সাপ্তাহিক আমেরিকা বাংলা ই-পেপার
তথ্যপ্রযুক্তি

সামাজিক মাধ্যমের ছবির ‘ভিক্টরি সাইন’ থেকে যেভাবে চুরি হচ্ছে ফিঙ্গারপ্রিন্ট

ইসতিয়াক আহমেদ প্রকাশ: জুন ২, ২০২৬ ১৬:৩৯
ছবি:  আমেরিকা বাংলা অনলাইন গ্রাফিক্স
ছবি: আমেরিকা বাংলা অনলাইন গ্রাফিক্স

বন্ধুদের সাথে আড্ডায় কিংবা কোনো সাফল্যের আনন্দে ‘ভিক্টরি’ বা ‘লাইক’ সাইন দিয়ে ছবি তুলে ফেসবুক বা ইনস্টাগ্রামে আপলোড করা আমাদের দৈনন্দিন জীবনের সাধারণ একটি অভ্যাসে পরিণত হয়েছে। কিন্তু আপনার আপলোড করা এই হাই-রেজল্যুশনের ছবিগুলোতেই হয়তো লুকিয়ে আছে মারাত্মক এক সাইবার ঝুঁকি। 

 

আপনি যখন ছবিতে লাইক-কমেন্টের বন্যায় ভাসছেন, ঠিক তখনই হয়তো স্ক্রিনের ওপাশে থাকা কোনো হ্যাকার আপনার ছবির সেই আঙুল জুম করে খুঁটিয়ে দেখছে। অত্যাধুনিক কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই প্রযুক্তি ব্যবহার করে আঙুলের সেই রেখাগুলো বিশ্লেষণ করে তারা তৈরি করে ফেলতে পারে আপনার আঙুলের ছাপের হুবহু ক্লোন। পাসওয়ার্ড চুরি হলে তা সহজে বদলে ফেলা যায়, কিন্তু আঙুলের ছাপের মতো বায়োমেট্রিক ডেটা একবার হ্যাকারের হাতে চলে গেলে তা আর পরিবর্তনের কোনো উপায় থাকে না।

 

পুরো বিষয়টি শুনতে হলিউডের কোনো স্পাই থ্রিলার বা ‘মিশন ইম্পসিবল’ সিনেমার মতো মনে হলেও, বাস্তবে এর সত্যতা রয়েছে। মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিবিএস নিউজের এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এ সংক্রান্ত বেশ কিছু পোস্ট সাধারণ মানুষের মনে গভীর উদ্বেগের জন্ম দিয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, কারিগরিভাবে ছবি থেকে ফিঙ্গারপ্রিন্ট চুরি করা সম্পূর্ণ সম্ভব। 

 

কেউ যদি হাই-রেজল্যুশনের ক্যামেরায় খুব কাছ থেকে দুই আঙুল উঁচিয়ে ছবি তোলেন, তবে এআই টুলের সাহায্যে সেই আঙুলের রেখাগুলোকে স্পষ্ট করে ক্লোন তৈরি করা যায়। পেনসিলভানিয়ার কার্নেগি মেলন ইউনিভার্সিটির ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড কম্পিউটার ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের অধ্যাপক ব্যাস শেখরও বিষয়টির তাত্ত্বিক সত্যতা নিশ্চিত করে জানিয়েছেন, মানুষ যখন হাই-রেজল্যুশনের ছবি পোস্ট করে, তখন এই ঝুঁকি আরও বেড়ে যায়।

 

এর আগে ২০১৪ সালে এক হ্যাকার সংবাদ সম্মেলনে তোলা ছবি থেকে জার্মানির তৎকালীন প্রতিরক্ষামন্ত্রীর ফিঙ্গারপ্রিন্ট ক্লোন করার দাবি করে রীতিমতো চাঞ্চল্য সৃষ্টি করেছিলেন।

 

তবে সাইবার নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞরা সাধারণ মানুষকে এখনই আতঙ্কিত না হওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন। নিউইয়র্ক ইউনিভার্সিটির অধ্যাপক জাস্টিন ক্যাপোসের মতে, একজন সাধারণ মানুষের ক্ষেত্রে এই ধরনের সাইবার হামলার শিকার হওয়ার ঝুঁকি খুবই সামান্য। কারণ, কেবল ছবি থেকে আঙুলের ছাপ পেলেই হবে না, ব্যাংক অ্যাকাউন্ট বা ফোন হ্যাক করতে হলে হ্যাকারকে শারীরিকভাবে ওই ব্যক্তির ডিভাইস বা বায়োমেট্রিক স্ক্যানারের কাছাকাছি পৌঁছাতে হবে।

 

সাধারণত অতি গুরুত্বপূর্ণ বা ‘হাই-ভ্যালু’ ব্যক্তিরাই হ্যাকারদের এমন সুনির্দিষ্ট লক্ষ্যের শিকার হয়ে থাকেন। সাধারণ মানুষের ক্ষেত্রে ফিশিং স্ক্যাম বা ম্যালওয়্যার লিংকের মাধ্যমে প্রতারিত হওয়ার আশঙ্কাই তুলনামূলকভাবে অনেক বেশি বলে মনে করেন এই বিশেষজ্ঞ।

 

তারপরও ডিজিটাল যুগে নিজেদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রযুক্তিবিদরা কিছু বাড়তি সতর্কতার কথা স্মরণ করিয়ে দিয়েছেন। শুধুমাত্র আঙুলের ছাপের ওপর নির্ভর না করে অ্যাকাউন্টে টু-ফ্যাক্টর অথেন্টিকেশন (টু-এফএ) বা দ্বিস্তর বিশিষ্ট নিরাপত্তা ব্যবস্থা চালু রাখা সবচেয়ে কার্যকর সমাধান। এছাড়াও গুগল বা মাইক্রোসফটের মতো প্রতিষ্ঠানের অথেন্টিকেটর অ্যাপস, মাল্টি-ফ্যাক্টর বায়োমেট্রিকস এবং এনক্রিপ্টেড পাসকি ব্যবহার করা যেতে পারে।

 

একইসাথে, খুব কাছ থেকে হাতের তালু বা আঙুলের ছাপ স্পষ্ট বোঝা যায় এমনভাবে ‘ভিক্টরি’ বা ‘লাইক’ সাইন দিয়ে ছবি তোলা থেকে বিরত থাকার পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ‘র’ ফাইল বা অরিজিনাল হাই-রেজল্যুশন ছবি আপলোড করার ক্ষেত্রেও ব্যবহারকারীদের আরও বেশি সচেতন হওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।


© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।

জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

তথ্যপ্রযুক্তি

View more
মানুষ না হয়েও সোশ্যাল মিডিয়া থেকে কোটি কোটি টাকা আয় করছে এআই ইনফ্লুয়েন্সাররা। ছবি: সংগৃহীত
আপনি যখন সংসার চালাতে হিমশিম খাচ্ছেন, তখন কোটি টাকা কামাচ্ছে এআই ইনফ্লুয়েন্সাররা

সাধারণ মানুষ যখন দৈনন্দিন জীবনের খরচ মেটাতে গিয়ে রীতিমতো হিমশিম খাচ্ছে, তখন ভার্চুয়াল জগতে ঘটছে এক অদ্ভুত ঘটনা। রক্তমাংসের কোনো মানুষ নয়, বরং একটি অ্যানিমেটেড কার্টুন চরিত্র আপনার চেয়েও কয়েক গুণ বেশি আয় করছে। এটি শুনতে বৈজ্ঞানিক কল্পকাহিনির মতো মনে হলেও বর্তমান বাস্তবতায় এটাই সত্যি। সোশ্যাল মিডিয়ায় এখন রাজত্ব করছে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই দ্বারা তৈরি বিভিন্ন ইনফ্লুয়েন্সার।   এমনই একটি জনপ্রিয় চরিত্র হলো নোবডি সসেজ। এটি মূলত অ্যানিমেশনের মাধ্যমে তৈরি একটি সসেজ, যার হাত পা রয়েছে এবং এটি নাচানাচি করে। মজার ব্যাপার হলো, টিকটকে এই চরিত্রটির অনুসারীর সংখ্যা ২ কোটি ২১ লাখেরও বেশি। তার ঝুলিতে রয়েছে নামিদামি সব ব্র্যান্ডের চুক্তি। এমনকি ইনস্টাগ্রামে বিজ্ঞাপনের জন্য সে যে পরিমাণ অর্থ পায়, তা অনেক বাস্তব অভিনয়শিল্পীর চেয়েও বেশি। চরিত্রটির বাস্তবে কোনো অস্তিত্ব নেই, তবে তার আয় করা অর্থের পুরোটাই বাস্তব।   ডিজিটাল যুগের এই নতুন ধারাকে বলা হচ্ছে ভার্চুয়াল ইনফ্লুয়েন্সার ইকোনমি। এখানে লু অব মাগালু, বিশ্বখ্যাত বার্বি এবং জ্যাঙ্কি ও গুগিমনের মতো কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তায় তৈরি চরিত্রগুলো কোটি কোটি মানুষের মনোযোগ আকর্ষণ করছে। তারা শুধু অনুসারীই বাড়াচ্ছে না, সেই সঙ্গে আয় করছে মিলিয়ন মিলিয়ন ডলার। এগুলো কোনো সাধারণ থ্রিডি কার্টুন নয়, বরং এদের এমনভাবে তৈরি করা হয়েছে যেন তারা মানুষের মতো জীবনযাপন করে, বিভিন্ন পণ্যের প্রচার করে এবং ব্র্যান্ডের প্রতি ক্রেতাদের বিশ্বস্ততা ধরে রাখে। আর এই কৌশলটি দারুণভাবে সফলও হচ্ছে।   প্রযুক্তিবিষয়ক প্ল্যাটফর্ম ক্যাপউইং সম্প্রতি এসব ভার্চুয়াল চরিত্রের অনুসারীর সংখ্যা এবং ইনস্টাগ্রামে তাদের বিজ্ঞাপনের হারের ওপর ভিত্তি করে একটি পরিসংখ্যান প্রকাশ করেছে। সংবাদমাধ্যম ভাইসের প্রতিবেদনে উঠে আসা সেই তথ্য অনুযায়ী, আয়ের দিক থেকে তালিকার শীর্ষে রয়েছে ব্রাজিলের জনপ্রিয় চরিত্র লু অব মাগালু। শুরুতে এটি একটি রিটেইল কোম্পানির মাসকট হিসেবে ব্যবহৃত হলেও এখন সে পুরোদস্তুর একজন সেলিব্রিটি। গত এক বছরে লু ৭৪টি স্পনসরড বা অর্থের বিনিময়ে করা বিজ্ঞাপন পোস্ট করেছে। এর মাধ্যমে তার আনুমানিক আয় হয়েছে ২৫ লাখ মার্কিন ডলার, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় কয়েক কোটি টাকার সমান।   মাগালু কোম্পানির সোশ্যাল মিডিয়া ম্যানেজার পেদ্রো আলভিম জানান, লুর জনপ্রিয়তার মূল কারণ হলো তাকে মানুষের মতো করে উপস্থাপন করা হয়েছে। তার প্রতিটি ছবির পেছনে একটি গল্প থাকে। সামাজিক মাধ্যমে দেখা যায় লু স্মুদি বানাচ্ছে বা সুইমিংপুলের পাশে বিশ্রাম নিচ্ছে। এসব দৃশ্য দর্শকদের আকৃষ্ট করে।   তালিকার দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে নোবডি সসেজ। ধারণা করা হয়, একটি মাত্র স্পনসরড পোস্টের জন্য সে প্রায় ৩৩ হাজার ৮৮০ ডলার আয় করে। যদিও গত এক বছরে সে মাত্র একটি পোস্ট করেছে। অর্থাৎ, শুধুমাত্র একটি ভিডিও আপলোড করেই সে লাখ টাকা পকেটে পুরেছে। অন্যদিকে বার্বির ইনস্টাগ্রামে ৩৫ লাখ অনুসারী রয়েছে। তবে সে অন্যান্য পণ্যের খুব একটা প্রচার করে না, কারণ বার্বি নিজেই একটি বড় ব্র্যান্ড।   টিকটকেও পিছিয়ে নেই এসব ভার্চুয়াল চরিত্র। সুপারপ্লাস্টিক নামের একটি কোম্পানির তৈরি অ্যানিমেটেড চরিত্র জ্যাঙ্কি এবং গুগিমন টিকটকে তুমুল জনপ্রিয়। তাদের অনুসারীর সংখ্যা ১ কোটি ১৬ লাখ। তারা ইতিমধ্যে প্রাইম ভিডিওর সঙ্গে একটি চুক্তিও সম্পন্ন করেছে। সুপারপ্লাস্টিকের প্রতিষ্ঠাতা পল বুডনিটজ মনে করেন, বাস্তব জগতের অনেক তারকার চেয়ে গুগিমন কোনো অংশে কম নয়।   এই পুরো বিষয়টি নিয়ে সাধারণ মানুষের মনে মিশ্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে। একদিকে মানুষ যখন নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের দাম মেটাতে হিমশিম খাচ্ছে, তখন একটি কাল্পনিক চরিত্র অ্যালগরিদমের সাহায্যে কোটি টাকা আয় করে নিচ্ছে। ভার্চুয়াল ইনফ্লুয়েন্সারদের কোনো বয়স বাড়ে না, তারা কখনো বিতর্কে জড়িয়ে বাতিল হয়ে যায় না বা তাদের কোনো সবেতন ছুটির প্রয়োজন হয় না। আর ঠিক এ কারণেই বড় বড় কোম্পানিগুলো এখন তাদের দিকে ঝুঁকছে। এটি যেমন চমকপ্রদ, তেমনি ভবিষ্যতের জন্য কিছুটা ভীতিকরও বটে।   তথ্যসূত্র: ভাইস, ক্যাপউইং, অ্যাক্সিওস ও সংশ্লিষ্ট গবেষণা

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: সেপ্টেম্বর ৬, ২০২৬ ০:৭
অ্যাপলের প্রথম ফোল্ডেবল আইফোনের দাম ছাড়াতে পারে ২ হাজার ডলার!

অ্যাপলের প্রথম ফোল্ডেবল আইফোনের দাম ছাড়াতে পারে ২ হাজার ডলার!

মায়ের প্রভিডেন্ট ফান্ড তুলতে ঘুষ, ১৭ বছরের শাহেদ বানালেন ‘ঘুষ.সাইট’

মায়ের প্রভিডেন্ট ফান্ড তুলতে ঘুষ, ১৭ বছরের শাহেদ বানালেন ‘ঘুষ.সাইট’

মেটার প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মার্ক জাকারবার্গ। ছবি: সংগৃহীত

৬০% কর্মী ছাঁটাই করে এআই বসানোর পরিকল্পনা জাকারবার্গের, কর্মীদের ক্ষোভে শেষ পর্যন্ত পিছু হটলেন

দুই দশক পরও অনলাইনে মিলছে একসময়ের তুমুল জনপ্রিয় নোকিয়া ১১০০
দুই দশক পরও অনলাইনে মিলছে একসময়ের তুমুল জনপ্রিয় নোকিয়া ১১০০

একসময় মোবাইল ফোনের বাজারে নোকিয়া ১১০০ ছিল পরিচিত এক নাম। বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ব্যাপক জনপ্রিয় হয়ে ওঠা এই বাটন ফোনটি এখন স্মার্টফোনের যুগে অনেকটাই অতীতের স্মৃতি। তবে প্রায় দুই দশক পরও নোকিয়া ১১০০ অনলাইনে কেনাবেচা হচ্ছে। পুরোনো এই ফোনটি কেউ সংগ্রহের জন্য, আবার কেউ সেই সময়ের স্মৃতি ফিরে পেতে কিনতে চাইলে এখনো বিভিন্ন অনলাইন মার্কেটপ্লেসে সেট খুঁজে পাওয়া যায়।   নোকিয়া ১১০০ বাজারে আসে ২০০৩ সালে। ফোনটি তৈরি করা হয়েছিল সহজ ব্যবহার, কম দাম এবং টেকসই গঠনের ওপর গুরুত্ব দিয়ে। এতে ছিল সাদাকালো ডিসপ্লে, কল ও এসএমএসের সুবিধা, অ্যালার্ম, ক্যালকুলেটর, গেম এবং সবচেয়ে আলোচিত ফিচারগুলোর একটি টর্চলাইট। শক্তপোক্ত বডি ও সহজ ব্যবহারের কারণে ফোনটি দ্রুত সাধারণ মানুষের কাছে জনপ্রিয় হয়ে ওঠে।   জনপ্রিয়তার সবচেয়ে বড় প্রমাণ পাওয়া যায় এর বিক্রির পরিসংখ্যানে। গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডসের তথ্য অনুযায়ী, নোকিয়া ১১০০-এর ২৫ কোটির বেশি ইউনিট বিক্রি হয়েছে। এই বিক্রির পরিমাণের কারণে মডেলটি বিশ্বের সবচেয়ে বেশি বিক্রি হওয়া মোবাইল ফোনের রেকর্ড ধরে রেখেছে। গিনেসের হিসাবে, বিক্রির দিক থেকে নোকিয়া ১১০০ তার সময়ের নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী নোকিয়ার ৩২১০ ও ৩৩১০ এবং মটোরোলা রেজর ভি৩-এর চেয়েও অনেক এগিয়ে ছিল।    অর্থাৎ ২৫ কোটি ইউনিট বিক্রি মানে বিশ্বের কোটি কোটি মানুষ কোনো না কোনো সময় এই ফোনটি ব্যবহার করেছেন। বিশেষ করে উন্নয়নশীল দেশগুলোতে মোবাইল যোগাযোগ দ্রুত ছড়িয়ে পড়ার সময় নোকিয়া ১১০০ বড় ভূমিকা রাখে। কম দাম, দীর্ঘ ব্যাটারি ব্যাকআপ, সহজ ব্যবহার এবং তুলনামূলকভাবে শক্তপোক্ত নকশা ফোনটির জনপ্রিয়তার অন্যতম কারণ ছিল।    নোকিয়া ১১০০-এর জনপ্রিয়তার আরেকটি কারণ ছিল এর সময়োপযোগী নকশা। তখনকার সাধারণ ব্যবহারকারীদের জন্য মোবাইল ফোনের মূল প্রয়োজন ছিল ফোন করা, এসএমএস পাঠানো এবং দীর্ঘ সময় চার্জ ছাড়া ফোন ব্যবহার করা। ইন্টারনেট, ক্যামেরা, অ্যাপ কিংবা টাচস্ক্রিন তখনো স্মার্টফোনের মতো দৈনন্দিন প্রয়োজন হয়ে ওঠেনি। ফলে নোকিয়া ১১০০ অনেকের কাছে প্রয়োজনীয় মোবাইল ফোনের প্রায় আদর্শ উদাহরণ হয়ে উঠেছিল।   নোকিয়া নিজেও ২০০৫ সালের এক প্রতিবেদনে ১১০০ মডেলের ভালো পারফরম্যান্সের কথা উল্লেখ করেছিল। কোম্পানির ওই বছরের চতুর্থ প্রান্তিকের প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল, নোকিয়া ১১০০ এবং নোকিয়া ৬০১০ ভালো পারফর্ম করেছে।    সময়ের সঙ্গে মোবাইল প্রযুক্তিতে বড় পরিবর্তন আসে। রঙিন ডিসপ্লে, ক্যামেরা, মোবাইল ইন্টারনেট এবং পরে স্মার্টফোনের ব্যাপক বিস্তারের কারণে নোকিয়া ১১০০-এর মতো বাটন ফোন ধীরে ধীরে বাজারের মূলধারা থেকে সরে যায়। কিন্তু বিক্রির রেকর্ডের কারণে ফোনটি মোবাইল প্রযুক্তির ইতিহাসে বিশেষ জায়গা করে নিয়েছে।   আজও পুরোনো নোকিয়া ১১০০ সম্পূর্ণভাবে হারিয়ে যায়নি। বিভিন্ন অনলাইন মার্কেটপ্লেসে ব্যবহৃত, পুরোনো এবং সংস্কার করা সেট পাওয়া যায়। ফলে কেউ চাইলে এখনো এই ঐতিহাসিক ফোনটি সংগ্রহ করতে পারেন। তবে অনলাইনে কেনার ক্ষেত্রে ফোনটি আসল কি না, সেটি ব্যবহৃত নাকি সংস্কার করা, এর অবস্থা কেমন এবং বর্তমান মোবাইল নেটওয়ার্কে সেটি কাজ করবে কি না, তা যাচাই করা জরুরি।   ২০০৩ সালে বাজারে আসা একটি সাধারণ বাটন ফোন কীভাবে ২৫ কোটির বেশি মানুষের হাতে পৌঁছে বিশ্বের সবচেয়ে বেশি বিক্রি হওয়া মোবাইল ফোনের রেকর্ড গড়েছিল, নোকিয়া ১১০০ তারই একটি বড় উদাহরণ। স্মার্টফোনের আধুনিক যুগে ফোনটির প্রযুক্তি হয়তো অনেক পুরোনো, কিন্তু নোকিয়া ১১০০ এখনো কোটি কোটি মানুষের কাছে একটি বিশেষ নস্টালজিয়ার নাম।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: আগস্ট ২৬, ২০২৬ ৮:৩০
চীনে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক বা এআই সঙ্গীর ক্রমবর্ধমান ব্যবহার ও মানসিক নির্ভরতা নিয়ে নতুন কড়াকড়ি আরোপ করেছে সরকার। ছবি: সংগৃহীত

চীনে এআই সঙ্গী নিয়ে কড়াকড়ি, তরুণদের বিয়ে-পরিবার থেকে দূরে যাওয়ার শঙ্কা বাড়ছে

প্রচলিত কাঠামো বদলে ৮০০ জনের বেশি যাত্রী বহনে সক্ষম সম্পূর্ণ নতুন নকশার উড়োজাহাজ তৈরি করছে চীন। ছবি: সংগৃহীত

চীনের নতুন ‘ফ্লাইং উইং’ বিমান, বি-২ বোমারু বিমানের চেয়ে ১.৬ গুণ বড় ডানায় ৮০০ যাত্রী বহনের পরিকল্পনা

অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখছেন ফ্যাসেটের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা রাফি হোসাইন। ছবি: সংগৃহীত

১ বিলিয়ন ডলারের ভ্যালুয়েশনে ফ্যাসেট, বিশ্ব ইউনিকর্নের কাতারে বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত উদ্যোক্তা

খাবারের নতুন ও টেকসই উৎস খুঁজতে গিয়ে বিজ্ঞানীদের নজরে এসেছে প্যাসিফিক বিটল ককরোচ। ছবি: সংগৃহীত
গরুর দুধের চেয়ে ৪ গুণ পুষ্টিকর তেলাপোকার দুধ, হতে পারে ভবিষ্যতের সুপারফুড

খাবারের নতুন ও টেকসই উৎস খুঁজতে গিয়ে বিজ্ঞানীদের নজরে এসেছে এমন এক উপাদান, যা শুনলেই অনেকের কাছে অবিশ্বাস্য মনে হতে পারে। প্যাসিফিক বিটল ককরোচ নামে পরিচিত এক ধরনের তেলাপোকার শরীর থেকে তৈরি দুধের মতো পুষ্টিকর পদার্থে রয়েছে প্রোটিন, চর্বি ও বিভিন্ন প্রয়োজনীয় অ্যামিনো অ্যাসিড। তবে এটি এখনো মানুষের খাবার হিসেবে ব্যবহারের পর্যায়ে পৌঁছায়নি।    এই তেলাপোকার বৈজ্ঞানিক নাম ডিপ্লোপ্টেরা পাংকটাটা। অন্য অনেক তেলাপোকার মতো ডিম পাড়ার বদলে এরা জীবন্ত বাচ্চা জন্ম দেয়। মায়ের শরীরে বেড়ে ওঠা ভ্রূণকে পুষ্টি দিতে বিশেষ ধরনের দুধসদৃশ তরল নিঃসৃত হয়, যা পরে ভ্রূণের অন্ত্রে প্রোটিন ক্রিস্টাল হিসেবে জমা হয়। গবেষণায় এসব ক্রিস্টালে উচ্চমাত্রার পুষ্টি উপাদান শনাক্ত করা হয়েছে।    গবেষণায় দেখা গেছে, এই পদার্থে লিপোক্যালিনজাতীয় প্রোটিন, অ্যামিনো অ্যাসিড, চর্বি ও কার্বোহাইড্রেট রয়েছে। এসব প্রোটিন ভ্রূণের বেড়ে ওঠার সময় প্রয়োজনীয় পুষ্টি সরবরাহে ভূমিকা রাখে। এ কারণেই বিজ্ঞানীদের একটি অংশ মনে করছেন, ভবিষ্যতে এর নির্দিষ্ট প্রোটিন বা পুষ্টি উপাদান খাদ্য প্রযুক্তিতে কাজে লাগানোর সম্ভাবনা রয়েছে।    তবে এটিকে এখনই ‘সুপারফুড’ বা মানুষের জন্য স্বাস্থ্যকর খাবার হিসেবে ধরে নেওয়ার সুযোগ নেই। গবেষণায় এর পুষ্টিগুণ নিয়ে আগ্রহ তৈরি হলেও মানুষের দীর্ঘমেয়াদি ব্যবহারের নিরাপত্তা, উৎপাদন পদ্ধতি এবং নিয়ন্ত্রক অনুমোদন নিয়ে আরও গবেষণা প্রয়োজন। ২০১৮ সালের একটি গবেষণা পর্যালোচনাতেও ভবিষ্যৎ গবেষণায় এর সঠিক গঠন ও মানুষের স্বাস্থ্যে সম্ভাব্য প্রভাব নির্ণয়ের প্রয়োজনীয়তার কথা বলা হয়েছিল।    সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জগুলোর একটি হলো ব্যাপক পরিমাণে এই উপাদান সংগ্রহ করা। একটি তেলাপোকা থেকে সরাসরি দুধ সংগ্রহ করা বাণিজ্যিকভাবে বাস্তবসম্মত নয়। তাই বিজ্ঞানীরা সরাসরি তেলাপোকা থেকে সংগ্রহের বদলে এর পুষ্টিকর প্রোটিনের গঠন ল্যাবরেটরিতে উৎপাদনের সম্ভাবনা নিয়েও কাজ করছেন।   ফলে তেলাপোকার ‘দুধ’ এখনো মানুষের দৈনন্দিন খাবার নয়। তবে এর অস্বাভাবিক পুষ্টি কাঠামো ভবিষ্যতের খাদ্য প্রযুক্তি ও বিকল্প পুষ্টির উৎস নিয়ে গবেষণায় নতুন সম্ভাবনার দরজা খুলে দিয়েছে।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: আগস্ট ২২, ২০২৬ ১০:২০
ক্যামেরা বা মাইক্রোফোন ছাড়াই ঘরের ভেতরের মানুষের উপস্থিতি ও কর্মকাণ্ড শনাক্ত করছে ওয়াই-ফাই সংবেদন প্রযুক্তি। ছবি: সংগৃহীত

ক্যামেরা ছাড়াই ঘরের ভেতর নজরদারি, এআইয়ের চোখ হয়ে উঠছে ওয়াই-ফাই রাউটার

শিশু ও কিশোরদের সামাজিকমাধ্যমে আসক্ত করার অভিযোগে যুক্তরাষ্ট্রে মেটার বিরুদ্ধে ট্রিলিয়ন ডলারের গুরুত্বপূর্ণ মামলার বিচার শুরু হয়েছে। ছবি: সংগৃহীত

শিশুদের সামাজিকমাধ্যমে আসক্ত করার অভিযোগে আদালতে মেটা

সেন্ট অ্যান্ডরুজ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী। ছবি:সংগৃহীত

সম্পূর্ণ রিসার্চ নিজে লিখেও, নিখুঁত হওয়ায় এআই ব্যবহারের অভিযোগ শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে

0 Comments