যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্ব আবেদন ফি প্রায় দ্বিগুণ করার প্রস্তাব
যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ীভাবে বসবাসরত লাখো অভিবাসীর জন্য নাগরিকত্ব অর্জন দীর্ঘ যাত্রার শেষ ধাপ হিসেবে বিবেচিত হয়। তবে সেই প্রক্রিয়া শিগগিরই আরও ব্যয়বহুল হয়ে উঠতে পারে। কারণ নাগরিকত্বের আবেদন ফি উল্লেখযোগ্য হারে বাড়ানোর প্রস্তাব দিয়েছে মার্কিন প্রশাসন।
যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা বিভাগ (ডিএইচএস) নাগরিকত্ব আবেদনপত্র বা এন-৪০০ ফরম জমা দেওয়ার ফি বাড়ানোর প্রস্তাব প্রকাশ করেছে। এই ফরমের মাধ্যমে গ্রিন কার্ডধারীরা মার্কিন নাগরিকত্বের জন্য আবেদন করেন।
প্রস্তাব অনুযায়ী, কাগজে আবেদন জমা দেওয়ার ক্ষেত্রে বর্তমান ৭৬০ ডলারের ফি বাড়িয়ে ১ হাজার ৩৩০ ডলার করা হতে পারে। অন্যদিকে অনলাইনে আবেদনকারীদের জন্য ফি ৭১০ ডলার থেকে বেড়ে ১ হাজার ২৮০ ডলারে পৌঁছাতে পারে।
শুধু ফি বৃদ্ধি নয়, বর্তমানে যেসব আবেদনকারী আর্থিক অবস্থার ভিত্তিতে কম ফি বা ফি মওকুফের সুবিধা পান, সেই সুযোগও বাতিল করার প্রস্তাব করা হয়েছে। ফলে নিম্ন আয়ের অভিবাসীদের ওপর এর প্রভাব সবচেয়ে বেশি পড়তে পারে বলে মনে করছেন অভিবাসন বিশেষজ্ঞরা।
বিশ্লেষকদের মতে, প্রস্তাবটি কার্যকর হলে অনেক গ্রিন কার্ডধারী নাগরিকত্বের আবেদন পিছিয়ে দিতে পারেন। কেউ কেউ দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনাও পুনর্বিবেচনা করতে বাধ্য হতে পারেন।
এই প্রস্তাবের প্রভাব ভারতীয় বংশোদ্ভূত অভিবাসীদের ওপরও উল্লেখযোগ্য হতে পারে। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রে ৬০ লাখের বেশি ভারতীয় বংশোদ্ভূত ব্যক্তি ও ভারতীয় নাগরিক বসবাস করছেন। ২০২৪ সালে প্রায় ৬৬ হাজার ৮০০ ভারতীয় বৈধ স্থায়ী বাসিন্দার মর্যাদা পেয়েছেন। যদিও ২০২২ সালে এই সংখ্যা ছিল ১ লাখ ২৭ হাজারের বেশি।
অভিবাসন বিশেষজ্ঞদের ভাষ্য, নাগরিকত্ব কেবল ভোটাধিকার বা পাসপোর্ট পাওয়ার বিষয় নয়; এটি কর্মসংস্থান, পারিবারিক পুনর্মিলন, সরকারি সুবিধা এবং দীর্ঘমেয়াদি নিরাপত্তার সঙ্গেও সম্পর্কিত। ফলে আবেদন ব্যয় বাড়লে অনেক অভিবাসী সিদ্ধান্ত নিতে সময় নিতে পারেন।
তবে প্রস্তাবটি এখনই কার্যকর হচ্ছে না। মার্কিন প্রশাসনিক প্রক্রিয়া অনুযায়ী, এটি জনমত গ্রহণের ধাপ অতিক্রম করবে। নাগরিক, অধিকারকর্মী, আইনজীবী ও সংশ্লিষ্ট সংগঠনগুলো তাদের মতামত জমা দিতে পারবেন। এরপর পর্যালোচনা শেষে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
ফলে নাগরিকত্ব আবেদন ফি বৃদ্ধির সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা শুরু হলেও বাস্তবে তা কার্যকর হতে এখনও কয়েক মাস সময় লাগতে পারে।
অভিবাসন নীতির সাম্প্রতিক পরিবর্তনগুলো নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে আলোচনা চলছে। এর মধ্যেই নাগরিকত্ব আবেদন ফি বাড়ানোর এই প্রস্তাব অভিবাসী সম্প্রদায়ের মধ্যে নতুন উদ্বেগের জন্ম দিয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
আমেরিকা
View moreনতুন আদেশের একটি যুক্তরাষ্ট্রে জন্ম নেওয়া কারা স্বয়ংক্রিয়ভাবে মার্কিন নাগরিকত্ব পাবেন, তা সীমিত করার লক্ষ্য নিয়েছে। অন্যটি তথাকথিত ‘বার্থ ট্যুরিজম’ বন্ধে ভিসা ব্যবস্থায় কড়াকড়ি আরোপের নির্দেশ দিয়েছে। ট্রাম্পের নতুন উদ্যোগটি এসেছে মাত্র কয়েক সপ্তাহ পর, যখন সুপ্রিম কোর্ট তার আগের জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব সীমিত করার উদ্যোগের সাংবিধানিক ভিত্তি নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ রায় দেয়। ৩০ জুনের Trump v. Barbara মামলায় আদালত স্পষ্ট করে যে যুক্তরাষ্ট্রে জন্ম নেওয়া, এমনকি বাবা-মা অবৈধভাবে বা সাময়িকভাবে অবস্থান করলেও, সংশ্লিষ্ট শিশুরা চতুর্দশ সংশোধনীর নাগরিকত্ব ধারার অধীনে জন্মের সময় মার্কিন নাগরিক। তবে নতুন আদেশে ট্রাম্প প্রশাসন কিছু নির্দিষ্ট পরিস্থিতিকে জন্মসূত্রে নাগরিকত্বের আওতার বাইরে রাখার অবস্থান নিয়েছে। এর মধ্যে বিদেশি কূটনৈতিক কর্মকর্তা বা নির্দিষ্ট বিদেশি সরকারি সংস্থার সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিদের সন্তান এবং যুক্তরাষ্ট্রের ঘোষিত ‘alien enemy’ হিসেবে বিবেচিত ব্যক্তিদের সন্তানদের বিষয়টি রয়েছে। আদেশে নাগরিকত্ব পাওয়ার জন্য প্রতারণামূলক কর্মকাণ্ডের অভিযোগ থাকা কিছু ক্ষেত্র নিয়েও বিধিনিষেধের কথা বলা হয়েছে। অন্য নির্বাহী আদেশটি ‘বার্থ ট্যুরিজম’ মোকাবিলায় ভিসা ব্যবস্থাকে আরও কঠোর করার দিকে নজর দিয়েছে। অর্থাৎ বিদেশি নাগরিকরা শুধু যুক্তরাষ্ট্রে সন্তান জন্ম দিয়ে শিশুকে মার্কিন নাগরিকত্ব দেওয়ার উদ্দেশ্যে ভ্রমণ করছেন কি না, তা বিবেচনায় নিয়ে ভিসা ইস্যু ও পর্যালোচনায় বাড়তি কড়াকড়ির নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ট্রাম্প বলেছেন, তিনি প্রথম দফার উদ্যোগটি সুপ্রিম কোর্টে জিতবে বলে আশা করেছিলেন। আদালতের সিদ্ধান্তকে তিনি অন্যায্য বলে মন্তব্য করে এবার ভিন্ন পথে জন্মসূত্রে নাগরিকত্বের বিধান পরিবর্তনের চেষ্টা করছেন। তবে নতুন আদেশগুলোও দ্রুত আইনি চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে পারে। অভিবাসন অধিকার সংগঠন ও আইন বিশেষজ্ঞদের বড় একটি অংশের মতে, নির্বাহী আদেশ দিয়ে সংবিধানের চতুর্দশ সংশোধনীর নাগরিকত্ব ধারা পরিবর্তন করা যায় না। যুক্তরাষ্ট্রে জন্মসূত্রে নাগরিকত্বের ভিত্তি ১৪তম সংশোধনীর Citizenship Clause। গৃহযুদ্ধের পর ১৮৬৮ সালে এই সাংবিধানিক বিধান কার্যকর হয়। এর অধীনে সাধারণভাবে যুক্তরাষ্ট্রের ভূখণ্ডে জন্ম নেওয়া ব্যক্তিকে জন্মের সময় নাগরিক হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়। ‘বার্থ ট্যুরিজম’ নিয়ে অবশ্য আলাদা বিতর্ক রয়েছে। মাইগ্রেশন পলিসি ইনস্টিটিউটের হিসাবে, যুক্তরাষ্ট্রে বছরে প্রায় ৩৫ লাখ শিশুর জন্মের মধ্যে আনুমানিক ২৬ হাজার জন্ম ‘বার্থ ট্যুরিজম’-এর সঙ্গে সম্পর্কিত হতে পারে। এটি ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদে জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব সীমিত করার দ্বিতীয় বড় নির্বাহী উদ্যোগ। প্রথম মেয়াদের শুরুতেই তিনি একই লক্ষ্য নিয়ে একটি নির্বাহী আদেশে সই করেছিলেন। সেটি নিম্ন আদালতগুলোতে আটকে যায় এবং কার্যকর হতে পারেনি। নতুন আদেশগুলো কার্যকর হলে ভবিষ্যতে যুক্তরাষ্ট্রে জন্ম নেওয়া শিশুদের নাগরিকত্ব নির্ধারণে বড় পরিবর্তন আসতে পারে। তবে আদেশগুলোর সাংবিধানিক বৈধতা নিয়ে শেষ পর্যন্ত আদালতের সিদ্ধান্তই গুরুত্বপূর্ণ হবে।
ট্রাম্পের চুলে হঠাৎ এত পরিবর্তন কেন? লাস ভেগাসের ছবি ঘিরে নতুন আলোচনা
ফ্লোরিডায় গভীর রাতে অস্বাভাবিকভাবে বাড়ি থেকে বেরিয়ে নিখোঁজ ১৬ বছরের কিশোরী, মেয়েকে ফেরার আকুতি বাবার
যুক্তরাষ্ট্রের চাকরির বাজারে অপ্রত্যাশিত পতন, জুলাইয়ে কমেছে ২৩ হাজার চাকরি
যুক্তরাষ্ট্রের শ্রমবাজার জুলাইয়ে প্রত্যাশার চেয়ে অনেক দুর্বল ফল দেখিয়েছে। শুক্রবার প্রকাশিত সরকারি প্রতিবেদনে দেখা গেছে, গত মাসে নতুন চাকরি বাড়ার পরিবর্তে ২৩ হাজার চাকরি কমেছে। একই সময়ে বেকারত্বের হার সামান্য কমে ৪ দশমিক ১ শতাংশে দাঁড়ালেও শ্রমশক্তিতে অংশগ্রহণের হার নেমে গেছে ৬১ দশমিক ৪ শতাংশে, যা অর্থনীতির ভেতরের দুর্বলতা নিয়ে নতুন উদ্বেগ তৈরি করেছে। যুক্তরাষ্ট্রের ব্যুরো অব লেবার স্ট্যাটিস্টিকস জানিয়েছে, জুলাইয়ে ননফার্ম পেরোলে ২৩ হাজার চাকরি কমেছে। আগের ১২ মাসে মাসে গড়ে ৩৪ হাজার চাকরি বেড়েছিল। অর্থনীতিবিদেরা জুলাইয়ে চাকরি বৃদ্ধির আশা করেছিলেন, ফলে এই ফল বাজারের প্রত্যাশার তুলনায় বড় হতাশা হিসেবে এসেছে। সবচেয়ে বড় চাকরি কমেছে স্থানীয় সরকারি শিক্ষা খাতে, যেখানে ৫০ হাজার পদ কমেছে। রিটেইল খাত হারিয়েছে ১৯ হাজার চাকরি এবং আর্থিক কার্যক্রমে কমেছে আরও ১৪ হাজার। বিপরীতে হেলথ কেয়ার খাতে ২২ হাজার চাকরি বেড়েছে, যদিও এই বৃদ্ধিও আগের বছরের গড় গতির তুলনায় ধীর। আরও উদ্বেগের বিষয় হলো, আগের দুই মাসের চাকরির সংখ্যাও বড় অঙ্কে কমিয়ে সংশোধন করা হয়েছে। মে মাসের চাকরি বৃদ্ধি ১ লাখ ২৯ হাজার থেকে নামিয়ে ৬৩ হাজার এবং জুনের ৫৭ হাজার থেকে নামিয়ে ২০ হাজার করা হয়েছে। ফলে মে ও জুন মিলিয়ে আগে যে হিসাব প্রকাশ করা হয়েছিল, তার তুলনায় বাস্তবে ১ লাখ ৩ হাজার কম চাকরি তৈরি হয়েছে। বেকারত্বের হার ৪ দশমিক ২ শতাংশ থেকে ৪ দশমিক ১ শতাংশে নামলেও এটিকে পুরোপুরি ইতিবাচক সংকেত হিসেবে দেখছেন না অর্থনীতিবিদেরা। জুলাইয়ে প্রায় ২ লাখ ৬৪ হাজার মানুষ শ্রমশক্তি থেকে বেরিয়ে গেছেন। বছরের শুরু থেকে শ্রমশক্তিতে অংশগ্রহণের হার ০ দশমিক ৭ শতাংশ পয়েন্ট কমেছে। ফলে বেকারত্বের হার কমার পেছনে চাকরি পাওয়া মানুষের পাশাপাশি কাজ খোঁজা বন্ধ করে দেওয়া মানুষের সংখ্যাও ভূমিকা রেখেছে। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের জন্য এই প্রতিবেদন রাজনৈতিকভাবেও গুরুত্বপূর্ণ। তার প্রশাসন শক্তিশালী অর্থনীতি ও কর্মসংস্থান বৃদ্ধিকে অন্যতম সাফল্য হিসেবে তুলে ধরছে। কিন্তু পরপর কয়েক মাসের দুর্বল চাকরির সংখ্যা এবং বড় ধরনের সংশোধন সেই বক্তব্যকে নতুন পরীক্ষার মুখে ফেলেছে। জুলাইয়ে বেসরকারি খাতে গড় ঘণ্টাপ্রতি আয় প্রায় অপরিবর্তিত থেকে ৩৭ দশমিক ৬২ ডলারে দাঁড়িয়েছে। গত এক বছরে মজুরি বেড়েছে ৩ দশমিক ২ শতাংশ। একই সময়ে গড় কর্মসপ্তাহ ৩৪ দশমিক ৩ ঘণ্টায় অপরিবর্তিত ছিল। দুর্বল চাকরির প্রতিবেদন এখন ফেডারেল রিজার্ভের পরবর্তী সুদের হার সিদ্ধান্তেও প্রভাব ফেলতে পারে। শ্রমবাজার আরও দুর্বল হলে সুদের হার কমানোর চাপ বাড়তে পারে, তবে তার আগে মূল্যস্ফীতির নতুন তথ্যও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে। জুলাইয়ের প্রতিবেদন প্রকাশের পর আর্থিক বাজারে সেপ্টেম্বরের বৈঠকে সুদের হার বাড়ার সম্ভাবনা কমে এসেছে। যুক্তরাষ্ট্রের পরবর্তী কর্মসংস্থান প্রতিবেদন ৪ সেপ্টেম্বর প্রকাশ করার কথা রয়েছে। সেই প্রতিবেদনেই বোঝা যাবে জুলাইয়ের চাকরি হ্রাস সাময়িক ধাক্কা, নাকি বিশ্বের বৃহত্তম অর্থনীতির শ্রমবাজার দীর্ঘমেয়াদি দুর্বলতার দিকে যাচ্ছে।
১৬ বছর বয়সে খিঁচুনি, এরপরই জেগে উঠল এক বিরল অসাধারণ ক্ষমতা
ইন্সুরেন্স না থাকলেও চিন্তা নেই, যুক্তরাষ্ট্রে দাঁতের চিকিৎসা পেতে পারেন প্রায় বিনামূল্যে এই ৫ উপায়ে
টেক্সাসে হিজাব ও হালাল খাবার নিষিদ্ধের প্রস্তাব, ‘ইসলাম ঠেকাতে’ নতুন নীলনকশা রিপাবলিকানদের
গ্রিন কার্ড পাওয়ার পর বাংলাদেশে দীর্ঘ সময় কাটাতে চান অনেক প্রবাসী। কেউ কয়েক মাস থাকেন, কেউ আবার প্রায় পুরো বছর। কিন্তু শুধু বৈধ গ্রিন কার্ড হাতে থাকলেই যতদিন ইচ্ছা যুক্তরাষ্ট্রের বাইরে থাকা যায় না। দীর্ঘ অনুপস্থিতি আপনার পার্মানেন্ট রেসিডেন্ট স্ট্যাটাস এবং ভবিষ্যতের সিটিজেনশিপ আবেদন দুটিতেই প্রভাব ফেলতে পারে। ইউএস সিটিজেনশিপ অ্যান্ড ইমিগ্রেশন সার্ভিসেসের নিয়ম অনুযায়ী, একজন গ্রিন কার্ডধারীর যুক্তরাষ্ট্রকেই প্রধান বাসস্থান হিসেবে বজায় রাখার উদ্দেশ্য থাকতে হবে। কতদিন বাইরে ছিলেন, তার পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আপনার বাস্তব সম্পর্ক আছে কি না, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ। ছয় মাসের কম সময় বাংলাদেশে থাকলে সাধারণত সেটিকে স্বাভাবিক বিদেশ ভ্রমণ হিসেবে দেখা হয়। তবে এর অর্থ এই নয় যে ছয় মাসের কম থাকলেই কোনো পরিস্থিতিতে প্রশ্ন করা যাবে না। একজন গ্রিন কার্ডধারী যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ীভাবে থাকার ইচ্ছা ত্যাগ করেছেন কি না, তা নির্ধারণে ভ্রমণের সময়ের পাশাপাশি তার চাকরি, বাড়ি, পরিবার, ট্যাক্স রিটার্ন ও অন্যান্য সম্পর্কও বিবেচনায় আসতে পারে। একটানা ছয় মাসের বেশি কিন্তু এক বছরের কম যুক্তরাষ্ট্রের বাইরে থাকলে পরিস্থিতি আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে। দেশে ফেরার সময় কাস্টমস অ্যান্ড বর্ডার প্রোটেকশনের অফিসার আপনার দীর্ঘ অনুপস্থিতির কারণ জানতে চাইতে পারেন। একই সঙ্গে সিটিজেনশিপের ক্ষেত্রে ছয় মাসের বেশি অনুপস্থিতি আপনার কন্টিনিউয়াস রেসিডেন্স বজায় ছিল কি না, সে প্রশ্ন তুলতে পারে। এ কারণে দীর্ঘ সময় বাংলাদেশে থাকলে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্কের প্রমাণ রাখা গুরুত্বপূর্ণ। এর মধ্যে ট্যাক্স রিটার্ন, যুক্তরাষ্ট্রে বাড়ি বা লিজ, ব্যাংক অ্যাকাউন্ট, চাকরি বা ব্যবসার তথ্য, ড্রাইভার লাইসেন্স, পরিবারের অবস্থান এবং অন্যান্য আর্থিক ও সামাজিক সম্পর্কের প্রমাণ কাজে আসতে পারে। এক বছর বা তার বেশি সময় যুক্তরাষ্ট্রের বাইরে থাকার পরিকল্পনা থাকলে বিষয়টি আরও গুরুতর। সাধারণভাবে গ্রিন কার্ড এক বছরের কম সময়ের বিদেশ ভ্রমণের পর যুক্তরাষ্ট্রে ফেরার ট্রাভেল ডকুমেন্ট হিসেবে ব্যবহার করা যায়। এক বছরের বেশি বাইরে থাকলে শুধু গ্রিন কার্ড দেখিয়ে স্বাভাবিকভাবে ফিরে আসার ক্ষেত্রে সমস্যা হতে পারে। এ ধরনের দীর্ঘ ভ্রমণের পরিকল্পনা থাকলে যুক্তরাষ্ট্র ছাড়ার আগেই রি এন্ট্রি পারমিটের জন্য আবেদন করা যায়। এটি সাধারণত ফর্ম আই ১৩১ এর মাধ্যমে আবেদন করা হয়। বৈধ রি এন্ট্রি পারমিট থাকলে নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে দুই বছর পর্যন্ত বিদেশে অবস্থানের পর যুক্তরাষ্ট্রে ফেরার আবেদন করা সম্ভব হতে পারে। তবে রি এন্ট্রি পারমিট থাকলেই গ্রিন কার্ড স্ট্যাটাস শতভাগ সুরক্ষিত থাকবে, এমন নিশ্চয়তা নেই। এটি মূলত দেখাতে সাহায্য করে যে গ্রিন কার্ডধারী যুক্তরাষ্ট্রের পার্মানেন্ট রেসিডেন্স ত্যাগ করার পরিকল্পনা করেননি। চূড়ান্তভাবে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের সময় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ পুরো পরিস্থিতি বিবেচনা করতে পারে। কেউ যদি এক বছরের বেশি সময় যুক্তরাষ্ট্রের বাইরে থাকেন এবং তার কাছে বৈধ রি এন্ট্রি পারমিট না থাকে, কিছু ক্ষেত্রে রিটার্নিং রেসিডেন্ট ভিসার জন্য আবেদন করার সুযোগ থাকতে পারে। তবে এজন্য দেখাতে হয় যে বিদেশে দীর্ঘদিন আটকে থাকার কারণটি আবেদনকারীর নিয়ন্ত্রণের বাইরে ছিল এবং তিনি যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বাসস্থান ত্যাগ করেননি। গ্রিন কার্ডধারীদের জন্য আরেকটি বড় বিষয় হচ্ছে সিটিজেনশিপ। সাধারণ পাঁচ বছরের নিয়মে ন্যাচারালাইজেশনের জন্য আবেদন করতে চাইলে আবেদন করার আগের পাঁচ বছরে অন্তত ৩০ মাস বা ৯১৩ দিন যুক্তরাষ্ট্রে শারীরিকভাবে উপস্থিত থাকার নিয়ম রয়েছে। একই সঙ্গে কন্টিনিউয়াস রেসিডেন্সের শর্তও আলাদাভাবে পূরণ করতে হয়। একটানা ছয় মাসের বেশি বিদেশে থাকলে কন্টিনিউয়াস রেসিডেন্স নিয়ে প্রশ্ন উঠতে পারে। আর সাধারণভাবে এক বছর বা তার বেশি সময়ের একটানা বিদেশ অবস্থান সিটিজেনশিপের জন্য প্রয়োজনীয় কন্টিনিউয়াস রেসিডেন্স ভেঙে দিতে পারে, যদিও আইনে কিছু সীমিত ব্যতিক্রম রয়েছে। তাই প্রতি বছর পাঁচ বা ছয় মাস বাংলাদেশে থাকলেই গ্রিন কার্ড স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাতিল হয়ে যাবে, এমন কোনো সরল নিয়ম নেই। আবার ছয় মাসের কম থাকলেই সব ক্ষেত্রে নিশ্চিন্ত থাকা যাবে, সেটিও ঠিক নয়। মূল বিষয় হলো যুক্তরাষ্ট্রকে আপনার স্থায়ী বাসস্থান হিসেবে বজায় রাখা এবং আপনার ভ্রমণের ধরন যেন সেই অবস্থানের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ হয়। বাংলাদেশে দীর্ঘ সময় থাকার পরিকল্পনা থাকলে যাত্রার আগে নিজের ভ্রমণের সময়কাল, রি এন্ট্রি পারমিটের প্রয়োজন, ট্যাক্স ফাইলিং এবং ভবিষ্যতের সিটিজেনশিপ পরিকল্পনা বিবেচনা করা জরুরি। জটিল বা ব্যক্তিগত পরিস্থিতিতে লাইসেন্সপ্রাপ্ত ইমিগ্রেশন অ্যাটর্নির পরামর্শ নেওয়াই নিরাপদ। এই প্রতিবেদনটি সাধারণ তথ্যের জন্য। ব্যক্তিগত ইমিগ্রেশন পরিস্থিতিতে আইনি সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে যোগ্য ইমিগ্রেশন অ্যাটর্নির পরামর্শ নেওয়া উচিত।
পেনসিলভেনিয়ায় কিশোরীকে ‘প্রায় প্রতিদিন’ ধর্ষণের অভিযোগে এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে ৫৫৩৮টি মামলা
নিউইয়র্কে সড়ক দুর্ঘটনায় আহত তিন বাংলাদেশি পেলেন ৩৩ কোটি টাকা