ফুড স্ট্যাম্পে সোডা-ক্যান্ডি কেনার নিষেধাজ্ঞা স্থগিত, ট্রাম্প প্রশাসনের উদ্যোগে আদালতের বাধা
যুক্তরাষ্ট্রে নিম্ন আয়ের মানুষের খাদ্য সহায়তা কর্মসূচি ‘সাপ্লিমেন্টাল নিউট্রিশন অ্যাসিসট্যান্স প্রোগ্রাম’ (এসএনএপি) বা ফুড স্ট্যাম্পের সুবিধা ব্যবহার করে চিনিযুক্ত খাবার ও পানীয় কেনার ওপর আরোপিত বিধিনিষেধ সাময়িকভাবে স্থগিত করেছেন একটি ফেডারেল আদালত।
সোমবার ওয়াশিংটন ডিসির ফেডারেল জেলা আদালতের বিচারক অ্যামি বারম্যান জ্যাকসন রায়ে বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের কৃষি বিভাগ (ইউএসডিএ) ফেডারেল আইনের আওতায় অঙ্গরাজ্যগুলোর এমন অনুরোধ অনুমোদনের ক্ষমতা রাখে না। ফলে কয়েকটি অঙ্গরাজ্যে এসএনএপি সুবিধাভোগীদের জন্য কার্যকর হতে যাওয়া খাদ্যসংক্রান্ত বিধিনিষেধ আপাতত বাস্তবায়ন করা যাবে না।
মামলাটি করেছিলেন কলোরাডো, আইওয়া, নেব্রাস্কা, টেনেসি ও ওয়েস্ট ভার্জিনিয়ার পাঁচজন এসএনএপি সুবিধাভোগী। তাদের অভিযোগ ছিল, নতুন বিধিনিষেধ কার্যকর হলে খাদ্য সহায়তা পাওয়ার সুযোগ সীমিত হয়ে পড়বে এবং অনেক পরিবার তাদের প্রয়োজনীয় খাদ্যপণ্য সংগ্রহে সমস্যার মুখে পড়বে।
আদালতে দাখিল করা নথিতে বাদীরা উল্লেখ করেন, তাদের কেউ কেউ ডায়াবেটিস, অ্যালার্জি বা অন্যান্য শারীরিক অবস্থার কারণে নির্দিষ্ট খাদ্যপণ্যের ওপর নির্ভরশীল। আবার কারও ক্ষেত্রে দৈনন্দিন কাজের জন্য অতিরিক্ত শক্তির প্রয়োজন মেটাতে এসব পণ্য গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
এর আগে ইউএসডিএ ২৩টি অঙ্গরাজ্যকে বিশেষ অনুমতি বা ‘ওয়েভার’ দিয়েছিল, যার মাধ্যমে এসএনএপি সুবিধা ব্যবহার করে সফট ড্রিংক, ক্যান্ডি এবং অন্যান্য উচ্চ-চিনিযুক্ত পণ্য কেনার ওপর সীমাবদ্ধতা আরোপের সুযোগ তৈরি হয়। ট্রাম্প প্রশাসনের সময় শুরু হওয়া এবং পরে ‘মেক আমেরিকা হেলদি অ্যাগেইন’ (মাহা) উদ্যোগের অংশ হিসেবে আলোচিত এই নীতিকে সমর্থন দিয়েছিলেন কৃষিমন্ত্রী ব্রুক রোলিন্স এবং স্বাস্থ্য ও মানবসেবা বিভাগের মন্ত্রী রবার্ট এফ. কেনেডি জুনিয়র।
রায়ে বিচারক জ্যাকসন বলেন, সরকার ও অঙ্গরাজ্যগুলো জনস্বাস্থ্য উন্নয়নের উদ্দেশ্যে স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস উৎসাহিত করতে পারে। তবে সেই লক্ষ্য অর্জনের জন্য আইন এবং বিদ্যমান প্রশাসনিক বিধিমালা লঙ্ঘন করা যাবে না।
আদালতের এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছেন বাদীপক্ষের আইনজীবীরা। ন্যাশনাল সেন্টার ফর ল অ্যান্ড ইকোনমিক জাস্টিসের আইনজীবী ক্যাথারিন ডিবলার-মিডোস বলেন, আদালতের রায় দেশজুড়ে এসএনএপের ওপর নির্ভরশীল লাখো পরিবারের জন্য গুরুত্বপূর্ণ খাদ্য সহায়তা নিশ্চিত করার পথে একটি বড় অগ্রগতি।
অন্যদিকে ইউএসডিএ রায়ের পর এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, করদাতাদের অর্থ ব্যবহার করে অস্বাস্থ্যকর খাবার কেনা নিরুৎসাহিত করার প্রচেষ্টা তারা অব্যাহত রাখবে। সংস্থাটির একজন মুখপাত্র বলেন, জনস্বাস্থ্য উন্নয়ন এবং স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস গড়ে তোলার লক্ষ্য থেকে তারা সরে আসছে না।
যুক্তরাষ্ট্রে বর্তমানে প্রায় ৪ কোটি ২০ লাখ মানুষ এসএনএপি কর্মসূচির আওতায় খাদ্য সহায়তা পেয়ে থাকেন। কর্মসূচিটি ফেডারেল সরকারের অর্থায়নে পরিচালিত হলেও এর বাস্তবায়নে অঙ্গরাজ্য সরকারগুলোর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। আদালতের সর্বশেষ রায়ের ফলে খাদ্য সহায়তা কর্মসূচির সীমাবদ্ধতা নিয়ে চলমান জাতীয় বিতর্কে নতুন মাত্রা যোগ হলো।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
আমেরিকা
View moreমামলার নথি ও সাম্প্রতিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, নিউ মেক্সিকো অঙ্গরাজ্য মার্কিন বিচার বিভাগ ও ভারপ্রাপ্ত অ্যাটর্নি জেনারেলের বিরুদ্ধে মামলা করেছে। অভিযোগ, জেফ্রি এপস্টেইনের জোরো র্যাঞ্চ-সংক্রান্ত অপ্রকাশিত নথি না দেওয়ায় রাজ্যের চলমান ফৌজদারি তদন্ত বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। বিষয়টি এখনও আদালতে বিচারাধীন এবং সরকারের পক্ষ থেকে গোপনীয়তা ও আদালতের সুরক্ষামূলক আদেশের কথা উল্লেখ করে পূর্ণাঙ্গ নথি প্রকাশে আপত্তি জানানো হয়েছে। জেফ্রি এপস্টেইনের নিউ মেক্সিকোর জোরো র্যাঞ্চে সংঘটিত বলে অভিযোগ থাকা যৌন অপরাধের তদন্তে বাধা দেওয়ার অভিযোগে যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ এবং ভারপ্রাপ্ত অ্যাটর্নি জেনারেলের বিরুদ্ধে ফেডারেল আদালতে মামলা করেছে নিউ মেক্সিকো অঙ্গরাজ্য। রাজ্যের দাবি, বহুবার অনুরোধ করার পরও এপস্টেইন-সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ অপ্রকাশিত নথি হস্তান্তর না করায় তদন্ত কার্যত স্থবির হয়ে পড়েছে। নিউ মেক্সিকোর অ্যাটর্নি জেনারেল রাউল তোরেজের অভিযোগ, জোরো র্যাঞ্চে সংঘটিত সম্ভাব্য অপরাধ, ভুক্তভোগী, সাক্ষী এবং সম্ভাব্য সহযোগীদের শনাক্ত করতে বিচার বিভাগের কাছে থাকা পূর্ণাঙ্গ নথি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু বারবার আনুষ্ঠানিক অনুরোধ জানানো হলেও সেসব নথি সরবরাহ করা হয়নি। তার দাবি, এতে রাজ্যের স্বাধীন ফৌজদারি তদন্ত বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। মামলায় বলা হয়েছে, ফেডারেল সরকারের এই অবস্থান শুধু তদন্তের গতি কমিয়ে দিচ্ছে না, বরং সম্ভাব্য ভুক্তভোগীদের ন্যায়বিচার পাওয়ার পথও কঠিন করে তুলছে। তাই আদালতের মাধ্যমে বিচার বিভাগকে অপ্রকাশিত নথি হস্তান্তরের নির্দেশ দেওয়ার আবেদন জানিয়েছে নিউ মেক্সিকো। অন্যদিকে, মার্কিন বিচার বিভাগের অবস্থান হলো, আদালতের সুরক্ষামূলক আদেশ, গোপনীয়তা আইন এবং ভুক্তভোগীদের পরিচয় সুরক্ষার বাধ্যবাধকতার কারণে সব নথি প্রকাশ করা সম্ভব নয়। তবে আইনগত সীমার মধ্যে নিউ মেক্সিকোকে সহযোগিতা করতে তারা আগ্রহী বলেও জানিয়েছে। উল্লেখ্য, ২০১৯ সালে কারাগারে মৃত্যুর আগে জেফ্রি এপস্টেইনের বিরুদ্ধে অপ্রাপ্তবয়স্কদের যৌন শোষণ ও পাচারের গুরুতর অভিযোগ ছিল। চলতি বছরের শুরুতে নিউ মেক্সিকো কর্তৃপক্ষ জোরো র্যাঞ্চ-সংক্রান্ত তদন্ত পুনরায় চালু করে এবং এরপর থেকেই ফেডারেল সরকারের কাছে সংশ্লিষ্ট নথি চেয়ে আসছে।
একই শহর, তবু কোথাও ১৫ ডিগ্রি কম গরম, গবেষণায় জানা গেল রহস্য
যুক্তরাষ্ট্রে সাধারণ বাড়ি কিনতে এখনও দরকার ৬ ডিজিটের আয়
ট্রাম্প ২০২৮’ জেনারেলের পোশাকে ট্রাম্প, পোস্টে ফের তৃতীয় মেয়াদ নিয়ে তীব্র বিতর্ক!
যুক্তরাষ্ট্রের নিউ মেক্সিকো অঙ্গরাজ্যের একটি আদালত শিশুদের জন্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের ঝুঁকি সম্পর্কে যথাযথ সতর্কতা দিতে ব্যর্থ হওয়ায় প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান মেটাকে মোট ৯৪২ মিলিয়ন ডলার জরিমানা করেছে। বৃহস্পতিবার বিচারক ব্রায়ান বিডশেইডের দেওয়া চূড়ান্ত আদেশে নতুন করে ৫৬৭ মিলিয়ন ডলার একটি বিশেষ ক্ষতিপূরণ তহবিলে জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়। এর আগে একই মামলায় জুরি ৩৭৫ মিলিয়ন ডলার দেওয়ানি জরিমানা আরোপ করেছিল। ফলে সব মিলিয়ে মেটার বিরুদ্ধে আরোপিত অর্থদণ্ডের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৯৪২ মিলিয়ন ডলার, যা শিশু নিরাপত্তা ইস্যুতে প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে সবচেয়ে বড় আর্থিক রায়গুলোর একটি। আদালতের পর্যবেক্ষণে বলা হয়, ফেসবুক ও ইনস্টাগ্রামের মতো প্ল্যাটফর্মে শিশু-কিশোরদের মানসিক স্বাস্থ্য এবং অনলাইন যৌন শোষণের ঝুঁকি মোকাবিলায় মেটা পর্যাপ্ত ব্যবস্থা নিতে ব্যর্থ হয়েছে। বিচারক ব্রায়ান বিডশেইড মেটার কার্যক্রমকে একটি দূষণ ছড়ানো কারখানার সঙ্গে তুলনা করে বলেন, কারখানার দূষণ যেমন চার দেয়ালের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে না, তেমনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের ক্ষতিকর প্রভাবও পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এবং সমাজের ওপর দীর্ঘমেয়াদি চাপ সৃষ্টি করে। আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী, নতুন করে আরোপিত ৫৬৭ মিলিয়ন ডলারের মধ্যে বড় অংশ শিশুদের মানসিক স্বাস্থ্যসেবা, সচেতনতা কর্মসূচি, ক্ষতি প্রতিরোধ এবং সহায়তামূলক কার্যক্রমে ব্যয় করা হবে। পাশাপাশি নিউ মেক্সিকোতে শিশুদের জন্য প্ল্যাটফর্মের নিরাপত্তা জোরদারে একাধিক পরিবর্তন আনতে হবে মেটাকে। এর মধ্যে উন্নত বয়স যাচাই ব্যবস্থা, নাবালকদের জন্য ডিফল্ট নিরাপত্তা সেটিংস, নিয়মিত সতর্কতামূলক বার্তা এবং শিশুদের সুরক্ষায় অতিরিক্ত নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। মামলাটি ২০২৩ সালে নিউ মেক্সিকোর অ্যাটর্নি জেনারেল রাউল তোরেস দায়ের করেন। অভিযোগে বলা হয়, মেটার অ্যালগরিদম নাবালকদের ক্ষতিকর কনটেন্টের দিকে ঠেলে দেয় এবং অনলাইন যৌন শোষণের ঝুঁকি বাড়ায়। ২০২৬ সালের মার্চে জুরি মেটাকে ভোক্তা সুরক্ষা আইন লঙ্ঘনের দায়ে ৩৭৫ মিলিয়ন ডলার জরিমানা করে। এরপর মামলার দ্বিতীয় ধাপে আদালত শিশুদের ক্ষতি কমাতে অতিরিক্ত ৫৬৭ মিলিয়ন ডলারের তহবিল গঠনের নির্দেশ দেয়। রায়ের প্রতিক্রিয়ায় মেটা জানিয়েছে, তারা আদালতের সিদ্ধান্তের সঙ্গে একমত নয় এবং উচ্চ আদালতে আপিল করবে। প্রতিষ্ঠানটির দাবি, শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে তারা ইতোমধ্যে বিভিন্ন প্রযুক্তিগত সুরক্ষা ব্যবস্থা চালু করেছে। তবে নিউ মেক্সিকো কর্তৃপক্ষ এই রায়কে শিশুদের অনলাইন নিরাপত্তা নিশ্চিত করার লড়াইয়ে একটি ঐতিহাসিক মাইলফলক হিসেবে উল্লেখ করেছে।
১৯৭৮ সালে এক সামার জবেই মিটত কলেজ টিউশন, থাকত বাড়তি আয়ও
যুক্তরাষ্ট্রে ‘জন্মসূত্রে’ নাগরিকত্ব সীমিতের বিলে স্বাক্ষর করলেন ট্রাম্প
যুক্তরাষ্ট্রে শিক্ষার্থীদের ঋণ খেলাপির নতুন রেকর্ড: কিস্তি পরিশোধে হিমশিম ৯৫ লাখ আমেরিকান
মিসিসিপি অঙ্গরাজ্যের একটি মিউনিসিপাল কোর্টের বিচারক হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন অভিবাসন আইনজীবী আসমা আলী। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, তিনি যুক্তরাষ্ট্রে মিউনিসিপাল কোর্টের বিচারকের দায়িত্বে নিয়োগপ্রাপ্ত প্রথম ইয়েমেনি-আমেরিকান মুসলিম হিজাবি নারী হিসেবে ইতিহাস গড়েছেন। তবে এই তথ্যের বিষয়ে এখনো মিসিসিপির সংশ্লিষ্ট সরকারি কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা প্রকাশিত হয়নি। আসমা আলীর নিয়োগের খবরটি প্রথম দিকের প্রকাশ্য অভিনন্দন বার্তাগুলোর একটি হিসেবে লিংকডইনে শেয়ার করেন নিউইয়র্কভিত্তিক শিক্ষাবিদ, কমিউনিটি নেতা এবং ব্রিজিং কালচারস গ্রুপের প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ড. ডেবি আলমন্টাসার। তিনি তাঁর পোস্টে জানান, এক দশকেরও বেশি সময় ধরে আসমা আলীকে চেনেন এবং শুরু থেকেই বিশ্বাস করতেন যে তিনি একদিন বড় অর্জনের স্বাক্ষর রাখবেন। তিনি আরও লেখেন, এই নিয়োগ ইয়েমেনি-আমেরিকান, মুসলিম ও হিজাবি নারীদের জন্য একটি অনুপ্রেরণার মাইলফলক। ড. আলমন্টাসারের পোস্ট অনুযায়ী, আসমা আলী ইয়েমেনি অভিবাসী পরিবারের সন্তান। তাঁর বাবা-মা ১৯৭০ এর দশকে উন্নত ভবিষ্যতের আশায় যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসন করেন। পরে তিনি নিজস্ব অভিবাসন আইন প্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠা করেন এবং দীর্ঘদিন ধরে অভিবাসীদের পক্ষে আইনি লড়াই চালিয়ে আসছেন। তিনি যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যে অভিবাসনসংক্রান্ত মামলায় আইনজীবী হিসেবে কাজ করেছেন, জাতীয় পর্যায়ের আইনি সম্মেলনে বক্তব্য দিয়েছেন এবং তাঁর পেশাগত কাজের জন্য স্বীকৃতিও অর্জন করেছেন। মিসিসিপিতে মিউনিসিপাল কোর্টের বিচারক নিয়োগের ক্ষমতা সংশ্লিষ্ট পৌর কর্তৃপক্ষের হাতে থাকে এবং অঙ্গরাজ্যের আইন অনুযায়ী বিচারক হিসেবে নিয়োগ পেতে নির্ধারিত আইনি যোগ্যতা পূরণ করতে হয়। এই প্রতিবেদন প্রকাশ পর্যন্ত আসমা আলীর নিয়োগ নিয়ে মিসিসিপির সংশ্লিষ্ট আদালত, পৌর কর্তৃপক্ষ বা অঙ্গরাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক সংবাদ বিজ্ঞপ্তি পাওয়া যায়নি। তাই তিনি যুক্তরাষ্ট্রের প্রথম ইয়েমেনি-আমেরিকান মুসলিম হিজাবি নারী মিউনিসিপাল কোর্ট বিচারক এই দাবিটি বর্তমানে ড. ডেবি আলমন্টাসারের লিংকডইন পোস্ট এবং সংশ্লিষ্ট কমিউনিটির প্রকাশিত তথ্যের ভিত্তিতে জানা গেছে।
লেকে বেড়াতে গিয়ে আর বাড়ি ফেরা হলো না, ডুবে মারা গেলেন তরুণ শিক্ষিকা ও তার ভাই
যুক্তরাষ্ট্রে বাড়ি কেনার স্বপ্ন অধরাই থেকে যাচ্ছে, একটি বাড়ি কিনতে এখনো দরকার লাখ ডলারের বেশি আয়