তথ্যপ্রযুক্তি

সামাজিক মাধ্যমের ছবির ‘ভিক্টরি সাইন’ থেকে যেভাবে চুরি হচ্ছে ফিঙ্গারপ্রিন্ট

ইসতিয়াক আহমেদ প্রকাশ: জুন ২, ২০২৬ ১৬:৩৯
ছবি:  আমেরিকা বাংলা অনলাইন গ্রাফিক্স
ছবি: আমেরিকা বাংলা অনলাইন গ্রাফিক্স

বন্ধুদের সাথে আড্ডায় কিংবা কোনো সাফল্যের আনন্দে ‘ভিক্টরি’ বা ‘লাইক’ সাইন দিয়ে ছবি তুলে ফেসবুক বা ইনস্টাগ্রামে আপলোড করা আমাদের দৈনন্দিন জীবনের সাধারণ একটি অভ্যাসে পরিণত হয়েছে। কিন্তু আপনার আপলোড করা এই হাই-রেজল্যুশনের ছবিগুলোতেই হয়তো লুকিয়ে আছে মারাত্মক এক সাইবার ঝুঁকি। 

 

আপনি যখন ছবিতে লাইক-কমেন্টের বন্যায় ভাসছেন, ঠিক তখনই হয়তো স্ক্রিনের ওপাশে থাকা কোনো হ্যাকার আপনার ছবির সেই আঙুল জুম করে খুঁটিয়ে দেখছে। অত্যাধুনিক কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই প্রযুক্তি ব্যবহার করে আঙুলের সেই রেখাগুলো বিশ্লেষণ করে তারা তৈরি করে ফেলতে পারে আপনার আঙুলের ছাপের হুবহু ক্লোন। পাসওয়ার্ড চুরি হলে তা সহজে বদলে ফেলা যায়, কিন্তু আঙুলের ছাপের মতো বায়োমেট্রিক ডেটা একবার হ্যাকারের হাতে চলে গেলে তা আর পরিবর্তনের কোনো উপায় থাকে না।

 

পুরো বিষয়টি শুনতে হলিউডের কোনো স্পাই থ্রিলার বা ‘মিশন ইম্পসিবল’ সিনেমার মতো মনে হলেও, বাস্তবে এর সত্যতা রয়েছে। মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিবিএস নিউজের এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এ সংক্রান্ত বেশ কিছু পোস্ট সাধারণ মানুষের মনে গভীর উদ্বেগের জন্ম দিয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, কারিগরিভাবে ছবি থেকে ফিঙ্গারপ্রিন্ট চুরি করা সম্পূর্ণ সম্ভব। 

 

কেউ যদি হাই-রেজল্যুশনের ক্যামেরায় খুব কাছ থেকে দুই আঙুল উঁচিয়ে ছবি তোলেন, তবে এআই টুলের সাহায্যে সেই আঙুলের রেখাগুলোকে স্পষ্ট করে ক্লোন তৈরি করা যায়। পেনসিলভানিয়ার কার্নেগি মেলন ইউনিভার্সিটির ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড কম্পিউটার ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের অধ্যাপক ব্যাস শেখরও বিষয়টির তাত্ত্বিক সত্যতা নিশ্চিত করে জানিয়েছেন, মানুষ যখন হাই-রেজল্যুশনের ছবি পোস্ট করে, তখন এই ঝুঁকি আরও বেড়ে যায়।

 

এর আগে ২০১৪ সালে এক হ্যাকার সংবাদ সম্মেলনে তোলা ছবি থেকে জার্মানির তৎকালীন প্রতিরক্ষামন্ত্রীর ফিঙ্গারপ্রিন্ট ক্লোন করার দাবি করে রীতিমতো চাঞ্চল্য সৃষ্টি করেছিলেন।

 

তবে সাইবার নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞরা সাধারণ মানুষকে এখনই আতঙ্কিত না হওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন। নিউইয়র্ক ইউনিভার্সিটির অধ্যাপক জাস্টিন ক্যাপোসের মতে, একজন সাধারণ মানুষের ক্ষেত্রে এই ধরনের সাইবার হামলার শিকার হওয়ার ঝুঁকি খুবই সামান্য। কারণ, কেবল ছবি থেকে আঙুলের ছাপ পেলেই হবে না, ব্যাংক অ্যাকাউন্ট বা ফোন হ্যাক করতে হলে হ্যাকারকে শারীরিকভাবে ওই ব্যক্তির ডিভাইস বা বায়োমেট্রিক স্ক্যানারের কাছাকাছি পৌঁছাতে হবে।

 

সাধারণত অতি গুরুত্বপূর্ণ বা ‘হাই-ভ্যালু’ ব্যক্তিরাই হ্যাকারদের এমন সুনির্দিষ্ট লক্ষ্যের শিকার হয়ে থাকেন। সাধারণ মানুষের ক্ষেত্রে ফিশিং স্ক্যাম বা ম্যালওয়্যার লিংকের মাধ্যমে প্রতারিত হওয়ার আশঙ্কাই তুলনামূলকভাবে অনেক বেশি বলে মনে করেন এই বিশেষজ্ঞ।

 

তারপরও ডিজিটাল যুগে নিজেদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রযুক্তিবিদরা কিছু বাড়তি সতর্কতার কথা স্মরণ করিয়ে দিয়েছেন। শুধুমাত্র আঙুলের ছাপের ওপর নির্ভর না করে অ্যাকাউন্টে টু-ফ্যাক্টর অথেন্টিকেশন (টু-এফএ) বা দ্বিস্তর বিশিষ্ট নিরাপত্তা ব্যবস্থা চালু রাখা সবচেয়ে কার্যকর সমাধান। এছাড়াও গুগল বা মাইক্রোসফটের মতো প্রতিষ্ঠানের অথেন্টিকেটর অ্যাপস, মাল্টি-ফ্যাক্টর বায়োমেট্রিকস এবং এনক্রিপ্টেড পাসকি ব্যবহার করা যেতে পারে।

 

একইসাথে, খুব কাছ থেকে হাতের তালু বা আঙুলের ছাপ স্পষ্ট বোঝা যায় এমনভাবে ‘ভিক্টরি’ বা ‘লাইক’ সাইন দিয়ে ছবি তোলা থেকে বিরত থাকার পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ‘র’ ফাইল বা অরিজিনাল হাই-রেজল্যুশন ছবি আপলোড করার ক্ষেত্রেও ব্যবহারকারীদের আরও বেশি সচেতন হওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।

জনপ্রিয় সংবাদ
যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

দেশের প্রথম ৪০ তলা ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর সম্পন্ন

বাংলাদেশের আবাসন শিল্পে এক নতুন ইতিহাস রচিত হলো। রাজধানীর তেজগাঁও শিল্প এলাকায় নির্মিত দেশের প্রথম ৪০ তলা বিশিষ্ট আকাশচুম্বী বাণিজ্যিক ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করেছে শান্তা হোল্ডিংস। ৫০০ ফুট উচ্চতার এই আইকনিক ভবনটি এখন দেশের সর্বোচ্চ সম্পন্ন হওয়া ইমারত। গত শনিবার (১৮ এপ্রিল) ভবনের ৪০তম তলায় আয়োজিত এক আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এটি হস্তান্তর করা হয়। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের চেয়ারম্যান খন্দকার মনির উদ্দিন, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, স্থপতি এহসান খানসহ প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, ভূমি মালিক এবং গ্রাহকরা উপস্থিত ছিলেন। স্থাপত্যশৈলী ও আধুনিক প্রযুক্তি:‘শান্তা পিনাকল’ শুধুমাত্র উচ্চতার কারণেই অনন্য নয়, বরং এটি আধুনিক নির্মাণশৈলী ও প্রযুক্তির এক অনন্য সমন্বয়। এটি বাংলাদেশের প্রথম ভবন যা পরিবেশবান্ধব স্থাপত্যের জন্য আন্তর্জাতিক ‘লিড প্ল্যাটিনাম’ (LEED Platinum) স্বীকৃতি পেয়েছে। সিঙ্গাপুরভিত্তিক বিখ্যাত ইঞ্জিনিয়ারিং প্রতিষ্ঠান ‘মেইনহার্ট’ (Meinhardt) এর সহায়তায় ভবনটির স্ট্রাকচারাল ডিজাইন এবং ভূমিকম্প প্রতিরোধক ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে। বিশেষ বৈশিষ্ট্যসমূহ: উন্নত লিফট ব্যবস্থা: ভবনটিতে রয়েছে ৮টি দ্রুতগামী লিফট, যা প্রতি সেকেন্ডে ৪ মিটার উচ্চতায় উঠতে সক্ষম। এটি দেশের দ্রুততম ভার্টিক্যাল ট্রান্সপোর্ট ব্যবস্থা। পরিবেশ ও সুরক্ষা: ভবনে ব্যবহৃত হয়েছে ৩৬ মিমি পুরুত্বের ডাবল গ্লেজড গ্লাস, যা তাপ ও শব্দ নিরোধক। এছাড়া এটি দেশের প্রথম ‘উইন্ড টানেল টেস্ট’ করা ভবন, যা প্রতিকূল আবহাওয়ায় এর স্থায়িত্ব নিশ্চিত করে। আইবিএমএস প্রযুক্তি: পুরো ভবনটি একটি ইন্টেলিজেন্ট বিল্ডিং ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (iBMS) দ্বারা পরিচালিত, যা সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা ও জ্বালানি সাশ্রয় নিশ্চিত করবে। অগ্নি নিরাপত্তা: আন্তর্জাতিক এনএফপিএ (NFPA) স্ট্যান্ডার্ড অনুসরণ করে এখানে অত্যাধুনিক অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা স্থাপন করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর দেশের রিয়েল এস্টেট খাতের সক্ষমতার এক বড় প্রমাণ। এটি শুধুমাত্র তেজগাঁও নয়, বরং পুরো ঢাকার বাণিজ্যিক পরিবেশকে বিশ্বমানের স্তরে নিয়ে যাবে। দেশের ইতিহাসে প্রথমবার অ্যালুমিনিয়াম ফর্মওয়ার্ক ব্যবহারের মাধ্যমে মাত্র সাত দিনে এক একটি তলার ছাদ ঢালাইয়ের রেকর্ড গড়ে এই প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। ঢাকার আকাশসীমায় নতুন এই ল্যান্ডমার্ক দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং আধুনিক নগরায়নের এক শক্তিশালী প্রতীক হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে।

৩০ মার্চ থেকে কার্যকর হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন ভিসা নিয়ম: যা জানা প্রয়োজন

যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা প্রত্যাশীদের জন্য কঠোর হচ্ছে নিয়মাবলী। আগামী ৩০ মার্চ থেকে কার্যকর হতে যাচ্ছে নতুন ভিসা রুলস, যেখানে আবেদনকারীদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের প্রোফাইল পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই বা স্ক্রিনিং করা হবে। মার্কিন প্রশাসনের এই নতুন পদক্ষেপে বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ভিসা প্রত্যাশীদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। নতুন এই নিয়ম মূলত অ-অভিবাসী (Non-immigrant) এবং অভিবাসী (Immigrant) উভয় ধরণের ভিসার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হতে পারে। বিশেষ করে যারা ট্যুরিস্ট ভিসা, স্টুডেন্ট ভিসা এবং কাজের সন্ধানে এইচ-১বি (H-1B) ভিসার জন্য আবেদন করবেন, তাদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের তথ্য প্রদান বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে। আবেদনকারীদের গত পাঁচ বছরের ব্যবহৃত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোর ইউজার আইডি বা হ্যান্ডেল নাম ফর্মে উল্লেখ করতে হবে। ফেসবুক, টুইটার (বর্তমানে এক্স), ইনস্টাগ্রাম এবং ইউটিউবের মতো জনপ্রিয় প্ল্যাটফর্মগুলো এই স্ক্রিনিংয়ের আওতায় থাকবে। তবে পাসওয়ার্ড দেওয়ার প্রয়োজন হবে না। মূলত আবেদনকারীর নিরাপত্তা ঝুঁকি এবং পূর্ববর্তী কোনো উসকানিমূলক বা সন্দেহজনক কর্মকাণ্ড আছে কি না, তা যাচাই করতেই এই পদক্ষেপ। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং জননিরাপত্তার স্বার্থেই এই স্ক্রিনিং প্রক্রিয়া জোরদার করা হয়েছে। কোনো ব্যক্তি যদি অতীতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে উগ্রবাদ বা আইনবিরোধী কোনো কাজে লিপ্ত থেকে থাকেন, তবে তার ভিসা আবেদন বাতিল হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হবে। ভিসা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ৩০ মার্চের পর যারা আবেদন করবেন, তাদের অবশ্যই গত ৫ বছরের ডিজিটাল ফুটপ্রিন্ট সম্পর্কে সতর্ক থাকতে হবে। কোনো ভুল তথ্য দিলে বা তথ্য গোপন করলে তা স্থায়ীভাবে ভিসা প্রত্যাখ্যাত হওয়ার কারণ হতে পারে। এছাড়া ইমেইল অ্যাড্রেস এবং ফোন নম্বর প্রদানের ক্ষেত্রেও অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এই নতুন নিয়ম চালুর ফলে ভিসা প্রক্রিয়াকরণে কিছুটা অতিরিক্ত সময় লাগতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তাই প্রয়োজনীয় কাগজপত্র এবং অনলাইন প্রোফাইল গুছিয়ে আবেদন করার পরামর্শ দিচ্ছে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো।

নাহিদা বৃষ্টির লাশ পাওয়া নিয়ে শঙ্কা কেন? দুই কারণ জানাল পুলিশ

যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডায় দক্ষিণ ফ্লোরিডা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইউএসএফ) নিখোঁজ দুই বাংলাদেশি শিক্ষার্থীর মর্মান্তিক পরিণতির খবর পাওয়া গেছে। নিখোঁজ জামিল লিমনের (২৭) মরদেহ উদ্ধার করা হলেও, পুলিশ ধারণা করছে নাহিদা বৃষ্টিকেও (২৭) নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়েছে। অভিযুক্ত ঘাতক ও লিমনের রুমমেট হিশাম আবুগারবিয়ার ফ্ল্যাটে ‘প্রচুর রক্ত’ পাওয়ার পর পুলিশ জানিয়েছে, বৃষ্টির মরদেহ উদ্ধার করা সম্ভবত আর কখনোই সম্ভব হবে না।   নিহত বৃষ্টির বড় ভাই জাহিদ হাসান প্রান্ত মার্কিন সংবাদমাধ্যম ‘১০ টাম্পা বে নিউজ’-কে জানান, শুক্রবার গভীর রাতে যুক্তরাষ্ট্রের তদন্তকারীরা বাংলাদেশে তাদের পরিবারের সাথে যোগাযোগ করেছেন। পুলিশ জানিয়েছে, লিমন ও হিশামের শেয়ার করা ফ্ল্যাটে যে পরিমাণ রক্ত পাওয়া গেছে, তা থেকে নিশ্চিত হওয়া গেছে যে বৃষ্টি আর বেঁচে নেই। পুলিশের আশঙ্কা, হত্যার পর মরদেহটি সম্ভবত ছিন্নবিচ্ছিন্ন বা টুকরো টুকরো করে ফেলা হয়েছে, যার ফলে এটি খুঁজে পাওয়া অত্যন্ত কঠিন। গত শুক্রবার সকাল সোয়া ৬টার দিকে হাওয়ার্ড ফ্র্যাঙ্কল্যান্ড ব্রিজের পাশ থেকে লিমনের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এর কয়েক ঘণ্টা পরেই সকাল ৯টার দিকে ইউএসএফ ক্যাম্পাসের কাছে লেক ফরেস্ট এলাকায় অভিযুক্ত হিশাম আবুগারবিয়ার বাড়িতে অভিযান চালায় হিলসবোরো কাউন্টি শেরিফ কার্যালয়। পুলিশ হিশামের বাড়িতে পৌঁছালে তিনি নিজেকে ঘরের ভেতর তালাবদ্ধ করে রাখেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশের বিশেষায়িত ইউনিট ‘সোয়াট’ (SWAT) তলব করা হয়। প্রায় ২০ মিনিটের রুদ্ধশ্বাস পরিস্থিতির পর হিশাম আত্মসমর্পণ করেন। তার বিরুদ্ধে পারিবারিক সহিংসতা, তথ্যপ্রমাণ নষ্ট করা এবং অবৈধভাবে মরদেহ সরানোর মতো ছয়টি গুরুতর অভিযোগ আনা হয়েছে।   বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, হিশাম ফিলিস্তিনি বংশোদ্ভূত মার্কিন নাগরিক। তিনি লিমনের রুমমেট হিসেবে একই ফ্ল্যাটে থাকতেন। অন্যদিকে, কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে পিএইচডি গবেষণারত নাহিদা বৃষ্টি গত ১৬ এপ্রিল থেকে নিখোঁজ ছিলেন। লিমনের সাথে তার আগে প্রেমের সম্পর্ক থাকলেও বর্তমানে ছিল না বলে জানিয়েছেন বৃষ্টির পরিবার।   তদন্তকারীরা লিমনের মৃত্যু নিশ্চিত করলেও বৃষ্টির নিখোঁজ রহস্য ও তাকে হত্যার নৃশংসতা এখন পুরো ফ্লোরিডা ও বাংলাদেশি কমিউনিটিতে শোকের ছায়া ফেলেছে।

Advertisement

তথ্যপ্রযুক্তি

View more
ছবি:  আমেরিকা বাংলা অনলাইন গ্রাফিক্স
সামাজিক মাধ্যমের ছবির ‘ভিক্টরি সাইন’ থেকে যেভাবে চুরি হচ্ছে ফিঙ্গারপ্রিন্ট

বন্ধুদের সাথে আড্ডায় কিংবা কোনো সাফল্যের আনন্দে ‘ভিক্টরি’ বা ‘লাইক’ সাইন দিয়ে ছবি তুলে ফেসবুক বা ইনস্টাগ্রামে আপলোড করা আমাদের দৈনন্দিন জীবনের সাধারণ একটি অভ্যাসে পরিণত হয়েছে। কিন্তু আপনার আপলোড করা এই হাই-রেজল্যুশনের ছবিগুলোতেই হয়তো লুকিয়ে আছে মারাত্মক এক সাইবার ঝুঁকি।    আপনি যখন ছবিতে লাইক-কমেন্টের বন্যায় ভাসছেন, ঠিক তখনই হয়তো স্ক্রিনের ওপাশে থাকা কোনো হ্যাকার আপনার ছবির সেই আঙুল জুম করে খুঁটিয়ে দেখছে। অত্যাধুনিক কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই প্রযুক্তি ব্যবহার করে আঙুলের সেই রেখাগুলো বিশ্লেষণ করে তারা তৈরি করে ফেলতে পারে আপনার আঙুলের ছাপের হুবহু ক্লোন। পাসওয়ার্ড চুরি হলে তা সহজে বদলে ফেলা যায়, কিন্তু আঙুলের ছাপের মতো বায়োমেট্রিক ডেটা একবার হ্যাকারের হাতে চলে গেলে তা আর পরিবর্তনের কোনো উপায় থাকে না।   পুরো বিষয়টি শুনতে হলিউডের কোনো স্পাই থ্রিলার বা ‘মিশন ইম্পসিবল’ সিনেমার মতো মনে হলেও, বাস্তবে এর সত্যতা রয়েছে। মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিবিএস নিউজের এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এ সংক্রান্ত বেশ কিছু পোস্ট সাধারণ মানুষের মনে গভীর উদ্বেগের জন্ম দিয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, কারিগরিভাবে ছবি থেকে ফিঙ্গারপ্রিন্ট চুরি করা সম্পূর্ণ সম্ভব।    কেউ যদি হাই-রেজল্যুশনের ক্যামেরায় খুব কাছ থেকে দুই আঙুল উঁচিয়ে ছবি তোলেন, তবে এআই টুলের সাহায্যে সেই আঙুলের রেখাগুলোকে স্পষ্ট করে ক্লোন তৈরি করা যায়। পেনসিলভানিয়ার কার্নেগি মেলন ইউনিভার্সিটির ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড কম্পিউটার ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের অধ্যাপক ব্যাস শেখরও বিষয়টির তাত্ত্বিক সত্যতা নিশ্চিত করে জানিয়েছেন, মানুষ যখন হাই-রেজল্যুশনের ছবি পোস্ট করে, তখন এই ঝুঁকি আরও বেড়ে যায়।   এর আগে ২০১৪ সালে এক হ্যাকার সংবাদ সম্মেলনে তোলা ছবি থেকে জার্মানির তৎকালীন প্রতিরক্ষামন্ত্রীর ফিঙ্গারপ্রিন্ট ক্লোন করার দাবি করে রীতিমতো চাঞ্চল্য সৃষ্টি করেছিলেন।   তবে সাইবার নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞরা সাধারণ মানুষকে এখনই আতঙ্কিত না হওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন। নিউইয়র্ক ইউনিভার্সিটির অধ্যাপক জাস্টিন ক্যাপোসের মতে, একজন সাধারণ মানুষের ক্ষেত্রে এই ধরনের সাইবার হামলার শিকার হওয়ার ঝুঁকি খুবই সামান্য। কারণ, কেবল ছবি থেকে আঙুলের ছাপ পেলেই হবে না, ব্যাংক অ্যাকাউন্ট বা ফোন হ্যাক করতে হলে হ্যাকারকে শারীরিকভাবে ওই ব্যক্তির ডিভাইস বা বায়োমেট্রিক স্ক্যানারের কাছাকাছি পৌঁছাতে হবে।   সাধারণত অতি গুরুত্বপূর্ণ বা ‘হাই-ভ্যালু’ ব্যক্তিরাই হ্যাকারদের এমন সুনির্দিষ্ট লক্ষ্যের শিকার হয়ে থাকেন। সাধারণ মানুষের ক্ষেত্রে ফিশিং স্ক্যাম বা ম্যালওয়্যার লিংকের মাধ্যমে প্রতারিত হওয়ার আশঙ্কাই তুলনামূলকভাবে অনেক বেশি বলে মনে করেন এই বিশেষজ্ঞ।   তারপরও ডিজিটাল যুগে নিজেদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রযুক্তিবিদরা কিছু বাড়তি সতর্কতার কথা স্মরণ করিয়ে দিয়েছেন। শুধুমাত্র আঙুলের ছাপের ওপর নির্ভর না করে অ্যাকাউন্টে টু-ফ্যাক্টর অথেন্টিকেশন (টু-এফএ) বা দ্বিস্তর বিশিষ্ট নিরাপত্তা ব্যবস্থা চালু রাখা সবচেয়ে কার্যকর সমাধান। এছাড়াও গুগল বা মাইক্রোসফটের মতো প্রতিষ্ঠানের অথেন্টিকেটর অ্যাপস, মাল্টি-ফ্যাক্টর বায়োমেট্রিকস এবং এনক্রিপ্টেড পাসকি ব্যবহার করা যেতে পারে।   একইসাথে, খুব কাছ থেকে হাতের তালু বা আঙুলের ছাপ স্পষ্ট বোঝা যায় এমনভাবে ‘ভিক্টরি’ বা ‘লাইক’ সাইন দিয়ে ছবি তোলা থেকে বিরত থাকার পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ‘র’ ফাইল বা অরিজিনাল হাই-রেজল্যুশন ছবি আপলোড করার ক্ষেত্রেও ব্যবহারকারীদের আরও বেশি সচেতন হওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।

ইসতিয়াক আহমেদ প্রকাশ: জুন ২, ২০২৬ ১৬:৩৯
এনভিডিয়ার প্রধান নির্বাহী জেনসেন হুয়াং | ছবি: সংগৃহীত

মাউস-কিবোর্ডের দিন শেষ! ল্যাপটপ ও কম্পিউটারের জন্য এনভিডিয়ার নতুন 'সুপারচিপ'

ফেসবুক, হোয়াটসঅ্যাপ ও ইনস্টাগ্রাম লোগোর সামনে ছোট ছোট খেলনা মূর্তি দেখা যাচ্ছে । ছবি: রয়টার্স

ফেসবুক, ইনস্টাগ্রাম ও হোয়াটসঅ্যাপের পেইড সংস্করণ আনছে মেটা, মাসিক খরচ কত?

ছবি: রয়টার্স

সার্চ ইঞ্জিনে স্বয়ংক্রিয় এআই ‘এজেন্ট’ ও নতুন স্মার্ট চশমা আনছে গুগল

ছবি: সংগৃহীত
নতুন এআই মডেল বাজারে আনার আগে সরকারের সঙ্গে শেয়ার করবে গুগল, মাইক্রোসফট ও এক্সএআই

নিরাপত্তা ঝুঁকি ও সাইবার হামলার সম্ভাবনা বিবেচনায় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই মডেলগুলো বাজারে ছাড়ার আগেই সরকারের সঙ্গে শেয়ার করার ঘোষণা দিয়েছে গুগল, মাইক্রোসফট এবং এক্সএআই। যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব স্ট্যান্ডার্ডস অ্যান্ড টেকনোলজি জানিয়েছে, এই উদ্যোগের মাধ্যমে উন্নত এআই মডেলগুলোর ঝুঁকি মূল্যায়ন আরও শক্তিশালী করা হবে।   নতুন এই নীতিগত উদ্যোগ এমন সময়ে এসেছে, যখন গত মাসে অ্যানথ্রোপিকের নতুন এআই মডেল মিথোস ঘিরে সাইবার নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়। ওই ঘটনার পর যুক্তরাষ্ট্রে এআই প্রযুক্তির ওপর সরকারি পর্যায়ে আরও কঠোর পর্যালোচনার বিষয়টি আলোচনায় আসে।   নতুন ব্যবস্থার আওতায় মার্কিন বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অধীনস্থ সেন্টার ফর এআই স্ট্যান্ডার্ডস অ্যান্ড ইনোভেশন বাজারে আসার আগেই এআই মডেলগুলো জাতীয় নিরাপত্তা ও জননিরাপত্তার জন্য কতটা ঝুঁকিপূর্ণ, তা মূল্যায়ন করতে পারবে। পাশাপাশি মডেল প্রকাশের পরেও এই কেন্দ্র গবেষণা ও পরীক্ষা চালিয়ে যাবে। প্রতিষ্ঠানটি ইতোমধ্যে ৪০টির বেশি এআই মডেল মূল্যায়ন সম্পন্ন করেছে।   কেন্দ্রটির পরিচালক ক্রিস ফল এক বিবৃতিতে বলেন, “এআই এবং জাতীয় নিরাপত্তার ওপর এর প্রভাব বোঝার জন্য স্বতন্ত্র ও কঠোর বৈজ্ঞানিক পরিমাপ অপরিহার্য। এই গুরুত্বপূর্ণ সময়ে শিল্পের সঙ্গে বর্ধিত সহযোগিতা জনস্বার্থে আমাদের কাজকে আরও এগিয়ে নিতে সাহায্য করবে।” অ্যানথ্রোপিক জানিয়েছে, তাদের মিথোস মডেল সাইবার নিরাপত্তার ক্ষেত্রে অন্যান্য মডেলের তুলনায় উন্নত সক্ষমতা প্রদর্শন করছে। গত এক মাসে এটি বিভিন্ন দেশের সরকার, ব্যাংক এবং ইউটিলিটি কোম্পানির মধ্যে উদ্বেগ তৈরি করেছে। প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে, মডেলটি আপাতত জনসাধারণের জন্য উন্মুক্ত করা হয়নি এবং সীমিত কিছু সংস্থাকে এর অ্যাক্সেস দেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে ওপেনএআই জানিয়েছে, তারা তাদের উন্নত এআই মডেলগুলো সরকারের পরীক্ষিত সব স্তরে উন্মুক্ত করছে, যাতে সম্ভাব্য হুমকি আগেভাগে শনাক্ত করা যায়।   জর্জটাউন সেন্টারের ফর সিকিউরিটি অ্যান্ড এমার্জিং টেকনোলজির সিনিয়র গবেষণা বিশ্লেষক জেসিকা জি বলেন, এই অংশীদারত্বের ফলে সিএআইএসআইয়ের জন্য এআই পরীক্ষা আরও সহজ হবে। বড় প্রযুক্তি কোম্পানিগুলোর তুলনায় সরকারি সংস্থার জনবল ও প্রযুক্তিগত সক্ষমতা সীমিত হওয়ায় এই সহযোগিতা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে তিনি মন্তব্য করেন।   সিএনএনের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, হোয়াইট হাউস বর্তমানে নতুন এআই মডেলগুলোর সরকারি পর্যালোচনা প্রক্রিয়া নিয়ে বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে আলোচনা করছে। এটি পূর্বের তুলনায় এআই নিয়ন্ত্রণে নীতিগত পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে।   তবে হোয়াইট হাউসের এক মুখপাত্র জানিয়েছেন, সম্ভাব্য নীতিগত সিদ্ধান্ত সম্পর্কে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা প্রেসিডেন্টের পক্ষ থেকেই আসবে এবং এ বিষয়ে এখন যেসব আলোচনা চলছে তা অনুমাননির্ভর।   মাইক্রোসফটের প্রধান দায়িত্বশীল এআই কর্মকর্তা নাতাশা ক্র্যাম্পটন বলেন, প্রতিষ্ঠানটি নিয়মিতভাবে নিজেদের মডেল পরীক্ষা করে থাকে, তবে সিএআইএসআই অতিরিক্ত প্রযুক্তিগত ও নিরাপত্তা সহায়তা দিতে পারবে।   গুগল এ বিষয়ে বিস্তারিত মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে। এক্সএআই-এর পক্ষ থেকেও কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।

ইসতিয়াক আহমেদ প্রকাশ: মে ৬, ২০২৬ ১৬:১৬
ছবি: সংগৃহীত।

গাড়িতেও যুক্ত হচ্ছে কৃত্রিম বৃদ্ধিমত্তা, বড় চমক গুগলের

শুধু কঠিন, তরল ও বায়বীয় নয়: এআই খুঁজে পেল পদার্থের চতুর্থ অবস্থা

শুধু কঠিন, তরল ও বায়বীয় নয়: এআই খুঁজে পেল পদার্থের চতুর্থ অবস্থা

ছবি: সংগৃহীত।

তোলপাড় সৃষ্টি করেছে ডিপসিক-ভি৪, এআই দুনিয়ায় এবার রাজত্ব করতে যাচ্ছে চীন?

ছবি: সংগৃহীত।
‘ডার্ক ম্যাটার’ অনুসন্ধানে নাসার নতুন বিস্ময় 'ন্যান্সি গ্রেস রোমান' টেলিস্কোপ

মহাকাশ বিজ্ঞানের ইতিহাসে এক নতুন মাইলফলক স্পর্শ করতে যাচ্ছে মার্কিন মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসা। দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর নাসা তাদের পরবর্তী ফ্ল্যাগশিপ মহাকাশ টেলিস্কোপ 'ন্যান্সি গ্রেস রোমান'-এর মূল কাঠামো তৈরির কাজ সম্পন্ন করেছে। ২০২৬ সালের মধ্যে এটি মহাকাশে উৎক্ষেপণের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। হাবলের উত্তরসূরি, জেমস ওয়েবের সঙ্গী নাসার এই নতুন টেলিস্কোপটিকে বিখ্যাত বিজ্ঞানী এবং 'মাদার অফ হাবল' খ্যাত ন্যান্সি গ্রেস রোমানের নামে নামকরণ করা হয়েছে। বিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন, এটি বিখ্যাত হাবল টেলিস্কোপের তুলনায় প্রায় ১০০ গুণ বেশি এলাকা একবারে পর্যবেক্ষণ করতে পারবে। যেখানে হাবল টেলিস্কোপের কোনো নির্দিষ্ট এলাকার ছবি তুলতে বছরের পর বছর সময় লাগত, সেখানে 'রোমান' সেই কাজ সম্পন্ন করবে মাত্র কয়েক দিনে। সহজ কথায়, এটি হাবলের চেয়ে ১০০০ গুণ দ্রুতগতিতে মহাকাশের মানচিত্র তৈরি করতে সক্ষম। ন্যান্সি গ্রেস রোমান টেলিস্কোপের মূল লক্ষ্য হলো মহাবিশ্বের রহস্যময় 'ডার্ক এনার্জি' এবং 'ডার্ক ম্যাটার' নিয়ে গবেষণা করা। এর ৩০০ মেগাপিক্সেলের শক্তিশালী ক্যামেরা কোটি কোটি গ্যালাক্সির প্যানোরামিক ছবি তুলবে, যা মহাবিশ্বের প্রসারণ এবং বিবর্তন বুঝতে বিজ্ঞানীদের সাহায্য করবে। এছাড়া আমাদের সৌরজগতের বাইরে হাজার হাজার নতুন গ্রহ বা 'এক্সোপ্ল্যানেট' খুঁজে বের করতেও এটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। কারিগরি উৎকর্ষ মেরিল্যান্ডের গডার্ড স্পেস ফ্লাইট সেন্টারে এই টেলিস্কোপটির সংযোজন সম্পন্ন হয়েছে। এর আয়নাটি হাবলের মতোই ২.৪ মিটার চওড়া হলেও, এর প্রযুক্তিগত ক্ষমতা অনেক গুণ বেশি। এটি মহাকাশের এমন গভীর এবং প্রশস্ত ছবি তুলবে যা আগে কখনো সম্ভব হয়নি। নাসার প্রকল্প বিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন, জেমস ওয়েব টেলিস্কোপ যেখানে মহাবিশ্বের গভীরে সুনির্দিষ্ট কোনো বস্তুর ওপর ফোকাস করে, সেখানে রোমান টেলিস্কোপ পুরো আকাশজুড়ে এক বিশাল মানচিত্র তৈরি করবে। এই দুই টেলিস্কোপের যৌথ তথ্য মহাকাশ গবেষণায় নতুন বিপ্লব নিয়ে আসবে বলে আশা করা হচ্ছে।  

ইসমাইল হোসাইন প্রকাশ: এপ্রিল ২৩, ২০২৬ ১৫:৭
ছবি: সংগৃহীত।

মেটা-আলিবাবাকে টেক্কা দিতে হুয়াওয়ের নতুন চমক এআই স্মার্ট গ্লাস

মানবজাতির জন্য চ্যাটজিপিটির বার্তা

মানবজাতির জন্য চ্যাটজিপিটির বার্তা: কী বলছে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা?

ছবি - সংগৃহিত

সংশোধন হচ্ছে অন্তর্বর্তী সরকারের করা টেলিকম নীতিমালা

0 Comments