শিক্ষা ব্যবস্থা

ছবি: সংগৃহীত
বেসরকারি স্কুলে বাড়তি ট্যাক্স বসালেও কমেনি শিক্ষার্থী, দাবি ব্রিটিশ শিক্ষামন্ত্রীর

যুক্তরাজ্যে বেসরকারি স্কুলের টিউশন ফির ওপর ২০ শতাংশ ভ্যাট আরোপ করা সত্ত্বেও সরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে শিক্ষার্থীদের কোনো গণজোয়ার বা চাপ তৈরি হয়নি। ইংল্যান্ডের সর্বশেষ স্কুল ভর্তি সংক্রান্ত সরকারি তথ্য প্রকাশের পর এই দাবি করেছেন দেশটির শিক্ষামন্ত্রী ব্রিজেট ফিলিপসন। লেবার সরকার ২০২৫ সালের শুরু থেকে বেসরকারি স্কুলের ফির ওপর এই কর আরোপ করে, যা আগে করমুক্ত ছিল। এর ফলে সরকারি স্কুলগুলো নতুন শিক্ষার্থী দিয়ে উপচে পড়বে বলে যে আশঙ্কা করা হয়েছিল, নতুন পরিসংখ্যানে তা পুরোপুরি ভুল প্রমাণিত হয়েছে।   নতুন প্রকাশিত এই ডাটাটি মূলত গত বছরের অক্টোবর মাসে আগামী সেপ্টেম্বর শিক্ষাবর্ষের জন্য করা আবেদনগুলোর ওপর ভিত্তি করে তৈরি। ব্রিটিশ শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের (ডিএফই) তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরে প্রাথমিক ও মাধ্যমিক উভয় স্তরের স্কুলেই মোট আবেদনের সংখ্যা আগের চেয়ে হ্রাস পেয়েছে। এমনকি লন্ডনের হ্যামারস্মিথ, ফুলহাম এবং কেনসিংটনের মতো ধনী এলাকাগুলোতেও, যেখানে বিপুল সংখ্যক শিক্ষার্থী বেসরকারি স্কুলে পড়ে, সেখানেও সরকারি স্কুলে ভর্তির আবেদনের হার গত দুই বছরের তুলনায় কম দেখা গেছে।   শিক্ষামন্ত্রী ব্রিজেট ফিলিপসন এই প্রসঙ্গে সমালোচকদের ধুয়ে দিয়ে বলেন, "বেসরকারি স্কুল থেকে শিক্ষার্থীদের সরকারি স্কুলে চলে যাওয়ার যে ভবিষ্যদ্বাণী করা হয়েছিল, তা মোعتها ঘটেনি। সমালোচকরা বলেছিলেন সরকারি স্কুলগুলো নতুন শিক্ষার্থী সামলাতে হিমশিম খাবে এবং বেসরকারি স্কুলগুলো দলে দলে বন্ধ হয়ে যাবে, কিন্তু তাদের সেই ধারণা ভুল ছিল।" তিনি আরও জানান, সরকার এখন শিক্ষা ব্যবস্থাকে ভারসাম্যপূর্ণ করছে যাতে সরকারি স্কুলে পড়া ৯৪ শতাংশ সাধারণ শিক্ষার্থীর ওপর মূল ফোকাস রাখা যায়।   শিক্ষা বিশেষজ্ঞরা অবশ্য মনে করছেন, যুক্তরাজ্যে জন্মহার কমে যাওয়া এবং ব্রেক্সিট-পরবর্তী জনসংখ্যাগত পরিবর্তনের কারণে এই ভ্যাট আরোপের আসল প্রভাব হয়তো পুরোপুরি দৃশ্যমান হচ্ছে না। ডিএফই-এর ২০২৬ সালের জরিপ অনুযায়ী, সব মিলিয়ে সামগ্রিক শিক্ষার্থীর সংখ্যা ১ দশমিক ২ শতাংশ কমলেও স্বাধীন বা বেসরকারি স্কুলগুলোতে শিক্ষার্থীর সংখ্যা ৩ দশমিক ৮ শতাংশ কমেছে, যা সংখ্যায় প্রায় ২২ হাজার। তবে ভ্যাট থেকে সরকারের আয় লক্ষ্যমাত্রার চেয়েও বেশি হচ্ছে এবং ২০২৯-৩০ সালের মধ্যে এর পরিমাণ বছরে ১.৮ বিলিয়ন পাউন্ডে পৌঁছাবে।   উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের সাধারণ নির্বাচনের সময় বেসরকারি স্কুলের ওপর ভ্যাট আরোপ করা লেবার পার্টির একটি অন্যতম প্রধান নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি ছিল। এই খাত থেকে সংগৃহীত অতিরিক্ত অর্থ দিয়ে বর্তমান সংসদের মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই সরকারি স্কুলগুলোর জন্য অতিরিক্ত ৬ হাজার ৫০০ জন নতুন শিক্ষক নিয়োগ করার পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে ব্রিটিশ সরকার।

তাবাস্সুম মোহাম্মদ জুন ১৭, ২০২৬ ১৪:০ 0
ছবি: সংগৃহীত
নিউ ইয়র্কে প্রাইভেট স্কুলে কর ছাড় সুবিধা, শিক্ষাব্যবস্থায় নতুন উদ্যোগ গভর্নর হোকুলের

যুক্তরাষ্ট্রের নিউ ইয়র্ক অঙ্গরাজ্যে শিক্ষার্থীদের জন্য নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলতে যাচ্ছে। শিক্ষা ব্যবস্থায় বড় ধরনের পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিয়ে গভর্নর ক্যাথি হোকুল ফেডারেল সরকারের প্রাইভেট স্কুল ট্যাক্স ক্রেডিট প্রোগ্রামে যোগ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। এর মাধ্যমে নিউ ইয়র্ক দ্বিতীয় ডেমোক্র্যাট-শাসিত অঙ্গরাজ্য হিসেবে এই কর্মসূচিতে যুক্ত হতে যাচ্ছে।   প্রস্তাবিত এই কর্মসূচির আওতায় করদাতারা নির্দিষ্ট শিক্ষা সহায়তা সংস্থায় অনুদান দিলে কেন্দ্রীয় কর থেকে সর্বোচ্চ ১ হাজার ৭০০ ডলার পর্যন্ত ছাড় পাবেন। এই অর্থ শিক্ষার্থীদের প্রাইভেট স্কুলের বেতন, টিউশনি, অতিরিক্ত শিক্ষাসহায়তা এবং অন্যান্য শিক্ষা ব্যয়ে ব্যবহার করা হবে।   বৃহস্পতিবার রাতে এক সভায় গভর্নর ক্যাথি হোকুল এই পরিকল্পনার ঘোষণা দেন। তিনি বলেন, এই উদ্যোগ নিউ ইয়র্কের শিক্ষার্থীদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ সহায়তা তৈরি করতে পারে। তবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে শিক্ষা ব্যবস্থার ওপর সম্ভাব্য প্রভাব এবং প্রকল্পের বিভিন্ন দিক বিস্তারিতভাবে পর্যালোচনার নির্দেশ দিয়েছেন তিনি।   শিক্ষা খাত সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সংগঠন গভর্নরের এই পদক্ষেপকে স্বাগত জানিয়েছে। তাদের মতে, কর্মসূচিটি বহু পরিবারের শিক্ষা ব্যয় কমাতে সহায়তা করবে এবং ধর্মীয় ও ব্যক্তিমালিকানাধীন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো উপকৃত হবে।   তবে সমালোচকদের একাংশের আশঙ্কা, এই উদ্যোগ সরকারি শিক্ষা ব্যবস্থার ওপর পরোক্ষ চাপ সৃষ্টি করতে পারে। তাদের মতে, সরকারি স্কুল ব্যবস্থার বাইরে অর্থায়নের সুযোগ বাড়লে দীর্ঘমেয়াদে ভারসাম্যহীনতা তৈরি হতে পারে।   এর আগে গভর্নর হোকুল চার্টার স্কুল সম্প্রসারণের প্রস্তাব দিয়েছিলেন এবং সরকারি স্কুলগুলোর উন্নয়নে বড় বাজেট বরাদ্দ করেছিলেন। নতুন এই কর সুবিধা কর্মসূচিতে যুক্ত হওয়ার সিদ্ধান্তকে নিউ ইয়র্কের শিক্ষা ব্যবস্থায় নতুন নীতিগত পরিবর্তনের অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

ইসতিয়াক আহমেদ মে ৮, ২০২৬ ১৪:০ 0
ছবি: সংগৃহীত
হেলিকপ্টার নয়, প্রযুক্তিতেই নজরদারি—পরীক্ষাকেন্দ্রে বসবে সিসিটিভি: শিক্ষামন্ত্রী

পরীক্ষাকেন্দ্রে হঠাৎ হেলিকপ্টার নিয়ে উপস্থিত হওয়ার যুগ শেষ হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন। তিনি জানিয়েছেন, এখন প্রযুক্তির মাধ্যমে ঘরে বসেই পরীক্ষার পরিবেশ পর্যবেক্ষণ করা সম্ভব। তাই দেশের শ্রেণিকক্ষ ও পরীক্ষাকেন্দ্রে পর্যায়ক্রমে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন করা হবে।   শনিবার (১১ এপ্রিল) রাজশাহীতে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। রাজশাহী মেডিকেল কলেজের ডা. কাইছার রহমান চৌধুরী মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত এই সভায় রাজশাহী শিক্ষা বোর্ড, মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ড ও কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের অধীন কেন্দ্রসচিবরা অংশ নেন।   শিক্ষামন্ত্রী বলেন, প্রযুক্তির উন্নতির ফলে এখন দূর থেকে সবকিছু পর্যবেক্ষণ করা সম্ভব। এ কারণে পরীক্ষার স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে সিসিটিভি ব্যবস্থার ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে। একই সঙ্গে ক্লাসে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি, শিক্ষকদের নিয়মিততা এবং শিক্ষার মানও নজরদারির আওতায় আনা হবে।   নকল প্রতিরোধের প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, অতীতেও শিক্ষকদের সহযোগিতায় নকল বন্ধ করা সম্ভব হয়েছে। সরকারের সদিচ্ছা এবং শিক্ষকদের আন্তরিক অংশগ্রহণ থাকলে আবারও শিক্ষার পরিবেশ উন্নত করা যাবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।   শিক্ষা খাতে বাজেট বৃদ্ধির বিষয়ে মন্ত্রী জানান, প্রধানমন্ত্রী আগামীতে বাজেটের প্রায় ৫ শতাংশ শিক্ষা খাতে বরাদ্দ দেওয়ার কথা বলেছেন। তবে এই অর্থ সঠিকভাবে ব্যবহারের সক্ষমতা তৈরি করাও একটি বড় চ্যালেঞ্জ। তাই ধাপে ধাপে বাজেট বাড়ানোর পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।   সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন রাজশাহী-৩ আসনের সংসদ সদস্য শফিকুল হক মিলন, রাজশাহী সিটি করপোরেশনের প্রশাসক মাহফুজুর রহমান রিটন, বিভাগীয় কমিশনার ড. আ ন ম বজলুর রশীদ এবং জেলা পরিষদের প্রশাসক এরশাদ আলী ঈশা। সভাপতিত্ব করেন রাজশাহী শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক আ ন ম মোফাখখারুল ইসলাম।   এর আগে সকালে রাজশাহী পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটে আয়োজিত একটি সেমিনারেও অংশ নেন শিক্ষামন্ত্রী। সেখানে তিনি শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন এবং দক্ষতা উন্নয়নের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

শাহারিয়া নয়ন এপ্রিল ১০, ২০২৬ ১৪:০ 0
ছবি: সংগৃহীত
জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের গাড়িতে হামলা; অটোপাশের দাবি প্রত্যাখ্যান

জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ এস এম আমানুল্লাহর গাড়িতে হামলার অভিযোগ উঠেছে। অটোপাশের দাবিতে আন্দোলনরত ডিগ্রি তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থীদের একটি অংশ এই হামলায় জড়িত বলে দাবি করেছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। সোমবার (৬ এপ্রিল) দুপুরে গাজীপুর ক্যাম্পাস থেকে ঢাকায় ফেরার পথে এই অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটে। এ সময় উপাচার্যকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করা হয়েছে বলেও সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে।   বিশ্ববিদ্যালয়ের জনসংযোগ দপ্তরের ভারপ্রাপ্ত পরিচালক মো. মোস্তাফিজুর রহমানের পাঠানো বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ২০২২ সালের স্নাতক (পাস) পরীক্ষার্থীরা অটোপাশের দাবিতে উপাচার্যের গাড়ির ওপর চড়াও হয়। উল্লেখ্য, এর আগে গত ২১ মে-তেও একই দাবিতে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের হামলায় আহত হয়েছিলেন অধ্যাপক আমানুল্লাহ। সোমবার দ্বিতীয়বারের মতো তিনি এই ধরনের ন্যাক্কারজনক হামলার শিকার হলেন বলে কর্তৃপক্ষ নিশ্চিত করেছে।   হামলার ঘটনার পর কড়া প্রতিক্রিয়া জানিয়ে উপাচার্য অধ্যাপক আমানুল্লাহ বলেন, অন্যায্য ও অন্যায় আবদারের কাছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন কখনই নতি স্বীকার করবে না। জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় কোনোভাবেই অটোপাশ প্রথা সমর্থন করে না। তিনি সতর্ক করে বলেন, একবার অটোপাশ দিলে দেশের সার্বিক শিক্ষাব্যবস্থা ভেঙে পড়বে। শিক্ষার গুণগত মান বজায় রাখার স্বার্থে ভবিষ্যতে অটোপাশ ও গ্রেস দেওয়ার বিষয়টি আরও কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ করা হবে।   অন্যদিকে, হামলার অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছেন আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা। আল শাহরিয়ার নামে এক শিক্ষার্থী দাবি করেন, দীর্ঘদিন ধরে আন্দোলন করলেও কর্তৃপক্ষ তাদের সঙ্গে কোনো আলোচনায় বসছে না। আজ উপাচার্য ক্যাম্পাস থেকে বের হওয়ার সময় শিক্ষার্থীরা কেবল তার গাড়ি ঘিরে ধরে নিজেদের যৌক্তিক দাবিগুলো তুলে ধরার চেষ্টা করেছেন। সেখানে কোনো ধরনের হামলা বা চড়াও হওয়ার ঘটনা ঘটেনি বলে তাদের দাবি।

তাবাস্সুম মোহাম্মদ এপ্রিল ৫, ২০২৬ ১৪:০ 0
ছবি: সংগৃহীত
নকলমুক্ত পরীক্ষা নিশ্চিতের ঘোষণা শিক্ষামন্ত্রীর

পাবলিক পরীক্ষায় নকলের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহসানুল হক মিলন। তিনি বলেছেন, এখন থেকে নকল করে কোনো পরীক্ষা চলবে না এবং এ ক্ষেত্রে শিক্ষকদের দায়িত্ব সবচেয়ে বেশি। শুক্রবার বিকেলে কুমিল্লা শিক্ষা বোর্ডের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত মতবিনিময় সভায় শিক্ষা বোর্ডের কর্মকর্তা ও বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রধানদের সঙ্গে আলোচনায় তিনি এসব কথা বলেন।   শিক্ষামন্ত্রী বলেন, অতীতে নকল প্রথা শুরু ও বন্ধ—উভয় ক্ষেত্রেই শিক্ষকদের ভূমিকা ছিল। তাই নকলমুক্ত পরীক্ষা নিশ্চিত করতেও শিক্ষকদের সক্রিয় ভূমিকা প্রয়োজন। তিনি আরও বলেন, ভবিষ্যৎ প্রজন্ম গড়ে তোলার দায়িত্ব শিক্ষকদের ওপরই বর্তায়। একজন শিক্ষার্থীকে সঠিকভাবে গড়ে তুলতে পারলে তা শিক্ষকের জন্য বড় অবদান হিসেবে বিবেচিত হবে।   নকল বন্ধে কঠোর পদক্ষেপের অংশ হিসেবে আসন্ন এসএসসি পরীক্ষায় প্রতিটি কেন্দ্র সিসি ক্যামেরার আওতায় আনার নির্দেশ দেন তিনি। শুধু পরীক্ষার সময় নয়, সার্বক্ষণিকভাবে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো নজরদারির মধ্যে আনার ওপরও জোর দেন।   শিক্ষামন্ত্রী অভিযোগ করেন, অতীতে কিছু ক্ষেত্রে শিক্ষকরা নিজেরাই নকল সরবরাহে জড়িত ছিলেন। তিনি বলেন, এ ধরনের অনিয়ম আর চলবে না এবং আগামীর পরীক্ষাগুলো হবে সম্পূর্ণ নকলমুক্ত। সভায় কুমিল্লা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যানসহ বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রধান ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।

শাহারিয়া নয়ন মার্চ ২৭, ২০২৬ ১৪:০ 0
জনপ্রিয় সংবাদ
যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

দেশের প্রথম ৪০ তলা ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর সম্পন্ন

বাংলাদেশের আবাসন শিল্পে এক নতুন ইতিহাস রচিত হলো। রাজধানীর তেজগাঁও শিল্প এলাকায় নির্মিত দেশের প্রথম ৪০ তলা বিশিষ্ট আকাশচুম্বী বাণিজ্যিক ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করেছে শান্তা হোল্ডিংস। ৫০০ ফুট উচ্চতার এই আইকনিক ভবনটি এখন দেশের সর্বোচ্চ সম্পন্ন হওয়া ইমারত। গত শনিবার (১৮ এপ্রিল) ভবনের ৪০তম তলায় আয়োজিত এক আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এটি হস্তান্তর করা হয়। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের চেয়ারম্যান খন্দকার মনির উদ্দিন, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, স্থপতি এহসান খানসহ প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, ভূমি মালিক এবং গ্রাহকরা উপস্থিত ছিলেন। স্থাপত্যশৈলী ও আধুনিক প্রযুক্তি:‘শান্তা পিনাকল’ শুধুমাত্র উচ্চতার কারণেই অনন্য নয়, বরং এটি আধুনিক নির্মাণশৈলী ও প্রযুক্তির এক অনন্য সমন্বয়। এটি বাংলাদেশের প্রথম ভবন যা পরিবেশবান্ধব স্থাপত্যের জন্য আন্তর্জাতিক ‘লিড প্ল্যাটিনাম’ (LEED Platinum) স্বীকৃতি পেয়েছে। সিঙ্গাপুরভিত্তিক বিখ্যাত ইঞ্জিনিয়ারিং প্রতিষ্ঠান ‘মেইনহার্ট’ (Meinhardt) এর সহায়তায় ভবনটির স্ট্রাকচারাল ডিজাইন এবং ভূমিকম্প প্রতিরোধক ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে। বিশেষ বৈশিষ্ট্যসমূহ: উন্নত লিফট ব্যবস্থা: ভবনটিতে রয়েছে ৮টি দ্রুতগামী লিফট, যা প্রতি সেকেন্ডে ৪ মিটার উচ্চতায় উঠতে সক্ষম। এটি দেশের দ্রুততম ভার্টিক্যাল ট্রান্সপোর্ট ব্যবস্থা। পরিবেশ ও সুরক্ষা: ভবনে ব্যবহৃত হয়েছে ৩৬ মিমি পুরুত্বের ডাবল গ্লেজড গ্লাস, যা তাপ ও শব্দ নিরোধক। এছাড়া এটি দেশের প্রথম ‘উইন্ড টানেল টেস্ট’ করা ভবন, যা প্রতিকূল আবহাওয়ায় এর স্থায়িত্ব নিশ্চিত করে। আইবিএমএস প্রযুক্তি: পুরো ভবনটি একটি ইন্টেলিজেন্ট বিল্ডিং ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (iBMS) দ্বারা পরিচালিত, যা সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা ও জ্বালানি সাশ্রয় নিশ্চিত করবে। অগ্নি নিরাপত্তা: আন্তর্জাতিক এনএফপিএ (NFPA) স্ট্যান্ডার্ড অনুসরণ করে এখানে অত্যাধুনিক অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা স্থাপন করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর দেশের রিয়েল এস্টেট খাতের সক্ষমতার এক বড় প্রমাণ। এটি শুধুমাত্র তেজগাঁও নয়, বরং পুরো ঢাকার বাণিজ্যিক পরিবেশকে বিশ্বমানের স্তরে নিয়ে যাবে। দেশের ইতিহাসে প্রথমবার অ্যালুমিনিয়াম ফর্মওয়ার্ক ব্যবহারের মাধ্যমে মাত্র সাত দিনে এক একটি তলার ছাদ ঢালাইয়ের রেকর্ড গড়ে এই প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। ঢাকার আকাশসীমায় নতুন এই ল্যান্ডমার্ক দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং আধুনিক নগরায়নের এক শক্তিশালী প্রতীক হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে।

ছয় বছরের মেয়ের মৃত্যুর পর বাবারও মরদেহ উদ্ধার , একসঙ্গে দাফন করা হবে বাবা-মেয়েকে

অস্ট্রেলিয়ার সিডনিতে ছয় বছরের এক শিশুকন্যা ও তার বাবার মৃত্যুকে ঘিরে শোকের ছায়া নেমে এসেছে স্থানীয় সম্প্রদায়ের মধ্যে। পুলিশ জানিয়েছে, পারামাট্টা নদীতে ঘটে যাওয়া এই মর্মান্তিক ঘটনায় ৪৭ বছর বয়সী মওলিক ধান্ধুকিয়া এবং তার ছয় বছরের মেয়ের মৃত্যু হয়েছে। ঘটনার পর তাদের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।   স্থানীয় গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত শনিবার সিডনির কনকর্ড এলাকার কাছে একটি নৌকা ভাড়া করেছিলেন মওলিক ধান্ধুকিয়া। তার সঙ্গে ছিলেন ছয় বছর বয়সী কন্যা। কিছু সময় পর নদীতে জরুরি পরিস্থিতির খবর পেয়ে উদ্ধার অভিযান শুরু করে পুলিশ ও জরুরি সেবা সংস্থাগুলো।   আরও পড়ুন...টেক্সাসে স্বামীর গুলিতে স্ত্রী নিহত, পরে পুলিশের গুলিতে স্বামী নিহত; দুই শিশুকে   পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, দুপুরের কিছু আগে মওলিক ধান্ধুকিয়ার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এরপর প্রায় সাত ঘণ্টা ধরে শিশুটির সন্ধানে ব্যাপক অনুসন্ধান চালানো হয়। উদ্ধারকারীরা শেষ পর্যন্ত বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে শিশুকন্যার মরদেহ নদী থেকে উদ্ধার করেন। ঘটনার তদন্তে সহায়তার জন্য আশপাশের বিভিন্ন সূত্র থেকে তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে। স্থানীয় একটি স্থাপনার সিসিটিভি ফুটেজও তদন্তকারীদের হাতে এসেছে। পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনাটির প্রকৃত কারণ অনুসন্ধানে সব দিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে।   এদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত এক শোকবার্তায় জানানো হয়েছে, আগামী শুক্রবার রাউস হিলের ক্যাসেলব্রুক ক্রেমেটোরিয়ামে বাবা ও মেয়ের যৌথ শেষকৃত্য অনুষ্ঠিত হবে। শোকবার্তায় লেখা হয়েছে, “দুই কোমল ও সদয় আত্মা, যারা চিরকাল আমাদের হৃদয়ে বেঁচে থাকবে। তাদের আত্মার শান্তি কামনা করছি।” তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ঘটনার আগে কয়েক দফা নৌকা ভাড়া করেছিলেন মওলিক ধান্ধুকিয়া। একবার তার স্ত্রী প্রীতিবেন ধান্ধুকিয়াও তার সঙ্গে ছিলেন বলে জানা গেছে।   আরও পড়ুন...টেক্সাসে বিস্ফোরণের আগুনে পুড়েও বাড়ি ও নাতি-নাতনিদের বাঁচালেন এক সাহসী দাদা   পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে একটি চিরকুট উদ্ধার করেছে, যা তদন্তের অংশ হিসেবে পরীক্ষা করা হচ্ছে। তবে এখন পর্যন্ত এর বিষয়বস্তু প্রকাশ করা হয়নি। কেন এমন ঘটনা ঘটল, সে বিষয়ে নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। তবে মৃত্যুর প্রায় দুই সপ্তাহ আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দীর্ঘ একটি পোস্ট করেছিলেন মওলিক ধান্ধুকিয়া। সেখানে তিনি ২০০৫ সালে জিমে ব্যায়াম করার সময় ঘাড়ে পাওয়া আঘাতের কারণে দীর্ঘদিন ধরে ভোগা শারীরিক সমস্যার কথা উল্লেখ করেছিলেন।   ওই পোস্টে তিনি লিখেছিলেন, ঘাড়ের দীর্ঘস্থায়ী ব্যথা তার জীবনের অনেক সমস্যার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছিল। এমআরআই পরীক্ষায় তার মেরুদণ্ডের ঘাড়ের অংশে স্নায়ুর ওপর চাপের বিষয়টি ধরা পড়ে বলেও তিনি উল্লেখ করেন। মওলিক ধান্ধুকিয়া পেশাগত জীবনে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে কাজ করতেন। ২০২২ সাল থেকে তিনি সাউথ ইস্টার্ন সিডনি লোকাল হেলথ ডিস্ট্রিক্টে অ্যাপ্লিকেশন সাপোর্ট বিশ্লেষক হিসেবে কর্মরত ছিলেন। এর আগে অস্ট্রেলিয়া ও ভারতে বিভিন্ন সফটওয়্যার প্রতিষ্ঠানে কাজ করেছেন।   এই ঘটনার পর পরিবারটির জন্য সহায়তা তহবিলও গঠন করেছেন স্বজন ও পারিবারিক বন্ধুরা। তহবিল সংগ্রহের আহ্বানে বলা হয়েছে, প্রীতিবেন ধান্ধুকিয়া একসঙ্গে তার স্বামী ও একমাত্র কন্যাকে হারিয়েছেন। এই কঠিন সময়ে তাকে আর্থিক ও মানসিক সহায়তা দেওয়ার জন্য সবাইকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানানো হয়েছে।   ▶️ ট্রাম্পের লাখ ডলারের এইচ-১বি ভিসা ফি অবৈধ ঘোষণা মার্কিন আদালতের   তহবিলের অর্থ শেষকৃত্যের ব্যয়, ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতা এবং নিকট আত্মীয়দের যাতায়াত ও আবাসন খাতে ব্যবহার করা হবে বলে জানানো হয়েছে। নিউ সাউথ ওয়েলস পুলিশের সুপারিনটেনডেন্ট ক্রিস্টিন ম্যাকডোনাল্ড ঘটনাটিকে “পরিবার ও সমাজের জন্য এক গভীর ট্র্যাজেডি” হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তিনি বলেন, “এটি অত্যন্ত হৃদয়বিদারক একটি ঘটনা। আমরা সব দিক থেকে তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছি এবং কোনো সম্ভাবনাই উপেক্ষা করা হবে না।” পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার পেছনে পারিবারিক সহিংসতার কোনো উপাদান ছিল কি না, সেটিও তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। তবে এখন পর্যন্ত কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো হয়নি।   ঘটনার পর পুরো এলাকায় শোকের আবহ বিরাজ করছে। বাবা ও মেয়ের একসঙ্গে শেষকৃত্যের খবর আরও আবেগঘন পরিবেশ তৈরি করেছে। স্বজন ও পরিচিতজনরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাদের স্মরণ করে শোক প্রকাশ করছেন।

৩০ মার্চ থেকে কার্যকর হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন ভিসা নিয়ম: যা জানা প্রয়োজন

যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা প্রত্যাশীদের জন্য কঠোর হচ্ছে নিয়মাবলী। আগামী ৩০ মার্চ থেকে কার্যকর হতে যাচ্ছে নতুন ভিসা রুলস, যেখানে আবেদনকারীদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের প্রোফাইল পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই বা স্ক্রিনিং করা হবে। মার্কিন প্রশাসনের এই নতুন পদক্ষেপে বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ভিসা প্রত্যাশীদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। নতুন এই নিয়ম মূলত অ-অভিবাসী (Non-immigrant) এবং অভিবাসী (Immigrant) উভয় ধরণের ভিসার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হতে পারে। বিশেষ করে যারা ট্যুরিস্ট ভিসা, স্টুডেন্ট ভিসা এবং কাজের সন্ধানে এইচ-১বি (H-1B) ভিসার জন্য আবেদন করবেন, তাদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের তথ্য প্রদান বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে। আবেদনকারীদের গত পাঁচ বছরের ব্যবহৃত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোর ইউজার আইডি বা হ্যান্ডেল নাম ফর্মে উল্লেখ করতে হবে। ফেসবুক, টুইটার (বর্তমানে এক্স), ইনস্টাগ্রাম এবং ইউটিউবের মতো জনপ্রিয় প্ল্যাটফর্মগুলো এই স্ক্রিনিংয়ের আওতায় থাকবে। তবে পাসওয়ার্ড দেওয়ার প্রয়োজন হবে না। মূলত আবেদনকারীর নিরাপত্তা ঝুঁকি এবং পূর্ববর্তী কোনো উসকানিমূলক বা সন্দেহজনক কর্মকাণ্ড আছে কি না, তা যাচাই করতেই এই পদক্ষেপ। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং জননিরাপত্তার স্বার্থেই এই স্ক্রিনিং প্রক্রিয়া জোরদার করা হয়েছে। কোনো ব্যক্তি যদি অতীতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে উগ্রবাদ বা আইনবিরোধী কোনো কাজে লিপ্ত থেকে থাকেন, তবে তার ভিসা আবেদন বাতিল হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হবে। ভিসা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ৩০ মার্চের পর যারা আবেদন করবেন, তাদের অবশ্যই গত ৫ বছরের ডিজিটাল ফুটপ্রিন্ট সম্পর্কে সতর্ক থাকতে হবে। কোনো ভুল তথ্য দিলে বা তথ্য গোপন করলে তা স্থায়ীভাবে ভিসা প্রত্যাখ্যাত হওয়ার কারণ হতে পারে। এছাড়া ইমেইল অ্যাড্রেস এবং ফোন নম্বর প্রদানের ক্ষেত্রেও অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এই নতুন নিয়ম চালুর ফলে ভিসা প্রক্রিয়াকরণে কিছুটা অতিরিক্ত সময় লাগতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তাই প্রয়োজনীয় কাগজপত্র এবং অনলাইন প্রোফাইল গুছিয়ে আবেদন করার পরামর্শ দিচ্ছে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো।

Top week

ছবি: সংগৃহীত
বিশ্ব

ছয় বছরের মেয়ের মৃত্যুর পর বাবারও মরদেহ উদ্ধার , একসঙ্গে দাফন করা হবে বাবা-মেয়েকে

নুরুল্লাহ সাইদ জুন ১৯, ২০২৬ ১৪:০ 0