চীন-রাশিয়া ইরানকে অস্ত্র দিলে ‘খুবই খারাপ পরিণতি’; ট্রাম্পের কড়া হুঁশিয়ারি
ইরানকে সামরিক সহায়তা দিলে চীন ও রাশিয়ার জন্য ‘খুবই খারাপ’ পরিণতি অপেক্ষা করছে বলে সতর্ক করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। একই সঙ্গে তিনি দাবি করেছেন, চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং এবং রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন তাকে আশ্বাস দিয়েছেন যে, তারা ইরানকে কোনো অস্ত্র সরবরাহ করবেন না।
শুক্রবার নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প জানান, বেইজিংয়ে সাম্প্রতিক বৈঠকে প্রেসিডেন্ট শি তাকে বলেছেন, কোনো অবস্থাতেই চীন ইরানকে অস্ত্র দেবে বা বিক্রি করবে না। তিনি আরও দাবি করেন, এই প্রতিশ্রুতির আওতায় চীনা কোম্পানিগুলোকেও অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। ট্রাম্প লিখেছেন, দুই দেশের বর্তমান সম্পর্কের কারণে তিনি শি জিনপিংয়ের কথায় আস্থা রাখছেন।
একই পোস্টে ট্রাম্প বলেন, রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনও তাকে একই ধরনের আশ্বাস দিয়েছেন। তাঁর ভাষ্য, পুতিন জানেন যে যুক্তরাষ্ট্র সরাসরি ইউক্রেনের কাছে অস্ত্র বিক্রি করে না; বরং ন্যাটো সদস্য দেশগুলোর কাছে অস্ত্র বিক্রি করা হয় এবং সেসব দেশই পরে ইউক্রেনকে সহায়তা দেয়।
ট্রাম্পের দাবি, ইরানকে সহায়তার ক্ষেত্রে যেসব দেশের নাম সবচেয়ে বেশি আলোচনায় আসে, সেই দুই দেশ—চীন ও রাশিয়া—বর্তমানে এ ধরনের কর্মকাণ্ডে জড়িত নয়। তবে যদি তারা ভবিষ্যতে ইরানকে অস্ত্র সরবরাহ বা সামরিক সহায়তা দেয়, তাহলে তা তাদের জন্য ‘খুবই খারাপ’ হবে এবং সেটি তাদের নিজেদের স্বার্থেরও পরিপন্থী।
তবে ট্রাম্পের এই মন্তব্যের মধ্যেই যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা বিভাগ ভিন্ন ধরনের উদ্বেগের ইঙ্গিত দিয়েছে। প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ সম্প্রতি কংগ্রেসে বলেন, রাশিয়া ও চীন বিভিন্ন উপায়ে ইরানকে সহায়তা করছে, যদিও তিনি সে বিষয়ে বিস্তারিত প্রকাশ করেননি। এছাড়া মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থাগুলোও ইরানের সামরিক সক্ষমতায় সম্ভাব্য রুশ সহায়তার অভিযোগ খতিয়ে দেখছে। এ বিষয়ে মস্কো প্রকাশ্যে কোনো মন্তব্য করেনি।
যুক্তরাষ্ট্র দীর্ঘদিন ধরেই ইরানের অস্ত্র সংগ্রহ ও সামরিক কর্মসূচিতে সহায়তার অভিযোগে রাশিয়া ও চীনের বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা দিয়ে আসছে। মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনার মধ্যেই ট্রাম্পের এই মন্তব্য নতুন করে আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে এসেছে।
© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
আমেরিকা
View moreক্যালিফোর্নিয়ার প্রায় ১০ হাজার সরকারি ও সনদপ্রাপ্ত স্কুলে শিক্ষার্থীদের জন্য বিনামূল্যে জরুরি অ্যাজমার ইনহেলার সরবরাহ শুরু করেছে রাজ্য সরকার। ২৫ আগস্ট থেকে চালু হওয়া এই কর্মসূচির আওতায় যোগ্য প্রতিটি প্রাক্-প্রাথমিক থেকে দ্বাদশ শ্রেণির স্কুল বছরে একবার দুটি অ্যালবিউটেরল ইনহেলার ও ২৫টি একবার ব্যবহারযোগ্য স্পেসার বিনামূল্যে পাবে। এ সুবিধা টানা তিন বছর দেওয়া হবে। গভর্নর গ্যাভিন নিউসম ২০ আগস্ট কর্মসূচিটি ঘোষণা করেন। ক্যালিফোর্নিয়া সরকারের ভাষ্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রে এটিই প্রথম কোনো রাজ্যব্যাপী উদ্যোগ, যেখানে সরকারি ও সনদপ্রাপ্ত স্কুলগুলোতে জরুরি অ্যাজমার ওষুধ বিনামূল্যে সরবরাহ করা হচ্ছে। কর্মসূচিটি ক্যালিফোর্নিয়ার ক্যালরেক্স উদ্যোগ, রাজ্যের জনস্বাস্থ্য বিভাগ এবং অ্যামনিয়াল ফার্মাসিউটিক্যালসের অংশীদারত্বে পরিচালিত হচ্ছে। অ্যালবিউটেরল সাধারণত জরুরি বা দ্রুত-কার্যকর ইনহেলার হিসেবে ব্যবহার করা হয়। হঠাৎ শ্বাসকষ্ট দেখা দিলে এটি শ্বাসনালির চারপাশের পেশি শিথিল করতে সাহায্য করে, ফলে শ্বাস নেওয়া সহজ হয়। স্কুলে এমন ইনহেলার হাতের কাছে থাকলে জরুরি মুহূর্তে শিক্ষার্থীদের দ্রুত সহায়তা দেওয়া সম্ভব হবে বলে জানিয়েছে রাজ্য কর্তৃপক্ষ। ক্যালিফোর্নিয়া সরকারের তথ্য অনুযায়ী, রাজ্যে প্রায় ১০ লাখ শিশু অ্যাজমায় আক্রান্ত। এ রোগের কারণে স্কুলে অনুপস্থিতিও শিশুদের জন্য বড় সমস্যা। নতুন কর্মসূচির লক্ষ্য হলো স্কুলে জরুরি পরিস্থিতিতে প্রয়োজনীয় ওষুধের ঘাটতি কমানো এবং শ্বাসকষ্টে আক্রান্ত শিক্ষার্থীদের দ্রুত সহায়তা নিশ্চিত করা। বিনামূল্যের ইনহেলার পেতে স্কুলগুলোকে ক্যালিফোর্নিয়া জনস্বাস্থ্য বিভাগের অ্যালবিউটেরল স্থায়ী নির্দেশনার আওতায় থাকতে হবে। এই ব্যবস্থার মাধ্যমে প্রতিটি শিক্ষার্থীর জন্য আলাদা চিকিৎসকের প্রেসক্রিপশন ছাড়াই স্কুলে জরুরি ব্যবহারের জন্য অ্যালবিউটেরল মজুত রাখা যায়। ইনহেলার সরবরাহের পাশাপাশি স্কুল কর্মীদের প্রশিক্ষণের ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে। ক্যালিফোর্নিয়া স্কুল নার্সেস অর্গানাইজেশনের সহযোগিতায় সরকারি স্কুল জেলাগুলো বিনামূল্যে প্রশিক্ষণ নির্দেশিকা পাবে। এতে শ্বাসকষ্টের লক্ষণ চেনা, জরুরি পরিস্থিতিতে ইনহেলার ব্যবহারের নিয়ম এবং প্রয়োজন হলে ৯১১-এ কল করা ও অভিভাবককে জানানোর প্রক্রিয়া অন্তর্ভুক্ত থাকবে। তবে বেসরকারি স্কুলগুলো এই কর্মসূচির আওতায় বিনামূল্যে ইনহেলার পাবে না। তারা নিজেদের খরচে ক্যালরেক্সের মাধ্যমে ইনহেলার ও স্পেসার কিনতে পারবে। পাশাপাশি অতিরিক্ত ইনহেলারও তুলনামূলক কম দামে কেনার সুযোগ থাকবে। ক্যালিফোর্নিয়া সরকারের এই উদ্যোগের লক্ষ্য হলো স্কুলে অ্যাজমাজনিত জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রস্তুতি বাড়ানো। বিশেষ করে চিকিৎসা সহায়তা পৌঁছানোর আগ পর্যন্ত শিক্ষার্থীদের প্রয়োজনীয় জরুরি ওষুধ সহজলভ্য রাখার মাধ্যমে শ্বাসকষ্টের সময় দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা।
ফ্লাইটে বাচ্চা কাঁদলে যাত্রীরা বিরক্ত হবে ভেবে ২০০ যাত্রীকে উপহার দিলেন মা
ট্রাম্পের ৫ হাজার ডলারের ‘ডিভিডেন্ড’ দিতে লাগতে পারে ১.৩৫ ট্রিলিয়ন ডলার! অর্থের উৎস অনিশ্চিত
নাশতা সময়মতো না খাওয়ায় ৫ বছরের ছেলেকে গলায় চাপ, ক্যালিফোর্নিয়ায় শেরিফ ডেপুটি
ইলন মাস্কের সঙ্গে দীর্ঘদিনের দূরত্ব এবার নতুন মাত্রা পেয়েছে তার ২২ বছর বয়সী মেয়ে ভিভিয়ান জেনা উইলসআউনের এআইবিরোধী নতুন ফ্যাশন ক্যাম্পেইনে। স্প্যানিশ ফ্যাশন ব্র্যান্ড Desigual-এর ‘Born to Disobey’ ক্যাম্পেইনে অংশ নিয়ে মাস্কের তৈরি প্রযুক্তির প্রতীক হিসেবে দেখা একটি হিউম্যানয়েড রোবটকে ব্যঙ্গাত্মকভাবে উপস্থাপন করেছেন তিনি। একই সময়ে মাস্ককে নিয়ে তার সাবেক সঙ্গী অ্যাশলি সেন্ট ক্লেয়ারের মন্তব্যও নতুন করে আলোচনায় এসেছে। Desigual-এর প্রচারণায় উইলসনকে একটি হিউম্যানয়েড রোবট নিয়ে নানা ধরনের ব্যঙ্গাত্মক কর্মকাণ্ড করতে দেখা যায়। রোবটটিকে গলফের টি হিসেবে ব্যবহার করা, ঘাস কাটানো, পোষা প্রাণীর মতো বেঁধে রাখা এবং বিছানায় নেওয়ার পর শেষ পর্যন্ত মেঝেতে ছুড়ে ফেলেন তিনি। প্রচারণার বার্তা হিসেবে তিনি বলেন, কিছু জিনিস ঠিক করার জন্য তৈরি নয়। মাস্কের সঙ্গে উইলসনের সম্পর্কের অবনতি শুরু হয় ২০২০ সালে। তখন ১৬ বছর বয়সে তিনি জেন্ডার ট্রানজিশন শুরু করেন। দুই বছর পর নিজের আইনি নাম পরিবর্তন করে তিনি জানান, কোনোভাবেই আর মাস্কের সঙ্গে সম্পর্কিত থাকতে চান না। এদিকে মাস্কের ব্যক্তিগত জীবন ও পরিবারের সম্পর্কও উঠে এসেছে পরিচালক অ্যালেক্স গিবনির নতুন প্রায় চার ঘণ্টার তথ্যচিত্র ‘Musk’-এ। ভেনিস চলচ্চিত্র উৎসবে ছবিটির প্রিমিয়ার হয় ৮ সেপ্টেম্বর। এতে মাস্কের সাবেক স্ত্রী জাস্টিন মাস্ক, সাবেক সঙ্গী অ্যাশলি সেন্ট ক্লেয়ারসহ তার জীবন ও ক্যারিয়ারের সঙ্গে যুক্ত একাধিক ব্যক্তির সাক্ষাৎকার রয়েছে। সেন্ট ক্লেয়ার, যিনি মাস্কের এক সন্তানের মা এবং বর্তমানে সন্তানের কাস্টডি নিয়ে তার সঙ্গে আইনি বিরোধে রয়েছেন, দাবি করেছেন মাস্কের টিম তাকে তথ্যচিত্রে অংশ না নেওয়ার বিনিময়ে ৪ কোটি ডলারের প্রস্তাব দিয়েছিল। তিনি সেই প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেন বলে জানান। সেন্ট ক্লেয়ারের দাবি, মাস্ক একবার তাকে বার্তা দিয়ে বলেছিলেন, সম্ভাব্য গৃহযুদ্ধের আগে তার ‘সন্তানদের একটি বিশাল বাহিনী’ প্রয়োজন। তিনি আরও অভিযোগ করেন, মাস্ক তার মালিকানাধীন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সের মাধ্যমে সমাজে বিভাজন বাড়াচ্ছেন। এসব বক্তব্য অবশ্য সেন্ট ক্লেয়ারের অভিযোগ ও মতামত হিসেবে এসেছে। অন্যদিকে তথ্যচিত্রে অংশ নিতে মাস্ক নিজে রাজি হননি। তিনি পরিচালক গিবনির কাজকে পক্ষপাতদুষ্ট বলে সমালোচনা করেছেন। গিবনি জানিয়েছেন, প্রকল্পের শুরুতে তিনি মাস্কের প্রতি এক ধরনের প্রশংসাবোধ থেকেই কাজ শুরু করেছিলেন, কিন্তু পরে তথ্য অনুসরণ করতে গিয়ে তার দৃষ্টিভঙ্গি বদলে যায়। উইলসনও এআই ব্যবহারের বিষয়ে প্রকাশ্যে সমালোচনামূলক অবস্থান নিয়েছেন। তার মতে, সবকিছুর জন্য এআই ব্যবহার করলে মানুষের নিজস্ব চিন্তাশক্তি ও স্বাতন্ত্র্য ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। তার নতুন ফ্যাশন ক্যাম্পেইনেও মূলত প্রযুক্তির ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতার বিরুদ্ধে এমনই একটি বার্তা তুলে ধরা হয়েছে। গিবনির ‘Musk’ তথ্যচিত্রে মাস্কের ব্যবসায়িক উত্থান, রাজনৈতিক প্রভাব, পারিবারিক সম্পর্ক এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তার ভূমিকা নিয়ে বিস্তৃত আলোচনা করা হয়েছে। ছবিটি অক্টোবর ২০২৬-এ প্রেক্ষাগৃহে মুক্তির কথা রয়েছে।
নিউ ইয়র্কে ডে-কেয়ার কর্ণধার জাকিয়া খানকে ৭৬ মাসের কারাদণ্ড ৫ কোটি ৬০ লাখ ডলার ফেরতের নির্দেশ
যুক্তরাষ্ট্রপ্রবাসী ছেলের জন্য লিংকডইনে চাকরির বদলে পাত্রী খুঁজে ভাইরাল ভারতীয় মা
২ কোটি ডলারের অনুদানে এআই নিয়ে নতুন কলেজ চালু করল ইউনিভার্সিটি অব নর্থ টেক্সাস
কেনিয়ার রাজধানী নাইরোবিতে বিদেশি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের হয়ে একাডেমিক প্রবন্ধ ও অ্যাসাইনমেন্ট লিখে জীবিকা চালাতেন আনুমানিক ৪০ হাজার মানুষ। কিন্তু ২০২২ সালে চ্যাটজিপিটি চালুর পর মাত্র কয়েক বছরের মধ্যে সেই শিল্প প্রায় ভেঙে পড়েছে। একসময় প্রতিটি প্রবন্ধের জন্য ৪০ থেকে ৭০ ডলার পর্যন্ত পাওয়া লেখকদের অনেকেই এখন আগের মতো কাজ বা আয় খুঁজে পাচ্ছেন না। নিউইয়র্ক টাইমসের সাম্প্রতিক এক প্রতিবেদনে নাইরোবির এই শিল্পের উত্থান ও পতনের চিত্র উঠে এসেছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, শিল্পটির শীর্ষ সময়ে অন্তত ৪০ হাজার মানুষ বিদেশি শিক্ষার্থীদের হয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যাসাইনমেন্ট লিখতেন। মূলত যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের শিক্ষার্থীরাই এসব সেবার বড় গ্রাহক ছিলেন। এই শিল্পে কাজ করা লেখকদের একজন তেরেসিওস বুন্ডি। ২০১১ সালে নাইরোবিতে আসার পর তিনি অনলাইনে একাডেমিক লেখা তৈরির কাজ শুরু করেন। পরবর্তী ১২ বছরে তিনি ২ হাজার ৫০০টির বেশি প্রবন্ধ লেখেন। প্রতিটি লেখার জন্য তিনি প্রায় ৪০ থেকে ৭০ ডলার পর্যন্ত নিতেন। বুন্ডির মতো অনেক শিক্ষিত তরুণের জন্য এই কাজ ছিল স্থানীয় চাকরির তুলনায় বেশি আয়ের সুযোগ। কিন্তু ২০২২ সালের নভেম্বরে চ্যাটজিপিটি বাজারে আসার পর পরিস্থিতি দ্রুত বদলে যায়। শিক্ষার্থীরা অর্থ খরচ করে লেখক নিয়োগের পরিবর্তে এআই চ্যাটবট ব্যবহার করে নিজেরাই অ্যাসাইনমেন্ট তৈরি করতে শুরু করেন। ফলে লেখার অর্ডার কমে যাওয়ার পাশাপাশি পারিশ্রমিকও দ্রুত কমতে থাকে। শিল্পটির সঙ্গে যুক্ত অনেকেই এখন অন্য ধরনের অনলাইন কাজে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। কেউ এআই দিয়ে তৈরি লেখা সম্পাদনা করছেন, কেউ ডাটা লেবেলিং বা কনটেন্ট মডারেশনের মতো কাজে যুক্ত হচ্ছেন। তবে এসব কাজেও আগের মতো স্থিতিশীল আয় পাওয়া যাচ্ছে না বলে প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। নাইরোবির এই ঘটনা এআইয়ের কারণে শ্রমবাজারে সম্ভাব্য বড় ধরনের পরিবর্তনের একটি স্পষ্ট উদাহরণ হিসেবে সামনে এসেছে। বিশেষ করে যেসব কাজের মূল ভিত্তি সাধারণ লেখা, গবেষণা ও অনলাইনে নির্দিষ্ট ধরনের কনটেন্ট তৈরি, সেসব পেশায় এআইয়ের প্রভাব কত দ্রুত পড়তে পারে, তা এই শিল্পের পতন দেখিয়ে দিয়েছে। একসময় বিদেশি শিক্ষার্থীদের অ্যাসাইনমেন্ট লিখে যে শিল্পে হাজার হাজার মানুষের কর্মসংস্থান তৈরি হয়েছিল, চ্যাটজিপটির আবির্ভাবের পর সেই বাজারই এখন প্রায় অদৃশ্য। ফলে এআইয়ের কারণে শুধু প্রযুক্তিখাত নয়, বিশ্বজুড়ে বিভিন্ন ধরনের অনলাইন ও আউটসোর্সিং কাজের ভবিষ্যৎ নিয়েও নতুন করে প্রশ্ন উঠছে।
হরমুজকে এখন থেকে ‘ট্রাম্প প্রণালি’ ডাকবে যুক্তরাষ্ট্র: ট্রাম্প
মিনিটেই কোটিপতি এক ট্রেডার, হান্টার বাইডেনের মিম কয়েনে সর্বনাশ বাকিদের