সোমালিয়া

হেফাজতে থাকার সময় তার ওপর নির্যাতন চালানো হয়েছে বলে অভিযোগ | ছবি: হ্যান্ডআউট
অনলাইনে সোমালিয়া সরকারের সমালোচনা করায় তরুণীর ৩ বছরের জেল, দেশজুড়ে তীব্র ক্ষোভ

সোমালিয়া সরকারের সমালোচনা করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মন্তব্য করায় এক তরুণীকে ৩ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছে দেশটির একটি আঞ্চলিক আদালত। সাজাপ্রাপ্ত ওই তরুণীর নাম সাদিয়া মোয়ালিম আলি (২৭)। তিনি পেশায় একজন অটোরিকশা চালক এবং নার্সিংয়ের স্নাতক। গত ২৫ জুন আদালত এই বিতর্কিত রায় দেওয়ার পর থেকেই পুরো দেশজুড়ে তীব্র ক্ষোভ ও নিন্দার ঝড় উঠেছে। সোমালের প্রাক্তন রাষ্ট্রপতি, সাবেক প্রধানমন্ত্রী এবং দেশি-বিদেশি মানবাধিকার সংস্থাগুলো এই রায়কে 'চরম অন্যায়' এবং 'রাজনৈতিক প্রতিহিংসা' বলে তীব্র নিন্দা জানিয়েছে।   সাদিয়া মোয়ালিম আলি মূলত ফেসবুক ও টিকটকে দেশের তীব্র যুব বেকারত্ব, জ্বালানি তেলের আকাশচুম্বী দাম, দুর্নীতি, স্বজনপ্রীতি এবং জোরপূর্বক উচ্ছেদের বিরুদ্ধে সোচ্চার ছিলেন। প্রাথমিকভাবে তাঁর বিরুদ্ধে সরকারি প্রতিষ্ঠানকে অপমান এবং অপরাধে উসকানি দেওয়ার অভিযোগ আনা হলেও, কেবল সমালোচনার দায়েই তাঁকে এই কঠোর সাজা দেওয়া হয়। সোমালিয়ার সাবেক প্রধানমন্ত্রী হাসান আলী খাইরে এই রায়ের প্রতিবাদে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লিখেছেন, এই সাজা অত্যন্ত উদ্বেগজনক এবং রাজনৈতিকভাবে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত, যা বিচার বিভাগের ক্ষমতার অপব্যবহার ও প্রতিশোধমূলক আচরণেরই বহিঃপ্রকাশ।   এক বছর বয়সী এক কন্যাসন্তানের মা সাদিয়া গত ১২ এপ্রিল থেকে কারাগারে বন্দি রয়েছেন এবং তিনিই ছিলেন তাঁর পুরো পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি। কারাবন্দি থাকা অবস্থায় তাঁর ওপর অমানবিক নির্যাতন চালানো হয়েছে বলে তিনি অভিযোগ করেছেন। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ানকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে সাদিয়া জানান, তাঁকে উপুড় করে শুইয়ে গায়ে পানি ঢালা হয়েছে, বুট জুতো পরা প্রহরী দিয়ে লাথি মারা হয়েছে এবং লাঠি দিয়ে নির্মমভাবে পেটানো হয়েছে। এমনকি নির্জন কক্ষে দুই দিন আটকে রেখে খাবার ও টয়লেটে যাওয়ার মৌলিক অধিকার থেকেও বঞ্চিত করা হয়।   সোমালিয়ার হিউম্যান রাইটস ডিফেন্ডার্স কোয়ালিশন এক বিবৃতিতে সাদিয়ার অবিলম্বে মুক্তি দাবি করে জানিয়েছে, এই রায় মুক্তচিন্তা ও মত প্রকাশের স্বাধীনতার ওপর এক বড় ধরনের চপেটাঘাত। সোমালিয়ায় বিশেষ করে যেসব নারী সামাজিক ও রাজনৈতিক পরিবর্তনের পক্ষে কথা বলেন, তাঁদের পদ্ধতিগতভাবে দমন ও বৈষম্যের শিকার হতে হচ্ছে। সাদিয়ার আইনজীবী মোহাম্মদ শেখ ওসমান এই রায় প্রত্যাখ্যান করে উচ্চ আদালতে আপিল করার ঘোষণা দিয়েছেন।   উল্লেখ্য, ২০২২ সাল থেকে সোমালিয়ার সরকারের বিরুদ্ধে সাংবাদিক, অ্যাক্টিভিস্ট এবং ভিন্নমতাবলম্বীদের মুখ বন্ধ করতে নির্বিচারে গ্রেপ্তার, হয়রানি ও হুমকির মাধ্যমে মানবাধিকার লঙ্ঘনের তীব্র অভিযোগ উঠছে। আন্তর্জাতিক আইনে যে কোনো ধরনের শারীরিক বা মানসিক নির্যাতন সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ হলেও, সাদিয়ার ওপর কারাগারে যে নির্মম আচরণ করা হয়েছে তা বিশ্বমঞ্চে সোমালিয়ার মানবাধিকার পরিস্থিতিকে বড় ধরনের প্রশ্নের মুখে দাঁড় করিয়েছে।

তাবাস্সুম জুন ২৬, ২০২৬ ১৪:০
ছবি: সংগৃহীত
যুক্তরাষ্ট্রের বিমান হামলায় আহত সোমালিয়ার ৭ বছরের শিশু, ৭৫০ ডলারের অভাবে পঙ্গুত্বের আশঙ্কা

যুক্তরাষ্ট্রের এক ভয়াবহ বিমান হামলায় শরীরে বোমার স্প্লিন্টার বিদ্ধ হওয়া সাত বছর বয়সী এক সোমালি শিশু চিরতরে পঙ্গু হয়ে যাওয়ার ঝুঁকিতে পড়েছে। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, জরুরি ভিত্তিতে ৭৫০ ডলার (প্রায় ৯শ ডলার) খরচ করে অপারেশন না করালে শিশুটি আর কোনোদিন হাঁটতে পারবে না। কিন্তু চরম দরিদ্র পরিবারের পক্ষে এই অর্থ জোগাড় করা অসম্ভব হয়ে পড়েছে। অন্যদিকে, মার্কিন প্রশাসন এই হামলায় কোনো সাধারণ নাগরিকের হতাহত হওয়ার বিষয়টি অস্বীকার করায় পরিবারটির ক্ষতিপূরণ পাওয়ার আশাও শেষ হয়ে গেছে। বুধবার (১৭ জুন) ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ানের এক বিশেষ প্রতিবেদনে এই বেদনাদায়ক তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে।   প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০২৫ সালের ১৫ নভেম্বর সোমালিয়ার জামামে শহরে মার্কিন সামরিক বাহিনীর ড্রোন হামলায় আটটি শিশুসহ অন্তত ১২ জন সাধারণ নাগরিক নিহত হন। এটি ছিল সাম্প্রতিক বছরগুলোতে সোমালিয়ায় বেসামরিক নাগরিকদের ওপর চালানো সবচেয়ে বড় এবং মারাত্মক মার্কিন হামলা। এই হামলার সময় সাত বছর বয়সী আবদিলকাদির সালাহ নামের ওই শিশুটি তাদের বাড়ির বাইরের রাস্তায় খেলছিল। কোনো আগাম সতর্কতা ছাড়াই হঠাৎ ড্রোন থেকে একের পর এক ক্ষেপণাস্ত্র বর্ষণ শুরু হলে আবদিলকাদিরের পিঠ ও উরুর হাড়ের সংযোগস্থলে বোমার স্প্লিন্টার বা ধাতব টুকরো ঢুকে যায়।   শিশুটির মা মারিয়ান হাজি আবদি গুলেদ জানান, হামলায় তার আরও দুই সন্তান মারাত্মকভাবে জখম হয়। চারিদিকে অবিরাম বোমা বর্ষণের মধ্যে রক্তাক্ত সন্তানদের নিয়ে তিনি গ্রামের প্রত্যন্ত অঞ্চলে পালিয়ে যান এবং ড্রোনের পুনরুত্থানের ভয়ে সারারাত সেখানেই আত্মগোপন করে থাকেন। পরবর্তীতে দীর্ঘ পথ পাড়ি দিয়ে তিনি সন্তানদের নিয়ে রাজধানী মোগাদিশুর 'কাফি হাসপাতালে' পৌঁছান। সেখানে বড় মেয়ের মাথার স্প্লিন্টার বের করা সম্ভব হলেও অর্থের অভাবে আবদিলকাদিরের অপারেশন করানো সম্ভব হচ্ছে না। এক্স-রে রিপোর্টে দেখা গেছে, স্প্লিন্টারটি তার কোমরের হাড়ের নিচে এমনভাবে আটকে আছে যা দ্রুত অপসারণ না করলে সে হাঁটার ক্ষমতা হারাবে।   গার্ডিয়ানের অনুসন্ধানে এই ড্রোন হামলার পেছনে মার্কিন গোয়েন্দা তথ্যের সততা এবং লক্ষ্যবস্তু নির্ধারণের প্রক্রিয়া নিয়ে বড় ধরনের প্রশ্ন উঠেছে। কারণ যে সময়ে হামলাটি চালানো হয়েছিল, আকাশ থেকে স্পষ্ট বোঝার উপায় ছিল যে সেখানে শিশুরা অবস্থান করছে। এই যৌথ অভিযানটি মার্কিন সামরিক বাহিনীর আফ্রিকা কমান্ড এবং সোমালি স্থলবাহিনীর সমন্বয়ে পরিচালিত হলেও, প্রত্যক্ষদর্শীদের শতভাগ দাবি—সব ক্ষয়ক্ষতি ড্রোন থেকে ফেলা বোমার কারণেই হয়েছে।   দুর্ভাগ্যজনক বিষয় হলো, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের পেন্টাগন প্রশাসন সম্প্রতি বেসামরিক নাগরিকদের মৃত্যুর ঘটনায় জবাবদিহিতা ও ক্ষতিপূরণ দেওয়ার একটি আইনি কর্মসূচি নীরবে বাতিল করে দিয়েছে। ফলে সোমালিয়ায় মার্কিন হামলায় নিহত বা আহত কোনো বেসামরিক নাগরিককেই কোনো ধরনের ক্ষতিপূরণ দিচ্ছে না ওয়াশিংটন। আবদিলকাদিরের মা মারিয়ান আক্ষেপ করে বলেন, "আমেরিকানরাই আমাদের এই চরম দুর্ভোগের জন্য দায়ী। একজন মায়ের কাছে এর চেয়ে কষ্টের আর কী হতে পারে, যখন সে টাকার অভাবে তার পঙ্গু হতে যাওয়া সন্তানের চিকিৎসা করাতে পারে না।" এই বিষয়ে মার্কিন যুদ্ধ দপ্তরের (ডিপার্টমেন্ট অব ওয়ার) সাথে যোগাযোগ করা হলেও তারা কোনো মন্তব্য করেনি।

তাবাস্সুম জুন ১৬, ২০২৬ ১৪:০
ছবি: সংগৃহীত
যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের অনুমতি না পেয়ে দেশে ফিরলেন রেফারি আরতান, মোগাদিসুতে বীরের সংবর্ধনা

যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের অনুমতি না পেয়ে দেশে ফিরে এসেছেন সোমালিয়ার আন্তর্জাতিক রেফারি ওমর আবদুলকাদির আরতান। বুধবার ভোরে তিনি সোমালিয়ার রাজধানী মোগাদিসুতে পৌঁছান। দেশে ফেরার পর বিমানবন্দরে তাকে বীরের সম্মানে বরণ করে নেয় উচ্ছ্বসিত জনতা।   আরতান ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপে দায়িত্ব পেলে ইতিহাস গড়ার সুযোগ পেতেন। তিনি হতেন প্রথম সোমালি রেফারি, যিনি ফুটবলের সবচেয়ে বড় আসরে ম্যাচ পরিচালনা করতেন। তবে বিশ্বকাপ দায়িত্ব পালনের উদ্দেশ্যে যুক্তরাষ্ট্রে পৌঁছালেও শেষ পর্যন্ত তাকে দেশটিতে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হয়নি।   স্বপ্নভঙ্গের এই পরিস্থিতির মধ্যেও দেশে ফেরার পর বিমানবন্দরে তার জন্য অপেক্ষা করছিল ব্যাপক সংবর্ধনা। অসংখ্য সমর্থক ফুল ও শুভেচ্ছা জানিয়ে তাকে বরণ করে নেন। এ সময় তাকে সোমালিয়ার গর্ব এবং অনুপ্রেরণার প্রতীক হিসেবে উল্লেখ করা হয়।   সোমালিয়া ফুটবল ফেডারেশন জানিয়েছে, আরতানের সম্মানে জাতীয় স্টেডিয়ামে বিশেষ সংবর্ধনার আয়োজন করা হবে। বিমানবন্দরে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে আরতান ফিফা এবং সোমালিয়া ফুটবল ফেডারেশনের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।   বিশ্বকাপে দায়িত্ব না পাওয়ার হতাশা ব্যক্ত করে এক সাক্ষাৎকারে আরতান বলেন, এটি তার জীবনের সবচেয়ে বড় স্বপ্ন ছিল, তবে এমন পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হবে তা তিনি কখনো কল্পনাও করেননি। তিনি দাবি করেন, প্রয়োজনীয় সব নথিপত্র ও বৈধ ভিসা নিয়েই তিনি যুক্তরাষ্ট্রে গিয়েছিলেন। এরপরও তাকে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হয়নি।   অন্যদিকে মার্কিন কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, নিরাপত্তা যাচাইয়ের সময় কিছু উদ্বেগের কারণে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তবে আরতান তার বিরুদ্ধে ওঠা যেকোনো অভিযোগ বা বিতর্কিত গোষ্ঠীর সঙ্গে সম্পৃক্ততার বিষয়টি দৃঢ়ভাবে অস্বীকার করেছেন। হতাশা থাকলেও ভবিষ্যৎ নিয়ে আশাবাদী আরতান বলেন, যা ঘটেছে তা দুর্ভাগ্যজনক হলেও তরুণদের স্বপ্ন দেখা বন্ধ করা উচিত নয়। কঠোর পরিশ্রম ও অধ্যবসায় থাকলে নতুন সুযোগ আসবে।   হর্ন অব আফ্রিকা অঞ্চলের প্রায় ১ কোটি ৯০ লাখ মানুষের দেশ সোমালিয়ায় জনপ্রিয় এই রেফারি ২০১৮ সালে ফিফার আন্তর্জাতিক রেফারির তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হন। এরপর আফ্রিকান ফুটবলে নিজের অবস্থান সুদৃঢ় করেন তিনি। ২০২৪ সালে আফ্রিকা কাপ অব নেশন্সে ম্যাচ পরিচালনা করে ইতিহাস গড়েন আরতান এবং পরের বছর আফ্রিকার সেরা রেফারির স্বীকৃতি অর্জন করেন।

Unknown জুন ১০, ২০২৬ ১৪:০
জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

Top week

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের জন্য নির্ধারিত ক্যাটাগরিতে এসেছে বড় অগ্রগতি। ছবি: সংগৃহীত
আমেরিকা

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

তাবাস্সুম জুলাই ২০, ২০২৬ ১৪:০