- প্রচ্ছদ
- Topic
মার্কিন বিশ্ববিদ্যালয়
বাংলাদেশে এইচএসসি বা সমমানের পরীক্ষা শেষ করার পর যুক্তরাষ্ট্রে উচ্চশিক্ষার পরিকল্পনা করছেন অনেক শিক্ষার্থী। আইইএলটিএস বা টোফেল স্কোর না থাকায় তাদের অনেকে মনে করেন, যুক্তরাষ্ট্রে পড়াশোনার আবেদন করা সম্ভব নয়। তবে কিছু মার্কিন বিশ্ববিদ্যালয়ে এমন ইংলিশ ল্যাঙ্গুয়েজ বা কন্ডিশনাল অ্যাডমিশন প্রোগ্রাম রয়েছে, যেখানে আইইএলটিএস বা টোফেল স্কোর ছাড়াই শুরু করার সুযোগ রয়েছে। পরে নির্ধারিত ইংলিশ প্রোগ্রাম সফলভাবে শেষ করে আন্ডারগ্র্যাজুয়েট ডিগ্রি প্রোগ্রামে যাওয়া যায়। তবে বিশ্ববিদ্যালয়ভেদে নিয়ম আলাদা এবং ভিসা কখনোই নিশ্চিত নয়। জর্জিয়ার কেনেসো স্টেট ইউনিভার্সিটি: কেনেসো স্টেট ইউনিভার্সিটির ইনটেনসিভ ইংলিশ প্রোগ্রাম আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের জন্য একটি সম্ভাব্য পথ। বিশ্ববিদ্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, শিক্ষার্থীরা আইইএলটিএস বা টোফেল না দিয়েও ইনটেনসিভ ইংলিশ প্রোগ্রামে ভর্তি হতে পারেন। এফ-১ শিক্ষার্থীদের জন্য এই প্রোগ্রাম আই-২০ দেওয়ার অনুমোদনও রাখে। এই প্রোগ্রামের কয়েকটি স্তর সফলভাবে শেষ করলে নির্দিষ্ট শর্তে আন্ডারগ্র্যাজুয়েটে ভর্তি হওয়া যায়। ফ্লোরিডার ইউনিভার্সিটি অব সেন্ট্রাল ফ্লোরিডা: অরল্যান্ডোর ইউনিভার্সিটি অব সেন্ট্রাল ফ্লোরিডার ইনটেনসিভ ইংলিশ প্রোগ্রামে হাইস্কুল গ্র্যাজুয়েটরা আবেদন করতে পারেন। বিশ্ববিদ্যালয় নিজস্ব ইংলিশ লেভেল টেস্টের মাধ্যমে শিক্ষার্থীর দক্ষতা নির্ধারণ করে। প্রোগ্রামের লেভেল ৮ সফলভাবে শেষ করলে ইউসিএফে ডিগ্রি প্রোগ্রামে ভর্তির জন্য আইইএলটিএস, টোফেল বা ডুয়োলিঙ্গো পরীক্ষার স্কোর আর প্রয়োজন হয় না। এফ-১ শিক্ষার্থীদের জন্য আই-২০ পাওয়ার ব্যবস্থাও রয়েছে। টেক্সাসের ইউনিভার্সিটি অব নর্থ টেক্সাস: ডেন্টনের ইউনিভার্সিটি অব নর্থ টেক্সাসের ইনটেনসিভ ইংলিশ ল্যাঙ্গুয়েজ ইনস্টিটিউটে আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীরা ইংরেজি দক্ষতা উন্নত করতে পারেন। নতুন শিক্ষার্থীদের নিজস্ব প্লেসমেন্ট পরীক্ষা দিতে হয় এবং সেই ফল অনুযায়ী ইংলিশের স্তর নির্ধারণ করা হয়। লেভেল ৬ সফলভাবে শেষ করলে বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি দক্ষতার শর্ত পূরণ করা যায়। কন্ডিশনাল অ্যাডমিশনের মাধ্যমে আন্ডারগ্র্যাজুয়েট পড়াশোনার পথও রয়েছে। পেনসিলভানিয়ার টেম্পল ইউনিভার্সিটি: ফিলাডেলফিয়ার টেম্পল ইউনিভার্সিটিতে আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের জন্য ইনটেনসিভ ইংলিশ ও কন্ডিশনাল অ্যাডমিশন প্রোগ্রাম রয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, একাডেমিকভাবে যোগ্য শিক্ষার্থীরা কোনো ইংলিশ টেস্ট স্কোর জমা না দিয়েও প্রভিশনাল অ্যাডমিশনের সুযোগ পেতে পারেন এবং পরে ইনটেনসিভ ইংলিশ প্রোগ্রামের মাধ্যমে ডিগ্রি প্রোগ্রামে যাওয়ার পথ তৈরি করতে পারেন। হাইস্কুল শেষ করা শিক্ষার্থীরাও ইংলিশ ল্যাঙ্গুয়েজ প্রোগ্রামে আবেদন করতে পারেন। পূর্ণকালীন প্রোগ্রামে পড়ার জন্য এফ-১ ভিসা এবং আই-২০ প্রয়োজন। আলাবামার ইউনিভার্সিটি অব আলাবামা: ইউনিভার্সিটি অব আলাবামায় একাডেমিক যোগ্যতা পূরণ করলেও ইংরেজি দক্ষতার নির্ধারিত শর্ত পূরণ না করা আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের জন্য কন্ডিশনাল অ্যাডমিশনের সুযোগ রয়েছে। এসব শিক্ষার্থী প্রথমে ইংলিশ ল্যাঙ্গুয়েজ ইনস্টিটিউটে পড়াশোনা করেন। ইংরেজি দক্ষতার শর্ত পূরণ করার পর ডিগ্রি প্রোগ্রামে যাওয়া যায়। বিশ্ববিদ্যালয় স্পষ্টভাবে বলছে, কন্ডিশনাল অ্যাডমিশনের ক্ষেত্রে আবেদনের সময় ইংরেজি দক্ষতার প্রমাণ জমা দেওয়া বাধ্যতামূলক নয়। তবে আইইএলটিএস বা টোফেল না থাকলেও শিক্ষার্থীর ইংরেজিতে অন্তত ভিসা ইন্টারভিউ দেওয়ার মতো প্রস্তুতি থাকা গুরুত্বপূর্ণ। ভিসা অফিসার শিক্ষার্থীর পড়াশোনার উদ্দেশ্য, নির্বাচিত প্রোগ্রাম, শিক্ষার খরচ বহনের সক্ষমতা এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা সম্পর্কে জানতে পারেন। তাই শুধু বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আই-২০ পেলেই স্টুডেন্ট ভিসা নিশ্চিত হয় না। এ ধরনের প্রোগ্রামে আবেদন করতে সাধারণত একাডেমিক কাগজপত্র, পাসপোর্ট এবং আর্থিক সামর্থ্যের প্রমাণ দিতে হয়। এফ-১ ভিসার জন্য আই-২০ পাওয়ার পর সেভিস ফি, ভিসা আবেদন এবং ইন্টারভিউয়ের ধাপ সম্পন্ন করতে হয়। শিক্ষার্থীর একাডেমিক প্রোফাইল, আর্থিক সক্ষমতা এবং যুক্তরাষ্ট্রে পড়াশোনার উদ্দেশ্য পরিষ্কার ও বিশ্বাসযোগ্য হওয়াও গুরুত্বপূর্ণ। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, “আইইএলটিএস-টোফেল ছাড়াই” মানে ইংরেজি দক্ষতার কোনো যাচাই ছাড়াই যুক্তরাষ্ট্রে যাওয়া নয়। এসব বিশ্ববিদ্যালয় নিজস্ব প্লেসমেন্ট পরীক্ষা, ইংলিশ প্রোগ্রাম বা কন্ডিশনাল অ্যাডমিশনের মাধ্যমে শিক্ষার্থীর ভাষাগত প্রস্তুতি যাচাই করতে পারে। তাই সদ্য এইচএসসি পরীক্ষা শেষ করা শিক্ষার্থীরা আবেদন করার আগে সংশ্লিষ্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের সর্বশেষ ভর্তি ও আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী সংক্রান্ত নিয়ম যাচাই করে নেওয়াই নিরাপদ।
যুক্তরাষ্ট্রে উচ্চশিক্ষায় যেতে ব্যাচেলর পর্যায়ে কম জিপিএ থাকলেই যে সব পথ বন্ধ হয়ে যায়, বিষয়টি এমন নয়। বেশ কিছু মার্কিন বিশ্ববিদ্যালয়ে মাস্টার্স বা নির্দিষ্ট গ্র্যাজুয়েট প্রোগ্রামে ৪.০০ স্কেলে ২.৫০ থেকে ২.৭৫ জিপিএ নিয়েও আবেদন করার সুযোগ রয়েছে। তবে বিশ্ববিদ্যালয়, ডিপার্টমেন্ট ও প্রোগ্রামভেদে অ্যাডমিশনের শর্ত আলাদা হওয়ায় শুধু একটি সাধারণ জিপিএ তালিকার ওপর নির্ভর করে আবেদন করা ঠিক নয়। বর্তমান অফিসিয়াল তথ্য যাচাই করে দেখা যায়, টেক্সাস স্টেট ইউনিভার্সিটির মাস্টার্স ও স্পেশালিস্ট প্রোগ্রামে সাধারণভাবে ন্যূনতম ২.৭৫ জিপিএ অথবা ব্যাচেলর পর্যায়ের শেষ ৬০ ক্রেডিট আওয়ারে ২.৭৫ জিপিএ প্রয়োজন। তবে নির্দিষ্ট ডিপার্টমেন্ট আরও বেশি জিপিএ চাইতে পারে। আরকানসাস টেক ইউনিভার্সিটির গ্র্যাজুয়েট কলেজে সাধারণ আনকন্ডিশনাল অ্যাডমিশনের জন্য ব্যাচেলর পর্যায়ে ন্যূনতম ২.৫০ জিপিএ অথবা শেষ ৩০ ক্রেডিট আওয়ারে ৩.০০ জিপিএ গ্রহণ করা হয়। বিশ্ববিদ্যালয়টি একই সঙ্গে জানিয়েছে, নির্দিষ্ট প্রোগ্রাম চাইলে এর চেয়ে বেশি জিপিএ নির্ধারণ করতে পারে। জিপিএর শর্ত পূরণ না করলেও কিছু ক্ষেত্রে কন্ডিশনাল অ্যাডমিশনের সুযোগ থাকতে পারে। ইউনিভার্সিটি অব ইলিনয় স্প্রিংফিল্ডে পূর্ণ গ্র্যাজুয়েট অ্যাডমিশনের জন্য সাধারণভাবে ব্যাচেলর ডিগ্রিতে ন্যূনতম ২.৫০ জিপিএ প্রয়োজন। তবে এখানেও প্রতিটি প্রোগ্রামের নিজস্ব অ্যাডমিশন রিকোয়ারমেন্ট রয়েছে এবং কিছু প্রোগ্রামে এর চেয়ে বেশি জিপিএ দরকার হতে পারে। বিশ্ববিদ্যালয়টি জানিয়েছে, নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে কম জিপিএ থাকা আবেদনকারীকেও কন্ডিশনাল অ্যাডমিশনের জন্য বিবেচনা করা হতে পারে। ইউনিভার্সিটি অব উইসকনসিন মিলওয়াকির গ্র্যাজুয়েট অ্যাডমিশন নীতিতে সাধারণভাবে ন্যূনতম ২.৭৫ আন্ডারগ্র্যাজুয়েট জিপিএ নির্ধারণ করা হয়েছে। তবে কোনো কোনো ক্ষেত্রে ২.৭৫-এর নিচে জিপিএ থাকলে অতিরিক্ত একাডেমিক যোগ্যতা বা জিআরইসহ অন্যান্য শর্ত বিবেচনা করা হতে পারে। ইউনিভার্সিটি অব মেমফিসের ক্ষেত্রেও একটি নির্দিষ্ট সংখ্যা দিয়ে পুরো বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যাডমিশন নীতি বোঝানো ঠিক নয়। বর্তমান গ্র্যাজুয়েট অ্যাডমিশন তথ্যে বিভিন্ন ধরনের অ্যাডমিশনের ক্ষেত্রে ২.৭৫ থেকে ৩.০০ জিপিএর মানদণ্ড দেখা যায়। আবার বিশ্ববিদ্যালয়টির কিছু নির্দিষ্ট প্রোগ্রামে ২.৫০ জিপিএ নিয়েও আবেদন বিবেচনা করা হয়। যেমন সাইকোলজির একটি মাস্টার্স প্রোগ্রামে ন্যূনতম ২.৫০ জিপিএ উল্লেখ রয়েছে। ডিপল ইউনিভার্সিটিতেও একই পরিস্থিতি দেখা যায়। বিশ্ববিদ্যালয়টির কিছু গ্র্যাজুয়েট প্রোগ্রামে ২.৫০ জিপিএ গ্রহণ করা হয়। উদাহরণ হিসেবে ডিজিটাল কমিউনিকেশন অ্যান্ড মিডিয়া আর্টস মাস্টার্স প্রোগ্রামে ন্যূনতম ২.৫০ জিপিএ উল্লেখ করা হয়েছে, যদিও ৩.০০ জিপিএকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়। অন্যদিকে ইন্টারন্যাশনাল স্টাডিজ মাস্টার্স প্রোগ্রামে ন্যূনতম জিপিএ ৩.০০। ফলে ডিপল ইউনিভার্সিটিকে সামগ্রিকভাবে ‘২.৫০ জিপিএ গ্রহণকারী বিশ্ববিদ্যালয়’ বলা বিভ্রান্তিকর হতে পারে। নিউ জার্সি ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজি বা এনজেআইটির কিছু মাস্টার্স প্রোগ্রামে ২.৮০ জিপিএ উল্লেখ রয়েছে। যেমন এমএস ইন ইনফরমেশন সিস্টেমস এবং কিছু ইঞ্জিনিয়ারিং প্রোগ্রামে সাধারণত ন্যূনতম ২.৮০ জিপিএ প্রত্যাশা করা হয়। তবে এটিও সব প্রোগ্রামের জন্য একই নিয়ম নয়। লামার ইউনিভার্সিটির কিছু গ্র্যাজুয়েট প্রোগ্রামে ২.৫০ জিপিএ নিয়েও আবেদন করা যায়। বিশ্ববিদ্যালয়টির অ্যাপ্লায়েড ডিজিটাল লার্নিং প্রোগ্রামে আন্ডারগ্র্যাজুয়েট জিপিএ ২.৫০ হলে জিআরই ছাড়াই আবেদন করা যায়। তবে ২.৫০-এর নিচে গেলে ওই নির্দিষ্ট প্রোগ্রামে সরাসরি অ্যাডমিশন দেওয়া হয় না। কম জিপিএ থাকা শিক্ষার্থীদের জন্য আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, শুধু জিপিএ দিয়েই অ্যাডমিশনের সিদ্ধান্ত হয় না। অনেক বিশ্ববিদ্যালয় শেষ ৬০ ক্রেডিটের ফলাফল, সংশ্লিষ্ট বিষয়ের কোর্সওয়ার্ক, কাজের অভিজ্ঞতা, স্টেটমেন্ট অব পারপাস, রেকমেন্ডেশন লেটার, জিআরই বা জিম্যাট স্কোর এবং ইংরেজি দক্ষতার পরীক্ষার ফলাফলও বিবেচনা করে। আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের ক্ষেত্রে টোফেল, আইইএলটিএস, ডুয়োলিঙ্গো বা বিশ্ববিদ্যালয় অনুমোদিত অন্য ইংরেজি দক্ষতার পরীক্ষার শর্তও থাকতে পারে। উদাহরণ হিসেবে টেক্সাস স্টেট ইউনিভার্সিটির অধিকাংশ আন্তর্জাতিক গ্র্যাজুয়েট আবেদনকারীর জন্য নির্দিষ্ট ইংরেজি দক্ষতার মান পূরণ করা বাধ্যতামূলক। এ কারণে সামাজিক মাধ্যমে প্রচারিত ‘২.০০ থেকে ২.৯৯ জিপিএ গ্রহণকারী বিশ্ববিদ্যালয়ের তালিকা’ সরাসরি চূড়ান্ত তথ্য হিসেবে ব্যবহার করা ঝুঁকিপূর্ণ। একই বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি প্রোগ্রাম ২.৫০ জিপিএ গ্রহণ করলেও আরেকটি প্রোগ্রামে ৩.০০ বা তার বেশি প্রয়োজন হতে পারে। কোথাও আবার কম জিপিএর আবেদনকারীকে কন্ডিশনাল অ্যাডমিশন বা আলাদা একাডেমিক রিভিউয়ের মাধ্যমে বিবেচনা করা হয়। যুক্তরাষ্ট্রে উচ্চশিক্ষায় আগ্রহী বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের তাই বিশ্ববিদ্যালয়ের নাম দেখে আবেদন না করে প্রথমে নির্দিষ্ট ডিগ্রি ও ডিপার্টমেন্টের অফিসিয়াল অ্যাডমিশন রিকোয়ারমেন্ট যাচাই করা উচিত। বিশেষ করে ন্যূনতম জিপিএ, ইংরেজি দক্ষতার স্কোর, ব্যাচেলর ডিগ্রির সমমান, জিআরই বা জিম্যাটের প্রয়োজনীয়তা এবং আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের অতিরিক্ত শর্ত ভালোভাবে দেখে আবেদন করলে অপ্রয়োজনীয় অ্যাপ্লিকেশন ফি ও সময় নষ্ট হওয়ার ঝুঁকি কমে।
যুক্তরাষ্ট্রে পিএইচডি করার স্বপ্ন দেখছেন? কিন্তু কোন বিশ্ববিদ্যালয়ে আবেদন করবেন, কোথায় আবেদন ফি কম, কোথায় ভর্তি হওয়ার সম্ভাবনা তুলনামূলক বেশি এসব প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে ঘণ্টার পর ঘণ্টা সময় নষ্ট করছেন? সেই সমস্যার সমাধান দিতে তৈরি হয়েছে ১৮১টি শীর্ষস্থানীয় মার্কিন R1 (Carnegie Classification) গবেষণা বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি সমন্বিত তথ্যভান্ডার। প্রায় এক মাস ধরে বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রকাশিত তথ্য সংগ্রহ, যাচাই ও বিশ্লেষণ করে তৈরি করা এই তালিকায় একসঙ্গে যুক্ত করা হয়েছে প্রতিটি বিশ্ববিদ্যালয়ের আবেদন ফি, ২০২৫ সালের উপলব্ধ ভর্তি তথ্যের ভিত্তিতে আনুমানিক পিএইচডি অ্যাকসেপ্টেন্স রেট (Acceptance Rate) এবং ডুওলিঙ্গো ইংলিশ টেস্ট (DET) গ্রহণ করে কি না এমন গুরুত্বপূর্ণ তথ্য। সবচেয়ে বড় সুবিধা হলো, বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে অ্যাকসেপ্টেন্স রেট অনুযায়ী সাজানো হয়েছে। ফলে শত শত বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়েবসাইট ঘেঁটে সময় নষ্ট না করে আবেদনকারীরা খুব সহজেই নিজেদের প্রোফাইলের সঙ্গে মিলিয়ে একটি বাস্তবসম্মত শর্টলিস্ট তৈরি করতে পারবেন। এতে আবেদন ব্যয়, প্রতিযোগিতার মাত্রা এবং সম্ভাব্য সুযোগ সবকিছু এক নজরেই বোঝা সম্ভব। তালিকার প্রস্তুতকারীর দাবি, তথ্যগুলো বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রকাশিত ভর্তি-সংক্রান্ত তথ্যের ভিত্তিতে সংকলন করা হয়েছে। তবে যেসব বিশ্ববিদ্যালয়ের নির্ভরযোগ্য ও হালনাগাদ তথ্য পাওয়া যায়নি, সেগুলো ইচ্ছাকৃতভাবেই বাদ রাখা হয়েছে, যাতে বিভ্রান্তিকর তথ্য অন্তর্ভুক্ত না হয়। উচ্চশিক্ষা বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, যুক্তরাষ্ট্রে পিএইচডি আবেদনের ক্ষেত্রে শুধু বিশ্ববিদ্যালয়ের র্যাঙ্কিং নয়, গবেষণার ক্ষেত্র, সম্ভাব্য সুপারভাইজার, অর্থায়নের সুযোগ, আবেদন ব্যয় এবং ভর্তি প্রতিযোগিতার মতো বিষয়গুলোও সমান গুরুত্বপূর্ণ। তাই একটি নির্ভরযোগ্য ও সংগঠিত তথ্যভান্ডার আবেদনকারীদের সিদ্ধান্ত গ্রহণকে আরও সহজ ও কার্যকর করতে পারে। যুক্তরাষ্ট্রে উচ্চশিক্ষার পরিকল্পনা থাকলে আবেদন শুরু করার আগে এই তথ্যভান্ডার একবার দেখে নেওয়া আপনার সময়, অর্থ এবং পরিশ্রম তিনটিই বাঁচাতে পারে। তাই সম্পূর্ণ তালিকাটি দেখে নিজের জন্য সবচেয়ে উপযুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়গুলো বেছে নেওয়ার সুযোগ হাতছাড়া না করাই ভালো।
যুক্তরাষ্ট্রের বাল্টিমোরের ঐতিহ্যবাহী শিক্ষা ও গবেষণা প্রতিষ্ঠান জনস হপকিন্স ইউনিভার্সিটি তাদের আরও ১১০ জন কর্মীকে ছাঁটাই করেছে। ফেডারেল তহবিলের ক্রমাগত ঘাটতি এবং আর্থিক সংকটের কারণে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ বৃহস্পতিবার এই কঠিন সিদ্ধান্ত নেওয়ার কথা আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করে। গত বছর দুই হাজারেরও বেশি কর্মী ছাঁটাইয়ের পর এটি প্রতিষ্ঠানটির দ্বিতীয় দফার বড় ধাক্কা, যা মূলত প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের ওপর প্রভাব ফেলেছে। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন এক বিবৃতিতে জানিয়েছে যে খরচ কমানোর সমস্ত চেষ্টা ব্যর্থ হওয়ার পর এই ছাঁটাই প্রক্রিয়াটি ছিল তাদের শেষ উপায়। ফেডারেল গবেষণা বাজেটে বরাদ্দ কমে যাওয়ার কারণে এর সাথে যুক্ত প্রশাসনিক অবকাঠামোতেও পরিবর্তন আনা জরুরি হয়ে পড়েছে। এর আগে আর্থিক অনিশ্চয়তার কারণে ২০২৫ সালের জুন মাসে নতুন কর্মী নিয়োগ স্থগিত এবং কর্মীদের বার্ষিক বেতন বৃদ্ধি সাময়িকভাবে বন্ধ করে দিয়েছিল বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। আর্থিক ক্ষতি সামাল দিতে গত বছর থেকে জনস হপকিন্স ইউনিভার্সিটি বেশ কিছু কঠোর পদক্ষেপ বাস্তবায়ন শুরু করেছে। এর মধ্যে ৮০ হাজার ডলারের বেশি বেতন পাওয়া কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বার্ষিক ইনক্রিমেন্ট বন্ধ করা, অন্যান্য অতিরিক্ত খরচ কমানো, শূন্য পদগুলো বিলুপ্ত করা এবং আগামী পাঁচ বছরের মূলধনী প্রকল্পের খরচ ২০ শতাংশ কমিয়ে আনা অন্যতম। তা সত্ত্বেও নতুন করে এই ছাঁটাই এড়ানো সম্ভব হয়নি। বিশ্ববিদ্যালয়ের এই তহবিল সংকটের সূত্রপাত মূলত ২০২৫ সালের মার্চ মাসে, যখন মার্কিন আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সংস্থা বা ইউএসএআইডি থেকে প্রায় ৮০০ মিলিয়ন ডলারের অনুদান বন্ধ হয়ে যায়। এর ফলে তখন বিশ্বের ৪৪টি দেশে নিয়োজিত বিশ্ববিদ্যালয়ের ২ হাজার ২০০ জনেরও বেশি কর্মীকে চাকরি হারাতে হয়েছিল। ট্রাম্প প্রশাসনের অধীনে বিভিন্ন গবেষণা প্রতিষ্ঠানের জাতীয় স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট বা এনআইএইচ-এর অনুদান কমানোর সিদ্ধান্তের ফলেই এই বিপর্যয় ঘটে। এনআইএইচ থেকে সবচেয়ে বেশি অনুদান পাওয়া প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে জনস হপকিন্স ইউনিভার্সিটি অন্যতম, যা বিশ্বজুড়ে বিভিন্ন যুগান্তকারী চিকিৎসা গবেষণায় ব্যবহৃত হতো। কিন্তু ২০২৫ সালের জুন মাসের মধ্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রায় ৯০টি বড় গবেষণা প্রকল্পের মেয়াদ শেষ হয়ে যায়, যার ফলে সরাসরি ৫০ মিলিয়ন ডলারের ফেডারেল গবেষণা তহবিল হারায় প্রতিষ্ঠানটি। এই বড় আর্থিক ঘাটতি কাটিয়ে উঠতে এবং ভবিষ্যৎ পরিস্থিতি মোকাবিলায় বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ এখন নতুন কৌশল ও পরিকল্পনা নিয়ে কাজ করছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।