- প্রচ্ছদ
- Topic
হ্যাকার
যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় তদন্ত সংস্থা (এফবিআই) সাইবার অপরাধীদের এক ভয়ংকর তৎপরতা সম্পর্কে সাধারণ মানুষকে সতর্ক করেছে। সংস্থাটি জানিয়েছে, হ্যাকাররা এখন অত্যন্ত সুকৌশলে সাধারণ মানুষের সোশ্যাল মিডিয়া ও ব্যক্তিগত অ্যাকাউন্টগুলোতে অনুপ্রবেশ করছে। এসব অ্যাকাউন্টের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার পর তারা ব্যবহারকারীদের একান্ত ব্যক্তিগত ও গোপন ছবি চুরি করছে। পরবর্তীতে এই স্পর্শকাতর ছবিগুলো তারা বিভিন্ন অপরাধমূলক অনলাইন মার্কেটপ্লেসে বা ডার্ক ওয়েবে চড়া দামে বিক্রি করে দিচ্ছে, যা ব্যবহারকারীদের জন্য চরম ভোগান্তির কারণ হয়ে দাঁড়াচ্ছে। এফবিআইয়ের পরিভাষায় এই ধরনের ছবিগুলোকে সম্মতিবিহীন অন্তরঙ্গ ছবি বা ‘এনসিআইআই’ (NCII) বলা হয়ে থাকে। সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয় হলো, সাইবার অপরাধীরা শুধু এসব ছবি চুরি করেই ক্ষান্ত হচ্ছে না; বিক্রির সময় ছবিগুলোর সাথে ভুক্তভোগীদের নাম, ঠিকানা ও অন্যান্য ব্যক্তিগত তথ্যও যুক্ত করে দিচ্ছে। এর ফলে হ্যাকারদের শিকার হওয়া ব্যক্তিরা মারাত্মক সামাজিক, মানসিক ও আর্থিকভাবে ব্ল্যাকমেইলের ঝুঁকিতে পড়ছেন। অপরাধীদের এমন দৌরাত্ম্য সাইবার জগতে ব্যবহারকারীদের নিরাপত্তার অভাবকেই স্পষ্টভাবে চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিচ্ছে। সাইবার নিরাপত্তা বিশ্লেষকরা মনে করছেন, প্রযুক্তিগত এই যুগে ব্যক্তিগত তথ্যের সুরক্ষা নিশ্চিত করা আগের চেয়ে অনেক বেশি কঠিন হয়ে পড়েছে। এই ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি এড়াতে ব্যবহারকারীদের অনলাইন সুরক্ষার বিষয়ে আরও বেশি সচেতন হতে হবে। সোশ্যাল মিডিয়া, ইমেইল এবং ক্লাউড স্টোরেজ অ্যাকাউন্টগুলোতে শক্তিশালী পাসওয়ার্ড ব্যবহারের পাশাপাশি ‘টু-ফ্যাক্টর অথেনটিকেশন’ চালু রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। ব্যক্তিগত মুহূর্তের ছবি বা তথ্য অনলাইনে সংরক্ষণের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বনের কোনো বিকল্প নেই বলেই মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
রাশিয়ার রাষ্ট্রসমর্থিত হ্যাকারদের নতুন এক সাইবার কৌশল নিয়ে যৌথ সতর্কতা জারি করেছে যুক্তরাষ্ট্র এবং এক ডজনের বেশি মিত্র দেশ। তাদের দাবি, Laundry Bear নামে পরিচিত একটি রুশ হ্যাকার গোষ্ঠী জনপ্রিয় Zimbra Collaboration Suite-এর একটি নিরাপত্তা দুর্বলতা ব্যবহার করে ব্যবহারকারীদের ই-মেইল অ্যাকাউন্টে অনুপ্রবেশ করেছে। এই হামলার সবচেয়ে উদ্বেগজনক দিক হলো, ভুক্তভোগীদের কোনো লিংকে ক্লিক করা, সংযুক্তি (Attachment) ডাউনলোড করা কিংবা পাসওয়ার্ড দেওয়ারও প্রয়োজন হয়নি। কেবল ক্ষতিকর ই-মেইলটি খুললেই হ্যাকাররা সফটওয়্যারের দুর্বলতা কাজে লাগিয়ে অ্যাকাউন্টে প্রবেশ করতে সক্ষম হয়েছে। সাইবার নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠান Proofpoint এই কৌশলকে “হাফ-ক্লিক এক্সপ্লয়েট” নামে উল্লেখ করেছে। প্রতিষ্ঠানটির ভাষ্য, এটি এমন এক ধরনের হামলা, যেখানে কোনো সামাজিক প্রকৌশল (Social Engineering) ব্যবহার না করেই ব্যবহারকারীর অ্যাকাউন্টে অনুপ্রবেশ সম্ভব হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, কানাডা, অস্ট্রেলিয়া, নিউজিল্যান্ড, নেদারল্যান্ডস, ডেনমার্ক, চেক প্রজাতন্ত্রসহ ইউরোপের একাধিক দেশের গোয়েন্দা ও আইন-শৃঙ্খলা সংস্থা ৩১ পৃষ্ঠার একটি যৌথ সতর্কতা প্রকাশ করে এই তথ্য জানিয়েছে। তাদের মতে, হামলাকারীরা প্রথমে ইউক্রেনকে লক্ষ্যবস্তু বানিয়ে এই পদ্ধতি পরীক্ষা করে। পরে একই কৌশলে যুক্তরাষ্ট্র ও ন্যাটোভুক্ত দেশগুলোর সরকারি, সামরিক ও বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানের ব্যবহারকারীদের লক্ষ্য করা হয়। যুক্তরাজ্যের নিরাপত্তামন্ত্রী ড্যান জারভিস বলেছেন, ইউক্রেনের ভুক্তভোগীদের ওপর এই কৌশল পরীক্ষা চালিয়ে পরে ন্যাটো দেশগুলোকে লক্ষ্যবস্তু বানানো অত্যন্ত উদ্বেগজনক। যুক্তরাষ্ট্রের অভিযোগ, Laundry Bear রাশিয়ার নিরাপত্তা সংস্থার হয়ে কাজ করা একাধিক হ্যাকার গোষ্ঠীর অন্যতম। সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রে দায়ের করা একটি অভিযোগপত্রে গোষ্ঠীটির সঙ্গে রাশিয়ার সাইবার নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠান Yutek-NN-এর সংশ্লিষ্টতার কথাও উল্লেখ করা হয়েছে। এদিকে Zimbra সফটওয়্যারের যে নিরাপত্তা ত্রুটি ব্যবহার করে হামলা চালানো হয়েছে, সেটি ইতোমধ্যে নিরাপত্তা হালনাগাদের (Patch) মাধ্যমে ঠিক করা হয়েছে। তবে যেসব প্রতিষ্ঠান এখনো সফটওয়্যার হালনাগাদ করেনি, তারা এখনো ঝুঁকিতে রয়েছে। সাইবার নিরাপত্তা সংস্থাগুলো সরকারি দপ্তর, সামরিক সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান এবং Zimbra ব্যবহারকারী সব প্রতিষ্ঠানের প্রতি দ্রুত সফটওয়্যার আপডেট, নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ জোরদার এবং সন্দেহজনক কার্যক্রম পরীক্ষা করার আহ্বান জানিয়েছে।
মার্কিন কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা এফবিআইয়ের নজরদারি ড্রোনে অনুপ্রবেশের দাবি করেছে ইরান-সংশ্লিষ্ট হ্যাকার গোষ্ঠী ‘হান্দালা’। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকোতে চলমান ফিফা বিশ্বকাপকে কেন্দ্র করে নিরাপত্তা হুমকিও দিয়েছে তারা। তবে গোষ্ঠীটির দাবির পক্ষে উপস্থাপিত কিছু তথ্যে অসঙ্গতি পাওয়ার কথা জানিয়েছে অনলাইন পর্যবেক্ষণ সংস্থা সাইট ইন্টেলিজেন্স গ্রুপ। মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিবিএস নিউজের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সাইট ইন্টেলিজেন্স গ্রুপের প্রকাশিত একটি বিবৃতিতে হান্দালা দাবি করেছে যে তারা কয়েক মাস ধরে এফবিআইয়ের ব্যবহৃত ফার্স্ট-পার্সন ভিউ (এফপিভি) ড্রোনের সংগৃহীত ছবি, ভিডিও ও সন্দেহভাজন ব্যক্তিদের তথ্যের ওপর নজরদারি চালিয়ে আসছে। গোষ্ঠীটির ভাষ্য অনুযায়ী, এসব ড্রোনে মুখ শনাক্তকরণ এবং গাড়ির নম্বরপ্লেট বিশ্লেষণের মতো প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়। বিবৃতিতে বিশ্বকাপের নিরাপত্তা নিয়ে সরাসরি হুমকিও দেওয়া হয়। হান্দালা দাবি করে, টুর্নামেন্টে অংশ নেওয়া কয়েকটি দলকে তারা পছন্দ করে না এবং নিরাপত্তা আরও জোরদার করা উচিত। তারা আরও ইঙ্গিত দেয় যে ড্রোন ব্যবহার করে বিভিন্ন দলের চলাচল বা পরিবহনের ওপর নজরদারি চালানো সম্ভব। বিশ্বকাপ চলাকালে যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন স্টেডিয়াম ও সংশ্লিষ্ট আয়োজনে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এফবিআই ড্রোন মোতায়েন করেছে। একই সঙ্গে স্টেডিয়ামের আকাশসীমা ও আশপাশের এলাকায় বেসরকারি বা অননুমোদিত ড্রোন উড্ডয়ন নিষিদ্ধ করা হয়েছে। মার্কিন কর্তৃপক্ষ ড্রোনকে বর্তমান সময়ের অন্যতম বড় নিরাপত্তা ঝুঁকি হিসেবে বিবেচনা করছে এবং তা মোকাবিলায় বিশেষ প্রযুক্তি ও প্রশিক্ষণ কর্মসূচি চালু করেছে। তবে হান্দালার দাবি নিয়ে প্রশ্নও উঠেছে। গোষ্ঠীটি যে ছবি ও ভিডিওকে হ্যাকিংয়ের প্রমাণ হিসেবে উপস্থাপন করেছে, তার অন্তত একটি ভিডিও প্রকৃতপক্ষে ২০২৪ সালের ডিসেম্বরের একটি বাণিজ্যিক প্রচারমূলক ভিডিও বলে শনাক্ত করেছে সাইট ইন্টেলিজেন্স গ্রুপ। ওই ভিডিওটি একটি সফটওয়্যার প্রতিষ্ঠানের তৈরি, যা টর্নেডো-পরবর্তী ক্ষয়ক্ষতি মূল্যায়নে মার্কিন পুলিশের প্রযুক্তি ব্যবহারের প্রচারণার অংশ ছিল। ফলে হান্দালার উপস্থাপিত তথ্যে সন্দেহ তৈরি হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যে সাম্প্রতিক উত্তেজনা এবং যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সম্পর্কের অবনতির প্রেক্ষাপটে সাইবার নিরাপত্তা ঝুঁকি আরও বেড়েছে। এর আগে মার্কিন বিচার বিভাগও ইরান-সংশ্লিষ্ট হ্যাকারদের সম্ভাব্য সাইবার হামলা নিয়ে সতর্ক করেছিল। হান্দালা এর আগেও আলোচনায় আসে। চলতি বছরের মার্চে তারা এফবিআই পরিচালক Kash Patel-এর ব্যক্তিগত ইমেইল অ্যাকাউন্টে প্রবেশের দাবি করে এবং কিছু ব্যক্তিগত ছবি ও তথ্য অনলাইনে প্রকাশ করে। মার্কিন কর্মকর্তারা তখনও গোষ্ঠীটির কিছু দাবি অতিরঞ্জিত বলে মন্তব্য করেছিলেন। হান্দালা গোষ্ঠীকে মার্কিন কর্তৃপক্ষ দীর্ঘদিন ধরেই নজরদারিতে রেখেছে। যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর গোষ্ঠীটির সদস্যদের শনাক্তকরণ বা গ্রেপ্তারে সহায়তাকারী তথ্যের জন্য এক কোটি ডলার পর্যন্ত পুরস্কার ঘোষণাও করেছে। বিশ্বকাপে কয়েক মিলিয়ন দর্শক এবং শতাধিক ম্যাচের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল ও স্থানীয় সংস্থাগুলো সমন্বিতভাবে কাজ করছে। ড্রোন, সাইবার হামলা ও সম্ভাব্য সন্ত্রাসী ঝুঁকিকে এবারের টুর্নামেন্টের প্রধান নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জ হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।
বন্ধুদের সাথে আড্ডায় কিংবা কোনো সাফল্যের আনন্দে ‘ভিক্টরি’ বা ‘লাইক’ সাইন দিয়ে ছবি তুলে ফেসবুক বা ইনস্টাগ্রামে আপলোড করা আমাদের দৈনন্দিন জীবনের সাধারণ একটি অভ্যাসে পরিণত হয়েছে। কিন্তু আপনার আপলোড করা এই হাই-রেজল্যুশনের ছবিগুলোতেই হয়তো লুকিয়ে আছে মারাত্মক এক সাইবার ঝুঁকি। আপনি যখন ছবিতে লাইক-কমেন্টের বন্যায় ভাসছেন, ঠিক তখনই হয়তো স্ক্রিনের ওপাশে থাকা কোনো হ্যাকার আপনার ছবির সেই আঙুল জুম করে খুঁটিয়ে দেখছে। অত্যাধুনিক কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই প্রযুক্তি ব্যবহার করে আঙুলের সেই রেখাগুলো বিশ্লেষণ করে তারা তৈরি করে ফেলতে পারে আপনার আঙুলের ছাপের হুবহু ক্লোন। পাসওয়ার্ড চুরি হলে তা সহজে বদলে ফেলা যায়, কিন্তু আঙুলের ছাপের মতো বায়োমেট্রিক ডেটা একবার হ্যাকারের হাতে চলে গেলে তা আর পরিবর্তনের কোনো উপায় থাকে না। পুরো বিষয়টি শুনতে হলিউডের কোনো স্পাই থ্রিলার বা ‘মিশন ইম্পসিবল’ সিনেমার মতো মনে হলেও, বাস্তবে এর সত্যতা রয়েছে। মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিবিএস নিউজের এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এ সংক্রান্ত বেশ কিছু পোস্ট সাধারণ মানুষের মনে গভীর উদ্বেগের জন্ম দিয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, কারিগরিভাবে ছবি থেকে ফিঙ্গারপ্রিন্ট চুরি করা সম্পূর্ণ সম্ভব। কেউ যদি হাই-রেজল্যুশনের ক্যামেরায় খুব কাছ থেকে দুই আঙুল উঁচিয়ে ছবি তোলেন, তবে এআই টুলের সাহায্যে সেই আঙুলের রেখাগুলোকে স্পষ্ট করে ক্লোন তৈরি করা যায়। পেনসিলভানিয়ার কার্নেগি মেলন ইউনিভার্সিটির ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড কম্পিউটার ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের অধ্যাপক ব্যাস শেখরও বিষয়টির তাত্ত্বিক সত্যতা নিশ্চিত করে জানিয়েছেন, মানুষ যখন হাই-রেজল্যুশনের ছবি পোস্ট করে, তখন এই ঝুঁকি আরও বেড়ে যায়। এর আগে ২০১৪ সালে এক হ্যাকার সংবাদ সম্মেলনে তোলা ছবি থেকে জার্মানির তৎকালীন প্রতিরক্ষামন্ত্রীর ফিঙ্গারপ্রিন্ট ক্লোন করার দাবি করে রীতিমতো চাঞ্চল্য সৃষ্টি করেছিলেন। তবে সাইবার নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞরা সাধারণ মানুষকে এখনই আতঙ্কিত না হওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন। নিউইয়র্ক ইউনিভার্সিটির অধ্যাপক জাস্টিন ক্যাপোসের মতে, একজন সাধারণ মানুষের ক্ষেত্রে এই ধরনের সাইবার হামলার শিকার হওয়ার ঝুঁকি খুবই সামান্য। কারণ, কেবল ছবি থেকে আঙুলের ছাপ পেলেই হবে না, ব্যাংক অ্যাকাউন্ট বা ফোন হ্যাক করতে হলে হ্যাকারকে শারীরিকভাবে ওই ব্যক্তির ডিভাইস বা বায়োমেট্রিক স্ক্যানারের কাছাকাছি পৌঁছাতে হবে। সাধারণত অতি গুরুত্বপূর্ণ বা ‘হাই-ভ্যালু’ ব্যক্তিরাই হ্যাকারদের এমন সুনির্দিষ্ট লক্ষ্যের শিকার হয়ে থাকেন। সাধারণ মানুষের ক্ষেত্রে ফিশিং স্ক্যাম বা ম্যালওয়্যার লিংকের মাধ্যমে প্রতারিত হওয়ার আশঙ্কাই তুলনামূলকভাবে অনেক বেশি বলে মনে করেন এই বিশেষজ্ঞ। তারপরও ডিজিটাল যুগে নিজেদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রযুক্তিবিদরা কিছু বাড়তি সতর্কতার কথা স্মরণ করিয়ে দিয়েছেন। শুধুমাত্র আঙুলের ছাপের ওপর নির্ভর না করে অ্যাকাউন্টে টু-ফ্যাক্টর অথেন্টিকেশন (টু-এফএ) বা দ্বিস্তর বিশিষ্ট নিরাপত্তা ব্যবস্থা চালু রাখা সবচেয়ে কার্যকর সমাধান। এছাড়াও গুগল বা মাইক্রোসফটের মতো প্রতিষ্ঠানের অথেন্টিকেটর অ্যাপস, মাল্টি-ফ্যাক্টর বায়োমেট্রিকস এবং এনক্রিপ্টেড পাসকি ব্যবহার করা যেতে পারে। একইসাথে, খুব কাছ থেকে হাতের তালু বা আঙুলের ছাপ স্পষ্ট বোঝা যায় এমনভাবে ‘ভিক্টরি’ বা ‘লাইক’ সাইন দিয়ে ছবি তোলা থেকে বিরত থাকার পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ‘র’ ফাইল বা অরিজিনাল হাই-রেজল্যুশন ছবি আপলোড করার ক্ষেত্রেও ব্যবহারকারীদের আরও বেশি সচেতন হওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।