চট্টগ্রাম জেলার সীতাকুণ্ডে ‘সন্ত্রাসীদের নিরাপদ আশ্রয়স্থল’ হিসেবে পরিচিত জঙ্গল সলিমপুরে সেনাবাহিনী, পুলিশ ও র্যাবসহ বিভিন্ন বাহিনীর প্রায় চার হাজার সদস্য নিয়ে সোমবার এক বড় ধরনের যৌথ অভিযান চালানো হয়েছে। ভোর থেকে দিনভর চালানো অভিযানে ড্রোন ও হেলিকপ্টার ব্যবহার করা হয়। অভিযানে ১৫ জনকে আটক করা হয়েছে এবং কিছু অস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে বলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী জানিয়েছে। পুলিশ বলছে, এই অভিযানের মাধ্যমে জঙ্গল সলিমপুরে প্রশাসনের নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। এর আগে বিভিন্ন সময়ে এই এলাকায় অভিযান চালাতে গিয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা হামলার শিকার হয়েছেন। সবশেষ গত ১৯ জানুয়ারি র্যাব-৭-এর উপসহকারী পরিচালক মোতালেব হোসেন ভূঁইয়া নিহত হন সন্ত্রাসী হামলায়। মূলত ওই ঘটনার প্রেক্ষিতে মাদক, অস্ত্র ও নানা অপরাধে আলোচিত জঙ্গল সলিমপুরে বড় ধরনের অভিযান নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয় প্রশাসন। পুলিশের চট্টগ্রাম রেঞ্জের ডিআইজি আহসান হাবিব পলাশ বলেন, অভিযানের মূল লক্ষ্য ছিল এই বিশাল এলাকায় আমাদের অধিকার প্রতিষ্ঠা করা। তিনি জানান, আজ থেকে পুলিশ ও র্যাবের দুটি স্থায়ী ক্যাম্প এখানে কাজ করবে। নিরাপত্তার জন্য প্রয়োজন হলে সেখানে কামানও ব্যবহার করা হবে। জঙ্গল সলিমপুর হলো পাহাড় কেটে গড়া খাসজমির ওপর গড়ে ওঠা এলাকা। প্রায় ২০-২৫ হাজার মানুষ এখানে বসবাস করেন। এলাকার নিয়ন্ত্রণ দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন সন্ত্রাসী ও অপরাধী গোষ্ঠীর হাতে ছিল। স্থানীয় ও প্রশাসনিক সূত্র অনুযায়ী, ইয়াসিন, রোকন ও রিদোয়ান গ্রুপসহ অন্যান্য গোষ্ঠী এলাকায় আধিপত্য বিস্তার করে আসছিল। সাম্প্রতিক বছরের ইতিহাসে দেখা গেছে, বিভিন্ন সময়ে র্যাব ও পুলিশের ওপর সন্ত্রাসীদের হামলার ঘটনা ঘটেছে। ২০২২ সালে র্যাবের সঙ্গে গোলাগুলি এবং উচ্ছেদ অভিযান চলার সময় প্রশাসন বাধার সম্মুখীন হয়। এরপরও এলাকা প্রশাসনের নিয়ন্ত্রণে না থাকায় বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পের অগ্রগতি বাধাগ্রস্ত হয়। এবারের যৌথ অভিযানের মূল উদ্দেশ্য ছিল জঙ্গল সলিমপুরে র্যাব ও পুলিশের স্থায়ী কেন্দ্র স্থাপন করে প্রশাসনের দৃঢ় নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করা, যা এলাকার আইনশৃঙ্খলা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করবে।
চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডের জঙ্গল সলিমপুরে সোমবার ভোরে যৌথ বাহিনীর বিশেষ অভিযান শুরু হয়েছে। সকাল ছয়টায় সেনাবাহিনী, র্যাব ও পুলিশের প্রায় চার হাজার সদস্য এই অভিযানে অংশ নেন। ভোরের আলো ফুটতেই ড্রোন ব্যবহার করে এলাকার কিছু স্পট চিহ্নিত করা হয়। এরপর সেনাবাহিনীর এপিসি ট্যাংক, পুলিশের জলকামান, সাজোয়াযান, ডগ স্কোয়াডসহ ভারি অস্ত্র সজ্জিত গাড়ি এবং অ্যাম্বুলেন্স নিয়ে বাহিনী এলাকায় প্রবেশ করে। র্যাব-৭ এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল হাফিজুর রহমান জানিয়েছেন, অভিযানটি জঙ্গল সলিমপুরকে অপরাধ ও সন্ত্রাসমুক্ত করার উদ্দেশ্যে পরিচালনা করা হচ্ছে। এতে সেনাবাহিনী, র্যাবের বিভিন্ন ইউনিট, চট্টগ্রাম মেট্রো ও রেঞ্জের পুলিশ এবং বিজিবি অংশগ্রহণ করছে। জঙ্গলের সলিমপুর এলাকায় রুকন ও ইয়াসিন বাহিনীর আধিপত্য মূলত পাহাড় কেটে প্লট বিক্রি এবং চাঁদা আদায় নিয়ে। এলাকায় প্রায়ই সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। গত ১৯ জানুয়ারি ইয়াসিন বাহিনীর প্রধান ইয়াসিনকে গ্রেফতার করতে গেলে র্যাবের ওপর হামলা চালায় তার বাহিনী। এই ঘটনায় একজন র্যাব কর্মকর্তা প্রাণ হারান। দুর্গম পাহাড়ি এলাকা হওয়ায় জঙ্গল সলিমপুর সন্ত্রাসীদের নিরাপদ আস্তানা হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে। চার দশক ধরে সরকারি পাহাড় কেটে গড়ে উঠেছে হাজারো অবৈধ বসতি এবং এখনও পাহাড় কেটে প্লট-বাণিজ্য চলছে। এই বাণিজ্য এবং দখল রক্ষা করতে এলাকার সন্ত্রাসী বাহিনী সক্রিয় রয়েছে। বর্তমানে জঙ্গল সলিমপুরে প্রায় ২০–২৫ হাজার বাড়িতে আনুমানিক দেড় লাখ মানুষ বসবাস করছে, যাদের অধিকাংশই দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আগত।
নরসিংদীতে ধর্ষণের বিচার চাওয়ার জেরে ১৫ বছর বয়সী এক কিশোরীকে বাবার কাছ থেকে তুলে নিয়ে হত্যার ঘটনায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) দিবাগত রাতে নিহতের মা বাদী হয়ে মাধবদী থানা-এ মামলা করেন। একই রাতে জেলা পুলিশ ও র্যাব-১১ সিপিএসসি নরসিংদীর যৌথ অভিযানে মাধবদীর কোতালীরচর হোসেন বাজার এলাকা থেকে পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গ্রেপ্তাররা হলেন মো. এবাদুল্লাহ (৪০), মো. আইয়ুব (৩০), গাফফার (৩৪), মহিষাশুরা ইউনিয়ন বিএনপির সহসভাপতি ও সাবেক ইউপি সদস্য আহাম্মদ আলী দেওয়ান (৬৫) এবং তাঁর ছেলে মো. ইমরান দেওয়ান (৩২)। মাধবদী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. কামাল হোসেন জানান, মামলায় নয়জনকে আসামি করা হয়েছে। এজাহারভুক্ত পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং অন্যদের ধরতে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। এর আগে বৃহস্পতিবার সকালে মহিষাশুরা ইউনিয়নের কোতালীরচর দড়িকান্দী এলাকায় একটি সরিষা ক্ষেত থেকে গলায় ওড়না পেঁচানো অবস্থায় আমেনা আক্তার (১৫) নামে কিশোরীর মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। স্বজনদের ভাষ্য, নিহতের বাবা আশরাফ হোসেন বরিশালের বাসিন্দা। কাজের সূত্রে তিনি স্ত্রী ও মেয়েকে নিয়ে মাধবদীর বিলপাড় এলাকায় ভাড়া বাসায় থাকতেন। প্রায় ১৫ দিন আগে স্থানীয় কয়েকজন যুবক মেয়েটিকে তুলে নিয়ে ধর্ষণ করে বলে অভিযোগ রয়েছে। পরে বিষয়টি স্থানীয়ভাবে মীমাংসা করা হয়। গত বুধবার রাত ৯টার দিকে ভুক্তভোগীকে নিয়ে তার খালার বাড়ি যাচ্ছিলেন বাবা। বড়ইতলা এলাকায় পৌঁছালে কয়েকজন যুবক মেয়েটিকে বাবার কাছ থেকে ছিনিয়ে নেয়। অনেক খোঁজাখুঁজির পরও না পেয়ে পরিবার বাড়ি ফিরে যায়। পরদিন সকালে সরিষা ক্ষেত থেকে কিশোরীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
র্যাবের সাবেক মহাপরিচালক (ডিজি) হারুন অর রশিদ এবং তাঁর স্ত্রী ফাতেহা ফারভীন লুনার বিরুদ্ধে এক হাজার কোটি টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জন ও অর্থ পাচারের অভিযোগে কঠোর অবস্থান নিয়েছে আদালত। তাঁদের নামে থাকা বিভিন্ন ব্যাংক হিসাব ও সঞ্চয়পত্র অবরুদ্ধ (ফ্রিজ) করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) আবেদনের প্রেক্ষিতে ঢাকা মহানগর জ্যেষ্ঠ বিশেষ জজ আদালতের বিচারক সাব্বির ফয়েজ এই আদেশ প্রদান করেন। আদালতের বেঞ্চ সহকারী রিয়াজ হোসেন বিষয়টি সংবাদমাধ্যমকে নিশ্চিত করেছেন। দুদকের অনুসন্ধান দল জানিয়েছে, সাবেক এই শীর্ষ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ১০০০ কোটি টাকার সমপরিমাণ অবৈধ সম্পদ অর্জন এবং বিদেশে অর্থ পাচারের বিষয়ে নিবিড় অনুসন্ধান চলছে। প্রাথমিক তদন্তে তাঁদের আয়ের উৎসের সাথে অসংগতিপূর্ণ বিপুল পরিমাণ অস্থাবর সম্পদের তথ্য পাওয়া গেছে। আদালতে পেশ করা দুদকের আবেদনে উল্লেখ করা হয় যে, অভিযুক্তরা তাঁদের ওয়ান ব্যাংকের বিভিন্ন মেয়াদী আমানত এবং জাতীয় সঞ্চয় অধিদপ্তরের সঞ্চয়পত্রসহ প্রায় ৬৪ লাখ টাকার অধিক সম্পদ অন্যত্র সরিয়ে ফেলার চেষ্টা করছেন বলে আশঙ্কা রয়েছে। এই সম্পদ যেন হাতবদল বা পাচার হতে না পারে, সেই লক্ষ্যেই আইনি প্রক্রিয়ায় এগুলো অবরুদ্ধ করার আবেদন জানানো হয়েছিল। নতুন বাংলাদেশে দুর্নীতির বিরুদ্ধে চলমান অভিযানের অংশ হিসেবে এমন পদক্ষেপকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন সাধারণ মানুষ। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, এই আদেশের ফলে পাচারকৃত অর্থের উৎস এবং নেপথ্যের কুশীলবদের শনাক্ত করা আরও সহজ হবে। খুব শীঘ্রই এই দম্পতির অন্যান্য সম্পদের বিষয়েও বিস্তারিত প্রতিবেদন আদালতে পেশ করবে দুদক।
র্যাবের সাবেক মহাপরিচালক (ডিজি) ও অতিরিক্ত পুলিশ মহাপরিদর্শক মো. হারুন অর রশিদ এবং তার স্ত্রী ফাতেহা ফারভীন লুনার ব্যাংক হিসাব ও সঞ্চয়পত্র ফ্রিজ করার নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। ১০০০ কোটি টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জন ও অর্থ পাচারের অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা মেলায় এই কঠোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। মঙ্গলবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) ঢাকা মহানগর জ্যেষ্ঠ বিশেষ জজ আদালত-এর বিচারক মো. সাব্বির ফয়েজ এ আদেশ দেন। দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)-এর আবেদনের পর আদালত এই নির্দেশনা দেন। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আদালতের বেঞ্চ সহকারী মো. রিয়াজ হোসেন। দুদকের আবেদনে বলা হয়, তাদের বিরুদ্ধে ১০০০ কোটি টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জন ও অর্থ পাচারের অভিযোগ অনুসন্ধানাধীন। আয়ের উৎসের সঙ্গে অসংগতিপূর্ণ বিপুল অস্থাবর সম্পদের তথ্য পাওয়ায় এবং সম্পদ অন্যত্র সরিয়ে ফেলার আশঙ্কায় ওয়ান ব্যাংকের বিভিন্ন মেয়াদি আমানত ও জাতীয় সঞ্চয় অধিদপ্তরের সঞ্চয়পত্রসহ প্রায় ৬৪ লাখ টাকার অধিক সম্পদ অবরুদ্ধের আবেদন করা হয়।
আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস ও শহীদ দিবস উপলক্ষে কোনো ধরনের সুনির্দিষ্ট নিরাপত্তা হুমকি নেই বলে নিশ্চিত করেছেন র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়নের (র্যাব) মহাপরিচালক একেএম শহিদুর রহমান। শুক্রবার (২০ ফেব্রুয়ারি) সকালে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে আয়োজিত সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ও বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা বিষয়ক এক ব্রিফিংয়ে তিনি এ কথা জানান। র্যাব ডিজি বলেন, যেকোনো অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি মোকাবিলায় র্যাব সম্পূর্ণ প্রস্তুত রয়েছে এবং সর্বোচ্চ সতর্কতামূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারকে কেন্দ্র করে অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে সমন্বয় রেখে নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা বলয় গড়ে তোলা হয়েছে। পুরো এলাকাকে ইনার ও আউটার পেরিমিটারসহ কয়েকটি সুনির্দিষ্ট সেক্টরে ভাগ করে ফোর্স মোতায়েন করা হয়েছে। তিনি জানান, প্রতিটি সেক্টরে র্যাবের ফুট পেট্রোল, গাড়ির পেট্রোল এবং স্ট্রাইকিং রিজার্ভ বাহিনী নিয়োজিত থাকবে। নিরাপত্তাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে ইতোমধ্যে বোম্ব ডিসপোজাল ইউনিট ও ডগ স্কোয়াডের মাধ্যমে পুরো এলাকায় সুইপিং সম্পন্ন করা হয়েছে এবং বোম্ব ডিসপোজাল ইউনিট সার্বক্ষণিক স্ট্যান্ডবাই থাকবে। নজরদারি জোরদার করতে শহীদ মিনার ও আশপাশের এলাকা ৬৪টি সিসিটিভি ক্যামেরার আওতায় আনা হয়েছে বলে জানান তিনি। পাশাপাশি ভিভিআইপি, ভিআইপি এবং রাজনৈতিক ব্যক্তিবর্গের নিরাপদ ও নির্বিঘ্ন শ্রদ্ধা নিবেদন নিশ্চিত করতে বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। র্যাবের স্পেশাল ফোর্স সার্বক্ষণিক প্রস্তুত রয়েছে উল্লেখ করে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন, গৃহীত এসব ব্যবস্থার মাধ্যমে এবারের ২১শে ফেব্রুয়ারির সব কার্যক্রম সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন হবে।
র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন বা র্যাব-এর নাম পরিবর্তনের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিয়েছে বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকার। দীর্ঘদিনের জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটিয়ে আজ সচিবালয়ে আইনশৃঙ্খলা সংক্রান্ত কোর কমিটির গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক শেষে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী এই ঘোষণা দেন। সচিবালয়ের বৈঠক থেকে এল বড় ঘোষণা: আর থাকছে না 'র্যাব' নামটি। মূলত বাহিনীটির সংস্কার ও জনবান্ধব ভাবমূর্তি ফিরিয়ে আনতেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে। বিগত কয়েক বছরের বিতর্ক পেছনে ফেলে র্যাবের নতুন যাত্রার শুরু।
মধ্যপ্রাচ্যের ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মধ্যেই একটি চাঞ্চল্যকর দাবি ভূ-রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে বিতর্কের ঝড় তুলেছে। গত ৪৮ থেকে ৫৬ ঘণ্টার মধ্যে ১৬টি চীনা 'ওয়াই-২০' (Y-20) সামরিক কার্গো বিমান তাদের ট্রান্সপন্ডার বা সিগন্যাল বন্ধ রেখে ইরানের আকাশে প্রবেশ করেছে বলে খবর ছড়িয়েছে। কোনো আনুষ্ঠানিক নিশ্চিতকরণ ছাড়াই এই তথ্যটি প্রতিরক্ষা বিশ্লেষক ও সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারকারীদের মধ্যে তীব্র উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। দাবি করা হচ্ছে, এই বিমানগুলো বেসামরিক রাডার থেকে আড়াল থাকতে বিশেষ কৌশল অবলম্বন করেছিল। নেটিজেন ও সামরিক বিশ্লেষকদের একটি অংশের ধারণা, চীন হয়তো ইরানকে অত্যাধুনিক ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার সিস্টেম বা জ্যামিং প্রযুক্তি সরবরাহ করছে। যদি এটি সত্যি হয়, তবে মার্কিন এফ-৩৫ (F-35) যুদ্ধবিমান বা নৌ-অভিযানের জন্য এটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে। অনেকে একে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি বেইজিংয়ের সরাসরি ‘সতর্কবার্তা’ হিসেবেও দেখছেন। তবে এই উত্তেজনার মুদ্রার উল্টো পিঠও রয়েছে। ফ্লাইটরাডার২৪-এর মতো আন্তর্জাতিক ফ্লাইট ট্র্যাকিং প্ল্যাটফর্মে এ ধরনের কোনো অস্বাভাবিক ফ্লাইটের রেকর্ড পাওয়া যায়নি। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ১৬টি ভারী সামরিক কার্গো বিমানের মতো বিশাল বহরকে রাডার বা স্যাটেলাইট নজরদারি থেকে সম্পূর্ণ লুকিয়ে রাখা প্রায় অসম্ভব। বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে চীন-ইরান সম্পর্ক গভীর হলেও, সুনির্দিষ্ট প্রমাণের অভাবে বিশ্লেষকরা একে আপাতত ‘সুপরিকল্পিত গুজব’ বা মিসইনফরমেশন হিসেবেই দেখছেন। তেহরান বা বেইজিং—কোনো পক্ষ থেকেই এখন পর্যন্ত এ নিয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া মেলেনি।
এপস্টেইন ফাইল: দাবি, বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করে ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে জেফরি এপস্টেইনের ফাইল ট্রান্সপারেন্সি অ্যাক্টের সাথে যুক্ত সম্প্রতি প্রকাশিত একটি নথি ত্রাঞ্চে অভিযোগ করা হয়েছে যে, প্রাক্তন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একটি ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। এই নথিগুলি, যা আনক্লাসিফায়েড ডিপার্টমেন্ট অব জাস্টিস (DOJ) রেকর্ডের একটি বিশাল ডেটা রিলিজের অংশ, “চার্লস” নামে একজনের ক্ষুব্ধ ইমেইল অন্তর্ভুক্ত করেছে এবং অন্তর্বর্তী ফাইলিং কোড EFTA00173266 থেকে EFTA00173273 পর্যন্ত চিহ্নিত। এই ইমেইলগুলো তৃতীয় পক্ষের যোগাযোগের মধ্যে পাওয়া গেছে, যা জেফরি এপস্টেইনের নেটওয়ার্ক সংক্রান্ত বিস্তৃত ফেডারেল তদন্তের সময় সংগ্রহ করা হয়েছিল। এপস্টেইন সম্পর্কিত অন্যান্য প্রকাশনার মতো এখানে রাজনৈতিক ও ব্যবসায়িক ব্যক্তিদের সঙ্গে সম্পর্কের তথ্য নয়, বরং চরম ও ষড়যন্ত্রমূলক দাবিগুলো রয়েছে। ক্লোন তত্ত্বের উল্লেখ “চার্লস” ইমেইলগুলো এপ্রিল ২০২১-এ একজন এফবিআই এজেন্টকে ফরোয়ার্ড করা হয়েছিল, যাকে লাল করা প্রেরক হিসেবে দেখানো হয়েছে। প্রেরক দাবি করেছিলেন যে এটি একটি প্রযুক্তি সংস্থার এক ক্ষুব্ধ প্রাক্তন কর্মচারী বা সহযোগীর মেসেজ। ইমেইলগুলিতে গালাগালি ভাষা ব্যবহৃত হয়েছে এবং এখানে “কোয়ান্টাম” প্রযুক্তি, গোপন সামরিক ট্রাইব্যুনাল, এবং “বাইডেন আপনার বর্তমান প্রেসিডেন্ট নন” এমন দাবির উল্লেখ রয়েছে। একটি অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে নির্বিচারে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একজন অভিনেতা বা ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে, যেখানে প্রমাণ হিসেবে “মাস্কের ত্রুটি” দেখানো হয়েছে। তবে এই দাবিগুলোর সঙ্গে কোনো শারীরিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি বা সঙ্গত সাক্ষ্য নেই। “বাইডেন ক্লোন” দাবি অনলাইনে ষড়যন্ত্র তত্ত্বের একটি পরিচিত অংশ। তত্ত্বটি সাধারণত ধরে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে গোপনে জনমঞ্চ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে, প্রায়শই ২০১৯ বা ২০২০ সালে, এবং তাকে চেহারা মিলানো লোক বা ক্লোন দিয়ে প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। অনুগামীরা প্রায়শই নিম্নমানের ভিডিও এবং ফটোগ্রাফ বিশ্লেষণ করে, চেহারার পরিবর্তন যেমন আলোর পরিবর্তন, বয়সের প্রভাব বা ক্যামেরার ত্রুটিকে কৃত্রিমভাবে আড়াল করার প্রমাণ হিসেবে দেখান। এ পর্যন্ত কোনো যাচাইযোগ্য প্রমাণ নেই যে প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন কখনো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন বা প্রতিস্থাপিত হয়েছেন। এই দাবিগুলি সম্পূর্ণভাবে একটি ষড়যন্ত্র তত্ত্ব হিসেবে রয়ে গেছে। সূত্র: Royanews
দাম বাড়ানোর ১২ ঘণ্টারও কম সময়ের ব্যবধানে দেশের বাজারে আবারও স্বর্ণের দাম কমিয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। ভরিতে এক লাফে ৩ হাজার ২৬৬ টাকা কমিয়ে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ৫৮ হাজার ৮২৪ টাকা। শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) রাতে বাজুসের এক বিজ্ঞপ্তিতে দাম কমানোর বিষয়টি জানানো হয়েছে। নতুন দাম রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) থেকেই কার্যকর হবে। এর আগে একই দিন সকালে দেশের বাজারে স্বর্ণের দাম বাড়ানো হয়। ওই সময় ভরিপ্রতি এক লাফে ৭ হাজার ৬৪০ টাকা বাড়িয়ে ২২ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণের দাম নির্ধারণ করা হয়েছিল ২ লাখ ৬২ হাজার ৯০ টাকা। নতুন দাম অনুযায়ী, বর্তমানে দেশের বাজারে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) স্বর্ণের দাম পড়বে ২ লাখ ৫৮ হাজার ৮২৪ টাকা। পাশাপাশি ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ৪৭ হাজার ৪৪ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ১১ হাজার ৭৬০ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম পড়বে ১ লাখ ৭৩ হাজার ৩২৭ টাকা। এ নিয়ে চলতি বছর দেশের বাজারে মোট ২৭ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করলো বাজুস। এরমধ্যে ১৭ বারই দাম বাড়ানো হয়েছে। আর দাম কমেছে মাত্র ১০ বার। অন্যদিকে গতবছর দেশের বাজারে মোট ৯৩ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করা হয়েছিল। যেখানে ৬৪ বারই দাম বাড়ানো হয়েছিল। এছাড়া ২০২৫ সালে ২৯ বার কমানো হয়েছিল স্বর্ণের দাম।
যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসন নীতিতে কঠোরতা আরও স্পষ্ট হচ্ছে। সর্বশেষ মেইন (Maine) অঙ্গরাজ্যে ফেডারেল ইমিগ্রেশন অভিযান শুরুর ঘোষণা দিয়েছে Department of Homeland Security (ডিএইচএস)। ডিএইচএসের এক মুখপাত্রের বরাতে জানা গেছে, “Operation Catch of the Day” নামে এই বিশেষ অভিযানের মাধ্যমে রাজ্যটিতে অবস্থানরত অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত অবৈধ অভিবাসীদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তার করা হবে। অভিযানটি পরিচালনায় ফেডারেল ইমিগ্রেশন কর্মকর্তাদের পাশাপাশি স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সমন্বয় রয়েছে। কর্তৃপক্ষ বলছে, এই উদ্যোগের প্রধান লক্ষ্য জননিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং সহিংস বা গুরুতর অপরাধে যুক্ত ব্যক্তিদের আইনের আওতায় আনা। ডিএইচএস আরও জানায়, আইন মেনে বসবাসকারী বা অপরাধে জড়িত নন—এমন অভিবাসীদের লক্ষ্যবস্তু করা হবে না। তবে মানবাধিকার ও অভিবাসী অধিকার সংগঠনগুলোর আশঙ্কা, এ ধরনের অভিযানে ভয় ও অনিশ্চয়তা তৈরি হতে পারে এবং নিরপরাধ মানুষও হয়রানির শিকার হতে পারেন। এ নিয়ে তারা স্বচ্ছতা ও যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণের আহ্বান জানিয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, মেইনে এই অভিযান শুরুর মাধ্যমে ফেডারেল সরকারের অভিবাসন আইন প্রয়োগ আরও বিস্তৃত পরিসরে জোরদার হলো। এর প্রভাব স্থানীয় অভিবাসী কমিউনিটির পাশাপাশি রাজ্যের রাজনৈতিক ও সামাজিক পরিমণ্ডলেও পড়তে পারে। সূত্র: ABC News
যুক্তরাষ্ট্রের শ্রমবাজারে তীব্র কর্মী সংকট মোকাবিলায় ২০২৬ অর্থবছরে বড় ধরনের পদক্ষেপ নিয়েছে ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন। নিয়মিত কোটার বাইরে অতিরিক্ত প্রায় ৬৪ হাজার ৭১৬টি এইচ-২বি মৌসুমি অতিথি শ্রমিক ভিসা দেওয়ার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। রয়টার্সের বরাতে জানা গেছে, স্থানীয় সময় শুক্রবার (৩০ জানুয়ারি) প্রকাশিত ফেডারেল রেজিস্টার নোটিশে বলা হয়, দেশীয় শ্রমিকের ঘাটতির কারণে যেসব মার্কিন নিয়োগকর্তা বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ছেন, মূলত তাদের স্বার্থ বিবেচনায় নিয়েই এই অতিরিক্ত ভিসার অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। ফলে বছরে নির্ধারিত ৬৬ হাজার এইচ-২বি ভিসার সংখ্যা প্রায় দ্বিগুণে পৌঁছাতে যাচ্ছে। নতুন এই সিদ্ধান্তে নির্মাণ শিল্প, হোটেল ও রেস্তোরাঁ, ল্যান্ডস্কেপিং এবং সি-ফুড প্রক্রিয়াজাতকরণ খাতের মতো শ্রমনির্ভর মৌসুমি শিল্পগুলো সবচেয়ে বেশি উপকৃত হবে বলে মনে করা হচ্ছে। এসব খাতে দীর্ঘদিন ধরেই দক্ষ স্থানীয় কর্মীর অভাবে বিদেশি শ্রমিক আনার দাবি জানিয়ে আসছিলেন নিয়োগকর্তারা। ক্ষমতায় আসার পর ট্রাম্প প্রশাসন অবৈধ অভিবাসনের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিলেও, বৈধ পথে কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়িয়ে অর্থনীতিকে সচল রাখতে এই নমনীয় সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এর আগেও সাবেক প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন প্রশাসনের সময় শ্রমঘাটতি মোকাবিলায় এইচ-২বি ভিসার সংখ্যা বাড়ানো হয়েছিল। তবে সরকারের এই সিদ্ধান্তের বিরোধিতাও রয়েছে। অভিবাসন কমানোর পক্ষে থাকা বিভিন্ন গোষ্ঠীর আশঙ্কা, বিপুল সংখ্যক বিদেশি শ্রমিক প্রবেশ করলে মার্কিন নাগরিকদের মজুরি কমে যেতে পারে। এ বিষয়ে পেন্টাগন ও শ্রম মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, দেশের উন্নয়ন প্রকল্প এবং পর্যটন খাত সচল রাখতে এই মুহূর্তে বিদেশি শ্রমিকের বিকল্প নেই। ফেডারেল রেজিস্টারের তথ্যানুযায়ী, অতিরিক্ত এইচ-২বি ভিসা কার্যকরের বিশেষ বিধিমালা আগামী মঙ্গলবার আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হবে এবং এরপরই আবেদন প্রক্রিয়া শুরু হবে। সূত্র: দ্য ফিন্যান্সিয়াল এক্সপ্রেস