যুক্তরাষ্ট্রের মিসিসিপি অঙ্গরাজ্যে এক চার্চের প্রধান যাজকের বাড়িতে আশ্রিত ১৪ বছর বয়সী এক নাবালিকা কিশোরীকে ধর্ষণ, নির্যাতন ও অন্তঃসত্ত্বা করার চাঞ্চল্যকর অভিযোগ উঠেছে ওই যাজকের ছেলের বিরুদ্ধে। শুধু তাই নয়, ঘটনা ধামাচাপা দিতে ও প্রমাণ লোপাটের চেষ্টার অভিযোগে গ্রেপ্তার করা হয়েছে যাজকের স্ত্রীকেও। ঘটনাটি প্রকাশ পাওয়ার পর স্থানীয় জনগোষ্ঠীর মধ্যে চরম ক্ষোভ ও চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
স্থানীয় পুলিশ ও পার্ল রিভার কাউন্টি শেরিফ কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, অভিযুক্ত যুবকের নাম ডসন জেমস ব্রাউন (২৭)। তিনি পপলারভিল এলাকার 'নিউ হাইটস/কলেজ হাইটস ব্যাপটিস্ট চার্চ'-এর প্রধান যাজকের ছেলে। গত শুক্রবার পার্ল রিভার কাউন্টি শেরিফ কার্যালয়ের গোয়েন্দারা সুনির্দিষ্ট অভিযোগ ও গ্রেপ্তারি পরোয়ানার ভিত্তিতে ডসন ব্রাউন এবং তার মা সাবরিনা ব্রাউনকে (৫৪) গ্রেপ্তার করেন।
পুলিশ জানায়, ডসন ব্রাউনের বিরুদ্ধে সংবিধিবদ্ধ ধর্ষণ (স্ট্যাটিউটরি রেপ), দুই দফায় যৌন নির্যাতন এবং মানবপাচারের মতো গুরুতর অপরাধে মামলা দায়ের করা হয়েছে। অন্যদিকে তার মা সাবরিনা ব্রাউনের বিরুদ্ধে আলামত নষ্টের ষড়যন্ত্র, জালিয়াতি এবং একটি শিশুকে যৌন নির্যাতনের শিকার হতে জেনেও প্রশ্রয় দেওয়ার (চাইল্ড নেগলেক্ট) অভিযোগ আনা হয়েছে।
তদন্তকারীদের তথ্য অনুযায়ী, ভুক্তভোগী ১৪ বছর বয়সী কিশোরীটি যাজক পরিবারের সঙ্গেই তাদের বাড়িতে বসবাস করছিল। গত বছর অর্থাৎ ২০২৫ সালের অক্টোবর বা নভেম্বর মাসের দিকে যখন ওই কিশোরীর বয়স ১৩ বছর ছিল, তখন থেকেই তার ওপর নির্যাতন শুরু হয় এবং সে অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়ে। সম্প্রতি একটি অজ্ঞাত সূত্রের গোপন খবরের ভিত্তিতে পার্ল রিভার কাউন্টি পুলিশ বিষয়টি জানতে পারে এবং তাৎক্ষণিকভাবে তদন্ত শুরু করে।
তদন্ত চলাকালীন পুলিশ ডসন ব্রাউনের আইফোন বাজেয়াপ্ত করে তল্লাশি চালায়। আদালতের নথি থেকে জানা যায়, ডসনের মুঠোফোনে ভুক্তভোগী কিশোরীর সঙ্গে একাধিক আপত্তিকর ছবি ও ভিডিওচিত্র পাওয়া গেছে। এছাড়া কিশোরীটির অন্যান্য বৈদ্যুতিন বার্তা পর্যালোচনা করে নিশ্চিত হওয়া গেছে যে, অনাগত সন্তানের বাবা আর কেউ নন, বরং ডসন ব্রাউন নিজে। ভুক্তভোগীর মা-ও পুলিশকে জানিয়েছেন, ডসন সরাসরি তার কাছে নিজের অপরাধ স্বীকার করেছেন।
ঘটনাটি ধামাচাপা দিতে অভিযুক্তদের অপচেষ্টার বিষয়টিও আদালতের নথিতে উঠে এসেছে। পুলিশ জানায়, মামলা থেকে ছেলেকে বাঁচাতে সাবরিনা ব্রাউন ওই কিশোরীকে ভুয়া ডিএনএ নথি তৈরি ও জমা দেওয়ার জন্য চাপ ও প্ররোচনা দিয়েছিলেন। ডসন ও তার মায়ের খুদে বার্তা (টেক্সট মেসেজ) বিশ্লেষণ করে এই ষড়যন্ত্রের প্রমাণ পেয়েছে তদন্তকারী দল। এছাড়া ঘটনা গোপন রাখতে কিশোরীর পরিবারকে আর্থিক সুবিধা ও বিভিন্ন প্রলোভন দেওয়া হয়েছিল বলেও অভিযোগ রয়েছে।
গ্রেপ্তারের পর সাবরিনা ব্রাউন ১০ হাজার ডলারের মুচলেকায় জামিনে মুক্তি পেলেও ডসন ব্রাউনকে জামিনহীনভাবে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। পালিয়ে যাওয়ার ঝুঁকি থাকায় আদালত তাকে জামিন দেননি। স্থানীয় একটি আদালতে শিগগিরই এই মামলার প্রাথমিক শুনানি অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
বাংলাদেশের আবাসন শিল্পে এক নতুন ইতিহাস রচিত হলো। রাজধানীর তেজগাঁও শিল্প এলাকায় নির্মিত দেশের প্রথম ৪০ তলা বিশিষ্ট আকাশচুম্বী বাণিজ্যিক ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করেছে শান্তা হোল্ডিংস। ৫০০ ফুট উচ্চতার এই আইকনিক ভবনটি এখন দেশের সর্বোচ্চ সম্পন্ন হওয়া ইমারত। গত শনিবার (১৮ এপ্রিল) ভবনের ৪০তম তলায় আয়োজিত এক আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এটি হস্তান্তর করা হয়। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের চেয়ারম্যান খন্দকার মনির উদ্দিন, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, স্থপতি এহসান খানসহ প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, ভূমি মালিক এবং গ্রাহকরা উপস্থিত ছিলেন। স্থাপত্যশৈলী ও আধুনিক প্রযুক্তি:‘শান্তা পিনাকল’ শুধুমাত্র উচ্চতার কারণেই অনন্য নয়, বরং এটি আধুনিক নির্মাণশৈলী ও প্রযুক্তির এক অনন্য সমন্বয়। এটি বাংলাদেশের প্রথম ভবন যা পরিবেশবান্ধব স্থাপত্যের জন্য আন্তর্জাতিক ‘লিড প্ল্যাটিনাম’ (LEED Platinum) স্বীকৃতি পেয়েছে। সিঙ্গাপুরভিত্তিক বিখ্যাত ইঞ্জিনিয়ারিং প্রতিষ্ঠান ‘মেইনহার্ট’ (Meinhardt) এর সহায়তায় ভবনটির স্ট্রাকচারাল ডিজাইন এবং ভূমিকম্প প্রতিরোধক ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে। বিশেষ বৈশিষ্ট্যসমূহ: উন্নত লিফট ব্যবস্থা: ভবনটিতে রয়েছে ৮টি দ্রুতগামী লিফট, যা প্রতি সেকেন্ডে ৪ মিটার উচ্চতায় উঠতে সক্ষম। এটি দেশের দ্রুততম ভার্টিক্যাল ট্রান্সপোর্ট ব্যবস্থা। পরিবেশ ও সুরক্ষা: ভবনে ব্যবহৃত হয়েছে ৩৬ মিমি পুরুত্বের ডাবল গ্লেজড গ্লাস, যা তাপ ও শব্দ নিরোধক। এছাড়া এটি দেশের প্রথম ‘উইন্ড টানেল টেস্ট’ করা ভবন, যা প্রতিকূল আবহাওয়ায় এর স্থায়িত্ব নিশ্চিত করে। আইবিএমএস প্রযুক্তি: পুরো ভবনটি একটি ইন্টেলিজেন্ট বিল্ডিং ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (iBMS) দ্বারা পরিচালিত, যা সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা ও জ্বালানি সাশ্রয় নিশ্চিত করবে। অগ্নি নিরাপত্তা: আন্তর্জাতিক এনএফপিএ (NFPA) স্ট্যান্ডার্ড অনুসরণ করে এখানে অত্যাধুনিক অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা স্থাপন করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর দেশের রিয়েল এস্টেট খাতের সক্ষমতার এক বড় প্রমাণ। এটি শুধুমাত্র তেজগাঁও নয়, বরং পুরো ঢাকার বাণিজ্যিক পরিবেশকে বিশ্বমানের স্তরে নিয়ে যাবে। দেশের ইতিহাসে প্রথমবার অ্যালুমিনিয়াম ফর্মওয়ার্ক ব্যবহারের মাধ্যমে মাত্র সাত দিনে এক একটি তলার ছাদ ঢালাইয়ের রেকর্ড গড়ে এই প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। ঢাকার আকাশসীমায় নতুন এই ল্যান্ডমার্ক দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং আধুনিক নগরায়নের এক শক্তিশালী প্রতীক হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে।
ইরানের সাম্প্রতিক হামলায় নিহত তৃতীয় মার্কিন সেনার পরিচয় প্রকাশ করেছে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা দপ্তর পেন্টাগন। নিহত সেনা হলেন ২৮ বছর বয়সী সার্জেন্ট অ্যাঞ্জেল এস. র্যাম্পারসাড, নিউইয়র্কের ওজোন পার্কের বাসিন্দা। জর্ডানের মুওয়াফফাক সালতি বিমানঘাঁটিতে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার পর তিনি নিখোঁজ ছিলেন। পরে সেনাবাহিনী জানায়, তাকে মৃত বলে ধারণা করা হচ্ছে। এই ঘোষণার মধ্য দিয়ে চলমান সংঘাতে ইরানের হামলায় নিহত মার্কিন সেনার সংখ্যা বেড়ে ১৮ জনে পৌঁছেছে। পেন্টাগনের তথ্য অনুযায়ী, র্যাম্পারসাড জার্মানিভিত্তিক ১০ম আর্মি এয়ার অ্যান্ড মিসাইল ডিফেন্স কমান্ডের অধীনে কর্মরত ছিলেন। একই ইউনিটে দায়িত্ব পালন করতেন নিহত আরেক সেনা প্রাইভেট ইসাবেলা গনজালেসও। এর আগে পেন্টাগন জর্ডানের ওই হামলায় নিহত আরও দুই সেনার পরিচয় প্রকাশ করেছিল। তারা হলেন ২৫ বছর বয়সী ফার্স্ট লেফটেন্যান্ট টাইলার জেমস ফিহান এবং ১৯ বছর বয়সী প্রাইভেট ইসাবেলা গনজালেস। দুজনই ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলায় নিহত হন। এদিকে একই সপ্তাহান্তে ইরাকের এরবিল বিমানঘাঁটিতে ভূপাতিত একটি ইরানি ড্রোনের অবিস্ফোরিত অংশ নিয়ন্ত্রিতভাবে ধ্বংস করার সময় আরও এক মার্কিন সেনা, সার্জেন্ট মাইকেল ইমানুয়েল সুইন্টন নিহত হন। ওই ঘটনায় আরেক সেনা সামান্য আহত হন। সুইন্টনের মৃত্যুর ঘটনাটি আলাদা একটি সামরিক অভিযানে ঘটলেও সেটিও একই সপ্তাহান্তের সংঘাতের অংশ হিসেবে নিশ্চিত করেছে পেন্টাগন। যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড জানিয়েছে, জর্ডানে মোতায়েন সেনারা ইসলামিক স্টেটবিরোধী অভিযানে অংশ নেওয়ার জন্য সেখানে অবস্থান করছিলেন। হামলার পর ঘটনাস্থল থেকে উদ্ধার হওয়া মরদেহের অবশিষ্টাংশ পরীক্ষা-নিরীক্ষার ভিত্তিতেই র্যাম্পারসাডকে নিহত হিসেবে শনাক্ত করা হয়েছে। ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চলমান সামরিক উত্তেজনার মধ্যে মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থানরত মার্কিন বাহিনীর ওপর একাধিক হামলা হয়েছে। পেন্টাগনের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, এসব হামলায় প্রায় ১০০ মার্কিন সেনা আহত হয়েছেন, যদিও তাদের অধিকাংশ চিকিৎসা শেষে আবার দায়িত্বে ফিরে গেছেন।
যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে ওয়ালমার্টের গ্রাহকদের লক্ষ্য করে নতুন ধরনের একটি ফোনভিত্তিক প্রতারণার ঘটনা ছড়িয়ে পড়েছে। ভুয়া স্বয়ংক্রিয় ফোনকলের মাধ্যমে গ্রাহকদের জানানো হচ্ছে, তাদের নামে ওয়ালমার্ট অ্যাকাউন্ট ব্যবহার করে ৯১৯ দশমিক ৪৫ ডলারের একটি কেনাকাটা হয়েছে। মূল উদ্দেশ্য হলো ভয় দেখিয়ে ব্যক্তিগত ও ব্যাংকিং তথ্য হাতিয়ে নেওয়া। ভোক্তা সুরক্ষা বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, প্রতারকরা স্বয়ংক্রিয় কণ্ঠে একটি বার্তা শোনায়। সেখানে দাবি করা হয়, গ্রাহকের নামে একটি প্লেস্টেশন ৫ এবং একটি থ্রিডি হেডসেট কেনা হয়েছে, যার মূল্য ৯১৯ দশমিক ৪৫ মার্কিন ডলার। বার্তায় আরও বলা হয়, যদি গ্রাহক এই কেনাকাটা না করে থাকেন, তাহলে অর্ডার বাতিল করতে নির্দিষ্ট একটি নম্বর চাপতে বা একই নম্বরে দ্রুত যোগাযোগ করতে হবে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বার্তার উদ্দেশ্য হলো বড় অঙ্কের অর্থের কথা বলে আতঙ্ক সৃষ্টি করা, যাতে গ্রাহক তাড়াহুড়ো করে প্রতারকদের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল কমিউনিকেশনস কমিশন (FCC) আগেই এ ধরনের প্রতারণা সম্পর্কে সতর্ক করেছিল। সংস্থাটির মতে, ফোনে যোগাযোগ করার পর প্রতারকরা নিজেদের ওয়ালমার্টের সহায়তা কেন্দ্রের প্রতিনিধি পরিচয় দিয়ে ব্যাংক হিসাব, ক্রেডিট কার্ডের তথ্য বা অন্যান্য ব্যক্তিগত তথ্য সংগ্রহের চেষ্টা করে। এছাড়া নিউ জার্সি সাইবার সিকিউরিটি অ্যান্ড কমিউনিকেশনস ইন্টিগ্রেশন সেল (NJCCIC) ২০২৫ সালের এক সতর্কবার্তায় জানায়, অনেক ক্ষেত্রে প্রতারকরা অর্ডার বাতিল বা অর্থ ফেরতের কথা বলে ভুক্তভোগীর মোবাইল ফোন বা কম্পিউটারে দূর থেকে প্রবেশাধিকার (রিমোট অ্যাকসেস) চায়। সাইবার নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞদের ভাষ্য, কেউ যদি এমন প্রবেশাধিকার দিয়ে দেন, তাহলে প্রতারকরা ক্ষতিকর সফটওয়্যার ইনস্টল করতে, ব্যক্তিগত তথ্য চুরি করতে বা পরে অর্থ দাবি করে ব্ল্যাকমেইল করতেও পারে। কিছু ক্ষেত্রে ভুয়া অর্থ ফেরতের অজুহাতে উপহার কার্ড কিনতেও বলা হয়। প্রতারণার এই কৌশল নতুন নয়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম রেডিট-এ কয়েক বছর ধরেই একই ধরনের ফোনকল পাওয়ার অভিজ্ঞতা শেয়ার করেছেন অনেক ব্যবহারকারী। ২০২৪ সালের একটি পোস্টে এক ব্যক্তি জানান, তার বয়স্ক বাবা প্রায় এই প্রতারণার শিকার হতে বসেছিলেন। তিনি অন্যদেরও পরিবারের প্রবীণ সদস্যদের এ ধরনের ফোনকল সম্পর্কে সচেতন রাখার পরামর্শ দেন। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এ ধরনের ফোনকল পেলে কখনোই আতঙ্কিত হয়ে কলব্যাক করা উচিত নয়। কোনো প্রতিষ্ঠানের নামে সন্দেহজনক কেনাকাটার দাবি করা হলে, প্রথমে ওই প্রতিষ্ঠানের অফিসিয়াল ওয়েবসাইট বা মোবাইল অ্যাপ ব্যবহার করে নিজের অ্যাকাউন্টে লগইন করে তথ্য যাচাই করা উচিত। ওয়ালমার্টের ক্ষেত্রেও গ্রাহকদের সরাসরি নিজেদের অ্যাকাউন্টে প্রবেশ করে কেনাকাটার ইতিহাস পরীক্ষা করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি সন্দেহজনক ফোনকল, বার্তা বা ই-মেইলে দেওয়া নম্বর বা লিংক ব্যবহার না করার আহ্বান জানিয়েছেন সাইবার নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞরা। বিশেষজ্ঞদের মতে, অনলাইন ও টেলিফোনভিত্তিক প্রতারণা দ্রুত বাড়ছে। তাই ব্যক্তিগত তথ্য, ব্যাংক হিসাবের বিবরণ, একবার ব্যবহারযোগ্য পাসকোড (ওটিপি) কিংবা কোনো ধরনের দূরবর্তী প্রবেশাধিকার অপরিচিত ব্যক্তির কাছে না দেওয়াই সবচেয়ে নিরাপদ উপায়।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন বুলেটিনে পারিবারিক ভিত্তিতে গ্রিন কার্ডের আবেদনকারীদের জন্য বড় ধরনের ইতিবাচক অগ্রগতির খবর এসেছে। তবে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ডের অপেক্ষায় থাকা অনেক আবেদনকারীর জন্য পরিস্থিতি আরও জটিল হওয়ার ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে ভারতীয় আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে ইবি-১ (EB-1) ক্যাটাগরিও আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যে সাময়িকভাবে বন্ধ হয়ে যেতে পারে বলে সতর্ক করেছে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর। আগস্টের ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, F2A ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছে। এই ক্যাটাগরি যুক্তরাষ্ট্রে বৈধ স্থায়ী বাসিন্দা (গ্রিন কার্ডধারী) ব্যক্তিদের স্বামী বা স্ত্রী এবং ২১ বছরের কম বয়সী অবিবাহিত সন্তানদের জন্য প্রযোজ্য। জুলাই মাসে যেখানে F2A ক্যাটাগরির ফাইনাল অ্যাকশন ডেট ছিল ২০২৫ সালের জানুয়ারি, সেখানে আগস্টে তা এগিয়ে ২০২৬ সালের ২২ জুলাই হয়েছে। এর ফলে এই ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে এবং অনেক আবেদনকারীর গ্রিন কার্ড প্রক্রিয়া দ্রুত এগোনোর সুযোগ তৈরি হয়েছে। অন্যদিকে, কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ডের আবেদনকারীদের জন্য তেমন কোনো ইতিবাচক পরিবর্তন আসেনি। বরং অর্থবছরের শেষের দিকে ভিসার বার্ষিক কোটা পূরণ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কায় নতুন করে সতর্কবার্তা দিয়েছে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর। পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, ভারতীয় আবেদনকারীদের ইবি-১ ক্যাটাগরিতে আবেদন এবং ভিসা ব্যবহারের হার অত্যন্ত বেশি। ফলে চলতি অর্থবছর শেষ হওয়ার আগেই দেশভিত্তিক বরাদ্দ পূর্ণ হয়ে গেলে আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যে এই ক্যাটাগরিকে "অনুপলব্ধ" (Unavailable) ঘোষণা করা হতে পারে। পরিস্থিতি নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে এবং প্রয়োজন অনুযায়ী পরিবর্তন আনা হবে। এছাড়া ইবি-২ (EB-2) ক্যাটাগরিতেও চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় ভবিষ্যতে ফাইনাল অ্যাকশন ডেট আরও পিছিয়ে যেতে পারে অথবা ক্যাটাগরিটি সাময়িকভাবে বন্ধ করে দেওয়া হতে পারে বলে জানানো হয়েছে। বর্তমানে ভারতীয় আবেদনকারীদের জন্য ইবি-২ এবং ইবি-৫ (অনির্ধারিত অংশ) ক্যাটাগরি ইতোমধ্যেই অনুপলব্ধ রয়েছে। আগস্ট ভিসা বুলেটিনে ভারতের জন্য কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ডের সর্বশেষ ফাইনাল অ্যাকশন ডেট হলো: ইবি-১: ১৫ অক্টোবর ২০২২ ইবি-২: অনুপলব্ধ ইবি-৩: ১ জানুয়ারি ২০১৪ ইবি-৪: ১৫ অক্টোবর ২০২২ ইবি-৫: অনুপলব্ধ মার্কিন ভিসা বুলেটিন প্রতি মাসে প্রকাশ করা হয়। এতে জানানো হয়, কোন ক্যাটাগরির আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ড বা অভিবাসী ভিসার চূড়ান্ত অনুমোদনের জন্য যোগ্য হয়েছেন। যাদের প্রায়োরিটি ডেট বুলেটিনে উল্লেখিত ফাইনাল অ্যাকশন ডেটের আগের, তারাই সাধারণত পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারেন। অভিবাসন বিশেষজ্ঞদের মতে, পারিবারিক ক্যাটাগরিতে অগ্রগতি যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বাসিন্দাদের পরিবারের সদস্যদের জন্য ইতিবাচক হলেও, কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ডের দীর্ঘ অপেক্ষায় থাকা হাজারো দক্ষ পেশাজীবীর অনিশ্চয়তা এখনো কাটেনি। বিশেষ করে ভারতীয় আবেদনকারীদের জন্য আগামী কয়েক মাস পরিস্থিতি আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।