সাপ্তাহিক আমেরিকা বাংলা ই-পেপার
আন্তর্জাতিক

সৌদি আরবের ওপর বহুমুখী হামলা, আঞ্চলিক সংঘাতে জড়িয়ে পড়ার শঙ্কা

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: জুলাই ২৯, ২০২৬ ১০:৪৫
বহুমুখী হামলার পর আঞ্চলিক সংঘাতের ঝুঁকিতে সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান। ছবি: গেটি ইমেজেস
বহুমুখী হামলার পর আঞ্চলিক সংঘাতের ঝুঁকিতে সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান। ছবি: গেটি ইমেজেস

আঞ্চলিক সংঘাত থেকে নিজেদের দূরে রাখার পাঁচ মাসের দীর্ঘ ও ক্লান্তিকর চেষ্টা শেষ পর্যন্ত ব্যর্থ হয়েছে মধ্যপ্রাচ্যের প্রভাবশালী দেশ সৌদি আরবের। ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহী এবং ইরাক ও ইরানের প্রক্সি মিলিশিয়াদের ধারাবাহিক ও সমন্বিত হামলার মুখে পড়ে রিয়াদ এখন এক বহুমুখী যুদ্ধের মুখোমুখি দাঁড়িয়েছে। মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএনের এক বিশেষ বিশ্লেষণে এই তথ্য উঠে এসেছে।

 

গত এক সপ্তাহ ধরে সৌদি আরবকে অত্যন্ত জটিল ও ত্রিমুখী নিরাপত্তা সংকটের মধ্য দিয়ে যেতে হচ্ছে। একদিকে ইয়েমেনের ইরানসমর্থিত হুথি বিদ্রোহীরা দেশটির লোহিত সাগর উপকূলীয় তেল স্থাপনা ও ট্যাংকারে একের পর এক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালাচ্ছে, অন্যদিকে ইরাকের দক্ষিণাঞ্চল থেকে প্রো-ইরানি মিলিশিয়ারা রাজধানী রিয়াদসহ গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো লক্ষ্য করে ড্রোন হামলা পরিচালনা করছে। এর বাইরে তেহরানের পক্ষ থেকেও নতুন করে বিভিন্ন হুমকি ও উসকানিমূলক বার্তা দেওয়া হচ্ছে।

 

পরিস্থিতি এমন একটি পর্যায়ে গিয়ে ঠেকেছে যে দীর্ঘ সংযমের নীতি থেকে সরে আসতে বাধ্য হয়েছে সৌদি প্রশাসন। গত মঙ্গলবার ভোরে মার্কিন যুদ্ধবিমানের সঙ্গে যৌথভাবে পূর্ব ইরাকে সক্রিয় মিলিশিয়া গোষ্ঠীগুলোর শক্ত ঘাঁটি লক্ষ্য করে সুনির্দিষ্ট এবং অত্যন্ত শক্তিশালী বিমান হামলা চালিয়েছে সৌদি বিমান বাহিনী। প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে দেশের নিরাপত্তা এবং তেল স্থাপনাগুলোর সুরক্ষা নিশ্চিত করতেই এই কঠোর সামরিক পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

 

এই বৃহত্তর সংঘাতে জড়িয়ে পড়া রিয়াদের বহু বছরের সুদূরপ্রসারী অর্থনৈতিক পরিকল্পনা ও সংস্কার এজেন্ডাকে মারাত্মক ঝুঁকিতে ফেলে দিয়েছে। গত এক দশক ধরে সৌদি আরব মূলত দেশের অর্থনীতিকে বৈষয়িক বিনিয়োগের জন্য উন্মুক্ত করা এবং বৈদেশিক বাণিজ্যের আঞ্চলিক পাওয়ারহাউস হিসেবে গড়ে তোলার ওপর সর্বোচ্চ জোর দিয়ে আসছে। আর এই অর্থনৈতিক লক্ষ্য অর্জনের অংশ হিসেবেই বহু বছর ধরে চলা বৈরিতা ভুলে চীনের মধ্যস্থতায় ২০২৩ সালে তেহরানের সঙ্গে ঐতিহাসিক কূটনৈতিক সমঝোতায় পৌঁছেছিল রিয়াদ।

 

তবে বর্তমান আঞ্চলিক অস্থিতিশীলতা এবং ত্রিমুখী যুদ্ধের পদধ্বনিতে সেই কৌশলগত কূটনীতি এখন প্রায় জীবনমৃত্যুর সন্ধিক্ষণে রয়েছে। অসামান্য সমরাস্ত্র এবং আধুনিক প্রযুক্তির অধিকারী হলেও বিশাল ভূখণ্ড এবং ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকা তেল শোধনাগারগুলোকে সার্বক্ষণিক সুরক্ষিত রাখা যেকোনো সামরিক পরিকল্পনাবিদের জন্যই এক দুঃস্বপ্নস্বরূপ। হরমুজ প্রণালী বন্ধ থাকার কারণে সৌদি আরব যখন লোহিত সাগরের বিভিন্ন বন্দর দিয়ে তেল রপ্তানি বাড়ানোর পরিকল্পনা করছিল, ঠিক তখন হুথিদের সামুদ্রিক অবরোধ ও ট্যাংকারের ওপর হামলা সেই বিকল্প পথগুলোকেও চরম অনিশ্চয়তার মুখে ঠেলে দিয়েছে।

 

বিশ্লেষকদের মতে, মার্কিন প্রশাসনের আকস্মিক ও পরিবর্তনশীল নীতিমালার মাঝে নিজেদের ভাগ্য নিয়ে গভীর উদ্বেগে রয়েছে রিয়াদ। ওয়াশিংটনের সহায়তা বা আগ্রহ যেকোনো মুহূর্তে কমে যেতে পারে, এই আশঙ্কায় সৌদি আরব এখন নিজস্ব প্রতিরক্ষার স্বার্থে সরাসরি ও আক্রমণাত্মক পথ বেছে নিতে বাধ্য হচ্ছে। ফলে দীর্ঘদিনের শান্তি ও উন্নয়নের প্রচেষ্টা বাদ দিয়ে দেশটি শেষ পর্যন্ত এক রক্তক্ষয়ী আঞ্চলিক যুদ্ধের চোরাবালিতে আসলে জড়িয়ে পড়ল কি না, সেটাই এখন আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে সবচেয়ে বড় আলোচনার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।

 

সূত্র: সিএনএন


© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।

জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

আন্তর্জাতিক

View more
যেকোনো সময় ঘটতে পারে এআই বিপর্যয়, মানবজাতিকে সতর্ক করলেন শীর্ষ বিজ্ঞানী ও প্রযুক্তি জায়ান্টরা
যেকোনো সময় ঘটতে পারে এআই বিপর্যয়, মানবজাতিকে সতর্ক করলেন শীর্ষ বিজ্ঞানী ও প্রযুক্তি জায়ান্টরা

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) দ্রুত বিকাশ মানবজাতির জন্য যেকোনো দিন এক ভয়াবহ বিপর্যয় ডেকে আনতে পারে বলে সতর্ক করেছেন শীর্ষ বিজ্ঞানীরা। তাদের মতে, এটি জলবায়ু পরিবর্তনের চেয়েও বড় হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে, যা মোকাবিলায় এখনই জরুরি পদক্ষেপ গ্রহণ করা প্রয়োজন।   সম্প্রতি ওপেনএআই-এর প্রধান নির্বাহী স্যাম অল্টম্যান, অ্যানথ্রপিক-এর ডারিও অ্যামোডেই এবং স্পেসএক্সএআই-এর ইলন মাস্কের মতো প্রযুক্তি বিশ্বের শীর্ষ ব্যক্তিত্বরাও এই উদ্বেগের সাথে একমত পোষণ করেছেন। ডারিও অ্যামোডেই প্রস্তাব করেছেন যে 'ফ্রন্টিয়ার' বা শীর্ষস্থানীয় এআই কোম্পানিগুলোতে স্থায়ীভাবে তৃতীয় পক্ষের নিরীক্ষক নিয়োগ দেওয়া উচিত এবং এআই মডেলগুলোর সক্ষমতা বৃদ্ধির গতি কমানো প্রয়োজন।   এছাড়া, অ্যানথ্রপিক জানিয়েছে যে তাদের 'ক্লড' এআই মডেলটি ইতোমধ্যে সাইবার আক্রমণ, নজরদারি, প্রতারণা এবং অস্ত্র তৈরির মতো নেতিবাচক কাজে ব্যবহৃত হয়েছে।   ইউনিভার্সিটি অফ সাউদাম্পটনের ওয়েব সায়েন্স ইনস্টিটিউটের পরিচালক ডেম ওয়েন্ডি হলের মতে, এআই কোম্পানিগুলোকে নিজেদের নিয়ন্ত্রণের দায়িত্ব নিজেদের হাতেই ছেড়ে দেওয়া ঠিক হবে না। ইন্টারনেট বা অন্যান্য প্রযুক্তির মতো এআই-এর ক্ষেত্রেও সুনির্দিষ্ট সুরক্ষাকবচ বা 'গার্ডরেল' থাকা জরুরি।   তিনি বলেন, এআই হয়তো পুরো মানবজাতিকে বিলুপ্ত করবে না, কিন্তু এর কারণে অনিচ্ছাকৃত বড় ধরনের বিপর্যয় ঘটতে পারে, যা এড়াতে আমাদের সতর্ক থাকতে হবে। কেমব্রিজ ইউনিভার্সিটির সেন্টার ফর দ্য স্টাডি অফ এক্সিস্টেনশিয়াল রিস্ক-এর সহ-প্রতিষ্ঠাতা ও অ্যাস্ট্রোফিজিসিস্ট মার্টিন রিস এই ঝুঁকিকে জলবায়ু পরিবর্তনের চেয়েও গুরুতর বলে আখ্যায়িত করেছেন।   স্কাই নিউজকে তিনি জানান, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব ধীরগতির হলেও এআই যেকোনো মুহূর্তে বড় শহরের বিদ্যুৎ গ্রিড বা সাপ্লাই চেইন ধ্বংস করে দিতে পারে। এমন ঘটনা বিশ্বজুড়ে একই সাথে ঘটলে সভ্যতা টিকিয়ে রাখা কঠিন হয়ে পড়বে। তাই সম্ভাব্য এই বিপর্যয় ঠেকাতে এখনই নিয়ন্ত্রক সংস্থা ও প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোকে একযোগে কাজ করার তাগিদ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: সেপ্টেম্বর ১৩, ২০২৬ ২০:১
ব্রিটেনে যৌন নিপীড়নের শিকার নারী অ্যাসাইলামপ্রার্থীরা, আশ্রয় হারানোর ভয়ে মুখ খুলছেন না

ব্রিটেনে যৌন নিপীড়নের শিকার নারী অ্যাসাইলামপ্রার্থীরা, আশ্রয় হারানোর ভয়ে মুখ খুলছেন না

তুরস্কে স মকামী গোষ্ঠীর ওপর একযোগে সাঁড়াশি অভিযান, তীব্র নিন্দা মানবাধিকার সংগঠনের

তুরস্কে স মকামী গোষ্ঠীর ওপর একযোগে সাঁড়াশি অভিযান, তীব্র নিন্দা মানবাধিকার সংগঠনের

৩৭১ দিনে বিশ্বভ্রমণ, ২২০টির বেশি বন্দরে নোঙর করবে বিশ্বের দীর্ঘতম ক্রুজ ‘রেগাট্টা’

৩৭১ দিনে বিশ্বভ্রমণ, ২২০টির বেশি বন্দরে নোঙর করবে বিশ্বের দীর্ঘতম ক্রুজ ‘রেগাট্টা’

ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধেই ফুরিয়ে আসছে মার্কিন অস্ত্র, চীনের সঙ্গে  লড়াইয়ে কতটা প্রস্তুত যুক্তরাষ্ট্র?
ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধেই ফুরিয়ে আসছে মার্কিন অস্ত্র, চীনের সঙ্গে লড়াইয়ে কতটা প্রস্তুত যুক্তরাষ্ট্র?

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের চলমান যুদ্ধ সপ্তম মাসে পা দিতেই মার্কিন সামরিক বাহিনীর এক অস্বস্তিকর সত্য প্রকাশ্যে এসেছে। ইউক্রেন যুদ্ধের পর এবার ইরানের বিরুদ্ধে বিপুল পরিমাণ অস্ত্র ব্যবহারের ফলে যুক্তরাষ্ট্রের উচ্চ প্রযুক্তির অস্ত্রের মজুত মারাত্মকভাবে কমে গেছে।   পেন্টাগন আনুষ্ঠানিকভাবে এই ঘাটতির কথা অস্বীকার করলেও, প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ অস্ত্র উৎপাদন শিল্পকে জরুরি ভিত্তিতে 'যুদ্ধকালীন প্রস্তুতিতে' কাজ করার আহ্বান জানিয়েছেন। জয়েন্ট চিফস অফ স্টাফের চেয়ারম্যান ড্যান কেইনের তথ্যমতে, গত ৮ এপ্রিল পর্যন্ত মার্কিন যৌথ বাহিনী ১৩ হাজারেরও বেশি লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হেনেছে, যা মজুত তলানিতে নামার অন্যতম প্রধান কারণ।   অস্ত্রগুলোর আকাশছোঁয়া নির্মাণ ব্যয় ও দীর্ঘ প্রক্রিয়া এই সংকটকে আরও জটিল করে তুলেছে। লকহিড মার্টিনের তৈরি প্রতিটি 'প্যাট্রিয়ট' ক্ষেপণাস্ত্রের দাম প্রায় ৪০ লাখ ডলার। বর্তমানে তারা বছরে ৭৫০টি প্যাট্রিয়ট তৈরি করলেও, ইরানের সাথে যুদ্ধে ইতোমধ্যেই প্রায় ১,৫০০টি প্যাট্রিয়ট ব্যবহার করা হয়েছে এবং সব মিলিয়ে প্রায় ২৫ বিলিয়ন ডলারের অস্ত্র ফুরিয়েছে।   পরিস্থিতি সামাল দিতে লকহিড মার্টিন ৫৯ বিলিয়ন ডলারের চুক্তির আওতায় বছরে ২,০০০টি প্যাট্রিয়ট তৈরির লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে। তবে ৫শ’ থেকে ১ হাজার সরবরাহকারীর ওপর নির্ভরশীলতা এবং এল৩হ্যারিস (L3Harris)-এর মতো কোম্পানির রকেট মোটর তৈরির ধীরগতির কারণে কাঙ্ক্ষিত উৎপাদন ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।   এই ঘাটতি পূরণে পেন্টাগন এখন বিকল্প কৌশল হাতে নিয়েছে। ব্যয়বহুল অস্ত্রের বদলে কোঅ্যাসপায়ার (CoAspire)-এর মতো স্টার্টআপ থেকে তারা ১০ হাজার স্বল্প মূল্যের ক্রুজ মিসাইল কেনার পরিকল্পনা করছে, যার প্রতিটির দাম মাত্র কয়েক লাখ ডলার।   সেন্টার ফর স্ট্র্যাটেজিক অ্যান্ড ইন্টারন্যাশনাল স্টাডিজ-এর মার্ক ক্যানসিয়ান সতর্ক করেছেন যে, যুদ্ধপূর্ব অবস্থায় অস্ত্রের মজুত ফিরিয়ে নিতে এক থেকে পাঁচ বছর সময় লাগতে পারে। তাঁর মতে, ইরানের সাথে বর্তমান যুদ্ধ চালিয়ে নেওয়ার মতো অস্ত্র যুক্তরাষ্ট্রের হাতে থাকলেও, চীনের মতো পরাশক্তির সাথে দীর্ঘমেয়াদী যুদ্ধের ক্ষেত্রে এই ঘাটতি একটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াবে।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: সেপ্টেম্বর ১৩, ২০২৬ ১৪:৮
বিশ্বজুড়ে ডিজেলের আকাশছোঁয়া দামের জন্য ইউক্রেনকে সরাসরি দায়ী করলেন ডোনাল্ড ট্রাম্প

বিশ্বজুড়ে ডিজেলের আকাশছোঁয়া দামের জন্য ইউক্রেনকে সরাসরি দায়ী করলেন ডোনাল্ড ট্রাম্প

তিউনিসিয়ায় ঝড়ের কবলে টার্কিশ এয়ারলাইন্স, তিনবার অবতরণে ব্যর্থ হয়ে মৃ ত্যুভয়ে যাত্রীদের আর্তনাদ

তিউনিসিয়ায় ঝড়ের কবলে টার্কিশ এয়ারলাইন্স, তিনবার অবতরণে ব্যর্থ হয়ে মৃ ত্যুভয়ে যাত্রীদের আর্তনাদ

সাবেক প্রেমিকার কাছে অর্থ ফেরত চেয়ে করা ভারতীয় ব্যবসায়ীর মামলা খারিজ করেছে সিঙ্গাপুরের হাইকোর্ট। ছবি: সংগৃহীত

প্রেমিকার পেছনে কোটি টাকা খরচ, ব্রেকআপের পর ফেরত চেয়ে আদালতে হেরে গেলেন ভারতীয় ব্যবসায়ী

নয়াদিল্লিতে দুই দিনব্যাপী ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলনের শেষ দিনে বৈঠকে বসেছেন সদস্য দেশগুলোর নেতারা। ছবি: সংগৃহীত
নয়াদিল্লিতে ব্রিকস সম্মেলনের শেষ দিনে ঐক্যের বার্তা, সামনে ইরান ও ইউক্রেন যুদ্ধের মতপার্থক্য

নয়াদিল্লিতে দুই দিনব্যাপী ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলনের শেষ দিনে সদস্য দেশগুলোর নেতারা বৈঠকে বসেছেন। ইরান ও ইউক্রেনের যুদ্ধ, যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের মধ্যকার উত্তেজনা এবং বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তার মধ্যে সম্মেলনটি ব্রিকসের অভ্যন্তরীণ ঐক্যের জন্য গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা হয়ে উঠেছে। একই সঙ্গে জোটটি গ্লোবাল সাউথের দেশগুলোর কণ্ঠ আরও শক্তিশালী করা এবং বিশ্বব্যবস্থাকে আরও বহুমুখী বা মাল্টিপোলার করার লক্ষ্য সামনে রাখছে।   ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির আয়োজনে ১২ ও ১৩ সেপ্টেম্বর নয়াদিল্লিতে অনুষ্ঠিত হচ্ছে ১৮তম ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলন। সম্মেলনে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং, রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন এবং ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসউদ পেজেশকিয়ানসহ সদস্য দেশগুলোর শীর্ষ নেতারা অংশ নিচ্ছেন। সম্প্রসারিত ব্রিকসের সদস্য সংখ্যা এখন ১১ এবং জোটটি বিশ্বের মোট জনসংখ্যার প্রায় অর্ধেককে প্রতিনিধিত্ব করে।   ইরান ও ইউক্রেন যুদ্ধই সম্মেলনের অন্যতম বড় কূটনৈতিক চ্যালেঞ্জ। ইরান ২০২৪ সালে ব্রিকসের সদস্য হওয়ার পর মধ্যপ্রাচ্যের চলমান যুদ্ধ জোটটির ভেতরের মতপার্থক্যকে আরও স্পষ্ট করেছে। রাশিয়া ইউক্রেন যুদ্ধে জড়িত থাকায় এবং চীন, ভারত ও অন্যান্য সদস্যদের ভিন্ন ভিন্ন কূটনৈতিক ও অর্থনৈতিক স্বার্থ থাকায় আন্তর্জাতিক সংঘাতগুলোতে ব্রিকসের জন্য অভিন্ন অবস্থান নেওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে।   এর আগে মে মাসে নয়াদিল্লিতে অনুষ্ঠিত ব্রিকস পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের বৈঠকেও ইরান যুদ্ধ নিয়ে সদস্য দেশগুলো ঐকমত্যে পৌঁছাতে পারেনি। ফলে এবারের শীর্ষ সম্মেলনে একটি যৌথ অবস্থান তৈরি করা জোটটির জন্য গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে।   তবে মতপার্থক্যের মধ্যেও ব্রিকস নিজেদের একটি ঐক্যবদ্ধ প্ল্যাটফর্ম হিসেবে তুলে ধরার চেষ্টা করছে। জোটটির অন্যতম লক্ষ্য হলো উন্নয়নশীল দেশগুলোর আন্তর্জাতিক সিদ্ধান্ত গ্রহণে প্রভাব বাড়ানো এবং পশ্চিমা নেতৃত্বাধীন বৈশ্বিক আর্থিক ও রাজনৈতিক ব্যবস্থার বাইরে আরও বিকল্প তৈরি করা।   সম্মেলনে স্থানীয় মুদ্রায় বাণিজ্য, বিকল্প আন্তঃসীমান্ত পেমেন্ট ব্যবস্থা, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, জ্বালানি, খাদ্য নিরাপত্তা ও জলবায়ু সহযোগিতার মতো বিষয়ও গুরুত্ব পাচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্রের ডলারের ওপর নির্ভরতা কমানোর বিষয়টিও ব্রিকসের দীর্ঘমেয়াদি আলোচনার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ।   ভারতের জন্য এবারের সম্মেলন বিশেষ কূটনৈতিক গুরুত্ব বহন করছে। একদিকে নয়াদিল্লির চীন ও রাশিয়ার সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ সম্পর্ক রয়েছে, অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপের সঙ্গেও ভারতের অর্থনৈতিক ও কৌশলগত সম্পর্ক গভীর হচ্ছে। ফলে ভারত ব্রিকসকে পশ্চিমবিরোধী সামরিক বা রাজনৈতিক জোট হিসেবে না দেখে উন্নয়নশীল দেশগুলোর জন্য একটি শক্তিশালী কূটনৈতিক ও অর্থনৈতিক প্ল্যাটফর্ম হিসেবে তুলে ধরতে চাইছে।   ব্রিকসের সম্প্রসারণ জোটটির বৈশ্বিক প্রভাব বাড়ালেও একই সঙ্গে অভ্যন্তরীণ মতপার্থক্যও বাড়িয়েছে। ইরান, সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের মতো ভিন্ন স্বার্থের দেশগুলো একই প্ল্যাটফর্মে থাকায় মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ইস্যুতে অভিন্ন অবস্থান তৈরি করা আরও জটিল হয়ে উঠেছে।   তারপরও ব্রিকস নেতারা গ্লোবাল সাউথের জন্য আরও শক্তিশালী ভূমিকা এবং একটি বহুমুখী বিশ্বব্যবস্থার পক্ষে নিজেদের অবস্থান তুলে ধরছেন। সম্মেলনের শেষ দিনে তাই মূল প্রশ্ন হচ্ছে, অভ্যন্তরীণ মতপার্থক্য সামলে ব্রিকস কতটা কার্যকরভাবে ঐক্যের বার্তা দিতে পারে এবং বৈশ্বিক রাজনীতিতে নিজেদের প্রভাব আরও কতটা বাড়াতে পারে।    সূত্র: আল জাজিরা

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: সেপ্টেম্বর ১৩, ২০২৬ ১২:৩৫
ভিটেমাটি হারানোর বেদনায় কাঁদছেন উচ্ছেদের মুখে পড়া হংকংয়ের এক গ্রামীণ বাসিন্দা। ছবি: সংগৃহীত

২৮.৬ বিলিয়ন ডলারের হাই-টেক হাবের জন্য উচ্ছেদ করা হচ্ছে হংকংয়ের ২৫টি গ্রাম!

অনুমোদন ও অবকাঠামোগত অনিয়মের ভিত্তিতে পশ্চিমবঙ্গজুড়ে ২৫২টি মাদ্রাসাকে বন্ধের নোটিস দিয়েছে রাজ্য সরকার। ছবি: সংগৃহীত

মাদ্রাসার অনুমোদন নিয়ে কড়াকড়ি, পশ্চিমবঙ্গে ২৫২টিতে বন্ধের নোটিস, শোকজ আরও ১০০টি

মাঝ আকাশে রায়ানএয়ারের বিমানের জানালা ভেঙে যাওয়ার ঘটনার পর কেবিনের ভেতরের একটি দৃশ্য। ছবি: সংগৃহীত

বিমানের জানালা ভেঙে যাত্রী ‘বাইরে চলে যান’, দাবির আপত্তি রায়ানএয়ার সিইও

0 Comments