ষার্থী ঋণের পরিস্থিতি তুলনা করা হয়েছে। এতে দেখা গেছে, ক্যালিফোর্নিয়ার চেয়ে কম শিক্ষার্থী ঋণের বোঝা রয়েছে শুধু হাওয়াই ও উটাহতে। অথচ যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম ব্যয়বহুল রাজ্য হিসেবে পরিচিত ক্যালিফোর্নিয়া। বিশ্লেষণ অনুযায়ী, ক্যালিফোর্নিয়ায় শিক্ষার্থীদের ঋণ কম থাকার অন্যতম কারণ হলো সরকারি কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার প্রবণতা বেশি। রাজ্যের কলেজপড়ুয়া শিক্ষার্থীদের প্রায় ৮৩ শতাংশ পাবলিক কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা করার জন্য বেছে নেয়। ক্যালিফোর্নিয়ায় ইউনিভার্সিটি অব ক্যালিফোর্নিয়া বা ইউসি, ক্যালিফোর্নিয়া স্টেট ইউনিভার্সিটি বা সিএসইউ এবং ক্যালিফোর্নিয়া কমিউনিটি কলেজেস বা সিসিসি—এই তিনটি বড় সরকারি শিক্ষা ব্যবস্থার অধীনে প্রায় ১৫০টি কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয় রয়েছে। এসব প্রতিষ্ঠানে রাজ্যের বাসিন্দাদের জন্য তুলনামূলকভাবে কম টিউশন ফি থাকায় বড় অঙ্কের শিক্ষার্থী ঋণ নেওয়ার প্রয়োজনও কম হয়। ক্যালিফোর্নিয়ার সরকারি নীতিরও এতে ভূমিকা রয়েছে। পাবলিক পলিসি ইনস্টিটিউট অব ক্যালিফোর্নিয়ার তথ্য অনুযায়ী, দেশের অন্যান্য রাজ্যের শিক্ষার্থীদের তুলনায় ক্যালিফোর্নিয়ার নতুন কলেজ শিক্ষার্থীদের ঋণ নেওয়ার সম্ভাবনা ৪৪ শতাংশ কম। রাজ্যের ইউসি ও সিএসইউ ব্যবস্থায় নতুন শিক্ষার্থীদের ৪০ শতাংশেরও কম শিক্ষার্থী ঋণ নেয়। বেসরকারি অলাভজনক কলেজে এই হার প্রায় ৫০ শতাংশ এবং বেসরকারি লাভজনক কলেজে প্রায় ৭০ শতাংশ। এছাড়া ক্যালিফোর্নিয়ার ‘ক্যাল গ্র্যান্ট’ কর্মসূচির মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা এমন আর্থিক সহায়তা পেতে পারে, যা পরে ফেরত দিতে হয় না। শিক্ষার্থী ঋণের ক্ষেত্রে পশ্চিমাঞ্চলের আরও কয়েকটি রাজ্য তুলনামূলকভাবে ভালো অবস্থানে রয়েছে। ওয়াশিংটনের অবস্থান ৪৮তম এবং ওরেগনের ৪১তম। অন্যদিকে দেশটির পূর্বাঞ্চলের দিকে অনেক রাজ্যে ঋণের বোঝা বেশি দেখা গেছে। বিশ্লেষণে মিসিসিপিকে শিক্ষার্থী ঋণের দিক থেকে সবচেয়ে বেশি বোঝা বহনকারী রাজ্য হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। সেখানে শিক্ষার্থী ঋণের পরিমাণ রাজ্যের মধ্যম আয়ের ৫৪ শতাংশেরও বেশি। একই সঙ্গে রাজ্যটিতে শিক্ষার্থী ঋণ পরিশোধে খেলাপির হারও সবচেয়ে বেশি এবং শিক্ষার্থীদের জন্য চাকরির সুযোগের দিক থেকেও এটি নিচের সারির রাজ্যগুলোর একটি। ওয়ালেটহাব তাদের র্যাংকিং তৈরিতে কয়েকটি বিষয় বিবেচনা করেছে। এর মধ্যে রয়েছে শিক্ষার্থীদের গড় ঋণের পরিমাণ, ২৫ থেকে ৩৪ বছর বয়সীদের বেকারত্বের হার এবং যেসব ঋণগ্রহীতার ঋণ পরিশোধ বকেয়া রয়েছে তাদের অনুপাত। বিশ্লেষণে ইউএস সেন্সাস ব্যুরো, ব্যুরো অব লেবার স্ট্যাটিসটিকস, ইনস্টিটিউট ফর কলেজ অ্যাকসেস অ্যান্ড সাকসেস এবং ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংক অব নিউইয়র্কসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের তথ্য ব্যবহার করা হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের কয়েকটি বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার্থী ও তাদের পরিবার এখন পেপাল ও ভেনমো ব্যবহার করে সরাসরি টিউশন ফি ও অন্যান্য শিক্ষাবিষয়ক খরচ পরিশোধ করতে পারছেন। নতুন এই পেমেন্ট সুবিধা ইতোমধ্যে পাঁচটি বিশ্ববিদ্যালয়ে চালু হয়েছে এবং চলতি বছর আরও প্রতিষ্ঠান এতে যুক্ত হতে পারে। প্রথম দিকের প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে রয়েছে বেলামাইন ইউনিভার্সিটি, বাটলার ইউনিভার্সিটি, কানসাস স্টেট ইউনিভার্সিটি, মিশিগান স্টেট ইউনিভার্সিটি এবং টেক্সাস টেক ইউনিভার্সিটি। শিক্ষার্থীরা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রচলিত অনলাইন পেমেন্ট পোর্টাল থেকেই পেপাল বা ভেনমোকে পেমেন্ট পদ্ধতি হিসেবে বেছে নিতে পারবেন। এই সুবিধা চালু করতে পেপাল শিক্ষা খাতের পেমেন্ট প্ল্যাটফর্ম ইলুমিয়া, নেলনেট ক্যাম্পাস কমার্স ও টাচনেটের সঙ্গে নতুন ইন্টিগ্রেশন করেছে। এর ফলে শিক্ষার্থী বা পরিবারের সদস্যরা বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব পেমেন্ট সিস্টেমের ভেতর থেকেই পেপাল বা ভেনমো ব্যবহার করে অর্থ পরিশোধ করতে পারবেন। পেমেন্টের অর্থ ব্যাংক অ্যাকাউন্ট, ক্রেডিট কার্ড অথবা পেপাল ও ভেনমো অ্যাকাউন্টে থাকা ব্যালেন্স থেকে দেওয়া যাবে। তবে এই সুবিধা ব্যবহার করলেই যে অতিরিক্ত খরচ থাকবে না, তা নয়। বিশ্ববিদ্যালয়ভেদে সার্ভিস বা প্রসেসিং ফি নেওয়া হতে পারে। যেমন, মিশিগান স্টেট ইউনিভার্সিটিতে পেপাল বা ভেনমো ব্যবহার করে টিউশন পরিশোধ করলে ২ দশমিক ৭৫ শতাংশ সার্ভিস ফি প্রযোজ্য হবে। অন্য বিশ্ববিদ্যালয়ে ফি ভিন্ন হতে পারে। কানসাস স্টেট ইউনিভার্সিটিও ২০ ডলারের বেশি পেপাল ও ভেনমো লেনদেনে কমপক্ষে ৩ ডলার সার্ভিস ফি নেওয়ার কথা জানিয়েছে। তাই বড় অঙ্কের টিউশন পরিশোধের আগে সংশ্লিষ্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের ফি কাঠামো দেখে নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। পেপাল ও ভেনমোর পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, এসব লেনদেনে এনক্রিপশন ও জালিয়াতি শনাক্তকরণ ব্যবস্থাসহ তাদের নিয়মিত নিরাপত্তা ব্যবস্থা কার্যকর থাকবে। তবে ভোক্তা অধিকার বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন, নন-ব্যাংক পেমেন্ট অ্যাপে রাখা অর্থ সবসময় প্রচলিত ব্যাংক অ্যাকাউন্টের মতো ফেডারেল ডিপোজিট ইন্স্যুরেন্সের আওতায় থাকে না। পেপালের কিছু নির্দিষ্ট ব্যালেন্স প্রোগ্রাম ব্যাংকের মাধ্যমে এফডিআইসি পাস-থ্রু ইন্স্যুরেন্সের আওতায় পড়তে পারে। তবে সব পেপাল বা ভেনমো ব্যালেন্স এই সুরক্ষা পায় না। পেপাল নিজেও জানিয়েছে, এফডিআইসি পাস-থ্রু ইন্স্যুরেন্স সংশ্লিষ্ট ব্যাংকের ব্যর্থতার ক্ষেত্রে সুরক্ষা দেয়, পেপালের ব্যর্থতার ক্ষেত্রে নয়। নতুন এই সুবিধার মাধ্যমে মূলত শিক্ষার্থী ও পরিবারের জন্য টিউশন পরিশোধের পদ্ধতি আরও বৈচিত্র্যময় হচ্ছে। তবে টিউশনের মতো বড় অঙ্কের অর্থ পাঠানোর ক্ষেত্রে অতিরিক্ত ফি, পেমেন্টের উৎস এবং অর্থের সুরক্ষা সম্পর্কে আগে থেকেই পরিষ্কার ধারণা নেওয়া গুরুত্বপূর্ণ।
এইচএসসি বা সমমানের পরীক্ষা শেষ করে যুক্তরাষ্ট্রে পড়তে যেতে চান, কিন্তু এখনো আইইএলটিএস বা টোফেল স্কোর নেই? সে ক্ষেত্রে সম্ভাবনার দরজা পুরোপুরি বন্ধ নয়। যুক্তরাষ্ট্রের কয়েকটি বিশ্ববিদ্যালয় আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের জন্য নিবিড় ইংরেজি ভাষা কোর্স এবং শর্তসাপেক্ষ ভর্তির মতো বিকল্প ব্যবস্থা রেখেছে। তবে এর অর্থ ইংরেজি দক্ষতা ছাড়াই সরাসরি ডিগ্রি প্রোগ্রামে ভর্তি হওয়া নয়। বরং নির্দিষ্ট ইংরেজি কোর্স, নিজস্ব ভাষা যাচাই পরীক্ষা বা শর্তসাপেক্ষ ভর্তির মাধ্যমে পরে ডিগ্রি প্রোগ্রামে যাওয়ার সুযোগ তৈরি হয়। বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য এমন পাঁচটি সম্ভাব্য বিশ্ববিদ্যালয় হলো জর্জিয়ার কেনেসো স্টেট ইউনিভার্সিটি, ফ্লোরিডার ইউনিভার্সিটি অব সেন্ট্রাল ফ্লোরিডা, টেক্সাসের ইউনিভার্সিটি অব নর্থ টেক্সাস, পেনসিলভানিয়ার টেম্পল ইউনিভার্সিটি এবং আলাবামার ইউনিভার্সিটি অব আলাবামা। তবে প্রতিটি প্রতিষ্ঠানের নিয়ম, যোগ্যতা ও প্রোগ্রামের শর্ত আলাদা হওয়ায় আবেদন করার আগে সর্বশেষ তথ্য যাচাই করা জরুরি। কেনেসো স্টেট ইউনিভার্সিটি, জর্জিয়া জর্জিয়ার কেনেসো স্টেট ইউনিভার্সিটি আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের জন্য নিবিড় ইংরেজি ভাষা শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনা করে। বিশ্ববিদ্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, পূর্ণাঙ্গ ডিগ্রি প্রোগ্রামে ভর্তি হতে আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের ইংরেজি দক্ষতা প্রমাণ করতে হয়। তবে শিক্ষার্থীরা এই নিবিড় ইংরেজি ভাষা শিক্ষা কার্যক্রম সম্পন্ন করে সেই শর্ত পূরণের পথ নিতে পারেন। বিদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য এই কার্যক্রমে এফ-১ শিক্ষার্থী হিসেবে পড়াশোনার সুযোগ এবং আই-২০ পাওয়ার ব্যবস্থাও রয়েছে। একই সময়ে স্নাতক পর্যায়ের ডিগ্রি প্রোগ্রামে যেতে ইচ্ছুক শিক্ষার্থীরা ইংরেজি ভাষা শিক্ষা কার্যক্রমে থাকা অবস্থায় শর্তসাপেক্ষ ভর্তির জন্য আবেদন করতে পারেন। নির্ধারিত উচ্চতর ইংরেজি স্তর সফলভাবে শেষ করার পর শর্তসাপেক্ষ ভর্তি পূর্ণাঙ্গ ভর্তিতে রূপান্তরের সুযোগ তৈরি হয়। অর্থাৎ আইইএলটিএস বা টোফেল স্কোর না থাকলে সরাসরি ডিগ্রি ক্লাস শুরু করার পরিবর্তে ইংরেজি ভাষা শিক্ষা কার্যক্রমের মাধ্যমে এগোনোর সুযোগ রয়েছে। ইউনিভার্সিটি অব সেন্ট্রাল ফ্লোরিডা, ফ্লোরিডা ফ্লোরিডার অরল্যান্ডোতে অবস্থিত ইউনিভার্সিটি অব সেন্ট্রাল ফ্লোরিডার নিবিড় ইংরেজি ভাষা শিক্ষা কার্যক্রম আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের জন্য আরেকটি সম্ভাব্য পথ। বিশ্ববিদ্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, উচ্চমাধ্যমিক পর্যায়ের পড়াশোনা শেষ করা শিক্ষার্থীরা এই কার্যক্রমে আবেদন করতে পারেন। এখানে শিক্ষার্থীর ইংরেজির বর্তমান দক্ষতা নির্ধারণের জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব ইংরেজি দক্ষতা যাচাই পরীক্ষা নেওয়া হয়। ফলাফলের ভিত্তিতে শিক্ষার্থীকে উপযুক্ত স্তরে রাখা হয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, নিবিড় ইংরেজি ভাষা শিক্ষা কার্যক্রমের অষ্টম স্তর সফলভাবে শেষ করার পর স্নাতক বা স্নাতকোত্তর ডিগ্রি প্রোগ্রামে যাওয়ার ক্ষেত্রে আইইএলটিএস, টোফেল বা ডুয়োলিঙ্গো স্কোরের প্রয়োজন থাকে না। ফলে এইচএসসি বা সমমানের স্কুল শিক্ষা শেষ করা কোনো শিক্ষার্থীর কাছে আইইএলটিএস বা টোফেল স্কোর প্রস্তুত না থাকলেও ইংরেজি ভাষা শিক্ষা কার্যক্রমের মাধ্যমে পরবর্তী ধাপে যাওয়ার একটি পথ রয়েছে। ইউনিভার্সিটি অব নর্থ টেক্সাস, টেক্সাস টেক্সাসের ডেন্টনে অবস্থিত ইউনিভার্সিটি অব নর্থ টেক্সাসের নিবিড় ইংরেজি ভাষা শিক্ষা ইনস্টিটিউট আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের একাডেমিক ইংরেজি প্রস্তুতির সুযোগ দেয়। এখানে নতুন শিক্ষার্থীদের নিজস্ব ভাষা যাচাই পরীক্ষা দিতে হয়। এই পরীক্ষায় শ্রবণ, পড়া, ব্যাকরণ ও লিখিত ইংরেজি দক্ষতা যাচাই করা হয়। পরীক্ষার ফলাফলের ভিত্তিতে শিক্ষার্থীকে উপযুক্ত স্তরে রাখা হয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, এই ইংরেজি ভাষা শিক্ষা ইনস্টিটিউটের ষষ্ঠ স্তর সফলভাবে শেষ করলে বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি ভাষা দক্ষতার শর্ত পূরণ করার সুযোগ রয়েছে। শর্তসাপেক্ষে স্নাতক পর্যায়ে ভর্তি হওয়া শিক্ষার্থীরা নির্দিষ্ট শর্ত পূরণ করে ইংরেজি কোর্সের পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয়ের কিছু কোর্সেও পড়তে পারেন। অর্থাৎ আইইএলটিএস বা টোফেল স্কোর না থাকলেও বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব ইংরেজি মূল্যায়ন ও নিবিড় ইংরেজি ভাষা শিক্ষা কার্যক্রমের মাধ্যমে ডিগ্রি প্রোগ্রামে যাওয়ার বিকল্প ব্যবস্থা রয়েছে। টেম্পল ইউনিভার্সিটি, পেনসিলভানিয়া পেনসিলভানিয়ার ফিলাডেলফিয়ায় অবস্থিত টেম্পল ইউনিভার্সিটিতেও আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের জন্য নিবিড় ইংরেজি শিক্ষা এবং শর্তসাপেক্ষ ভর্তির ব্যবস্থা রয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের স্নাতক ভর্তি সংক্রান্ত তথ্য অনুযায়ী, একাডেমিকভাবে যোগ্য কোনো শিক্ষার্থী যদি টোফেল বা আইইএলটিএস স্কোর জমা না দেন, তাহলে তাকে অস্থায়ী বা শর্তসাপেক্ষ ভর্তির মাধ্যমে নিবিড় ইংরেজি ভাষা শিক্ষা কার্যক্রমে যাওয়ার সুযোগ দেওয়া হতে পারে। প্রয়োজনীয় ইংরেজি দক্ষতা অর্জনের পর ডিগ্রি প্রোগ্রামে যাওয়ার পথ তৈরি হয়। টেম্পলের আমেরিকান ভাষা ও সংস্কৃতি কেন্দ্রের বিশেষ ইংরেজি প্রস্তুতি কার্যক্রমও এমন শিক্ষার্থীদের জন্য একটি পথ, যাদের ইংরেজির স্কোর সরাসরি ডিগ্রি প্রোগ্রামে ভর্তির জন্য যথেষ্ট নয়। সেখানে শিক্ষার্থীরা পূর্ণকালীন ইংরেজি ক্লাস, একাডেমিক সহায়তা এবং বিশ্ববিদ্যালয়ভিত্তিক প্রস্তুতি নিতে পারেন। তবে টেম্পল ইউনিভার্সিটির সরাসরি স্নাতক ভর্তির জন্য নির্দিষ্ট ইংরেজি দক্ষতার স্কোর রয়েছে। তাই “আইইএলটিএস ছাড়া ভর্তি” বলতে এখানে সরাসরি ডিগ্রি ক্লাসে ঢুকে যাওয়া নয়; বরং অস্থায়ী বা শর্তসাপেক্ষ ভর্তি এবং ইংরেজি ভাষা শিক্ষা কার্যক্রমের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় শর্ত পূরণ করার সুযোগকে বোঝায়। ইউনিভার্সিটি অব আলাবামা, আলাবামা আলাবামার ইউনিভার্সিটি অব আলাবামা আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের জন্য শর্তসাপেক্ষ ভর্তির ব্যবস্থা রেখেছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, যেসব শিক্ষার্থী একাডেমিক ভর্তির শর্ত পূরণ করেন কিন্তু ইংরেজি ভাষা দক্ষতার নির্ধারিত শর্ত পূরণ করেন না, তারা শর্তসাপেক্ষ ভর্তির জন্য আবেদন করতে পারেন। এই ব্যবস্থায় আবেদনের সময় ইংরেজি ভাষা দক্ষতার প্রমাণ জমা দেওয়া বাধ্যতামূলক নয়। শর্তসাপেক্ষে ভর্তি হওয়া শিক্ষার্থীরা প্রথমে বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি ভাষা ইনস্টিটিউটে পড়াশোনা করেন। প্রয়োজনীয় ইংরেজি দক্ষতা অর্জনের পর তারা ডিগ্রি প্রোগ্রামে যেতে পারেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ইংরেজি ভাষা ইনস্টিটিউটের ছয়টি স্তর রয়েছে। শিক্ষার্থীর শুরুতে থাকা ইংরেজি দক্ষতা এবং শেখার অগ্রগতির ওপর নির্ভর করে প্রোগ্রাম শেষ করতে কত সময় লাগবে তা নির্ধারিত হয়। স্নাতক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের জন্য ষষ্ঠ স্তর সম্পন্ন করে নির্দিষ্ট ফলাফল অর্জন করাও ইংরেজি ভাষা দক্ষতার শর্ত পূরণের একটি স্বীকৃত পথ। তবে শর্তসাপেক্ষ ভর্তি পেতে শুধু ইংরেজি ভাষার শর্ত পূরণ করলেই হবে না। একাডেমিক ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় যোগ্যতাও পূরণ করতে হবে। আইইএলটিএস বা টোফেল একেবারেই লাগবে না? এখানেই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়টি বুঝতে হবে। “আইইএলটিএস বা টোফেল ছাড়াই” কথাটির অর্থ ইংরেজি দক্ষতা ছাড়াই যুক্তরাষ্ট্রে পড়তে যাওয়া নয়। বিশ্ববিদ্যালয়ভেদে শিক্ষার্থীর ইংরেজি দক্ষতা যাচাইয়ের জন্য নিজস্ব ভাষা যাচাই পরীক্ষা, দক্ষতা পরীক্ষা বা ইংরেজি ভাষা শিক্ষা কার্যক্রম ব্যবহার করা হতে পারে। আবার কোনো কোনো বিশ্ববিদ্যালয়ে শর্তসাপেক্ষ ভর্তি নিয়ে প্রথমে নিবিড় ইংরেজি ভাষা শিক্ষা কার্যক্রম শেষ করতে হয়। অর্থাৎ আইইএলটিএস বা টোফেল স্কোর না থাকলেও বিকল্প পথে ইংরেজি ভাষার প্রয়োজনীয় শর্ত পূরণ করার সুযোগ থাকতে পারে। এ ছাড়া কোনো শিক্ষার্থীর আইইএলটিএস বা টোফেল স্কোর থাকলে সেটি অনেক ক্ষেত্রে সরাসরি ভর্তি বা ভাষার স্তর নির্ধারণের কাজে ব্যবহার করা যায়। তাই পরীক্ষা বাধ্যতামূলক নয় বলে আইইএলটিএস বা টোফেল সব পরিস্থিতিতে অপ্রয়োজনীয়, এমনটি ধরে নেওয়া ঠিক হবে না। এফ-১ ভিসা ও আই-২০-এর বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ কোনো বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি ভাষা শিক্ষা কার্যক্রমে ভর্তি হওয়া বা আই-২০ পাওয়া মানেই যুক্তরাষ্ট্রের শিক্ষার্থী ভিসা নিশ্চিত নয়। এফ-১ শিক্ষার্থীদের ক্ষেত্রে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আই-২০ পাওয়ার পর সেভিস প্রক্রিয়া, ভিসা আবেদন এবং সাক্ষাৎকারের ধাপ রয়েছে। কেনেসো স্টেট ইউনিভার্সিটির তথ্য অনুযায়ী, তাদের নিবিড় ইংরেজি ভাষা শিক্ষা কার্যক্রম এফ-১ শিক্ষার্থীদের জন্য আই-২০ দেওয়ার ব্যবস্থা রাখে। তবে আই-২০ পাওয়ার পরও শিক্ষার্থীকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যেতে হয়। ভিসা সাক্ষাৎকারে শিক্ষার্থীর পড়াশোনার উদ্দেশ্য, নির্বাচিত প্রোগ্রাম, শিক্ষার খরচ বহনের সক্ষমতা এবং যুক্তরাষ্ট্রে যাওয়ার পরিকল্পনা নিয়ে প্রশ্ন করা হতে পারে। তাই আইইএলটিএস বা টোফেল না থাকলেও ইংরেজিতে নিজের পড়াশোনার পরিকল্পনা পরিষ্কারভাবে ব্যাখ্যা করার মতো প্রস্তুতি থাকা গুরুত্বপূর্ণ। খরচ ও একাডেমিক যোগ্যতাও দেখতে হবে আইইএলটিএস বা টোফেল না থাকার কারণে শুধু ইংরেজি ভাষা শিক্ষা কার্যক্রমে ভর্তি হলেই যুক্তরাষ্ট্রে পড়াশোনা নিশ্চিত হয়ে যায় না। বিশ্ববিদ্যালয়ভেদে একাডেমিক যোগ্যতা, একাডেমিক সনদ ও নম্বরপত্র, আর্থিক সক্ষমতা, পাসপোর্ট এবং অন্যান্য কাগজপত্রের শর্ত থাকতে পারে। এ ছাড়া নিবিড় ইংরেজি ভাষা শিক্ষা কার্যক্রমের জন্য আলাদা শিক্ষার ফি ও অন্যান্য খরচ থাকতে পারে। শর্তসাপেক্ষে ভর্তি হওয়া শিক্ষার্থীকে ডিগ্রি প্রোগ্রামে যাওয়ার আগে কয়েক মাস বা তারও বেশি সময় ইংরেজি শেখার জন্য অতিরিক্ত অর্থ ও সময় ব্যয় করতে হতে পারে। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো, প্রতিটি বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়ম আলাদা। ইউনিভার্সিটি অব সেন্ট্রাল ফ্লোরিডার অষ্টম স্তর, ইউনিভার্সিটি অব নর্থ টেক্সাসের ষষ্ঠ স্তর, ইউনিভার্সিটি অব আলাবামার ইংরেজি ভাষা ইনস্টিটিউট এবং কেনেসো স্টেট ইউনিভার্সিটির নিবিড় ইংরেজি ভাষা শিক্ষা কার্যক্রমের শর্ত এক নয়। টেম্পল ইউনিভার্সিটিতেও অস্থায়ী ভর্তি ও ইংরেজি প্রস্তুতি কার্যক্রমের আলাদা নিয়ম রয়েছে। তাই এইচএসসি বা সমমানের পরীক্ষা শেষ করে আইইএলটিএস বা টোফেল স্কোর না থাকলেও যুক্তরাষ্ট্রে পড়াশোনার পরিকল্পনা বাদ দেওয়ার প্রয়োজন নেই। কিছু বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি ভাষা শিক্ষা কার্যক্রম ও শর্তসাপেক্ষ ভর্তি আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের জন্য বিকল্প পথ তৈরি করে। তবে এগুলোকে আইইএলটিএস বা টোফেলের “বিকল্প পরীক্ষা” হিসেবে নয়, বরং ইংরেজি ভাষার প্রয়োজনীয় শর্ত পূরণের বিকল্প ভর্তি-পথ হিসেবে দেখা উচিত। আবেদন করার আগে সংশ্লিষ্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের সর্বশেষ আন্তর্জাতিক ভর্তি নীতি, ইংরেজি ভাষা শিক্ষা কার্যক্রম, শিক্ষার ফি, আর্থিক যোগ্যতা এবং এফ-১ ভিসাসংক্রান্ত নির্দেশনা অবশ্যই যাচাই করা উচিত। ভর্তি ও ইংরেজি ভাষার শর্ত সময়ের সঙ্গে পরিবর্তিত হতে পারে।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের উচ্চশিক্ষা সংস্কার উদ্যোগকে ঘিরে কানেকটিকাটের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে নতুন করে আলোচনা ও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। মার্কিন শিক্ষা সচিব লিন্ডা ম্যাকমাহন গত ৩ আগস্ট দেশটির বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর প্রতি একাধিক নীতিগত পরিবর্তনের আহ্বান জানান। এর পরিপ্রেক্ষিতে ইয়েল বিশ্ববিদ্যালয়, ইউনিভার্সিটি অব কানেকটিকাট এবং কানেকটিকাটের সরকারি কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয় ব্যবস্থা প্রস্তাবগুলো পর্যালোচনা করছে। ফেডারেল সরকারের আহ্বানে মেধাভিত্তিক ভর্তি, মতাদর্শগত বৈচিত্র্য, শিক্ষার ব্যয় কমানো এবং ক্যাম্পাসে বাধাদানকারী বিক্ষোভের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার মতো বিষয় অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত কানেকটিকাটের সংশ্লিষ্ট বিশ্ববিদ্যালয়গুলো এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত বা প্রতিশ্রুতি দেয়নি। ইয়েল বিশ্ববিদ্যালয় এ বিষয়ে নিজেদের সম্প্রদায়ের সদস্যদের কাছ থেকে মতামত নেওয়ার সুযোগ দিয়েছে। একই সময়ে বিশ্ববিদ্যালয়টি ভর্তি প্রক্রিয়া নিয়েও ফেডারেল তদন্তের মুখোমুখি রয়েছে। ফলে নতুন ফেডারেল আহ্বানটি ইয়েলের জন্য বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। প্রস্তাবিত পরিবর্তনগুলো নিয়ে কানেকটিকাটের কিছু আইনপ্রণেতা ও শিক্ষক সংগঠন উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। তাদের আশঙ্কা, ভবিষ্যতে ফেডারেল অর্থায়নের সঙ্গে এসব নীতির বাস্তবায়নকে যুক্ত করা হতে পারে। যদিও ৩ আগস্টের চিঠিতে সরাসরি অর্থায়ন বন্ধের হুমকি দেওয়া হয়নি। এর আগে ইয়েলের শিক্ষক সমাজের একটি জরিপেও ফেডারেল নীতির প্রভাবে একাডেমিক স্বাধীনতা নিয়ে উদ্বেগের কথা উঠে এসেছে। ২০২৬ সালের মে মাসে প্রকাশিত ওই জরিপে প্রায় ৬৮ শতাংশ ইয়েল শিক্ষক জানিয়েছেন, ২০২৫ সালের জানুয়ারির পর তাদের একাডেমিক স্বাধীনতা কমেছে বলে তারা মনে করেন। ট্রাম্প প্রশাসনের নতুন উচ্চশিক্ষা নীতির আহ্বান যুক্তরাষ্ট্রের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর ভর্তি ব্যবস্থা, শিক্ষার ব্যয়, ক্যাম্পাসের মতপ্রকাশের পরিবেশ এবং একাডেমিক স্বাধীনতা নিয়ে নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। কানেকটিকাটের বিশ্ববিদ্যালয়গুলো এখন এ বিষয়ে কী অবস্থান নেয়, সেদিকে নজর রয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম শীর্ষ বিশ্ববিদ্যালয় ইউনিভার্সিটি অব ক্যালিফোর্নিয়া, বার্কলেতে ভর্তি হওয়া কিছু শিক্ষার্থীকে নতুন করে ভগ্নাংশ ও সূচকের মতো মৌলিক গণিত শেখাতে হচ্ছে। বিশ্ববিদ্যালয়টির গণিত বিভাগের অধ্যাপক আলেকজান্ডার পলিনের ভাষ্য অনুযায়ী, অনেক শিক্ষার্থী হাইস্কুলে প্রি ক্যালকুলাস বা ক্যালকুলাস শেষ করে ভালো ফল নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ে এলেও কলেজ পর্যায়ের গণিতের জন্য প্রয়োজনীয় ভিত্তি তাদের নেই। বিষয়টি নতুন করে আলোচনায় এসেছে ক্যালিফোর্নিয়ার বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে শিক্ষার্থীদের গণিতের প্রস্তুতি নিয়ে চলমান বিতর্কের মধ্যে। নিউইয়র্ক পোস্টের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বার্কলের অধ্যাপকেরা এমন শিক্ষার্থীদের পাচ্ছেন, যাদের কলেজ পর্যায়ের ক্যালকুলাস শুরু করার আগে ভগ্নাংশ ও সূচকের মতো স্কুল পর্যায়ের বিষয়ও ঝালিয়ে নিতে হচ্ছে। বার্কলের নিজস্ব তথ্যও সমস্যাটির একটি স্পষ্ট চিত্র তুলে ধরে। ২০১৮ থেকে ২০২০ সালের মধ্যে ম্যাথ ১এ বা প্রথম ক্যালকুলাস কোর্স শুরু করা শিক্ষার্থীদের অভ্যন্তরীণ মূল্যায়নে প্রায় অর্ধেককে কলেজ পর্যায়ের ক্যালকুলাসের জন্য প্রস্তুত নয় বলে চিহ্নিত করা হয়েছিল। তাদের অধিকাংশ অবশ্য প্রি ক্যালকুলাস বা কলেজ অ্যালজেব্রার পর্যায়ে প্রস্তুত ছিল। তবে কিছু শিক্ষার্থীর ঘাটতি আরও মৌলিক জায়গায় ছিল। বার্কলে জানিয়েছে, তাদের মধ্যে এমন শিক্ষার্থীও ছিলেন যাদের ভগ্নাংশ ও সূচকের নিয়ম নতুন করে ঝালিয়ে নেওয়ার প্রয়োজন হয়েছে। অধ্যাপক আলেকজান্ডার পলিনের মতে, সমস্যাটি শুধু শিক্ষার্থীদের ব্যক্তিগত ব্যর্থতা হিসেবে দেখলে পুরো চিত্র বোঝা যাবে না। অনেক শিক্ষার্থী হাইস্কুলে প্রি ক্যালকুলাস বা ক্যালকুলাস কোর্স শেষ করলেও বাস্তবে সেই বিষয়গুলোতে কলেজ পর্যায়ের পড়াশোনা চালানোর মতো দক্ষতা অর্জন করেননি। এর ফল অনেক সময় প্রথম বিশ্ববিদ্যালয় পরীক্ষাতেই সামনে আসে। শিক্ষার্থীরা হাইস্কুলে ভালো গ্রেড নিয়ে বার্কলের মতো প্রতিযোগিতামূলক বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হচ্ছেন, কিন্তু কলেজের প্রথম গণিত পরীক্ষায় গিয়ে বুঝতে পারছেন তাদের ভিত্তিতে বড় ঘাটতি রয়েছে। সমস্যা মোকাবিলায় বার্কলে কয়েক বছর ধরেই বিশেষ উদ্যোগ নিয়েছে। ২০২০ সালে পলিন এবং তৎকালীন লেকচারার কেলি তালাস্কা নতুন শিক্ষার্থীদের জন্য অনলাইন প্রি ক্যালকুলাস প্রস্তুতি কোর্স চালু করেন। বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রথম বর্ষ শুরু করার আগেই গণিতের দুর্বল জায়গাগুলো ঠিক করার সুযোগ দেওয়াই ছিল এর উদ্দেশ্য। শুরুতেই প্রায় দুই হাজার শিক্ষার্থী এতে নাম লেখান। পরবর্তী সময়ে উদ্যোগটি আরও বিস্তৃত হয়ে ‘সলিড ফাউন্ডেশনস প্রোগ্রাম’-এ রূপ নেয়। বর্তমানে বিশ্ববিদ্যালয়টি ‘ফাউন্ডেশনস অব লোয়ার ডিভিশন ম্যাথমেটিকস’ নামে একটি কোর্সও চালাচ্ছে। এর লক্ষ্য বিভিন্ন ধরনের গণিতের প্রস্তুতি নিয়ে বার্কলেতে আসা শিক্ষার্থীদের বিশ্ববিদ্যালয়ের নিচের স্তরের গণিত কোর্সের জন্য প্রয়োজনীয় মানে নিয়ে আসা। বার্কলের গণিত বিভাগ শিক্ষার্থীদের জন্য একটি ডায়াগনস্টিক টেস্টও রেখেছে। এর মাধ্যমে প্রথম গণিত কোর্স নেওয়ার আগে একজন শিক্ষার্থী নিজের প্রস্তুতির অবস্থা যাচাই করতে পারেন এবং কোন পর্যায় থেকে শুরু করা উচিত সে সম্পর্কে ধারণা পান। বিতর্কটি আরও বড় হয়েছে ক্যালিফোর্নিয়ার পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর ভর্তি প্রক্রিয়ায় এসএটি ও এসিটির মতো স্ট্যান্ডার্ডাইজড টেস্ট বাদ দেওয়ার পর। বার্কলের গণিত ও পদার্থবিজ্ঞানের অধ্যাপক মিনা আগানাজিক সম্প্রতি ওয়াশিংটন পোস্টে প্রকাশিত এক মতামত নিবন্ধে ভর্তি প্রক্রিয়ায় শিক্ষার্থীদের একাডেমিক প্রস্তুতি নির্ভরযোগ্যভাবে পরিমাপের প্রয়োজনীয়তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। তবে শিক্ষার্থীদের গণিতের দুর্বলতার জন্য শুধু টেস্ট অপশনাল বা টেস্ট ফ্রি ভর্তি নীতিকেই দায়ী করা নিয়ে বিতর্ক রয়েছে। স্কুলের মানের পার্থক্য, কোভিড মহামারির সময় শেখার ক্ষতি, গ্রেড ইনফ্লেশন এবং শিক্ষার্থীদের সামাজিক ও অর্থনৈতিক বৈষম্যসহ একাধিক কারণ কলেজ প্রস্তুতিতে প্রভাব ফেলতে পারে। বার্কলের পরিস্থিতি অবশ্য ক্যালিফোর্নিয়ার সব বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো নয়। বিশ্ববিদ্যালয়টির নিজস্ব প্রতিবেদনে পলিন বলেছেন, ইউসি সান ডিয়েগোতে যে মাত্রার সমস্যা ধরা পড়েছে, বার্কলের পরিস্থিতি ততটা গুরুতর নয়। তবে এটিকে যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে কলেজে প্রবেশকারী শিক্ষার্থীদের গণিত প্রস্তুতি কমে যাওয়ার বৃহত্তর সমস্যার অংশ হিসেবে দেখছেন তিনি। বিষয়টি বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ কারণ বার্কলের প্রায় ৮০ শতাংশ আন্ডারগ্র্যাজুয়েট শিক্ষার্থী বিশ্ববিদ্যালয় জীবনের কোনো না কোনো সময়ে গণিতের কোর্স নেন। পদার্থবিজ্ঞান, রসায়ন, ইঞ্জিনিয়ারিং এবং মলিকিউলার ও সেল বায়োলজিসহ বহু জনপ্রিয় বিষয়ে গণিত বাধ্যতামূলক। ফলে আলোচনার কেন্দ্রে এখন শুধু একজন শিক্ষার্থী ভগ্নাংশ করতে পারেন কি না, সেই প্রশ্ন নেই। বরং হাইস্কুলের ভালো গ্রেড একজন শিক্ষার্থীর কলেজ প্রস্তুতির প্রকৃত চিত্র কতটা তুলে ধরছে এবং দেশের শীর্ষ বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়ার পর কেন মৌলিক গণিতের ঘাটতি পূরণ করতে হচ্ছে, সেই প্রশ্নই নতুন করে সামনে এসেছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যের ভার্জিনিয়া স্টেট ইউনিভার্সিটিতে গুলির ঘটনায় পাঁচজন আহত হয়েছেন। শনিবার ভোর সাড়ে ১টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসিক ভবনের কাছে কোয়াড অ্যানেক্সেস এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। গুলির পর ক্যাম্পাসে সাময়িক লকডাউন জারি করা হয়। চেস্টারফিল্ড কাউন্টি পুলিশ জানিয়েছে, আহত পাঁচজনের বয়স ১৭ থেকে ২৩ বছরের মধ্যে। তাঁদের মধ্যে একজন ২০ বছর বয়সী বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী। চিকিৎসার পর তাকে হাসপাতাল থেকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। অন্য একজনের অবস্থা গুরুতর বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ। বাকি আহতদের অবস্থা প্রাণঘাতী নয়। ঘটনার প্রায় ১৪ ঘণ্টা পর পুলিশ ১৯ বছর বয়সী ক্যামরন হ্যারিসকে গ্রেপ্তার করে। তাকে বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি আবাসিক ভবনের কক্ষের আলমারিতে লুকিয়ে থাকা অবস্থায় পাওয়া যায়। পুলিশ বলেছে, হ্যারিস বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী নন। হ্যারিসের বিরুদ্ধে আটটি গুরুতর অপরাধের পরোয়ানা জারি হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে গুরুতরভাবে আহত করা এবং অপরাধ সংঘটনের সময় আগ্নেয়াস্ত্র ব্যবহারের অভিযোগ। তবে গুলির ঘটনার সম্ভাব্য উদ্দেশ্য এখনো প্রকাশ করেনি পুলিশ। ঘটনার পর বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ক্যাম্পাসে তাৎক্ষণিক কোনো হুমকি নেই বলে জানায় এবং লকডাউন তুলে নেয়। তদন্তে স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পাশাপাশি অ্যালকোহল, টোব্যাকো, ফায়ারআর্মস অ্যান্ড এক্সপ্লোসিভস সংস্থা এবং হ্যানোভার কাউন্টি শেরিফের কার্যালয়ও সহায়তা করছে। নতুন শিক্ষাবর্ষ শুরুর ঠিক আগে এ ঘটনা ঘটেছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসিক হলগুলো এরই মধ্যে খুলে দেওয়া হয়েছিল এবং সোমবার থেকে ক্লাস শুরুর কথা ছিল। ভার্জিনিয়া স্টেট ইউনিভার্সিটি ভার্জিনিয়ার একটি ঐতিহাসিক কৃষ্ণাঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয়, যেখানে প্রায় ৫ হাজার ৭০০ শিক্ষার্থী পড়াশোনা করেন।
যুক্তরাষ্ট্রের মিশিগান বিশ্ববিদ্যালয়ের কলেজ অব লিটারেচার, সায়েন্স অ্যান্ড দ্য আর্টসের প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থীদের জন্য প্রথম সেমিস্টারের ফল প্রকাশের পদ্ধতিতে বড় পরিবর্তন আনা হচ্ছে। ২০২৭ সালের শরৎকালীন শিক্ষাবর্ষ থেকে নতুন এই পদ্ধতি চালু হওয়ার কথা রয়েছে। নতুন নিয়ম অনুযায়ী, প্রথম সেমিস্টারে শিক্ষার্থীরা পরীক্ষায় আগের মতোই নম্বর ও অক্ষরভিত্তিক গ্রেড পাবে। তবে এসব গ্রেড তাদের আনুষ্ঠানিক শিক্ষাগত নথিতে প্রকাশ করা হবে না এবং প্রথম সেমিস্টারের ফল সামগ্রিক গড় ফলাফলের সঙ্গে যুক্ত হবে না। এর পরিবর্তে শিক্ষাগত নথিতে উত্তীর্ণ অথবা কৃতকার্য নয়—এ ধরনের ফলাফল দেখানো হবে। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের মতে, উচ্চশিক্ষায় প্রবেশের পর প্রথম কয়েক মাস শিক্ষার্থীদের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। নতুন পরিবেশ, কঠিন পড়াশোনা এবং ভালো ফল করার চাপ অনেক শিক্ষার্থীর ওপর মানসিক চাপ তৈরি করতে পারে। এই চাপ কমিয়ে শিক্ষার্থীদের নতুন বিষয় শেখা, বিভিন্ন ধরনের কোর্স নেওয়া এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশের সঙ্গে মানিয়ে নেওয়ার সুযোগ দেওয়াই এই উদ্যোগের অন্যতম উদ্দেশ্য। বিশ্ববিদ্যালয় জানিয়েছে, নতুন ব্যবস্থার অর্থ এই নয় যে প্রথম সেমিস্টারে শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার মূল্যায়ন হবে না। শিক্ষকরা আগের মতোই পরীক্ষা, লিখিত কাজ এবং অন্যান্য শিক্ষাকাজের ভিত্তিতে শিক্ষার্থীদের মূল্যায়ন করবেন। শিক্ষার্থীরা তাদের প্রকৃত ফলাফল ও শিক্ষকদের কাছ থেকে প্রয়োজনীয় পরামর্শও পাবে। তবে প্রথম সেমিস্টারের ফলাফল শিক্ষাগত নথিতে প্রকাশ না হলেও বিশ্ববিদ্যালয় অভ্যন্তরীণভাবে শিক্ষার্থীদের প্রকৃত গ্রেডের তথ্য সংরক্ষণ করবে। প্রয়োজনে শিক্ষাগত পরামর্শ, বৃত্তি, আর্থিক সহায়তা এবং বিভিন্ন একাডেমিক সুযোগের ক্ষেত্রে এসব তথ্য ব্যবহার করা হতে পারে। প্রথম সেমিস্টার শেষ হওয়ার পর দ্বিতীয় সেমিস্টার থেকে আবার স্বাভাবিক গ্রেডিং পদ্ধতি চালু হবে। তখন শিক্ষার্থীদের অক্ষরভিত্তিক গ্রেড শিক্ষাগত নথিতে যুক্ত হবে এবং সামগ্রিক গড় ফলাফলের হিসাবেও তা অন্তর্ভুক্ত হবে। এই নতুন পদ্ধতি মিশিগান বিশ্ববিদ্যালয়ের সব শিক্ষার্থীর জন্য প্রযোজ্য হবে না। এটি মূলত কলেজ অব লিটারেচার, সায়েন্স অ্যান্ড দ্য আর্টসের প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থীদের জন্য পরীক্ষামূলকভাবে চালু করা হচ্ছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের এই সিদ্ধান্তকে ঘিরে ইতোমধ্যে আলোচনা শুরু হয়েছে। সমর্থকদের মতে, প্রথম সেমিস্টারের গ্রেডের চাপ কমলে শিক্ষার্থীরা মানসিকভাবে স্বস্তি পাবে এবং পড়াশোনায় নতুন বিষয় ও চ্যালেঞ্জ গ্রহণে আরও আগ্রহী হবে। তবে সমালোচকদের কেউ কেউ মনে করছেন, গ্রেডের গুরুত্ব কমিয়ে দিলে শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার প্রতি মনোযোগ ও দায়িত্ববোধের ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে। মিশিগান বিশ্ববিদ্যালয় আশা করছে, এই পরীক্ষামূলক পদ্ধতির মাধ্যমে প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থীদের বিশ্ববিদ্যালয়জীবনে মানিয়ে নেওয়া সহজ হবে এবং তাদের দীর্ঘমেয়াদি শিক্ষাগত সাফল্যের জন্য আরও ভালো পরিবেশ তৈরি হবে।
ফিলিস্তিনি-আমেরিকান ২০ বছর বয়সী বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী সামা সাফিকে কোনো আনুষ্ঠানিক অভিযোগ ছাড়াই ইসরায়েলি সামরিক হেফাজতে রাখার ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন মার্কিন কংগ্রেসওম্যান রাশিদা তালিব। সামার মুক্তির জন্য যুক্তরাষ্ট্র সরকারকে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি। সামা সাফি পশ্চিম তীরের বিরজেইত বিশ্ববিদ্যালয়ের মনোবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী। গত ২ জুন ভোরে রামাল্লার কাছে পরিবারের বাড়িতে অভিযান চালিয়ে ইসরায়েলি বাহিনী তাকে আটক করে। একই অভিযানে বিরজেইত বিশ্ববিদ্যালয়ের আরও তিন নারী শিক্ষার্থীকে আটক করা হয়। ফিলিস্তিনি বার্তা সংস্থা ওয়াফা জানিয়েছে, ওইদিন পশ্চিম তীরের বিভিন্ন এলাকায় ব্যাপক অভিযান চালিয়ে মোট ৩১ জনকে আটক করা হয়েছিল। ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীর দাবি, সামা ও অন্য শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে বৈরী সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে প্রচার এবং অন্যান্য সন্ত্রাস-সংশ্লিষ্ট কার্যক্রমে জড়িত থাকার সন্দেহ রয়েছে। তবে সামার বিরুদ্ধে এখন পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক ফৌজদারি অভিযোগ আনা হয়নি বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। তার আইনজীবীও ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষের অভিযোগ নিয়ে আপত্তি জানিয়েছেন। সামার পরিবার জানিয়েছে, তার একটি দীর্ঘমেয়াদি শারীরিক অসুস্থতা রয়েছে এবং নিয়মিত ওষুধ ও চিকিৎসার প্রয়োজন হয়। এ কারণে হেফাজতে থাকা অবস্থায় তার স্বাস্থ্য নিয়ে পরিবারের পক্ষ থেকে উদ্বেগ জানানো হয়েছে। মার্কিন কর্মকর্তারাও তার আটকের বিষয়টি পর্যবেক্ষণ করছেন। সামার মুক্তির দাবিতে এরই মধ্যে কয়েকজন মার্কিন আইনপ্রণেতা সরব হয়েছেন। ১২ জুন দেওয়া এক বক্তব্যে রাশিদা তালিব বলেন, সামা একজন ২০ বছর বয়সী মার্কিন নাগরিক ও শিক্ষার্থী এবং তার একটি দীর্ঘমেয়াদি স্বাস্থ্য সমস্যা রয়েছে। তার জীবন ঝুঁকিতে রয়েছে উল্লেখ করে মার্কিন সরকারকে তাকে মুক্ত করার আহ্বান জানান তিনি। মেরিল্যান্ডের সিনেটর ক্রিস ভ্যান হলেনও সামার মুক্তির দাবি জানিয়েছেন। তিনি বলেন, ইসরায়েলি বাহিনী ভোরে সামাকে তার বাড়ি থেকে নিয়ে গেলেও তাকে কেন আটক করা হয়েছে, সে বিষয়ে তার পরিবার বা মার্কিন দূতাবাসকে যথাযথভাবে জানানো হয়নি। সামাকে প্রথমে পশ্চিম তীরের ওফার সামরিক কারাগারে নেওয়া হয়েছিল বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে। পরবর্তী সময়ে তাকে জেরুজালেমের একটি ইন্টারোগেশন সেন্টারে স্থানান্তরের তথ্যও এসেছে। সামার আইনজীবীর ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি বর্তমানে নিরাপত্তা-সংক্রান্ত হেফাজতে রয়েছেন। সামার ঘটনা পশ্চিম তীরে ফিলিস্তিনি শিক্ষার্থীদের আটকের বিষয়টি আবারও সামনে এনেছে। ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ নিরাপত্তাজনিত কারণ দেখিয়ে এসব আটকের পক্ষে অবস্থান নিলেও, ফিলিস্তিনি ও মানবাধিকার সংগঠনগুলো অভিযোগ ছাড়াই দীর্ঘ সময় আটকে রাখার বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে আসছে।
ইউরোপের একাধিক বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনার সুযোগ, টিউশন ফিসহ বিভিন্ন খরচে আর্থিক সহায়তা এবং মাসিক স্কলারশিপ, সব মিলিয়ে উচ্চশিক্ষায় আগ্রহী বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের কাছে ইরাসমাস মুন্ডাস জয়েন্ট মাস্টার্স অন্যতম আকর্ষণীয় স্কলারশিপ। তবে কোন প্রোগ্রাম বেছে নেবেন, কীভাবে আবেদন করবেন, মোটিভেশন লেটার ও সিভি কেমন হবে কিংবা রেকমেন্ডেশন লেটারে কী থাকা প্রয়োজন, এসব নিয়ে আবেদনকারীদের মধ্যে প্রায়ই নানা প্রশ্ন থাকে। ইউরোপীয় ইউনিয়নের ইরাসমাস প্লাস কর্মসূচির অধীনে পরিচালিত ইরাসমাস মুন্ডাস জয়েন্ট মাস্টার্স মূলত আন্তর্জাতিকভাবে সমন্বিত মাস্টার্স প্রোগ্রাম। একটি প্রোগ্রাম সাধারণত বিভিন্ন দেশের একাধিক উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানের কনসোর্টিয়াম পরিচালনা করে। ফলে একজন শিক্ষার্থী একই ডিগ্রির অংশ হিসেবে একাধিক দেশে এবং একাধিক বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনার সুযোগ পেতে পারেন। বর্তমান নিয়ম অনুযায়ী, নির্বাচিত শিক্ষার্থীদের জন্য ইইউ অর্থায়িত স্কলারশিপ মাসে সর্বোচ্চ ১ হাজার ৪০০ ইউরো পর্যন্ত হতে পারে এবং এটি সর্বোচ্চ ২৪ মাস পর্যন্ত দেওয়া হয়। স্কলারশিপে প্রোগ্রামে অংশগ্রহণের খরচের পাশাপাশি ভ্রমণ, ভিসা এবং জীবনযাত্রার ব্যয়ে সহায়তার ব্যবস্থাও রয়েছে। মাস্টার্স প্রোগ্রামগুলো সাধারণত এক থেকে দুই শিক্ষাবর্ষের হয়ে থাকে। বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য এই স্কলারশিপ নতুন নয়। ইরাসমাস মুন্ডাসে বাংলাদেশ অতীতেও উল্লেখযোগ্য সাফল্য দেখিয়েছে। ইউরোপীয় ইউনিয়নের তথ্য অনুযায়ী, ২০২১ সালে ১৩৯ বাংলাদেশি শিক্ষার্থী ইরাসমাস প্লাস স্কলারশিপ পেয়েছিলেন। ইইউর আরেকটি তথ্যে ২০২১ সালের ইরাসমাস মুন্ডাস জয়েন্ট মাস্টার্সে ১৫২ বাংলাদেশি নির্বাচিত হওয়ার কথা উল্লেখ করা হয়, যা বাংলাদেশকে সে সময় বিশ্বে তৃতীয় সর্বোচ্চ অবস্থানে রেখেছিল। সাম্প্রতিক বছরগুলোতেও বাংলাদেশ বিশ্বের উল্লেখযোগ্য স্কলারশিপপ্রাপ্ত দেশগুলোর মধ্যে রয়েছে। তবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারিত বাংলাদেশ গত বছর বিশ্বে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ইরাসমাস মুন্ডাস স্কলারশিপ পেয়েছে এমন দাবির পক্ষে সর্বশেষ প্রকাশিত ইউরোপীয় ইউনিয়নের তথ্য থেকে নিশ্চিত প্রমাণ পাওয়া যায়নি। ফলে আবেদনকারীদের দেশভিত্তিক র্যাঙ্কিংয়ের চেয়ে নিজের আবেদন শক্তিশালী করার দিকে বেশি গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন। আবেদনের প্রথম ধাপ সঠিক প্রোগ্রাম নির্বাচন। একজন শিক্ষার্থীর একাডেমিক ব্যাকগ্রাউন্ড, আগ্রহ, ভবিষ্যৎ ক্যারিয়ার পরিকল্পনা এবং সংশ্লিষ্ট প্রোগ্রামের যোগ্যতার শর্তের মধ্যে সামঞ্জস্য থাকা গুরুত্বপূর্ণ। ইরাসমাস মুন্ডাসের প্রতিটি মাস্টার্সের নিজস্ব ওয়েবসাইটে অংশগ্রহণকারী বিশ্ববিদ্যালয়, ভর্তির যোগ্যতা, প্রয়োজনীয় ডকুমেন্ট এবং আবেদনের সময়সীমা দেওয়া থাকে। সাধারণভাবে আবেদনকারীকে ব্যাচেলর ডিগ্রিধারী হতে হয়। ব্যাচেলরের শেষ বর্ষে থাকা শিক্ষার্থীরাও আবেদন করতে পারেন, তবে মাস্টার্স প্রোগ্রাম শুরু হওয়ার আগেই তাদের স্নাতক সম্পন্ন করতে হবে। কিছু ক্ষেত্রে আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকৃত ব্যাচেলর সমমানের শিক্ষাগত যোগ্যতাও গ্রহণযোগ্য হতে পারে। আবেদন একটি কেন্দ্রীয় ফর্মের মাধ্যমে করা হয় না। শিক্ষার্থীকে পছন্দের ইরাসমাস মুন্ডাস প্রোগ্রাম পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠানের কাছে সরাসরি আবেদন করতে হয়। বেশির ভাগ প্রোগ্রামের আবেদন অক্টোবর থেকে জানুয়ারির মধ্যে নেওয়া হয়। তবে ডেডলাইন ও প্রয়োজনীয় ডকুমেন্ট প্রোগ্রামভেদে আলাদা হওয়ায় সংশ্লিষ্ট প্রোগ্রামের সর্বশেষ নির্দেশনা অনুসরণ করাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। আবেদনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অংশ মোটিভেশন লেটার বা এসওপি। এখানে শুধু বিদেশে পড়তে যাওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করলেই যথেষ্ট নয়। কেন নির্দিষ্ট প্রোগ্রামটি বেছে নেওয়া হয়েছে, আবেদনকারীর আগের পড়াশোনা ও অভিজ্ঞতার সঙ্গে সেটির সম্পর্ক কী এবং ডিগ্রি শেষে অর্জিত জ্ঞান কীভাবে কাজে লাগাতে চান, সেগুলো পরিষ্কারভাবে তুলে ধরা প্রয়োজন। সিভিতেও অপ্রয়োজনীয় তথ্যের পরিবর্তে একাডেমিক যোগ্যতা, গবেষণা, প্রজেক্ট, ইন্টার্নশিপ, চাকরির অভিজ্ঞতা, প্রকাশনা, স্বেচ্ছাসেবী কাজ ও প্রাসঙ্গিক দক্ষতাকে গুরুত্ব দেওয়া উচিত। একইভাবে রেকমেন্ডেশন লেটার এমন ব্যক্তির কাছ থেকে নেওয়া ভালো, যিনি আবেদনকারীর একাডেমিক বা পেশাগত সক্ষমতা সম্পর্কে নির্দিষ্টভাবে লিখতে পারবেন। তবে কতটি রেকমেন্ডেশন প্রয়োজন এবং কার কাছ থেকে নেওয়া যাবে, তা সংশ্লিষ্ট প্রোগ্রামের নিয়ম দেখে নিশ্চিত হতে হবে। শুধু ভালো ফলাফল থাকলেই স্কলারশিপ নিশ্চিত হয় না। প্রতিযোগিতামূলক এই স্কলারশিপে পুরো অ্যাপ্লিকেশন প্রোফাইলের সামঞ্জস্য গুরুত্বপূর্ণ। নিজের ব্যাকগ্রাউন্ডের সঙ্গে সম্পর্কহীন প্রোগ্রামে আবেদন, একই মোটিভেশন লেটার সব প্রোগ্রামে ব্যবহার, ডেডলাইনের শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত অপেক্ষা কিংবা প্রয়োজনীয় ডকুমেন্ট ঠিকভাবে না পড়া আবেদনকে দুর্বল করে দিতে পারে। বর্তমানে বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের সহায়তায় ইরাসমাস মুন্ডাস নিয়ে ব্যক্তিগত উদ্যোগেও বিভিন্ন গাইডলাইন তৈরি হচ্ছে। বিল্লাল হোসাইন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ১০ পর্বের একটি গাইডে সার্বিক আবেদন প্রক্রিয়া, ফাইন্যানশিয়াল সুবিধা, সঠিক প্রোগ্রাম ও ইউনিভার্সিটি কনসোর্টিয়াম নির্বাচন, মোটিভেশন লেটার, নমুনা এসওপি, সিভি, রেকমেন্ডেশন লেটার, ডকুমেন্টেশন, বিভিন্ন বিষয়ের প্রোগ্রাম এবং আবেদনের সাধারণ ভুল নিয়ে আলোচনা করেছেন। তিনি ভবিষ্যতে Billal Beyond Borders-এর মাধ্যমে স্কলারশিপ ও উচ্চশিক্ষার অ্যাডমিশন প্রক্রিয়া নিয়ে আরও গাইডলাইন দেওয়ার কথাও জানিয়েছেন। ২০২৬ সালে নতুন করে ৩৭টি ইরাসমাস মুন্ডাস জয়েন্ট মাস্টার্স প্রকল্প নির্বাচিত হয়েছে। এসব নতুন মাস্টার্স প্রোগ্রামের শিক্ষার্থী আবেদন ২০২৬ সালের শরৎ থেকে শুরু হওয়ার কথা। ফলে আগামী শিক্ষাবর্ষে আবেদন করতে আগ্রহী বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য এখন থেকেই প্রোগ্রাম খোঁজা, প্রয়োজনীয় ডকুমেন্ট প্রস্তুত করা এবং নিজের একাডেমিক ও পেশাগত প্রোফাইলের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ কোর্স বাছাই করার উপযুক্ত সময়।
মাত্র ১৬ বছর বয়সেই যুক্তরাষ্ট্রের লুইজিয়ানার নিউ অরলিন্সের ডেনিস মালিক বার্নস এমন এক একাডেমিক সাফল্য অর্জন করেছেন, যা দেশজুড়ে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। হাইস্কুল নির্ধারিত সময়ের দুই বছর আগেই শেষ করে তিনি ১৭০টির বেশি কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির প্রস্তাব পেয়েছেন। একই সঙ্গে এসব প্রতিষ্ঠান থেকে পাওয়া বৃত্তির প্রস্তাবের মোট মূল্য ছাড়িয়েছে ৯ মিলিয়ন ডলার। ইন্টারন্যাশনাল হাই স্কুল অব নিউ অরলিন্সের এই শিক্ষার্থী ৪.৯৮ জিপিএ নিয়ে পড়াশোনা শেষ করেন। ২০২২ সালের আগস্ট থেকে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের প্রায় ২০০টি কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ে আবেদন শুরু করেন। শুরুতে কোনো রেকর্ড গড়ার লক্ষ্য নিয়ে এতগুলো প্রতিষ্ঠানে আবেদন করেননি। তবে একের পর এক ভর্তি ও বৃত্তির প্রস্তাব আসতে থাকায় বিষয়টি তার কাছেও ব্যতিক্রমী হয়ে ওঠে। বার্নসের এই সাফল্যের পেছনে রয়েছে তার অসাধারণ একাডেমিক ফলাফল, নেতৃত্বের অভিজ্ঞতা এবং উচ্চশিক্ষার প্রতি আগ্রহ। তিনি ন্যাশনাল অনার সোসাইটির নেতৃত্বেও ছিলেন। পাশাপাশি স্প্যানিশ ভাষায় দক্ষতা অর্জন করেছেন এবং উচ্চবিদ্যালয়ে পড়ার সময়ই সাউদার্ন ইউনিভার্সিটি অব নিউ অরলিন্সে দ্বৈতভাবে পড়াশোনা করে কলেজ পর্যায়ের ক্রেডিট অর্জন করেছেন। বার্নসের ক্ষেত্রে শুধু বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির সংখ্যাই নজরকাড়া নয়। বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান তাকে বড় অঙ্কের বৃত্তির প্রস্তাব দিয়েছে। ২০২৩ সালের এপ্রিলের শেষ দিকে পাওয়া হিসাব অনুযায়ী, ১৭০টির বেশি ভর্তি প্রস্তাবের সঙ্গে বৃত্তির মোট মূল্য ৯ মিলিয়ন ডলার ছাড়িয়ে যায়। পরে আরও কিছু প্রতিষ্ঠানের সিদ্ধান্ত আসার অপেক্ষায় ছিলেন তিনি এবং মোট বৃত্তির পরিমাণ ১০ মিলিয়ন ডলারে নেওয়ার লক্ষ্যও জানিয়েছিলেন। এই অর্জনের ফলে আগের মার্কিন রেকর্ডও ছাড়িয়ে যান বার্নস। এর আগে ২০১৯ সালে লুইজিয়ানার আরেক শিক্ষার্থী নরম্যান্ডি করমিয়ের বিভিন্ন কলেজ থেকে প্রায় ৮ দশমিক ৭ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তির প্রস্তাব পেয়েছিলেন বলে সে সময়ের বিভিন্ন প্রতিবেদনে জানানো হয়। তবে বার্নসের অর্জনকে গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডসের আনুষ্ঠানিক বিশ্বরেকর্ড হিসেবে উল্লেখ করার ক্ষেত্রে সতর্কতা রয়েছে। তার স্কুল কর্তৃপক্ষ গিনেস কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করে স্বীকৃতি পাওয়ার চেষ্টা করেছিল। কিন্তু সে সময় গিনেসের পক্ষ থেকে এমন কোনো রেকর্ড আনুষ্ঠানিকভাবে তালিকাভুক্ত থাকার বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়নি। ফলে তাকে যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে কলেজে ভর্তিচ্ছু শিক্ষার্থীদের মধ্যে সর্বোচ্চ বৃত্তির প্রস্তাব পাওয়া শিক্ষার্থীদের একজন হিসেবে উল্লেখ করাই বেশি নির্ভুল। বার্নস ভবিষ্যতে কম্পিউটার সায়েন্স ও ক্রিমিনাল জাস্টিস নিয়ে পড়াশোনা করার পরিকল্পনা করেছিলেন। এরপর আইন বিষয়ে উচ্চশিক্ষা নেওয়ার ইচ্ছার কথাও জানিয়েছিলেন। নিজের সাফল্যের জন্য পরিবার, শিক্ষক ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সহায়তার কথা তুলে ধরেছেন বার্নস। তার এই অর্জন যুক্তরাষ্ট্রের কলেজ ভর্তি প্রক্রিয়ায় একাডেমিক প্রস্তুতি, আগেভাগে আবেদন এবং বিভিন্ন বৃত্তির সুযোগ খোঁজার গুরুত্বও সামনে এনেছে।
মানবিক বিভাগে পড়াশোনা করেও আন্তর্জাতিক উচ্চশিক্ষার পথে বড় সাফল্য অর্জন করেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের শিক্ষার্থী মারুফ হাসান। ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষের এই শিক্ষার্থী যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অব নেব্রাস্কা অ্যাট ওমাহাতে ইতিহাস বিষয়ে ফুল ফান্ডেড মাস্টার্স প্রোগ্রামে ভর্তির সুযোগ পেয়েছেন। শুধু একটি বিশ্ববিদ্যালয় নয়, উচ্চশিক্ষার জন্য আবেদন করে বিশ্বের ১৩টি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অফার পেয়েছেন মারুফ। নিজের একাডেমিক আগ্রহ, গবেষণার সুযোগ এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা বিবেচনা করে শেষ পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অব নেব্রাস্কা অ্যাট ওমাহাকে বেছে নেন তিনি। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ সার্জেন্ট জহুরুল হক হলের আবাসিক শিক্ষার্থী মারুফের এই অর্জন বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য মানবিক বিভাগের শিক্ষার্থীদের জন্য। কারণ প্রচলিত ধারণার বিপরীতে মানবিক বিষয়ে পড়াশোনা করেও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে উচ্চশিক্ষা ও গবেষণার বিস্তর সুযোগ রয়েছে। স্নাতক পর্যায়ে ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি নিয়ে পড়াশোনার পর আরও বিস্তৃত পরিসরে ইতিহাস নিয়ে গবেষণা করার লক্ষ্য থেকেই মাস্টার্সে বিষয়টি বেছে নিয়েছেন মারুফ। ইতিহাস, সংস্কৃতি ও সমাজের বিভিন্ন দিক নিয়ে ভবিষ্যতে গবেষণার মাধ্যমে জ্ঞানচর্চায় অবদান রাখার পরিকল্পনা রয়েছে তাঁর। মারুফের মতে, বিদেশে উচ্চশিক্ষার জন্য শুধু ভালো ফলাফল যথেষ্ট নয়। নিজের একাডেমিক আগ্রহ স্পষ্ট করা, গবেষণার সক্ষমতা তৈরি করা, দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা করা এবং শক্তিশালী আবেদনপত্র প্রস্তুত করাও সমান গুরুত্বপূর্ণ। ১৩টি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অফার পাওয়ার পর নিজের লক্ষ্য অনুযায়ী একটি বিশ্ববিদ্যালয় বেছে নেওয়ার এই অভিজ্ঞতা বাংলাদেশের শিক্ষার্থীদের জন্যও গুরুত্বপূর্ণ বার্তা দিচ্ছে। বিশেষ করে মানবিক বিভাগের শিক্ষার্থীরা চাইলে সঠিক প্রস্তুতি, গবেষণামুখী মানসিকতা এবং ধারাবাহিক প্রচেষ্টার মাধ্যমে বিশ্বের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে উচ্চশিক্ষার সুযোগ তৈরি করতে পারেন। মারুফ হাসানের সাফল্য তাই শুধু ব্যক্তিগত অর্জন নয়, বাংলাদেশের মানবিক বিভাগের শিক্ষার্থীদের জন্যও একটি অনুপ্রেরণার উদাহরণ।
মিশিগান বিশ্ববিদ্যালয়ের (University of Michigan) কলেজ অফ লিটারেচার, সায়েন্স অ্যান্ড দ্য আর্টস (এলএসএ) শিক্ষার্থীদের ক্রমবর্ধমান 'মানসিক স্বাস্থ্য সংকট' মোকাবিলার লক্ষ্যে এক অভিনব সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এই ফল সেমিস্টার থেকে ভর্তি হওয়া নতুন শিক্ষার্থীদের প্রথম সেমিস্টারের ফলাফল ট্রান্সক্রিপ্টে গোপন রাখা হবে। প্রচলিত লেটার গ্রেডের পরিবর্তে তাদের শুধুমাত্র 'পাস/নো ক্রেডিট' ভিত্তিতে মূল্যায়ন করার ঘোষণা দিয়েছে এই পাবলিক রিসার্চ বিশ্ববিদ্যালয়টি। বিশ্ববিদ্যালয়ের ১৯টি কলেজের মধ্যে সবচেয়ে বড় এই এলএসএ কলেজ জানিয়েছে, শিক্ষার্থীরা তাদের প্রাপ্ত গ্রেড ব্যক্তিগতভাবে জানতে পারবেন এবং অধ্যাপকদের কাছ থেকে প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনাও পাবেন। তবে এই ফলাফল কোনোভাবেই তাদের সিজিপিএ-তে (CGPA) যুক্ত হবে না। ট্রান্সক্রিপ্টে কেবল উল্লেখ থাকবে যে, প্রথম সেমিস্টারের সব কোর্স স্বয়ংক্রিয়ভাবে 'পাস' বা 'নো ক্রেডিট' হিসেবে গণ্য হয়েছে। তবে একাডেমিক পুরস্কার, বৃত্তি, ইন্টার্নশিপ এবং অন্যান্য পেশাগত সুযোগের জন্য অভ্যন্তরীণভাবে তাদের প্রকৃত গ্রেড সংরক্ষণ করা হবে। দ্বিতীয় সেমিস্টার থেকে শিক্ষার্থীদের গ্রেড যথারীতি তাদের ট্রান্সক্রিপ্ট এবং জিপিএ-তে যুক্ত হওয়া শুরু করবে। প্রায় ২০ হাজার শিক্ষার্থীর এই কলেজের কর্তৃপক্ষের মতে, গ্রেড গোপন রাখার এই উদ্যোগ শিক্ষার্থীদের মানসিক সুস্থতা বজায় রাখতে এবং প্রতিযোগিতার বদলে নিজেদের মধ্যে সহযোগিতাপূর্ণ মনোভাব গড়ে তুলতে সাহায্য করবে। শিক্ষার্থীদের ওপর থেকে শুরুর দিকের চাপ কমাতেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। উল্লেখ্য, ম্যাসাচুসেটস ইনস্টিটিউট অফ টেকনোলজি (এমআইটি), ক্যালিফোর্নিয়া ইনস্টিটিউট অফ টেকনোলজি, সোয়ার্থমোর কলেজ এবং ওয়েলেসলি কলেজের মতো স্বনামধন্য প্রতিষ্ঠানগুলোতেও আগে থেকেই অনুরূপ নীতি চালু রয়েছে। তবে এই নীতির কঠোর সমালোচনা করেছেন অনেক বিশেষজ্ঞ। তাদের মতে, এর ফলে শিক্ষার্থীদের মাত্রাতিরিক্ত প্রশ্রয় দেওয়া হচ্ছে। 'থেরাপি নেশন'-এর লেখক ও সাইকোথেরাপিস্ট জোনাথন আলপার্ট দ্য পোস্ট-কে বলেন, "আমরা এমন এক পর্যায়ে পৌঁছেছি যেখানে সাধারণ মানসিক চাপকেও একটি বড় ধরনের মানসিক স্বাস্থ্য সমস্যা হিসেবে দেখা হচ্ছে। খারাপ গ্রেড পাওয়া হতাশাজনক বা বিব্রতকর হতে পারে, কিন্তু এটি কোনোভাবেই মানসিকভাবে ক্ষতিকর নয়।" তিনি আরও বলেন, "কলেজের উচিত শিক্ষার্থীদের বাস্তব জীবনের জন্য প্রস্তুত করা। কর্মক্ষেত্রে কোনো বস্ আপনার খারাপ পারফরম্যান্স গোপন রাখবেন না। তরুণদের বুঝতে হবে যে খারাপ লাগা মানেই ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া নয়।"
খুলনার ২১ বছর বয়সী আলিমুল ইসলাম সৌদি আরবের মদিনা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সুযোগ পাওয়ার খবরটি প্রথমে বিশ্বাসই করতে পারছিলেন না। দীর্ঘদিনের স্বপ্নের বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়ার সুযোগ পেয়ে গত মাসে সুখবরটি পাওয়ার পর থেকেই আনন্দে সময় কাটছে তার। আলিমুল বলেন, “এটা আমার কাছে ঈদের আনন্দের চেয়েও বড়। আমি আনন্দে অভিভূত। এই খুশি ভাষায় প্রকাশ করার মতো নয়।” তার এই অর্জনে বন্ধুরাও বেশ উচ্ছ্বসিত। কেউ কেউ তার চেয়েও বেশি আনন্দিত হয়েছেন বলে জানান আলিমুল। বিশেষ করে মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর স্মৃতিবিজড়িত ভূমিতে পড়াশোনার সুযোগ পাওয়াকে তিনি জীবনের বিশেষ অর্জন হিসেবে দেখছেন। আলিমুল সৌদি সরকারের বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য চালু করা পূর্ণ অর্থায়নের বৃত্তি কর্মসূচির আওতায় নির্বাচিত হয়েছেন। ২০২২ সালে ঘোষিত এই কর্মসূচিতে বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের স্নাতক ও স্নাতকোত্তর পর্যায়ে পড়াশোনার জন্য ২৬৫টি পূর্ণ বৃত্তির সুযোগ রাখা হয়েছিল। বিজ্ঞান, প্রকৌশল, ইসলামিক স্টাডিজ, আরবি ভাষা ও সাহিত্যসহ বিভিন্ন বিষয়ে পড়াশোনার সুযোগ রয়েছে। সৌদি সরকারের এই বৃত্তির আওতায় শিক্ষার্থীদের টিউশন ফি, আবাসন ও খাবারের খরচ বহন করা হয়। পাশাপাশি যাতায়াতের বিমানভাড়া, বই কেনার জন্য বার্ষিক ভাতা এবং জীবনযাপনের খরচের জন্য মাসিক স্টাইপেন্ডও দেওয়া হয়। বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য বৃত্তির সংখ্যা বাড়ানোর পরিকল্পনাও জানিয়েছে সৌদি আরব। গত মাসে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে বৈঠকের পর সৌদি রাষ্ট্রদূত আবদুল্লাহ বিন আবিয়াহ জানান, এই বৃত্তির সংখ্যা বাড়িয়ে ৫০০ করা হবে। এদিকে একই বৃত্তি কর্মসূচির আওতায় এবার সৌদি আরবে পড়াশোনা শুরু করতে যাচ্ছেন চাঁপাইনবাবগঞ্জের মোহাম্মদ হাসিব। তিনি কাসিম বিশ্ববিদ্যালয়ে চার বছরের ব্যাচেলর ডিগ্রিতে আরবি সাহিত্য নিয়ে পড়াশোনা করবেন। সৌদি আরবকে উচ্চশিক্ষার জন্য বেছে নেওয়ার কারণ হিসেবে হাসিব বলেন, দেশটির বিশ্ববিদ্যালয়গুলো থেকে পড়াশোনা করে দেশে ফিরে অনেকেই সম্মানজনক অবস্থানে কাজ করছেন। তার মাদ্রাসার সিনিয়র ভাই ও শিক্ষকদের অনেকেই সৌদি আরবে পড়াশোনা করেছেন। তাদের দেখে তিনিও সৌদি আরবে উচ্চশিক্ষার প্রতি আগ্রহী হন। সৌদি আরবে গিয়ে আরবি ভাষায় দক্ষতা অর্জনের পাশাপাশি দেশটির সংস্কৃতির সঙ্গেও পরিচিত হতে চান হাসিব। পড়াশোনা শেষে দেশে ফিরে বাবা-মায়ের স্বপ্ন পূরণ করতে চান তিনি। ভবিষ্যতে মাদ্রাসার শিক্ষক হয়ে অর্জিত জ্ঞান অন্যদের মধ্যে ছড়িয়ে দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে তার। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে সৌদি আরবে উচ্চশিক্ষার জন্য বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের আগ্রহ বাড়ছে। বৃত্তির সুযোগের পাশাপাশি বিভিন্ন বিষয়ে পড়াশোনা এবং কিছু প্রোগ্রামে ইংরেজি মাধ্যমে শিক্ষার সুযোগও এ আগ্রহ বাড়ার অন্যতম কারণ। অ্যাসোসিয়েশন অব সৌদি ইউনিভার্সিটি গ্র্যাজুয়েটস ইন বাংলাদেশের কোষাধ্যক্ষ ড. মোহাম্মদ রফিকুল ইসলাম আল-মাদানি আরব নিউজকে বলেন, কিছু বিষয়ে পড়াশোনার ক্ষেত্রে এখন আরবি ভাষায় দক্ষতা বাধ্যতামূলক নয়। আইইএলটিএস থাকলে শিক্ষার্থীরা ইংরেজি মাধ্যমেও পড়াশোনার সুযোগ পাচ্ছেন। এতে সৌদি আরবের উচ্চশিক্ষা আরও আকর্ষণীয় হয়ে উঠেছে। সৌদি আরবের সঙ্গে বাংলাদেশের মানুষের দীর্ঘদিনের সামাজিক ও ধর্মীয় সম্পর্কও শিক্ষার্থীদের আগ্রহের বড় কারণ। দেশটিতে বিপুলসংখ্যক বাংলাদেশি প্রবাসী বসবাস করেন। পাশাপাশি মক্কা ও মদিনার প্রতি বাংলাদেশিদের গভীর ধর্মীয় ও আবেগের সম্পর্ক রয়েছে। আল-মাদানির মতে, এই ধর্মীয় ও আবেগের সম্পর্কও সৌদি আরবে পড়াশোনার প্রতি বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের আগ্রহ বাড়ায়। সেখানে পড়াশোনার পাশাপাশি হজ ও ওমরাহ পালনের সুযোগও শিক্ষার্থীদের কাছে বাড়তি আকর্ষণ তৈরি করে। আলিমুল ও হাসিবের মতো শিক্ষার্থীদের জন্য এই বৃত্তি শুধু বিদেশে উচ্চশিক্ষার সুযোগ নয়, বরং আর্থিক সীমাবদ্ধতা ছাড়াই নিজেদের স্বপ্ন পূরণের একটি বড় পথ। পড়াশোনা শেষে দেশে ফিরে অর্জিত শিক্ষা ও দক্ষতা সমাজ ও দেশের কাজে লাগাতে চান তারা।
একই বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা করেছেন, একই ক্যাম্পাসে হেঁটেছেন, একই সময়ে প্রকৌশলী হওয়ার স্বপ্ন দেখেছেন। অথচ কখনও দেখা হয়নি, পরিচয়ও নয়। ভাগ্যের অদ্ভুত এক পরিক্রমায় হাজার হাজার মাইল দূরে যুক্তরাষ্ট্রে পিএইচডি করতে গিয়ে প্রথম দেখা। সেখান থেকেই শুরু বন্ধুত্ব, তারপর প্রেম, বিয়ে এবং শেষ পর্যন্ত একই বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পিএইচডি অর্জন। বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট) এর সাবেক দুই শিক্ষার্থী ইরফান আল-হুসাইনি ও ফাবিয়া ফারলিন অ্যাথেনার গল্প যেন বাস্তবের এক অনুপ্রেরণার কাহিনি। বাংলাদেশে বুয়েটে পড়ার সময় দুজনই ছিলেন একই বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী। তবে তাদের কখনও পরিচয় হয়নি। উচ্চশিক্ষার জন্য আলাদাভাবে যুক্তরাষ্ট্রে পাড়ি জমান তারা। কাকতালীয়ভাবে দুজনেরই গন্তব্য হয় যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম শীর্ষ গবেষণাভিত্তিক বিশ্ববিদ্যালয় জর্জিয়া ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজি (জর্জিয়া টেক)। জর্জিয়া টেকের ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড কম্পিউটার ইঞ্জিনিয়ারিং স্কুলের প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, সেখানেই প্রথম পরিচয় হয় ইরফান ও ফাবিয়ার। গবেষণাগারের ব্যস্ততা, ক্লাস, গবেষণা এবং নতুন দেশে নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করার পথচলায় ধীরে ধীরে গড়ে ওঠে তাদের বন্ধুত্ব। সময়ের সঙ্গে সেই সম্পর্ক রূপ নেয় ভালোবাসায়। সম্পর্কের পরিণতিতে ২০২২ সালে যুক্তরাষ্ট্রের জর্জিয়ার আটলান্টায় বিয়ে করেন তারা। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রকাশিত তথ্যে উল্লেখ করা হয়েছে, বিয়ের অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্র দুই দেশের পরিবার, আত্মীয়স্বজন এবং বন্ধুদের উপস্থিতিতে নতুন জীবনের সূচনা করেন এই বাংলাদেশি দম্পতি। বিয়ের পরও থেমে থাকেনি তাদের একাডেমিক যাত্রা। নিজ নিজ গবেষণা সফলভাবে সম্পন্ন করে জর্জিয়া টেক থেকেই পিএইচডি ডিগ্রি অর্জন করেন দুজন। একই সমাবর্তনে ডক্টরেট ডিগ্রি গ্রহণের সেই মুহূর্তটি পরে বিশ্ববিদ্যালয়ও তুলে ধরে, যা অনেকের কাছে উচ্চশিক্ষা ও ব্যক্তিগত জীবনের সুন্দর সমন্বয়ের এক অনন্য উদাহরণ হয়ে ওঠে। বর্তমানে ইরফান আল-হুসাইনি বিশ্বের শীর্ষ কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও সেমিকন্ডাক্টর প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান এনভিডিয়ায় সিনিয়র ডেটা সায়েন্টিস্ট হিসেবে কর্মরত। অন্যদিকে ফাবিয়া ফারলিন অ্যাথেনা যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ার স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে স্ট্যানফোর্ড এনার্জি পোস্টডক্টরাল ফেলো হিসেবে গবেষণা করছেন। উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন সেমিকন্ডাক্টর ও জ্বালানি প্রযুক্তি নিয়ে তাঁর গবেষণা ইতোমধ্যে একাডেমিক অঙ্গনে পরিচিতি পেয়েছে। প্রতি বছর বাংলাদেশ থেকে অসংখ্য শিক্ষার্থী উচ্চশিক্ষার জন্য বিশ্বের বিভিন্ন দেশে পাড়ি জমান। তাদের অনেকের গল্প জনসমক্ষে আসে না। তবে ইরফান ও ফাবিয়ার যাত্রা মনে করিয়ে দেয়, উচ্চশিক্ষা শুধু একটি ডিগ্রি বা পেশাগত সাফল্যের পথ নয়; কখনও কখনও এটি জীবনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সম্পর্ক, নতুন স্বপ্ন এবং নতুন ভবিষ্যতেরও সূচনা হতে পারে। একই বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়েও যাদের কখনও পরিচয় হয়নি, তারা পৃথিবীর অন্য প্রান্তে এসে একে অপরকে খুঁজে পেয়েছেন। গবেষণার দীর্ঘ ও কঠিন পথ একসঙ্গে অতিক্রম করে আজ দুজনই বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠানে নিজেদের জায়গা করে নিয়েছেন। তাদের এই গল্প শুধু একটি ভালোবাসার গল্প নয়; এটি বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য অধ্যবসায়, মেধা, সম্ভাবনা এবং জীবনের অপ্রত্যাশিত সৌন্দর্যের এক অনুপ্রেরণামূলক উদাহরণ। আপডেট: এই প্রতিবেদনটি প্রকাশের পর ড. ইরফান আল-হুসাইনির মৃত্যুর খবর নিশ্চিত হয়েছে। তিনি যুক্তরাষ্ট্রের একটি হাসপাতালে নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) চিকিৎসাধীন অবস্থায় ইন্তেকাল করেছেন। তাঁর অকাল প্রয়াণে বুয়েট, জর্জিয়া ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজি (জর্জিয়া টেক), এনভিডিয়া এবং দেশ-বিদেশের প্রযুক্তি ও গবেষণা অঙ্গনে গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে। আমরা তাঁর বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা করছি এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানাচ্ছি।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।