যুক্তরাষ্ট্রের লাস ভেগাসে কর্মস্থলে সহকর্মীর গুলিতে নিহত এক সিটি কর্মী মৃত্যুর কয়েক মাস আগে মানবসম্পদ (এইচআর) বিভাগকে ই-মেইলে লিখেছিলেন, “আমি আমার জীবন নিয়ে ভয় পাচ্ছি।” নতুন প্রকাশিত নথিতে উঠে এসেছে, দীর্ঘদিন ধরে চলা কর্মস্থলের বিরোধ, একের পর এক অভিযোগ এবং নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগের বিষয়টি কর্তৃপক্ষের নজরে আনা হলেও শেষ পর্যন্ত তা প্রাণঘাতী সহিংসতায় গড়ায়।
প্রকাশিত নথি অনুযায়ী, নিহত সিটি কর্মী জোয়ি ম্যাকলিন ও অভিযুক্ত সহকর্মী ব্রাইসেন কিমের মধ্যে অন্তত ছয় মাস ধরে বিরোধ চলছিল। এই সময়ে দুজনই একাধিকবার এইচআর বিভাগে অভিযোগ করেন এবং তাদের মধ্যে সংঘাত নিরসনে প্রশাসনিক পদক্ষেপও নেওয়া হয়েছিল।
তদন্তসংশ্লিষ্ট নথিতে দেখা যায়, ঘটনার কয়েক মাস আগে ম্যাকলিন এক ই-মেইলে লিখেছিলেন যে তিনি নিজের নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কিত এবং কর্মস্থলে পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বিগ্ন। অন্যদিকে, গ্রেপ্তার হওয়া ব্রাইসেন কিমও পুলিশের কাছে দাবি করেন, তিনিও দীর্ঘদিন ধরে সহকর্মীর আচরণে আতঙ্কিত ছিলেন এবং একাধিকবার এইচআর ও কর্মস্থল নিরাপত্তা কর্তৃপক্ষের কাছে অভিযোগ করেছিলেন। তাঁর অভিযোগ, ঘটনার কয়েক দিন আগে ম্যাকলিন তাকে হত্যার হুমকিও দিয়েছিলেন। তবে এসব দাবির সবগুলো স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হয়নি এবং সেগুলো এখনো তদন্ত ও বিচারিক প্রক্রিয়ার অংশ।
পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, গত ১২ জুন সকালে লাস ভেগাস সিটির মেইনটেন্যান্স বিভাগে দুই কর্মীর মধ্যে সংঘর্ষের একপর্যায়ে ব্রাইসেন কিম গুলি চালান। ঘটনাস্থলেই গুরুতর আহত হন জোয়ি ম্যাকলিন, পরে তার মৃত্যু হয়। গুলির পর অভিযুক্ত নিজেই ৯১১ নম্বরে ফোন করে ঘটনার কথা জানান।
তদন্তে সাক্ষীদের বরাত দিয়ে বলা হয়েছে, সংঘর্ষের সময় কয়েকজন তত্ত্বাবধায়ক কিমকে থামানোর চেষ্টা করেছিলেন। অভিযোগ, ধস্তাধস্তির মধ্যেই তিনি আগ্নেয়াস্ত্র বের করে গুলি চালান। পরে তাকে ঘটনাস্থল থেকেই গ্রেপ্তার করা হয়।
এদিকে ক্লার্ক কাউন্টির গ্র্যান্ড জুরি ব্রাইসেন কিমের বিরুদ্ধে হত্যা ও চুরির অভিযোগে অভিযুক্ত করেছে। তিনি আদালতে নিজের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। মামলাটি বর্তমানে বিচারাধীন।
ঘটনার পর লাস ভেগাস সিটি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, কর্মীদের জন্য মানসিক সহায়তা সেবা চালু রাখা হয়েছে এবং কর্মস্থলের নিরাপত্তা নীতিমালা পর্যালোচনা করা হচ্ছে। একই সঙ্গে হত্যাকাণ্ডের আগে পাওয়া অভিযোগগুলো কীভাবে পরিচালনা করা হয়েছিল, সেটিও নতুন করে আলোচনায় এসেছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
ইরানকে সামরিক সহায়তা দিলে চীন ও রাশিয়ার জন্য ‘খুবই খারাপ’ পরিণতি অপেক্ষা করছে বলে সতর্ক করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। একই সঙ্গে তিনি দাবি করেছেন, চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং এবং রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন তাকে আশ্বাস দিয়েছেন যে, তারা ইরানকে কোনো অস্ত্র সরবরাহ করবেন না। শুক্রবার নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প জানান, বেইজিংয়ে সাম্প্রতিক বৈঠকে প্রেসিডেন্ট শি তাকে বলেছেন, কোনো অবস্থাতেই চীন ইরানকে অস্ত্র দেবে বা বিক্রি করবে না। তিনি আরও দাবি করেন, এই প্রতিশ্রুতির আওতায় চীনা কোম্পানিগুলোকেও অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। ট্রাম্প লিখেছেন, দুই দেশের বর্তমান সম্পর্কের কারণে তিনি শি জিনপিংয়ের কথায় আস্থা রাখছেন। একই পোস্টে ট্রাম্প বলেন, রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনও তাকে একই ধরনের আশ্বাস দিয়েছেন। তাঁর ভাষ্য, পুতিন জানেন যে যুক্তরাষ্ট্র সরাসরি ইউক্রেনের কাছে অস্ত্র বিক্রি করে না; বরং ন্যাটো সদস্য দেশগুলোর কাছে অস্ত্র বিক্রি করা হয় এবং সেসব দেশই পরে ইউক্রেনকে সহায়তা দেয়। ট্রাম্পের দাবি, ইরানকে সহায়তার ক্ষেত্রে যেসব দেশের নাম সবচেয়ে বেশি আলোচনায় আসে, সেই দুই দেশ—চীন ও রাশিয়া—বর্তমানে এ ধরনের কর্মকাণ্ডে জড়িত নয়। তবে যদি তারা ভবিষ্যতে ইরানকে অস্ত্র সরবরাহ বা সামরিক সহায়তা দেয়, তাহলে তা তাদের জন্য ‘খুবই খারাপ’ হবে এবং সেটি তাদের নিজেদের স্বার্থেরও পরিপন্থী। তবে ট্রাম্পের এই মন্তব্যের মধ্যেই যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা বিভাগ ভিন্ন ধরনের উদ্বেগের ইঙ্গিত দিয়েছে। প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ সম্প্রতি কংগ্রেসে বলেন, রাশিয়া ও চীন বিভিন্ন উপায়ে ইরানকে সহায়তা করছে, যদিও তিনি সে বিষয়ে বিস্তারিত প্রকাশ করেননি। এছাড়া মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থাগুলোও ইরানের সামরিক সক্ষমতায় সম্ভাব্য রুশ সহায়তার অভিযোগ খতিয়ে দেখছে। এ বিষয়ে মস্কো প্রকাশ্যে কোনো মন্তব্য করেনি। যুক্তরাষ্ট্র দীর্ঘদিন ধরেই ইরানের অস্ত্র সংগ্রহ ও সামরিক কর্মসূচিতে সহায়তার অভিযোগে রাশিয়া ও চীনের বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা দিয়ে আসছে। মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনার মধ্যেই ট্রাম্পের এই মন্তব্য নতুন করে আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে এসেছে।
যুক্তরাষ্ট্রে হামের সংক্রমণ নতুন উদ্বেগ তৈরি করেছে। চলতি বছরের মাত্র সাত মাসেই দেশটিতে নিশ্চিত হামের রোগীর সংখ্যা গত বছরের পুরো বছরের মোট সংক্রমণকে ছাড়িয়ে গেছে। জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, টিকাদানের হার কমে যাওয়ায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠছে এবং দেশটির বহু বছরের অর্জিত হাম নির্মূলের মর্যাদাও ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে। যুক্তরাষ্ট্রের রোগ নিয়ন্ত্রণ ও প্রতিরোধ কেন্দ্র (সিডিসি) প্রকাশিত সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, এ বছর এখন পর্যন্ত দেশটিতে ২ হাজার ৩১৮টি নিশ্চিত হামের সংক্রমণ শনাক্ত হয়েছে। ২০২৫ সালে মোট সংক্রমণ ছিল ২ হাজার ২৮৯টি। ফলে ২০২৬ সাল ইতোমধ্যেই ১৯৯১ সালের পর সর্বোচ্চ সংক্রমণের বছর হিসেবে রেকর্ড গড়েছে। দেশটির অন্তত ৪৫টি অঙ্গরাজ্য ও বিভিন্ন অঞ্চলে সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়েছে। সবচেয়ে বড় প্রাদুর্ভাব দেখা গেছে সাউথ ক্যারোলাইনা, উটাহ, অ্যারিজোনা, টেক্সাস, ভার্জিনিয়া ও পেনসিলভানিয়াসহ কয়েকটি অঙ্গরাজ্যে। এ বছর এখন পর্যন্ত ৩৫টি বড় সংক্রমণ ক্লাস্টার শনাক্ত হয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, সংক্রমণের বেশির ভাগই এমন শিশু ও তরুণদের মধ্যে হয়েছে, যারা হাম, মাম্পস ও রুবেলার (এমএমআর) টিকা নেননি অথবা তাদের টিকাদানের তথ্য জানা নেই। জনস হপকিন্স বিশ্ববিদ্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, আক্রান্তদের প্রায় ৯৩ শতাংশই এই শ্রেণির। সিডিসি বলছে, হাম বিশ্বের সবচেয়ে সংক্রামক ভাইরাসজনিত রোগগুলোর একটি। আক্রান্ত ব্যক্তির কাশি বা হাঁচির মাধ্যমে ভাইরাস বাতাসে ছড়িয়ে পড়ে এবং আক্রান্ত ব্যক্তি স্থান ত্যাগ করার পরও প্রায় দুই ঘণ্টা পর্যন্ত বাতাসে সক্রিয় থাকতে পারে। তাই কোনো এলাকায় টিকাদানের হার কমে গেলে দ্রুত বড় ধরনের প্রাদুর্ভাব দেখা দেওয়ার আশঙ্কা থাকে। জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলেছেন, সম্প্রদায়ভিত্তিক সুরক্ষা বা হার্ড ইমিউনিটি বজায় রাখতে অন্তত ৯৫ শতাংশ মানুষের টিকা নেওয়া প্রয়োজন। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে যুক্তরাষ্ট্রে শিশুদের টিকাদানের হার সেই সীমার নিচে নেমে এসেছে, যা সংক্রমণ বৃদ্ধির অন্যতম কারণ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। ২০০০ সালে যুক্তরাষ্ট্রে হাম নির্মূল হয়েছে বলে আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছিল। তবে চলমান পরিস্থিতির কারণে সেই মর্যাদা বহাল থাকবে কি না, তা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। প্যান আমেরিকান হেলথ অর্গানাইজেশন চলতি বছরের শেষ দিকে এ বিষয়ে মূল্যায়ন করবে।
যুক্তরাষ্ট্রের আরকানসাস অঙ্গরাজ্যের জোনসবোরো শহরে স্পাইডারম্যানের পোশাক পরা এক তরুণের মানবিক উদ্যোগ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক প্রশংসা কুড়িয়েছে। ব্যস্ত ছয় লেনের একটি সড়ক পার হতে গিয়ে বিপাকে পড়া হুইলচেয়ার ব্যবহারকারী এক ব্যক্তিকে দেখে নিজের গাড়ি থামিয়ে দ্রুত ছুটে যান তিনি। এরপর নিরাপদে রাস্তা পার করে দিয়ে আবার ফিরে যান নিজের গাড়িতে। ঘটনাটি ট্রাফিক ক্যামেরায় ধারণ হওয়ার পর মুহূর্তেই ছড়িয়ে পড়ে। ঘটনাটি ঘটে গত ২১ জুলাই। ওই তরুণের নাম ক্রিস্টোফার হেলেনথাল (২০)। তিনি একটি ট্রাম্পোলিন পার্কে শিশুদের জন্য আয়োজিত সুপারহিরো-থিমের অনুষ্ঠানে স্পাইডারম্যান সেজে কাজ শেষ করে ফিরছিলেন। তখনই সিগন্যালের কাছে হুইলচেয়ারে থাকা ব্যক্তিকে ধীরে ধীরে রাস্তা পার হতে দেখে আর অপেক্ষা করেননি। গাড়ি থেকে নেমে দ্রুত তাকে নিরাপদে অপর পাশে পৌঁছে দেন। পরে হেলেনথাল জানান, তিনি শুধু একজন মানুষের প্রয়োজনে পাশে দাঁড়াতে চেয়েছিলেন। তার ভাষায়, “আমি তাকে বলেছিলাম, চিন্তা করবেন না, আমি আছি।” তিনি আরও বলেন, স্পাইডারম্যানের পোশাক থাকুক বা না থাকুক, একই পরিস্থিতিতে তিনি আবারও একই কাজ করতেন। জোনসবোরো পুলিশ বিভাগ ট্রাফিক ক্যামেরার ভিডিওটি প্রকাশ করে লিখেছে, “লাল বাতি হোক বা সবুজ, সঠিক কাজ করার জন্য সব সময়ই সময় থাকে।” পুলিশ হেলেনথালকে ‘সত্যিকারের সুপারহিরো’ বলেও প্রশংসা করেছে। ভিডিওটি প্রকাশের পর অল্প সময়ের মধ্যেই লাখো মানুষ সেটি দেখেছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অনেকেই মন্তব্য করেছেন, বাস্তব জীবনের এমন মানবিক উদ্যোগই প্রকৃত বীরত্বের পরিচয়। ঘটনাটি শুধু একজন হুইলচেয়ার ব্যবহারকারীকে নিরাপদে পৌঁছে দেওয়ার গল্প নয়, বরং ব্যস্ত জীবনের মধ্যেও অপরিচিত মানুষের পাশে দাঁড়ানোর এক অনন্য উদাহরণ হয়ে উঠেছে।