শিশু নির্যাতন

ছয় মাসের শিশুর মৃত্যুর ঘটনায় গ্রেপ্তার হয়েছেন অভিযুক্ত মা তাতিয়ানা নরম্যান। ছবি: সংগৃহীত
যুক্তরাষ্ট্রে মরতে থাকা ৬ মাসের সন্তানের পাশে বসে পর্ন আর টিকটক দেখছিলেন মা

ফ্লোরিডার লেকল্যান্ড শহরে ছয় মাস বয়সী এক শিশুর মৃত্যুর ঘটনায় তার মা তাতিয়ানা নরম্যানকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তদন্তকারীদের অভিযোগ, শিশুটি দিনের বিভিন্ন সময়ে একাধিকবার আঘাত পাওয়ার পরও তিনি চিকিৎসার ব্যবস্থা করেননি। বরং মোবাইল ফোনে শিশুর শারীরিক অবস্থার লক্ষণ খুঁজে দেখেন এবং দীর্ঘ সময় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও অন্যান্য ওয়েবসাইট ব্যবহার করেন। পুলিশ জানিয়েছে, ময়নাতদন্ত ও জিজ্ঞাসাবাদে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে তার বিরুদ্ধে গুরুতর শিশু নির্যাতনের মামলা করা হয়েছে।   লেকল্যান্ড পুলিশ বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, গত ২৯ জুন রাত প্রায় ১১টা ৪০ মিনিটে অচেতন এক শিশুর খবর পেয়ে পুলিশ তাতিয়ানা নরম্যানের বাড়িতে যায়। পরে ছয় মাস বয়সী জেরেমাইয়া পিটার্সকে হাসপাতালে নেওয়া হলে এক ঘণ্টারও কম সময়ের মধ্যে চিকিৎসকেরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন। পুলিশপ্রধান স্যামি টেলর জুনিয়র এক সংবাদ সম্মেলনে জানান, ঘটনাস্থলে পুলিশকে নরম্যান প্রথমে বলেন, শিশুকে বিছানায় রেখে তিনি দুধের বোতল প্রস্তুত করতে গিয়েছিলেন। ফিরে এসে দেখেন, সে বিছানা থেকে মেঝেতে পড়ে গেছে।   তবে পরবর্তী জিজ্ঞাসাবাদে তার বক্তব্য পরিবর্তিত হয়। তখন তিনি দাবি করেন, একই বিছানায় ঘুমানোর সময় হয়তো তিনি বা তার এক বছর বয়সী আরেক সন্তান অসাবধানতাবশত শিশুটির ওপর গড়িয়ে পড়েছিলেন। কিন্তু ময়নাতদন্তের ফলাফলে তদন্তকারীরা ভিন্ন তথ্য পান। পুলিশ জানায়, শিশুর শরীরে এমন ধরনের আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে, যা শুধু বিছানা থেকে একবার পড়ে যাওয়ার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। বাম উরুতে পাওয়া দাগ সম্পর্কেও নরম্যানের দেওয়া ব্যাখ্যা গ্রহণযোগ্য হয়নি।   পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, ময়নাতদন্তের ফল সামনে আনার পর নরম্যান স্বীকার করেন, ওই দিন শিশুটি অন্তত তিনবার পড়ে যায়। এর মধ্যে একটি ঘটনায় তিনি ক্ষোভের মাথায় দাঁড়িয়ে থাকা অবস্থান থেকে শিশুটিকে একটি প্লেপেনের ভেতরে ছুড়ে দেন। তদন্তকারীদের ধারণা, এ সময়ই শিশুটি সবচেয়ে গুরুতর আঘাত পায়। প্লেপেনটির তলায় কোনো নরম গদি না থাকায় শিশুর মাথা ও পিঠে মারাত্মক আঘাত লাগে।   তদন্তে আরও জানা যায়, সকাল ৯টার দিকে রিমোট কন্ট্রোল তুলতে গিয়ে শিশুটি তার হাত থেকে মেঝেতে পড়ে যায়। এরপরও তিনি হাসপাতালে না নিয়ে মোবাইল ফোনে সম্ভাব্য আঘাতের লক্ষণ সম্পর্কে খোঁজ করতে থাকেন এবং বাড়িতেই শিশুকে পর্যবেক্ষণ করার সিদ্ধান্ত নেন। কিছু সময় পরে এক বছর বয়সী আরেক সন্তান দোলনা আকৃতির শিশুশয্যায় উঠে পড়লে সেটি উল্টে যায় এবং জেরেমাইয়া আবার মেঝেতে পড়ে যায় বলেও তদন্তে উঠে এসেছে।   পুলিশ জানিয়েছে, শিশুটির শারীরিক অবস্থার অবনতি হলেও নরম্যান জরুরি চিকিৎসা না নিয়ে মোবাইলে বিভিন্ন বিষয় খুঁজে দেখেন। তদন্তে তার ফোন থেকে ‘শিশুর শরীর ঠান্ডা হয়ে যাচ্ছে’, ‘শিশুর মস্তিষ্কে আঘাত’, ‘মস্তিষ্কে আঘাত জরুরি অবস্থা কি না’ ইত্যাদি বিষয়ে অনুসন্ধানের তথ্য পাওয়া গেছে। তদন্তকারীদের অভিযোগ, এর পরও তিনি দীর্ঘ সময় টিকটকসহ বিভিন্ন অনলাইন সেবা ব্যবহার করেন। পুলিশপ্রধান স্যামি টেলরের ধারণা, জরুরি সহায়তা চাওয়ার আগেই শিশুটির মৃত্যু হয়েছিল।   পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, জিজ্ঞাসাবাদে নরম্যান নিজের মানসিক সমস্যার কথাও উল্লেখ করেন। তিনি জানান, দীর্ঘদিন ধরে বিষণ্নতা, আত্মহত্যার চিন্তা, পোস্ট-ট্রমাটিক স্ট্রেস ডিসঅর্ডার (পিটিএসডি) এবং সীমান্তরেখাজনিত ব্যক্তিত্ব সমস্যায় ভুগছিলেন। আদালতের নথি অনুযায়ী, তিনি দাবি করেন, সংসারে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা না পাওয়া, অতিরিক্ত মানসিক চাপ এবং হতাশা থেকেই তিনি শিশুটির প্রতি রাগান্বিত আচরণ করেছিলেন।   তবে পুলিশ বলছে, এসব দাবি তদন্তের অংশ হিসেবে বিবেচনায় নেওয়া হলেও শিশুর প্রতি সহিংস আচরণ এবং সময়মতো চিকিৎসা না দেওয়ার অভিযোগের গুরুত্ব কমে না।   বর্তমানে তাতিয়ানা নরম্যানের বিরুদ্ধে গুরুতর শিশু নির্যাতনের অভিযোগ আনা হয়েছে। এ অপরাধে সর্বোচ্চ ৩০ বছরের কারাদণ্ড হতে পারে। তবে তদন্ত চলমান থাকায় অভিযোগ আরও পরিবর্তন বা নতুন অভিযোগ যুক্ত হওয়ার সম্ভাবনাও রয়েছে বলে জানিয়েছে লেকল্যান্ড পুলিশ।

মোহাম্মদ ইব্রাহিম জুলাই ৩১, ২০২৬ ১৪:০
দুই বছরের শিশু ইসাবেল রোজ ওয়েলশ হত্যা মামলায় রায় দিয়েছে যুক্তরাজ্যের আদালত। ছবি: সংগৃহীত
দুই বছরের কন্যাসন্তানের ওপর নৃশংস অত্যাচার ও হত্যা: জন্মদাত্রী মা ও প্রেমিকের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড

যুক্তরাজ্যে দুই বছর বয়সী এক শিশুকন্যাকে দীর্ঘদিন ধরে শারীরিক ও যৌন নির্যাতনের পর হত্যার দায়ে তার মা আলেকজান্দ্রা ওয়াকার এবং মায়ের সঙ্গী হ্যারিসন সিম্পসনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। আদালতের রায়ে ওয়াকারকে অন্তত ২২ বছর এবং সিম্পসনকে অন্তত ২৮ বছর কারাভোগের পর মুক্তির জন্য আবেদন করার সুযোগ দেওয়া হবে। সিম্পসন শিশুর প্রতি যৌন নির্যাতনের অভিযোগেও দোষী সাব্যস্ত হয়েছেন। একই সঙ্গে দুজনই শিশু নির্যাতনের অভিযোগেও দোষী প্রমাণিত হয়েছেন।   ইংল্যান্ডের টিসসাইড ক্রাউন কোর্টে শুনানিতে উঠে আসে, ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বর মাসে মারা যাওয়া দুই বছরের ইসাবেল রোজ ওয়েলশ দীর্ঘ সময় ধরে ভয়াবহ নির্যাতনের শিকার হয়েছিল। ময়নাতদন্তে তার শরীরে ২১টি হাড় ভাঙা, ৯৭টি নরম টিস্যুর আঘাত এবং আরও একাধিক গুরুতর জখমের প্রমাণ পাওয়া যায়। আদালতে উপস্থাপিত চিকিৎসা বিশেষজ্ঞদের প্রতিবেদনে বলা হয়, মৃত্যুর আগে শিশুটির ওপর বারবার সহিংস নির্যাতন চালানো হয়েছিল।   প্রসিকিউশনের ভাষ্য অনুযায়ী, মৃত্যুর দিন ইসাবেলের দেখভালের দায়িত্বে ছিলেন হ্যারিসন সিম্পসন। পরে শিশুটি গুরুতর আহত হওয়ার অল্প সময়ের মধ্যেই তার মা আলেকজান্দ্রা ওয়াকার ইন্টারনেটে "আমার ছোট শিশুর রক্তপাত কেন হচ্ছে" লিখে তথ্য খোঁজেন। আদালতে উপস্থাপিত নজরদারি ক্যামেরার ফুটেজে দেখা যায়, ওই সময় তিনি বাড়ির ভেতরে এদিক-ওদিক হাঁটছিলেন এবং জানালার পাশে দাঁড়িয়ে ধূমপান করছিলেন।   আদালতে আরও জানানো হয়, ঘটনার সময় ওয়াকার তার মেয়েকে নাম ধরে ডাকছিলেন এবং বলছিলেন, "তুমি আমাকে ভয় পাইয়ে দিচ্ছ।" তবে জরুরি সেবা নম্বর ৯৯৯-এ ফোন করতে তিনি বিলম্ব করেন। প্রসিকিউশনের দাবি, শিশুটির অবস্থা সংকটজনক হয়ে ওঠার অনেক পরে, পরিবারের এক সদস্যের পরামর্শে তিনি জরুরি সেবায় যোগাযোগ করেন। পরে প্যারামেডিকরা শিশুটিকে অচেতন অবস্থায় উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।   মামলার শুনানিতে ইসাবেলের নানি ক্লেয়ার ওয়াকার জানান, মৃত্যুর আগের কয়েক দিনে নাতনির শারীরিক অবস্থার অবনতি দেখে তিনি উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছিলেন। তিনি শিশুটিকে খুবই প্রাণবন্ত, বুদ্ধিমান এবং সুস্থ স্বাভাবিক হিসেবে জানতেন। তবে শেষ দিকে তার শরীরে একের পর এক আঘাতের চিহ্ন দেখতে পান। একটি পর্যায়ে শিশুটির পা ভেঙে যাওয়ার কারণে হাসপাতালে চিকিৎসাও নিতে হয়েছিল। পরে বাড়িতে গিয়ে তার পিঠেও আঘাতের দাগ দেখতে পান বলে আদালতে সাক্ষ্য দেন তিনি।   তদন্তে উঠে আসে, মৃত্যুর আগে শিশুটিকে জোরে ঝাঁকানো হয়েছিল এবং শক্ত কোনো বস্তুর সঙ্গে আঘাত করা হয়েছিল। চিকিৎসা বিশেষজ্ঞদের মতে, এসব আঘাতই তার মারাত্মক মস্তিষ্কের ক্ষতির কারণ হয়। আদালতে আরও বলা হয়, শিশুটির শরীরে যৌন নির্যাতনেরও প্রমাণ পাওয়া গেছে। তবে এসব ঘটনার বর্ণনা আদালত সংক্ষিপ্ত আকারে উপস্থাপন করে এবং শিশুর মর্যাদা ও সংবেদনশীলতার বিষয়টি বিবেচনায় রাখে।   ওয়াকার ও সিম্পসন আদালতে নিজেদের নির্দোষ দাবি করেছিলেন। তারা হত্যা, শিশু নির্যাতন, শিশুর মৃত্যুর জন্য দায়ী হওয়া এবং যৌন নির্যাতনের অভিযোগ অস্বীকার করেন। তবে সাক্ষ্যপ্রমাণ, চিকিৎসা প্রতিবেদন এবং তদন্তের তথ্য পর্যালোচনা করে জুরি তাদের দোষী সাব্যস্ত করেন। পরে আদালত তাদের বিরুদ্ধে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের রায় ঘোষণা করেন।   এই রায়ের পর যুক্তরাজ্যে শিশু সুরক্ষা ব্যবস্থা এবং নির্যাতনের ঝুঁকিতে থাকা শিশুদের দ্রুত শনাক্ত করার প্রয়োজনীয়তা নিয়ে আবারও আলোচনা শুরু হয়েছে। শিশু অধিকারকর্মীরা বলেছেন, পরিবার, স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠান ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের মধ্যে সমন্বয় আরও জোরদার করা প্রয়োজন, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মর্মান্তিক ঘটনা প্রতিরোধ করা যায়।

মোহাম্মদ ইব্রাহিম জুলাই ৩০, ২০২৬ ১৪:০
১৪ মাসের শিশু হেনরি ব্রাউন। ছবি: সংগৃহীত
ক্যালিফোর্নিয়ায় ১৪ মাসের শিশুকে নির্মম নির্যাতনে হত্যা, মা ও প্রেমিকের বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়া অঙ্গরাজ্যে ১৪ মাস বয়সী এক শিশুর মৃত্যুর ঘটনায় তার মা ও মায়ের প্রেমিককে কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। শিশুটির শরীরে নির্যাতনের একাধিক চিহ্ন পাওয়া গেলেও আগে থেকেই তার নিরাপত্তা নিয়ে অভিযোগ ওঠার পরও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কার্যকর ব্যবস্থা নিতে ব্যর্থ হয়েছিল বলে মামলার নথিতে উঠে এসেছে।   দ্য প্রেস-এন্টারপ্রাইজের প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী, মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) সান বার্নার্ডিনো কাউন্টি সুপিরিয়র কোর্টের বিচারক আলেকজান্ডার আর. মার্টিনেজ এ রায় ঘোষণা করেন। আদালতের রায়ে ৩৬ বছর বয়সী সামান্থা ভিক্টোরিয়া গারভারকে ১৪ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। তিনি স্বেচ্ছাকৃত হত্যাকাণ্ড (Voluntary Manslaughter) এবং গুরুতর শারীরিক ক্ষতি সাধনকারী শিশু নির্যাতনের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেছিলেন।   অন্যদিকে, ৩৪ বছর বয়সী সার্জিও ভিনসেন্ট মেনা দ্বিতীয়-ডিগ্রির হত্যাকাণ্ড এবং গুরুতর শারীরিক ক্ষতি সাধনকারী শিশু নির্যাতনের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। আদালত তাকে ২১ বছর থেকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেন। মামলার নথি অনুযায়ী, ২০২৩ সালের ১ অক্টোবর ক্যালিফোর্নিয়ার বিগ বেয়ার এলাকার সুগারলোফে অবস্থিত বাড়ি থেকে ১৪ মাসের হেনরি হুইটলি ব্রাউনকে অচেতন অবস্থায় উদ্ধার করা হয়। তার শরীরে পোড়া ও আঘাতের অসংখ্য চিহ্ন ছিল। হাসপাতালে নেওয়ার আগেই তার মৃত্যু হয়।   রায় ঘোষণার পর সান বার্নার্ডিনো কাউন্টি জেলা অ্যাটর্নির কার্যালয় এক বিবৃতিতে জানায়, কোনো সাজাই ছোট্ট হেনরিকে ফিরিয়ে আনতে পারবে না কিংবা তার ওপর চালানো নির্যাতনের কষ্ট মুছে দিতে পারবে না। তবে এই রায়ের মাধ্যমে ন্যায়বিচার নিশ্চিত হয়েছে এবং দোষীরা আর কোনো শিশুর ক্ষতি করতে পারবে না।   তদন্তে উঠে এসেছে, হেনরির নিরাপত্তা নিয়ে মৃত্যুর আগেই একাধিকবার অভিযোগ করা হয়েছিল। শিশুটির পিতামহী স্টেফানি ডানকান জানান, হেনরির জন্মের পর তিনি অন্তত ছয়বার শিশু ও পরিবার সেবা বিভাগে অভিযোগ করেছিলেন। কিন্তু তার অভিযোগ গুরুত্ব পায়নি। ডানকানের ভাষ্য, হেনরিকে নিয়মিত তাদের বাড়িতে দেখাশোনা করা হতো। তিনি বলেন, শিশুটি প্রায়ই নোংরা বোতল, পর্যাপ্ত পোশাক বা ডায়াপার ছাড়া আসত। ২০২৩ সালের জুনে হেনরির শরীরে একাধিক আঘাতের চিহ্ন দেখে তিনি পুলিশে খবর দেন।   একজন শেরিফের ডেপুটি শিশুটিকে পরীক্ষা করে জানান, যে বয়সের শিশু হাঁটতেও শেখেনি, তার শরীরে এ ধরনের আঘাত স্বাভাবিক নয়। এরপর তিনি বিষয়টি তদন্তের আশ্বাস দিলেও হেনরিকে তার মা ও মেনার কাছেই থাকতে দেওয়া হয়। তদন্ত নথিতে আরও বলা হয়েছে, ২০২৩ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর সামান্থা গারভার জানিয়েছিলেন, তিনি রাতে বাইরে যাওয়ার সময় হেনরিকে সার্জিও মেনার কাছে রেখে যান। অথচ তিনি জানতেন, মেনা দুই দিন ধরে না ঘুমিয়ে মাদক সেবন করছিলেন।   মেনা পরে তদন্তকারীদের জানান, তিনি মাদক গ্রহণের সময় হেনরিকে চলমান গরম পানির বাথটাবে রেখে দেন। পরদিন সকালে বাড়ি ফিরে গারভার দেখতে পান, শিশুটির যৌনাঙ্গ ও পায়ের নিচের অংশে মারাত্মক দগ্ধের চিহ্ন রয়েছে। তদন্তকারীদের ধারণা, তাকে অত্যন্ত গরম পানিতে ডুবিয়ে দেওয়ার কারণেই এসব আঘাতের সৃষ্টি হয়।   মামলার নথি অনুযায়ী, গুরুতর আহত অবস্থায়ও হেনরিকে প্রায় ১২ ঘণ্টা চিকিৎসা দেওয়া হয়নি। শুধু একটি অ্যালার্জির ওষুধ খাওয়ানো হয়। এরপর রাত ৮টার দিকে জরুরি সেবা নম্বরে ফোন করা হয়। প্রাথমিকভাবে অভিযুক্তরা দাবি করেছিলেন, ফোন করার ২০ মিনিট আগে শিশুটির হৃদস্পন্দন বন্ধ হয়ে যায়। তবে তদন্তকারীদের বিশ্বাস, তার মৃত্যু আরও আগেই হয়েছিল।   ময়নাতদন্ত ও তদন্ত প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, হেনরির শরীরে বিভিন্ন সময়ে সৃষ্ট আঘাতের চিহ্ন ছিল। এর আগে তার একটি হাত স্থানচ্যুত হয়েছিল এবং কয়েকটি দাঁতও ভেঙে পড়েছিল।   মামলাটি আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন সামনে নিয়ে এসেছে। আদালতের নথি অনুযায়ী, সামান্থা গারভার ২০১৩ সালেও শিশু নির্যাতনের একটি মামলায় দোষী সাব্যস্ত হয়েছিলেন। সেই মামলায় আদালতের নির্দেশনা পুরোপুরি পালন না করায় তার বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরেই গ্রেপ্তারি পরোয়ানা ছিল। তবুও পরবর্তী সময়ে তিনি কীভাবে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নজর এড়িয়ে যান এবং শিশু সুরক্ষা সংস্থার একাধিক অভিযোগের পরও কেন কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

মোহাম্মদ ইব্রাহিম জুলাই ২৯, ২০২৬ ১৪:০
জালিয়াতি ও আলামত ধ্বংসের অভিযোগে গ্রেপ্তার পার্ল রিভার কাউন্টির যাজকের স্ত্রী সাবরিনা ব্রাউন ও ছেলে ডসন ব্রাউন । ছবি: সংগৃহীত
যুক্তরাষ্ট্রে যাজকের বাড়িতেই কিশোরী ধর্ষণের শিকার, অন্তঃসত্ত্বা হওয়ার পর ধর্মযাজকের স্ত্রী ও ছেলে গ্রেপ্তার

যুক্তরাষ্ট্রের মিসিসিপি অঙ্গরাজ্যে এক চার্চের প্রধান যাজকের বাড়িতে আশ্রিত ১৪ বছর বয়সী এক নাবালিকা কিশোরীকে ধর্ষণ, নির্যাতন ও অন্তঃসত্ত্বা করার চাঞ্চল্যকর অভিযোগ উঠেছে ওই যাজকের ছেলের বিরুদ্ধে। শুধু তাই নয়, ঘটনা ধামাচাপা দিতে ও প্রমাণ লোপাটের চেষ্টার অভিযোগে গ্রেপ্তার করা হয়েছে যাজকের স্ত্রীকেও। ঘটনাটি প্রকাশ পাওয়ার পর স্থানীয় জনগোষ্ঠীর মধ্যে চরম ক্ষোভ ও চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।   স্থানীয় পুলিশ ও পার্ল রিভার কাউন্টি শেরিফ কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, অভিযুক্ত যুবকের নাম ডসন জেমস ব্রাউন (২৭)। তিনি পপলারভিল এলাকার 'নিউ হাইটস/কলেজ হাইটস ব্যাপটিস্ট চার্চ'-এর প্রধান যাজকের ছেলে। গত শুক্রবার পার্ল রিভার কাউন্টি শেরিফ কার্যালয়ের গোয়েন্দারা সুনির্দিষ্ট অভিযোগ ও গ্রেপ্তারি পরোয়ানার ভিত্তিতে ডসন ব্রাউন এবং তার মা সাবরিনা ব্রাউনকে (৫৪) গ্রেপ্তার করেন।   পুলিশ জানায়, ডসন ব্রাউনের বিরুদ্ধে সংবিধিবদ্ধ ধর্ষণ (স্ট্যাটিউটরি রেপ), দুই দফায় যৌন নির্যাতন এবং মানবপাচারের মতো গুরুতর অপরাধে মামলা দায়ের করা হয়েছে। অন্যদিকে তার মা সাবরিনা ব্রাউনের বিরুদ্ধে আলামত নষ্টের ষড়যন্ত্র, জালিয়াতি এবং একটি শিশুকে যৌন নির্যাতনের শিকার হতে জেনেও প্রশ্রয় দেওয়ার (চাইল্ড নেগলেক্ট) অভিযোগ আনা হয়েছে।   তদন্তকারীদের তথ্য অনুযায়ী, ভুক্তভোগী ১৪ বছর বয়সী কিশোরীটি যাজক পরিবারের সঙ্গেই তাদের বাড়িতে বসবাস করছিল। গত বছর অর্থাৎ ২০২৫ সালের অক্টোবর বা নভেম্বর মাসের দিকে যখন ওই কিশোরীর বয়স ১৩ বছর ছিল, তখন থেকেই তার ওপর নির্যাতন শুরু হয় এবং সে অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়ে। সম্প্রতি একটি অজ্ঞাত সূত্রের গোপন খবরের ভিত্তিতে পার্ল রিভার কাউন্টি পুলিশ বিষয়টি জানতে পারে এবং তাৎক্ষণিকভাবে তদন্ত শুরু করে।   তদন্ত চলাকালীন পুলিশ ডসন ব্রাউনের আইফোন বাজেয়াপ্ত করে তল্লাশি চালায়। আদালতের নথি থেকে জানা যায়, ডসনের মুঠোফোনে ভুক্তভোগী কিশোরীর সঙ্গে একাধিক আপত্তিকর ছবি ও ভিডিওচিত্র পাওয়া গেছে। এছাড়া কিশোরীটির অন্যান্য বৈদ্যুতিন বার্তা পর্যালোচনা করে নিশ্চিত হওয়া গেছে যে, অনাগত সন্তানের বাবা আর কেউ নন, বরং ডসন ব্রাউন নিজে। ভুক্তভোগীর মা-ও পুলিশকে জানিয়েছেন, ডসন সরাসরি তার কাছে নিজের অপরাধ স্বীকার করেছেন।   ঘটনাটি ধামাচাপা দিতে অভিযুক্তদের অপচেষ্টার বিষয়টিও আদালতের নথিতে উঠে এসেছে। পুলিশ জানায়, মামলা থেকে ছেলেকে বাঁচাতে সাবরিনা ব্রাউন ওই কিশোরীকে ভুয়া ডিএনএ নথি তৈরি ও জমা দেওয়ার জন্য চাপ ও প্ররোচনা দিয়েছিলেন। ডসন ও তার মায়ের খুদে বার্তা (টেক্সট মেসেজ) বিশ্লেষণ করে এই ষড়যন্ত্রের প্রমাণ পেয়েছে তদন্তকারী দল। এছাড়া ঘটনা গোপন রাখতে কিশোরীর পরিবারকে আর্থিক সুবিধা ও বিভিন্ন প্রলোভন দেওয়া হয়েছিল বলেও অভিযোগ রয়েছে।   গ্রেপ্তারের পর সাবরিনা ব্রাউন ১০ হাজার ডলারের মুচলেকায় জামিনে মুক্তি পেলেও ডসন ব্রাউনকে জামিনহীনভাবে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। পালিয়ে যাওয়ার ঝুঁকি থাকায় আদালত তাকে জামিন দেননি। স্থানীয় একটি আদালতে শিগগিরই এই মামলার প্রাথমিক শুনানি অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।

মোহাম্মদ ইব্রাহিম জুলাই ২১, ২০২৬ ১৪:০
ছবি: নিউইয়র্ক পোস্ট
যুক্তরাষ্ট্রের ওকলাহোমায় সৎ বাবার ধর্ষণে গর্ভবতী ১১ বছরের শিশু, সন্তান জন্ম দিতেও বাধ্য করল মা

যুক্তরাষ্ট্রের ওকলাহোমায় এক অমানবিক ও ভয়ংকর শিশু নির্যাতনের ঘটনা সামনে এসেছে। ১১ বছর বয়সী এক কিশোরীকে তার সৎ বাবার ক্রমাগত শারীরিক ও যৌন নির্যাতনের শিকার হতে দেওয়ার অপরাধে ৩৪ বছর বয়সী মা চেরি ওয়াকারকে দোষী সাব্যস্ত করেছে আদালত। শুধু নির্যাতন সহ্য করতে দেওয়াই নয়, ওই কিশোরীকে তাদের মলমূত্রে ভরা অত্যন্ত নোংরা একটি বাড়িতে চিকিৎসকের কোনো সাহায্য ছাড়াই সন্তান প্রসবে বাধ্য করেছিলেন ওই পাষণ্ড মা।   গত বছরের আগস্ট মাসে ওই কিশোরী সন্তান জন্ম দেওয়ার পর এই চাঞ্চল্যকর ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসে এবং পুলিশি তদন্ত শুরু হয়। সংবাদমাধ্যম এনবিসি নিউজের দেখা আদালতের নথিপত্র অনুযায়ী, ঘটনার শিকার ওই ১১ বছরের কিশোরী এবং তার পাঁচ ছোট ভাইবোনকে (যাদের বয়স যথাক্রমে ২, ৪, ৬, ৭ এবং ৯ বছর) অত্যন্ত শোচনীয় অবস্থায় উদ্ধার করা হয়। অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়, উদ্ধারের সময় শিশুদের গায়ে কোনো কাপড় ছিল না এবং তারা কুকুরের মলমূত্রে পূর্ণ একটি অস্বাস্থ্যকর ঘরে বসবাস করছিল। পরবর্তীতে ডিএনএ (DNA) পরীক্ষার মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া যায় যে, ১১ বছরের কিশোরীর জন্ম দেওয়া শিশুটির বাবা আসলে তারই সৎ বাবা ডাস্টিন ওয়াকার।   এই জঘন্য অপরাধের প্রমাণ মেলার পর ডাস্টিন ওয়াকারের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগগুলো আরও কঠোর করা হয়। গত মার্চ মাসে ডাস্টিন শিশু যৌন নির্যাতনের দায় স্বীকার করে নেন এবং আদালত তাকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড প্রদান করে। স্বামীর শাস্তির মাত্র দুই সপ্তাহ পর মা চেরি ওয়াকারকেও শিশু অবহেলা ও যৌন নির্যাতনে সহায়তা করার দায়ে দোষী সাব্যস্ত করা হয়। জুরি বোর্ড তার জন্যও যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের সুপারিশ করেছে।   মাসকোগি কাউন্টির সহকারী জেলা অ্যাটর্নি জ্যানেট হাটসন আবেগাপ্লুত হয়ে এটিকে তার কর্মজীবনের সবচেয়ে গুরুতর শিশু নির্যাতন ও অবহেলার মামলা হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন। তিনি জানান, মাত্র ১০-১১ বছর বয়সেই সৎ বাবার দ্বারা নির্যাতিত হয়ে গর্ভধারণ এবং কোনো চিকিৎসাসেবা ছাড়া নোংরা পরিবেশে সন্তান প্রসবের এই ঘটনাটি ওই শিশুর জন্য আজীবন এক গভীর ট্রমার কারণ হয়ে দাঁড়াবে। রাতের বেলা সামান্য এক গ্লাস পানি খাওয়ারও উপায় ছিল না যে বাড়িতে, সেখানেই দিনের পর দিন এমন পাশবিকতা চলেছে যা সভ্য সমাজকে নাড়িয়ে দিয়েছে।

ইসতিয়াক আহমেদ জুলাই ২০, ২০২৬ ১৪:০
সন্তানকে সুইমিংপুলে ডুবিয়ে হত্যাচেষ্টার অভিযোগে গ্রেপ্তার টেনেসির এক নারী। ছবি: সংগৃহীত
নিজের সন্তানকে সুইমিং পুলের পানিতে চুবিয়ে হত্যাচেষ্টা, মা গ্রেপ্তার

যুক্তরাষ্ট্রের টেনেসি অঙ্গরাজ্যে নিজের এক সন্তানকে বাড়ির পেছনের সুইমিংপুলে জোর করে পানির নিচে চেপে ধরে হত্যার চেষ্টা করার অভিযোগে এক নারীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় তার বিরুদ্ধে গুরুতর শিশু নির্যাতন ও অবহেলার অভিযোগ আনা হয়েছে।   ওয়াশিংটন কাউন্টি শেরিফস অফিস জানিয়েছে, গত ১৫ জুলাই বিকেল প্রায় ৫টার দিকে জনসন সিটির কোচরান রোডের একটি বাড়ি থেকে গোলযোগের খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে ছুটে যান আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা।   তদন্তে জানা যায়, ৩১ বছর বয়সী মিকাইলি রে বিয়ার্ন (Mikaylee Rae Beirne) বাড়ির পেছনের সুইমিংপুলে কয়েকজন শিশুর সঙ্গে ছিলেন। এ সময় বাড়ির ভেতরে আরেকজন প্রাপ্তবয়স্ক ব্যক্তি অবস্থান করছিলেন।   প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য অনুযায়ী, হঠাৎ এক শিশু দৌড়ে বাড়ির ভেতরে গিয়ে ওই প্রাপ্তবয়স্ক ব্যক্তিকে জানায় যে, বিয়ার্ন অপর এক শিশুকে জোর করে পানির নিচে চেপে ধরে রেখেছেন।   খবর পেয়ে ওই ব্যক্তি দ্রুত সুইমিংপুলে গিয়ে শিশুটিকে ছেড়ে দেওয়ার জন্য বিয়ার্নকে বলেন। তবে অভিযোগ অনুযায়ী, তিনি তাৎক্ষণিকভাবে শিশুটিকে ছাড়তে অস্বীকৃতি জানান।   পরে ওই প্রাপ্তবয়স্ক ব্যক্তি জোর করে বিয়ার্নকে সরিয়ে শিশুটিকে পানি থেকে উদ্ধার করেন। কিছুক্ষণ পর আরেকজন প্রাপ্তবয়স্ক ঘটনাস্থলে পৌঁছে বিয়ার্নের সঙ্গে সংক্ষিপ্তভাবে কথা বলেন। তবে পুলিশ পৌঁছানোর আগেই তিনি সেখান থেকে চলে যান।   পরে জরুরি সেবা কর্মীদের ডাকা হলে আহত শিশুটিকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, শিশুটির শরীরে সামান্য আঘাত ও কিছু স্থানে কালশিটে দাগ পাওয়া গেছে। সৌভাগ্যবশত, তার অবস্থা গুরুতর হয়নি।   ওয়াশিংটন কাউন্টি শেরিফস অফিসের সদস্যরা অল্প সময়ের মধ্যেই বিয়ার্নকে খুঁজে বের করে গ্রেপ্তার করেন। বর্তমানে তিনি ওয়াশিংটন কাউন্টি ডিটেনশন সেন্টারে আটক রয়েছেন। আদালত তার জামিনের পরিমাণ ৫০ হাজার মার্কিন ডলার নির্ধারণ করেছেন।   শেরিফ কিথ সেক্সটন বলেন, শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার। ঘটনার পূর্ণ কারণ ও পেছনের পরিস্থিতি জানতে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম ফক্স নিউজ জানিয়েছে, ঘটনাটি নিয়ে স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে। তদন্ত শেষ হলে প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হবে।

মোহাম্মদ ইব্রাহিম জুলাই ১৯, ২০২৬ ১৪:০
ঘটনার পর বাড়িটি ঘিরে তদন্ত চালায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। ছবি: সংগৃহীত
ওহাইওর একটি বাড়ির অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে থেকে ১৬ শিশু উদ্ধার, গ্রেপ্তার একই পরিবারের চার সদস্য

যুক্তরাষ্ট্রের ওহাইও অঙ্গরাজ্যে একটি বাড়ি থেকে অস্বাস্থ্যকর ও অমানবিক পরিবেশে বসবাসরত ১৬ শিশুকে উদ্ধারের ঘটনায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। তদন্তকারীরা জানিয়েছেন, অন্য একটি মামলায় গ্রেপ্তারি পরোয়ানা কার্যকর করতে গিয়ে তারা এই ঘটনার সন্ধান পান। পরে শিশুদের নিরাপত্তা বিঘ্নিত করার গুরুতর অভিযোগে একই পরিবারের চার সদস্যকে গ্রেপ্তার করা হয়।   ওহাইওর অ্যাটর্নি জেনারেল অ্যান্ডি উইলসন ঘটনাস্থলকে "প্রায় বর্ণনাতীত" এবং "চরম অমানবিক" বলে বর্ণনা করেছেন। তার ভাষায়, দীর্ঘ কর্মজীবনে শিশুদের জন্য এত খারাপ পরিবেশ খুব কমই দেখেছেন তিনি।   আদালতের নথি অনুযায়ী, ৩৬ বছর বয়সী গ্যারি সাইডার্স দ্বিতীয়ের বিরুদ্ধে অশোভন আচরণের একটি পৃথক মামলায় গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি হয়েছিল। অভিযোগ ছিল, মে মাসে তিনটি পৃথক ঘটনায় তিনি বাড়ির বাইরে পরিবারের বাইরের লোকজনের সামনে অশোভন আচরণ করেন। সেই পরোয়ানা কার্যকর করতে ৩০ জুন ভিনটন কাউন্টির হ্যামডেন এলাকার বাড়িটিতে যান শেরিফের কার্যালয়ের সদস্যরা।   বাড়িতে প্রবেশের পর পুলিশ দেখতে পায়, সেখানে মোট ১৬ শিশু বসবাস করছে। কর্মকর্তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, শিশুদের অনেকেই স্বাভাবিকভাবে কথা বলতে পারছিল না। ১৮ বছর বয়সী বড় মেয়েটির বিকাশজনিত সমস্যা রয়েছে এবং তিনি নিজের নামও লিখতে পারেন না বলে তদন্তে উঠে এসেছে।   ভিনটন কাউন্টির শেরিফ রায়ান কেইন বলেন, অভিযানে যাওয়ার আগে তারা জানতেনই না যে ওই বাড়িতে ১৬টি শিশু রয়েছে। ঘটনাস্থলের পরিবেশ এতটাই নোংরা ছিল যে, অনেক খামারের পশুও এর চেয়ে ভালো পরিবেশে রাখা হয় বলে মন্তব্য করেন তিনি।   তদন্তকারীদের দাবি, শিশুদের একটি প্রায় ১২ ফুট × ১২ ফুট আকারের ছোট কক্ষে দীর্ঘ সময় ধরে রাখা হতো। কক্ষটিতে মানববর্জ্যের উপস্থিতি ছিল এবং পুরো বাড়িটি অত্যন্ত জরাজীর্ণ অবস্থায় ছিল। প্রাথমিক তদন্তে ধারণা করা হচ্ছে, গত প্রায় চার বছর ধরে শিশুদের অধিকাংশ সময় ওই সংকীর্ণ জায়গায় থাকতে বাধ্য করা হয়েছে। তবে এই অভিযোগ এখনো আদালতে প্রমাণিত হয়নি।   তদন্তকারীরা আরও জানান, বাড়ির বিভিন্ন স্থানে খাবারের উচ্ছিষ্ট, পুরোনো আসবাব, টায়ার, কীটনাশকসহ নানা ধরনের জিনিসপত্র ছড়িয়ে-ছিটিয়ে ছিল। বাড়ির বাইরে শিশুদের খেলনা ও অন্যান্য সামগ্রীও অযত্নে পড়ে থাকতে দেখা যায়। ঘটনার পর পুলিশ গ্যারি সাইডার্স দ্বিতীয়, তার স্ত্রী এলিজাবেথ সাইডার্স (৩৩), গ্যারি সাইডার্স সিনিয়র (৭১) এবং ক্রিস্টিনা সাইডার্স (৬৬)-কে গ্রেপ্তার করে।   তদন্তে জানা গেছে, এলিজাবেথই ১৬ শিশুর মা। তার আইনজীবী জানিয়েছেন, ২০০৮ সালে মাত্র ১৫ বছর বয়সে তিনি গ্যারি সাইডার্স দ্বিতীয়কে বিয়ে করেন। আদালতের নথি অনুযায়ী, দম্পতির প্রথম সন্তানের জন্ম হয় বিয়ের প্রায় দুই মাস পর।   কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, উদ্ধার হওয়া শিশুদের কেউই স্কুলে ভর্তি ছিল না। তদন্তকারীদের ধারণা, পরিবারটি বিভিন্ন এলাকায় বসবাস করলেও সম্প্রতি হ্যামডেনে আসে। তাদের জীবনযাপন সম্পর্কে বাইরের মানুষের খুব কমই ধারণা ছিল।   পরিবারটির কয়েকজন দূরসম্পর্কের আত্মীয় স্থানীয় গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন, তারা এই পরিস্থিতির বিষয়ে কিছুই জানতেন না। সংবাদে ঘটনাটি জানার পর তারা বিস্ময় ও উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।   চার অভিযুক্তের বিরুদ্ধে ১৬টি করে দ্বিতীয় ডিগ্রির শিশু নিরাপত্তা বিঘ্নিত করার (ফেলনি চাইল্ড এন্ডেঞ্জারমেন্ট) অভিযোগ আনা হয়েছে। আদালতে তারা সবাই নিজেদের নির্দোষ দাবি করেছেন। প্রত্যেকের জন্য ৩ লাখ ডলার করে জামিন নির্ধারণ করা হয়েছে।   এদিকে, গ্যারি সাইডার্স দ্বিতীয়ের বিরুদ্ধে থাকা পৃথক অশোভন আচরণের মামলারও বিচারিক কার্যক্রম চলমান রয়েছে। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, উদ্ধার হওয়া শিশুদের চিকিৎসা, মানসিক সহায়তা এবং নিরাপদ আশ্রয়ের ব্যবস্থা করা হয়েছে। একই সঙ্গে ঘটনার সব দিক নিয়ে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।

মোহাম্মদ ইব্রাহিম জুলাই ৬, ২০২৬ ১৪:০
কোলাজ: আমেরিকা বাংলা
যুক্তরাষ্ট্রে মায়ের বিরুদ্ধে ২০ মাস বয়সী শিশুকে অনাহারে রেখে হত্যার অভিযোগ, তদন্তে পুলিশ

যুক্তরাষ্ট্রের মিসৌরি অঙ্গরাজ্যের সেন্ট লুইসে ২০ মাস বয়সী এক শিশুকন্যাকে চরম অপুষ্টিতে মৃত্যুর মুখে ঠেলে দেওয়ার অভিযোগে গ্রেপ্তার হয়েছেন তার মা। পুলিশ জানিয়েছে, শিশুটি প্রতিদিন মাত্র ২৫০ ক্যালরি খাবার পেত এবং মৃত্যুর সময় তার ওজন ছিল মাত্র ১০ পাউন্ড, যা ওই বয়সী শিশুর স্বাভাবিক ওজনের অর্ধেকেরও কম।   গ্রেপ্তার হওয়া নারীর নাম সওশা মায়ার্স (২৯)। গত সপ্তাহে তার বাসা থেকে দুই শিশুকে চরম অপুষ্ট অবস্থায় উদ্ধার করা হয়। মৃত শিশুকন্যা স্কাইকে উদ্ধার করার সময় তার শরীরে কোনো স্পন্দন ছিল না। দ্রুত হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন। আদালতে জমা দেওয়া অভিযোগপত্র অনুযায়ী, শিশুটির শরীরে বেডসোর ছিল এবং তার ওজন নেমে এসেছিল মাত্র ১০ পাউন্ডে।   একই বাসা থেকে উদ্ধার হওয়া স্কাইয়ের ৩ বছর বয়সী বোন স্টারের ওজন ছিল মাত্র ১৭ পাউন্ড। তাকে নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে ভর্তি করা হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, স্টারের শরীরে ‘লানুগো’ নামে পরিচিত নরম লোম গজাতে শুরু করেছিল। সাধারণত শরীরে পর্যাপ্ত চর্বি না থাকলে উষ্ণতা ধরে রাখার জন্য এমন শারীরিক পরিবর্তন দেখা যায়।   তদন্তকারীদের কাছে মায়ার্স স্বীকার করেছেন, শিশু দুটির একমাত্র পরিচর্যাকারী ছিলেন তিনি। তিনি জানতেন যে তাদের শারীরিক বিকাশ স্বাভাবিকভাবে হচ্ছে না। অভিযোগপত্রে বলা হয়েছে, এক বছরেরও বেশি সময় ধরে শিশু দুটিকে কোনো চিকিৎসকের কাছে নেওয়া হয়নি। পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, স্কাইকে মূলত দই, সবজির পিউরি ও ফলের প্যাকেটজাত খাবার খাওয়ানো হতো। তদন্তে দেখা গেছে, এসব খাবার থেকে সে দৈনিক প্রায় ২৫০ ক্যালরি পেত।   এদিকে অভিযুক্তের মা ড্রিয়াহ বস মিলন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত এক ভিডিওতে কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, প্রায় দুই বছর আগে হঠাৎ করেই পরিবারের সঙ্গে সব যোগাযোগ বন্ধ করে দেন তার মেয়ে। তিনি দাবি করেন, পরিবারের কেউ জানতেন না মায়ার্স কোথায় ছিলেন। ফোন, ই-মেইলসহ বিভিন্নভাবে যোগাযোগের চেষ্টা করেও কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি।   মিলনের ভাষ্য, তার মেয়ে সন্তানদের খুব ভালোবাসতেন এবং তিনি বিশ্বাস করেন না যে সুস্থ মানসিক অবস্থায় থেকে এমন কাজ করতে পারেন। তার ধারণা, মায়ার্স কোনো মানসিক সমস্যায় বা প্রসব-পরবর্তী বিষণ্নতায় ভুগছিলেন। তিনি আরও জানান, মায়ার্সের আগের সম্পর্কের তিন সন্তানকে করোনাভাইরাস মহামারির সময় শিশু সুরক্ষা কর্তৃপক্ষ (সিপিএস) তার কাছ থেকে নিয়ে যায়। বর্তমানে ওই তিন শিশু তাদের নানীর কাছেই বসবাস করছে।   পুলিশ জানিয়েছে, সওশা মায়ার্সের বিরুদ্ধে শিশু নির্যাতনের দুটি অভিযোগ আনা হয়েছে। তাকে জামিন ছাড়াই আটক রাখা হয়েছে। অন্যদিকে মৃত শিশুর মরদেহের দাফন-সংক্রান্ত দায়িত্ব এবং হাসপাতালে চিকিৎসাধীন তিন বছর বয়সী শিশুটির অভিভাবকত্ব পাওয়ার জন্য সরকারি সংস্থাগুলোর সঙ্গে কাজ করছেন তার নানী।

Unknown জুন ২১, ২০২৬ ১৪:০
জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

Top week

২০২৬ সালের তালিকায় এগিয়ে যে ৫ স্টেট

যুক্তরাষ্ট্রের কোন স্টেট এ বাংলাদেশিদের জীবন সবচেয়ে স্বস্তির? ২০২৬ সালের তালিকায় এগিয়ে যে ৫ স্টেট

নীলুফা নিশাত আগস্ট ১, ২০২৬ ১৪:০