সাপ্তাহিক আমেরিকা বাংলা ই-পেপার
আমেরিকা

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনায় ইরান, তবে পারমাণবিক অস্ত্র রাখতে পারবে না: ট্রাম্প

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: জুলাই ২৫, ২০২৬ ৩:৩৮
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনায় ইরান, তবে পারমাণবিক অস্ত্র রাখতে পারবে না
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনায় ইরান, তবে পারমাণবিক অস্ত্র রাখতে পারবে না

ইরানের সঙ্গে কূটনৈতিক যোগাযোগ চলছে বলে জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি বলেছেন, তেহরান একটি সমঝোতায় পৌঁছাতে আগ্রহী হলেও যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান অপরিবর্তিত, ইরানকে কোনো অবস্থাতেই পারমাণবিক অস্ত্রের মালিক হতে দেওয়া হবে না। এদিকে ইরানের সামরিক সক্ষমতা নিয়ে ট্রাম্পের একাধিক দাবির বিষয়ে স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি। 

 

ওয়াশিংটন ডিসিতে পুনঃনির্ধারিত হোয়াইট হাউস করেসপন্ডেন্টস অ্যাসোসিয়েশনের বার্ষিক নৈশভোজে ভাষণ দিতে গিয়ে ট্রাম্প বলেন, ইরানি প্রতিনিধিরা বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনা করছেন এবং তারা একটি চুক্তিতে পৌঁছাতে চাইছেন। তবে তাঁর মতে, তেহরান এখনো চূড়ান্ত সমঝোতার জন্য পুরোপুরি প্রস্তুত নয়। তা সত্ত্বেও যুক্তরাষ্ট্র তাদের বক্তব্য শুনতে প্রস্তুত রয়েছে। 

 

ট্রাম্প বলেন, “তারা আমাদের সঙ্গে কথা বলছে। তারা একটি চুক্তি করতে পারলে খুশি হবে। কিন্তু আমার মনে হয়, তারা এখনো পুরোপুরি প্রস্তুত নয়। আমরা তাদের কথা শুনব, তবে আমাদের অবস্থান স্পষ্ট—তারা কোনো পারমাণবিক অস্ত্র রাখতে পারবে না।” 

 

ভাষণের এক পর্যায়ে ইরানের সামরিক সক্ষমতা নিয়েও মন্তব্য করেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। তিনি দাবি করেন, যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অভিযানে ইরানের নৌ ও বিমানবাহিনী বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়েছে। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, ইরানের প্রায় ২৫০টি যুদ্ধবিমান ও ১৫৯টি নৌযান ধ্বংস হয়েছে, দেশটির রাডার ব্যবস্থা কার্যত অকার্যকর হয়ে পড়েছে এবং ড্রোনের মজুদও প্রায় শেষ। তবে এসব দাবির পক্ষে স্বাধীন কোনো আন্তর্জাতিক বা সরকারি সূত্র থেকে তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি। 

 

ট্রাম্প আরও বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের প্রধান লক্ষ্য হলো ইরানকে পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন থেকে বিরত রাখা। তাঁর দাবি, ইরান যদি এমন অস্ত্রের অধিকারী হয়, তাহলে তা আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে উঠতে পারে। 

 

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে টানাপোড়েন দীর্ঘদিনের। সাম্প্রতিক মাসগুলোতে উত্তেজনা বাড়লেও উভয় পক্ষের মধ্যে কূটনৈতিক যোগাযোগের ইঙ্গিত নতুন করে আলোচনার সম্ভাবনা তৈরি করেছে। তবে এখন পর্যন্ত কোনো নতুন সমঝোতা বা আনুষ্ঠানিক চুক্তির ঘোষণা দেওয়া হয়নি।


© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।

জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

আমেরিকা

View more
এক শিক্ষার্থীর জন্য বেঞ্চ তৈরি করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রশংসা পাচ্ছেন এক শিক্ষক দম্পতি।
ফ্লোরিডায় ক্যানসারের চিকিৎসার মধ্যেও স্কুলছাত্রীর জন্য বেঞ্চ বানালেন দম্পতি, ভিডিও ভাইরাল

যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডায় স্কুলবাসের অপেক্ষায় থাকা এক শিক্ষার্থীর জন্য বেঞ্চ তৈরি করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রশংসা পাচ্ছেন এক শিক্ষক দম্পতি। তাঁদের ছোট্ট উদ্যোগ শুধু এক কিশোরীর সকালকে স্বস্তিদায়ক করেনি, বরং আশপাশের অন্য শিশুদের জন্যও তৈরি করেছে বই পড়া ও ভাগাভাগি করার সুযোগ।   মারেন ডগলাস ও তাঁর স্বামী দুজনই শিক্ষক। স্বামীর ক্যানসারের চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে থাকার সময় বাড়ির নিরাপত্তা ক্যামেরায় তাঁদের চোখে পড়ে, এক স্কুলপড়ুয়া কিশোরী প্রতিদিন সকালে তাঁদের বাড়ির সামনের ড্রাইভওয়ের পাশে বসে স্কুলবাসের জন্য অপেক্ষা করছে। মেয়েটির বাসস্টপ নির্ধারিত ছিল কাছের রাস্তায়। সেখানে গাড়ি দ্রুত চলাচল করায় তার নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েন তাঁরা।   ১ সেপ্টেম্বরের ওই ঘটনা দেখার পর হাসপাতাল থেকে বাড়ি ফিরে দম্পতি একটি বেঞ্চ কেনেন এবং নিজেরাই সেটি তৈরি করে বসিয়ে দেন। পরের সোমবার বেঞ্চটি দেখে কিশোরীর আনন্দ তাঁদের মুগ্ধ করে। পরে মেয়েটি হাতে লেখা একটি চিরকুটে ধন্যবাদ জানায়। সে জানায়, বেঞ্চ থাকায় এখন আর মাটি ও পোকামাকড় নিয়ে চিন্তা করতে হয় না।   এরপর দম্পতি লক্ষ্য করেন, বাসের অপেক্ষায় থাকা মেয়েটি প্রায়ই বই পড়ে। তাই মারেন একটি ছোট বইয়ের বাক্স তৈরি করে বেঞ্চের পাশে বসান। অল্প সময়ের মধ্যে এলাকার অন্য শিশুরাও সেখান থেকে বই নিতে ও পড়া শেষে ফেরত দিতে শুরু করে। বৃষ্টির দিনগুলোর কথা ভেবে তাঁরা একটি ছাতার ব্যবস্থাও করেন এবং মেয়েটির জন্য কিছু নাশতা রেখে দেন। কৃতজ্ঞতা জানাতে মেয়েটিও তাঁদের ঘরে তৈরি দুটি কুকি উপহার দেয়।   মারেনের এই মানবিক উদ্যোগ নিয়ে তৈরি টিকটক ভিডিওটি ১ কোটি ৪০ লাখেরও বেশি বার দেখা হয়েছে এবং তাতে ৩০ হাজারের বেশি মন্তব্য এসেছে বলে পিপল ম্যাগাজিনের প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।   এই গল্পের আরেকটি আবেগঘন দিক হলো, অন্যের পাশে দাঁড়ানোর সময় দম্পতিটি নিজেরাও কঠিন পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যাচ্ছেন। স্বামীর ক্যানসারের চিকিৎসা চললেও মারেন তাঁর শিক্ষার্থীদের সময় দেওয়া এবং পরিবারের যত্ন নেওয়ার পাশাপাশি ছোট ছোট ভালো কাজের মধ্যে মানসিক শক্তি খুঁজে পান।   একটি শিশুর জন্য নিরাপদ ও স্বস্তিদায়ক জায়গা তৈরি করতে খুব বেশি কিছু লাগে না। তাঁদের এই উদ্যোগ দেখিয়েছে, প্রতিবেশীর প্রতি সামান্য মনোযোগও একটি শিশুর প্রতিদিনের অভিজ্ঞতা বদলে দিতে পারে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়ার পর ঘটনাটি এখন অপরিচিত মানুষের প্রতিও সহমর্মিতা দেখানোর অনুপ্রেরণামূলক উদাহরণ হয়ে উঠেছে।

প্রকাশ: অক্টোবর ২৫, ২০২৬ ১৮:২৫
যুক্তরাষ্ট্রে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই প্রযুক্তির দ্রুত বিস্তারের সঙ্গে সঙ্গে বিশাল ডেটা সেন্টার নির্মাণ নিয়ে বিতর্ক তীব্র হচ্ছে।

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা এআই ডেটা সেন্টার নিয়ে জনঅসন্তোষ, বিদ্যুৎ বিল ও পরিবেশ নিয়ে বাড়ছে বিতর্ক

ইউক্রেনীয় এবং প্রায় ১ হাজার ৮০০ সুদানি নাগরিকের জন্য সাময়িক স্বস্তির খবর এসেছে।

স্বস্তি পেলেন লাখো অভিবাসী, আপাতত যুক্তরাষ্ট্র ছাড়তে হচ্ছে না ইউক্রেনীয়দের

নাগরিকত্বের অপেক্ষায় লাখো অভিবাসী

নাগরিকত্বের অপেক্ষায় লাখো অভিবাসী, যুক্তরাষ্ট্রে আবেদন নিষ্পত্তিতে বাড়ছে দীর্ঘসূত্রতা

বড় আকারের ব্যাটারিতে বিদ্যুৎ সঞ্চয়ের একটি নতুন প্রকল্প চালু হয়েছে।
বিদ্যুৎ বিভ্রাটেও কয়েক দিন চলবে আবাসন, যুক্তরাষ্ট্রে নতুন ব্যাটারি প্রযুক্তিতে বড় উদ্যোগ

যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক অঙ্গরাজ্যের বাফেলো শহরে আবাসিক ভবনের জন্য বড় আকারের ব্যাটারিতে বিদ্যুৎ সঞ্চয়ের একটি নতুন প্রকল্প চালু হয়েছে। ২০ অক্টোবর অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী, পিস ব্রিজ প্লেস নামের সাশ্রয়ী আবাসন কমপ্লেক্সে স্থাপন করা হয়েছে ৩ দশমিক ৭৫ মেগাওয়াট-ঘণ্টা ক্ষমতার লিথিয়াম-আয়ন ব্যাটারি ব্যবস্থা। নির্মাতা প্রতিষ্ঠান ও প্রকল্পসংশ্লিষ্টদের দাবি, এই ব্যবস্থা ভবনটিকে কয়েক দিন পর্যন্ত বিদ্যুৎ সরবরাহ করতে সক্ষম হতে পারে।    ব্যবস্থাটি এমনভাবে তৈরি করা হয়েছে, যাতে বিদ্যুৎ সহজলভ্য ও তুলনামূলক সস্তা থাকার সময় শক্তি সঞ্চয় করা যায়। পরে বিদ্যুতের চাহিদা বেড়ে গেলে বা বিদ্যুৎ সরবরাহব্যবস্থায় চাপ তৈরি হলে সেই সঞ্চিত শক্তি ব্যবহার করা সম্ভব হবে। বিদ্যুৎ বিভ্রাটের সময়ও এটি আবাসিক ভবনের জন্য বিকল্প শক্তির উৎস হিসেবে কাজ করতে পারে।   প্রকল্পটির আরেকটি লক্ষ্য বিদ্যুতের খরচ নিয়ন্ত্রণ করা। ভবনটি যখন মূল বিদ্যুৎ গ্রিড থেকে কম বিদ্যুৎ ব্যবহার করবে বা প্রয়োজন অনুযায়ী বিদ্যুৎ গ্রিডে ফেরত দেবে, তখন সংশ্লিষ্ট বিদ্যুৎ পরিষেবা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে নির্ধারিত ব্যবস্থার আওতায় আর্থিক সুবিধা পাওয়ার সুযোগ রয়েছে। এর মাধ্যমে ভবন পরিচালনার সামগ্রিক ব্যয় কমতে পারে, যা বাসিন্দাদের জন্যও উপকারী হতে পারে।   তবে বড় ব্যাটারি আবাসিক ভবনে স্থাপনের ক্ষেত্রে অগ্নিনিরাপত্তা গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। লিথিয়াম-আয়ন ব্যাটারিতে ত্রুটি দেখা দিলে আগুন ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা থাকে। এ কারণে নির্মাতা প্রতিষ্ঠান বিরিডি ব্যাটারির একটি কোষে সমস্যা দেখা দিলেও যেন তা অন্য কোষে ছড়িয়ে না পড়ে, সে ধরনের নিরাপত্তাব্যবস্থা তৈরিতে কাজ করেছে। প্রতিষ্ঠানটির দাবি, তাদের ব্যবস্থাটি কঠোর নিরাপত্তা পরীক্ষার মধ্য দিয়ে গেছে।   প্রকল্পটিতে নিউইয়র্ক অঙ্গরাজ্যের পরিচ্ছন্ন জ্বালানি উন্নয়ন সংস্থাও সহায়তা দিয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের আশা, এ ধরনের প্রযুক্তি ভবিষ্যতে বিদ্যুৎ গ্রিডের ওপর চাপ কমাতে, নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বাড়াতে এবং বিদ্যুৎ সরবরাহকে আরও নির্ভরযোগ্য করতে সাহায্য করবে।   যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত বাংলাদেশি পরিবারগুলোর জন্য বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ, কারণ বিদ্যুতের ব্যয় ও সরবরাহের নির্ভরযোগ্যতা আবাসন পরিচালনার খরচের সঙ্গে সম্পর্কিত। তবে এই প্রকল্পের কারণে সব বাসিন্দার বিদ্যুৎ বিল সঙ্গে সঙ্গে কমে যাবে—এমন নিশ্চয়তা নেই। প্রকৃত সাশ্রয় নির্ভর করবে ভবনের ব্যবহার, বিদ্যুতের মূল্য এবং প্রকল্পের পরিচালনব্যবস্থার ওপর।

প্রকাশ: অক্টোবর ২৫, ২০২৬ ১৬:৪৩
যুক্তরাষ্ট্রের কয়েকটি বড় শহরে চালকবিহীন পাতালরেল চালুর সম্ভাবনা

যুক্তরাষ্ট্রে চালকবিহীন পাতালরেলের পরিকল্পনা, বদলে যেতে পারে যাতায়াতের ভবিষ্যৎ

যুক্তরাষ্ট্রে খাদ্যসহায়তা হারাচ্ছেন লাখো মানুষ

যুক্তরাষ্ট্রে খাদ্যসহায়তা হারাচ্ছেন লাখো মানুষ, অনিশ্চয়তায় নিম্ন আয়ের পরিবারগুলো

বাড়ি বিক্রি করতে হিমশিম মালিকেরা

যুক্তরাষ্ট্রে বাড়ি বিক্রি করতে হিমশিম মালিকেরা, ক্রেতা পেতে লাখ ডলার পর্যন্ত ছাড়

শিশুদের ডে-কেয়ার
শিশুদের ডে-কেয়ারের খরচে দিশেহারা মার্কিন পরিবার, কাজ করেও সঞ্চয় থাকছে না

যুক্তরাষ্ট্রে জীবনযাত্রার ব্যয়ের চাপের মধ্যে শিশুদের ডে-কেয়ার ও দেখাশোনার খরচ অনেক পরিবারের জন্য বড় আর্থিক সমস্যায় পরিণত হয়েছে। কর্মজীবী বাবা-মায়ের জন্য পরিস্থিতি আরও কঠিন, কারণ একদিকে বাড়িভাড়া, খাবার, স্বাস্থ্যসেবা ও যাতায়াতের ব্যয় মেটাতে হচ্ছে, অন্যদিকে সন্তানকে নিরাপদ পরিবেশে রাখার জন্য নিয়মিত অর্থ ব্যয় করতে হচ্ছে। ফলে কিছু পরিবারের ক্ষেত্রে চাকরি করে যে আয় হচ্ছে, তার উল্লেখযোগ্য অংশই চলে যাচ্ছে শিশুদের যত্নের পেছনে।   সিবিএস নিউজের ২২ অক্টোবর প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ব্যাংক অব আমেরিকা ইনস্টিটিউটের গবেষণা অনুযায়ী, ২০২৬ সালের সেপ্টেম্বরে প্রায় ৮ শতাংশ পরিবার শিশুদের যত্নের জন্য মাসে ২ হাজার ডলারের বেশি ব্যয় করেছে। তিন বছর আগের তুলনায় এ ধরনের পরিবারের অংশ দ্বিগুণেরও বেশি। একই গবেষণায় দেখা গেছে, সেপ্টেম্বর মাসে পরিবারগুলো গড়ে তাদের মাসিক আয়ের প্রায় ৮ শতাংশ শিশুদের যত্নের পেছনে ব্যয় করেছে। অথচ প্রচলিত একটি ফেডারেল নির্দেশিকায় শিশুদের যত্নের খরচকে সাশ্রয়ী হিসেবে বিবেচনা করার মানদণ্ড হলো পারিবারিক আয়ের সর্বোচ্চ ৭ শতাংশ।   প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, ২০২৫ সালে যুক্তরাষ্ট্রে একটি পরিবারের মধ্যম আয় ছিল ৮৭ হাজার ৪৬০ ডলার। অন্যদিকে, বছরে শিশুদের যত্নের ব্যয় ২৪ হাজার ডলারে পৌঁছালে সেই খরচকে আয়ের ৭ শতাংশের মধ্যে রাখতে পরিবারের বার্ষিক আয় প্রায় ৩ লাখ ৪৩ হাজার ডলার হওয়া প্রয়োজন। এই তুলনা থেকে বোঝা যায়, অনেক মধ্যবিত্ত পরিবারের জন্য শিশুদের যত্নের খরচ সামলানো কতটা কঠিন হতে পারে। তবে সব পরিবার বা সব অঞ্চলে ডে-কেয়ারের মূল্য এক নয়; শিশুর বয়স, সেবার ধরন ও অবস্থান অনুযায়ী ব্যয়ের পার্থক্য রয়েছে।   অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের ২২ অক্টোবরের আগের একটি প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৫ সালে যুক্তরাষ্ট্রে পূর্ণকালীন শিশু পরিচর্যার গড় বার্ষিক ব্যয় ১৩ হাজার ডলারেরও বেশি ছিল। এই ব্যয়ের কারণে অনেক বাবা-মাকে কাজের সময় কমানো, পরিবারের অন্য সদস্যদের সহায়তা নেওয়া কিংবা চাকরি চালিয়ে যাওয়া আর্থিকভাবে লাভজনক কি না—তা নতুন করে হিসাব করতে হচ্ছে। বিশেষ করে যেসব পরিবারের একাধিক ছোট সন্তান রয়েছে, তাদের মাসিক ব্যয় আরও বেড়ে যেতে পারে।   এই পরিস্থিতির প্রভাব অভিবাসী পরিবারগুলোর ওপরও পড়তে পারে। যুক্তরাষ্ট্রে নতুন আসা অনেক পরিবারের কাছাকাছি আত্মীয়স্বজন থাকেন না, ফলে সন্তান দেখাশোনার জন্য দাদা-দাদি, নানা-নানি বা অন্য স্বজনের সহায়তা সব সময় পাওয়া যায় না। তখন লাইসেন্সপ্রাপ্ত ডে-কেয়ার, শিশু পরিচর্যা কেন্দ্র কিংবা ব্যক্তিগত পরিচর্যাকারীর সেবা নিতে হয়। এসব খরচের সঙ্গে বাড়িভাড়া, বিমা, গাড়ি বা গণপরিবহনের ব্যয় যোগ হলে পরিবারের সঞ্চয় কমে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে। তবে এই অভিজ্ঞতা সব অভিবাসী পরিবারের ক্ষেত্রে এক নয়।   শিশুদের যত্নের খরচ বাড়ার পেছনে সেবার চাহিদা, পরিচর্যাকর্মীর ঘাটতি এবং পরিচালন ব্যয়ের মতো বিষয়ও ভূমিকা রাখতে পারে। সিবিএস নিউজের প্রতিবেদনে ব্যাংক অব আমেরিকা ইনস্টিটিউটের তথ্য উদ্ধৃত করে বলা হয়েছে, ২০২৬ সালের সেপ্টেম্বরে ন্যাশভিল, জ্যাকসনভিল ও ফিনিক্সে শিশুদের যত্নের মধ্যম ব্যয় দ্রুত বেড়েছে। এসব শহরে জনসংখ্যা স্থানান্তর ও সেবার চাহিদা বৃদ্ধিও দামের ওপর চাপ তৈরি করছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।   শিশুদের যত্নের ব্যয় শুধু পরিবারের আর্থিক বিষয় নয়; এটি বাবা-মায়ের কর্মজীবনেও প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষ করে যেসব অভিভাবককে সন্তানের দেখাশোনার দায়িত্ব বেশি নিতে হয়, তাদের জন্য পূর্ণকালীন চাকরি চালিয়ে যাওয়া কঠিন হয়ে উঠতে পারে। পরিচর্যার খরচ যদি সম্ভাব্য আয়ের বড় অংশ নিয়ে নেয়, তাহলে কেউ কেউ কাজের সময় কমানো বা সাময়িকভাবে কর্মজীবন থেকে বিরতি নেওয়ার সিদ্ধান্ত বিবেচনা করতে পারেন।   যুক্তরাষ্ট্রে শিশুদের যত্নের ব্যয় নিয়ে উদ্বেগ আসন্ন মধ্যবর্তী নির্বাচনের আলোচনাতেও গুরুত্ব পাচ্ছে। অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের প্রতিবেদনে দেখা গেছে, বিভিন্ন রাজনৈতিক প্রার্থী প্রাক্‌-প্রাথমিক শিক্ষা, হেড স্টার্ট কর্মসূচিতে অর্থায়ন, করছাড় এবং নিয়োগকর্তাদের মাধ্যমে সহায়তার মতো ভিন্ন ভিন্ন প্রস্তাব তুলে ধরছেন। তবে এসব প্রস্তাবের কোনটি বাস্তবায়িত হবে এবং পরিবারগুলোর খরচ কতটা কমাতে পারবে, তা নির্ভর করবে নীতি, অর্থায়ন ও বাস্তবায়নের ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত বাংলাদেশি পরিবারগুলোর জন্য তাই চাকরির বেতন হিসাব করার পাশাপাশি শিশুদের যত্নের খরচ, কর্মস্থলের সুবিধা এবং স্থানীয় সহায়তা কর্মসূচি সম্পর্কে আগেই খোঁজ নেওয়া গুরুত্বপূর্ণ। কোনো ডে-কেয়ারে ভর্তি করার আগে লাইসেন্স, নিরাপত্তাব্যবস্থা, সময়সূচি, অতিরিক্ত ফি ও অপেক্ষমাণ তালিকা যাচাই করা উচিত। একই সঙ্গে যোগ্য পরিবারগুলো রাজ্য বা স্থানীয় পর্যায়ে শিশু পরিচর্যার আর্থিক সহায়তা পাওয়া যায় কি না, তা সংশ্লিষ্ট সরকারি দপ্তরে জানতে পারে। এসব পদক্ষেপ ব্যয় পুরোপুরি দূর করবে না, তবে পরিবারের জন্য উপযুক্ত ও নিরাপদ সেবা বেছে নিতে সাহায্য করতে পারে।

প্রকাশ: অক্টোবর ২৫, ২০২৬ ১৫:০
যুক্তরাষ্ট্রের নির্বাচনের আগে ২০ হাজার ভোটারকে ঘিরে নতুন বিতর্ক, ক্যালিফোর্নিয়ায় বাড়ছে আইনি চাপ

যুক্তরাষ্ট্রের নির্বাচনের আগে ২০ হাজার ভোটারকে ঘিরে নতুন বিতর্ক, ক্যালিফোর্নিয়ায় বাড়ছে আইনি চাপ

যুক্তরাষ্ট্রে চিকিৎসার ব্যয় অনেক পরিবারের জন্য বড় আর্থিক চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠছে।

চিকিৎসার খরচে চাপে মার্কিন পরিবার, অর্থ বাঁচাতে ডাক্তার দেখানোও পিছিয়ে দিচ্ছেন অনেকে

ছোট ভাইবোনদের নিয়ে জুতা কিনতে যাওয়ার পথে তাঁর গাড়ি থামায় সীমান্ত টহল কর্মকর্তারা।

মা-বাবা দেশে ফেরত, ১৮ বছরেই ছোট ভাইবোনদের পুরো পরিবারের দায়িত্ব তরুণীর কাঁধে

0 Comments