সিলিকন ভ্যালি

বিয়ের সপ্তাহেই বড় ধাক্কা খেয়েছে আশেনব্রেনারের প্রতিষ্ঠিত এআই তহবিল। ছবি: সংগৃহীত
যুক্তরাষ্ট্রে রাজকীয় বিয়ের কয়েক দিন আগে ধসে পড়ল ২৪ বছরের তরুণের ৪৫ বিলিয়ন ডলারের এআই তহবিল

যুক্তরাষ্ট্রের প্রযুক্তি খাতে দ্রুত উত্থান হওয়া ২৪ বছর বয়সী উদ্যোক্তা ও সাবেক ওপেনএআই গবেষক লিওপোল্ড আশেনব্রেনারের জীবনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সপ্তাহটি পরিণত হয়েছে বড় সংকটের সময়ে। ক্যালিফোর্নিয়ায় বিয়ের প্রস্তুতি চলার মধ্যেই তার প্রতিষ্ঠিত কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক হেজ ফান্ড 'সিচুয়েশনাল অ্যাওয়ারনেস' বড় ধরনের আর্থিক ধাক্কার মুখে পড়েছে।   ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা খাতের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে বড় অঙ্কের ঋণনির্ভর বিনিয়োগের কারণে তহবিলটির সম্পদের মূল্য দ্রুত কমতে শুরু করে। পরিস্থিতি সামাল দিতে আশেনব্রেনার বিশ্বের কয়েকটি বড় হেজ ফান্ডের সঙ্গে যোগাযোগ করেন এবং বিলিয়ন ডলারের শেয়ার বিক্রি করতে বাধ্য হন। এর মধ্যে কেন গ্রিফিনের প্রতিষ্ঠান সিটাডেলের কাছে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ সম্পদ বিক্রি করা হয়।   বিনিয়োগকারীদের উদ্দেশে পাঠানো এক চিঠিতে আশেনব্রেনার জানান, তিনি তার তালিকাভুক্ত শেয়ারের একটি অংশ বিক্রি করেছেন এবং ভবিষ্যতে ঝুঁকি ব্যবস্থাপনাকে আরও শক্তিশালী করার প্রতিশ্রুতি দেন। তার ভাষায়, ভবিষ্যতে তহবিলকে আরও স্থিতিশীল করতে বিনিয়োগ কৌশলে পরিবর্তন আনা হবে।   একসময় প্রায় ৪৫ বিলিয়ন ডলারের সম্পদ নিয়ন্ত্রণে থাকা এই তহবিলের মূল্য উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেলেও প্রতিষ্ঠানটি এখনও ১০ বিলিয়ন ডলারের বেশি সম্পদ পরিচালনা করছে। সবচেয়ে মূল্যবান সম্পদ হিসেবে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রতিষ্ঠান অ্যানথ্রপিকে তাদের বড় অংশীদারিত্ব এখনো ধরে রাখা হয়েছে।   জার্মানিতে জন্ম নেওয়া আশেনব্রেনার অল্প বয়সেই প্রযুক্তি অঙ্গনে পরিচিতি পান। মাত্র ১৯ বছর বয়সে কলাম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতক সম্পন্ন করার পর তিনি এফটিএক্সে কাজ করেন। পরে ২০২৩ সালে ওপেনএআইতে যোগ দিয়ে সুপারইন্টেলিজেন্স নিয়ে কাজ করা একটি দলে যুক্ত হন। তবে প্রায় এক বছর পর গোপন তথ্য ফাঁসের অভিযোগে তাকে প্রতিষ্ঠানটি থেকে বরখাস্ত করা হয়। অভিযোগ অস্বীকার করলেও সেই ঘটনা ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়।   ওপেনএআই ছাড়ার পর তিনি 'সিচুয়েশনাল অ্যাওয়ারনেস: দ্য ডিকেড অ্যাহেড' নামে ১৬৫ পৃষ্ঠার একটি প্রবন্ধ প্রকাশ করেন। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ভবিষ্যৎ নিয়ে লেখা ওই প্রবন্ধ প্রযুক্তি অঙ্গনে ব্যাপক আলোচিত হয় এবং অনেক প্রভাবশালী বিনিয়োগকারীর দৃষ্টি আকর্ষণ করে। পরবর্তীতে সেই নামেই তিনি হেজ ফান্ড প্রতিষ্ঠা করেন। স্ট্রাইপের সহপ্রতিষ্ঠাতা প্যাট্রিক ও জন কলিসন, ন্যাট ফ্রিডম্যান এবং ড্যানিয়েল গ্রসের মতো প্রযুক্তি উদ্যোক্তারা এই তহবিলে বিনিয়োগ করেন।   বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক সময়ে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা খাতের শেয়ারে অস্থিরতা এবং অতিরিক্ত ঋণনির্ভর বিনিয়োগের ঝুঁকি এই ধসের প্রধান কারণ। বিশেষ করে এআই খাতের শেয়ারের দরপতনের পর ঋণের বিপরীতে অতিরিক্ত অর্থ জমা দেওয়ার চাপ তৈরি হলে তহবিলটি দ্রুত সম্পদ বিক্রিতে বাধ্য হয়।   এদিকে ব্যক্তিগত জীবনে এই সপ্তাহেই ক্যালিফোর্নিয়ার কারমেলে দীর্ঘদিনের সঙ্গী অ্যাভিটাল বালউইটকে বিয়ে করেছেন আশেনব্রেনার। তবে বিয়ের আনন্দের পাশাপাশি এখন তাকে সামাল দিতে হচ্ছে সাম্প্রতিক সময়ের অন্যতম আলোচিত হেজ ফান্ড সংকটও।

মোহাম্মদ ইব্রাহিম আগস্ট ২, ২০২৬ ১৪:০
নিউইয়র্ক-সিলিকন ভ্যালিকে টপকে যুক্তরাষ্ট্রে চাকরির নতুন শীর্ষে জর্জিয়ার অগাস্টা। ছবি: সংগৃহীত
যুক্তরাষ্ট্রে চাকরির নতুন হটস্পট, নিউইয়র্ক-সিলিকন ভ্যালির বাইরে শীর্ষে যে শহর

যুক্তরাষ্ট্রে চাকরির বাজারে নতুন প্রবণতার ইঙ্গিত দিয়েছে পেশাজীবীদের নেটওয়ার্কিং প্ল্যাটফর্ম লিংকডইন। দীর্ঘদিন ধরে প্রযুক্তি ও কর্মসংস্থানের প্রধান কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত নিউইয়র্ক, সিলিকন ভ্যালি ও সান ফ্রান্সিসকোর বাইরেও দ্রুত বিকশিত হচ্ছে নতুন নতুন চাকরির বাজার। এসব উদীয়মান শহরের মধ্যে ২০২৬ সালের তালিকায় শীর্ষ স্থান দখল করেছে জর্জিয়ার অগাস্টা।   ২১ জুলাই প্রকাশিত লিংকডইনের দ্বিতীয় বার্ষিক ‘সিটিজ অন দ্য রাইজ’ প্রতিবেদনে যুক্তরাষ্ট্রের দ্রুত বিকাশমান ২৫টি মেট্রোপলিটন এলাকার নাম প্রকাশ করা হয়েছে। প্রতিবেদনে এমন সব শহরকে তুলে ধরা হয়েছে, যেখানে কর্মসংস্থানের সুযোগ, তুলনামূলক কম জীবনযাত্রার ব্যয় এবং উন্নত জীবনমান একসঙ্গে পাওয়া যাচ্ছে।   লিংকডইন তাদের নিজস্ব নিয়োগ, চাকরি পরিবর্তন এবং পেশাজীবীদের স্থানান্তরসংক্রান্ত তথ্য বিশ্লেষণ করে এ তালিকা তৈরি করেছে। পাশাপাশি আবাসনবিষয়ক প্রতিষ্ঠান রিয়েল্টর ডট কম এর তথ্যও বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে।   প্রতিবেদন অনুযায়ী, জর্জিয়ার অগাস্টায় সাম্প্রতিক বছরগুলোতে সাইবার নিরাপত্তা, প্রতিরক্ষা শিল্প, স্বাস্থ্য প্রযুক্তি এবং ডেটা সেন্টারে বড় বিনিয়োগ হয়েছে। এর ফলে শহরটিতে নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ দ্রুত বেড়েছে এবং বিভিন্ন অঙ্গরাজ্য থেকে দক্ষ কর্মীরা সেখানে স্থানান্তরিত হচ্ছেন।   তালিকার দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে ভার্জিনিয়ার রিচমন্ড। এরপর রয়েছে নেভাডার রেনো, ফ্লোরিডার নর্থ পোর্ট–ব্র্যাডেন্টন–সারাসোটা এবং পেনসিলভানিয়ার হ্যারিসবার্গ।   লিংকডইনের ‘জবস অ্যান্ড ক্যারিয়ার ডেভেলপমেন্ট’-এর সম্পাদক অ্যান্ড্রু সিম্যান বলেন, বর্তমানে অনেক পেশাজীবী শুধু বেতন নয়, বরং কোথায় বসবাস করবেন, জীবনযাত্রার ব্যয় কত হবে এবং কাজের বাইরে ব্যক্তিগত জীবনের মান কেমন হবে—এসব বিষয়কেও সমান গুরুত্ব দিচ্ছেন। লিংকডইনের জরিপে অংশ নেওয়া প্রতি তিনজনের মধ্যে দুইজন জানিয়েছেন, তারা ‘বাঁচার জন্য কাজ করেন, কাজের জন্য বাঁচেন না’।   প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, গত বছরের তালিকায় থাকা ২৫টি শহরের মধ্যে ১৫টিই এবারও স্থান ধরে রাখতে সক্ষম হয়েছে। এটি ইঙ্গিত করছে, এসব অঞ্চলে কর্মসংস্থান বৃদ্ধি এবং দক্ষ কর্মী আকর্ষণের ধারা অব্যাহত রয়েছে।   বিশ্লেষকদের মতে, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, স্বাস্থ্যসেবা, উন্নত উৎপাদনশিল্প ও প্রযুক্তিনির্ভর খাতে বিনিয়োগ বাড়তে থাকায় যুক্তরাষ্ট্রের ছোট ও মাঝারি শহরগুলো আগামী বছরগুলোতে আরও গুরুত্বপূর্ণ কর্মসংস্থানের কেন্দ্রে পরিণত হতে পারে। বিশেষ করে তুলনামূলক কম আবাসন ব্যয় ও উন্নত জীবনমানের কারণে এসব শহর নতুন প্রজন্মের চাকরিপ্রত্যাশীদের কাছে ক্রমেই বেশি আকর্ষণীয় হয়ে উঠছে।

তাবাস্সুম জুলাই ২২, ২০২৬ ১৪:০
ছবি: নিউইয়র্ক পোস্ট
ক্যালিফোর্নিয়ায় আমলাতান্ত্রিক জটিলতায় আটকে মেগাসিটি প্রকল্প, টেক্সাসে গেল ১০ হাজার চাকরির সুযোগ

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় ভারী শিল্পের পুনরুজ্জীবন ঘটাতে সিলিকন ভ্যালির বিলিয়নিয়ারদের অর্থায়নে শুরু হওয়া মেগা-প্রজেক্ট 'ক্যালিফোর্নিয়া ফরেভার' বড় ধরনের ধাক্কা খেয়েছে। সোলানো কাউন্টির বিস্তীর্ণ অঞ্চলে একটি নতুন অর্থনৈতিক কেন্দ্র গড়ার যে উচ্চাভিলাষী স্বপ্ন তারা দেখেছিল, রাজ্যের কুখ্যাত আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে তা এখন তীব্র সমালোচনার মুখে।   সম্প্রতি প্রতিরক্ষা ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান সারোনিক টেকনোলজিস তাদের ৩.২ বিলিয়ন ডলারের 'পোর্ট আলফা' স্বয়ংক্রিয় শিপইয়ার্ড ক্যালিফোর্নিয়ার বদলে টেক্সাসের ব্রাউনসভিলে নির্মাণের ঘোষণা দিলে এই মেগাসিটি প্রকল্পের ভবিষ্যৎ নিয়ে বড় ধরনের শঙ্কা তৈরি হয়। এই একটি সিদ্ধান্তের ফলেই ক্যালিফোর্নিয়া প্রায় ১০ হাজার কর্মসংস্থানের সুযোগ হারালো।   ক্যালিফোর্নিয়ার সাশ্রয়ী বাসস্থানের সংকট দূর করা এবং উন্নত উৎপাদন ও প্রতিরক্ষা খাতে চাকরির সুযোগ সৃষ্টির লক্ষ্যে সোলানো কাউন্টির ৫০ হাজার একরেরও বেশি জমি নিয়ে এই মেগা-প্রজেক্টের পরিকল্পনা করা হয়েছিল। লরেন পাওয়েল জবস, রিড হফম্যান, মার্ক অ্যান্ড্রেসেনের মতো প্রখ্যাত বিলিয়নিয়ার বিনিয়োগকারীদের অর্থায়নে ফ্ল্যানারি অ্যাসোসিয়েটস এই বিশাল প্রকল্পের নেপথ্যে রয়েছে।   ক্যালিফোর্নিয়া ফরেভারের প্রতিষ্ঠাতা ও সিইও জ্যান স্রামেক এটিকে একুশ শতকের উৎপাদন এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য আমেরিকার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ শহর হিসেবে গড়ে তোলার স্বপ্ন দেখেছিলেন। প্রায় এক বিলিয়ন ডলার ব্যয়ে জমি কেনা হলেও, আমলাতন্ত্র, ধীরগতির আইন প্রণয়ন প্রক্রিয়া, রাজনৈতিক দ্বন্দ্ব এবং স্থানীয়দের বিরোধিতার মতো পুরনো সমস্যাগুলোর কারণে প্রকল্পের কাজ এখনো মাঠ পর্যায়ে শুরু করা যায়নি।   সারোনিক টেকনোলজিসের ক্যালিফোর্নিয়া ছেড়ে যাওয়ার ঘটনাকে রাজ্যের ব্যবসায়ী মহলের জন্য একটি বিশাল ক্ষতি হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষক ও রাজনীতিকরা। ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর পদপ্রার্থী স্টিভ হিলটন রাজ্যের ব্যবসাবিমুখ মনোভাব এবং অতিরিক্ত নীতিমালার কঠোর সমালোচনা করে অবিলম্বে এসব বাধা দূর করার আহ্বান জানিয়েছেন।   তবে প্রকল্পের পক্ষের আইনপ্রণেতারা এই ঘটনা থেকে শিক্ষা নিয়ে আমলাতান্ত্রিক বাধা দূর করতে নতুন বিল পাসের জোর প্রচেষ্টা চালাচ্ছেন। সাবেক ডেমোক্র্যাটিক স্টেট সিনেটর ড্যারেল স্টেইনবার্গ এবং রবার্ট হার্টজবার্গ আশাবাদী যে, লাল ফিতার দৌরাত্ম্য কমাতে পারলে ভবিষ্যতে অন্যান্য বড় শিপবিল্ডার ও প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলো এই স্বপ্নের শহরে বিনিয়োগ করতে ছুটে আসবে। আগামী কয়েক দশকের মধ্যে এখানে ৪ লাখ মানুষের বাসস্থান ও বিশাল বাণিজ্যিক অঞ্চল গড়ে তোলার যে প্রাথমিক রূপরেখা দেওয়া হয়েছে, তা বাস্তবায়নে এখন রাজ্যের নীতিগত সহায়তাই প্রধান ভরসা।

ইসতিয়াক আহমেদ জুলাই ১৯, ২০২৬ ১৪:০
মেটা-এর গ্লোবাল অ্যাফেয়ার্স-এর প্রাক্তন প্রেসিডেন্ট নিক ক্লেগ | ছবি: সংগৃহীত
ট্রাম্পের রাজনীতির দিকে ঝুঁকছে মেটা ও সিলিকন ভ্যালি, বললেন নিক ক্লেগ

মেটা সহ সিলিকন ভ্যালির প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলো নিজেদের স্বার্থেই ডোনাল্ড ট্রাম্পের 'মাগা' রাজনীতিকে আপন করে নিয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন নিক ক্লেগ। মেটার সাবেক গ্লোবাল অ্যাফেয়ার্স প্রধান ও যুক্তরাজ্যের সাবেক উপ-প্রধানমন্ত্রী নিক ক্লেগ সম্প্রতি এক পডকাস্টে এই দাবি করেন। তিনি জানান, রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড থেকে দূরে থাকা অনেক প্রযুক্তি নির্বাহী এখন ডানপন্থার দিকে ঝুঁকছেন।   নিক ক্লেগ প্রায় সাত বছর মেটাতে দায়িত্ব পালনের পর ২০২৫ সালের মার্চ মাসে প্রতিষ্ঠানটি ত্যাগ করেন। তিনি বলেন, মেটার পণ্যগুলোর চরিত্র এখন পুরোপুরি বদলে গেছে। এগুলো মানুষের কেন্দ্রিক থাকার চেয়ে এখন কৃত্রিম বা সিন্থেটিক কনটেন্টের দিকে ঝুঁকছে, যা মূলত অ্যালগরিদমের মাধ্যমে ব্যবহারকারীদের কাছে সুপারিশ করা হয়।   একই সাথে ক্লেগ মার্কিন স্পাই-টেক প্রতিষ্ঠান প্যালানটিরের সাথে যুক্তরাজ্যের চুক্তির তীব্র সমালোচনা করেন। তিনি এই প্রতিষ্ঠানের আদর্শ নিয়ে প্রশ্ন তোলার পাশাপাশি তাদের ওপর যুক্তরাজ্যের অতিরিক্ত নির্ভরশীলতা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তিনি মনে করেন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই প্রযুক্তির উৎকর্ষতার এই সময়ে প্যালানটিরের বিকল্প তৈরি হওয়া সম্ভব।   প্যালানটিরের সাথে যুক্তরাজ্যের এই চুক্তি নিয়ে সাম্প্রতিক সময়ে বেশ বিতর্ক তৈরি হয়েছে। দেশটির সংসদীয় কমিটিও প্যালানটিরের ওপর ক্রমবর্ধমান নির্ভরতা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে এবং ২০২৭ সালের মধ্যে চুক্তিটি বাতিলের পরামর্শ দিয়েছে। তবে প্যালানটিরের পক্ষ থেকে যুক্তরাজ্যের স্বাস্থ্য খাতে তাদের ইতিবাচক অবদানের কথা তুলে ধরে এই অতি-নির্ভরশীলতার দাবিটি অস্বীকার করা হয়েছে।   নিক ক্লেগ ২০১৮ সালে মেটাতে যোগ দিয়েছিলেন এবং প্রতিষ্ঠানটির কনটেন্ট মডারেশন সংক্রান্ত বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত তদারকি করেছিলেন। সম্প্রতি মেটার সাবেক পাবলিক পলিসি ডিরেক্টর সারাহ উইন-উইলিয়ামস তাঁর একটি বইয়ে মেটা নির্বাহীদের বিভিন্ন বিতর্কিত সিদ্ধান্ত ও অনৈতিক কর্মকাণ্ডের বিষয় তুলে ধরলে প্রতিষ্ঠানটি আইনি পদক্ষেপের মাধ্যমে তাঁর ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করে।

তাবাস্সুম জুন ৭, ২০২৬ ১৪:০
ছবি: সংগৃহীত
ট্রাম্প প্রশাসনের নতুন পরিকল্পনা, সিলিকন ভ্যালিতে H-1B কর্মীর ন্যূনতম বেতন হতে পারে ১ লাখ ৬২ হাজার ডলার

যুক্তরাষ্ট্রে বিদেশি দক্ষ কর্মীদের জন্য ব্যবহৃত H-1B ভিসা কর্মসূচিতে বড় ধরনের পরিবর্তনের পরিকল্পনা করছে ট্রাম্প প্রশাসন। নতুন প্রস্তাব কার্যকর হলে প্রযুক্তিখাতের বিদেশি কর্মীদের জন্য ন্যূনতম বেতনের সীমা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যেতে পারে।   প্রস্তাব অনুযায়ী, সিলিকন ভ্যালিতে H-1B ভিসায় নিয়োগ পাওয়া কর্মীদের ন্যূনতম বেতন হতে পারে প্রায় ১ লাখ ৬২ হাজার ডলার। একই ধরনের চাকরির ক্ষেত্রে নিউইয়র্কে প্রায় ১ লাখ ৩২ হাজার ডলার এবং টেক্সাসের ডালাসে প্রায় ১ লাখ ১৩ হাজার ডলার বেতন নির্ধারণের কথা বলা হয়েছে।   খবরে বলা হয়েছে, ট্রাম্প প্রশাসন H-1B কর্মীদের বেতনের ন্যূনতম সীমা প্রায় ৩০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানোর চিন্তা করছে। এর সঙ্গে আগে থেকেই থাকা প্রায় ১ লাখ ডলারের ফি ও অন্যান্য খরচ যোগ হলে বিদেশি কর্মী নিয়োগ প্রযুক্তি কোম্পানিগুলোর জন্য আরও ব্যয়বহুল হয়ে উঠতে পারে।   বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের বড় প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলো যেমন আমাজন, মাইক্রোসফট, গুগল, মেটা এবং অ্যাপল     প্রতি বছর হাজার হাজার বিদেশি কর্মীকে H-1B ভিসার মাধ্যমে নিয়োগ দেয়।   বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বড় কোম্পানিগুলো বাড়তি খরচ বহন করতে পারলেও ছোট ও মাঝারি প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলো সমস্যায় পড়তে পারে। এতে স্টার্টআপ কোম্পানিগুলোর জন্য দক্ষ আন্তর্জাতিক কর্মী নিয়োগ আরও কঠিন হয়ে যেতে পারে।   প্রযুক্তি খাতের অনেকে আশঙ্কা করছেন, নতুন নিয়ম কার্যকর হলে বিদেশি মেধাবীদের জন্য যুক্তরাষ্ট্রে চাকরির সুযোগ সীমিত হতে পারে এবং মার্কিন প্রযুক্তি শিল্পে কর্মী সংকটও তৈরি হতে পারে।

তাবাস্সুম মে ৮, ২০২৬ ১৪:০
জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

Top week

২০২৬ সালের তালিকায় এগিয়ে যে ৫ স্টেট

যুক্তরাষ্ট্রের কোন স্টেট এ বাংলাদেশিদের জীবন সবচেয়ে স্বস্তির? ২০২৬ সালের তালিকায় এগিয়ে যে ৫ স্টেট

নীলুফা নিশাত আগস্ট ১, ২০২৬ ১৪:০