বিদেশে উচ্চশিক্ষা ও কর্মসংস্থানের পথে ব্যাংক গ্যারান্টি বা সলভেন্সি সার্টিফিকেট নিয়ে শিক্ষার্থীদের দীর্ঘদিনের দুশ্চিন্তা দূর হতে চলেছে। উচ্চশিক্ষার স্বপ্নপূরণে শিক্ষার্থীদের সাপোর্ট হিসেবে ১০ লাখ টাকা পর্যন্ত ঋণ দেওয়ার বিশেষ নির্দেশনা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।
আজ মঙ্গলবার প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান বিষয়ক এক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
বৈঠক শেষে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী নুরুল হক নুর জানান, বিশেষ করে যারা জাপান, কোরিয়া, চীন বা জার্মানির মতো দেশগুলোতে উচ্চশিক্ষার জন্য যেতে চান, তাদের ব্যাংক গ্যারান্টির সমস্যা সমাধানে প্রধানমন্ত্রী এই ঋণের ব্যবস্থা করতে বলেছেন। এই ঋণ কার্যক্রমটি পরিচালিত হবে প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংকের মাধ্যমে।
প্রতিমন্ত্রীর ব্রিফিংয়ের মূল পয়েন্টগুলো:
শিক্ষার্থীদের জন্য ঋণ: বিদেশগামী শিক্ষার্থীদের ব্যাংক সলভেন্সি সহায়তায় ১০ লাখ টাকা পর্যন্ত ঋণ দেবে প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংক।
মধ্যপ্রাচ্য পরিস্থিতি: চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে শ্রমবাজারে বড় কোনো নেতিবাচক প্রভাব পড়বে না। বরং যুদ্ধ পরবর্তী পুনর্গঠন কাজে বাংলাদেশি কর্মীদের চাহিদা আরও বাড়বে বলে আশা করা হচ্ছে।
ভাষার দক্ষতা: প্রধানমন্ত্রী প্রবাসীদের জন্য তৃতীয় ভাষা শেখার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছেন, যাতে তারা বিদেশের মাটিতে দক্ষ কর্মী হিসেবে ভালো বেতনে কাজ করতে পারেন।
ভিসা জটিলতা নিরসন: ইউরোপের দেশগুলোর কনস্যুলার সেবা বা ভিসা অফিস যেন বাংলাদেশেই নিশ্চিত করা যায়, সে বিষয়ে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে কাজ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
নতুন বাজার অনুসন্ধান: মালয়েশিয়াসহ বন্ধ থাকা শ্রমবাজারগুলো দ্রুত চালুর পাশাপাশি থাইল্যান্ড ও ইউরোপের দেশগুলোতে দক্ষ জনশক্তি পাঠানোর কর্মপরিকল্পনা চূড়ান্ত করা হচ্ছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
বাংলাদেশের আবাসন শিল্পে এক নতুন ইতিহাস রচিত হলো। রাজধানীর তেজগাঁও শিল্প এলাকায় নির্মিত দেশের প্রথম ৪০ তলা বিশিষ্ট আকাশচুম্বী বাণিজ্যিক ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করেছে শান্তা হোল্ডিংস। ৫০০ ফুট উচ্চতার এই আইকনিক ভবনটি এখন দেশের সর্বোচ্চ সম্পন্ন হওয়া ইমারত। গত শনিবার (১৮ এপ্রিল) ভবনের ৪০তম তলায় আয়োজিত এক আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এটি হস্তান্তর করা হয়। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের চেয়ারম্যান খন্দকার মনির উদ্দিন, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, স্থপতি এহসান খানসহ প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, ভূমি মালিক এবং গ্রাহকরা উপস্থিত ছিলেন। স্থাপত্যশৈলী ও আধুনিক প্রযুক্তি:‘শান্তা পিনাকল’ শুধুমাত্র উচ্চতার কারণেই অনন্য নয়, বরং এটি আধুনিক নির্মাণশৈলী ও প্রযুক্তির এক অনন্য সমন্বয়। এটি বাংলাদেশের প্রথম ভবন যা পরিবেশবান্ধব স্থাপত্যের জন্য আন্তর্জাতিক ‘লিড প্ল্যাটিনাম’ (LEED Platinum) স্বীকৃতি পেয়েছে। সিঙ্গাপুরভিত্তিক বিখ্যাত ইঞ্জিনিয়ারিং প্রতিষ্ঠান ‘মেইনহার্ট’ (Meinhardt) এর সহায়তায় ভবনটির স্ট্রাকচারাল ডিজাইন এবং ভূমিকম্প প্রতিরোধক ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে। বিশেষ বৈশিষ্ট্যসমূহ: উন্নত লিফট ব্যবস্থা: ভবনটিতে রয়েছে ৮টি দ্রুতগামী লিফট, যা প্রতি সেকেন্ডে ৪ মিটার উচ্চতায় উঠতে সক্ষম। এটি দেশের দ্রুততম ভার্টিক্যাল ট্রান্সপোর্ট ব্যবস্থা। পরিবেশ ও সুরক্ষা: ভবনে ব্যবহৃত হয়েছে ৩৬ মিমি পুরুত্বের ডাবল গ্লেজড গ্লাস, যা তাপ ও শব্দ নিরোধক। এছাড়া এটি দেশের প্রথম ‘উইন্ড টানেল টেস্ট’ করা ভবন, যা প্রতিকূল আবহাওয়ায় এর স্থায়িত্ব নিশ্চিত করে। আইবিএমএস প্রযুক্তি: পুরো ভবনটি একটি ইন্টেলিজেন্ট বিল্ডিং ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (iBMS) দ্বারা পরিচালিত, যা সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা ও জ্বালানি সাশ্রয় নিশ্চিত করবে। অগ্নি নিরাপত্তা: আন্তর্জাতিক এনএফপিএ (NFPA) স্ট্যান্ডার্ড অনুসরণ করে এখানে অত্যাধুনিক অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা স্থাপন করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর দেশের রিয়েল এস্টেট খাতের সক্ষমতার এক বড় প্রমাণ। এটি শুধুমাত্র তেজগাঁও নয়, বরং পুরো ঢাকার বাণিজ্যিক পরিবেশকে বিশ্বমানের স্তরে নিয়ে যাবে। দেশের ইতিহাসে প্রথমবার অ্যালুমিনিয়াম ফর্মওয়ার্ক ব্যবহারের মাধ্যমে মাত্র সাত দিনে এক একটি তলার ছাদ ঢালাইয়ের রেকর্ড গড়ে এই প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। ঢাকার আকাশসীমায় নতুন এই ল্যান্ডমার্ক দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং আধুনিক নগরায়নের এক শক্তিশালী প্রতীক হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে।
অস্ট্রেলিয়ার সিডনিতে ছয় বছরের এক শিশুকন্যা ও তার বাবার মৃত্যুকে ঘিরে শোকের ছায়া নেমে এসেছে স্থানীয় সম্প্রদায়ের মধ্যে। পুলিশ জানিয়েছে, পারামাট্টা নদীতে ঘটে যাওয়া এই মর্মান্তিক ঘটনায় ৪৭ বছর বয়সী মওলিক ধান্ধুকিয়া এবং তার ছয় বছরের মেয়ের মৃত্যু হয়েছে। ঘটনার পর তাদের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। স্থানীয় গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত শনিবার সিডনির কনকর্ড এলাকার কাছে একটি নৌকা ভাড়া করেছিলেন মওলিক ধান্ধুকিয়া। তার সঙ্গে ছিলেন ছয় বছর বয়সী কন্যা। কিছু সময় পর নদীতে জরুরি পরিস্থিতির খবর পেয়ে উদ্ধার অভিযান শুরু করে পুলিশ ও জরুরি সেবা সংস্থাগুলো। আরও পড়ুন...টেক্সাসে স্বামীর গুলিতে স্ত্রী নিহত, পরে পুলিশের গুলিতে স্বামী নিহত; দুই শিশুকে পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, দুপুরের কিছু আগে মওলিক ধান্ধুকিয়ার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এরপর প্রায় সাত ঘণ্টা ধরে শিশুটির সন্ধানে ব্যাপক অনুসন্ধান চালানো হয়। উদ্ধারকারীরা শেষ পর্যন্ত বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে শিশুকন্যার মরদেহ নদী থেকে উদ্ধার করেন। ঘটনার তদন্তে সহায়তার জন্য আশপাশের বিভিন্ন সূত্র থেকে তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে। স্থানীয় একটি স্থাপনার সিসিটিভি ফুটেজও তদন্তকারীদের হাতে এসেছে। পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনাটির প্রকৃত কারণ অনুসন্ধানে সব দিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত এক শোকবার্তায় জানানো হয়েছে, আগামী শুক্রবার রাউস হিলের ক্যাসেলব্রুক ক্রেমেটোরিয়ামে বাবা ও মেয়ের যৌথ শেষকৃত্য অনুষ্ঠিত হবে। শোকবার্তায় লেখা হয়েছে, “দুই কোমল ও সদয় আত্মা, যারা চিরকাল আমাদের হৃদয়ে বেঁচে থাকবে। তাদের আত্মার শান্তি কামনা করছি।” তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ঘটনার আগে কয়েক দফা নৌকা ভাড়া করেছিলেন মওলিক ধান্ধুকিয়া। একবার তার স্ত্রী প্রীতিবেন ধান্ধুকিয়াও তার সঙ্গে ছিলেন বলে জানা গেছে। আরও পড়ুন...টেক্সাসে বিস্ফোরণের আগুনে পুড়েও বাড়ি ও নাতি-নাতনিদের বাঁচালেন এক সাহসী দাদা পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে একটি চিরকুট উদ্ধার করেছে, যা তদন্তের অংশ হিসেবে পরীক্ষা করা হচ্ছে। তবে এখন পর্যন্ত এর বিষয়বস্তু প্রকাশ করা হয়নি। কেন এমন ঘটনা ঘটল, সে বিষয়ে নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। তবে মৃত্যুর প্রায় দুই সপ্তাহ আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দীর্ঘ একটি পোস্ট করেছিলেন মওলিক ধান্ধুকিয়া। সেখানে তিনি ২০০৫ সালে জিমে ব্যায়াম করার সময় ঘাড়ে পাওয়া আঘাতের কারণে দীর্ঘদিন ধরে ভোগা শারীরিক সমস্যার কথা উল্লেখ করেছিলেন। ওই পোস্টে তিনি লিখেছিলেন, ঘাড়ের দীর্ঘস্থায়ী ব্যথা তার জীবনের অনেক সমস্যার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছিল। এমআরআই পরীক্ষায় তার মেরুদণ্ডের ঘাড়ের অংশে স্নায়ুর ওপর চাপের বিষয়টি ধরা পড়ে বলেও তিনি উল্লেখ করেন। মওলিক ধান্ধুকিয়া পেশাগত জীবনে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে কাজ করতেন। ২০২২ সাল থেকে তিনি সাউথ ইস্টার্ন সিডনি লোকাল হেলথ ডিস্ট্রিক্টে অ্যাপ্লিকেশন সাপোর্ট বিশ্লেষক হিসেবে কর্মরত ছিলেন। এর আগে অস্ট্রেলিয়া ও ভারতে বিভিন্ন সফটওয়্যার প্রতিষ্ঠানে কাজ করেছেন। এই ঘটনার পর পরিবারটির জন্য সহায়তা তহবিলও গঠন করেছেন স্বজন ও পারিবারিক বন্ধুরা। তহবিল সংগ্রহের আহ্বানে বলা হয়েছে, প্রীতিবেন ধান্ধুকিয়া একসঙ্গে তার স্বামী ও একমাত্র কন্যাকে হারিয়েছেন। এই কঠিন সময়ে তাকে আর্থিক ও মানসিক সহায়তা দেওয়ার জন্য সবাইকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানানো হয়েছে। ▶️ ট্রাম্পের লাখ ডলারের এইচ-১বি ভিসা ফি অবৈধ ঘোষণা মার্কিন আদালতের তহবিলের অর্থ শেষকৃত্যের ব্যয়, ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতা এবং নিকট আত্মীয়দের যাতায়াত ও আবাসন খাতে ব্যবহার করা হবে বলে জানানো হয়েছে। নিউ সাউথ ওয়েলস পুলিশের সুপারিনটেনডেন্ট ক্রিস্টিন ম্যাকডোনাল্ড ঘটনাটিকে “পরিবার ও সমাজের জন্য এক গভীর ট্র্যাজেডি” হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তিনি বলেন, “এটি অত্যন্ত হৃদয়বিদারক একটি ঘটনা। আমরা সব দিক থেকে তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছি এবং কোনো সম্ভাবনাই উপেক্ষা করা হবে না।” পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার পেছনে পারিবারিক সহিংসতার কোনো উপাদান ছিল কি না, সেটিও তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। তবে এখন পর্যন্ত কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো হয়নি। ঘটনার পর পুরো এলাকায় শোকের আবহ বিরাজ করছে। বাবা ও মেয়ের একসঙ্গে শেষকৃত্যের খবর আরও আবেগঘন পরিবেশ তৈরি করেছে। স্বজন ও পরিচিতজনরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাদের স্মরণ করে শোক প্রকাশ করছেন।
যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা প্রত্যাশীদের জন্য কঠোর হচ্ছে নিয়মাবলী। আগামী ৩০ মার্চ থেকে কার্যকর হতে যাচ্ছে নতুন ভিসা রুলস, যেখানে আবেদনকারীদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের প্রোফাইল পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই বা স্ক্রিনিং করা হবে। মার্কিন প্রশাসনের এই নতুন পদক্ষেপে বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ভিসা প্রত্যাশীদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। নতুন এই নিয়ম মূলত অ-অভিবাসী (Non-immigrant) এবং অভিবাসী (Immigrant) উভয় ধরণের ভিসার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হতে পারে। বিশেষ করে যারা ট্যুরিস্ট ভিসা, স্টুডেন্ট ভিসা এবং কাজের সন্ধানে এইচ-১বি (H-1B) ভিসার জন্য আবেদন করবেন, তাদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের তথ্য প্রদান বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে। আবেদনকারীদের গত পাঁচ বছরের ব্যবহৃত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোর ইউজার আইডি বা হ্যান্ডেল নাম ফর্মে উল্লেখ করতে হবে। ফেসবুক, টুইটার (বর্তমানে এক্স), ইনস্টাগ্রাম এবং ইউটিউবের মতো জনপ্রিয় প্ল্যাটফর্মগুলো এই স্ক্রিনিংয়ের আওতায় থাকবে। তবে পাসওয়ার্ড দেওয়ার প্রয়োজন হবে না। মূলত আবেদনকারীর নিরাপত্তা ঝুঁকি এবং পূর্ববর্তী কোনো উসকানিমূলক বা সন্দেহজনক কর্মকাণ্ড আছে কি না, তা যাচাই করতেই এই পদক্ষেপ। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং জননিরাপত্তার স্বার্থেই এই স্ক্রিনিং প্রক্রিয়া জোরদার করা হয়েছে। কোনো ব্যক্তি যদি অতীতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে উগ্রবাদ বা আইনবিরোধী কোনো কাজে লিপ্ত থেকে থাকেন, তবে তার ভিসা আবেদন বাতিল হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হবে। ভিসা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ৩০ মার্চের পর যারা আবেদন করবেন, তাদের অবশ্যই গত ৫ বছরের ডিজিটাল ফুটপ্রিন্ট সম্পর্কে সতর্ক থাকতে হবে। কোনো ভুল তথ্য দিলে বা তথ্য গোপন করলে তা স্থায়ীভাবে ভিসা প্রত্যাখ্যাত হওয়ার কারণ হতে পারে। এছাড়া ইমেইল অ্যাড্রেস এবং ফোন নম্বর প্রদানের ক্ষেত্রেও অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এই নতুন নিয়ম চালুর ফলে ভিসা প্রক্রিয়াকরণে কিছুটা অতিরিক্ত সময় লাগতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তাই প্রয়োজনীয় কাগজপত্র এবং অনলাইন প্রোফাইল গুছিয়ে আবেদন করার পরামর্শ দিচ্ছে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো।
রাজশাহীতে নীরবে বাড়ছে এইচআইভি সংক্রমণ। রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল এবং সিভিল সার্জন কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ২০১৯ সাল থেকে চলতি বছরের মার্চ পর্যন্ত রাজশাহীতে মোট ১৩৯ জন এইচআইভি আক্রান্ত ব্যক্তি শনাক্ত হয়েছেন। এর মধ্যে ৯২ জন পুরুষে-পুরুষে যৌনসম্পর্কে যুক্ত ব্যক্তি হিসেবে চিহ্নিত হয়েছেন, যা মোট আক্রান্তের প্রায় ৬৬ শতাংশ। স্বাস্থ্যসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, এইচআইভি সংক্রমণ প্রতিরোধে সচেতনতার অভাব, ঝুঁকিপূর্ণ যৌন আচরণ, নিয়মিত পরীক্ষা না করা এবং সামাজিক সংকোচ বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠেছে। একই সঙ্গে আক্রান্ত ব্যক্তিদের প্রতি সামাজিক বৈষম্য ও নেতিবাচক মনোভাবও অনেককে সময়মতো পরীক্ষা ও চিকিৎসা নিতে নিরুৎসাহিত করছে। রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের তথ্য অনুযায়ী, ২০১৯ সাল থেকে চলতি বছরের মার্চ পর্যন্ত ১২ হাজার ৮৫২ জনের এইচআইভি পরীক্ষা করা হয়। এর মধ্যে ১১৫ জনের শরীরে ভাইরাস শনাক্ত হয়েছে। আক্রান্তদের মধ্যে ১০৫ জন পুরুষ, ৯ জন নারী এবং একজন তৃতীয় লিঙ্গের ব্যক্তি। বয়সভিত্তিক বিশ্লেষণে দেখা যায়, ১৫ থেকে ২৪ বছর বয়সী আক্রান্তের সংখ্যা ৩৫ জন এবং ২৫ থেকে ৫০ বছর বয়সী ৮০ জন। আক্রান্তদের মধ্যে ৪৮ জন বিবাহিত এবং ৬৭ জন অবিবাহিত। এছাড়া কয়েকজন প্রবাসফেরত ব্যক্তিও রয়েছেন। অন্যদিকে সিভিল সার্জন কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, হাসপাতালের বাইরে শনাক্ত হওয়া আরও ৩৪ জন আক্রান্তের তথ্য নথিভুক্ত হয়েছে। দুই প্রতিষ্ঠানের তথ্য একত্র করলে মোট আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়ায় ১৩৯ জন। রাজশাহী বিভাগীয় স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য বলছে, বিভাগের আট জেলায় বর্তমানে এইচআইভি আক্রান্তের সংখ্যা ৭৯৪। এর মধ্যে সর্বোচ্চ ৩১০ জন আক্রান্ত রয়েছেন সিরাজগঞ্জ জেলায়। এরপর রয়েছে রাজশাহী, বগুড়া, পাবনা, নওগাঁ, নাটোর, জয়পুরহাট ও চাঁপাইনবাবগঞ্জ। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এইচআইভি সংক্রমণকে শুধুমাত্র একটি নির্দিষ্ট জনগোষ্ঠীর সমস্যা হিসেবে দেখলে বাস্তব চিত্র বোঝা কঠিন হবে। কারণ অনিরাপদ যৌনসম্পর্ক ছাড়াও পরীক্ষাবিহীন রক্ত গ্রহণ, একই সূঁচ বা সিরিঞ্জ একাধিক ব্যক্তির ব্যবহার এবং গর্ভাবস্থা, প্রসব বা বুকের দুধের মাধ্যমে মা থেকে শিশুর শরীরেও এইচআইভি সংক্রমিত হতে পারে। রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সহকারী রেজিস্ট্রার (মেডিসিন) ডা. মো. মেহেদী হাসান ভূঁইয়া বলেন, নির্দিষ্ট কিছু আচরণের ক্ষেত্রে সংক্রমণের ঝুঁকি তুলনামূলক বেশি হতে পারে। তবে প্রতিরোধের সবচেয়ে কার্যকর উপায় হলো সচেতনতা বৃদ্ধি, নিয়মিত পরীক্ষা এবং নিরাপদ আচরণ নিশ্চিত করা। এইচআইভি আক্রান্তদের নিয়ে কাজ করা সংগঠন ‘আপোষ’-এর প্রকল্প ব্যবস্থাপক এস. এন. আব্দুল্লাহ আল রেজা বলেন, এখনও অনেক মানুষ মনে করেন এইচআইভি আক্রান্ত মানেই নির্দিষ্ট ধরনের জীবনযাপন। বাস্তবে বিষয়টি আরও বিস্তৃত। আক্রান্ত ব্যক্তিদের চিকিৎসার পাশাপাশি সামাজিক গ্রহণযোগ্যতা ও মানসিক সহায়তাও প্রয়োজন। রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের এইচআইভি টেস্টিং অ্যান্ড কাউন্সেলিং সেন্টারের ফোকাল পারসন ডা. ইব্রাহিম মো. শরফ জানান, বর্তমানে রাজশাহীতে অ্যান্টিরেট্রোভাইরাল থেরাপি (এআরটি) সেন্টার চালু রয়েছে এবং আক্রান্তদের জন্য ওষুধ, পরীক্ষা ও কাউন্সেলিং সেবা দেওয়া হচ্ছে। তবে পুরোনো রোগীদের কিছু ফাইল স্থানান্তর প্রক্রিয়া এখনও চলমান রয়েছে। জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, এইচআইভি প্রতিরোধে তথ্যভিত্তিক সচেতনতা, সহজলভ্য পরীক্ষা ব্যবস্থা, নিয়মিত কাউন্সেলিং এবং আক্রান্তদের প্রতি বৈষম্যমুক্ত আচরণ নিশ্চিত করা জরুরি। একই সঙ্গে সামাজিক লজ্জা বা ভয় কাটিয়ে ঝুঁকিতে থাকা ব্যক্তিদের পরীক্ষা ও চিকিৎসার আওতায় আনা গেলে সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণ আরও কার্যকর হবে।
সাইপ্রাসে পড়তে যাওয়া বাংলাদেশি শিক্ষার্থী শাহরিয়ার আহমেদ ওরফে ইমনকে হত্যার ঘটনায় দেশজুড়ে শোক ও উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে। নিখোঁজ হওয়ার ১০ দিন পর ভূমধ্যসাগরীয় দ্বীপরাষ্ট্রটির লারনাকা শহরের একটি এলাকা থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। তদন্ত সংশ্লিষ্ট তথ্য বলছে, নিখোঁজ হওয়ার রাতেই তাকে হত্যা করা হয়েছিল। এরপর লাশ মাটিচাপা দিয়ে রাখা হলেও তার মুঠোফোন ব্যবহার করে পরিবারের কাছে দিনের পর দিন মুক্তিপণ দাবি করা হচ্ছিল। নিহত শাহরিয়ার আহমেদ (২২) নরসিংদীর রায়পুরা উপজেলার লোচনপুর গ্রামের বাসিন্দা। তিনি গ্রিসপ্রবাসী নাসির মিয়ার ছেলে। তিন ভাইয়ের মধ্যে শাহরিয়ার ছিলেন সবার বড়। পরিবারের স্বপ্ন পূরণের আশায় মাত্র তিন মাস আগে শিক্ষার্থী ভিসায় সাইপ্রাসে যান তিনি। সেখানে একটি বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনার পাশাপাশি কাজের সুযোগ খুঁজছিলেন। পারিবারিক সূত্র ও স্বজনদের ভাষ্য অনুযায়ী, ১১ জুন স্থানীয় সময় সন্ধ্যার দিকে মায়ের সঙ্গে শেষবারের মতো কথা বলেন শাহরিয়ার। তিনি জানান, একটি চাকরির ব্যবস্থা হয়েছে এবং সেদিন রাতেই কাজে যোগ দেবেন। নতুন কাজ পাওয়ার খবরটি তিনি তার বাবা এবং একই এলাকার বাসিন্দা ও রুমমেট রায়হান মিয়াকেও জানিয়েছিলেন। সেদিন রাত ৯টার দিকে কাজের স্থানে পৌঁছে রুমমেটকে নিজের অবস্থানের তথ্য পাঠান শাহরিয়ার। এরপর থেকেই তার সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। কিছু সময় পর তার ব্যবহৃত হোয়াটসঅ্যাপ নম্বর থেকে পরিবারের কাছে একটি বার্তা পাঠানো হয়। সেখানে দাবি করা হয়, শাহরিয়ারকে অপহরণ করা হয়েছে এবং তাকে ফিরে পেতে ৩৫ হাজার ইউরো দিতে হবে। শুরুতে পরিবারের সদস্যরা বিষয়টিকে গুরুত্ব দিতে পারেননি। তাদের ধারণা ছিল, হয়তো তার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের অ্যাকাউন্ট হ্যাক হয়েছে। কিন্তু পরদিন সকালেও শাহরিয়ার বাসায় না ফেরায় উদ্বেগ বাড়তে থাকে। রুমমেট রায়হান স্থানীয় থানায় অভিযোগ করেন। পুলিশ তার পাঠানো সর্বশেষ অবস্থানের তথ্য অনুসরণ করে অনুসন্ধান চালালেও প্রথমদিকে কোনো সাফল্য পায়নি। এদিকে প্রতিদিনই পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করা হচ্ছিল এবং অর্থ দাবি করা হচ্ছিল। শাহরিয়ারের ব্যবহৃত নম্বরটি সারাক্ষণ সক্রিয় থাকায় পরিবার শেষ পর্যন্ত তাকে জীবিত উদ্ধারের আশায় আলোচনায় বসে। একপর্যায়ে দাবি করা অর্থ কমিয়ে বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় পাঁচ লাখ টাকায় সমঝোতার চেষ্টা করা হয়। পরিবারের সদস্যরা জানান, অর্থ পাঠানোর প্রস্তুতির মধ্যেই তারা জানতে পারেন যে সাইপ্রাস পুলিশ শাহরিয়ারের মরদেহ উদ্ধার করেছে। সাইপ্রাস পুলিশের তদন্তে উঠে এসেছে, নিখোঁজ হওয়ার রাতেই শাহরিয়ারকে ছুরিকাঘাতে হত্যা করা হয়। পরে মরদেহ লারনাকার কোফিনু এলাকার একটি স্থানে মাটিচাপা দিয়ে রাখা হয়। গত রোববার সেখানে অভিযান চালিয়ে পুলিশ তার গলিত মরদেহ উদ্ধার করে। এই ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে ২২ বছর বয়সী এক বাংলাদেশি তরুণকে গ্রেপ্তার করেছে সাইপ্রাস পুলিশ। স্বজনদের দাবি, গ্রেপ্তার ব্যক্তির দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতেই মরদেহ এবং হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত অস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে। পুলিশি জিজ্ঞাসাবাদে তিনি ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার কথা স্বীকার করেছেন বলেও জানা গেছে। তবে তদন্তের স্বার্থে পুলিশ এখনো ঘটনার সব তথ্য প্রকাশ করেনি। শাহরিয়ারের পরিবার জানায়, বিদেশে পড়াশোনার খরচ চালাতে প্রতি মাসে উল্লেখযোগ্য অর্থ ব্যয় করতে হতো। পরিবারের ওপর চাপ কমাতে তিনি পড়াশোনার পাশাপাশি একটি চাকরি খুঁজছিলেন। নতুন কাজ পাওয়ার আনন্দ নিয়ে যে তরুণ সেদিন রাতে বাসা থেকে বেরিয়েছিলেন, কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই তার জীবন থেমে যায়। নিহত শিক্ষার্থীর মা পাপিয়া বেগম ছেলের হত্যাকারীদের দৃষ্টান্তমূলক বিচার দাবি করেছেন। একই সঙ্গে তিনি দ্রুত মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনার জন্য সরকারের সহযোগিতা কামনা করেছেন। পরিবারের সদস্যদের আহাজারিতে শোকের ছায়া নেমে এসেছে পুরো এলাকায়। রায়পুরা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মাসুদ রানা জানিয়েছেন, ঘটনাটি সম্পর্কে তারা অবগত হয়েছেন। নিহতের পরিবার প্রয়োজনীয় সহযোগিতা চাইলে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। বিদেশে উচ্চশিক্ষার স্বপ্ন নিয়ে যাওয়া এক তরুণের এমন মর্মান্তিক পরিণতি বাংলাদেশি প্রবাসী সমাজেও ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। একই সঙ্গে বিদেশে অবস্থানরত শিক্ষার্থী ও কর্মজীবী বাংলাদেশিদের নিরাপত্তা নিয়েও নতুন করে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।
দীর্ঘ নয় দিন নিখোঁজ থাকার পর সাইপ্রাসে উচ্চশিক্ষার জন্য যাওয়া বাংলাদেশি শিক্ষার্থী শাহরিয়ার আহমেদ ইমনের (২২) মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় নতুন তথ্য সামনে এসেছে। প্রথমে ঘটনাটি মুক্তিপণের জন্য অপহরণ বলে ধারণা করা হলেও তদন্তকারীরা এখন মনে করছেন, ব্যক্তিগত বিরোধ ও প্রতিশোধের জেরেই তাকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়ে থাকতে পারে। সাইপ্রাসভিত্তিক সংবাদমাধ্যম ফিলিনিউজ এবং দেশটির পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, কোফিনু এলাকার একটি নির্জন জঙ্গল থেকে ইমনের হাত-পা বাঁধা মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। এ ঘটনায় ২২ বছর বয়সী এক বিদেশি নাগরিককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করে তদন্তকারীরা গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পেয়েছেন বলে জানিয়েছে পুলিশ। পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, গত ১২ জুন বিকেল সাড়ে ৬টার দিকে ওরেক্লিনি এলাকায় নিজের বাসা থেকে কোফিনুর একটি কারখানায় কাজে যোগ দিতে বের হন ইমন। সাইপ্রাসে তার এটি ছিল প্রথম কর্মদিবস। বাসা থেকে বের হওয়ার পর তিনি এক বন্ধুর কাছে নিজের অবস্থানসংক্রান্ত তথ্য পাঠিয়েছিলেন। এর কিছুক্ষণ পরই তার মোবাইল ফোন বন্ধ হয়ে যায় এবং পরিবারের সঙ্গে সব ধরনের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। নিখোঁজ হওয়ার প্রায় দুই দিন পর গ্রিসে অবস্থানরত ইমনের বাবার মোবাইল ফোনে একাধিক বার্তা পাঠানো হয়। বার্তাগুলোতে মোট ৩৫ হাজার ইউরো মুক্তিপণ দাবি করা হয়। প্রথমে ১০ হাজার ইউরো এবং পরে আরও ২৫ হাজার ইউরো পরিশোধের নির্দেশ দেওয়া হয়। একই সঙ্গে পুলিশকে জানানো হলে গুরুতর পরিণতির হুমকিও দেওয়া হয়েছিল বলে জানা গেছে। পরিবার বিষয়টি পুলিশকে অবহিত করলে লার্নাকা অপরাধ তদন্ত বিভাগ ব্যাপক অনুসন্ধান শুরু করে। তদন্তের অংশ হিসেবে মোবাইল ফোনের তথ্য, ডিজিটাল যোগাযোগের রেকর্ড এবং বিভিন্ন স্থাপনার নিরাপত্তা ক্যামেরার ফুটেজ বিশ্লেষণ করা হয়। এসব তথ্যের ভিত্তিতে এক সন্দেহভাজনকে শনাক্ত করে গত রোববার গ্রেপ্তার করা হয়। প্রথম দিকে অভিযুক্ত ব্যক্তি অভিযোগ অস্বীকার করলেও দীর্ঘ জিজ্ঞাসাবাদের একপর্যায়ে তিনি ভেঙে পড়েন বলে জানিয়েছে পুলিশ। এরপর তার দেওয়া তথ্যের সূত্র ধরে কোফিনু অভিবাসী আশ্রয়কেন্দ্রের কাছাকাছি একটি জঙ্গল এলাকায় অভিযান চালানো হয়। গভীর রাতে সেখান থেকে ইমনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। তদন্ত সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের ধারণা, অভিযুক্ত ব্যক্তি ও ইমনের পরিচয় হয়েছিল একটি বাসযাত্রার সময়। পরিচয়ের কয়েক দিনের মধ্যেই তাদের মধ্যে কোনো বিষয় নিয়ে তর্ক-বিতর্ক ও অপমানজনক পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। সেই ঘটনার জের ধরে অভিযুক্ত ব্যক্তি প্রতিশোধ নেওয়ার পরিকল্পনা করে থাকতে পারেন বলে মনে করছেন তদন্তকারীরা। পুলিশের প্রাথমিক ধারণা অনুযায়ী, পরিচয়ের মাত্র কয়েক দিনের মাথায় কৌশলে ইমনকে একটি নির্জন স্থানে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে তাকে বেঁধে রাখা হয় এবং পরে হত্যা করা হয়। এরপর ঘটনাটি ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করতে এবং তদন্ত বিভ্রান্ত করতে মুক্তিপণের নাটক সাজানো হয়ে থাকতে পারে বলেও তদন্তকারীরা খতিয়ে দেখছেন। বর্তমানে ফরেনসিক বিশেষজ্ঞরা ঘটনাস্থল থেকে সংগ্রহ করা আলামত পরীক্ষা করছেন। একই সঙ্গে ময়নাতদন্তের মাধ্যমে মৃত্যুর সুনির্দিষ্ট কারণ নির্ধারণের প্রস্তুতি চলছে। পুলিশ বলছে, হত্যাকাণ্ডে গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তি একাই জড়িত ছিলেন নাকি অন্য কেউ সহযোগিতা করেছে, তা এখনও নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তদন্তকারীরা আরও খতিয়ে দেখছেন, মুক্তিপণ দাবির বার্তাগুলো কে বা কারা পাঠিয়েছিল এবং এর পেছনে কোনো সংঘবদ্ধ অপরাধচক্রের সম্পৃক্ততা ছিল কি না। তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত হত্যার প্রকৃত উদ্দেশ্য সম্পর্কে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো সম্ভব নয় বলেও জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ। এদিকে ইমনের মৃত্যুতে সাইপ্রাসে বসবাসরত বাংলাদেশি শিক্ষার্থী ও প্রবাসীদের মধ্যে গভীর শোকের সৃষ্টি হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অনেকেই এ হত্যাকাণ্ডের দ্রুত বিচার এবং জড়িতদের কঠোর শাস্তির দাবি জানিয়েছেন। উচ্চশিক্ষা ও উন্নত ভবিষ্যতের স্বপ্ন নিয়ে বিদেশে পাড়ি জমানো এক তরুণের এমন মর্মান্তিক মৃত্যু বাংলাদেশি কমিউনিটিতেও ব্যাপক আলোড়ন তুলেছে। সাইপ্রাসজুড়ে আলোচিত এই ঘটনার তদন্ত এখন দেশটির আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ মামলায় পরিণত হয়েছে। সূত্র: ফিলিনিউজ, সাইপ্রাস পুলিশ