সাপ্তাহিক আমেরিকা বাংলা ই-পেপার

মিশিগান নির্বাচন

যুক্তরাষ্ট্রের প্রথম মুসলিম সিনেটর আবদুল এল-সাঈদ
দলের বিরোধিতা পেরিয়ে মিশিগানে জয়ী যুক্তরাষ্ট্রের প্রথম মুসলিম সিনেটর আবদুল এল-সাঈদ

যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে প্রথম মুসলিম হিসেবে সিনেটর নির্বাচিত হয়েছেন ডেমোক্র্যাট নেতা আবদুল এল-সাঈদ। মিশিগানের বহুল আলোচিত সিনেট নির্বাচনে রিপাবলিকান প্রার্থী মাইক রজার্সকে পরাজিত করেছেন তিনি। মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) অনুষ্ঠিত নির্বাচনে নিজ দলের একাংশের বিরোধিতা এবং তীব্র রাজনৈতিক বিতর্কের মধ্যেও ঐতিহাসিক জয় পান ৪২ বছর বয়সী এই প্রগতিশীল নেতা। বুধবার অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস তাঁর জয় নিশ্চিত করেছে।   মিশিগানের এই নির্বাচন ছিল যুক্তরাষ্ট্রের সিনেটের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে দুই দলের প্রতিদ্বন্দ্বিতার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ লড়াই। ডেমোক্র্যাট সিনেটর গ্যারি পিটার্স অবসরে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়ায় আসনটি শূন্য হয়। সেই আসন ধরে রাখতে ডেমোক্র্যাটদের সামনে বড় চ্যালেঞ্জ তৈরি হয়েছিল।   এল-সাঈদের জয়কে বিশেষভাবে আলোচনায় এনেছে নিজ দলের অভ্যন্তরীণ বিরোধ। গত আগস্টে ডেমোক্র্যাটিক প্রাইমারিতে কংগ্রেস সদস্য হেইলি স্টিভেন্সকে অল্প ব্যবধানে পরাজিত করেন তিনি। প্রাইমারিতে মিশিগানের গভর্নর গ্রেচেন হুইটমারসহ দলের প্রভাবশালী নেতাদের সমর্থন ছিল স্টিভেন্সের প্রতি।   তবে সবচেয়ে নাটকীয় ঘটনা ঘটে নির্বাচনের মাত্র দুই দিন আগে। নিজের দলের প্রার্থী এল-সাঈদকে সমর্থন দেওয়ার পরিবর্তে রিপাবলিকান মাইক রজার্সকে সমর্থনের ঘোষণা দেন হেইলি স্টিভেন্স। এল-সাঈদের ইসরায়েলবিষয়ক অবস্থান ও রাজনৈতিক মতপার্থক্যকে এই সিদ্ধান্তের কারণ হিসেবে তুলে ধরেন তিনি। এতে ডেমোক্র্যাটদের মধ্যে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়।   এল-সাঈদের নির্বাচনি প্রচারণায় গুরুত্ব পায় সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয়, স্বাস্থ্যসেবা এবং রাজনীতিতে করপোরেট অর্থের প্রভাব কমানোর বিষয়গুলো। তিনি সবার জন্য সরকারি অর্থায়নে স্বাস্থ্যসেবা, ধনীদের ওপর বেশি কর আরোপ এবং ইসরায়েলকে মার্কিন সামরিক সহায়তা বন্ধের পক্ষে অবস্থান নেন।   অন্যদিকে সাবেক কংগ্রেসম্যান মাইক রজার্স নির্বাচনি প্রচারণায় কর কমানো, উৎপাদনশিল্পে কর্মসংস্থান বৃদ্ধি এবং সীমান্ত নিরাপত্তার বিষয়গুলো সামনে আনেন। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সমর্থন পাওয়া রজার্স এল-সাঈদের রাজনৈতিক অবস্থানকে মিশিগানের জন্য অতিরিক্ত বামপন্থী বলে সমালোচনা করেন।   মিশিগানে বড় মুসলিম, ইহুদি ও কৃষ্ণাঙ্গ জনগোষ্ঠীর উপস্থিতির কারণে ইসরায়েল-ফিলিস্তিন সংঘাত এবং মার্কিন পররাষ্ট্রনীতি নির্বাচনি প্রচারণায় গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে। এল-সাঈদের ইসরায়েলবিরোধী অবস্থান নিয়ে কিছু ডেমোক্র্যাট নেতা ও ইহুদি ভোটারের আপত্তি থাকলেও বার্নি স্যান্ডার্স এবং আলেক্সান্দ্রিয়া ওকাসিও-কর্তেজের মতো প্রগতিশীল নেতারা তাঁর পক্ষে প্রচারণা চালান।   মিশিগানের বাসিন্দা এল-সাঈদ এর আগে ডেট্রয়েট ও ওয়েইন কাউন্টির জনস্বাস্থ্য বিভাগে নেতৃত্ব দিয়েছেন। ২০১৮ সালে তিনি মিশিগানের গভর্নর পদে ডেমোক্র্যাটিক মনোনয়ন পেতে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে পরাজিত হন। এবার সিনেট নির্বাচনে জয়ের মাধ্যমে জাতীয় রাজনীতিতে নতুন অবস্থান তৈরি করেছেন তিনি।   যুক্তরাষ্ট্রের সিনেটে মুসলিম প্রতিনিধিত্বের ক্ষেত্রে এই জয় একটি ঐতিহাসিক ঘটনা। এর আগে মুসলিম রাজনীতিকেরা মার্কিন প্রতিনিধি পরিষদে নির্বাচিত হলেও সিনেটে কোনো মুসলিম সদস্য নির্বাচিত হননি। এল-সাঈদের নির্বাচনের মধ্য দিয়ে সেই ইতিহাস বদলে গেল।   সূত্র: নিউইয়র্ক পোস্ট

নুরুল্লাহ সাইদ নভেম্বর ৩, ২০২৬ ১৩:০
প্রাথমিক ভোট গণনায় রিপাবলিকান প্রার্থী মাইক রজার্সের চেয়ে এগিয়ে রয়েছেন আবদুল এল-সাইদ। গ্রাফিক্স: আমেরিকা বাংলা
মিশিগানের সিনেট নির্বাচনে বড় ব্যবধানে এগিয়ে এল-সাইদ, রজার্সের চেয়ে বেশি ৯৮ হাজার ভোট!

যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে মিশিগানের সিনেট আসন ঘিরে গুরুত্বপূর্ণ লড়াইয়ে এগিয়ে রয়েছেন ডেমোক্র্যাট প্রার্থী ডা. আবদুল এল-সাইদ। তাঁর প্রতিদ্বন্দ্বী রিপাবলিকান প্রার্থী মাইক রজার্সের সঙ্গে ভোটের ব্যবধানে উল্লেখযোগ্য পার্থক্য তৈরি হয়েছে। ৩ নভেম্বর রাত ৯টা ৪৫ মিনিটের প্রকাশিত ফলাফল অনুযায়ী, এল-সাইদ পেয়েছেন ৪ লাখ ৮০ হাজার ৪৩১ ভোট। অন্যদিকে মাইক রজার্স পেয়েছেন ৩ লাখ ৮২ হাজার ২৬৮ ভোট। অর্থাৎ দুই প্রার্থীর মধ্যে ভোটের ব্যবধান ৯৮ হাজার ১৬৩।   ডেটলাইন ডেট্রয়েটের প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, ওই সময় পর্যন্ত প্রায় ৯ দশমিক ৪ শতাংশ ভোট গণনা সম্পন্ন হয়েছিল। গণনায় এল-সাইদ পেয়েছিলেন প্রায় ৫৫ শতাংশ এবং রজার্স পেয়েছিলেন ৪৪ শতাংশ ভোট। পরবর্তী সময়ে রাত ৯টা ৫৪ মিনিটের একটি হালনাগাদ প্রতিবেদনে এল-সাইদের সমর্থন ৫৪ দশমিক ৩ শতাংশ এবং রজার্সের ৪৪ শতাংশ দেখানো হয়। অর্থাৎ ভোট গণনার সঙ্গে সঙ্গে প্রার্থীদের ভোটের হারেও পরিবর্তন আসছে।   মিশিগানের এই সিনেট আসনটি এবারের মধ্যবর্তী নির্বাচনে বিশেষ গুরুত্ব বহন করছে। দীর্ঘ ১২ বছর দায়িত্ব পালনের পর ডেমোক্র্যাট সিনেটর গ্যারি পিটার্স অবসরে যাওয়ায় আসনটি শূন্য হয়েছে। এই আসন ধরে রাখতে ডেমোক্র্যাটদের যেমন জোর প্রচেষ্টা রয়েছে, তেমনি রিপাবলিকানদের লক্ষ্য আসনটি নিজেদের দখলে নেওয়া।   তবে প্রাথমিক ফলাফলে এল-সাইদ এগিয়ে থাকলেও এখনই তাঁকে বিজয়ী ঘোষণা করার সুযোগ নেই। ভোট গণনা চলমান রয়েছে এবং বাকি ভোট গণনার পর ব্যবধান পরিবর্তিত হতে পারে। চূড়ান্ত ফলাফলের জন্য অপেক্ষা করতে হবে।

মোহাম্মদ ইব্রাহিম নভেম্বর ৩, ২০২৬ ১৩:০
মিশিগান সিনেট নির্বাচনে ডেমোক্র্যাট প্রার্থী আবদুল এল-সায়েদের বদলে মাইক রজার্সকে সমর্থন জানিয়েছেন হ্যালি স্টিভেন্স। গ্রাফিক্স: আমেরিকা বাংলা
প্রাইমারিতে পরাজয়ের প্রতিশোধ নিতেই কি আবদুল এল-সায়েদকে বাদ দিয়ে রিপাবলিকান প্রার্থীকে সমর্থন হ্যালির?

যুক্তরাষ্ট্রের মিশিগান অঙ্গরাজ্যের সিনেট নির্বাচনকে কেন্দ্র করে ডেমোক্র্যাট শিবিরে নতুন রাজনৈতিক বিতর্কের জন্ম দিয়েছেন কংগ্রেসওম্যান হ্যালি স্টিভেন্স। গত আগস্টে ডেমোক্র্যাটিক পার্টির সিনেট প্রাইমারিতে আবদুল এল-সায়েদের কাছে পরাজিত হওয়ার পর তাঁকে সমর্থনের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন স্টিভেন্স। কিন্তু নির্বাচনের মাত্র দুই দিন আগে সেই অবস্থান থেকে সরে এসে রিপাবলিকান প্রার্থী মাইক রজার্সকে সমর্থন দিয়েছেন তিনি। রোববার (১ নভেম্বর) ডেট্রয়েটের পারফেক্টিং চার্চে রজার্সের সঙ্গে উপস্থিত হয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে তাঁর পক্ষে অবস্থান ঘোষণা করেন স্টিভেন্স। প্রাইমারিতে পরাজয়ের পর দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক বিরোধ এবং শেষ মুহূর্তে এই অবস্থান পরিবর্তনকে ঘিরে তাঁর সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যক্তিগত ক্ষোভ কাজ করেছে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।   গত আগস্টে অনুষ্ঠিত ডেমোক্র্যাটিক পার্টির প্রাইমারি নির্বাচনে হ্যালি স্টিভেন্স ও আবদুল এল-সায়েদের মধ্যে প্রতিদ্বন্দ্বিতা ছিল অত্যন্ত তীব্র। ইসরায়েলকে মার্কিন সামরিক সহায়তা, গাজা যুদ্ধ এবং মধ্যপ্রাচ্যনীতি নিয়ে দুই প্রার্থীর অবস্থানে স্পষ্ট পার্থক্য ছিল। নির্বাচনে স্টিভেন্সকে পরাজিত করে দলীয় মনোনয়ন পান আবদুল। পরাজয়ের পর স্টিভেন্স প্রথমে তাঁকে সমর্থন জানান এবং ডেমোক্র্যাটিক প্রার্থীকে বিজয়ী করার প্রতিশ্রুতিও দেন। তবে প্রাইমারির পরও তাঁদের মধ্যে মতপার্থক্য কাটেনি। বিশেষ করে ইসরায়েলকে মার্কিন সহায়তার সমালোচনা করে একটি বহিরাগত রাজনৈতিক সংগঠনের প্রচারমূলক বিজ্ঞাপন নিয়ে বিরোধ নতুন করে তীব্র হয়। বিজ্ঞাপনটিকে ইহুদিবিদ্বেষী বলে সমালোচনা করেন স্টিভেন্স। অন্যদিকে, আবদুল জানান, বিজ্ঞাপনটি তাঁর নির্বাচনী প্রচারণার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট নয় এবং এর বক্তব্যের সঙ্গেও তিনি একমত নন।   নির্বাচনের শেষ সপ্তাহে দুই নেতার মধ্যে বিরোধ আরও প্রকাশ্যে আসে। রোববার ডেট্রয়েটের একটি গির্জায় আবদুল এল-সায়েদ ও স্টিভেন্সের যৌথ উপস্থিতিতে ঐক্যের বার্তা দেওয়ার পরিকল্পনা ছিল। সেখানে দক্ষিণ ক্যারোলাইনার কংগ্রেস সদস্য জিম ক্লাইবার্নেরও উপস্থিত থাকার কথা ছিল। কিন্তু শেষ পর্যন্ত সেই কর্মসূচিতে স্টিভেন্স অংশ নেননি। বরং অন্য একটি গির্জায় রিপাবলিকান প্রার্থী মাইক রজার্সের সঙ্গে উপস্থিত হয়ে তাঁকে সমর্থন জানান। নিজের সিদ্ধান্তের ব্যাখ্যায় স্টিভেন্স বলেন, আবদুল তাঁকে তাঁর নির্বাচনী প্রচারণা থেকে দূরে থাকতে বলেছেন। তবে ওয়াশিংটন পোস্টের প্রতিবেদন অনুযায়ী, যৌথ কর্মসূচি নিয়ে শেষ মুহূর্তে দুই পক্ষের মধ্যে যোগাযোগ ও মতবিরোধ পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তোলে।   স্টিভেন্সের এই সিদ্ধান্তের পর তাঁর দীর্ঘদিনের প্রধান সহযোগী ও চিফ অব স্টাফ জাস্টিন জার্মানসহ একাধিক কর্মী পদত্যাগ করেছেন। প্রায় আট বছর ধরে স্টিভেন্সের সঙ্গে কাজ করা জার্মান জানান, তাঁর সিদ্ধান্তে তিনি ও তাঁর সহকর্মীরা হতবাক ও মর্মাহত। তিনি প্রকাশ্যে আবদুল এল-সায়েদের প্রতি সমর্থন জানিয়েছেন। মিশিগান ডেমোক্র্যাটিক পার্টির চেয়ারম্যান কার্টিস হার্টেলও স্টিভেন্সের তীব্র সমালোচনা করে বলেছেন, তিনি নিজের ঘোষিত মূল্যবোধ থেকে সরে গেছেন। অন্যদিকে, আবদুল এল-সায়েদ বলেছেন, তিন মাস আগের প্রাইমারির বিরোধ নতুন করে সামনে আনার পরিবর্তে তিনি সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় ও নীতিগত বিষয় নিয়ে কাজ করতে চান। স্টিভেন্স অবশ্য নিজেকে এখনো একজন গর্বিত ডেমোক্র্যাট হিসেবে পরিচয় দিয়েছেন।   আগামী ৩ নভেম্বর মিশিগানে সিনেট নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। অবসর নিতে যাওয়া ডেমোক্র্যাট সিনেটর গ্যারি পিটার্সের আসনে ডেমোক্র্যাট প্রার্থী আবদুল এল-সায়েদ ও রিপাবলিকান প্রার্থী মাইক রজার্সের লড়াই জাতীয় রাজনীতিতেও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। এই আসনের ফলাফল যুক্তরাষ্ট্রের সিনেটে ক্ষমতার ভারসাম্য নির্ধারণে ভূমিকা রাখতে পারে। ফলে প্রাইমারিতে পরাজিত হওয়ার পর যাঁকে সমর্থনের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন, নির্বাচনের ঠিক আগে সেই প্রার্থীর প্রতিদ্বন্দ্বীকে সমর্থন দেওয়ার সিদ্ধান্তে হ্যালি স্টিভেন্সের রাজনৈতিক অবস্থান ও উদ্দেশ্য নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। তবে তাঁর সিদ্ধান্তের পেছনে প্রতিশোধই প্রধান কারণ এমন কোনো নিশ্চিত প্রমাণ এখনো প্রকাশ্যে আসেনি।

মোহাম্মদ ইব্রাহিম নভেম্বর ১, ২০২৬ ১৩:০
মিশিগানের ডিস্ট্রিক্ট-১৪ আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করা প্রার্থী মিনহাজ চৌধুরী। ছবি: সংগৃহীত
মিশিগান প্রাইমারি নির্বাচনের ফলের পর সমর্থকদের ধন্যবাদ জানিয়ে আবেগঘন বার্তা মিনহাজ চৌধুরীর

মিশিগান স্টেট হাউসের ডিস্ট্রিক্ট-১৪ আসনের ডেমোক্রেটিক প্রাইমারি নির্বাচনে বর্তমান স্টেট রিপ্রেজেন্টেটিভ মাইক ম্যাকফলের কাছে পরাজয়ের পর ভোটার, বাংলাদেশি কমিউনিটি, সাংবাদিক এবং নির্বাচনী প্রচারণায় সহযোগিতাকারীদের প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন প্রার্থী মিনহাজ চৌধুরী।   নির্বাচনের ফল প্রকাশের পর দেওয়া এক বিবৃতিতে মিনহাজ চৌধুরী বলেন, গতকাল ৪ আগস্ট অনুষ্ঠিত প্রাইমারি নির্বাচনে ওয়ারেন, সেন্টার লাইন, ম্যাডিসন হাইটস ও হেজেল পার্ক নিয়ে গঠিত মিশিগানের ডিস্ট্রিক্ট-১৪-এর ভোটাররা তাকে যে ভালোবাসা, আস্থা ও সমর্থন দিয়েছেন, তার জন্য তিনি চিরকৃতজ্ঞ।   তিনি বিশেষভাবে প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিক, বাংলাদেশি কমিউনিটির প্রবীণ ও নবীন নেতৃবৃন্দ, স্বেচ্ছাসেবক এবং নির্বাচনী প্রচারণায় যুক্ত সবার প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান। তাদের সহযোগিতা, পরামর্শ ও নিরলস সমর্থন তার প্রচারণাকে আরও শক্তিশালী করেছে বলে উল্লেখ করেন তিনি।   এবারের নির্বাচনে মিনহাজ চৌধুরী নিজেকে একজন কমিউনিটি-কেন্দ্রিক প্রার্থী হিসেবে তুলে ধরেন। তার নির্বাচনী প্রচারণায় স্থানীয় জনগণের কার্যকর প্রতিনিধিত্ব, জননিরাপত্তা, শিক্ষা, ছোট ব্যবসার উন্নয়ন, পরিবারভিত্তিক সামাজিক মূল্যবোধ এবং বাংলাদেশিসহ অভিবাসী কমিউনিটির অংশগ্রহণ বাড়ানোর বিষয়গুলো গুরুত্ব পায়। নির্বাচনী প্রচারণাজুড়ে তিনি কমিউনিটির সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ ও জনসম্পৃক্ততার ওপরও জোর দেন।   বিবৃতিতে মিনহাজ চৌধুরী বলেন, অত্যন্ত প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ এই নির্বাচনে কাঙ্ক্ষিত ফল না এলেও ভোটারদের প্রতিটি সমর্থন তার কাছে অত্যন্ত মূল্যবান। তিনি বলেন, একটি নির্বাচনের ফলাফল মানুষের জন্য কাজ করার অঙ্গীকারকে থামিয়ে দিতে পারে না; বরং কমিউনিটির প্রতি দায়বদ্ধতা আরও বাড়িয়ে দেয়।   তিনি আরও বলেন, আগামী দিনেও দল-মত নির্বিশেষে কমিউনিটির উন্নয়ন, ঐক্য এবং জনকল্যাণে কাজ করে যাওয়ার চেষ্টা অব্যাহত থাকবে। মানুষের ভালোবাসা ও বিশ্বাসই তার ভবিষ্যৎ পথচলার সবচেয়ে বড় শক্তি বলেও উল্লেখ করেন তিনি।   মিশিগানের ডিস্ট্রিক্ট-১৪ আসনে বর্তমান স্টেট রিপ্রেজেন্টেটিভ মাইক ম্যাকফলের বিরুদ্ধে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে মিনহাজ চৌধুরী বাংলাদেশি-আমেরিকান কমিউনিটির পক্ষ থেকে নির্বাচনে অংশ নেন। যদিও তিনি ডেমোক্রেটিক প্রাইমারিতে মনোনয়ন অর্জন করতে পারেননি, তবে তার প্রচারণা বাংলাদেশি কমিউনিটির মধ্যে ব্যাপক সাড়া ফেলেছিল এবং নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় কমিউনিটির অংশগ্রহণ বাড়াতে ভূমিকা রাখে।

মোহাম্মদ ইব্রাহিম আগস্ট ৫, ২০২৬ ১৪:০
মিশিগানের সিনেট নির্বাচনে ডেমোক্র্যাট প্রার্থী আবদুল এল-সাইয়েদ ও তার পরিবার। ছবি: সংগৃহীত
মিশিগানে ডেমোক্র্যাট মুসলিম প্রার্থী আবদুল এল-সাইয়েদের স্ত্রী কে? জানুন তার পরিবার ও রাজনৈতিক পথচলা

যুক্তরাষ্ট্রের মিশিগান অঙ্গরাজ্যের সিনেট নির্বাচনে ডেমোক্র্যাটিক পার্টির প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন নিশ্চিত করেছেন জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ও প্রগতিশীল রাজনীতিক আবদুল এল-সাইয়েদ। দলীয় প্রাইমারিতে অল্প ব্যবধানে জয়ের পর নভেম্বরে অনুষ্ঠিতব্য সাধারণ নির্বাচনে রিপাবলিকান প্রার্থী মাইক রজার্সের মুখোমুখি হবেন তিনি। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এটি ২০২৬ সালের মধ্যবর্তী নির্বাচনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ও প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ লড়াই হতে যাচ্ছে।   নিউইয়র্ক টাইমসের ভোটের তথ্য অনুযায়ী, ডেমোক্র্যাটিক প্রাইমারিতে এল-সাইয়েদ মধ্যপন্থী কংগ্রেস সদস্য হ্যালি স্টিভেন্সকে এক শতাংশেরও কম ভোটের ব্যবধানে পরাজিত করেন। নির্বাচনে জয়ী হলে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম পরিচিত প্রগতিশীল ডেমোক্র্যাট নেতা হিসেবে আত্মপ্রকাশ করবেন। এই রাজনৈতিক সাফল্যের পর নতুন করে আলোচনায় এসেছে তার ব্যক্তিগত জীবন ও পরিবার।   এল-সাইয়েদের নির্বাচনী প্রচারণার ওয়েবসাইট অনুযায়ী, তার স্ত্রী ডা. সারা জুকাকু একজন মনোরোগ বিশেষজ্ঞ। দুজনের পরিচয় হয়েছিল ইউনিভার্সিটি অব মিশিগানে পড়াশোনার সময়। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের সংবাদপত্র 'দ্য মিশিগান ডেইলি'-তে ২০০৬ সালে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে তাদের সম্পর্কের বিষয়টি উঠে আসে।   সেই সময় সারা জুকাকু জানান, বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম বর্ষে পড়ার সময়ই তাদের বাগদান সম্পন্ন হয়। একই প্রতিবেদনে আবদুল এল-সাইয়েদ বলেছিলেন, ইসলাম ধর্মের শিক্ষা তাকে অল্প বয়সেই বিয়ের মতো গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তে অঙ্গীকারবদ্ধ হতে অনুপ্রাণিত করেছিল। তার ভাষায়, "আমি ভাবতাম, একজন মানুষের সঙ্গেই আমার দেখা হবে এবং তাকেই আমি বিয়ে করব। আমার কাছে এটিই একটি সম্পর্কের সবচেয়ে নির্মল রূপ।"   নির্বাচনী প্রচারণার বিভিন্ন ভিডিওতেও সারাকে দেখা গেছে। একটি ভিডিওতে তিনি সন্তান জন্মদানের সময় জটিলতার মুখে নিজের শ্রমিক ইউনিয়নের সহায়তার কথা তুলে ধরেন। সে সময় তিনি চিকিৎসক হিসেবে রেসিডেন্সি করছিলেন। তিনি বলেন, প্রয়োজন না হওয়া পর্যন্ত অনেকেই ইউনিয়নের গুরুত্ব বোঝেন না, কিন্তু কঠিন সময়ে সেই সহায়তা তার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ছিল।   আবদুল এল-সাইয়েদ তার লেখা 'হিলিং পলিটিক্স: আ ডক্টরস জার্নি ইনটু দ্য হার্ট অব আওয়ার পলিটিক্যাল এপিডেমিক' বইতেও স্ত্রী সম্পর্কে লিখেছেন। সেখানে তিনি উল্লেখ করেন, সারার বাবা-মা ভারতের একটি গ্রাম থেকে যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসন করেছিলেন। স্ত্রীর আত্মবিশ্বাস ও মানসিক দৃঢ়তার প্রশংসা করে তিনি লেখেন, জীবনে নিজের পরিচয় খুঁজে পেতে তাকে সংগ্রাম করতে হয়েছে, কিন্তু সারা সবসময় আত্মবিশ্বাসী ছিলেন। তার মতে, মনোরোগ বিশেষজ্ঞ হওয়া সারার ব্যক্তিত্বের সঙ্গে দারুণভাবে মানানসই।   মাদার্স ডে উপলক্ষে সামাজিক মাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে এল-সাইয়েদ সারাকে "আমার সবচেয়ে বড় ভরসা এবং আমাদের দুই কন্যার অসাধারণ মা" বলে উল্লেখ করেন। দম্পতির দুই কন্যাসন্তান রয়েছে। তাদের নাম এমালি (Emmalee) ও সেরিন (Serene)।   এল-সাইয়েদের পারিবারিক শিকড়ও বৈচিত্র্যময়। তার প্রচারণা শিবিরের তথ্য অনুযায়ী, তার বাবা মোহাম্মদ এল-সাইয়েদ মিশর থেকে যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসন করেন। তিনি বাবার পাশাপাশি সৎমা জ্যাকির সঙ্গেও বেড়ে উঠেছেন, যার পরিবারের শিকড় মিশিগানের গ্রাটিয়ট কাউন্টিতে। অন্যদিকে 'আরব আমেরিকা'র তথ্য অনুযায়ী, তার মা ডা. ফাত্তেন এলকোমি মিসৌরি অঙ্গরাজ্যে নার্স প্র্যাকটিশনার হিসেবে কর্মরত।   এদিকে নভেম্বরে অনুষ্ঠিতব্য সাধারণ নির্বাচনে এল-সাইয়েদের প্রতিদ্বন্দ্বী রিপাবলিকান নেতা ও সাবেক কংগ্রেস সদস্য মাইক রজার্স। সাম্প্রতিক বিভিন্ন জনমত জরিপে দুজনের মধ্যে হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের ইঙ্গিত মিলেছে।   ইপিক-এমআরএ পরিচালিত এক জরিপে রজার্স ৪৬ শতাংশ সমর্থন নিয়ে এল-সাইয়েদের (৪৩ শতাংশ) চেয়ে তিন পয়েন্ট এগিয়ে রয়েছেন। তবে মিচেল রিসার্চ অ্যান্ড কমিউনিকেশনসের আরেকটি জরিপে দুজনই ৪৫ শতাংশ করে সমর্থন পেয়েছেন। অন্যদিকে গ্লেনগারিফ গ্রুপের এক জরিপে রজার্স ৪৯ শতাংশ এবং এল-সাইয়েদ ৩৯ শতাংশ সমর্থন পেয়েছেন।   বিশ্লেষকদের মতে, মিশিগান বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ 'ব্যাটলগ্রাউন্ড' অঙ্গরাজ্য। ২০২৪ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ডোনাল্ড ট্রাম্প অল্প ব্যবধানে রাজ্যটিতে জয় পান। ফলে এখানে ডেমোক্র্যাটদের জয় নিশ্চিত করতে শুধু দলীয় ভোটার নয়, স্বতন্ত্র ভোটারদেরও সমর্থন অর্জন করতে হবে। সেই দিক থেকে আবদুল এল-সাইয়েদের প্রার্থিতা প্রগতিশীল ডেমোক্র্যাটদের জন্য একটি বড় রাজনৈতিক পরীক্ষাও হিসেবে দেখা হচ্ছে।

মোহাম্মদ ইব্রাহিম আগস্ট ৫, ২০২৬ ১৪:০
জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

প্রাণীর সঙ্গে যৌন কর্মকাণ্ডের অভিযোগে গ্রেপ্তার বুয়েটের সাবেক শিক্ষার্থী ও সাউথ ফ্লোরিডা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক

যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডা অঙ্গরাজ্যে প্রাণীর সঙ্গে যৌন কর্মকাণ্ডের ছবি বা ভিডিও ধারণ, বিতরণ ও সংরক্ষণের অভিযোগে গ্রেপ্তার হয়েছেন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত রায়ান আবদুল বাতেন। তিনি বাংলাদেশের বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) তড়িৎ ও ইলেকট্রনিক প্রকৌশল বিভাগের সাবেক শিক্ষার্থী এবং যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অব সাউথ ফ্লোরিডার সহকারী অধ্যাপক।   হিলসবরো কাউন্টি শেরিফের কার্যালয়ের সরকারি ওয়েবসাইটে প্রকাশিত গ্রেপ্তারসংক্রান্ত তথ্য অনুযায়ী, গত ২৮ অক্টোবর ২০২৬ তারিখে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়। প্রকাশিত রেকর্ডে তাঁর বিরুদ্ধে ‘Film, Distribute, or Possess Image or Video of Sexual Activity with an Animal’ শীর্ষক অভিযোগ উল্লেখ করা হয়েছে। অর্থাৎ, প্রাণীর সঙ্গে যৌন কর্মকাণ্ডের ছবি বা ভিডিও ধারণ, বিতরণ কিংবা নিজের কাছে রাখার অভিযোগে তাঁকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে।   গ্রেপ্তারসংক্রান্ত সরকারি রেকর্ড প্রকাশের পর বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। বিশেষ করে বুয়েটের সাবেক শিক্ষার্থী এবং যুক্তরাষ্ট্রের একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী অধ্যাপক হিসেবে তাঁর পরিচয়ের কারণে ঘটনাটি নিয়ে প্রবাসী বাংলাদেশিদের মধ্যেও আলোচনা তৈরি হয়েছে।   এদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রাণীটির পরিচয় সম্পর্কে বিভিন্ন দাবি ছড়িয়ে পড়লেও হিলসবরো কাউন্টি শেরিফের কার্যালয়ের প্রকাশিত গ্রেপ্তারসংক্রান্ত তথ্যে নির্দিষ্ট কোনো প্রাণীর নাম উল্লেখ করা হয়নি। ফলে ছাগলের সঙ্গে যৌন কর্মকাণ্ডের যে দাবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে করা হচ্ছে, তা স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।   তথ্যসূত্র: হিলসবরো কাউন্টি শেরিফের কার্যালয় (Hillsborough County Sheriff’s Office), ফ্লোরিডা।

Top week

যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অব সাউথ ফ্লোরিডার সহকারী অধ্যাপক রাইয়ান আবদুল বাতেন। গ্রাফিক্স: আমেরিকা বাংলা

প্রাণীর সঙ্গে যৌন কর্মকাণ্ডের অভিযোগে গ্রেপ্তার বুয়েটের সাবেক শিক্ষার্থী ও সাউথ ফ্লোরিডা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক

নভেম্বর ২, ২০২৬ ১৩:০