সাপ্তাহিক আমেরিকা বাংলা ই-পেপার

সাউথ ক্যারোলিনা

সাউথ ক্যারোলিনায় বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের বর্ণিল মিলনমেলা
২৮ নতুন মুখ, ১৫০ অতিথি, সাউথ ক্যারোলিনায় বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের বর্ণিল মিলনমেলা

যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অব সাউথ ক্যারোলিনায় বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের সংগঠন বাংলাদেশ স্টুডেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের আয়োজনে অনুষ্ঠিত হয়েছে ফ্রেশার্স রিসেপশন ও বার্ষিক সাধারণ সভা ২০২৬। কলাম্বিয়ার গিবসন পন্ড পার্কে আয়োজিত দিনব্যাপী এ অনুষ্ঠানে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী, শিক্ষক, পরিবার এবং স্থানীয় বাংলাদেশি কমিউনিটির সদস্যসহ প্রায় ১৫০ জন নিবন্ধিত অতিথি অংশ নেন। এবারের আয়োজনের অন্যতম প্রধান আকর্ষণ ছিল নতুন ভর্তি হওয়া ২৮ জন বাংলাদেশি শিক্ষার্থীকে আনুষ্ঠানিকভাবে স্বাগত জানানো।   ইউনিভার্সিটি অব সাউথ ক্যারোলিনার বাংলাদেশ স্টুডেন্ট অ্যাসোসিয়েশনটি বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের প্রতিনিধিত্বকারী একটি অলাভজনক ও অরাজনৈতিক ছাত্র সংগঠন। বিশ্ববিদ্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, সংগঠনটির ৬০ জনের বেশি শিক্ষার্থী সদস্য রয়েছে এবং বাংলাদেশি সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য সাউথ ক্যারোলিনার বৃহত্তর কমিউনিটির কাছে তুলে ধরাও সংগঠনটির অন্যতম উদ্দেশ্য।   গিবসন পন্ড পার্কে বাংলাদেশের জাতীয় পতাকা উড়িয়ে শুরু হয় এবারের আয়োজন। অতিথিদের স্বাগত জানানো হয় গরম সবজি সিঙ্গারা দিয়ে। এরপর দীর্ঘদিনের বন্ধুদের সঙ্গে দেখা করা, নতুনদের সঙ্গে পরিচিত হওয়া এবং পার্কের পুকুর, বোর্ডওয়াক, হাঁটার পথ ও সবুজ পরিবেশ ঘুরে দেখার মধ্য দিয়ে সময় কাটান অংশগ্রহণকারীরা।   দুপুরে পরিবেশন করা হয় ঐতিহ্যবাহী বাংলাদেশি খাবার। পোলাও, চিকেন রোস্ট, মিশ্র সবজি, ডিম ও সালাদসহ নানা পদ নিয়ে আয়োজিত মধ্যাহ্নভোজে একসঙ্গে বসেন শিক্ষার্থী, শিক্ষক, পরিবার ও কমিউনিটির সদস্যরা। খাবারের পাশাপাশি বিভিন্ন খেলাধুলার আয়োজন থাকায় পুরো অনুষ্ঠানজুড়ে ছিল উৎসবমুখর পরিবেশ।   আয়োজনে দম্পতিদের জন্য বেলুন রেস, পুরুষদের জন্য মার্বেল রেস, নারীদের জন্য পিলো পাসিং এবং শিশুদের জন্য বিস্কুট রেস অনুষ্ঠিত হয়। প্রতিযোগিতাগুলো ঘিরে অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ দেখা যায়। খেলায় অংশ নেওয়া ও অন্যদের উৎসাহ দেওয়ার মধ্য দিয়ে বিভিন্ন প্রজন্মের বাংলাদেশিদের মধ্যে তৈরি হয় প্রাণবন্ত যোগাযোগ।   সাংস্কৃতিক পর্বেও ছিল বৈচিত্র্য। নতুন যোগ দেওয়া শিক্ষার্থী ঐশী জ্যোতির পরিবেশনার পর বাবা-ছেলের জুটি আনন্দ ও তাহমিদ ভাই সংগীত পরিবেশন করেন। গান ও সাংস্কৃতিক পরিবেশনার মধ্য দিয়ে বাংলাদেশি ঐতিহ্য ও কমিউনিটির বন্ধনের আবহ আরও প্রাণবন্ত হয়ে ওঠে।   অনুষ্ঠানের সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণ অংশ ছিল ২০২৬ সালের নতুন ২৮ শিক্ষার্থীকে আনুষ্ঠানিকভাবে স্বাগত জানানো। বাংলাদেশ স্টুডেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক অরুণাভ দাস নবাগতদের উদ্দেশে একটি বিশেষ কবিতা রচনা করেন এবং অনুষ্ঠানে তা আবৃত্তি করেন। নতুন শিক্ষার্থীদের ইউনিভার্সিটি অব সাউথ ক্যারোলিনা, কলাম্বিয়া এবং বাংলাদেশি শিক্ষার্থী কমিউনিটির নতুন পরিবারের অংশ হিসেবে স্বাগত জানানোর এই আয়োজন উপস্থিতদের কাছে বিশেষ গুরুত্ব পায়।   এরপর বাংলাদেশ স্টুডেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের ফ্যাকাল্টি অ্যাডভাইজার রফিকুল ইসলাম রানা নবাগত শিক্ষার্থীদের প্রত্যেককে উপহার দিয়ে স্বাগত জানান। নতুন শিক্ষার্থীরাও একে একে নিজেদের পরিচয় দেন এবং কলাম্বিয়ার বৃহত্তর বাংলাদেশি কমিউনিটির সঙ্গে পরিচিত হন। আয়োজকদের আশা, এই পরিচয়পর্বের মাধ্যমে নতুন শিক্ষার্থীদের মধ্যে বন্ধুত্ব, পারস্পরিক সহযোগিতা এবং কমিউনিটির সঙ্গে সম্পৃক্ততার ভিত্তি আরও শক্ত হবে।   বার্ষিক সাধারণ সভায় বাংলাদেশ স্টুডেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি তাহরিমা মোহসিন মোহনা ২০২৬-২০২৭ মেয়াদের নতুন নির্বাহী কমিটির পরিচয় করিয়ে দেন। একই সঙ্গে তিনি সংগঠনের গত এক বছরের বিভিন্ন কার্যক্রমের কথা তুলে ধরেন এবং আগামী বছরেও কমিউনিটির সদস্যদের নিয়মিত ও সক্রিয়ভাবে সংগঠনের কার্যক্রমে অংশ নেওয়ার আহ্বান জানান।   অনুষ্ঠানের শেষদিকে ছিল র‍্যাফেল ড্র। এ বছর মোট ১৫টি র‍্যাফেল পুরস্কারের ব্যবস্থা করা হয়, যেখানে আগের বছরগুলোতে পুরস্কারের সংখ্যা ছিল ১০টি। পাশাপাশি এবার যুক্ত করা হয় দুটি বিশেষ পুরস্কার। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে নিবন্ধন সম্পন্ন করা অংশগ্রহণকারীদের মধ্য থেকে লটারির মাধ্যমে দেওয়া হয় একটি রেজিস্ট্রেশন ডোর প্রাইজ। এ ছাড়া নবাগত শিক্ষার্থীদের পরিচিতিমূলক কার্যক্রমের অংশ হিসেবে সবচেয়ে বেশি র‍্যাফেল টিকিট বিক্রি করা ফ্রেশারকেও দেওয়া হয় বিশেষ পুরস্কার।   আয়োজকদের মতে, ফ্রেশার্স রিসেপশন ও বার্ষিক সাধারণ সভার মূল লক্ষ্য ছিল নতুন শিক্ষার্থীদের স্বাগত জানানোর পাশাপাশি পুরোনো ও নতুন প্রজন্মের বাংলাদেশিদের মধ্যে সম্পর্ক আরও দৃঢ় করা। বাংলাদেশি খাবার, সংগীত, খেলাধুলা ও সাংস্কৃতিক পরিবেশনার মধ্য দিয়ে দিনটি হয়ে ওঠে পারস্পরিক যোগাযোগ ও কমিউনিটি বন্ধনের একটি বিশেষ আয়োজন।   ইউনিভার্সিটি অব সাউথ ক্যারোলিনার বাংলাদেশ স্টুডেন্ট অ্যাসোসিয়েশন জানিয়েছে, অনুষ্ঠানের পেছনে যারা পরিকল্পনা, স্বেচ্ছাসেবা, রান্না, খাবার পরিবেশন, সাংস্কৃতিক পরিবেশনা, ছবি তোলা এবং অন্যান্য সাংগঠনিক কাজে সময় দিয়েছেন, তাদের সম্মিলিত প্রচেষ্টাতেই আয়োজনটি সফল হয়েছে। নতুন শিক্ষার্থীদের জন্য ক্যাম্পাস ও কলাম্বিয়ায় একটি পরিচিত ও আপন পরিবেশ তৈরির ক্ষেত্রেও এ ধরনের আয়োজন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।   বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য নতুন শিক্ষাবর্ষের শুরুতে আয়োজিত এই মিলনমেলা শুধু ফ্রেশার্স সংবর্ধনা বা বার্ষিক সভার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকেনি। পুরোনো বন্ধুদের পুনর্মিলন, নতুনদের সঙ্গে পরিচয়, বাংলাদেশি সংস্কৃতির উদযাপন এবং কমিউনিটির পারস্পরিক বন্ধন দৃঢ় করার মধ্য দিয়ে দিনটি হয়ে উঠেছে সাউথ ক্যারোলিনার বাংলাদেশি শিক্ষার্থী ও কমিউনিটির জন্য একটি স্মরণীয় আয়োজন।

বায়জিদ হাসান অক্টোবর ৩, ২০২৬ ১৪:০ 0
দুই শিশুর মৃত্যুর ঘটনায় অভিযুক্ত জাস্টিন মেরি মে। ছবি: সংগৃহীত
যুক্তরাষ্ট্রে খাবার না দিয়ে দুই কন্যাশিশুকে হত্যার অভিযোগ, গ্রেপ্তার মা

যুক্তরাষ্ট্রের সাউথ ক্যারোলিনা অঙ্গরাজ্যে একটি বাড়ি থেকে তিন বছরের কম বয়সী দুই শিশুর মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় তাদের মায়ের বিরুদ্ধে অবহেলাজনিত হত্যার অভিযোগ আনা হয়েছে। অভিযুক্ত ৩১ বছর বয়সী জাস্টিন মেরি মে। গত মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) চার্লসটনের কাছে ল্যাডসন এলাকার একটি বাড়িতে শিশু দুটির মরদেহ পাওয়া যায়। ঘটনার আগে পরিবারের সদস্যরা কয়েক সপ্তাহ ধরে কর্তৃপক্ষের কাছে সাহায্য চেয়েছিলেন বলে জানিয়েছেন। এ ঘটনায় শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আগে কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছিল কি না, তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।   চার্লসটন কাউন্টি শেরিফ কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, মঙ্গলবার দুপুর ১টার কিছু পর ল্যাডসনের পাইনউড ড্রাইভের একটি বাড়িতে বাসিন্দাদের খোঁজখবর নিতে যান পুলিশ সদস্যরা। সেখানে গিয়ে তারা দুই শিশুকে মৃত অবস্থায় পান। পরে বাড়ির মালিক জাস্টিন মেরি মেকে আটক করা হয়। তার বিরুদ্ধে শিশুদের প্রতি অবহেলার মাধ্যমে মৃত্যুর কারণ হওয়ার অভিযোগে দুটি মামলা করা হয়েছে। স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, তিনি বর্তমানে চার্লসটন কাউন্টির আল ক্যানন ডিটেনশন সেন্টারে রয়েছেন।    কর্তৃপক্ষ আনুষ্ঠানিকভাবে শিশু দুটির পরিচয় প্রকাশ করেনি। তবে পরিবারের সদস্যরা আটলান্টার সাংবাদিক কোডি অ্যালকর্নকে জানিয়েছেন, তাদের নাম এমোরি ও হারলো। দুজনের বয়সই তিন বছরের কম। নিউজউইকের পর্যালোচনা করা সম্পত্তির নথি অনুযায়ী, পাইনউড ড্রাইভের বাড়িটির মালিক ছিলেন জাস্টিন এবং তার স্বামী হিসেবে নথিতে উল্লেখ থাকা ৩৫ বছর বয়সী এক ব্যক্তি।   সাউথ ক্যারোলিনাভিত্তিক সংবাদমাধ্যম ফিটসনিউজের হাতে আসা আদালতের প্রাথমিক নথিতে শিশুদের মৃত্যুর পরিস্থিতি সম্পর্কে আরও কিছু তথ্য উঠে এসেছে। ওই নথির বরাতে সংবাদমাধ্যমটি জানিয়েছে, তদন্তকারীদের কাছে জাস্টিন বলেছেন, আগের দুই সপ্তাহের ঘটনা তার কাছে অস্পষ্ট মনে হচ্ছিল। শেষ কবে দুই মেয়েকে খাবার বা পানি দিয়েছিলেন, সেটিও তিনি মনে করতে পারছিলেন না বলে নথিতে উল্লেখ রয়েছে। তবে এসব তথ্য এখনো আদালতে প্রমাণিত হয়নি।    ফিটসনিউজের প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, জাস্টিন তদন্তকারীদের কাছে শিশুদের খাবার না পাওয়ার কারণে মৃত্যু হয়ে থাকতে পারে বলে ধারণা প্রকাশ করেন। সন্তানদের যথাযথ খাবার না দেওয়া অবহেলার শামিল বলেও তিনি স্বীকার করেছেন বলে আদালতের নথিতে উল্লেখ রয়েছে। তদন্তকারীদের কাছে তিনি নিজেকে শিশু দুটির একমাত্র দেখাশোনাকারী হিসেবে পরিচয় দেন এবং মৃত্যুর আগের কয়েক সপ্তাহে বাড়িতে অন্য কেউ ছিলেন না বলে জানান। এসব বক্তব্যের সত্যতা ও মৃত্যুর সঙ্গে সংশ্লিষ্টতা তদন্তের বিষয়।   প্রাথমিক নথি অনুযায়ী, ২৯ সেপ্টেম্বর পুলিশ সদস্যরা বাড়িতে পৌঁছানোর পর জাস্টিনকে বাইরে কান্নারত অবস্থায় দেখতে পান। সে সময় তার কথাবার্তা অসংলগ্ন ছিল বলে তদন্তকারীরা উল্লেখ করেছেন। পরে বাড়ির ভেতরে প্রবেশ করে দুই শিশুর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। নথিতে আরও উল্লেখ রয়েছে, এর আগেও ওই বাড়ির বাসিন্দাদের খোঁজখবর নিতে পুলিশকে সেখানে যেতে হয়েছিল। তবে পূর্ববর্তী ঘটনাগুলোতে ঠিক কী পাওয়া গিয়েছিল, তা বিস্তারিত জানা যায়নি।    পরিবারের সদস্যদের বক্তব্য অনুযায়ী, ঘটনার প্রায় দেড় থেকে দুই মাস আগে জাস্টিনের আচরণে বড় ধরনের পরিবর্তন দেখা যায়। এর আগে দীর্ঘদিন তার আচরণ স্বাভাবিক ছিল বলে তারা জানিয়েছেন। পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বিগ্ন হয়ে স্বজনেরা সাউথ ক্যারোলিনার সমাজসেবা বিভাগে যোগাযোগ করেন। পাশাপাশি পুলিশকে বাড়িতে গিয়ে খোঁজ নিতে বলেন এবং জরুরি মানসিক স্বাস্থ্য সহায়তাকারী দলের সহযোগিতাও চান।   পরিবারের দাবি, তাদের উদ্বেগ যথাযথ গুরুত্ব পায়নি। একপর্যায়ে ছোট মেয়ে হারলোর শরীরে গুরুতর ফুসকুড়ি দেখা যাচ্ছে বলে ধারণা পাওয়া একটি ছবি দেখে স্বজনেরা আরও উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েন। মৃত্যুর প্রায় এক মাস আগে জাস্টিন পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে যোগাযোগ বন্ধ করে দিয়েছিলেন বলেও তারা জানিয়েছেন। শিশু দুটির মরদেহ উদ্ধারের এক দিন আগে জাস্টিনের মা স্থানীয় পুলিশপ্রধানকে ইমেইল করে পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ জানিয়েছিলেন বলে পরিবারের দাবি।   এসব বক্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে মৃত্যুর আগে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কী কী তথ্য পেয়েছিল এবং সেগুলোর ভিত্তিতে কী ব্যবস্থা নিয়েছিল, তা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। তবে পরিবারের অভিযোগের বিষয়ে সমাজসেবা বিভাগ বা অন্য সংশ্লিষ্ট সংস্থার পূর্ণাঙ্গ ব্যাখ্যা প্রতিবেদনে পাওয়া যায়নি। জাস্টিনের আচরণ পরিবর্তনের কারণ সম্পর্কেও কোনো চিকিৎসাগত তথ্য প্রকাশ করা হয়নি। ফলে তার মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে নিশ্চিত কোনো সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর সুযোগ নেই।   এদিকে তদন্তকারীরা অভিযোগ করেছেন, শিশুদের পর্যাপ্ত খাবার ও পানীয় না দেওয়ার ঘটনা তাদের মৃত্যুর সঙ্গে সম্পর্কিত। তবে ফিটসনিউজের প্রকাশিত প্রাথমিক নথিতে ময়নাতদন্তের ফলাফল বা মৃত্যুর আনুষ্ঠানিক কারণ উল্লেখ করা হয়নি। চার্লসটন কাউন্টির করোনার কার্যালয়ও প্রাথমিক পর্যায়ে শিশুদের পরিচয় ও মৃত্যুর কারণ আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করেনি।    বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) জাস্টিন তার জামিনসংক্রান্ত শুনানির অধিকার ছেড়ে দেন। ফলে তিনি আপাতত হেফাজতেই থাকছেন। স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, আগামী ২০ নভেম্বর তার প্রাথমিক আদালতে হাজিরার দিন নির্ধারণ করা হয়েছে। তিনি কোনো আইনজীবী নিয়োগ করেছেন কি না, তা তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।    সাউথ ক্যারোলিনার আইনে শিশু নির্যাতন বা অবহেলার ফলে মৃত্যু ঘটানোর অপরাধে কঠোর শাস্তির বিধান রয়েছে। চলতি বছরের মার্চে কার্যকর হওয়া সংশোধিত আইন অনুযায়ী, ১৮ বছরের কম বয়সী কোনো শিশুর মৃত্যু নির্যাতন বা অবহেলার ফলে ঘটলে এবং সংশ্লিষ্ট অপরাধ প্রমাণিত হলে সরাসরি দায়ী ব্যক্তির সর্বনিম্ন ২০ বছরের কারাদণ্ড থেকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড পর্যন্ত হতে পারে। তবে জাস্টিনের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের ক্ষেত্রে কোন সাজা প্রযোজ্য হবে, তা বিচারিক প্রক্রিয়া ও আদালতের সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করবে।    যুক্তরাষ্ট্রে সাম্প্রতিক সময়ে শিশুদের মৃত্যুর ঘটনায় মায়ের বিরুদ্ধে মামলা হওয়ার আরও কয়েকটি ঘটনা আলোচনায় এসেছে। ম্যাসাচুসেটস অঙ্গরাজ্যে ২০২৩ সালে তিন সন্তানকে হত্যার অভিযোগে লিন্ডসে ক্ল্যান্সির বিরুদ্ধে মামলা হয়। তার আইনজীবীরা ঘটনার সময় গুরুতর প্রসব-পরবর্তী মানসিক অসুস্থতার যুক্তি তুলে ধরেন। অন্যদিকে প্রসিকিউটররা তার ফৌজদারি দায় রয়েছে বলে অবস্থান নেন। সেপ্টেম্বরে ওই মামলায় বিচারকমণ্ডলী সর্বসম্মত সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে না পারায় বিচারক বিচারপ্রক্রিয়া বাতিল ঘোষণা করেন ইলিনয় অঙ্গরাজ্যেও দুই বছরের এক শিশুর মৃত্যুর ঘটনায় তার মা কোরি ওয়ালশের বিরুদ্ধে মামলা চলছে। ওই মামলায়ও মানসিক স্বাস্থ্যসংক্রান্ত যুক্তি আদালতে তোলা হয়েছে। তবে জাস্টিন মেরি মের মামলায় এখন পর্যন্ত কোনো নির্দিষ্ট মানসিক রোগের তথ্য প্রকাশ করা হয়নি। ফলে পৃথক মামলাগুলোর পরিস্থিতিকে এক করে দেখার সুযোগ নেই।   ল্যাডসনের ঘটনায় বিশেষভাবে আলোচনায় এসেছে পরিবারের আগাম সতর্কবার্তা। স্বজনদের বক্তব্য অনুযায়ী, তারা শিশু দুটির নিরাপত্তা নিয়ে একাধিকবার উদ্বেগ প্রকাশ করেছিলেন। তদন্তের পাশাপাশি এসব যোগাযোগের নথি এবং সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর পদক্ষেপও পর্যালোচনা করা হবে কি না, তা এখনো স্পষ্ট নয়।   দুই শিশুর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ, মৃত্যুর আগের পরিস্থিতি এবং কারও অবহেলা আইনগতভাবে প্রমাণিত হয় কি না, তা নির্ধারণে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে। আদালতের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত না হওয়া পর্যন্ত জাস্টিন মেরি মে অভিযুক্ত হিসেবেই বিবেচিত হবেন।   সূত্র: নিউজউইক, ফিটসনিউজ।

মোহাম্মদ ইব্রাহিম সেপ্টেম্বর ৩০, ২০২৬ ১৪:০ 0
শিক্ষার্থীদের সাহায্য করতে স্কুল ছুটির পর ওয়ালমার্টে রাতভর কাজ করতেন সাউথ ক্যারোলিনার এক হাইস্কুলের প্রিন্সিপাল। ছবি: সংগৃহীত
অসহায় শিক্ষার্থীদের অভাব মেটাতে রাতে ওয়ালমার্টে চাকরি, পুরো বেতন বিলিয়ে দিতেন স্কুলের প্রিন্সিপাল

যুক্তরাষ্ট্রের সাউথ ক্যারোলিনার একটি হাইস্কুলের প্রিন্সিপাল। দিনের বড় একটি সময় কাটত স্কুলের শিক্ষার্থীদের নিয়ে। কিন্তু স্কুল ছুটির পর বিশ্রামে না গিয়ে রাত ১০টায় হাজির হতেন ওয়ালমার্টে। রাতভর শেলফে পণ্য সাজিয়ে সকাল ৭টা পর্যন্ত কাজ করতেন। সেই চাকরি থেকে পাওয়া অর্থ নিজের জন্য নয়, খরচ করতেন আর্থিক সংকটে থাকা শিক্ষার্থী ও তাদের পরিবারের জন্য।   মানবিক এই উদ্যোগের পেছনের মানুষটি হেনরি ডারবি। ঘটনাটি ২০২১ সালে ব্যাপক আলোচনায় আসে। সে সময় তিনি সাউথ ক্যারোলিনার নর্থ চার্লসটন হাইস্কুলের প্রিন্সিপাল ছিলেন। শিক্ষার্থীদের পরিবারের আর্থিক দুর্দশা কাছ থেকে দেখেই অতিরিক্ত চাকরি করার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন তিনি।   ডারবি জানতে পেরেছিলেন, তার স্কুলের কিছু শিক্ষার্থী ও তাদের পরিবার খাবার, বাসাভাড়া, বিদ্যুৎ ও পানির বিলসহ দৈনন্দিন প্রয়োজন মেটাতে হিমশিম খাচ্ছেন। এমনকি কোনো কোনো শিক্ষার্থীর স্থায়ীভাবে থাকার জায়গাও ছিল না। স্কুল ডিস্ট্রিক্টের প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, তিনি এমন পরিবারের পাশে দাঁড়াতে নিজের অর্থও ব্যয় করতেন।   একপর্যায়ে ডারবি সিদ্ধান্ত নেন, সহায়তার পরিমাণ বাড়াতে হলে তাকে বাড়তি আয় করতে হবে। তাই স্থানীয় একটি ওয়ালমার্টে রাতের শিফটে কাজ নেন। সপ্তাহে তিন রাত রাত ১০টা থেকে সকাল ৭টা পর্যন্ত সেখানে শেলফে পণ্য সাজানোর কাজ করতেন তিনি।   রাতের শিফট শেষ করেই আবার স্কুলে ফিরতেন ডারবি। অর্থাৎ যে সময়টুকু তার ঘুম ও বিশ্রামের জন্য থাকার কথা, সেই সময়ের বড় অংশই চলে যেত দ্বিতীয় কর্মস্থলে।   ওয়ালমার্ট থেকে পাওয়া অর্থ তিনি প্রয়োজন থাকা শিক্ষার্থী ও তাদের পরিবারের সহায়তায় ব্যবহার করতেন। কারও বিল পরিশোধ, কারও খাবার কিংবা অন্য জরুরি খরচে সেই অর্থ কাজে লাগত।   প্রথমদিকে বিষয়টি গোপনই রাখতে চেয়েছিলেন ডারবি। কিন্তু ওয়ালমার্টে কাজ করার প্রথম রাতেই এক শিক্ষার্থী তাকে চিনে ফেলেন। এরপর ধীরে ধীরে তার এই উদ্যোগের কথা ছড়িয়ে পড়ে।   ঘটনাটি সংবাদমাধ্যমে প্রকাশ হওয়ার পর দেশজুড়ে ব্যাপক সাড়া পড়ে। ডারবির উদ্যোগে অনুপ্রাণিত হয়ে বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানও শিক্ষার্থীদের সহায়তায় এগিয়ে আসে।   সবচেয়ে বড় চমকটি আসে ওয়ালমার্টের কাছ থেকে। কেন একজন স্কুল প্রিন্সিপাল রাতভর তাদের স্টোরে কাজ করছেন, সেই কারণ জানার পর প্রতিষ্ঠানটি নর্থ চার্লসটন হাইস্কুলকে ৫০ হাজার ডলার অনুদান দেয়। ২০২১ সালের ২৯ জানুয়ারি জাতীয় টেলিভিশনে ডারবির হাতে সেই অনুদান তুলে দেওয়া হয়।   শুধু ওয়ালমার্ট নয়, ডারবির উদ্যোগের কথা ছড়িয়ে পড়ার পর সাধারণ মানুষের কাছ থেকেও বিপুল অর্থ সহায়তা আসে। স্কুল ডিস্ট্রিক্ট জানিয়েছিল, তার উদ্যোগের ফলে স্কুলের সিনিয়র শিক্ষার্থীদের জন্য নতুন স্কলারশিপও তৈরি হয়।   ডারবির এই কাজের স্বীকৃতি আসে সাউথ ক্যারোলিনা রাজ্য থেকেও। ২০২১ সালের ফেব্রুয়ারিতে গভর্নর হেনরি ম্যাকমাস্টার তাকে রাজ্যের সর্বোচ্চ বেসামরিক সম্মান ‘অর্ডার অব দ্য পালমেটো’ প্রদান করেন।   এত সহায়তা পাওয়ার পরও ডারবি তখন জানিয়েছিলেন, তিনি ওয়ালমার্টের চাকরি ছেড়ে দিতে চান না। কারণ তার কাছে এই কাজ প্রচারের জন্য নয়, বরং প্রয়োজনের সময় শিক্ষার্থী ও তাদের পরিবারের পাশে দাঁড়ানোর একটি উপায়।

তাবাস্সুম আগস্ট ১৭, ২০২৬ ১৪:০ 0
নববধূ সামান্থা মিলারের মৃত্যুর ঘটনায় দণ্ডিত জেমি কোমোরোস্কির নতুন ভিডিও প্রকাশ করেছে কর্তৃপক্ষ। ছবি: সংগৃহীত
বিয়ের কয়েক ঘণ্টা পর কনেকে হত্যা, তিন বছর পর প্রকাশ্যে এলো অভিযুক্তের নতুন ভিডিও

যুক্তরাষ্ট্রের সাউথ ক্যারোলিনায় বিয়ের কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই এক নববধূর প্রাণহানির ঘটনায় দণ্ডিত নারী চালক জেমি কোমোরোস্কিকে (Jamie Komoroski) নিয়ে নতুন ভিডিও প্রকাশ করা হয়েছে। ভিডিওগুলোতে দুর্ঘটনার পর পুলিশের হেফাজতে থাকা অবস্থায় তার আচরণ এবং মদ্যপানের মাত্রা পরীক্ষায় অস্বীকৃতি জানানোর বিষয়টি উঠে এসেছে।   স্থানীয় সংবাদমাধ্যম ডব্লিউসিএসসি (WCSC) ও গ্রে নিউজের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৩ সালের ২৮ এপ্রিল রাত প্রায় ১০টার দিকে সাউথ ক্যারোলিনার ফলি বিচ এলাকায় এই দুর্ঘটনা ঘটে। তদন্তে জানা যায়, ২৫ বছর বয়সী জেমি কোমোরোস্কি ঘণ্টায় প্রায় ৬৫ মাইল গতিতে গাড়ি চালিয়ে একটি গলফকার্টের পেছনে সজোরে ধাক্কা দেন। ওই গলফকার্টে ছিলেন সদ্য বিবাহিত সামান্থা মিলার, তার স্বামী এরিক হাচিনসন এবং পরিবারের আরও দুই সদস্য।   দুর্ঘটনায় ঘটনাস্থলেই সামান্থা মিলারের মৃত্যু হয়। গুরুতর আহত হন তার স্বামী এরিক হাচিনসন এবং পরিবারের আরও দুই সদস্য। বিয়ের অনুষ্ঠান শেষে স্বজনরা নবদম্পতিকে ভাড়ার বাসায় পৌঁছে দিতে গলফকার্টে করে নিয়ে যাচ্ছিলেন, তখনই মর্মান্তিক এই দুর্ঘটনা ঘটে। সম্প্রতি প্রকাশিত ভিডিওতে দেখা যায়, আটক হওয়ার পর কোমোরোস্কি বারবার কর্তব্যরত পুলিশ কর্মকর্তার কাছে তার বাবাকে ফোন করার অনুমতি চাইছেন। একই সঙ্গে তিনি বারবার শ্বাসের মাধ্যমে অ্যালকোহলের মাত্রা (ব্রেথালাইজার) পরীক্ষায় অংশ নিতে অস্বীকৃতি জানান।   পরে তাকে মেডিকেল ইউনিভার্সিটি অব সাউথ ক্যারোলিনায় নেওয়া হয়। সেখানে রক্তের নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষার জন্য সাউথ ক্যারোলাইনা ল' এনফোর্সমেন্ট ডিভিশনে পাঠানো হয়। পরীক্ষায় তার রক্তে অ্যালকোহলের মাত্রা পাওয়া যায় ০.২৬১ শতাংশ, যা যুক্তরাষ্ট্রে আইনগতভাবে অনুমোদিত সীমার তিন গুণেরও বেশি।   তদন্ত নথি অনুযায়ী, দুর্ঘটনার পর কোমোরোস্কি পুলিশকে জানান, ঘটনার প্রায় এক ঘণ্টা আগে তিনি একটি বিয়ার এবং টেকিলা মিশ্রিত একটি পানীয় পান করেছিলেন। নিজেকে কতটা স্বাভাবিক মনে হচ্ছে এমন প্রশ্নের উত্তরে ১ থেকে ১০-এর স্কেলে তিনি নিজের অবস্থান '৮' বলে উল্লেখ করেন। ওই স্কেলে ১ মানে সম্পূর্ণ স্বাভাবিক এবং ১০ মানে সর্বোচ্চ মাত্রায় মদ্যপ অবস্থায় থাকা।   দুর্ঘটনার দুই বছর পর সামান্থার স্বামী এরিক হাচিনসন কোমোরোস্কির বিরুদ্ধে একটি দেওয়ানি মামলা দায়ের করেন। মামলায় অভিযোগ করা হয়, দুর্ঘটনার দিন কোমোরোস্কি বিভিন্ন বারে ঘুরে ঘুরে মদ্যপান করেছিলেন এবং সংশ্লিষ্ট কয়েকটি প্রতিষ্ঠান দায়িত্বশীলভাবে অ্যালকোহল পরিবেশন করেনি। মামলায় বটল ক্যাপ হোল্ডিংস এলএলসি, এল গায়ো বার অ্যান্ড গ্রিল, স্ন্যাপার জ্যাকস, দ্য ক্র্যাব শ্যাক এবং দ্য ড্রপ-ইন বারের নাম অন্তর্ভুক্ত করা হয়।   তবে 'টাকো বয়' নামে একটি প্রতিষ্ঠানকে পরে মামলার বাইরে রাখা হয়। প্রতিষ্ঠানটির দাবি ছিল, দুর্ঘটনার দিন কোমোরোস্কি সেখানে প্রবেশই করেননি। যদিও মামলায় উল্লেখ করা হয়েছিল, ওই প্রতিষ্ঠানের কর্মী হিসেবে তিনি সেদিন একটি কর্মসূচিতে অংশ নিয়েছিলেন, যেখানে অতিরিক্ত মদ্যপান হয়েছিল। ফৌজদারি মামলায় দোষ স্বীকার করার পর কোমোরোস্কিকে গুরুতর মদ্যপ অবস্থায় গাড়ি চালিয়ে মৃত্যু ঘটানো, গুরুতর শারীরিক ক্ষতির কারণ হওয়া এবং বেপরোয়া হত্যাকাণ্ডসহ একাধিক অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত করা হয়। আদালত তাকে ২৫ বছরের কারাদণ্ড দেন।   সাম্প্রতিক ভিডিও প্রকাশের পর যুক্তরাষ্ট্রে আবারও মদ্যপ অবস্থায় গাড়ি চালানোর ঝুঁকি এবং সড়ক নিরাপত্তা নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ঘটনা মনে করিয়ে দেয় যে, অ্যালকোহলের প্রভাবে গাড়ি চালানো শুধু চালকের জন্য নয়, নিরীহ মানুষের জীবনও মুহূর্তের মধ্যে কেড়ে নিতে পারে।

মোহাম্মদ ইব্রাহিম আগস্ট ৭, ২০২৬ ১৪:০ 0
জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

প্রাণীর সঙ্গে যৌন কর্মকাণ্ডের অভিযোগে গ্রেপ্তার বুয়েটের সাবেক শিক্ষার্থী ও সাউথ ফ্লোরিডা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক

যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডা অঙ্গরাজ্যে প্রাণীর সঙ্গে যৌন কর্মকাণ্ডের ছবি বা ভিডিও ধারণ, বিতরণ ও সংরক্ষণের অভিযোগে গ্রেপ্তার হয়েছেন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত রায়ান আবদুল বাতেন। তিনি বাংলাদেশের বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) তড়িৎ ও ইলেকট্রনিক প্রকৌশল বিভাগের সাবেক শিক্ষার্থী এবং যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অব সাউথ ফ্লোরিডার সহকারী অধ্যাপক।   হিলসবরো কাউন্টি শেরিফের কার্যালয়ের সরকারি ওয়েবসাইটে প্রকাশিত গ্রেপ্তারসংক্রান্ত তথ্য অনুযায়ী, গত ২৮ অক্টোবর ২০২৬ তারিখে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়। প্রকাশিত রেকর্ডে তাঁর বিরুদ্ধে ‘Film, Distribute, or Possess Image or Video of Sexual Activity with an Animal’ শীর্ষক অভিযোগ উল্লেখ করা হয়েছে। অর্থাৎ, প্রাণীর সঙ্গে যৌন কর্মকাণ্ডের ছবি বা ভিডিও ধারণ, বিতরণ কিংবা নিজের কাছে রাখার অভিযোগে তাঁকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে।   গ্রেপ্তারসংক্রান্ত সরকারি রেকর্ড প্রকাশের পর বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। বিশেষ করে বুয়েটের সাবেক শিক্ষার্থী এবং যুক্তরাষ্ট্রের একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী অধ্যাপক হিসেবে তাঁর পরিচয়ের কারণে ঘটনাটি নিয়ে প্রবাসী বাংলাদেশিদের মধ্যেও আলোচনা তৈরি হয়েছে।   এদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রাণীটির পরিচয় সম্পর্কে বিভিন্ন দাবি ছড়িয়ে পড়লেও হিলসবরো কাউন্টি শেরিফের কার্যালয়ের প্রকাশিত গ্রেপ্তারসংক্রান্ত তথ্যে নির্দিষ্ট কোনো প্রাণীর নাম উল্লেখ করা হয়নি। ফলে ছাগলের সঙ্গে যৌন কর্মকাণ্ডের যে দাবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে করা হচ্ছে, তা স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।   তথ্যসূত্র: হিলসবরো কাউন্টি শেরিফের কার্যালয় (Hillsborough County Sheriff’s Office), ফ্লোরিডা।

Top week

যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অব সাউথ ফ্লোরিডার সহকারী অধ্যাপক রাইয়ান আবদুল বাতেন। গ্রাফিক্স: আমেরিকা বাংলা

প্রাণীর সঙ্গে যৌন কর্মকাণ্ডের অভিযোগে গ্রেপ্তার বুয়েটের সাবেক শিক্ষার্থী ও সাউথ ফ্লোরিডা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক

নভেম্বর ২, ২০২৬ ১৩:০