ভিয়েতনামের অন্যতম বৃহৎ আর্থিক জালিয়াতি মামলায় দোষী সাব্যস্ত কারাবন্দী ধনকুবের ট্রুং মাই লান (Truong My Lan)-এর বিলাসবহুল সম্পদ নিলামে তোলা হচ্ছে। তবে এই নিলাম থেকে অর্জিত অর্থ তার বিরুদ্ধে থাকা বিপুল ক্ষতিপূরণ দাবির তুলনায় অত্যন্ত অপ্রতুল বলে জানা গেছে। একসময় ভিয়েতনামের শীর্ষ ধনী ব্যবসায়ীদের একজন হিসেবে পরিচিত ট্রুং মাই লান একটি ব্যাংক-সংক্রান্ত জালিয়াতি মামলায় প্রায় ৪৪ বিলিয়ন মার্কিন ডলার আত্মসাতের অভিযোগে অভিযুক্ত হন। এটি দেশটির ইতিহাসে অন্যতম বৃহৎ আর্থিক জালিয়াতির ঘটনা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। প্রাথমিকভাবে ২০২৪ সালে তাকে ১২ বিলিয়ন ডলার আত্মসাতের একটি মামলায় মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছিল। পরে আইন অনুযায়ী তিন-চতুর্থাংশ অর্থ ফেরত দেওয়ার শর্তে সেই সাজা কার্যকর না হওয়ার সিদ্ধান্ত আসে। এরপর ভিয়েতনাম সরকার মৃত্যুদণ্ডযোগ্য অপরাধের তালিকা থেকে একাধিক ধারা বাদ দিলে তার সাজা পরিবর্তন করে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডে রূপান্তর করা হয়। আদালতের তথ্য অনুযায়ী, ক্ষতিপূরণ বাবদ তার এখনো প্রায় ২৭ বিলিয়ন ডলার পরিশোধ বাকি রয়েছে। সম্প্রতি নিলামে ট্রুং মাই লানের মালিকানাধীন দুটি হারমেস ব্র্যান্ডের বিলাসবহুল হ্যান্ডব্যাগ বিক্রি হয় প্রায় ৫ লাখ ৩৯ হাজার মার্কিন ডলারে। এর মধ্যে একটি ব্যাগ তিনি ইতালিতে কিনেছিলেন এবং অন্যটি মালয়েশিয়ার এক ধনী ব্যক্তির কাছ থেকে উপহার হিসেবে পান বলে জানা যায়। এছাড়া তার ব্যবহৃত কয়েকটি বিলাসবহুল গাড়িও নিলামে তোলা হয়। এর মধ্যে একটি মেব্যাক গাড়ি প্রায় ৬ লাখ ৩০ হাজার ডলারে বিক্রি হয়। পাশাপাশি একটি বিএমডব্লিউ ও একটি লেক্সাস তুলনামূলক কম দামে বিক্রি হয়। আইনজীবীদের মতে, নিলাম থেকে প্রাপ্ত অর্থ প্রথমে বিচারিক ব্যয়, মামলা পরিচালনার খরচ এবং সম্পদ বিক্রির প্রশাসনিক ব্যয় মেটাতে ব্যবহার করা হবে। ফলে ক্ষতিপূরণ হিসেবে ভুক্তভোগীদের হাতে পৌঁছাবে এর একটি ছোট অংশ মাত্র। এর আগে তার মালিকানাধীন একটি বিলাসবহুল ইয়ট বিক্রির চেষ্টা করা হলেও একাধিকবার নিলাম ব্যর্থ হয়। একই ধরনের আরও কিছু সম্পদ বিক্রির উদ্যোগ নেওয়া হলেও ক্রেতার অভাবে সেগুলো বিক্রি হয়নি বলে স্থানীয় গণমাধ্যম জানিয়েছে। তদন্ত অনুযায়ী, ট্রুং মাই লান ও তার সহযোগীরা শেল কোম্পানি ব্যবহার করে ব্যাংক থেকে বিপুল পরিমাণ অর্থ উত্তোলন করেন এবং ঘুষের মাধ্যমে নিয়ন্ত্রক সংস্থার কর্মকর্তাদের প্রভাবিত করেন। এই মামলায় তার বিরুদ্ধে অর্থ পাচার, জালিয়াতি এবং অবৈধভাবে অর্থ স্থানান্তরের একাধিক অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত রায় রয়েছে।
ভিয়েতনামের হো চি মিন সিটিতে মাংসের জন্য পোষা বিড়াল পাচারকারী একটি বড় চক্রের আস্তানা গুঁড়িয়ে দিয়েছে দেশটির পুলিশ। কয়েক দিন ধরে চলা এই বিশেষ অভিযানে ৪শরও বেশি জীবিত বিড়াল উদ্ধার করা হয়েছে। একই সঙ্গে পোষা প্রাণী চুরির এই চক্রটির সাথে জড়িত থাকার অভিযোগে ৯ জনকে আটক করা হয়েছে। বুধবার (১৭ জুন) ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ানের এক প্রতিবেদনে ভিয়েতনামের স্থানীয় গণমাধ্যম ও প্রাণী কল্যাণ সংস্থাগুলোর বরাতে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়, হো চি মিন সিটিতে সাম্প্রতিক সময়ে বিপুলসংখ্যক পোষা বিড়াল চুরির ঘটনা তদন্ত করতে গিয়ে পুলিশ এই আন্তর্জাতিক অপরাধ চক্রের সন্ধান পায়। অভিযানে পুলিশ সন্দেহভাজনদের আস্তানা থেকে ৪৫টি খাঁচায় বন্দি অবস্থায় প্রায় ৪০০টি জীবিত বিড়াল উদ্ধার করে। এছাড়া বরফ ভর্তি চারটি ফোমের বাক্সে আরও প্রায় ৮০টি মৃত বিড়াল এবং অন্য একটি আস্তানা থেকে আরও ২১টি জীবিত বিড়াল জব্দ করা হয়। উদ্ধার হওয়া মোট ৫০০টিরও বেশি বিড়ালের এই ঘটনাটিকে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ভিয়েতনামের ইতিহাসে অন্যতম বড় প্রাণী উদ্ধার অভিযান হিসেবে বর্ণনা করা হচ্ছে। পুলিশি জেরার মুখে আটককৃতরা স্বীকার করেছে যে, তারা গত তিন বছর ধরে হো চি মিন সিটি, তে নিন এবং আন গিয়াংসহ দক্ষিণ ভিয়েতনামের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে মানুষের পোষা বিড়াল ধরে এনে পাচার করছিল। আন্তর্জাতিক প্রাণী কল্যাণ সংস্থা 'হিউম্যান ওয়ার্ল্ড ফর অ্যানিমেলস'-এর প্রতিনিধি কারানভির কুকরেজা বলেন, এই ঘটনাটি ভিয়েতনামে বিড়ালের মাংসের ব্যবসার বিশাল এবং ভয়াবহ রূপটিকে আবারও সবার সামনে এনেছে। উদ্ধারকৃত বিড়ালগুলোর মধ্যে বেশ কয়েকটি গর্ভবতী ছিল এবং চলতি সপ্তাহে পুলিশি হেফাজতে থাকা অবস্থাতেই কিছু বাচ্চার জন্ম হয়েছে। উদ্ধার অভিযানের পর গত কয়েক দিনে অন্তত ৪০টি বিড়ালকে তাদের আসল মালিকদের কাছে ফিরিয়ে দেওয়া সম্ভব হয়েছে। তবে অত্যন্ত অস্বাস্থ্যকর ও নির্মম পরিবেশে আটকে রাখার কারণে উদ্ধার হওয়া বিড়ালগুলোর মধ্যে বেশ কয়েকটি ইতিমধ্যে মারা গেছে। বিড়ালগুলোর সেবায় বর্তমানে স্থানীয় পশু চিকিৎসক এবং স্বেচ্ছাসেবকরা দিনরাত কাজ করে যাচ্ছেন। অনেক পরিবার তাদের হারিয়ে যাওয়া পোষা বিড়ালটিকে খুঁজতে এসে না পেয়ে চোখের জল ফেলছেন। ভিয়েতনামে কুকুর এবং বিড়ালের মাংস খাওয়া ও বিক্রি করা আইনত বৈধ হলেও বিক্রেতাদের অবশ্যই প্রাণীর উৎসের বৈধ অনুমতিপত্র থাকতে হয়। তবে ২০২৪ সালে দক্ষিণ কোরিয়ায় কুকুরের মাংস নিষিদ্ধ হওয়ার পর ভিয়েতনাম সরকারও পোষা প্রাণীদের সুরক্ষায় আইন সংস্কারের পরিকল্পনা করছে। হো চি মিন সিটির স্থানীয় বাসিন্দা ও শিক্ষার্থীরা আশা করছেন, এই বড় ঘটনাটি প্রকাশ পাওয়ার পর সাধারণ মানুষের মধ্যে বিড়ালের মাংস খাওয়ার বিরুদ্ধে ব্যাপক সচেতনতা তৈরি হবে।
চাঁদ দেখা সাপেক্ষে বিভিন্ন দেশে একেক দিন পবিত্র ঈদুল ফিতর পালিত হচ্ছে। বাংলাদেশে ঈদ আজ (শনিবার)। সকালে যখন সবাই ঈদের নামাজে ব্যস্ত, তখন দেশের ফুটবলপ্রেমীরা আন্তর্জাতিক মাঠে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করতে রওনা হয়েছে। ঈদের সকালে বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-২০ দল মালদ্বীপের উদ্দেশে দেশ ত্যাগ করেছে, যাতে তারা সাফ অনূর্ধ্ব-২০ টুর্নামেন্ট খেলতে পারে। একই সময়ে, বাংলাদেশ অ-২০ নারী ফুটবল দল এএফসি অনূর্ধ্ব-২০ টুর্নামেন্ট খেলতে ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্সের মাধ্যমে থাইল্যান্ডের ব্যাংকক গিয়েছে। এদিকে, ভিয়েতনামে পৌঁছেছেন বাংলাদেশ জাতীয় ফুটবল দলের খেলোয়াড় জামাল ভূঁইয়া নেতৃত্বাধীন দল। গতকাল রাতে দল ভিয়েতনামের উদ্দেশে রওনা হয়েছিল। চীনের গুয়াংজুতে কয়েক ঘণ্টার যাত্রাবিরতির পর আজ সকালে হ্যানয় পৌঁছেছে দল। আগামীকাল রোববার ইংল্যান্ড থেকে হামজা চৌধুরী ভিয়েতনামের সঙ্গে দলের সাথে যোগ দেবেন। বাংলাদেশ ভিয়েতনামের বিপক্ষে ২৬ মার্চ প্রীতি ম্যাচ খেলবে। ওই ম্যাচের পরপরই দল সিঙ্গাপুরের উদ্দেশে রওনা হবে। ৩১ মার্চ সিঙ্গাপুরের বিপক্ষে এশিয়ান কাপ বাছাইয়ের শেষ ম্যাচ অনুষ্ঠিত হবে। উল্লেখযোগ্য, সিঙ্গাপুর ইতিমধ্যেই এশিয়ান কাপের জন্য যোগ্যতা অর্জন করেছে, তাই বাংলাদেশ দলের জন্য ম্যাচটি মূলত নিয়মরক্ষার মর্যাদা বহন করছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
বাংলাদেশের আবাসন শিল্পে এক নতুন ইতিহাস রচিত হলো। রাজধানীর তেজগাঁও শিল্প এলাকায় নির্মিত দেশের প্রথম ৪০ তলা বিশিষ্ট আকাশচুম্বী বাণিজ্যিক ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করেছে শান্তা হোল্ডিংস। ৫০০ ফুট উচ্চতার এই আইকনিক ভবনটি এখন দেশের সর্বোচ্চ সম্পন্ন হওয়া ইমারত। গত শনিবার (১৮ এপ্রিল) ভবনের ৪০তম তলায় আয়োজিত এক আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এটি হস্তান্তর করা হয়। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের চেয়ারম্যান খন্দকার মনির উদ্দিন, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, স্থপতি এহসান খানসহ প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, ভূমি মালিক এবং গ্রাহকরা উপস্থিত ছিলেন। স্থাপত্যশৈলী ও আধুনিক প্রযুক্তি:‘শান্তা পিনাকল’ শুধুমাত্র উচ্চতার কারণেই অনন্য নয়, বরং এটি আধুনিক নির্মাণশৈলী ও প্রযুক্তির এক অনন্য সমন্বয়। এটি বাংলাদেশের প্রথম ভবন যা পরিবেশবান্ধব স্থাপত্যের জন্য আন্তর্জাতিক ‘লিড প্ল্যাটিনাম’ (LEED Platinum) স্বীকৃতি পেয়েছে। সিঙ্গাপুরভিত্তিক বিখ্যাত ইঞ্জিনিয়ারিং প্রতিষ্ঠান ‘মেইনহার্ট’ (Meinhardt) এর সহায়তায় ভবনটির স্ট্রাকচারাল ডিজাইন এবং ভূমিকম্প প্রতিরোধক ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে। বিশেষ বৈশিষ্ট্যসমূহ: উন্নত লিফট ব্যবস্থা: ভবনটিতে রয়েছে ৮টি দ্রুতগামী লিফট, যা প্রতি সেকেন্ডে ৪ মিটার উচ্চতায় উঠতে সক্ষম। এটি দেশের দ্রুততম ভার্টিক্যাল ট্রান্সপোর্ট ব্যবস্থা। পরিবেশ ও সুরক্ষা: ভবনে ব্যবহৃত হয়েছে ৩৬ মিমি পুরুত্বের ডাবল গ্লেজড গ্লাস, যা তাপ ও শব্দ নিরোধক। এছাড়া এটি দেশের প্রথম ‘উইন্ড টানেল টেস্ট’ করা ভবন, যা প্রতিকূল আবহাওয়ায় এর স্থায়িত্ব নিশ্চিত করে। আইবিএমএস প্রযুক্তি: পুরো ভবনটি একটি ইন্টেলিজেন্ট বিল্ডিং ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (iBMS) দ্বারা পরিচালিত, যা সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা ও জ্বালানি সাশ্রয় নিশ্চিত করবে। অগ্নি নিরাপত্তা: আন্তর্জাতিক এনএফপিএ (NFPA) স্ট্যান্ডার্ড অনুসরণ করে এখানে অত্যাধুনিক অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা স্থাপন করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর দেশের রিয়েল এস্টেট খাতের সক্ষমতার এক বড় প্রমাণ। এটি শুধুমাত্র তেজগাঁও নয়, বরং পুরো ঢাকার বাণিজ্যিক পরিবেশকে বিশ্বমানের স্তরে নিয়ে যাবে। দেশের ইতিহাসে প্রথমবার অ্যালুমিনিয়াম ফর্মওয়ার্ক ব্যবহারের মাধ্যমে মাত্র সাত দিনে এক একটি তলার ছাদ ঢালাইয়ের রেকর্ড গড়ে এই প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। ঢাকার আকাশসীমায় নতুন এই ল্যান্ডমার্ক দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং আধুনিক নগরায়নের এক শক্তিশালী প্রতীক হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা প্রত্যাশীদের জন্য কঠোর হচ্ছে নিয়মাবলী। আগামী ৩০ মার্চ থেকে কার্যকর হতে যাচ্ছে নতুন ভিসা রুলস, যেখানে আবেদনকারীদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের প্রোফাইল পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই বা স্ক্রিনিং করা হবে। মার্কিন প্রশাসনের এই নতুন পদক্ষেপে বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ভিসা প্রত্যাশীদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। নতুন এই নিয়ম মূলত অ-অভিবাসী (Non-immigrant) এবং অভিবাসী (Immigrant) উভয় ধরণের ভিসার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হতে পারে। বিশেষ করে যারা ট্যুরিস্ট ভিসা, স্টুডেন্ট ভিসা এবং কাজের সন্ধানে এইচ-১বি (H-1B) ভিসার জন্য আবেদন করবেন, তাদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের তথ্য প্রদান বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে। আবেদনকারীদের গত পাঁচ বছরের ব্যবহৃত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোর ইউজার আইডি বা হ্যান্ডেল নাম ফর্মে উল্লেখ করতে হবে। ফেসবুক, টুইটার (বর্তমানে এক্স), ইনস্টাগ্রাম এবং ইউটিউবের মতো জনপ্রিয় প্ল্যাটফর্মগুলো এই স্ক্রিনিংয়ের আওতায় থাকবে। তবে পাসওয়ার্ড দেওয়ার প্রয়োজন হবে না। মূলত আবেদনকারীর নিরাপত্তা ঝুঁকি এবং পূর্ববর্তী কোনো উসকানিমূলক বা সন্দেহজনক কর্মকাণ্ড আছে কি না, তা যাচাই করতেই এই পদক্ষেপ। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং জননিরাপত্তার স্বার্থেই এই স্ক্রিনিং প্রক্রিয়া জোরদার করা হয়েছে। কোনো ব্যক্তি যদি অতীতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে উগ্রবাদ বা আইনবিরোধী কোনো কাজে লিপ্ত থেকে থাকেন, তবে তার ভিসা আবেদন বাতিল হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হবে। ভিসা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ৩০ মার্চের পর যারা আবেদন করবেন, তাদের অবশ্যই গত ৫ বছরের ডিজিটাল ফুটপ্রিন্ট সম্পর্কে সতর্ক থাকতে হবে। কোনো ভুল তথ্য দিলে বা তথ্য গোপন করলে তা স্থায়ীভাবে ভিসা প্রত্যাখ্যাত হওয়ার কারণ হতে পারে। এছাড়া ইমেইল অ্যাড্রেস এবং ফোন নম্বর প্রদানের ক্ষেত্রেও অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এই নতুন নিয়ম চালুর ফলে ভিসা প্রক্রিয়াকরণে কিছুটা অতিরিক্ত সময় লাগতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তাই প্রয়োজনীয় কাগজপত্র এবং অনলাইন প্রোফাইল গুছিয়ে আবেদন করার পরামর্শ দিচ্ছে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো।
যুক্তরাষ্ট্রের ঐতিহ্যবাহী স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাবর্তন অনুষ্ঠানে গুগলের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) সুন্দর পিচাইয়ের বক্তব্য চলাকালীন ফিলিস্তিনপন্থী শিক্ষার্থীদের তীব্র বিক্ষোভ ও অনুষ্ঠান বর্জনের (ওয়াকআউট) ঘটনা ঘটেছে। রোববার বিশ্ববিদ্যালয়ের ১৩৫তম সমাবর্তন অনুষ্ঠানে সুন্দর পিচাই প্রধান বক্তা হিসেবে মঞ্চে ওঠার পরপরই এই ঘটনা ঘটে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া বিভিন্ন ভিডিওতে দেখা যায়, সুন্দর পিচাই বক্তব্য শুরু করার মুহূর্তেই সমাবর্তনস্থলে উপস্থিত ১০০ জনেরও বেশি গ্র্যাজুয়েট শিক্ষার্থী তাদের আসন ছেড়ে উঠে দাঁড়ান। এ সময় তারা "ফ্রি, ফ্রি প্যালেস্টাইন" (ফিলিস্তিনের মুক্তি চাই) বলে উচ্চকণ্ঠে স্লোগান দিতে দিতে স্টেডিয়াম ত্যাগ করেন। কট্টর বামপন্থী ছাত্র সংগঠন 'স্টুডেন্টস ফর জাস্টিস ইন প্যালেস্টাইন' এবং 'নো টেক ফর অ্যাপার্থাইড'-এর যৌথ আহ্বানে এই প্রতিবাদের আয়োজন করা হয়। বিক্ষোভের মূল কারণ হিসেবে ইসরায়েল সরকারের সাথে গুগলের ১.২ বিলিয়ন ডলারের ক্লাউড কম্পিউটিং চুক্তি 'প্রজেক্ট নিম্বাস'-কে দায়ী করা হচ্ছে। আমাজনের সাথে যৌথভাবে পরিচালিত এই প্রকল্পের মাধ্যমে গুগল ইসরায়েল সরকারকে ক্লাউড ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তি সরবরাহ করে আসছে। আন্দোলনকারী শিক্ষার্থী ও মানবাধিকার কর্মীদের অভিযোগ, গুগলের এই প্রযুক্তি ফিলিস্তিনিদের ওপর নজরদারি এবং ইসরায়েলের সামরিক ও নিরাপত্তা বাহিনীর বিভিন্ন ধ্বংসাত্মক কার্যকলাপে ব্যবহৃত হতে পারে। যদিও গুগল বরাবরই এই দাবি অস্বীকার করে বলেছে, এটি কেবল সরকারি বেসামরিক কাজের জন্য একটি ক্লাউড সেবা। উল্লেখ্য, সুন্দর পিচাই নিজে ১৯৯৫ সালে এই স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয় থেকেই মেটেরিয়ালস সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেছিলেন। নিজের সাবেক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে আমন্ত্রিত অতিথি হিসেবে এসে তাকে এমন নজিরবিহীন প্রতিবাদের মুখে পড়তে হলো। এর আগে ২০২৪ সালেও এই প্রজেক্ট নিম্বাসের বিরুদ্ধে গুগলের ক্যালিফোর্নিয়া ও নিউইয়র্ক অফিসে কর্মকর্তা-কর্মচারীরা অবস্থান ধর্মঘট করলে গুগল কয়েক ডজন কর্মীকে চাকরিচ্যুত করেছিল। চলতি বছর আমেরিকার বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাবর্তন অনুষ্ঠানে বিশ্বখ্যাত প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের প্রধানদের লক্ষ্য করে শিক্ষার্থীদের এমন ক্ষোভ প্রকাশের ঘটনা নিয়মিত চিত্র হয়ে দাঁড়িয়েছে। কিছুদিন আগেই অ্যারিজোনা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাবর্তনে গুগলের সাবেক সিইও এরিক শ্মিড বক্তব্য দিতে গেলে এআই প্রযুক্তির ক্ষতিকর প্রভাব নিয়ে শিক্ষার্থীরা তাকে ধুয়ে দেয়। তবে স্ট্যানফোর্ডের অনুষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের এই তুমুল হট্টগোল ও কক্ষ ত্যাগের মাঝেও সুন্দর পিচাই তাঁর বক্তব্য চালিয়ে যান, যেখানে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা ভূ-রাজনীতির চেয়ে দ্রুত পরিবর্তনশীল বিশ্বে শিক্ষার্থীদের আশাবাদী থাকার পরামর্শই বেশি প্রাধান্য পায়।