বিশ্ববিদ্যালয়

বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে ইসরায়েলি সেনাদের প্রবেশ
বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে ইসরায়েলি সেনাদের প্রবেশ, ভাঙচুর ও হামলার অভিযোগ

অধিকৃত পশ্চিম তীরের রামাল্লার কাছে অবস্থিত বীরজিট বিশ্ববিদ্যালয়ে হঠাৎ করে অভিযান চালিয়েছে ইসরায়েলি বাহিনী। অভিযানের সময় ক্যাম্পাসে ভাঙচুর, এক নিরাপত্তাকর্মীকে মারধর এবং বিভিন্ন অবকাঠামোর ক্ষতিসাধনের অভিযোগ উঠেছে।   তুরস্কভিত্তিক বার্তা সংস্থা আনাদোলু এজেন্সির এক প্রতিবেদনে সোমবার (২৮ জুন) এসব তথ্য জানানো হয়।   স্থানীয় সূত্রের বরাত দিয়ে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইসরায়েলি সেনারা জোরপূর্বক বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে প্রবেশ করে। তারা পূর্ব দিক দিয়ে শারীরিক শিক্ষা অনুষদের ভবনে ঢুকে ভেতরের আসবাবপত্র ও সরঞ্জাম ভাঙচুর করে। এ সময় ক্যাম্পাসে দায়িত্বে থাকা এক নিরাপত্তাকর্মীকে মারধর করা হয় বলেও অভিযোগ রয়েছে।   ঘটনার পর বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ তাদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুক পেজে একটি বিবৃতি প্রকাশ করে। সেখানে জানানো হয়, সাম্প্রতিক এই অভিযানের কারণে শিক্ষার্থীদের চলমান পরীক্ষার সূচিতে কোনো পরিবর্তন আসবে না। পূর্বনির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী সব পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। পাশাপাশি ভাঙচুরের কিছু ছবিও প্রকাশ করা হয়।   বীরজিট বিশ্ববিদ্যালয়ে এ ধরনের অভিযান নতুন নয়। এর আগেও একাধিকবার ইসরায়েলি বাহিনী সেখানে প্রবেশ করে শিক্ষার্থীদের গ্রেপ্তার, শিক্ষক-কর্মকর্তাদের হয়রানি এবং ছাত্র সংগঠনগুলোর নথিপত্র জব্দ করেছে বলে অভিযোগ রয়েছে। এসব ঘটনায় আন্তর্জাতিক মহলেও উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে বিভিন্ন সময়।   পশ্চিম তীরজুড়ে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে সহিংসতা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। বিশেষ করে ২০২৩ সালের ৮ অক্টোবরের পর থেকে ইসরায়েলি সেনা ও বসতি স্থাপনকারীদের হামলায় অন্তত ১ হাজার ১৭৩ জন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন বলে স্থানীয় সরকারি পরিসংখ্যানে উল্লেখ করা হয়েছে। একই সময়ে আহত হয়েছেন ১২ হাজার ৬৬৬ জন এবং প্রায় ২৩ হাজার মানুষকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।   ফিলিস্তিনি বিশ্লেষক ও অধিকারকর্মীদের আশঙ্কা, এ ধরনের ধারাবাহিক অভিযান ও দমনমূলক তৎপরতার মাধ্যমে পশ্চিম তীরের ওপর পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার পথ তৈরি করা হচ্ছে। এতে করে জাতিসংঘের প্রস্তাব অনুযায়ী স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্র গঠনের সম্ভাবনা আরও অনিশ্চিত হয়ে পড়তে পারে।   এদিকে বিশ্ববিদ্যালয়ে সামরিক অভিযানের ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ ও ক্ষোভ বাড়ছে। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে এমন অভিযান শিক্ষার পরিবেশ ও শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে।

নীলুফা নিশাত জুন ২৮, ২০২৬ ১৪:০
এআই যুগের সঙ্গে তাল মেলাতে ১২ হাজার কলা ও মানবিক বিভাগের ডিগ্রি বাতিল করেছে চীন
এআই যুগের সঙ্গে তাল মেলাতে ১২ হাজার কলা ও মানবিক বিভাগের ডিগ্রি বাতিল করেছে চীন

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) নির্ভর অর্থনীতি গড়ে তোলার লক্ষ্যে উচ্চশিক্ষা ব্যবস্থায় বড় ধরনের পরিবর্তন এনেছে চীন। দেশটির বিশ্ববিদ্যালয়গুলো গত কয়েক বছরে কলা, মানবিক ও ভাষাবিষয়ক প্রায় ১২ হাজার ডিগ্রি কর্মসূচি বাতিল করেছে। একই সময়ে প্রযুক্তি ও এআই-সংশ্লিষ্ট হাজার হাজার নতুন ডিগ্রি চালু করা হয়েছে।   চীনের স্থানীয় গণমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ের শিক্ষা কার্যক্রমকে নতুন অর্থনৈতিক বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ করতেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের তথ্য বলছে, দেশটির বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর প্রায় এক-তৃতীয়াংশ শিক্ষা কার্যক্রম এই পুনর্গঠনের আওতায় এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বিপুলসংখ্যক শিক্ষার্থীর ওপর।   প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২১ থেকে ২০২৫ সালের মধ্যে চীনের বিভিন্ন উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ১০ হাজার ২০০টি নতুন স্নাতক ডিগ্রি কর্মসূচি চালু করা হয়েছে। এসব নতুন কোর্সের বড় অংশই কৃত্রিম  বুদ্ধিমত্তা, তথ্যপ্রযুক্তি, উন্নত প্রকৌশল, রোবোটিকস এবং উদীয়মান প্রযুক্তি খাতের সঙ্গে সম্পর্কিত।   সাউথ চায়না মর্নিং পোস্টের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসকদের কাছে কলা ও মানবিক বিষয়ের অনেক ডিগ্রি এখন ক্রমেই কর্মসংস্থানের দিক থেকে কম কার্যকর এবং অতিরিক্ত শিক্ষার্থীপূর্ণ ক্ষেত্র হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। বিপরীতে ‘এমবডিড ইন্টেলিজেন্স’সহ নতুন প্রযুক্তিভিত্তিক ডিগ্রিগুলোকে চীনের দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক পরিকল্পনার সঙ্গে বেশি সামঞ্জস্যপূর্ণ মনে করা হচ্ছে।   সাংহাই বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিক্ষার্থী সংবাদমাধ্যমটিকে জানান, দুর্বল চাকরির বাজারের কারণে তাদের বিশ্ববিদ্যালয় কিছু প্রচলিত ডিগ্রি কর্মসূচি বন্ধ করে দিয়েছে।   নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ওই শিক্ষার্থীর ভাষ্য, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার দ্রুত অগ্রগতি পণ্য নকশা বা প্রোডাক্ট ডিজাইন খাতে বড় ধরনের পরিবর্তন এনেছে। আগে যেসব কাজের জন্য মানুষের দক্ষতা অপরিহার্য ছিল, এখন তার অনেকটাই এআই দিয়ে করা সম্ভব হচ্ছে।   তিনি বলেন, “মডেল তৈরি, নকশার প্রাথমিক খসড়া এবং দৃশ্যায়নের মতো অনেক গুরুত্বপূর্ণ কাজ এখন কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার মাধ্যমে সম্পন্ন করা যাচ্ছে।”   বিশ্লেষকেরা বলছেন, চীনের এই উদ্যোগ বৈশ্বিক একটি প্রবণতারই অংশ। বিশ্বের বিভিন্ন দেশ তাদের জাতীয় শিক্ষাব্যবস্থা পুনর্গঠন করে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও ডিজিটাল দক্ষতাকে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে।   ভারত ইতোমধ্যে জাতীয় বিদ্যালয় শিক্ষা কার্যক্রমে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাবিষয়ক পাঠ অন্তর্ভুক্ত করেছে। সংযুক্ত আরব আমিরাতও জাতীয় পর্যায়ে এআই শিক্ষা উদ্যোগ চালু করেছে। একইভাবে কাজাখস্তান কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাকে জাতীয় প্রতিযোগিতা সক্ষমতার গুরুত্বপূর্ণ উপাদান হিসেবে বিবেচনা করে নতুন শিক্ষা কৌশল বাস্তবায়ন করছে।   ইউরোপেও এ ধরনের পরিবর্তন দেখা যাচ্ছে। স্পেন তার ‘ডিজিটাল স্পেন’ কৌশলের অংশ হিসেবে শিক্ষাক্রমে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বিষয়ে সচেতনতা বৃদ্ধির ওপর জোর দিয়েছে।   অন্যদিকে যুক্তরাজ্যেও শিক্ষা ব্যবস্থায় প্রযুক্তিনির্ভর পরিবর্তনের আলোচনা চলছে। দেশটির শিক্ষামন্ত্রী ব্রিজেট ফিলিপসন গত বছর জানিয়েছিলেন, মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক পর্যায়ে তথ্যবিজ্ঞান ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাবিষয়ক নতুন শিক্ষাগত যোগ্যতা চালুর সম্ভাবনা নিয়ে কাজ করছে সরকার।   যুক্তরাজ্যের জাতীয় শিক্ষাক্রমের গত এক দশকের সবচেয়ে বড় পর্যালোচনার ফল আগামী বছর প্রকাশ হওয়ার কথা রয়েছে। নতুন কাঠামো বাস্তবায়ন শুরু হবে ২০২৮ সালের সেপ্টেম্বর থেকে। ব্রিজেট ফিলিপসন সে সময় বলেছিলেন, “জাতীয় শিক্ষাক্রম সর্বশেষ হালনাগাদের পর এক দশকের বেশি সময় পেরিয়ে গেছে। বর্তমান বিশ্বের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় তরুণদের প্রস্তুত করা এখন আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ।”   তিনি আরও বলেন, “শিক্ষার্থীদের এমন দক্ষতা দিতে হবে, যাতে তারা ভবিষ্যতের সুযোগগুলো কাজে লাগাতে পারে এবং দ্রুত পরিবর্তনশীল বিশ্বের সঙ্গে নিজেদের খাপ খাইয়ে নিতে সক্ষম হয়।”

নীলুফা নিশাত জুন ১৫, ২০২৬ ১৪:০
ছবি: সংগৃহীত
যুক্তরাষ্ট্রে দুই বাংলাদেশি পিএইচডি শিক্ষার্থী নিখোঁজ: রহস্য ঘনীভূত, উঠছে নতুন প্রশ্ন

যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অব সাউথ ফ্লোরিডার দুই বাংলাদেশি ডক্টরাল শিক্ষার্থী জামিল লিমন ও নাহিদা সুলতানা বৃষ্টির নিখোঁজের ঘটনা দিন যত গড়াচ্ছে, ততই গভীর রহস্যের জন্ম দিচ্ছে। কয়েক দিন পেরিয়ে গেলেও তাদের কোনো সন্ধান না মেলায় পরিবার, সহপাঠী ও প্রবাসী বাংলাদেশিদের মধ্যে উদ্বেগ ক্রমেই বাড়ছে।   পরিবারের সদস্যরা জানিয়েছেন, জামিল ও বৃষ্টি স্বেচ্ছায় কোথাও চলে যাওয়ার মানুষ নন। জামিলের ভাই জুবায়ের আহমেদ বলেন, “পাঁচ দিন হয়ে গেছে। আমরা চরম উৎকণ্ঠায় আছি। সে কাউকে কিছু না বলে চলে যাবে—এটা কল্পনাও করতে পারি না।” একইভাবে বৃষ্টির ভাই জাহেদ হাসান প্রান্ত বোনের নিরাপদ ফিরে আসার আহ্বান জানিয়েছেন।   নিখোঁজের দিনের ঘটনাপ্রবাহ বিশ্লেষণে উঠে এসেছে কিছু অস্বাভাবিক তথ্য। জানা যায়, বৃহস্পতিবার সকাল ৯টার দিকে জামিল তার বাসা থেকে ফোন ও মানিব্যাগ নিয়ে বের হন, কিন্তু পাসপোর্ট রেখে যান। সকাল ১১টার দিকে তার ফোন সর্বশেষ বাসার আশপাশেই শনাক্ত হয়। অন্যদিকে, একই দিন সকাল ১০টার দিকে বৃষ্টি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাকৃতিক ও পরিবেশগত বিজ্ঞান ভবনে ছিলেন। তিনি ল্যাপটপ, ট্যাবলেট কম্পিউটার ও খাবারের বাক্স রেখে বের হন—সঙ্গে ছিল কেবল ফোন ও পার্স। বিকেল ৫টার দিকে তার ফোনের সর্বশেষ অবস্থান ক্যাম্পাস এলাকায় পাওয়া যায়।   পুলিশ জানিয়েছে, এখন পর্যন্ত সিসিটিভি ফুটেজে সন্দেহজনক কিছু পাওয়া যায়নি। প্রাথমিকভাবে অপহরণের সম্ভাবনা বিবেচনায় নিয়ে পরিবারকে গণমাধ্যমে কথা বলতে নিরুৎসাহিত করা হয়েছিল। পরে কোনো অগ্রগতি না হওয়ায় বিষয়টি প্রকাশ্যে আসে। বাংলাদেশ দূতাবাস ইতোমধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় তদন্ত সংস্থাকে মামলায় সম্পৃক্ত করার অনুরোধ জানিয়েছে এবং নিশ্চিত করেছে, নিখোঁজ দুই শিক্ষার্থী কেউই অভিবাসন হেফাজতে নেই।   এই ঘটনার সঙ্গে সাম্প্রতিক সময়ের আরেকটি বিষয়ও আলোচনায় এসেছে। যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন সংবেদনশীল গবেষণা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যুক্ত কয়েকজন বিজ্ঞানী ও কর্মকর্তার রহস্যজনক মৃত্যু বা নিখোঁজের ঘটনাও নতুন করে প্রশ্ন তুলছে। বিষয়টি নিয়ে সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প মন্তব্য করেছেন বলেও বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে।   তবে বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলছেন, এ ধরনের ঘটনাকে সরাসরি কোনো ষড়যন্ত্রের সঙ্গে যুক্ত করা এখনই যৌক্তিক নয়। বিচ্ছিন্ন ঘটনা হিসেবেও এগুলো ঘটতে পারে। তবুও একাধিক মিল—যেমন হঠাৎ যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়া, পাসপোর্ট রেখে যাওয়া—তদন্তকে আরও জটিল করে তুলেছে।   এদিকে যুক্তরাষ্ট্রসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে বসবাসরত বাংলাদেশি সম্প্রদায়ের মধ্যে উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিখোঁজ দুই শিক্ষার্থীর খোঁজে ব্যাপক প্রচারণা চলছে। অনেকেই প্রশ্ন তুলছেন—কেন তদন্তে অগ্রগতি নেই এবং ঘটনার পেছনে অন্য কোনো কারণ রয়েছে কি না।   তদন্ত সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এখনো কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো সম্ভব হয়নি। তবে পরিবার ও স্বজনদের দাবি, এটি কোনো স্বাভাবিক নিখোঁজের ঘটনা নয় এবং দ্রুত উদ্ধারই এখন সবচেয়ে জরুরি। যে কেউ জামিল লিমন বা নাহিদা সুলতানা বৃষ্টির বিষয়ে তথ্য জানলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানাতে অনুরোধ করা হয়েছে।

শাহারিয়া নয়ন এপ্রিল ২২, ২০২৬ ১৪:০
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী
ইসরায়েল আমাদের জ্ঞানশূন্য করতে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে হামলা করছে: ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী

ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি দেশটির শিক্ষা ও একাডেমিক কেন্দ্রগুলোতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সাম্প্রতিক হামলার তীব্র সমালোচনা করেছেন। তিনি অভিযোগ করেছেন যে, এই হামলার মূল লক্ষ্য কেবল সামরিক স্থাপনা নয়, বরং ইরানের মেধা ও জ্ঞানভিত্তিক সমাজকে ধ্বংস করা। আরাঘচির মতে, ইরানের শীর্ষস্থানীয় বিশ্ববিদ্যালয় ও গবেষণা কেন্দ্রগুলোকে টার্গেট করার মাধ্যমে ইসরায়েল মূলত ইরানকে ‘জ্ঞানশূন্য’ (brain-drain) করার একটি সুদূরপ্রসারী ষড়যন্ত্র লিপ্ত হয়েছে। তিনি একে আন্তর্জাতিক আইন ও মানবিক মূল্যবোধের চরম লঙ্ঘন হিসেবে অভিহিত করেছেন।   পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরও উল্লেখ করেন যে, ইরানের তরুণ প্রজন্ম ও শিক্ষার্থীদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে দিয়ে তাদের শিক্ষা কার্যক্রম ব্যাহত করাই এই হামলার প্রধান উদ্দেশ্য। তবে তিনি দৃঢ়তার সাথে জানিয়েছেন যে, এ ধরণের হামলা চালিয়ে ইরানের বৈজ্ঞানিক ও প্রযুক্তিগত অগ্রগতি থামানো সম্ভব হবে না। ইতিমধ্যে ইরানের বেশ কয়েকটি বিশ্ববিদ্যালয়ে বোমা ও ড্রোন হামলার খবর পাওয়া গেছে, যা নিয়ে বিশ্বজুড়ে নিন্দার ঝড় উঠেছে। আরাঘচি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে এই ‘সাংস্কৃতিক ও শিক্ষাগত আগ্রাসনের’ বিরুদ্ধে সোচ্চার হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।   বিশ্লেষকদের মতে, যুদ্ধের ময়দান যখন সাধারণ অবকাঠামো থেকে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের দিকে মোড় নেয়, তখন তা দীর্ঘমেয়াদী মনস্তাত্ত্বিক যুদ্ধের রূপ ধারণ করে। ইরানের উচ্চশিক্ষা ও গবেষণা খাতের ওপর এই আঘাত দেশটির ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব ও উদ্ভাবনী শক্তিকে দুর্বল করার একটি কৌশল হতে পারে। তবে তেহরান জানিয়েছে, তারা ক্ষতিগ্রস্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো দ্রুত সংস্কার করবে এবং শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে অতিরিক্ত ব্যবস্থা গ্রহণ করবে। এই হামলার প্রতিবাদে ইরানের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে ছাত্র বিক্ষোভের খবরও পাওয়া গেছে।

Unknown মার্চ ২৯, ২০২৬ ১৪:০
জনপ্রিয় সংবাদ
যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

দেশের প্রথম ৪০ তলা ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর সম্পন্ন

বাংলাদেশের আবাসন শিল্পে এক নতুন ইতিহাস রচিত হলো। রাজধানীর তেজগাঁও শিল্প এলাকায় নির্মিত দেশের প্রথম ৪০ তলা বিশিষ্ট আকাশচুম্বী বাণিজ্যিক ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করেছে শান্তা হোল্ডিংস। ৫০০ ফুট উচ্চতার এই আইকনিক ভবনটি এখন দেশের সর্বোচ্চ সম্পন্ন হওয়া ইমারত। গত শনিবার (১৮ এপ্রিল) ভবনের ৪০তম তলায় আয়োজিত এক আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এটি হস্তান্তর করা হয়। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের চেয়ারম্যান খন্দকার মনির উদ্দিন, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, স্থপতি এহসান খানসহ প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, ভূমি মালিক এবং গ্রাহকরা উপস্থিত ছিলেন। স্থাপত্যশৈলী ও আধুনিক প্রযুক্তি:‘শান্তা পিনাকল’ শুধুমাত্র উচ্চতার কারণেই অনন্য নয়, বরং এটি আধুনিক নির্মাণশৈলী ও প্রযুক্তির এক অনন্য সমন্বয়। এটি বাংলাদেশের প্রথম ভবন যা পরিবেশবান্ধব স্থাপত্যের জন্য আন্তর্জাতিক ‘লিড প্ল্যাটিনাম’ (LEED Platinum) স্বীকৃতি পেয়েছে। সিঙ্গাপুরভিত্তিক বিখ্যাত ইঞ্জিনিয়ারিং প্রতিষ্ঠান ‘মেইনহার্ট’ (Meinhardt) এর সহায়তায় ভবনটির স্ট্রাকচারাল ডিজাইন এবং ভূমিকম্প প্রতিরোধক ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে। বিশেষ বৈশিষ্ট্যসমূহ: উন্নত লিফট ব্যবস্থা: ভবনটিতে রয়েছে ৮টি দ্রুতগামী লিফট, যা প্রতি সেকেন্ডে ৪ মিটার উচ্চতায় উঠতে সক্ষম। এটি দেশের দ্রুততম ভার্টিক্যাল ট্রান্সপোর্ট ব্যবস্থা। পরিবেশ ও সুরক্ষা: ভবনে ব্যবহৃত হয়েছে ৩৬ মিমি পুরুত্বের ডাবল গ্লেজড গ্লাস, যা তাপ ও শব্দ নিরোধক। এছাড়া এটি দেশের প্রথম ‘উইন্ড টানেল টেস্ট’ করা ভবন, যা প্রতিকূল আবহাওয়ায় এর স্থায়িত্ব নিশ্চিত করে। আইবিএমএস প্রযুক্তি: পুরো ভবনটি একটি ইন্টেলিজেন্ট বিল্ডিং ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (iBMS) দ্বারা পরিচালিত, যা সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা ও জ্বালানি সাশ্রয় নিশ্চিত করবে। অগ্নি নিরাপত্তা: আন্তর্জাতিক এনএফপিএ (NFPA) স্ট্যান্ডার্ড অনুসরণ করে এখানে অত্যাধুনিক অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা স্থাপন করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর দেশের রিয়েল এস্টেট খাতের সক্ষমতার এক বড় প্রমাণ। এটি শুধুমাত্র তেজগাঁও নয়, বরং পুরো ঢাকার বাণিজ্যিক পরিবেশকে বিশ্বমানের স্তরে নিয়ে যাবে। দেশের ইতিহাসে প্রথমবার অ্যালুমিনিয়াম ফর্মওয়ার্ক ব্যবহারের মাধ্যমে মাত্র সাত দিনে এক একটি তলার ছাদ ঢালাইয়ের রেকর্ড গড়ে এই প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। ঢাকার আকাশসীমায় নতুন এই ল্যান্ডমার্ক দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং আধুনিক নগরায়নের এক শক্তিশালী প্রতীক হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে।

ছয় বছরের মেয়ের মৃত্যুর পর বাবারও মরদেহ উদ্ধার , একসঙ্গে দাফন করা হবে বাবা-মেয়েকে

অস্ট্রেলিয়ার সিডনিতে ছয় বছরের এক শিশুকন্যা ও তার বাবার মৃত্যুকে ঘিরে শোকের ছায়া নেমে এসেছে স্থানীয় সম্প্রদায়ের মধ্যে। পুলিশ জানিয়েছে, পারামাট্টা নদীতে ঘটে যাওয়া এই মর্মান্তিক ঘটনায় ৪৭ বছর বয়সী মওলিক ধান্ধুকিয়া এবং তার ছয় বছরের মেয়ের মৃত্যু হয়েছে। ঘটনার পর তাদের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।   স্থানীয় গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত শনিবার সিডনির কনকর্ড এলাকার কাছে একটি নৌকা ভাড়া করেছিলেন মওলিক ধান্ধুকিয়া। তার সঙ্গে ছিলেন ছয় বছর বয়সী কন্যা। কিছু সময় পর নদীতে জরুরি পরিস্থিতির খবর পেয়ে উদ্ধার অভিযান শুরু করে পুলিশ ও জরুরি সেবা সংস্থাগুলো।   আরও পড়ুন...টেক্সাসে স্বামীর গুলিতে স্ত্রী নিহত, পরে পুলিশের গুলিতে স্বামী নিহত; দুই শিশুকে   পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, দুপুরের কিছু আগে মওলিক ধান্ধুকিয়ার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এরপর প্রায় সাত ঘণ্টা ধরে শিশুটির সন্ধানে ব্যাপক অনুসন্ধান চালানো হয়। উদ্ধারকারীরা শেষ পর্যন্ত বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে শিশুকন্যার মরদেহ নদী থেকে উদ্ধার করেন। ঘটনার তদন্তে সহায়তার জন্য আশপাশের বিভিন্ন সূত্র থেকে তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে। স্থানীয় একটি স্থাপনার সিসিটিভি ফুটেজও তদন্তকারীদের হাতে এসেছে। পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনাটির প্রকৃত কারণ অনুসন্ধানে সব দিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে।   এদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত এক শোকবার্তায় জানানো হয়েছে, আগামী শুক্রবার রাউস হিলের ক্যাসেলব্রুক ক্রেমেটোরিয়ামে বাবা ও মেয়ের যৌথ শেষকৃত্য অনুষ্ঠিত হবে। শোকবার্তায় লেখা হয়েছে, “দুই কোমল ও সদয় আত্মা, যারা চিরকাল আমাদের হৃদয়ে বেঁচে থাকবে। তাদের আত্মার শান্তি কামনা করছি।” তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ঘটনার আগে কয়েক দফা নৌকা ভাড়া করেছিলেন মওলিক ধান্ধুকিয়া। একবার তার স্ত্রী প্রীতিবেন ধান্ধুকিয়াও তার সঙ্গে ছিলেন বলে জানা গেছে।   আরও পড়ুন...টেক্সাসে বিস্ফোরণের আগুনে পুড়েও বাড়ি ও নাতি-নাতনিদের বাঁচালেন এক সাহসী দাদা   পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে একটি চিরকুট উদ্ধার করেছে, যা তদন্তের অংশ হিসেবে পরীক্ষা করা হচ্ছে। তবে এখন পর্যন্ত এর বিষয়বস্তু প্রকাশ করা হয়নি। কেন এমন ঘটনা ঘটল, সে বিষয়ে নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। তবে মৃত্যুর প্রায় দুই সপ্তাহ আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দীর্ঘ একটি পোস্ট করেছিলেন মওলিক ধান্ধুকিয়া। সেখানে তিনি ২০০৫ সালে জিমে ব্যায়াম করার সময় ঘাড়ে পাওয়া আঘাতের কারণে দীর্ঘদিন ধরে ভোগা শারীরিক সমস্যার কথা উল্লেখ করেছিলেন।   ওই পোস্টে তিনি লিখেছিলেন, ঘাড়ের দীর্ঘস্থায়ী ব্যথা তার জীবনের অনেক সমস্যার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছিল। এমআরআই পরীক্ষায় তার মেরুদণ্ডের ঘাড়ের অংশে স্নায়ুর ওপর চাপের বিষয়টি ধরা পড়ে বলেও তিনি উল্লেখ করেন। মওলিক ধান্ধুকিয়া পেশাগত জীবনে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে কাজ করতেন। ২০২২ সাল থেকে তিনি সাউথ ইস্টার্ন সিডনি লোকাল হেলথ ডিস্ট্রিক্টে অ্যাপ্লিকেশন সাপোর্ট বিশ্লেষক হিসেবে কর্মরত ছিলেন। এর আগে অস্ট্রেলিয়া ও ভারতে বিভিন্ন সফটওয়্যার প্রতিষ্ঠানে কাজ করেছেন।   এই ঘটনার পর পরিবারটির জন্য সহায়তা তহবিলও গঠন করেছেন স্বজন ও পারিবারিক বন্ধুরা। তহবিল সংগ্রহের আহ্বানে বলা হয়েছে, প্রীতিবেন ধান্ধুকিয়া একসঙ্গে তার স্বামী ও একমাত্র কন্যাকে হারিয়েছেন। এই কঠিন সময়ে তাকে আর্থিক ও মানসিক সহায়তা দেওয়ার জন্য সবাইকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানানো হয়েছে।   ▶️ ট্রাম্পের লাখ ডলারের এইচ-১বি ভিসা ফি অবৈধ ঘোষণা মার্কিন আদালতের   তহবিলের অর্থ শেষকৃত্যের ব্যয়, ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতা এবং নিকট আত্মীয়দের যাতায়াত ও আবাসন খাতে ব্যবহার করা হবে বলে জানানো হয়েছে। নিউ সাউথ ওয়েলস পুলিশের সুপারিনটেনডেন্ট ক্রিস্টিন ম্যাকডোনাল্ড ঘটনাটিকে “পরিবার ও সমাজের জন্য এক গভীর ট্র্যাজেডি” হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তিনি বলেন, “এটি অত্যন্ত হৃদয়বিদারক একটি ঘটনা। আমরা সব দিক থেকে তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছি এবং কোনো সম্ভাবনাই উপেক্ষা করা হবে না।” পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার পেছনে পারিবারিক সহিংসতার কোনো উপাদান ছিল কি না, সেটিও তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। তবে এখন পর্যন্ত কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো হয়নি।   ঘটনার পর পুরো এলাকায় শোকের আবহ বিরাজ করছে। বাবা ও মেয়ের একসঙ্গে শেষকৃত্যের খবর আরও আবেগঘন পরিবেশ তৈরি করেছে। স্বজন ও পরিচিতজনরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাদের স্মরণ করে শোক প্রকাশ করছেন।

Top week

বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু
আমেরিকা

বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

নীলুফা নিশাত জুন ২৬, ২০২৬ ১৪:০