সাপ্তাহিক আমেরিকা বাংলা ই-পেপার
আমেরিকা

হরমুজ প্রণালি ‘পুরোপুরি উন্মুক্ত’, ইরানের সঙ্গে চুক্তি আলোচনায় অগ্রগতি: ট্রাম্প

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: জুন ২২, ২০২৬ ২২:৪২
হরমুজ প্রণালি ‘পুরোপুরি উন্মুক্ত’, ইরানের সঙ্গে চুক্তি আলোচনায় অগ্রগতি
হরমুজ প্রণালি ‘পুরোপুরি উন্মুক্ত’, ইরানের সঙ্গে চুক্তি আলোচনায় অগ্রগতি

বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি সরবরাহ পথ হরমুজ প্রণালি বর্তমানে স্বাভাবিক ও সম্পূর্ণ উন্মুক্ত রয়েছে বলে জানিয়েছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি বলেন, এই কৌশলগত নৌপথ দিয়ে আগের তুলনায় আরও বেশি পরিমাণ তেল পরিবহন হচ্ছে, যা বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারের জন্য ইতিবাচক সংকেত।

 

সোমবার সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ট্রাম্প জানান, হরমুজ প্রণালির সাম্প্রতিক পরিস্থিতি স্থিতিশীল এবং এতে ইরান ইতিবাচক ভূমিকা রাখছে। দীর্ঘদিন ধরে উত্তেজনাপূর্ণ এই অঞ্চলে এমন অবস্থাকে তিনি স্বস্তিদায়ক হিসেবে উল্লেখ করেন।

 

একই সঙ্গে ট্রাম্প বলেন, ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে একটি “ন্যায্য ও গ্রহণযোগ্য” চুক্তিতে পৌঁছাতে আলোচনা চলছে এবং তাতে কিছু অগ্রগতিও হয়েছে। তবে তিনি স্পষ্ট করে দেন, কোনো পরিস্থিতিতেই ইরানকে পারমাণবিক অস্ত্র অর্জনের সুযোগ দেওয়া হবে না।

 

যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে ভবিষ্যতে ইরানের জন্য যেকোনো অর্থ ছাড়ের বিষয়েও শর্তের কথা তুলে ধরেন ট্রাম্প। তার ভাষায়, সম্ভাব্য চুক্তির আওতায় ইরানকে যে অর্থ দেওয়া হবে, তা কেবলমাত্র যুক্তরাষ্ট্রের কৃষকদের কাছ থেকে খাদ্যপণ্য কেনার কাজে ব্যবহার করা যাবে।

 

এদিকে সতর্কবার্তা দিয়ে ট্রাম্প বলেন, ইরান যদি কোনো ‘ভুল পদক্ষেপ’ নেয়, তাহলে যুক্তরাষ্ট্র প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে দ্বিধা করবে না।

 

আন্তর্জাতিক অঙ্গনের আরেকটি প্রসঙ্গ টেনে ট্রাম্প জানান, তিনি বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুকে ঘিরে সৃষ্ট কিছু বৈশ্বিক ইস্যুর সমাধানেও কাজ করছেন।

 

অন্যদিকে, ইরানের অবস্থান কিছুটা ভিন্ন। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, সুইজারল্যান্ডে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সাম্প্রতিক আলোচনায় তারা পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে কোনো আলোচনা করেনি। পাশাপাশি নতুন করে কোনো পারমাণবিক প্রতিশ্রুতিও দেওয়া হবে না বলে স্পষ্ট জানিয়েছে তেহরান।

 

মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনীতিতে হরমুজ প্রণালির গুরুত্ব অত্যন্ত বেশি। বিশ্বে সমুদ্রপথে পরিবাহিত মোট তেলের একটি বড় অংশ এই প্রণালি দিয়ে যায়। ফলে এখানকার স্থিতিশীলতা বা অস্থিতিশীলতা সরাসরি প্রভাব ফেলে বৈশ্বিক অর্থনীতি ও জ্বালানি বাজারে।

 

শাফাক নিউজের বরাত দিয়ে জানা গেছে, সাম্প্রতিক পরিস্থিতি নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে সতর্ক আশাবাদ তৈরি হলেও যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের পারস্পরিক অবিশ্বাস এখনো পুরোপুরি কাটেনি। বিশ্লেষকদের মতে, চলমান আলোচনা কতটা কার্যকর চুক্তিতে রূপ নেয়, সেটিই এখন দেখার বিষয়।


© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।

জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

আমেরিকা

View more
হোয়াইট হাউসে সাংবাদিকদের প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা এবং প্রেস পরিচয়পত্র বাতিলের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। ছবি: সংগৃহীত
হোয়াইট হাউসে প্রবেশ নিষেধ, ট্রাম্প প্রশাসনের বিরুদ্ধে মামলা করছে সিএনএন সহ দুই সংবাদমাধ্যম

প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসনের বিরুদ্ধে মামলা করার ঘোষণা দিয়েছে সিএনএন, এমএস নাও এবং পলিটিকো। হোয়াইট হাউসে তাদের সাংবাদিকদের প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা এবং প্রেস পরিচয়পত্র বাতিলের সিদ্ধান্ত যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধানের প্রথম সংশোধনীর অধীনে সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতার অধিকার লঙ্ঘন করেছে বলে অভিযোগ করেছে তিন সংবাদমাধ্যম। সোমবার তারা প্রশাসনের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে জানায়।   ঘটনার সূত্রপাত শুক্রবার। ট্রাম্প ঘোষণা দেন, সিএনএন, এমএস নাও এবং পলিটিকোকে হোয়াইট হাউস থেকে নিষিদ্ধ করা হচ্ছে। এসব সংবাদমাধ্যমের কিছু প্রতিবেদনকে তিনি ‘ভুয়া খবর’ হিসেবে আখ্যায়িত করেন। এর একদিন পর শনিবার সংশ্লিষ্ট সংবাদমাধ্যমগুলোর হোয়াইট হাউস রিপোর্টাররা সেখানে প্রবেশ করতে গেলে তাদের প্রেস ব্যাজ অকার্যকর করে দেওয়া হয়। সিএনএনের বেটসি ক্লেইন এবং এমএস নাওয়ের আকায়লা গার্ডনারকে প্রবেশে বাধা দেওয়া হয়। পরে পলিটিকোর হোয়াইট হাউস রিপোর্টার শেয়েন হাসলেটের ব্যাজও জব্দ করা হয়।   তিন সংবাদমাধ্যমের অভিযোগ, কোনো নোটিশ বা আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া ছাড়াই তাদের সাংবাদিকদের পরিচয়পত্র বাতিল করা হয়েছে। তাদের দাবি, ট্রাম্প প্রশাসন তাদের প্রকাশিত প্রতিবেদনের বিষয়বস্তু নিয়ে অসন্তুষ্ট হওয়ায় এই ব্যবস্থা নিয়েছে। মামলার প্রস্তুতিতে সংবাদমাধ্যমগুলো বলেছে, সরকার কোনো সংবাদমাধ্যম কী প্রকাশ করবে বা কীভাবে প্রশাসনের কার্যক্রম কভার করবে, তা নির্ধারণ করতে পারে না।   এই আইনি লড়াইয়ের কেন্দ্রে রয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধানের প্রথম সংশোধনী, যেখানে সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা সুরক্ষিত। তিন সংবাদমাধ্যমের অভিযোগের মধ্যে দৃষ্টিভঙ্গির ভিত্তিতে বৈষম্যের বিষয়টিও রয়েছে। অর্থাৎ কোনো সংবাদমাধ্যমের প্রকাশিত বক্তব্য বা প্রতিবেদনের দৃষ্টিভঙ্গির কারণে তাকে অন্যদের তুলনায় আলাদাভাবে সীমাবদ্ধ করা হয়েছে কি না, সেটিই আদালতে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন হয়ে উঠতে পারে।   এদিকে সোমবার সকালে সিএনএন ও এমএস নাওয়ের সাংবাদিকরা হোয়াইট হাউসের বাইরে থেকে প্রতিবেদন করেন। একই দিনে সিএনএনকে প্রেস পুলের দায়িত্ব থেকেও সরিয়ে দেওয়া হয়। প্রেস পুলে বড় টেলিভিশন নেটওয়ার্কগুলো পালাক্রমে প্রেসিডেন্টের বিভিন্ন অনুষ্ঠান ও সফর কভার করে। ট্রাম্পের নিউইয়র্ক সফর কভার করার দায়িত্ব সিএনএনের ছিল। তবে হোয়াইট হাউসের সিদ্ধান্তের পর সেই দায়িত্বে বিকল্প কোনো সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া হয়নি বলে অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস জানিয়েছে।   ট্রাম্প অবশ্য এই নিষেধাজ্ঞাকে সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতার বিরুদ্ধে পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন না। সোমবার নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তিনি বলেন, তিনি মুক্ত সংবাদমাধ্যমকে সমর্থন করেন। তবে যেসব সংবাদমাধ্যমকে তিনি ‘ভুয়া খবর’ হিসেবে মনে করেন, তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। ট্রাম্প আরও দাবি করেছেন, এ ধরনের সংবাদমাধ্যমের কার্যক্রম জাতীয় নিরাপত্তার জন্য হুমকি তৈরি করতে পারে।   হোয়াইট হাউস করেসপন্ডেন্টস অ্যাসোসিয়েশনের প্রেসিডেন্ট জ্যাকুই হাইনরিশ তিন সংবাদমাধ্যমের প্রবেশাধিকার দ্রুত ফিরিয়ে দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। তার বক্তব্য অনুযায়ী, কোনো সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনের কারণে তাকে হোয়াইট হাউস থেকে বাদ দেওয়ার যে মানদণ্ড তৈরি হবে, ভবিষ্যতে সেটি অন্য সংবাদমাধ্যমের ক্ষেত্রেও প্রয়োগ করা হতে পারে।   ট্রাম্প প্রশাসনের সঙ্গে সংবাদমাধ্যমগুলোর প্রবেশাধিকার ও কভারেজ নিয়ে বিরোধ অবশ্য নতুন নয়। দ্বিতীয় মেয়াদে হোয়াইট হাউসের সঙ্গে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের একাধিক বিরোধ হয়েছে। গত বছর অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের সাংবাদিকদেরও ওভাল অফিস, এয়ার ফোর্স ওয়ানসহ বিভিন্ন অনুষ্ঠানে প্রবেশে বাধা দেওয়া হয়েছিল। ওই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস আদালতে মামলা করে। বিষয়টি নিয়ে আইনি প্রক্রিয়াও চলমান রয়েছে।   সিএনএন, এমএস নাও এবং পলিটিকোর নতুন আইনি পদক্ষেপের পর বিষয়টি ফেডারেল আদালতে গড়াবে। সেখানে হোয়াইট হাউসে সাংবাদিকদের প্রবেশাধিকার এবং সংবাদমাধ্যমের সাংবিধানিক অধিকার নিয়ে আদালতের সিদ্ধান্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। মামলার মাধ্যমে তিন সংবাদমাধ্যম তাদের প্রবেশাধিকার পুনর্বহাল এবং প্রশাসনের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আইনি প্রতিকার চাইবে।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: সেপ্টেম্বর ২১, ২০২৬ ১১:৫০
ক্যালিফোর্নিয়ার বন্দরে একটি নৌকা থেকে সন্দেহভাজনদের নামিয়ে দেওয়ার দৃশ্য। ছবি: সংগৃহীত

অবৈধভাবে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের চেষ্টা করা অভিবাসীদের ক্যালিফোর্নিয়ার বন্দরে নামিয়ে পালিয়ে গেল নৌকা

নিউইয়র্কের পাতালরেলে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন ও এর খরচ নিয়ে চলছে জোর আলোচনা। ছবি: সংগৃহীত

নিউইয়র্ক পাতালরেলে পুলিশের ৭৭ মিলিয়ন ডলারের তহবিল শেষ, বাড়তি খরচ দিচ্ছে মামদানি প্রশাসন

যুক্তরাজ্যের বিমানবন্দরগুলোতে এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোল সমস্যার কারণে আবারও ফ্লাইট ব্যাহত হচ্ছে। ছবি: সংগৃহীত

ফ্লাইট বাতিল হলে এয়ারলাইন যে ক্ষতিপূরণ ও রিফান্ড দেয়, জানুন যাত্রী অধিকার

পারডু ইউনিভার্সিটি নর্থওয়েস্টের একাডেমিক বিষয়ক সহযোগী উপাচার্য ড. নিয়াজ লতিফ। ছবি: সংগৃহীত
চুয়েট থেকে যুক্তরাষ্ট্রের বিশ্ববিদ্যালয় একাডেমিক বিষয়ক সহযোগী উপাচার্য ড. নিয়াজ

বাংলাদেশে প্রকৌশল শিক্ষার পথ ধরে যুক্তরাষ্ট্রের উচ্চশিক্ষা ব্যবস্থায় গুরুত্বপূর্ণ একাডেমিক নেতৃত্বের পর্যায়ে পৌঁছেছেন ড. নিয়াজ লতিফ। বর্তমানে তিনি পারডু ইউনিভার্সিটি নর্থওয়েস্টের একাডেমিক বিষয়ক সহযোগী উপাচার্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। একই সঙ্গে তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের রবার্টস ইমপ্যাক্ট ল্যাব এবং কমার্শিয়ালাইজেশন অ্যান্ড ম্যানুফ্যাকচারিং এক্সিলেন্স সেন্টারের নির্বাহী পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। পারডু ইউনিভার্সিটি নর্থওয়েস্টের বর্তমান গবেষণা বোর্ডের তথ্যেও এসব দায়িত্বের উল্লেখ রয়েছে।    ড. নিয়াজ লতিফের শিক্ষাজীবনের শুরু বাংলাদেশে। তাঁর একাডেমিক নথি অনুযায়ী, তিনি ১৯৭৭ সালে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় থেকে মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে ব্যাচেলর অব সায়েন্স ডিগ্রি অর্জন করেন। তাঁর পরবর্তী শিক্ষাজীবনের বড় অংশ কাটে যুক্তরাষ্ট্রে। সাউথ ডাকোটা স্টেট ইউনিভার্সিটি থেকে তিনি ১৯৮৩ সালে ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে এবং ১৯৮৫ সালে অ্যাগ্রিকালচারাল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে দুটি মাস্টার্স ডিগ্রি অর্জন করেন। এরপর ১৯৮৮ সালে ইউনিভার্সিটি অব মিসৌরি থেকে অ্যাগ্রিকালচারাল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে পিএইচডি সম্পন্ন করেন।    তাঁর পেশাগত জীবনের শুরু হয় লুইজিয়ানা স্টেট ইউনিভার্সিটি ইউনিজে ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের ইনস্ট্রাক্টর হিসেবে। ১৯৯০ সালে তিনি নর্দার্ন কেনটাকি ইউনিভার্সিটিতে সহকারী অধ্যাপক হিসেবে যোগ দেন এবং পরে সহযোগী অধ্যাপক ও ইঞ্জিনিয়ারিং টেকনোলজি প্রোগ্রামের সমন্বয়কের দায়িত্ব পালন করেন। সেখানে তিনি টেকনিক্যাল সার্ভিসেস ইনস্টিটিউটের পরিচালক হিসেবেও কাজ করেন।    ১৯৯৯ সালে তাঁর একাডেমিক নেতৃত্বের পরিধি আরও বাড়ে। সে বছর তিনি পারডু ইউনিভার্সিটি ওয়েস্ট লাফায়েটে ইন্ডাস্ট্রিয়াল টেকনোলজি বিভাগের অধ্যাপক ও বিভাগীয় প্রধান হিসেবে দায়িত্ব নেন। পরবর্তী সময়ে প্রযুক্তি প্রশাসনের বিভিন্ন দায়িত্বের পাশাপাশি তিনি স্নাতকোত্তর শিক্ষার সঙ্গেও যুক্ত হন। তাঁর পেশাগত নথিতে ১৯৯৯ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত ইন্ডাস্ট্রিয়াল টেকনোলজি বিভাগের প্রধান এবং ২০০১ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত উইকেন্ড মাস্টার্স ডিগ্রি প্রোগ্রামের পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালনের তথ্য রয়েছে।    ২০০৭ সালে ড. নিয়াজ লতিফ পারডু ইউনিভার্সিটি নর্থওয়েস্টে যোগ দেন এবং কলেজ অব টেকনোলজির ডিন হন। দীর্ঘ সময় এই দায়িত্ব পালনকালে তিনি বিভিন্ন স্নাতক ও স্নাতকোত্তর কর্মসূচির নেতৃত্ব দেন। তাঁর দায়িত্বের মধ্যে একাডেমিক প্রোগ্রাম উন্নয়ন, শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের জন্য বিভিন্ন উদ্যোগ, অ্যাক্রেডিটেশন এবং শিল্পখাতের সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়ের অংশীদারত্ব গড়ে তোলার বিষয়গুলোও ছিল। সাউথ ডাকোটা স্টেট ইউনিভার্সিটির প্রোফাইল অনুযায়ী, তাঁর নেতৃত্বে নতুন ইঞ্জিনিয়ারিং টেকনোলজি প্রোগ্রাম চালু এবং বিভিন্ন গবেষণা ও ল্যাব প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নেওয়া হয়।    গবেষণা ও উদ্ভাবনের ক্ষেত্রেও ড. লতিফের দীর্ঘ অভিজ্ঞতা রয়েছে। তাঁর পেশাগত নথি অনুযায়ী, তিনি বিভিন্ন ফেডারেল ও বেসরকারি উৎস থেকে গবেষণা ও প্রকল্পের জন্য অর্থায়ন সংগ্রহে নেতৃত্ব দিয়েছেন। ন্যাশনাল সায়েন্স ফাউন্ডেশন, ন্যাশনাল সিকিউরিটি এজেন্সি, ন্যাশনাল ইনস্টিটিউটস অব হেলথ এবং ইউএস ডিপার্টমেন্ট অব লেবারের মতো প্রতিষ্ঠানের অর্থায়ন পাওয়া প্রকল্পেও তিনি যুক্ত ছিলেন। পারডু নর্থওয়েস্টের পক্ষ থেকে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, ২০০৭ সালে বিশ্ববিদ্যালয়ে যোগ দেওয়ার পর তাঁর নেতৃত্বে অভ্যন্তরীণ ও বাহ্যিক উৎস মিলিয়ে প্রায় ১৫ মিলিয়ন ডলারের অনুদান সংগ্রহ করা হয়।    একাডেমিক প্রশাসনের পাশাপাশি প্রকৌশল শিক্ষার মানোন্নয়ন ও পেশাজীবী সংগঠনেও তাঁর সক্রিয় ভূমিকা রয়েছে। তিনি অ্যাক্রেডিটেশন প্রতিষ্ঠান এবিইটির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন এবং অ্যাসোসিয়েশন অব টেকনোলজি, ম্যানেজমেন্ট অ্যান্ড অ্যাপ্লায়েড ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের নির্বাহী বোর্ডের চেয়ারম্যান হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন। ২০২৩ সালের এবিইটি ইমপ্যাক্ট রিপোর্টে তাঁকে ওই প্রতিষ্ঠানের চেয়ারম্যান হিসেবে উল্লেখ করা হয়।    পারডু ইউনিভার্সিটি নর্থওয়েস্টে তাঁর দায়িত্বও সময়ের সঙ্গে বিস্তৃত হয়েছে। ২০১৯ থেকে ২০২০ সাল পর্যন্ত তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের ইন্টারিম প্রভোস্ট ও ভাইস চ্যান্সেলর ফর একাডেমিক অ্যাফেয়ার্স হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ২০০৮ থেকে ২০১২ সাল পর্যন্ত তিনি গবেষণা ও গ্র্যাজুয়েট স্টাডিজের ইন্টারিম অ্যাসোসিয়েট ভাইস চ্যান্সেলর হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছিলেন। ২০২৩ সালে কলেজ অব টেকনোলজির ডিনের দায়িত্ব থেকে সরে এসে গবেষণা, স্পনসর্ড প্রোগ্রাম এবং কমার্শিয়ালাইজেশন কার্যক্রমে আরও সরাসরি নেতৃত্ব দেওয়ার দায়িত্ব নেন।    বর্তমানে রবার্টস ইমপ্যাক্ট ল্যাবের নির্বাহী পরিচালক হিসেবেও ড. লতিফ গবেষণা, উদ্ভাবন ও শিল্পের সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়ের সংযোগ তৈরির কাজে যুক্ত। পারডু নর্থওয়েস্টের সাম্প্রতিক উদ্যোগগুলোর মধ্যে কোয়ান্টাম প্রযুক্তি ও কমার্শিয়ালাইজেশন নিয়েও তাঁর ভূমিকার কথা উঠে এসেছে। ২০২৬ সালের বিশ্ববিদ্যালয়-সংশ্লিষ্ট এক প্রকাশনায় রবার্টস ইমপ্যাক্ট ল্যাব এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের বৃহত্তর গবেষণা উদ্যোগ নিয়ে তাঁর বক্তব্যও প্রকাশিত হয়েছে।    বাংলাদেশের প্রকৌশল শিক্ষা থেকে শুরু করে যুক্তরাষ্ট্রের বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন, গবেষণা ও প্রযুক্তি উদ্ভাবনের নেতৃত্বে দীর্ঘ এই পথ ড. নিয়াজ লতিফের পেশাগত যাত্রার বিস্তৃতি তুলে ধরে। মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের শিক্ষার্থী থেকে অধ্যাপক, বিভাগীয় প্রধান, ডিন এবং একাডেমিক প্রশাসনের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পেরিয়ে তিনি এখন পারডু ইউনিভার্সিটি নর্থওয়েস্টের একাডেমিক ও উদ্ভাবনভিত্তিক কার্যক্রমের গুরুত্বপূর্ণ নেতৃত্বে রয়েছেন। সূত্র: পাবলিকিয়ান

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: সেপ্টেম্বর ২১, ২০২৬ ৯:৩৬
চলতি সপ্তাহে সেপ্টেম্বর মাসের মাসিক পেমেন্ট পেতে যাচ্ছেন লাখ লাখ সোশ্যাল সিকিউরিটি সুবিধাভোগী। ছবি: সংগৃহীত

সোশ্যাল সিকিউরিটিতে এ সপ্তাহে সর্বোচ্চ ৫,১৮১ ডলার, কারা পাচ্ছেন! জেনে নিন

আলাস্কায় বন্দুক দুর্ঘটনায় নিহত তরুণী ক্লোরে ম্যাকব্রেয়ার। ছবি: সংগৃহীত

বন্দুক নিয়ে ‘খেলতে গিয়ে’ দুর্ঘটনাবশত প্রেমিকাকে গুলি করে হত্যা, এরপর নিজেই আত্মহত্যা করলেন যুবক

এফ-১ ভিসাধারী আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের জন্য সিপিটি নিয়ে নতুন নির্দেশনা দিয়েছে মার্কিন কর্তৃপক্ষ। ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রে এফ-১ শিক্ষার্থীদের সিপিটিতে কড়াকড়ি, ইন্টার্নশিপে নতুন শর্ত

বেডমিনস্টার গলফ ক্লাবের চ্যাম্পিয়নশিপে ডোনাল্ড ট্রাম্প। ছবি: সংগৃহীত
গলফ খেলায় আবারও বিতর্কে ট্রাম্প, প্রতারণা করে ট্রফি জেতার অভিযোগ

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প নিজের মালিকানাধীন নিউ জার্সির বেডমিনস্টার গলফ ক্লাবে ক্লাব চ্যাম্পিয়নশিপ জয়ের ঘোষণা দেওয়ার পর তাঁর খেলার স্কোর নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রশ্ন উঠেছে। ট্রাম্প জানিয়েছেন, তিনি ৭০ স্কোর করে প্রতিযোগিতায় জয় পেয়েছেন।   ট্রাম্প ন্যাশনাল গলফ ক্লাব বেডমিনস্টারের কোর্সটির সমান স্কোর ৭২। ফলে ৭০ স্কোরের অর্থ হলো সমানের চেয়ে দুই শট কম। আগস্টের শুরুতে অনুষ্ঠিত এই প্রতিযোগিতায় ট্রাম্পকে সিনিয়র ও সুপার সিনিয়র বিভাগে জয়ী হিসেবে পুরস্কার নেওয়ার ভিডিওও প্রকাশিত হয়। ইউএসএ টুডের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ট্রাম্প নিজেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এ জয়ের কথা জানান।   নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে ট্রাম্প লেখেন, তিনি খুব বেশি অনুশীলনের সময় না পেয়েও ৭০ স্কোরে জিতেছেন। এ সাফল্যের কারণ হিসেবে তিনি নিজের প্রতিভার কথাও উল্লেখ করেন।   তবে ট্রাম্পের জয়ের ভিডিও প্রকাশের পর কিছু সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারকারী তাঁর স্কোর নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেন। বিশেষ করে ভিডিওতে দেখা একটি শট এবং তাঁর সামগ্রিক স্কোরকে কেন্দ্র করে অনেকে প্রশ্ন তোলেন। কেউ কেউ অতীতের বিভিন্ন অভিযোগের প্রসঙ্গও টেনে আনেন।   তবে এসব সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের মন্তব্যকে ট্রাম্পের বিরুদ্ধে প্রতারণার প্রমাণ হিসেবে স্বাধীনভাবে যাচাই করা যায়নি। প্রকাশিত প্রতিবেদনে এমন কোনো নিরপেক্ষ প্রমাণও পাওয়া যায়নি, যার ভিত্তিতে নিশ্চিতভাবে বলা যায় যে তিনি প্রতারণা করে প্রতিযোগিতাটি জিতেছেন। ডেইলি বিস্টও ভিডিওটি নিয়ে প্রশ্ন তোলার কথা জানিয়েছে, তবে সেখানেও প্রতারণার কোনো নিশ্চিত প্রমাণ উপস্থাপন করা হয়নি।   ট্রাম্পের গলফ খেলা নিয়ে বিতর্ক অবশ্য নতুন নয়। দীর্ঘদিন ধরে তাঁর খেলার পদ্ধতি ও স্কোর নিয়ে বিভিন্ন সময়ে প্রশ্ন উঠেছে। ক্রীড়া লেখক রিক রেইলি তাঁর ২০১৯ সালের বই ‘Commander in Cheat’-এ ট্রাম্পের গলফ খেলা নিয়ে বিস্তর আলোচনা করেন এবং প্রতারণার অভিযোগ তোলেন। তবে এগুলো অতীতের অভিযোগ ও লেখকের মূল্যায়ন, বেডমিনস্টারের সাম্প্রতিক প্রতিযোগিতায় প্রতারণার স্বাধীন প্রমাণ নয়। ইউএসএ টুডে ট্রাম্পের আগের কয়েকটি গলফ প্রতিযোগিতা নিয়েও বিতর্কের কথা উল্লেখ করেছে।   এর মধ্যে ২০২৩ সালে ফ্লোরিডার ট্রাম্প ইন্টারন্যাশনাল গলফ ক্লাব ওয়েস্ট পাম বিচে একটি সিনিয়র ক্লাব চ্যাম্পিয়নশিপ নিয়েও বিতর্ক হয়েছিল। ইউএসএ টুডের প্রতিবেদনে বলা হয়, প্রতিযোগিতার প্রথম রাউন্ডে না খেলেও ট্রাম্প আগের একটি রাউন্ডের স্কোর ব্যবহার করেছিলেন বলে সংশ্লিষ্ট ঘটনায় প্রশ্ন ওঠে। ট্রাম্প অবশ্য নিজের সেই ফলাফলকে জয় হিসেবে উপস্থাপন করেছিলেন।   ট্রাম্পের গলফ দক্ষতা নিয়েও ভিন্ন মত রয়েছে। গলফের সাবেক তারকা আর্নি এলস অতীতে ট্রাম্পের খেলা সম্পর্কে ইতিবাচক মন্তব্য করেছেন। ২০২০ সালে গলফ কিংবদন্তি জ্যাক নিকলাউসও ট্রাম্পকে ভালো খেলোয়াড় হিসেবে বর্ণনা করেছিলেন। ফলে ট্রাম্পের প্রকৃত খেলার মান নিয়ে গলফ অঙ্গনে একেবারে একমত কোনো মূল্যায়ন নেই।   বেডমিনস্টার গলফ ক্লাবটি ট্রাম্পের মালিকানাধীন এবং সেখানে পেশাদার গলফের বড় আয়োজনও হয়েছে। ২০২৬ সালের আগস্টে এলআইভি গলফ নিউইয়র্কও এই কোর্সে অনুষ্ঠিত হয়। ট্রাম্প ন্যাশনাল বেডমিনস্টারের কোর্সটি টম ফাজিও নকশা করেছেন এবং ২০২৬ সালের এলআইভি গলফ আয়োজনের সময় কোর্সটি ৭ হাজার ৬৫১ গজ পর্যন্ত দীর্ঘ করা হয়েছিল।   ট্রাম্পের বেডমিনস্টার ক্লাব চ্যাম্পিয়নশিপের জয়ের বিষয়ে মূল তথ্য হলো, তিনি ৭০ স্কোরে সিনিয়র ও সুপার সিনিয়র বিভাগে জয় পেয়েছেন বলে ঘোষণা করেছেন এবং সেই জয়ের একটি ভিডিও প্রকাশ করেছেন। এরপর তাঁর স্কোর ও খেলার কয়েকটি মুহূর্ত নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। তবে অভিযোগ ও অনলাইন মন্তব্যের বাইরে বেডমিনস্টারের এই প্রতিযোগিতায় তিনি প্রতারণা করেছেন, এমন নিশ্চিত স্বাধীন প্রমাণ প্রকাশ্যে আসেনি।   সূত্র: ইউএসএ টুডে, দ্য ডেইলি বিস্ট

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: সেপ্টেম্বর ২১, ২০২৬ ৫:৩৩
ইরানকে ট্রাম্পের কড়া হুঁশিয়ারি, পাল্টা বড় হামলার প্রস্তুতির তেহরানের

ইরানকে ট্রাম্পের কড়া হুঁশিয়ারি, পাল্টা বড় হামলার প্রস্তুতির তেহরানের

ডোরড্যাশ ডেলিভারি দিতে গিয়ে আইসিইর গুলিতে আহত ভেনেজুয়েলান যুবক

ডোরড্যাশ ডেলিভারি দিতে গিয়ে আইসিইর গুলিতে আহত ভেনেজুয়েলান যুবক

মার্কিন ডিপোর্টিদের জন্য আফ্রিকার হোটেল যেন দুঃস্বপ্নের কারাগার

মার্কিন ডিপোর্টিদের জন্য আফ্রিকার হোটেল যেন দুঃস্বপ্নের কারাগার

0 Comments