টেক্সাসে মুসলিম নারীদের উদ্দেশে বিদ্বেষমূলক মন্তব্য, ক্ষোভের মুখে চাকরি হারালেন এক নারী
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাস অঙ্গরাজ্যে দুই মুসলিম নারীকে লক্ষ্য করে ইসলামবিদ্বেষী মন্তব্য করার অভিযোগে ব্যাপক সমালোচনার মুখে পড়েছেন এক নারী। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হওয়া একটি ভিডিওতে তাকে মুসলিম নারীদের উদ্দেশে বলতে শোনা যায়, “এটি কোনো মুসলিম দেশ নয়, এটি একটি খ্রিস্টান দেশ,” এবং “তোমাদের ইসলামিক দেশে ফিরে যাওয়া উচিত।”
ভিডিওটি দ্রুত ছড়িয়ে পড়লে বিভিন্ন মহলে নিন্দার ঝড় ওঠে। অনেকেই ঘটনাটিকে ধর্মীয় বিদ্বেষ ও বৈষম্যের উদাহরণ হিসেবে আখ্যায়িত করেন। সমালোচকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্র ধর্মীয় স্বাধীনতা ও বৈচিত্র্যের দেশ, যেখানে কোনো ধর্ম বা জাতিগত পরিচয়ের কারণে কাউকে হেয় করা গ্রহণযোগ্য নয়।
ঘটনার পর সংশ্লিষ্ট নারী তার চাকরি হারিয়েছেন বলে জানা গেছে। তার কর্মস্থল এক বিবৃতিতে জানায়, কর্মীর আচরণ প্রতিষ্ঠানটির মূল্যবোধ ও ব্যবসায়িক স্বার্থের সঙ্গে সাংঘর্ষিক হওয়ায় তারা তার সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
প্রতিষ্ঠানটির বিবৃতিতে বলা হয়, “দুঃখজনকভাবে এই কর্মীকে ঘিরে এটিই প্রথম ঘটনা ছিল না, তবে এটিই ছিল শেষ ঘটনা। আমরা প্রত্যেকের মত প্রকাশের অধিকারকে সম্মান করি। কিন্তু যখন কোনো কর্মীর কর্মকাণ্ড আমাদের ব্যবসার ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলে, তখন আমাদের পদক্ষেপ নিতে হয়।”
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, “এই সিদ্ধান্তে সবাই সন্তুষ্ট হবেন না। তবে অতীতের ঘটনাগুলো বিবেচনায় নিয়ে আমরা সাবেক ওই কর্মীর সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করার সিদ্ধান্তে অটল রয়েছি এবং তার ভবিষ্যতের জন্য শুভকামনা জানাই।”
এদিকে ঘটনাটি মুসলিম সম্প্রদায়ের নিরাপত্তা ও ধর্মীয় স্বাধীনতা নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু করেছে। অনেক সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারকারী বলেছেন, মুসলিম আমেরিকানরা দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন ধরনের বৈষম্য ও বিদ্বেষমূলক আচরণের মুখোমুখি হচ্ছেন এবং এ ধরনের ঘটনার বিরুদ্ধে কঠোর সামাজিক অবস্থান প্রয়োজন।
অন্যদিকে, বরখাস্ত হওয়া নারীর সমর্থনে একটি অনলাইন তহবিল সংগ্রহ কার্যক্রমও শুরু হয়েছে। ইতোমধ্যে সেখানে কয়েক হাজার ডলারের বেশি অর্থ সংগ্রহ হয়েছে। তবে সমালোচকদের একটি অংশের দাবি, বিদ্বেষমূলক বক্তব্যকে সমর্থন বা পুরস্কৃত করার পরিবর্তে যুক্তরাষ্ট্রে পারস্পরিক শ্রদ্ধা, সহনশীলতা এবং ধর্মীয় সম্প্রীতির সংস্কৃতি জোরদার করা জরুরি।
বিশ্লেষকদের মতে, এই ঘটনা শুধু একটি ব্যক্তিগত আচরণের বিষয় নয়; বরং এটি যুক্তরাষ্ট্রে ধর্মীয় বৈচিত্র্য, অভিবাসন এবং সামাজিক সহাবস্থানের প্রশ্নকে আবারও সামনে নিয়ে এসেছে।
© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
আমেরিকা
View moreনিউইয়র্কের পাতালরেলে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েনের জন্য নিউইয়র্ক অঙ্গরাজ্যের দেওয়া ৭৭ মিলিয়ন ডলারের তহবিল জুলাইয়ের মধ্যেই শেষ হয়ে গেছে। ফলে ২০২৬ সালের দ্বিতীয়ার্ধে অতিরিক্ত পুলিশ সদস্যদের ওভারটাইমসহ টহল চালিয়ে যাওয়ার খরচ নিউইয়র্ক সিটিকে বহন করতে হচ্ছে। নিউইয়র্ক পোস্টের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তহবিল শেষ হলেও পাতালরেলে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন বন্ধ হয়নি। এই তহবিল গত বছরের ডিসেম্বরে গভর্নর ক্যাথি হোকুল ঘোষণা করেছিলেন। উদ্দেশ্য ছিল নিউইয়র্কের পাতালরেল ব্যবস্থায় অতিরিক্ত পুলিশ সদস্য মোতায়েন করে যাত্রীদের নিরাপত্তা বাড়ানো। হোকুলের পরিকল্পনা অনুযায়ী, এই অর্থ দিয়ে প্রতিদিন ৬০০ জনের বেশি পুলিশ সদস্যের অতিরিক্ত দায়িত্ব ও টহল কার্যক্রমে সহায়তা করার কথা ছিল। তবে রাজ্য ও শহরের মধ্যে আগে থেকেই থাকা অর্থায়ন ব্যবস্থায় বছরের এক অংশের খরচ রাজ্য এবং অন্য অংশের খরচ শহরের বহন করার কথা ছিল। নিউইয়র্ক সিটির নিয়ন্ত্রকের কার্যালয়ের নথিতে বলা হয়েছে, পাতালরেলে পুলিশের অতিরিক্ত মোতায়েনের মোট ব্যয় ১৫৪ মিলিয়ন ডলার হিসেবে ধরা হয়েছিল এবং রাজ্য ও শহরের মধ্যে তা ভাগ করে নেওয়ার ব্যবস্থা ছিল। হোকুলের কার্যালয়ের বক্তব্য অনুযায়ী, গত দুই বছর ধরে রাজ্য পাতালরেলে অতিরিক্ত পুলিশ উপস্থিতির জন্য ৭৭ মিলিয়ন ডলার করে দিয়েছে এবং শহর অপর অংশের জন্য সমপরিমাণ অর্থ দিয়েছে। ফলে রাজ্যের অর্থ শেষ হয়ে যাওয়ার পরও অতিরিক্ত পুলিশ টহল চালিয়ে যাওয়ার ব্যবস্থা আগে থেকেই ছিল। শহর ও রাজ্য উভয় পক্ষই জানিয়েছে, এই অর্থায়ন ব্যবস্থা এখনো কার্যকর রয়েছে। মেয়র জোরান মামদানির প্রশাসন তাই পাতালরেলে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েনের ব্যয় বহন করছে। মেয়রের মুখপাত্র স্যাম রাসকিন বলেছেন, বিদ্যমান অর্থায়ন ব্যবস্থার আওতায় শহর ও রাজ্য পাতালরেলে অতিরিক্ত পুলিশ টহল অব্যাহত রাখবে। নিউইয়র্ক পুলিশ বিভাগও জানিয়েছে, অতিরিক্ত পুলিশ সদস্যদের মোতায়েন চালু থাকবে। তহবিল শেষ হওয়ার খবরটি এমন সময়ে সামনে এসেছে, যখন পাতালরেলে কিছু ধরনের হামলার ঘটনা বেড়েছে। নিউইয়র্ক পুলিশ বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, চলতি মাসে পাতালরেলে গুরুতর হামলার ঘটনা ৮ শতাংশ বেড়েছে। তুলনামূলক কম গুরুতর হামলার ঘটনাও প্রায় ১৮ শতাংশ বেড়ে প্রায় ১ হাজার ২০০টিতে পৌঁছেছে। তবে সামগ্রিকভাবে পাতালরেলে অপরাধ প্রায় ১ শতাংশ কমেছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, ৩১ আগস্ট পর্যন্ত গুরুতর হামলার ঘটনায় ২৬৩ জনকে অন্তত তিনবার গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ২০১৮ সালের একই সময়ের তুলনায় এই সংখ্যা ২০৫ দশমিক ৬ শতাংশ বেশি। নিউইয়র্ক পুলিশ বিভাগ জানিয়েছে, শহরজুড়ে গুরুতর হামলার অভিযোগের প্রায় ৮০ শতাংশ ঘটনায় গ্রেপ্তার করা হচ্ছে। পুলিশের হিসাবে, পাতালরেলের ৭১ শতাংশ যাত্রী এখনো ব্যবস্থাটিকে নিরাপদ মনে করেন। গত বছরের ডিসেম্বরে ৭৭ মিলিয়ন ডলারের তহবিল ঘোষণার সময় হোকুল বলেছিলেন, এই অর্থ দিয়ে প্রতিদিন ৬০০ জনের বেশি পুলিশ সদস্যকে পাতালরেলে মোতায়েন রাখা এবং প্রয়োজন অনুযায়ী অতিরিক্ত টহল বাড়ানো সম্ভব হবে। পুলিশের অতিরিক্ত দায়িত্ব পালনের ওভারটাইম খরচও এই উদ্যোগের আওতায় ছিল। পাতালরেলের নিরাপত্তা বাড়াতে পুলিশের উপস্থিতি বৃদ্ধির পাশাপাশি আরও ক্যামেরা স্থাপন এবং গৃহহীন ব্যক্তিদের সহায়তা ব্যবস্থার আওতায় আনার উদ্যোগও নেওয়া হয়েছিল। রাজ্য সরকারের ২০২৬ সালের পরিকল্পনায় পাতালরেলে পুলিশ মোতায়েন অব্যাহত রাখতে আরও ৭৭ মিলিয়ন ডলারের অর্থ বরাদ্দের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। এর আগে ২০২৫ সালে হোকুল তৎকালীন মেয়র এরিক অ্যাডামসের সঙ্গে পাতালরেলে অতিরিক্ত পুলিশ টহল বাড়ানোর জন্য ১৫৪ মিলিয়ন ডলারের একটি যৌথ অর্থায়ন ব্যবস্থায় গিয়েছিলেন। সেই ব্যবস্থায় রাজ্য ও শহর সমানভাবে ব্যয় বহন করার কথা ছিল। নিউইয়র্ক সিটির বাজেট নথিতেও এই অর্থ ভাগাভাগির বিষয়টি উল্লেখ রয়েছে। নিউইয়র্ক সিটির নিয়ন্ত্রকের কার্যালয়ের সাম্প্রতিক বাজেট বিশ্লেষণেও পাতালরেল নিরাপত্তা উদ্যোগের জন্য রাজ্যের ৭৭ মিলিয়ন ডলার ফেরত দেওয়ার বিষয়টি উল্লেখ করা হয়েছে। সেখানে বলা হয়েছে, এই অর্থ নিউইয়র্ক পুলিশ বিভাগের অতিরিক্ত সময়ের ব্যয়ের সঙ্গে সম্পর্কিত। অর্থাৎ, রাজ্যের ৭৭ মিলিয়ন ডলারের তহবিল শেষ হয়ে গেলেও নিউইয়র্কের পাতালরেলে অতিরিক্ত পুলিশ টহল বন্ধ হচ্ছে না। আগে থেকে থাকা অর্থায়ন চুক্তি অনুযায়ী, ২০২৬ সালের দ্বিতীয়ার্ধের অংশের ব্যয় নিউইয়র্ক সিটি বহন করছে। সেই ব্যবস্থার অধীনেই মামদানি প্রশাসন অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েনের খরচ দিচ্ছে এবং পাতালরেলে টহল কার্যক্রম অব্যাহত থাকছে। সূত্র: নিউইয়র্ক পোস্ট
ফ্লাইট বাতিল হলে এয়ারলাইন যে ক্ষতিপূরণ ও রিফান্ড দেয়, জানুন যাত্রী অধিকার
চুয়েট থেকে যুক্তরাষ্ট্রের বিশ্ববিদ্যালয় একাডেমিক বিষয়ক সহযোগী উপাচার্য ড. নিয়াজ
সোশ্যাল সিকিউরিটিতে এ সপ্তাহে সর্বোচ্চ ৫,১৮১ ডলার, কারা পাচ্ছেন! জেনে নিন
যুক্তরাষ্ট্রের আলাস্কায় বন্দুক নিয়ে খেলতে গিয়ে প্রেমিকাকে গুলি করার পর এক তরুণেরও মৃত্যু হয়েছে। পুলিশ বলছে, ২২ বছর বয়সী ল্যান্ডন লোরেন্স একটি রিভলবার নিয়ে খেলছিলেন। একপর্যায়ে সেটি তাঁর ২১ বছর বয়সী প্রেমিকা ক্লোইরে ম্যাকব্রেয়ারের দিকে তাক করে ট্রিগার চাপলে গুলি বেরিয়ে তাঁকে আঘাত করে। কয়েক দিনের মধ্যেই তাঁদের বাগদানের পরিকল্পনা ছিল বলে জানিয়েছে তরুণীর পরিবার। ঘটনাটি ঘটে ১৬ সেপ্টেম্বর রাতে আলাস্কার ফেয়ারব্যাঙ্কস শহরের বেন্টলি ড্রাইভের একটি বাড়িতে। ফেয়ারব্যাঙ্কস পুলিশ বিভাগ জানিয়েছে, রাত প্রায় ৯টা ১২ মিনিটে জরুরি সেবা ৯১১-এ ফোন করেন লোরেন্সের এক বন্ধু। তিনি জানান, লোরেন্স দুর্ঘটনাবশত তাঁর প্রেমিকাকে গুলি করেছেন। পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, লোরেন্স একটি রিভলবার নিয়ে নাড়াচাড়া করছিলেন এবং একপর্যায়ে সেটি ম্যাকব্রেয়ারের দিকে তাক করেন। এরপর ট্রিগার চাপলে গুলি বেরিয়ে যায়। ফেয়ারব্যাঙ্কস পুলিশের উপপ্রধান রিচার্ড সুইট স্থানীয় সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন, তদন্তকারীদের ধারণা রিভলবারটির চেম্বারে একটি গুলি ছিল। তবে অস্ত্রটিতে গুলি থাকার বিষয়টি লোরেন্স জানতেন কি না, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। ঘটনার সময় ম্যাকব্রেয়ার অন্য একজনের সঙ্গে ফোনে কথা বলছিলেন বলেও জানিয়েছে পুলিশ। গুলির ঘটনার পর সেখানে উপস্থিত লোরেন্সের বন্ধু দ্রুত ৯১১-এ ফোন করেন এবং পুলিশ আসা পর্যন্ত জরুরি বিভাগের কর্মকর্তাদের সঙ্গে লাইনে ছিলেন। এর মধ্যেই পরিস্থিতি আরও গুরুতর হয়ে ওঠে। পুলিশ জানায়, লোরেন্স আরেকটি আগ্নেয়াস্ত্র হাতে নিলে তাঁর বন্ধু তাঁকে শারীরিকভাবে বাধা দেওয়ার চেষ্টা করেন। ৯১১-এর ফোন সংযোগ তখনও চালু ছিল এবং অপর প্রান্ত থেকে ধস্তাধস্তির শব্দ শোনা যায়। বন্ধুর চেষ্টা সত্ত্বেও লোরেন্স নিজেকে গুলি করেন। পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে ম্যাকব্রেয়ারকে মৃত অবস্থায় পায়। গুরুতর আহত লোরেন্সকে ফায়ার বিভাগের চিকিৎসাকর্মীরা ফেয়ারব্যাঙ্কস মেমোরিয়াল হাসপাতালে নিয়ে যান। পরে হাসপাতালে তাঁর মৃত্যু হয়। ঘটনার সময় উপস্থিত এবং ৯১১-এ ফোন করা বন্ধুকে জিজ্ঞাসাবাদ করেছেন তদন্তকারীরা। পুলিশ জানিয়েছে, দুইজনের মৃত্যুর ঘটনায় ওই বন্ধুর কোনো সম্পৃক্ততা রয়েছে বলে তারা মনে করছে না। ৯১১ কলের রেকর্ডের কারণে প্রথম গুলির পর কী ঘটেছিল, সে বিষয়ে তদন্তকারীরা একটি পরিষ্কার ধারণা পেয়েছেন। তবে অঙ্গরাজ্যের মেডিকেল পরীক্ষকের চূড়ান্ত প্রতিবেদন না পাওয়া পর্যন্ত তদন্তটি খোলা রাখা হয়েছে। ঘটনার পর ফেয়ারব্যাঙ্কস পুলিশ একে ‘মর্মান্তিক ও প্রতিরোধযোগ্য প্রাণহানি’ হিসেবে বর্ণনা করেছে। পুলিশ সবাইকে আগ্নেয়াস্ত্র ব্যবহারের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বনের আহ্বান জানিয়েছে। পুলিশের উপপ্রধান রিচার্ড সুইট বলেছেন, প্রতিটি আগ্নেয়াস্ত্র সব সময় গুলিভর্তি হিসেবে বিবেচনা করা উচিত এবং আত্মরক্ষার প্রয়োজন ছাড়া কখনোই কারও দিকে অস্ত্র তাক করা উচিত নয়। এদিকে ম্যাকব্রেয়ারের পরিবার জানিয়েছে, ঘটনার কয়েক দিনের মধ্যেই লোরেন্সের সঙ্গে তাঁর বাগদানের পরিকল্পনা ছিল। আলাবামায় জন্ম ও বেড়ে ওঠা ম্যাকব্রেয়ার সম্প্রতি ইউনিভার্সিটি অব আলাস্কা ফেয়ারব্যাঙ্কসে ভর্তি হওয়ার সুযোগ পেয়েছিলেন। শিক্ষকতাকে পেশা হিসেবে নেওয়ার পরিকল্পনা ছিল তাঁর। ম্যাকব্রেয়ারের মা আমান্ডা হুপার মেয়েকে পরিবারের প্রাণবন্ত একজন সদস্য হিসেবে স্মরণ করেছেন। তাঁর ভাষায়, ম্যাকব্রেয়ার পরিবার ও বন্ধুদের গভীরভাবে ভালোবাসতেন এবং অন্যদের সাহায্য করতে পছন্দ করতেন। ছোটবেলায় তিনি খেলাধুলা, চিয়ারলিডিং ও বিভিন্ন প্রতিযোগিতায়ও অংশ নিয়েছিলেন। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, এক বন্ধুর মাধ্যমে লোরেন্সের সঙ্গে পরিচয় হয়েছিল ম্যাকব্রেয়ারের। পরে তাঁদের মধ্যে সম্পর্ক গড়ে ওঠে। ম্যাকব্রেয়ারের বড় বোন লরি হান্ট জানান, পরিবার তাঁদের বিয়ের পরিকল্পনা নিয়েও আলোচনা করছিল। মেয়ের মৃত্যুর পর লোরেন্সের পরিবারের প্রতিও সহমর্মিতা জানিয়েছেন ম্যাকব্রেয়ারের মা। তিনি বলেছেন, লোরেন্সের বাবা-মায়ের ওপর তিনি ক্ষুব্ধ নন এবং তাঁদের পক্ষেও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব ছিল না। তবে ঠিক কীভাবে এমন ঘটনা ঘটল, তা জানতে চান তিনি। ফেয়ারব্যাঙ্কস পুলিশ বলছে, ঘটনাটি আগ্নেয়াস্ত্র নিরাপত্তার গুরুত্ব আবারও সামনে এনেছে। বন্দুক নিয়ে কোনো ধরনের খেলা বা এমন কর্মকাণ্ডে অংশ না নিতে সতর্ক করেছে পুলিশ, যেখানে নিজের বা অন্য কারও জীবন ঝুঁকিতে পড়তে পারে। সূত্র: ফেয়ারব্যাঙ্কস পুলিশ বিভাগ, Alaska’s News Source
যুক্তরাষ্ট্রে এফ-১ শিক্ষার্থীদের সিপিটিতে কড়াকড়ি, ইন্টার্নশিপে নতুন শর্ত
গলফ খেলায় আবারও বিতর্কে ট্রাম্প, প্রতারণা করে ট্রফি জেতার অভিযোগ
ইরানকে ট্রাম্পের কড়া হুঁশিয়ারি, পাল্টা বড় হামলার প্রস্তুতির তেহরানের
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসের অস্টিনে ডোরড্যাশের খাবার পৌঁছে দেওয়ার সময় ২৮ বছর বয়সী এক ভেনেজুয়েলান নাগরিককে গুলি করে আহত করেছেন এক আইসিই কর্মকর্তা। ২০ সেপ্টেম্বরের এ ঘটনায় ওই ব্যক্তি গুরুতর আহত হলেও পরে তার অবস্থা স্থিতিশীল ছিল। হাসপাতালে চিকিৎসা শেষে তাকে ফেডারেল হেফাজতে নেওয়া হয়েছে বলে তার আইনজীবী জানিয়েছেন। আহত ব্যক্তির নাম উইলবার রাফায়েল গার্সেস পেরেজ। তার আইনজীবী কেট লিংকন-গোল্ডফার্ব জানিয়েছেন, গুলির সময় পেরেজ ডোরড্যাশের হয়ে একটি ডেলিভারি দিচ্ছিলেন। ডোরড্যাশও নিশ্চিত করেছে, ঘটনার সময় তিনি একটি ডেলিভারির কাজে ছিলেন। অস্টিন পুলিশের প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, উত্তর অস্টিনের অ্যান্ডারসন স্কয়ার এলাকায় দুপুরের দিকে ঘটনাটি ঘটে। পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, গুলি চালানোর আগে একটি গাড়ি ধাওয়া ও পরে পায়ে ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। পেরেজের শরীরে একটি গুলি লাগে। স্থানীয় পুলিশ ওই গুলি চালানোর ঘটনায় জড়িত ছিল না। ঘটনার পর পেরেজকে হাসপাতালে নেওয়া হয়। তার আইনজীবীর দাবি, চিকিৎসা শেষে তাকে আইসিইর হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। পরিবারের সদস্যরা তার বর্তমান অবস্থান ও পরিস্থিতি সম্পর্কে পর্যাপ্ত তথ্য পাচ্ছেন না বলেও আইনজীবী উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। পেরেজের অভিবাসন অবস্থান নিয়েও দুই পক্ষের বক্তব্যে পার্থক্য রয়েছে। হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগের বক্তব্য অনুযায়ী, তিনি যুক্তরাষ্ট্রে অবৈধভাবে প্রবেশ করেছিলেন এবং তার বিরুদ্ধে চূড়ান্ত বহিষ্কার আদেশ ছিল। তবে পেরেজের আইনজীবী বলেছেন, তার কাছে থাকা তথ্য অনুযায়ী পেরেজ বৈধভাবে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করেছিলেন এবং আগে বৈধ ওয়ার্ক পারমিটও ছিল। বিষয়টি এখনো তদন্তাধীন। ঘটনার তদন্তে হোমল্যান্ড সিকিউরিটি ইনভেস্টিগেশনসের নেতৃত্ব দেওয়ার কথা জানিয়েছে ফেডারেল কর্তৃপক্ষ, সঙ্গে থাকবে এফবিআই। একই সঙ্গে অস্টিনের স্থানীয় কর্মকর্তারাও তদন্তে যুক্ত হতে চান। মেয়র কার্ক ওয়াটসন বলেছেন, স্থানীয় পুলিশের অংশগ্রহণ তদন্তে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে সহায়ক হবে। ঘটনার সময় গুলির পরিস্থিতি নিয়ে এখনো সব তথ্য প্রকাশ হয়নি। স্থানীয় পুলিশ জানিয়েছে, তারা প্রাথমিক পর্যায়ে খুব বেশি তথ্য হাতে পায়নি। তাই গুলি চালানোর সুনির্দিষ্ট কারণ, ধাওয়া কীভাবে শুরু হয়েছিল এবং পেরেজের সঙ্গে আইসিই কর্মকর্তাদের ঠিক কী ঘটেছিল - এসব প্রশ্নের উত্তর তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত পুরোপুরি পরিষ্কার নয়। আইসিইর চলমান অভিবাসন অভিযান নিয়ে অস্টিনে বিতর্কের মধ্যেই এই ঘটনা ঘটেছে। স্থানীয় ও ফেডারেল কর্মকর্তাদের মধ্যে তদন্তের পদ্ধতি ও স্বচ্ছতা নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। পেরেজের অভিবাসন মামলার পাশাপাশি গুলি চালানোর পরিস্থিতিও এখন তদন্তের আওতায় রয়েছে।
মার্কিন ডিপোর্টিদের জন্য আফ্রিকার হোটেল যেন দুঃস্বপ্নের কারাগার
নেতানিয়াহুর গ্রেপ্তারি পরোয়ানার পর আইসিসির বিরুদ্ধে বড় নিষেধাজ্ঞার প্রস্তুতি ট্রাম্পের