সাপ্তাহিক আমেরিকা বাংলা ই-পেপার

স্থাপত্য

২০৫০ সালে আমেরিকার শহরগুলোতে পরিবেশবান্ধব এবং সাশ্রয়ী বহুতল ভবনের আধিক্য দেখা যাবে। গ্রাফিক্স: আমেরিকা বাংলা
২০৫০ সালে বদলে যাবে যুক্তরাষ্ট্রের বাড়িঘর, রোবটে তৈরি হবে শহর, স্বয়ংক্রিয় হবে বাড়ি

২০৫০ সালের মধ্যে রোবট দিয়ে পুরো একটি সম্প্রদায় বা শহরের কাঠামো তৈরি করা সম্ভব হতে পারে। ভবিষ্যতে চালকবিহীন গাড়ি এবং রোবটের সাহায্যে তৈরি টেকসই বহুতল ভবনের ওপর ভিত্তি করেই গড়ে উঠবে শহরের আবাসন ব্যবস্থা। সম্প্রতি বিশ্ব স্থাপত্য দিবস উপলক্ষে মার্কিন সংবাদমাধ্যম নিউজউইককে দেওয়া সাক্ষাৎকারে এমনটাই জানিয়েছেন শীর্ষস্থানীয় স্থপতিরা। জাতিসংঘের মতে, বিশ্বজুড়ে এখনো প্রায় ৩৪০ কোটি মানুষের নিরাপদ ও পর্যাপ্ত আবাসনের অভাব রয়েছে। তাই আবাসন সংকট মেটাতে ভবিষ্যতের বাড়িঘরগুলোতে বড় ধরনের পরিবর্তন আসতে যাচ্ছে।   স্থপতিদের মতে, ভবিষ্যতে একক পরিবারের জন্য তৈরি আলাদা বাড়ির ধারণা ধীরে ধীরে হারিয়ে যাবে। জাতিসংঘের তথ্য অনুযায়ী, ২০৫০ সালের মধ্যে বিশ্বের মোট জনসংখ্যার দুই-তৃতীয়াংশ মানুষ শহরে বসবাস করবে। স্থপতি জেমস সাইসাকর্ন জানান, ক্রমবর্ধমান জনসংখ্যার এই চাপ সামলাতে ব্যক্তিগত জমিতে একক পরিবারের জন্য বাড়ি নির্মাণ মোটেও টেকসই কোনো সমাধান নয়। এর পরিবর্তে বহুতল ভবন এবং মিশ্র ব্যবহারের ওপর জোর দিতে হবে। জমির সীমাবদ্ধতা, নির্মাণ ব্যয় এবং দক্ষ শ্রমিকের অভাবে একক বাড়ি নির্মাণ করা কঠিন হয়ে পড়বে বলে মনে করেন স্থপতি মাইলস স্মিথ।   এই পরিবর্তনের ফলে যুক্তরাষ্ট্রে পুনরায় ছোট শহরতলী বা মিসিং মিডল ঘরানার আবাসন ব্যবস্থা ফিরে আসবে বলে মনে করেন স্থপতি ক্লারা ওয়াইনবার্গ। বড় ব্যক্তিগত উঠানের পরিবর্তে এই ব্যবস্থায় এমন ছোট ছোট বাড়ি বা টাউনহাউস তৈরি করা হবে, যা দেখতে বাড়ির মতোই মনে হবে তবে সেখানে ঘনত্ব বেশি থাকবে। এর ফলে বাড়তি জায়গাগুলো সবার ব্যবহারের জন্য সবুজ পার্ক বা সামাজিক মিলনমেলায় পরিণত করা সম্ভব হবে। স্থপতি বেন ওয়ানও মনে করেন যে, সঠিক নীতিমালার মাধ্যমে মাঝারি আকারের বহুতল ভবন নির্মাণের পথ সুগম হলে তা ভবিষ্যতে প্রাণবন্ত কমিউনিটি গড়ে তুলতে সাহায্য করবে।   জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলায় ২০৫০ সালের বাড়িঘরগুলোতেও বড় ধরনের প্রযুক্তিগত পরিবর্তন আসবে। স্থপতি ড্যানিয়েল বাউম্যান জানান, ভবিষ্যতের বাড়িগুলোকে তীব্র গরম, ভারী বৃষ্টিপাত এবং বন্যার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ সহ্য করার উপযোগী করে তুলতে হবে। একই সঙ্গে এসব বাড়িতে পানি ও বিদ্যুতের ব্যবহার অনেক কমিয়ে আনতে হবে। স্থপতি স্কট স্পেক্ট মনে করেন, ভবিষ্যতের বাড়িগুলো নিজেদের প্রয়োজনীয় বিদ্যুতের বেশিরভাগ নিজেরাই উৎপাদন ও সংরক্ষণ করতে পারবে। তারা বিদ্যুৎ গ্রিডের ওপর কেবল জরুরি ব্যাকআপ হিসেবে নির্ভর করবে।   পরিবেশবান্ধব বাড়ি নির্মাণের ক্ষেত্রে ভবিষ্যতের স্থপতিরা কংক্রিটের চেয়ে কাঠ ও প্রকৃতির ওপর বেশি নির্ভরশীল হবেন। কংক্রিটের তুলনায় কাঠ কম তাপ ধরে রাখে এবং পরিবেশের ভারসাম্য বজায় রাখতে সাহায্য করে। থ্রিডি প্রিন্টিংয়ের চেয়ে ক্রস-ল্যামিনেটেড টিম্বার বা বিশেষ ধরনের কাঠ ভবিষ্যতে প্রধান নির্মাণ সামগ্রী হিসেবে ব্যাপক জনপ্রিয়তা পাবে বলে ধারণা করছেন জেমস সাইসাকর্ন। এই ধরনের কাঠের প্যানেলগুলো অত্যন্ত মজবুত, দ্রুত স্থাপনযোগ্য এবং টেকসই হয়। এছাড়া প্রাকৃতিক আলো-বাতাস চলাচলের ব্যবস্থা থাকায় কৃত্রিম শীতাতপ নিয়ন্ত্রণের ওপর নির্ভরতাও উল্লেখযোগ্য হারে কমে আসবে।   ভবিষ্যতের শহরগুলো গাড়িকেন্দ্রিক না হয়ে মানুষকেন্দ্রিক হবে বলে জানিয়েছেন স্থপতি ক্লারা ওয়াইনবার্গ। চালকবিহীন স্বয়ংক্রিয় গাড়ি ভবিষ্যতের যোগাযোগ ব্যবস্থায় বড় পরিবর্তন আনবে। এর ফলে স্থপতিদের বাড়ির নকশায় বড় গ্যারেজ বা পার্কিংয়ের জন্য বাড়তি জায়গা রাখার প্রয়োজন পড়বে না। সেই খালি জায়গাগুলো রাস্তা, পার্ক এবং মানুষের আড্ডার জায়গা হিসেবে ব্যবহার করা যাবে। ট্রানজিট-ভিত্তিক উন্নয়নের মাধ্যমে গণপরিবহন ব্যবস্থার সঙ্গে আবাসন প্রকল্পগুলোকে যুক্ত করলে ব্যক্তিগত গাড়ির ওপর নির্ভরতা যেমন কমবে, তেমনি হাঁটার উপযোগী সুন্দর শহর গড়ে উঠবে।   ভবিষ্যতের আবাসন ব্যবস্থা শুধু সাশ্রয়ী নয়, বরং উন্নত সামাজিক কাঠামো গড়ার দিকেও নজর দেবে। স্থপতি ম্যাক্স বার্গার এবং ড্যানিয়েল বাউম্যান মনে করেন, বিচ্ছিন্ন আবাসন প্রকল্পের বদলে ভবিষ্যতের পাড়াগুলো সমন্বিত ব্যবস্থায় গড়ে উঠবে। সেখানে ছাদের ওপর বাগান, শরীরচর্চা কেন্দ্র এবং কাজের জায়গাগুলো সবার জন্য উন্মুক্ত থাকবে। মাইলস স্মিথ বিষয়টিকে আধুনিক যুগের কান্ট্রি ক্লাব স্টাইলের জীবনযাপন হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন। যেখানে একই ভবনের বাসিন্দারা আধুনিক সব সুযোগ-সুবিধা একসঙ্গে উপভোগ করতে পারবেন এবং পরিবর্তনশীল চাহিদার সঙ্গে খাপ খাইয়ে নিতে পারবেন।   তথ্যসূত্র: নিউজউইক

মোহাম্মদ ইব্রাহিম অক্টোবর ১১, ২০২৬ ১৪:০
মাটির নিচে বা মাটিতে আংশিকভাবে আবৃত বাড়ির সম্ভাব্য ভবিষ্যৎ নকশা
যুক্তরাষ্ট্রে মাটির নিচে বসবাস শুরু হতে পারে, তবে যেসব সমস্যা চিহ্নিত হলো গবেষণায়

দ্রুত নগরায়ণ, আবাসন সংকট ও জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে ভবিষ্যতের বাড়িঘর কেমন হবে, তা নিয়ে নতুন করে ভাবছেন স্থপতি ও প্রকৌশলীরা। এরই মধ্যে আলোচনায় এসেছে মাটির নিচে বা মাটিকে বাড়ির কাঠামোর অংশ হিসেবে ব্যবহার করে বসবাসের ধারণা। চরম আবহাওয়ার প্রভাব কমানো এবং জ্বালানি খরচ নিয়ন্ত্রণে এ ধরনের বাড়ির সম্ভাবনা থাকলেও বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এর সঙ্গে রয়েছে বেশ কিছু বড় প্রকৌশলগত, আর্থিক ও সামাজিক চ্যালেঞ্জ।   মাটির নিচে বাড়ির ধারণা নতুন নয়   মাটিকে ব্যবহার করে ঘরকে প্রাকৃতিকভাবে উষ্ণ বা ঠান্ডা রাখার পদ্ধতি আধুনিক স্থাপত্যের অনেক আগের। আইসল্যান্ডে শত শত বছর ধরে মাটি ও ঘাস দিয়ে ঘরের দেয়াল ও ছাদ আচ্ছাদিত করে প্রচণ্ড ঠান্ডা ও বাতাস থেকে সুরক্ষা নেওয়া হয়েছে।   আধুনিক স্থাপত্যে সেই ধারণাকেই উন্নত জলরোধী ব্যবস্থা, প্রকৌশল ও নকশার সঙ্গে যুক্ত করা হচ্ছে। উত্তর চীনে ‘আন্ডারগ্রাউন্ড হাউস অব দ্য ফিউচার’ নামে একটি পরীক্ষামূলক প্রকল্পে মাটির নিচে ভল্ট আকৃতির কক্ষ তৈরি করা হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের অ্যারিজোনার স্কটসডেলেও মাটির নিচে নামানো উঠানকে ঘিরে বাড়ির নকশা দেখা গেছে।   মেক্সিকোর স্থপতি হাভিয়ের সেনোসিয়াইনের ‘কাসা অর্গানিকা’ও এ ধরনের নকশার উদাহরণ। বাড়িটির ওপর ঘাস ও মাটি ব্যবহার করা হয়েছে, যা শীতকালে তাপ ধরে রাখতে এবং গ্রীষ্মে ঘর ঠান্ডা রাখতে সহায়তা করে।   কোবার পেডিতে বাস্তব উদাহরণ   অস্ট্রেলিয়ার খনিশহর কোবার পেডি ভূগর্ভস্থ বসবাসের সবচেয়ে পরিচিত উদাহরণগুলোর একটি। সেখানে আনুমানিক অর্ধেক মানুষ মাটির নিচের বাড়িতে বসবাস করেন।   ভূগর্ভস্থ এসব ঘরে সারা বছর প্রায় ২৩ থেকে ২৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা বজায় থাকে। এর কারণ, মাটির কয়েক ফুট নিচের তাপমাত্রা বাইরের তুলনায় অনেক বেশি স্থিতিশীল।   স্থপতি এরলা দোগ ইনজালদোত্তিরের মতে, সঠিক জায়গায় মাটিকে বাড়ির কাঠামোর অংশ হিসেবে ব্যবহার করলে তাপমাত্রার ওঠানামা কমানো, গরম ও ঠান্ডা করার প্রয়োজনীয়তা কমানো এবং কিছু চরম আবহাওয়া থেকে বাড়িকে সুরক্ষা দেওয়া সম্ভব।   দাবানল ও অতিরিক্ত গরমে সুবিধা   জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে অতিরিক্ত তাপ, দাবানল ও প্রবল বাতাসের ঝুঁকি বাড়ছে। এ পরিস্থিতিতে মাটির নিচে বা আংশিকভাবে মাটিতে আবৃত বাড়ি কিছু এলাকায় বাড়তি সুরক্ষা দিতে পারে।   জলবায়ু-সহনশীল আবাসন নিয়ে কাজ করা দ্য পাওলেলে হালে অ্যাসোসিয়েশনের প্রধান ডেভিড গিলিল্যান্ড বলেন, উপযুক্ত ভৌগোলিক এলাকায় মাটিকে বাড়ির বাইরের আবরণ হিসেবে ব্যবহার করলে তাপমাত্রার বড় ওঠানামা কমানো এবং গরম ও ঠান্ডা করার চাহিদা কমানো সম্ভব। একই সঙ্গে বাতাস, দাবানল ও কিছু চরম আবহাওয়ার প্রভাব থেকেও সুরক্ষা মিলতে পারে।   ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে প্রকাশিত একটি গবেষণাতেও নগর ভূগর্ভস্থ স্থানকে জলবায়ু পরিবর্তন ও সম্পদের ঘাটতির মতো বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সম্ভাবনাময় সম্পদ হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে।   পানি থেকে আলো পর্যন্ত বড় প্রকৌশল চ্যালেঞ্জ   তবে মাটির নিচে বাড়ি নির্মাণ যতটা আকর্ষণীয় মনে হচ্ছে, বাস্তবে তা ততটা সহজ নয়। পানি ঢোকা ঠেকানো, নিষ্কাশন ব্যবস্থা, মাটির চাপ, রেডন গ্যাস, বায়ু চলাচল, প্রাকৃতিক আলো, জরুরি সময়ে বের হওয়ার পথ এবং দীর্ঘমেয়াদি জলরোধী ব্যবস্থা—সবকিছুর পরিকল্পনা শুরু থেকেই করতে হয়।   গিলিল্যান্ডের মতে, এসব সুবিধা বাস্তব হলেও প্রকৌশলগত চ্যালেঞ্জও যথেষ্ট। সঠিকভাবে তৈরি হলে ভূগর্ভস্থ বাড়ি কার্যকর ও টেকসই হতে পারে। কিন্তু নিম্নমানের নির্মাণ ভবিষ্যতে বড় আর্থিক সমস্যায় ফেলতে পারে।   ইনজালদোত্তিরও সতর্ক করে বলেছেন, জলরোধী ব্যবস্থা ও আর্দ্রতা নিয়ন্ত্রণে ভুল করার সুযোগ নেই। প্রাকৃতিক আলো ও বায়ু চলাচলের ব্যবস্থা করতেও দক্ষ নকশা প্রয়োজন। পাশাপাশি মাটির চাপ সামলানোর কারণে কাঠামোগত ব্যয় সাধারণ কাঠ বা স্টিলের বাড়ির তুলনায় বেশি হতে পারে।   মাটির নিচে আসলে কী আছে?   ভূগর্ভস্থ মানচিত্র তৈরির প্রযুক্তি নিয়ে কাজ করা প্রতিষ্ঠান এক্সোডিগোর সহপ্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান নির্বাহী জেরেমি সুয়ার্ডের মতে, ভূগর্ভে নির্মাণের সবচেয়ে কঠিন বিষয় শুধু প্রকৌশল নয়—বরং মাটির নিচে আগে থেকেই কী রয়েছে, সেই অনিশ্চয়তা।   বিদ্যুৎ, গ্যাস ও পানির লাইনের পাশাপাশি অপ্রত্যাশিত মাটি, পাথর ও ভূগর্ভস্থ পানিও নির্মাণকাজে সমস্যা তৈরি করতে পারে। কমন গ্রাউন্ড অ্যালায়েন্সের এক প্রতিবেদনের উদ্ধৃতি দিয়ে সুয়ার্ড জানান, ভূগর্ভস্থ পরিষেবা লাইনের ক্ষতির কারণে যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতিতে এক বছরে ৮৩ দশমিক ২ বিলিয়ন ডলারের ক্ষতি হয় এবং প্রায় ৬ লাখ ৬৯ হাজার ঘটনা ঘটে।   সবচেয়ে বড় বাধা হতে পারে মানুষের পছন্দ   প্রকৌশলগত সমস্যার পাশাপাশি মানুষের মানসিক পছন্দও বড় বিষয় হয়ে দাঁড়াতে পারে। অধিকাংশ মানুষ ঘরে প্রাকৃতিক আলো, বাইরের দৃশ্য, খোলা বাতাস এবং প্রকৃতির সঙ্গে যোগাযোগ চান।   ইনজালদোত্তিরের মতে, এটাই হয়তো মাটির নিচের বাড়িকে মূলধারায় নিয়ে আসার সবচেয়ে বড় বাধা। উঠান, আলো ঢোকার ব্যবস্থা ও বড় জানালার মাধ্যমে কিছু সমস্যা কমানো গেলেও অনেক মানুষ পুরোপুরি ভূগর্ভস্থ বাড়িতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ নাও করতে পারেন।   পুরোপুরি ভূগর্ভস্থ নয় বরং আংশিক মাটিসুরক্ষিত বাড়ি   বিশেষজ্ঞদের ধারণা, ভবিষ্যতে মানুষের বসবাসের জন্য পুরোপুরি জানালাবিহীন ভূগর্ভস্থ বাড়ির চেয়ে আংশিকভাবে মাটিতে আবৃত বাড়িই বেশি বাস্তবসম্মত হতে পারে। পাহাড়ের ঢালে বাড়ি তৈরি করে কয়েকটি দিক মাটি দিয়ে সুরক্ষিত করা এর একটি উদাহরণ।   ডেনভার বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক স্টেফান শ্যাভেজ-নর্গার্ডের মতে, অনেক এলাকার বর্তমান জোনিং, নির্মাণ ও অগ্নিনিরাপত্তা বিধিমালা ভূগর্ভস্থ বাড়িকে মাথায় রেখে তৈরি হয়নি। ফলে এ ধরনের নতুন আবাসন অনুমোদন ও নির্মাণে সময় এবং বাড়তি ঝুঁকি তৈরি হতে পারে।   তাঁর মতে, গ্রামীণ বা অনিবন্ধিত কিছু এলাকায় তুলনামূলক নমনীয় নির্মাণবিধির কারণে এ ধরনের বাড়ি আগে দেখা যেতে পারে। তবে এর জনপ্রিয়তা নির্ভর করবে স্থানীয় আবহাওয়া, নির্মাণ ব্যয়, জ্বালানির দাম, স্থাপত্য ও সংস্কৃতির ওপর।   বিশেষজ্ঞদের সামগ্রিক মূল্যায়ন হলো, মাটির নিচের বাড়ি হয়তো যুক্তরাষ্ট্রের আবাসন বাজারের মূলধারায় পরিণত হবে না। বরং দাবানল ও অতিরিক্ত গরমপ্রবণ এলাকায় মাটি, ঘাস ও সবুজ ছাদকে বাড়ির নকশায় কৌশলগতভাবে ব্যবহার করে আংশিক মাটিসুরক্ষিত আবাসন ধীরে ধীরে বাড়তে পারে।

অলিনা রহমান সেপ্টেম্বর ৩০, ২০২৬ ১৪:০
মেইনের বাথ শহরের শতবর্ষী ‘ডিয়ারিং হাউস’ মাত্র ১ ডলারে বিক্রির জন্য তালিকাভুক্ত হয়েছে। ছবি: সংগৃহীত
যুক্তরাষ্ট্রে মাত্র ১ ডলারে বিক্রি হচ্ছে শতবর্ষী ঐতিহাসিক বাড়ি, তবে রয়েছে একটি শর্ত

যুক্তরাষ্ট্রের মেইন অঙ্গরাজ্যের বাথ শহরে মাত্র ১ ডলারে বিক্রি হচ্ছে আস্ত একটি ঐতিহাসিক বাড়ি! শুনতে অবিশ্বাস্য মনে হলেও এটি সত্যি। তবে জলের দরে এই বাড়িটি কেনার জন্য ক্রেতাকে মানতে হবে একটি কঠিন শর্ত। শর্তটি হলো, কেনার পর আস্ত বাড়িটিকে তার বর্তমান স্থান থেকে সরিয়ে অন্য কোথাও নিয়ে যেতে হবে। অন্যথায় বাড়িটি চিরতরে ভেঙে ফেলা হবে।   ‘জাহাজের শহর’ (সিটি অব শিপস) হিসেবে পরিচিত মেইন অঙ্গরাজ্যের বাথ শহরের ৬০৬ ওয়াশিংটন স্ট্রিটে অবস্থিত এই বাড়িটির নাম ‘ডিয়ারিং হাউস’। এটি ১৯০০ সালের দিকে নির্মিত। প্রখ্যাত জাহাজ নির্মাতা প্রতিষ্ঠান ‘জেনারেল ডায়নামিকস বাথ আয়রন ওয়ার্কস’ গত বুধবার এক ঘোষণায় জানায়, তারা দুটি আবাসিক ভবন মাত্র ১ ডলারের বিনিময়ে বিক্রি করতে যাচ্ছে, যার মধ্যে এই ঐতিহ্যবাহী ডিয়ারিং হাউসটিও রয়েছে।   সংবাদমাধ্যম ডব্লিউএমটিডব্লিউ-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, বিক্রির চুক্তিতে বলা হয়েছে, ক্রেতাকে ২০২৭ সালের ২০ নভেম্বরের মধ্যে আইনি বৈধতা রয়েছে এমন কোনো স্থানে ভবনটিকে স্থানান্তর করতে হবে। বর্তমানে বাড়িটি অফিস হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে এবং ২০২৭ সালের নভেম্বর মাস পর্যন্ত এটি বর্তমান ভাড়াটেদের কাছে লিজ দেওয়া রয়েছে।   এই বাড়িটির রয়েছে এক সমৃদ্ধ ও গৌরবময় ইতিহাস। এটি মূলত গার্ডিনার জি. ডিয়ারিংয়ের বাসভবন ছিল। তিনি ছিলেন সে সময়ের একজন বিশিষ্ট জাহাজ নির্মাতা, যিনি ১৯ শতকের শেষ এবং ২০ শতকের শুরুর দিকে বাথ শহরকে জাহাজ নির্মাণের অন্যতম প্রধান কেন্দ্র হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিলেন। তাঁর কর্মজীবনে তিনি ৯৯টি জাহাজ তৈরি করেছিলেন। কেনেবেক নদীর তীরে একটি শিপইয়ার্ড পরিচালনা করতেন তিনি। বাথ শহরের সরকারি ওয়েবসাইটের তথ্যমতে, ১৮৫৪ সালে কাঠের তৈরি জাহাজ নির্মাণে নিউইয়র্ক এবং বোস্টনের পর পুরো যুক্তরাষ্ট্রে বাথ শহরের অবস্থান ছিল তৃতীয়। গৃহযুদ্ধ শুরু হওয়ার আগপর্যন্ত এই শিল্প শহরটিতে ব্যাপক সমৃদ্ধি এনেছিল।   বাথ আয়রন ওয়ার্কস জানিয়েছে, ভবনটি যে অবস্থায় আছে ঠিক সেভাবেই বিক্রি করা হবে। এর কোনো গ্যারান্টি বা ওয়ারেন্টি থাকবে না। বাড়িটি সরানোর সম্পূর্ণ আর্থিক দায়ভার ক্রেতাকেই বহন করতে হবে। এর মধ্যে প্রশাসনিক অনুমতি নেওয়া, লাইসেন্সপ্রাপ্ত স্ট্রাকচারাল মুভার্স ভাড়া করা, পরিবহন, নতুন স্থান প্রস্তুতকরণ, ভিত্তি স্থাপনসহ আনুষঙ্গিক সব খরচ অন্তর্ভুক্ত থাকবে। যদি কেউ এই ঐতিহাসিক বাড়িটি কিনে রক্ষা করতে এগিয়ে না আসেন, তবে নতুন স্থাপনা তৈরির জন্য এটি ভেঙে ফেলা হবে।   বাথ আয়রন ওয়ার্কস-এর ফ্যাসিলিটিজ ক্যাপিটাল ডিরেক্টর জোলেন নিকারসন বলেন, একটি কোম্পানি হিসেবে আমাদের বেড়ে ওঠা এবং স্থানীয় হাজার হাজার মানুষের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করাটা জরুরি। সে জন্যই আমরা আমাদের স্থাপনাগুলোর উন্নয়নের চেষ্টা করছি। তিনি আরও বলেন, আমরা আশা করছি এমন কেউ এগিয়ে আসবেন, যাঁর এই বাড়িটি স্থানান্তরের জন্য উপযুক্ত জায়গা রয়েছে এবং আর্থিকভাবেও তিনি সক্ষম। এটি হলে বাড়িটির ঐতিহাসিক আবেদন রক্ষা পাবে, যা নিয়ে স্থানীয় সম্প্রদায়ের মানুষেরাও বেশ আগ্রহী।   প্যাটেন ফ্রি লাইব্রেরির আর্কাইস্ট এবং স্পেশাল কালেকশন লাইব্রেরিয়ান জ্যাক মার্টিন মনে করেন, বাড়িটি রক্ষা করা গেলে এর নতুন মালিক বাথ শহরের ইতিহাসের একটি অনন্য অংশের অংশীদার হবেন। তিনি বলেন, আপনার কাছে কেবল একটি অদ্বিতীয় বাড়িই থাকবে না, এর সঙ্গে জড়িয়ে থাকবে এক চমৎকার গল্প। একটি ঐতিহাসিক বাড়ি রক্ষা করার এই উদ্যোগ সত্যিই দারুণ রোমাঞ্চকর একটি ব্যাপার।   বাথ আয়রন ওয়ার্কস জানিয়েছে, এরই মধ্যে বেশ কয়েকজন ব্যক্তি ভবনটি কেনার বিষয়ে খোঁজখবর নিয়েছেন। তবে মেইন অঙ্গরাজ্যে ঐতিহাসিক বাড়ি স্থানান্তরের ঘটনা এটাই প্রথম নয়। কেনেবেক জার্নালের তথ্যমতে, গত মে মাসে অগাস্টা শহরে ১৮৯৯ সালে স্থপতি জন ক্যালভিন স্টিভেন্সের নকশা করা ৬ হাজার ২০০ বর্গফুটের তিনতলা একটি বাড়ি প্রায় এক-তৃতীয়াংশ মাইল দূরে সরিয়ে নেওয়া হয়েছিল। এক লাখ ২০ হাজার পাউন্ড ওজনের ওই ভবনটিকে দুই ভাগে ভাগ করে নতুন জায়গায় নেওয়া হয়। ব্যয়বহুল ওই স্থানান্তর প্রকল্পে খরচ হয়েছিল ৫ লাখ ডলারেরও বেশি।

মোহাম্মদ ইব্রাহিম আগস্ট ৯, ২০২৬ ১৪:০
ছবি: সংগৃহীত।
দেশের প্রথম ৪০ তলা ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর সম্পন্ন

বাংলাদেশের আবাসন শিল্পে এক নতুন ইতিহাস রচিত হলো। রাজধানীর তেজগাঁও শিল্প এলাকায় নির্মিত দেশের প্রথম ৪০ তলা বিশিষ্ট আকাশচুম্বী বাণিজ্যিক ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করেছে শান্তা হোল্ডিংস। ৫০০ ফুট উচ্চতার এই আইকনিক ভবনটি এখন দেশের সর্বোচ্চ সম্পন্ন হওয়া ইমারত। গত শনিবার (১৮ এপ্রিল) ভবনের ৪০তম তলায় আয়োজিত এক আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এটি হস্তান্তর করা হয়। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের চেয়ারম্যান খন্দকার মনির উদ্দিন, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, স্থপতি এহসান খানসহ প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, ভূমি মালিক এবং গ্রাহকরা উপস্থিত ছিলেন। স্থাপত্যশৈলী ও আধুনিক প্রযুক্তি:‘শান্তা পিনাকল’ শুধুমাত্র উচ্চতার কারণেই অনন্য নয়, বরং এটি আধুনিক নির্মাণশৈলী ও প্রযুক্তির এক অনন্য সমন্বয়। এটি বাংলাদেশের প্রথম ভবন যা পরিবেশবান্ধব স্থাপত্যের জন্য আন্তর্জাতিক ‘লিড প্ল্যাটিনাম’ (LEED Platinum) স্বীকৃতি পেয়েছে। সিঙ্গাপুরভিত্তিক বিখ্যাত ইঞ্জিনিয়ারিং প্রতিষ্ঠান ‘মেইনহার্ট’ (Meinhardt) এর সহায়তায় ভবনটির স্ট্রাকচারাল ডিজাইন এবং ভূমিকম্প প্রতিরোধক ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে। বিশেষ বৈশিষ্ট্যসমূহ: উন্নত লিফট ব্যবস্থা: ভবনটিতে রয়েছে ৮টি দ্রুতগামী লিফট, যা প্রতি সেকেন্ডে ৪ মিটার উচ্চতায় উঠতে সক্ষম। এটি দেশের দ্রুততম ভার্টিক্যাল ট্রান্সপোর্ট ব্যবস্থা। পরিবেশ ও সুরক্ষা: ভবনে ব্যবহৃত হয়েছে ৩৬ মিমি পুরুত্বের ডাবল গ্লেজড গ্লাস, যা তাপ ও শব্দ নিরোধক। এছাড়া এটি দেশের প্রথম ‘উইন্ড টানেল টেস্ট’ করা ভবন, যা প্রতিকূল আবহাওয়ায় এর স্থায়িত্ব নিশ্চিত করে। আইবিএমএস প্রযুক্তি: পুরো ভবনটি একটি ইন্টেলিজেন্ট বিল্ডিং ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (iBMS) দ্বারা পরিচালিত, যা সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা ও জ্বালানি সাশ্রয় নিশ্চিত করবে। অগ্নি নিরাপত্তা: আন্তর্জাতিক এনএফপিএ (NFPA) স্ট্যান্ডার্ড অনুসরণ করে এখানে অত্যাধুনিক অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা স্থাপন করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর দেশের রিয়েল এস্টেট খাতের সক্ষমতার এক বড় প্রমাণ। এটি শুধুমাত্র তেজগাঁও নয়, বরং পুরো ঢাকার বাণিজ্যিক পরিবেশকে বিশ্বমানের স্তরে নিয়ে যাবে। দেশের ইতিহাসে প্রথমবার অ্যালুমিনিয়াম ফর্মওয়ার্ক ব্যবহারের মাধ্যমে মাত্র সাত দিনে এক একটি তলার ছাদ ঢালাইয়ের রেকর্ড গড়ে এই প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। ঢাকার আকাশসীমায় নতুন এই ল্যান্ডমার্ক দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং আধুনিক নগরায়নের এক শক্তিশালী প্রতীক হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে।

ইসমাইল হোসাইন এপ্রিল ২০, ২০২৬ ১৪:০
জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

প্রাণীর সঙ্গে যৌন কর্মকাণ্ডের অভিযোগে গ্রেপ্তার বুয়েটের সাবেক শিক্ষার্থী ও সাউথ ফ্লোরিডা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক

যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডা অঙ্গরাজ্যে প্রাণীর সঙ্গে যৌন কর্মকাণ্ডের ছবি বা ভিডিও ধারণ, বিতরণ ও সংরক্ষণের অভিযোগে গ্রেপ্তার হয়েছেন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত রায়ান আবদুল বাতেন। তিনি বাংলাদেশের বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) তড়িৎ ও ইলেকট্রনিক প্রকৌশল বিভাগের সাবেক শিক্ষার্থী এবং যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অব সাউথ ফ্লোরিডার সহকারী অধ্যাপক।   হিলসবরো কাউন্টি শেরিফের কার্যালয়ের সরকারি ওয়েবসাইটে প্রকাশিত গ্রেপ্তারসংক্রান্ত তথ্য অনুযায়ী, গত ২৮ অক্টোবর ২০২৬ তারিখে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়। প্রকাশিত রেকর্ডে তাঁর বিরুদ্ধে ‘Film, Distribute, or Possess Image or Video of Sexual Activity with an Animal’ শীর্ষক অভিযোগ উল্লেখ করা হয়েছে। অর্থাৎ, প্রাণীর সঙ্গে যৌন কর্মকাণ্ডের ছবি বা ভিডিও ধারণ, বিতরণ কিংবা নিজের কাছে রাখার অভিযোগে তাঁকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে।   গ্রেপ্তারসংক্রান্ত সরকারি রেকর্ড প্রকাশের পর বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। বিশেষ করে বুয়েটের সাবেক শিক্ষার্থী এবং যুক্তরাষ্ট্রের একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী অধ্যাপক হিসেবে তাঁর পরিচয়ের কারণে ঘটনাটি নিয়ে প্রবাসী বাংলাদেশিদের মধ্যেও আলোচনা তৈরি হয়েছে।   এদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রাণীটির পরিচয় সম্পর্কে বিভিন্ন দাবি ছড়িয়ে পড়লেও হিলসবরো কাউন্টি শেরিফের কার্যালয়ের প্রকাশিত গ্রেপ্তারসংক্রান্ত তথ্যে নির্দিষ্ট কোনো প্রাণীর নাম উল্লেখ করা হয়নি। ফলে ছাগলের সঙ্গে যৌন কর্মকাণ্ডের যে দাবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে করা হচ্ছে, তা স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।   তথ্যসূত্র: হিলসবরো কাউন্টি শেরিফের কার্যালয় (Hillsborough County Sheriff’s Office), ফ্লোরিডা।

Top week

যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অব সাউথ ফ্লোরিডার সহকারী অধ্যাপক রাইয়ান আবদুল বাতেন। গ্রাফিক্স: আমেরিকা বাংলা

প্রাণীর সঙ্গে যৌন কর্মকাণ্ডের অভিযোগে গ্রেপ্তার বুয়েটের সাবেক শিক্ষার্থী ও সাউথ ফ্লোরিডা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক

নভেম্বর ২, ২০২৬ ১৩:০